ড. খাদিজা গরমেজ সমকালীন তুরস্কের একজন বিশিষ্ট গবেষক, লেখক, শিক্ষাবিদ এবং মুসলিম নারী-বুদ্ধিজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠগুলোর অন্যতম। তুরস্কে তার জন্ম। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক বাস্তবতা এবং বৌদ্ধিক অন্বেষণের এক সম্মিলিত পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্তির পর উচ্চশিক্ষায় তিনি ইসলামী অধ্যয়ন, সমাজচিন্তা এবং সমকালীন মুসলিম বিশ্বের নানা বৌদ্ধিক প্রশ্ন নিয়ে গভীর মনোনিবেশ করেন।
তার চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে মুসলিম সমাজে নারীর অবস্থান, পরিবার, নৈতিকতা, আধুনিকতার প্রভাব এবং ইসলামী সভ্যতার ভেতর থেকে সামাজিক প্রশ্নগুলোর পুনর্বিবেচনা। তিনি মনে করেন, মুসলিম সমাজে নারী-আলোচনাকে কেবল অধিকারের সরল ভাষ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তার গভীরতা নষ্ট হয়; বরং তা ইতিহাস, সংস্কৃতি, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক আত্মপরিচয়ের বৃহত্তর পরিসরের ভেতর বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষাবিদ ও গবেষক হিসেবে তিনি তুরস্কের বিভিন্ন একাডেমিক পরিসরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি সমকালীন মুসলিম সমাজে পরিবারব্যবস্থা, নাগরিক নৈতিকতা, নারীর সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে তার বক্তৃতা ও প্রবন্ধ বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।
তার লেখনির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—একদিকে বিশ্লেষণী বৌদ্ধিকতা, অন্যদিকে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতি গভীর সংবেদনশীলতা। আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের দ্বন্দ্বকে তিনি সরল বিরোধ হিসেবে দেখেন না; বরং মুসলিম সমাজের আত্মসমালোচনা ও সৃজনশীল পুনর্গঠনের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করেন।
সমকালীন মুসলিম বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে ড. খাদিজা গরমেজ এমন এক কণ্ঠ, যিনি নারী, সমাজ ও নৈতিকতার প্রশ্নকে ইসলামী সভ্যতার ভেতর থেকে নতুনভাবে ভাবার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন।