সাইয়্যেদ কুতুব (১৯০৬-১৯৬৬) বিংশ শতাব্দীর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, সাহিত্য সমালোচক, লেখক এবং ইসলামী পুনর্জাগরণচিন্তার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। মিসরের আসইউত প্রদেশে তার জন্ম। প্রাথমিক শিক্ষার পর কায়রোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং দারুল উলূম থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। সাহিত্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির জগৎ দিয়েই তার কর্মজীবনের সূচনা।
কর্মজীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি সাহিত্য সমালোচনা, শিক্ষানীতি এবং আরব সমাজের সাংস্কৃতিক প্রশ্ন নিয়ে লেখালেখি করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, উপনিবেশবাদী আধিপত্য এবং আধুনিক সভ্যতার আত্মিক সংকট তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পাশ্চাত্য সমাজের অভিজ্ঞতা তার চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরবর্তীকালে তিনি ইখওয়ানুল মুসলিমীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং মুসলিম সমাজের পুনর্গঠন, কুরআনের আলোকে মানবমুক্তি এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে তার চিন্তার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। মিসরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় দমননীতি এবং কারাজীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা তার রচনাকে আরও গভীর ও তীক্ষ্ণ করে তোলে।
তার বিখ্যাত তাফসির ‘ফি জিলালিল কুরআন ‘ আধুনিক কুরআনচিন্তার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অবদান হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া ‘মা‘আলিম ফিত তারিক’ গ্রন্থ মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট মিসরের শাসকগোষ্ঠী তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শহীদ করে। তার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে মুসলিম চিন্তার জগতে এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। তথাপি ইসলামী পুনর্জাগরণ এবং কুরআনকেন্দ্রিক সামাজিক রূপান্তরের প্রশ্নে শহীদ সাইয়েদ কুতুব আজও এক অনিবার্য নাম।