এই ইসলামী দর্শন পরিভাষার মধ্যে যে ‘ইসলাম’ – এটা দ্বীন অর্থে নয়, এটা মূলত ইসলামী সভ্যতা যতদিন এই বিশ্বকে শাসন করেছে সেই সময়কালকে বুঝিয়ে থাকে।
সপ্তম শতাব্দীকাল থেকে দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ মুসলমানদের নিকট চলে আসে এবং এই সভ্যতা যেন জ্ঞানগত ও চিন্তাগত ভাবে মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে পারে এই জন্য জ্ঞানগত ধারা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে যেমন শরয়ী জ্ঞান রয়েছে তেমনি ভাবে অন্যান্য জ্ঞানও রয়েছে। যেমন, হিজরী ২য় শতাব্দীতে (খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে) বায়তুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যান্য অঞ্চলের জ্ঞানগত চিন্তা ও অভিজ্ঞতাকে ‘হিকমাহ’ নাম দিয়ে আরবী ভাষায় অনুবাদ করা শুরু করা হয়। এই অনুবাদ আকলী জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত করে দেয়। এই সময় থেকে নিয়ে অষ্টাদশ শতাব্দীকাল পর্যন্ত উৎপাদিত আকলী জ্ঞানকে মূলত আমরা ইসলামী দর্শন নামে অভিহিত করে থাকি।
জ্ঞান এক সভ্যতা থেকে অন্য সভ্যতায় রূপান্তর হয়ে থাকে। একটি সভ্যতা যখন জ্ঞান ও চিন্তা উৎপাদন করতে অক্ষম হয়ে পড়ে তখন জ্ঞান ও চিন্তার নেতৃত্বও ঐ সভ্যতার হাতছাড়া হয়ে যায়। এ নেতৃত্ব তখন চলে যায় বিজয়ী সভ্যতার হাতে। যেমন বর্তমানে জ্ঞান ও চিন্তার ঝাণ্ডাকে পাশ্চাত্য বহন করে চলছে। এই কারণে পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যকার সৃষ্ট জ্ঞানকে আমরা পাশ্চাত্য দর্শন বলে অভিহিত করে থাকি। ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানগত একটি মেমোরী, স্বীয় অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা ও তুলে ধরা, নতুন চিন্তা তৈরী ও বিকাশ, মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তি এবং কোরআন ও সুন্নতকে সামগ্রিকভাবে বুঝার জন্য ইসলামী দর্শনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের অতীত মিরাসকে ধারণ করে সামনে অগ্রসর হওয়ার জন্য রোয়াক এই অব্যাহত প্রচেষ্টাকে জারি রাখবে, ইনশাআল্লাহ।