সংস্কৃতি

সংস্কৃতি কোনো সমাজের বাহ্যিক প্রকাশমাত্র নয়; বরং এটি একটি জাতি বা সভ্যতার চিন্তা, মূল্যবোধ, রুচি, জীবনধারা ও আত্মপরিচয়ের প্রকাশ। মানুষের আচরণ, শিল্প, ভাষা, ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে একটি সংস্কৃতি তার নিজস্ব পরিচয় নির্মাণ করে।

আরও দেখুনকম দেখুন

ইসলামী সভ্যতায় সংস্কৃতির প্রতিশব্দ হিসেবে সাধারণত দুটি পরিভাষা ব্যবহৃত হয় – ‘তাহযীব’ ও ‘তামাদ্দুন’। তাহযীব বোঝায় একটি জাতির আখলাকী-রূহানী পরিশীলন, আর তামাদ্দুন বোঝায় তার বাহ্যিক-বস্তুগত প্রকাশ। প্রকৃত সংস্কৃতি এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীবন্ত সত্তা, যা একটি জাতির মূল্যবোধ ও রুচিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে।

একটি সমাজের স্থায়িত্ব ও বিকাশ অনেকাংশে নির্ভর করে তার সাংস্কৃতিক ভিত্তির ওপর। যখন সংস্কৃতি তার নৈতিক ও মানবিক ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল ভোগ, বিনোদন ও বাহ্যিক অনুকরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন সমাজের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য দুর্বল হয়ে যায়। ফলে সংস্কৃতি কখনো মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ নয়। প্রতিটি সংস্কৃতির অন্তরালে একটি নির্দিষ্ট তাসাউউর কাজ করে, যা নির্ধারণ করে দেয় কোনটি সুন্দর আর কোনটি নয়। আজ যখন বিশ্বায়নের ঢেউয়ে সকল সংস্কৃতি একটি অভিন্ন ভোগবাদী ছাঁচে ঢালাই হচ্ছে, তখন নিজস্ব তাহযীব অক্ষুণ্ণ রাখাই মুসলিম সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সমাজের সাংস্কৃতিক প্রবাহ, ঐতিহ্য, পরিচয়, মূল্যবোধ ও নান্দনিকতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি এমন একটি সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা মানুষ ও সমাজের সামগ্রিক বিকাশের জন্য সহায়ক, সেটি বিনির্মাণের লক্ষ্যেই ‘সংস্কৃতি’ বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

১টি লেখা
সাহিত্য

বড়র পিরীতি বালির বাঁধ

তখন আমি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাজ-কয়েদী। অপরাধ, ছেলে খাওয়ার ঘটা দেখে রাজার মাকে একদিন রাগের চোটে ডাইনী বলে ফেলেছিলাম।… এরি মধ্যে একদিন এসিস্ট্যান্ট জেলার এসে খবর দিলেন- আবার কি মশাই, আপনি তো নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন, আপনাকে রবি ঠাকুর তাঁর…

কাজী নজরুল ইসলাম
অনুদান দিন
Scroll to Top