প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর করণীয়

মানবতার মুক্তির জন্য ও মানুষের শান্তির জন্য আমাদের কে অস্ত্র তৈরি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আজ তারা মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করার জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমেরিকা লোহিত সাগরে তার রণতরী মোতায়েন করে ইরাকের বাগদাদে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। এন্ত্রাফার রণতরী ইস্তানবুলে আসার পর আমাদের একটি পার্লামেন্টারি গ্রুপ কে পাঠিয়েছিলাম সেটাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য।
তারা আসার পর আমাকে তাঁদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিল। তারা বলেন যে প্রথমে আমাদের কে ক্যাপ্টেন এর রুমে দেখানো হয়। এর পর আমাদের কে রণতরীর ভেতর ক্যাপ্টেন এর গেস্ট রুমে নেওয়া হয়। সেখানে নারী পুরুষ একসাথে বসা সবার পেছনে কফি গরম করার চুলা সামনে টেবিল সবাই কফি তে আরামের চুমুক দিচ্ছে আর গল্প করছে। এরপর তারা বলল যে আমরা এখন আপনাদেরকে আমাদের কার্যপ্রণালী প্রদর্শন করাব।
এই রণতরী থেকে একটি ক্ষেপনাস্ত্র ১০ হাজার মাইল দুরের যে কোন লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই কথা বলার পর বসার জায়গা থেকে একজন তার সামনের পর্দায় সতর্কতার সাথে তাকানোর পর ক্যাপ্টেন তার কাছে এসে বলে যে কফি রেখে আমার কথা শোনেন । আপনি এই ক্ষেপনাস্ত্রটিকে অমুক মহাসাগরের অমুক জায়গায় নিক্ষেপ করবেন। সেই ব্যক্তি তার কফির কাপ কে রেখে ডান পাশে ফিরে সেখানের কন্ট্রোল বাটন এ চাপ দেওয়ার পর আবার ক্যাপ্টেন এসে পর্দায় ফিরে বললেন যে আগুন রেডি?? বাটন এ চাপ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর আমাদের কে টেলিভিশনে দেখানো হল যে সেটি তার সেই লক্ষ্য বস্তুতেই আঘাত হেনেছে।
সবচেয়ে বড় জুলুম হল এটা যে কফি টেবিলে রেখে দিয়ে শুধু মাত্র ডানে বামে ফিরেই লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত হানার মত প্রযুক্তি তারা আবিষ্কার করেছে। অর্থাৎ কফি টেবিলে বসেই তারা সবচেয়ে বড় জুলুম করতে পারে।
এখন আপনি বলেন কি, আমি আমার অধিকার রক্ষা করব কিভাবে রক্ষা করবেন? আমেরিকার ৪০ টি রণতরী আছে। তাহলে আপনি কি ৪০ টি রণতরী বানাবেন? ইরানের পারমাণবিক প্ল্যান্টে হামলা চালাবে। আপনি ৪০ টি বানাতে বানাতে আমেরিকা আরও ৮০ টি বানাবে। তাহলে আমরা কিভাবে তাঁদের মোকাবেলা করব??
আপনারা কী জানেন প্রযুক্তি কী? প্রযুক্তি হল আপনি ঐ রণতরীর ভেতরে এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে পাঠাবেন যে, ক্যাপ্টেন কোন সংকেতই বুঝতে পারবে না।
১. তার নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রও ইলেক্ট্রনিক রিমোট এর সাহায্যে আকাশেই সেটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তার দিকে ফিরিয়ে তার যুদ্ধ জাহাজ কে ধ্বংস করে দিবেন।
২. প্রযুক্তি আল্লাহ তায়ালার একটি বড় রহমত। অনুন্নত দেশ গুলো এর সাহায্যে উন্নত দেশের হুমকি থেকে রণতরী না বানিয়েও নিজের দেশকে রক্ষা করতে পারে । তার সে রণতরী তোমার আওতায় ইচ্ছামত হামলা করে সেটাকে শেষ করে দাও।
আপনারা হয়তো মনে করছেন আপনি এসব কী অদ্ভুত কথা বলছেন?
আপনারা জানেন আমি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক প্রফেসর। বহুবছর আমি এগুলো নিয়ে গবেষণা করেছি । আমি সব টেকনিক এখানে বলা নিরাপদ মনে করছি না। আপনি এমন একটি যন্ত্র আবিস্কার করবেন যেটা দিয়ে তার রণতরী কে আনায়াসে ধ্বংস করা সম্ভব। তাদের এরকম ১০০ টি বিমান ঘাটি রণতরী আছে।আর তার ১০০ বিলিয়ন ডলার এর সম্পদ কে ৫ লাখ ডলার এর তৈরিকৃত যন্ত্র দিয়ে ধ্বংস করে দিতে পারবেন।
এই ভাবে তুমি কিভাবে ধ্বংস করে দিবে তাকে??? তোমার ঈমান দিয়ে, ঈমান দিয়ে।
আমরা যখন এই প্রযুক্তিকে আবিস্কার করে তাঁদের কে বলব যে এখন আসো। সে তার মান সম্মান এর স্বার্থে নিজের অনিচ্ছা সত্ত্বেও আসবে। আমি তাকে বলব এখানে বস, আমাকে দেখ। তুমি এখন পর্যন্ত কত রক্তপাত ঘটিয়েছ আমাদের কে হত্যা করেছ। কিন্তু আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব এর উত্তরসূরী ; আমরা সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর উত্তরসূরী ; আমরা সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহর উত্তরসূরী। আমরা তোমাদের কে ধ্বংস করার জন্য আসি নি।
আমরা দয়ার সাগর মুহাম্মাদ (স.) এর উম্মত। আমরা তোমাদের অধিকার ও তোমাদের দিতে চাই। আমদের পূর্বপুরুষ গণ যেভাবে তোমাদের তোমাদের কে তোমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেননি, আমরাও তোমাদের কে বঞ্চিত করব না। আমরা সবার অধিকার কে ফিরিয়ে দিতে চাই।
” আমরা হক কে সবসময় সবার উপরে স্থান দেই। কিন্তু আমরা শক্তির প্রয়োজনীয়তাও জানি। ”
”শক্তি যখন হকপন্থীদের হাতে থাকে তখনি শক্তি সবচেয়ে সম্মানজনক অবস্থায় থাকে’।
আমরা এই ভাবে সব চেয়ে শক্তিশালী হব। শক্তিশালী একটি উম্মাহ গড়ব ও নতুন দুনিয়া গড়ব। ইনশাআল্লাহ।
অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ



মতামত প্রকাশ করুন