ইসলাম তাই আখলাককে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে, এমনকি হযরত পয়গাম্বর (সাঃ) এর সহীহ হাদীসেও বলা হয়েছে যে, মাকারিমে আখলাকের পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই তিনি পৃথিবীতে আগমন করেছেন। দ্বীন ও আখলাকের মধ্যকার সম্পর্ক তাই এতটাই অবিচ্ছেদ্য যে, দ্বীন ব্যতীত সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ একটি আখলাকের অধিকারী হওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
অপরদিকে, ইসলামী শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্বের উৎস হলো, কোরআন ও সুন্নত। মূলত ‘ইহসান’ নামক মূলনীতি (সবকিছুকেই সুন্দরভাবে করা ও সর্বদা সর্বোত্তম আচরণ করার নীতি)–ই হলো এই শিল্পকলা ও নান্দনিকতার মূলভিত্তি। ইহসান যেমন জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে, একইভাবে তা আত্মিক ও শারীরিক নান্দনিকতাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। সাদামাটা হওয়া, যথার্থ উপযোগিতা, প্রশান্তিজ্ঞাপক হওয়া, ব্যবহারযোগ্যতা, সাশ্রয়ী হওয়া, বিনয়ভাব প্রকাশ করা, স্বাভাবিকতা এবং ইহসানের আখলাক এগুলো হলো ইসলামী শিল্পভাবনার মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব বিভাগে এই উভয়বিধ ক্ষেত্র নিয়েই ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আধ্যাত্মিক মিরাসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার জন্য আমরা প্রচেষ্টাবদ্ধ।