মুসলিম সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হতে হবে?

২,৪১৫ বার পঠিত

ইসলামী সমাজের মূলভিত্তি দ্বীন হওয়ায় তারবিয়া শুধুমাত্র একটি বাধ্যবাধকতা নয় এটি একই সাথে তাঁর অস্তিত্বের সাথেও সম্পর্কিত একটি বিষয়। দ্বীন ও আখলাকী তারবিয়া সর্বাগ্রে শুরু হয় পরিবারে এবং পরবর্তীতে তা সমাজে ও বিদ্যায়তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়।

ইসলামী ব্যবস্থার বিশেষ দায়িত্ত্ব হল, মানুষকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে সকল উপাদান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেই সকল নেতিবাচক প্রভাবকে সমূলে উৎখাত করার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করা। ইসলাম যে সকল বিষয়কে নিষেধ করেছে এবং ইসলামী ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সকল উপাদানের প্রসার একেবারেই প্রতিহত করতে হবে সেগুলো হল;

১। জাতিকে মাদকাসক্তিতে আসক্ত করতে পারে এমন সকল উপাদানের রোধন।
২। মুক্ত ও গুপ্ত গণিকাবৃত্তি।
৩। কথা, ছবি, ফিল্ম, টিভি প্রভৃতিতে পর্ণগ্রাফি-অশ্লীলতার প্রসার রোধ।
৪। ইসলামের আখলাকী মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্যাসিনো, নাইট ক্লাব, ক্যাবারে এবং এই ধরণের তথা কথিত বিনোদনের উপাদান সমূহ।

এই ধরণের সমন্বিত তারবিয়ার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কাজের অভ্যাস এবং প্রশিক্ষণ। মুসলিম জগতকে বর্তমান দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী ঐক্যের পাশাপাশি শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর হাতে যথেষ্ট পরিমাণে পুঁজি নেই। এরূপ হওয়ার কারণে মুসলমানদের হাতে যা আছে তাঁর সর্বোচ্চটুকু শিক্ষাখাতেই বিনিয়োগ করা দরকার। জ্ঞান-বিজ্ঞান ব্যবহারের যথার্থ ক্ষমতা অর্জন ব্যতিত এবং এই অর্জনকে আরও অগ্রসর করা ছাড়া মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত আজাদী আসবে না। ইসলাম তার প্রারম্ভের সূচনাকাল থেকেই কোন প্রকার দ্বিধাদন্দ ছাড়াই তাঁর পূর্বের সভ্যতা সমূহের সামষ্টিক জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে অনেক কিছুই অর্জন করেছে এবং সেই সকল জ্ঞানকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

অথচ মুসলমানগণ আজ কেন ইউরোপ ও অ্যামেরিকার যে অর্জন সে অর্জন থেকে উপকৃত হওয়ার পন্থাকে গ্রহণ না করে অন্য পন্থা গ্রহণ করছে? অথচ ইউরোপ ও অ্যামেরিকার সাথে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অর্থাৎ, আমরা তাঁদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করব কি করব না বিষয়টি এই সম্পর্কীয় নয়। আমরা যদি আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে চাই বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে এবং এগুলোকে মানব কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

এখানে প্রশ্ন হল আমরা কি এটাকে আমাদের আত্ম-মর্যাদাকে রক্ষা করে সৃষ্টিশীল কিংবা যান্ত্রিকভাবে করব নাকি হীনমন্যতার সাথে করব? আমরা কি এই অনিবার্য যাত্রায় পরাজয় বরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হব নাকি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সুরক্ষাদানের জন্য প্রচেষ্টা চালাব?

এই হাকীকতকে সামনে রেখে একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, শিক্ষাই হল একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা মুসলিম উম্মাহর গুণগত ও পরিমাণগত, জরুরী ও বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। গুণগত পরিবর্তন অর্থে শিক্ষা মুসলিম উম্মাহর উপর ভিন্ন জাতির জাগতিক ও নৈতিক নির্ভরশীলতাকে কমিয়ে এনে মুসলমানদেরকে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে ও মুসলিম সমাজের একজন সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার প্রতি জোর দিলে, মুসলিম সমাজে দীর্ঘকালে ধরে দানা বেঁধে উঠা সমস্যাকে দূরীভূত করতে সাহায্য করবে এবং সকলেই যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপকৃত হতে পারে এই জন্য শিক্ষাকে তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। আর এই কারণে শুরুর দিকে মসজিদ সমূহকে স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কেননা আমরা যদি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থ না হই তাহলে এমন ক্ষেত্র নেই যেখানে আমরা বিজয়ী হব না।

অনুবাদক: বুরহান উদ্দিন আজাদ

লেখাটি শেয়ার করুন

মতামত প্রকাশ করুন

অনুদান দিন
Scroll to Top