আমি কেন রাজনীতি করি?

অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন, “আপনি তুরস্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতবিদ, শ্রেষ্ঠ প্রকৌশলী এবং বিজ্ঞানী। আপনি ইস্তানবুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা শিক্ষক ছিলেন। লিওপার্ড ট্যাঙ্কসহ অন্যান্য যুদ্ধ এবং ইঞ্জিনবিদ্যায় আপনার যে জ্ঞান তা তুরস্কসহ সমগ্র বিশ্বের জন্য অনেক বড় একটি নিয়ামত। আপনি কেন এসব ছেড়ে রাজনীতিতে আসলেন?”
অনেকে আবার বলেন, “আপনি The Union of Chambers and Commodity Exchanges of Turkey (TOBB) এর সভাপতি থাকা অবস্থায় এই দেশের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা সব চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। আপনার হাত ধরেই তুরস্ক শিল্পায়নের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আপনি কেন এসব ছেড়ে রাজনীতিতে আসলেন?”
অপরদিকে আলেম উলামাগণ বলেন, “তুরস্কের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও যে নামাজ পড়তে পারে, ইসলামপন্থী হতে পারে এটা আপনি শিখিয়েছেন। কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও আল্লাহর খাঁটি বান্দা হওয়া যায় এই দীক্ষা আপনি দিয়েছেন। জাতির যুব সমাজের মধ্যে ইসলামের বীজ বপন করে যুব সমাজকে ইসলামের সুমহান আদর্শ দেখিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট তুরগুত অজাল বলেছিলেন যে, আমি ইসলাম এবং নামাজ কালাম শিখেছি আমার উস্তাজ এরবাকনের কাছ থেকে। আপনাকে নিয়ে যেখানে এত স্বীকৃতি, এত বড় খেদমত আপনি ইসলামের জন্য করেছেন সেখানে এই দাওয়াতী কাজ ছেড়ে কেন আপনি রাজনীতিতে আসলেন যার কারণে আপনাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে?”
আমি সবার উদ্দেশ্য একটা কথাই বলবো, “যত দিন পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনাকারীগণ ভালো মুসলমান না হবে এবং ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আপনাদের বলা এই সকল কাজ কোন দিনও পূর্ণতা লাভ করবে না। আমরা, আপনারা হয়তোবা নল দিয়ে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছি আর তারা বড় বড় পাইপ দিয়ে জাহেলিয়াত ছড়াচ্ছে। এই বড় পাইপকে ইসলামের সুমহান আদর্শ প্রচার করার জন্য কাজে লাগাতে হবে। এজন্য এই বড় পাইপের নিয়ন্ত্রণ শক্তিকে দখল করতে হবে। তা না হলে এই কুচক্রী শাসকবর্গ পাশ্চাত্যের সাথে মিলে মিশে কাজ করে আমার দেশের অস্তিত্বই বিলীন করে দিবে তখন না থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়, না থাকবে যুব সমাজ আর না থাকবে এই দেশ। আপনারা যে সকল কাজের কথা বলছেন এগুলাকে আরও বেশি করে করার জন্যই রাজনীতি। আর আমি এমন রাজনীতি করি যে রাজনীতি মুসলমানদেরকে ফিরিয়ে দিবে তার স্বর্ণালি অতীত।”
অনুবাদকঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ



মতামত প্রকাশ করুন