সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী

সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (১৯১৪-১৯৯৯) বিংশ শতাব্দীর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক ও দাঈ। ভারতের উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলিতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। শৈশবেই তিনি আরবি, উর্দু, ফার্সি ও ইসলামী জ্ঞানের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন। তার পারিবারিক পরিবেশ ছিল ইলম, আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতির এক উর্বর ক্ষেত্র। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্ণৌর নাদওয়াতুল উলামায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং অল্প বয়সেই আরবি ভাষা ও ইসলামী ইতিহাসে অসাধারণ ব্যুৎপত্তির পরিচয় দেন।
বিশ শতকের মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক বিপর্যয়, আখলাকী সংকট এবং আত্মপরিচয়ের সংকট নদভীর চিন্তার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে মুসলমানদের দুরবস্থার মূল কারণ কেবল রাজনৈতিক শক্তিহীনতা নয়; বরং চিন্তার স্থবিরতা, আত্মবিস্মৃতি এবং ইতিহাসবোধের দুর্বলতা। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি মুসলিম উম্মাহর আখলাকী পুনর্জাগরণ, দ্বীনি চেতনার নবায়ন এবং সভ্যতাগত আত্মসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
১৯৩৪ সালে তিনি নাদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। শিক্ষকতা, দাওয়াহ, গবেষণা, লেখালেখি ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশ ছাড়িয়ে আরব বিশ্বেও গভীর প্রভাব বিস্তার করেন। আরবি ভাষায় তার লেখনির শক্তি তাকে ভারতীয় আলেমদের মধ্যে এক বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়।
তার রচিতমাযা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন গ্রন্থটি মুসলিম বিশ্বের অবক্ষয়কে কেবল মুসলমানদের ক্ষতি হিসেবে নয়, বরং সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য এক গভীর আখলাকী বিপর্যয় হিসেবে বিশ্লেষণ করেছে। এছাড়া মুসলিম’স ইন ইন্ডিয়া, ইসলাম এন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড প্রভৃতি গ্রন্থ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।
১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার ইন্তিকালের মাধ্যমে মুসলিম পুনর্জাগরণচিন্তার এক বলিষ্ঠ কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। তথাপি ইসলামী আত্মপরিচয়, ইতিহাসসচেতনতা ও আখলাকী পুনর্জাগরণের প্রশ্নে সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী আজও মুসলিম বিশ্বের এক উজ্জ্বল প্রেরণার নাম।

৭টি লেখা
মুসলিম উম্মাহ

বিশ্ব-সভ্যতায় ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (সা)

বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি ইসলাম ও মানব সভ্যতা-সংস্কৃতি একটি জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত বিষয়- যার সম্পর্ক কেবল মুহাম্মদ (সা)-এর নবুয়ত এবং ইসলামের পয়গাম ও শিক্ষার সাথেই নয় বরং জীবনের বাস্তবতা, মানবতার বর্তমান ও ভবিষ্যত এবং সভ্যতা- সংস্কৃতির পুনর্গঠন ও দিকনির্দশনার ক্ষেত্রে…

চিন্তা ও দর্শন

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার দর্পণে ইসলামী শরীয়ত ও আল ইরতিফাকাত

হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার বৈশিষ্ট্য শাহ সাহেবের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ ও জ্ঞানগত কৃতিত্ব 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা'। যার মধ্যে ইসলামী শরীয়তের এমন এক…

ইসলামী চিন্তা

ইলম-অন্বেষী ছাত্রসমাজের মর্যাদা এবং করণীয়

(প্রবন্ধটি ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে দারুল উলুম দেওবন্দে ছাত্রদের এক সভায় পাঠ করা হয়। পরে তা পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করা…

উপমহাদেশ

মোঘল সালতানাতের ক্রান্তিকালে শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড

তিনটি অনভিজ্ঞ যুদ্ধবাজ শক্তি বক্ষমান কিতাবের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি বলে এসেছি, হিজরী বারো শতকের ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা ও চারিত্রিক…

উপমহাদেশ

যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উলামায়ে দেওবন্দের ঐতিহ্য এবং অবদান

(প্রবন্ধটি ১৯৭২ সালের ১২ আগস্ট দারুল উলূম দেওবন্দের দারুল হাদীসে মাওলানা মিন্নাতুল্লাহ রহমানী আমীরে শরীয়ত বিহার-এর এক মাহফিলের সভাপতিত্বে ছাত্রদের…

বাংলাদেশ

ইসলাম প্রচারে বাংলা ভাষা

[সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী (জন্ম- ৫ ডিসেম্বর-১৯১৪ মৃত্যুঃ ৩১ ডিসেম্বর-২০০০ঈসায়ী) ভারতের উত্তর…

ইসলামী চিন্তা

আল্লামা ইকবাল এবং পাশ্চাত্য সভ্যতা সম্পর্কে তাঁর সমালোচনা

বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে মুসলিম যুবকগণ পাশ্চাত্যের বিষয়সমূহ অধ্যয়ন ও গবেষণা করেছিল। তারা ভারতের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং…

অনুদান দিন
Scroll to Top