<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>মাকাসিদ আশ শারীয়াহ &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/thought-and-philosophy/makasid_as_shariah/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Mon, 20 Apr 2026 14:28:40 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>মাকাসিদ আশ শারীয়াহ &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কোরআন কীভাবে পড়বো?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. জাসের আল আওদাহ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 18 Apr 2026 13:56:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16756</guid>

					<description><![CDATA[بسم الله الرحمن الرحيم আল কোরআন দুনিয়ার সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। তবে কোরআনকে কীভাবে পড়তে ও বুঝতে হবে, এই প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন পন্থা বা মেথডের আলোচনা সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রে মাকাসিদকে কেন্দ্রে রেখে “মাকাসিদভিত্তিক পদ্ধতি” (Maqasid Methodology) ব্যবহার করে কীভাবে পবিত্র]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>بسم الله الرحمن الرحيم</p>
<p>আল কোরআন দুনিয়ার সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। তবে কোরআনকে কীভাবে পড়তে ও বুঝতে হবে, এই প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন পন্থা বা মেথডের আলোচনা সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রে মাকাসিদকে কেন্দ্রে রেখে “মাকাসিদভিত্তিক পদ্ধতি” (Maqasid Methodology) ব্যবহার করে কীভাবে পবিত্র কোরআন পাঠ করতে হবে, এ বিষয়টিই এ প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয়।</p>
<p>শুরুতেই একটি স্বাভাবিক প্রশ্নের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। প্রায়ই আমরা এই প্রশ্নটি করে থাকি যে- “আমি কীভাবে কোরআন পড়ব?” প্রশ্নটি দেখতে হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটি ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত জটিল। কেন? কারণ পবিত্র কোরআন বোঝার জন্য এমন কিছু দরজা আছে, যা আল্লাহ নিজেই বান্দার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।</p>
<p>আমাদেরকে সেই দরজায় কড়া নাড়তে হবে, এবং অপেক্ষা করতে হবে কখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা আমাদের দোয়া কবুল করে কোরআনের আয়াত সমূহ, নিদর্শন, মিসাল ও অর্থগুলো আমাদের সামনে উন্মুক্ত করবেন। যেটি পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য নতুন ভাবনার উন্মেষ ঘটাবে। এরপর আমরা সেই অর্থ ও উপলব্ধির মধ্যে এক নতুন সম্পর্ক খুঁজে পাবো, বুঝতে শুরু করবো কোরআনের কিছু বক্তব্য কীভাবে আমাদের প্রশ্ন ও উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p>এজন্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনের কাছে আমাদের দ্বারস্থ হতে হবে একদম পরিষ্কার মন নিয়ে, যেন একেবারে নতুন একটি পাতার মতো আমরা সেখানে উপস্থিত হয়েছি। যাতে করে আমাদের উপলব্ধিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারকারী নিদর্শন সমূহ আমরা লিপিবদ্ধ করে উপকৃত হতে পারি। শুধু তাই নয়, কোরআনের কাছে আমাদের যেতে হবে এমন একটি হৃদয় নিয়ে, যা আল্লাহর কাছে একান্তে হেদায়েত প্রত্যাশা করে। কারণ কোরআন হলো কেবল তাদের জন্যই পথনির্দেশ, যারা আল্লাহভীরু। যদি আমাদের অন্তরে সমস্যা ও রোগাক্রান্ত থাকে, তবে কোরআনের গভীর জ্ঞান, বোঝাপড়া বা ফিকহ সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য কখনোই সম্ভব হবেনা। কারণ কোরআন হলো মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত সরূপ, যেমন বলা হয়েছে- <strong>“হুদা ওয়া রহমাতুল্লি কওমিন ইউ’মিনুন।”</strong></p>
<p>আমরা জানি, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আমাদের বিশ্বাস স্থাপনের পরের স্তরে ঈমানের গভীরতা সকলের এক নয় এবং এটি ওঠানামা করে। যেমন, নেক আমল করলে তা বৃদ্ধি পায়, আর গুনাহ করলে তা কমে যায়। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যদি আমাদের নৈতিক বা মানসিক সমস্যা থেকে থাকে, যদি ঈমানের প্রাথমিক স্তরে পরিপূর্ণনা না থেকে থাকে কিংবা যদি সন্দেহ পোষণ করে থাকি; তবে এইভাবে কোরআন পড়ার আগে সেই সমস্যাগুলো দূরীকরণের উপর বিশেষ মনোযোগী হতে হবে ও এজন্য কাজ করতে হবে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে তখন আমরা একেবারে নির্ভুল হয়ে কোরআন পড়তে পারবো। আমরা সবাই মানুষ, আমাদের সবারই ভুল আছে। কিন্তু অন্তত বড় বড় সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে, যাতে আমাদের হৃদয় সমূহ মহান আল্লাহর দেওয়া পবিত্র জ্ঞান গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারে।</p>
<blockquote><p>মহাগ্রন্থ আল কোরআন একটি শাশ্বত আলো। আমরা যখন তা পড়তে শুরু করি, তখন আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেখানে স্বয়ং নিজেই আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি এমন নয় যে অন্য কেউ আল্লাহর কথা বর্ণনা করছে; এটি সরাসরি আল্লাহরই বাণী। এ কারণে এই বাণীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে। মানব রচিত যেকোনো বক্তব্য থেকে তার আলোকবর্তিকা ভিন্ন এক ছন্দের মাধ্যমে আমাদের হৃদয় সমূহ বিগলিত করে যায়। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা নিজেই বলছেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির মতো নয়।</p></blockquote>
<p>ফলে আমরা বলি, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। কিন্তু তাঁর শোনা আমাদের মতো নয়, তাঁর দেখা আমাদের মতো নয়, তাঁর জীবনও আমাদের মতো নয়। আমাদের জীবন দেহ ও আত্মার সমন্বয়, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ কারণেই তাঁর বাণীও আমাদের বাণীর মতো নয়। হ্যাঁ, আমরা এটি আরবি ভাষায় পড়ি। কিন্তু এটি তাবৎ জাহানের সকল লেখ্যরূপের চেয়েও ভিন্ন। এর শব্দের নির্বাচন, ধ্বনি, শব্দমূল, বাক্যের বিন্যাস, আয়াতের ক্রম; সবকিছুতেই এক ঐশ্বরিক বিশেষত্ব রয়েছে। ভাবার্থের জায়গা থেকেও কখনো বাক্যের মাঝেই একবচন থেকে বহুবচনে পরিবর্তন হয়, কখনো আখিরাত থেকে দুনিয়া, আবার দুনিয়া থেকে আখিরাতে ফিরে আসে। এটি এক অসাধারণ গ্রন্থ। তাই আমাদেরকে সেই দরজায় কড়া নাড়তেই হবে, যাতে মহান আল্লাহ আমাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেন এবং আমাদের প্রতি সহায় হোন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এজন্য আমাদের যে বিষয়টি করা জরুরী তা হলো একটি পবিত্র হৃদয়কে কোরআনের সামনে নিবেদিত করে কোরআন থেকে জ্ঞান উৎপাদনের চেষ্টা করা। প্রকৃত ফিকহ এটিই। কোরআনের গভীর বোঝাপড়া নির্ণয়ের চেষ্টা করা; <strong>শুধু কিছু ফিকহি বিধানই “ফিকহ” এর মতো গভীর একটি বিষয়কে পরিপূর্ণতা দেয়না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ফিকহ কেবল শরীয়তের বিধান নিয়ে আলোচ্য কোনো বিষয় নয়; এটি আমাদের জ্ঞানের একটি বিস্তৃত ধারণা। যেমন স্থাপত্য, চিকিৎসা, মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রকৌশল, নীতি নির্ধারণ; সব ক্ষেত্রেই ফিকহের প্রয়োগ রয়েছে, পাশাপাশি হাদীস ও দাওয়াহর ক্ষেত্রেও।</strong> এখানে আমরাই গবেষক, আমরাই পাঠক, এবং এক অর্থে আমরাই মুজতাহিদ। আমাদের কাজ হলো- নতুন তত্ত্ব, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির চেষ্টা করে যাওয়া।</p>
<p>কোরআন পাঠের অর্থবহতা তো কেবল তখনই পরিপূর্ণতা পায় যখন আমরা এখান থেকে কোনো সমস্যার নতুন সমাধান আবিষ্কার করতে চেষ্টা করবো, নতুন কৌশল তৈরি করতে স্বচেষ্ট হবো, অথবা আমাদের নিজস্ব জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুনভাবে কাঠামো নির্মাণ করে তা নিয়ে পুনরায় গবেষণা করবো। এজন্য আমি পরামর্শ দিতে পারি যে, আপনারা যে যেই ক্ষেত্রেই দক্ষ হোন না কেন, বিভিন্ন ভাষা ও বিভিন্ন লেখকের লেখা তাফসির পাঠ করা অত্যন্ত জরুরী। আমি বলছি না যে আপনি ফকিহদের মতো ফতোয়া দেবেন, বরং আমাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট ও নিজস্ব অবস্থানের আলোকেও কোরআনকে বুঝতে চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে এর একটি সামগ্রিকতা আমাদের সামনে নতুন করে হাজির হতে পারে। যেমন, কানাডার একজন ইঞ্জিনিয়ার কোরআনকে একভাবে পড়বে, আবার সামরিক বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী ভিন্নভাবে পড়বে। এর মানে এই নয় যে এইক্ষেত্রে তাফসীর অপ্রাসঙ্গিক, বরং তা আরো ব্যাপকতা পাবে সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমাদের কোরআনের নিকটবর্তী হওয়া উচিত।</p>
<p>প্রসঙ্গত, জ্ঞানের ইতিহাস এবং নতুন জ্ঞান উৎপাদন; এই দুইয়ের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। আর আমরা যেন আমাদের সময়ের আলোকে নতুন জ্ঞান তৈরি করতে সক্ষম হতে পারি, সেই বিষয়ে আমাদের স্বচেষ্ট হওয়া জরুরী। এজন্য আমাদের নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট তাফসীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখাটা কখনোই সমীচীন নয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উন্মুক্তকারী জ্ঞান হলো “উসূল”। এর উৎপত্তি ও বিকাশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- ইলমুল উসূল শুধু ফিকহের নিয়ম তৈরির একটি সাধারণ পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জ্ঞান উৎপাদনের সীমানা নির্ধারণ করে এবং ইসলামী জ্ঞানকেও একটি দার্শনিক উচ্চতায় উন্নীত করতে সহায়তা করে। বিশেষত আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে মুসলমানদের দার্শনিক জ্ঞান গঠনে উসূল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শুধু তাই নয়, এটি কাঠামো নির্ধারণ, নিয়ম প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের কাজও করে।</p>
<p>এই কারণে উসূলে ফিকহকে স্রেফ ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে বিষয়টি সঠিক হবেনা, বরং এটি অন্যান্য জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবেও কাজ করেছে। সংক্ষেপে, দ্বীনের নামে কথা বলার সীমানা নির্ধারণ করেছে এই জ্ঞান। এজন্য উসূল কেবল একটি জ্ঞানের শাখাই নয়; এটি চিন্তারও একটি পদ্ধতি। <strong>কোরআন ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে সবসময় উসূলের নীতিমালা ব্যবহার করা হয়েছে।</strong></p>
<p><strong>মাকাসিদ ধারণাটি ক্লাসিক উসূলের “ওয়াসফুল মুনাসিব” থেকে এসেছে। ইমাম গাজালী এটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন; জারুরিয়্যাত, হাজিয়্যাত এবং তাহসিনিয়্যাত। তিনি আবার জারুরিয়্যাতকেও পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন; দ্বীন, জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি ও বংশ রক্ষা।</strong></p>
<p>কিন্তু বর্তমান সময়ের তাবৎ সব জটিল সমস্যার সমাধানে এই সীমিত ধারণা যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই এখন আমাদের মাকাসিদকে সংকীর্ণ অর্থ থেকে বের করে দ্বীনের সামগ্রিক উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।</p>
<p>এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে-<br />
সৃষ্টির উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত তাকবীন), জীবন ও সভ্যতার উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল উমরান), ওহী নাযিলের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত তানযীল), কোরআনের উদ্দেশ্য, সুন্নাহর উদ্দেশ্য এবং দায়িত্বের উদ্দেশ্য।</p>
<p>নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর দ্বীনে কোনো অর্থহীন বা উদ্দেশ্যহীন বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সংকীর্ণ চিন্তা কখনো কখনো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। মাকাসিদ আমাদেরকে এই অর্থহীনতা থেকে রক্ষা করে থাকে; যদি আমরা সঠিকভাবে এর অর্থ নির্ধারণ করে দ্বীনের রহমত, হিকমত, ন্যায়বিচার ও কল্যাণকে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারি।</p>
<p>এছাড়া আহকামের পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বর্তমান সমস্যার সমাধানের জন্য ফিকহকে গতিশীল করতে তিনটি মূলনীতি খুবই গুরুত্ব বহন করে। সেগুলো হলো-</p>
<p><strong>১. সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে হুকুমের পরিবর্তন অস্বীকার করা যায় না।</strong><br />
<strong>২. কোনো হুকুম যদি তার উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল দেয়, তবে তা বাতিল গণ্য হবে।</strong><br />
<strong>৩. নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হলে সেই হুকুমের কার্যকারিতাও শেষ হবে।</strong></p>
<p>এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিলে বর্তমান যুগের সমস্যার উপযোগী কোনো ফিকহ তৈরি করা সম্ভব নয়। এটা এই অর্থে নয় যে তারা ভুল, বা তাদের পদ্ধতি অগ্রহণযোগ্য; বরং আমরা এখানে যে অনুশীলনটি করতে চাইছি, সেটি ভিন্ন। যেমন, যদি আমরা এই অনুশীলনের মধ্যে প্রবেশ করে সরাসরি ইবনে কাসীরের মতো তাফসীর খুলি, তাহলে আমাদের নিজস্ব চিন্তার প্রক্রিয়াটি হয়তো পূর্ণতা পাবেনা।</p>
<p>কারণ <strong>আমরা যদি শিক্ষা বিষয়ে কাজ করি, তাহলে আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা নিশ্চয়ই ইবনে কাসীরের মধ্যে যত্রতত্রভাবে খুঁজে পাব না! কারণ এই তাফসীরে তিনি শিক্ষা-দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআন ব্যাখ্যা করেননি। তিনি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করেছেন যেখানে তিনি আয়াতের সাথে সম্পর্কিত হাদীস, সাহাবা ও তাবেঈদের বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন।</strong> তবে এটি অবশ্যই একটি অত্যন্ত সম্মানিত পদ্ধতি, এবং ব্যক্তিগতভাবে আমিও তাঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কোরআন পড়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- আংশিকতা (partialism), অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন করে পড়া। কোরআন পড়ার সময় কখনোই আমাদের বিচ্ছিন্নভাবে পড়া উচিত না। সবসময় সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</strong> আগের আয়াতের সাথে পরের আয়াতকে যুক্ত করা, শব্দগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খুঁজতে চেষ্টা করা। সেইসাথে, কেন এমন বলা হলো; এই “কেন” প্রশ্নটি নিজেকে বারবার করা।</p>
<p>আমি মনে করি, ছোটবেলায় যখন আমরা কোরআন মুখস্থ করতাম, তখন শায়খরা আমাদের পরীক্ষা করার জন্য মাঝখান থেকে আয়াত শুরু করতেন, কখনো কখনো শব্দের মাঝখান থেকেও। এর ফলে আমাদের মধ্যে কোরআনকে টুকরো টুকরো করে দেখার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি চাই না আমরা কোরআনকে এভাবে ভেঙে ফেলি। বরং আসুন আমরা কোরআনকে তার অর্থবহতার জায়গা থেকে সমন্বিতভাবে (integrated) পড়তে চেষ্টা করি।</p>
<p>ধরুন, আপনি একজন অর্থনীতিবিদ, এবং আপনি “আল-মাল” (সম্পদ/ধন) শব্দে এসে থামলেন। তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন যে কোরআনের আর কোথায় “আল-মাল” এসেছে? আগের সূরায় কি এ বিষয়ে কিছু পড়েছিলাম? গিয়ে মিলিয়ে দেখুন। সংযোগ তৈরি করুন। আমরা পড়ার সুবিধার জন্য কোরআনকে সাত ভাগে ভাগ করছি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা এই অংশগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে ভেঙে ফেলবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তৃতীয় বিষয়টি হলো- অ্যাপোলোজেটিক্স (apologism), অর্থাৎ নিজের পূর্বধারণা কোরআনের উপর চাপিয়ে দেওয়া। এই বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বের সাথে আমাদের পরিত্যাগ করা উচিত।</strong> যেমন, আপনি যদি একজন অর্থনীতিবিদ হন, তাহলে কোরআনের মধ্যে পুঁজিবাদ খুঁজবেন না। যদি আপনি মনোবিজ্ঞানী হন, তাহলে ফ্রয়েডকে কোরআনের মধ্যে বসানোর চেষ্টা করবেন না। যদি আপনি সমাজবিজ্ঞানী হন, তাহলে ডুরখাইমের তত্ত্ব দিয়ে কোরআন ব্যাখ্যা করবেন না। উদাহরণ হিসেবে, ডুরখাইম সমাজে মানুষের শ্রেণিবিন্যাসকে তাদের আত্মপরিচয়ের উপর ভিত্তি করে দেখেন। আজকের দিনে যেমন লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কিন্তু কোরআন এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে না।</p>
<p>কোরআনে দল বা গোষ্ঠীর পরিচয় তাদের নিজেদের দাবির উপর নয়, বরং নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। তাই আমাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানকে কোরআনের উপর চাপিয়ে দিয়ে সেটিকে “ন্যায়সঙ্গত” প্রমাণ করার চেষ্টা করা ভীষণ কদার্য মানসিকতার পরিচয়। তাহলে কোরআন শুধু উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক চুক্তির বইয়ে পরিণত হয়ে যাবে; যা আসলে কোরআনের মূল আলোচ্য বিষয় নয়। এমনকি “সমতা” (equality) বা “স্বাধীনতা” (freedom) -এই শব্দগুলোও কোরআনে সরাসরি নেই। এর মানে এই নয় যে এসব মূল্যবোধ নেই; বরং এটি একটি গভীরতর আলোচনার বিষয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>চতুর্থ বিষয়টি হলো বিরোধ (contradiction)। আকল (যুক্তি) ও নকল (ওহী/প্রমাণ) এদের মধ্যে বিরোধ খোঁজার চেষ্টা করা যাবেনা। কোরআনকে এদের ঊর্ধ্বে রাখুন।</strong></p>
<p>কোরআন সর্বোচ্চ, এবং এটি সবকিছুকে সমন্বিত করে। এছাড়া “ডিকনস্ট্রাকটিভ” দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কোরআন পড়া যাবেনা। যেমন শুরুতেই ক্ষমতার কাঠামো খোঁজা, যেমন পিতৃতন্ত্র (patriarchy)। কোরআন পুরুষের ক্ষমতা বা নারীর ক্ষমতা; কোনোটিরই বই নয়। এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা বা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বইও নয়; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।</p>
<p>বিশেষ করে যারা সমাজবিজ্ঞান পড়েছেন, তারা এ ধরনের বিশ্লেষণে প্রশিক্ষিত হন, কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবেনা।</p>
<p>এতোক্ষণ যে বিষয় গুলো আমি তুলে ধরার চেষ্টা করছিলাম, এগুলো ছিল “কি করা যাবে না”।</p>
<p>এখন আসুন আলোকপাত করা যাক কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে “কি করতে হবে” -এই বিষয় নিয়ে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রথমত, আমরা যে উপাদান সমূহ নিয়ে আলোচনা করছি, সেগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখি।</strong> বিশেষ করে “উদ্দেশ্য” (objectives)। চলুন প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করি, আল্লাহ কেন এটি বলছেন? কেন এভাবে বলা হলো? কেন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়নি? যেমন, কেন কোরআনে “সমতা” শব্দটি নেই? বরং এখানে স্তরভেদ (hierarchy) আছে। “ফাদ্দালাল্লাহু…” (আল্লাহ কিছু মানুষকে অন্যদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন)।</p>
<p>তাহলে এবার প্রশ্ন করি যে সমতার মধ্যে তবে সমস্যা কী? একইভাবে, কেন “ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি” নেই? কেন “গণতন্ত্র” নেই? এই “কেন” প্রশ্নগুলো আমাদেরকে একটি সুসংগঠিত সমালোচনামূলক চিন্তায় নিয়ে যাবে। “কেন” প্রশ্ন ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত, এবং এটি সমন্বিত চিন্তার দরজা খুলে দেয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত বিষয়টি হলো, ধারণা (concepts) বিশ্লেষণ করা। যেমন, বিয়ে (marriage) বনাম যিনা (zina)।</strong> এই দুটি ধারণার ভিত্তিতে সমাজ ও পরিবারকে বুঝার চেষ্টা করি। কোরআনের দৃষ্টিতে “ইলম” (জ্ঞান) আসলে কী? মানুষ (human) কী; এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ বা স্থপতি বা যাই হই না কেন, “মানুষ” ধারণাটি আমাদের জন্য কেন্দ্রীয়।</p>
<p>একজন স্থপতির জন্য যে স্থানে মানুষ বসবাস করবে, সেই স্থানে মানুষের ভূমিকা কী? এই ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করে আমাদেরকে আমাদের নিজস্ব তত্ত্বগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে।</p>
<p><strong>তৃতীয়ত, মূল্যবোধ (values) নির্ধারণ করা।</strong> এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যে নৈতিকতা কী? সৌন্দর্য কী? উপকার ও ক্ষতি কী? কোরআন আমাদেরকে এই মানদণ্ডগুলো নতুনভাবে গঠন করে দেবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>চতুর্থত, কোরআনের নির্দেশনাগুলো (commands) খুঁজে বের করার চেষ্টা করা।</strong> কি করতে হবে, আর কি থেকে বিরত থাকতে হবে। আসলে এইভাবেই কোরআন পাঠ একটি গভীর, সমন্বিত এবং সৃজনশীল জ্ঞানচর্চায় পরিণত হবে। মনে রাখা জরুরী যে, কোরআনে “করণীয়” ও “বর্জনীয়” বিষয়গুলো শুধু আহকামের জন্য নয়; শুধু হালাল-হারাম বা ওয়াজিবের বিধানও নয়। বরং এগুলো আরও বহু বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য।</p>
<p>কোরআন আমাদেরকে পৃথিবীতে চলতে, পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পরিণতি দেখতে, আগের প্রজন্ম ও সভ্যতাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এটি এমন একটি নির্দেশ যা সরাসরি বাধ্যতামূলক বিধানের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু, নির্দেশনাগুলোর দিকে তাকান এবং দেখুন কীভাবে আপনি সেগুলোকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন। এটা আমাদের জন্য কোআরনের নতুন নতুন দিকগুলো উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।</p>
<p>এরপর রয়েছে সার্বজনীন নিয়মাবলি বা সুন্নাতুল্লাহ। যখন আল্লাহ বলেন যে এগুলো পুনরাবৃত্ত হয় কিংবা এই ধারাবাহিকতা বিদ্যমান; আমরা দেখি:<br />
“وكذلك نجزي المحسنين”<br />
অর্থাৎ, “এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিই।”</p>
<p>এরপর এই নিয়মগুলোর দিকে তাকাই। কী সেই প্যাটার্ন? ইতিহাসের প্যাটার্ন, ভূগোলের প্যাটার্ন, সমাজের প্যাটার্ন; আমরা যে ক্ষেত্র থেকেই আসি না কেন। সুনানুল্লাহ খুঁজুন, এখানে আল্লাহর নিয়ম কী? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার ধারা কী? এরপর গোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকাই। এবং যখন আমরা গোষ্ঠীগুলো দেখবো, তখন সেগুলোকে আমাদের ধারণার সাথে সংযুক্ত করবো।</p>
<p>কারণ কোরআনে এবং ইসলামে গোষ্ঠীগুলো মানুষের স্বাভাবিক ধারণা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।<br />
যেমন—<br />
العلم والعلماء<br />
والتجارة والتجار<br />
والملك والملوك ইত্যাদি।</p>
<p>প্রতিটি গোষ্ঠীর সাথে একটি ধারণা যুক্ত থাকে। কিন্তু ইংরেজি ভাষায় আমরা এই বিষয়টি ততটা পাই না। আমরা সহজেই কোনো একটি গোষ্ঠীকে “terrorists” বলে লেবেল দিই, কিন্তু “terror” কী তা সংজ্ঞায়িত করি না। অথবা আমরা কাউকে “celebrities” বলি; কিন্তু সেটার অর্থ কী, সেটাও স্পষ্ট করি না। আমরা কীভাবে এগুলো সংজ্ঞায়িত করব? ধারণাটি কী? এবং সেই ধারণার কি কোনো কর্তৃত্ব (سلطان) আছে?</p>
<p>আসলে আমাদের আধুনিক সমাজ ধারণাগত ও গোষ্ঠীগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, বিশেষ করে বিশ্বকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে। কী সঠিক, কী ভুল, কী ভালো মূল্যবোধ; এসব নির্ধারণেও আমরা বিভ্রান্ত। এখন মূল্যবোধ মানেই যেন সংখ্যা আর সংখ্যা বেশি মানেই ভালো।</p>
<p>কিন্তু আল্লাহ বলেন:<br />
“قل لا يستوي الخبيث والطيب ولو اعجبك كثرة الخبيث”<br />
অর্থাৎ, “বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য আপনাকে মুগ্ধ করে।”</p>
<p>প্রমাণ (حجج) বিষয়টি নিয়েও ভাবুন। একটি শক্তিশালী প্রমাণ (برهان) ও একটি ভ্রান্ত যুক্তি (fallacy)-এর মধ্যে পার্থক্য কী? কোরআন আমাদের এই বিষয়গুলোও শেখায়।</p>
<p>বিশেষ করে ফিরআউনের দর্শনগুলো দেখুন, <strong>শুধুমাত্র ফিরআউনের দর্শনই আমাদেরকে যুক্তি নির্মাণের অনেক পদ্ধতি দেখাবে। তাই পড়ার সময় এগুলো খুঁজে দেখা জরুরী। এবং মনে রাখতে হবে যে এগুলো আলাদা আলাদা বিষয় নয়।</strong> যেমন, আপনি যেন এক্সেল শিট খুলে না বলেন “এটা একটি concept, এটা একটি objective।” ন্যায় (العدل، القسط) এটি একইসাথে একটি objective এবং একটি concept। আবার মসজিদ একটি গোষ্ঠী। এবং এটিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার একটি নিয়মের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p>“قائماً بالقسط” তিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব, এটি তাঁর একটি নিয়ম। এবং القسط একটি মূল্যবোধ। এবং القسط একটি নির্দেশ। “وأقسطوا” অতএব, এটি সবকিছু। তাহলে কেন আমরা এগুলোকে এতোগুলো উপাদানে ভাগ করলাম? শুধু আমাদের চিন্তাকে উন্মুক্ত করার জন্য, যাতে আমরা বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়গুলো দেখতে ও বিবেচনা করতে পারি।</p>
<p>কারণ আমাদের চিন্তার প্রবণতা ভিন্ন। কেউ ধারণা-কেন্দ্রিক শব্দ ও অর্থ খোঁজে। কেউ উদ্দেশ্য-কেন্দ্রিক; সবসময় জিজ্ঞেস করে “কেন?” এবং “আমি কোথায় যাচ্ছি?”</p>
<p>কেউ নির্দেশনাভিত্তিক; তাদেরকে শুধু বলা হলেই হয় “اعدلوا، اقسطوا” তখনই তারা বুঝে নেয়। কিন্তু তারা “قسط” শব্দটি নিয়ে দার্শনিক বিশ্লেষণ করে না। আবার কেউ গোষ্ঠী বিশ্লেষণে আগ্রহী। এভাবে বিভিন্ন ধরণের প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু আমরা মনে রাখিনা যে এই সবকিছুই পরস্পর সংযুক্ত ও আন্তঃসম্পর্কিত। প্রসঙ্গত, এখন মাকাসিদ পদ্ধতি অনুযায়ী এই অনুশীলনে আমরা দুটি ধাপ এক পাশে রেখে পুনরায় কোরআন পাঠের পদ্ধতিকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রথমত রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ। এই অনুশীলনে হাদীস ব্যবহার করব না। এর মানে এই নয় যে হাদীস ভুল, বা আমি সুন্নাহর বিরুদ্ধে; কখনোই না।</p>
<p>আমার কোনো বই-ই এমন নেই যেখানে হাদীস নেই; এক পৃষ্ঠাতেও এক-দুটি বা পাঁচটি হাদীস না থাকে; এমন নয়।</p>
<p>কিন্তু হাদীস একটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এইবার কোরআন পড়ার সময় আমরা হাদীস অন্তর্ভুক্ত করবো না। কেন? কারণ হাদীসকে কোরআনের আলোকে প্রাসঙ্গিক করতে হয়-<br />
“عرض الحديث على القرآن”</p>
<p>আমি জানি সুন্নি ও শিয়া ঐতিহ্যের মধ্যে এ বিষয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এটি আপাতত আমাদের বিষয় নয়, এমনকি আমার মতো একজন গবেষকেরও মূল বিষয় নয়।</p>
<p>আমি এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে চাই। বলতে চাই, হাদীস কেন দেখবেন না? কারণ বর্ণনা (narration) অনেক সময় খণ্ডিত হয়, কিন্তু কোরআন সমন্বিত (integrative)। হ্যাঁ, একটি আয়াত কোরআনের একটি অংশ। কিন্তু আপনি একটি আয়াতকে পুরো কোরআন ছাড়া বুঝতে পারবেন না। এটিই বাস্তবতা। কিন্তু মানুষ হাদীসের ক্ষেত্রে প্রায়ই তা করে, একটি হাদীস নিয়ে নেয়, বাকি অংশ বা প্রেক্ষাপট না দেখেই তা বিশ্লেষণের চেষ্টা করে।</p>
<p><strong>বিশেষ করে জনপ্রিয় হাদীস গ্রন্থগুলোতে অনেক সময় হাদীস কেটে ছোট করা হয়েছে। একজন গবেষক হিসেবে এক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে, বিশেষ করে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের ক্ষেত্রে, তারা অনেক সময় হাদীসকে খুব বেশি সংক্ষিপ্ত করেছে।</strong></p>
<p><strong>হাদীস একটি পূর্ণ অনুচ্ছেদ, কিন্তু আপনি আমাকে পাঁচটি শব্দ দিয়ে বলছেন এটি একটি হাদীস! এমন অনেক উদাহরণ আছে। এছাড়া হাদীসের সাথে সত্যতা (authenticity) বিষয়টি জড়িত এবং সব “সহিহ” সংগ্রহের সবকিছুই সত্য নয়।</strong></p>
<p>হাদীস বর্ণনাকারীর প্রেক্ষাপটের উপরও নির্ভর করে, এমনকি সাহাবির ক্ষেত্রেও। যদি আপনার বিশেষায়ন হাদীসে হয় তাহলে আপনি হাদীস দেখবেন। কারণ আপনাকে দেখতে হবে; কোরআনে সাহাবাদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কি হাদীসে একইভাবে এসেছে? অবশ্যই না। কোরআনে তারা “মুহাজিরীন” ও “আনসার” -এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট।</p>
<p>তাই যদি আপনি হাদীসের গবেষক হন, তাহলে কোরআনের আলোকে হাদীস বিশ্লেষণ করুন। এটি খুব জরুরী। কিন্তু যদি আপনি চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা, আইন, স্থাপত্য, ভাষা বা সমাজবিজ্ঞান; এই ক্ষেত্রগুলোর কোনো একটিতে থাকেন; তাহলে আজ হাদীসকে পাশে রাখুন।</p>
<p>শুধু কোরআনকে ঘিরে চিন্তা করি চলুন, যাতে আমরা একটি কার্যকর আলোচনার দিকে অগ্রসর হতে পারি। আমি জানি এভাবে পড়তে গিয়ে অবশ্যই আমাদের মনে আসবে “আমি তো একটি হাদীস জানি, যা এর সাথে মেলে না!” ঠিক আছে; এসব নিয়ে আমরা অন্য কোনো প্রবন্ধে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আরেকটি বিষয়, এই অনুশীলনে আমরা অন্যান্য জ্ঞান বা সমালোচনামূলক গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করবো না। অর্থাৎ আমরা যা করছি তা হলো: উদ্দেশ্য নির্ধারণ, কোরআনের উপর চিন্তা-ভাবনা, এবং একটি কাঠামো (framework) তৈরি করা; concept, objective ইত্যাদি নিয়ে।</p>
<p>আমরা অন্যান্য জ্ঞানের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ আপাতত বাদ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো কোরআন থেকে নতুন তত্ত্ব ও নীতি খুঁজে বের করা। যেমন, “কোরআনে সম্পদ সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে, তাই একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি সম্পদের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে পারি।” অথবা “কোরআনে সৌন্দর্যের একটি বিশেষ ধারণা রয়েছে, তাই একজন শিল্পী হিসেবে আমি সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা দিতে পারি বা এটিকে বিশেষায়িত করতে পারি।” তাই এই পর্যায়ে সুন্নাহ ও অন্যান্য সমালোচনামূলক গবেষণা আমাদের জন্য এক পাশে রাখাটাই শ্রেয়।</p>
<p>আলোচনার এই অংশে এখন আমাদের উদ্দেশ্য কী? চলুন নিজেদেরকে এই চারটি শ্রেণির একটিতে স্থাপন করি:</p>
<p>১. دراسات اصولي(শাস্ত্রভিত্তিক গবেষণা)<br />
২. دراسات فينومينا(ঘটনাভিত্তিক গবেষণা)<br />
৩. دراسات ديسبلنري (শাখাভিত্তিক গবেষণা)<br />
৪. دراسات استراتيجي (কৌশলগত গবেষণা)<br />
যদি আমি ফিকহে বিশেষজ্ঞ হই, তাহলে কোরআনের সাথে আমাদের শেখা ফিকহ তুলনা করি। যেমন, পারিবারিক আইন। আমি নিজে ফতোয়া ও আদালতের কাজে পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করি এবং বড় পার্থক্য দেখি। যেমন বিয়েকে একটি “চুক্তি” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কিন্তু কোরআনের দৃষ্টিতে এটি কেবল চুক্তি নয়। বা এটি শুধু “লাভ বিনিময়ের চুক্তি” নয়, এভাবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়।</p>
<p>এমনকি “الاحتباس” নামক একটি তত্ত্ব আছে, যেখানে বলা হয়, স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরে বন্দি! সে বাইরে যেতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে, না হলে তার ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যাবে! তালাক হলে ক্ষতিপূরণও পাবে না! এগুলো কী ধরনের ধারণা? তাই যদি আমরা উসূলভিত্তিক গবেষণায় থাকি, তাহলে কোরআনের আলোকে ফিকহ, হাদীস, তাফসীর সবকিছুই চলুন পুনর্বিবেচনা করি।</p>
<p>এবার আমরা যদি নিজেকে কোনো শাখার (discipline) অধীনে রাখি, তাহলে আমরা মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বা প্রয়োগমূলক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যেমন, রাজনীতি, মনোবিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। নিজেকে এই শ্রেণির একটিতে রাখুন এবং সেই অনুযায়ী আমাদের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করি।</p>
<p>শাখাভিত্তিক গবেষণায় মূল কাজ হলো, আমাদের শাস্ত্রের মৌলিক ধারণাগুলো পুনঃসংজ্ঞায়িত করা। যেমন, ভাষা কী? ইতিহাস কীভাবে বোঝা উচিত? কোরআন ইতিহাসকে যেভাবে উপস্থাপন করে তা প্রচলিত ইতিহাস তত্ত্বের মতো নয়। সমাজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি আমরা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা সমস্যা (phenomena) নিয়ে কাজ করি, যেমন দারিদ্র্য; তাহলে যেন পুরো কোরআনের আলোকে সেটি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। শুধু “فقراء” শব্দ খুঁজে বের করলেই হবে না। কোরআন অনেকভাবে দারিদ্র্যের কথা বলে, এমনকি শব্দটি ব্যবহার না করেও।</p>
<p><strong>আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ভাষাগত সীমাবদ্ধতায় আমরা নিজেদেরকে আটকে না ফেলি। গণনা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি বলে, কোরআনে “শরীয়াহ” শব্দটি মাত্র দুইবার এসেছে, তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি ভুল ধারণা। পুরো কোরআনই শরীয়াহ।</strong></p>
<p>স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ হলো সংগঠনভিত্তিক বিশ্লেষণ, যেমন একটি NGO, রাষ্ট্র বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখানে কোরআনকে বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আপনার সংস্থার লক্ষ্য কোরআনের উদ্দেশ্য থেকে নির্ধারণ করুন, অন্য কোনো মতবাদ থেকে নয়। আপনি গণতন্ত্রকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু সেটিকে আপনার মূল লক্ষ্য বানাতে পারবেন না, যদি আপনি একটি ইসলামী সংগঠন হন।</p>
<p>আপনার লক্ষ্য আসবে ইসলাম থেকে, তারপর আপনি বিচার করবেন কোন অংশ গ্রহণযোগ্য। কার্যত, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে আমাদের বিশ্বদৃষ্টিও (worldview) অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়। আমরা সমাজকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করবো, তা কোরআনিক কাঠামোর ভিত্তিতে হওয়া উচিত। আমরা গোষ্ঠীসমূহকেও অন্যের কাঠামো দিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে পারি না। আমাদের নিজস্ব কোরআনিক কাঠামো থাকতে হবে, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সঠিকভাবে করতে পারেন।</p>
<p>যেমন, সংস্কারক (reformers) ও দুর্নীতিবাজ (corruptors) এই বিভাজন আমাদেরকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সবশেষে বলতে চাই, আমরা পবিত্র কোরআনকে বোঝার ক্ষেত্রে যখন নিজেদেরকে এই চারটি ক্ষেত্রের একটিতে স্থাপন করবো, তখন আমাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেইসাথে, প্রচলিত ধারণার উর্ধ্বে উঠে কোরআনকে আমাদের সময়, যুগ, সভ্যতা, ক্রান্তি ও সংস্কৃতির আলোকে নিজেদের অবস্থান থেকেও নতুন নতুন তত্ব ও আহকাম উন্মোচিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত পাঠ করা জরুরী।</p>
<p>অনুবাদঃ মুশফিকুর রহমান।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16756</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ফিকহুল মীযান (প্রথম পর্ব)</title>
		<link>https://rowyakbd.com/fiqhul-mizan-part-1/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/fiqhul-mizan-part-1/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. আলী আল কারাদাগী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 07 Sep 2025 17:01:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16144</guid>

					<description><![CDATA[ফিকহুল মীযান —সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, আকীদা ইত্যাদি সমস্ত বিষয় পরিগ্রহ করে আছে। মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উম্মাহর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে উম্মাহ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। কেননা, যে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ফিকহুল মীযান —সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, আকীদা ইত্যাদি সমস্ত বিষয় পরিগ্রহ করে আছে। মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উম্মাহর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে উম্মাহ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। কেননা, যে ব্যক্তি মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করে না, সে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। ফিকহুল মীযান নিয়ে কলম ধরতে এ বিষয়টিই আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছে।</p>
<p>আল্লাহ রব্বুল আলামীন পারস্পরিক বিরোধ দূর করে একে অপরের বন্ধন মজবুত করতে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল করেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিলের অন্যতম মূল মাকসাদ এটি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ সদস্য এই মাকসাদ থেকে যোজন-যোজন দূরে অবস্থান করছে।</p>
<p>খারেজী, মুতাযিলা, মুরজিয়া, জাবরিয়া, কাদরিয়া, বাতিনিয়্যাহ-সহ হাল আমলের আল-কায়েদা, আইএস, বোকো হারাম এবং এদের থেকে জন্ম নেওয়া নামসর্বস্ব তথাকথিত ইসলামী সংগঠন এবং অন্যান্য ইসলামী সংগঠন যেমন—সালাফী, ইখওয়ান, তাবলীগ—এরা প্রত্যেকেই মানদণ্ড হিসেবে কোরআনকে গ্রহণ করে এবং নিজেদের মত প্রতিষ্ঠা করতে কোরআন থেকে দলীল দেয়। এমনকি আমরা দেখেছি, উগ্র জঙ্গিবাদী সংগঠন আইএসও নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে কোরআন থেকে প্রচুর পরিমাণে উদ্ধৃতি দেয়।</p>
<p>আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি, মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে কোনো ধরনের অসঙ্গতি নেই, নেই কোনো ফাঁকফোকরের বালাই। কেননা, এ গ্রন্থ পরাক্রমশালী, হাকীম এবং প্রজ্ঞাময় মহান আল্লাহ তায়া’লার পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে। এ কিতাব মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত এবং সমগ্র মানবতার হেদায়েতের উৎস। এটা যেমন আমার বিশ্বাস, তেমনি প্রত্যেক মুসলমানেরও বিশ্বাস।</p>
<p>কিন্তু তা সত্ত্বেও নসের (Text) অপব্যাখ্যার ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। নস কেন অপব্যাখ্যার স্বীকার হচ্ছে এর কারণটা আমি ঠিকঠাক ধরতে পারছিলাম না। আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে এর কারণ খোঁজা শুরু করি। ফলাফল হিসেবে যা পাই, তা-ই আমাদের এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়। আমরা বুঝতে পারি, মীযানে অসঙ্গতির ফলে নস অপব্যাখ্যার স্বীকার হচ্ছে।</p>
<p>সূরা হাদীদের ২৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন—</p>
<p>لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِالۡبَیِّنٰتِ وَاَنۡزَلۡنَا مَعَهُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡمِیۡزَانَ لِیَقُوۡمَ النَّاسُ بِالۡقِسۡطِ</p>
<p>অর্থ : “আমি আমার রসূলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং হেদায়েত দিয়ে পাঠিয়েছি। তাদের সাথে কিতাব ও মীযান নাজিল করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।”</p>
<p>প্রত্যক্ষভাবে কিতাব এবং মীযান উভয়ই বোধ, চিন্তা, আকীদা, ইবাদত, আচার-অনুষ্ঠান, আখলাক, পারস্পরিক আচার-আচরণ এবং লেনদেন ইত্যাদিতে ইনসাফ, আদালত এবং মধ্যমপন্থা নিশ্চিত করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়া’লা কিতাবের সাথে মীযানও নাজিল করেছেন। কারণ মধ্যমপন্থা, আদালত, ফাহ্ম, তাসাউফ ইত্যাদি নিশ্চিত করতে এবং ইখতিলাফ দূর করতে কিতাবের সাথে মীযানও প্রয়োজন।</p>
<p>আমি প্রায় একশত পঞ্চাশটি তাফসীর গ্রন্থ সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই ‘মীযান’ শব্দের ব্যাখ্যা তালাশ করা শুরু করি। অধিকাংশ মুফাসসির মীযানের তাফসীর করেছেন বস্তুগত মীযান অর্থে। মীযান শব্দকে তারা শস্য অথবা সীমা-পরিসীমা ‘নির্ধারক’ হিসেবে তাফসীর করেছেন। তারা আকলের মীযানকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। মীযান বা স্কেল দিয়ে বস্তুর পরিমাপ করা—এটা মানুষের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। তবে মীযান সীরাতে মুস্তাকীমের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের হেদায়াতের সাথে সম্পৃক্ত মীযানই প্রকৃত মীযান। ব্যক্তি যেন সীরাতে মুস্তাকীমের পথে সহজে চলতে পারে, যেন ভারসাম্যপূর্ণ এবং স্থিতিশীল হতে পারে, মীযান তা নিশ্চিত করে।</p>
<p>ইমাম ইবনে তাইমিয়া (র.)-সহ আরও কয়েকজন আলেম মীযানের অর্থ করেছেন আদল। এটিও মীযানের সামগ্রিক অর্থ বহন করে না। কারণ এটি পূর্বের অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করে। وَاَنۡزَلۡنَا مَعَهُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡمِیۡزَانَ আমরা তাদের কাছে কিতাব ও মীযান নাজিল করেছি।  لِیَقُوۡمَ النَّاسُ بِالۡقِسۡطِ -যাতে মানুষ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। এখানে قسط মানে ন্যায়বিচার। জুলুম অপসারণ করে ন্যায়বিচার—আদালত নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>ইমাম মাতুরিদীসহ অনেক আলেম মীযানের এর অর্থ করেছেন আকল। এ অর্থটিও মীযান পরিভাষাকে পরিপূর্ণরূপে ধারণ করে না। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন যখন মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তখন তাকে আকলসমেত-ই সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আকল একটি বিদ্যমান বিষয়। সৃষ্টিগতভাবেই মানুষ এর অধিকারী হয়ে থাকে—নাজিল করার প্রয়োজন পড়ে না।</p>
<p>এই পৃথিবীর সবকিছুরই নিজস্ব মীযান রয়েছে। বিদ্যুত পরিমাপের যেমন মীযান বা পরিমাপক রয়েছে, তেমনি পানিরও মীযান বা পরিমাপক রয়েছে। আমি বা আপনি বিদ্যুৎ পরিমাপক অ্যামিটার দিয়ে পানি মাপতে পারবো না, আবার পানি মাপার পরিমাপক—হাইড্রোমিটার দিয়ে বিদ্যুৎ পরিমাপ করতে পারবো না। লোহা পরিমাপ করার যেমন স্কেল রয়েছে, তেমনি স্বর্ণ পরিমাপেরও নিক্তি রয়েছে। লোহা পরিমাপ করার স্কেল অথবা শস্য পরিমাপ করার মিটার দিয়ে কখনোই স্বর্ণ পরিমাপ করা সম্ভব নয়। এই মহাবিশ্বের সবকিছুরই যেমন ওজন রয়েছে, তেমনি তা পরিমাপেরও ভিন্ন ভিন্ন পরিমাপক রয়েছে। যার ওজন রয়েছে, অবশ্যই তার পরিমাপের যন্ত্রও রয়েছে। সূরা রহমানে একথাটিই বলা হয়েছে—</p>
<blockquote><p>اَلرَّحۡمٰنُ. عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ. خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ. عَلَّمَه الۡبَیَانَ. اَلشَّمۡسُ وَالۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٍ. وَّالنَّجۡمُ وَالشَّجَرُ یَسۡجُدٰنِ. وَالسَّمَآءَ رَفَعَها وَوَضَعَ الۡمِیۡزَانَ. اَلَّا تَطۡغَوۡا فِی الۡمِیۡزَانِ. وَاَقِیۡمُوا الۡوَزۡنَ بِالۡقِسۡطِ وَلَا تُخۡسِرُوا الۡمِیۡزَانَ</p>
<p>অর্থ : “পরম দয়ালু আল্লাহ এ কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কথা শিখিয়েছেন। সূর্য এবং চন্দ্র একটি হিসাবের অনুসরণ করছে। এবং তারকারাজি ও গাছপালা সব সিজদাবনত। আসমানকে তিনিই সুউচ্চ করেছেন এবং মীযান কায়েম করেছেন। এর দাবি হলো তোমরা মীযানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। ইনসাফের সাথে সঠিকভাবে ওজন করো এবং ওজনে কম দিও না।” <span style="font-size: 16px;">(সূরা রহমান : ১-৯)</span></p></blockquote>
<p>ইসলামী শরীয়ত মীযানের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মীযান শব্দটি ইসমে জিনস। الميزان এর ال টি কেউ বলেছেন জিনসী, কেউ বলেছেন ইসতিগরাকী। কোরআনে নয় বার মীযান শব্দটি এসেছে।</p>
<p><strong>এ মহাবিশ্বে যা কিছু রয়েছে, তার প্রত্যেকের মীযান রয়েছে। ইসলামী শরীয়তেরও মীযান রয়েছে। যখন পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে, তখন নির্দিষ্ট মীযান দিয়েই করা হয়েছে। দুনিয়া সম্পর্কিত আয়াতের যেমন মীযান রয়েছে, তেমনি আখেরাত সংক্রান্ত আয়াতেরও মীযান রয়েছে। তবে দুনিয়া এবং আখেরাতের মীযানে বেশকম আছে।</strong></p>
<p>দুনিয়ার প্রজ্জ্বলিত আগুনে কোনো ব্যক্তিকে ফেলে দিলে পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যেই সে জ্বলে-পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। কিন্তু আখেরাতের চিরস্থায়ী আগুন এই নিয়মের ব্যতিক্রম। পরকালে যে মানুষগুলো চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে—</p>
<p>“যখনই তাদের চামড়া পুড়ে পাকা দগ্ধ হবে তৎক্ষণাৎ তার স্থলে নতুন চামড়া বদলে দেওয়া হবে, যাতে তারা শাস্তি উপভোগ করতে পারে।” (সূরা নিসা : ৫৬)</p>
<p>দুনিয়াতে খাওয়া-দাওয়ার পরে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের দরকার হয়। কিন্তু আখেরাতে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের ঝামেলা থাকবে না। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মীযানের ধরনেও আল্লাহ সুনিপুণ একটা পার্থক্য তৈরি করে রেখেছেন।</p>
<p>একটি বিষয় বলে রাখা ভালো। মুতাযিলারা মীযানুশ শাহেদ  এবং মীযানুল গায়েব  এর মধ্যেকার পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। মৃত্যু পরবর্তী জীবনে আমরা আমাদের রব আল্লাহ রব্বুল আলামীনকে দেখতে পাবো। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত এই বিশ্বাস রাখে, হাদীসেও এমনটা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু মু’তাজিলাদের মতে, আমরা দেখতে পাবো না। কারণ হিসেবে তারা বলে, কোনো কিছু দেখতে চাইলে তাতে আলোর প্রতিবিম্ব পড়তে হবে। আর আলোর প্রতিবিম্ব সেটাতেই পড়ে, যেটা জিসম বা জাওহার।</p>
<p>মুতাযিলারাদের এই যুক্তির জবাবে আমরা বলি, দুনিয়ার চোখ আর পরকালের চোখের বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা রয়েছে। এই পৃথিবীর চোখের নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ থাকে। হতে পারে সেটা পঞ্চাশ বা শত বছর। কিন্তু পরকালীন চোখের নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নেই। কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই সে চোখ অমর।</p>
<p>তাহলে দেখা যাচ্ছে অবস্থার পরিবর্তনে মীযানেরও পরিবর্তন হয়। সুতরাং মীযানের সঠিক প্রয়োগ না হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। উদাহরণ হিসাবে আমরা বলতে পারি, কোনো ব্যক্তি লোহা পরিমাপ করার যন্ত্র দিয়ে সোনা পরিমাপ করার চেষ্টা করলে সঠিক পরিমাপ করতে তিনি ব্যর্থ হবেন। কারণ, ঐ যন্ত্র দিয়ে লোহা বিশ/পঞ্চাশ গ্রাম ওজন করা গেলেও এক গ্রামের কম ওজন করা যাবে না। কিন্তু সোনা এক গ্রামের চেয়েও কম পরিমাপ করার প্রয়োজন পড়ে। বিদ্যুৎ, পানি, রাসায়নিক পদার্থ প্রভৃতির বেলায়ও একথা প্রযোজ্য।</p>
<p>আইএস, আল-কায়েদা বা এদের মতো নামসর্বস্ব কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো কিতালের আয়াতগুলোকে মীযানের আলোকে না বুঝার ফলে সারা পৃথিবীব্যাপী বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করছে। ইসলামের তারা ভিন্ন মতাদর্শের উপর কঠোরতা, একগুঁয়েমি এবং শরীয়ত অসমর্থিত জিহাদী কর্মক্রম চালাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি বড় এক ট্র্যাজেডি।</p>
<p>কালামে হাকীমে আমরা দশেরও অধিক আয়াত পাই, যেখানে অনমনীয়তা (غِلْظَة), শক্তি [(شِدَّةٌ) (তোমরা কাফেরদের উপর শক্তি প্রদর্শন করবে-اَشِدَّآءُ عَلَی الۡکُفَّارِ)]  সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। কিতাল সম্পর্কেও অনেক আয়াত রয়েছে। বিশেষত সূরা তওবা এবং সূরা আনফালে।</p>
<p>আমরা লক্ষ্য করলে দেখবো, এই সব আয়াত শত্রুদের সাথে যুদ্ধের মীযান বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। যুদ্ধে শত্রুপক্ষের লক্ষ্য থাকে ভূমি দখল করা। এ লক্ষ্যে সে আপনাকে আক্রমণ করবে। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই অনমনীয় এবং শক্তিশালী হতে হবে। প্রয়োজনে কৌশলগত অবস্থানও নিতে হবে। তবে কৌশলের ছলে কখনোই প্রতারণা বা বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। কারণ, প্রতারণা সর্বদাই নিষিদ্ধ।</p>
<p><strong>কোরআনের আয়াতগুলো কেবল একটি মীযানের উপর ভিত্তি করে নয়, বরং একাধিক মীযানের উপর ভিত্তি করে বুঝতে হবে।</strong></p>
<p>যুদ্ধ-জিহাদ-কঠোরতা সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলো সমরনীতি সংক্রান্ত মীযানের আলোকে বুঝতে হবে। নম্রতা-শিথিলতা, অধিকার, ইহসান, এবং অমুসলিমদের সাথে আদালত প্রভৃতি আয়াতগুলো তৎসংশ্লিষ্ট মীযানের আলোকে বুঝতে হবে। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে এ সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে। যেমন—</p>
<p>فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا</p>
<p>“আপনারা তার সাথে কোমল স্বরে কথা বলবেন।”(সূরা ত্বহা &#8211; ৪৪)</p>
<blockquote><p> لَا یَنۡهىکُمُ اللّٰه عَنِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُقَاتِلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَلَمۡ یُخۡرِجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ اَنۡ تَبَرُّوۡهمۡ وَتُقۡسِطُوۡۤا اِلَیۡهمۡ اِنَّ اللّٰه یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ. اِنَّمَا یَنۡهىکُمُ اللّٰه عَنِ الَّذِیۡنَ قٰتَلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَاَخۡرَجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ وَظٰهرُوۡا عَلٰۤی اِخۡرَاجِکُمۡ اَنۡ تَوَلَّوۡهمۡ</p>
<p>অর্থ : “দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় ব্যবহার করতে এবং তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করছেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সহায়তা করেছে। আর যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই তো জালেম।” (সূরা মুমতাহিনাহ : ৮-৯)</p></blockquote>
<p>উপরের আয়াত এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আয়াতে শান্তি ও সহাবস্থান এবং ইসলামী ভূখণ্ডে বসবাসকারী সকলের অধিকারের মাপকাঠি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয় দুই দিক থেকে। একদল কঠোরতা সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর উপর ভিত্তি করে ইসলামকে চরমপন্থী একটি দ্বীন হিসেবে উপস্থাপন করে। আরেক দল কল্যাণ, দয়া এবং ইহসান সংশ্লিষ্ট আয়াতের উপর ভিত্তি করে ইসলামকে শক্তিহীন একটি দ্বীনে পরিণত করে। রহমত এবং শক্তি প্রদর্শন, কঠোরতা এবং শিথিলতার মধ্যে ইসলাম সামঞ্জস্য বিধান করে। যেখানে কঠোরতা প্রয়োজন সেখানে কঠোরতা, যেখানে দয়া ও রহমত প্রয়োজন সেখানে দয়া ও রহমত প্রদর্শন করা। যে যতটুকুর হকদার তাকে ততটুকু প্রদান করাই মীযানের দাবি। অন্যান্য দ্বীনের সাথে ইসলামের পার্থক্যটা এখানেই।</p>
<p>মীযানে তখনই ক্রটি দেখা দেয়, যখন একটি আয়াতকে তৎসংশ্লিষ্ট মীযানে ব্যাখ্যা না করে গড়ে সবগুলো আয়াত একটি মীযানে ব্যাখ্যা করা হয়। বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার শুরুটা এখান থেকেই হয়। এবং এখান থেকেই অতিমাত্রায় সহিংস ও চরমপন্থী গোষ্ঠী বা দলের উদ্ভব হয়; যারা ইসলামের সমস্ত গৌরব এবং শক্তিকে ম্লান করে দেয়।</p>
<p>ফিকহুল মীযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনের আলোকে শরীয়তের কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি আলেম ও শাসকদের অনুধাবন করানো এবং জনগণকে সে আলোকে পরিচালনা করা। এই সূত্র ধরেই আমরা ফিকহুল মীযান নিয়ে আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p><strong>কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, পূর্বে কেন ফিকহুল মীযান নিয়ে আলোচনা ছিলো না। আসলে রাসূল (স.)-এর যুগ থেকেই দৃশ্যত এর প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন ছিলো। রাসূল (স.) যথাযথ এবং ন্যায়সঙ্গত মীযানের আলোকেই সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি তার সুবাসিত জীবনের স্বাভাবিক কিংবা যুদ্ধাবস্থায়, মুসলিম কিংবা অমুসলিমদের সাথে পারস্পরিক আচার-আচরণে যে মীযান প্রয়োগ করেছেন, তা আমরা সামনে আলোচনা করবো।</strong></p>
<p>ফিকহুল মীযান উসূলের একটি ক্ষেত্র তথা শাখা। আমাদের কাছে থাকা উসূলে ফিকহের পরিপূরক হলো ফিকহুল মীযান। উসূলে ফিকহ শরীয়তের হুকুম-আহকামকে ব্যাখ্যা করে। আর ফিকহুল মীযান সাধারণভাবে কোরআন—বিশেষত সুন্নাহ নিয়ে আলোচনা করে। ফিকহুল মীযান দলীলের উপর নির্ভর করে না, বরং মীযান বা মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে। দলীল এবং মীযানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দলীল বলতে আমরা বুঝি— কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস, ইসতিহসান , মাসালিহুল মুরসালা  ইত্যাদি।</p>
<p>অপরদিকে মীযান হলো কীভাবে কোরআন থেকে ইজতিহাদ করবো—কোরআনকে কীভাবে বুঝবো? সুন্নত এবং কিয়াসকে কীভাবে বুঝবো? ইজমা কখন হবে? বিভিন্ন প্রকার দলীলের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে—যা নিয়ে মুসলিম উম্মাহ মতানৈক্যে লিপ্ত হয়। ইত্যাকার বিষয়গুলো ফিকহুল মীযানের ভিত্তি এবং উদ্দেশ্য।</p>
<p>ফিকহুল মীযান এমন একটি বাস্তব জ্ঞান, যার মাধ্যমে উসূলে বৈপরীত্য থাকলে তা আমরা দূর করতে পারি। ফুরু&#8217;য়ী বা শাখাগত বিষয়ে মতভেদ থাকবে, এটা স্বাভাবিক। স্থান-কাল-পাত্রভেদে ফুরু’য়ী বিষয়ে পরিবর্তন-পরিবর্ধন হতে পারে। তবে উসূল তথা মূলনীতিতে মতপার্থক্যের কোনো সুযোগ নেই।</p>
<p>ফিকহুল মীযান হলো শরীয়তের মানদণ্ড, শরীয়তের স্থিতিস্থাপক। ফকীহ, গবেষক কিংবা মুজতাহিদ ফিকহুল মীযানের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন যে, কৃত ইজতিহাদটি সঠিক অথবা ভুল।</p>
<p>ধরুন একজন বলল, এখানে দশ কেজি শস্যদানা আছে। অন্যজন বলল, না, এখানে পাঁচ কেজি আছে। এই মতানৈক্যে সমাধান দিবে মীযান। ওজন করার পর দশ/পাঁচ যাই পাওয়া যাবে, তাতে উভয় পক্ষের দ্বিমত নিরসন হয়ে এক মতে আসবে। পার্থিব বিষয়ে মীযান এতো গুরুত্বপূর্ণ হলে ঈমান, হেদায়াত, খেলাফত প্রভৃতি বিষয়গুলোতে এর গুরুত্ব কেমন হবে?</p>
<p>আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে কিতাবের সাথে মীযান নাজিল করার বুনিয়াদটা এখানেই। আমাদের বুঝার মানদণ্ড—মীযান। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আমরা নসের (Text) সঠিক মর্মার্থে পৌঁছাতে পারি। মুসলিম উম্মাহ আকীদার প্রশ্নে যেখানে মতবিরোধ করছে—ক্ষেত্রবিশেষ একজন আরেকজনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদের করণীয় কী? করণীয় সম্পর্কে কোরআন বলছে—</p>
<blockquote><p>وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ ۖ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَىٰ أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنبِطُونَهُ مِنْهُمْ</p>
<p>অর্থ : “এদের কাছে যখনই কোনো সন্তোষজনক বা ভয়ের খবর পৌঁছে, তখনই তারা তা প্রচার করে বেড়ায়। যদি তারা তা রাসূল এবং তাদের দায়িত্বশীল লোকের নিকট পৌঁছাতো তাহলে তা এমন লোকেরা জানতে পারতো, যারা (এ জাতীয় খবর থেকে) সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।“ (সূরা নিসা: ৮৩)</p></blockquote>
<p>এই দুই অবস্থা (খবরে আমান, খবরে খওফ) বিশ্লেষণ করে আলেমগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোনো জাতিই এই দুই অবস্থার কোনো একটি থেকে মুক্ত নয়। খবরে আমান  হোক অথবা খবরে খওফ —উভয় অবস্থার জন্যই মারযা (সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবে এমন ব্যক্তি) প্রয়োজন।</p>
<p>মারযা ব্যতীত আল্লাহ আমাদেরকে কীভাবে রাখতে পারেন? যারা ইসতিনবাত  করতে সক্ষম তারাই হচ্ছেন মারযা। কৃত ইসতিনবাতটি যে সঠিক, মীযান ছাড়া এটি কীভাবে প্রমাণিত হবে?</p>
<p>قَٰتِلُوهُمْ—তাদেরকে হত্যা করো—কোরআনের এই আয়াতটি হত্যার মতো কঠিন একটি বিষয়কে নির্দেশ করে। এই নির্দেশটি সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে—এটা মীযানের দাবি হতে পারে না। আমরা এখন যুদ্ধের ময়দানে নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় একই দেশে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টান—অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণ একত্রে বসবাস করছি। সুতরাং আয়াতটি মীযানের আলোকে বুঝতে হবে। অন্যথায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।</p>
<p>ফিকহুল মীযানের বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে আরেকটি বিষয়ের দিকে আপনাদের নজর আকর্ষণ করতে চাই। আলোচনার শুরুটা করেছিলাম সূরা হাদীদের ২৫ নং আয়াত দিয়ে। কোরআনের ১১৪ টি সূরার মধ্যে সূরা হাদীদের অবস্থান ৫৭ তম। অর্থাৎ সূরা হাদীদ কোরআনের একেবারে মধ্যবর্তী একটি সূরা। মধ্যবর্তী এই সূরার ২৫ নং আয়াতটি লোহা সম্পর্কে। এ নিয়ে বিজ্ঞানীগণ বিস্তারিত গবেষণা করেছেন।</p>
<p>সূরা হাদীদের ২৫ নং আয়াত থেকে ছয়টি মূলনীতি পাওয়া যায়। সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে চায় এমন প্রত্যেক জাতির জন্য মূলনীতিগুলো অপরিহার্য। হোক তারা মুসলিম কিংবা অমুসলিম।</p>
<p><strong>প্রথম মূলনীতি:</strong> মুতাকায়েদ (Convince) করানোর ক্ষমতা। মুতাকায়েদ করতে হলে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি হতে হবে। শতধা বিভক্ত কিংবা নানাভাবে বিচ্ছিন্ন জাতি কখনোই মুতাকায়েদ (Convince) করতে পারে না। আর মুতাকায়েদ ছাড়া সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।</p>
<p>একটি জাতির পুনর্জাগরণের শুরুটা হবে তার জনগণকে নিজস্ব চিন্তার আলোকে মুতাকায়েদ করা। হোক সেটা ইসলাম, পুঁজিবাদ কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ানে। এটা সর্বজনীন নিয়ম।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় মূলনীতি:</strong> সংবিধান। জাতির অধিকার সংরক্ষণ করবে এমন একটি সংবিধান থাকতে হবে। অধিকার সংরক্ষণকারী এ সংবিধান না থাকলে জনজীবনে ন্যায় এবং আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে না। কালামে হাকীমের ঘোষণা—</p>
<p>لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ</p>
<p>অর্থ : “আমি আমার রাসূলদের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়ে পাঠিয়েছি এবং তার সাথে দিয়েছি কিতাব।” কিতাব বা কোরআনের সাথে সুন্নতও রয়েছে। কোরআন এবং সুন্নত জাতির সংবিধানের প্রতিনিধিত্ব করে।</p>
<p>সংবিধান রচনা করতে হবে এমনভাবে যেন ভিন্নমতাবলম্বীদের অধিকারও সমভাবে নিশ্চিত হয়। যেমনটা নবী (স.) মদীনা সনদে নিশ্চিত করেছেন। মুসলিম, ইহুদি এবং পৌত্তলিক—সকলের অধিকার এ সংবিধান নিশ্চিত করে। পাশ্চাত্যের অনেক চিন্তাবিদ এমনকি জঁ-জ্যাঁক রুশোও মদীনার সনদ বা সংবিধানকে তৎকালীন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান বলে অবহিত করেছেন।</p>
<p><strong>তৃতীয় মূলনীতি:</strong> আদালতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। রাষ্ট্রে প্রকৃত অর্থেই আদালত কায়েম থাকতে হবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়াসহ বিজ্ঞ ইমামগণের বক্তব্য হচ্ছে অমুসলিম রাষ্ট্রেও যদি আদালত প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে সে রাষ্ট্র স্থায়ী হবে। অন্যদিকে মুসলিম রাষ্ট্রে যদি জুলুম বহাল থাকলে তার পতন অনিবার্য। পাক কালামের এই আয়াতটি সে কথাই বলছে—</p>
<p>فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ</p>
<p>অর্থ : “ফলে জালিম সম্প্রদায়কে সমূলে উৎখাত করা হলো। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জাহানের রব আল্লাহ রব্বুল আলামীনের জন্য।” (সূরা আনআম : ৪৫)</p>
<p>অন্য একটি আয়াত আরেকটু জোরের সাথে বলছে—</p>
<p>هَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ</p>
<p>অর্থ : “জালেম সম্প্রদায় ছাড়া আর কাউকে ধ্বংস করা হবে কি?” (সূরা আনআম : ৪৭)</p>
<p><strong>চতুর্থ মূলনীতি:</strong> সামরিক এবং শিল্পায়নে শক্তিশালী হওয়া।</p>
<p>وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ</p>
<p>আয়াতে <strong>بَأْسٌ شَدِيدٌ দ্বারা সামরিক এবং শিল্পায়ন শক্তি</strong>কে বুঝানো হচ্ছে।</p>
<p><strong>পঞ্চম মূলনীতি :</strong> সফট পাওয়ার, বৈজ্ঞানিক শক্তি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন। এই শক্তিগুলো আসে লৌহদ্রব্য থেকে। কম্পিউটার থেকে শুরু করে মানুষের উপকারী (مَنَافِعُ لِلنَّاسِ) সবকিছু আসে লৌহ থেকে। সামরিক শক্তি, বৈজ্ঞানিক শক্তি বা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা—উৎসগত দিক থেকে এগুলো এক।</p>
<p><strong>ষষ্ঠ মূলনীতি:</strong> রাষ্ট্রশক্তি। উপরের শক্তিগুলোর যথাযথ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রশক্তি।</p>
<p>মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কথা—</p>
<p>وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ</p>
<p>অর্থ : “আল্লাহ রব্বুল আলামীন দেখতে চান, কে গায়েবের প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ রব্বুল আলামীন শক্তিমান এবং পরাক্রমশালী।” (সূরা হাদীদ : ২৫)</p>
<p>আয়াতের এ অংশটি এও ইঙ্গিত করে যে, মুমিনগণ সামরিক শক্তি এবং নৈতিক শক্তির উপর নির্ভর করার পাশাপাশি, সর্বশক্তিমান আল্লাহ কতৃক প্রেরিত আসমানী সাহায্যের উপরও ভরসা রাখে।</p>
<p><strong>এই ছয়টি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে একটি জাতি গঠিত হয়, ক্ষমতার ভিত তৈরি হয়, সর্বোপরি সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়।</strong></p>
<p>আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই আয়াতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, এই আয়াতের মধ্যে মীযানের সূক্ষ্ম এবং বিস্তর বর্ণনা রয়েছে। আলেমগণ বিশেষ করে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী কিতাব, মীযান এবং হাদীদ (ধাতব পদার্থ)-কে একত্রে উল্লেখের কারণ হিসেবে উপরোক্ত বিষয়গুলোর দিকেই ইশারা করেছেন।</p>
<p>তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে রকমফের আছে। কতক আছেন যারা আল্লাহওয়ালা। তারা একমাত্র আল্লাহর মুখাপেক্ষী। তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর প্রয়োজন বোধ করেন না। তাদের নিকট আল্লাহ এবং তার রাসূলই শেষ কথা। বলা যায় তারা কিতাবের সাথে (কোরআন এবং সুন্নাহ) সম্পর্কযুক্ত।</p>
<p>কতক মানুষ আছেন, যারা ভালো এবং নিষ্ঠাবান মুসলিম। এতদসত্ত্বেও কখনো কখনো তাদেরকে ঝগড়া বিবাদের মুখোমুখি হতে হয় কিংবা পার্থিব জীবন যাত্রায় এমন বিষয়াবলির সম্মুখীন হতে হয় যার ফলে তাদেরকে মীযানের শরণাপন্ন হতে হয়। এ কারণেই কিতাব এবং মীযান একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>উপরের দুই অবস্থার বাইরে এমনও লোক আছে যারা কিতাব, মীযান অথবা আইন-আদালতের তোয়াক্কা করে না। ফলে তাদের উপর শক্তি প্রদর্শন করতে হয়। তাই হাদীদ—লোহার উল্লেখ।</p>
<p>এই আয়াতটিকে ক্ষমতা সংক্রান্ত আয়াতও বলা হয়। কেননা, ক্ষমতা সংক্রান্ত সকল উপদান এই আয়াতে বিদ্যমান। আলোচ্য ছয়টি মূলনীতি বাদ দিয়ে এই আয়াত নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা-পর্যালোচনা করলেও এর সঠিক মর্মার্থে আমরা পৌঁছাতে পারবো না।</p>
<p>দোজাহানের বাদশা নবী (স.) পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার কথা আমাদেরকে জানিয়েছেন। নাজিলকৃত কিতাব বুঝার ক্ষেত্রে মীযানের অভাবে তারাও ভারসাম্যহীন অবস্থার মুখোমুখি হয়েছে।</p>
<p>ইমাম আহমদ (র.) একটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, <strong>একদিন নবী (স.) দেখলেন সাহাবায়ে কেরামের একদল বলছে, আল্লাহ কি এমনটা বলেননি? অন্য দল বলছে, আল্লাহ কি এমনটা বলেননি? নবী (স.) দেখলেন তারা কদর বা ভাগ্য সম্পর্কে বাদানুবাদ করছে।</strong></p>
<p><strong>একপক্ষ কতগুলো আয়াত দিয়ে স্বপক্ষে যুক্তি দিচ্ছে, অপর পক্ষ ভিন্ন আয়াত দিয়ে তা রদ করে পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে। এই অবস্থা দেখে নবী (স.) রাগ করলেন। তিনি তাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমনটা কখনো করতে বলেছি? এগুলো করে তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মত ধ্বংস হয়েছে।</strong></p>
<p>তোমাদের পূর্বে যেসব জাতি ছিলো, তাদের ধ্বংস হওয়ার কারণ হলো তারা মীযান প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এরপর তিনি আল্লাহ রব্বুল আলামীনের সুন্নত থেকে কিছু বুনিয়াদি নীতিমালা পেশ করলেন। একজন অপরজনকে সত্যায়ন করার জন্য মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাজিল করেছেন। অপরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য আল্লাহ কোরআন নাজিল করেননি। বর্তমানে আমরা যেমনটা দেখতে পাচ্ছি, আয়াত উদ্ধৃতির মাধ্যমে একপক্ষ অপর পক্ষকে বাতিল ঘোষণা করছে! এটা কখনোই কাম্য নয়।</p>
<p>এরপর তিনি বলেন, আমি যখন তোমাদেরকে কোনো বিষয়ে আদেশ করি, সেটা সাধ্যমতো করার পালন করার চেষ্টা করো। আর যখন কোনো বিষয় থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করি, সেটা থেকে বিরত থাকো। ভারসাম্যহীতার দৃষ্টান্ত পেশ করতে এই হাদীসটি খুবই যুক্তিযুক্ত।</p>
<p>এই হাদীসটির মাধ্যমে দুটি দলকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। একটি জাবরিয়া। অপরটি কাদরিয়া।</p>
<p>জাবরিয়াগণ বলেন, মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত। ভাগ্যে মানুষের কোনো হাত নেই। বাতাসের মাধ্যমে গাছের পাতা যেমন দোলে, তেমনি মানুষও আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী চলাফেরা করে। এখানে তার ইচ্ছার কোনো স্বাধীনতা নাই।</p>
<p>জাবরিয়াগণ আয়াতের জাহেরী অর্থের মাধ্যমে দলীল দেয়। তাদের দলীলগুলোর মধ্যে একটি হলো কোরআনের এই আয়াত—</p>
<p>وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ</p>
<p>অর্থ : “তোমরা ইচ্ছা করতে পার না, যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।” (সূরা তাকবীর : ২৯)</p>
<p>অন্য একটি আয়াত বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে—</p>
<p>وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَٰكِنَّ اللَّهَ رَمَىٰ</p>
<p>অর্থ : “আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি বরং আল্লাহ্ই নিক্ষেপ করেছিলেন।” (সূরা আনফাল : ১৭)</p>
<p>এসকল আয়াতের মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে এটা বুঝা যায় যে, সবকিছু আল্লাহর প্রত্যক্ষ ইশারাতেই হয়। এমনকি রাসূল নিজ হাতে যেটা নিক্ষেপ করেছেন, আল্লাহ বলেছেন, সেটাও তিনিই নিক্ষেপ করেছেন।</p>
<p>অন্যদিকে কাদরিয়াগণ বলেন, মানুষ তার কর্মে স্বাধীন—যেখানে আল্লাহর কোনো হাত নেই। প্রমাণস্বরূপ তারা কোরআনের এই আয়াত উপস্থাপন করে—যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক, যার ইচ্ছা সে কাফের হোক।  এগুলো তাদের কাজের পুরস্কার। এগুলো সেসব কাজের প্রতিফল—যা তারা করেছে।</p>
<p>এরকম আয়াতগুলো মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে। মানুষকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে, তোমরা আকল খাটাও, তোমরা চিন্তাভাবনা করো।</p>
<p>আলোচ্য হাদীসটিতে প্রথম পক্ষের বলা—আল্লাহ কি এমনটা বলেননি? এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বান্দা যা কিছু করে, আল্লাহর ইচ্ছাতেই করে। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া বান্দা কিছুই করতে পারে না। দ্বিতীয় পক্ষের বলা, আল্লাহ কি এমনটা বলেননি? এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানুষ তার কর্মে স্বাধীন। এখানে আল্লাহর ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন নাই। এই বিতর্কটি তৎকালীন গ্রিক দর্শনের জটিল এবং অস্পষ্ট একটি বিষয় ছিলো।</p>
<p><strong>মীযান আমাদেরকে এই সমস্যার সমাধান দেয়। মীযানের দৃষ্টিকোণ থেকে উভয় মতই ভ্রান্ত। উভয় দলই মীযানে ভারসাম্য আনতে পারেনি। মীযানের দৃষ্টিকোণ থেকে জাবরিয়াগণ তাদের মতের পক্ষে যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছে, সেগুলো আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আকীদা সংক্রান্ত আয়াত। ঈমান এবং আকীদার মীযান হলো এই আয়াতগুলো</strong>। আল্লাহ রব্বুল আলামীন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং পরাক্রমশালী। কোনো বিষয়ে তিনি অক্ষম নন। তিনি সকল বিষয়ে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। এ বিষয়ে আমরা সন্দেহাতীতভাবে বিশ্বাস রাখি। আল্লাহ যদি অক্ষম হন, তাহলে তিনি রব হতে পারেন না। এটাই আমাদের বিশ্বাস। এবং এই বিশ্বাসগত অবস্থানের কারণেই আমরা মুমিন।</p>
<p>কিছু আয়াত আছে যেগুলো আল্লাহ স্বয়ং তার নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সুন্নাতুল্লাহর আলোকে কিছু বিষয় নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছেন। রব্বুল আলামীন মানুষকে তার কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করবেন। এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে এমন কিছুর জন্য জবাবদিহি করবেন যা করতে ব্যক্তি বাধ্য হয়!</p>
<p>পৃথিবীতে যা কিছু আছে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তারা আল্লাহর আনুগত্য করে। আল্লাহ তাদের উপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন, এর বাইরে তারা কিছু করতে পারে না। তবে মানুষ এর ব্যতিক্রম; তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেওয়া আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। এটা সুন্নাতুল্লাহ। এটা আমাদের আকীদা।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় পক্ষের বলা, যার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক, যার ইচ্ছা সে কুফরি করুক—এটা ইচ্ছার স্বাধীনতা। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদেরকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।</strong></p>
<p>আমি কাউকে বল প্রয়োগে হত্যা করতে চাইলেও আল্লাহ তা চান না। এবং এধরণের হত্যাকে তিনি নিষিদ্ধ করছেন। এখন কেউ যদি বল প্রয়োগে কাউকে হত্যা করতে চায়, আল্লাহ তাতে বাধা দিবেন না। এখান থেকেই আসে দায়িত্বের মীযান, সুন্নাতুল্লাহর মীযান, কর্মের মীযান।</p>
<p>এখানে খিয়ার বা ইচ্ছার স্বাধীনতা প্রয়োজন। ফিকহের একটি মৌলিক নীতিমালা হলো, অক্ষমের উপর শরীয়তের বিধান প্রয়োগ হবে না। আল্লাহ বলেন—</p>
<blockquote><p>لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا</p>
<p>অর্থ : “আল্লাহ কারও উপর সাধ্যাতীত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।” (সূরা বাকারা : ২৮৬)</p></blockquote>
<p>আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে ফরজকৃত বিধান বান্দার জন্য পালন করা সহজ।</p>
<p>মীযানে ভারসাম্যহীনতার কথা হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে—</p>
<p>আবূ দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সাথে ছিলাম। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, তারপর বললেন, এক সময় মানুষের কাছ থেকে ইলম ছিনিয়ে নেয়া হবে, এমনকি এ সম্পর্কে তাদের কোনো সামর্থ্যই থাকবে না। যিয়াদ ইবনে লাবীদ আল-আনসারী (রা.) নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের নিকট হতে কীভাবে ইলম ছিনিয়ে নেয়া হবে, আমরা কোরআন তিলাওয়াত করি? আল্লাহর কসম! অবশ্যই আমরা তা তিলাওয়াত করবো এবং আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও তা শিখাবো।</p>
<p>নবীজী বললেন, হে যিয়াদ! তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক। আমি তো তোমাকে মদীনার অন্যতম জ্ঞানী ব্যক্তি বলেই গণ্য করতাম! এই তো ইয়াহুদী-নাসারাদের নিকট তাওরাত ও ইনজীল রয়েছে, তা তাদের কী কাজে লেগেছে? (তিরমীজি : ২৬৫৩)</p>
<p>এটি আমাদেরকে নির্দেশ করে, আমরা যদি মীযানকে গ্রহণ না করি, তাহলে কোরআন আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা সত্ত্বেও তা আমাদের কোনো কাজে আসবে না। কিতাবের সাথে মীযান যুক্ত না হলে, মীযানের প্রয়োগ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ এই কিতাব আমাদের কোনো কল্যাণে আসবে না। উল্টো আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করবে।</p>
<p>কোরআন আমাদেরকে বলে, হে ঈমানদারগণ! তোমরা ঈমান আনো। ঈমানদারদের ঈমান আনতে বলার অর্থ হচ্ছে, তোমরা তোমাদের ঈমানকে মজবুত কর, সক্রিয় কর। জজবা সম্পন্ন ঈমানের অধিকারী হও। ঈমানকে তাকত সম্পন্ন কর। অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসকে বাহ্যিকভাবে প্রতিফলিত কর। নীতিনৈতিকতা এবং পারস্পরিক লেনদেন, ওঠা-বসায় ঈমানের প্রতিফলন ঘাটাও।</p>
<p>মীযানের গুরুত্ব বুঝার জন্য উপরের হাদীসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাদীসটি সহীহ। এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। উল্লিখিত হাদীস এবং আলোচ্য আয়াত “এবং তাদের সাথে দিয়েছি কিতাব এবং মীযান”—মীযানের গুরুত্ব তুলে ধরে।</p>
<p>“জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হবে” নবী (স.) এর এই কথা তখনই ফলবে, যখন দেখা যাবে জ্ঞান তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে—কল্যাণের বাহক হওয়ার পরিবর্তে অকল্যাণের বাহন হচ্ছে।</p>
<p>ইমাম গাযযালীর মতে, আল্লাহর ভয়, শরীয়তের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং প্রবৃত্তির কামনা বাসনা থেকে দূরে থাকার মধ্যেই ইলমের মূল কথা নিহিত।</p>
<p>প্রবৃত্তির কামনা বাসনার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেটের দায় এবং যৌন চাহিদার জন্য হয়ে থাকে। ক্ষমতার দাপট, প্রাধান্য বিস্তার, কর্তৃত্ব খাটানো ইত্যাদিও প্রবৃত্তির তাড়নায় হয়ে থাকে। প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখানে ব্যর্থ হলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হতে হয়।</p>
<p>উল্লিখিত হাদীসসহ অন্যান্য হাদীসে কোরআনের শিক্ষার দিকে ফিরে আসার জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদেরকে কোরআন সম্পর্কে অবশ্যই উন্মুক্ত হৃদয়ের অধিকারী হতে হবে।</p>
<p>“তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহ তালাবদ্ধ?”  কোরআন বারবার তাদাব্বুর এবং তাফাক্কুরের কথা বলছে। আজ আমরা উম্মতে মোহাম্মদী এই নাজেহাল অবস্থায় কেন বাধ্য হয়ে বসবাস করছি? কারণ আমরা কোরআনের শিক্ষা থেকে অনেক অনেক দূরে অবস্থান করছি।</p>
<p>এই কোরআন কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি এবং শক্তির একমাত্র মাধ্যম। আমাদের সম্মান, মর্যাদা, গৌরব ইত্যাদির বাহক এই কোরআন। আমাদের সভ্যতা ও   সংস্কৃতির একমাত্র সোপানও এই কোরআন। কোরআনের প্রথম আয়াত ইকরা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাঝে মধ্যে দেখা যায়, আমাদের ভাই-বোনেরা সহীহ-শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারে না। আর যারা পারে, তারাও অনেকটা বাধ্য হয়ে তেলাওয়াত করে। দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে করে, ইবাদতের উদ্দেশ্যে না।</p>
<p>অতএব, আমাদেরকে সত্যিকার অর্থে এই কোরানের কাছে মীযান-সহ প্রত্যাবর্তন করতে হবে। যাতে এই কোরআন ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের তাওরাত এবং ইঞ্জিলের মতো না হয়ে যায়।  দুর্ভাগ্যবশত তারা তাদের কিতাব থেকে উপকৃত হতে পারেনি।</p>
<p>সর্বশক্তিমান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের অশেষ রহমত ও মেহেরবানিতে এই জাতি পূর্ববর্তী জাতির মতো লীন হয়ে যাবে না। এই জাতি অমর হবে, ইনশাআল্লাহ। তারা সংখ্যার বিচারে নয়, বরং যোগ্যতা, আখলাক এবং তাজদীদের মাধ্যমে অমর হবে।</p>
<p>আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এই জাতি তার ক্ষমতা, সততা এবং নতুনত্ব নিয়ে পুনর্জাগরিত হোক। এই জাতি তাদের অন্তর্ভুক্ত হোক, যারা কোরআনুল কারীমের মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়েছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/fiqhul-mizan-part-1/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16144</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম রশিদ রিদার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের মাকাসিদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-maqasid-of-the-quran-in-the-view-of-imam-rashid-rida/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-maqasid-of-the-quran-in-the-view-of-imam-rashid-rida/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 15 Mar 2025 14:30:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15619</guid>

					<description><![CDATA[প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম রশিদ রিদার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহঃ ১। কোরআনের সবচেয়ে বড় মাকসাদ হল, দ্বীনী ক্ষেত্রে ইসলাহ (সংশোধন)। আর এই বিষয়টি তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে করে থাকে। ক) আল্লাহর প্রতি ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে। খ) আখিরাতে পুনরুত্থান ও সেখানের শাস্তি ও পুরস্কারের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম রশিদ রিদার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহঃ</p>
<p>১। কোরআনের সবচেয়ে বড় মাকসাদ হল, দ্বীনী ক্ষেত্রে ইসলাহ (সংশোধন)। আর এই বিষয়টি তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে করে থাকে।</p>
<p>ক) আল্লাহর প্রতি ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে।</p>
<p>খ) আখিরাতে পুনরুত্থান ও সেখানের শাস্তি ও পুরস্কারের চিন্তাকে জাগ্রত করার দৃষ্টিকোণ থেকে।</p>
<p>গ) আমলে সালেহর দৃষ্টিকোণ থেকে।<br />
অর্থাৎ প্রথম মাকসাদ হল দ্বীনের বিষয়ে আমাদের মনে সঠিক একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রোথিত করে দেওয়া।</p>
<p>২। নবুয়তের বিষয়কে তুলে ধরার পাশাপাশি নবীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করে দেওয়া। কেননা এই বিষয়টি ওহীর জ্ঞান ব্যতীত মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়।</p>
<p>৩। দ্বীন ইসলাম যে ফিতরাত, আকল, চিন্তা, জ্ঞান, হিকমত, দলীল, প্রমাণ, বিবেক ও স্বাধীনতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি দ্বীন এই বিষয়টিকে আমাদের সামনে তুলে ধরা।</p>
<p>৪। সামাজিক ও রাজনৈতিক সংশোধন আর এই বিষয়টি আটটি বিষয়ের মধ্যকার ঐক্যের উপর নির্ভর করে থাকে।<br />
সেগুলো হল; উম্মতের মধ্যকার ঐক্য, মানুষের মধ্যকার ঐক্য, দ্বীনের মধ্যকার ঐক্য, আদালতের ভিত্তিতে শরয়ী ঐক্য, ইবাদতের ক্ষেত্রে একতা এবং রুহানী ভ্রাতৃত্ব, খেলাফত বা ইসলামী ঐক্য, আইন ও বিচারের ঐক্য এবং ভাষার ঐক্য।</p>
<p>৫। ইসলামের বৈশিষ্ট্যকে ব্যক্তিগত ইবাদতসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা।</p>
<p>৬। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবশালী করে তোলা।</p>
<p>৭। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সংস্কার।</p>
<p>৮। যুদ্ধনীতির ক্ষেত্রে সংস্কার। যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে উৎখাত করে যুদ্ধকে শুধুমাত্র মানবতার কল্যাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা।</p>
<p>৯। ধর্মীয়, মানবিক ও সভ্যতাগত অধিকারসহ নারীদেরকে তাঁদের সকল প্রাপ্য অধিকার দেওয়া।</p>
<p>১০। দাস প্রথার সমূলে মূলোৎপাটন করা।</p>
<p>(উৎসঃ শায়খুল মাকাসিদ প্রফেসর ডঃ আহমাদ আর-রাইসুনী রচিত মাকাসিদুল মাকাসিদ নামক গ্রন্থ থেকে অনূদিত)</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-maqasid-of-the-quran-in-the-view-of-imam-rashid-rida/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15619</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আল্লামা তাহির বিন আশুর]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Jan 2024 09:47:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13196</guid>

					<description><![CDATA[মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনকে নাযিল করেছেন সমগ্র মানবতাকে সংশোধন করার জন্য। শুধু তাই নয় এই কোরআন এসেছে রহমতের জন্য এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যকে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভাষায়, আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনকে নাযিল করেছেন সমগ্র মানবতাকে সংশোধন করার জন্য। শুধু তাই নয় এই কোরআন এসেছে রহমতের জন্য এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যকে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য।</p>
<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভাষায়,<br />
আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। (নাহল-৮৯)</p>
<p><strong>কোরআনের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হল, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও বিশ্বজনীন অবস্থার সংশোধন।</strong></p>
<p>ব্যক্তিগত অবস্থার সংশোধন নফসের পরিশুদ্ধি এবং উত্তম আখলাকের মাধ্যমে সম্ভব। আর এর মূল হল, শক্তিশালী ভিত্তিসম্পন্ন আকাইদ। কেননা ই’তিকাদ বা আকাইদ হল, আখলাক ও চিন্তার উৎস। এর পর মানুষের অভ্যন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আর এটা করতে হবে নামাজের মত যাহিরি ইবাদত সমূহের মাধ্যমে এবং হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণাকে পরিত্যাগ করার মত বাতিনি আখলাকের মাধ্যমে।<a href=" https://rkmri.co/meyepM5TRSee/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 646px;" src=" https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/islam-o-sovvota-01-01.jpg" height="117" /></a>আর সামাজিক সংশোধন (সালাহ) শুরু হয় ব্যক্তির সংশোধনের মাধ্যমে। কেননা ব্যক্তির সমন্বয়েই সমাজ গড়ে উঠে থাকে। আর কোন কিছুর অংশের পরিশুদ্ধি ছাড়া সেটা পূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ হবে না। আর এটা তখন-ই সম্ভব যখন মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে এবং তাঁর নফসকে শাহওয়াত থেকে মুক্ত রাখা যাবে। আর এটা হল, ইলমূল মুয়ামালাত বা মুয়ামালাত সংক্রান্ত জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত।<br />
<strong>আর আমাদের দার্শনিক (হুকামাগণ) এটাকে সিয়াসাতুল মাদানী বলে অভিহিত করে থাকেন।</strong></p>
<p>উমরানী সালাহ বা বিশ্বজনীন সালাহ হল, এই দুইটির চেয়েও অনেক বেশী সামগ্রিক। আর এটা মুসলিম উম্মাহর নিজাম (ব্যবস্থাপনা) – কে রক্ষা করার মাধ্যমে সম্ভব। বিভিন্ন অঞ্চল ও সেই সকল অঞ্চলে গড়ে উঠা বিভিন্ন জামায়াত (দল ও প্রতিষ্ঠান) এর সাথে সম্পর্ককে মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দাঁড় করাতে হবে এবং তাঁদের মধ্যকার ঐক্যকে ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মাসলাহাত (স্বার্থ) এর দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে যখন ছোট মাসলাহাতের সাথে বড় মাসলাহাতের দ্বন্দ তৈরি হবে তখন বড় বা সামগ্রিক মাসলাহাতকে বেঁছে নিতে হবে। আর এই সকল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানকে ইলমূল উমরান ও ইলমূল ইজতিমা’ (সমাজের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান) বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।</p>
<p><strong>এই ভূমিকা প্রদানের পর আল্লামা তাহির বিন আশুর তাঁর ইসতিকরা (আরোহী) পন্থার মাধ্যমে কোরআনের ৮ টি মাকসাদের কথা উলেখ করেন (অনুবাদক),</strong></p>
<p>১। বিশুদ্ধ একটি ই’তিকাদ (আকাঈদ) এর শিক্ষা দেওয়া এবং সঠিক সামাজিক চুক্তিকে শিক্ষা দেওয়া।</p>
<p>২। তাহযিবুল আখলাক (উত্তম আখলাক)।</p>
<p>৩। শরিয়ত (আইন ও বিধান)। একই সাথে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিধানকে শিক্ষা দেওয়া।</p>
<p>৪। সিয়াসাতুল উম্মাহ (উম্মতের রাজনীতি)। আর এটা কোরআনে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল সমগ্র উম্মাতের সালাহ (সংশোধন) এবং এর নিজাম বা ব্যবস্থাপনা কে রক্ষা করা।</p>
<p>৫। উপমা নেওয়ার জন্য ও খারাপ বিষয় সমূহ থেকে বিরত রাখার জন্য পূর্বের জাতি সমূহের কাহিনী সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।<br />
<a href=" https://rkmri.co/5NSNee5SeA2M/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 663px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Islami-gyane-usuler-dhara-01.jpg" height="120" /></a></p>
<p>৬। যুগজিজ্ঞাসার জবাব দানে সক্ষম একটি শিক্ষা ব্যবস্থা। যে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষকে শরিয়তের বিধিবিধানকে শিক্ষা দেওয়া হবে।</p>
<p>৭। ওয়াজ, নসিহত, সতর্কবাণী ও সুসংবাদ।</p>
<p>৮। রাসূলের সিদক বা সত্যতাকে প্রমাণ করার জন্য প্রেরিত মু’জিযা সমূহ।</p>
<p>অনুবাদকঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13196</post-id>	</item>
		<item>
		<title>উসূল ও মাকাসিদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Feb 2022 18:23:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6713</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উম্মুক্তকারী জ্ঞান হল উসূল। এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়  তাহলে দেখা যায়, ইলমুল উসূল শুধুমাত্র ফিকহের নিয়মনীতি উৎপাদনের পদ্ধতি ব্যাখাকারী এবং মূলনীতি দানকারী একটি জ্ঞানই নয়, এটি একই সাথে জ্ঞান উৎপাদনের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উম্মুক্তকারী জ্ঞান হল উসূল। এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়  তাহলে দেখা যায়, ইলমুল উসূল শুধুমাত্র ফিকহের নিয়মনীতি উৎপাদনের পদ্ধতি ব্যাখাকারী এবং মূলনীতি দানকারী একটি জ্ঞানই নয়, এটি একই সাথে জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এর সীমানা নির্ধারণকারী এবং মুসলমানগণ কর্তৃক তৈরিকৃত জ্ঞানসমূহকে দার্শনিক পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী। বিশেষ করে আইন ও আখলাকের ক্ষেত্রে মুসলমানগণ দার্শনিক পর্যায়ে যে জ্ঞান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, তার পেছনে জমিন প্রস্তুত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে ইলমুল উসূল। এর পাশাপাশি ইলমুল উসূল কাঠামো নির্ধারণকারী, নিয়মনীতি প্রণয়নকারী এবং নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবেও ভূমিকা পালন করে থাকে। এ কারণে উসূলে ফিকহ শুধুমাত্র ফিকহ নয়, জ্ঞানের অন্যান্য শাখা কর্তৃক উৎপাদিত জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতার দলীল হিসেবেও কাজ করেছে। <em><strong> সংক্ষেপে, দ্বীনের নামে কথা বলার সীমানা নির্ধারণ করেছে এ জ্ঞান। এখানে উসূল কিংবা উসূলে ফিকহ বলতে আমরা শুধুমাত্র জ্ঞানের একটি শাখাকে বুঝাচ্ছি না, উসূল একই সাথে চিন্তা করার একটি পদ্ধতির নাম। কোরআন ও সুন্নত বুঝার ক্ষেত্রে, আয়াত ও হাদীস ব্যাখার ক্ষেত্রে উসূলের নীয়ম-নীতি থেকে সর্বদাই ফায়দা (সুবিধা) নেওয়া হয়েছে। উসূল মুসলমানদের অভিন্ন রেফারেন্সের উৎস হওয়ায় উসূলের নিয়ম-নীতির বাহিরে কোন ব্যাখা-বিশ্লেষণই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। মাকাসিদ নামক পরিভাষাটি ক্ল্যাসিক উসূলের সিস্টেম্যাটিকের মধ্যে ‘ওয়াসফুল মুনাসিব’ এর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে।</strong></em> ইমাম গাজালী এটিকে জারুরিয়্যাত, হাজিয়্যাত এবং তাহসিনিয়্যাত নামক তিনটি শিরোনামে বিভক্ত করেছেন। তিনি জারুরিয়্যাত নামক শ্রেণিটিকে দ্বীন, জান, মাল, আকল এবং নাসল তথা বংশ সংরক্ষণ নামক পাঁচটি মূল বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। মাকাসিদের এমন একটি ধারণা যে আমাদের সময়ের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকরী নয় এটি সকলের নিকটেই বোধগম্য।</p>
<blockquote><p>এ কারণে বর্তমান সময়ে ইসলামী জ্ঞানসমূহকে কার্যকারিতা, সামঞ্জস্য এবং সামগ্রিকতা দিতে হলে, অর্থাৎ ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে উসূলের সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে মাকাসিদকে তার সংকীর্ণ অর্থ থেকে বের করে দ্বীনের সমগ্র মাকসাদ এবং উদ্দেশ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে এমনভাবে নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ কারণে বর্তমান সময়ে ফিকহের মওজুদ হুকুমসমূহকে প্রযোজ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতার দিক থেকে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে নতুন নতুন সমস্যার সমাধানের জন্য মাকাসিদ সম্পর্কিত ধারণাকে আরও বিস্তারিত করা ও উন্নত করা অতীব জরুরী। অন্য কথায় , মাকাসিদকে শুধুমাত্র মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ হিসেবে নয়, সৃষ্টির উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তাকবীন), সৃষ্টি এবং জীবনের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল উমরান), ওহী নাযিলের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তানযিল), কোরআনের মূল উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল কোরআন), সুন্নতের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুস-সুন্নাহ), মুকাল্লাফিয়্যাতের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তাকলিফ) এর মতো দ্বীনের সমগ্র উদ্দেশ্য এবং মাকসাদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে এমনভাবে ব্যাখা করতে হবে।</p></blockquote>
<p>নিঃসন্দেহে মহান প্রভুর সৃষ্টি এবং তার প্রেরিত দ্বীনের মধ্যে অর্থহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং উপকারহীন কোন বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সংকীর্ণ চিন্তা ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ আমাদেরকে এ সকল কিছুর দিকে ধাবিত করতে পারে। অর্থহীনতা, উদ্দেশ্যহীনতা এবং উপকারহীনতা নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে মাকাসিদ। আমরা যদি দ্বীনের ক্ষেত্রে মাকাসিদের অবস্থান এবং এর অর্থ সঠিকভাবে নির্ণয় করে দ্বীনের রহমত, হিকমত, আদালত এবং মাসলাহাতকে বোধগম্য একটি ভাষার মাধ্যমে নতুন করে উপস্থাপন করতে পারি, তাহলে আমরা অর্থহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং উপকারহীন বিষয়সমূহ নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারব।</p>
<p>মাকাসিদের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হিসেবে অন্য যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের বিবেচনা করতে হবে, তা হল আহকামসমূহের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়। এটি আমাদের ফিকহের গ্রন্থসমূহে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সময়ের সমস্যাসমূহ সমাধান করবে এভাবে তুলে ধরা হয় হয়নি। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ফিকহের গতিশীলতার দিক থেকে এ তিনটি মূলনীতি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেঃ</p>
<p><strong>ক)</strong> ‘সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে হুকুমের পরিবর্তনের বিষয়টিকে অস্বীকার করা যায় না’।</p>
<p><strong>খ)</strong> ‘নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি হুকুমের প্রয়োগ যদি সে লক্ষ্যের বিপরীত কোন ফলাফল দেয়, তাহলে সে সংক্রান্ত হুকুম বাতিল বলে গণ্য হবে’।</p>
<p><strong>গ)</strong> ‘নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে যদি কোন হুকুম নির্ধারিত হয়, তাহলে সে লক্ষ্যে পৌঁছার সাথে সাথে সে হুকুমের স্থায়িত্বও শেষ হয়ে যাবে’।</p>
<p>এ সকল বিষয় যদি বিবেচনায় না নেওয়া হয়, তাহলে আজকের যুগের প্রশ্ন ও সমস্যাসমূহের কোন উত্তর ও সমাধান কেন্দ্রিক কোন ফিকহ তৈরি করা যাবে না।</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6713</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
