
ঊনবিংশ শতকে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদান ও মীর মোশাররফ হোসেনের সাহিত্য-কর্ম
১৭৫৭ খ্রীস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, তা বোধ করি অন্য কোন বড়…
বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ যে নানা সংকটের মুখোমুখি তার অন্যতম একটি বড় কারণ হলো- সমাজ ও সংস্কৃতির যে মৌলিক ভূমিকা থাকার কথা ছিলো তার অনুপস্থিতি।
মারহামাত, আখলাক, আদালত ও পারস্পরিক সহমর্মিতার মত সমাজের মৌলিক বন্ধনসমূহ ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষকে কেন্দ্রে রেখে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মত মূল্যবোধ তৈরিতেও সংস্কৃতি আজ অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলস্কৃতিতে সামাজিক অবক্ষয় যেন ধীরে ধীরে অনিবার্য হয়ে উঠছে।
এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো—সমাজ এখন যেন শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ আর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আর সংস্কৃতিও গড়ে উঠছে ভোগবাদ ও অন্ধ অনুকরণের ভিত্তিতে। এমন এক মানসিকতার প্রভাবে সহমর্মিতা বদলে যায় স্বার্থের হিসাব-নিকাশে, সম্মান পরিণত হয় কেবল সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতায়, আর সহমর্মিতা ও পারস্পারিক সহযোগিতার জায়গা দখল করে নেয় ব্যক্তিগত লালসা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এর চেয়েও বেশি বিধ্বংসী হলো—সমাজ যখন কেবল ক্ষমতা ও আরামের অনুসন্ধানকেই লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সংস্কৃতি তার গভীর অর্থ হারিয়ে ফেলে।
এর ফলে মূল্যবোধহীন এক জীবনধারা ব্যক্তি ও প্রজন্মের ওপর গভীর ক্ষত ও বিপর্যয় ডেকে আনে। দুঃখজনক হলেও সত্য, যাদের সভ্যতা আখলাক ও ফজিলতের ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছিলো, সে সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েও মুসলমানরা আজ এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিচ্যুতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। সমাজকে মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সংস্কৃতিকে আখলাকী ও নান্দনিক ভিত্তি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার ফলেই শেষ পর্যন্ত মুসলিম সমাজগুলো আজ নিজেদের স্বকীয় পরিচয়, ঐক্য এবং অর্থবহতার প্রতিনিধিত্ব করবে এমন সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে।
মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সমাজের পক্ষে সাদাত ও শান্তি বয়ে আনা সম্ভবপর নয়। একইভাবে আখলাকী ভিত্তি থেকে বঞ্চিত কোনো সংস্কৃতিও মানুষ ও সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে না। এ কারণে সমাজ ও সংস্কৃতিকে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ট্রেন্ডের ভিত্তিতে নয়; বরং আদালত, পারস্পরিক সহমর্মিতা, আমানতদারিতা ও নান্দনিকতার মতো শাশ্বত ও চিরন্তন নীতির আলোকে নতুনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। রোয়াক ব্লগ এমন একটি সমাজদর্শন নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যা হিকমত ও ফজিলতের দ্বারা সজ্জিত; এমন একটি সাংস্কৃতিক তাসাউউর গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মানুষ ও রূহের বিকাশে সহায়ক; এবং এই দুইয়ের সমন্বয়ে এমন এক সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, যা সমাজ ও সংস্কৃতিকে পরস্পরের পরিপূরক করে তোলে।

১৭৫৭ খ্রীস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের ফলে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছিল, তা বোধ করি অন্য কোন বড়…

৫৪,১৪১ বর্গমাইল এলাকার পূর্ব বাংলায় ৫,০৮, ৪০২৩ জন লোকের বাস। মোট জনসংখ্য শতকরা ৭৭ ভাগই মুসলমান। এছাড়া রয়েছে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা…

ল্যাটিন শব্দ Cultura থেকে এবং এই শব্দ থেকে Culture শব্দটি উদ্ভূত যার অর্থ কর্ষণ বা Cultivation তথা চাষ বা ভূমিকর্ষণের…

বাংলাদেশের ভূ-ভাগ ও রাষ্ট্র সত্তার বিকাশ ঘটেছে এ এলাকার জনগণের শতশত বছরের বা অব্যাহত সংগ্রাম ও সাধনার মাধ্যমে। বাংলার শত…

এক, 'আমাদের সংস্কৃতি' সম্পর্কে দু'টি কথা বলবার আগে শুধু সংস্কৃতি নিয়ে একটু পর্যালোচনার দরকার আছে। দরকার আছে এই জন্যে যে,…