আল্লামা তাহির বিন আশুর

আল্লামা মুহাম্মদ তাহির ইবন আশুর (১৮৭৯-১৯৭৩) আধুনিক মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম, মুফাসসির, ফকীহ ও ইসলামী চিন্তাবিদ। তিউনিসের এক বিদ্বৎপরিবারে তার জন্ম। শৈশবেই তিনি আরবি ভাষা, কুরআন ও ইসলামী জ্ঞানের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিউনিসিয়ার ঐতিহাসিক আল-যায়তুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে উত্তর আফ্রিকার ইসলামী বিদ্যাচর্চার অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিনিধিতে পরিণত হন।
ইবন আশুরের বৌদ্ধিক সাধনার প্রধান ক্ষেত্র ছিল কুরআনের ব্যাখ্যা, আরবি ভাষার সূক্ষ্মতা, ইসলামী আইনশাস্ত্রের উদ্দেশ্য এবং শরিয়তের অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞা অনুধাবন। তিনি মনে করতেন, ইসলামী শরিয়াহ কেবল বিধি-নিষেধের সমষ্টি নয়; বরং মানবকল্যাণ, ন্যায়বিচার, ভারসাম্য ও নৈতিক পরিপূর্ণতার একটি সুসংহত জীবনব্যবস্থা।
আল-যায়তুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীকালে এর শায়খুল জামিয়া হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী শিক্ষার সংস্কার, পাঠপদ্ধতির নবায়ন এবং কুরআন অধ্যয়নে গভীরতর বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
তার সুবিখ্যাত তাফসির আত-তাহরীর ওয়াত-তানওয়ীর আধুনিক কুরআনচর্চার ক্ষেত্রে এক অনন্য অবদান হিসেবে বিবেচিত। এই তাফসিরে ভাষাগত সূক্ষ্মতা, চিন্তার স্বচ্ছতা এবং আয়াতের উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যার এক বিরল সমন্বয় দেখা যায়। এছাড়া মাকাসিদুশ শরিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ গ্রন্থে তিনি শরিয়তের উদ্দেশ্য ও প্রজ্ঞা বিষয়ে ইসলামী চিন্তার জগতে নতুন এক বৌদ্ধিক দিগন্ত উন্মোচন করেন।
বিশ শতকের ইসলামী চিন্তার ইতিহাসে আল্লামা তাহির ইবন আশুর এমন এক মনীষী, যিনি ঐতিহ্যের গভীরতা অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন সময়ের প্রশ্নের সঙ্গে ইসলামী জ্ঞানের সৃজনশীল সংলাপ স্থাপনের প্রয়াস চালিয়েছেন। এ কারণে সমকালীন ইসলামী আইনচিন্তা, তাফসির ও মাকাসিদ-আলোচনায় তার নাম বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

১টি লেখা
উসূল ও মেথডোলজি

আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনকে নাযিল করেছেন সমগ্র মানবতাকে সংশোধন করার জন্য। শুধু তাই নয় এই কোরআন এসেছে রহমতের জন্য এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যকে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভাষায়, আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি…

আল্লামা তাহির বিন আশুর
অনুদান দিন
Scroll to Top