বুঝা ও ব্যাখ্যার উসূল হিসেবে ‘ইবরাত’

পবিত্র কোরআনে ‘ইবরাত’ (عبرة), নামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিভাষা রয়েছে। নয় জায়গায় উল্লেখিত ‘ইবরাত’ (عبرة), শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, আমার মতে শুধু একটি পরিভাষাও নয়। আমি মনে করি এটি একটি বুঝার পন্থা (Method of Understanding), বুঝা এবং বিশ্লেষণের উসূল।
বিশ্ব মানবতা হিসেবে যে সকল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয় সেই সকল চ্যালেঞ্জকে আকল, ইদরাক (উপলব্ধি) এবং বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) দিয়ে মূল্যায়ন করার পন্থা হল ‘ইবরাত’। ইবরাত হলো, বস্তু (ম্যাটেরিয়াল) থেকে অর্থ (মিনিং) এর দিকে, স্বপ্নের জগত থেকে হাকিকতের দুনিয়ায় পদার্পণ করার নাম। অন্য অর্থে, ইবরাত হলো ডাইমেনশন (মাত্রা) পরিবর্তন করা।
ইবরাত (عبرة) হল মহাবিশ্ব নিয়ে এবং একই সাথে আল্লাহ তার এই সৃষ্টির উপর যে বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেগুলো নিয়ে এবং সর্বোপরি সুন্নাতুল্লাহ নিয়ে চিন্তা করা। কঠিন অভিজ্ঞতা সমূহকে আকল দিয়ে চিন্তা (তাফাক্কুর) করে দূরদৃষ্টি দিয়ে শিক্ষনীয় বিষয় সমূহ খুঁজে বের করা।
ইবরাত (عبرة) এর শাব্দিক অর্থ, ঘটনা সমূহের কারণ এবং ফলাফলের উপরে দূরদৃষ্টি দেওয়া, গভীর ভাবে চিন্তা করা এবং দেখা থেকে শিক্ষা খুঁজে বের করা। মূলত ইবরাত (عبرة), শব্দবিহীন এবং উচ্চারণবিহীন ইলাহী একটি ওয়াজ। আমাদের অন্তরের আবেগ, অনুভূতি এবং চিন্তার গোপন একটি বহিঃপ্রকাশ হওয়ার কারণে, আরবীতে চোখের পানির অপর নাম হল ইবরাত (عبرة )।
অনেক আয়াতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সমূহ, ঐতিহাসিক কাহিনী সমূহ আমাদের উদ্দেশ্যে বিবৃত করার পর কোরআনে কারীম বলে থাকে যে,
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ
অর্থঃ এখানে বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) সম্পন্ন লোকদের জন্য ইবরাত (শিক্ষা) রয়েছে। (সূরা নূর-৪৪)
অন্য একটি আয়াতে বলা হয়েছে,
فَاعْتَبِرُوا يَٓا اُو۬لِي الْاَبْصَارِ
অর্থঃ শিক্ষা (ইবরাত) গ্রহণ করো হে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকেরা। (সূরা হাশর- ৫৯)
তাফাক্কুর (গভীর চিন্তা) এবং বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) ছাড়া ইবরাত (শিক্ষা) গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ



মতামত প্রকাশ করুন