আহমদ ছফার “বাঙালি মুসলমান” চরিত্রের ক্রিটিক

[পন্ডিত আহমদ ছফা’ প্রণীত  ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ শীর্ষক  দীর্ঘ-প্রবন্ধটি প্রকাশের পর সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল, বৈশাখ ১৩৮৩ (এপ্রিল ১৯৭৬), অষ্টাদশ বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ একটি  প্রতিক্রিয়া হাজির করেন।]

সমকালে (ফাল্গুন ১৩৮২ সংখ্যায়) আহমদ ছফার একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বাঙালি মুসলমানের মানসিকতা বিশ্লেষণ করে দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রবন্ধটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, তথ্য ও তত্ত্বের বেশ কিছু অসঙ্গতি আছে। তাই এই আলোচনায় অবতীর্ণ হচ্ছি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি খোলা মন নিয়ে এ প্রসঙ্গে সমকালে আরো আলোচনা হবে। আমাদের সংশয় ঘুচবে।

 

আর্য ও অনার্য

ছফা সাহেবের মতে বাঙালি মুসলমানের একটি বিরাট অংশই নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে উদ্ভূত। এরা সকলেই ছিলেন অনার্য। তার মতে ‘যেহেতু নবদীক্ষিত মুসলমানদের বেশির ভাগই ছিলেন নিম্নবর্ণের হিন্দু, তাই আর্য সংস্কৃতিরও যে একটা বিশ্বদৃষ্টি এবং জীবন ও জগত সম্বন্ধে যে একটা প্রসারিত বোধ ছিল, বর্ণাশ্রম ধর্মের কড়াকড়ির দরুন ইসলাম কিংবা বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে সে সম্বন্ধে তাঁদের মনে কোন ধারণা জন্মাতে পারেনি।’ ছফা সাহেবের এই উক্তির সঙ্গে নৃতাত্ত্বিক গবেষণালব্ধ ফলের বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই।

এই উপমহাদেশে দৈহিক নৃতাত্ত্বিক গবেষণার সূত্রপাত হয় স্যার হার্বার্ট রিজলে নামক ব্রিটিশ নৃতাত্ত্বিকের চেষ্টায়। স্যার রিজলে ব্রিটিশ-ভারতের নানা প্রদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের দৈহিক মাপ সংক্রান্ত যেসব তথ্য সংগ্রহ করেন আজও তা বিশেষভাবে আলোচ্য। বাঙালিদের দৈহিক মাপজোক সম্পর্কে সংগৃহীত রিজলের তথ্য এখনো খুবই মূল্যবান। রিজলের মাপ অনুসারে কোনো বাঙালিকেই আর্য বিভাগভুক্ত করা চলে না। তাই ছফা সাহেবের আর্যের যুক্তিটা বিশেষভাবেই অচল।

রিজলে সাধারণভাবে বাঙালিদের স্থাপন করেছেন মোঙ্গল-দ্রাবিড় মানবধারায় (Racial type)। রিজলের মোঙ্গল-দ্রাবিড় তত্ত্ব এখন অনেক নৃতাত্ত্বিকই স্বীকার করেন না। কারণ রিজলে যাদের দ্রাবিড় বলে চিহ্নিত করেছিলেন, এখন প্রমাণিত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে একাধিক মানবধারা। ‘দ্রাবিড়’ শব্দটিকে বিশেষভাবেই গ্রহণ করতে হয় ভাষা পরিবারবাচক হিসেবে। বাঙালি ঠিক কোনো একটি বিশেষ মানবধারায় পড়ে না। পর্ব বাংলার অনেক বাঙালির মধ্যে মঙ্গোলীয় প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু মোটের উপর বাঙালিকে কেউ মঙ্গোলীয় বিভাগভুক্তও বলতে পারে না। কারণ বাঙালির চোখের পাতায় মঙ্গোলীয়দের মতো ভাঁজ নেই, বাঙালিদের মুখে যথেষ্ট দাড়ি-গোঁফ থাকে।

বাঙালিদের রঙ কালো। কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে তথাকথিত আর্যদের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। তাদের মাথার আকৃতি গোল (মধ্যমাকৃতি হবার দিকে প্রবণতা আছে), আর্যদের মতো লম্বা নয়। এমনকি বাঙালি উচ্চবর্ণের মানুষদেরও (ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈদ্য) আর্য বলে চিহ্নিত করা চলে না। বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের মধ্যেই গোলমাথা, সরু থেকে মধ্যমাকৃতি নাকওয়ালা মানষের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। বাঙালি আর্য নয়, আবার তথাকথিত অনার্যও নয়। তাই ছফা সাহেবের যুক্তি অচল।

অন্যদিক থেকে বলা যায়, বাঙালি অনার্য হলেও কোনো ক্ষতি নেই। আর্য মানেই উন্নত আর অনার্য মানেই হীন- এ ধরনের কোনো যুক্তি এখন আর দেয়া চলে না। কারণ বাংলাদেশে আর্যরা আসবার আগেই একটি উন্নত সভ্যতা ছিল, এ-কথা ভাববার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখন আমাদের হাতে এসেছে। বাঙালির প্রাক-ইতিহাস সম্বন্ধে বহু কিছু এখন নতুন করে লিখতে হচ্ছে, মাটি খুঁড়ে আবিষ্কৃত হওয়া নানা নতুন নিদর্শনের জন্য। বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে মাটি খুঁড়ে খুব প্রাচীনকালের নিদর্শন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে খুব বেশি দূরে অবস্থিত নয় এরকম জায়গায়- পশ্চিমবঙ্গে- এমন অনেক নিদর্শন মাটি খুঁড়ে আবিষ্কৃত হয়েছে যার ফলে বাঙালির ইতিহাস নতুন করে লিখতে হচ্ছে।

বোঝা যাচ্ছে, আর্যদের চাইতে অনার্যরা কিছুমাত্র কম সভ্য ছিল না। বরং আর্যদের চাইতে অনার্যরা ছিল বহুদিক থেকেই অনেক উন্নত। ছফা সাহেব বলেছেন, বাঙালি মুসলমানের উদ্ভব আর্যদের থেকে হয় নি, হয়েছে নিম্নশ্রেণির হিন্দু থেকে। কিন্তু এখন মাটি খুঁড়ে আমরা যে অতীত ইতিহাসের পরিচয় পাচ্ছি তাতে আর্যবাদের কোনো গৌরবই থাকছে না। পশ্চিম বাংলায় অজয় নদীর দক্ষিণে পাণ্ডুরাজার ঢিবি নামক স্থানে ১৯৬২-৬৩ সালে ব্যাপক খননকার্য চালানো হয়। এর ফলে সেখানে তাম্র-প্রস্তর (মেসোলিথিক) যুগের বহু নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। তামার বড়শি, নানা আকৃতির ও বিভিন্ন প্রকার নকশাযুক্ত মাটির পাত্র ও অন্যান্য প্রাচীন সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।

আর্যতত্ত্ব নিয়ে তাই আজ আর বড়াই করবার কোনো যুক্তি নেই। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে ‘আর্যবাদ’ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু ছফা সাহেবের লেখা পড়ে মনে হলো তিনি এসব কথা জানেন না; অথবা জানলেও আলোচনার যোগ্য বলে স্বীকার করেন না। তার কাছে বাঙালি মুসলমানরা হীন। কারণ তাদের নেই আর্যদের মতো বিস্তারিত চিন্তাশক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা।

 

ইতিহাসের অজ্ঞতা

কেবল প্রাক-ইতিহাস নয়, ইতিহাসের কাল সম্পর্কেও মনে হয় ছফা সাহেবের জ্ঞান খুব বেশি নয়। ছফা সাহেব বোঝাতে চেয়েছেন, বাঙালি মুসলমান নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত সম্প্রদায়। আর তাই তাদের মনে সব সময় থেকেছে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের প্রতি ভয় ও সম্ভ্রম। কিন্তু এ-দেশের মুসলিম যুগের ইতিহাস ভালোভাবে পাঠ করলে অন্য ধারণারই সৃষ্টি হয়। মধ্যযুগের ইতিহাসে দেখতে পাই, বাংলাদেশে মুসলমানরা হিন্দু ক্রীতদাস রাখতে পারতেন, কিন্তু হিন্দুরা কোনো মুসলিম ক্রীতদাস রাখার অধিকারী ছিলেন না।

‘চৈতন্যভাগবত’ পাঠে অবগত হওয়া যায়, মুসলমানরা হিন্দুদের ছোট জাত বলে মনে করতেন। কোনো মুসলমান (হরিদাস) ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে বৈষ্ণবধর্ম গ্রহণ করলে ‘মুলকের পতি’ তাকে বলেছেন :

কত ভাগ্য দেখ তুমি হঞাছ যবন।

তবে কেন হিন্দুর আচারে দেহ মন।

আমরা হিন্দুরে দেখি নাহি খাই ভাত।

তাহা তুমি ছাড় হই মহাবংশ-জাত।

তাই এ-দেশের মুসলমানরা নিজেদের সব সময় হীন ভেবেছেন এ রকম কথা ধোপে টেকে না। বরং এর উল্টোটাই সত্য, তারা নিজেদের ভেবেছেন অন্যদের চাইতে অনেক উচ্চজাতি হিসেবে।

বাংলাদেশে মুসলমানদের সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পর্কে একাধিক ঐতিহাসিক একাধিক মন্তব্য করেছেন। কারো কারো মতে :

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মোঙ্গলরাজ চেঙ্গিস খাঁ সমগ্র মধ্য এশিয়ার তুর্কী মুসলমানদের রাজ্য এবং বোখারা, সমরখন্দ প্রভৃতি ইসলামী সংস্কৃতির প্রধান প্রধান কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করেন। ইহার ফলে এই অঞ্চল হইতে গৃহহীন পলাতকেরা দলে দলে ভারতে তুর্কী মুসলমান রাজ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরে তাহাদের অনেকে বাংলাদেশে বসতি স্থাপন করিল …। (রমেশচন্দ্র মজুমদার, বাংলার ইতিহাস : মধ্যযুগ, পৃ. ২৩৩)

কিন্তু ছফা সাহেব তার আলোচনায় এসব মুসলমানদের কথা আলোচনা করেন নি। কেবল বলতে চেয়েছেন, বাঙালি মুসলমান আসলে হিন্দু নিম্নবর্ণের থেকেই বিশেষভাবে উদ্ভূত। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, তুর্কীদের মাথার খুলিও গোলাকৃতি। সম্ভবত তুর্কীরা বাংলাদেশে গোলাকৃতি মাথাওয়ালা লোকের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটিয়েছে।

মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলমান কবি আলাওল একাধিক ভাষায় সুপণ্ডিত ছিলেন। বাঙলা, ফারসি, আরবি ও হিন্দি ভাষায় তার জ্ঞান ছিল। মুসলমানদের মধ্যে যারা শিক্ষিত হতেন তারা প্রায় সকলেই একাধিক ভাষায় জ্ঞান রাখতেন। তাদের শিক্ষা সে যুগের মাপকাঠিতে নিম্নমানের ছিল না। কিন্তু ছফা সাহেবের আলোচনা পড়লে মনে হয়, সব মুসলমানই ছিলেন ‘গ্রাম্য চাষা’, বড় জোর নিছক লোকসাহিত্যের সাধক।

 

ইতিহাস নয়, গল্পকথা

ছফা সাহেবে বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে এমন অনেক কথা বলেছেন যা নিছক বানানো বলে মনে হয়। ছফা সাহেবের মতে, ‘বাঙালি মুসলমানরা শুরু থেকেই তাদের আর্থিক ও সামাজিক দুর্দশার হাত থেকে আত্মরক্ষার তাগিদেই ক্রমাগত ধর্মমত পরিবর্তন করে আসছিল। … বাঙালি মুসলমানদের অধিকাংশই বাংলার আদিম কৃষিভিত্তিক কৌমসমাজের লোক। তাদের মানসিকতার মধ্যেও আদিম সমাজের চিরন্তন লক্ষণসমূহই প্রকট। বারবার ধর্ম পরিবর্তন করার পরও বাইরের দিক ছাড়া তাদের মানসিকতার মৌলবস্তুর মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে নি।’ তার এই বক্তব্যের সঙ্গেও আমরা একমত হতে পারি না। কারণ, প্রথমত, ছফা সাহেব যে ধরনের আদিম কৌমসমাজের কথা বলেছেন এ-দেশে সুলতানি আমলের আগেই তার বিলুপ্তি ঘটেছিল। ভূমিব্যবস্থা ও কৃষিকৌশল- উভয়দিক থেকে বিচার করলেও বাংলাদেশের কৃষকদের আদিম কৌমসমাজের অন্তর্ভুক্ত করা চলে না।

 

বাঙালি মুসলমানের জাগরণ

ছফা সাহেব স্বীকার করেছেন, বাঙালি মুসলমান ঊনবিংশ শতকে দু’টি উল্লেখযোগ্য আন্দোলন করেছেন। একটি হলো ওয়াহাবি ও অপরটি হলো ফরায়েজি। কিন্তু তিনি আক্ষেপ করেছেন, এ দু’টি আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে। তিনি এ দু’টি আন্দোলনকে মন খুলে প্রশংসা করতে পারেন নি। কারণ এ দু’টির মূলে ছিল ধর্মীয় প্রেরণা, কোনো আধুনিক সমাজ দর্শন নয়। কিন্তু প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয়, কেন এই অবজ্ঞা? ধর্মীয় অনুভূতি থাকলেই কি কোনো আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব ছোট হয়ে যায়? অন্য অনেক দেশেও ধর্মীয় চেতনা রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। কিন্তু আমরা এসব আন্দোলনকে অবজ্ঞার চোখে দেখি না। বাংলাদেশের বেলাতেই বা আমরা এর ব্যতিক্রম করতে যাব কেন?

প্রবলপ্রতাপ ক্রমওয়েল বিলাতের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন খ্রিষ্টান পিউরিটানিজমের প্রতিনিধি হিসেবে। কিন্তু তা বলে আমরা তার সমালোচনা করি না। বরং বলি, তিনি দিয়েছিলেন বিলাতের ইতিহাসকে বদলে, দিয়েছিলেন রাজতন্ত্রকে দুর্বল করে। ফলে ব্রিটেনে সৃষ্টি হতে পারে বর্তমান গণতন্ত্রের ভিত্তিভূমি। বিলাতের দু’টি গণআন্দোলনও- ‘ডিগারস’ ও ‘লেভেলারস’ ছিল বিশেষভাবে ধর্ম-চেতনা অনুপ্রাণিত। কিন্তু বিলাতের ইতিহাসে এখনো এদের কথা শ্রদ্ধাভরেই স্মরণ করা হয়। অথচ আমাদের দেশে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী মনে করেন, ধর্মীয় অনুপ্রেরণাযুক্ত সব আন্দোলনই প্রতিক্রিয়াশীল। আর তাই তা বিরূপ সমালোচনার যোগ্য। বিশেষ করে কোনো আন্দোলনের মূলে যদি কাজ করে থাকে ইসলাম ধর্মের অনুপ্রেরণা তবে তা কখনোই জনসাধারণের পক্ষে কল্যাণকর হতে পারে না।

কিন্তু খোঁজ নিলে দেখা যায়, ধর্ম নানা জাতির ইতিহাসেই পালন করেছে বিশেষ গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা- যাকে বাদ দিয়ে ইতিহাস বোঝা যায় না। আধুনিক সমাজতাত্ত্বিকরা নানাভাবে ধর্মের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বিখ্যাত ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক এমিল দরকেইমের মতে ধর্মকে বাদ দিয়ে কোনো সমাজ-জীবনের ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। ধর্ম সমাজ-জীবনের বাস্তব ভিত্তি। বিখ্যাত জার্মান সমাজতাত্ত্বিক ম্যাকস বেবরের মতে, মানুষ ইতিহাস গড়তে চায় তার আপন মূল-চেতনার উপর ভিত্তি করে। আর মূল-চেতনার উৎস হিসেবে ইতিহাসে ধর্ম পালন করে প্রধান ভূমিকা। কিন্তু ছফা সাহেবের কাছে ধর্ম একটি বিচার্য বিষয়ই নয়। তার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে তাই তিনি খোলামনে গ্রহণ করতে অক্ষম।

ঊনবিংশ শতকে ইউরোপীয় ভাবধারার প্রভাবে হিন্দু সমাজে নানা সংস্কারবাদী আন্দোলন আরম্ভ হয়। রামমোহন চান সতীদাহ প্রথা বন্ধ করতে। বিদ্যাসাগর চান বিধবা বিবাহ চালু করতে। কিন্তু মুসলমান সমাজের এসব সমস্যা ছিল না। মুসলমান সমাজে জাগরণ পরিগ্রহ করে সম্পূর্ণ ভিন্নরূপ। মুসলমানরা বিদ্রোহ করেন বিদেশি শাসনের বিপক্ষে। তারা গ্রহণ করেন ওয়াহাবি মতবাদ। এ প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে প্রখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার মহাশয় লিখেছেন :

“ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বাংলার মুসলমানদের দুইটি বিপ্লব জনসাধারণের মনে বিশেষ ভীতি ও উদ্বেগের সঞ্চার করিয়াছিল। আরবে আবদুল ওয়াহাব নামক এক ব্যক্তি (১৭০৩-১৭৮৭ খ্রি.) মুসলমান ধর্ম সংস্কারের জন্য এক আন্দোলন উপস্থিত করেন। তাহার সম্প্রদায় ‘ওয়াহাবি’ নামে প্রসিদ্ধ। ভারতেও ওয়াহাবি ধর্মমত প্রচারিত হইয়াছিল (১৮২০-১৮৭০ খ্রি.) এবং প্রায় অর্ধশতাব্দী কাল খুব প্রসার লাভ করিয়ছিল।… সমস্ত উত্তর ভারতে এই আন্দোলন শক্তিশালী হইবার পূর্বেই বাংলাদেশে দুইজন মুসলমান ইহার অনুরূপ আন্দোলন আরম্ভ করেন। ধর্মসংস্কারের জন্য আরম্ভ হইলেও ক্রমে ইহা ইংরাজ ও জমিদারদিগের বিরুদ্ধে প্রজাদিগকে উত্তেজিত করে।” (বাংলার ইতিহাস : আধুনিক যুগ, পৃ. ৫৬-৫৭)।

ফরায়েজি আন্দোলন সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মজুমদার মহাশয় লিখেছেন :

শরিয়ত উল্লার সম্প্রদায়ের নাম ছিল ফরাজি। ইহাদের অধিকাংশই ছিল জমিদার কর্তৃক উৎপীড়িত প্রজা এবং বাংলার শিল্প ধ্বংস হওয়ার ফলে বেকার শ্রমিক দল। (ঐ, পৃ. ৫৮)

শরিয়ত উল্লার মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহম্মদ মুহসিন (১৮১৯-১৮৬০ খ্রি.) ফরায়েজি আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করেন। তিনি তার ডাকনাম ‘দুদু মিয়া’ হিসেবে বিশেষ প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন। দুদু মিয়া কার্যত পূর্ব বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসকে পরিণত হন। তাকে দমন করতে ইংরেজদের বিশেষ বেগ পেতে হয়।

দুদু মিয়া সম্পর্কে লিখতে গিয়ে মজুমদার মহাশয় লিখেছেন :

তিনি (দুদু মিয়া) ঘোষণা করেন যে জমি ভগবানের, সুতরাং জমিদারদের খাজনা আদায় করিবার কোন অধিকার নাই। বিংশ শতাব্দীর অসহযোগ আন্দোলনের অনেক পূর্বাভাস দুদু মিয়ার আন্দোলনে পাওয়া যায়। জমিদার ও নীলকরেরা তাঁহার এই সমুদয় প্রচারের ফলে ভীত ও সন্ত্রস্ত হইয়া তাঁহার নামে লুটপাট, অনধিকার প্রবেশ প্রভৃতি বহু অত্যাচারের জন্য বহুবার আদালতে অভিযোগ করে, কিন্তু তাঁহার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবার লোক না থাকায় তিনি প্রতিবারই খালাস পান।(ঐ, পৃ. ৬০)।

 

উপরের কথাগুলি থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, কত গভীর ও ব্যাপক ছিল বাঙালি মুসলমানের জাগরণ। বাঙালি মুসলমান কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে চায় নি। আর চায় নি বলেই সম্ভব হয়েছে আজকের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। যারা উইলিয়াম হান্টার লিখিত বিখ্যাত বই ‘দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস’ পড়েছেন, তারা জানেন কী রকম দুর্জয় সাহস নিয়ে বাংলাদেশ থেকে বাঙালি মুসলমান ওয়াহাবি ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে যেত দূর পাঞ্জাবে ও সীমান্ত প্রদেশের মতো অঞ্চলে যুদ্ধ করতে। কিন্তু ছফা সাহেবের লেখায় বাঙালি মুসলমানের ইতিহাসের এসব দিকের কোনো পরিচয় নেই।

ছফা সাহেব ঊনবিংশ শতাব্দীতে যে মুসলিম জাগরণ দেখা দেয় সে সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। অথচ এই জাগরণের কথা বাদ দিয়ে আজকের বাঙালি মুসলমানের মনোধারার ব্যাখ্যাই সম্ভব নয়- ভাবাই যায় না, বাংলাদেশ উদ্ভবের কথা।

 

৫৩৬ বার পঠিত

শেয়ার করুন

Picture of এবনে গোলাম সামাদ

এবনে গোলাম সামাদ

এবনে গোলাম সামাদ (২৯ ডিসেম্বর ১৯২৯ – ১৫ আগস্ট ২০২১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, লেখক, কলামিস্ট ও প্রভাবশালী গণবুদ্ধিজীবী। তাঁর রচনা ও বক্তৃতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিফলন দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবন

১৯৪৮ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা সংঘ বিষ্ণুপুর থেকে বি. কোর্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা সে সময়ের মাধ্যমিক শিক্ষার সমমান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তেজগাঁও কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইউরোপে গমন করেন এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।

ফ্রান্সে চার বছর ধরে প্ল্যান্ট ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শেষে তিনি পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৬৩ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১১ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন এবং সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে পুনরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

এবনে গোলাম সামাদের পিতা মোহাম্মদ ইয়াসিন পেশায় একজন স্টেশন মাস্টার ছিলেন এবং তাঁর মাতার নাম নছিরন নেসা। তাঁর বড় বোন দৌলতুননেসা খাতুন ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান লেখক ও সমাজকর্মী।

লেখালিখি ও চিন্তাধারা

এবনে গোলাম সামাদ মূলত একজন কলাম লেখক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর প্রায় একশত গবেষণা প্রবন্ধ এবং প্রায় পনেরোটি গ্রন্থ দেশ ও বিদেশে প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি ছিল তাঁর লেখার প্রধান বিষয়বস্তু। তিনি দীর্ঘদিন ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত এবং আমার দেশ পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন।

তাঁর লেখায় মুক্তচিন্তা ও প্রশ্নমুখর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বাংলা একাডেমির ভূমিকা সম্পর্কেও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

ইতিহাস বিশ্লেষণে তাঁর রচনাশৈলী পাঠকের জন্য যেমন তথ্যসমৃদ্ধ, তেমনি উপভোগ্য। ভারতীয় জাতীয় সংগীত ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাস, কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ছিল গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া।

গ্রন্থসমূহ

উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্র হয়েও তিনি শিল্পকলার ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ নিচে দেওয়া হলো—

  • বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি
  • আত্মপক্ষ
  • আত্মপরিচয়ের সন্ধানে
  • বাংলাদেশ: সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া
  • মানুষ ও তার শিল্পকলা
  • নৃতত্ত্বের প্রথম পাঠ
  • প্রাথমিক জীবাণুতত্ত্ব
  • বায়ান্ন থেকে একাত্তরli>
  • ইসলামী শিল্পকলা(১৯৭৮)
  • শিল্পকলার ইতিকথা(১৯৬০)
  • এবনে গোলাম সামাদ রচনাসমগ্র (১–৩ খণ্ড)
পদক ও পুরস্কার

তাঁর চিন্তাচর্চা ও সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার (চট্টগ্রাম, ২০০৯) লাভ করেন।

মৃত্যু

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

Picture of এবনে গোলাম সামাদ

এবনে গোলাম সামাদ

এবনে গোলাম সামাদ (২৯ ডিসেম্বর ১৯২৯ – ১৫ আগস্ট ২০২১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, চিন্তাবিদ, লেখক, কলামিস্ট ও প্রভাবশালী গণবুদ্ধিজীবী। তাঁর রচনা ও বক্তৃতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিফলন দেখা যায়। একই সঙ্গে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষাজীবন

১৯৪৮ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা সংঘ বিষ্ণুপুর থেকে বি. কোর্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, যা সে সময়ের মাধ্যমিক শিক্ষার সমমান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তেজগাঁও কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে কৃষিবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ইউরোপে গমন করেন এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।

ফ্রান্সে চার বছর ধরে প্ল্যান্ট ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শেষে তিনি পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবন

১৯৬৩ সালে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১১ নভেম্বর ১৯৬৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন এবং সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে পুনরায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

ব্যক্তিগত জীবন

এবনে গোলাম সামাদের পিতা মোহাম্মদ ইয়াসিন পেশায় একজন স্টেশন মাস্টার ছিলেন এবং তাঁর মাতার নাম নছিরন নেসা। তাঁর বড় বোন দৌলতুননেসা খাতুন ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান লেখক ও সমাজকর্মী।

লেখালিখি ও চিন্তাধারা

এবনে গোলাম সামাদ মূলত একজন কলাম লেখক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর প্রায় একশত গবেষণা প্রবন্ধ এবং প্রায় পনেরোটি গ্রন্থ দেশ ও বিদেশে প্রকাশিত হয়েছে। রাজনীতি, সমাজনীতি ও সংস্কৃতি ছিল তাঁর লেখার প্রধান বিষয়বস্তু। তিনি দীর্ঘদিন ইনকিলাব, নয়া দিগন্ত এবং আমার দেশ পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন।

তাঁর লেখায় মুক্তচিন্তা ও প্রশ্নমুখর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বাংলা একাডেমির ভূমিকা সম্পর্কেও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

ইতিহাস বিশ্লেষণে তাঁর রচনাশৈলী পাঠকের জন্য যেমন তথ্যসমৃদ্ধ, তেমনি উপভোগ্য। ভারতীয় জাতীয় সংগীত ও জাতীয়তাবাদের ইতিহাস, কিংবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ছিল গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া।

গ্রন্থসমূহ

উদ্ভিদবিদ্যার ছাত্র হয়েও তিনি শিল্পকলার ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ নিচে দেওয়া হলো—

  • বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি
  • আত্মপক্ষ
  • আত্মপরিচয়ের সন্ধানে
  • বাংলাদেশ: সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া
  • মানুষ ও তার শিল্পকলা
  • নৃতত্ত্বের প্রথম পাঠ
  • প্রাথমিক জীবাণুতত্ত্ব
  • বায়ান্ন থেকে একাত্তরli>
  • ইসলামী শিল্পকলা(১৯৭৮)
  • শিল্পকলার ইতিকথা(১৯৬০)
  • এবনে গোলাম সামাদ রচনাসমগ্র (১–৩ খণ্ড)
পদক ও পুরস্কার

তাঁর চিন্তাচর্চা ও সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার (চট্টগ্রাম, ২০০৯) লাভ করেন।

মৃত্যু

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট রোববার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তিকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

মতামত প্রকাশ করুন

Scroll to Top