ইসলামী সভ্যতায় সংস্কৃতির প্রতিশব্দ হিসেবে সাধারণত দুটি পরিভাষা ব্যবহৃত হয় – ‘তাহযীব’ ও ‘তামাদ্দুন’। তাহযীব বোঝায় একটি জাতির আখলাকী-রূহানী পরিশীলন, আর তামাদ্দুন বোঝায় তার বাহ্যিক-বস্তুগত প্রকাশ। প্রকৃত সংস্কৃতি এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবন্ত সত্তা, যা একটি জাতির মূল্যবোধ ও রুচিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে।
একটি সমাজের স্থায়িত্ব ও বিকাশ অনেকাংশে নির্ভর করে তার সাংস্কৃতিক ভিত্তির ওপর। যখন সংস্কৃতি তার নৈতিক ও মানবিক ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল ভোগ, বিনোদন ও বাহ্যিক অনুকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন সমাজের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য দুর্বল হয়ে যায়। ফলে সংস্কৃতি কখনো মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ নয়। প্রতিটি সংস্কৃতির অন্তরালে একটি নির্দিষ্ট তাসাউউর কাজ করে, যা নির্ধারণ করে দেয় কোনটি সুন্দর আর কোনটি নয়। আজ যখন বিশ্বায়নের ঢেউয়ে সকল সংস্কৃতি একটি অভিন্ন ভোগবাদী ছাঁচে ঢালাই হচ্ছে, তখন নিজস্ব তাহযীব অক্ষুণ্ণ রাখাই মুসলিম সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সমাজের সাংস্কৃতিক প্রবাহ, ঐতিহ্য, পরিচয়, মূল্যবোধ ও নান্দনিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এমন একটি সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা মানুষ ও সমাজের সামগ্রিক বিকাশের জন্য সহায়ক, সেটি বিনির্মাণের লক্ষ্যেই ‘সংস্কৃতি’ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।