হক (সত্য) কেন্দ্রীক সভ্যতা শক্তি (বাতিল) কেন্দ্রীক সভ্যতার চেয়ে উত্তম

অনুকরণকারী এবং অন্যদেশের আজ্ঞাবহ রাজনৈতিক দলসমূহ মনে করে থাকে, পাশ্চাত্য সভ্যতা আমাদের সভ্যতার চেয়ে উত্তম ও উন্নত। এই সকল গাফিলদেরকে একথা বলে আমাদের সতর্ক করা উচিত, “এই গাফেলরা, তোমরা কে তা আগে জেনে নাও। তোমরা কোন জাতির সন্তান? তোমাদের ইতিহাসের দিকে একবার তাকাও। আমাদের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা। সকল দিক দিকে আমাদের সভ্যতা মানবতাকে তার সর্বোচ্চ মর্যাদায় উপনীত করেছে। শুধু সামরিক দিক থেকে নয়, মানবিক মূল্যবোধের দিক থেকে আমাদেরকে সভ্যতা যে উপমা পেশ করেছে তার উদাহরণ আর কোথাও নেই। সকল দিক থেকে আমাদের সভ্যতা একটি পরিপূর্ণ সভ্যতা।”
রাসূলে আকরাম (সঃ) মক্কা বিজয় করেন, বিজয়ের পর সকল মানুষকে তার অধিকার পূর্ণ করে দেন। মুসলমানদের উপরে যারা নির্যাতনের ষ্টীমরোলার চালিয়েছিল তাদের সকলকে তিনি ক্ষমা করে দেন। এটি কত মহান একটি শিক্ষা। কত মহান একটি উপমা!
হযরত উমর (রাঃ) বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয় করেন। তিনি সেখানে বসবাসকারী সকলকে তার বিশ্বাসের স্বাধীনতা দেন। অপরিকে কুৎসিত হৃদয়ের অধিকারী রিচার্ড কুদুসকে দখল করে নিলে সেখানে ১ লাখের বেশী মুসলমানকে হত্যা করে। তাদের নিজেদের ঐতিহাসিকদের দেওয়া তথ্যমতে সেখানে এত বেশী পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয় যে, সেখানে ঘোড়ার ঊরু পর্যন্ত ডুবে যায়। এর ৮০ বছর পর সালাহউদ্দিন আইয়ুবী আসেন এবং কুদুসকে ক্রুসেডারদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়ের পর এই কথা বলেননি, ‘তুমি ১ লাখ মানুষ হত্যা করেছ আমি ২ লাখ মানুষ হত্যা করব’। তিনি তার পূর্বসূরী রাসূলে করীম (সঃ) এবং হযরত উমর (রাঃ) এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তারা যেমন করেছিলেন তিনিও তেমনটি করেন। তিনি সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি মুহাম্মাদ (সঃ) এর উম্মত। আমি তোমাদের কারো গায়ে একটু আঁচড়ও দিব না।” এবং কারোর পশমেও তিনি কাউকে কোন স্পর্শ করতে দেননি।
সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ ইস্তানবুল বিজয় করেন এবং মানুষকে মৌলিক অধিকার এবং স্বাধীনতা প্রদান করেন। আমাদের ইতিহাসে এই ধরণের উদাহরণ এত বেশী আছে তা গুণে শেষ করা যাবে না।
এবার পাশ্চাত্যের ইতিহাসের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন, হিটলার, স্টালিন, শতবর্ষ ব্যাপী যুদ্ধ সমূহ, ত্রিশ বছর ব্যাপী যুদ্ধ , Inquisition, আন্দালুসিয়া….আমি আর এই নির্মম ইতিহাসকে দীর্ঘায়িত করতে চাই না। আমি কি আপনাদেরকে একটা কথা বলবো? যদি আমাদের ইতিহাসের অধিকারী পাশ্চাত্য হতো আর পাশ্চাত্যের ইতিহাস যদি আমাদের হত তাহলে তারা আমাদেরকে কোন কথা বলারই সুযোগ দিত না। তারা আমাদেরকে বলতো, চুপ করে বসে থাকো। এই ইতিহাস নিয়ে কীভাবে কথা বলো? কোন মুখ নিয়ে হক এবং স্বাধীনতার কথা বলো? আমাদের ইতিহাসকে কখনো পাশ্চাত্যের ইতিহাসের সাথে তুলনাই করা যায় না। সমগ্র মানবতাকে সভ্যতার শিক্ষা দানকারী, মানবিকতার শিক্ষা দানকারী জ্ঞান-বিজ্ঞানের শিক্ষা দানকারী একটি সভ্যতাকে বাদ দিয়ে ইউরোপীয়া ইউনিয়নে, খ্রিস্টিয়ান ইউনিয়নে প্রবেশ করবে? হে পাশ্চাত্য সভ্যতার ধ্বজাধারীরা! কোথায় যাও তোমরা ? কী রেখে কোথায় যাচ্ছো তোমরা? বসে একটু রাত পর্যন্ত চিন্তা করো- তোমরা আসলেই কী করছো? তোমরা কে? কী তোমাদের ইতিহাস? কী তোমাদের ঐতিহ্য?
এজন্য আমাদের সভ্যতাকে ইউরোপীয়ানদের সভ্যতার চেয়ে ছোট করে দেখা সবচেয়ে বড় ভুল এবং যারা এমন চিন্তা করে তারা কক্ষনোই মানবতার জন্য এবং আমাদের দেশ ও জাতির জন্য কোন ধরণের কল্যাণ বইয়ে আনতে পারবে না।
অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ



মতামত প্রকাশ করুন