রাষ্ট্র নির্মাণে সংস্কৃতি

ভূমিকা

দীর্ঘায়িত ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশজুড়ে সংকট ও সম্ভাবনা বিরাজ করছে। একদিকে অতীতে ঘটে যাওয়া সকল প্রকার দুর্নীতি, দেশদ্রোহিতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সকল প্রকার অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে হাজির হচ্ছে দেশ গড়তে নানান সম্ভাবনা। সমস্যা ও সম্ভাবনার মাঝে সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে নানাভাবে আলোর মুখ দেখাচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি এখানে কাজ করবে পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সেতুর মতো। রাষ্ট্র কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ। সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে একতায় আবদ্ধ করে, বৈধতা প্রদান করে এবং নাগরিকদের মাঝে জাতীয় ও পরিচয় নির্মাণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্র শুধুই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং রাষ্ট্র হচ্ছে সামাজিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের মানসিকতার একটি যৌথ প্রকাশ। পৃথিবী জুড়ে যুগে যুগে নানান সভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে, কোনো সভ্যতাই কখনো এককভাবে রাষ্ট্র গঠন করেনি, মানুষের জীবন সমষ্টিগত, সামাজিক রীতি, ধর্মীয় প্রথা, ভাষা ও সংস্কৃতির আলোকেই ভিত্তি গড়ে ওঠে রাষ্ট্রের। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ইতিহাস থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ করতে সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে জড়িত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামে সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। ভাষার স্ল্যাং ও স্যাটায়ার, বিদ্রোহী গান, দ্রোহের কবিতা, গ্রাফিতি-সহ সকল প্রকার সাংস্কৃতিক উপাদান আন্দোলনে শক্তিশালী গতি সৃষ্টি করে বিজয় অবধি নিয়ে গেছে। ইতিহাসের এই সংগ্রামগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই, রাষ্ট্র ও সংস্কৃতি একে-অপরের পরিপূরক। আবার, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির মাধ্যমে একটি জাতির একে-অপরের সাথে পরিচয় ঘটে। সংস্কৃতি যেমন রাষ্ট্রকে বৈধতা দেয়, তেমনি রাষ্ট্র সংস্কৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। সংস্কৃতি শুধু শিল্প, গান-কবিতা, কারুকাজ নয়, বরং সংস্কৃতি হচ্ছে যাপিত জীবনের প্রতিটি দিক। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উচিত হবে ভাষার মানকরণ, প্রসিদ্ধ ইতিহাস ও লোককাহিনী পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণে নাগরিকদের সকল ত্যাগ-তিতিক্ষার স্মৃতিচিহ্ন ও দিবসের মাধ্যমে স্থায়িত্ব করা। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করছি।

 

রাষ্ট্র নির্মাণের ধারণা

রাষ্ট্র নির্মাণ একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, অর্থনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে নাগরিকের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্র হয়ে ওঠে বৈধ বলপ্রয়োগের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠান থেকে নিশ্চিত করা হয় জনগণের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচারও উন্নয়ন। আধুনিক কালে রাষ্ট্র নির্মাণ কেবল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নয়; বরং রাষ্ট্র হচ্ছে সাংস্কৃতিক ঐক্য ও উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের ইনক্লুসিভ সমাজ গঠনের এক অবিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।

 

সংস্কৃতির সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা

সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের মানুষের জীবনযাত্রার সামগ্রিক প্রকাশ, যেখানে জ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, ভাষা,ধর্ম, রীতিনীতি, আচার আচরণ, চিন্তা, বিশ্বাস, পোশাক পরিচ্ছেদ, খাদ্যাভ্যাস ও সামাজিক সংগঠনসমূহ একত্রে প্রতিফলিত হয়। মানুষের সৃজনশীলতা ও সামাজিক অভ্যাসের সমষ্টি হচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের বহুমাত্রিক জীবনধারা ও অভিজ্ঞতার সম্মিলিত রূপ, যা সমাজকে আলাদা পরিচয় দেয় এবং ভূমিকা রাখে সভ্যতা বিকাশে।

 

রাষ্ট্র নির্মাণে ভাষাও সাহিত্য

রাষ্ট্র নির্মাণের প্রক্রিয়ায় ভাষা ও সাহিত্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রাষ্ট্র শুধু ভৌগোলিক সীমানার সমষ্টি নয়, রাষ্ট্র হচ্ছে জাতির সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, চেতনার প্রতিফলন। বাসার সেই চেতনার প্রধান বাহক ও ধারক, সাহিত্য হচ্ছে তার সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গি।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণে দেখা যায়, মাতৃভাষা বাংলার অধিকার রক্ষার সংগ্রাম হচ্ছে রাষ্ট্র নির্মাণের আন্দোলনের অন্যতম ভিত্তি। পাকিস্তান রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উদ্যোগ চাপিয়ে দিতে চাইলে বাঙালি জাতি প্রতিবাদ করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন কেবল ভাষার জন্য লড়াই ছিল না। এটি ছিল সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার লড়াই, যা পরে রাজনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রামকে বেগবান করে। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জম্মকে ঐতিহাসিকভাবে ত্বরান্বিত করে। অপরদিকে সাহিত্য রাষ্ট্রের জাতীয় চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখ কবি ও সাহিত্যিক তাদের রচনার মাধ্যমে স্বাধীনতা, মানবতা, সাম্য, জাতীয়তাবাদের বোধ জাগ্রত করেছেন। সাহিত্যের মাধ্যমে জনগণ নিজের অস্তিত্ব ইতিহাস ও মুক্তির স্বপ্ন সম্পর্কে সচেতন থাকে।

শিল্প, সংগীত, নাটক

শিল্প সংগীত নাটক বাংলাদেশের সংস্কৃত অন্যতম প্রধান হিসেবে বিবেচিত। শিল্প মানুষের সৃজনশীলতা ও উন্নান্তরিকতা প্রকাশ করে। যা সমাজের ইতিহাস মূল্যবোধ ঐতিহ্যকে চিত্রাহিত করে। চিত্রকলা মূর্তি কলা ও স্থাপত্যের মধ্যে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি পরিচয় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। সংগীত হল আবেগ চেতনা ও সামাজিক অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। নজরুল সংগীত লোকসংগীত ভক্তি গীতির মাধ্যমে মানুষের জীবনের নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক দিকগুলো ফুটে ওঠে। নাটক হল সাহিত্যকে চাক্ষুষ রূপে উপস্থাপনের মাধ্যমে দর্শককে সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বুঝার সুযোগ করে দেওয়া। সামাজিক রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী নাটক মানুষের মননে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং রাষ্ট্র নির্মাণের সংস্কৃতি চেতনা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলশ্রুতিতে শিল্প সংগীত নাটক কেবল বিনোদয়ের মাধ্যম নয়, এটি রাষ্ট্রীয় চেতনা ও জাতীয় ঐক্যকে দৃঢ় করার একটি কার্যকরী উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

 

শিক্ষা ও সংস্কৃতি

শিক্ষা হলো জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা এবং মানসিক বিকাশ অর্জনের প্রক্রিয়া। শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তক থেকে শেখা নয়, বরং সমাজ পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে অভিজ্ঞতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক আচরণ শিখতেও সাহায্য করে। শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এর সক্ষম হয়।
সংস্কৃতি হলো কোনো সমাজ বা জাতির মানুষের জীবনধারা, বিশ্বাস, শিল্প, আচরণ রীতি-নীতি, ভাষা, ঐতিহ্যের সমষ্টি। সংস্কৃতি সমাজের মূল্যবোধ ও সামাজিক আচরণের মাপকাঠি নির্ধারণ করে থাকে।

 

জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতি

জাতীয়তাবাদ হলো একটি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ধর্মবিশ্বাস, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের আত্মপরিচয় ও ঐক্য নির্মাণের কাজ করে থাকে। অপরদিকে সংস্কৃতি হচ্ছে সেই জনগোষ্ঠীর জীবনাচার, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, ঐতিহ্য, রীতি-নীতির সমষ্টি।
জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতি একে অপরের পরিপূরক। একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হলো তার সংস্কৃতি। যখনই কোনো জাতির ভাষা, সাহিত্য, শিল্প ও ঐতিহ্য দমন করার চেষ্টা হয়েছে, তখনই জাতীয়তাবাদী চেতনা তীব্র আকারে প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ শক্তিশালী হয়, কারণ শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, নাটক কবিতা কিংবা লোকসংস্কৃতি জাতি ঐক্যবদ্ধ করে। আবার জাতীয়তাবাদ সংস্কৃতিকে নতুন প্রাণ দেয়।

 

বাঙালি সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য ও ইতিহাস

বাংলা সংস্কৃতির রয়েছে বহুমাত্রিক ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া। এখানে আর্য, দ্রাবিড়, অস্ট্রিক, তিব্বত, বার্মা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি আরব, ফরাসি, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয়দের প্রভাব রয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাঙালি সংস্কৃতিতে একক ধারা সৃষ্টি হয়নি।
আমাদের সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বাংলা ভাষা। প্রাচীন ব্রাহ্মী ও কায়স্থসহ নানা লিপি থেকে আজকের বাংলা ভাষা গড়ে উঠেছে দীর্ঘ বিবর্তনের মাধ্যমে। লোকায়ত ধারায় আছে আমাদের গ্রামীণ জীবন, লোকসংগীত, লোকনৃত্য, কৌতুক, কাব্য ও ধর্মীয় আমেজ; আয়োজন ও অনুষ্ঠান। হৃদয়ের মেলবন্ধনে ঝরিয়ে আছে বাউল, সুফি ও বৈষ্ণব সংস্কৃতির আধ্যাত্মিকতা। আমাদের রয়েছে বিখ্যাত কারুশিল্পের ঐতিহ্য টেরাকোটা, জামদানি, নকশিকাঁথা ও পটচিত্র। বিশেষ করে হিন্দু, মুসলিমসহ উপজাতি, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির মিলন। যে আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা ইনক্লুসিভ সমাজে বসবাস করি। এবং স্বপ্ন দেখি ইনক্লুসিভ বাংলাদেশের।

প্রাচীন বাংলায় রাষ্ট্র গঠনের সূচনা আমাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও রাজনৈতিক কাঠামোর সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। মহাস্থানগড়, চন্দ্রকেতুগড়, ময়নামতিসহ প্রভৃতি প্রত্যাবর্তন শৈলীতে তাকালে আমরা তা দেখতে পাই। ছোট ছোট কৃষি ও বাণিজ্যিক জনপদ ছিল, যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি প্রাধান্য পেত। পাল সাম্রাজ্য বৌদ্ধধর্মকে কেন্দ্র করে শিল্পসংস্কৃতির বিকাশ ঘটায়। সোমপুর বিহার তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ। চর্যাপদ যেমন সংস্কৃতির প্রকাশ, তেমনি ভাষার শিকড়।

তেরো শতকে দিল্লির সুলতানি বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করে। তৈরি হয় নতুন এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। ওই সময়ে বাংলায় মঙ্গলকাব্য ও বৈষ্ণব পদাবলী রচিত হয়। যদিও তখন মুসলিম শাসকেরা ফার্সি ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করলেও স্থানীয় পর্যায়ে বাংলা সাহিত্য বিকশিত হয়। তখন সুফি সাধকরা গ্রামীণ সমাজে ইসলামের পাশাপাশি মানবতাবাদী সংস্কৃতির বিস্তার করেন। বৈষ্ণব ধর্মগুরু চৈতন্যদেবও প্রেম ও ভক্তিভাব প্রচার করেন। বিশেষ করে তখনকার স্থাপত্য হিসেবে গড়ে ওঠে গোয়ালন্দ, সোনারগাঁও ও গৌড় অঞ্চলের মসজিদ ও মাদ্রাসা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ। এই স্থাপনাগুলো ধর্মীয় প্রতীকের পাশাপাশি রাষ্ট্র পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সাংস্কৃতিক প্রকাশ।
মুঘল আমলে বাংলা ছিল সাম্রাজ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রদেশ। জাহাঙ্গীরনগর নামে ঢাকা হয়ে ওঠে বাংলার মুঘল রাজধানী। এখানে শিল্প, কারুশিল্প ও স্থাপত্যের বিস্তার ঘটে। বিখ্যাত জামদানি বিকশিত হয়ে ওঠে, যা আজ ইউনেস্কো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সাহিত্যে প্রভাব বিস্তার করে মঙ্গলকাব্য, প্রেমকাব্য ও বৈষ্ণব পদাবলী। লালবাগ কেল্লা, হুসেন শাহী মসজিদ, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী স্থাপনাসমূহ ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার নিদর্শন। বিস্তার লাভ করে বাউল ও সুফি ধারা, যা সমাজকে সম্প্রীতির দিকে ধাবিত করে। মুঘল যুগে সাংস্কৃতিক পরিচয় রাজকীয় ও সাধারণ মানুষের জীবনাচারে ছড়িয়ে পড়ে।

লোকসংস্কৃতি হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন। এতে গান, নাচ, কৌতুক, নাটক, প্রবাদ, ধাঁধা, হস্তশিল্প সবকিছু অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে লোকসংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং রাষ্ট্র নির্মাণে সামাজিকভাবে পরিচ্ছন্ন জনআকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে। সামাজিক ঐক্য তৈরি করে। গ্রামীণ মানুষকে অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতিতে যুক্ত করে। জনগণের অধিকার আদায়ে সংগঠিত শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের লোকসংগীত বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময়। লালন শাহের বাউল দর্শন মানবতাবাদী সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়েছে। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই দর্শন মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে এক করেছে। আবার ভাটিয়ালি গান নদীমাতৃক জীবনের প্রতিফলন। নৌকার মাঝির গান গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম ও আনন্দ প্রকাশ করে। অন্যদিকে জারি সারি হচ্ছে ইসলামি ঐতিহ্য থেকে আসা সংগীত ধারা। এই ধারা যেমন ধর্মীয় তেমনি সামাজিক আখ্যান। গম্ভীরা ও ভাওয়াইয়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রামের লোকগীতি। এই গীতিগুলো আঞ্চলিকভাবে মানুষের পরিচয়কে দৃঢ় করেছে। এই লোকসংগীত মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে মুক্তিযুদ্ধে, জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় মুক্তির আহ্বান।

লোকনৃত্য বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জারি নৃত্য, গম্ভীর নাচ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা বহন করে। অন্যদিকে গ্রামীণ জনপদে সামাজিক নানা বার্তা ও রাজনৈতিক বয়ান ছড়িয়ে দেয় লোকনাটক। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নাটক পরিবেশনের মাধ্যমে মানুষের মনোবল বাড়িয়েছিল।

আলপনা হচ্ছে মাটির উপর আঁকা প্রতীক চিত্র, যা উৎসব ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের ঐক্য ও সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। নারীদের হাতে তৈরি বিখ্যাত শিল্পকর্ম হলো নকশিকাঁথা। এই নকশিকাঁথা একদিকে জীবনযাত্রার রূপ পাল্টায়, অন্যদিকে প্রকাশ করে ঐতিহ্য।

কারুশিল্প যেমন বাঁশ, বেত, মাটির পাত্র, তেমনি ঢাকার জামদানি ও রাজশাহীর সিল্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। লোকশিল্প কেবল সংস্কৃতি নয়, বরং অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও রাষ্ট্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লোকসংস্কৃতি প্রায় জনগণের শিক্ষার মাধ্যম হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক বার্তা ছড়িয়ে দিতে লোকনাটক, জারিগান ও পালাগান ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতে এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে লোকসংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে লোকসংস্কৃতি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে কবিতা ও গান ছিল আন্দোলনের চালিকাশক্তি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা নাটক, গান ও কবিতার মাধ্যমে জাগরণ সৃষ্টি করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গণসংগীত, কবিতা, পাটনাটক ও লোকগান মুক্তিকামী মানুষকে সংগঠিত করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবিতা, গান ও পথনাটক মানুষের মধ্যে দ্রোহ সৃষ্টি করেছে।

 

রাষ্ট্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে রাষ্ট্রের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন ছিল সাংস্কৃতিক ভিত্তির উপর দাঁড়ানো রাজনৈতিক সংগ্রাম। পাকিস্তান সরকার যখন উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করে, ঠিক তখনই বাংলাভাষী জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু ভাষার অধিকার নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় সংগ্রামের প্রতীক। ফলশ্রুতিতে ১৯৬৫ সালে বাংলা ভাষা পাকিস্তানের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ভাষা আন্দোলন ছিল নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং জাতীয়তাবাদের প্রথম সোপান।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের আন্দোলন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত গণসংগীত মুক্তিকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। শামসুর হক, শামসুর রাহমান, জহির রায়হান প্রমুখের লেখা মুক্তির অনুপ্রেরণা জোগায়। শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধের প্রচারণায় ছবি ও পোস্টারের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে। বাউল ও জারি গান গ্রামগঞ্জের মানুষের মনোবল বাড়ায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও গান, কবিতা, নাটকের মাধ্যমে মানুষের দৃঢ়তা সৃষ্টি করেছিল। মাঠে নেমেছিল বিক্ষুব্ধ কবি ও লেখক সমাজ। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করে যে সংস্কৃতি হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার চালিকাশক্তি।

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র বুঝতে পারে যে সাংস্কৃতিক ঐক্য রক্ষা করা ছাড়া জাতি গঠন সম্ভব নয়। ফলে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৬৪ জেলায় শাখা রয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় গবেষণা কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর গ্রন্থসামগ্রী সুরক্ষা করতে শুরু করে ঐতিহ্য, ইতিহাস ও শিল্পকর্ম। যাতে ছড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় স্মৃতি ও নাগরিকের শিক্ষার উৎস। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় নাট্যশালা, চারুকলা ইনস্টিটিউট এগুলো একেকটি রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির পরিকাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে।

আধুনিক বাংলাদেশে রাষ্ট্র নিজেকে সাংস্কৃতিক প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। জাতীয় সংগীত, শহীদ মিনারসহ জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উভয়ের সমন্বয় ঘটায়।

আধুনিক রাষ্ট্রে গণমাধ্যম ব্যবহার করে সাংস্কৃতিক ঐক্য প্রচার করা হয়। বেতার ও টেলিভিশনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভাষ্য ছড়িয়ে থাকে। সিনেমা ও নাটক স্বাধীনতার পর সামাজিক শিক্ষা ও জাতি চেতনার বাহক হিসেবে কাজ করে। গণসংগীত ও আধুনিক গান রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে গাওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র শুধু সংস্কৃতিকে রক্ষা করে না বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিস্তার ঘটায়।

১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, আন্তর্জাতিক মহলে এই সংগ্রামগুলো স্বীকৃতির জন্য সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য অপরিহার্য ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য জনগণের মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য। গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এবার জনআকাঙ্ক্ষার আলোকে রাষ্ট্র বিনির্মাণ হবে।

বাংলা ভাষাই রাষ্ট্রের প্রধান সাংস্কৃতিক ভিত্তি। বাংলা ভাষা নাগরিক পরিচয় ও জাতীয়তাবাদকে একত্র করেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাতৃভাষার সাংস্কৃতিক ব্যবহার ঐক্য দৃঢ় করেছে। এসব আন্দোলন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় সংগ্রামের অঙ্গ করেছে। আমাদের জাতীয় উৎসব ও প্রতীকসমূহ জাতীয় জীবনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি করে। যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে পহেলা বৈশাখ সার্বজনীন উৎসব হিসেবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে পালন করেছে।

বাংলাদেশ শুধু একক সাংস্কৃতিক দেশ নয়, এটি বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যের দেশ। চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক, আচার অনুষ্ঠান রয়েছে। তাদের রাষ্ট্রীয় বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসব আমাদের জাতীয় জীবনের অংশ। ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পালিত হয়।

বাউল, জারি, সারি গান, পালাগান, যাত্রা গ্রামীণ জীবনের বৈচিত্র বহন করে। এই লোকসংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অংশ, যা আন্তর্জাতিকভাবে সমৃদ্ধ।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য রক্ষা করেছে। আমাদের সংবিধান সংস্কৃতির বিকাশকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শিল্পকলা একাডেমি আইন ১৯৮৯ শিল্পসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিস্তারকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে ন্যস্ত করেছে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির মাধ্যমে বাউল গান, জামদানি, মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সমস্যা ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের সংগ্রামের সূচনাবিন্দু শুরু হয় ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে গঠন হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের পতন। ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে এরশাদের পতন ও সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, স্বৈরাচার হাসিনার পতন। ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সার্বভৌমত্বের আবরণ হিসেবে সকল আন্দোলন সংগ্রামকে একটি সরল রেখায় গণআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বৈধতা প্রদান করে। আমাদের এই অর্জন হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনে হারানোর সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও সাধারণ মানুষ নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে বয়ান তৈরিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বাকি দায় রাষ্ট্রের।

 

উপসংহার

বাংলাদেশ রাষ্ট্র বিনির্মাণে সংস্কৃতির ভূমিকা সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে যে সংস্কৃতি শুধু নান্দনিক চর্চা নয় বরং রাষ্ট্রের ভিত্তি। যে সংস্কৃতি যুদ্ধ–বিগ্রহসহ স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে পারে, আবার রাষ্ট্র গঠনের জন্যও সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সার্বভৌমত্বের লড়াই জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সব ক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ছিল জাতীয় ঐক্যের চালিকাশক্তি। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, প্রতীক ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় সুসংহত করেছে। সাংস্কৃতিক সংহতি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, বৈচিত্র্যময় করেছে রাষ্ট্রকে।

 

গ্রন্থপঞ্জি –

  • ১. বাংলাদেশের কালচার – আবুল মনসুর আহমদ।
  • ২. জাগ্রত বাংলাদেশ – আহমদ ছফা।
  • ৩. ইতিহাসের স্বীকৃতি বনাম বিকৃতি  – মহবুব আনাম।
  • ৪. বাংলাদেশের নবজাগরণ ও মুসলিম সাহিত্য সমাজ: অন্বেষা,অবলোকন, তত্ত্ব – কাজল রশীদ শাহ…
  • ৫. নতুন দিগন্তে জেগেছে ভোর- মোঃ সিরাজুল ইসলাম এফসিএ।
২৪৭ বার পঠিত

শেয়ার করুন

Picture of রোয়াক ডেস্ক

রোয়াক ডেস্ক

রোয়াক, ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অনলাইন মুখপাত্র। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সময়ের চিন্তাগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করে যাবে।
Picture of রোয়াক ডেস্ক

রোয়াক ডেস্ক

রোয়াক, ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অনলাইন মুখপাত্র। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সময়ের চিন্তাগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করে যাবে।

মতামত প্রকাশ করুন

Scroll to Top