একটি সভ্যতার শিল্পকলা তার নান্দনিক চেতনা, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শনের প্রতিফলন বহন করে। তাই শিল্প কেবল সৌন্দর্যের অনুসন্ধান নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক ও সামাজিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে দেখা যায়, এই সভ্যতা কখনো শিল্পকে দ্বীন থেকে পৃথক কোনো ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করেনি। ক্যালিগ্রাফি, স্থাপত্য কিংবা জ্যামিতিক অলংকরণ — প্রতিটি শাখাতেই মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ‘ইহসান’-এর নীতি: প্রতিটি কাজকে সর্বোচ্চ যত্ন ও সৌন্দর্যবোধের সাথে সম্পন্ন করা। মিমার সিনানের স্থাপত্যে বা আয়াসোফিয়ার গম্বুজে যে রূহানিয়াত প্রতিফলিত হয়, তা নিছক প্রকৌশলগত দক্ষতা নয়; বরং একটি সুনির্দিষ্ট তাওহীদী বিশ্বদর্শনের ফসল।
আধুনিক শিল্পজগতে যখন ‘শিল্পের জন্য শিল্প’-এর নীতিতে রূপ ও উদ্দেশ্যকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, তখন ইসলামী শিল্পদর্শনের এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুনভাবে জাগ্রত করা বর্তমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
শিল্পকলা বিভাগে রোয়াক ব্লগ ইসলামী শিল্প-ঐতিহ্যের নান্দনিক ও আধ্যাত্মিক গভীরতাকে তুলে ধরার পাশাপাশি, সমকালীন শিল্পভাবনাকে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।