সমাজ ও সংস্কৃতি

বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজ যে নানা সংকটের মুখোমুখি তার অন্যতম একটি বড় কারণ হলো- সমাজ ও সংস্কৃতির যে মৌলিক ভূমিকা থাকার কথা ছিলো তার অনুপস্থিতি।

আরও দেখুনকম দেখুন

মারহামাত, আখলাক, আদালত ও পারস্পরিক সহমর্মিতার মত সমাজের মৌলিক বন্ধনসমূহ ক্রমেই দুর্বল হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষকে কেন্দ্রে রেখে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মত মূল্যবোধ তৈরিতেও সংস্কৃতি আজ অনেকটাই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলস্কৃতিতে সামাজিক অবক্ষয় যেন ধীরে ধীরে অনিবার্য হয়ে উঠছে।

এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো—সমাজ এখন যেন শুধু ব্যক্তিগত স্বার্থ আর ক্ষমতার হিসাব-নিকাশেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। আর সংস্কৃতিও গড়ে উঠছে ভোগবাদ ও অন্ধ অনুকরণের ভিত্তিতে। এমন এক মানসিকতার প্রভাবে সহমর্মিতা বদলে যায় স্বার্থের হিসাব-নিকাশে, সম্মান পরিণত হয় কেবল সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতায়, আর সহমর্মিতা ও পারস্পারিক সহযোগিতার জায়গা দখল করে নেয় ব্যক্তিগত লালসা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এর চেয়েও বেশি বিধ্বংসী হলো—সমাজ যখন কেবল ক্ষমতা ও আরামের অনুসন্ধানকেই লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সংস্কৃতি তার গভীর অর্থ হারিয়ে ফেলে।

এর ফলে মূল্যবোধহীন এক জীবনধারা ব্যক্তি ও প্রজন্মের ওপর গভীর ক্ষত ও বিপর্যয় ডেকে আনে। দুঃখজনক হলেও সত্য, যাদের সভ্যতা আখলাক ও ফজিলতের ভিত্তিতে নির্মিত হয়েছিলো, সে সভ্যতার উত্তরাধিকারী হয়েও মুসলমানরা আজ এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিচ্যুতির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। সমাজকে মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং সংস্কৃতিকে আখলাকী ও নান্দনিক ভিত্তি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার ফলেই শেষ পর্যন্ত মুসলিম সমাজগুলো আজ নিজেদের স্বকীয় পরিচয়, ঐক্য এবং অর্থবহতার প্রতিনিধিত্ব করবে এমন সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে।

মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সমাজের পক্ষে সাদাত ও শান্তি বয়ে আনা সম্ভবপর নয়। একইভাবে আখলাকী ভিত্তি থেকে বঞ্চিত কোনো সংস্কৃতিও মানুষ ও সমাজকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে না। এ কারণে সমাজ ও সংস্কৃতিকে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ট্রেন্ডের ভিত্তিতে নয়; বরং আদালত, পারস্পরিক সহমর্মিতা, আমানতদারিতা ও নান্দনিকতার মতো শাশ্বত ও চিরন্তন নীতির আলোকে নতুনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। রোয়াক ব্লগ এমন একটি সমাজদর্শন নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, যা হিকমত ও ফজিলতের দ্বারা সজ্জিত; এমন একটি সাংস্কৃতিক তাসাউউর গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মানুষ ও রূহের বিকাশে সহায়ক; এবং এই দুইয়ের সমন্বয়ে এমন এক সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, যা সমাজ ও সংস্কৃতিকে পরস্পরের পরিপূরক করে তোলে।

৩টি লেখা
শিল্পকলা

মুসলিম শিল্পের একত্ব এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীগণ

ইসলামী শিল্পকলার একত্ব নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। যদিও, ইতিহাসবিদেরা ভৌগোলিক বা কালানুক্রমিকভাবে পৃথক বিপুলসংখ্যক বিচিত্র মোটিফসমূহ উপাদান-উপকরণ এবং রীতিপ্রকরণ লক্ষ্য করে থাকেন, তবুও সমস্ত ইসলামী শিল্পকলার প্রবল বাস্তবতা হচ্ছে এর উদ্দেশ্য ও রূপের একত্ব। কর্ডোভা থেকে মিন্দানাও পর্যন্ত দেশগুলো ইসলামে দীক্ষিত…

ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী
সমাজ ও সংস্কৃতি

পরিবার প্রথার মূলনীতি

১. পৃথিবীতে পরিবার প্রথার অবক্ষয় ক. সমতা কমিউনিষ্টগণ সমাজের উৎপত্তি সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতবাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারের বিলোপ…

ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী
ইসলামী চিন্তা

নন্দনতত্ত্বের অতীন্দ্রিয়তা

তৌহীদ দ্বারা বুঝায় আল্লাহতত্ত্বকে তত্ত্ববিজ্ঞানের দিক দিয়ে প্রকৃতি সমগ্র রাজ্য থেকে আলাদাকরণ, যা কিছু সৃষ্টিতে বিদ্যমান, সৃষ্টি থেকে আগত, তাই…

ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী
অনুদান দিন
Scroll to Top