মহাগ্রন্থ আল-কোরআন যে সকল মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, ইতিহাস তার মধ্যে অন্যতম। এই অর্থে কোরআনের মৌলিক বিষয় সমূহের একটি হল ‘ইতিহাস’।
মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ইতিহাসের কোন বই না হওয়া সত্ত্বেও এর দুই তৃতীয়াংশ ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ এবং এই সকল ঘটনায় উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গকে মূল্যায়ন করার সময় কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এই বিষয়ে কোরআনে অনেক আয়াত রয়েছে।
তবে এই ক্ষেত্রে তিনটি আয়াত খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ।
১।
﴿لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ۗ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ﴾
”পূর্ববর্তী লোকদের এ কাহিনীর মধ্যে বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে৷ কুরআনে এ যা কিছু বর্ণনা করা হচ্ছে এগুলো বানোয়াট কথা নয় বরং এগুলো ইতিপূর্বে এসে যাওয়া কিতাবগুলোতে বর্ণিত সত্যের সমর্থন এবং সবকিছুর বিশদ বিবরণ, আর যারা ঈমান এসেছে তাদের জন্য হেদায়াত ও রহমত”৷ (সূরা ইউসুফ ১১১)
২।
فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ﴾
তুমি এ কাহিনী তাদেরকে শুনাতে থাকো, হয়তো তারা কিছু চিন্তা -ভাবনা করবে৷ (আরাফ ১৭৬)
৩।
﴿وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ ۚ وَجَاءَكَ فِي هَٰذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ﴾
”আর হে মুহাম্মদ! এ রসূলদের বৃত্তান্ত, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, এসব এমন জিনিস যার মাধ্যমে আমি তোমার হৃদয়কে মজবুত করি৷ এসবের মধ্যে তুমি পেয়েছো সত্যের জ্ঞান এবং মুমিনরা পেয়েছে উপদেশ ও জাগরণবাণী”৷ (হুদ-১২০)
এই আয়াত সমূহ থেকে ইতিহাস বুঝার ক্ষেত্রে আমরা ৫ টি পন্থা পেয়ে থাকি।
১। আকলকে ব্যবহার করা।
২। শিক্ষা গ্রহন করা।
৩। চিন্তার উপাদান তৈরি করা।
৪। হৃদয় মনের মযবুতি অর্জন করা।
৫। নিজেদের কর্তব্য নির্ধারণ করা।
যে কোন ঘটনা কিংবা ইতিহাসকে মূল্যায়ন করার জন্য এই সকল বিষয় সমূহ খুবই জরুরী।
ইতিহাস থেকে বার্তা (মেসেজ) গ্রহণ করতে হলে যে পন্থা অবলম্বন করতে হবেঃ
১। ইতিহাস কাউকে নিন্দা করার জন্য কিংবা কারোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার জন্য কোন উপাদান নয়।
২। যে কোন ধরণের মুবালাগা (অতিরঞ্চন) ই হাকীকতের পথে সবচেয়ে বড় শত্রু।
৩। ইতিহাসের নায়ক কোন ফেরেশতা নয় মানুষ।
৪। সব ভালো কিংবা সব খারাপ এমন কোন বিষয় ইতিহাসে নেই।
৫। ব্যক্তি পূজা ইসলাম কখনোই ভালো চোখে দেখে না
.
মূলঃ উস্তাজ আমীন ইলদিরিম
অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ
১৮৪২ বার পঠিত

শেয়ার করুন

Picture of শায়েখ আমীন ইলদিরিম

শায়েখ আমীন ইলদিরিম

শায়েখ আমীন ইলদিরিম (জন্ম ১৯৭৩) সমকালীন তুরস্কের একজন সুপরিচিত ইসলামী দাঈ, লেখক, বক্তা ও সমাজচিন্তক। শৈশব থেকেই ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা। প্রথাগত দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সমকালীন সমাজ, ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিও গভীর আগ্রহ গড়ে তোলেন। তুরস্কের নবীন প্রজন্মের কাছে ইসলামের পরিচয়কে সহজ, হৃদয়গ্রাহী এবং জীবনঘনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আমীন ইলদিরিম বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। বক্তৃতা, লেখালেখি, শিক্ষা কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ইসলামী আত্মপরিচয়, নৈতিকতা, যুবসমাজের দায়বদ্ধতা এবং মুসলিম উম্মাহর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্কের বিভিন্ন শিক্ষা ও দাওয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষত তরুণদের মধ্যে ইসলামী চেতনা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিহাসসচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সমকালীন তুরস্কের পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় তিনি ধর্মীয় শিক্ষাকে নিছক আচারপরায়ণতার গণ্ডি থেকে বের করে জীবনের সক্রিয় নৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তার বক্তৃতা ও রচনাবলিতে আত্মশুদ্ধি, পরিবার, সমাজ, উম্মাহ এবং মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকটের প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সহজ ভাষা, হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপন এবং নৈতিক দৃঢ়তার কারণে তিনি বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। সমকালীন তুরস্কে শায়েখ আমীন ইলদিরিম কেবল একজন জনপ্রিয় বক্তা নন; বরং দ্বীন, সমাজ ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবেই বিবেচিত।
Picture of শায়েখ আমীন ইলদিরিম

শায়েখ আমীন ইলদিরিম

শায়েখ আমীন ইলদিরিম (জন্ম ১৯৭৩) সমকালীন তুরস্কের একজন সুপরিচিত ইসলামী দাঈ, লেখক, বক্তা ও সমাজচিন্তক। শৈশব থেকেই ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষার পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা। প্রথাগত দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সমকালীন সমাজ, ইতিহাস ও মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিও গভীর আগ্রহ গড়ে তোলেন। তুরস্কের নবীন প্রজন্মের কাছে ইসলামের পরিচয়কে সহজ, হৃদয়গ্রাহী এবং জীবনঘনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে আমীন ইলদিরিম বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। বক্তৃতা, লেখালেখি, শিক্ষা কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ইসলামী আত্মপরিচয়, নৈতিকতা, যুবসমাজের দায়বদ্ধতা এবং মুসলিম উম্মাহর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্কের বিভিন্ন শিক্ষা ও দাওয়াহভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষত তরুণদের মধ্যে ইসলামী চেতনা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ইতিহাসসচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সমকালীন তুরস্কের পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতায় তিনি ধর্মীয় শিক্ষাকে নিছক আচারপরায়ণতার গণ্ডি থেকে বের করে জীবনের সক্রিয় নৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তার বক্তৃতা ও রচনাবলিতে আত্মশুদ্ধি, পরিবার, সমাজ, উম্মাহ এবং মুসলিম বিশ্বের চলমান সংকটের প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সহজ ভাষা, হৃদয়গ্রাহী উপস্থাপন এবং নৈতিক দৃঢ়তার কারণে তিনি বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছেন। সমকালীন তুরস্কে শায়েখ আমীন ইলদিরিম কেবল একজন জনপ্রিয় বক্তা নন; বরং দ্বীন, সমাজ ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে এক প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবেই বিবেচিত।

মতামত প্রকাশ করুন

Scroll to Top