আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব

প্রতিটি দ্বীনি হুকুমেরই একটি ফিকহী দিক এবং একটি আখলাকী দিক রয়েছে। ফিকহী দিকটি মানুষের বাহ্যিক জগত এবং আখলাকী দিক মানুষের অভ্যন্তরীণ জগতকে বিনির্মাণ করে থাকে। ইলমুল উসূলের ভাষায় ফিকহী দিকটি ইল্লতের উপর আর আখলাকী দিকটি গায়রে ইল্লতের (উদ্দেশ্য) উপর নির্ভর করে থাকে।

আরও দেখুনকম দেখুন

ইসলাম তাই আখলাককে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে, এমনকি হযরত পয়গাম্বর (সাঃ) এর সহীহ হাদীসেও বলা হয়েছে যে, মাকারিমে আখলাকের পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই তিনি পৃথিবীতে আগমন করেছেন। দ্বীন ও আখলাকের মধ্যকার সম্পর্ক তাই এতটাই অবিচ্ছেদ্য যে, দ্বীন ব্যতীত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ একটি আখলাকের অধিকারী হওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

অপরদিকে, ইসলামী শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্বের উৎস হলো, কোরআন ও সুন্নত। মূলত ‘ইহসান’ নামক মূলনীতি (সবকিছুকেই সুন্দরভাবে করা ও সর্বদা সর্বোত্তম আচরণ করার নীতি)–ই হলো এই শিল্পকলা ও নান্দনিকতার মূলভিত্তি। ইহসান যেমন জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে, একইভাবে তা আত্মিক ও শারীরিক নান্দনিকতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সাদামাটা হওয়া, যথার্থ উপযোগিতা, প্রশান্তিজ্ঞাপক হওয়া, ব্যবহারযোগ্যতা, সাশ্রয়ী হওয়া, বিনয়ভাব প্রকাশ করা, স্বাভাবিকতা এবং ইহসানের আখলাক এগুলো হলো ইসলামী শিল্পভাবনার মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব বিভাগে এই উভয়বিধ ক্ষেত্র নিয়েই ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক মিরাসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার জন্য আমরা প্রচেষ্টাবদ্ধ।

১টি লেখা
ইসলামী চিন্তা

আল-কুরআনে সুর ও ছন্দ

আল-কুরআনের শব্দের মিল ও সাদৃশ্য সম্পর্কে অন্যান্য লেখকগণ যা কিছু আলোচনা করেছেন, আমি তার ওপর শুধুমাত্র একবার দৃষ্টি প্রদান করে আল-কুরআনের শৈল্পিক বিন্যাসের ঐ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই, যে সম্পর্কে এখন বিস্তারিত কিছু আলোচনা হয়নি এবং তা এ পুস্তকের বিষয়বস্তুর…

অনুদান দিন
Scroll to Top