বিশ্বমানবতা ও তথাকথিত জাতিসংঘ

১,৬৯৯ বার পঠিত

আজ বিশ্বমানবতা এক দুর্বিষহ অবস্থা অতিক্রম করছে, এর মূল কারণ হল ‘বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা‘। রাষ্ট্র নামক এই আজদাহা সমগ্র মানবতাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। যা মানুষের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে যাচ্ছে অবিরত।

এই রাষ্ট্র বলে যে, ‘আমি রাষ্ট্র, তাই যা ইচ্ছা তাই করার অধিকার আমার রয়েছে’।

এর ভয়াবহতা থেকে বিশ্বমানবতাকে মুক্ত করার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়া দরকার। আর এই জন্য এমন এক সংগঠনের প্রয়োজন যে সংগঠন বা দল ‘শক্তি‘ নয় ‘হক্ব‘ সব কিছুর উপরে স্থান দিবে।

আর এজন্য নতুন একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। আজ যে জাতিসংঘ রয়েছে এটা নিজেই অশান্তি ও জুলুমের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এই জাতিসংঘ বিশ্বকে কিসের শান্তি এনে দিবে? পাশ্চাত্য মুসলামানদের কাছ থেকে কিছু মানবাধিকার নকল করেছে, আর এই সকল নকল করা কিছু ধারা নিয়ে মানবাধিকার ডিক্লারেশন নামে একটি ঘোষণাপত্র সকলকে জানিয়ে দিয়েছে। এই মানবাধিকারের ঘোষণা পত্রকে সারা দুনিয়াতে প্রয়োগ করার লক্ষ্যে তারা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে। আর এই মুখোশের অন্তরালে তারা তাদের যায়নবাদী চেহারা লুকিয়ে নিজেদের ফায়দা লুটছে।

এই জাতিসংঘ কিভাবে মানুষের অধিকার রক্ষা করবে? এই জাতিসংঘ তার প্রতিষ্ঠার অব্যবহিত পরেই যে সিদ্ধান্ত নেয় সেটা হলো ইসরাঈলের প্রতিষ্ঠা! আর এই সিদ্ধান্ত হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুলুম।

এছাড়াও পাঁচটি দেশকে ভেটো পাওয়ার দিয়েছে। এটা কেমন কাজ ? কেন কেবলমাত্র পাঁচটি দেশের ভেটো পাওয়ার থাকবে? দুনিয়াতে ১৭০ টির বেশী দেশ রয়েছে, এর মধ্যে ৫৭ টি হল মুসলিম দেশ, কেন এই স্থায়ী সদস্যের মধ্যে কোন মুসলিম দেশ নেই? যায়নবাদী ইয়াহুদীরা কেন এমন কাজ করছে?

কারণ হল যায়নবাদীরা বলে থাকে যে, “আমি বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে যদি অ্যামেরিকাকে ব্যবহার করতে না পারি তখন রাশিয়াকে ব্যবহার করব, এই জন্য রাশিয়াকে ওয়েটিং লিস্টে রেখে দিয়েছি। রাশিয়াকেও যদি ব্যবহার করতে না পারি তখন চীনকে ব্যবহার করব, তাই চীনকেও ওয়েটিং লিস্টে রেখে দিয়েছি। যদি চীনকেও ব্যবহার করতে না পারি তখন ভারত কিংবা অন্য কোন দেশকে ব্যবহার করব!”

এই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা নয়, যায়নবাদীদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ তাদের চিন্তার মূলে হল ফেরাউনী চিন্তা। তাহলে এখন কি করতে হবে?

কি করতে হবে এর উত্তরে আমি বলি, আমাদেরকে নতুন একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে জাতিসংঘ হবে হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত, কোন জাতি বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, সত্যিকারের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাই হবে এই জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য। এই জাতিসংঘে কারোর কোন ভেটো পাওয়ার থাকবে না।

এরপর, এই জাতিসংঘ এমন কিছু মূলনীতি প্রণয়ন করবে যা সকল রাষ্ট্র মানতে বাধ্য হবে। কোন রাষ্ট্র তার জনগণের উপর জুলুম করতে পারবে না, সকল মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার দিতে বাধ্য থাকবে। মানুষের যেমন রাষ্ট্রের উপর অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রেরও তেমন তার জনসাধারণের উপর অধিকার রয়েছে। আর সেটা হল রাষ্ট্র জনগণের সাথে বৈষম্য মূলক আচরণ করতে পারবে না ও কোন ক্রমেই জুলুম করতে পারবে না, আর জনগণও অন্যের অধিকার হরণ করবে না এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কোন কাজ করবে না।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যায়ভিত্তিক একটি দুনিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মূলনীতি সমূহ প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং বিশ্বমানবতার সামনে আজকের এই জুলুমের দুনিয়ার আসল চেহারা তুলে ধরে তাদেরকে জাগ্রত করা প্রয়োজন।

অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ

লেখাটি শেয়ার করুন

মতামত প্রকাশ করুন

অনুদান দিন
Scroll to Top