<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ইলমুল কালাম &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/thought-and-philosophy/ilmul-kalam/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Tue, 02 Sep 2025 17:10:21 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>ইলমুল কালাম &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ও তাঁর চিন্তাধারা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/imam-ghazali-and-his-method-of-thought/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/imam-ghazali-and-his-method-of-thought/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 22 Nov 2024 05:14:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15231</guid>

					<description><![CDATA[সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল গাজ্জালী সমগ্র দুনিয়াতে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ নামে অর্থাৎ ইসলামের নিশ্চিত দলীল নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ, কালাম, দর্শন ও তাসাউফের মত বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার সাথে সমালোচনামূলক একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এই সকল]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<h4>সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ</h4>
<p>আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল গাজ্জালী সমগ্র দুনিয়াতে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ নামে অর্থাৎ ইসলামের নিশ্চিত দলীল নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ, কালাম, দর্শন ও তাসাউফের মত বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার সাথে সমালোচনামূলক একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এই সকল ধারায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছেন। তিনি ১০৫৬ সালে বর্তমানের দক্ষিনপূর্ব ইরানের তুস শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তুস, নিশাপুর, ইস্পাহান, বাগদাদ, শাম, হিজাজ ও কুদুস শহরে তিনি তার জীবনকাল অতিক্রম করেন। সমগ্র মানব সভ্যতার চিন্তার ইতিহাসকে প্রভাবিতকারী এই মহান ইমাম ১১১১ সালে তাঁর জন্মস্থান তুসে মৃত্যুবরণ করেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>ইমাম গাজ্জালীর গুরুত্বঃ</h4>
<p>ইমাম গাজ্জালীর গুরুত্বকে কয়েকটি পয়েন্টে একত্রিত করে তুলে ধরা সম্ভব।<br class="html-br" /><strong>প্রথমত,</strong> আমরা জানি যে, দর্শন বা ফিলোসফি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের শক্তিকে শানীত করে। মূলত ইবনে সিনার মাধ্যমে এই দার্শনিক ধারা মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। আর ইমাম গাজ্জালী প্রথমবারের মত এই দার্শনিক ধারাকে কালামী দৃষ্টিকোণ থেকে সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করেন।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত,</strong> ফালাসিফা বা দার্শনিকগণের চিন্তাকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণকারী গাজ্জালী যে সকল চিন্তা ক্ষতিকর নয়, সে সকল চিন্তাকে ধারণ করেন। তাঁর এই পন্থা কালামী ও তাসাউফী ধারায় অনেক বড় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসে।</p>
<p><strong>তৃতীয়ত,</strong> ইমাম গাজ্জালী নাকলী (ওহী ভিত্তিক) জ্ঞানের ইতিহাসকেও সমালোচনামূলক একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন। এই সকল জ্ঞানকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করার পর তিনি দাবী করেন যে, এই সকল জ্ঞান তার উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে গিয়েছে এবং সময়ের পরিক্রমায় রূহ বিহীন হয়ে শুধুমাত্র জ্ঞানের একটি ফরমাল শাখায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই সমালোচনা ইমাম গাজ্জালীকে তাসাউফ থেকে প্রাপ্ত ইলহামের মাধ্যমে নাকলী জ্ঞানকে নতুন করে গঠন করার দিকে ধাবিত করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>ইমাম গাজ্জালীর রচনাবলিঃ</h4>
<p>জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সাথে ইমাম গাজ্জালীর যে সম্পর্ক, সে সম্পর্ক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করে। আমরা যদি তাঁর শিক্ষাজীবনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, তিনি মূলত শাফেয়ী মাজহাবের একজন ফকিহ ছিলেন এবং তিনি শাফেয়ী মাজহাবের ফুরু’ ফিকহ সম্পর্কে “আল-বাসিত”, “আল ওয়াসিত” ও “আল ওয়াজিজ” এর মত গ্রন্থ রচনা করেন। এর পাশাপাশি শাফেয়ী মাজহাবের মূলনীতির আলোকে “আল-মানখুল” নামক গ্রন্থ রচনা করেন, যে গ্রন্থটিকে তাঁর জীবনের প্রথম গ্রন্থ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। একইভাবে <strong>উসূলে ফিকহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ “আল-মুসতাসফা”ও তিনি রচনা করেছেন তাঁর জীবনের শেষ ভাগে</strong>।<br class="html-br" /><br class="html-br" /><strong>ইলমুল উসূল নিয়ে তাঁর লেখা গ্রন্থ মুসতাসফার শুরুতেই তিনি ইবনে সিনার ধারার মানতিককে যুক্ত করে দেন। মানতিককে ইলমুল উসূলের সাথে এভাবে যুক্ত করে দেওয়ার কারণে তা নাকলী জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা এনে দেয়।</strong><br class="html-br" /><br class="html-br" />অপরদিকে ইমাম গাজ্জালী তাঁর যুগের বাতিনি ফিতনার বিরুদ্ধেও কলম ধরেন এবং রাজনৈতিক ও ই’তিকাদী দিক থেকে হুমকি সৃষ্টিকারী এই ধারার অসারতা প্রমাণ করার জন্য সিরিজ আকারে গ্রন্থ রচনা করেন। এ গ্রন্থসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হল আব্বাসী খলিফা আল-মুস্তাজহির বিল্লাহর জন্য রচিত গ্রন্থ “ফাদায়িহুল বাতিনিয়্যা” ও “ফাযাইলুল মুস্তাজহিরিয়্যা”।<br class="html-br" /><br class="html-br" />দর্শনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। দর্শনের ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে তিনি মানতিক সম্পর্কিত “মি’য়ারুল ইলম” ও “মিহাক্কুন নাজার” নামক দুইটি গ্রন্থ রচনা করেন। বিশেষ করে ফকিহদের নিকটে মানতিককে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য এই সকল গ্রন্থে তিনি অনেক প্রচেষ্টা চালান। এছাড়াও দার্শনিকগণের চিন্তাধারাকে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার জন্য “মাকাসিদুল ফালাসিফা” অর্থাৎ দার্শনিকগণের উদ্দেশ্য নামক গ্রন্থ রচনা করেন। একইভাবে দার্শনিকগণের একচ্ছত্র কর্তৃত্বে ফাটল ধরানোর জন্য “তাহাফাতুল ফালাসিফা” অর্থাৎ দার্শনিকগণের অসঙ্গতিসমূহ নামক গ্রন্থও রচনা করেন।<br class="html-br" /><br class="html-br" />তবে <strong>যে গ্রন্থটি ইমাম গাজ্জালীকে মুসলিম উম্মাহর কাছে মর্যাদার আসনে আসীন করেছে, সেটি হল “ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন”</strong>। এই গ্রন্থের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি তাসাউফ ও ফিকহকে স্থান দিলেও এখানে অনেক দার্শনিক কথাবার্তাও রয়েছে। এই গ্রন্থে তিনি আখেরাতের পথের জ্ঞান নামে নামকরণকৃত জ্ঞান ইলমুল মুয়ামালাতকে নতুন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন।<br class="html-br" /><br class="html-br" />তবে ইসলামী চিন্তাধারার আধুনিক সময়ে এসে তাঁর এত বেশি গ্রহনযোগ্যতার অন্যতম কারণ হল তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ “আল মুনকিজু মিনাদ-দালাল ওয়া মুসলিহ বিল আহওয়াল”। এই বুদ্ধিবৃত্তিক আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে তিনি কালাম, দর্শন, তাসাউফ ও বাতিনিয়্যাতের মধ্যে আবর্তিত হওয়া তাঁর হাকিকতের অনুসন্ধানকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>ইমাম গাজ্জালীর মৌলিক চিন্তাসমূহঃ</h4>
<p>ইমাম গাজ্জালী ইসলামী চিন্তা ও দর্শনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছেন দর্শনের প্রতি তাঁর সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। তাঁর “তাহাফাতুল ফালাসিফা” নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ব্যাপকভাবে আলোচিত। তাঁর এই গ্রন্থটিকে মানব সভ্যতার চিন্তার ইতিহাসে রচিত দর্শনের প্রথম সামগ্রিক সমালোচনামূলক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই গ্রন্থে ইমাম গাজ্জালী দেখিয়েছেন যে, এরিস্টটল নিজেই তাঁর পূর্বের দার্শনিকদের প্রযোজ্যতা অকার্যকর করে দিয়েছেন। আর এটিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে তিনি এরিস্টটলের দার্শনিক চিন্তা ও মুসলিম চিন্তাধারার মধ্যে তাঁর (এরিস্টটল) চিন্তার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত ফারাবী ও ইবনে সিনার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তাঁদের সমালোচনা করেছেন।<br class="html-br" /><br class="html-br" />তাঁর চিন্তাকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়,<strong> তিনি কখনো কখনো সামগ্রিকভাবে সকল দার্শনিক চিন্তাকে সমালোচনা করেছেন। তবে দার্শনিকগণের প্রতি তাঁর যে সমালোচনা, সেটি আংশিক। তিনি দর্শনকে সামগ্রিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেননি। গাজ্জালীর মতে দর্শন হল জ্ঞানের সামগ্রিক একটি ধারা।</strong> এই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বীনের সাথে গণিত, মানতিক, ফিজিক্স, মেটাফিজিক্স, আখলাক ও রাজনীতির যে সম্পর্ক, সে সম্পর্ককে তিনি স্বতন্ত্রভাবে পর্যালোচনা করেছেন।<br class="html-br" /><br class="html-br" />জ্ঞানের এই সকল শাখার মধ্যে মানতিক ও গণিত সম্পূর্ণভাবে আকল কর্তৃক উদ্ভাবিত হওয়ায় এবং চিন্তা করার ক্ষেত্রে অবজেক্টিভ নিয়মনীতিসমূহও দেওয়ায় গাজ্জালীর মতে এই সকল জ্ঞান দ্বীনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তিনি আরও মনে করেন যে, এই সকল জ্ঞানের নির্ভুলতায় প্রতারিত হয়ে দার্শনিকগণের সকল চিন্তাকেই গ্রহণ করাটা যেমন ভুল, একইভাবে দার্শনিকগণের সমালোচনা করার নামে তাঁদের সকল চিন্তাকে প্রত্যাখ্যান করাটাও একটি ভুল।<br class="html-br" /><br class="html-br" />আখলাক ও রাজনীতি জ্ঞানের ব্যাপারেও গাজ্জালীর অবস্থান ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, দার্শনিকগণের রাজনৈতিক চিন্তার মূলে পয়গাম্বরগণ ও তাঁদের আনীত গ্রন্থের প্রভাব রয়েছে এবং আখলাকী চিন্তার ক্ষেত্রে সুফীদের চিন্তার প্রভাব রয়েছে। উৎসগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই সকল জ্ঞান গ্রহণযোগ্য হলেও দার্শনিকগণের ভুল তত্ত্ব ও চিন্তাকে পৃথক করার জন্য বিশেষ একটি যোগ্যতার প্রয়োজন। এই ধরনের বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিগণ যখন রাজনীতি ও আখলাকের জ্ঞানকে দার্শনিকগণের ভুল চিন্তা ও তত্ত্ব থেকে মুক্ত করবেন, তখন দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে এই সকল জ্ঞানের মধ্যে কোন ধরনের সমস্যা থাকবে না।<br class="html-br" /><br class="html-br" /><strong>তাহাফাতুল ফালাসিফা</strong>র মূল আলোচ্য বিষয় হল ফিজিক্স ও মেটাফিজিক্স। এই দুইটি বিষয়কে তিনি ২০ টি মূল পয়েন্টে আলোচনা করেছেন। এ<strong>ই ২০ টি পয়েন্টের মধ্যে ১৬ টি মেটাফিজিক্স নিয়ে আর ৪ টি ফিজিক্স নিয়ে। এই গ্রন্থের ১৭ নম্বর পয়েন্টটি (মাসায়েল) পড়লে বুঝা যায় ফিজিক্স তথা পদার্থ বিজ্ঞানে ইমাম গাজ্জালীর গভীরতা কত বেশি ছিল।</strong> এই মাসায়েল বা পয়েন্টটির অসাধারণ উপস্থাপনা ও আলোচনা তাঁকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দিয়েছে।<br class="html-br" /><br class="html-br" />ইমাম গাজ্জালীর মতে কারণ ও কার্য তথা Cause and Effect এর মধ্যে মৌলিকত্বের দিক থেকে আবশ্যিক সম্পর্ক থাকার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এই ব্যাপারে তাঁর একটি উদাহরণ রয়েছে, তা হল আগুন ও তুলার উদাহরণ। তাঁর মতে, আগুন ও তুলা পাশাপাশি আসলেই যে আগুনের পোড়াতে হবে আর তুলার পুড়তেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আগুন ছাড়াও তুলা পুড়তে পারে, আবার আগুন দিলেও তুলা নাও পুড়তে পারে।<br class="html-br" /><br class="html-br" />মূলত মু’জিজার বিষয়টিকে একটি ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর জন্য এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যে সব সময় এই দুনিয়ার নিয়ন্ত্রনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে চলছেন এই বিষয়কে বুঝার জন্য তিনি এ রকম একটি ব্যখ্যা দাঁড় করিয়েছেন। এখান থেকে কেউ যেন আবার এমন কথা বের না করে যে, পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে, তার সবকিছুই কাকতালীয়।<br class="html-br" />এক্ষেত্রে তিনি আদাতুল্লাহ (আল্লাহর নীতি) ও সুন্নাতুল্লাহ (আল্লাহর রীতি) এই দুইটি পরিভাষাকে সামনে রেখে এই কাকতালীয়তার যে সন্দেহ, সেটির অবসান ঘটিয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন যে, এই জগতে যা কিছুই হচ্ছে, সেটির ক্ষেত্রে মহান স্রষ্টার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে।<br class="html-br" /><br class="html-br" />তাহাফাতুল ফালাসিফা নামক গ্রন্থে ইমাম গাজ্জালী সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছেন মেটাফিজিক্স নিয়ে। তাঁর মতে দার্শনিকগণ যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল ও ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছেন, সেই বিষয়টি হল মেটাফিজিক্স। গাজ্জালী বলেন, দার্শনিকগণ কোন একটি বিষয়কে প্রমাণ করার জন্য মানতিক বা যুক্তিবিদ্যায় যে সকল শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, মেটাফিজিক্সের ক্ষেত্রে তারা সকল শর্ত মেনে চলেননি।<br class="html-br" /><br class="html-br" />মেটাফিজিক্সকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করার পর তিনি বলেন, যদি দার্শনিকগণ নিমোক্ত তিনটি চিন্তা ধারণ করেন, তাহলে তাঁদেরকে তাকফির করা যাবেঃ</p>
<ul>
<li>১। যদি তারা জগতকে চিরস্থায়ী মনে করেন।</li>
<li>২। তারা যদি মনে করেন যে আল্লাহ জুযয়ী বা আংশিক বিষয়সমূহ জানেন না।</li>
<li>৩। যদি তারা আখেরাতের জীবনকে জিসমানী বা শারীরিক মনে না করে রূহানী মনে করেন।</li>
</ul>
<p>এই বিষয় তিনটি গাজ্জালী পরবর্তী সময়েও দার্শনিকগণকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ক্রাইটেরিয়া হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে।<br class="html-br" />দর্শনের প্রতি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাসাউফের সাথে সম্পৃক্ততার ফলে ইমাম গাজ্জালী আরও একটি বিষয়ের অবতারণা করেন, আর সেটি হল আকলের সীমাবদ্ধতা।<br class="html-br" /><br class="html-br" /><strong>তাঁর মতে ইন্দ্রিয়ের উপর যেমন আকল রয়েছে, অনুরূপভাবে আকলেরও বাহিরে উপলব্ধি (ইদরাক)-র জন্য আরও একটি ক্ষেত্র রয়েছে, আর সেটি হল কালব। এই কালব মানুষকে ইদরাকী শক্তি দান করে থাকে। ইমাম গাজ্জালী জোর দিয়ে বলেন যে, পয়গাম্বরগণ হলেন মানুষের কালবের চিকিৎসক। তারা হলেন শাফিউল কুলুব।</strong> আর এক্ষেত্রে আকলের কাজ হল পয়গাম্বরগণের সত্যতাকে স্বীকার করা ও যারা কালবের রোগ থেকে মুক্তি পেতে চায়, তাদেরকে পয়গাম্বরের নিকটে নিয়ে যাওয়া। এই অর্থে পয়গাম্বরদের মিশনকে সত্যিকারার্থে তারাই ধারাবাহিক রাখতে পারবেন, যারা পয়গাম্বরগণের সকল অবস্থা অনুভব করতে পারবেন। অন্য কথায় তাসাউফের উচ্চ শিখরে আরোহনকারী আলেমগণের পক্ষেই কেবল পয়গাম্বরগণের রেখে যাওয়া কাজের আঞ্জাম দেওয়া সম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>ইমাম গাজ্জালী যেভাবে ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করেছেনঃ</h4>
<p>এতে কোন সন্দেহ নেই যে, ইমাম গাজ্জালী যেমন বহুমুখী চিন্তার অধিকারী ছিলেন, তেমনি তাঁর প্রভাবও ছিল বহুমুখী। দর্শনের প্রতি, বিশেষ করে দার্শনিকগণের মেটাফিজিক্যাল চিন্তার প্রতি গাজ্জালীর সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি মুসলমানদের মধ্যে দার্শনিক চিন্তার বিকাশের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে তিনি দর্শনকে সহজভাবে তুলে ধরার কারণে দর্শন মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মানতিকের প্রতি তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে মানতিক শুধুমাত্র দর্শনের জন্য নয়, সকল প্রকার তাত্ত্বিক তথা থিওরিটিক্যাল জ্ঞানের জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হতে শুরু হয়।<br class="html-br" /><br class="html-br" />ইবনে সিনা -পন্থী মনস্তত্ত্ব (সাইকোলজি) ও জ্ঞানতত্ত্ব (এপিস্টেমোলজি)–কে গ্রহণ করার ফলে একই সাথে তা কালাম ও তাসাউফের উপর গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষ করে কালাম ও তাসাউফের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রূহ ও শরীর, আকল ও আখলাকের চিন্তার ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা দান করে। “নূর” পরিভাষাকে কেন্দ্রে স্থাপন করে তিনি যে অন্টোলজিক্যাল একটি তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন, সে তত্ত্বটি তাসাউফের মত ইশরাকী ধারাতেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।<br class="html-br" /><br class="html-br" />এই মহান চিন্তাবিদ শুধুমাত্র মুসলিম চিন্তাবিদগণ-ই নয়, পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদদেরকেও প্রভাবিত করেছেন ব্যাপকভাবে। এই কারণে রেনে দেকার্তে ও তাঁর অনুসারীদের সন্দেহবাদ বা স্কেপটিসিজমের মধ্যে, হিউমের ক্যাজুয়ালিটি (causality)-র মধ্যে এবং ইমান্যুয়েল কান্টের ফিজিক্সের সমালোচনার মধ্যে ইমাম গাজ্জালীর চিন্তার ছাপ পাওয়া<br class="html-br" />যায়।<br class="html-br" /><br class="html-br" />অনুবাদঃ <span class="html-span xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs"><a class="x1i10hfl xjbqb8w x1ejq31n xd10rxx x1sy0etr x17r0tee x972fbf xcfux6l x1qhh985 xm0m39n x9f619 x1ypdohk xt0psk2 xe8uvvx xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x16tdsg8 x1hl2dhg xggy1nq x1a2a7pz x1sur9pj xkrqix3 xzsf02u x1s688f" tabindex="0" role="link" href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/"><span class="xt0psk2">বুরহান উদ্দিন আজাদ</span></a></span></p>
<div id="gtx-trans" style="position: absolute; left: 96px; top: 468.969px;">
<div class="gtx-trans-icon"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/imam-ghazali-and-his-method-of-thought/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15231</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল্লামা ত্বহা আবদুর রহমান ও তাঁর চিন্তাদর্শন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/allama-taha-abdur-rahman-and-his-philosophical-thought/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/allama-taha-abdur-rahman-and-his-philosophical-thought/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 26 Oct 2024 15:20:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15152</guid>

					<description><![CDATA[আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান বহুমাত্রিক একজন আলেম ও চিন্তাবিদ। তাঁর মতো চিন্তাবিদের চিন্তাধারা একটি প্রবন্ধের মধ্যে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। বিগত পঞ্চাশ বছরের চিন্তাগত জীবনে তিনি দ্বীন, রাজনীতি, আখলাক, দর্শন, ফিকহ ও মডার্নিটির মতো বিভিন্ন বিষয়ে ত্রিশের অধিক গ্রন্থ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান বহুমাত্রিক একজন আলেম ও চিন্তাবিদ। তাঁর মতো চিন্তাবিদের চিন্তাধারা একটি প্রবন্ধের মধ্যে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। বিগত পঞ্চাশ বছরের চিন্তাগত জীবনে তিনি দ্বীন, রাজনীতি, আখলাক, দর্শন, ফিকহ ও মডার্নিটির মতো বিভিন্ন বিষয়ে ত্রিশের অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই সকল গ্রন্থে স্বতন্ত্র একটি ভাষার মাধ্যমে তিনি শত শত পরিভাষা তৈরি করেছেন।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে আমাদের সামনে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ে তাঁর বয়স ২৩-২৪ বছর। সে সময়ের একজন যুবক হিসেবে তাঁর মানসপট কীভাবে পরিবর্তন হয়েছিল সেটা তিনি আমাদেরকে অবহিত করেছেন। এ সময়ে তিনি সাহিত্য ও কবিতা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আরব-ইসরাইল যুদ্ধের প্রাক্কালে নিজেকে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো করেন-</p>
<ul>
<li>১. ما كنه العقل الذي هزم العقل المسلم অর্থাৎ, দৃশ্যমানভাবে হলেও মুসলমানদের আকলকে বিপর্যস্ত করে এমন আকলের প্রকৃতি কী?</li>
<li>এখানে তিনি পাশ্চাত্যের আকলের প্রকৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।</li>
<li>২. ماذا صنع الاستعمار بنا অর্থাৎ, শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের সময়কাল আমাদের জন্য কী বইয়ে এনেছে?</li>
<li>আপনারা জানেন মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া ফ্রান্সের শোষণাধীন ছিল। ত্বহা আব্দুর রহমান যখন ছোট ছিলেন তখনও মরক্কো-সহ ঐ অঞ্চলে ফ্রান্সের শোষণ ও শাসন অব্যাহত ছিল।</li>
<li>৩. من نحن بعد الإستعمار অর্থাৎ শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের পর আমরা কোন অবস্থায় এসে উপনীত হলাম?</li>
</ul>
<p>তিনি বলেন, এই তিনটি প্রশ্ন আমি নিজেকে করি এবং এর সাথে আরও দু’টি প্রশ্নকে যুক্ত করি।</p>
<ul>
<li>ক. من نحن অর্থাৎ, আমরা কারা?</li>
<li>খ. من هذا الاخر অর্থাৎ, অন্যরা কারা?</li>
</ul>
<p>তাঁর ভাষ্যমতে, এই পাঁচটি প্রশ্নকে সামনে রেখে তিনি তাঁর চিন্তাজগতকে নতুন করে বিশ্লেষণ করা শুরু করেন। আমরা তাঁর সকল গ্রন্থ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই যে, তিনি কোনো গ্রন্থই পরিকল্পনাহীনভাবে রচনা করেননি।</p>
<p>তিনি তাঁর মানসপটে অঙ্কিত প্রজেক্টকে (কর্ম-পরিকল্পনা) শক্তিশালী চিন্তা ও লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শোষণ ও পাশ্চাত্যায়ন (Westernization)-কে العباد البنيوية (কাঠামোগত একটি গণহত্যা) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা শোষণ, পাশ্চাত্যায়ন মুসলিম উম্মাহর সকল প্রতিষ্ঠান ও চিন্তাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অবস্থা থেকে মুসলিম উম্মাহ কীভাবে উদ্ধার হতে পারে এই বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘ দিন যাবৎ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।</p>
<p>এখন প্রশ্ন হলো, ত্বহা আব্দুর রহমানের চিন্তা ও প্রজেক্টসমূহকে (কর্ম-পরিকল্পনা) বিশেষ করে আধুনিক সময়ে এসে মুসলিম উম্মাহর সৃষ্ট আন্দোলনসমূহের মধ্যে কোথায় স্থান দেবো? ক্ল্যাসিক ইসলামী চিন্তার মধ্যে তাঁর স্থান কোথায়?</p>
<p>শুরুতেই আমরা প্রথম প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। তাঁর মতে, শোষণ ও পাশ্চাত্যায়নের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর দু’ধরণের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে একটি ছোট বা (জুযয়ি) আর অপরটি সামগ্রিক/বড় (কুল্লি)। ছোট (জুযয়ি) আন্দোলনগুলো হলো রাজনৈতিক আন্দোলন। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যতগুলো রাজনৈতিক আন্দোলন আত্মপ্রকাশ করেছে সবগুলোই হলো ছোট বা জুযয়ি আন্দোলন। আর বড় বড় আন্দোলনসমূহ হলো চিন্তা ও আখলাকী আন্দোলন। এ ক্ষেত্রে তাঁর এই বাণীটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ :</p>
<blockquote><p>يكاد يكون مستحيلاً اقتناعنا بوجود أداة تغيير غير سياسة في الواقع المعاصر</p>
<p>অর্থাৎ : আধুনিক দুনিয়াতে সমাজ পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি ছাড়াও যে অন্য পন্থা রয়েছে এই বিষয়টির ব্যপারে কনভিন্স করা এক প্রকারের অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p></blockquote>
<p><strong>অর্থাৎ, যদি কোনো পরিবর্তন আনতে হয় তাহলে রাজনৈতিকভাবেই আনতে হবে, এছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এ বিষয়টি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যেন এর বাহিরে অন্য কোনো পন্থাতেই সমাজ পরিবর্তন করা যেতে পারে না।</strong></p>
<blockquote><p>ولكن ما من سبيل الا ان نقلب هذا المستحيل</p>
<p>কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।</p></blockquote>
<p><strong>অর্থাৎ রাজনীতি ছাড়াও যে সমাজ পরিবর্তন করা যায় এই বিষয়টি আমাদেরকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং তাঁদেরকে এই ব্যপারে কনভিন্স করতে হবে। বিষয়টি অনেক কঠিন হলেও এই কাজে আমাদেরকে সফল হতে হবে।</strong></p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমান বলতে চেয়েছেন, মৌলিক পরিবর্তন চিন্তা ও আখলাকী পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই শুরু হয়। বিষয়টিতে তিনি ব্যাপক জোর দেন এবং তাঁর সবগুলো গ্রন্থ এই চিন্তার আলোকে সুসজ্জিত করেন।</p>
<p>এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে মুসলিম উম্মাহ শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যে সকল তাজদীদ ও ইহইয়া আন্দোলন শুরু করেছিল সেগুলোকে আমরা পাঁচভাবে বিভক্ত করতে পারি :</p>
<ul>
<li>১. সমস্যাকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনাকারী এবং নতুন করে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টাকারী আন্দোলনসমূহ।</li>
<li>২. মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করতে হলে ধর্মনিরপেক্ষতাকে (সেকুলারিজম) ধারণ করে সেটার আলোকে চলতে হবে এমন আন্দোলনসমূহ।</li>
<li>৩. রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশকারী ইসলামপন্থী দলসমূহ। তাঁদের স্লোগান হলো, الاسلام هو الحل অর্থাৎ ইসলামই হলো একমাত্র সমাধান।</li>
<li>৪. পাশ্চাত্যে সৃষ্ট চিন্তাধারা ইসলামী চিন্তার মধ্যে প্রয়োগকারী মডার্ন ধারাসমূহ। তাঁদেরকে তিনি “তাজদীদুল মানহাজ ফি তাকবিমুত তুরাস” নামক গ্রন্থের মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন।</li>
<li>৫. শক্তিকে শক্তির মাধ্যমে জবাব দিতে হবে। এই গ্রুপের দ্বারা তিনি বিভিন্ন চরমপন্থী গ্রুপকে বুঝিয়েছেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে سؤال العنف নামক একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন।</li>
</ul>
<p>আচ্ছা! তাহলে এখন মূল কাজ কী? আমাদেরকে কী করতে হবে? এখানে মৌলিক কাজ হলো চিন্তাগত ও আখলাকী একটি চিন্তা গড়ে তোলা। এটা কীভাবে শুরু করতে হবে?</p>
<p>এক্ষেত্রে তিনি বলেন, আমাদেরকে দুটি আপদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। তাঁর মতে, সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে পরিগ্রহকারী দুটি আপদ রয়েছে।<strong> প্রথমটি ‘আল-আফাতুল বায়ানিয়্যাহ’, দ্বিতীয়টি ‘আল-আফাতুল ইমানিয়্যাহ’।</strong></p>
<p>প্রথম আপদ তথা <strong>আল-আফাতুল বায়ানিয়্যায়</strong> শুরুতে যে বিষয়টি আসে তা হলো আমাদের ভাষাগত সমস্যা। অর্থাৎ, আমরা সমগ্র উম্মাহ যে ভাষায় কথা বলি সে ভাষায় চিন্তা করি না। আমরা যে ভাষায় কথা বলি সেই ভাষায় দর্শন তৈরি করি না। কিংবা আমাদের চিন্তায় আমরা কথা বলি না। আমরা যে দার্শনিক চিন্তার অধিকারী সেই চিন্তাকে তুলে ধরি না। এ কারণে তিনি এটাকে ‘আল-আফাতুল বায়ানিয়্যাহ’ বলেন।</p>
<p>আমরা দেখি, ত্বহা আব্দুর রহমান তাঁর জীবনে শুরুর দিকের বড় একটি অংশ ভাষা, মানতিক ও দর্শন শিক্ষায় ব্যয় করেন। ভাষা ও মানতিক নিয়ে তাঁর গবেষণাসমূহ আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, স্বতন্ত্র একটি ইসলামী দর্শনের জন্য এ দুটি বিষয়ের বিকল্প নেই।</p>
<p>তাঁর মতে, সর্বশেষ ইলাহী দ্বীন ইসলামকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমগ্র মানবতার মুক্তির জন্য প্রেরণ করেছেন। আর এই দ্বীনের মূল গ্রন্থকে তিনি একটি ভাষার মাধ্যমে সমগ্র মানবতার নিকট পৌঁছে  দিয়েছেন। যদি এই ভাষার মাধ্যমে চিন্তা ও দর্শনকে তৈরি করা না যায় তাহলে আর কোন ভাষায় করা সম্ভবপর হবে? এই কারণে তিনি এ বিষয়ে ব্যাপক জোর দেন এবং এ সমস্যাকে সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালান।</p>
<p>তাঁর মতে, কোনো চিন্তা ‘ফিলোসফি’ নামে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রাচীন গ্রীসে কিংবা পাশ্চাত্যে তৈরি হওয়া শর্ত নয়। সকল জায়গার সকল সংস্কৃতির মানুষই দর্শন ও চিন্তা তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয়, চাইলে তারা বিশ্বজনীন ফিলোসফিও সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রসর ভাষা হলো আরবী। এ ভাষার মাধ্যমে এমন বড় বড় বিশ্বজনীন চিন্তা তৈরি করা যেতে পারে। আর এ কাজ সবচেয়ে ভালো ও উত্তমভাবে করতে পারে মুসলিম উম্মাহ। এ বিষয়ে তিনি অনেক বেশি জোর দেন।</p>
<p>দ্বিতীয় আপদ হলো, <strong>‘আল-আফাতুল ঈমানিয়্যাহ’</strong>। এর মাধ্যমে তিনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন? তাঁর উদ্দেশ্য হলো, আমরা আমাদের চিন্তা-ভাবনাকে এখনো জীবনের সাথে মিলিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি। অর্থাৎ আমাদের ঈমান চিন্তা তৈরি করতে পারছে না। কেননা ঈমান একইসাথে চিন্তাকারী একটি আকল। কিন্তু আমরা ঈমানের মাধ্যমে চিন্তা করি না। একারণে তিনি দ্বিতীয় বড় আপদকে ‘আল-আফাতুল ঈমানিয়্যাহ’ নামে নামকরণ করেন।</p>
<p>এ বিষয়ে তিনি সমাধান হিসেবে কী পেশ করেন?</p>
<p><strong>এই দুটি বিষয়কে অতিক্রম করার জন্য সমাধান হিসেবে তিনি দুটি ফিলোসফি (দর্শন) সম্পর্কে আলোকপাত করেন। প্রথমটি ‘আল-ফালসাফাতুদ তাদাভুলিয়্যাহ’। দ্বিতীয়টি ‘আল-ফালসাফাতুল ই’তিমানিয়্যাহ’।</strong></p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমানকে বুঝতে চাইলে এই পরিভাষাসমূহকে এভাবেই ব্যবহার করতে হবে। এসকল পরিভাষা অনুবাদ করে বুঝা সম্ভব নয়। তাদাভুলিয়্যা’র দ্বারা উদ্দেশ্য, জ্ঞান ও বিশ্বাসকে একত্রিত করে দর্শন তৈরি করা। আমাদের মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র একটি ফিলোসফির প্রয়োজন যেটাকে তিনি এই নামে অভিহিত করেন। এ বিষয়গুলো তিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে অসাধারণভাবে তুলে ধরেন। এই দর্শনের কেন্দ্রে রাখেন ভাষাকে।</p>
<p>অপরদিকে ‘আল-ফালসাফাতুল ই’তিমানিয়্যাহ’ পরিভাষাটি তিনি আমান ও আমানত নামক পরিভাষাদ্বয়কে একত্রিত করে তৈরি করেন। এক্ষেত্রে তিনি ঈমান (বিশ্বাস)-কে কেন্দ্রে স্থাপন করেন এবং এটাকে তিনি মিসাকের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেন।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমানকে বুঝার জন্য এই পরিভাষা দু’টি (তাদাভুলিয়্যাহ, ই’তিমানিয়্যাহ) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভাষাতত্ত্ব, মানতিক ও দর্শনে পারদর্শী বিশেষজ্ঞদের এই বিষয়ে আলোচনা করা উচিত।</p>
<p>তবে আমাকে যে বিষয়টি বেশি আগ্রহী করে সেটা হলো, তাঁর আল-ফালসাফাতুল ই’তিমানিয়্যাহ। আমি এ বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। কেননা বিষয়টি তিনি শুধুমাত্র একটি ফিলোসফি হিসেবে বিবেচনা করেননি। যেমন, ফিকহকেও তিনি এই পরিভাষার উপর ভিত্তি করে দাঁড় করাতে চান। এজন্য তিনি ফিকহুল ইতিমানিয়্যাহ নিয়েও কাজ করেছেন। বিশেষ করে জ্ঞানের তিনটি শাখা তিনি নতুন করে গঠন করার ব্যপারে গুরুত্বারোপ করেন। সেগুলো হলো, ফিকহ, কালাম ও তাসাউফ।</p>
<p>তাঁর মতে, আমাদের ফিকহ অনেকাংশে আদেশ ও নিষেধের উপর ভিত্তি করে গঠিত। একারণে তিনি আমাদের ক্ল্যাসিক ফিকহের নাম দিয়েছেন ‘ফিকহুল ই’তিমান’। এই ফিকহে ই’তিমান তথা আমান ও আমানতের বিষয়টি দুর্বল অবস্থায় রয়ে গেছে। একারণে তিনি তাঁর দ্বীনুল হায়া নামক গ্রন্থের প্রথম খন্ডে ফিকহুল ই’তিমানের উসূলকে তুলে ধরেছেন।</p>
<p>ইলমুল কালামের ক্ষেত্রে তাঁর প্রস্তাবনা হলো, মানুষ ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে শুধুমাত্র ইরাদা ও কুদরাতের উপর ভিত্তি করে নয়; বরং মিসাকের উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। তাজদীদু ইলমুল কালাম নামক গ্রন্থে তিনি এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং মানুষ ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে ই’তিমানী দর্শন সামনে রেখে নতুন করে তৈরি করার প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।</p>
<p>অপরদিকে তাসাউফকে তিনি এই দুই জ্ঞানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। তাঁর মতে, ইসতিদলাল, ইসতিমবাত এবং ইসতিবসারকে একত্রে বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ, ফিকহ, কালাম ও তাসাউফকে একত্রে বিবেচনা করতে হবে। তবে এখানে তিনি তাসাউফ বলতে বর্তমান সময়ের জ্ঞানহীন তাসাউফের কথা উল্লেখ করেননি। তাসাউফকে তিনি জ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে নতুন করে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজেও একজন তাসাউফপন্থী আলেম ও একটি তরিকতের সদস্য। তবে তাসাউফকে জ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি অনেক বেশি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।</p>
<p>এসকল দৃষ্টিকোণ সামনে রেখে আমরা ত্বহা আব্দুর রহমানের গ্রন্থগুলোকে দুটি ভাগে ভাগ করতে চাই। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের অর্ধেক উসূল ও মেথডোলজি নিয়ে আর বাকি অর্ধেক এই সকল উসূলের প্রয়োগ নিয়ে। অর্থাৎ, তিনি তাঁর রচিত উসূলকে তাঁর নিজের গ্রন্থসমূহেই প্রয়োগ করেছেন। যেমন, ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রসার লাভকারী গায়রে আখলাকী বিষয়টিকে তিনি বিশ্লেষণ করার সময় তাঁর ই’তিমানিয়্যাহ দর্শনকে সামনে রাখেন এবং এর আলোকে সমাধান পেশ করার চেষ্টা করেন। কিংবা আকলের বিষয়টিকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার সময় তাদাভুলিয়্যাহ দর্শনকে সামনে রাখেন এবং এর আলোকে উত্তোরণের পথ বাতলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।</p>
<p>সুবরু মুরাবিতা নামে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। এখানে তিনি সৌদি আরব ও ইরান নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করেন। মূলত রুহুদ্বীন (দ্বীনের রূহ) নামক গ্রন্থকে এই দুই দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সামনে রেখে রচনা করেন এবং এই বইয়ে তিনি দ্বীন ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সমাধানমূলক তত্ত্ব তুলে ধরেন। একইভাবে আমরা যখন তাঁর সুয়ালুল উনফ নামক গ্রন্থটি পাঠ করি তখন দেখতে পাই, মুসলিম উম্মাহকে পরিগ্রহকারী বিশৃঙ্খলা, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন।</p>
<p>পূর্বে আমি যেমনটা উল্লেখ করেছি আমরা তাঁর গ্রন্থসমূহকে দু’ভাগে বিভক্ত করতে পারি। একভাগ হলো উসূল ও মেথডোলজি সংক্রান্ত আর অপর ভাগ হলো জীবনের বিভিন্ন প্রায়োগিক দিক নিয়ে।</p>
<p>উসূল ও মেথডোলজি সম্পর্কিত গ্রন্থসমূহ আবার দু’ভাগে বিভক্ত করা যায়। এর মধ্যে এক ভাগ হলো ‘ফালসাফাতুল তাদাভুলিয়্যাহ’ সম্পর্কে আর অপরভাগ হলো ‘ফালসাফাতুল ই’তিমানিয়্যাহ’ সম্পর্কে।</p>
<p>আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান তাঁর চিন্তা পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে তুলে ধরেছেন। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো আল-মানহাজ। অর্থাৎ পদ্ধতি বা পন্থা। <strong>তাজদীদুল মানহাজ ফি তাকবিমুত তুরাস</strong> &#8211; এই গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি আমাদের জ্ঞানগত ও সাংস্কৃতিক মিরাস (ঐতিহ্য) পর্যালোচনা করার জন্য নতুন একটি পন্থার প্রস্তাবনা দিয়েছেন। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য (মিরাস)-কে কীভাবে বুঝবো? যদিও অনেকেই বলেন যে, এই গ্রন্থটি তিনি মুহাম্মাদ আবিল আল-জাবিরিকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন এবং তাঁর উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। আসলে বিষয়টি এমন নয়। অর্থাৎ ত্বহা আব্দুর রহমান অন্যকে খণ্ডন করার পন্থা অবলম্বন করেন না। তিনি একজন বিনির্মাণকারী। তিনি কাউকে বিরোধী হিসেবে গণ্য করে তাকে খণ্ডন করেন না; বরং যেটা হাকীকত ও সত্য সেটাকেই তিনি সর্বোচ্চ যুক্তি ও দলীল দিয়ে তুলে ধরেন। এ কারণে তিনি একজন অসাধারণ নির্মাতা। তবে তিনি জাবিরি’র বয়ান, বুরহান ও ইরফান নামক ত্রয়াত্মক শ্রেণিবিন্যাস এবং এর উপর ভিত্তি করে ইসলামী চিন্তাধারাকে সরলীকরণের কঠোর সমালোচনা করেন। এই ক্ষেত্রে তিনি তাকামুলী তথা উৎকর্ষতার পন্থাকে প্রস্তাব করেন। এই তিনটিকে তাদাখুলিয়া তথা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন।</p>
<p>তাঁর মতে, আধুনিক সময়ে এসে আমরা পাশ্চাত্যের খণ্ডিত চিন্তার প্রভাবে সকল কিছুকেই খণ্ডিতভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করি। সকল কিছুকে খণ্ডিত করে দেখা ভুল একটি পন্থা। এই পন্থাটি আমাদের মঝে প্রভাব বিস্তার করার কারণে ইসলামী চিন্তা সামগ্রিকভাবে অনুধাবন করার সক্ষমতাকেও আজ হারিয়ে ফেলেছি। এই পন্থা বা মেথডকে তিনি মানহাজের অংশে ভাষা, মানতিক ও দর্শনের পাশাপাশি উসূলুল ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যাখ্যা করেন।</p>
<p><strong>তিনি অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও ৫৮০ পৃষ্ঠার বিশাল একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। গ্রন্থটির নাম হলো, আত-তা’সিসুল ই’তিমানি লি ইলমিল মাকাসিদ। অনুবাদ করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, ইলমুল মাকাসিদের ই’তিমানি ভিত্তিসমূহ। আমার মতে, এই গ্রন্থটি মাকাসিদ নিয়ে লেখা বিগত ২০ বছরের সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ।</strong> আর এই গ্রন্থের পর এই বিষয়ে যারা লেখালেখি করেছেন তাঁরা তাঁদের চিন্তাকে পুনর্বিবেচনা করবেন বলে আমার বিশ্বাস। কেননা তিনি মাকাসিদের শরয়ী গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অর্থাৎ যেটা শরয়ী সেটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?  আর যেটা গ্রহণযোগ্য সেটা কতটুকু শরয়ী? আমরা ইলাহী মাকসাদ বা উদ্দেশ্যকে এত সু-স্পষ্টভাবে কীভাবে উল্লেখ করতে পারি? এই শক্তি আমরা কোথায় পাই? এই বিষয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। এসকল দৃষ্টিকোণ থেকে এ গ্রন্থটি গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ।</p>
<p>আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, <strong>ত্বহা আব্দুর রহমানের অন্যতম একটি গ্রন্থ হলো রুহুদ দ্বীন</strong>। এ গ্রন্থে তিনি দ্বীন ও ধর্মের মধ্যকার সম্পর্ককে শুধুমাত্র সেকুলারিজমের দৃষ্টিকোণ থেকেই অর্থাৎ দ্বীনের রাজনীতিকরণ কিংবা রাজনীতির দ্বীনিকরণ নিয়েই আলোচনা করেননি। এ গ্রন্থে একইসাথে তিনি তাদবীর ও তায়াব্বুদের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন একটি উসূল দাঁড় করিয়েছেন। তায়ায়্যুশী আমলের সাথে তায়াব্বুদী আমলকে কীভাবে একত্রিত করতে পারি এবং ইসলাম এই বিষয়টি কীভাবে তুলে ধরেছে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>তিনি বিভিন্ন পরিভাষার পাশাপাশি যে পরিভাষার ব্যপারে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন সেটি হলো ‘তুরাস’। যে চিন্তা তাঁর অতীতকে অস্বীকার করে সেই চিন্তার পক্ষে নতুন কোনো প্রস্তাবনা দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, তাঁর পক্ষে নতুন কোনো চিন্তাও দাঁড় করানো সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি তাকদীস ও তাহকীর তথা তুরাসকে পবিত্র বলে গণ্য করা থেকেও বিরত থাকেন আবার সেটাকে হেয় প্রতিপন্ন করা থেকেও বিরত থেকে অতীত থেকে  শিক্ষা নেওয়ার পন্থা তথা তাকদীরের পন্থাকে বেছে নেওয়ার পক্ষে মত দেন।</p>
<p>মডার্নিটি কিংবা আধুনিকতা নিয়ে আলোচনা করার জন্য তিনি রুহুল হাদাসা নামক গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর মতে, পাশ্চাত্যের আধুনিকতা নামে একটি আধুনিকতা রয়েছে। অর্থাৎ আধুনিকতা একমাত্র কিংবা অনুপম নয়। প্রতিটি চিন্তায় তাঁর মতো করে তাঁদের নিজস্ব আধুনিকতা তৈরি করতে পারে। পাশ্চাত্যে আধুনিকতা যে ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠেছে তাঁর কিছু মৌলিক পরিভাষা আছে। যেমন, ধর্মহীন বিশ্বদর্শন (Secular World View), রেশনালিজম, হিউম্যানিজম ইত্যাদি। কিন্তু আমরা আমাদের নিজস্ব চিন্তা ও পরিভাষার মাধ্যমে আমাদের জন্য স্বতন্ত্র একটি আধুনিকতার বিকাশ ঘটাতে পারি। অর্থাৎ আধুনিকতার রূহকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের রূহকে বিনির্মাণ করতে পারলে সেই রূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি আধুনিকতার উদ্ভব ঘটবে।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমানের চিন্তায় অপর আরেকটি বিষয় হলো আখলাক। এই বিষয়েও তিনি অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে দ্বীন ও আখলাকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল ধরণের বিভাজনকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং দ্বীনকে আখলাক হিসেবে ও আখলাককে দ্বীন হিসেবে অভিহিত করেন। ‘Cogito, ergo sum’ (চিন্তা করি এই জন্যই আছি) চিন্তার বিপরীতে ‘আমি আখলাকসম্পন্ন, এই জন্য আমি আছি&#8221; এই চিন্তার বিকাশ ঘটান। আখলাকী চিন্তার ক্ষেত্রে মুসলিম আলেমদের চিন্তার সমালোচনা করে বলেন, তাদের চিন্তার মধ্যে অনেক ঘাটতি রয়েছে। কেননা তাঁরা আখলাককে পূর্ণতা  হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু আখলাক পূর্ণতাদানকারী কোনো বিষয় নয়। এটি অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। আখলাক ছাড়া আমাদের অস্তিত্ব অকল্পনীয়। আখলাক পূর্ণতার (কামালিয়াত) সাথে সম্পর্কিত কোনো বিষয় নয়, এটা অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। এটা দ্বীন ও মানুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আখলাক ছাড়া দ্বীন হতে পারে না, আখলাক ছাড়া মানুষ হতে পারে না। মানুষের যে সংজ্ঞা সেই সংজ্ঞার একাংশ জুড়ে আছে আখলাক আর বাকি অংশ হলো দ্বীন। তবে এক্ষেত্রে দ্বীন হলো মূল।</p>
<p>তাঁর মতে, রাজনীতি থেকে দ্বীনকে পৃথকীকরণ করার চেয়ে দ্বীনকে আখলাক থেকে পৃথক করা আর বড় ধরণের হুমকি। আর এ বিষয়কে তুলে ধরার জন্য তিনি দাহরানিয়্যাহ নামক একটি পরিভাষা তৈরি করেন। দাহরানিয়্যাহ হলো, দ্বীনকে আখলাক থেকে পৃথক করা। আর এটাই হলো সবচেয়ে বড় বিপদজনক বিষয়।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমান ফিতরাতের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি তাঁর সকল গ্রন্থেই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেননা তাঁর মতে, দ্বীন মানুষের পূর্বে ছিল। মানুষের সৃষ্টি হয়েছে দ্বীনের পরে। শুধু তাই নয়, খুলক-ও (আখলাক) খালকের (সৃষ্টির) পূর্বে। মানুষের সৃষ্টির পূর্বেই খুলক ছিল আর এটা ফিতরাতরূপে মূল্যবোধের একটি ভাণ্ডার হিসেবে মানুষকে দেওয়া হয়েছে। দ্বীন মানুষের মধ্যে পরবর্তীতে স্থাপিত কোনো বিষয় নয়। দ্বীনের অর্থের জগত মানুষের সাথে একত্রে অস্তিত্বপ্রাপ্ত মৌলিক একটি হাফিজার (সংরক্ষণশালা) মধ্যে লুক্কায়িত। আর এই হাফিজা বা সংরক্ষণশালার নাম হলো ফিতরাত। দ্বীন মানুষকে সঙ্গ দানকারী একটি হাকীকত এবং মানুষ এ হাকীকত থেকে কখনো পৃথক হতে পারবে না। অপর দিকে পয়গাম্বরদের মাধ্যমে যে দ্বীন এসেছে সেটা মূলত তাজকীর বা স্মারক। অর্থাৎ, মানুষের ফিতরাতের মধ্যে যা রয়েছে, সেটাই মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এ কারণে কোরআন যাক্কির (স্মারক), পয়গাম্বর মুজাক্কির। মিসাকুর রিসালার সাথে মিসাকুশ শাহাদাকে ত্বহা আব্দুর রহমান সূরা আরাফের ১৭২ নং আয়াতের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন।</p>
<blockquote><p>(وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۛ شَهِدْنَا)</p>
<p>অর্থ : “আর হে নবী! লোকদের স্মরণ করিয়ে দাও সেই সময়ের কথা, যখন তোমাদের রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করিয়েছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন : ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলেছিল, নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব, আমরা এর সাক্ষ্য দিচ্ছি।”</p></blockquote>
<p>এই আয়াতের উপর ভিত্তি করে তিনি বলেন, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক হলো শাহাদাতের উপর ভিত্তি করে।</p>
<p>আর দ্বিতীয় মিসাক হলো, মিসাকুল আমানা। এটাকে তিনি সূরা আহযাবের ৭২ নং আয়াতের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন।</p>
<blockquote><p>إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ ۖ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا</p>
<p>অর্থ :  “আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি। তারা একে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষ একে বহন করেছে, নিঃসন্দেহে সে বড় জালেম ও অজ্ঞ।”</p></blockquote>
<p>আর তৃতীয়টি তথা মিসাকুর রিসালাকে তিনি দাঁড় করিয়েছেন সূরা বাকারার ১৫১ নং আয়াতের উপর ভিত্তি করে।</p>
<blockquote><p>كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِّنكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ</p>
<p>অর্থ : “যেমনিভাবে (তোমরা এই জিনিসটি থেকেও সাফল্য লাভের সৌভাগ্য অর্জন করেছো যে) আমি তোমাদের মধ্যে স্বয়ং তোমাদের থেকেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদেরকে আমার আয়াত পড়ে শুনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ করে সুসজ্জিত করে, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয় এবং এমন জ্ঞান তোমাদের শেখায়, যা তোমরা জানতে না।”</p></blockquote>
<p>মিসাকুশ শাহাদা ফিতরাত হিসেবে মানুষের সাথে একত্রে অস্তিত্ব লাভ করেছে, মিসাকুল আমানা মূলত মূল্যবোধ হিসেবে এসেছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে উভয়টি মূলত মূল্যবোধ। একটি হলো ঈমান অপরটি হলো আখলাক। এগুলো মানুষের মধ্যে একটি সফটওয়্যার হিসেবে মানুষের অস্তিত্ব লাভের সাথে সাথে অস্তিত্ব লাভ করেছে কিন্তু তা আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। আর মিসাকুর রিসালা হলো এটাকে পূর্ণতাদানকারী একটি বিষয়। এ দু’টি বিষয়কে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্যই মহান আল্লাহ পয়গাম্বর পাঠিয়েছেন।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমানের অপর একটি গ্রন্থ হলো, <strong>আল-মানতিক ওয়ান নাহও’স সূরী</strong>। এই গ্রন্থে তিনি সূরী মানতিক ও নাহু’র মাধ্যমে ইসলামের মূল্যবোধসমূহকে অপর মানুষের নিকট উত্থাপনকারী একটি ভাষা হিসেবে আরবী ভাষা নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।</p>
<p><strong>দর্শনের বিষয়ে বিশেষ করে দু’টি ক্ষেত্রে তিনি অনেক বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন এবং এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দর্শন মানে হলো প্রশ্ন করা। আর প্রশ্ন করার পন্থা দু’টি :</strong></p>
<ul>
<li><strong>১. অপরপক্ষকে চুপ করানো জন্য প্রশ্ন করা। প্রশ্ন করার এই পন্থা হলো গ্রীক দার্শনিকদের পন্থা। যেমন, সক্রেটিসের প্রশ্ন করার পন্থা।</strong></li>
<li><strong>২. সমালোচনামূলক প্রশ্ন করা। ইম্যানুয়েল কান্ট এই পন্থা শুরু করেন এবং প্রভাবশালী করে তুলেন।</strong></li>
</ul>
<p><strong>তবে ই’তিমানিয়্যাহ দর্শনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুয়াল বা প্রশ্ন নেই। সুয়াল বা প্রশ্নের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র সুয়ালিয়্যাত (প্রশ্ন করা) নয়, এখানে উদ্দেশ্য হলো মাসউলিয়্যাত (দায়িত্ববোধ)। সুয়াল-মাসয়ালা ও মাসউলিয়্যাতের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে তিনি এই বিষয়কে তুলে ধরেন এবং মনে করেন, প্রশ্ন যখন দায়িত্ববোধের চেতনা জাগ্রত করবে কেবল তখনই সেটা সত্যিকারের প্রশ্ন হিসেবে গণ্য হবে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এ ধরণের প্রশ্নই আমাদের সত্যিকারের দর্শন। এ ক্ষেত্রে তিনি ‘আস-সুয়ালুল মাসউল’ পরিভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।</strong></p>
<p>পরিভাষা তৈরি করার ক্ষেত্রেও তিনি অতুলনীয়। কিছুদিন আগে এ ব্যপারে কামুসু ত্বহা নামে প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমানের মতে, মুসলিম উম্মাহ পরিভাষাগত একটি আক্রমণের শিকার। এ ক্ষেত্রে তিনি <strong>‘আল-উদওয়ানুল মাফহুমী’</strong> নামক পরিভাষা ব্যাবহার করেন।</p>
<p>তিনি বলেন, <strong>“পরিভাষা তৈরি করা ও পরিভাষার অধিকারী হওয়ার অর্থ হলো সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়া। কোনো কিছুকে পরিভাষার মাধ্যমে পরিবর্তন করা শক্তি প্রয়োগ করে পরিবর্তন করার চেয়ে বেশি স্থায়ী হয়ে থাকে। পরিভাষার মধ্য দিয়ে বড় বড় পরিবর্তন করা সম্ভব”।</strong></p>
<p>এ কারণেই তিনি পরিভাষার উপর এত বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন  এবং শত শত পরিভাষা তৈরি করেছেন।</p>
<blockquote><p>অনুরূপভাবে তিনি আকলের বিষয়েও অনেক গুরুত্বারোপ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র গ্রন্থও রচনা করেছেন। আকলকে <strong>তিনি আকলে মুজাররাদ, আকলে মুয়ায়্যাদ ও আকলে মুসাদ্দাদ নামে তিন ভাগে বিভক্ত করেন।</strong> <strong>তাঁর মতে, আকলে মুজাররাদ হলো বুরহানী আকল।</strong> এটি এমন আকল যা দ্বীনি ক্ষেত্রকে উপেক্ষা করে। এই ধরণের আকল হলো বিমূর্ত (Abstract) ও যান্ত্রিক। এ ধরণের আকল বিজ্ঞানাগারে, কল কারখানায় ও একাডেমিক গবেষণার কাজে লাগতে পারে কিন্তু  মানুষের সাথে তাঁর রবের ও মহাবিশ্বের যে সম্পর্ক, সেই সম্পর্ক এই আকলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি আমলের মাধ্যমে সজ্জিত আকলকে ‘আকলে মুসাদ্দাদ’ নামে নামকরণ করেছেন। <strong>আর</strong> <strong>যে আকল আখলাকী মূল্যবোধের মাধ্যমে অলঙ্কৃত হয়েছে সেই আকলকে তিনি ‘আকলে মুয়ায়্যাদ’ নামে অভিহিত করেন।</strong> তিনি মনে করেন, আকল শুধুমাত্র একমুখী হিসেবে বিবেচনা করার অর্থ আকলকেই ছোট করা। কেননা আকল আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত। এজন্য এই নেয়ামতকে বহুমুখী হিসেবে দেখতে হবে। আকল কোনো জাওহার নয়। আকল হলো একটি কর্ম। এই কারণে তিনি তায়া’ক্কুলের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p></blockquote>
<p>এখন আমি তাঁর গ্রন্থসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরতে চাই।</p>
<p>প্রথমত, মেথডোলজি সংক্রান্ত গ্রন্থ। এ সম্পর্কে রচিত তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো ফিকহুল ফালসাফা। চার খণ্ডে বিভক্ত করে তিনি এ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তা দুই খণ্ড প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে তিনি বলেন, অন্যের চিন্তা অনুবাদ করে কোনোদিন সত্যিকারের চিন্তা তৈরি করা যায় না। পাশ্চাত্যের দর্শন বিষয়ক যে সব বইকে অনুবাদ করে আজকে সমগ্র বিশ্বে পড়ানো হচ্ছে, সেটার সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন,</p>
<p><strong>لن تكون الفلسفة رافعة إلا اذا كانت مبدعة</strong></p>
<p><strong>অর্থ : “দর্শন কোনো জাতিকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করতে পারে না, যদি না সেটা নিজেদের মূল্যবোধের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয়।”</strong></p>
<p>অর্থাৎ, তাকলীদের মাধ্যমে চর্চিত দর্শন কোনোদিন কোনো জাতিকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করতে পারে না। যদি কোনো জাতি চিন্তার মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদায় আসীন হতে চায়, তাহলে তাকে নিজ মূল্যবোধের সাথে সম্পর্ক রেখে চিন্তা ও দর্শন তৈরি করতে হবে। নাসক মাসক নিয়ে আসে। নাসক হলো কোনো কিছুকে ফটোকপি করা। আর ফটোকপি মাসক’কে নিয়ে আসে। মাসক কী? মাসক হলো, ফটোকপির মাধ্যমে অন্যদের অনুবাদ করে তাদের চিন্তাকে নিয়ে আসলে সেটা একটি জাতিকে বিশেষভাবে মুসলিম উম্মাহকে ভেতর থেকে পরিবর্তন করে দিবে।</p>
<p>তিনি ‘তাকরীবে তা’বী’ নামে একটি পন্থার কথা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ এর অর্থ এটা নয় যে, আমরা কারোর কাছ থেকে কোনো কিছুই নেবো না। তবে আমরা অন্যদের কোনো চিন্তা ও দর্শন অনুবাদ করার ক্ষেত্রে তাদাভুলিয়্যার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যে সকল চিন্তা অনুবাদ করবো, সেই চিন্তার ভাষাগত ও ধর্মীয় ভিত্তিকে ভালোভাবে বুঝতে হবে। কেননা আমাদের ভাষা ও ধর্ম উভয়টিই ভিন্ন। যেমনঃ তিনি হেগেল ও নিটশে-কে পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলেন, এরা অনেক ধর্মতত্ত্বীয় পরিভাষাকে দার্শনিক চিন্তায় রূপান্তরিত করেছে। এ কারণে আমরা যখন অনুবাদ করবো তখন আমাদেরকে তিনটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সেগুলো হলো তাহসিলিয়্যা, তাওসিলিয়্যা ও তা’সিলিয়্যা। তাহসিলিয়্যা হলো হুবহু অনুবাদ করা। তাওসিলিয়্যা হলো, সতর্কতার সাথে বেছে বেছে অনুবাদ করা। তা’সিলিয়্যা হলো, শুধুমাত্র আমার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয়সমূহকে অনুবাদ করা। আমাকে সেই বিষয়সমূহই অনুবাদ করতে হবে, যেগুলো আমাদের দ্বীন ও ভাষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।</p>
<p>ফিকহুল ফালসাফার দ্বিতীয় খণ্ড হলো আল-কাওলুল ফালসাফিয়্যু অর্থাৎ দার্শনিক কথন কী? এ গ্রন্থে তিনি পরিভাষা ও এটিমলজি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ গ্রন্থে তিনি বলেন,</p>
<p>فالقول الذي لا يتصل بترثه لا يمكن ان يكون إبداعا</p>
<p>অর্থাৎ, “ইতিহাস ও ঐতিহ্যের (তুরাস) সাথে যে কথার সম্পর্ক নেই, সেই কথার পক্ষে নতুন কোনো প্রস্তাবনা পেশ করা সম্ভব নয়।”</p>
<p>এ ক্ষেত্রে তিনি আল আকলানিয়্যাতুল ইবারিয়্যার সাথে আল আকলানিয়্যাতুল ইশারিয়্যার মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপন করার পাশাপাশি কালাম ও তাসাউফের মধ্যেও সম্পর্ক স্থাপন করেন। আল আকলানিয়্যাতুল ইবারিয়্যা ও ইশারিয়্যা নিয়ে আলোচনা করার সময় প্লেটো, দেকার্ত ও হাইডেগারকে উদ্দেশ্য করে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।</p>
<p>তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ হলো আল-লিসান ওয়াল মিযান ওয়া’ত-তাকাওসুরুল আকল। এ গ্রন্থে তিনি মানতিক ও আকলের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বইয়ে তিনি বলেন,</p>
<p>ان الاتصال الإنسان باللامتناهي الكامل من جهة ما يدفعه الي دوام طلب الزيادة في التعقل بدرجات تعلو علي واقع تعلقه</p>
<p>অর্থাৎ, “অসীমের (ইনফিনিটি) সাথে মানুষের যে সম্পর্ক, সেটা সর্বদা তার তা’য়াক্কুলী (চিন্তা করার) শক্তিকে বিকশিত করে থাকে এবং চিন্তা করার ক্ষেত্রে সে যে অবস্থায় আছে তাকে সেই অবস্থা থেকে তাঁর অবস্থানকে সর্বদা উচ্চ পর্যায়ের দিকে নিয়ে যায়।”</p>
<p>এ গ্রন্থে তিনি তিনটি ধারার তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন। গাজালিয়্যা, রুশদিয়্যা ও খালদুনিয়্যা নামে গাজ্জালী, ইবনে রুশদ ও ইবনে খালদুনের তুলনামূলক পর্যালোচনা করেছেন।</p>
<p>একইসাথে তিনি আল-খিতাবিয়্যা, আল-হিজাজিয়্যা ও আল-মাজাজিয়্যার পন্থাকেও বিশ্লেষণ করেছেন।</p>
<p>মেথডোলজি সম্পর্কে তাঁর চতুর্থ গ্রন্থ হলো আল হাক্কুল আরাবী ফি’ল ইখতিলাফিল ফালসাফিয়্যা। এ গ্রন্থে তিনি মুসলমানদের দর্শন তৈরি করার অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর এই উক্তিটি প্রণিধানযোগ্যঃ</p>
<p>ان الاختلاف الأمم ظاهرة طبيعية لا ينكرها إلا من يري في الاختلاف زوال سلطانه</p>
<p>অর্থাৎ, “উম্মতসমূহের ভিন্নতা প্রাকৃতিক একটি বিষয়। যারা নিজের উপর কর্তৃত্ব হারিয়েছে, তাঁরা ছাড়া অন্য কেহই এই অমোঘ বিধানকে অস্বীকার করতে পারে না।”</p>
<p>لذالك لا بد من اثبات هذا الحق للأمم المهزومة كما المنتصرة</p>
<p>অর্থাৎ, “আর এই কারণে যে জাতি পরাজিত ও পরাভূত হয়েছে, তাঁদেরও পুনরায় নিজের পায়ে দাঁড়ানোর অধিকার রয়েছে। তাঁদেরও অধিকার আছে তাঁদের নিজেদের দর্শনকে তৈরি করার।”</p>
<p>এই গ্রন্থের শুরুতেই তিনি বলেন, যে সভ্যতা তাঁর যুগ-জিজ্ঞাসার জবাব নিজের মূল্যবোধের মাধ্যমে দিতে সক্ষম নয়, সেই সভ্যতার পক্ষে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। যে সভ্যতা যুগ-জিজ্ঞাসার জবাব অন্য সভ্যতা কর্তৃক সৃষ্ট মূল্যবোধ ও জবাবের মাধ্যমে দেওয়ার চেষ্টা করে, সেই সভ্যতা আরও বেশি অধঃপতনের শিকার হয়।</p>
<p>আমরা মুসলিম হিসেবে যুগ-জিজ্ঞাসার জবাব কীভাবে দিবো এবং আমাদেরকে কীভাবে কাজ করতে হবে, এ বিষয়ে তিনি যুক্তিপূর্ণ ভাষায় তাঁর অভিমত তুলে ধরেছেন।</p>
<p>মেথডোলজি সম্পর্কে তাঁর পঞ্চম গ্রন্থ হলো আল-হাক্কুল ইসলামী ফিল ইখতিলাফিল ফিকরি। এ গ্রন্থে তিনি চিন্তাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন এবং ইসলামী চিন্তাকে কীভাবে নবায়ন করে তুলে ধরা যায় এ বিষয় নিয়েও আলোকপাত করেছেন। এ গ্রন্থেই তিনি বলেছেনঃ</p>
<p>ان من العجز ان نرضي باجوبة غيرنا</p>
<p>“আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো যুগের জবাবদানের ক্ষেত্রে অন্যদের তৈরি করা জবাবের মাধ্যমে জবাব দেওয়া।</p>
<p>التي انتهت بهم طريق مسدود</p>
<p>আর এই বিষয়টিই আমাদের পথ রোধ করে দিয়েছে।</p>
<p>بل طريق يقلب الوسائل والمقاصد الي اضدادها</p>
<p>শুধু তাই নয়, এটা মাকসাদ ও ওসিলার স্থানকে পরিবর্তন করে দিতে পারে, যা আমাদের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়ে যেতে পারে।”</p>
<p>অর্থাৎ মাকসাদের স্থান ওসিলা আর ওসিলার স্থান মাকসাদ দখল করে নিতে পারে। যার ফলে আমাদের উদ্দেশ্যই পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।</p>
<p>আত-তাওয়াসুল ওয়াল হিজাজ নামে ভাষাতত্ত্বের উপরে তাঁর আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে। এ গ্রন্থে তিনি ভাষাগত যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>আমি মনে করি, ত্বহা আব্দুর রহমানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো সুয়ালুল আখলাক। একটু পূর্বেই আমি যেমনটা উল্লেখ করেছি, তিনি আখলাককে কামালিয়াত (পরিপূর্ণতা) দানকারী কোনো বিষয় নয়; বরং অস্তিত্বদানকারী একটি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থে তিনি আখলাককে সামগ্রিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, আখলাককে দ্বীন থেকে এবং দ্বীনকে আখলাক থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়। যদি পৃথক করা হয়, তাহলে এর পরিণতি কী হতে পারে -এই সকল বিষয় নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।</p>
<p><strong>বুয়ুসুদ দাহরানিয়া</strong> তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এ গ্রন্থটিতেও তিনি আখলাক নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্বীন থেকে আখলাককে পৃথক করে ফেললে কোন ধরণের সমস্যা তৈরি হতে পারে -এই বিষয়টি তিনি ই’তিমানি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। ই’তিমানি দর্শনের দৃষ্টিকোণ থেকে এ গ্রন্থটি সুয়ালুল আখলাকের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণ্য করা যায়।</p>
<p>এ গ্রন্থের সাথে সম্পর্কিত আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে, সেটি হলো <strong>শুরুদু মা বা’দাদ দাহরানিয়্যা</strong>। এ গ্রন্থে তিনি সমগ্র মানবতার আখলাক নিয়ে আলোচনা করেছেন। পাশ্চাত্য চিন্তা সমগ্র মানবতাকে কীভাবে আখলাকের বাহিরে ঠেলে দিয়েছে- এ বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। এ গ্রন্থে বিশেষভাবে তিনি মনোবিশ্লেষকদের নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করেছেন। সিগমুন্ড ফ্রয়েড,  ফ্রিডরিখ নিটশে, লুইস দি লসাদে, লাকান-সহ আরও অন্যান্য মনোবিশ্লেষকদের চিন্তাকে খণ্ডন করেছেন। কেননা এ সকল চিন্তাবিদরা মানুষকে কামুক একটি জীব হিসেবে অভিহিত করে ইনসানকে শুধুমাত্র চাহিদার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। আবার বুঝতেও খুব কঠিন। অর্থাৎ বুয়ুসুদ দাহরানিয়া নামক গ্রন্থে তিনি আলোচনা করেছেন, মানুষ যদি দ্বীন থেকে আখলাককে আলাদা করে ফেলে, তাহলে একদিন সে তাঁর নিজেকেও আখলাক থেকে আলাদা করে ফেলবে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি শুরুদু মা বা’দাদ দাহরানিয়্যা নামক গ্রন্থে আলোচনা করেছেন, মানুষ কীভাবে আখলাক থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং এর পর্যায়সমূহ কি হতে পারে।</p>
<p>আল-আমালু’দ দিনিয়্যু ওয়া তাজদিদুল আকল নামেও তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে। এ গ্রন্থে তিনি আমল ও আকলের পুনর্জাগরণের কথা উল্লেখ করেছেন। এ গ্রন্থ থেকে আমি দু’একটি লাইন পাঠকদের উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে চাই-</p>
<p>ليس هناك من علم ولا عمل فائقين مثل المتعلقين بالدين</p>
<p>“এমন কোনো জ্ঞান ও আমল নেই, যা দ্বীনের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান ও আমলের চেয়ে উত্তম হতে পারে।”</p>
<p>لذالك كان الجمود هو العدو الأساسي لفاعلية الدين</p>
<p>“দ্বীনি কার্যক্রমের দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো চিন্তাকে স্থবির করে ফেলা।”</p>
<p>অর্থাৎ যারা জ্ঞান ও আকলের পুনর্জাগরণের জন্য কাজ করবে, তাঁদেরকে সবসময় জ্ঞানগত ও আমলগত দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে। কোনো আন্দোলন যখন তাঁর চিন্তাগত গতিশীলতাকে হারিয়ে ফেলে, তখনই তা কালের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।</p>
<p>তাঁর অপর একটি গ্রন্থ হলো <strong>উসূলিল হিওয়ার ওয়া তাজদিদু ইলমিল কালাম</strong>। তাঁর এ গ্রন্থটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই গ্রন্থে তিনি আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। একইসাথে তিনি এই গ্রন্থে ইলমূল মানতিকের মধ্যকার যে ডায়ালগ রয়েছে, সেই ডায়ালগকে নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং এটাকে মানুষ ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন।</p>
<p>ত্বহা আব্দুর রহমান শুধু থিওরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। আমলী দিকের প্রতিও তিনি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। এই বিষয়ে লেখা তাঁর অন্যতম গ্রন্থ হলো <strong>সুয়ালুল আমল</strong>। সেখানে তিনি বলেন,</p>
<p>كل علم ليس تحته عمل فغير معتبر</p>
<p>অর্থাৎ, “যে জ্ঞান আমল দ্বারা সজ্জিত নয়, সেই জ্ঞান খুব বেশি গ্রহণযোগ্য নয়।”</p>
<p><strong>তাঁর অপর একটি গ্রন্থ হলো মিনাল ইনসানিল আবতার ইলা ইনসানিল কাউসার। অর্থাৎ একমুখী ইনসান থেকে বহুমুখী ইনসানের দিকে। আবতার ইনসান হলো একমুখী ইনসান। সে শুধুমাত্র বস্তুজগত নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু কাউসার ইনসান বস্তুজগত (মুলক) ও আধ্যাত্মিক (মালাকুত) জগতকে একসাথে বিবেচনা করে।</strong> এ গ্রন্থটি দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথম ভাগে শিক্ষা দর্শন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে আর দ্বিতীয় ভাগে দার্শনিক ধারণা নিয়ে আলোকপাত করা  করা হয়েছে। তবে উভয় অধ্যায়েই ইনসানকে তিনি কেন্দ্রে রেখেছেন।</p>
<p>তাঁর অন্যতম আরেকটি গ্রন্থ হলো <strong>দ্বীনুল হায়া</strong>। এ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে তিনি ই’তিমানি আখলাকের দর্শন নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আখলাককে আসমাউল হুসনার উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করেছেন। এ খণ্ডে তিনি হুদুদুল্লাহ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।</p>
<p>দ্বীনুল হায়ার দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সৃষ্ট গায়রে আখলাকী চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে হায়ার আখলাকের মাধ্যমে এই সঙ্কটকে আমরা কীভাবে মোকাবেলা করবো সে বিষয়টি দার্শনিক যুক্তি দিয়ে তুলে ধরেছেন।</p>
<blockquote><p><strong>দ্বীনুল হায়ার তৃতীয় খণ্ড হলো রুহুল হিজাব</strong>।  এই গ্রন্থটি অসাধারণ একটি গ্রন্থ। হিজাবের ফিতরী ও আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, শুধুমাত্র শরীর ঢাকার নামই হিজাব নয়। শরীরকে আবৃত করার পাশাপাশি হিজাব একইসাথে রবের নিকটবর্তী কীভাবে হবো,সেই বিষয়টিও শিক্ষা দেয়। তাঁর ভাষায়ঃ</p>
<p>ان الحجاب لباس معنوى يكشف عن اداب التقرب الي الله</p>
<p>অর্থাৎ, “হিজাব হলো আধ্যাত্মিক একটি পোশাক। আমরা কীভাবে আল্লাহর নিকটবর্তী হবো, হিজাব আমাদেরকে সেই শিক্ষা দিয়ে থাকে।”</p></blockquote>
<p>আল মাফাহিমুল আখলাকিয়্যা নামে দুই খণ্ডের আরও একটি গ্রন্থ রয়েছে।</p>
<p>যুগের গাজ্জালী খ্যাত মহান এই মনীষীর চিন্তা ও দর্শনকে বুঝে আল্লাহ আমাদের কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
<div id="gtx-trans" style="position: absolute; left: 758px; top: 1160.45px;">
<div class="gtx-trans-icon"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/allama-taha-abdur-rahman-and-his-philosophical-thought/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15152</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূলনীতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 01 Sep 2024 11:25:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14770</guid>

					<description><![CDATA[তৌহীদ ঘোষণা করে যে, &#8220;তোমাদের উম্মাহ্ একটি মাত্র উম্মাহ, যার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ। তাই তাঁর উপাসনা এবং ইবাদাত কর১।&#8221; মুমিনগণ যে একটি মাত্র ভ্রাতৃসমাজ, যার সদস্যরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে পরস্পরকে ভালবাসবে, যারা একে অপরকে ন্যায়বিচার করতে ও ধৈর্য্যশীল হতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>তৌহীদ ঘোষণা করে যে, &#8220;তোমাদের উম্মাহ্ একটি মাত্র উম্মাহ, যার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ। তাই তাঁর উপাসনা এবং ইবাদাত কর<sup>১</sup>।&#8221; মুমিনগণ যে একটি মাত্র ভ্রাতৃসমাজ, যার সদস্যরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে পরস্পরকে ভালবাসবে, যারা একে অপরকে ন্যায়বিচার করতে ও ধৈর্য্যশীল হতে পরামর্শ দেয়<sup>২</sup>, যারা ব্যতিক্রমহীনভাবে সকলে একত্রে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়না<sup>৩</sup>। যারা একসঙ্গে বসে পরামর্শ করে, সৎকাজে উৎসাহ দেয় এবং মন্দকার্য নিষেধ করে<sup>৪</sup> যার পরিণতিতে আল্লাহ এবং তার রাসুলকে মেনে চলে<sup>৫</sup>-এ সমুদয়ই হচ্ছে সমাজের বিষয়ে তৌহীদের প্রাসঙ্গিকতা।</p>
<p>উম্মাহর স্বপ্ন এক, তেমনি এক হচ্ছে অনুভূতি অথবা ইচ্ছা এবং কর্ম, উম্মাহর সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মনোভঙ্গিতে, তাদের চরিত্রে ও তাদের বাহুতে, চিন্তার একটা ঐক্যমত রয়েছে। উম্মাহ হচ্ছে এমন একটি মানবিক ব্যবস্থা যা মন, হৃদয় এবং বাহু, এই তিনের ঐক্যমতে ঘটিত। এ একটি বিশ্বজনীন ভ্রাতৃসমাজ, যা বর্ণ যেমন স্বীকার করেনা তেমনি স্বীকার করেনা নৃতাত্বিক পরিচয়। এর দৃষ্টিতে সকল মানুষই এক, কেবলমাত্র সদাচারণ ও ধার্মিকতার মানদন্ড দ্বারা যার পরিমাপ হবে<sup>৬</sup>। এর কোন সদস্য যদি জ্ঞান, ক্ষমতা, খাদ্য বা আরাম আয়েশ অর্জন করে, তার কর্তব্য হচ্ছে অন্য সবাইকে তাতে শরীক করা, যদি কোন সদস্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, সাফল্য বা সমৃদ্ধি অর্জন করে, সে অবস্থায় তার কর্তব্য হবে, অন্যেরাও যাতে প্রতিষ্ঠিত, সফল ও সমৃদ্ধশালী হতে পারে, সেজন্য সাহায্য করা<sup>৭</sup>। এটি এমন একটি মানবিক ব্যবস্থা, যার সদস্যরা উম্মাহর মূল্যায়ন ও নীতিমালা দ্বারা নিজের জীবন শাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এবং অন্য সকল মানুষের জীবন যাতে অনুরূপ নীতিমালার দ্বারা শাসিত হয় তার জন্য চেষ্টা করে। তারা বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা হতে পারে, এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য হতে পারে; তারা উম্মাহর সদস্য বলে এই সদস্যপদ সমস্ত বৈষম্য ও পার্থক্যের উপর শরীয়াকে দেয় চূড়ান্ত কর্তৃত্ব। উম্মাহর ভিত্তি প্রজাতির (race) উপর নয়, অঞ্চল বা ভাষার উপর নয়, রাজনীতিক এবং সামরিক সার্বভৌমত্বের উপর নয়। অতীত ইতিহাসের উপরও নয়, এর বুনিয়াদ হচ্ছে ইসলামের উপর। নর-নারী নির্বিশেষে যে কেউ ইসলামকে তার ধর্ম বলে গণ্য করে এবং চায় যে, এর আইন কানুন দ্বারা তার জীবন শাসিত হবে, সে বাস্তবে এবং কার্যত উম্মাহর একজন সদস্য, দ্বারা শাহাদার আইনগত চাহিদার এই হচ্ছে অর্থ। তাছাড়া অন্য কোন প্রয়োজনটা আবশ্যক নয়। এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে কোন ব্যক্তিই শরীয়াহ কর্তৃক স্বীকৃত সকল অধিকার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগের অধিকারী হয়ে উঠে এবং নিজেকে শরীয়াহর সমস্ত দায়িত্বের অধীনে স্থাপন করে।</p>
<p>ব্যক্তি মুসলমান, পৃথিবীর যে কোন স্থানে বাস করতে পারে এবং সেই দেশের আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে পারে, যতক্ষণ না সে সব আইন জীবনের সেই সব ক্ষেত্রে শরীয়ার বিরোধিতা করে, যার দ্বারা তার নিজের জীবন প্রভাবিত হয়। যখন যে অঞ্চলে সে বাস করে, তার আইন কানুন যদি ইসলামের বিপরীতে তার জীবনকে প্রভাবিত করে, তখন একটি ইসলামিক অঞ্চলে হিযরত করার বিকল্প তার থাকে। অথবা ইসলামিক কিংবা ভিন্নতর কোন বাহ্য উদ্দেশ্য পূরণের আশায় সে তার নিজের জীবনে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সহ্য করে যেতে পারে। তার পক্ষে উম্মাহ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য নয়। অবশ্য প্রত্যেক ব্যক্তি মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে অন্য সকলকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত করা, নিজের অঞ্চলে উম্মাহকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। দেশের আইন হিসাবে শরীয়াহর প্রবর্তনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে তার কর্তব্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>১</strong><strong>. </strong><strong>তৌহীদ</strong> <strong>এবং</strong> <strong>খিলাফত</strong></h4>
<p>উপরে যে উম্মাহর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সে উম্মাহ হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছা পূরণের জন্য বিশ্ব পুনর্গঠন বা বিশ্ব সংস্কারের বাহন। এ হচ্ছে সৃষ্টিতে আল্লাহর খিলাফত, কেননা মানুষের বিষয়ে সৃষ্টির সূচনা লগ্নে প্রদত্ত এই ভবিষ্যত বাণী অবশ্যই সম্প্রসারিত হবে উম্মাহ পর্যন্ত এবং তার যুক্তি হচ্ছে পূর্ববর্তী অংশে উল্লেখিত যুক্তিসমূহ। সমভাবে উম্মাহ একটি রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্বের অর্থে এবং সার্বভৌম শক্তির জন্য যে সব অঙ্গ ও ক্ষমতা সার্বভৌমত্বকে বলবৎ করার জন্য প্রয়োজন সে সমুদয়ের অর্থে। রাষ্ট্র হিসাবে উম্মাহর উল্লেখ করতে হবে খিলাফত হিসাবে, দাওলাত হিসাবে নয়। ইসলামী ঐতিহ্যের জন্য খিলাফত হচ্ছে নিকটতর এবং তৌহীদের ঘনিষ্ঠতর, যে তৌহীদ একটি সরাসরি এবং কুরআনি সিদ্ধান্ত<sup>৮</sup>। দ্বিতীয়টি হচ্ছে &#8216;দাওলাত&#8217; একটি আধুনিক ধারণা যার অবস্থান কুরআনের প্রতিনিধিত্ব বা খিলাফতের ধারণা থেকে সবচাইতে দূরতম ব্যবধানে। আর খিলাফতের এই ধারণাটি হচ্ছে উম্মাহর মূল শর্ত। আমরা যখন খিলাফত উল্লেখ করতে রাষ্ট্রকে বুঝাই তখন উম্মাহ এবং পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রের মৌলিক পার্থক্য আমাদের মনে রাখতে হবে। তাই উম্মাহর সার্বভৌমত্ব বলবৎ করার ক্ষেত্রে খিলাফতই হচ্ছে উম্মাহ। এই সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ সম্পূর্ণভাবে না হলেও উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব এর দ্বারাই গঠিত। খিলাফতের বিশ্লেষণ দ্বারা আমরা রাষ্ট্রতত্বের ক্ষেত্রে তৌহীদের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে চাইছি। খিলাফত হচ্ছে ত্রিমুখী ঐক্মত্য দৃষ্টির ঐকমত্য, ক্ষমতার ঐকমত্য এবং উৎপাদনের ঐকমত্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ক</strong><strong>. </strong><strong>ইজমা</strong> <strong>আর</strong><strong>&#8211;</strong><strong>রুইয়াহ্</strong> <strong>বা</strong> <strong>দৃষ্টির</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>ইজমা আর-রুইয়াহ্ বা দৃষ্টির ঐকমত্য হচ্ছে মানসিক ঐক্য বা চৈতন্য এবং এর রয়েছে তিনটি উপাদান। প্রথম হচ্ছে, যে সব মূল্যায়ন নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছা ঘটিত সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাদের বাস্তব রূপায়ণ ইতিহাসে যে আন্দোলন সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে জ্ঞান। স্পষ্টতই ইহা পদ্ধতিবদ্ধ এবং ঐতিহাসিক, দৃষ্টির উপাদানগুলো প্রকৃতিগতভাবেই অপরিসীম, অন্তহীন। তাই সমস্ত কিছু সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টির প্রয়োজন নেই, কেবলমাত্র তার সার নির্যাসেরই প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রয়োজন হওয়া উচিত। এটি হচ্ছে একটি কাঠামো, একটি পদ্ধতি, স্তরে স্তরে বিন্যাস এবং সিদ্ধান্তের জন্য আবশ্যক যার পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন, যা একবার আয়ত্ব হলে এক জনের পক্ষে সমন্বিততার মধ্যে যা হারিয়ে গিয়েছিল, তা আবিস্কার করা এবং প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়। মূল্যমানের পদ্ধতিবদ্ধ জ্ঞান সম্পর্কে এ হচ্ছে বিশেষ করে সত্য। আর এই জ্ঞানের উৎস হচ্ছে প্রত্যাদেশ অর্থাৎ কুরআন এবং সুন্নাহ এবং যুক্তি, বুদ্ধি এর নিজস্ব প্রক্রিয়ার উপলদ্ধির মাধ্যমে, ন্যায়শাস্ত্র ও জ্ঞানতত্ত্ব এবং সাধারণভাবে সত্য সম্পর্কে উপলব্ধি (পরাতত্ত্ব) নিসর্গ সম্পর্কে উপলব্ধি (প্রকৃতি বিজ্ঞান), মানুষের সম্পর্কে জ্ঞান (নৃতত্ব, মনস্তত্ব এবং নীতিশাস্ত্র), এবং সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান (সমাজ বিজ্ঞানসমূহ)। প্রত্যাদেশের ক্ষেত্রে যেমন নয়, তেমনি বুদ্ধির ক্ষেত্রেও দৃষ্টির একাডেমিক ফল আবশ্যক নয়, যা উপাদানের পদ্ধতিগত ধারণা নিয়ে গঠিত, বরং তা হতে হবে ইনটুইটি স্বজ্ঞালব্ধ, অর্থাৎ এমন একটি উপলব্ধির আলোর অভিজ্ঞতা হতে হবে যা, যে কোন অঞ্চলকে আলোকিত করতে পারে, দৃষ্টির জন্য ইসলামের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এমন একটি ছবি প্রতিষ্ঠিত ক&#8217;রে<sup>৯</sup>।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একদিকে ইতিহাসে ইসলামী মূল্যমানসমুহ যে আন্দোলন সৃষ্টি করেছিল, সেই আন্দোলন এবং ইসলামী মূল্যমানগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে জ্ঞান মূখ্যত একটি অভিজ্ঞতার বস্তু<sup>১০</sup>। এই জন্যই প্রথম দিকের মুসলমানরা মহানবী সম্পর্কে সকল বিবরণ এবং তাঁর সাহাবাদের জীবন থেকে আহরিত ঘটনাবলী জানার জন্য অবিরাম চেষ্টা করেছেন। প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই এধরনের চাহিদা দেখা যায়, কারণ অনুসারীদের জন্য তাদের বিশ্বাসের অনুযায়ী ধারণা কি করে একটি কংক্রীট রূপে প্রকাশ পায় তার জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যমান বাস্তবায়নের বিশেষ উপাদানগুলো তাদের ছাত্রদের উপর একটি সার্থক এবং বাঞ্চনীয় শিক্ষকীয় প্রভাব বিস্তার করে। এগুলো তাদের পদ্ধতিগত অধ্যয়নের উপাদানগুলো থেকে সহজে বোঝা এবং স্মরণ রাখা যায়। যাই হোক খিলাফতের জন্য যে দৃষ্টিভঙ্গির উৎপাদন আবশ্যক তার জন্য উভয়টিই সমরূপে আবশ্যক।</p>
<p>মূল্যমানের পদ্ধতিগত উপলব্ধি এবং ইতিহাসে সেগুলোর রূপায়ণ, এ দুটি বিষয় নিয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানের জ্ঞানের অভাবে এবং বর্তমান কি করে সেগুলোকে নতুন করে বাস্তবায়িত করতে পারে, সেই জ্ঞান ছাড়া প্রায় এখন অসম্পূর্ণ। <strong>যেহেতু খিলাফত পশ্চাৎমুখী হতে পারে এবং বর্তমানের মধ্যে বাস করতে পারে এবং ভবিষ্যতেও কার্যকর হবে, সেজন্য বর্তমানের সঙ্গে মূল্যমানকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। স্থির করতে হবে বাস্তবে অস্তিত্বশীল কোন উপাদান কোন মূল্যমানকে বাস্তবায়িত করবে, সেগুলো রূপায়ণের বেলায় কেমন করে বর্তমান অবস্থাগুলো মূল্যমানসমুহের শ্রেণীর উপর প্রভাব বিস্তার করে।</strong></p>
<p>এখানে যে ইজমা আর-রুইয়াহর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাতে ধর্মীয় জ্ঞানের একটি উৎস বলে ধরা হয়েছে। রাসুল্লাহর এই হাদিস, &#8220;আমার উম্মাহ অসত্য বা মিথ্যার ব্যাপারে একমত হবেনা&#8221;, উম্মাহর জনমতের উপর প্রায় একটি পবিত্রতা আরোপ করেছে। তা সত্ত্বেও এ কোন অনড় মত নয় বরং সব সময়ই উন্মুক্ত<sup>১১</sup>। এই উম্মুক্ততাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে ইজতিহাদে, যা কেবল সামর্থ নয়, বরং প্রত্যেক বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন মুসলমানের কর্তব্য, ইসলামী সত্য ও মূল্যমানের সমগ্র পরিসর বা তার কোন অংশকে নতুন করে আত্মসাৎ করে। প্রকৃতিগতভাবেই ইজতিহাদ গতিশীল এবং সৃজনধর্মী এবং তার স্বগুণেই উপলব্ধিক্ষম মনের কাছে খুবই আবেদনশীল। ইজতিহাদকেও রাসুলুল্লাহ এই হাদীসে অভিনন্দনের যোগ্য বলে গণ্য করেছেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;যে কেউ ইজতিহাদ করে একটি ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সেও একটা সৎ কাজ করলো। যে কেউ ইজতিহাদ করে সত্যে উপনীত হয়, সে দ্বিগুণ পূণ্য লাভ করে।&#8221;</p></blockquote>
<p>ইজতিহাদ এবং ইজমা সম্মিলিতভাবে সৃষ্টি করে একটি দ্বান্দিক গতি, যা চিন্তার রাজ্যে ইসলামী গতিশীলতা গঠন করে। কারণ ইজমা যেখানে উপলব্ধি লাভের প্রয়াসে চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় সেখানে তা ক্রমাগতই লংঘিত হয় ইজতিহাদের সৃজনধর্মী শক্তির বলে। অন্যপক্ষে, যেখানে ইজতিহাদ উপলব্ধির সর্বোচ্চ বাঞ্ছিত লক্ষ্য বলে পবিত্র বলে গণ্য হয় সেখানে তা সকল মুসলমানকে এর বৈধতা সম্পর্কে বিশ্বাসী করার প্রয়োজনে তা হয় নিয়ন্ত্রিত, সংশোধিত এবং সমালোচনা অর্থাৎ সকলের দ্বারা তা (ইজমা) তা সমর্থিত হবার প্রয়োজনে।</p>
<p><strong> </strong></p>
<p><strong>খ</strong><strong>. </strong><strong>ইজমা</strong> <strong>আল্</strong><strong>&#8211;</strong><strong>ইরাদা</strong> <strong>বা</strong> <strong>ইচ্ছার</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>ক্ষমতার ঐকমত্য হচ্ছে ইচ্ছার মিল বা ঐক্য এবং এর দুটি উপাদান আছে আল্ আসাবিয়া (সামাজিক সংহতি) যার বলে মুসলমানরা বিভিন্ন ঘটনা এবং পরিস্থিতিতে একইভাবে আল্লাহর আহবানের প্রতি সম্মিলিত আনুগত্যে সাড়া দেবার জন্য নিজেরা অঙ্গীকার করে এবং আন্- নিজাম, সিদ্ধান্তের বাস্তব রূপদানে সামর্থবান, মুসলিমদের কাছে পৌছাতে এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ করতে এবং সাংগঠনিক এবং যৌক্তিক কাঠামো মূল্যমানের ঔচিত্যকে ব্যক্তির গ্রুপ ও তাদের নেতাদের কর্তব্যের রূপদানে পারঙ্গম।</p>
<p>আল আসাবিয়া দৃষ্টিগত ঐক্যের সমান বা ফল নয়। এই ধরনের ঐকমত্যের দ্বারা আসাবিয়াকে সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ করা যেতে পারে। <strong>আসলে এই ধরনের ঐকমত্য ছাড়া আসাবিয়ার অস্তিত্ব অসম্ভব, কেননা যেখানে কোনো ব্যাপারে ঐকমত্য নেই, সেখানে কখনো সংহতি অর্জিত হতে পারে না। দৃষ্টিগত ঐকমত্যের চাইতেও আসাবিয়ার চাহিদা আরো বেশী, এর অভিব্যক্তি ঘটে আন্দোলনের সঙ্গে নিজের অভিন্নতা ঘোষণার সিদ্ধান্তে।</strong> বলতে গেলে উম্মাহর অর্ণবজানে নিজের ভাগ্য সমর্পণ করতে এবং পরে আহবানে সাড়া দিতে- অর্থাৎ আহবান বা দাওয়াতে ইতিবাচক &#8220;হ্যাঁ&#8221; বলতে এবং দাওয়াতে যা কিছু চায় তা ইতিবাচকভাবে সম্পাদন করতে।</p>
<p>খোদ্‌ এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি নির্মিত হয় একটি দীর্ঘ মনস্তাত্বিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ার উপর, যে প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি নিজেকে উম্মাহর সঙ্গে অভিন্ন রূপে দেখতে পায়, যার পরিশেষে তার চৈতন্য হয়ে উঠে বাস্তবায়নমুখী এবং মানুষ নিজেকে উম্মাহর ঐতিহাসিক ঘূর্ণাবর্ত ও সূচীমুখ হিসাবে খিলাফতের সঙ্গে নিজেকে এক করে দেখে। এই মনস্তাত্বিক প্রক্রিয়া শিক্ষা এবং অনুশীলনের বিষয়বস্তু হতে পারে। যেখানে তা হয় সেখানে এই প্রক্রিয়া হয়ে উঠে মার্জিত এবং সমৃদ্ধ। তবে জন্মের মাধ্যমেও প্রকৃতিগতভাবে এর আবির্ভাব হতে পারে এবং গোত্র বা গোষ্ঠীর বদ্ধ পরিবেশে তা লালিত পালিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া হয়ে উঠবে বিচার বুদ্ধিহীন। অন্ধ আরেক নিজেকে গোত্র বা জাতের সঙ্গে একাত্ম পণ্য করার এই অর্থে ইবনে খলদুন আসাবিয়াকে সমাজ সংহতির ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছিলেন<sup>১২</sup>। যেহেতু ইসলামে এই বাস্তব উপাদানগুলো অতিক্রান্ত হয়েছে তৌহীদের আদর্শের দ্বারা সে কারণে ইসলামের আসাবিয়া হবে একটি নতুন প্রক্রিয়ার, একটি নতুন সংস্কৃতির ফল (আল্লাহর অভিপ্রেত আদলে  সক্রিয় ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের চেহারা বদল করা)। তাই আসাবিয়া হবে ইচ্ছাকৃত লালিত পালিত বিকশিত এবং পরিণত। কেবলমাত্র প্রকৃতিগতভাবে একটি অনৈচ্ছিক বিকাশ নাও হতে পরে, ইউরোপীয় রোমান্টিসিজমের জাতীয়তাবাদী অনুভূতির সঙ্গেও একে এক করে দেখা যাবেনা যা প্রায় বর্ণিত হয় অচেতন, অনৈচ্ছিক, অবর্ণনীয়রূপে অন্তর্গত এবং গূঢ় বলে, প্রকৃতপক্ষে যা গোত্র গোষ্ঠীতন্ত্রের আসাবিয়া। ইসলামী আসাবিয়া ইচ্ছাকৃত, পরিস্কারভাবে বিশ্লেষণযোগ্য একটি নৈতিক ও দায়িত্বপূর্ণ কর্ম। এ আসাবিয়া হচ্ছে তৌহীদের স্বচ্ছ আলোকে, তৌহীদের সকল তাৎপর্যের পূর্ণ প্রভায় উম্মাহর ভাগ্যের সঙ্গে, নিজেকে অভিন্ন গণ্য করার অঙ্গীকার এবং তাতে অংশগ্রহণ। এ দৃষ্টান্ত পাই আমরা এর বিশুদ্ধতমরূপে মক্কায় হজ্জ যাত্রীদের সম্মিলিত ধ্বনিতে যখন তারা কাবা ঘর তাওয়াফ করে অথবা যখন আরাফার দিকে ধাবিত হয়; &#8220;লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক&#8221;- (তোমার আহ্বানে হে প্রভু এখানে আমরা হাজির, তোমার আহবানে)। আর এ হচ্ছে বহু শতাব্দী ধরে যে ভৌগোলিক বা গোত্র গোষ্ঠী ধর্মী বা সংস্কৃতিগত বৈশেষিকতা খাস পাশ্চাত্য জাতীয়তার চরিত্র শতাব্দীর পর শতাব্দী ধ&#8217;রে তার সম্পূর্ণ বিপরীত<sup>১৩</sup>।</p>
<p>যেহেতু আসাবিয়া ভূমন্ডলের একটি বিস্তৃত অঞ্চলে বিস্তৃত বিশ্বজনীন উম্মাহ্-গঠনকারী একটি উপাদান সে কারণে আল আসাবিয়া মুসলমানের ব্যক্তিগত মূহুর্তের একটি সত্য মাত্র হতে পারেনা। পরিস্থিতি এবং ঘটনায় সাড়া দিতে গিয়ে মুসলমান যখনি সক্রিয় হতে ইচ্ছা করে বা বাধ্য হয় তখন তা একটি অবাধ তরঙ্গোচ্ছাস হিসাবে কাজ করতে পারেনা; এরূপ কাজ হবে জগৎব্যাপী বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জনক। আসাবিয়া ইসলাম সম্মত এবং সে কারণে দায়িত্বশীল হতে হলে শৃংখলার অধীন, অবশ্যই হবে নিয়ম গভীরতা ও দিশার দিক দিয়ে এবং অন্য সকল মুসলমানের সঙ্গে সমবায়মূলক ক্রিয়াকান্ডের সঙ্গে নিজেকে অভিন্নভাবে যুক্ত করার জন্য শৃংখলার অধীন। এটাই হচ্ছে আন্-নিজামের রূপ, যে বিষয়ে তৌহীদের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে ইজমা-প্রথা মুসলমানদের তৈরি করেছে। এই নিজামের দিকে লক্ষ্য করে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা ভালভাবেই জানতেন যে প্রত্যেক মুসলমানকে হতে হবে অক্ষরজ্ঞান এবং সাহিত্যের রুচীসম্পন্ন তাকে কুরআনের বৃহৎ অংশ সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান রাখতে হবে, নবী চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং সাহাবাদের জীবনী জানতে হবে, তার গৃহের নিকটবর্তী জামাতে এবং ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে হবে- (অর্থাৎ অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ইবাদত করতে হবে- আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি নিকটবর্তী মসজিদে সালাতের সময় যে মুসলমানদের কাঁধ পরস্পর স্পর্শ করা উচিত, এই তাগিদের মানে এই যে, এতে করে, একের কাছে অপরের অস্তিত্ব জীবন্ত হয়ে উঠবে, একের সঙ্গে অপরের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পরিচয় এবং শব্দটির আক্ষরিক অর্থে বৃহত্তর উম্মাহর সঙ্গে সহযোগিতার উপলব্ধি. বাস্তব হয়ে উঠবে, যাতে করে আল্লাহ যে সকলের প্রভু এবং মালিক ইবাদতকারীর চেতনায় তা মুদ্রিত হয়ে যায়। এ সমস্তই পরিকল্পিত হয়েছে খিলাফতের আনুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রস্তুতি হিসাবে। সেকালে মসজিদ ছিলো এবং একালেও তা হওয়া উচিত সকল ইসলামী কর্মতৎপরতার কেন্দ্র, ইসলামের আবশ্যিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু, কারণ মসজিদে মুসলমানরা দৈনিক মিলিত হত, তৌহীদের বন্ধনে তার সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে একটি জীবন্ত সম্পর্ক স্থাপন করতো এবং লাভ করতো আধ্যাত্মিক, নৈতিক, রাজনৈতিক জীবনীশক্তির দৈনিক বরাদ্দ। এই খোরাক সরবরাহ করা যায় এবং প্রকৃতই তা সরবরাহ করা হতো যে কোন মুসলিম কর্তৃক, যার অধিকতর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছিলো তার সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার, যাতে খোদ খলিফাকেও বাদ দেওয়া হতোনা। আল্লাহর আদেশ পালন করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে আহবান কর মানুষকে প্রজ্ঞা এবং অধিকতর সুন্দর যুক্তির মাধ্যমে<sup>১৪</sup>। এবং রাসুলুল্লাহর (সঃ) নসিহত প্রদানের আদর্শে স্বাধীনভাবে প্রদত্ত পরামর্শ, যে নসিহতের আদর্শকে ইজতিহাদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে<sup>১৫</sup>। সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে এই সম্পর্ক ও সংসর্গ রূপ নেবে জুম্মার সালাতে যেখানে ঈমামের খুৎবা হচ্ছে একটি গঠনমূলক স্তম্ভসদৃশ। খুৎবার বিষয়বস্তু হবে বর্তমান পরিস্থিতি, মুসলামান সমাজকে যে সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেসবের উপরই খুৎবা দেবেন ইমাম। খুৎবাতে যে কুরআন এবং হাদিসের কিছু উল্লেখ থাকে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসলামী প্রজ্ঞার বক্তব্য পেশ করা এবং এভাবে তার প্রাসঙ্গিকতা ঘোষণা করা। আমির (শাসক) নিজেই যে জুম্মার সালাতের ইমাম হবেন, এই প্রথার উদ্দেশ্য ছিলো কার্যকর করার জন্য সপ্তাহের আলাপ আলোচনা থেকে যে ঐক্যমতের সৃষ্টি হয় তার সুস্পষ্ট রূপদান কিংবা ঐকমত্য অর্জিত না হলে নেতৃত্বকে ঘিরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং উপস্থিত প্রশ্নের আবশ্যক বিচার ও প্রতিবাদের ব্যবস্থা করা। ইসলামের এ সমস্ত ইবাদত পৃথিবী এবং মানুষের বাস্তব রূপান্তর, যে উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে খোদ কুরআন<sup>১৬</sup>, পৃথিবীস্বরূপ আল্লাহর জমিদারীতে রায়ত এবং কৃষকের বাস্তব খিদমত, মরুভূমিকে খুটি করে উপনিষদীয় গুরুর, তথা সন্যাসীর, শারীরিক কসরত, তথা যোগ সাধন নয়, কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের আত্মনিঃগ্রহ, বিশ্বের অস্বীকৃতি এবং ইতিহাস প্রত্যাখ্যান নয়!</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>গ</strong><strong>. </strong><strong>আমলের</strong> <strong>ইজমা</strong> <strong>বা</strong> <strong>কার্যের</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>কার্যক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখিত সমস্ত প্রস্তুতির চূড়ান্ত শীর্ষ হচ্ছে ইজমা আল-আমাল। এ হচ্ছে ইজমা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠা ঔচিত্যের রূপ। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা ইজমা-ইজতিহাদ দ্বন্দের চিরন্তন গতিশীলতার মতই কখনো নিঃশেষ হতে পারেনা। মানুষকে তার বেহেস্তের অধিকার অর্জনের প্রয়াসে, দেশকালের মধ্যে আল্লাহর ইচ্ছাকে বাস্তাবায়িত করা এমন একটি প্রয়াস কেবল বিচার দিবসই যাতে যতি টানতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উম্মাহর বৈষয়িক চাহিদাগুলো পুরণের ব্যবস্থা, এর প্রত্যেক সদস্যকে এমন একটি শিক্ষাদান যাতে করে তার পূর্ণ আত্মপরিচয় সম্ভব হবে; আরো রয়েছে উম্মাহর সফল প্রতিরক্ষার জন্য বৈদেশিক শত্রুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার বৈষয়িক ও নৈতিক উপায়ের ব্যবস্থা করা এবং তৎসহ সারা পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় রূপায়ণের জন্য নৈতিক ও বৈষয়িক উপায়ের ব্যবস্থা।</p>
<p>আল্লাহর অভিপ্রায়ের সার নির্যাস হচ্ছে, উম্মাহর বৈষয়িক চাহিদা পুরণ এবং সে কারণে তা ধর্মেরও মর্মকথা। যেহেতু তার খিদমত করার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন<sup>১৭</sup> এবং আল্লাহর জমিনে রায়ত-কৃষকের মত এই দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন<sup>১৮</sup>&#8211; তাতে করে ইহা অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ চান মানুষ জমি চাষ করবে, প্রকৃতির উপাদান এবং শক্তিগুলোকে ব্যবহার করবে এবং তার খুশীমত সভ্যতার বিকাশ ঘটাবে<sup>১৯</sup>। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে গিয়ে কুরআন দারিদ্রকে শয়তানের অঙ্গীকার বলে বর্ণনা করেছে<sup>২০</sup>। এবং ধর্মের সঙ্গে ক্ষুধার্তের খাদ্য দান এবং দুর্বলের রক্ষণকে অভিন্ন গণ্য করেছে<sup>২১</sup>। বিশেষ করে মানুষ যখন আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব পালন করে<sup>২২</sup>, তখন মানুষের খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের স্বাভাবিক প্রতিফল এই যে, সে সৃষ্টির মাধুর্য এবং আনন্দ উপভোগ করবে। মেসোপটেমীয় দৃষ্টিতে মানুষের সৃজনের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আল্লাহর জমিনে স্থাপন করা হয়েছে, তাঁর ভৃত্য হিসাবে। কিন্তু মানুষের এই সৃজন কর্মই হচ্ছে সংঘবদ্ধ কৃষিকর্ম, বাঁধ তৈরী, সেচ এবং পানি নিষ্কাশন, খাল খনন, শষ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের জন্য, পিরামিড, মন্দির নির্মাণ, লিখন ও হিসাব রক্ষণ পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গ্রাম-সরকার, নগরী, প্রদেশ, জাতি এবং বিশ্ব পর্যায়ে সরকার প্রতিষ্ঠার সূচনা। সংক্ষেপে আল্লাহর এই সৃজন কর্মই হচ্ছে বিশৃংখলা থেকে সৃষ্টিকে শৃংখলার অধীনে আনয়ন এবং শৃংখলাবদ্ধ জগতের সৃষ্টি<sup>২৩</sup>।</p>
<p>সেমিটিক মন কখনো সংসারত্যাগীর সংসার বর্জন বা আত্মনিগ্রহের অর্থ বুঝতে সক্ষম নয়, ইহা কখনো কাম ও প্রজনন, খাদ্য ও আরাম আয়েশকে স্বাভাবিক পাপ বলে গণ্য করেনা। এর দৃষ্টিতে পাপ হচ্ছে এসবের অপব্যবহার, কখনো প্রকৃতির বিষয় হিসাবে এগুলো পাপ নয়। খ্রীষ্টান ধর্ম বস্তুর সকল ভীতিসহ যে গ্নষ্টিক (gnostic) ঐতিহ্যকে উত্তরাধিকারস্বরূপ গ্রহণ করে, তাই খ্রীষ্টান আন্দোলনে সংসার বর্জন ও আত্মনিগ্রহরে বীজ বপন করে। ইসলাম অবশ্যই শ্রম বা উপবাসের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দুটিঃ আত্মসংযমের অনুশীলন এবং অভাবগ্রন্থের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি। একই আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর খাদ্য, পানীয় এবং আনন্দের মাধ্যমে অবশ্যই ভাঙতে হবে রোজা।</p>
<p>খলিফাকে যদি মানুষের বৈষয়িক চাহিদা অবশ্যই পূরণ করতে হয় যা প্রত্যাশা করা হয় খলিফার কাছ থেকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে মানুষের এই বৈষয়িক চাহিদা কি পরিমাণ হলে যথেষ্ট হবে। ন্যূনতম চাহিদা সহজেই নির্ণয় করা যায়; সে চাহিদা হচ্ছে সকল মানুষের জন্য দুর্ভিক্ষ, ব্যাধি এবং শিশু মৃত্যুর প্রকোপ থেকে রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন তাই হচ্ছে ন্যূনতম চাহিদা, কিন্তু সর্বোচ্চ চাহিদা নির্ণয় করা অসম্ভব, কেননা প্রকৃতির ব্যবহারের সীমা অথবা প্রকৃতির খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়না। এদুটিই হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য, আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতি বা তার পদ্ধতির মধ্যে যে নিয়ম প্রবর্তন করেছেন সেগুলোর উপর মানুষের কর্ম প্রসারণশীল কর্তৃত্বের বিষয়<sup>২৪</sup>। কুরআন আমাদেরকে জানাচ্ছে আসমানে এবং জমিনে যা কিছু আছে সমস্তই আমাদের কল্যাণের জন্য। রাসুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;যে কেউ রাত্রে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে যখন তার একদিনের পথে কোথাও একটি মাত্র মানুষও ক্ষুধার্ত থাকে, সে আল্লাহকে কষ্ট দিয়েছে।&#8221;</p></blockquote>
<p>এবং দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রাঃ) ঘোষণা করেছিলেন</p>
<blockquote><p>&#8220;আমি ভয় করি যে, বিচার দিবসে নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে দায়ী করবেন, প্রত্যেকটি খচ্ছরের জন্য যা হোচট খায় বা পড়ে যায়, খিলাফতের সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মেরামতহীন ভাঙ্গাচুড়া রাস্তায়<sup>২৫</sup>।&#8221;</p></blockquote>
<p>নিশ্চয়ই ইসলাম অন্য সকল ধর্মের মতই দান খয়রাতের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম দান খয়রাতকে বলে সাদাকা (শাব্দিক ভাবে যার অর্থ হচ্ছে সত্যপরায়ণতার একটি খন্ড) যার দ্বারা ইসলাম একে একজনের ঈমানের সত্যতার অভিব্যক্তি এবং সূচক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু সকল ধর্মের চাইতে স্বতন্ত্রভাবে ইসলাম ব্যবস্থা করেছে যাকাতের, যা বার্ষিক শতকরা আড়াই ভাগ হিসাবে একটি সম্পদ কর এবং তা আদায় করা হয় রাষ্ট্রীয় আইনের অনুমোদনক্রমে। ইসলাম যে একে যাকাত বলে (মাধুর্য বা মিষ্টতা) এর দ্বারা ইসলাম বোঝাতে চায় যে, আমরা যদি আমাদের সম্পদে আমাদের সঙ্গী সাথীদের অংশীদার না করি, তাহলে বছরে সে সম্পদ হয়ে উঠে তেতো। অধিকন্তু ইসলাম বঞ্চিতদেরকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তাদের জন্য ভিক্ষা, দান বা অপমানজনকভাবে ছুঁড়ে মারা কোনো রুটীর টুকরো নয়, বরং এ হচ্ছে বিত্তবানের সম্পদ তাদের হক, তাদের অধিকার<sup>২৬</sup>। ইসলাম একচেটিয়া ব্যবসা যেমন নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি নিষিদ্ধ করেছে মজুতদারী এবং মানুষের উপর মানুষের শোষণের প্রধান হাতিয়ারস্বরূপ সুদকে উচ্ছেদ করেছে<sup>২৭</sup>। পক্ষান্তরে যেখানে ইচ্ছা এবং সর্বত্র আল্লাহের অনুগ্রহ সন্ধানের জন্য মানুষকে নির্দেশ দিয়েছে<sup>২৮</sup>। এদেরকে সেই প্রকৃতপক্ষে অনুগ্রহ প্রাচুর্যের সন্ধানে দেশ দেশান্তরে যেতে বলেছে, তলে আল্লাহর নৈতিক বিধানের আওতায়- বিশ্বাসঘাতকতা, প্রবঞ্চনা, চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন বা লুটপাট না করে এবং এভাবে একবার প্রাচুর্য অর্জনের পর সেই বিপুল সম্পদের কোন অংশ কিংবা তার বহুগুণ বৃদ্ধিতে যাকাত প্রদান করে তিক্ততা দূর ক&#8217;রে মধুর করে তুলতে হবে। এবং এভাবে সাদাকাত দ্বারা এই বৃত্তির অধিকারীর সত্যবাদিতা প্রমাণ করতে হবে<sup>২৯</sup>।</p>
<p>উম্মাহর প্রত্যেকটি সদস্য যাতে পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ামত অর্জন ও ভোগ করতে পারে তার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করাই অবশ্য খিলাফতের দায়িত্ব। কিন্তু এই লক্ষ্য, মহৎ এবং আবশ্যক হলেও যে মুহুর্তে একে মানব জীবনের একমাত্র বা চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে গণ্য করা হয় তখনই তা পর্যবসিত হয় তাহা পাশবিকতায় এবং অধঃপতনে, যাতে মানুষের ব্যক্তিত্বের ঘটে বিকৃতি এবং গোটা ঐশী অভিপ্রায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা<sup>৩০</sup>। মানুষের বৈষয়িক প্রয়োজনগুলো নির্দোষ এবং বস্তুতই উত্তম; সম্ভাব্য উচ্চতম মাত্রায় এগুলোর পরিপূরণ আবশ্যক। কিন্তু জীবনের গোটা বৈষয়িক দিকটি যেগুলো রক্ষা করবে, সেগুলো ব্যক্তি বা সমগ্রভাবে উম্মাহর আধ্যাত্মিক মর্মের উপায় বা বাহন মাত্র। বৈষয়িক অর্জনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে গণ্য করার মানে হচ্ছে আধ্যাত্মিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা।</p>
<p>এ হচ্ছে এরূপ দাবীরই নামান্তর যে, আধ্যাত্মিকতা হচ্ছে একটি শূন্য বিষয়, আচার অনুষ্ঠান ও মনস্তাত্বিক আত্মরূপান্তরের দেহ বিযুক্ত জীবন, যা বস্তুগত জীবন অনুসন্ধানের বিকল্প ইসলামে আধ্যাত্মিক জীবন হচ্ছে তিনটি পর্যায়ের, যা একই সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। এর প্রথম পর্যায়টি হচ্ছে, উম্মাহর সাধারণ বৈষয়িক কাজকর্মে ব্যক্তির অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে মানুষের নিজের বৈষয়িক প্রয়োজনকে উম্মাহর কাজকর্মের প্রয়োজনের অধীনে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় স্তরটি হচ্ছে দুটি পর্যায়ে নিজের এবং অন্যদের শিক্ষার জন্য প্রয়াস; যেমন প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব মানুষের জন্য প্রকৃতির ব্যবহারকে অধিকতর সম্ভব এবং সহজসাধ্য করে তোলে; এবং ইজমা ইজতিহাদের দ্বান্দ্বিকতা হয়ে উঠতে পারে গতিশীল, সৃজনধর্মী এবং ঐশী অভিপ্রায়ের আরো উঁচু হতে উঁচুতর ক্ষমতার স্তর পর্যন্ত পৌছুতে পারে। তৃতীয় স্তরটি হচ্ছে নন্দনতাত্বিক সৃষ্টি, যাতে উম্মাহর আকুতি এবং জীবনরূপ পায়- কারণ উম্মাহ মূল্যবান বা ঐশী অভিপ্রায়কে বাস্তব এবং রূপায়িত করে তুলে ইতিহাসের পরিক্রমায়।</p>
<p>ইজমা ইজতিহাদের (উৎপাদনের মতৈক্য) দ্বিতীয় উপাদান হচ্ছে উম্মাহর প্রত্যেক সদস্যের জন্য এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করা যার বদৌলতে পূর্ণ আত্মপরিচয় অর্জন সম্ভব হয়<sup>৩১</sup>। আল্লাহর বান্দা হিসাবে কোনো ব্যক্তি তার পেশাকে উপলদ্ধি করেনা, যদিনা তার ব্যক্তিগত সম্ভাবনা ও ক্ষমতার চূড়ান্ত বিকাশ ও সম্ভাব্য পূর্ণতম ব্যবহার হয়। এধরনের ব্যক্তি নিজেকে অসুখী বলে মনে করবেনা এবং এধরনের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি ব্যর্থ সমাজ হবেনা, কিন্তু মেধার পূর্ণ ব্যবহার না হলে, শক্তি অব্যবহৃত থাকলে এবং উৎসাহ উদ্দীপনা অপূর্ণ থাকলে, উম্মাহর গন্ডীর বাইরে আত্মউপলব্ধির প্রলোভন অথবা খিলাফতকে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ব্যর্থ করার প্রবণতা থেকেই যাবে। খিলাফতকে দুটিই করতে হবে: &#8220;প্রয়োজন সৃষ্টি করা অর্থাৎ সদস্যদের মধ্যে সত্য সম্ভাবনা জাগ্রত করা এবং সেগুলোর পরিপূরণের উপায়ের ব্যবস্থা করা।&#8221; যদি পূর্বোক্ত ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হয় সে পাবে এমন একটি উম্মাহ যা অজ্ঞ এবং অজাগ্রত ও অর্বাচীন লোকদের নিয়ে গঠিত, যদি দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হয়, তাহলে তা দেশ ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে শূন্য ও ধ্বংস করার পথ উম্মুক্ত করে দেবে, অথবা অভ্যন্তরীণ নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ এবং বিদেশীদের শোষণের মাধ্যমে আত্মবিনাসের পথ উন্মুক্ত করে দেবে।</p>
<p>উৎপাদনের ঐকমত্য চরিতার্থ করার জন্য খেলাফত অবশ্যই উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবে, শত্রুর আক্রমণ থেকে উম্মাহর কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য, প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করবে<sup>৩২</sup>। কোনো সদস্যই স্বেচ্ছাসেবী নয়। বরং সকলেই বাধ্যতামূলকভাবে তালিকাবদ্ধ সৈনিক, যখন উম্মাহর মূল অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে, অথবা যখন পৃথিবীতে আল্লাহর বাণীকে সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তাদের সার্ভিস প্রয়োজন।</p>
<p>চূড়ান্ত বিশ্লেষণে ইজমা আল-আমালের এই দিকটির দ্বারাই উম্মাহর সর্বোচ্চ সাফল্য স্থিরীকৃত হয়, অর্থাৎ পৃথিবীকে ইসলামের জীবন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করায় এর অবদান নির্ণিত হয়। পেশা বা বৃত্তির এই দিকটি উম্মাহকে সেই স্তরে উন্নীত করে যেখানে পৌঁছানোর পর সে মানুষের ইতিহাসের এবং বিশ্ব ইতিহাসের মোকাবেলা করতে পারে। এই পর্যায়ে উম্মাহর সাফল্য হচ্ছে আল্লাহর দৃষ্টিতে উম্মাহর চূড়ান্ত যৌক্তিকতা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>২</strong><strong>. </strong><strong>তৌহীদ</strong> <strong>এবং</strong> <strong>রাজনৈতিক</strong> <strong>ক্ষমতা</strong></h4>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ক</strong><strong>. </strong><strong>ইসলাম</strong> <strong>ও</strong> <strong>মুসলিম</strong> <strong>বিশ্ব</strong><strong>: </strong><strong>দুঃখজনক</strong> <strong>কতগুলো</strong> <strong>বাস্তবতা</strong></p>
<p>মুসলিম বিশ্ব আল্লাহর পৃথিবীতে আল্লাহর কালামকে সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি মহাসম্ভাবনাপূর্ণ শক্তি, কেননা এই মুহুর্তে মুসলিম বিশ্বে বাস করছে আটলান্টিক থেকে পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে, একশত কোটির বেশী মানুষ এবং তা এখন ইউরোপ এবং আমেরিকাতে শিকড় গাড়তে ও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তার নিজের জন্য এবং পৃথিবীর জন্য এটি একটি দুর্ভাগ্যের বিষয় যে আল্লাহর অভিপ্রেত লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্ব এখনো তার ক্ষমতার বিকাশ ও ব্যবহার থেকে দূরে। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিশ্ব তার নিজের ক্ষমতা, নিজের বিকাশের জন্য প্রয়োগ, স্বদেশে তার ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যর্থ প্রয়াস ও অমুসলমানদের স্বার্থে গঠনমূলক প্রচেষ্টায় সেই সব শক্তির অপচয়ের মধ্যে একটি অনিশ্চিত ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।</p>
<p>মুসলিম দেশগুলোর সংবিধানের অধিকসংখ্যকই ঘোষণা করে যে, রাষ্ট্রের ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। কেবলমাত্র একটি দেশই, সৌদি আরব, এই ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে, যার লক্ষণ হচ্ছে রাষ্ট্রে শরীয়াহর কার্যকরণ। অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো কিছু সংখ্যকের, যেমন- পাকিস্তান ও কুয়েতের স্থান এর পরেই, কারণ এই সব দেশের সংবিধান ঘোষণা করেছে, ইসলাম হচ্ছে রাষ্ট্রের এবং উম্মাহর মূল শর্ত, তবে এর সঙ্গে তারা যোগ করেছে পাশ্চাত্য বর্ণনামূলক এসব ধারণা যে, তারা যে জাতি বা রাষ্ট্র এর কারণ তারা একটি জাতি গোষ্ঠী, একটি অঞ্চল এবং সার্বভৌমত্ব সমবায়ে তাদের জাতি বা রাষ্ট্র গঠিত, এটি এমন একটি বিবেচনা যাতে অপরিহার্য শর্ত হিসাবে ইসলাম অসম্পূর্ণ বলে গণ্য। তৃতীয় শ্রেণীর রাষ্ট্রগুলো যেমন মিশর, মরক্কো এবং সুদান ইত্যাদি। যারা ইসলামকে কেকের উপর বরফের একটি আবশ্যক আস্তর বলে গণ্য করে, যে কেকটির অন্তর্গত কাঠামো এবং বিন্যাস গঠিত পাশ্চাত্যের ধ্যান ধারণার দ্বারা, ইসলামী ধ্যান ধারণার দ্বারা নয়। জাতীয়তাবাদ নামক এক নতুন শুউবীয়া বা গোত্রবাদ পাশ্চাত্য ধরনের (রক্ত এবং মাংসের) রোমান্টিসিজম দ্বারা নির্ধারিত হয় অভিবাসন, এবং ন্যাচারালাইজেসনের আইন কানুন, নেতাদের সক্রিয় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ও অন্যান্য শিক্ষিত শ্রেণীর জীবন আচরণের রূপ এবং নিজেদের সামাজিক প্রতিকৃতি যা জনগণের শিক্ষা এবং প্রেরণার জন্য পরিকল্পিত ও প্রচারিত হচ্ছে। এমন কোন মুসলমান দেশই নেই যা মদীনায় রাসুল্লাহর সমগ্র সময়ে মহানবীর সমাজ যে নিরবিচ্ছিন্ন মবিলাইজেশন ও সতর্ক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে সেই মবিলাইজেশন ও সর্তকতার মধ্যে নিজেকে পরিচালিত করেছে। এবং সম্ভবত মুসলিম বিশ্বের সবচাইতে নিকৃষ্ট দিক হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে তার দেউলিয়াপনা। এমন কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব কোথাও নেই যা পাঁচ বছর বয়স্ক মুসলিম শিশুর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তার সম্ভাবনাপূর্ণ বিকাশে তাকে উম্মাহর নিকট প্রত্যর্পণ করে। পৃথিবীকে রূপান্তরিত করার জন্য মুসলিমদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণের কোন সুযোগ সুবিধা আমাদের নেই- সে সুযোগ সুবিধা নেই ঐশী নক্সার আদলে উপাদান উপকরণকে রূপ দেওয়ার এই চেতনায় যে, সেই ঐশী নক্সাই হচ্ছে তার ব্যক্তিগত জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। পি. এইচ. ডি অথবা এম. ডি. গ্রাজুয়েটদের মোট সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষিত ইমিগ্রান্ট এবং হতাশ বসবাসকারীদের হার ভয়ংকরভাবে অনেক উচ্চে, এর পরিসরের অন্যপ্রান্তে শিক্ষিতদের সঙ্গে অশিক্ষিতদের সর্বোচ্চ হার আতংকজনক।</p>
<p>মুসলমানরা যে দীর্ঘদিনের নিদ্রা থেকে জেগে উঠতে শুরু করেছে তাতে বিচলিত হবার কিছু নেই, তাদের সমাজগুলো আর্থিক সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে যে দুর্বল অথবা তাদের রাষ্ট্রগুলো যে নিষ্ক্রীয়তা ও আলস্য থেকে পৃথক ধ্বনি তুলে এলোমোলোভাবে পা ফেলে দাঁড়াচ্ছে তাতেও বিচলিত হবার কিছু নেই। বিচলিত হবার বিষয় হচ্ছে উম্মাহর এই মুহূর্তে বর্তমান ও ভবিষ্যতের এই সন্ধিকালে মুসলিম নেতাদের উম্মাহ সম্পর্কে দূরদৃষ্টির অভাব। আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে এই দূরদৃষ্টির অভাবের ফল এবং ইসলামী নাগরিকদের গড়ে তোলার চেষ্টার সম্পূর্ণ অভাব, যে নাগরিকেরা ইসলামী আদর্শের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কারণ সে একবিংশ শতাব্দীতে নিজের পরিচয় সম্পর্কে সজাগ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>খ</strong><strong>. </strong><strong>রাজনৈতিক</strong> <strong>ক্ষমতার</strong> <strong>প্রতিশ্রুতি</strong></p>
<p>কোনো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুসলিমই এই শতাব্দীতে উম্মাহর দুঃখজনক ব্যর্থতাগুলো সম্পর্কে মুসলিম রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত যে সব কৈফিয়ত দিয়ে থাকেন, সেগুলো বোঝেনা বা গ্রহণ করেনা এবং কেউ এ যুক্তি গ্রহণ করেনা যে, খিলাফতের নেতাদের উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বেই জনতার মধ্যে থেকেই আসতে হবে। যে এলিট শ্রেণীর এ বিষয়ে উৎকৃষ্টতর জ্ঞান আছে নিশ্চয়ই তাদের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তারা সংখ্যায় প্রচুর। ইতিহাসের এই মুহূর্তে যা প্রয়োজন মুসলিম উম্মায় ইচ্ছা-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে গতিশীল করে তোলা। এবং কেবল তখনই তা সম্ভবপর হতে পারে, যখন নেতারা প্রস্ততি গ্রহণ করবেন, কর্তা হিসাবে ইতিহাসের গতিধারায় হস্তক্ষেপের বিপজ্জনক ভূমিকায়, এর বোগী বা কর্ম (object) হিসাবে নয়<sup>৩৩</sup>।</p>
<p>মুসলিম উম্মাহ কর্তৃক ইতিহাসে হস্তক্ষেপের সূচনা হয় গৃহেই, খিলাফতকে নির্মাণ করার ধৈর্য্যপূর্ণ অবিচলিত প্রয়াসের মাধ্যমে যা বর্তমান কোন মুসলিম রাষ্ট্রেই বিদ্যমান রয়েছে বলে মনে হয়না। যেখানে নোঙ্গর ফেলতে হবে তার একটি সাময়িক বুনিয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই খিলাফতকে অবশ্যই সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে মবিলাইজ করার জন্য চেষ্টিত হতে হবে, এবং মার্চ করে অগ্রসর হবার জন্য ডাক দিতে হবে। এই উদ্দেশ্য পুরণের জন্য খোদ খিলাফতের বিলুপ্তি ছাড়া আর কোন প্রয়াসই বাহুল্য বলে গণ্য হওয়া উচিত নয়। খিলাফতের কর্মচারী ও পরিচালকদেরকে কোরবান করা যেতে পারে বা কোরবানী করা উচিত, যদি কোরবানী ছাড়া অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতি সম্ভব না হয়। যে মুহূর্তে উম্মাহ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়াবে সেই মুহূর্তে আবু বকরের খিলাফত আবার আয়ত্বে এসে যাবে আর তা হবে সর্বকালের মহত্তম মুহূর্ত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>টীকা:</strong></p>
<p>১. তোমাদের এই উম্মাহ এক, ঐক্যবদ্ধ এবং অবিভাজ্য এবং আমি তোমাদের রাব্ব, তোমরা আমার বন্দেগী কর (২১: ৯২)।</p>
<p>২. (মানবজাতি ক্ষতিগ্রস্থ) তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, একে অপরকে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং ধৈর্য্যশীল হতে আদেশ করেছে (১০৩: ৩)- যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং ধৈর্য্য ও দয়া দাক্ষিণ্যের নির্দেশ দেয় (৯০: ১৭)।</p>
<p>৩. আল্লাহ রজ্জু দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা, স্মরণ কর তার অনুগ্রহের কথা, তোমাদের মিলনের কথা, যখন তোমরা ছিলে একে অপরের শত্রু এবং তোমরা হয়ে উঠলে পরস্পরের ভাই এবং যখন তোমরা ধ্বংসের অতল গহ্বরে কিনারে উপনীত হয়েছিলে এবং তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছিলেন, এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান তার নির্দশন, যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার (৩: ১০৩)।</p>
<p>৪. তোমাদের মধ্য থেকে একটি উম্মাহ্ হউক, যে সৎকাজের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দিবে, মন্দ কাজ নিষেধ করবে। প্রকৃতপক্ষে তারাই সফলকাম (৩: ১০৪)।</p>
<p>৫. আল্লাহ এবং তাঁর নবীকে মেনে চল, যদি তোমরা প্রকৃতই মুমিন হও (৮: ১)।</p>
<p>৬. আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই মহত্তম তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে পুণ্যব্রতী, সবচেয়ে সদাচারী (৪৯: ১৩)।</p>
<p>৭. তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর সৎকর্মে ও পুণ্যকাজে, মন্দকর্মে ও সীমা লংঘনে নয় (৫: ২)।</p>
<p>৮. খিলাফাহ, খুলাফাহ, খালায়েফ, ইয়াস্তাখলিফুকুম প্রভৃতি শব্দগুলোর দ্বারা কুরআনের আয়াতে এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>৯. তোমাদের মধ্য থেকে একটি উম্মাহ্ হউক যে সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কর্ম বারণ করে, প্রকৃতপক্ষে তারাই সফলকাম (৩: ১০৪)।</p>
<p>১০. ইসলামী আইন-কানুনের কংক্রীট রূপদান ও বাস্তবায়নের এই ত্যাগীদের ইসলামে এবং ইউটোপিয়াবাদী ধর্মগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীতে, একটি বাস্তব ধর্ম হিসেবে ইসলাম খ্যাতি অর্জন করে।</p>
<p>১১. ইসলামে জনকণ্ঠ বা জনমতকে কখনো আল্লার কণ্ঠের সমান গণ্য করা হয়নি, বরং জনকণ্ঠ বা জনমত সবসময়ই আল্লাহর নির্দেশের অনুবর্তি ও অধীনে রয়েছে, জনমত যখন আল্লাহর আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তখনই তা বাধ্যতামূলক এবং যখন আল্লাহর বাণী থেকে ভিন্নপথ অবলম্বন করে তখনই তা নিন্দনীয় হয়।</p>
<p>১২. Abd al Rahman ibn Khaldun. Al Muqaddimah (Cairo: Matbaut Mustafa. Muhammad n.) pp. 127 if.</p>
<p>১৩. দেখুন এই গ্রন্থকারের (Christion Ethics Chap 1 VII Urubah and Religion pp. ff</p>
<p>১৪. তোমরা রবের পথের দিকে আহ্বান কর, প্রজ্ঞা ও শোভন প্রচারের মাধ্যমে, অবিশ্বাসীদের সঙ্গে সংলাপে সবসময় শ্রেষ্ঠতর এবং শোভনতর যুক্তি উত্থাপন কর (১৬: ১২৫)।</p>
<p>১৫. শাসকের বৈধ সমালোচনাকে উৎসাহিত করার জন্য মহানবী বলেছেন, &#8220;যে কেউ শাসকের জবাবদিহি বাধ্য করার প্রয়াসে মারা যায়, সে শহীদের মৃত্যুবরণ করে&#8221; এবং কোন জাতি যখন দেখে একটি শাসক জবরদাস্ত স্বৈরশাসন চালাচ্ছে এবং তাকে থামাবার জন্য চেষ্টা করছেনা তখন সে জাতি এমন একটি অপরাধ করে যার জন্য সে আল্লাহর কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়ে।</p>
<p>১৬. আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করে (১৩: ১১), তারাই সদাচারী যারা পৃথিবীতে তাদেরকে ক্ষমতা দেওয়া হলে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয়, সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং মন্দকর্ম নিষেধ করে, চূড়ান্ত পর্যায়ে সমস্ত কিছুর প্রত্যাবর্তন আল্লাহর নিকট (১২: ৪১)।</p>
<p>১৭. আমি জ্বীন এবং মানবজাতিকে আমার ইবাদত ছাড়া জন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি (৫১: (৫১:৫৬)। ৫৬)।</p>
<p>১৮. হে জনগোষ্ঠী, আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদেরকে স্থাপন করেছেন যাতে তোরা পৃথিবীতে বাস করতে পার। অতএব তার ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর নিকট অনতাপ কর, তিনি হচ্ছেন প্রভু, তিনি নিকটেই আছেন এবং তিনি দয়ালু (১১: ৬১)।</p>
<p>১৯. যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করবেন যেমন তিনি দিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে তিনি তাদের নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছিলেন তাদের সেই ধর্মকে শক্তিশালী করবার জন্য তিনি কথা দিয়েছিলেন এবং তাদের আতংক ও নিরাপত্তহীনতাকে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তায় পরিণত করতে। তদের কাজ হচ্ছে তাঁর ইবাদত করা এবং কোনো কিছুতেই তাঁর শরীক না করা, যারা ঈমান আনেনা তারা অন্যায়চারী (২৪: ৫৫)।</p>
<p>২০. দারিদ্র হচ্ছে শয়তানের প্রতিশ্রুতি, শয়তান তোমাদেরকে অশ্লীল ও পাপকর্ম করতে নির্দেশ দেয়, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন, তার দয়া ক্ষমা ও অনুগ্রহের, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি প্রাচুর্যময় (২: ২৬৮)।</p>
<p>২১. তুমি কি দ্বীনের অস্বীকারকারীেেদর দেখেছো, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি সে এতিমকে গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়, যে মিসকিনকে খাদ্য দানে নির্দেশ দেয়না (১০৭: ১-৩)।</p>
<p>২২. বল হে মোহাম্মদ, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা দিয়েছেন, কে তা নিষিদ্ধ করেছে? বল, এই পৃথিবীতে এগুলো মুমিনদেরই জন্য এবং পরকালে তারা এগুলো উপভোগ করবে। এরূপে আল্লাহ জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন (৭: ৩২)।</p>
<p>২৩. Pritchard. Ancient Near Eastern. Tests 60.</p>
<p>২৪. আসমানে এবং জমিনে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুই তোমাদের অধীন করেছেন। যারা চিন্তা করে এবং বিচার করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন (৪৫: ১৩) আল্লাহই তোমাদের জন্য ধরিত্রীকে করেছেন বশীভূত, তোমাদের উদ্দেশ্য সাধন ও কর্মের জন্য তাই পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে ভক্ষণ কর এবং স্মরণ রাখ যে তার কাছেই তোমাদের ফিরতে হবে (৬৭:১৫)।</p>
<p>২৫. Mohammad Husayn Haykal-Al Faruq Umar (Cairo Matbaat Misr 1364) Vol. 2 p. 200.</p>
<p>২৬. এবং তারা তাদের সম্পদে দরিদ্র ও বঞ্চিতের অধিকার স্বীকার করে (৫১: ১৬)।</p>
<p>২৭. (দুর্ভাগ্য তাদের) যারা সম্পদ পুঞ্জীভূত করে এবং মনে করে যে, তাদের সম্পদ অমরতা দান করবে (১০৪: ২-৩) আল্লাহ ক্রয় বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন (২০২: ২৭৫) ২৮. যখন সালাত সম্পন্ন হয়, তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং</p>
<p>আল্লাহকে বার বার স্মরণ কর যাতে তোমরা প্রকৃতই সফলকাম হতে পার (৬২: ১০)। (হে মোহাম্মদ) তাদের থেকে একটি অংশ গ্রহণ কর অভাবগ্রস্থকে দেবার জন্য। এবং তাতে তাদের অন্তরের সৎকর্মশীলতা দৃঢ় হবে। তাদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা কর, তাদের জন্য তোমার প্রার্থনা, তাদের জন্য সৃষ্টি করবে আত্মবিশ্বাস, কারণ আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৯: ১০৩)।</p>
<p>২৯. যাকাতের আদেশ বিষয়ক কুরআনের আয়াত অসংখ্য। দেখুন Barakat. Al Murshid&#8230; Zakah. বিশেষ করে কুরআন ৯: ১০৩)।</p>
<p>৩০. প্রকৃতপক্ষে অন্য মূল্যগুলোকে বাদ দিয়ে কোনো একটি মূল্যের অনুসরণ হচ্ছে সেই মূল্যের উপর একটি জুলুম। একচ্ছত্র শাসন এই ধরনের কোনো একটি মূল্যের অনুসরণে বাড়াবাড়ি যা মূল্য অনুসরণের প্রয়াস এবং তার উদ্দেশ্য দুটিকেই দুষিত করে এবং সেগুলোকে মূল্যহীন করে তোলে।</p>
<p>৩১. পাঠ কর তোমার রবের নামে যিনি স্রষ্টা (৯৬: ১)&#8230; পাঠ কর তোমার প্রভু মহিমান্বিত, তিনি লিখতে শিখিয়েছেন, তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে আগে কখনো জানতনা (৯৬: ৩-৫)। মুমিনগণের একসঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়, তাদের কিছু সংখ্যকের উচিত ধর্মের অনুসরণের জন্য এবং এর নিয়ম কানুন আদেশ নিষেধের চর্চার জন্য গৃহে অবস্থান করা কারণ তাদের সাথীরা যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তাদেরকে শিক্ষাদানের জন্য তদের প্রয়োজন হবে, যেন তারা পাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে (ধর্মের নির্দেশ মত) (১: ১২২)।</p>
<p>৩২. তোমাদের সর্বশক্তি নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবার জন্য তৈরী হও। তোমাদের অশ্বারোহী যোদ্ধাগণকে এভাবে বিন্যস্ত কর, যাতে আল্লাহর শত্রুগণ এবং তোমাদের শত্রুগণ ভীত হয় এবং অন্যেরাও ভীত হ্যা, যাদের তোমরা হয়তো জাননা, কিন্তু আল্লাহ জানেন। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে যা কিছু ব্যয় কর, সমস্ত কিছুই তোমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তোমাদের পুরস্কারসহ এবং তোমাদের প্রতি অবিচার করা হবেনা (৮:৬০)।</p>
<p>৩৩. (হে বিশ্বাসীগণ) আল্লাহ যা ইতিহাসেই নির্ধারণ করেছেন তা ছাড়া আর কিছুই তোমাদের উপর আপতিত হবেনা, তিনি আমাদের রব, আমরা মুমিনগণ সবসময়ই তার উপর নির্ভর করবো। বল তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করছো (শাহাদাত এবং জান্নাত, অথবা যুদ্ধে বেঁচে থাকা এবং শত্রুর উপর বিজয়) এবং আমরা প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের শান্তি দিবেন সরাসরি নিজ পক্ষ হতে অথবা আমাদের হস্তের দ্বারা (৯: ৫১-৫২)।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> অধ্যাপক শাহেদ আলী।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14770</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম গাজ্জালীর বিখ্যাত গ্রন্থ মিশকাতুল আনওয়ার ও নূরের মেটাফিজিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গী</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-metaphysical-perspective-of-imam-ghazalis-famous-treatise-mishkatul-anwar-and-noor/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-metaphysical-perspective-of-imam-ghazalis-famous-treatise-mishkatul-anwar-and-noor/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. তাহসিন গরগুন]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 01 Jul 2024 11:07:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[বই পর্যালোচনা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14513</guid>

					<description><![CDATA[মিশকাতুল আনওয়ার গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়বস্তু হল সূরা নূরের ৩৫ নম্বর আয়াত। ইমাম গাজ্জালী উক্ত গ্রন্থে, ‘ আল্লাহ হলেন আসমানসমূহ ও যমিনের নূর” – এই আয়াতকে বাহ্যিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করার পর আয়াতের তাসাউফি ও দার্শনিক ব্যাখ্যাকে মিশকাত, যুজাজা, মিসবাহ, যয়তুন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মিশকাতুল আনওয়ার গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়বস্তু হল সূরা নূরের ৩৫ নম্বর আয়াত। ইমাম গাজ্জালী উক্ত গ্রন্থে, ‘ আল্লাহ হলেন আসমানসমূহ ও যমিনের নূর” – এই আয়াতকে বাহ্যিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করার পর আয়াতের তাসাউফি ও দার্শনিক ব্যাখ্যাকে মিশকাত, যুজাজা, মিসবাহ, যয়তুন তেল এবং গাছের উপর ভিত্তি করে করে আমাদের সামনে পেশ করেছেন।</p>
<p>উক্ত গ্রন্থে উজুদ /সত্ত্বাতত্ত্ব /অন্টোলজি সংক্রান্ত ব্যাখ্যাকে সিস্টেম্যাটিকভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর এই চিন্তাটি অনেক বেশী গুরুত্বের দাবীদার।</p>
<p>কেননা সোহরাওয়ার্দী, ইবনে আরাবী এবং উসমানী ধারার সকল আলেমগণ উজুদ /সত্ত্বাতত্ত্ব /অন্টোলজি – এর মত বিষয়টিকে ইমাম গাজ্জালীর এই সিস্টেম ও এই পরিভাষার উপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন।</p>
<p>এখানে ব্যবহৃত পরিভাষাটি ইমাম গাজ্জালী কর্তৃক উদ্ভাবিত কোন পরিভাষা নয়। মানুষের সামনে উজুদ বা সত্ত্বাতত্ত্বকে বোধগম্যভাবে তুলে ধরার জন্য তিনি এটাকে সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরেছেন। গ্রন্থটির কলেবর ছোট হলেও এতে আলোচিত বিষয়সমূহ অনেক বেশী গভীর।</p>
<p>ইমাম গাজ্জালী তাঁর এই গ্রন্থে উজুদ /সত্ত্বাতত্ত্ব /অন্টোলজি- কে তিনটি পর্যায়ে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমে তিনি সেই আয়াতের বাহ্যিক অর্থকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন, দ্বিতীয়ত তিনি সেই বিষয়টিকে কিছুটা দার্শনিক ও তাসাউফি দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে পেশ করেছেন। সবশেষে নূর ও জুলুমাত – এর বিভাজনকে আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করে অসাধারণ একটি দর্শন পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন।</p>
<p>এই গ্রন্থে মূল পরিভাষা হল, ‘নূর’। এটাকে সহজভাবে বুঝার জন্য আমরা নূর শব্দের পরিবর্তে উজুদ বা সত্ত্বাতত্ব শব্দটিকে ব্যবহার করতে পারি। তখন আমরা ইমাম গাজ্জালী যা বুঝাতে চেয়েছেন সেটার মুল বিষয়বস্তুকে ধরতে পারব।</p>
<p>নূরের মেটাফিজিক্স নামে উল্লেখিত মিশকাতুল আনওয়ার- এর আলোকে হাকিকী নূর হলেন আল্লাহ তায়ালা। নূর নামটি কেবলমাত্র অন্যকে রূপক অর্থে দেওয়া যেতে পারে হাকিকী অর্থে নয়। এই বিষয়টি এখানে তুলে ধরা হয়েছে।</p>
<p>এখানে প্রথম পর্যায় হল; নূরকে সাধারণ মানুষদের বোধগম্যতার পর্যায়কে সামনে রেখে ব্যাখ্যা করা, দ্বিতীয় পর্যায় হল; খাওয়াস তথা চিন্তাগত দিক থেকে একটু উপরে অবস্থানকারীদের বোধগম্যতার পর্যায়কে সামনে রেখে ব্যাখ্যা করা আর তৃতীয় পর্যায়ে এসে এটাকে খাওয়াসসুল খাওয়াস তথা চিন্তাগতভাবে যারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করেন তাঁদের বোধগম্যতার পর্যায়কে সামনে রেখে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই পর্যায়ে এসে হাকিকত সর্বোচ্চ নূর হিসেবে উদ্ভাসিত হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong>নূরের</strong> <strong>ব্যাখ্যা</strong></h3>
<p>সাধারণ জনসাধারণ মূলত ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করে থাকে। ইন্দ্রিয়-ই হল তাদের নিকট উপলব্ধির সবচেয়ে বড় মাধ্যম। আর এই ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হল দৃষ্টিশক্তি। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ তাঁর দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে উপলব্ধি বা বুঝার চেষ্টা করে। আর এই দৃষ্টির শক্তির সাথে সম্পর্কিত বস্তু/উপাদান/obejcts সমূহ হল তিন প্রকার,</p>
<p><strong>১। এমন বস্তু যা খালি চোখে দেখা যায় না, দেখার জন্য অন্য একটি আলোর মুখাপেক্ষী।</strong></p>
<p><strong>২। নিজেই নিজেই দৃশ্যমান তবে সেটার দ্বারা অন্য কোনকিছুকে দেখা যায় না। যেমন, তারকারাজি ও বিভিন্ন গ্রহ।</strong></p>
<p><strong>৩। নিজেও দৃশ্যমান আবার একই সাথে সেটার বদৌলতে অন্য বস্তুকেও দেখা যায়। যেমন, সূর্য, চন্দ্র, বাতি ও আগুন। এই তৃতীয় গ্রুপে উল্লেখিত উজুদ বা বিষয়কে ‘নূর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাহলে আমরা এ কথা বলতে পারি যে; ‘ চারপাশকে আলোকিতকারী উপাদান সমূহ হল নূর, আর সেই উপাদানকে তৈরিকারী উজ্জ্বলতাও হল নূর।</strong></p>
<p>কোন একটি বস্তুর কিংবা রঙের দৃশ্যমান হওয়ার জন্য যেমন আলোর প্রয়োজন একই সাথে চোখেরও প্রয়োজন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান মতে, কোন বস্তুকে দেখার অর্থ হলো ঐ বস্তুর উপর আছড়ে পড়া নির্দিষ্ট আলোক রশ্মির নির্দিষ্ট ঘনত্ব ও কোণে প্রতিফলিত আলোক প্রতিবিম্ব।এই একই বিষয় সাউন্ড বা শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কথা কিংবা আওয়াজ বা সাউন্ড আমাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত। মূলত যদি আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় না থাকে তাহলে অস্তিত্ব, অনস্তিত্ব, রং, গন্ধ, স্বাদ এবং কোমলতার মতো কোনো বৈশিষ্ট্যেরই কোনো অর্থবহতা থাকে না ।</p>
<p>অর্থাৎ, কোন অস্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ মূলত মানুষের ইন্দ্রিয় শক্তির উপর নির্ভর করে থাকে এবং তারা যে অনুপাতে এই ইন্দ্রিয়গুলি ব্যবহার করে তার উপর।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তবে এই বিষয়টি সমগ্র মানবতার প্রশ্নে আসলে সকল মানুষের নিকট মুতলাক/শর্তহীন –ভাবে প্রতিভাত হওয়া সম্ভবপর নয়। কেননা যাহির বা প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি আপেক্ষিক একটি বিষয়। কোন একটি বিষয় একজনের নিকট সুস্পষ্ট হলেও অন্যজনের নিকট অস্পস্ট হতে পারে। পরিবর্তনশীলতার এই বিষয়টি সম্বোধিত ব্যক্তির যোগ্যতার উপর নির্ভরশীল। এখানে কোন কিছুকে সুস্পষ্ট করার ও একে অপরের সাথে পার্থক্য করার যোগ্যতার বিষয়টি সামনে চলে আসে। একজন ব্যক্তি অনেক অর্থকে একে অপরের থেকে যতটুকু পৃথক করতে পারে এবং সুক্ষ্মাতিসুক্ষ্ম বিষয়কে যতবেশী বের করে আনতে পারে সে তত বেশী জ্ঞানী। যেমন, একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে একজন উদ্ভিদবিজ্ঞানী একটি বনের গাছসমূহকে ও সেই সকল গাছের বিশেষত্বকে অনেক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পারবে, এটা তার মধ্যেকার পার্থক্য করার যোগ্যতাকে প্রকাশ করে থাকে। এটা হল তার জ্ঞানের গভীরতা ও বিস্তৃতির প্রমাণ।</p>
<p>এখানে মজার বিষয় হল, এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তা মানুষের থেকে স্বতন্ত্রভাবেই আছে। তাঁদের অস্তিত্ব মানুষের অস্তিত্বের উপর নির্ভরশীল নয়। তবে মানুষ তার নিজের জ্ঞান ও যোগ্যতা আলোকে সেই সকল বিষয়কে একে অপরের থেকে আলাদা করে থাকে। এই অবস্থাটি মানুষের পার্থক্য করার যোগ্যতার আলোকে গভীরতা ও বিস্তৃতি লাভ করে।</p>
<p>এই বিষয়টিকে আমরা যদি মনীষীদেরকে সামনে রেখেও পরখ করতে পারি। বস্তুজগতে অস্তিত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ যেমন ব্যক্তির যোগ্যতার আলোকে গভীরতা লাভ করে, ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। আমরা যদি মানব সভ্যতার ইতিহাসকে পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাই যে, এক এক সমাজে এক এক ধরণের মনীষীগণ রয়েছেন। তারা যে সমাজে জন্ম নিয়েছেন বা বসবাস করেছেন তারা সেই সমাজে বা অঞ্চলে সমধিক পরিচিত। তবে সেই সকল মনীষীদের তুলনায় সমগ্র মানব ইতিহাসে আমরা যে ব্যক্তিকে সবচেয়ে বেশী ভালো জানতে পারি তিনি হলেন মুহাম্মদ (সঃ)। সমগ্র মানবতা তাঁকে চিনে ও চিনতে পারে। শুধু তাই নয় একই সাথে তিনি সমগ্র মানবইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যিনি সমগ্র মানব ইতিহাসেকে পরিবর্তন ও প্রভাবিত করে ভিন্ন এক দিকে ধাবিত করেছেন। হযরত পয়গাম্বর হলেন এমন একটি সৃষ্টি যিনি একই সাথে কামিল তথা পরিপূর্ণ আবার একই সাথে অন্য মানুষদের পূর্ণতার বিষয়টিও তাঁর অনুসরণের সমানুপাতিক। অর্থাৎ অন্য মানুষরা ততটুকুই পূর্ণতা লাভ করবে যতটুকু তাঁকে অনুসরণ করবে।</p>
<p>অর্থাৎ আমরা এই কথা বলতে পারি, হযরত পয়গাম্বর (সঃ) আমরা উপরে নূরের যে ত্রিমাত্রিক একটি শ্রেণীবিন্যাস করেছি সেই তিনটি-ই তার মধ্যে আছে। অর্থাৎ একই সাথে তিনি দৃশ্যমান আবার তাঁর মাধ্যমে অন্য কিছুও দৃশ্যমানকারী নূরের সমানুপাতিক। আমরা আমাদের নবীকে নূর সমূহের নূর হিসেবে নামকরণ করতে পারি। এর অর্থ হল, ইসলামী সভ্যতা যদি সামাজিক জীবনে অস্তিত্ববান থেকে থাকে তাহলে সেটার রূপদানকারী হলেন হযরত পয়গাম্বর (সঃ)। তাঁর প্রচারিত নূরের আলোতেই ইসলামী সভ্যতা সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রেও অস্তিত্ব লাভ করতে পেরেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong>তুলনাসমূহ</strong></h3>
<p><strong>এখন</strong> <strong>আসুন</strong> <strong>এমন</strong> <strong>উচ্চ</strong> <strong>পর্যায়</strong> <strong>নিয়ে</strong> <strong>আলোচনা</strong> <strong>করি</strong> <strong>যা</strong> <strong>চোখে</strong> <strong>দেখা</strong> <strong>যায়</strong> <strong>না</strong><strong>,</strong></p>
<p>কোন একটি বস্তুকে দেখার জন্য একই সাথে চোখ ও আলোর প্রয়োজন। যদি আলো না থাকে তাহলে চোখ দেখতে পায় না। আর যদি চোখ না থাকে তাহলে আলো দেখাতে পারবে না। সৃষ্টি বা অস্তিত্ত্বের উদ্ভাসিত বা বহিঃপ্রকাশ হওয়ার জন্য চোখ এতটুকু গুরুত্ত্বপূর্ণ কিন্তু চোখেরও অনেক ঘাটতি রয়েছে। যেমন চোখ অন্যকে দেখতে পেলেও নিজেকে দেখতে পারে না। দূরের কিংবা পর্দার আড়ালের কোন কিছু দেখতে পারে না, কোন কিছুর উপরিভাগ দেখতে পারে কিন্তু অভ্যন্তরীণ দিককে দেখতে পায় না। সৃষ্টির সকল কিছুকে নয় তবে এক অংশকে দেখতে পারে। সসীম বস্তুকে দেখতে পারে কিন্তু অসীমকে পরিগ্রহ করে দেখতে পারে না। শুধু তাই নয় মাঝে মধ্যে ভুলও দেখে। বড়কে ছোট হিসেবে, দূরের জিনিসকে নিকটের হিসেবে এবং স্থির বিষয়কে চলমান বিষয় হিসেবেও দেখতে পারে। এগুলো হল আমাদের চোখের সম্পূর্ণতা বা ঘাটতি। যদি এই সকল ঘাটতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে মুক্ত কোন চোখ থাকে আর সেটাকে যদি ‘নূর’ বলা হয় তাহলে কি সেটা সঙ্গতিপূর্ণ হবে না?</p>
<p>আমাদের জুমহুর বা অধিকাংশ চিন্তাবিদ এটাকে আকল বলে অভিহিত করেছেন আমিও তাঁদের সেই চিন্তাকে মেনে নিয়ে আকল-ই বলছি। চোখের তুলনায় আকল নূর নামে অভিহিত হওয়ার ক্ষেত্রে বেশী হকদার। কেননা আকল, চোখের তুলনায় সমগ্র সৃষ্টিতত্ত্বকে বুঝার ক্ষেত্রে সামগ্রিক একটি মাধ্যম। কেননা এর মাধ্যমে আমরা সৃষ্টিতত্ত্বের এমন অগণিত বিষয়কে জানতে ও বুঝতে পারি যার কোন তুলনাই হয় না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এখন</strong> <strong>আসুন</strong> <strong>এর</strong> <strong>পরবর্তী</strong> <strong>ধাপ</strong> <strong>নিয়ে</strong> <strong>পর্যালোচনা</strong> <strong>করি</strong><strong>,</strong></p>
<p>উপরের আলোচনায় বুঝতে পারলাম যে, চোখের তুলনায় আকল আরও বেশী পরিমাণে উপলব্ধি করতে পারে। তবে এমন অনেক বিষয় আছে যা আকলও উপলব্ধি করতে পারে না। এই কারণে এই ক্ষেত্রে আকলও সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা ও বিশ্লেষণের মুখাপেক্ষী। যেমন, অর্থবহতা ও আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্কিত এমন অনেক বিষয় আছে আকল অনেক সময় যেটাকে উপলব্ধি ও অনুধাবন করতে পারে না। বুঝতে পারলেও বাহ্যিক কিছু বিষয় বুঝতে পারে গভীরে প্রবেশ করতে পারে না। এই ক্ষেত্রে পদপদবী ও ক্যারিয়ারের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে।</p>
<p>আমাদেরকে মূলত যে বিষয়টি বুঝতে হবে সেটা হলঃ অস্তিত্ব তত্ত্ব বা অন্টোলজি বলতে আমরা যেটাকে বুঝি সেটা ফিজিক্যাল অন্টোলজির চেয়ে সামাজিক অন্টোলজিকে বেশী পরিগ্রহ করে। এই ক্ষেত্রে আমরা শহরের উদাহরণ দিতে পারি। শহর বিভিন্ন উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একটি জায়গা। যেমন, সুলেইমানিয়া মসজিদ একটি উদাহরণ হতে পারে। সুলেইমানিয়া মূলত পাথরের একটু স্তুপ। কিন্তু মহাস্থপতি সিনান এই পাথরের স্তুপকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে যেন দেখতে সুন্দর দেখায় এবং মানুষ যেন সেটা দেখে পরিতৃপ্ত হয়। এই উপমা থেকে বুঝা যায় যে, স্থাপত্য বলতে আমরা যা বুঝি সেটা মূলত এরকম কিছু নির্দিষ্ট সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি বিষয়। এই বিশ্লেষণকে আমরা শহর এমনকি সামাজিক অস্তিত্ব (অন্টোলজি)-এর উপরও প্রয়োগ করতে পারি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3><strong>সৃষ্টিতত্ত্ব</strong></h3>
<p>আমাদের মুতাফাক্কির ও আলেমগণ সৃষ্টিকে দুইভাগে বিভক্ত করেছেনঃ</p>
<p><strong>১।</strong> <strong>মানুষের</strong> <strong>কোন</strong> <strong>প্রকার</strong> <strong>হস্তক্ষেপ</strong> <strong>ব্যতিত</strong> <strong>মহান</strong> <strong>আল্লাহ</strong> <strong>তায়ালা</strong> <strong>কর্তৃক</strong> <strong>তৈরিকৃত</strong> <strong>বস্তু</strong> <strong>জগত।</strong></p>
<p><strong>২।</strong> <strong>মানুষ</strong> <strong>কর্তৃক</strong> <strong>তৈরি</strong> <strong>করা</strong> <strong>জগত।</strong> <strong>যেমন</strong><strong>, </strong><strong>ভালো</strong> <strong>ও</strong> <strong>মন্দ</strong><strong>, </strong><strong>সুন্দর</strong> <strong>ও</strong> <strong>অসুন্দর</strong><strong>, </strong><strong>পদ</strong><strong>&#8211;</strong><strong>পদবীর</strong> <strong>মত</strong> <strong>মানুষের</strong> <strong>কাজের</strong> <strong>মাধ্যমে</strong> <strong>তৈরি</strong> <strong>হওয়া</strong> <strong>আধ্যাত্মিক</strong> <strong>ক্ষেত্র।</strong> <strong>একটি</strong> <strong>সমাজও</strong> <strong>মূলত</strong> <strong>এই</strong> <strong>সকল</strong> <strong>বিষয়</strong> <strong>নিয়েই</strong> <strong>গঠিত</strong> <strong>হয়।</strong></p>
<p>এই ভাবে মানুষ ফিজিক্যাল বা বস্তুগত দুনিয়ার উপর নিজেদের কর্মের মাধ্যমে দ্বিতীয় একটি জগত তৈরি করে থাকে। মানুষের তৈরি করা এই জগত বস্তুগত জগতের মত পদার্থ দ্বারা তৈরি নয়।</p>
<p>অন্য কথায় বলতে গেলে, তাকবিনি আমর (আদেশ) হল, বস্তু জগত (ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড)। আর তাকলিফি আমর (আদেশ) হল মানুষকে দেওয়া আখলাকী দায়িত্ত্ববোধ সমূহ। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে এই দায়িত্ত্বসমূহ বা এই আদেশ ও নিষেধসমূহকে দেওয়া হয়েছে মানুষের অস্তিত্বকে সংরক্ষণ করার জন্য। কেননা দ্বীনের উদ্দেশ্য হল; মানুষের অস্তিত্বকে রক্ষা করা। এর আদেশ ও নিষেধসমূহ বা তাকলিফি আদেশ হল মানুষের প্রয়োজন। এই জন্য সমগ্র তাকলিফি আমর-ই কল্যাণকর।</p>
<p>সংক্ষেপে বলতে গেলে; অস্তিত্ব হল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলীর) –এর দাবীর প্রতিফলন মাত্র। আর এগুলো জনসাধারণ কর্তৃক নামকরণকৃত আলো ও নূর অর্থে সমগ্র বস্তুজগতে প্রতিফলিত হয়। এরপর আকলী সৃষ্টি হিসেবে মানুষের জীবনে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিধান হিসেবে অস্তিত্বের জগতে প্রকাশিত হয়। মূলগত দিক থেকে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিধানের মূলবিষয় সমূহও ওহী কর্তৃক গঠিত। মানুষ যখন ওহীর নির্দেশনার কারণে পয়গাম্বরকে অনুসরণ করে, তখন সেই অনুসরণের ফলে তারা একটি নির্দিষ্ট সংহতিতে প্রবেশ করে।</p>
<p>ইমাম নাসাফির ভাষায়, “ মুসলমান শুধুমাত্র নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য কাজ করে না বরং সে তাঁর আশেপাশের মানুষের (যেমন পরিবার, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধব) নিরাপত্তা ও অধিকারের জন্য কাজ করে। আর তাঁদের দায়িত্ত্ব হল আপনার নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করা। মুসলমান হওয়ার অর্থ যখন অপরের অধিকার ও নিরাপত্ত্বা নিশ্চিত করা হয়, তখন দেখা যাবে যে পরিকল্পনা না করলেও এমনিতেই সমাজের মধ্যে শক্তিশালী একটি সংহতি সৃষ্টি হবে।</p>
<p>এখানে আমরা দুইটি নূরের প্রতিফলন দেখতে পাব। একটি হল সাহাবায়ে কেরাম। তারা ইসলামকে গ্রহণ করে নিজেদের অস্তিত্বের মধ্যে আল্লাহর রাসূলের নূরের প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবং এইভাবে একটি সমাজ তৈরি হয়েছে। এই সমাজ হযরত পয়গাম্বর থেকে যা শিখেছে সেটাকে হুবুহু নিজেদেরকে সমাজে বাস্তবায়ন করেছে এবং শাহাদাত (দেখানো)– এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দ্বিতীয় যে পর্যায়ে এসে আমরা নূরের প্রতিফলন দেখতে পাই সেটা হল দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝা সংক্রান্ত জ্ঞানের ক্ষেত্রে। এই জ্ঞান সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ হল, রাসূল (সঃ) ও সাহাবীগণ কিভাবে বসবাস করেছেন সেটাকে বুঝা। আর এটাকে বুঝতে গিয়ে আমাদের আলেমগণ সেই বুঝ বা উপলব্ধিকে পারিভাষিক ভাবে তুলে ধরে দ্বীনী জ্ঞানের উৎপত্তি ঘটিয়েছেন।</p>
<p>এই বিষয়গুলোকে যদি ইমাম গাজ্জালীর পূর্বের কথার সাথে সম্পর্কিত হিসেবে চিন্তা করি তাহলে দেখা যায় যে, এমন একটি বস্তু জগত রয়েছে যেটাকে আমরা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করি আর একটি আধ্যাত্মিক জগত রয়েছে যেটাকে আমরা আকলের মাধ্যমে উপলব্ধি করি। এই দুনিয়া আকল ও অর্থের মাধ্যমে গঠিত একটি দ্বিমাত্রিক দুনিয়া।</p>
<p>আমরা যদি এই দুনিয়াকে শুধুমাত্র পঞ্চইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে উপলব্ধি করি তাহলে সেটাকে বলা হয় পজিটিভিজম। এর এই পজিটিভিজম সকল ঘটনা প্রবাহকে বস্তুগত জগতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবং সমাজকে জাগতিক কিছু মূলনীতির আলোকে ব্যাখ্যা করে থাকে। কিন্তু মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গী অনেক বেশী বিস্তৃত। এই দৃষ্টিভঙ্গী পজিটিভিজমকে পরিগ্রহ করার পাশাপাশি আরও অনেক গভীরে নিয়ে যায়। এখানে একজন মুসলিম জানে এই জগত বহুমাত্রিক। সে এটাও জানে যে মানুষ তার যোগ্যতাকে বিকশিত করার মাধ্যমে এই সকল বহুমাত্রিকতাকে জানতে পারে।</p>
<p>মহান আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ বস্তুজগতে সসীম কিন্তু মানুষের মধ্যে অসীম পরিমাণে প্রতিফলিত হয়। আর এই প্রতিফলন মানুষের মধ্যে মূলত আখলাকী পূর্ণতা (কামাল) হিসেবে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। যে যতবেশী প্রচেষ্টা চালাবে সে ততবেশী পরিমাণে সেই অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। এই অবস্থাকে আমরা বস্তুজগত ও আধ্যাত্মিক জগত উভয়কে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে চিন্তা করতে পারি। এই ক্ষেত্রে একজন উদ্ভিদতত্ত্ববিদের উদাহরণকে বিবেচনায় নেওয়া যায়, সে একটি গাছকে কতটুকু বুঝতে পারে সেটা গাছের সাথে তার সম্পর্কের সমানুপাতিক। অনুরূপ ভাবে মহান আল্লাহর তাজাল্লীও সর্বস্থানে বিস্তৃত। আমি সেটার সাথে কতটুকু সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব সেটা আমার অবস্থা ও যোগ্যতার সাথে সম্পর্কিত। আমি আমার নিজের অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করে এটা বুঝতে পারি। এটা সকল ক্ষেত্রেই এমন।</p>
<p>সবশেষে, কাসরাত থেকে ওয়াহদাতের দিকে তথা বহুত্ত্ব থেকে একত্বের দিকে উপনীত হওয়া আর সেই ওয়াহদাতের দিকে যাওয়ার সময় সকল কাসরাতকে আমরা নিজেরা সংগ্রহ করার পাশাপাশি বাস্তবায়ন করে থাকি। কাসরাতকে ওয়াহদাতে উপনীত করার সময় যে বিষয়টি বুঝতে হবে সেটা হল, হাকিকী নূর হলেন আল্লাহ তায়ালা। তাঁর বাহিরে সকল কিছুই আপেক্ষিক, আংশিক ও ধ্বংসশীল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইমাম গাজ্জালী সূরা নূরের ৩৫ নম্বর আয়াতের যে দার্শনিক ব্যাখ্যা দাড় করিয়েছেন সেখান থেকে আমরা এই সকল বিষয়কে জানতে পারি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-metaphysical-perspective-of-imam-ghazalis-famous-treatise-mishkatul-anwar-and-noor/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14513</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম মাতুরিদি ও কিতাবুত তাওহীদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/imam-maturidi-and-kitab-at-tawhid/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/imam-maturidi-and-kitab-at-tawhid/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 20 Nov 2023 13:47:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[বই পর্যালোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[at tawhid]]></category>
		<category><![CDATA[attawhid]]></category>
		<category><![CDATA[Imam maturidi]]></category>
		<category><![CDATA[kitab at tawhid]]></category>
		<category><![CDATA[maturidi]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=12921</guid>

					<description><![CDATA[আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মধ্যে আকীদার তিনটি ধারা রয়েছে। একটি হল সালাফিয়্যা, অপরটি হল আশয়ারী আর তৃতীয়টি হল মাতুরিদি। ইমাম মাতুরিদি এই ধারার ইমাম। আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ মাতুরিদি সমরকান্দে ২৩৮ হিজরিতে সমরকন্দে জন্ম গ্রহন করেন এবং ৩৩৮ হিজরিতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto">আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মধ্যে আকীদার তিনটি ধারা রয়েছে। একটি হল সালাফিয়্যা, অপরটি হল আশয়ারী আর তৃতীয়টি হল মাতুরিদি। ইমাম মাতুরিদি এই ধারার ইমাম।</p>
</div>
<p dir="auto">আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ মাতুরিদি সমরকান্দে ২৩৮ হিজরিতে সমরকন্দে জন্ম গ্রহন করেন এবং ৩৩৮ হিজরিতে মৃত্যু বরণ করেন সেই হিসেবে তিনি ১০০ বছর হায়াত পেয়েছিলেন। তিনি যে স্থানে জন্মগ্রহন করেছেন সেই স্থানের সাথে সম্পর্কিত রেখে তাকে মাতুরিদি নামে ডাকা হয়ে থাকে। মাতুরিদি মাযহাবের অনুসারিগণ তাকে ‘ইমামূল হুদা’, আলামূল হুদা, ইমামূল মুতাকাল্লিমুন, রাইসু আহলুস সুন্নাহ উপাধিতে অভিহিত করে থাকেন।</p>
<h4 dir="auto">ইমাম মাতুরিদি আমাদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণঃ</h4>
<div dir="auto">তিনি মুসলমানদেরকে তাকদীরের ধারণার ক্ষেত্রে জাবরিয়া ও কাদরিয়া নামক দুই প্রান্তিকতা থেকে রক্ষা করে তাকদীরের ব্যাপারে অসাধারণ মূলনীতি নিয়ে আসেন যা মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা দ্বন্দ ও সংঘাতের ইতি টানতে সক্ষম হয়। একই সাথে তিনি আহলে সুন্নতের কালামকে শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করান।</div>
<p>চিন্তার ইতিহাসের দিকে তাকালেও আমরা ইমাম মাতুরিদির গুরুত্ত্বকে অনুধাবন করতে পারি। আমরা যদি ইমাম মাতুরিদির পূর্বে রচিত কালামের গ্রন্থ সমূহের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, সেই সকল গ্রন্থে অনেক বিষয়কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলেও একটি বিষয়কে কিভাবে জানব, আমরা যা জানি সেই বিষয়ে কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি এই সকল বিষয় ছিল না। কিন্তু ইমাম মাতুরিদি ইলমূল কালামের শুরুতে এই বিষয়কে নিয়ে আসেন অর্থাৎ সর্বপ্রথম তিনি এপিসটোমলজিকে সিস্টেম্যাটিক ভাবে দাঁড় করান এবং ইলমূল কালামের শুরুতে স্থাপন করেন।</p>
<p dir="auto">আকলী ও নাকলী উভয় জ্ঞানে গভীর জ্ঞান অর্জনকারী ইমাম মাতুরিদি; ফিকহ, তাফসীর এবং ইলমূল কালামে অনেক গভীর জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হোন এবং সকল বিষয়ে তিনি গুরুত্ত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন। বিশেষ করে ইলমূল কালাম সম্পর্কে তার লিখিত গ্রন্থ ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এবং তাফসীরের ক্ষেত্রে তার লিখিত ‘তা’বিলাতু আহলু’স সুন্নাহ’ তার সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ গ্রন্থ।</p>
<h4 dir="auto">ইমাম মাতুরিদি লিখিত গ্রন্থ সমূহঃ</h4>
<div dir="auto">১। তা’বিলাতু আহলু’স সুন্নাহ অথবা তা’বিলাতুল কোরআন।</div>
<div dir="auto">২। কিতাবুত তাওহীদ,</div>
<div dir="auto">৩। শারহুল ফিকহুল আকবার,</div>
<div dir="auto">৪। রিসালাতুন ফি’ল আকিদা,</div>
<div dir="auto">৫। কিতাবুল মাকালাত,</div>
<div dir="auto">৬। আদ-দুরার ফি উসূলুদ্দিন,</div>
<div dir="auto">৭। বায়ানু ওয়াহমিল মু’তাযিলা,</div>
<div dir="auto">৮। রিসালাতুন ফি’ল ঈমান,</div>
<div dir="auto">৯। রাদ্দু উসূলুল খামসা লি আবু মুহাম্মমাদ আল বাহিলি,</div>
<div dir="auto">১০। আর-রাদ্দু আলাল কারামিতা,</div>
<div dir="auto">১১। রাদ্দু তাহযীবুল জাদল,</div>
<div dir="auto">১২। রাদ্দুল ইমামা লি বা’দুর রাওয়াফিজ,</div>
<div dir="auto">১৩। রিসালা ফি’ল ঈমান,</div>
<div dir="auto">১৪। কিতাবুল জাদল।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ইমাম মাতুরিদি অনেক বড় একজন মুতাকাল্লিম। তার নাম অনুসারে নামকরণকৃত ‘মাতুরিদিয়্যা’ কালামকে তিনিই সিস্টেম্যাটিকভাবে নিয়ে আসেন। তার পরে আগত আবু সালামা, আবুল ইউসর পেজদেভী, আবুল মুইন আন-নাসাফি, উমর আন নাসাফী, নুরুদ্দিন আস-সাবুনি এবং ইবনে হুমামের মত আরও অনেক বড় বড় চিন্তাবিদগণ এই ধারার চিন্তার বিকাশ ঘটান এবং সামনের দিকে নিয়ে যান।</div>
<div dir="auto">ইমাম মাতুরিদির কালামী চিন্তা ধারাকে এই ভাবে বিন্যাস করা যায়ঃ</div>
<div dir="auto"><strong>আপনারা জানেন যে ইমাম মাতুরিদির জীবদ্দশায় তথা হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী কাল সমূহে আকলের উপর অনেক বেশী জোর দানকারী এবং অনেক সময় আকলকে নাকলের উপর প্রাধান্যদানকারী মু’তাযিলাদের সাথে, নসস (কোরআন ও হাদীস) কে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধারণকারী এবং আকীদার জন্য কিতাব ও সুন্নত ছাড়া অন্য কোন কিছুকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহন করতে অনিচ্ছুক, ই’তিকাদের ক্ষেত্রে আকলকে প্রত্যাখ্যানকারী আহলে হাদীসের দ্বন্দ চলে আসছিল। এমন একটি সময়ে মাওয়ারুন নাহর অঞ্চলে জন্মগ্রহনকারী মাতুরিদি আকল ও নাকলকে একই সময়ে ব্যবহার করতে এবং এই উভয়ের মধ্যে মেলবন্ধন করতে সক্ষন হোন এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি পন্থার উদ্ভাবন করে সেটার বিকাশ সাধন করেন।</strong></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
<p dir="auto">ইমাম মাতুরিদি আকল এবং নাকল উভয়টিকেই দ্বীনকে শিক্ষার ক্ষেত্রে মৌলিকতাকে গঠনকারী দুইটি মৌলিক উৎস হিসেবে গ্রহন করেন। এবং এই চিন্তার মাধ্যমে তার সৃষ্ট কালামী মেথড সম্পর্কে তিনি খুব ভালোভাবে জানতেন। তার মতে আকলকে কক্ষনোই অবহেলা করা যাবে না। কেননা আল্লাহ তায়ালা নিজে আকলী তাফাক্কুর এবং গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। এছাড়াও তিনি তাকলিদকে পরিহার করে দ্বীনকে দলীলের উপর ভিত্তি করে শেখার জন্য গুরুত্ত্বারোপ করেছেন।</p>
<h4 dir="auto">কিতাবুত তাওহীদঃ</h4>
<p dir="auto">আমরা যদি কিতাবুত তাওহীদের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, এই গ্রন্থটি অধ্যায়ে বিভক্ত নয়। মূল বইয়ের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে এখানে তিনি ‘মাসাইল’ শিরোনামে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর মাসাইলসমূহের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, এই গ্রন্থে ৩৫ টি মাসাইল রয়েছে এবং সাধারণত এগুলো গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয়ের শুরুতে উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p dir="auto">মাসাইল সমূহের পাশাপাশি এই বইকে যদি সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাই যে, এই গ্রন্থটিকে মুকাদ্দিমা বা ভূমিকা ছাড়া পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত করা সম্ভব।</p>
<p dir="auto">দ্বীনী বিষয় সমূহকে কেন আকলী ও নাকলী দলীলের ভিত্তিতে নির্ণয় করে শিক্ষা করা করা দরকার এর উপর জোর দেওয়ার পর মুকাদ্দিমাতে তিনি বাশারি (মানবিক) প্রয়োজনের জন্য জরুরী বিষয় এবং মূল্যবোধ ভিত্তিক হুকুমকে বহনকারী জ্ঞানকে অর্জন করার পন্থা নিয়ে আলোচনা করেন।</p>
<p dir="auto">গ্রন্থের <strong>প্রথম অধ্যায়ে</strong> তিনি আল্লাহর অস্তিত্ব, আল্লাহর একত্ব, তাঁর সিফাত ও ফি’ল সমূহ এবং বিশেষ করে আল্লাহর কালাম সিফাত এবং রুইয়াতুল্লাহ নিয়ে আলোচনা করেন। এই সকল বিষয়কে নিয়ে আলোচনা করার পর তিনি এই অধ্যায়ে তাওহীদের মূলনীতিকে আঘাতকারী এবং তাওহীদ বীরোধী চিন্তাধারাকে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেন।</p>
<p dir="auto"><strong>দ্বিতীয় অধ্যায়ে</strong> তিনি আলোচনা করেন নবুয়ত নিয়ে। এখানে তিনি আকাইদের মধ্যে নবুয়তের অবস্থান, দুনিয়া ও আখেরাতে সা’দাত বা সফলতার জন্য নবুয়তের প্রয়োজনীয়তা। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর নবুয়তের প্রমান্যতা, নবুয়তের যারা বিরোধী তাঁদের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার পাশাপাশি খ্রিষ্টানরা যে হযরত ঈসাকে ইলাহ মনে করে সেই চিন্তার অসারতা প্রমাণ করেছেন।</p>
<p dir="auto">কিতাবুত তাওহীদের<strong> তৃতীয় অধ্যায়ে</strong> তিনি, কাযা ও কাদার নিয়ে আলোচনা করেন।</p>
<p dir="auto">কাযা হল, আল্লাহর চিরন্তননীতি। অর্থাৎ এই সৃষ্টিজগতে যা কিছু ঘটে তার সকল কিছুই লাউহে মাহফুজে রয়েছে।</p>
<p dir="auto">আর কাদার হল সকল বিষয় ও ঘটনাকে কাযার সাথে সঙ্গতি রেখে সৃষ্টি করা বহিঃজগতে বাস্তবে পরিণত হওয়া। হিকমত ও এর বিপরীত শব্দ সাফাহ এবং আদলুন এর বিপরীত জুলুম এর মত পরিভাষা সমূহকে তাঁর চিন্তার কেন্দ্রে স্থাপন করে মাতুরিদি এই অধ্যায়ে তাকদীরের বিষয়টিকে আকলী ও নাকলী দলিলের আলোকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। এবং তাকদির নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি কাবী সহ মুতাযিলাদের কাদরিয়া ও অন্যদের জাবরিয়া মতের যুক্তিপূর্ণ সমালোচনা করেন।</p>
<p dir="auto">কিতাবুত তাওহীদের <strong>চতুর্থ অধ্যায়ে</strong> ইমাম মাতুরিদি মুরতাকিবে কাবিরা বা কবিরা গুনাহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই অধ্যায়ে তিনি প্রথমেই গুনাহ করার ফলে মানুষের জীবনের উপর যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি এই বিষয়ে অন্যান্য মাজহাবের ইমামগণ কি বলেছেন সেগুলোকেই উল্লেখ করেন। এই অধ্যায়ে তিনি গুনার ক্ষতিকর প্রভাবের আলোচনায় তিনি প্রচুর পরিমাণে আয়াত উল্লেখ করেন এবং সেগুলোকে ব্যাখ্যা করেন।</p>
<p dir="auto">এই ক্ষেত্রে ইমাম মাতুরিদি, কবিরা গুনাহকারী একজন মু’মিনের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে তাঁর মধ্যে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পয়গাম্বরের প্রতি ও মুসলিম সমাজের প্রতি গভীর ভালোবাসাকে তুলে ধরেন। কবিরা গুনাহকারী একজন মু’মিনকেও না হারানোর জন্য এবং তাঁকে উদ্ধারের লক্ষ্যে মানুষকে কেন্দ্র করে তাঁর রহমত ভিত্তিক দালিলিক পন্থা সকল চিন্তাবিদগনেরই নজর কেড়ে থাকে।</p>
<p dir="auto">এই ক্ষেত্রে তিনি মানুষ ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে হিকমতের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করান যা উসুলুদ্দিনের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা নিয়ে আসে।</p>
<p dir="auto">এই অধ্যায়ে তিনি শাফায়াত নিয়েও আলোচনা করেন এবং কবিরা গুনাহকারীরাও শাফায়াতের অন্তর্ভূত হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।</p>
<p dir="auto">কিতাবুত তাওহীদের <strong>পঞ্চম অধ্যায়ে</strong> তিনি ঈমান ও ইসলাম নিয়ে আলোচনা করেন। ঈমানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তাসদিক, ইকরার ও আমল এই তিনটি বিষয়কেই গুরুত্ত্বপূর্ণ বলে গন্য করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির জন্য এই তিনটি উপাদানেরই প্রভাব রয়েছে বলে আলোচনা করেন।</p>
<p dir="auto">কিতাবুত তাওহীদ শুধুমাত্র নাকল নয় আকলের প্রতিও গুরুত্ত্ব প্রদানকারী কালামী ধারার এবং কালামের মৌলিক বিষয়ের ব্যাপারে প্রথম গ্রন্থ সমূহের একটি।</p>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto">এই গ্রন্থের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট হল, একটি বিষয়কে আলোচনা করার সময় সেই বিষয়ে নসের উল্লেখ করে সেই নসকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করা এবং এই ক্ষেত্রে মৌলিক দলীল পেশ করা।।</p>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/imam-maturidi-and-kitab-at-tawhid/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">12921</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইলমুল কালামের নবায়ন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/renewal-of-ilmul-kalam/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/renewal-of-ilmul-kalam/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 13 Jan 2023 15:30:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালামের নবায়ন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7587</guid>

					<description><![CDATA[প্রথম প্রজন্মের মুসলমানগণ যেমন হাসান আল বসরী (রহঃ) মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপণ করেন রহমতের ভিত্তিতে, তাদের পরে আসেন মুতাযিলাগণ, তারা আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপণ করেন আদালতের উপর ভিত্তি করে। মুতাযিলাদের পরে আসেন আশয়ারীগণ তারা আল্লাহ এবং]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রথম প্রজন্মের মুসলমানগণ যেমন হাসান আল বসরী (রহঃ) মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপণ করেন রহমতের ভিত্তিতে, তাদের পরে আসেন মুতাযিলাগণ, তারা আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপণ করেন আদালতের উপর ভিত্তি করে। মুতাযিলাদের পরে আসেন আশয়ারীগণ তারা আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার স্থাপণ করেন কুদরত (শক্তি) র উপর ভিত্তি করে। এরপর আসেন মাতুরিদিগণ তারা আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপণ করেন হিকমতের উপর ভিত্তি করে, এদের পরে আসেন সুফিগণ তারা আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক স্থাপণ করেন মুহাব্বাত (ভালোবাসা) এর উপর ভিত্তি করে।</p>
<p>এই সকল ধারা সমূহ তাদের এই সকল মূলনীতির উপর ভিত্তি করে আমাদের সময় পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে এবং আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি হল কুদরত (শক্তি) এটি মুসলমানদের মধ্যে অনেক শক্তিশালী একটি অবস্থান করতে সক্ষম হয়েছে। সালাফি ধারা এই বিষয়টিকে এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিয়ে এটিকে চরম মাত্রায় পৌঁছিয়ে দিয়েছে।</p>
<p>আমাদের পূর্বপুরুষদের এই সকল চিন্তা জ্ঞানগত ও একাডেমিক গবেষণায় লিখিত গ্রন্থ সমূহে এমনকি মনস্তাত্বিক দিক থেকেও আমাদের পূর্বের প্রজন্ম সমূহের উপর প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য অতীতের এই সকল চিন্তা ধারা সমূহকে যুগের বিভিন্ন দিককে বিবেচনা করে সংস্কার করা হয়নি। তবে এই যুগের প্রখ্যাত মুতাফাক্কির ও দার্শনিক প্রফেসর ডঃ ত্বহা আব্দুর রহমান এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি এই চিন্তায় নতুনত্ত্ব দান করেছেন। তিনি মানুষের সাথে আল্লাহর সম্পর্ককে নিরূপণ করেছে দুইটি মিসাক (চুক্তি) এর উপর ভিত্তি করে। সেই মিসাক দুইটি হল,</p>
<h4>১। ميثاق الاشهاد (মিসাকুল ইশহাদ)</h4>
<p><strong>মিসাকুল ইশহাদ  বা শাহাদাতের মিসাক হল ঈমানের মূল।</strong> আমরা আমাদের শাহাদাতের স্বীকৃতি দান করতে গিয়ে ‘আশহাদু’ বলতে মূলত এই শাহাদাতের স্বীকৃতি দিয়ে থাকি। আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার শাহাদাতের যে মিসাক, এই মিসাক মূলত কোন ধরণের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি চেনা ও জানার একটি মিসাক। এই শাহাদাত এক পক্ষীয় নয়। মানুষ তাঁর রবকে দেখার সময় রবও তাঁর বান্দাকে দেখে থাকে। মানুষ তাঁর মহান রবের পবিত্র নাম, সিফাত ও আয়াত সমূহকে প্রত্যক্ষ করার সময় আল্লাহ তায়ালাও তাঁর বান্দাদের কাজ, আমল, নিয়ত ও তাঁদের গোপন বিষয়সমূহকে প্রত্যক্ষ করে থাকেন।</p>
<p>ঈমান ও ইবাদত হল এই মিসাকের একটি দাবী। ইবাদত হল আমাদের অস্তিত্বের ভাষা। মানুষ সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে এই ভাষার মাধ্যমে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে থাকে। অস্তিত্ত্বের ভাষা  হিসেবে ইবাদতের রূহ আমাদের বিবেক (বিজদান) সর্বদায় নবাইয়ন করে থাকে। আর এই নবায়িত বিবেক (বিজদান) আমাদেরকে আখলাক, আদালত ও মারহামাতের দিকে ধাবিত করে। শাহাদাত মিসাকের মাধ্যমে ঈমান ও ইবাদত, রূহের আখলাকে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। দ্বীনী আচরণসমূহ যতবেশী পরিমানে রূহের আখলাকে পরিণত হবে দ্বীনদারিত্ত্বও ততবেশী আখলাক উৎপাদন করবে। ঈমান আখলাক উৎপাদনকারী একটি বিবেকে (বিজদান) রূপান্তরিত হবে। ব্যক্তি তাঁর সকল কাজ থেকেই আধ্যাত্মিক একটি স্বাদ পাবে।</p>
<p>আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল কিছুকে প্রত্যক্ষ করছেন এই চেতনা ও বিশ্বাস, ব্যক্তিকে আখলাক সম্পন্ন হওয়ার দিকে উৎসাহিত করে। এই ধরণের চেতনাকে লালনকারী একজন ব্যক্তির চোখে দ্বীন শুধুমাত্র আদেশ ও নিষেধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সে এমন এক চেতনাকে লালন করে  যেখানে সে আল্লাহকে শুধুমাত্র আদেশ দানকারী ও নিষেধকারী একটি সত্ত্বা হিসেবেই দেখে না। ব্যক্তি যখন শাহাদাতের চেতনাকে ধারণ করে তখন সে সর্বদায় তাকে প্রত্যক্ষকারী /শাহাদাতকারী একটি সত্ত্বা হিসেবে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করে থাকে। আখলাকী মূল্যবোধকে শুধুমাত্র পরিপূর্ণতা দানকারী একটি বিষয় হিসেবেই নয়; এটাকে একই সাথে জামাল (সৌন্দর্য) হিসেবেও দেখে থাকে এবং এই জামাল (সৌন্দর্য) মানুষের মধ্যে জ্ঞান, হিকমত, মারেফত ও মুহাব্বতে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এই হিকমত ও মারেফত তাঁর শক্তিকে শাহাদাত থেকে নিয়ে থাকে। হিকমতের মাধ্যমে হাকিকতে উপনীত হওয়ার পথকে দেখিয়ে থাকে।</p>
<p>শাহাদাতের মিসাকে কোরআনে কারীমের সূরা আরাফে এই ভাবে তুলে ধরা হয়েছেঃ</p>
<p>وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۛ شَهِدْنَا</p>
<p>অর্থাৎ, “আর হে নবী! লোকদের স্মরণ করিয়ে দাও সেই সময়ের কথা যখন তোমাদের রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করিয়েছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিলঃ নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব , আমরা এর সাক্ষ দিচ্ছি”।</p>
<p>মহান প্রভু সূরা আলে ইমরানে এই বিষয়টিকে আরও সুস্পষ্টভাবে এই ভাবে উল্লেখ করেছেনঃ</p>
<p>قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَىٰ ذَٰلِكُمْ إِصْرِي ۖ قَالُوا أَقْرَرْنَا ۚ قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ</p>
<p>অর্থাৎ, আল্লাহ জিজ্ঞেস করেনঃ তোমরা কি একথার স্বীকৃতি দিচ্ছো এবং আমার পক্ষ থেকে অংগীকারের গুরুদায়িত্ব বহন করতে প্রস্তুত আছো ? তারা বললো, হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করলাম। আল্লাহ বললেনঃ আচ্ছা, তাহলে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম। এই আয়াতের আলোকে যদি আমরা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই যে, আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ক পারস্পারিক একটি শাহাদাতের সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিনির্মিত হয়েছে।</p>
<p>কোরআন তাঁর নিজের জন্য নির্দিষ্ট তামছিলি পন্থার আলোকে মানুষের রূহের জগতের অবস্থাকে তুলে ধরেছেন। তবে দুনিয়ার জগতে এসে এই মিসাক ফিতরাতে পরিণত হয়েছে। ফিতরাত হল শাহাদাত মিসাকের মেমোরি। প্রতিটি মানুষই এই ফিতরাত নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। দ্বীন হল ফিতরাত। দ্বীনকে কোরআনে ফিতরাত হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার কারণও এটাই।</p>
<p>فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا ۚ فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا ۚ لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ</p>
<p>অর্থাৎ, কাজেই তুমি একনিষ্ঠ হয়ে তোমার সকল কিছু নিয়ে এ দ্বীনের দিকে মনোনিবেশ করো। আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন সেই দিকে ধাবিত হও। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোন ধরণের পরিবর্তন হতে পারে না। মূল্যবোধের মাধ্যমে সজ্জিত সঠিক দ্বীন এটাই।<a href="#_ftnref1" name="_ftn1"></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>২। ميثاق الامانة</strong> (মিসাকুল<strong> আমানা) </strong></h4>
<p>এই মিসাক অনুযায়ী সকল কিছুই মানুষকে আমানত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। মহাবিশ্ব ও বিশ্বসৃষ্টির সাথে মানুষের সম্পর্ক সার্বভৌমত্ব ও মালিকানার উভর ভিত্তি করে নয়, বরং আমানতের উপর ভিত্তি করে। মানুষ এই পৃথিবী ও সৃষ্টি জগতের মালিক নয়; আমানতদার। প্রথম মিসাক , আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের ভিত্তিকে নির্ণয় করে থাকে আর এই দ্বিতীয় মিসাক মানুষের সাথে দুনিয়ার ও সৃষ্টিজগতের সাথে সম্পর্কের ভিত্তিকে নিরূপণ করে থাকে। প্রথমটিতে আল্লাহ তায়ালার রুবুবিয়াতকে স্বীকৃতি দেয় আর দ্বিতীয়টিতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও মালিকানার স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে আমরা ঘোষণা দিয়ে থাকি যে, আমরা মানুষের উপরে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করব না এবং পৃথিবীতে নিজেদের রাজত্বও প্রতিষ্ঠা করব না। আমরা স্বীকৃতি দিয়ে থাকি যে, আমাদের কাছে যা কিছু আছে সেগুলোর উপর একচ্ছত্র মালিকানার (মুতলাক মূলকিয়াত) দাবী করব না। আমাদেরকে যা কিছুই দেওয়া হয়েছে সকল কিছুই হল আমানত এবং কোন আমানতেরই খেয়ানত করব  না বলে স্বীকারোক্তি দিয়ে থাকি।</p>
<p>আমানতের মিসাককে কোরআনের সূরা আহযাবে এইভাবে বিবৃত করা হয়েছে;</p>
<p>إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَن يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنسَانُ</p>
<p>অর্থাৎ, আমি এ আমানতকে আকাশসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতরাজির ওপর পেশ করি, তারা এই আমানতকে বহন করতে রাজি হয়নি এবং তা থেকে ভীত হয়ে পড়ে।  কিন্তু মানুষ এই আমানতকে গ্রহণ করেছে।</p>
<p>এখানে উল্লেখিত আমানতকে মুফাসসিরগণ ঈমান, তাওহীদ, তাকলিফ, ইরাদা, আকল, খেলাফত, বেলায়াত, ওয়াদা সহ আরও অনেক পরিভাষার মাধ্যমে তাফসীর করেছেন। তবে এখানে আমানত বলতে এই সকল কিছুকেই বুঝানো হয়েছে এবং আমি মনে করি যে এই সকল কিছুকে একসাথে উল্লেখ করাটাই সবচেয়ে যৌক্তিক হবে। আয়াত থেকেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, এই মিসাকের তাকলিফ (প্রস্তাবনা) শুধুমাত্র মানুষ নয়, সকল সৃষ্টির প্রতিই করা হয়েছে। এখানে এই তাকলিফ কিভাবে করা হয়েছে; হাকিকি অর্থে , মাজাযী অর্থে, নাকি ইতিবারি (আপেক্ষিক) এই ধরণের প্রশ্নের চেয়ে এখানে গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় হল এই তাকলিফ (প্রস্তাবনা) কে মাখলুক বা সৃষ্টির ইচ্ছার উপরে ছেড়ে দেওয়া। তাঁরা চাইলে গ্রহণও করতে পারে আবার না চাইলে এই আমানতকে গ্রহণ নাও করতে পারে। তবে এখানে মানুষ কর্তৃক এই আমানত গ্রহণের বিষয়টি নিঃসন্দেহে লক্ষ্যণীয়।</p>
<p>মানুষ পৃথিবীতে তাদের জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে যদি এই আমানতের খিয়ানত করে তাহলে এটাই হবে সবচেয়ে বড় খারাপ বিষয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন,</p>
<p>يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ</p>
<p>অর্থাৎ, “হে ঈমানদরগণ! জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, নিজেদের আমানতসমূহের খেয়ানত করো না”।</p>
<p>আমাদের চারপাশের পরিবেশ, প্রকৃতি, পরিবার, সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদ, পদ-পদবী, সংক্ষেপে বলতে গেলে আমাদের জীবনের সকল কিছুই এক একটি আমানত এবং এই সকল আমানত সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। এই কারণে এই সকল আমানতকে আমারা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে বাধ্য। এই বাধ্যবাধকতা আখলাক স্বয়ং নিজে। মানুষ তাঁর প্রথম মিসাকের মাধ্যমে অর্জিত ঈমান ও শাহাদাতকে, আমানতের আখলাকের মাধ্যমে সুষমা মণ্ডিত করতে সক্ষম হবে।</p>
<p><a href="#_ftnref1" name="_ftn1"></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><strong>আজ আমাদের রহমতের সাথে আদালতের, হিকমতের সাথে ভালোবাসার (মুহাব্বত) সম্পর্ককে  আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা (কুদরত) এর উপর বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিফলিত করতে হবে। এবং আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ককে স্থাপন করার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে হবে এবং বর্তমান যুগকে সামনে রেখে আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ককে নির্মাণ করতে হবে মিসাক (চুক্তি) এর উপর ভিত্তি করে আর সেই চুক্তি হল, <em>মিসাকুশ শাহাদা  এবং মিসাকুল আমানা</em>। আমরা যদি এই চিন্তার আলোকে আমাদের ধর্মীয় চিন্তাকে পুনর্গঠন করতে পারি তাহলে এটা আমাদেরকে সেই মেথডোলজির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে যেই মেথডোলজি আমাদের পূর্বে অনেক বড় বড় স্কলারের জন্ম দিয়েছিল।</strong></p></blockquote>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ।</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/renewal-of-ilmul-kalam/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7587</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আমাদের বিশ্বাসের জগতে কঠিন সময়ের প্রভাব</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-effects-of-hard-time-in-our-world-of-faith/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-effects-of-hard-time-in-our-world-of-faith/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 23 Apr 2021 15:56:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14691</guid>

					<description><![CDATA[কঠিন সময় সমূহ আমাদের বিশ্বাসে কোন ধরণের প্রভাব ফেলে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এই কঠিন সময়টি আমাদের অর্থনৈতিক জীবনকে কিভাবে প্রভাবিত করবে? আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে, রাজনীতিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কঠিন সময় সমূহ আমাদের বিশ্বাসে কোন ধরণের প্রভাব ফেলে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। এই কঠিন সময়টি আমাদের অর্থনৈতিক জীবনকে কিভাবে প্রভাবিত করবে? আমাদের সাংস্কৃতিক জীবনকে, রাজনীতিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সেই বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে এই কঠিন সময় আমাদের বিশ্বাসকে কিভাবে প্রভাবিত করবে সেটা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যুবক ভাইদের এই বিষয় নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে।</p>
<p><strong>আমি এই বিষয়টিকে উসূল ও মেথডোলজির আলোকে এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।</strong></p>
<p><strong>প্রিয় ভাই  ও বোনেরা </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরণের মুসিবতসমূহ অর্থাৎ মহামারী, ভুমিকম্প, ক্ষরা এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ সমূহ ব্যক্তি ও সমাজের বিশ্বাস সমূহে বড় ধরণের আঘাত নিয়ে আসে। আমাদের ধর্মীয় জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই বিষয়টি ইতিহাস দ্বারা প্রমানিত। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু ইতিহাস দ্বারা এটাও প্রমানিত যে, যাদের ধর্মীয় জীবন মজবুত, বিশ্বাস অনেক শক্তিশালী, আখলাকী দিক থেকে মযবুত; সেই সকল সমাজ এই ধরণের আঘাত সমূহের দ্বারা সবচেয়ে কম প্রভাবিত হয়েছে। এই ধরণের বড় বড় মহামারীর ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে এই ধরণের বড় মহামারী সমূহ ইতিহাসের গতিপথের পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই ধরণের ঘটনাসমূহ চিন্তার পরিকল্পনায়, চিন্তার জগতে, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনেক বিস্তৃত জিজ্ঞাসাবাদের জন্ম দিয়েছে। এমনকি প্রাচীন সকল ধারণা সমূহ, বিশ্বাস সমূহ মাঝেমধ্যে পরিবর্তিতও হয়েছে। নতুন নতুন বিষয়ের জন্ম দিয়েছে। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ধরণের খুরাফা (কুসংস্কার) সৃষ্টি হয়েছে। এর দুইটি উদাহরণ আমরা তুলে ধরতে পারি। </span></p>
<p><strong>একটি হল Plague of Justinian নামক বিখ্যাত মহামারী। অপরটি হল ইউরোপের Black Death।</strong></p>
<p>রাসূলে আকরাম (সঃ) এর জন্মের ৩০ বছর পূর্বে ৫৪১ খ্রিষ্টাব্দে সমগ্র দুনিয়াকে প্রভাবিতকারী <strong>Plague of Justinian</strong> ঐ সময়ের দুইটি বড় বড় সাম্রাজ্য তথা রোমান সাম্রাজ্য এবং পারস্য সাম্রাজ্যকে পতনের পর্যায়ে<strong> নি</strong>য়ে আসে এবং পরবর্তীতে ইসলামের রহমতের বাণীর প্রচারের সাথে নতুন একটি দুনিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি হল ব্ল্যাক ডেথ </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">চতুর্দশ শতাব্দীতে সমগ্র ইউরোপকে পরিগ্রহ করে এবং সমগ্র ইউরোপের চল্লিশ ভাগ এবং তার চেয়েও বেশী মানুষ মৃত্যুবরণ করে এবং <strong>ইউরোপীয় মধ্য যুগের অন্ধকার পর্যায়ের সমাপ্তি টেনে আনে</strong>। ঐ মহামারী, ইউরোপের মধ্যযুগে জারী থাকা চিন্তার মহামারী সমূহকে, অন্ধকার যুগকে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আবিষ্কৃত একটি ওষুধ কিংবা টিকা, ধর্ম বিশ্বাস সমূহকে প্রভাবিত করেছিল। বছরের পর বছর ধরে গির্জা সমূহ অসুখ বিসুখ সম্পর্কে যে কথামালা তৈরি করেছিল তা মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে উঠে।</span></p>
<p>এই জন্য আমি আমার প্রথম দারসেও বলেছি। এই বিষয়ে যেন আমরা এমন কোন কথা না বলি ভবিষ্যতে যার জন্য আমাদেরকে আমাদের বিবেকের কাছে লজ্জিত হতে হয়। আমাদের আলেম উলামাগণ যেন তাড়াহুড়া করে কোন কথা না বলেন। আর যদি আমরা আল্লাহর দ্বীনের নামে কথা বলি তাহলে তো কোন কথাই নেই। মহান আল্লাহ মানুষের সামাজিক জীবনে এবং এই মহাবিশ্বে যে নিয়ম নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেগুলোকে এবং সুন্নাহতুল্লাহকে মূল্যায়ন করার সময় আরোও অনেক বেশী সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।</p>
<p><span style="font-weight: 400;"> রাসূলে আকরাম (সঃ) এর দেড় বছর বয়সী পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সঃ) খুবই ব্যথিত ছিলেন। তার চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু ঝরছিল এবং সমগ্র মদীনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। একই দিন আবার সূর্যগ্রহণ হচ্ছিল। এটা ইতিহাসের দ্বারাও প্রমানিত। </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">সাহাবীগণ, সূর্য গ্রহণকে ইব্রাহীমের মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত করেন এবং বলাবলি শুরু করেন যে, সূর্য এই শিশু সন্তানের, আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর শোক সইতে পারে নাই, তাই সূর্য এমন হচ্ছে। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা রাসূলের (সঃ) এর কানে গেলে তিনি সকল সাহাবীকে একত্রিত করে একটি খুতবা দেন এবং এই ভুলকে সংশোধন করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">أيها الناس إن الشمس و القمر آيتان من آيات الله</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে মানুষগণ! চন্দ্র এবং সূর্য মহান আল্লাহর দুইটি নিদর্শন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">لا ينخسفان لموت أحد ولا لحياته</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কারোর মৃত্যুর জন্য কিংবা কারোর জীবনের জন্য কক্ষনোই সূর্যগ্রহণ কিংবা চন্দ্র গ্রহণ হয় না। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فإذا رئيتم ذلك فأدع الله و كبره و صلوا و تصدقوا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যখন তোমরা এমন কিছু দেখবে তখন আল্লাহর দিকে রুজু হবে এবং তার কাছে দোয়া করবে। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করবে, নামাজ আদায় করবে এবং সাদাকা দিবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রিয় ভাই ও বোনেরা,</strong> এই রকম কঠিন সময়ে বিশেষ করে যুবক বন্ধুগণের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তা আমি জানি। আমার কাছে যুবক বন্ধুদের নিকট থেকে অনেক প্রশ্ন আসে, সেই সকল প্রশ্ন দেখলেই এই বিষয়টি বুঝা যায়। আমাদের যুবকগণ এই প্রশ্ন করেন, উস্তাজ, আল্লাহ যদি রাহিম-ই হয়, আল্লাহ যদি ন্যয়পরায়নই হয়, এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আছেন এবং তিনি মুতলাক (Absolute) রহমতের মালিক। আল্লাহ মুতলাক আদালতের অধিকারী। আল্লাহ মুতলাক কুদরতের অধিকারী। তাহলে কেন তিনি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহের অনুমতি দিয়ে থাকেন? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে মন্দ জিনিসের অস্তিত্ব কেন আছে? </span></p>
<p><strong>সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তিনি তাহলে তিনি কেন সকলকে ক্ষতিকারী এমন একটি ভাইরাস সৃষ্টি করলেন? যদিও কেউ এটাকে বায়োলজিক একটি অস্ত্র হিসেবে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদন করেও থাকে তবে আল্লাহ কেন এমন একটি বিষয়ের অনুমতি দিলেন? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এক অর্থে বলতে গেলে, এগুলো অনেক প্রাচীন প্রশ্ন। দুনিয়াতে মন্দ ও খারাপ জিনিস কেন রয়েছে? দুঃখ, দুর্দশা, ব্যাথা, বেদনা কেন আছে? নিষ্পাপ শিশুরা কেন মৃত্যুবরণ করে? মূলত এই প্রশ্ন সমূহ সকল ধর্মের জন্যই অনেক কঠিন প্রশ্ন। এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ এই ধরণের কঠিন সময়ে আরও অনেক বেশী পরিমাণে করা হয়ে থাকে এবং অনেক মানুষ এই সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব পেয়ে হক্ব এবং সঠিক বিষয়কে খুঁজে পেয়েছেন আবার কেউ কেউ এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়ে ফেলেছেন। এর সকল বিষয়ের সাথে সাথে খারাপ এবং মন্দের সমস্যার উত্তর খুঁজে না পাওয়ার কারণে যারা নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়েছেন, তারা কেউই আবার এই সকল মন্দ ও খারাপ বিষয়ের ব্যপারে কোন সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রথমত যুবকদের এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ করা এবং এই ধরণের আত্মজিজ্ঞাসা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাদের এই সকল প্রশ্ন সমূহকে গ্রহণ করা এবং সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। </span></p>
<p><strong><em>এই ধরণের প্রশ্ন করো না তাহলে গুনাহ হবে, এ জাতীয় কথা যুবকদেরকে বলবেন না। যুবকদের এই সকল প্রশ্নকে আমি ইব্রাহীমি আচরণ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকি। এগুলা না ডেইজিম (Deism), না এথেইজ (atheism), না অন্য কিছু। </em></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল প্রশ্ন করা স্বাভাবিক এবং এক অর্থে মানবিক। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর নবী এবং তাওহীদি উম্মতের অগ্রপথিক। কিন্তু তিনি আমাদের রবকে প্রশ্ন করে বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">رَبِّ اَرِن۪ي كَيْفَ تُحْـيِ الْمَوْتٰىۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে প্রভু, তুমি আমাকে দেখাও তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইব্রাহীম (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَوَلَمْ تُؤْمِنْ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তুমি কি বিশ্বাস করো না? ইব্রাহীম (আঃ) এই জবাব দেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْب۪يۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার অন্তর যেন প্রশান্তি পায় এই জন্য জিজ্ঞাসা করছি। (বাকারা, ২৬০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মূলত আজকের যুবকরাও আমাদেরকে এই প্রশ্ন করে; উস্তাজ বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার আকল যেন নিশ্চিন্ততা লাভ করে এই জন্য প্রশ্ন করি। এই জন্য আমাদের এমন উত্তর দিতে হবে যেন তাদের কালব এবং আকল প্রশান্তি লাভ করে। </span></p>
<p><strong>প্রিয় বন্ধুগণ, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমান সময়ের যুবকদেরকে এই কথা বলতে পারবেন না যে, আকলকে এক কিনারায় রেখে দিয়ে ঈমান আনোয়ন কর। আমাদের এমন একটি ঈমানের ভাষায় কথা বলতে হবে যাতে করে তাদের আকল এবং কালব উভয়কেই নিশ্চিন্ততা দান করবে। এখন আমি আমার যুবক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। </span></p>
<p><strong>প্রিয় যুবক-যুবতীরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রথমত এটা তোমাদের জানতে হবে যে; মহাসৃষ্টির উদ্দেশ্য, সৃষ্টির হিকমাহকে বুঝা ব্যতীত, জগতসমূহের ব্যপারে সঠিক একটি ধারনা অর্জিত হওয়া ছাড়া এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া, এই দুনিয়াতে কেন মন্দ, খারাপ, দুঃখ, ব্যাথা রয়েছে সেটাকে বুঝা যাবে না। সকল দার্শনিকগণ ইতিহাস জুড়ে এই সকল বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। মহান আল্লাহর আসমাউল হুসনা সমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিফাত রয়েছে। একটি নাম রয়েছে, সেটা হল, <strong>আল হাকীম। অর্থাৎ তিনি, সকল কিছুর মধ্যে এবং সকল আদেশের মধ্যে হিকমত রেখে দিয়েছেন। </strong>এই দৃষ্টিকোন থেকে তার সৃষ্টির মধ্যে এবং দ্বীনের মধ্যে عَبَث (আবাছ) বলতে কিছু নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মু’মিনুনে বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমরা কি মনে করেছিলে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَاَنَّكُمْ اِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? তোমরা কি ভেবেছ আমাদের দিকে তোমাদের ফিরে আসতে হবে না? (মু’মিনুন, ১১৫) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এখানে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ এখানে বলছেন আমি তোমাদের عَبَث (আবাছ) সৃষ্টি করিনি। কোরআনে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে যথাঃ লাগবু (لغو), লাহবু ( لهو) ও সাহবু ( سهو); অর্থাৎ অর্থহীন, ফায়দাহীন এবং উদ্দেশ্যহীন।</span></p>
<p><strong>প্রিয় যুবকগন, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর আলোকে আল্লাহর সৃষ্টিতে, মহাবিশ্বে এবং আমাদের দ্বীনের মধ্যে ফায়দাহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং অর্থহীন কোন বিষয় নেই। প্রথমেই আমি বলতে চাই, এই মহাবিশ্বে মুতলাক ( Absolute) খারাপ বলতে কোন কিছু নেই। আপেক্ষিক খারাপ বিষয় সমূহ রয়েছে। কিন্তু মুতলাক ( Absolute)বা পরম খারাপ কোন কিছু নেই। এমনকি খারাপ তার নিজের স্বত্বায় অস্তিত্বশীল নয়। সে নিজের জাতের মাধ্যমে অস্তিত্ববান নয় এবং কোন খারাপকেই সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। কিন্তু তিনি তার সীমানাহীন হিকমতের মাধ্যমে, সাময়িক সময়ের জন্য তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে খারাপ বিষয়ের অবস্থানকে অনুমতি দেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে এর পেছনে কারণ সমূহও রয়েছে। অন্ধকার ছাড়া যেমন আমরা আলোকে বুঝতে পারব না। তেমনি ভাবে বাতিল না থাকলে হক্বকেও চিনতে পারব না। যুলুম না থাকলে আদালতকে উপলব্ধি করতে পারব না। খারাপ না থাকলে ভালোকেও অনুধাবন করতে পারব না। কিন্তু যেকোন যুলুমের কারণকে, যে কোন বাতিলের অস্তিত্বকে এবং যে কোন খারাপ বিষয়কে সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلاًۚ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোন কিছুই তিনি বাতিলভাবে সৃষ্টি করেননি (আলে ইমরান, ১৯১)।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের রব কোরআনের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই ভাবে বলেনঃ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَداً۟</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমার রব কারোর প্রতি যুলুম করেন না। (কাহফ, ৪৯) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَلَا تُظْلَمُونَ فَت۪يلاً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমাদের উপর বিন্দুমাত্র যুলুমও করা হবে না। (নিসা,৭৭) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَب۪يدِ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমার রব তার বান্দাদের উপর কক্ষনো জুলুম করেন না। (ফুসসিলাত, ৪৬) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এছাড়াও সূরা শুয়ারাতে মহান আল্লাহ আমাদের উপর আগত মুসিবত সমূহের কারণসমূহ বলতে গিয়ে বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَمَٓا اَصَابَكُمْ مِنْ مُص۪يبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَيْد۪يكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَث۪يرٍ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমাদের ওপর যে মসিবতই এসেছে তা তোমাদের কৃতকর্মের কারনে এসেছে ৷ বহু সংখ্যক অপরাধকে তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন৷ (শুরা,৩০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের প্রিয় নবীর নিকট থেকেও সহীহ একটি সনদের মাধ্যমে এসেছে তিনি রবকে ডাকার সময় এই ভাবে বলতেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">لبيك وسعديك</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে প্রভু আমি কেবলমাত্র তোমার দিকে অনুগামী হয়েছি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">والخير كله في يديك</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সকল মঙ্গল ও কল্যাণ তোমার হাতে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">والشر ليس اليك</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোন প্রকার খারাপ ও মন্দ বিষয় তোমার কাছ থেকে নয়, তোমার সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। এই দৃষ্টিকোন থেকে</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">خيره وشره من الله</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই বাক্যটি সৃষ্টিগত (বান্দার কর্মের কারণে) দিক থেকে, সরাসরি ইসনাদগত (মূলগত)  দিক থেকে নয়। মহান আল্লাহ এই সকল খারাপ বিষয়ের সৃষ্টি করেছেন বলে (নাউযুবিল্লাহ) বিষয়টি এমন নয়।  </span></p>
<p><strong>প্রিয় যুবক ভাইয়েরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পৃথিবীতে যদি মন্দ এবং খারাপ বিষয় সমূহ না থাকত তাহলে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। দুনিয়াতে আদালত, মারহামাত এবং ভালো বিষয় সমূহকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যায়, জুলুম, মন্দ এবং অবিচারকে দূর করাকে মানুষের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবস্থা যদি তাই হয়<strong> তাহলে আমরা যদি ভালো কাজকে পরিত্যাগ করে, মন্দকে প্রতিহত না করে পরে আল্লাহর দিকে ফিরে বলি, </strong></span></p>
<p><strong>-তুমি কেন মন্দ জিনিস সমূহ সৃষ্টি করলে?</strong></p>
<p><strong> -কেন তুমি আমাদের উপরে বিপদ দিলে?</strong></p>
<p><strong>-কেন তুমি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহকে প্রতিহত করছ না?</strong></p>
<p><strong>-আমাদেরকে কি এই কথা বলার অধিকার আছে? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দুনিয়াতে যদি মন্দ ও খারাপ না থাকত তাহলে মানুষকে ইচ্ছা শক্তি দেওয়া হত না, মানুষকে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হত না। মানুষের ভালো ও খারাপ হওয়া এমনকি মু’মিন ও কাফির হওয়া তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির উপর ছেঁড়ে দিতেন না। কোন পছন্দ ও অপছন্দের অধিকার দিতেন না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> মানুষকে সৃষ্টি করার অন্যতম একটি হিকমত হল পরীক্ষা। এই ‘পরীক্ষা’ শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুনিয়া হল পরীক্ষার দুনিয়া। হিসাব এবং পুরষ্কার কিংবা শাস্তির জায়গা নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে; পরীক্ষায় ফেল করার চেয়েও বিপদজনক একটি বিষয় রয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">&#8211; কি সেটা? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সেটা হল আমরা যে পরীক্ষার মধ্যে আছি এটাক কবুলই না করা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মূলকে বলেনঃ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَلَّذ۪ي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلاًۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থঃ আল্লাহ জীবন এবং মৃত্যুকে কেন সৃষ্টি করেছেন জানেন? কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য।  (মূলক, ২) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একই বিষয়টি অন্য এক সুরায়, সূরা আ’রাফে বলা হয়েছে, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থঃ আর আমি ভাল ও খারাপ অবস্থায় নিক্ষেপ করার মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করতে থাকি, হয়তো তারা ফিরে আসবে যেন তারা ফিরে আসে। যেন তারা ভালো, হক্ব এবং হাকিকতের দিকে ফিরে আসে। (আ’রাফ, ১৬৮) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সূরা আম্বিয়ায় একই বিষয়টি এইভাবে বলা হয়েছে; </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةًۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَاِلَيْنَا تُرْجَعُونَ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷ (আম্বিয়া, ৩৫) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্য একটি বিষয় হল, দুনিয়াতে এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের দৃষ্টিতে খারাপ হলেও এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। মুতলাক (Absolute) পরম খারাপ নাই বলতে আমি এই বিষয়টিই বুঝিয়েছি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের পূর্বের দারসেও উল্লেখ করেছি এমন একটি আয়াত আমি পুনরাবৃত্তি করতে চাইঃ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَعَسٰٓى اَنْ تَكْرَهُوا شَيْـٔاً وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْۚ وَعَسٰٓى اَنْ تُحِبُّوا شَيْـٔاً وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎঃ  হতে পারে কোন জিনিস তোমরা অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য উত্তম। হতে পারে কোন জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ ৷ (বাকারা,২১৬) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা ব্যক্তি হিসেবে কিংবা সমাজ হিসেবে যে সকল অসুখ বিসুখের মুখোমুখী হই একই ভাবে সেগুলোরও একটি অর্থ রয়েছে। একটি উদ্দেশ্য আছে, একটি হিকমত এবং একটি ফিলোসফি রয়েছে। অসুস্থতাসমূহও মূলত মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সেবা করে। অসুস্থতাসমূহ ইলাহী সতর্কতা, যা আমাদেরকে সৃষ্টির হিকমতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> অসুস্থ না হলে আমরা সুস্থতার মূল্য ও মর্যাদাকে বুঝতে পারি না। সুস্থতা কি জিনিস আমরা বুঝতে পারতাম না। জীবনে যদি ভয়-ভীতি, সন্দেহ না থাকে তাহলে নিরাপত্তা কি সেটার মূল্য বুঝতে পারব না। অসুস্থতাসমূহ, শুধুমাত্র ইলাহী একটি সতর্কবাণীই নয়; কোন কোন বান্দার জন্য রহমত স্বরূপ; কোন কোন বান্দার গুনাহের কাফফারা। এর প্রতিটির দলীল হাদীস শরীফ সমূহে রয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> কোন কোন বান্দার সম্মান ও মর্যাদাকে বুলন্দ করার জন্য, মাঝে মধ্যে অসুস্থতা, মানুষকে আরও অনেক বড় মুসিবত সমূহ থেকে রক্ষা করার জন্য। যারা নিজেকে এবং নিজের রবকে ভুলে গিয়েছে তাদেরকে তাদের রব ও নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এসে থাকে। মাঝে মধ্য পদ-পদবী, মাল-মূলুকের মত আরও অন্যান্য অনেক বিষয় যেগুলোকে আমরা অনেক মূল্যবান মনে করে থাকি। সেগুলোর যে আসলে কোন মূল্য নেই সেটাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। মাঝে মধ্যে একটি নিঃশ্বাসের মত যেটাকে আমরা খুব বেশী মূল্য দেই না,  এমন অনেক মূল্যবান বিষয়ের মূল্যকে বুঝানোর জন্য অসুস্থতা এসে থাকে। </span></p>
<p><strong>প্রিয় ভাই ও বোনেরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিগত দুইশত বছরকে ইবরাতের (শিক্ষা) সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। অনেক বেশী করে ভাবা প্রয়োজন। বিগত দুইশত বছর ধরে একটার পর একটা বিপ্লব হয়েই চলছে। আর এই সকল বিপ্লবে প্রকৃতিকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করেছি। আমরা এমন এক দুনিয়ায় বসবাস করছি , যে দুনিয়া আমাদের তৈরিকৃত রাসায়নিক অস্ত্রের কারণে হুমকীর মূখে। এমন এক দুনিয়ায় বসবাস করছি যে দুনিয়া মাসুমদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। দুনিয়াতে যে ফাসাদ সৃষ্টি করা হয়েছে তা যেন যথেষ্ট নয়, এমন এক মানব গোষ্ঠী রয়েছে যারা এখন মহাকাশেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে। কিন্তু এমন এক দুনিয়ায়, এমন এক মানবতাকে সামান্য ভাইরাস কত বড় শিক্ষাই না দিচ্ছে। আমরা সবাই এর শিকার। </span></p>
<p><strong>প্রিয় বন্ধুগণ, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাসের অন্যান্য ঘটনা প্রবাহের মত, এই কঠিন সময়ের পরে সমগ্র মানবতা নতুন একটি অর্থের সন্ধানে ছুটে চলবে। আজকে মু’মিন হিসেবে এই কঠিন সময়ে আমরা সকলেই আমাদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের নিজেদেরকে এবং আমাদের সন্তানদেরকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশকে, জাতিকে আমাদের বাসায় অবস্থান করে রক্ষা করছি। আমরা সবাই কোয়ারান্টাইনের মধ্যে আছি। আমরা এই কঠিন সময়কে ব্যবহার করে আমাদের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> রাসূল (সঃ) এর অসাধারণ একটি কথা রয়েছে, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ان قامت الساعة وفي يد احدكم فسيلة</span></p>
<p><strong>যদি কিয়ামতও চলে আসে আর তোমাদের কারোর হাতে একটি চারা থাকে </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فان استطاع ان لا تقوم حتي يغرسها فليغرسها</span></p>
<p><strong>যদি নিজের জায়গা থেকে না উঠে সেই চারাকে বপন করার শক্তি থাকে তাহলে সে যন তা বপন করে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকে সকল চারা বপন করার সময়। বন্ধুগণ এখানে চারা বলতে শুধুমাত্র গাছের চারাকেই বুঝানো হয় নি। আমরা যাদেরকে তাদের প্রাপ্য অধিকার দিতে পারিনি তাদেরকে অধিকার দেওয়ার জন্য মারহামাতের চারা বপন করা। আজ ফকির, মিসকিন ও ইয়েতিমের পাশে দাঁড়ানোর সময়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সময়কে যেন আমরা অযথা নষ্ট না করি। বিশেষ করে আমার যুবক বন্ধুদেরকে পুনরায় বলতে চাই; </span></p>
<p><strong>প্রিয় যবুক-যুবতীরা,</strong></p>
<blockquote><p><strong>জীবনকে ধ্বংসকারী তিনটি অবসর রয়েছে। আর সেগুলো মানুষের জীবনে একবারই আসে। আর সেগুলোকে যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো না যায় তাহলে যুবকদের জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। </strong></p>
<p><strong>সেগুলো হল, </strong></p>
<p><strong>-অবসর সময়, </strong></p>
<p><strong>-অবসর মস্তিস্ক, </strong></p>
<p><strong>-আর অবসর কালব। </strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমাদের একজন বন্ধু হিসেবে তোমাদেরকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই তিনটি অবসরকে জীবনে স্থান দিবে না। আমরা তোমাদের জন্য সুন্দর একটি দুনিয়া তৈরি করতে পারিনি, কিন্তু, যদি এই তিনটি অবসরকে পূর্ণ করতে পারো, তাহলে তোমরা তোমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর একটি দুনিয়া রেখে যেতে পারবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমাদের জীবনে যেন অবসর সময় বলতে কিছু না থাকে। তোমাদেরকে হাকীকতের পথে থাকতে হবে। যে সকল যুবক হাকীকতের পথে থাকে তারা তাদের জীবনকে ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখতে পারে না। সেটাকেও ব্যবহার করবে তবে সঠিক ভাবে ব্যবহার করবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সময় অপচয় করা,একজন যুবকের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন যুবকের জন্য দ্বিতীয় বিপদজনক বিষয় হল অবসর মস্তিস্ক, এই ফাঁকা মস্তিষ্ককে জ্ঞান, হিকমত এবং মারেফতের মাধ্যমে পূর্ণ করার উপযুক্ত সময় হল এটা। সকল প্রকার উপকারী জ্ঞানের পেছনে আমাদেরকে ছুটে চলতে হবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তৃতীয় যে জায়গাটিকে ফাঁকা রাখা যাবে না সেটি হল আমাদের কালব। আমাদের কালবকে যেন ফানি ( সাময়িক)  বিষয় সমূহ দিয়ে পূর্ণ না করি। কালবকে মহান সৃষ্টি কর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভালোবাসায় পূর্ণ করতে হবে। আল্লাহর সকল বান্দাদেরকে ভালোবাসতে হবে। আল্লাহর রাসূল (সঃ) কে প্রশ্ন করা হয় ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইসলাম কি?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">تعظيم لئمر الله و الشفقة لخلق الله</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি জবাবে বলেন, আল্লাহর আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সৃষ্টিজগত ও মহাবিশ্বের প্রতি রহমত ও ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখা। আমরা যেন ভুলে না যাই, কালব কেবলমাত্র আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমেই প্রশান্তি লাভ করে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَلَا بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُۜ</span></p>
<p><strong>প্রিয় বন্ধুগণ, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার আলোচনাকে সূরা বালাদের কিছু সতর্কতা মূলক আয়াতকে দিয়ে শেষ করতে চাই। বিশেষ করে কঠিন সময়ে মু’মিনদের প্রতি সূরা বালাদের উপদেশ হল, দুর্গম গিরিপথকে পাড়ি দিতে পারা, কোরআন আমাদেরকে বলে, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَۘ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু সে দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করার সহস করেনি৷ (বালাদ, ১১) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পরের আয়াতে প্রশ্ন করা হয়েছে কি সেই আকাবা? সেই দুর্গম গিরিপথ আমরা কিভাবে পাড়ি দিব সেই পথ আমাদেরকে দেখিয়ে দেয়। এর জন্য প্রথম পন্থা হল, আমাদেরকে পরিগ্রহকারী সকল ধরণের বন্ধন থেকে মুক্ত করা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَكُّ رَقَبَةٍۙ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দাস মুক্ত করা। (বালাদ,১৩)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হিংসা, বিদ্বেষের মত সকল প্রকার ভাইরাস থেকে নিজেকে মুক্ত করা। শুধুমাত্র আমাদের শরীরকে আক্রমনকারী ভাইরাসই নেই, আমাদের কালবকে আক্রমন কারী, আমাদের রূহ সমূকে দখলকারী ভাইরাসও রয়েছে। সেই সকল ভাইরাস থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দ্বিতীয়ত, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَوْ اِطْعَامٌ ف۪ي يَوْمٍ ذ۪ي مَسْغَبَةٍۙ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কঠিন সময়ে আমাদের সম্পদ দিয়ে অভাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং ঈমানের পরে </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যারা পরস্পরকে সবর ও ( আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি ) রহম করার উপদেশ দেয় ৷ এই সকল কঠিন বিষয় সমূহকে পাড়ি দেওয়ার জন্য, সূরা বালাদে বর্ণিত তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত থাকা প্রয়োজন। সেই তিনটি বিষয় হল, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রিয় বন্ধুগণ,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> আমরা আজ যে কঠিন সময় অতিক্রম করছি এই কঠিন সময় আসার পেছনেও তিনটি বড় কারণ রয়েছে, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রথমত, মানুষের উপরে কোন শক্তিকে না চেনা ও পরাক্রমশালী হওয়ার প্রতি  প্রবল বাসনা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَيَحْسَبُ اَنْ لَنْ يَقْدِرَ عَلَيْهِ اَحَدٌۢ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সে কি মনে করে রেখেছে , তার ওপর কেউ জোর খাটাতে পারবে না ?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রথম</strong> হল এটা, শক্তির বাসনা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>দ্বিতীয়টি</strong> হল, গর্বের সাথে সম্পদ ব্যায় করে ভোগবিলাসের বাসনা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">يَقُولُ اَهْلَكْتُ مَالاً لُبَداًۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সে গর্ব করে বলে, আমি প্রচুর ধন সম্পদ উড়িয়ে দিয়েছি৷</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এবং <strong>তৃতীয়টি</strong> হল সে ভাবে যে তাকে কেউ দেখবে না, এটা ভেবে তার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেওয়া। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَيَحْسَبُ اَنْ لَمْ يَرَهُٓ اَحَدٌۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সে কি মনে করে কেউ তাকে দেখেনি ?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রিয় ভাইয়েরা, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার আলোচনাকে সূরা হাদিদের ১৬ নম্বর আয়াত দিয়ে শেষ করতে চাই, আমাদের প্রভুর একটি প্রশ্ন, যা তিনি তার মু’মিন বান্দাদেরকে করেছেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَلَمْ يَأْنِ لِلَّذ۪ينَ اٰمَنُٓوا اَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِاللّٰهِ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">“ঈমান গ্রহণকারীদের জন্য, এখনো কি সে সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের মন বিগলিত হবে?”</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-effects-of-hard-time-in-our-world-of-faith/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14691</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী চিন্তার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-origin-and-development-of-islamic-thought/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-origin-and-development-of-islamic-thought/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. উমর তুর্কের]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 12 Mar 2021 15:22:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13059</guid>

					<description><![CDATA[দ্বীনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত জ্ঞানসমূহের উৎপত্তি কীভাবে হলো তা আপনারা সকলেই কম বেশি জানেন। আপনারা মাদরাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি বিভাগে যারা পড়েছেন তারা তাফসীর, হাদীস এবং ফিকহসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখার ইতিহাস সম্পর্কেও পড়েছেন। আজকে আমি এই ক্লাসে আমাদের মাদরাসা বা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>দ্বীনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত জ্ঞানসমূহের উৎপত্তি কীভাবে হলো তা আপনারা সকলেই কম বেশি জানেন। আপনারা মাদরাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি বিভাগে যারা পড়েছেন তারা তাফসীর, হাদীস এবং ফিকহসহ জ্ঞানের অন্যান্য শাখার ইতিহাস সম্পর্কেও পড়েছেন। আজকে আমি এই ক্লাসে আমাদের মাদরাসা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে পড়ানো হয় সেভাবে নয়; বরং ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করব। অর্থাৎ কোন কোন মৌলিক সমস্যাগুলো দ্বীনি জ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে সেই সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">মূল আলোচনায় প্রবেশ করার পূর্বে কয়েকটি বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে-</span></p>
<p><b>১.</b><span style="font-weight: 400;"><strong> রাসূলে আকরাম (স.)-এর জীবদ্দশায় নস (কোরআন) এবং মানুষের জীবন ধারার মধ্যে কোনো ধরণের অসঙ্গতি ছিল না।</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ নস এবং ঘটনা প্রবাহের মধ্যে পূর্ণসঙ্গতি বজায় ছিল। অসঙ্গতি না থাকার অর্থ হলো, সেই সময়ে সংঘটিত ছোট কিংবা বড় যে কোনো ঘটনা প্রবাহ নিয়ে ওহী নাযিল হতো, দ্বীনি বিষয়ে যে কোনো সমস্যায় সিদ্ধান্ত দানকারী ব্যক্তি (Authority) রাসূল (স.) জীবিত ছিলেন। রাসূলে আকরাম (স.) জীবিত থাকার কারণে যখনই কেউ কোনো বিষয়ে কোনো সমস্যায় পড়ত, তারা রাসূলে করীম (স.)-এর কাছে আসতেন এবং রাসূলও (স.) তাদের সেই সকল সমস্যার সমাধান ওহীর মাধ্যমে, কিংবা তার নিজের ইজতিহাদের মাধ্যমে অথবা সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে সমাধান করে দিতেন।</span></p>
<p><b>২</b><strong>. রাসূলে আকরাম (স.)-এর ওফাতের পরে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা সম্প্রসারিত হয়। হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময় সমগ্র জাযিরাতুল আরব ইসলামী শাসনের অধীনে আসে, হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে বিলাদ-ই শাম, মিশর, পারস্য সাম্রাজ্য সহ অর্ধ পৃথিবী ইসলামী শাসনের অধীনে আসে। হযরত উসমান (রা.)-এর শাসনামলের প্রথম ছয় বছরের মধ্যে উত্তর আফ্রিকার বিশাল একটি অঞ্চল, সাইপ্রাস ও মধ্য এশিয়াসহ প্রাচীন সংস্কৃতির অধিকারী সমগ্র অঞ্চল ইসলামী শাসনাধীনে আসে। এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলতে গেলে, </strong></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">ইসলাম এমন একটি অঞ্চলে আসে সেই অঞ্চল মূলত তুলনামূলকভাবে কম গুরত্বপূর্ণ ছিল। যদিও হিজায অঞ্চল ধর্মীয় ধারার দিক থেকে অনেক শক্তিশালী ছিল, সমগ্র আরব অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল। কিন্তু সেসময়ে সভ্যতা ও সংস্কৃতিগতভাবে অগ্রসর কোনো অঞ্চল ছিল না। তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সমূহের মধ্যে ছিল মিশর, কালদানী ও ব্যবিলনীয়দের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ মেসোপটেমিয়া অঞ্চল, গ্রীস ও সাসানী। এ অঞ্চলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সাল থেকে নিয়ে ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি ধারা তৈরি হয়। যেমন, মিশরীয়গণ গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী ছিল, মেসোপটেমিয়ানরা জ্যোতিষীবিদ্যায় (Astrology) পারদর্শী ছিল। মেসোপটেমিয়াতে গণিত বা গণিতের শক্তিশালী কোনো ধারা ছিল না। মিশর থেকে তারা গণিতবিদ্যা শিক্ষা করে মেসোপটেমিয়াতে নিয়ে আসে। মেসোপটেমিয়ানরা গণিতবিদ্যা ও জ্যোতিষীবিদ্যাকে একত্রিত করে জ্ঞানের নতুন একটি ধারা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে গ্রীকরা জ্ঞানের এই নতুন ধারাকে গ্রহণ করে উন্নত  করে।</span></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">গ্রীকরা জ্ঞান-বিজ্ঞানকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারায় নিয়ে যায় এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে সবশেষে এরিস্টটলের সময়ে অন্টোলজি (Ontology), জ্ঞানতত্ত্ব (Epistemology), সৃষ্টিতত্ত্ব (Cosmology) সহ আরও অনেক মৌলিক বিষয়ে পরিভাষা সৃষ্টি করে। আজকে দুনিয়াকে বুঝার জন্য যে সব পরিভাষা ব্যবহার করে থাকি এজন্য আমরা এরিস্টটলের কাছে ঋণী। অর্থাৎ বস্তুগত দুনিয়াকে (Material World) চিত্রায়িতকারী পরিভাষা সমূহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ প্লেটো ও এরিস্টটলের কাছ থেকে এসেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> আপনারা সকলেই জানেন এই দুই দার্শনিক গ্রীক দর্শনকে গঠনগত ভাবে বিন্যাস করেন। এই দুই দার্শনিকের পরে আর কেউ তাদের চিন্তাগত প্রভাব এড়াতে পারেনি। পরবর্তীতে রোম সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির পরে হেলেনিস্টিক সময়ে প্রবেশ করে। ইসলামী চিন্তার ধারাবাহিকতাকে বুঝার জন্য হেলেনিস্টিক সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হেলেনিস্টিক পিরিয়ডে ভোগবাদ (Epicureanism) এবং   বৈরাগ্যবাদ (Stoicism) এর মতো বিভিন্ন ধারার উৎপত্তি হয়। এ সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সেটা হলো, এরিস্টটল ও প্লেটোর দর্শনকে একত্রিত করে বড় একটি মেটাফিজিক্যাল থিওরী উৎপত্তি হয়, আর এর নাম দেয়া হয় Neoplatonism। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong> Neoplatinism নিয়ে এখন পর্যন্ত সত্যিকারের কোনো গবেষণা হয়নি। এই Neoplatinism এর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো “সকল প্রাচীন সংস্কৃতিকে একত্রিত করে বৈজ্ঞানিক পরিভাষার মাধ্যমে ধারণ করা।” অর্থাৎ, Neoplatinism এর মধ্যে জরাথুস্ত্র দর্শন রয়েছে, ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি রয়েছে, প্লেটোনিক মেটাফিজিক্স রয়েছে, এরিস্টটলের ফিজিক্স রয়েছে। এ সকল চিন্তার অস্তিত্ব ও প্রভাবকে একত্রে Neoplatinism বলা হয়। ফলশ্রতিতে প্রাচীন দুনিয়ার সকল চিন্তাকে সমন্বয়কারী উচ্চ একটি মেটাফিজিক্যাল থিওরীর প্রতিনিধিত্ব করে Neoplatinism</strong>। <strong>পরবর্তীতে খৃষ্টধর্মের প্রচার ও প্রসারের ফলে এই জ্ঞান (দর্শন) সাসানীদের কাছেও চলে আসে। এরপর সাসানীরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য প্রচেষ্টা চালায় এবং হেলেনিস্টিক সময়ে সাসানীদের হাত ধরে উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত জ্ঞানভিত্তিক একটি সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সব তথ্য খুব ভালোভাবে মাথায় রাখুন। কারণ ইসলাম যে অঞ্চলেই গিয়েছে সেই অঞ্চলেই সাসানী সাম্রাজ্যের সংস্কৃতির আলোকে গড়ে ওঠা বৈজ্ঞানিক পরিভাষার অধিকারী সংস্কৃতিসমূহের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে এই বৈজ্ঞানিক সংস্কৃতি খুব একটা শক্তিশালী ছিল না, ফলশ্রুতিতে সাসানী সাম্রাজ্যের অধীনে গড়ে ওঠা এই সংস্কৃতি আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে।</span></p>
<p><strong>এই সব বিষয় উল্লেখ করার কারণ হল-</strong></p>
<ul>
<li style="font-weight: 400;"><strong><em>ইসলাম যে সব অঞ্চলে গিয়েছিল সেই সব অঞ্চল শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক ধারার অধিকারী ছিল।</em></strong></li>
<li style="font-weight: 400;"><strong><em>এই সব অঞ্চল ভিন্ন ভিন্ন ধারার হলেও প্রতিষ্ঠিত আইন ও কানুন ছিল।</em></strong></li>
<li style="font-weight: 400;"><strong><em>সেই সময়ের আলোকে তাদের মধ্যে একটি বৈজ্ঞানিক ধারণা ছিল, যেই ধারণার আলোকে তারা এই দুনিয়াকে ব্যাখা বিশ্লেষণ করতো।</em></strong></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ এসব অঞ্চলে যাওয়ার পর এসব সংস্কৃতি ও জ্ঞানকে মোকাবেলা করতে বাধ্য হয়। <strong>এটা ছিলো বহির্গত একটি চ্যালেঞ্জ</strong>। এছাড়া অন্য একটি বিষয় আছে সেটা হল <strong>আভ্যন্তরীণ সমস্যাসমূহ</strong>। আমাদের চিন্তার ইতিহাস রচনার সময় ‘বহির্গত’ ও ‘অন্তর্গত’ কারণকে বিবেচনায় রাখতে হবে। </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">তাছাড়া আমরা যদি কেবল বহির্গত কারণ বা ইসলামের বাহির থেকে আসা চ্যালেঞ্জকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের চিন্তার ইতিহাস রচনা করি, তাহলে ইসলামী চিন্তা ও জ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে পূর্ববর্তী সংস্কৃতিসমূহের একটি ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করবো। আর এটা হবে সম্পূর্ণ ভুল।</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">যদি আমরা মুসলিমদের আভ্যন্তরীণ কারণগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে আমাদের চিন্তার ইতিহাস রচনা করি, তাহলে আমরা বলতে পারব যে, ইসলামী চিন্তা ও জ্ঞান তার নিজের মধ্যকার গতিশীলতার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রতিতে আমাদের সামনে সামগ্রিকভাবে ইসলামী চিন্তার ইতিহাসকে দাঁড় করাতে পারবো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআন, হাদীস ও ফিকহের ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তাহলে আমরা দেখতে পাই যে এসব জ্ঞান আলাদা একটি শাখা হিসেবে উৎপত্তি হওয়ার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট রয়েছে। কোরআন সংকলনের ইতিহাস, কোন কারণে কোরআনকে সংকলন করতে হয়, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ। অথবা উমর (রা.)-এর সময়ে পারস্য সাম্রাজ্য ও সিরিয়া বিজিত হওয়ার পর সেই সকল বিজিত ভূমিকে মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন না করা ফিকহের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ইত্যাদি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামের ইতিহাসে কিছু কিছু ঘটনা রয়েছে যা সমগ্র ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলো হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া মুসলমানদের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ। এই গৃহযুদ্ধের বিষয়টি খুবই ক্রিটিক্যাল একটি বিষয়। কারণ হলো, <strong>মুসলমানদের মধ্যে এই প্রথম এমন একটি দলের উৎপত্তি হয় যারা একে অপরকে হত্যা করছে কিন্তু কেউ তওবা পর্যন্ত করছে না!</strong> মুসলমানগণ গুনাহ করতে পারে, এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। মুসলমানগণ যে কবীরা গুনাহ করতে পারে ও করার সম্ভাবনা রয়েছে এটা কোরআন হাদীসে রয়েছে এবং এই সম্ভাবনা কে সামনে রেখেই ইসলামে হুদুদের বিধান রয়েছে। কিন্তু মুসলমানদের নিকট চাওয়া হলো, সে যখনি কোনো গুনাহ করবে তখনই তওবা করবে। আল্লাহর কাছে তওবা করতে দেরি করলেও সে তার কাজকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিবে। কিন্তু হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পরে মুসলমানদের মধ্যকার সংগঠিত গৃহযুদ্ধগুলোতে (জামাল ও সিফফিন) অংশগ্রহণকারী উভয় দলই নিজেদেরকে হক্বপন্থী হিসেবে দাবি করে মানুষ হত্যার মতো কাজকেও গুনাহ হিসেবে না ধরে তওবা করা থেকে বিরত থাকে। এদের মধ্যে সকলেই যে এমন ছিল তা নয়, এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই পরবর্তীতে দূরে সরে গিয়ে ভিন্ন একটি দল গঠন করে। মুসলমানগণ প্রথম বারের মতো এমন একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়। বড় বড় গুনাহ করার পরেও কোনো প্রকার অনুতপ্ত না হওয়ার মত একটি গ্রপের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যাটি বড় একটি সমস্যায় রূপ নেয়। </span></p>
<p><strong>সেই সমস্যাটি হল ‘মুরতাকিবে কাবীরা কি’? মুরতাকিবে কাবীরা (কবীরা গুনাহকারী) কি মু’মিন নাকি ফাসিক?</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা যদি আরো গভীরে যাই তাহলে দেখতে পাই যে, কবীরা গুনাহকারী মু’মিন নাকি ফাসিক এটি খুব বড় কোন সমস্যা নয়। এখানে মূল সমস্যা হল, মহাগ্রন্থ আল কোরআন মানুষ এবং আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে বিনির্মাণকারী কিছু পরিভাষা ব্যবহার করেছে। যেমন মু’মিন, মুনাফিক, ফাসিক, কাফির, দাল্লুন ইত্যাদি। এই সকল পরিভাষাসমূহ মানুষকে ওহীর মাধ্যমে আগত হাকীকতসমূহের সাথে সম্পৃক্ত করে থাকে। এই সকল পরিভাষাগুলো যদি কারোর উপর প্রয়োগ করা হয় তখন এগুলো সেই ব্যক্তিকে নামকরণ করার সাথে সাথে তার পরিচয়ও দান করে। যেমন, যখন আমরা কাউকে মু’মিন বলি তখন আমরা বুঝে নেই, তিনি ঈমান এনেছেন। ফলে তাকে আমরা মু’মিন বলে গণ্য করতে পারি। তারা ভাবতেন যে, রাসূলে করীম (স.)-এর সময় থেকে মু’মিন, মুনাফিক, কাফির কে বা কি এটা তারা জানেন। প্রথম বারের মত এই সকল ঘটনা (গৃহযুদ্ধ) পরিভাষাগত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই কারণে ইসলামী চিন্তার ইতিহাসে উদ্ভূত সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো হলো,</span></p>
<ul>
<li style="font-weight: 400;"><strong><em>মানুষ পরিচয়দানকারী কোরআনী পরিভাষাসমূহের অর্থের অস্পষ্টতা (Ambiguity of Meaning).</em></strong></li>
<li style="font-weight: 400;"><strong><em>স্বাধীনতার সমস্যা। অর্থাৎ, মানুষ তার নিজের কর্মসমূহের কর্তা (ফায়িল) কিনা? অর্থাৎ নিজের কাজের ক্ষেত্রে স্বাধীন কিনা?</em></strong></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআনুল কারীমে কিংবা হাদীসে নববীতে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসকে যদি সামগ্রিকভাবে চিন্তা করি, তাহলে সত্যিকার অর্থেই কী মানুষকে আমরা তার কর্মের কর্তা (ফায়িল) বলতে পারি? তবে এক্ষেত্রে আমার একটি অনুরোধ, আপনারা প্রথমেই এই চিন্তাকে কোনো মাজহাবের সাথে সম্পৃক্ত করবেন না। এখানে ভাবনার বিষয় হলো, আল্লাহ যদি কর্তা (ফায়িল) হয়, তাহলে মানুষ কী? কর্তা হিসেবে তার কতটুকু স্বাধীনতা রয়েছে?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন আমি ব্যক্তি নিজেকে আমার তৈরি করা বাক্যসমূহের সাবজেক্ট বানিয়ে কথা বলতে পারি, ভাষা আমাদেরকে এই সুযোগ দিয়ে থাকে কিন্তু এটা কি মাজাজ নাকি হাকীকত? এখানে মূল বিতর্ক হলো এই বিষয় নিয়ে। এটাকে যদি আমরা এভাবে না বুঝি তাহলে এসব চিন্তাগত সময়ের ব্যবধানে খুবই নগণ্য বলে গণ্য করা শুরু করবো। ইসলামী চিন্তার গঠন পর্যায়ে যে কোনো থিওরীর সমর্থককে নগণ্য বা ছোট বলে ধারণা করা সঠিক হবে না। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিতর্ক, এই বিতর্কে জাবরিয়া, কাদরিয়া এবং মু’তাযিলাগণ অনেক গ্রহণযোগ্য দলীল প্রমাণ দিয়ে তাদের যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। আমি আমার আজকের এই আলোচনায় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাব না। আমি শুধুমাত্র এই সমস্যাটিকে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য এত কথা বলছি। অন্য কথায় বলতে গেলে,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> <strong>মানুষ কি তার কর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীন কিনা?</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মূলত মানুষ সম্পর্কিত পরিভাষা সমূহের অর্থের অস্পষ্টতার (Ambiguity of Meaning) কারণে মানুষ সম্পর্কিত একটি বিতর্কের সূচনা হয়। আর এই বিতর্কের মূল কথা হলো, মানুষ তার কর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীন কিনা? আপনারা জানেন স্বাধীনতার সমস্যা সাধারণ একটি সমস্যা। </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">আমরা দ্বীনের ক্ষেত্রে স্বাধীন কিনা?</span></li>
<li>প্রাকৃতিক ঘটনা প্রবাহ সমূহের ক্ষেত্রে আমি স্বাধীন কিনা?</li>
<li>কোনো অথরিটির ক্ষেত্রে আমরা স্বাধীন কিনা? ইত্যাদি।</li>
</ul>
<p><strong>এই সময়ে বিতর্কের মূল বিষয়বস্তু ছিল ইলাহি ইরাদা (আল্লাহর ইচ্ছা) থেকে মানুষ কি স্বাধীন? নাকি স্বাধীন নয়?</strong></p>
<p>এই বিতর্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরেকটি বিষয় সামনে নিয়ে আসে সেটা হল,উপরোক্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য ইলাহি যাত কে বুঝা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। <strong><em>আল্লাহ কেমন একটি যাত বা সিফাত অর্থাৎ আল্লাহ কেমন এক সত্তা যার থেকে আমরা স্বাধীন কি অধীন এটা নিয়ে কথা বলছি।</em></strong>  আল্লাহকে আমরা কীভাবে তাসাব্বুর করবো? যার প্রেক্ষিতে আমরা মানুষকে কর্তা (ফায়িল) বলব অথবা কর্তা (ফায়িল) নয় এই কথা বলব। মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে মুসলমানদেরকে তৃতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে সেটা হলো <strong>ইলাহি সিফাতসমূহ।</strong> আপনারা আবার মনে করবেন না যে এই সকল বিতর্ক হিজরী ১৫০ কিংবা ২০০ হিজরীতে হয়েছে। ৭০ এবং ৮০ হিজরীর দিকে মুসলমানগণ এই সব বিষয় নিয়ে বিতর্ক করেছে।</p>
<p><b>ইলাহি সিফাতসমূহঃ</b></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আপনারা জানেন যে, পরবর্তীতে এ বিষয়ে আরও অনেক সিস্টেমেটিক চিন্তার উদ্ভব হয়। যেমন, মু’তাযিলাগণ বলেন, والله عالم والعلم نفسه অর্থাৎ আল্লাহ জ্ঞানী এবং তিনি নিজেই জ্ঞান। অথবা, والله عالم بمعني ليس بجاهل (আল্লাহ সর্বজ্ঞ, এটার অর্থ হল, তিনি কোনো বিষয়েই অজ্ঞ নন) ইত্যাদি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে এই চিন্তা সমূহ সিস্টেমেটিকভাবে গঠিত হওয়ার পূর্বে মুসলমানগণ অন্য একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়। সেটা হল, </span></p>
<p><strong>ইলাহি সিফাতসমূহ নিয়ে আমরা কিসের ভিত্তিতে কথা বলি? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোনো বিষয়ে কথা বলার জন্য আগে সেই বিষয়ে জানা প্রয়োজন, অর্থাৎ কোনো বিষয়ে জানা ছাড়া সেই বিষয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়। গায়েবি বিষয়ে আমরা কীভাবে কথা বলব? জানা বিষয়সমূহকে ভিত্তি হিসেবে ধরে অজানা বিষয়ে জানার চেষ্টা করবো। ইলাহি সিফাত সমূহ গায়েবি এটা মোটামুটি নিশ্চিত, তাহলে আমরা কিসের ভিত্তিতে এই সকল সিফাত সমূহ নিয়ে কথা বলবো? আমাদের হাতে দুইটি ডাটা রয়েছে আমাদেরকে এই দুইটি ডাটার আলোকে কথা বলতে হবে।</span></p>
<p><b>প্রথমটি </b><strong>হলো পঞ্চেন্দ্রিয়। এর মাধ্যমে আমরা বাহ্যিক জগতকে জানতে ও চিনতে পারি।</strong></p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি হলো ওহী। ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাঁর নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই দুটি প্রকারের তথ্যের  উপর ভিত্তি করে আল্লাহ সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়। <strong><em>পরবর্তীতে এদের নামকরণ করা হয় কালামবিদ নামে </em></strong>। প্রথমে এই সকল বিষয় নিয়ে যারা আলোচনা করেন তারা কালামবিদ নন। এই সব চিন্তা মূলত ১১০ হিজরী সালের দিকে ইলমুল কালাম রূপে আত্মপ্রকাশ করে এবং এসব বিষয় নিয়ে যারা কথা বলতেন তাদেরকে মুতাকাল্লিম নামে অভিহিত করা হয়।</span></p>
<p><strong>জ্ঞানের সমস্যাঃ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলমানগণ এরপর যে সমস্যাটির সম্মুখীন হয় সেটি হল, দুনিয়ার (ফিজিক্যাল ওয়ার্ল্ড) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দলীল সমূহকে যখন আমরা স্রষ্টাতত্ত্বের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করব তখন আমরা আল্লাহকে কীভাবে জানবো? এই বিতর্ক মুসলমানদেরকে জ্ঞানগত একটি সমস্যার সামনে এসে দাঁড় করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">জ্ঞান কি সম্ভব? </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">একটি বিষয়কে আমরা কীভাবে জানবো? কোন কোন ক্ষেত্রে জ্ঞানের উৎপত্তি হয়? </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">ফলশ্রুতিতে যে বড় সমস্যাটি এরপর মুসলমানদের সামনে এসে দাঁড়ায় সেটা হল জ্ঞানের সমস্যা। ওয়াসিল বিন আতা এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নাম দেন, كتاب الطريق الي معرفة الحق (কিতাব আত তারিক ইলা মা’রিফাতিল হাক্ব)। ওয়াসিল বিন আতা ১৩০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। জ্ঞানের ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে ‘<strong>জ্ঞানতত্ত্ব’ তথা এপিস্টেমোলজি নিয়ে সর্বপ্রথম লিখিত গ্রন্থ।</strong> এই প্রশ্নের তিনি জবাব দেন এইভাবে ‘দৃশ্যমান (শাহীদ) বিষয় সমূহের উপর ভিত্তি করে আমরা গায়েব বা অদৃশ্যমান বিষয় সমূহকে জানতে পারি’। এইভাবে জবাব দেয়া কারণে এই বিষয়কে দালীলিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য ‘থিওরিক ফিজিক্স’ (Theoretical Physics) নিয়ে কাজ করা শুরু করেন।</span></p>
<p><b>‘থিওরিক ফিজিক্স’ (Theoretical Physics)-</b></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ প্রকৃতিকে বিশ্লেষণ করা। জ্ঞানের সমস্যাকে সমাধান করার জন্য তারা প্রকৃতিকে নিয়ে গবেষণা করতে বাধ্য হন। </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">আমরা যে দুনিয়ায় বসবাস করছি এটা কেমন একটি দুনিয়া? </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">এই দুনিয়াকে আমরা কীভাবে চিনি ও জানি? </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">এই জন্য কালামবিদগণের নিকট ফিজিক্যাল দুনিয়াকে প্রথমত, جوهر ও عرض তথা যাত ও সিফাত এই দুই ভাগে ভাগ করেন এবং এটা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর, দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য, স্পর্শযোগ্য, স্বাদযোগ্য, গন্ধযোগ্য সমগ্র বস্তুগত বিশ্বকে এই গ্রুপসমূহে ভাগ করেন। অর্থাৎ চক্ষু, কর্ণ, জিহ্বা, নাসিকা, ত্বকের মাধ্যমে অর্জিত বিষয়সমূহকে আলাদাভাবে বিভাজিত করেন। এই জন্য কালামের গ্রন্থসমূহ শুরু থেকে নিয়ে দৃশ্যমান বিষয়সমূহের মধ্য থেকে ‘রঙ’ নিয়ে আলোচনা করে আসছে, শ্রবণযোগ্য বিষয়সমূহ থেকে ‘আওয়াজ বা সুর’ নিয়ে আলোচনা করে আসছে। যেমন, স্বাদ নিয়ে। স্বাদ কেমন? আমরা স্বাদ কীভাবে পাই? কি কি ধরণের স্বাদ আছে? শরহে মাওয়াকিফ এবং তার পূর্বে লিখিত গ্রন্থসমূহে ঝাল, মিষ্টি, টক ইত্যাদি তথা স্বাদের প্রকারভেদসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতিকে (Material World) কে মানুষের পঞ্চেদ্রিয়ের আলোকে শ্রেণিবিন্যাস করেন এবং এর উপর ভিত্তি করে আমরা কীভাবে দলীল প্রণয়ন করব এটার ভিত্তি স্থাপন করেন করেন।</span></p>
<p><b>ইলাহি যাত ও সিফাতঃ</b></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রকৃতিকে বিশ্লেষণ করার পরে পুনরায় তারা ইলাহি যাত ও সিফাতের দিকে ফিরে আসেন। এখন আসুন আমরা পুনরায় প্রথম সমস্যার দিকে ফিরে যাই, সমস্যা কোথা থেকে শুরু হয়েছিল? সমস্যা শুরু হয়েছিল ‘মানুষের পরিচয়দানকারী বা সংজ্ঞায়নকারী কোরআনী পরিভাষাসমূহের অর্থের অস্পষ্টতা (Ambiguity of Meaning)’ থেকে। <strong>অর্থাৎ, মু’মিন, মুনাফিক এবং কাফের থেকে তথা এই সব পরিচয়কে বলা হয় আসমায়ে শারইয়্যা। সমস্যা এটা থেকে শুরু হয়েছিল। এই সমস্যার মূল উৎস হলো ইমামতের সমস্যা।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ কারণে কালাম বিষয়ক সকল গ্রন্থকে এভাবে সাজানো হয়েছে। ইলাহি যাতের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে নবুয়ত ও আখেরাতকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। হিজরী ১৩০ সালে পৌঁছার পর মুসলমানগণ এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং এই সব বিষয়ে থিওরী প্রস্তুত করেন। তবে ইলমুল কালামকে এইভাবে সিস্টেম্যাটিক অবস্থায় নিয়ে আসেন আবুল হুজাইল আল-আল্লাফ (তিনি ১৩৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩৫ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন)।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইলমুল কালামের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তথা ২০০ হিজরী পর্যন্ত কালামবিদগণ কিছু কিছু থিওরীকে সামনে নিয়ে আসেন। যেমন, ইলাহি সিফাত সংক্রান্ত বিষয়ে তিনটি থিওরী আবিষ্কার করেন। মূলত প্রথম দিকে থিওরিক ফিজিক্স সবচেয়ে দোদুল্যমান বিষয়ের সমূহের একটি ছিল। অর্থাৎ ফিজিক্স দুনিয়াকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে? থিওরিক ফিজিক্সে যে সব তত্ত্ব আবিস্কৃত হয়-</span></p>
<p><strong>১. যৌগিকতা (এটা ছিল আমর বিন দিরারের থিওরী)।</strong></p>
<p><strong>২. এটমিজম তথা পরমাণুবাদ (এটা ছিল আবুল হুজাইলের থিওরী)।</strong></p>
<p><strong>৩. যুহুর-কুমুন (নাজ্জাম এবং জাহজ)।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পরবর্তীতে মুসলিম চিন্তাবিদদের মধ্যে এটমিজম থিওরী গ্রহণ যোগ্যতা লাভ করে। নাজ্জাম এবং জাহজের জন্ম হলো ১৪০-১৫০ হিজরীর দিকে।  ১৬০ এর দিকে জাহজ জন্মগ্রহণ করেন। ২০০ হিজরী সালের দিকে নাজ্জামের বয়স ৫০ বছর। পরিপক্ক একজন আলেম বলা চলে। সিস্টেমেটিক অনুবাদের যুগে আবুল হুজাইলের বয়স ৭৫ বছর।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনুল মুকাফফা পাহলভি ভাষা থেকে ঈসাগুজি এবং এরিস্টটলের বই অনুবাদ করেন। কিন্তু এই সব বই কতটা প্রচারিত ও প্রসারিত হয়েছিল সেটা জানা যায় না। তবে একটি বিষয় ছিল সেটা হল এই সকল থিওরীকে ডেভলপ করার সময় মুসলিম আলেমগণ তাদের আগের থিওরীসমূহ সম্পর্কে জানতেন। কারণ তাদের ব্যবহৃত এটমিজম হয় ভারতীয় এটমিজম (পরমাণুবাদ) না হয় গ্রীক এটমিজম। তবে গ্রীক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে এখানে আরও একটি বিষয় রয়েছে, সেটা হল এই সব চিন্তাবিদগণ দীর্ঘদিন বেঁচে ছিলেন। জাহজ ২৫০ হিজরি পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। নাজ্জাম ২৪০ হিজরি পর্যন্ত। আবুল হুজাইল ২৩৫ হিজরি পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। ফলশ্রতিতে গ্রীক দর্শনের সকল অনূদিত বই পুস্তক সমূহ অনুবাদ হওয়া পর্যন্ত তারা বেঁচে ছিলেন। তারা তাদের থিওরির জবাব দেন, ব্যাখ্যা করেন। তবে তারা নিজেদের জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে জবাব দিয়েছেন নাকি অন্য কোনো থিওরির উপর ভিত্তি করে দিয়েছেন সেটা আমরা জানি না। তবে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল এই বিষয়সমূহ তথা-</span></p>
<p><strong>১.মানুষ পরিচয়দানকারী বা সংজ্ঞায়িতকারী কোরআনী পরিভাষা সমূহের অর্থের অস্পষ্টতা (Ambiguity of Meaning)</strong></p>
<p><strong>২.স্বাধীনতার সমস্যা। অর্থাৎ, মানুষ তার নিজের কর্মসমূহের কর্তা (ফায়িল) কিনা?</strong></p>
<p><strong>৩.ইলাহী সিফাতসমূহ</strong></p>
<p><strong>৪.জ্ঞানের সমস্যা</strong></p>
<p><strong>৫.থিওরিক ফিজিক্স’ (Theoretical physics),</strong></p>
<p><strong>৬.ইলাহি যাত ও সিফাত,</strong></p>
<p><strong>৭.ইমামতের বিষয়।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">২০০ হিজরীর মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই এগুলো নিয়মতান্ত্রিক অবস্থায় চলে আসে। যদি চিন্তা করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন যে, এই সব বিষয়ের প্রায় সবগুলোই মানুষের স্বাধীনতার বাহিরের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব (ওজুদ) সমূহ নিয়ে আলোচনা করে ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রাথমিক সময়ের তথা হিজরি ১৫০ এবং হিজরি ১৬০ এর দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, কালামবিদগণ ওজুদের (সৃষ্টি, অস্তিত্ব) সমগ্র বিষয়কে নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। আল্লাহর যাত ও সিফাত থেকে শুরু করে রং, গন্ধ, স্বাদসহ সকল কিছুকে নিয়ে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে গবেষণা শুরু করেন।</span></p>
<p><strong>ইলমুল কালাম কি নিয়ে আলোচনা করেঃ</strong></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">মানুষের ইচ্ছা সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহ যেন আপনাদেরকে ভ্রমের মধ্যে ফেলে না দেয়। মানুষের ইচ্ছার ফলে যে সব বিষয় সৃষ্টি হয় সে সব বিষয় নিয়ে ইলমুল কালাম আলোচনা করে না। অর্থাৎ ইলমুল কালাম আখলাক এবং রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করে না। কালামের গ্রন্থসমূহে ইমামত নিয়ে আলোচনা করার মূল কারণ হচ্ছে শিয়ারা ইমামতকে আকীদার সাথে সম্পৃক্ত একটি বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করার কারণে বাধ্য হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ইমামতকে স্থান দিতে হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই মানুষের ইচ্ছায় যে সব বিষয় সৃষ্টি হয়ে থাকে সে সব বিষয় নিয়ে কালাম আলোচনা করে না। অর্থাৎ ইলমুল কালাম একেবারেই সুস্পষ্টভাবে পরিপূর্ণভাবে নাজারি (তত্ত্বীয়) একটি ডিসিপ্লিন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নাজারি ডিসিপ্লিন মানুষের ইচ্ছাকৃতভাবে করার ফলে যে সব কাজ সৃষ্টি হয় এর বাহিরের যত ধরনের মওজুদ (সৃষ্টি, অস্তিত্ব) রয়েছে সে সব বিষয়সমূহকে নিয়ে কাজ করে থাকে।</span></em></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">দ্বিতীয়ত, কালামের মূলতত্ত্বকে বুঝা খুবই জরুরী। কারণ হচ্ছে, কালাম এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যার মাকসাদ বা উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান বা ইলম। অর্থাৎ আচার আচরণ নয় যার মাকসাদ হচ্ছে জ্ঞান এমন একটি বিষয় নিয়ে ইলমুল কালাম আলোচনা করে থাকে।</span></em></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">ক্ল্যাসিক দুনিয়ায় ইলমুল কালাম এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, সে যে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হচ্ছে, সে বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য উপাত্ত বের করা। সঠিক একটি তথ্য কিংবা সেই ব্যাপারে সঠিক একটি বিশ্বাসে উপনীত হওয়া। কালাম এর মূল উদ্দেশ্য হলো এটাই। এজন্য ফিজিক্স সংক্রান্ত অধ্যায় হোক কিংবা মেটাফিজিক্সের অধ্যায় হোক অথবা সমগ্র সৃষ্টিকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিতকারী অন্টোলজির অধ্যায় হোক না কেন কালামের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সে সব বিষয় সম্পর্কে একটা সিদ্ধান্ত বা জ্ঞানে উপনীত হওয়া।</span></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এক অর্থে বলতে গেলে ইলমুল কালাম মোটামুটি দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই বিষয়গুলোকে পূর্ণতায় পৌঁছে দেয়। আবুল হুযাইল ইলমুল কালামের জ্ঞান, নাজার (তত্ত্ব), উমুরে আম্মা বা অন্টোলজি, জাওহার, আরায, ইলাহি যাত ও সিফাতসমূহ, নবুয়ত, মায়া’দ, আসমায়ে শারইয়্যা এবং ইমামত এই সব বিষয়কে পূর্ণতায় পৌঁছে দেন। মূলত ইলমুল কালাম এর সঠিক ধারাবাহিকতা এটাই। আর এই ধারাবাহিকতাকে সুন্দরভাবে সুনিপুণভাবে সাজান হচ্ছে আবুল হুযাইল আল-আল্লাফ। দ্বিতীয় হিজরীর শেষের দিকে তিনি এটাকে সম্পন্ন করে লিপিবদ্ধ করেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আপনারা এটা জানেন যে, মু’তাযিলা চিন্তাধারায় ওয়াসিল বিন আতার পরে সবচেয়ে বড় চিন্তাবিদ হলেন আবুল হুযাইল আল্লাফ। ফলশ্রতিতে দ্বিতীয় হিজরীর মধ্যেই মুসলিম কালামবিদগণ এই সকল ডিসিপ্লিন কে সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য একটি ধারাকে তৈরি করতে সক্ষম হন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে এই নাজারি (তাত্ত্বিক) ডিসিপ্লিনের একটা দাবি রয়েছে। মূল বিষয়টিকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য এই দাবিকে খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে। এই নাজারি ডিসিপ্লিন বলে থাকে যে, দ্বীন মূলত দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। একটি হচ্ছে ঈমান আরেকটি হচ্ছে আমল। আমি ঈমান সম্পর্কিত অধ্যায়ে বিশ্বাস করা প্রয়োজন এমন বিষয় সমূহকে নির্ণয় করছি একইসাথে এই সব বিষয়সমূহ ঈমান সম্পর্কিত বিষয়ে কোন কোন শর্তের আলোকে বোঝা যাবে এগুলো আমি লিপিবদ্ধ করছি। লক্ষ্য করুন; এই অর্থের দিক থেকে ইলমুল কালাম একইসাথে তাফসীর। এই বিষয়টিকে ভালোভাবে বোঝা ছাড়া তাফসীরের ইতিহাস থেকে এমন এমন বিষয় বের করা সম্ভব, যা বুঝা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। যেমন, একজন মুফাসসির হওয়ার অর্থ কি এটা বুঝতে পারবেন না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> <strong>এটি খুবই ইন্টারেস্টিং একটি বিষয়। আপনারা জানেন যে, আহলুস সুন্নতের ‘কাসব’ থিওরী রয়েছে। এই ‘কাসব’ থিওরী মুতাযিলাদের তৈরি করা একটি থিওরী। দিরার বিন আমর এই থিওরীর প্রবক্তা। দিরার বিন আমরের কাসব থিওরির মূল কথা হচ্ছে, কোরআনে কারীমে মানুষ সম্পর্কিত সকল ক্রিয়া (ফে’ল) সমূহ আমরা এই থিওরীর আলোকে বুঝব।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইলাহি সিফাত সম্পর্কিত বিষয়গুলোও এর আলোকে বুঝতে হবে। যেমন, ওয়াল্লাহু আলিমুন ওয়াল ইলমু বি নাফসুহু, এই কথাটি। এখানে বলা হচ্ছে যে, কোরআনে কারীমে এবং হাদীসে, যেভাবেই উল্লেখ করা হোক না কেন, আল্লাহর সিফাত সম্পর্কিত সব আয়াত কিংবা নসকে এই মূলনীতির আলোকে বুঝব। এই অর্থে ইলমুল কালাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে, এমন অবজেক্টসমূহ সম্পর্কে থিওরিসমূহের সামগ্রিকতার মতো। কালাম নিজেকে এই সব বিষয় সম্পর্কে ব্যাখা দান করতে সক্ষম বলে দাবী করে থাকে। সিফাত সংক্রান্ত থিওরী, যাত-সিফাত অন্টোলজি, নবুয়ত সম্পর্কিত থিওরী,, মানুষের কাজ সম্পর্কিত থিওরী এবং একইসাথে নসসমূহকে বুঝার জন্য চাবিকাঠি দিয়ে থাকে। কিন্তু এই বোধগম্যতা হলো ইসতিদলালী।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসতিদলালী বোধগম্যতা হলো, মুতাকাল্লিমগণ চিন্তা করেন যে তাদের হাতে কিছু ডাটা রয়েছে, সেই ডাটাকে একটি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে তথা ওহীকে একটি ভাষায় প্রকাশ করা হয়েছে। আর ভাষা বুঝার শর্ত হল অভিজ্ঞতা। যদি অভিন্ন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে ভাষা বুঝা সম্ভব নয়।</span></p>
<p><strong>অভিজ্ঞতার আবার দুটি ক্ষেত্র আছেঃ</strong></p>
<ul>
<li>আমাদের দৈনন্দিন ভাষায় ব্যবহার করে থাকি এমন অভিজ্ঞতা।</li>
<li><span style="font-weight: 400;">অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে বের করা আকলী ফলাফলসমূহ। অর্থাৎ আকলের নির্দিষ্ট কিছু অভিজ্ঞতার দরকার। কালামবিদগণ বলেন, আল্লাহ ও আলমের (জগত) মধ্যকার সম্পর্ক, আল্লাহ এই আলমের সাথে কেমন ব্যবহার করেন, এই সম্পর্কিত বিষয়ে এবং আখেরাত সম্পর্কিত আয়াতসমূহকে ইলমুল কালামে যে ফ্রেম তৈরি করেছি সে ফ্রেমের আলোকে বুঝতে হবে।</span></li>
</ul>
<p><strong>ইলমুল কালামে এই কাঠামো কিসের আলোকে তৈরি করা হয়েছে?</strong></p>
<p>মূলত নসকে বুঝতে হলে নস যে বিষয়ে কথা বলেছে সেই বিষয়কে বুঝতে হবে। যেমন আল্লাহকে না চিনে, আল্লাহ সম্পর্কিত একটি নসকে সঠিকভাবে বুঝতে পারব না। ফলশ্রতিতে আয়াতসমূহ এক দিক থেকে মুভমেন্ট পয়েন্ট, অন্য অর্থে আয়াতের উল্লিখিত বিষয় মুভমেন্ট পয়েন্ট হয়ে বিষয়টিকে বুঝতে সাহায্য করে। এই হল ইসতিদলালী একটি আকল।</p>
<p><strong>আচ্ছা, এখন কথা হল, দ্বীনকে কি ইসতিদলালী আকলের মাধ্যমে বুঝা সম্ভব? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রশ্ন এখানেই। আমরা দ্বীনকে কি ইসতিদলালী আকলের মাধ্যমে বুঝব নাকি অন্য কোনো পন্থা আছে? অনেক ঐতিহাসিক কারণও রয়েছে, আপনারা জানেন যে, ইলমুল কালামের সাথে সমান্তরালভাবে যুহুদ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। শুরুতে যুহুদ আন্দোলনকে একটি বিদ্রোহী আন্দোলনের মতো দেখা যায়। অর্থাৎ, ইসলামী রাষ্ট্রের তৈরি করা সিস্টেম কোনো কোনো শ্রেণির ধনী হওয়ার কারণ হয়। যেমন আপনারা জানেন যে, রাসূল (স.) গনীমতকে বণ্টন করার সময় বদরের সাহাবীদেরকে প্রাধান্য দিতেন। বিভিন্ন বিজিত অঞ্চল থেকে গণীমতের মাল আসার ফলে মদিনা অনেক সমৃদ্ধশালী একটি স্থানে পরিণত হয়। অনেক কঠিন সময়ে জিহাদে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের নাতি নাতনীরা সম্পদশালী হয়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে, মদিনার আশেপাশে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে ওঠে। এমন কি আস্তে আস্তে জীবন ধারায় দুনিয়াদারী ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য যুহুদ আন্দোলনের উৎপত্তি হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে যুহুদ আন্দোলনকে যদি শুধুমাত্র আখলাকী একটি আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করি তাহলে পরবর্তীতে এটাকে সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। যুহুদ আন্দোলন শুরু থেকেই ফুকাহা এবং মুতাকাল্লিমদেরকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন- এসব চিন্তার মাধ্যমে মা’রেফাতুল্লাহয় পৌঁছা সম্ভব নয়। তাহলে কীভাবে বুঝব? তারা জবাবে বলে এর একটাই সূত্র আছে। এই দ্বীনের নসসমূহকে ভালোভাবে কে বুঝেছেন? রাসূল (স.) বুঝেছেন। <strong>এটা ফিলোসফির ধারায় মেটাফিজিক্স আর দ্বীনের ক্ষেত্রে পয়গাম্বর একই বিষয়।</strong> এটা অনেক বড় একটি বিষয়। বাক্যের অর্থ কে সঠিকভাবে বুঝে? কাউকে না কাউকে সঠিকভাবে বুঝা প্রয়োজন। আর দ্বীনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো বুঝেন পয়গাম্বর। আর দ্বীনের তত্ত্বীয় ও কার্যগত হায়াতকে পরিচালনা করার জন্য জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হওয়া প্রয়োজন। কালামের কথা হলো, এটা ইসতিদলালের মাধ্যমে তৈরি/অর্জিত হয়ে থাকে। ইসতিদলালের মাধ্যমে তৈরি হওয়া জ্ঞানকে আমাদের জীবনের সাথে মেলবন্ধন করে দিতে পারি। কালামবিদগণ বলেন, এক দিকে হল ঈমান, আর এই ইসতিদলালের মাধ্যমেই সহীহ একটি ঈমানে আমরা পৌঁছাতে পারি। অপরদিকে ঈমানের দাবিসমূহকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। এটাই হল মুমিন হওয়ার মূল অর্থ। এর বিপরীতে যুহুদ আন্দোলনের যারা তারা বলেন, “এরকম ইসতিদলালের মাধ্যমে আল্লাহকে জানা সম্ভব নয়। এটা সঠিক কোনো পন্থা নয়, এর মাধ্যমে তোমরা শুধুমাত্র শব্দ নিয়ে খেলা করতে পারবে।” দর্শনের ইতিহাসে নমিনালিজমের মতো একটি সমালোচনা তাদের সামনে দাঁড় করায়। তারা বলেন, “তোমাদের হাতে যা আছে এগুলো শুধুমাত্র ওয়াসিফ বা গুণবাচক বিষয়। ভাষা দিয়ে বর্ণনা করে যাচ্ছ! এর অর্থ কোথায়?” অর্থ কেবলমাত্র অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই অর্জিত হতে পারে। কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কথা বলা ছাড়া, (আল্লাহর সাথে কথা বলার  অর্থ এখানে অস্পষ্ট) এটা কীভাবে বুঝবে? যাইহোক এটা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। আল্লাহর সাথে কথা বলার বিষয়টি পয়গাম্বরের ক্ষেত্রে ওহী, তবে কারো কারো ক্ষেত্রে বা মানুষের ক্ষেত্রে ইলহাম। অথবা কারোর ক্ষেত্রে স্বপ্ন হতে হবে। রাসূল (স.) বলেছেন আমার উম্মাহর মধ্যে সাদিক স্বপ্ন অব্যাহত থাকবে। এরকম হতে হবে। অর্থাৎ কোনো না কোনোভাবে রাসূল (স.)-এর অভিজ্ঞতার অংশীদার হতে হবে। এই জন্য অংশীদার হতে হবে যেন রাসূল (স.) যে সকল বিষয় যেভাবে বুঝছেন সেটাকে ধারণ করতে পারি। তা না হলে এই দুনিয়াতে ইহসানের পর্যায়ে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে এটা তাসাউফে পরিণত হয়।</span></p>
<p><strong>যুহুদ আন্দোলনের শুরু থেকেই দুটি মৌলিক দাবি ছিল-</strong></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">পদ্ধতি বা পন্থা, হাকীকতে পৌঁছার পন্থা কি হবে? এই প্রশ্নের জবাব।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> এই পন্থার মাধ্যমে যে জ্ঞান অর্জিত হবে এর নাম কি হবে? এই প্রশ্নের জবাব। এই দ্বিতীয় বিষয়টি হল মেটাফিজিক্স।</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ একই সাথে ওজুদ বা অস্তিত্ব সম্পর্কে কুল্লি ইদরাক (সামগ্রিক উপলব্ধি) সম্পর্কে একটি দাবির মালিক এই যুহুদ আন্দোলন, একইসাথে এই কুল্লি ইদরাক কীভাবে অর্জন করতে হবে এই সম্পর্কিত পদ্ধতির দাবিকারী।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একটি উদাহরণের মাধ্যমে এই দাবিকে আরও ভালোভাবে বুঝা সম্ভব। ইমাম মালিকের সময়ে ওমরী নামে একজন যাহিদ লোক ছিলেন। তিনি ইমাম মালিকের নিকট একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে বলেন, “আপনার সম্পর্কে অনেক কথা শুনে থাকি যতটুকু জানি আপনি অনেক বড় একজন আলেম। কিন্তু আল্লাহকে সঠিকভাবে জানা এবং রাসূলুল্লাহ (স.) ইসলামের সঠিকভাবে অনুসরণ এর মাধ্যমে সম্ভব নয়। আপনি যে সব কাজ করছেন এগুলোর মাধ্যমে আসলে আল্লাহকে সঠিকভাবে চেনা সম্ভব নয়। ফিকহের মাধ্যমে ইসলামকে সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। আমার মত জীবনযাপন করুন, তাহলে এভাবে আপনি মা’রেফাতুল্লাহ-এ পৌঁছাতে পারবেন’।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইমাম মালেকও তার এই কথার জবাব দেন, </span></p>
<p><strong><em>“প্রথমে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, আপনি আমার সম্পর্কে ভালো বলেছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ তবে আল্লাহতে পৌঁছার জন্য বা মা’রেফাতুল্লাহর জন্য অসংখ্য পথ রয়েছে। আল্লাহ প্রতিটি মানুষকেই তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য একটি পন্থা দিয়ে থাকেন, এটি তার অনেক বড় একটি রহমত। আল্লাহ আমাকে এই পথের মাধ্যমে তাকে চেনার একটি পথ দিয়েছেন, আমি এই পথের মাধ্যমে আল্লাহকে চিনতে পারবো বলে আশা করি। তিনি আপনাকে ওই পথ দান করেছেন”। </em></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে ইমামের শেষের কথাটি খুবই সুন্দর। ইমাম মালেক তাকে বলেন, তবে জেনে রাখুন এই পথসমূহের কোনোটাই কারোর চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। এখানে মূল হচ্ছে মাকসাদ। মাকসাদ বা উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ার পরে এসব পথের প্রতিটিই সমান।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই যুহুদ আন্দোলন দ্বিতীয় হিজরী শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময় থেকে নিয়ে ইলমুল কালামের মতই নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার পরিভাষাসমূহকে আস্তে আস্তে উন্নত করতে থাকে। তাদের দাবি অভিজ্ঞতা হওয়ার কারণে, যুহুদ আন্দোলনের পরিভাষাসমূহ মানুষ সম্পর্কিত পরিভাষা ছিল। কারণ আল্লাহর সামনে মানুষের অবস্থাসমূহকে পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে বা পর্যবেক্ষণ করেই কোন ধরনের জ্ঞান অর্জিত হচ্ছে এটা বের করা সম্ভব। এক্ষেত্রে তাঁরা </span>ইখলাসকে, ইহসানকে, হাসরাতকে পর্যবেক্ষণ করেন।</p>
<p>অর্থাৎ ইবাদতসমূহ কীভাবে তার নিজস্বরূপে বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে এটা কে জানার জন্য তারা এই পন্থা অবলম্বন করে। কোনো কাজ বা আচরণের মধ্যে যদি অন্য কেনো কিছু প্রবেশ করে তার বিকাশকে তার নিজস্বতা থেকে দূরীভূত করে, যেমন, কোন বিষয়সমূহ নামাজকে নামাজ হওয়া থেকে দূরে করে দেয়, রোজাকে রোজা হওয়া থেকে দূরীভূত করে দেয়, যাকাতকে যাকাত হওয়া থেকে বঞ্চিত করে এই বিষয়গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কোন সময় ঐ সব ইবাদতকে তার সত্যিকার রূপে ধরা যাবে এটাকেই তারা নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করেছেন ।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">এজন্য প্রথম যুগের লেখা তাসাউফের বই মূলত মানুষের অবস্থা সম্পর্কে। খেলার ছলে কিংবা কোনো কারণ ছাড়া এমনিতেই তারা এই সব অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করতেন না। আর এই অবস্থা কোন ধরনের জ্ঞানকে সৃষ্টি করে এটাকেই তারা মূলত সামনে নিয়ে আসে। যেমন, ইখলাসের অবস্থা আমাদের মধ্যে কোন ধরনের জ্ঞানের সৃষ্টি করে? ইত্যাদি। ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে সেই ক্রিয়া সংগঠিত করার সময় আল্লাহর সামনে আমাদের কোন কোন অবস্থার সৃষ্টি করে? আর এই অবস্থাসমূহ আমাদের মধ্যে কোন ধরণের জ্ঞানের সৃষ্টি করে?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলুক মূলত প্রথমে এটাই পর্যবেক্ষণ করে। সুলুক হলো; সম্পাদিত ইবাদতসমূহে, ইবাদতের সাথে ইবাদত কর্তৃক সৃষ্ট মা’রেফাতের মধ্যে সম্পর্ককে পর্যবেক্ষণ করা। কাশফুল মাহজুব হল, মুতাকাদ্দিমুন সময়ে লেখা সবচেয়ে সেরা বইসমূহের একটি। সকল ধারাকে তাদের কেন্দ্রে স্থাপিত পরিভাষাসমূহের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে এই বইয়ে। কোন পরিভাষা কোন ধরণের জামায়াত সৃষ্টি করে এবং কোন মা’রেফাত তৈরি করে। তাসলিম, সাহু, সাকার ইত্যাদি।<strong> তারা মূলত, কুরবুল নাওয়াফিল হাদীসের উপর ভিত্তি করে তাদের চিন্তাকে তুলে ধরে। এটাই হল তাদের মূল চিন্তা।</strong></span></p>
<blockquote><p><strong>হক্বের মাধ্যমে হক্ব হওয়া। সবকিছুর পূর্বে হক্বকে দেখা এবং সবকিছুতেই হক্বকে দেখা। সবকিছুর পরও হক্বকে দেখা। সকল যুহুদ আন্দোলনের মাকসাদ/উদ্দেশ্যকে এবং অবস্থাকে সংক্ষিপ্তকারী একটি বাক্য এটি। এই বাক্যটি হযরত আবু বকর (রা.) নিকট থেকে এসেছে। </strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">যুহুদ আন্দোলন আল্লাহ এবং মানুষের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাকে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়ে থাকে। বান্দার অবস্থা হিসেবে, আওয়াল, আখের, যাহের, বাতেন সর্বাবস্থায় আল্লাহ’ই হবেন সাথী। এটা এই অর্থে আসলে সকল ধরণের দ্বীনি পরিভাষা, সকল ধরণের দ্বীনি উপলব্ধি, ঐ পরিভাষা এবং ইদরাক সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হতে পারে। অভিজ্ঞতা থেকে উৎসারিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মাখলুক সম্পর্কিত ইদরাককে (উপলব্ধি) আল্লাহর নিকটে নিয়ে যাই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তাসাউফ কালাম থেকে ভিন্ন, এর দুটি ধারা রয়েছে। একটি হল মানুষের ইরাদা/ইচ্ছার বাহিরে অবস্থানরত অস্তিত্ব সম্পর্কে। আল্লাহ ও মহাবিশ্বের মধ্যকার সম্পর্ক। মা’রেফাতুল্লাহ এর অন্তর্গত একটি বিষয়। এখানে মূল বিষয় হল আল্লাহ আলম তথা মহাবিশ্বের সাথে কেমন আচরণ করে এটাকে বুঝা। এখানে মূল পরিভাষা কি? যেমন মুতাযিলাগণ বলেন, </span></p>
<p><strong>আলেমদের সাথে আল্লাহর আচরণের মূল পরিভাষা হল ‘আদালত’। আশয়ারীগণ বলেন, ‘কুদরত’, ইমাম মাতুরিদি বলেন, ‘হিকমত’, হাসান বসরি বলেন ‘মারহামাত’। কোন পরিভাষার আলোকে আল্লাহ ও মহাবিশ্বের মধ্যকার সম্পর্ককে বুঝব? এর অর্থ হল এই পরিভাষাকে কেন্দ্রে স্থাপন করে সকল নসকে এই পরিভাষার আলোকে ব্যাখ্যা করবো। এই পরিভাষা কেন্দ্রে নেই এমন সকল নসকে মাজায হিসেবে ব্যাখা করবো।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা যে পরিভাষাকে কেন্দ্রে স্থাপন করবো সেটা একইসাথে সৃষ্টিকে বোঝার জন্য এবং আল্লাহ ও আলমের মধ্যকার সম্পর্ককে বুঝার ক্ষেত্রে নসসমূহকে বুঝার জন্য চাবিকাঠি স্বরূপ। এই খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এটা দ্বীনি জ্ঞানকে হাকিকতের সন্ধানী জ্ঞান হিসেবে স্থাপন করে। দ্বীনি জ্ঞান শুধুমাত্র নসসমূহকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার জ্ঞান নয়। এটা একই সাথে নস আমাদেরকে যে দুনিয়া সম্পর্কে খবর দিয়েছে সেই দুনিয়া সম্পর্কে গবেষণাকারী ঐ সব বিষয়ের হাকীকত সম্পর্কে চিন্তাকারী একটি জ্ঞানে রূপান্তরিত হয়। হাদীসশাস্ত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর কথাকে নিয়ে, তার কথার বিশুদ্ধতাকে নিয়ে কাজ করা হয়। ফলশ্রতিতে হাদীস একইসাথে মুতলাকভাবে এই কথাকে বর্ণনা করার শর্তসমূহে বিশ্লেষণ করে আবার একই সাথে রাসূলের নিকট থেকে আসা নাকিল শর্তসমূহকে বিশ্লেষণ করে। অথবা, ফকীহ, আফয়ালে মুকাল্লাফিন সম্পর্কে আল্লাহর হুকুম কি সেটাকে নিয়ে গবেষণা করে। একইসাথে মুতলাকভাবে আফয়ালে মুকাল্লাফের (দায়িত্বপ্রাপ্ত) গুরুত্ব নিয়ে গবেষণা করে।</span></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">এর দ্বিতীয় যে বিষয়টি তাসাউফকে কালাম পৃথক করে তা হলো, মানুষের ইচ্ছার ফলে সৃষ্ট অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে। এই কারণে তাসাউফকে যদি প্রথম দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে মেটাফিজিক্স, দ্বিতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে আখলাকে রূপান্তরিত হয়। আর এই আখলাককে যদি সুলতানের সাথে সম্পর্কিত করে তাহলে রাজনীতিতে পরিণত হয়। তবে সাধারণত দুটি ধারা রয়েছে, আখলাক ও মেটাফিজিক্স।</span></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এখন প্রশ্ন হলো, ইলমুল কালামের আখলাক কোথায়? কালাম এরকম কোনো দাবি করেনি। তবে ভালো ও খারাপ কি? এই বিষয়ে কথা বলেছে। মূলত কালামের আখলাকী ধারাকে প্রতিনিধিত্ব করেছে ফিকহ। ইসলামে ফিকহ হলো, পূর্ববর্তীদের আখলাক এবং হিকমত সম্পর্কিত বিষয়ের অনুরূপ বিষয়। ফকীহদের ক্ষেত্র হল আফয়ালে মুকাল্লিফীন। মানুষের ইচ্ছায় সৃষ্ট বিষয়সমূহ। আপনারা জানেন ফিকহের বিষয় হলো আফয়ালে মুকাল্লিফীন। আফয়ালে মুকাল্লাফ হল মানুষের ইচ্ছায় সৃষ্ট বিষয়সমূহ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দ্বিতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে পৌঁছলে মুসলমানগণ দুই ধরণের ডিসিপ্লিন (ধারা) তৈরি করে। প্রথম ধারা হলো, মানুষের ইচ্ছার বাহিরে সৃষ্ট বস্তু সমূহকে নিয়ে গবেষণাকারী ধারা বা ডিসিপ্লিন। দ্বিতীয় ধারা মানুষের ইচ্ছার মাধ্যমে সৃষ্ট বিষয়সমূহ যেমন আখলাক, রাজনীতি এবং অর্থনীতির মতো বিষয়সমূহ নিয়ে গবেষণাকারী ডিসিপ্লিন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই দুই ধারাকে বিশ্লেষণকারী কালাম ও ফিকহ নিজেকে মডেল জ্ঞান বলে দাবি করে। অন্য সকল ডিসিপ্লিন এদেরকে সাহায্যকারী ডিসিপ্লিন দাবি করে। মূলত এই উভয় ডিসিপ্লিনের পদ্ধতি একই। উভয়েই ইসতিদলালের পন্থা ব্যবহার করে থাকে। এই উভয়কে একত্রিত করে নতুন একটি ধারা তৈরি হয় সেটা হল যুহুদ আন্দোলন। একদিকে আখলাক অপরদিকে মেটাফিজিক্স হওয়ার কারণে পরবর্তীতে এটা তাসাউফ নাম ধারণ করে। ফলশ্রতিতে মুসলমানগণ নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য সকল সৃষ্ট বস্তু তথা অস্তিত্বকে ডিসিপ্লিনাইজ করে। অর্থাৎ নির্ণয় করা সম্ভব এমন সকল কিছুকে বিশ্লেষণকারী ডিসিপ্লিন উদ্ভাবন করে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন, ইলমুল হাদীসের বিষয় হলো একজন মানুষ ও তার অবস্থাসমূহ। হাদীসের মূল কাজ হলো রাসূল (স) কে  বিশ্লেষণ করা। অর্থাৎ সকল মানুষকে প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে পয়গাম্বরকে মূল হিসেবে ধরে তাকে বিষয়ে পরিণত করা। অপরদিকে তাফসীর হয় সৃষ্ট থিওরীর বাস্তবায়ন অথবা থিওরি তৈরি করার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী নসসমূহের ভাষাগত ব্যাখ্যাকে নিশ্চিত করে থাকে, অন্য কিছু নয়। মৌলিকভাবে বলতে গেলে মুসলমানগণ সমগ্র সৃষ্টিকে নির্দিষ্ট কাঠামোতে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এটা অনেক বড় একটি সফলতা। লক্ষ্য করুন তখন মুসলমানদের কাছে ছিল ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ আর আল-কোরআন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইলাহী কালাম তাদেরকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিল সেই শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে তারা প্রাচীন বড় বড় দার্শনিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে এই সকল জ্ঞানের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হন। সেই সময়ে মুসলমানগণ সমগ্র দুনিয়ার চিন্তাকে প্রতিনিধিত্বকারী একটি জাতিতে পরিণত হয় এবং এই ভাবে প্রাচীন সভ্যতার বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>অনুবাদঃ</strong> বুরহান উদ্দিন।</span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-origin-and-development-of-islamic-thought/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13059</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আত তাওহীদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/at-tawhid/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/at-tawhid/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2021 07:04:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4213</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামের সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক একটি মূলনীতি হল &#8216;তাওহীদ&#8217;। কোরআন ও সুন্নাহর রূহ এবং সকল পয়গাম্বরের আগমণের উদ্দেশ্যও হল তাওহীদ।  ইসলামের তাওহীদের চিন্তা ও এর দৃষ্টিভঙ্গী অন্যান্য সকল বিশ্বাস ও ধর্ম থেকে আলাদা করার সবচেয়ে বড় বিষয়। এই তাওহীদ নামক]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামের সবচেয়ে বড় এবং মৌলিক একটি মূলনীতি হল &#8216;তাওহীদ&#8217;। কোরআন ও সুন্নাহর রূহ এবং সকল পয়গাম্বরের আগমণের উদ্দেশ্যও হল তাওহীদ।  ইসলামের তাওহীদের চিন্তা ও এর দৃষ্টিভঙ্গী অন্যান্য সকল বিশ্বাস ও ধর্ম থেকে আলাদা করার সবচেয়ে বড় বিষয়। এই তাওহীদ নামক মূলনীতি থেকে তিনটি মৌলিক নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে, সেগুলো হল,</p>
<ul>
<li style="font-weight: 400;"><strong>সালাম (শান্তি)</strong></li>
<li style="font-weight: 400;"><strong>আমান (নিরাপত্তা)</strong></li>
<li style="font-weight: 400;"><span style="font-weight: 400;"><strong>ওয়াহদাত (ঐক্য</strong>)</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলাম ও সালাম এর মধ্যকার সম্পর্ক</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">ঈমান ও আমান এর মধ্যকার সম্পর্ক</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদ ও ওয়াহদাত এর মধ্যকার সম্পর্ক</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">আখলাক ও আদালতের মধ্যকার সম্পর্ক এবং আদালত ও মারহামাতের মধ্যকার সম্পর্ককে সঠিকভাবে নিরূপণ করা ব্যতীত একটি সমাজ কখনোই ইসলামী সমাজ হতে পারবে না।। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদ</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">মানুষের হৃদয়পটে ও মানসপটে শুধুমাত্র আল্লাহর একত্ববাদ ও অনন্যতার চিন্তাই অঙ্কন করেনা। একই সাথে </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদ</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">এই মহাবিশ্বের বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্য থাকার পরেও এই মহাবিশ্ব কীভাবে নিখুঁত এক ঐকতানের মধ্যে সামগ্রিকভাবে চলছে সেই দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলশ্রুতিতে তাওহীদের এই চিন্তা </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">ঐক্য</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">বা </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">একতা</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">র মত বহুত্ব ও ভিন্নতা নামক পরিভাষাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে শিক্ষা দেয়। এই চিন্তাধারাটি আমাদের ইরফানী ধারায়</span><span style="font-weight: 400;">, الوحدة في الكثرة والكثرة في الوحدة</span><span style="font-weight: 400;">  অর্থাৎ একতার মধ্যে বিভিন্নতা</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">বিভিন্নতার মধ্যে একতা নামে অবিহিত হয়েছে। </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদ</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">শুধুমাত্র একটি বিশ্বাস ও চিন্তাপদ্ধতির নাম নয়</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">একই সাথে এটি একটি জীবনধারা এবং জীবন ব্যবস্থার নাম। তাওহীদি চিন্তাধারা যখন সামাজিক জীবনে একটি চিন্তায় রূপ নেয় তখন তার নাম হয় </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">ওয়াহদাত</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">বা </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">একতা</span><span style="font-weight: 400;">’</span><span style="font-weight: 400;">। আর ওয়াহদেত বা একতার চেতনাকে সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করার পন্থা হল</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">সামাজিক আদালত ও আখলাকের চিন্তাকে সমাজের প্রতিটি মানুষের হৃদয়পটে অঙ্কন করে দেওয়া। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ভ্রাতৃত্ব</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">বন্ধুত্ব</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">ভালোবাসা</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">সহমর্মিতা এবং সহযোগিতার নাম হল ওয়াহদাত (একতা) । একত্রে বসবাস করা</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">পারস্পারিক সহযোগিতা</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">অভিন্ন মূল্যবোধের অধিকারী হওয়া এবং অভিন্ন আদর্শকে ধারণ করা। তাওহীদের পতাকাতলে সমবেত হওয়া এবং আল্লাহর পথে সংগ্রাম করতে গিয়ে সকল প্রকার দুনিয়াবী স্বার্থকে দূরে ঠেলে ফেলা। আজ মুসলিম উম্মাহর সমস্যাকে যেন আমাদের নিজেদের সমস্যা মনে করি</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">আমাদের দোয়া যেন হয় অভিন্ন এবং মুসলমানদের কল্যাণে। যেভাবেই হোক</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">মুসলমানদের মধ্যে রক্তপাতকে বন্ধ করতে হবে। আজ এমন কোন স্ট্র্যাটেজি নেই যা মুসলমানদের রক্তপাত বন্ধ করার চেয়ে বেশী প্রাধান্য পেতে পারে। এখন আমাদের সকল স্ট্র্যাটেজি হওয়া উচিত মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃসংঘাতকে বন্ধ করার জন্য। মুসলমানদের মধ্যকার বিভাজন এবং শত্রুর মত একে অপরের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলাকে যে ভাবেই হোক রুখতে হবে। মুসলমানদের মধ্যকার ঐক্যকে সুসংহত করা এবং তাদের ইজ্জত আব্রুকে রক্ষা করার চেয়ে কোন রাজনীতি আজ বেশী গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। আমাদের রাজনীতি যেন হয় ভ্রাতৃসংঘাতকে বন্ধ করার জন্য। মুসলিম উম্মাহ সুদীর্ঘ চৌদ্দশত বছর ধরে এক অসাধারণ সভ্যতা গড়ে তুলেছে</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">এবং এই সভ্যতা সমগ্র মানবতাকে অনেক বড় বড় মূল্যবোধ ও অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">আজ আমাদেরকে সেই সকল মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য শপথ গ্রহণ করতে হবে। </span></p>
<p><strong>আমাদের একথা ভুলে গেলে চলবে না যে দুনিয়ার সকল নির্যাতিত-নিপীড়িত, অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের জন্য শান্তি ও কল্যাণ বয়ে আনবে কেবলমাত্র ইসলাম। শুধুমাত্র ইসলামই পারে সমগ্র মানবতাকে আজকের এই ভয়াবহ দুর্দশা থেকে মুক্ত করতে। তাই সমগ্র মানবতাকে মুক্ত করার জন্য ইসলামী সভ্যতার বিজয়ের কোন বিকল্প নেই। তবে এর জন্য মুসলমানদের উচিত হবে তাওহীদ ও ওয়াহদাতকে সঠিকভাবে বুঝা ও উপলব্ধি করা। মুসলিম উম্মাহর আলেমদের, নেতাদের এবং স্কলারদের দায়িত্ব প্রধানতম কর্তব্য হলো মুসলমানদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মাসলাহাতকে সব কিছুর উপরে স্থান দেওয়া এবং এই লক্ষ্যে সকল প্রকারের রিস্ক গ্রহণ করে সব সময় হক, হাকিকত, আদালত এবং আখলাককে ডিফেন্ড করা। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিভিন্ন মুসলিম দেশে অব্যাহত যুদ্ধ এবং ভায়োলেন্সের কারণে এক ধরণের বিশৃঙ্খল থিওলজির জন্ম দেওয়া হয়েছে। আর এই সকল বিশৃঙ্খল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন ধর্মীয় গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। কেউ যদি আমাকে প্রশ্ন করে এই সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীসমূহ মুসলমানদের এবং ইসলামের কোন ধরণের ক্ষতি করেছে এবং এই সকল ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি কি</span><span style="font-weight: 400;">? </span><span style="font-weight: 400;">এর জবাবে আমি বলব</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">এই সকল গোষ্ঠী সমূহ সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটি করেছে তা হল </span><span style="font-weight: 400;">‘</span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদ</span><span style="font-weight: 400;">’ </span><span style="font-weight: 400;">এর সঠিক চিন্তা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। কেননা তাওহীদ</span><span style="font-weight: 400;">; </span><span style="font-weight: 400;">সৃষ্টিজগত</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">মানুষ</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">সমাজ</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">মহাবিশ্ব এবং সভ্যতাকে বিশ্লেষণকারী একটি মূলনীতি। কিন্তু বিশৃঙ্খল একটি থিওলজির কোলে জন্ম নেওয়া এই সকল গোষ্ঠী সমূহ তাওহীদকে শুধুমাত্র একটি  বিশ্বাসে (</span><span style="font-weight: 400;">an abstract faith) </span><span style="font-weight: 400;">এবং অন্যকে তাকফির করার একটি হাতিয়ারে পরিণত করেছে। আজ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে  পরিগ্রহকারী সবচেয়ে বড় সমস্যা হল</span><span style="font-weight: 400;">; </span><span style="font-weight: 400;">তাওহীদকে সমগ্র মহাবিশ্ব</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">সমগ্র মানবতা</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">শিল্প</span><span style="font-weight: 400;">, </span><span style="font-weight: 400;">এবং সভ্যতাকে বিশ্লেষণকারী একটি মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ না করে অন্য মুসলমানকে তাকফির করার একটি হাতিয়ারে পরিণত করা। </span></p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/at-tawhid/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4213</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
