
আধুনিক সেকুলার মতবাদ ও ইসলাম
পাশ্চাত্য সভ্যতার গর্ভ থেকে চারটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মতবাদের জন্ম হয়েছে ফ্যাসিজম, কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম ও সেকুলারিজম। এখানে শুধু সেকুলারিজম সম্পর্কে আলােকপাত…
বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ যে নানামুখী সংকটে নিপতিত, তার একটি বড় কারণ হলো-রাজনীতি ও অর্থনীতির তাদের আসল উদ্দেশ্য ও সঠিক অর্থ থেকে সরে যাওয়া।
আমরা দেখতে পাই যে, রাজনীতি যখন আদালত প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারে না এবং অর্থনীতি যখন মানুষকে কেন্দ্রে রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজের পতনও অনিবার্য হয়ে ওঠে। এর সবচেয়ে স্পষ্ট কারণ হলো-রাজনীতিকে মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে শুধু ক্ষমতা দখল ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা, আর অর্থনীতিকে সীমাহীন ভোগ ও লালসার মাধ্যমে পরিণত করা।
এ ধরনের মানসিকতা যখন প্রভাবশালী হয় উঠে তখন আদালত স্বার্থের কাছে হার মানে, আমানতের চেতনা প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, আর ভাগাভাগির (শেয়ারিংয়ের) জায়গা দখল করে নেয় অযাচিত সঞ্চয়ের লালসা। এর চেয়েও ভয়াবহ ব্যাপার হলো – ক্ষমতা ও সম্পদ যখন নিজেই লক্ষ্য হয়ে যায় এবং হিকমতবিহীন শাসনব্যবস্থা ও বরকতকে বিনষ্টকারী একটি অর্থনৈতিক চিন্তাধারা যখন সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে আদালতের ঝাণ্ডাবাহী একটি সভ্যতার সদস্য হয়েও মুসলমানরা এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিচ্যুতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।
রাজনীতিকে মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, অর্থনীতিকে আখলাকী মূলনীতি থেকে আলাদা করে ফেলা এবং এর ফলস্বরূপ আধুনিক মুসলিম সমাজের আদালত ও বরকত উৎপাদনকারী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়া– সামাজিক ভাঙ্গনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। সভ্যতার পুনর্জাগরণের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি রাজনীতি কখনোই সামাজিক শান্তি ও স্থিতশীলতা তৈরি করতে পারে না; আর আখলাকী ভিত্তি থেকে বঞ্চিত একটি অর্থনীতি মানুষ ও সভ্যতা উভয়কেই ধ্বংস করে।
এ কারণেই রাজনীতি ও অর্থনীতিকে কেবল ক্ষমতা ও পুঁজির সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং আদালত, আমানত ও ভারসাম্যের মতো মৌলিক নীতির আলোকে পুনর্বিবেচনা (পুনর্পাঠ) করা জরুরী। হিকমতপূর্ণ একটি শাসনব্যবস্থার তাসাউউরকে (ধারণা), বরকতকে প্রাধান্যদানকারী একটি অর্থনীতির ধারণাকে এবং এই দুই মৌলিক নীতির পারস্পরিক পরিপূরকতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের লক্ষ্যে রোয়াক ব্লগ আন্তরিকতার সাথে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পাশ্চাত্য সভ্যতার গর্ভ থেকে চারটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মতবাদের জন্ম হয়েছে ফ্যাসিজম, কমিউনিজম, ক্যাপিটালিজম ও সেকুলারিজম। এখানে শুধু সেকুলারিজম সম্পর্কে আলােকপাত…

বিংশ শতাব্দী জুড়ে হাজারো দুঃখ কষ্ট সহ্য করা সত্ত্বেও মানবতা তার প্রত্যাশিত শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেনি।…

পুঁজিবাদ বিশ্বের সর্বাধিক প্রচলিত ও অনুসৃত অর্থনৈতিক মতবাদ। ফরাসি বিপ্লবের আগে ও পরে ‘মুক্তবুদ্ধি আন্দোলনের নেতাদের হাতে এর বিকাশ ঘটে।…

আজ বিশ্বমানবতা এক দুর্বিষহ অবস্থা অতিক্রম করছে, এর মূল কারণ হল 'বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা'। রাষ্ট্র নামক এই আজদাহা সমগ্র মানবতাকে…

অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি তুরস্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ, শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানী। আপনি ইস্তানবুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা শিক্ষক…

প্রত্যেক মুমিনের অন্তরেই রাসূল (স) ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ স্তর অধিকার করে আছেন। কারণ তিনিই একজন মুমিনের প্রকৃত প্রেমাস্পদ, তাঁর…

আয়াসোফিয়া, মানব সভ্যতার ইতিহাস, ধর্ম ও সভ্যতা সমূহের ইতিহাস এবং একই সাথে ইসলাম ও তুরস্কের ইতিহাসের দিক থেকে ঐতিহাসিক এক…

একই স্থানে ঘুরপাক খাওয়া, পরনির্ভরশীলতা, দারিদ্রতা এবং অনগ্রসরতা থেকে কি আপনারা মুসলমানদেরকে উদ্ধার করতে চান ? নতুন করে সামনের দিকে,…

পৃথিবীতে বর্তমানে একটা মহাপ্রলয় চলছে। এর উদ্দেশ্য কি কেবল বিশ্ববাসীকে তাদের কৃতকর্মের শাস্তি দেয়া অথবা প্রলয়ের পর ভালাে একটা কিছু…

ইবনে খালদুন, ইসলামী চিন্তার পর্যায়কালের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, তিনি ছিলেন নবায়ন পর্বের একজন দার্শনিক । ইবনে খালদুন ১৩৩২সালে…

যে কোন সময়ের চলমান ব্যবস্থাগত জুলুম, চতুর্মুখী সঙ্কট মোকাবেলা করে যে সকল ব্যক্তিত্ব বা নেতৃত্ব সামগ্রিক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন, তাদের…

আল্লামা ইকবাল বলেছিলেন, “হে ভাই! যদি ভালো একজন ইব্রাহীম হতে চাও, তাহলে যুগের নমরুদদের ভালো করে চিনে নাও।” তাঁর এ…

আমরা এক কঠিন সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যদিয়ে সময় অতিবাহিত করছি, সম্প্রতিকালের একটি সংকট বাহ্যিকভাবে আমাদের দৃষ্টিগত হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী চলমান সংকটগুলি…