<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>রাজনীতি &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/politics-and-economy/politics/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার নবায়ন ও পুনর্গঠনের জন্য...</description>
	<lastBuildDate>Tue, 20 Oct 2026 15:11:34 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>রাজনীতি &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>খিলাফতের ধারণা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-concept-of-the-caliphate/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-concept-of-the-caliphate/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. ইসাম আল বশীর]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 20 Oct 2026 15:10:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=17770</guid>

					<description><![CDATA[&#160; “খিলাফতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য। আর এ ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের শক্তি, সম্পদ ও সামর্থ্য একত্রিত করে মানবজাতির সামনে দ্বীনে মুবীন ইসলামকে হেদায়াত হিসেবে উপস্থাপন করবে”। কিন্তু, ইতিহাসে আমরা যেভাবে খিলাফতের অবকাঠামো দেখেছি, বিশ্বায়নের এ যুগে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><strong>“খিলাফতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য। আর এ ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের শক্তি, সম্পদ ও সামর্থ্য একত্রিত করে মানবজাতির সামনে দ্বীনে মুবীন ইসলামকে হেদায়াত হিসেবে উপস্থাপন করবে”।</strong></p></blockquote>
<p>কিন্তু, ইতিহাসে আমরা যেভাবে খিলাফতের অবকাঠামো দেখেছি, বিশ্বায়নের এ যুগে হুবহু সেভাবেই বাধ্যতামূলকভাবে খিলাফতের অবকাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। অর্থাৎ, ইতিহাসের খিলাফত ব্যবস্থাপনাকে হুবহু আজকের দুনিয়ার আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা বা জাতিরাষ্ট্রের ধারণার উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়াটা উচিত হবে না। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, উসমানী খিলাফতের পতনের পর থেকে মুসলিম উম্মাহ একত্রিত না হয়ে অনেকগুলো ছোট ছোট রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গেছে, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই রয়েছে নিজস্বও স্বতন্ত্র সংবিধান; রয়েছে আইন, শাসক, কর্মসূচি এবং সার্বভৌমত্ব।</p>
<p><em>তাহলে এখন অবশ্যই প্রশ্ন আসতে পারে যে, ইসলামী খিলাফতের কি কোনো নির্দিষ্ট রূপ আছে?</em></p>
<p>বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক তত্ত্বগুলোতে কিংবা ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারার আধুনিক লেখনীতে অনেকেই ইতিহাসের পুরোনো কাঠামো সরাসরি বর্তমান বাস্তবাতার সঙ্গে মেলাতে চান। যেমন, কেউ যদি বলে যে, গণতন্ত্রের কোনো পন্থায় (শূরা অর্থে, বর্তমানের কথিত পশ্চিমা স্বার্থান্বেষী গণতন্ত্র নয়) শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হওয়া উচিত, তখন এর বিপরীতে পাল্টা যুক্তি আসে যে, খোলাফায়ে রাশেদীন তো সারাজীবনের জন্যই খিলাফতে ছিলেন।</p>
<p>হ্যাঁ, এ উত্তরটি সঠিক বটে। তবে আবার এক্ষেত্রে এটাও সঠিক যে, মৃত্যু পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনার বিষয়টি বৈধ ছিলো, কিন্তু বাধ্যতামূলক ছিলো না। তাই এটাও বলা যায় যে, শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ঐ পন্থাটিই একমাত্র সঠিক পন্থা, বাকিগুলো অবৈধ; বিষয়টা এমনও নয়। তাই যদি কোনো দেশ বা জাতি নিজেদের অবস্থার প্রেক্ষিতে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর পদ্ধতিকে গ্রহণ করে, তবে সেটিও বৈধ। কেননা, এসব ক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো, মুসলমানগণ শরীয়তের সীমার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তবে তাদের কোনো বিষয় যদি হারামকে হালাল করে দেয় বা হালালকে হারাম করে, তবে তা কোনো ক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়।</p>
<p><em>অর্থাৎ পশ্চিমা জাতিরাষ্ট্রের বিষয়টি সমস্যাযুক্ত হওয়ায় একদিকে যেমন তাদেরটা হুবহু মেনে নেওয়া যাবে না</em><em>, </em><em>অন্যদিকে তেমনি আবার খোলাফায়ের রাশেদার ব্যবস্থাপনাকে হুবহু সেভাবেই গ্রহণ করে বর্তমানে সময়ের একমাত্র ও বাধ্যতামূলক সমাধান হিসেবেও উপস্থাপন করাটা সমী</em><em>চী</em><em>ন হবে না।</em></p>
<p>এজন্যই আমরা দেখি, হযরত উমর (রা.)-এর শহীদ হবার পর আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) যখন খিলাফতের প্রার্থী হিসেবে উসমান (রা.) ও আলী (রা.)-এর সামনে উন্মাহর শর্ত পেশ করেন; শর্তটা এমন ছিলো যে, “কোরআন, সুন্নাহ এবং দুই খলিফা (আবু বকর ও উমর)-এর পথ অনুসারে শাসন করা।” উসমান (রা.) তখন এই শর্ত মেনে নেন। কিন্তু আলী (রা.) বলেন, “কোরআন ও সুন্নাহ অবশ্যই, কিন্তু দুই খলিফার আমল আমি মান্য করবো যেখানে তা সঠিক মনে হবে। কেননা, তারা যেমন ইজতিহাদ করেছেন, আমিও তেমনি ইজতিহাদ করবো।” যার ফলে, পরবর্তীতে দেখা গেলো যে, তৎকালীন উম্মত উসমান (রা.)-কেই গ্রহণ করেছিলো।</p>
<p>অতএব<strong>, </strong><strong>ইমামত/খিলাফত মূলত একটি চুক্তি</strong><strong>, </strong><strong>যেই চুক্তিতে থাকে দুটি পক্ষ- উম্মত এবং সুলতান তথা জনগণ এবং শাসক। জনগণের অধিকার আছে যে</strong><strong>, </strong><strong>তারা তাদের স্বার্থ</strong><strong>, </strong><strong>নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শাসকের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা শর্ত বেঁধে দিতে পারবে। আর এসব শর্তাবলি ও ব্যবস্থাপনাগুলো পরিবেশ</strong><strong>, </strong><strong>পরিস্থিতি ও সময়ভেদে পরিবর্তিতও হতে পারে। কেননা</strong><strong>, </strong><strong>প্রতিটি সমাজ ও দেশের ভৌগোলিক অবস্থা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা একই রকম হবে না</strong><strong>, </strong><strong>এটাই স্বাভাবিক। তাই প্রতিটি সমাজ ও দেশ তাদের বাস্তবার আলোকে উপযুক্ত রাজনৈতিক কাঠামো বেছে নিতে পারে</strong><strong>, </strong><strong>যতক্ষণ না তাদের কর্মপদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা ইসলামের সার্বিক উদ্দেশ্য ও সামাজিক কল্যাণে বাইরে যায়।</strong></p>
<p>তেমনি খিলাফতকেও কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায় না। যারা বাস্তবতার উর্ধ্বে গিয়ে কল্পনা করে বলেন যে, খিলাফত ফিরিয়ে আনার অর্থ হচ্ছে, ৫৭টি মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য একজন খলিফা নিয়োগ করা হবে, যার আদেশে সারা দুনিয়ার সবাই চলবে। আমাদের উচিত তাদেরকে বলা যে, আপনাদের চাওয়াকে সম্মান করছি, কিন্তু আপনাদের পন্থাটা সঠিক নয়। কেননা এটি দ্বীনের মতো চিরস্থায়ী বিষয় নয়। খিলাফতের আসল বিষয় হলো, তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও মর্ম, কিন্তু খিলাফতের বহিঃপ্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিতে পারে, তাতে কোনো সমস্যা নেই।</p>
<p>যেমনটা দেখা যায় আজকের ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে। তারা তাদের মতো করে একটি কাঠামো দাঁড় করিয়েছে, যেখানে রয়েছে আইনপ্রণয়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় এবং অর্থনীতিতে একক মুদ্রার ভিত্তি। তারা তাদের সীমান্তগুলো একে অপরের জন্য উন্নুক্ত করেছে এবং একত্রিত হয়ে সামরিকভাবে ন্যাটো জোট গঠন করেছে। অথচ সেখানে ভাষাগত, জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় বহুত্ব বিদ্যমান; প্রতিটি রাষ্ট্রেরই রয়েছে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব এবং নিজস্ব সংবিধান, যার সাহায্যে তারা তাদের অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে থাকে। কিন্তু তারা সম্মিলিতভাবে এমন একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি গড়ে তুলেছে, যার হিসাব গোটা বিশ্বকে করতে হয়। এটিও এক ধরণের সমন্বয়ের রূপ।</p>
<p>সুতরাং মুসলমানদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্র থাকতে পারে, সেখানে বিভিন্ন শাসক থাকতে পারে; কিন্তু তাদের মধ্যে আইনপ্রণয়ন, অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, নৈতিকতা, শিল্পকলা, এমনকি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সমন্বয়ের ধরণ গড়ে উঠতে পারে। এভাবেই একটি কার্যকরী রূপ পাওয়া সম্ভব।</p>
<p>অর্থাৎ, <strong>এক্ষেত্রে এসে চিরন্তন বিষয় আর পরিবর্তনশীল বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। এ কারণেই হয়তো জিহাদ ও কিতালের বিষয়েও বড় ধরণের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।</strong></p>
<p>বর্তমানে আমরা বিশ্বায়নের এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন বিশ্বের দুই প্রান্তের দুইজন ব্যক্তি একইসাথে সংযুক্ত হতে পারছে। সম্পূর্ণ পৃথিবীটা হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই আমাদেরকে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার ধারণাতে বিশ্বজনীনতা ও নতুনত্ব আনতে হবে। এক্ষেত্রেও আমাদেরকে ওয়াসাতিয়্যাহর পন্থা অবলম্বন করতে হবে।</p>
<p><strong>আমাদেরই অনেক সমকালীন তরুণ নব্য সালাফিজমের প্রভাবে মনে করে যে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হবে &#8216;শক্রতা&#8217;।</strong> অর্থাৎ, সম্পর্ক তৈরিই হচ্ছে বৈরিতার উপর ভিত্তি করে, শান্তির উপর ভিত্তি করে নয়। তাদের কারও কারও ধারণা এমন যে, &#8216;আল-ওয়ালা ওয়াল-বারার&#8217; অর্থই হচ্ছে শক্রতা; অর্থাৎ, কোনো অমুসলিমের শুধুমাত্র সে অমুসলিম হওয়ার কারণেই কোনো ধরণের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি রাখা যাবে না।</p>
<p>কিন্তু <strong>ওয়াসাতিয়্যাহর ফিকহে আল-ওয়ালা দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত।</strong> যথা,</p>
<p><strong>১. মুহাব্বত বা ভালোবাসা</strong> &#8211; অর্থাৎ, অন্তরের ঈমানভিত্তিক ভালোবাসা, যা একজন মুমিন থেকে অপর মুমিনের প্রতি হওয়া উচিত।</p>
<p><strong>২. নূসরাত বা সাহায্য-সহায়তা</strong> &#8211; অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে সাহায্য ও সমর্থন প্রদান করা, যা চুক্তি ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়ে থাকে। এখানে ধর্ম কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এটা নিয়ে স্বয়ং আল্লাহ বলেন,</p>
<p>“যদি তারা তোমাদের কাছে ধর্মীয় কারণে সাহায্য চায়, তবে তোমাদের কর্তব্য হচ্ছে তাদের সাহায্য করা; তবে সে জাতির বিরুদ্ধে নয়, যাদের সঙ্গে তোমাদের চুক্তি আছে।”</p>
<p>রাসূলুল্লাহ (স.) কীভাবে তাঁর জীবনে এ আয়াতের পরিস্কৃটন ঘটিয়েছিলেন, তা এসানে দৃষ্টান্ত হিসেবে আনা যায়। একবার এক অন্য ধর্মের গোত্রের সাথে রাসূল (স.)-এর চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিলো, তারা যখন কুরাইশদের দ্বারা চুক্তিভঙ্গের শিকার হয়ে রাসূলের নিকট কৃত চুক্তির বদৌলতে সাহায্যের আবেদন জানায়, তখন রাসূল (স.) সে চুক্তির প্রতি সাড়া দিয়েছিলেন এবং গোত্রটির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও তাদের সঙ্গে ধর্মের ভিন্নতা ছিলো, তবুও চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার কারণে তিনি সাহায্য করেছিলেন। আপনারা মক্কা বিজয়ের ঘটনাটা পড়লে এই বিষয়কে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।</p>
<p>তাহলে কি শুধু ধর্মের ভিন্নতার কারণে মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে কোনো ধরণের সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম?</p>
<p>না, কখনোই না। বাসার প্রতিবেশী হিসেবে পাশাপাশি বসবাস করা, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপাঠী হিসেবে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠা বা একই কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী হিসেবে সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়া-এসবে কোনো সমস্যাই নেই। অর্থাৎ, এসকল ক্ষেত্রে সততা, চরিত্রের উৎকর্ষতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আচার-ব্যবহার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পদ গড়ে তোলাতে কোনো সমস্যা নেই। <strong>শুধু নিষেধ করা হয়েছে এতটুকুই যে, কোনো ব্যক্তি ভালোবাসার প্রেরণা যদি হয় ঈমানী প্রেরণা, তাহলে সেটা কেবল মুসলমানের জন্যই বৈধ। কোরআনেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়</strong>। কোরআন মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলে, “দেখো, তোমরা তাদেরকে ভালোবাসো, অথচ তারা তোমাদের ভালোবাসে না।” এছাড়াও রাসূল (স.)-কে ডেকে তাঁর চাচা আবু তালিব প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তুমি চাইলেই কাউবে হেদায়াত দিতে পারবে না, এমনকি তাকে যদি তুমি ভালোবাসো।” অর্থাৎ রাসূল (স.) তাঁর চাচাকে ভালোবাসতেন। এর কারণ ছিলো, রাসূলের চাচা রাসূলের জন্য নিজের সম্পদ ও শ্রম ব্যয় করেছেন, তাকে রক্ষা করেছেন। যদিও তিনি ইসলামের অনুসারী ছিলেন না।</p>
<p>এছাড়াও, ইসলাম তো প্রাথমিক যুগে মুসলিম পুরুষকে আহলে-কিতাব নারীর সঙ্গে বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছিলো। অথচ, বিয়ের মতো সম্পর্ক তো গড়ে ওঠে ভালোবাসা ও মারহামাতের উপর ভিত্তি করে। তাহলে কি একজন মুসলিম এমন এক নারীকে বিয়ে করবে যাকে সে ঘৃণা করে? কোরআনেই আল্লাহ তায়ালা বলেন,</p>
<p>“আর তাঁর নিদর্শনগুলোর একটি হলো, তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও, এবং তিনি তোমাদের মধ্যে স্নেহ ও দয়া স্থাপন করেছেন।”</p>
<p>এখানেই শেষ নয়। হযরত আলী (রা.) যখন মালিক ইবন আশতারকে মিশরের গভর্নর বানালেন, সে সময়ে মিশরে মুসলিম ছাড়াও খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী ছিলো। তখন আলী (রা.) তাকে উপদেশ দিয়ে বললেন,<em>“মানুষ দু&#8217;ধরণের, হয় সে তোমার দ্বীনি ভাই, নয়তো সে তোমার সৃষ্টিতে সমকক্ষ বা মানবতার ভাই। সুতরাং তোমার হৃদয়কে তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও কোমলতায় পূর্ণকরে দাও। তাদের প্রতি নেকড়ে হয়ে যেও না, যে তাদের গ্রাস করতে চায়। কেননা, তারা হয় ইসলামে তোমার ভাই, নয়তো মানবিকতায় তোমার সমান। তাদের থেকে ভুল হতে পারে, রোগ-বালাই তাদের গ্রাস করতে পারে। তোমার মতোই তারা কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে আবার কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুল করবে। তাই তাদের প্রতি তোমার ক্ষমা ও সহনশীলতা এমন হওয়া উচিত, যেমনটি তুমি আল্লাহর কাছ থেকে তাঁর ক্ষমা ও দয়া আশা করো। তুমি তাদের ওপর শাসক, তোমার ওপর শাসক হলো খলিফা, আর খলিফার ওপর আছেন আল্লাহ, যিনি তোমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।”</em></p>
<p>এজন্যই <strong>আমরা বিশ্বাস করি যে</strong><strong>, </strong><strong>অন্যজন বলতে সবসময় শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে বোঝানো </strong><strong>সঠিক নয়। যে শত্রুতা কখনো ব</strong><strong>দ</strong><strong>লায় না</strong><strong>, </strong><strong>চিরস্থায়ী ও সর্বত্র সমান থাকে</strong><strong>; </strong><strong>এটা কেবল </strong><strong>একটিমাত্র অবস্থার জন্য প্রযোজ্য</strong><strong>, </strong><strong>আর সেই অবস্থা হলো শয়তান।</strong> কোরআনের ভাষায়,</p>
<p>“إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَذَوٌّ فَأَتَّخِذُوهُ عَذَوٌّ</p>
<p>অর্থাৎ, নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্রু, সুতরাং তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ করো।</p>
<p>কিন্তু অপরদিকে, কোনো কাফের ইসলাম গ্রহণ করতে পারে, কোনো শত্রু শান্তি স্থাপন করতে পারে এবং কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মিত্রে পরিণত হতে পারে। তাই মানুষের মধ্যে শত্রুতা কখনো স্থায়ী অবস্থা নয়; বরং তা পরিবর্তনশীল।</p>
<p>অতএব, “অন্যজন” নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমনই উদার হওয়া উচিত। ফলে, আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে অপর ব্যক্তির সাথে আমাদের কোথায় সাধারণ মিল আছে! এ মিল বা সামঞ্জস্যতা হতে পারে ধর্মীয় দিক থেকে, হতে পারে সভ্যতাগত দিক থেকে, হতে পারে চিন্তাগত দিক থেকে নতুবা অবশ্যই হতে পারে মানবতা ও মনুষ্যত্বের দিক থেকে।</p>
<p>যেমন, <em>কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা বিষয়ক সম্মেলনে গর্ভপাত বৈধকরণ ও সমকামিতা বৈধকরণের বিরুদ্ধে ভ্যাটিকান</em><em>, </em><em>আল-আযহার এবং মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ একসাথে দাঁড়িয়েছিলো। তখন তারা ঘোষণা করেছিল যে</em><em>, </em><em>পরিবার গঠনের একমাত্র সঠিক উপায় হলো বৈধ বৈবাহিক বন্ধন</em><em>, </em><em>যেখানে একজন পুরুষ ও একজন নারী থাকবে।</em></p>
<p>তেমনিভাবে <em>পরিবেশ রক্ষা</em><em>, </em><em>ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা</em><em>, </em><em>দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানো</em><em>, </em><em>নৈতিক মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখা</em><em>, </em><em>এসব ক্ষেত্রেও মুসলিম ও অমুসলিমের মাঝে মিল থাকতে পারে।</em> ঠিক একারণেই আমাদের জন্য প্রয়োজন ওয়াসাতিয়্যাহর ফিকহ। কিন্তু যারা বিশ্বকে দুটি শিবিরে ভাগ করতে চায়, যেখানে কোনো মিল নেই ও কোনো সহযোগিতা নেই, তাদের ধারণা ওয়াসাতিয়্যাহর ফিকহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/miftahur_rahman/">মিফতাহুর রহমান</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-concept-of-the-caliphate/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">17770</post-id>	</item>
		<item>
		<title>তথ্যযুদ্ধ, ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ার ও বৈশ্বিক ক্ষমতার রাজনীতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/information-war-narrative-warfare-and-global-power-politics/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/information-war-narrative-warfare-and-global-power-politics/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 19 Sep 2026 14:10:56 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=17628</guid>

					<description><![CDATA[একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্র আর কেবল ট্যাংক, ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আজকের পৃথিবীতে প্রতিটি বড় সংঘাতের সমান্তরালে চলে আরেকটি যুদ্ধ, যে যুদ্ধের লক্ষ্য মানুষের মন, বিশ্বাস এবং প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তাদের ধারণাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যুদ্ধের ময়দানে হয়তো বড় একটি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্র আর কেবল ট্যাংক, ড্রোন কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আজকের পৃথিবীতে প্রতিটি বড় সংঘাতের সমান্তরালে চলে আরেকটি যুদ্ধ, যে যুদ্ধের লক্ষ্য মানুষের মন, বিশ্বাস এবং প্রকৃত সত্য সম্পর্কে তাদের ধারণাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যুদ্ধের ময়দানে হয়তো বড় একটি শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে কয়েক ঘণ্টায়, কিন্তু সেই ধ্বংসের অর্থ কী, কে ভুক্তভোগী, কে দায়ী, কার কণ্ঠ বিশ্ব শুনবে আর কার কণ্ঠ চাপা পড়ে যাবে; সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় স্রেফ তথ্যের উপর ভিত্তি করে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই প্রক্রিয়াকে বলেন তথ্যযুদ্ধ (Information Warfare) এবং ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ার (Narrative Warfare)। তথ্যযুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করে তা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে তথ্য বাছাই করা ও প্রচার করা, বিভ্রান্তি তৈরি করা কিংবা প্রতিপক্ষের তথ্যব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া। আর ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ার আরও সূক্ষ্ম এক লড়াই; এখানে অস্ত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে প্রাসঙ্গিক ঘটনাটি। প্রায়ই যা মিথ্যা বানোয়াট তথ্যই হয়ে থাকে।</p>
<p>এই বাস্তবতা বোঝার জন্য আমাদের গাজা যুদ্ধের দিকে তাকালেই যথেষ্ট। সেখানে যেমন আকাশ থেকে বোমা পড়েছে, তেমনি একই সময়ে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মোবাইল ফোনের পর্দায় ভেসে উঠেছে ভিডিও, ছবি, পরিসংখ্যান, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান এবং অসংখ্য পরস্পরবিরোধী দাবি। যদিও ইজরায়েল সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছে মিথ্যা তথ্যের যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে, কিন্তু স্পষ্ট গণহত্যামূলক আগ্রাসনের ফলে এক্ষেত্রে তাদের চেষ্টা আর ধোপে টিকছেনা। ধরুন- একটি শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে, এটি একটি ঘটনা। কিন্তু সেই ঘটনাটিকে “গাজা যুদ্ধের অনিবার্য ক্ষতি”, “হামাসের বিরুদ্ধে (তাদের ভাষায়- সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে) অভিযান”, অথবা “গাজার নিরীহ মানুষের ওপর নির্বিচার হামলা”; কোন ভাষায় ব্যাখ্যা করা হবে? &nbsp;সেটিই ন্যারেটিভের প্রশ্ন।</p>
<p>চলমান যুদ্ধে গাজার মানুষেরা শুধু বোমা ও গণহত্যার মুখোমুখিই হচ্ছেনা, তারা এক বৈশ্বিক তথ্যযুদ্ধেরও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং স্বাধীন সাংবাদিকেরা যে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেছেন, তার পাশাপাশি আরেকটি শক্তিশালী প্রচেষ্টা চলেছে সেই বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য। ফলে সাধারণ পাঠকদের সামনে একই ঘটনার একাধিক সংস্করণও হাজির হয়েছে। সত্যকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়তো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু সত্যের প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়া, অগ্রাধিকার পরিবর্তন করা কিংবা মানুষের আবেগকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া; এগুলোই আধুনিক তথ্যযুদ্ধের কার্যকর ও প্রধান একটি কৌশল।</p>
<p>একই চিত্র আমরা সুদানের ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত, দুর্ভিক্ষ ও সহিংসতার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে; তবু বৈশ্বিক সংবাদচক্রে সুদান খুব কম সময়ই প্রধান শিরোনাম হয়ে ওঠেছে। কোনো কোনো সংকট আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রতিদিন আলোচিত হয়, আবার কোনো কোনো সংকট মাসের পর মাস লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। এই বৈষম্য কেবল সাংবাদিকতার সীমাবদ্ধতাই আমাদের সামনে প্রাসঙ্গিক করে তোলেনা, বরং এর পেছনের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ, কূটনৈতিক অগ্রাধিকার এবং তথ্যপ্রবাহের অসম কাঠামোর জটিলতাও আমাদের সামনে স্পষ্ট করে তোলে। যাদের কষ্ট ও দুর্দশার চিত্র ক্যামেরার সামনে আসে, তাদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই সহানুভূতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি; আর যাদের দূর্দশা দৃশ্যমানই হয় না, তারা তো ধীরে ধীরে বৈশ্বিক বিবেক থেকেই মুছে যেতে থাকে।</p>
<p>উইঘুর মুসলমানদের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। শিনজিয়াং অঞ্চলে নজরদারি প্রযুক্তি, পুনঃশিক্ষা কেন্দ্র, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক বহু বছর ধরে চলছে। কিন্তু এই ইস্যুতেও তথ্যপ্রবাহ অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদন, গবেষণা ও সাক্ষ্য; অন্যদিকে রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার যুক্তি কাজ করছে। ফলে একজন সাধারণ পাঠক যখন তথ্য সংগ্রহ করতে যান, তখন তিনি কেবল স্রেফ তথ্য ছাড়াও পরস্পর বিরোধী ন্যারেটিভের মুখোমুখিও হন।</p>
<p>এই কারণেই আধুনিক যুদ্ধ বোঝার জন্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র দেখলে হবে না, দেখতে হবে তথ্যের মানচিত্রও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম কী দেখাচ্ছে, কোন ভাষার সংবাদ বেশি প্রচার পাচ্ছে, কোন ধরনের ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, কী ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে; এসবই এখন রাজনৈতিক শক্তির অংশ। গবেষক ম্যানুয়েল কাস্তেলস (Manuel Castells) তাঁর Network Society ধারণায় দেখিয়েছেন, তথ্যপ্রবাহের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করা মানে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস নিয়ন্ত্রণ করা। আবার জোসেফ নাই (Joseph Nye)-এর Soft Power ধারণায় আমরা দেখেছি, মানুষকে জোর করে প্রভাবিত করার চেয়ে বিশ্বাস করিয়ে প্রভাবিত করার ক্ষমতাও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত কার্যকর।</p>
<p>তবে এখানে একটি সতর্কতাও জরুরি। তথ্যযুদ্ধের যুগে নিজের পছন্দের ন্যারেটিভকে অন্ধভাবে গ্রহণ করাও বিপজ্জনক। কারণ প্রতিটি পক্ষই আবেগ, ধর্ম, জাতীয়তাবোধ কিংবা নিরাপত্তার ভাষা ব্যবহার করে জনমত গঠনের চেষ্টা করে। এজন্য একজন সচেতন পাঠকের কাজ হলো- নিজের মনুষ্যবোধ ও সহানুভূতি হারিয়ে না ফেলে বরং সহানুভূতির সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তিকে যুক্ত করা। গাজার শিশুদের কান্না, সুদানের ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ কিংবা উইঘুরের পরিবারগুলোর বিচ্ছেদের বেদনা; এসবকে তো গুরুত্ব দেওয়া মানবিক দায়িত্ব। একইসঙ্গে তথ্যের উৎস, প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য যাচাই এমনকি এসব ঘটনাকে আড়ালে ঠেলে দেওয়ার জন্য উদ্ভূত মিথ্যা ন্যারেটিভ সমূহ চিহ্নিত করতে পারাও বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই প্রবন্ধে আমরা তথ্যযুদ্ধের বিভিন্ন দিক ও প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা তৈরী করার চেষ্টা করবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তথ্য থেকে ন্যারেটিভ সৃষ্টির তাত্ত্বিক ভিত্তি </strong></p>
<p>আধুনিক তথ্যযুদ্ধকে বুঝতে হলে প্রথমেই একটি মৌলিক বিষয় পরিষ্কার করা দরকার, তা হলো- তথ্য (Information) এবং ন্যারেটিভ (Narrative) এক জিনিস নয়। তথ্য হলো কোনো ঘটনা, সংখ্যা, ছবি, ভিডিও বা প্রত্যক্ষ বিবরণের মতো কাঁচা উপাত্ত; কিন্তু ন্যারেটিভ হলো সেই তথ্যগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অর্থ, প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এমনভাবে সাজানো, যাতে মানুষ ঘটনাটিকে একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শুরু করে। অর্থাৎ তথ্য আমাদেরকে জানায় যে ঠিক কী ঘটেছে, আর ন্যারেটিভ ব্যাখ্যা করে যে কেন ঘটেছে, কারা নায়ক বা খলনায়ক, কার প্রতি সহানুভূতি জন্মানো উচিত, এবং ঘটনার নৈতিক অর্থ কী; এসব।</p>
<p>এই পার্থক্যটিই আধুনিক তথ্যযুদ্ধের কেন্দ্রীয় ভিত্তি। কারণ আজকের বিশ্বে তথ্যের অভাব নেই, বরং একই ঘটনাকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ তথ্য মুহূর্তের মধ্যে মানুষের সামনে পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই তথ্যের মধ্যে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটি প্রেক্ষাপটসহ উপস্থাপিত হবে, কোনটি আড়াল থাকবে এবং কোন ব্যাখ্যাটি মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলবে; এসবই নির্ধারণ করে ন্যারেটিভ।</p>
<p>এই বিষয়ে গবেষক ও কৌশলবিদ অজিত মান (Ajit Maan) গুরুত্বপূর্ণ একটি তাত্ত্বিক কাঠামো উপস্থাপন করেছেন। তাঁর মতে, ন্যারেটিভ আইডেন্টিটি (Narrative Identity) এই ধারণাই ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ারের মূল ভিত্তি। মানুষ নিজের পরিচয়, ইতিহাস, মূল্যবোধ এবং পৃথিবীতে নিজের অবস্থানকে যেসব গল্পের মাধ্যমে বোঝে, সেগুলিই তার ন্যারেটিভ আইডেন্টিটি গঠন করে। তাই কোনো ব্যক্তি বা সমাজের বিশ্বাস ও আচরণ পরিবর্তন করতে চাইলে কেবল তথ্য সরবরাহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই মানুষের পরিচয় ও আত্মবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনাগুলোকেও প্রভাবিত করতে হয়।</p>
<p>অজিত মান আরও যুক্তি দেন যে, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ (Psychological Warfare), তথ্য অপারেশন (Information Operations), প্রভাব বিস্তারমূলক কার্যক্রম (Influence Operations) কিংবা স্থিতিশীলতা অভিযান (Stability Operations); এসব আলাদা আলাদা কৌশল হলেও এগুলো ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ারের বৃহত্তর কাঠামোর অংশ। অর্থাৎ এগুলো নিজে চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং একটি বৃহৎ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন উপায়। তাঁর ভাষায়, যেমন সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা কৌশলের অংশ, তেমনি তথ্য ও প্রভাব বিস্তারের নানা কার্যক্রমও মূলত একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ নির্মাণ ও প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালিত হয়।</p>
<p>একই ধরনের বিশ্লেষণ পাওয়া যায় মডার্ন ওয়ার ইনস্টিটিউটের গবেষণায়। তাদের মতে, তথ্যযুদ্ধকে শুধু &#8220;সত্য বনাম মিথ্যা&#8221; বা &#8220;তথ্য বনাম বিভ্রান্তি&#8221;র সংঘর্ষ হিসেবে দেখলে বিষয়টি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বাস্তবে এটি অনেক বেশি গভীর। একই ঘটনার তথ্য বিভিন্ন পক্ষের কাছে একই রকম থাকতে পারে, কিন্তু সেই তথ্যকে ঘিরে নির্মিত গল্প, ব্যাখ্যা এবং নৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্নও হতে পারে। ফলে একটি সংঘর্ষের মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়- কোন তথ্য বা ঘটনাটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হবে এবং কোন ব্যাখ্যাটি জনমতকে প্রভাবিত করবে।</p>
<p><strong>এই ধারণাকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন কৌশলবিশ্লেষক পল কোবার (Paul Kober)। তাঁর মতে, মানুষ স্বভাবগতভাবেই অর্থ-অনুসন্ধানী প্রাণী। পৃথিবীতে প্রতিদিন অসংখ্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, কিন্তু মানুষ সেই ঘটনাগুলোকে আলাদা আলাদা তথ্য হিসেবে মনে রাখে না, বরং সেগুলোকে একটি অর্থপূর্ণ গল্পের মধ্যে সাজিয়ে নিজের বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করে। তাই কোনো ন্যারেটিভ যখন মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তখন নতুন তথ্যও মানুষ প্রায়ই সেই বিদ্যমান ন্যারেটিভের আলোকে ব্যাখ্যা করতে থাকে। অন্য কথায়, মানুষ অনেক সময় তথ্যের ভিত্তিতে ন্যারেটিভ গড়ে না তোলে বরং আগে থেকে বিশ্বাস করা ন্যারেটিভের ভিত্তিতে তথ্যকে নিজের মতো করে একটি অর্থ দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।</strong></p>
<p>পল কোবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একটি সফল ন্যারেটিভ প্রচারণার উদ্দেশ্য কেবল তথ্য সরবরাহ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না, বরং এমন একটি মানসিক কাঠামো তৈরি করা, যার মধ্যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্দিষ্ট অর্থ গ্রহণ করতে শুরু করে। তখন আর প্রচারণার লক্ষ্য মানুষকে প্রতিটি সিদ্ধান্ত বলে দেওয়া থাকে না; উলটো এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজেই একটি কাঙ্ক্ষিত উপসংহারে পৌঁছে যায়।</p>
<p>এই কারণেই ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ারকে কেবল গণমাধ্যম বা প্রচারণার বিষয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সিভিল অ্যাফেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছিল, তথ্য নিজে নিরপেক্ষ হতে পারে; কিন্তু যখন সেই তথ্যকে একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভের মধ্যে বসানো হয়, তখন সেটি সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়। একটি কার্যকর ন্যারেটিভ জনগণের নিকট থেকে রাষ্ট্র, আইন, গণমাধ্যম কিংবা বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা পুরোপুরি দুর্বল করে দিতে পারে; আবার একইভাবে জনগণকে কোনো রাষ্ট্র, আন্দোলন বা আদর্শের পক্ষে ঐক্যবদ্ধও করতে পারে। এজন্য, একটি &nbsp;সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে শুধু তথ্যই থাকেনা, বরং সেই তথ্যের অর্থ সমূহকে কে নির্ধারণ করবে, এই প্রশ্নও বিদ্যমান থাকে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>&nbsp;</strong><strong>পশ্চিমের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন ও সফট পাওয়ার</strong></p>
<p>আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে জোসেফ নাই (Joseph S. Nye Jr.)-এর &#8220;সফট পাওয়ার&#8221; (Soft Power) ধারণা একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর মতে, একটি রাষ্ট্র সব সময় সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে না যেয়েও শুধুমাত্র কোনো বিষয়ে আকর্ষণ (attraction), বৈধতা (legitimacy) এবং গ্রহণযোগ্যতা (credibility) তৈরি করেও অন্য রাষ্ট্র, সমাজ বা জনগণের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ, যদি কোনো রাষ্ট্র তার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, কূটনীতি কিংবা আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির মাধ্যমে অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তাহলে বলপ্রয়োগ ছাড়াই সে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করতে সক্ষম হতে পারে।</p>
<p>এই ধারণা পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন (Strategic Communication) চিন্তাধারার অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে প্রভাব বিস্তারের প্রসঙ্গটি আর শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, গণকূটনীতি (Public Diplomacy), হলিউড, বৈশ্বিক বিনোদনশিল্প, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম; সবই ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর যোগাযোগ-পরিবেশের অংশে পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো রাষ্ট্র তার মূল্যবোধ, অগ্রাধিকার ও বিশ্বদৃষ্টিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপন করে থাকে।</p>
<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সফট পাওয়ারকে কেবল &#8220;ইতিবাচক আকর্ষণীয় বিষয়বস্তু&#8221; হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। কারণ বাস্তবে আকর্ষণ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নৈতিক বৈধতা- এসবই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার উৎস। যে রাষ্ট্র বৈশ্বিক জনমতকে নিজের পক্ষে আনতে পারে, সে অনেক সময় সামরিক শক্তি ব্যবহার না করেও কূটনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এ কারণেই আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তথ্যপ্রবাহ, সংবাদ কাভারেজ, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে ক্রমবর্ধমানভাবে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।</p>
<p>তবে এই ধারণা বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয় বটে। বিভিন্ন সমালোচনামূলক গবেষণাও আছে এর বিপরীতে। যারা যুক্তি দেন, বাস্তবে স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন এবং সফট পাওয়ার-এর মধ্যে অনেক সময় সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকে না। কোনো রাষ্ট্র যখন নিজের অবস্থানকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ধারাবাহিক যোগাযোগ, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক উপস্থাপন কিংবা ডিজিটাল প্রচারণা ব্যবহার করে, তখন সেটি কোথায় জনকূটনীতি (Public Diplomacy), কোথায় ন্যারেটিভ নির্মাণ (Narrative Building), আর কোথায় কৌশলগত প্রভাব বিস্তার (Strategic Influence), এই প্রশ্ন সহজে নির্ধারণ করা যায় না।</p>
<p>পপুলিজম স্টাডিজ-এ প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে তথ্যযুদ্ধকে এমন একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যবস্তুর অজান্তেই তার নির্ভরযোগ্য তথ্যের পরিবেশকে এমনভাবে প্রভাবিত করা হয়, যাতে সে শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে প্রভাব বিস্তারকারী পক্ষের কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সংজ্ঞাটি আবার কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা জোটের জন্য প্রণীত হয়নি; বরং তথ্যপ্রভাবের একটি সাধারণ তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বলা যায় একে।</p>
<p>তবে বাস্তব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি লক্ষণীয় প্রবণতা প্রায়ই দেখা যায়। পশ্চিমা নিরাপত্তা ও কৌশলগত গবেষণায় তথ্যযুদ্ধ বা ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ারের ধারণা সেখানে রাশিয়া, চীন কিংবা ইরানের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণেই অধিক ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব যোগাযোগ-কার্যক্রমকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচার, তথ্যস্বচ্ছতা, পাবলিক ডিপ্লোমেসি বা স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফলে প্রশ্ন করা হয়, একই ধরনের যোগাযোগ-কৌশল ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন নামে পরিচিত হওয়ার পেছনে কি কেবল উদ্দেশ্যের পার্থক্য কাজ করে, নাকি বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোও ভাষা ও পরিভাষার এই ব্যবহারে ভূমিকা রাখে? এই প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই। তবে তথ্যযুদ্ধ নিয়ে সমসাময়িক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যবহৃত প্রতিটি ন্যারেটিভ, প্রতিটি কৌশলগত বার্তা এবং প্রতিটি তথ্যপ্রবাহকে তার উৎস, উদ্দেশ্য, ক্ষমতার সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে বিশ্লেষণ করা জরুরি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>গাজা যুদ্ধ: এক জীবন্ত কেস স্টাডি</strong></p>
<p>তথ্যযুদ্ধ ও ন্যারেটিভ ওয়ারফেয়ারের তাত্ত্বিক আলোচনা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য গাজায় চলমান দখলদার ইজরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের চেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ খুব কমই রয়েছে। এই সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্র এবং তথ্যক্ষেত্র এমনভাবে একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে যে, অনেক সময় মনে হয় একই যুদ্ধ দুটি ভিন্ন মঞ্চে একযোগে পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে ধ্বংসস্তূপ, বিমান হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক বিপর্যয়; অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কূটনৈতিক বিবৃতি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সমান্তরালভাবে চলছে ন্যারেটিভের লড়াই। কে ভুক্তভোগী, কে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে, কে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং কার প্রতি বৈশ্বিক সহানুভূতি জন্মানো উচিত; এসব প্রশ্নের উত্তর এখন যুদ্ধক্ষেত্র ছাপিয়ে তথ্যপ্রবাহের মধ্যেও নির্ধারিত হচ্ছে।</p>
<p>হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেহদি রিয়াজি বিষয়টি নিয়ে এভাবে মন্তব্য করেছেন যে, গাজার যুদ্ধ একই সঙ্গে দুটি অবিচ্ছেদ্য ফ্রন্টে পরিচালিত হচ্ছে। বাস্তবের রণাঙ্গনে এবং গণমাধ্যমের অঙ্গনে। তাঁর মতে, এই দ্বিতীয় ফ্রন্টে মূল অস্ত্রই হলো ন্যারেটিভ। কারণ জনমত, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, বৈশ্বিক সহানুভূতি এবং রাজনৈতিক বৈধতা অনেকাংশেই নির্ভর করে কোন ব্যাখ্যাটি মানুষের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে তার উপর। ফলে যুদ্ধের ফলাফলও শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে নির্ধারিত না হয়ে বরং তথ্য ও ব্যাখ্যার প্রতিযোগিতার মাধ্যমেও প্রভাবিত হচ্ছে।</p>
<p><strong>এই প্রেক্ষাপটে দখলদার ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের &#8220;হাসবারা&#8221; (Hasbara) কৌশল বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। হিব্রু ভাষায় Hasbara শব্দের অর্থ &#8220;ব্যাখ্যা&#8221; বা &#8220;ব্যাখ্যা প্রদান&#8221;। কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইজরায়েলের নীতিকে ব্যাখ্যা ও সমর্থন করার জন্য এই যোগাযোগ-কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের কাছে ইজরায়েলের নিরাপত্তা-উদ্বেগ, সামরিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা।</strong></p>
<p>কিন্তু গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধ এই কৌশলের কার্যকারিতা পুরোপুরি ধ্বসিয়ে দিয়েছে। এখন পশ্চিমা নীতিবিশ্লেষকদের একটি অংশও মনে করেন যে, গাজায় এতোবেশী ধ্বংসযজ্ঞ ইজরায়েল চালিয়েছে যে, তাদের প্রচলিত হাসবারা আর আগের মতো কার্যকর থাকার অবস্থা নেই। আমেরিকান ফরেন পলিসি কাউন্সিল-এর এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে হামাস আন্তর্জাতিক জনপরিসরে একটি শক্তিশালী জনপ্রিয় ন্যারেটিভ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে গাজার মানবিক বিপর্যয়, বেসামরিক হতাহত এবং সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা নিয়ে বৈশ্বিক মনোযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানও আগের তুলনায় এখন অধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।</p>
<p>এই পরিবর্তিত বাস্তবতার পর ইজরায়েলও তার তথ্য-কৌশলে পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে আসছে, রাষ্ট্র পরিচালিত আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি, ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক, দ্রুত প্রতিক্রিয়াভিত্তিক বার্তা প্রচার এবং অনলাইন বয়ান ব্যবস্থাপনার ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এখন। ইজরায়েলের এই নতুন প্রবণতাকে অনেকে &#8220;নলেজ ওয়ার&#8221; বা জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে লক্ষ্য শুধুমাত্র তথ্য প্রকাশ ছাড়াও তথ্যের ব্যাখ্যা ও জনমতের গতিপথকে প্রভাবিত করা।</p>
<blockquote><p>অন্যদিকে ফিলিস্তিনি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরব বিশ্বের গণমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বহু গবেষণায় দেখা গেছে, গাজা যুদ্ধের সময় আল জাজিরা ধারাবাহিকভাবে মানবিক বিপর্যয়, বেসামরিক মানুষের জীবন, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির এবং অবরুদ্ধ জনগণের দৈনন্দিন বাস্তবতাকে প্রতিবেদনের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর ফলে আরব বিশ্ব ছাড়াও আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বহু দেশে গাজার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দৃশ্যমান হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা মূলধারার সংবাদ কাভারেজের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবেই ভিন্ন অবস্থার সৃষ্টি করে। তুলনামূলক মিডিয়া গবেষণাগুলোও এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। অনেক গবেষণায় দেখা যায়, পশ্চিমা মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো সাধারণত ইজরায়েলকে নিরাপত্তা-হুমকির মুখে থাকা একটি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে, যেখানে হামাসের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির ওপর তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপরীতে, আরব ও গ্লোবাল সাউথের অনেক সংবাদমাধ্যম এই সংঘাতকে প্রকৃতপক্ষেই দখলদারিত্ব, মানবিক সংকট এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ভোগান্তির দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে। ফলে একই ঘটনার তথ্য অনেক ক্ষেত্রে অভিন্ন হলেও, তার ব্যাখ্যা, ভাষা এবং নৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে ওঠেছে।</p></blockquote>
<p>উদাহরণস্বরূপ, সিএনএন এবং আল জাজিরা ইংলিশ-এর সংবাদ কাভারেজ নিয়ে পরিচালিত গবেষণাগুলো উল্লেখযোগ্য। এসব গবেষণায় দেখা গেছে, আল জাজিরা হামাসের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের অভিজ্ঞতাকে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থান দেয়, অন্যদিকে সিএনএন নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, সামরিক অভিযান এবং ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অধিক গুরুত্ব দেয়। এর ফলে সংবাদ নির্বাচন, শব্দচয়ন, সাক্ষাৎকারের উৎস এবং ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন; সবকিছু মিলিয়ে দুই গণমাধ্যম একই যুদ্ধের দুটি ভিন্ন বাস্তবতা নির্মাণ করছে।</p>
<p><strong>তবে গাজার তথ্যযুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই যে, এই সংঘাতে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্র্যাডিশনাল সংবাদমাধ্যমের একচেটিয়া প্রভাবকে মারাত্মকভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া শিশু, হাসপাতালের করিডরে চিকিৎসাহীন রোগী, ক্ষুধায় কাতর পরিবার কিংবা বাস্তুচ্যুত অসহায় মানুষের ভিডিও; এসব দৃশ্য কোটি কোটি মানুষ সরাসরি মোবাইল ফোনে দেখেছে। ফলে রাষ্ট্র বা বড় সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের ধারণা গঠনেও প্রত্যক্ষ দৃশ্য, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল সাক্ষ্যের ভূমিকা অনেক বেশি বেড়ে গেছে।</strong></p>
<p>এই কারণেই গাজা যুদ্ধকে কেবল একটি সামরিক সংঘাত হিসেবে দেখলে তার পূর্ণ চিত্র আমাদের কাছে অপরিপূর্ণ থেকে যাবে। এটি একই সঙ্গে একটি ন্যারেটিভের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের প্রতিটি ছবি, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পরিসংখ্যান এবং প্রতিটি সংবাদ শিরোনাম আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের বৃহত্তর এক লড়াইয়ের অংশ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা হলো- আজ একটি ক্ষেপণাস্ত্র যেমন একটি ভবন ধ্বংস করতে পারে, তেমনি একটি শক্তিশালী ন্যারেটিভ বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের উপলব্ধি, সহানুভূতি এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। আর গাজার অভিজ্ঞতা আমাদের দেখাচ্ছে, বর্তমান যুগে এই দুই যুদ্ধই, অর্থাৎ সামরিক যুদ্ধ এবং তথ্যযুদ্ধ আর আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তথ্যযুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হলো অ্যালগরিদম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল সেন্সরশিপ</strong></p>
<p>একসময় যুদ্ধের সময় তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রধান মাধ্যম ছিল সংবাদপত্র, রেডিও এবং টেলিভিশন। রাষ্ট্র চাইলে একটি সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে পারত, কোনো সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে পারত কিংবা নির্দিষ্ট বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারত। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে সেই বাস্তবতা আমূল বদলে গেছে। আজ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষই একই সঙ্গে তথ্যের ভোক্তা (consumer) এবং তথ্যের উৎপাদক (producer)। একটি স্মার্টফোন হাতে থাকলেই একজন সাধারণ নাগরিক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ভিডিও ধারণ করে মুহূর্তের মধ্যে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।</p>
<p>আসলে এই পরিবর্তন তথ্যপ্রবাহকে গণতান্ত্রিক করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে আরও জটিলও করেছে। কারণ এখন তথ্যের প্রবাহ শুধু রাষ্ট্র একাই নিয়ন্ত্রণ করেনা, বরং অ্যালগরিদমও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অ্যালগরিদমই নির্ধারণ করে কোন পোস্ট বেশি মানুষের সামনে যাবে, কোন ভিডিও সুপারিশ করা হবে, কোন হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করবে এবং কোন বিষয় ধীরে ধীরে মানুষের নিউজফিড থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে। ফলে তথ্যযুদ্ধের নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেই অদৃশ্য অবকাঠামোটি। এর কার্যপ্রণালি সম্পর্কেও অধিকাংশ ব্যবহারকারীরই খুব কম ধারণা রয়েছে।</p>
<p><strong>আজ মেটা (Facebook ও Instagram), ইউটিউব, টিকটক, এক্স কিংবা অন্যান্য বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সমূহ কি স্রেফ প্রযুক্তি কোম্পানি? না। তারা বৈশ্বিক তথ্যপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী। প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন কনটেন্টের মধ্যে কোনটি দৃশ্যমান হবে, কোনটি কম মানুষের কাছে পৌঁছাবে, কোনটি সতর্কবার্তা পাবে কিংবা কোনটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হবে; এসব সিদ্ধান্ত মানুষের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) কনটেন্ট মডারেশন সিস্টেমও গ্রহণ করে। তাত্ত্বিকভাবে এই কনটেন্ট মডারেশনের উদ্দেশ্য হলো সহিংসতা উসকে দেওয়া, সন্ত্রাসবাদ, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুয়া তথ্য এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু বাস্তবে এই প্রক্রিয়া একদমই বিতর্কমুক্ত নয়। বিশেষ করে যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সবসময়ই আমাদের সামনে আসে- কোন কনটেন্ট আসলেও নিরাপত্তার জন্য সরানো হচ্ছে, আর কোন কনটেন্ট রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতের কারণে সীমিত হয়ে যাচ্ছে?</strong></p>
<p>গাজা যুদ্ধ এই বিতর্ককে বৈশ্বিক পর্যায়ে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বহু সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, গবেষক এবং সাধারণ নাগরিক সমাজও আজ অভিযোগ করছেন যে, ফিলিস্তিন-সম্পর্কিত যেকোনো পোস্টের দৃশ্যমানতা কেন কমে যাচ্ছে, কিছু কনটেন্ট উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে রোজই অপসারণ করা হচ্ছে, অথবা বড় একটি সংখ্যার পাবলিক অ্যাকাউন্ট এসব তথ্য প্রচারের জন্য প্রায়ই নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বলেছে, তারা তাদের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সহিংস বা নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন, তা হলো- একই নীতিমালা কি সব ভাষা, সব অঞ্চল এবং সব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আদৌ সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে?</p>
<p>এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন আমরা অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত (Algorithmic Bias) নিয়ে গবেষণাগুলো দেখি। অ্যালগরিদম তো আর কোনো শূন্যস্থানে কাজ করে না! এটি মানুষের তৈরি তথ্য, ভাষা, নিয়ম এবং প্রশিক্ষণ-ডেটার ওপর নির্ভর করেই ফাংশন করছে। ফলে কোনো ভাষায় পর্যাপ্ত ডেটা না থাকা, কোনো অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সীমিত বোঝাপড়া অথবা নীতিমালার অস্পষ্টতা অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তবে অধিকাংশক্ষেত্রেই মালিকপক্ষের সেট করে দেওয়া তত্ত্ব ও তথ্যের বিপরীতে ইচ্ছাকৃতভাবেই এ্যালগরিদম রেস্পন্স করেনা। গবেষকরা এটিকে &#8220;অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত&#8221; বলে অভিহিত করেন।</p>
<p>আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্যাডো ব্যানিং (Shadow Banning), অর্থাৎ কোনো ব্যবহারকারীর কনটেন্ট সম্পূর্ণ মুছে না দিয়েও তার সেই পোস্টটি রিচের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সব সময় এই শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন সময়ে ব্যবহারকারীরা, সাংবাদিক এবং গবেষকদের মধ্যে এ নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। কারণ কোনো পোস্ট মুছে ফেলা হলে ব্যবহারকারী অন্তত তা বুঝতে পারেন; কিন্তু অ্যালগরিদম যদি নীরবে তার দৃশ্যমানতা কমিয়ে দেয়, তাহলে সেই পরিবর্তন শনাক্ত করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।</p>
<p>অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যযুদ্ধের একটি বিপরীত বাস্তবতাও তৈরি করেছে। রাষ্ট্র বা বড় সংবাদমাধ্যম যেসব ঘটনা হয়তো পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয় না, সেগুলো সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে আসতে পারে। গাজার যুদ্ধের সময় হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, ধ্বংসস্তূপ কিংবা ক্ষুধার্ত শিশুদের অসংখ্য ভিডিও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের কাছে পৌঁছেছে মূলত নাগরিক সাংবাদিকতা (Citizen Journalism) এবং স্বাধীন সাংবাদিকদের মাধ্যমেই। এর ফলে তথ্যপ্রবাহের ওপর প্রথাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। তবে এই একই প্রযুক্তি আবার ভুয়া তথ্য, সম্পাদিত ভিডিও, পুরোনো ছবি নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার, বট-নেটওয়ার্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছে। ফলে আধুনিক তথ্যযুদ্ধের একটি বড় বৈপরীত্য হলো- যে প্রযুক্তি সত্যকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে, সেই প্রযুক্তিই আবার মিথ্যাকে নজিরবিহীন গতিতে বিস্তার লাভের সুযোগ করে দেয়।</p>
<p><em>এই বাস্তবতায় তথ্যযুদ্ধ আর কেবল রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন প্রযুক্তি কোম্পানি, অ্যালগরিদম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নাগরিক সাংবাদিকতা, স্বাধীন গবেষণা, প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সাধারণ মানুষ; সবাই কোনো না কোনোভাবে এই বৈশ্বিক তথ্য-পরিবেশের অংশ। তাই আধুনিক যুদ্ধের প্রশ্নে &#8220;কে গুলি চালিয়েছে?&#8221; এই প্রশ্নের পাশাপাশি আরেকটি প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে: &#8220;কে নির্ধারণ করছে আমরা কী দেখব?&#8221;</em></p>
<p><strong>একবিংশ শতাব্দীর তথ্যযুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এখানেই। আগে বলা হতো, যে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে, সে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। ডিজিটাল যুগে সেই কথাটি আরও এক ধাপ এগিয়েছে- যে অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে, সে মানুষের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে; আর যে মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে, সে অনেক ক্ষেত্রেই জনমত, নৈতিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই তথ্যযুদ্ধের এই নতুন যুগে কেবল তথ্য যাচাই করাই যথেষ্ট নয়; আমাদের বুঝতে হবে সেই তথ্য আমাদের সামনে কীভাবে, কেন এবং কার মাধ্যমে পৌঁছাচ্ছে।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>মানবিক সংকটের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যারেটিভের রাজনীতি</strong></p>
<p>আমাদের সামনে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে, আধুনিক সময়ের যুদ্ধবিগ্রহ আর শুধু ভূখণ্ডের দখলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভাষারও যুদ্ধ। একটি সংঘাতকে কী নামে ডাকা হবে, সেটিই অনেক সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। একটি রাষ্ট্র যে ঘটনাকে &#8220;আত্মরক্ষার অধিকার&#8221; (Self-Defense) বলে ব্যাখ্যা করে, অন্য পক্ষ সেটিকে &#8220;দখলদারিত্ব&#8221; (Occupation), &#8220;সম্মিলিত শাস্তি&#8221; (Collective Punishment) বা &#8220;যুদ্ধাপরাধ&#8221; (War Crime) হিসেবে বর্ণনা করতে পারে। একইভাবে, কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কেউ &#8220;সন্ত্রাসী সংগঠন&#8221; (Terrorist Organization) বলে, আবার কেউ যৌক্তিকভাবেই &#8220;প্রতিরোধ আন্দোলন&#8221; (Resistance Movement) বলে অভিহিত করে। এই শব্দগুলো আমাদের সামনে কেবল ভাষাগত পার্থক্য নির্ধারণ করে না; এগুলো আন্তর্জাতিক জনমত, কূটনীতি এবং আইনি অবস্থানকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এজন্য আন্তর্জাতিক আইন মূলত নিরপেক্ষ নীতিমালার ওপর দাঁড়ালেও, সেই আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। জেনেভা কনভেনশন, রোম সংবিধি (Rome Statute), আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (International Humanitarian Law); সবগুলোই বেসামরিক নাগরিকের সুরক্ষা, অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগের সীমা এবং যুদ্ধের নৈতিক নিয়ম নির্ধারণের চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট সংঘাতে এসব আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সেটি নির্ধারণের প্রশ্নে প্রায়ই রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়।</p>
<p>গাজা যুদ্ধ এই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। যুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্রে হামলা, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সীমিত প্রবেশাধিকার এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সময়ে ইজরায়েল সরকার তাদের সামরিক অভিযানকে হামাসের হামলার পর আত্মরক্ষার অধিকার এবং একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক ন্যারেটিভ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।</p>
<p>এখানেই ন্যারেটিভের শক্তি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ আন্তর্জাতিক আদালত কোনো রায় দেওয়ার বহু আগে থেকেই বৈশ্বিক জনমত গঠনের লড়াই শুরু হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যম, কূটনৈতিক বিবৃতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন, গবেষণা নিবন্ধ এবং রাজনৈতিক ভাষণ; সব মিলিয়েই এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রায়ই আদালতের রায়ের আগেই একটি নৈতিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতে চললেও, ন্যারেটিভের আদালত অনেক দ্রুত রায় দিয়ে ফেলে। এই বাস্তবতা শুধু গাজার ক্ষেত্রেই নয়। বসনিয়া, রুয়ান্ডা, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, ইউক্রেন কিংবা ইরান; প্রায় প্রতিটি বড় সংঘাতে দেখা গেছে, যুদ্ধের পাশাপাশি ভাষা ও পরিভাষা নিয়েও সমান্তরাল লড়াই চলে। কোন ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হবে, কোন পরিসংখ্যান উদ্ধৃত হবে, কার সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, কোন শব্দ ব্যবহার করা হবে, এসব সিদ্ধান্ত জনমতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।</p>
<p>বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমানতার একটি রাজনীতি কাজ করে। কিছু সংকট বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন শিরোনাম হয়, আবার কিছু সংকট দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে কম আন্তর্জাতিক মনোযোগ পায়। সুদানের চলমান মানবিক বিপর্যয়, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংকট বা চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলমানদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক বিতর্ক এসব ক্ষেত্রেও আমরা গবেষকদের প্রশ্ন তুলতে দেখি, কেন কিছু মানবিক সংকট বৈশ্বিক আলোচনায় কেন্দ্রীয় স্থান পায়, অথচ অন্য কিছু সংকট তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক থেকে যায়। এই বৈষম্যের পেছনে সংবাদমূল্য, ভূরাজনৈতিক স্বার্থ, আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য, গণমাধ্যমের কাঠামো এবং বৈশ্বিক মনোযোগের রাজনীতি; সবই ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<p>এই কারণে তথ্যযুদ্ধের যুগে আন্তর্জাতিক আইনকে শুধু আদালতের নথিতে খুঁজলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। আইনের পাশাপাশি দেখতে হয় কীভাবে আইনকে উদ্ধৃত করা হচ্ছে, কে কোন ধারার ওপর জোর দিচ্ছে, কোন প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং কোন তথ্যকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আইন ও ন্যারেটিভ প্রায়ই একে অপরকে প্রভাবিত করে। নৈতিক বৈধতা অনেক সময় কূটনৈতিক বৈধতারই পথ তৈরি করে, আর কূটনৈতিক বৈধতা ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা যায়।</p>
<p><strong>আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা আমাদের একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আজ একটি শিশুর মৃত্যু যেমন মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হতে পারে, তেমনি সেই একই শিশুর ছবি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ন্যারেটিভেও পরিণত হতে পারে। আধুনিক তথ্যযুদ্ধের যুগে মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানোর অর্থ হলো সব পক্ষের দাবি সমালোচনামূলকভাবে পরীক্ষা করা, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যেসব মানুষের কণ্ঠ ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় হারিয়ে যায়, তাদের অভিজ্ঞতাকেও ইতিহাসের অংশ করে তোলা।</strong></p>
<p>আসলে ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই ক্ষমতার সঙ্গে তথ্যের সম্পর্ক ছিল খুব গভীর। রাজারা ইতিহাস লিখিয়েছেন, সাম্রাজ্য নিজেদের বিজয়ের কাহিনি রচনা করেছে, আর পরাজিতদের গল্প ইতিহাসের প্রান্তে প্রায় হারিয়েই গেছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এই সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে। আজ আর তথ্যের অভাব নেই; বরং সমস্যা হলো তথ্যের প্রাচুর্য। প্রতিদিন কোটি কোটি সংবাদ, ভিডিও, ছবি, পরিসংখ্যান এবং মতামতের ভিড়ে সত্যকে খুঁজে বের করা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। এজন্য যারা সত্যকে গ্রহণ করতে চায়, তারা সামরিক যুদ্ধে না গিয়েও সত্য-প্রবাহের জন্য ন্যারেটিভের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জাতি, গোষ্ঠী, উম্মাহ, অঞ্চল কিংবা ভূরাজনীতির স্বার্থরক্ষার মহান যুদ্ধেও যোগদান করতে পারবে অবলীলায়।</p>
<p><strong>সেইসাথে, একবিংশ শতাব্দীর চলমান তাবৎ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটিই যে, বোমা-বারুদ বা অস্ত্র হয়তো গোটা এক আস্ত শহর ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু ন্যারেটিভ মানুষের স্মৃতি নির্মাণ করতে পারে। হয়তো একটি যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়; কিন্তু সেই যুদ্ধের কারণ ও করণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে। তাই সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানে কোনো পূর্বনির্ধারিত ন্যারেটিভকে গ্রহণ করা নয়; বরং মানবিক মর্যাদা, প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সততার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা। কারণ শেষ পর্যন্ত, সত্য কখনোই শুধু কয়েক শব্দের আক্ষরিক তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়, সত্য হলো একইসাথে তথ্য, প্রেক্ষাপট, মানবিক অভিজ্ঞতা এবং নৈতিক দায়িত্ব; এই চারটির মিলিত রূপ। আর সেই সত্যের সন্ধানই আধুনিক তথ্যযুদ্ধের যুগে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/information-war-narrative-warfare-and-global-power-politics/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">17628</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মানব সভ্যতার প্রতি ইসলামী সভ্যতার অবদান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/contribution-of-islamic-civilization-to-human-civilizations/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/contribution-of-islamic-civilization-to-human-civilizations/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 27 Jan 2026 08:44:09 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16488</guid>

					<description><![CDATA[মানব সভ্যতার ইতিহাসকে যদি খুব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে এক সভ্যতা আরেক সভ্যতা দ্বারা অনেক বেশী প্রভাবিত। বিশেষ করে &#8216;শক্তি&#8217;-র উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা সমূহের নাম আলাদা হলেও তাদের মূলনীতি সমূহ ছিল এক ও অভিন্ন।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মানব সভ্যতার ইতিহাসকে যদি খুব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে এক সভ্যতা আরেক সভ্যতা দ্বারা অনেক বেশী প্রভাবিত। বিশেষ করে &#8216;শক্তি&#8217;-র উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা সমূহের নাম আলাদা হলেও তাদের মূলনীতি সমূহ ছিল এক ও অভিন্ন। তাদের সভ্যতার মূলে ছিল শোষণ ও জুলুম।।</p>
<p>কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত হল ইসলামী সভ্যতা। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ছিল ইসলামী বিপ্লব, যা সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদ (সঃ) এর নেতৃত্বে হয়েছিল। এই বিপ্লব ছিল এমন এক বিপ্লব যা সকল নিয়ম নীতিকে পাল্টে দিয়ে সংগঠিত হয়েছিল এবং যার প্রভাবে সমগ্র পৃথিবী নতুন করে সেজেছিল।</p>
<p>ইসলামী সভ্যতা মানবতার জন্য কি এনেছে? কি দিয়েছে? আমি এর কয়েকটি এখানে উল্লেখ করতে চাইঃ</p>
<p><strong>১। মানবাধিকার</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;">সত্যিকারের মানবাধিকারের প্রবক্তা হল ইসলামী সভ্যতা। ইসলামী সভ্যতাই প্রথম মানুষকে মানবাধিকারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। পরবর্তীতে পাশ্চাত্যের ধ্বজাধারীরা এর প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে আংশিকভাবে একে গ্রহণ করলেও তাদের পন্থা ও ব্যবস্থা ফেরাউনী ব্যবস্থা তথা জুলুম তান্ত্রিক হওয়ার কারণে এই মানবাধিকারের ধারণার মধ্যকার মৌলিকত্বকে নষ্ট করে দেয় তথা degenerate করে ফেলে। আজকে সকল সমস্যার মূলে রয়েছে তাদের এই degeneration। তারা ইসলামের কাছ থেকে নেয় এবং প্রভাবিত হয় কিন্তু সেটাকে নষ্ট করে জুলুমে রূপান্তর করে।</p>
<p style="padding-left: 40px;">দেখুন মানবাধিকার রক্ষা করার নামে তারা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছে কিন্তু এই জাতিসংঘে অন্যায় ভাবে &#8216;ভেটো পাওয়ার&#8217; নামে একটা ধারা যুক্ত করে দিয়েছে। আমি এটাকে বলি ফেরাউনী ধারা। এই ফেরাউনী ধারাকে ব্যবহার করে তারা যা ইচ্ছা তাই করে। তারা ইসলামের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, কিন্তু Degenerate করে ফেলেছে।</p>
<p><strong>২। শোষনের বিলোপ সাধন</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;">মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করার বিধান এনেছে ইসলামী সভ্যতা। এখানে থেকে ইলহাম নিয়ে কম্যুনিজম প্রতিষ্ঠা করে। মানুষকে শোষণ থেকে মুক্ত করব এই কথার নামে তারা মানুষকে রাজনৈতিক শক্তির দাস বানিয়ে মানুষকে রাজনৈতিক শক্তির শোষণের শিকার বানিয়েছে। কারণ তাদের মূলে রয়েছে &#8216;শক্তি&#8217;। শক্তিকে তারা শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড মনে করে থাকে।</p>
<p><strong>৩। মুক্তবাজার অর্থনীতি</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;">মুক্তবাজার অর্থনীতির ধরণা দিয়েছে ইসলাম। রাসূল (সঃ) সর্ব প্রথম মদিনার বাজারে এই ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন। সকলেই তার ইচ্ছামত ও মর্জিমত ক্রয় বিক্রয় করবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;">এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাশ্চাত্য পুঁজিবাদ (ক্যাপিটালিজম) এর প্রবর্তন করে। কিন্তু শক্তির পূজারী হওয়ার কারণে ও শক্তিকে তারা শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড মনে করার কারণে মনোপলি (একচেটিয়া), পূঁজিপতিদের শোষণের হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেছে।</p>
<p><strong>৪। চুক্তির স্বাধীনতা</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;">ইসলাম মানুষকে ন্যায়ের ভিত্তিতে চুক্তি করার স্বাধীনতা দিয়েছে। পাশ্চাত্য ভূমি আইন, বিয়ে শাদী ইত্যাদিতে কিছু আইন প্রবর্তন করেছে এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কিছু আইন প্রবর্তন করেছে। কিন্তু এই স্বাধীনতাকে পরিপূর্ণভাবে মানুষকে সামগ্রিকভাবে দিতে পারেনি। সমাজের সকল ক্ষেত্রে মানুষের যে স্বাধীনতা রয়েছে সেই স্বাধীনতা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেছে।</p>
<p>৫। <strong>ইসলামে সামাজিক কাঠামোতে আপোষ রফা রয়েছে। </strong></p>
<p style="padding-left: 40px;">পাশ্চাত্যের ধারকরা মুসলমানদের প্রভাবে তাদের প্রাচীন Feudalism এর স্থলে কোয়ালিশন গঠন করার পর্যায়ে চলে আসে। কিন্তু এটাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কর্তৃত্বের অধীনে এবং রাষ্ট্রের সকল শক্তিকে কুক্ষিগতকারী আমলাতন্ত্র বা ব্যুরোক্রেসিতে রূপান্তরিত করে পুণরায় ফেরাউনিজমে (জুলুমতন্ত্রে) পরিণত করে।</p>
<p>[মিল্লি গরুশ আন্দোলনের নেতা ও তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ নাজমুদ্দিন এরবাকানের <strong>&#8216;ইসলামে জ্ঞানের ধারা ও জ্ঞানপদ্ধতি&#8217;</strong> নামক কনফারেন্স থেকে অনূদিত]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/contribution-of-islamic-civilization-to-human-civilizations/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16488</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণে ডি-৮</title>
		<link>https://rowyakbd.com/d-8-for-the-revival-of-the-muslim-ummah/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/d-8-for-the-revival-of-the-muslim-ummah/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হিশাম আল নোমান]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 09 Sep 2025 16:22:53 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16151</guid>

					<description><![CDATA[আমরা কি কখনো এমন কোনো বিশ্বব্যবস্থার কথা শুনেছি, যাতে যুদ্ধ হানাহানি নয়; বরং ব্যালেন্স অফ পাওয়ার (BOP) প্রতিষ্ঠায় সমমর্যাদা এবং সংলাপকে মূলনীতি ধরা হয়? কখনো কি শুনেছি এমন কোন বিশ্ববীক্ষার কথা, যা ‘Absolute Anarchy’ এর বদলে রাষ্ট্রসমূহকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আমরা কি কখনো এমন কোনো বিশ্বব্যবস্থার কথা শুনেছি, যাতে যুদ্ধ হানাহানি নয়; বরং ব্যালেন্স অফ পাওয়ার (BOP) প্রতিষ্ঠায় সমমর্যাদা এবং সংলাপকে মূলনীতি ধরা হয়? কখনো কি শুনেছি এমন কোন বিশ্ববীক্ষার কথা, যা ‘Absolute Anarchy’ এর বদলে রাষ্ট্রসমূহকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে? বৈশ্বিক ক্ষুধামান্দ্য ও দারিদ্র্যের মোকাবেলায় যে বিশ্বব্যবস্থা দান খয়রাত ও চ্যারিটির মুখাপেক্ষী নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতির কথা বলে। যেখানে একজন মানুষও গরীব থাকবে না; অভুক্ত থাকা তো বহু দূর! শুনেছি কি এমন আন্তর্জাতিক বন্ধনের উপাখ্যান, &#8220;Violation of Sovereignty&#8221; নয় বরং পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই শান্তির প্রতিশ্রুতি দিতে সক্ষম?<br />
ভাবতে অকল্পনীয় লাগলেও গত শতাব্দীর একেবারে শেষ সময়ে এমনই এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রস্তাবনা ও তার কার্যক্রম শুরু হয় <strong>ডি-৮</strong> তথা <strong>Cooperation of Developing Countries</strong> এর। সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও সামগ্রিক একটি বিশ্বব্যবস্থার প্রস্তাবনা হওয়ায় ডি-৮ এই পাশ্চাত্য জায়নবাদ নিয়ন্ত্রিত বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে সর্বদা ব্যাক স্টেজেই থেকে যায়। কোথাও একে নিয়ে বিশদ কোন আলাপ আলোচনার দেখা পাওয়া যায় না। না আছে মানসম্মত কোন আর্টিকেল বা ডকুমেন্টারি। বক্ষ্যমান প্রবন্ধে তাই মোটামুটি বিশদভাবে ডি-৮ এর পরিচয়, কার্যক্ষমতা এবং অতীত ও বর্তমানের মূল্যায়নের একটি বিবৃতিমূলক বয়ান হাজির করার প্রয়াস চালানো হলো।</p>
<h4>&nbsp;</h4>
<h5>প্রেক্ষাপট</h5>
<p>বিংশ শতকের শুরুতে ইউরোপের শতাব্দীকালের উত্তেজনা বিষ্ফোরিত হয়ে সমগ্র দুনিয়াব্যাপী দুই দুইটি মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়ে যায়। গোটা মানবতা এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। কোটি কোটি আদম সন্তান Mechanical Killing এর শিকার হয় প্রথবারের মতো। মানতার ইতিহাসে জঘন্যতম এ অধ্যায়সমূহ বিশাল বিশাল কিছু ঘটনা বা পটপরিবর্তনের জন্ম দেয়, যেমন প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে অটোমান সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি, জার সাম্রাজ্যের পতন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সংকোচন এবং অস্ট্রিয়ান-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের মূলোৎপাটন করা। এদের পরিবর্তে ব্রিটিশ বাদে অন্যান্য দেশে ফ্যাসিস্ট সরকারকে প্রতিস্থাপিত করা। অতঃপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে একনায়ক হিটলার, স্ট্যালিন, মুসোলিনি, ফ্রাঙ্কোকে সরিয়ে দেয়া। বিশ্বে শান্তি স্থাপনের জন্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইয়াল্টা কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হওয়া। যার উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে শান্তি, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতন্ত্র স্থাপন করা।</p>
<p>কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মেকি এই স্বাধীনতাকে একটি বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ করে দেয়া হয়, মানবাধিকার শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি দেশ, সমাজ বা গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত করা হয়, যা তাদের বাইরে কারো জন্য প্রযোজ্য ছিল না। উপরন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ায় স্ট্যালিন ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে আমেরিকা ও তার মিত্রদের স্নায়ুযুদ্ধ চলতে থাকে। শুরু হয় Nuclear arms race এর মত ভয়াবহতর মানব বিধ্বংসী অস্ত্র মহড়া। এভাবেই জায়নবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদী মিত্রদের স্নায়ুযুদ্ধ চলতে থাকে। এরপরেই জায়নবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া নতুন বিশ্বব্যবস্থা দাঁড় করায়, যে সভ্যতা রক্ত ও সমাধির উপর প্রতিষ্ঠিত। নতুন এই সিস্টেমের মূল বুনিয়াদ হচ্ছে ঘৃণা ও শত্রুতা।</p>
<p>৯০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গন এবং Warsaw Pact বানচাল হবার পর ন্যাটোকে বিলুপ্ত করার দাবি উঠলে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এর বিপক্ষে মত দেন। <strong>তখন ফকল্যান্ড যুদ্ধে লৌহমানবী খেতাব পাওয়া এ ব্রিটিশ রমণী বলেন- “No ideology can survive without a common enemy. Our next enemy is Islam.” ইসলাম তখন তাদের এমন এক নিশানায় পরিণত হয়, সমগ্র দুনিয়া পাশ্চাত্যের নেতৃত্ব ইসলামের উপর হামলে পড়তে শুরু করে। ঠিক তখনই ন্যাটোর বেইজ কালার লাল থেকে সবুজ হয়ে যায়।</strong> সুতরাং তার এ উক্তি থেকে সহজেই অনুধাবন করা সম্ভব যে, Bush কর্তৃক উদ্ভাবিত এই New World Order কাদের জন্য এবং কীসের জন্য?</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>ডি-৮ প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠাতা</h5>
<p>এমতাবস্থায় দৃশ্যপটে হাজির হন গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুসলিম সিংহপুরুষ প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান। তুরস্কের ইসলামী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর নাজমুদ্দিন এরবাকান ১৯৬৯ সাল থেকে মিল্লি গরুশ আন্দোলন যখন শুরু করেছিলেন তখন থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল, জায়নবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিপরীতে একটি ইসলামী ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা।<br />
ইসলামী ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর সারাজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু বিশ্বপরিস্থিতি পরবর্তী দুই দশকে এতোটাই পরিবর্তিত হয়ে যায়, যে তখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একক আধিপত্যের কারণে ১৯৭৬ সালের ওআইসি সম্মেলনে প্রস্তাবিত ইসলামী ইউনিয়নের পদক্ষেপ ১৯৯৬ সালে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে সৌদি-ইরান সমস্যা, অন্যদিকে ইরাকের সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সমস্যা ইউনিয়ন গঠনকে কঠিন করে তুলে। ক্ষমতার লোভে মত্ত হয়ে কেউ কাউকে সামান্যতম সম্মান প্রদর্শন করছিল না।</p>
<p>এরই মধ্যে ৮০ এর দশকে আমেরিকার সাথে সৌদির ডলার চুক্তি বিশ্ব অর্থ-ব্যবস্থায় আমেরিকাকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলে। জারি হয় অধুনা Petro-Dollar System.</p>
<p>কিন্তু প্রফেসর এরবাকান ইসলামী ঐক্যের ব্যপারে দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন। ইসলামী ইউনিয়নের পরিবর্তে পরবর্তী ৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে বিশ্বব্যাপী একটি অর্থনৈতিক ছক তৈরি করেন। একটি ইসলামী বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্নকে সামনে রেখে তার স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন <strong>ডেভেলপিং-৮</strong> অর্থাৎ ডি-৮। <strong>সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়ার মূলমন্ত্র যেখানে ‘শক্তিই সকল কিছু&#8217; সেখানে তার প্রতিষ্ঠিত ডি-৮ এর মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেন ‘সবার উপরে হক’।</strong></p>
<p>তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় D-8 Organization for Economic Cooperation, সাধারণভাবে যাকে উন্নয়নশীল-৮ (D-8) বলা হয়। <em>১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের শিরান প্রাসাদে অনুষ্ঠিত “উন্নয়নের জন্য সহযোগিতা” শীর্ষক সেমিনারে তিনি বৃহৎ মুসলিম উন্নয়নশীল দেশ সমূহের মাঝে সহযোগিতার এক বলিষ্ঠ চিন্তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন। তখন থেকে ধারাবাহিক কিছু প্রস্ততিমূলক অধিবেশন শেষে ১৯৯৭ সালে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত “দেশ ও সরকার প্রধান সম্মেলন” এর সমাপনী অধিবেশনে ইস্তাম্বুল ডেক্লারেশনের মাধ্যমে ডি-৮ দাপ্তরিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>D-8 এর মূলনীতিসমূহ</h5>
<p>D-8 এর লোগোতে ছয়টি তারা সংগঠনটির ৬টি মূলনীতিকে ইঙ্গিত করে। সেগুলো হলো-</p>
<blockquote><p>১. যুদ্ধ নয়, শান্তি।<br />
২. দ্বন্দ্ব নয়, সংলাপ।<br />
৩. শোষণ নয়, সহযোগিতা।<br />
৪. দ্বৈতনীতি নয়, আদালত।<br />
৫. অহমিকা নয়, সমতা।<br />
৬. বলপ্রয়োগ বা কর্তৃত্ববাদিতার পরিবর্তে মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র (মত প্রকাশের স্বাধীনতা)।</p></blockquote>
<p>যেহেতু প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান ডি-৮ এর প্রস্তাবক, তার প্রস্তাবনা অনুসারেই ন্যায়ভিত্তিক এক দুনিয়া প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রয়াস, ডি-৮ এর এধরণের সামগ্রিক মূলনীতি গৃহীত হয়। <strong>তার অনবদ্য আত্মজীবনী ‘দাওয়াম’-এ তিনি নতুন দুনিয়ার প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, যার মূল মেরুদণ্ড এই ছ’টি মূলনীতিই।</strong> আমরা সেখান থেকে যে সারসংক্ষেপ পাই, তা হলো—</p>
<p><strong>যুদ্ধ নয়, শান্তি</strong>—এই মূলনীতির গূঢ়ার্থ হলো বস্তুবাদ নয়; বরং আধ্যাত্মিকতা। কারণ বস্তুবাদী মনস্তত্ত্বের একটি বৃহৎ অ্যাপ্রোচ হলো ডারউইনিজম। যেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শক্তিশালী জাতিগুলো তুলনামূলক কম শক্তিশালী জাতিগুলোকে শোষণ, অত্যাচার অনাচার এমনকি যুদ্ধের মাধ্যমে হলেও নিঃশেষ করে দিতে চায়। একে বর্তমান পরিভাষায় বলা হয় সর্বাত্মক যুদ্ধ. সুতরাং একে মোকাবেলা করতে হলে আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে মানুষের মাঝে পারস্পরি সৌহার্দ্য, ভালোবাসা, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলার চাষাবাদ করতে হবে।</p>
<p><strong>দ্বন্দ্ব নয়, সংলাপ</strong>-শান্তির ধারকবাহক ইসলামকে যেকোনো মূল্যে ধ্বংস করে দুনিয়াতে ফাসাদ ও ফেরাউনিয়াত কায়েম করতেই পাশ্চাত্যের যত আয়োজন। উপনিবেশের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের মতো শক্তিমান মুসলিম সালাতানাতসমূহের পতন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর উসমানী খেলাফতের পতন ঘটানো এবং পরবর্তীতে জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত মুসলিম দেশসমূহের নেতৃত্বে তাদের দোসর বসানো। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে কৃত্রিম সঙ্কট জারী করে শত্রুভাবাপন্ন করে তোলা। সেখানে অস্ত্র, মাদক ব্যবসা পরিচালনা। অস্থিতিশীল পরিবেশের ফায়দা নিয়ে খনিজ ও যাবতীয় সুবিধাদী লুট করা, এসবই পাশ্চাত্যের এজেন্ডা। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হলে মুসলিম দেশগুলোর জন্য দ্বন্দ্ব-যুদ্ধের পথ নয়; বরং সংলাপের মাধ্যমে নিজেদের সকল সমস্যা সমাধান করা বাঞ্ছনীয়, অন্যথায় মুসলিম উম্মাহর সংকট উত্তরণ সুদূর পরাহত।</p>
<p><strong>শোষণ নয়, সহযোগিতা</strong>&#8211; উন্নতি এবং অগ্রগতি একটি সমন্বিত বিষয়। এককভাবে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। পাশ্চাত্যের ধনী কিছু দেশ তাদের ব্যাংকসমূহের মাধ্যমে দরিদ্র দেশ গুলোকে ইচ্ছাকৃত দরিদ্র বানিয়ে রেখেছে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণে বাধ্য করার মাধ্যমে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সে ঋণের আসল তো দূরের কথা এমন কি আরোপিত সুদও তারা ঠিকমত পরিশোধ করতে পারছে না। এভাবে আয়ের সমতা নষ্ট করে— ধনীকে আরো ধনী, গরীবকে আরো গরীব বানিয়ে তারা দুনিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে। প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে যেমন নিজের ঘরে শান্তি বজায় রাখা সম্ভব নয়, তেমনই শোষণের এই পরিক্রমা কখনোই বিশ্বশান্তি আনবে না। তাই সহযোগিতার রোল মডেল স্থাপন করে সামগ্রিক উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন করে নজির পেশ করতে হবে বিশ্ববাসীর সম্মুখে।</p>
<p><strong>দ্বৈতনীতি নয়, আদালত</strong>&#8211; ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার মূল কাঠামো আদালতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকলেও পাশ্চাত্যের প্রপাগান্ডা ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে জুড়ে দিয়েছে। তাদের প্রহসনমূলক দ্বিমুখিতা মুসলিম দেশগুলোর মানবিক জীবন যাত্রার শুধু অধঃপতনই ঘটিয়েছে। শুধু মুসলিম দেশগুলোই নয়; বরং অপেক্ষাকৃত দুর্বল অমুসলিম দেশগুলোতেও তারা এই দ্বৈতনীতি চালিয়ে বিভেদ এবং সহিংসতার বিস্তার ঘটিয়েছে। এখান থেকে মুক্ত হতে হলে মানবাধিকার এবং স্বাধীনতা শুধু মুসলিমদের জন্য নয়; বরং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য আদালতের সাথে নিশ্চিত করা জরুরী।</p>
<p><strong>অহমিকতা নয়, সমতা</strong>&#8211; বিগত শতাব্দী আমাদের দেখিয়েছে অর্থনৈতিকভাবে অগাধ শক্তিধর শুধুমাত্র ইউরোপই নয়, বরং দূর প্রাচ্যের দেশসমূহ মাত্র ১০-১৫ বছরের ব্যবধানে জেলেপল্লি থেকে ইকোনোমিক সুপার পাওয়ারে পরিণত হয়েছে। এর দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, উৎকর্ষের জন্য সবার সমান সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং বিশ্বশান্তির জন্য উঁচু নিচুর ব্যবধানকে ভুলে সমমর্যাদাকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।</p>
<p><strong>বলপ্রয়োগ বা কর্তৃত্ববাদিতার পরিবর্তে মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র (মত প্রকাশের স্বাধীনতা)</strong>&#8211; এই মূলনীতির মাধ্যমে প্রফেসর ড. এরবাকান প্রচলিত জায়নবাদের ক্রীড়নক জাতিসংঘ ব্যবস্থা, বিশ্বের ১৭০টি দেশকে নামমাত্র সদস্য রাষ্ট্র এবং নামমাত্র ক্ষমতা দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি রাষ্ট্রকে ভেটো ক্ষমতা প্রদান করে জায়নবাদের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এভাবে তারা যখন যেভাবে ইচ্ছা মানবতাকে লুণ্ঠন করে যাচ্ছে। এ ব্যবস্থার বিপরীতে ‘হক’কে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে একটি নতুন জাতিসংঘের প্রস্তাবনা পেশ করেন। তাঁর ভাষায়—</p>
<p>“এই জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা নয়, জায়নবাদীদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা। অর্থাৎ তাদের চিন্তার মূলে হলো ফেরাউনী চিন্তা। তাহলে এখন কি করতে হবে?</p>
<p>কি করতে হবে এর উত্তরে আমি বলি, <strong>আমাদেরকে নতুন একটি জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে জাতিসংঘ হবে হকের উপর প্রতিষ্ঠিত, কোন জাতি বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়, সত্যিকারের বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠাই হবে এই জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য। এই জাতিসংঘে কারোর কোন ভেটো দেয়ার পাওয়ার থাকবে না।</strong></p>
<p>এরপর এই জাতিসংঘ এমন কিছু মূলনীতি প্রণয়ন করবে যা সকল রাষ্ট্র মানতে বাধ্য হবে। কোন রাষ্ট্র তার জনগণের উপর জুলুম করতে পারবে না, সকল মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার দিতে বাধ্য থাকবে। মানুষের যেমন রাষ্ট্রের উপর অধিকার রয়েছে রাষ্ট্রেরও তেমন তার জনসাধারণের উপর অধিকার রয়েছে। আর সেটা হলো রাষ্ট্র জনগণের সাথে বৈষম্য মূলক আচরণ করতে পারবে না ও কোন ক্রমেই জুলুম করতে পারবে না, আর জনগণও অন্যের অধিকার হরণ করবে না এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কোন কাজ করবে না।&#8221;</p>
<p>এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ন্যায়ভিত্তিক একটি দুনিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মূলনীতি সমূহ প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং বিশ্বমানবতার সামনে আজকের এই জুলুমের দুনিয়ার আসল চেহারা তুলে ধরে তাদেরকে জাগ্রত করা প্রয়োজন।<br />
‘দাওয়াম’ পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, নতুন দুনিয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ-</p>
<ul>
<li><strong>নতুন জাতিসংঘ;</strong> সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, বর্তমান ব্যবস্থার মত শক্তিমানের স্বার্থ সংরক্ষণকারী প্রহসনের নাট্যশালা নয়।</li>
<li>ন<strong>তুন রাজনৈতিক দীক্ষা;</strong> যা মানুষকে অসহিষ্ণু করে তুলে না, ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য পাওয়ার এক্সারসাইজ করার জন্য বলে না, বরং মানুষের অধিকার প্রদান করার দীক্ষা দেয়।</li>
<li><strong>প্রযুক্তিতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা অর্জন;</strong> প্রযুক্তিতে এমন সক্ষমতা অর্জন, যা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে মান বিধ্বংসী হবে না, বরং মানুষের সর্বোচ্চ উপকারে এসে মাসলাহাতের কাজ করবে।</li>
<li><strong>নতুন মুদ্রাব্যবস্থা;</strong> ডলারভিত্তিক শোষণযন্ত্র থেকে মানবতাকে মুক্তি দিতে নতুন মুদ্রাব্যবস্থা তথা ইসলামী দিনার।</li>
<li><strong>নতুন বিশ্বব্যাংক;</strong> বর্তমানে প্রচলিত কোন পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যাংক নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রীয় এক ব্যাংক।</li>
<li><strong>নতুন IMF;</strong> যা মানুষকে শোষণ নয়, বরং দুনিয়াতে একজন ও যাতে দরিদ্র না থাকে, সে লক্ষ্যে কাজ করবে।</li>
<li><strong>নতুন সাংস্কৃতিক সাহায্য সংস্থা;</strong> বর্তমান হলিউডের মতো নগ্নতা ও অশ্লীলতার প্রচারক নয়, বরং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণকর সংস্কৃতির বিকাশ ও পরিচর্যার জন্য জাতি সমূহের মাঝে সংস্কৃতি বিনিময় করবে।</li>
<li><strong>নতুন প্রচার ও প্রকাশনা সংস্থা;</strong> যেখান থেকে মানুষকে ম্যানিপুলেট করা হবে না, প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে জলঘোলা করা হবে না বরং সত্যটা জানানো হবে অকুণ্ঠচিত্তে।</li>
<li><strong>নারীদের প্রতি সব ধরণের জুলুম ও অত্যাচারের অবসান ঘটানো হবে।</strong> তাদের প্রকৃত অধিকার সংরক্ষণ করে মর্যাদা ও সম্মানের সর্বোচ্চ স্তরে আসীন করা হবে।</li>
</ul>
<p>নতুন এই দুনিয়া প্রতিষ্ঠার তিনটি ধাপ রয়েছে-</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১.</strong> ডি-৮ নিউক্লিয়াস প্রতিষ্ঠা।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>২.</strong> ডি-৮ পরবর্তীতে অগ্রসর ৬০ টি দেশ নিয়ে ডি-৬০ গঠন এবং সর্বশেষ সমগ্র পৃথিবীকে এক ছাতার নিচে আনতে ডি-১৬০ প্রতিষ্ঠা। এর সাথে যুক্ত হবে ১০টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান, যাদের হাতে সুপ্রিম পাওয়ার সোপর্দ করা থাকবে। এরা সবাই একত্রিত হলে ৫০০ কোটি বঞ্চিত জনতা সাম্রাজ্যবাদী বর্ণবাদীদের শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে হক ও আদালতের উপর ভিত্তি করে একটু নতুন দুনিয়ার পত্তন ঘটাবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৩.</strong> ২য় ইয়াল্টা কনফারেন্স আয়োজন করে নতুন এক দুনিয়ার ঘোষণা দেয়া হবে, যার মৌলিক শর্ত হবে, এমন এক শান্তিপূর্ণ দুনিয়া যা শোষিত জনতার অধিকার নিশ্চিত করবে হক ও আদালতের ভিত্তিতে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভিশন :</h5>
<p>উপরোল্লি­খিত এই রূহ ও জযবাকে ধারণ করেই প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান নতুন দুনিয়ার নিউক্লিয়াস হিসেবে ডি-৮ কে একটি বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, ডি-৮ এবং বর্তমান উন্নত বিশ্বের জি-৮ (বর্তমান জি-৭) সমান্তরাল সংগঠন। অচিরেই ডি-৮ এবং জি-৮ এক টেবিলে বসে চুক্তি করবে এবং ২য় ইয়াল্টা কনফারেন্সের মাধ্যমে এক নতুন দুনিয়ার প্রবর্তন করবে।</p>
<p>যেহেতু প্রফেসর ড. এরবাকান সবসময় বলতেন, <strong>“হকের উপর প্রতিষ্ঠিত (ইসলামী) সভ্যতা শক্তির (Power) উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা পাশ্চাত্য সভ্যতার চেয়ে মর্যাদা সম্পন্ন।”</strong> তাই তিনি ইসলামী সভ্যতা ও ইসলামী ঐক্যের রূহকে ধারণকারী সংগঠন ডি-৮ এর উদ্দেশ্য হিসেবে শুধু সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কল্যাণই নয়, বরং সমগ্র মানবতার উন্নয়ন ঘটানোকে নির্দেশ করেন।</p>
<p>১৯৯৭ সালে ইস্তাম্বুল সম্মেলনের ইশতেহার অনুসারে ডি-৮ এর উদ্দেশ্য হলো—</p>
<ul>
<li>&nbsp;বিশ্ব অর্থনীতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থানের উন্নতি ঘটানো,</li>
<li>আন্তঃবাণিজ্যিক সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনয়ন ও নতুন সুযোগ তৈরি করা,</li>
<li>আন্তর্জাতিক পরিসরে নীতি-নির্ধারণীর ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকে বুলন্দ করা, এবং</li>
<li>বসবাসের জন্য আদর্শ মানদণ্ড স্থাপন করা।</li>
</ul>
<p><em>ডি-৮ এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে তার প্রতিপাদ্যসমূহ হলো—</em></p>
<p><em>ক. সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাসমূহের কার্যকরী বিন্যাস সাধনের মাধ্যমে টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে যৌথ প্রচেষ্টাসমূহকে উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান।</em></p>
<p><em>খ. জনমানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা।</em></p>
<p><em>গ. সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগ, চেম্বার অফ কমার্স এবং ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মাঝে সহযোগিতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বেসরকারী বাণিজ্যিক খাতকে শক্তিশালী করা।</em></p>
<p><em>ঘ. উন্নয়নশীল দেশসমূহের অগ্রগতির বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে অন্যান্য দেশ, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক সংস্থাসমূহ এমনকি বেসরকারী সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা।</em></p>
<p><em>ঙ. বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা পালনে ডি-৮ এর সমন্বিত শক্তি ও সামর্থ্যকে কাজে লাগাতে একজোট হয়ে কাজ করা।</em></p>
<p>মূলকথা হচ্ছে, ডি-৮ এর মূলনীতিসমূহের আলোকে সদস্য দেশগুলোর মাঝে অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান ও আর্থ-সামাজিক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিসরে অগ্রগতি নিয়ে আসার মাঝেই এই সংগঠনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিহিত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>ডি-৮ এর বৈশ্বিক ভিশন (২০১২-২০৩০):</h5>
<p>১২ নভেম্বর ২০১২ সালে ইসলামাবাদে আয়োজিত ডি-৮ এর ৮ম সম্মেলনে দেড়যুগ মেয়াদী ডি-৮ বৈশ্বিক ভিশন গৃহীত হয়। সংক্ষেপে এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-</p>
<ul>
<li>সদস্য দেশগুলোর মাঝে নিবিড় সহযোগিতা ও কার্যকর সমন্বয় সাধন করা এবং পারস্পরিক লাভজনক বিষয়ে আন্তঃনির্ভরশীলতা তৈরি করা।</li>
<li>আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতি বজায় রাখতে অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সাথে লিয়াজোঁ রক্ষা করা।</li>
<li>সদস্য রাষ্ট্রসমূহের নিজ নিজ জাতীয় পরিসরে ডি-৮ এর সমর্থন বৃদ্ধি করা এবং এর আওয়াজ ও ভারত্বকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বলিষ্ঠ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা।</li>
<li>সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় পরিসরে সরকারী-বেসরকারী বিনিয়োগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষে পারস্পরিক সমন্বয় মূলক অংশীদারিত্ব বাড়ানো।</li>
<li>সুশাসন, আইনের প্রয়োগ, সাবলীল অর্থনৈতিক নীতিমালা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করা।</li>
<li>সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে উন্নত জীবন যাত্রার মান নিশ্চিতকরণে সম্মিলিত সংগ্রাম পরিচালনা করা।</li>
</ul>
<p>চলমান ও অনাগত বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবেলায় কৌশলগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সাধন করে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি সঙ্কট, কৃত্রিম অর্থনৈতিক ঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ লাভ করা ইত্যাদি।</p>
<p><strong>এখানে উল্লি­খিত দুই সম্মেলনের মূল কথাগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, নতুন এক দুনিয়ার প্রস্তাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বৈশ্বিক সংগঠন ডি-৮ তার নিজস্ব ধাঁচ ও পরিভাষা হারিয়ে পাশ্চাত্য সভ্যতার অনেক আইডিয়া গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। নতুন পন্থা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা তৈরির পর্যায় থেকে অন্যান্যদের তৈরিকৃত পন্থা ও পরিভাষাই Adopt করে নিতে দেখা যায়। এভাবে ডি-৮ প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরের মাথায়ই তার রূহ ও জযবাকে হারিয়ে ফেলতে থাকে। বিশেষত ২০১১ সালে এরবাকান হোজার ইন্তেকালের মাত্র এক বছরের মাথায় এমন রেডিক্যাল চেঞ্জ বিস্ময়কর এবং হতাশাজনকই বটে।</strong></p>
<p>ডি-৮ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকানের জীবনীগ্রন্থ &#8220;নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রস্তাবক ও মহান মুজাহিদ নাজমুদ্দিন এরবাকান&#8221; গ্রন্থে ডি-৮ ভুক্ত দেশসমূহ ও তাদের শক্তিমত্তা ও গুরুত্ব অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয় এভাবে-</p>
<blockquote><p>&#8220;D-8 গঠনের জন্য প্রথমে তিনি (প্রফেসর এরবাকান) স্ট্র্যাটেজিক পজিশনে ৮টি দেশের কথা চিন্তা করেন। সেই সাথে দেশের জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র বিশ্বরাজনীতিতে কত বেশি প্রভাবান্বিত করতে পারবে সেটাকে প্রাধান্য দেন। আর সামরিক শক্তি তো অপরিহার্য একটি বিষয়। D-8-কে তিনি একটি পাওয়ার হাউজে পরিণত করতে চেয়েছিলেন যেন সংগঠনভুক্ত দেশসমূহের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে মুসলিমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং একই সাথে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মুসলিমরা এমন এক শক্তি হয়ে ওঠবে যাতে করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে জুলুমের শিকার মুসলিমদের উপর সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য শক্তি কখনো চোখ তুলে তাকাতে সাহস না করে।&#8221;</p></blockquote>
<p>যে কয়টি দেশ নিয়ে D-8 গঠিত হয়েছিল—</p>
<p>১. তুরস্ক,<br />
২. ইরান,<br />
৩. মিশর,<br />
৪. মালয়েশিয়া,<br />
৫. ইন্দোনেশিয়া,<br />
৬. নাইজেরিয়া,<br />
৭. বাংলাদেশ এবং<br />
৮. পাকিস্তান।</p>
<p><strong>দেশগুলোকে কেন নির্বাচন করা হয়েছে:</strong> ভৌগোলিক দিক দিয়ে এই ৮ দেশের অবস্থান বিবেচনা করলে D-8 এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব কতটুকু তা বুঝা কষ্টসাধ্য ব্যপার নয়। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক রুটগুলোর উপর একটু চোখ বুলিয়ে আসি।<br />
<strong>তুরস্ক:</strong>&nbsp;তুরস্ক দেশটি সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশ হিসেবে তুরস্ক সর্বদা সবার সামনেই অবস্থান করছিল। বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে তুরস্ক। ইউরোপ এবং এশিয়ার সংযোগস্থল। চানাক্কালের এবং বসফরাস প্রণালীর মতো দুটো কৌশলগত প্রণালী এই দেশটির অধীনে। ইউরোপের গলার কাঁটা হিসেবে বিবেচিত এই একই সাথে কৃষ্ণ সাগরে অবস্থিত ক্রেচ প্রণালী তুরস্কের এই দুই প্রণালী ছাড়া অচল। অর্থাৎ তুরস্কের যদি চায় তাহলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩টি প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ রাশিয়াকে এ পথেই বাণিজ্য করতে হয়।</p>
<p><strong>মিশর:</strong> ইতিহাস-ঐতিহ্য, নীল নদের অববাহিকায় গঠিত শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ মিশর হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার অন্যতম একটি দেশ। আরব বিশ্বের সাথে যথাযথ সম্পর্ক রক্ষাকারী এবং এক সময়ে পৃথিবীর ৭০% অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী সুয়েজ ক্যানেল এর অধিকারী হচ্ছে মিশর। ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরের সংযোগস্থল হচ্ছে সুয়েজ ক্যানেল। হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে মিশরের গভর্নর এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে হযরত ওমরের কাছে দুই সাগরকে সংযুক্ত করার জন্য একটি ক্যানেল নির্মাণের পরামর্শ চেয়েছিলেন। হাল্কা শুরু হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি। উসমানী আমলে সুয়েজ ক্যানেলটি নির্মাণ করা হয়। <strong>এরপর থেকে প্রায় ২৫০ বছরের অধিক সময় থেকে এই প্রণালী বিশ্বের অর্থনীতির বৃহৎ একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সুয়েজ ক্যানেল ছাড়া লোহিত সাগরের বাব-আল মান্দেব এক প্রকার অর্থহীন। ইউরোপ থেকে এশিয়ার বাণিজ্য জাহাজের রুট একমাত্র এটিই।</strong></p>
<p><strong>ইরান:</strong> মুসলিম বিশ্বের অন্যতম আরেকটি শক্তিশালী দেশ। আমেরিকার হাজারো অবরোধ সত্ত্বেও নিজ দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় নির্মাণ করে পুরো বিশ্বের কাছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী একটি রাষ্ট্রের প্রতিবিম্ব হয়ে আছে বিশ্বরাজনীতিতে। মুসলিম বিশ্বের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং ভৌগোলিকভাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। বিখ্যাত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখনো ইরানের হাতে। ভৌগোলিকভাবে তুরস্কের সমান গুরুত্ব ইরানের। দেশটির উত্তরে কাস্পিয়ান সাগর, দক্ষিণে পারস্য উপসাগর। পশ্চিমে ইরাক, তুরস্ক, আরমেনিয়া, আজারবাইজানের সাথে সীমান্ত রয়েছে দেশটির, অপরদিকে পূর্বে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তিশালী দেশ পাকিস্তান ও খনিজ সম্পদের অধিকারী আফগানিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের সাথে সীমানা ভাগ করে নিয়েছে ইরান। একই সাথে পারস্য সাগর পাড়ি দিলেই সৌদি, কুয়েত, কাতার, ওমান। <em>অর্থাৎ ভৌগোলিকভাবে পুরো মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র বলা যায় ইরানকে।</em></p>
<p><strong>মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া:</strong> বর্তমান মুসলিম বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে যদি কয়েকটি দেশকে বিবেচনা করা হয় তাহলে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া সবার উপরে স্থান পাবে। এই দু’দেশ নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে তেমন আলোচনা না হলেও দেশ দুটির গুরুত্ব বুঝতে শুধুমাত্র মালাক্কা প্রণালীকে বিবেচনা করলেই হবে। এই প্রণালীর একপাশে মালয়েশিয়া অপরপাশে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ। মালাক্কা প্রণালী হচ্ছে এই দুই দেশের অধীনে। পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপান, চীন, ও কোরিয়া উপদ্বীপের সকল বাণিজ্য এ প্রণালী দিয়েই করতে হয়। এছাড়া ভারত মহাসাগরে প্রবেশের অন্য কোনো পথ নেই।<br />
একবার ভাবুন, উপরোক্ত প্রত্যেকটি দেশ যদি শক্তিশালী হয় এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য পথে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে তাহলে এর ফলাফল হচ্ছে পুরো দুনিয়ার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া, এতটাই শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে উল্লি­খিত প্রণালীগুলো বিশ্ব অর্থনীতিতে।</p>
<p><strong>নাইজেরিয়া:</strong> আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ একমাত্র দেশ হচ্ছে নাইজেরিয়া, একই সাথে প্রশান্ত মহাসাগরের বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আফ্রিকার এই দেশটি। সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ এই দেশটি উমাইয়া আমল থেকেই মুসলিম অধ্যুষিত। ফরেন ডিপ্লোমেসি তথা বৈদেশিক ক্ষেত্রে কী কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তার উপর সর্বপ্রথম বই রচনা করে নাইজেরিয়া। আফ্রিকায় মুসলিমদের শক্ত অবস্থানের পেছনে নাইজেরিয়ার অবদান সেই ১৩ শতাব্দী থেকেই। ঐতিহাসিকভাবেই আফ্রিকার সব দেশের সাথেই নাইজেরিয়ার সুসম্পর্ক বিদ্যমান। তাই আফ্রিকার দেশ হিসেবে সংগঠনে নাইজেরিয়ার স্থান সবার প্রথমে হওয়াটা অতি স্বাভাবিক।</p>
<p><strong>বাংলাদেশ:</strong> বাংলাদেশের উর্বর কৃষি জমিতে সাতশত বছরের উন্নত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কার না জানা? দেশটিতে নিকৃষ্টতম বৃটিশ শোষণের কয়েক বছর পূর্বের জিডিপি পরিসংখ্যানও যদি বিবেচনা করি- ২৩% নিয়ন্ত্রণ শুধু এ বাংলা অঞ্চলের-ই ছিল। যেখানে বর্তমান দুনিয়ার কথিত সুপার পাওয়ার সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার ১৮%।</p>
<p><strong>পাকিস্তান:</strong> দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের কথা আলোচনার অপেক্ষা রাখে না। ভারী শিল্পায়নের দারুণ সক্ষমতা, উন্নত কৃষি সম্ভাবনা, সমৃদ্ধ সামরিক শক্তি, কী নেই দেশটির!</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>D-8 এর গুরুত্ব :</h5>
<p><strong>তেল:</strong> পৃথিবীর ১৫% তেল রিজার্ভ আছে এই ৮টি দেশে এবং এই ৮টি দেশ থেকে বাৎসরিক পৃথিবীর ১০% তেল উত্তোলন করা হয়। আবার এই ৮টি দেশকর্তৃক পৃথিবীর ৬.৭% তেল ব্যবহৃত হয়।</p>
<p><strong>গ্যাস:</strong> বিশ্বের ২৩.২% প্রাকৃতিক গ্যাসের রিজার্ভ আছে D-8 এর দেশসমূহে। সেই সাথে D-8 থেকে বছরে বিশ্বের ১৩.২% গ্যাস উত্তোলন করা হয়। আর D-8 এর দেশসমূহ প্রতিবছর বিশ্বের ১১.২% গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।</p>
<p>এছাড়াও ব<strong>র্তমান বিশ্বের স্ট্র্যাটেজিক পদার্থ বোরন ও ক্রোমিয়াম ব্যাপক পরিমাণে মজুদ রয়েছে D-8 এর ভেতরে। বিশ্বের তুলা রপ্তানিতে D-8 এর দেশসমূহের বৃহৎ একটি ভূমিকা এখনো বিদ্যমান। স্ট্র্যাটেজিক পজিশন ছাড়াও D-8 এর অধীনে পৃথিবীর মধ্যভাগের সর্বোচ্চ এলাকা, সাথে রয়েছে ৮টি দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী।</strong></p>
<p>মুসলিম বিশ্বের কথা চিন্তা করলে, মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ৬০% জিডিপি হচ্ছে D-8 এর, একই সাথে OIC অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের ৬৫% জনশক্তি D-8 এর দেশসমূহ থেকেই। মুসলিম বিশ্বের বৈদেশিক বাণিজ্যের দিক থেকে D-8, ১০০ ভাগের মধ্যে ৫৮ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করছে।</p>
<p><em>D-8 এর অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহের সম্মিলিত জিডিপি ৪.৯ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থাৎ এটি বিশ্ব অর্থনীতির ৫%। অথচ নিজেদের তুলনায় তা কিছুই না। বিশ্ববাণিজ্যের ১৬.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অংশীদার হচ্ছে এই দেশসমূহ। যদি এখনো নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন করে এবং এসব প্রণালীতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয় তাহলে পৃথিবীর ৭০% বাণিজ্য মুসলিমরা নিয়ন্ত্রণ করবে। তার জন্য সব দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে লড়তে হবে ।</em></p>
<p><strong>জনসংখ্যা:</strong> D-8 এর অন্তর্ভুক্ত ৮টি দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১.১ বিলিয়ন অর্থাৎ তা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১৬%। বর্তমানে ডি-৮ এর দেশসমূহের নিজেদের মধ্যে ব্যবসার পরিমাণ ১২০ বিলিয়নে উন্নীত করা না হলে মুসলিম বিশ্ব মাথা তুলে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না।</p>
<p>জনসংখ্যা একটি শক্তি। এই জনশক্তিকে ঈমানের বলে বলীয়ান করে কাজে লাগাতে পারলে মুসলিম বিশ্বে এমন এক দুর্বার শক্তির সৃষ্টি হবে যাকে মোকাবেলা করার সামর্থ্য পৃথিবীর কোনো শক্তির থাকবে না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>কর্মপদ্ধতি, ধরণ, কাজের ক্ষেত্র</h5>
<h6><strong>ডি-৮ এর কাঠামো :</strong></h6>
<p>ডি-৮ এর মূল পর্যায়গুলো হচ্ছে—</p>
<p><strong>১. রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানদের সম্মেলন:</strong> সংস্থাটির সর্বোচ্চ পরিষদ, যেখানে ডি-৮ এর প্রতিপাদ্যগুলো বাস্তবায়নের স্বার্থ সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সভার বৈঠক চক্রাকারে ২ অথবা ৩ বছর অন্তর কোন সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হয়।</p>
<p><strong>২. মন্ত্রী পরিষদ:</strong> এখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ যুক্ত থাকেন এখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। এরা বছরে অন্তত একবার অধিবেশনে বসে এবং প্রতি শীর্ষ সম্মেলনের পূর্বে একবার অবশ্যই আলোচনায় বসে।</p>
<p><strong>৩. কমিশন:</strong> এটা হচ্ছে নির্বাহী বিভাগ। যেখানে প্রতিটি সদস্য দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তৃক নিয়োগকৃত দূতগণ যুক্ত থাকেন। এরা মূলত মন্ত্রীপরিষদের অধীনে কাজ করেন। প্রতি কমিশনার তার নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হন। এরা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্ট্যান্ডিং কমিটি বা এড-হক গ্রুপ তৈরি করেন এবং তার তদারকি করেন। এরা বছরে অন্তত দুইবার বৈঠকে বসেন; একবার মন্ত্রীপরিষদ অধিবেশনের তাৎক্ষণিক পূর্বে।</p>
<p><strong>৪. সচিবালয়:</strong> ডি-৮ এর সচিবালয় ইস্তাম্বুলে অবস্থিত। এটা সব ধরণে কার্যক্রম এবং মিটিং এর আয়োজন ও তত্ত্বাবধান করে। এর প্রধান হন সেক্রেটারী জেনারেল যিনি মূলত ডি-৮ এর “Chief Administrative Officer”। তিনি একবারের জন্যই ৪ বছর মেয়াদের নির্বাচিত হন। তিনি ডি-৮ এর মাঝে সমন্বয় ও সমতা রক্ষা করেন এবং মূল সংস্থাগুলোর সকল অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডি-৮ এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন।</p>
<p>এছাড়াও ডি-৮ এর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যেকোন দেশের মাঝে উদ্ভূত বিরোধ ও উত্তেজনা নিরসন, অর্থনৈতিক বাজেট প্রণয়ন, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সহ অন্যান্য আরো বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে।</p>
<p>ডি-৮ মূলত একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে ডি-৮, ৬টি সেক্টরে অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে।</p>
<p>১. বাণিজ্য<br />
২. শিল্প<br />
৩. কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা<br />
৪. পরিবহন ও যোগাযোগ<br />
৫. পর্যটন<br />
৬. জ্বালানী</p>
<p>&nbsp;</p>
<h6>বর্তমান অবস্থা</h6>
<p>সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পরপরই পরিকল্পনা ছিল ডি-৮ এর মধ্যকার দেশসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, পরবর্তীতে একটি অভিন্ন মুদ্রা তৈরি করা। এরপর বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহ নিয়ে ডি-৬০ তৈরি করা। সকল দেশ এখানে চুক্তি অনুযায়ী কাজ করবে। এক দেশ আরেক দেশের সাথে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হলে এবং এক মুসলিম দেশ অপর মুসলিম দেশের উপর নির্ভরশীল হলে এখানে কেউ নিজেকে আরেকজনের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে না এবং ইউরোপ ও পাশ্চাত্যকে গণনাতেই ধরবে না মুসলিম বিশ্ব।</p>
<p>D-8 প্রতিষ্ঠার পরপরই ৮টি দেশ নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে।</p>
<p>প্রথম পদক্ষেপ ছিল, ১৯৯৭ তে তুরস্কে উৎপন্ন হেলিকপ্টার পাকিস্তানে বিক্রি করা। ৮টি দেশের মধ্যে ৬টি দেশ ভিসা চুক্তি স্বাক্ষর করে। যেখান থেকে বাদ রয়ে যায় বাংলাদেশ ও মিশর।</p>
<p>পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয় ডি-৮ এর অধীনে। টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, লোহা, স্টীল, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে খুব দ্রুতই। সেই সাথে Shipping and Maritime Service-এর ক্ষেত্রে সকল দেশ চুক্তিবদ্ধ হয়।</p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সংগঠনটি সকল দেশসমূহের মধ্যকার ব্যবসার পরিমাণ সম্মিলিতভাবে মাত্র ১২০ বিলিয়ন ডলার। নিস্তেজ হয়ে পড়া এই সংগঠনটি টিকে আছে মূলত এই ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের কারণেই।</p>
<p>সাম্প্রতিক সময়ে ডি-৮ এর কর্মকাণ্ডের একটি চিত্রায়ণ ফুটে ওঠে মালয়েশিয়ান এক বিখ্যাত উপস্থাপকের টকশোতে দেয়া সংস্থাটির সাবেক সেক্রেটারী মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত কূটনৈতিক ও অর্থনীতিবিদ ‘দাতো কু জাফর কু শারী’ এর এক ইন্টারভিউতে।</p>
<p>উপস্থাপকের নানাবিধ প্রশ্নের জবাবে তিনি ডি-৮ কে নিয়ে যা বলেন, তার সার সংক্ষেপ নিম্নরূপ—</p>
<p>ডি-৮ শুরুতে বেশ জোরেশোরে কাজ শুরু করলেও বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল ঘটনা প্রবাহের মধ্যে সেরকম আলো ছড়াতে পারেনি। উপরন্তু সংযুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতামূলক মনোভাব বার বার ব্যহত হয়েছে নানাবিধ কারণেই। তারা সেখানে এক ধরণে ইতিবাচক মনোভাব আনয়নের প্রয়াস চালিয়েছেন।</p>
<p>বর্তমান জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকের মর্যাদায় আসীন এ সংস্থাটি নানা কারণেই এখনো গণপরিসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারেনি। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিগুলোর সাথে চুক্তি করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়াস চলমান।</p>
<p>ডি-৮ শুরু থেকেই ইন্টেলেকচুয়ালিটির দিকে নজর দিয়ে এসেছে এবং পূর্বোল্লি­খিত পাকিস্তানে রিসার্চ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইবনে সিনার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত ইরানের হামদানে ডি-৮ এর নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলির উপরে মাস্টার্স ও পি এইচ ডি পর্যায়ে প্রতি সদস্য রাষ্ট্র থেকে ৫ জন করে প্রতি বছর স্কলারশিপ প্রদান করা হচ্ছে।</p>
<p><strong>আপাতদৃষ্টিতে একাধিক সদস্য রাষ্ট্রের মাঝে উত্তেজনা বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও ডি-৮ এর কল্যাণে আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলমান। কারণ ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা হওয়ায় রাজনৈতিক মতভেদকে এক পাশে রেখে ‘One for All : All for One’ পলিসি অনুসারে কাজ করে যাচ্ছে। যেমন মিশর-তুরস্ক রাজনৈতিকভাবে দ্বান্দ্বিক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও এক তার্কিশ ডেভলপার কোম্পানি মিশরে ৫টি ইকোনমিক জোন তৈরি করে দেয়।</strong></p>
<p>পাশাপাশি বৃহৎপরিসরে সহযোগিতা ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ইতোমধ্যে ডি-৮ এর জন্য বিশেষায়িত তিনটি বিমান বন্দর রয়েছে—</p>
<p>১. সাবিহা গোজেন বিমানবন্দর, তুরস্ক,<br />
২. জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাকিস্তান,<br />
৩. নাওয়াকিন্দি বিমানবন্দর, নাইজেরিয়া।</p>
<p>সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।</p>
<h6><strong>স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার—</strong></h6>
<p>নিজেদের মাঝে নিজস্ব মুদ্রার বিনিময়ের প্রস্তাবনা শুরু থেকে থাকলেও ডি-৮ এই প্রকল্পে এখন ও সফল হয়নি। তবে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর সাথে চুক্তি করে আঞ্চলিক মুদ্রা বিনিময় করতে D-Card এর প্রচলন খুব দ্রুতই করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেখান থেকে ছাত্র, প্রবাসী শ্রমিক, প্রাইভেট ব্যাংকিং খাত ব্যাপক উপকৃত হতে পারবে। কেননা এখানে মুদ্রার মূল্যমান হিসেবে স্বর্ণের মজুদ সংরক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।</p>
<p>প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ডি-৮ চেম্বার অফ কমার্স প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব নিয়ে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। তবে অতি সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠানটি “যারা ডি-৮ এর চেয়ারম্যান থাকবে, তারাই চেম্বার অফ কমার্সের দায়িত্বে থাকবে” মূলনীতি অনুসারে খুব সহজেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এর সদর দপ্তরের নাম হয়, D-8 Chamber of Commerce &amp; Industries, Kualalampur.</p>
<p>যার অধীনে ‘Creative Economy and Finance Center for D-8’ নামে চমৎকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে হালাল অর্থনীতি এবং ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এছাড়াও ইসলামী সভ্যতার অনন্য সব মীরাস যেমন জাকাত, ওয়াকফ, হিবা ও সাদাকাকে বর্তমান বিশ্বে গ্লোবাল ইকোনোমিতে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।</p>
<p>সদস্যদেশগুলোর বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী, বিনিয়োগকারী, উৎপাদক সহ বিভিন্ন পর্যায়ে এসকল প্রকল্পের বিস্তৃতি রয়েছে। ডিজিটাল কারেন্সি, ব্লকচেইন ইত্যাদির সাথে ইসলামী অর্থব্যবস্থাকে সংগতিপূর্ণ করতে চালু করা হয়েছে Muslim Youngster Entrepreneurship. পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে Robotic Association.</p>
<p>মসজিদসমূহকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণ এবং দাতব্য ব্যবস্থা পুনপ্রতিষ্ঠায় চালু করা হয়েছে— Waqf Foundation, Malaysia.</p>
<p>সমাজে মহত্তম এই ব্যবস্থাকে পুনরায় প্রচলন করতে শরিয়ার আলোকে জারী করা হচ্ছে নতুন ফতোয়া।</p>
<h6><strong>পর্যালোচনা-</strong></h6>
<p>অসীম সম্ভাবনা ও শক্তির আধার, মুসলিম উম্মাহর মুক্তির মনজিল ডি-৮ বর্তমানে স্থবির একটি সংগঠনে পরিণত হয়েছে এবং সময়ের পরিক্রমায় একটি বিশ্বজনীন বিকল্প জাতিসংঘ হওয়ার পথ থেকে সরে এসে প্রচলিত আঞ্চলিক সংস্থা সমূহের মত আচরণ শুরু করেছে। এ অবস্থার পেছনে বিশ্লে­ষকগণ দায়ী করেন সদস্য রাষ্ট্রসমূহ অন্য জোটে যুক্ত থাকায় সে সকল স্বার্থের বেড়াজালে পড়ে ডি-৮ কে আগ্রহভরে গ্রহণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। একে শক্তির উৎস নয়; বরং বোঝা হিসেবেই বয়ে বেড়াচ্ছেন। এখানে একটি উদাহরণই যথেষ্ট—</p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ডি-৮ এর প্রস্তাবক হওয়া সত্ত্বেও ২০০২ সালের পর থেকে উ-৮ এর তুলনায় ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে বেশি ধাবিত হয়েছে তুরস্ক সরকার। অথচ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ডি-৮ এর দিকে জোর দিলে হয়তো আজ ইউরোপ ও এশিয়াতে বিশ্বরাজনীতির নতুন চেহারা দেখতে পেত বিশ্ববাসী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5>বাংলাদেশ ও ডি-৮</h5>
<p>ডি-৮ এর অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্প্রতি টানা ২য় বারের মত সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সুতরাং ডি-৮ এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতীতে বাংলাদেশ ও ডি-৮ সংক্রান্ত তেমন আশাব্যঞ্জক ইতিহাস না পাওয়া গেলেও সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১০ম ভার্চুয়াল ডি-৮ সম্মেলন, মন্ত্রীপরিষদ বৈঠক ও চেম্বার অফ কমার্সের মিটিং এ কর্তাব্যক্তিদের আলোচনা আশার সঞ্চার করেছে।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডি-৮ সম্মেলনে তার সভাপতির ভাষণে বলেন, “একা হয়ত আমরা কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার সামর্থ রাখি, কিন্তু এক সাথে পথচলা আমাদের বহু দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।” ডি-৮ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ১০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিনি তিনটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন— <strong>১. বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণকে দ্বিগুণ করা, ২. খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং ৩. পৃথিবীর অন্যতম নেতৃত্ব দানকারী টেক জায়ান্টে পরিণত হওয়া।</strong></p>
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক, ড. ইমতিয়াজ আহমেদ আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ডি-৮ কে চলমান বৈশ্বিক মন্দা মোকাবেলায় সর্বোত্তম বিকল্প উল্লেখ করে বলেন, &#8220;ডি-৮ ভুক্ত দেশে ১.১ বিলিয়ন মানুষের একটি বিশাল মার্কেট রয়েছে। সদস্য দেশগুলো যদি এই মার্কেট ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় এবং অন্যান্য পারস্পরিক সহযোগিতা মাত্রা বৃদ্ধি করে তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানী ও খাদ্য সঙ্কট থেকে অনায়াসেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব হবে।”</p>
<p>গত জুলাই মাসে ডি-৮ চেম্বার অফ কমার্সের বর্তমান বাংলাদেশি সভাপতি ফজলে ফাহিম তার তার বক্তব্যে ডি-৮ এর দেশগুলোর মাঝে আন্তঃমুদ্রা বিনিময় এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একইভাবে বাংলাদেশের সরকারী নীতি নির্ধারক মহল, যেমন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, বাণিজ্য মন্ত্রী, বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয় উপদেষ্টা বিভিন্ন বক্তব্যে ডি-৮ ভুক্ত দেশের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই চালু হতে যাওয়া ১০০ টি ইকোনমিক জোন এবং ২০ টি হাইটেক পার্কে বাড়তি সুযোগ ও অগ্রাধিকার এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন এবং পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির অকৃত্রিম সহযোগী হতে আহ্বান জানান।</p>
<p>পারস্পরিক উন্নয়ন অগ্রগতি ও কোলাবোরেশনকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে এবারে মন্ত্রী পর্যায়ের ডি-৮ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এক বারের জায়গায় প্রয়োজনে বছরে একাধিকবার অধিবেশন আহ্বানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।</p>
<p>সার্বিকভাবে বুঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশের নীতি নির্ধারক মহল ডি-৮ এর শক্তিমত্তাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং সভাপতি রাষ্ট্র হিসেবে এই সংগঠনের মধ্য দিয়ে নিজেদের উন্নতি ও উৎকর্ষের হিসাব মিলাতে শুরু করেছে। যদি সত্যিকারার্থেই বাংলাদেশ সহ অন্যান্য রাষ্ট্র মুসলিম বিশ্বের অপার সম্ভাবনাময় এ সংগঠনে পূর্ণ শক্তি বিনিয়োগ করে তবে খুব দ্রুতই এ সংগঠন প্রতিষ্ঠাকালীন প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার পথে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হবে।</p>
<p>ডি-৮, অতীত ও বর্তমান বিশ্লেষণের পাঠ চুকিয়ে আমরা যখন ২৫ বছর বয়সী নতুন দুনিয়ার এ প্রস্তাবনার দিকে তাকাই, তখন দেখতে পাই সংগ্রামী পূর্বপুরুষের তরফ থেকে অসামান্য এক হাতিয়ার আমাদের সামনে গড়াগড়ি খাচ্ছে, অথচ আমরা তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করছি না। সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছি না; বরং প্রতিটি দেশই আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিসরে জুলুমতান্ত্রিক বিশ্ব শক্তিগুলোর অপরাজনীতির পাল্লায় পড়ে হিমশিম খাচ্ছি। এর কারণ কী?</p>
<p><em>এর কারণ হচ্ছে উম্মাহ চেতনাকে হারিয়ে ফেলা। যে উম্মাহ চেতনার বলে বলীয়ান হতে পারলে আজ আমরা সমগ্র মানবতার সামনে রহমতের ছায়া হয়ে উঠতে পারতাম। গোটা দুনিয়া থেকে সন্ত্রাস, বাড়াবাড়ি, যুদ্ধ, হানাহানি, জুলুম-সংঘাতকে প্রতিহত করে একটি বসবাসযোগ্য দুনিয়ার সু-সংবাদ দিতে পারতাম। ঠিক যে মুহূর্তে দুনিয়া বাইপোলার থেকে ইউনিপোলার হলো, তখন ও আমরা কিছু করতে পারিনি। বর্তমানে যখন ইউনিপোলার থেকে মাল্টিপোলার হচ্ছে, মুসলিম হিসেবে আমরা ইতিহাসের এ সন্ধিক্ষণে কোন ভূমিকাই রাখতে পারলাম না। আজ যখন বিশ্বমানবতা আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য সামরিক জোট থেকে উদীয়মান পরাশক্তি চীন কিংবা তাকেও অতিক্রম করে BRICS এর মতো নবপ্রতিষ্ঠিত সংস্থার দিকে নজর ফিরাচ্ছে। ঠিক সে মূহুর্তে ডি-৮ এর মতো বিশ্ব পরিবর্তনের সক্ষমতা ও ভিশন সম্পন্ন এক বিশ্বজনীন প্রতিষ্ঠান কালের গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ।</em></p>
<p><strong>এখান থেকে মুক্ত হতে হলে যুব পরিসরে ডি-৮ ও ইসলামী ঐক্যের চিন্তার বীজ বুননের কোন বিকল্প নেই। সমসাময়িক দুনিয়া, চলমান দুনিয়ার নিকট অতীতের ইতিহাস, ইসলামী সভ্যতার উত্তরাধিকার ও সামগ্রিক শান্তির বয়ানকে অনাগত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণ ও ঐক্য এবং বিশ্বমানবতার চূড়ান্ত মুক্তির ভাবনাকে প্রত্যেকের জ্ঞান ও চেতনার মনিকোঠায় পৌঁছে দেয়ার কোন বিকল্প নেই।</strong></p>
<blockquote><p>বসবাস যোগ্য এক নতুন দুনিয়ার প্রস্তাবক, বিশ্ব মানবতার মুক্তি আন্দোলনের রাহবার প্রফেসর ড. নাজমুদ্দির এরবাকান তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে ডি-৮ নামক স্বপ্নের যে মনজিল আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন, তাকে তিনি নিজ ভাষায় চিত্রায়ণ করেছেন এভাবে— “ডি-৮ হচ্ছে বিংশ শতাব্দীর তরফ থেকে একবিংশ শতাব্দীর প্রতি দেওয়া সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার।”</p></blockquote>
<p><strong>আজ আমরা সবাই পাশ্চাত্য জায়নবাদী সভ্যতার সাড়ে তিনশো বছরে রক্তাক্ত ইতিহাস, বিগত শতাব্দীর বারুদ মেশা ইতিহাসের গন্ধ, পারমাণবিক হুমকিতে দুনিয়াকে সদা তটস্থ করে অবশেষে বায়োলজিক্যাল ওয়ারের মাধ্যমে সমগ্র মানবতার উপরে পতনোন্মুখ মরণ কামড়, বিশ্বব্যাপী পাওয়ার ট্রানজিশন, ফেরাউনী শক্তিগুলোর মধ্যে ঘন ঘন পরিবর্তনশীল দৃশ্যপট দেখে খুব সহজেই উপলব্ধি করতে পারছি, আজ নতুন একটি যুগের এবং নতুন একটি বিজয়ের প্রয়োজন। যা সমগ্র মানবতা আজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। নতুন একটি শান্তিময় দুনিয়া গঠন করার জন্য আমাদের এই মুসলিম উম্মাহ পুনরায় নেতৃত্ব দিবে। সম্মানিত একটি জাতির এবং সম্মানিত একটি ইতিহাসের উত্তরাধিকারীগণ এই বিজয়ের পতাকাবাহী হিসাবে কাজ করবে।</strong></p>
<p>সুতরাং আমাদের অবশ্যই সর্বাগ্রে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে যে, ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবেই হবে। গৌরবোজ্জ্বল উম্মাহর সোনালী ইতিহাস ও মুক্তির ভাবনাকে বুলন্দ করে উম্মাহর প্রতিটি সদস্যকে পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া অসামান্য মীরাস, ডি-৮ ও নতুন দুনিয়ার প্রস্তাবনাকে সামনে রেখে সর্বাত্মকভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ডি-৮ কে তার প্রতিষ্ঠাকালীন রূহ ও জযবার সাথে মিলিয়ে পাঠ করতে হবে। মুক্তির স্বপ্ন জ্বেলে যাওয়া এ সংস্থাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে নিকট ভবিষ্যতে মুক্তি ও জাগরণের বন্দর হিসেবে। মানুষকে করতে হবে দৃঢ় প্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী। তবেই ডি-৮ তার মূল লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ।</p>
<p>আমাদের জাতির সর্বাঙ্গীণ উৎকর্ষ ও কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে মুক্তি ও পুনর্জাগরণে চিন্তাকে সর্বাঙ্গণে ব্যাপৃত করতে হবে। বিপুল জনশক্তি, সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সুবিধাকে একক পরাশক্তিতে পরিণত করে যুলুমবাজ পাশ্চাত্য যায়নবাদী সভ্যতার মূলোৎপাটন করে ডি-৮ আগামীর জন্য মুক্তিদ্বার হিসেবে বিবেচিত হবে, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p><strong>আমাদের চিন্তায় জাগরূক থাক মুক্তির আহ্বান,</strong><br />
<strong>আমাদের ভাবনায় জেগে থাক পুনর্জাগরণের আওয়াজ,</strong><br />
<strong>আমাদের সমগ্র জীবন ব্যয় হয়ে যাক একটি নতুন দুনিয়া প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে।</strong><br />
<strong>কায়েম হোক ‘হক ও আদালত’কে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া এক বিশ্বব্যবস্থার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে স্বপ্ন আমরা জারী রেখেছি।</strong></p>
<div id="gtx-trans" style="position: absolute; left: -57px; top: 12369.7px;">
<div class="gtx-trans-icon">&nbsp;</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/d-8-for-the-revival-of-the-muslim-ummah/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16151</post-id>	</item>
		<item>
		<title>স্বাধীনতার আড়ালে থেকে যাওয়া কথা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/words-that-remained-behind-the-freedom/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/words-that-remained-behind-the-freedom/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[এবনে গোলাম সামাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 27 Jun 2025 08:31:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15875</guid>

					<description><![CDATA[আমার বয়স অনেক হলো। আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন অনেক কথাই আমার মনে পড়ে। আমি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না হলেও রাজনীতি সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল কেবলমাত্র বাংলাভাষী মুসলমানের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়। এর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আমার বয়স অনেক হলো। আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন অনেক কথাই আমার মনে পড়ে। আমি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না হলেও রাজনীতি সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল কেবলমাত্র বাংলাভাষী মুসলমানের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সাবেক পাকিস্তানের আমজনতার আর্থসামাজিক উন্নয়ন। কেবলমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কল্যাণ সাধন নয়। শেখ মুজিব তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজোরিটি পার্টির নেতা।’ এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, শেখ মুজিব নিজেকে সাবেক পাকিস্তানের নেতা হিসেবে মনে করতেন। কেবলই পূর্ব পাকিস্তানের নেতা হিসেবে মনে করতেন না। তিনি নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন সাবেক নিখিল পাকিস্তানকে; কেবলমাত্র বাংলাদেশকে নয়।</p>
<p>অনেকে বলছেন, শেখ মুজিব হলেন, আজকের বাংলাদেশের জনক। কিন্তু তিনি নিজে এ ধরনের কোনো মনোভাব পোষণ করেননি। তিনি চেয়েছেন সাবেক সমগ্র পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দিতে। শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণের অনেক রকম বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের একটি শুদ্ধ নমুনা পাওয়া যাবে ‘স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা’ নামক পুস্তিকায়। বইটি সম্পাদনা করেন, ফজলুল হক বাঙ্গালী, মেসবাহউদ্দিন ও নজরুল ইসলাম। (প্রকাশনা ও প্রচার সংস্থা, মুজিবনগর, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত (১৯৭১)।)</p>
<p>এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রদত্ত Legal Framework Order (1970) মেনে। যাতে বলা হয়েছিল পাকিস্তান হবে একটা প্রজাতন্ত্র ও ফেডারেশন। এর রাষ্ট্রিক মতাদর্শ (Ideology) হতে হবে ইসলাম এবং এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মুসলমান ছাড়া অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী হতে পারবেন না। এই মূলনীতিসমূহের সঙ্গে কোন অসঙ্গতিপূর্ণ সংবিধান রচিত হলে প্রেসিডেন্ট (ইয়াহিয়া) পারবেন তা বাতিল করে দিতে।</p>
<p>১৯৭১-এর পর পরিস্থিতি নানা দিক থেকেই ভিন্ন হয়ে পড়েছে। ১৯৯৮ সালে ১১ মে ভারত রাজস্থানের মরুভূমিতে ভূগর্ভে তার নিজের তৈরি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। কিন্তু পাকিস্তানও এ ক্ষেত্রে ভারতের চাইতে পিছিয়ে নেই। <strong>১৯৯৮ সালের ২৮ মে বেলুচিস্তানের মরুভূমির ভূগর্ভে পাকিস্তান ঘটায় তার তৈরি পাঁচটি পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ। এরপর ঐ একই সালে আরো শক্তিশালী পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় পাকিস্তান। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় হইচই। কারণ, পাকিস্তান একটি ধনী রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তান বানাতে পেরেছে অতি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু বোমা।</strong></p>
<p>গুজব রটে পাকিস্তান খুব সস্তায় পরমাণু বোমা তৈরির কৌশল আবিষ্কার করতে পেরেছে। ভারত যা পারেনি। পাকিস্তান যদি সস্তায় পারমাণবিক বোমা তৈরি করে অন্য দেশে বিক্রি করে, তবে তার পরিণতি দাঁড়াতে পারে ভয়াবহ। কিন্তু পাকিস্তান এভাবে বোমা তৈরি করে বিদেশের কাছে বিক্রি করেনি। রেখেছে কেবল নিজের প্রতিরক্ষার জন্য সংরক্ষিত। পাকিস্তান এখন তৈরি করতে পারছে এমন রকেট, যার সাহায্যে তার পক্ষে সম্ভব ভারতের যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরমাণু বোমা নিক্ষেপ। সমর বিজ্ঞানের দিক থেকে পাকিস্তানকে অবহেলা করা যায় না।</p>
<p>পরিস্থিতি পাল্টেছে ঠিকই। কিন্তু সেটা যে ভারতের জন্য অনুকূল হয়েছে, এরকম ভাববার কোনো কারণ নেই। ভারত এখন মিত্রবিহীন দেশ। কিন্তু পাকিস্তান ঠিক তা নয়। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে চীন গড়েছে নৌঘাঁটি। কাশ্মিরের কাছে চীন গড়েছে এমন সড়ক, যার মাধ্যমে সে যে কোন সময় লাদাঘ অঞ্চলে সৈন্য পাঠাতে পারে। শ্রীলঙ্কার উত্তরে জাফলা অঞ্চলেও চীন নৌঘাঁটি গড়ে তুলেছে বলে প্রকাশ। নেপালের সাথে চীনের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন হতে পেরেছে খুবই উন্নত। বেইজিং থেকে কাঠমান্ডু এখন সহজেই আসতে পারা সম্ভব। আমাদের দেশে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীর দল ভারতকে যতটা শক্তিমান ভাবছেন, ভারত আসলে সে পর্যায়ে এখনো এসে পৌঁছাতে পেরেছে বলে মনে করবার কোনো হেতু নেই। আওয়ামী লীগ যদি মনে করেই থাকে যে, বাংলাদেশে সে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে পারবে, তবে মনে হয় সে ভুল হিসাবই করছে।</p>
<p>শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ঠিক কী চেয়েছিলেন আমরা এখনও তা জানি না। ইন্দিরা গান্ধী একটি বই লিখেছেন My Truth নামে। বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন, স্কোয়াড্রন লিডার (অব:) মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম। তিনি বইটির নাম দিয়েছেন ‘আমার সত্যকথন’। এই বইতে ইন্দিরা গান্ধী শেখ মুজিবুর রহমানের মূল্যায়ন করেছেন এইভাবে : ‘তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত ভাবপ্রবণ, উষ্ণ হৃদয়ের লোক, যিনি একজন আইনপ্রণেতার চেয়ে পিতৃসুলভ ব্যক্তিত্বের বেশি অধিকারী ছিলেন। উপরন্তু তিনি সংগ্রামের বেশির ভাগ সময় দূরে অবস্থান করেছিলেন। আমি বলতে চাচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধ, নির্বাচন ইত্যাদি বিষয় তার চিন্তাধারা, জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে স্বতন্ত্র ছিল, যারা এ সকল বিষয়ে অংশ নিয়েছিলেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি মনে করি না যে তিনি তাদের পুরোপুরি বিশ্বাস করেছিলেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর প্রতি অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন। তাই তাঁরা যা কিছু করেছিলেন, তাঁর (মুজিব) নামে ও তাঁর জন্য করেছিলেন। কিন্তু তিনি এ সকল লোকদের গুরুত্ব দেননি, বরঞ্চ তাদের গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যারা তাঁর বিরুদ্ধে ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল। এতে একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি অবশ্যম্ভাবী ছিল।’</p>
<p>এখন আওয়ামী লীগ দাবি করছে, শেখ মুজিব ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে ৬ নভেম্বর নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। এতে তিনি বলেন- তিনি যতদূর জানেন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি। তিনি চাচ্ছেন, পূর্ব পাকিস্তানের সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান। শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপায়ের পথ এখনও রুদ্ধ হয়ে যায়নি। তিনি তার সেই বক্তৃতায় আরো বলেন যে, শেখ মুজিব হলেন একজন মধ্যপন্থী নেতা। তিনি কোন বিপ্লবী মন্ত্রে উদ্দীপ্ত নন। শেখ মুজিব একজন মার্কিনবিরোধী মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিও নন। আসলে একসময় তার বিরুদ্ধে প্রচারণা ছিল যে, তিনি মার্কিন ঘেঁষা নেতা।</p>
<p>ইন্দিরা গান্ধীর নিজের কথায়- And he is not an extremist, he was a moderate person. In fact, if I may use the term, he used to be called by some others an American stooge at one time। ইন্দিরা গান্ধী তার এই বক্তৃতায় আরো বলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবি উঠেছে শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর। তার আগে নয়। শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর বাংলাদেশে ঘটেছে বিরাট গণহত্যা। বাংলাদেশে মানুষ তাই ভাবতে শুরু করে স্বাধীন হওয়ার কথা। ইন্দিরা গান্ধীর নিজের কথা-……the cry for independence arose after Sheikh Mujib was arrested and not before. He himself, so far as know, has not asked far independence, even now. but after he was arrested, after there was this tremendous massacre, it people should say: ` after this how can we live together? we have to be separate.’</p>
<p>বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, হাজার বছরের বাঙালির কথা। কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর উপরোক্ত কথা যথার্থ হলে বলতে হবে শেখ মুজিব ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা কামনা করেননি। শর্মিলা বসু তার ডেড রেকনিং বইতে বলেছেন- ইন্দিরা গান্ধী সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যা বলেছিলেন, সেটা ছিল একটা ধাপ্পা। কারণ তিনি নিজে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার নামে পাকিস্তানকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিরাট যুদ্ধের প্রস্তুতি। কিন্তু ধাপ্পা হলেও ইন্দিরা গান্ধী যা বলেছেন, তা থেকে প্রমাণিত হয় না, শেখ মুজিব চাচ্ছিলেন পৃথক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়তে। শেখ মুজিবের লক্ষ্য নিয়ে তার মনেও ছিল সংশয়।</p>
<p>ইন্দিরা গান্ধীর এই বক্তৃতাটি পাওয়া যাবে India Speaks নামক বইতে। বইটি ভারত সরকারের প্রচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭১-এর ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে প্রচার করা হচ্ছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা। আর বলা হচ্ছে শেখ মুজিব ছিলেন, এই জাতীয়তাবাদের জনক। যার ভিত্তিতে বর্তমান বাংলাদেশের উদ্ভব সম্ভব হতে পেরেছে। কিন্তু ১৯৭১-এর দলিল দস্তাবেজ আমরা যা হাতের কাছে পাচ্ছি, তা সমর্থন করছে না আওয়ামী লীগের দাবিকে। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহ্যাস তার বহুল পঠিত ‘বাংলাদেশ এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইতে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বলেন যে, তিনি পাকিস্তান ভেঙে দিতে যাচ্ছেন না, তিনি চাচ্ছেন বর্তমান পাকিস্তানের সাথে একটা বিশেষ ধরনের সম্পর্ক (Link) বজায় রাখতে। সাংবাদিক মাসকারেনহ্যাসের এই কথার প্রতিবাদ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ করেছে বলে আমার মনে হয় না।</p>
<p>ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালে তার দুইজন উপদেষ্টার ওপর খুব নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। এদের মধ্যে একজন হলেন দুর্গাপ্রসাদ দার (ধর); আর একজন হলেন পি এন হাক্সার। এরা উভয়েই ছিলেন জন্মসূত্রে কাশ্মিরের লোক। আর এরা উভয়েই ছিলেন ছাত্রজীবন থেকেই মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট। এদের দু’জনের প্রচেষ্টাতেই সম্ভব হতে পেরেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ভারতের ২৫ বছরের শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন মস্কোপন্থী কমিউনিস্ট। তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল কলকাতায় গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া। তিনিও ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর খুবই আপন লোক। ইন্দিরা গান্ধী হয়তো ভেবেছিলেন শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে আর কখনই ফিরবেন না। তার প্রাণদণ্ড হবে। এর ফলে তিনি তাজউদ্দীন আহমদ ও তার দলের লোকদের সহায়তায় করে চলতে পারবেন।</p>
<p>কিন্তু সেটা হয়ে ওঠেনি। জুলফিকার আলী ভুট্টু জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন শেখ মুজিবকে। ফিরে আসতে সুযোগ করে দিয়েছিলেন তাঁকে বাংলাদেশে আসবার জন্য; যাতে বাংলাদেশে তাজউদ্দীন আহমদ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে। শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি। তিনি পাকিস্তান থেকে ৮ জানুয়ারি পিআইএর একটি বিশেষ বিমানে করে যান লন্ডনে। সেখানে যেয়ে দেখা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্থ হিথের সঙ্গে। লন্ডন থেকে তিনি ১০ জানুয়ারি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি বিমানে করে আসেন নায়াদিল্লি। দেখা করেন ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে।</p>
<p>তারপর ঐ একই ব্রিটিশ বিমানে করে যাত্রা করেন ঢাকায়। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি তুলেছিল। বলেছিল, ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর বিমানে করে ঢাকা যাওয়া ঠিক হবে না। কেননা, গ্রেট ব্রিটেন তখনও বাংলাদেশকে একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি। কিন্তু শেখ মুজিব তাদের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর বিমানে করেই এসে পৌঁছান ঢাকায়। কেন তিনি এরকম করার প্রয়োজনীয়তা দেখেছিলেন, সেটা এখনও জানা যায়নি। গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে একটা পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করেছিল ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে।</p>
<p>শেখ মুজিব সরাসরি পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লিতে না আসায়, ভারতে সৃষ্টি হতে পেরেছিল দারুণ প্রতিক্রিয়া। এ সময় আমি ছিলাম কলকাতায়। কলকাতায় ট্রামে বাসে লোককে বলতে শুনেছিলাম, শেখ মুজিবুর রহমানকে ইন্দিরা গান্ধীর অতটা বিশ্বাস করা উচিত হয়নি। এ রকম কথাও কথা অনেককে বলতে শুনেছিলাম যে, ইন্দিরা গান্ধীর পিতা জওহরলাল নেহেরু সৃষ্টি করেছিলেন একটি পাকিস্তান, তাঁর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী সেই একটি পাকিস্তানকে খন্ডিত করে সৃষ্টি করলেন দুটি পাকিস্তান। যার ফলে ভারতে পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়েই পড়ল।</p>
<p>বাংলাদেশ হওয়ার পর শেখ মুজিব চান বর্তমান পাকিস্তানের সঙ্গে কোন বিবাদ-বিসম্বাদে না জড়াতে। ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান, ইরান এবং তুরস্ক বাংলাদেশকে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। শেখ মুজিব এর পরপর যান লাহোরে। সেখানে তিনি যোগ দেন ওআইসি সম্মেলনে। এবং বাংলাদেশকে করেন ওআইসির সদস্য। শেখ মুজিব কেবল বিশুদ্ধ বাঙালি হতে চাননি। তাঁর মধ্যে কাজ করেছে একটা মুসলিম উম্মাহ চেতনা। তিনি চাননি বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ থেকে বিযুক্ত করে রাখতে।</p>
<p>এরপর ১৯৭৪ সালে ২৭ জুন জুলফিকার আলী ভুট্টু ঢাকায় আসেন শেখ মুজিবের আমন্ত্রণে। জেড এ ভুট্টু ঢাকায় ছিলেন তিন দিন। এ সময় মুজিব ও ভুট্টুর মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্বন্ধ নিয়ে হয়েছিল হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা। শেখ মুজিবকে জুলফিকার আলী ভুট্টু আমন্ত্রণ করেছিলেন পাকিস্তানে যেতে। শেখ মুজিব গ্রহণ করেছিলেন সেই আমন্ত্রণ। বর্তমানে পাকিস্তানের অধিবাসীরাও চাচ্ছেন না বাংলাদেশের সঙ্গে বিবাদ বিসম্বাদ। বর্তমানে পাকিস্তানে এখনো বাস করছেন প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ ও তাদের বংশধর। পাকিস্তান চাচ্ছে না এদের বাংলাদেশে জোর করে পাঠিয়ে দিতে। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ চাচ্ছে পাকিস্তান বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করে রাজনীতি করতে। কিন্তু শেখ মুজিব সেটা চাননি। বর্তমান আওয়ামী লীগ আর সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিব প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগকে এক করে দেখা যায় না।</p>
<p>অন্য দিকে আর একটি কথা ভুলে গেল চলে না যে, সারা ব্রিটিশ-ভারতে মোট মুসলমানের সংখ্যার শতকরা ৩৩ ভাগ ছিলেন বাঙালি মুসলমান। আসলে তারা চেয়েছিলেন বলেই সাবেক পাকিস্তান রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঢাকায়। ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সভায় পাকিস্তানের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন আবুল কাশেম ফজলুল হক। আজ কথায় কথায় বলা হয় পাকিস্তান আমাদের ওপর চেপে বসেছিল। কিন্তু ইতিহাসে এর সমর্থন মেলে না।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/words-that-remained-behind-the-freedom/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15875</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাজনীতি প্রসঙ্গে ইসলাম</title>
		<link>https://rowyakbd.com/islam-about-politics/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/islam-about-politics/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. ইউসুফ আল কারযাভী]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 11 Apr 2025 17:15:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি ও অর্থনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15751</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামের ব্যাপকতাকে ধূলির আস্তরণ সরিয়ে মানুষের সামনে পুনরায় উদ্ভাসিত করতে ইমাম হাসান আল বান্নাকে অবিশ্রান্ত সংগ্রাম করতে হয়েছে। তেরো শত বছর ধরে ইসলাম যা ছিল- সেদিকে মুসলিমদের আবার ফিরিয়ে আনতে তিনি সর্বাত্মক পরিশ্রম করেছেন। ইসলামী আইন ও পথনির্দেশ সমগ্র মানবজীবনকে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামের ব্যাপকতাকে ধূলির আস্তরণ সরিয়ে মানুষের সামনে পুনরায় উদ্ভাসিত করতে ইমাম হাসান আল বান্নাকে অবিশ্রান্ত সংগ্রাম করতে হয়েছে। তেরো শত বছর ধরে ইসলাম যা ছিল- সেদিকে মুসলিমদের আবার ফিরিয়ে আনতে তিনি সর্বাত্মক পরিশ্রম করেছেন।</p>
<p>ইসলামী আইন ও পথনির্দেশ সমগ্র মানবজীবনকে শামিল করে। শুধু জন্ম থেকে মৃত্যু নয়; জন্মের পূর্বের এবং মৃত্যু পরবর্তী বিষয়ও ইসলামী আইনের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ইসলামে ভ্রূণ সংক্রান্ত কিছু বিধানও রয়েছে। এমনকি মানুষ মারা যাওয়ার পরও বেশ কিছু বিধান রয়েছে।</p>
<p>ইসলাম মুসলিমদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের সকল বিষয়ে পথনির্দেশনা দেয়। শৌচকর্মের শিষ্টাচার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা যুদ্ধ, সন্ধি- সবক্ষেত্রেই ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে।</p>
<p>ইমাম হাসান আল বান্নার এ প্রচেষ্টার ফলাফল আজ স্পষ্ট। আজ প্রত্যেকটি মুসলিম ভূখণ্ডে এমন বিশাল সংখ্যক মানুষ আছে- যারা ইসলামের ব্যাপকতায় বিশ্বাস করে। তারা আকীদা, শরিয়াহ, দ্বীন ও রাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামের দিকে আহ্বান করে। ঔপনিবেশিকদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের বলি হওয়া একটি বড়ো অংশও আজ ইসলামের দিকে ফিরে এসেছে। তারা ঔপনিবেশিকদের চাপিয়ে দেওয়া চিন্তার বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসছে। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের গোয়েন্দাদের উদ্ভাবিত মানদণ্ড ছেড়ে মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী জাগরণের বিকাশ ঘটছে। এই গোয়েন্দারা ইসলামের ভীতিকর রূপ তৈরি করতে অসংখ্য সভা, সেমিনার ও সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। তারা প্রচুর পরিমাণে অর্থও বিনিয়োগ করতো। উসতাজ ফাহমি হুয়াইদির মতে, সে সময় শত্রুগোয়েন্দাদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠন ছিল ১২০ টির মতো।</p>
<p>পাশ্চাত্য-চিন্তার দাসরা সুবহে সাদিককে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত। আটকে দেওয়ার চেষ্টা করত সূর্যোদয়কে। তারা চেষ্টা করত ইতিহাসের চাকাকে ঔপনিবেশিক যুগে নিয়ে থামানোর। পাশ্চাত্যপন্থীরা জোর গলায় বলতে চায়- &#8216;ধর্মে কোনো রাজনীতি নেই আর রাজনীতিতে কোনো ধর্ম নেই।&#8217;</p>
<p>পাশ্চাত্যবাদীরা জোরপূর্বক ঔপনিবেশিক সময়টি ফিরিয়ে আনতে চায়। অথচ তা আমরা অর্ধশতাব্দী পূর্বেই পরিত্যক্ত অবস্থায় রেখে এসেছি। পাশ্চাত্যপন্থী বুদ্ধিজীবীদের কেউ কেউ বহুদিন ধরে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপকে &#8216;রাজনৈতিক ইসলাম&#8217; বলে সংজ্ঞায়িত করছে। অথচ সকল মাযহাবের ফকীহ, উসূলবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও মুতাকাল্লিমগণ ইসলামকে পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায় থেকে শুরু করে জিহাদের অধ্যায় পর্যন্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহকারে সংজ্ঞায়িত করেছেন। কুরআন-সুন্নাহর ইসলামকে পাশ্চাত্যবাদীরা &#8216;রাজনৈতিক ইসলাম&#8217; নাম দিতে চাচ্ছে।</p>
<p>এসকল শেকড়হীন বুদ্ধিজীবীরা চায় যে, মানুষ ইসলামকে ঘৃণা করুক! কারণ, এ অঞ্চলের মানুষ প্রচলিত রাজনীতিকে ঘৃণা করে। কেননা, ঔপনিবেশিকদের চাপিয়ে দেওয়া রাজনীতি তাদের ওপর অনেক দুর্যোগ নিয়ে এসেছিল এবং বহুভাবে ভুগিয়েছিল। রাজনীতির প্রতি জনগণের এই ঘৃণাকে পাশ্চাত্যপন্থীরা ইসলামের পুনর্জাগরণের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে চায়।</p>
<p>আল্লাহপ্রদত্ত ইসলাম যখন রাজনৈতিক, তখন আমরা এ বিষয়ে লুকোচুরি করব কেন? আল্লাহপ্রদত্ত ইসলাম জীবনকে আল্লাহ ও কায়সারের মাঝে ভাগ করাকে সমর্থন করে না। বরং এই ইসলাম স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয় যে কায়সার, কিসরা, ফিরাউন এবং পৃথিবীর রাজা-মহারাজা সবাই আল্লাহর গোলাম।</p>
<p>পাশ্চাত্যপন্থীরা চাচ্ছে- আমরা আল্লাহর কিতাব, নবী(সাঃ) এর সুন্নত, উম্মাহর ইজমা এবং আমাদের উত্তরাধিকার সত্যপথ ছেড়ে দিই। তারা চায়- সমুদ্রের ওপারের রাষ্ট্রনায়কদের সন্তুষ্ট করতে নতুন ইসলাম বানাতে! তারা আধ্যাত্মিক ইসলাম চায় না। ব্রাহ্মণ্যবাদী ইসলাম চায়- যা মৃত ব্যক্তির ওপর কুরআন তিলাওয়াতেই সন্তুষ্ট থাকবে; জীবিতদের জন্য নয়। তারা চায়- ঘরের দেয়াল কুরআনের আয়াত দিয়ে কারুকার্যমণ্ডিত হবে, কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সকল অনুষ্ঠান শুরু হবে, কিন্তু বাদবাকি সব কায়সারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। বিচার কীভাবে চলবে, কোন কাজ কীভাবে হবে- সবই কায়সারের মর্জিতে নির্ধারিত হবে!</p>
<p>কুরআন-সুন্নাহর ইসলাম, আমাদের সালাফ ও পূর্বসূরিদের ইসলামই পরিপূর্ণ ইসলাম। এই ইসলাম জীবনের বিভক্তি ও দ্বীনের বিভাজন সহ্য করে না। রুহানী ইসলাম, আখলাকী ইসলাম, তাত্ত্বিক ইসলাম, তালীম-তারবিয়াতি ইসলাম, জিহাদী ইসলাম, সমাজ-অর্থনীতির ইসলাম, রাজনীতির ইসলাম- এভাবে ইসলামকে আলাদা করা যাবে না; বরং ইসলাম এ সবগুলোর সমষ্টি। এসবের প্রত্যেকটি অঙ্গনেই আছে ইসলামের বিশেষ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য; আছে বিধিবিধান ও নির্দেশনা।</p>
<p>এ প্রসঙ্গে ইমাম হাসান আল বান্না বলেন-</p>
<blockquote><p>&#8220;দ্বীন ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলার সময় দুটোকে পৃথক করে দেখে না- এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। তারা দ্বীন ও রাজনীতি এ দুটোকে দুই প্রান্তে রাখে। এ কারণেই বলা হয়- &#8216;এটি ইসলামি সংস্থা, রাজনীতির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই&#8217;, &#8216;এটি একটি রাজনীতিমুক্ত দ্বীনি সমাবেশ&#8217;। বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের গঠনতন্ত্রের শুরুতে লেখা হয় &#8216;এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান&#8217;।</p></blockquote>
<p>এই তত্ত্বের শুদ্ধতা-অশুদ্ধতার দিকে যাওয়ার পূর্বে আমরা দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে চাই।</p>
<p><strong>এক</strong><strong>.</strong></p>
<p>রাজনীতি ও সংগঠন পুরোপুরি একই জিনিস নয়; বরং এতদুভয়ের মাঝে আছে অনেক পার্থক্য এবং সেইসাথে আছে অনেক মিলও। আবার কিছু বিষয় স্পষ্টত ভিন্ন প্রকৃতির। একজন ব্যক্তি সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক হতে পারে; যদিও কোনো সংগঠনের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত লোকের অবস্থা এমনও হতে পারে, সে রাজনীতির কিছুই বোঝে না। আবার কেউ যুগপৎ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক হতে পারে। হতে পারে দলীয় রাজনীতিক বা রাজনৈতিক দলীয়। আমি যখন রাজনীতি নিয়ে কথা বলব, তখন সাধারণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলব। দলীয় গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর দৃষ্টিপাত করব।</p>
<p><strong>দুই</strong><strong>.</strong></p>
<p>ইসলামের ব্যাপকতর ধারণা সম্পর্কে অজ্ঞ অমুসলিমরা যখন ইসলামের কোনো দিক নিয়ে হতাশ হয়েছে, যেমন- মুসলিমদের দৃঢ় মনোবল, জানমাল উৎসর্গ করার প্রবণতা, ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা ইত্যাদি তখন তারা ইসলামের নাম, বাহ্যিক রূপ ও সত্তার ওপর কথা বলে মুসলিমদের সরাসরি আঘাত না দিয়ে ইসলামকে নির্দিষ্ট কিছু কর্মের গণ্ডিতে সীমিত করতে চেয়েছে। তারা ইসলামের নাম, চেহারা ও বাহ্যিক দিকগুলো ছেড়ে দিয়েছে। কারণ, ইসলামের এ খণ্ডিত রূপ নিজেও পুষ্ট নয় এবং অন্যকেও পুষ্টির জোগান দিতে পারে না।</p>
<p>পাশ্চাত্যপন্থীরা মুসলিমদের বুঝিয়েছে- ইসলাম এক জিনিস, সমাজ অন্য জিনিস। ইসলাম এক বিষয়, আইন আরেক বিষয়। ইসলামের সাথে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের কোনো সম্পর্ক নেই। সাধারণ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ইসলামের সম্পূর্ণ বাইরের একটি বিষয়। ইসলামকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রিয় ভাইয়েরা! ইসলাম যদি হয় রাজনীতিবিহীন, সমাজ-অর্থনীতি-সংস্কৃতিমুক্ত কিছু, তাহলে ইসলাম আসলে কী? তবে কি ইসলাম কেবল নামাজের এই রাকাতগুলো? নাকি রাবিয়া আল আদাবিয়ার এই কথামালা- &#8216;ইসতিগফারেরও ইসতিগফার দরকার!&#8217; আর কুরআন কি এ জন্যই পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে নাযিল হয়েছে?</p>
<blockquote><p>تِبْيَـٰنًۭا لِّكُلِّ شَىْءٍۢ وَهُدًۭى وَرَحْمَةًۭ وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ</p>
<p>&#8220;আমি মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা, পথনির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদস্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করলাম।&#8221; (সূরা নাহল: ৮৯)</p></blockquote>
<p>ইসলামী তত্ত্বের এই ক্ষুদ্রকরণ চেষ্টা এবং ইসলামকে সংকীর্ণ এই গণ্ডিতে সীমিতকরণ মূলত ইসলামের শত্রুদের দীর্ঘমেয়াদী চেষ্টার ফসল। তারা ইসলামকে একটি সীমিত গণ্ডিতে বাঁধতে চেয়েছিল। আর এ কথা বলে হাসাহাসি করতে চেয়েছিল- &#8216;আমরা তো তোমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছি। তোমাদের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম তো ইসলাম।&#8217;</p>
<p><em>প্রিয় ভাইয়েরা! আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিরোধী পক্ষগুলো এবং মুসলিম নামধারী ইসলামের শত্রুরা ইসলামকে যে অর্থে ব্যবহার করতে চাচ্ছে- তা প্রকৃত ইসলাম নয়। তারা ইসলামকে সীমাবদ্ধ করতে চাচ্ছে। ইসলামের সাথে শর্ত লাগিয়ে দিতে চাচ্ছে। আকীদা ও ইবাদত, ভূখণ্ড ও জাতীয়তা, নম্রতা ও শক্তি প্রদর্শন, চরিত্র ও পার্থিবতা, সংস্কৃতি ও আইনের সমষ্টির নাম ইসলাম। একজন মুসলিম ইসলামের বিধিবিধান দ্বারা আদেশপ্রাপ্ত। উম্মাহর সকল বিষয় তাকে গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়াদিতে গুরুত্ব দেয় না, সে মুসলিমদের দলভুক্ত নয়।</em></p>
<p>আমি নিশ্চিত, আমাদের পূর্ববর্তী প্রাথমিক যুগের মুসলিমরা ইসলামের এই ব্যাপকতর অর্থই বুঝেছেন। তারা ইসলামের নিয়মনীতি মেনেই বিচারকার্য, জিহাদ ও লেনদেন পরিচালনা করতেন। তারা সকল দুনিয়াবি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন ইসলামের গণ্ডির ভেতরে থেকেই এবং একইভাবেই আখিরাতমুখী কাজগুলোও করতেন।</p>
<p>প্রথম খলিফা সাইয়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর ওপর আল্লাহ রহম করুন। তিনি বলেছেন-</p>
<p>&#8220;উটের দড়ি হারিয়ে গেলেও আমি তা কুরআনে খুঁজে পাই।&#8221;</p>
<p>প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা জিয়াউদ্দিন আর রইস তাঁর <em>&#8216;আন নাজরিয়‍যাতুস সিয়াসিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ&#8217;</em> (ইসলামি রাজনীতির তত্ত্ব) গ্রন্থে বলেন-</p>
<p><strong>&#8220;সন্দেহাতীতভাবে মুহাম্মাদ(সা.) এবং তাঁর অনুসারী মুমিনরা যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যদি সেই রাষ্ট্রকে বাহ্যিক কর্মকাণ্ড এবং আধুনিক রাজনৈতিক মানদণ্ডে বিবেচনা করা হয়, তাহলে &#8216;রাজনীতি&#8217; শব্দের প্রত্যেকটি অর্থের বিবেচনায় তা ছিল- রাজনৈতিক রাষ্ট্র। একইসাথে যদি এই রাষ্ট্রের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ইতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং মূল ভিত্তিকে বিবেচনা করা হয়, তাহলে একে বলতে হবে- দ্বীনি রাষ্ট্র।&#8221;</strong></p>
<p>সুতরাং, রাষ্ট্রব্যবস্থা একই সময়ে দুটি বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট হতে পারে। কারণ, ইসলামের মৌলিকত্ব বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক উভয় দিককেই একসাথে মিলিয়ে নেয়। সেইসাথে মানুষের কর্মকে দুনিয়াবী ও পরকালীন জীবনে প্রভাবক হিসেবে দেখায়। অর্থাৎ, ইসলামের দর্শন দুটো বিষয়কেই একীভূত করে নেয়।</p>
<p>কেবল দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য ছাড়া এ দুয়ের মাঝে আর কোনো বিভাজন ইসলাম স্বীকার করে না। সত্তাগতভাবেই তারা একসাথে গঠিত বা সাজানো এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাদের একটিকে অপরটি থেকে আলাদা করে কল্পনা করা যায় না। এটি ইসলামের স্বাভাবিক প্রকৃতির মাঝেই সুস্পষ্ট। এটা প্রমাণের জন্য বড়ো কোনো পরিশ্রমের দরকার হয় না। ইতিহাসের বাস্তবতা এটাকেই জোরালোভাবে সমর্থন করে। অতীতের সকল যুগে মুসলিমদের আকীদা-বিশ্বাস ছিল এটাই। এমনকি প্রাচ্যবিদরা পর্যন্ত ইসলামি পরিবেশের কাছাকাছি না থাকলেও এটা বুঝতে শুরু করেছে। অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার হলো- কিছু জন্মসূত্রে মুসলিম, যারা নিজেদের সংস্কারক বলেও দাবি করে, তারাই প্রকাশ্যে এই সত্যকে অস্বীকার করছে। তাদের দাবি হলো- &#8216;ইসলাম শুধুই একটি ধর্মীয় দাওয়াত।&#8217; তারা বোঝাতে চাচ্ছে- &#8216;ইসলাম কেবল একটি বিশ্বাস এবং মানুষের সাথে রবের আত্মিক সম্পর্ক মাত্র; দুনিয়ার জীবনের বৈষয়িক বিষয়াবলির সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; এখানে যুদ্ধ ও  সম্পদের ইস্যুগুলো রয়েছে- যার মূল রাজনীতি।&#8217; তাদের সকল কথার সারকথা হলো- &#8216;দ্বীন এক জিনিস, আর রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস।&#8217;</p>
<p>এই সকল নামধারী মুসলিমদের কথার জবাবে ইসলামি স্কলারদের কথা আনার তেমন দরকার নেই। কেননা, এই নামধারী মুসলিমরা কখনোই প্রকৃত সত্যকে উপলব্ধি করতে চায় না। তারা নিজেরা যা বলে, তা নিয়েই তৃপ্ত থাকতে চায়। ইতিহাসের বাস্তবতা নিয়েও কথা বলে লাভ নেই। তাতে তারা বড়ত্বের প্রতিযোগিতা শুরু করবে। তো আমরা কিছু ওরিয়েন্টালিস্ট ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে এই প্রসঙ্গটা শেষ করতে চাই। এই ওরিয়েন্টালিস্ট গবেষকরা নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছে। তাদের মতগুলো উল্লেখ করার কারণ হলো- জন্মসূত্রে এই সকল কথিত মুসলিম সংস্কারবাদীরা ওরিয়েন্টালিস্টদের চেয়ে বেশি আধুনিক যুগের সাথে কখনোই সম্পৃক্ত ছিল না। তারা আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির ব্যবহারে ওরিয়েন্টালিস্টদের চেয়ে বেশি সক্ষমও নয়।</p>
<p>বিজ্ঞানের অঙ্গনে ওরিয়েন্টালিস্টরা প্রত্যেকটি দিক থেকে তাদের চেয়ে এগিয়েই ছিল। তারা ওরিয়েন্টালিস্টদের মান্যও করে খুব গুরুত্বের সাথে। সুতরাং ওরিয়েন্টালিস্টদেরই কিছু উক্তি নিয়ে আসা এখানে প্রাসঙ্গিকই হবে-</p>
<p>* Dr. V. Fitzgerald: “ইসলাম নিছক একটি ধর্ম নয়, এটি একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাও।”</p>
<p>এরপরও সাম্প্রতিক সময়গুলোতে কিছু আধুনিক দাবিদার মুসলিম সন্তানের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা এ দুটোকে আলাদা করতে চায়। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ধারণা স্পষ্ট হলে দেখা যায়, ইসলাম অঙ্গাঙ্গিভাবে এ দুটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; এর একটি থেকে অপরটিকে আলাদা করা যায় না।</p>
<p>* C. A. Nallino: “মুহাম্মদ সা. একই সময়ে একটি দ্বীন এবং একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর পুরো জীবন জুড়ে রয়েছে এ দুটোর বিস্তার।”</p>
<p>* Dr. Schacht: “ইসলাম ধর্মের চেয়েও বেশি কিছু। ইসলাম আইনি ও রাজনৈতিক তত্ত্বও বর্ণনা করেছে। মোটকথা, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা- যা দ্বীন ও রাষ্ট্রকে একইসাথে শামিল করে।”</p>
<p>* R. Strothmann: “স্পষ্টতই ইসলাম একটি রাজনৈতিক ধর্ম। ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা একাধারে ছিলেন রাজনীতিক, বিচারক ও রাষ্ট্রনায়ক।”</p>
<p>* D. B. Macdonald: “এখানেই (মদিনা) প্রথম ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ইসলামী আইনের বুনিয়াদি দিকগুলো তৈরি হয়েছে।”</p>
<p>* Sir. T. Arnold: “নবি সা. একই সময়ে একটি ধর্মের প্রধান এবং একটি রাষ্ট্রের প্রধান ছিলেন।”</p>
<p>* H. A. R. Gibb০ : “ইসলাম শুধু ব্যক্তিপর্যায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস নয়। ইসলাম একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিচ্ছে, যার রয়েছে নিজস্ব বিচারপদ্ধতি, আইনকানুন ও প্রশাসন।”</p>
<p>এই কথাগুলো তাদের জন্যই উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের শুধু পাশ্চাত্যের কথাই সন্তুষ্ট করতে পারে। এই কথাগুলো তাদের বড়ো বড়ো কথা থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।</p>
<p><strong>অনুবাদঃ তারিক মাহমুদ </strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/islam-about-politics/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15751</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সাংস্কৃতিক দাসত্ব রাজনৈতিক দাসত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়</title>
		<link>https://rowyakbd.com/cultural-slavery-is-not-apart-from-politacal-slavery/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/cultural-slavery-is-not-apart-from-politacal-slavery/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 23 Feb 2025 13:34:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপমহাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15548</guid>

					<description><![CDATA[এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের ঈমান এবং মানুষ হিসেবে আমাদের অনন্য পরিচিতির দিক থেকে বিদেশী রাজনৈতিক শাসনের চাইতে সাংস্কৃতিক অধীনতা অনেক বেশী ক্ষতিকর। তবে বাস্তবে সাংস্কৃতিক দাসত্ব রাজনৈতিক দাসত্বের সঙ্গে শুধুমাত্র সম্পৃক্তই নয় বরং সকল ইচ্ছা ও কাজে তা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের ঈমান এবং মানুষ হিসেবে আমাদের অনন্য পরিচিতির দিক থেকে বিদেশী রাজনৈতিক শাসনের চাইতে সাংস্কৃতিক অধীনতা অনেক বেশী ক্ষতিকর। তবে বাস্তবে সাংস্কৃতিক দাসত্ব রাজনৈতিক দাসত্বের সঙ্গে শুধুমাত্র সম্পৃক্তই নয় বরং সকল ইচ্ছা ও কাজে তা অবিভাজ্য। প্রায় ৬শ বছর আগে কৃতি মুসলমান ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমায় এই সত্য স্বীকার করেছেনঃ</p>
<blockquote><p><em>“বিজিতরা সব সময় বিজয়ীদের পোশাক, প্রতীক, বিশ্বাস এবং অন্যান্য আচার প্রথা অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। এর কারণ হচ্ছে মানুষ সব সময় বিজয়ীদের কাছে প্রিয় পাত্র হতে আগ্রহী হয়। এটা দুই কারণে হয় প্রথমতঃ বিজয়ীদের প্রতি শ্রদ্ধা, দ্বিতীয়তঃ বিজয়ীদের মত যোগ্যতার অধিকারী হলে তাদের পরাজয় হতো না- এই মনোভাব হেতু যোগ্যতা অর্জনের জন্যে। এই বিশ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হলে এটা একটা ব্যাপক আস্থার ভাব সৃষ্টি করে এবং বিজয়ীদের সকল কিছু অনুকরণে বিজিতরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এই বিশ্বাস অজ্ঞাতভাবে অথবা বিজয়ের জন্যে বিজয়ীদের শারীরিক ও অস্ত্রের শক্তির চাইতে আচার আচরণ প্রাধান্য বিস্তার করেছে- এই বিশ্বাস থেকে সৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থায় তখন এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে বিজয়ীদের অনুকরণ পরাজয়ের কারণ দূরীভূত করবে। এইভাবে দেখা যায় বিজিতরা পোশাক, অস্ত্র ধারণ যন্ত্রপাতি এবং জীবন ধারণের সকল পদ্ধতিতে বিজয়ীদের অনুকরণ করে। বস্তুত প্রতিটি দেশই তার বৃহৎ বিজয়ী প্রতিবেশীকে অনুকরণের চেষ্টা করে। স্পেনের মুসলমানেরা বিজয়ী প্রতিবেশী খৃষ্টানদেরকে অনুকরণ করেছে। খৃষ্টানদের পোষাক, অলঙ্কার এবং আচার আচরণের বিভিন্ন দিক এমন কি ঘরে ছবি রাখার ব্যাপারে মুসলমানরা তাদের অনুকরণ করেছে। সযত্ন পর্যবেক্ষণে এই </em><em>হীনম্মন্যতা</em> <em>সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।” </em></p></blockquote>
<p>ইবনে খালদুন মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট দূরদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন। তার সময়ের স্পেনিশ মুসলমানদের ন্যায় আজকের ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরাও অনুকরণ করছে। অবশ্য এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় বিদেশী সভ্যতার অন্ধ ও সমালোচনাহীন অনুকরণ স্বতঃস্ফূর্ত নয়। আমাদের বিদেশী প্রভুরা শাসনের প্রথম লগ্ন থেকেই খুব সতর্কতার সঙ্গে আমাদের জীবন পদ্ধতিকে ধ্বংস করে সেখানে তাদের আচার পদ্ধতি চালুর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তার ফলশ্রুতিতে অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে তাদের আচার প্রথা প্রবেশ করেছে।</p>
<p>প্রায় একশ বছর আগে বৃটিশ সরকার উপমহাদেশের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে রিপোর্ট প্রদান এবং কার্যকরভাবে শাসনের নির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দানের জন্যে ড. উইলিয়াম হান্টারকে নিযুক্ত করেছিলেন। সেই হিসেবে ১৮৭১ সালে তিনি লিখলেন: “আমাদের ভারতীয় মুসলমান, তারা কি রাণীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বিবেকের কাছে বাধা! মুসলমানদের প্রতিরোধ ভেঙ্গে ফেলার জন্যে এবং তাদেরকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে বিদেশী প্রভুত্ব মেনে নিতে শান্তভাবে আত্মসমর্পণ করানোর জন্যে &#8216;সবজান্তা&#8217; ড. হান্টার প্রস্তাব করেছেন ইংরেজী শিক্ষার।</p>
<p>তার বইয়ের সমাপ্তি পর্বে তিনি তার সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। &#8220;এভাবে মুসলমান যুবকদেরকে আমাদের নিজস্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে শিক্ষিত করে তুলতে পারি। তাদের ধর্মীয় ব্যাপারে এবং ধর্মশিক্ষার বিষয়ে সামান্যতম হস্তক্ষেপ না করেই আমরা তাদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে পারি যাতে করে তারা ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করলেও ধর্মান্ধ হবে না। বিশ্বের অন্যতম চরম গোঁড়া সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুরা যেভাবে সহনশীলতার শিক্ষা পেয়েছে, মুসলমানদেরকেও সেই পদ্ধতি অনুসরণে উৎসাহিত করা যেতে পারে। অনুরূপ সহনশীলতা মুসলমানদেরকে তাদের পূর্ব-পুরুষদের গোঁড়ামী থেকে মুক্ত করে আনবে, যে গোঁড়ামী তাদেরকে নিষ্ঠুরতা, নির্দয়তা ও অপরাধজনক কাজের মধ্যে টেনে নিয়ে গেছে। আর এসবই তারা করে এসেছে ধর্ম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে। মুসলমানী আইনশাস্ত্র আবশ্যিক বিষয় হিসেবে নিয়মিত পড়ানো হবে কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু এটাকেই শিক্ষার মৌল লক্ষ্য হিসেবে ধরে নেয়া ঠিক হবে না। মুসলমানী আইন মানে মুসলমানী ধর্ম, মুসলমানরা সমগ্র পৃথিবীতে তাদের আইনানুগ অধিকারে বিশ্বাসী। তারা আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব আনুগত্য অথবা খৃষ্টান সরকারের অধীনতার কথা জানে না। মুসলমানী আইন সরকারের কোন প্রয়োজন এবং জীবন সম্পর্কে তার ছাত্রদেরকে কোন ধারণা দেয় না। এর পরিবর্তে আমাদের উচিত একটা উদীয়মান মুসলিম জাতি গড়ে তোলা যারা নিজস্ব সংকীর্ণ শিক্ষা পদ্ধতি ও মধ্যযুগীয় ভাবধারার গণ্ডীতে আবদ্ধ না থেকে পাশ্চাত্যের জ্ঞান বিজ্ঞানের নমনীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হবে। ইংরেজী প্রশিক্ষণ জীবনের লাভজনক অধ্যায়ে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেবে। কোন্ পদ্ধতি প্রবর্তনের দ্বারা হিন্দু ও মুসলমানদের সমভাবে উচ্চতর ধর্মীয় ধারণায় উন্নীত করা সম্ভব সে সম্পর্কে আমি এখানে কিছু বলতে চাই না। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে অনুরূপ উন্নত অবস্থায় তারা একদিন উপনীত হবে এবং এতদিন নেতিবাচক ভূমিকা পালন করলেও আমাদের প্রবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে এ বিষয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ।&#8221;</p>
<p>হান্টারের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে এবং আজ আমরা তার ফল ভোগ করছি। বংশ পরম্পরায় পাওয়া সেই সম্পত্তি ৪৭ এর স্বাধীনতার পরও সম্পূর্ণ অবিকৃত অবস্থায় এখনও বহাল রয়েছে। বৃটিশ শিক্ষা পদ্ধতি এতই দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়েছে যে, সমগ্র উপমহাদেশে আধুনিকতা তথা ধর্মনিরপেক্ষতার বস্তুবাদ ও নাস্তিক্যবাদের মোকাবিলা করার জন্যে পর্যাপ্ত ইসলামী জ্ঞান দানে সক্ষম একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও কোথাও নেই। আমাদের যুবকেরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কোন আকর্ষণ ছাড়াই বড় হচ্ছে। এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই।</p>
<p>বিগত শতাব্দীর শেষ দিকে Lord cromer ছিলেন আরব বিশ্বের বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তিত্ব। ১৮৮৩ থেকে ১৯০৭ সাল পর্যন্ত পঁচিশ বছর প্রতিবন্ধকতাহীনভাবে তিনি মিশর শাসন করেন। বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের কৌশল জানার জন্যে তার বিরাট বই Modern Egypt অপরিহার্য। বই এর সমাপ্তিতে তিনি কোন সন্দেহের অবকাশ রাখেননি যে, সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের চাইতে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বিস্তারের নীতিই ছিল তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p><strong>কোন বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন রাজনীতিকের চিন্তা করা ঠিক নয় যে, ইসলামকে পুনর্জীবন দানে সক্ষম- এমন পরিকল্পনা তাদের রয়েছে, বস্তুত ইসলাম এখনো মরে যায়নি, বরং শতাব্দী ধরে টিকে থাকার যোগ্য। তবে রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে তা মৃতপ্রায়, তার ক্রমাগত অবনতি কোন আধুনিক তত্ত্ব প্রয়োগে, তা যতই দক্ষতার সঙ্গে করা হোক না কেন ঠেকানো যাবে না।</strong> এই পর্যন্ত যতটুকু বিচার করা যায় তাতে দু&#8217;টি মাত্র বিকল্প পন্থা সম্ভব। মিশরকে পর্যায়ক্রমে স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে নতুবা বৃটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই দুই বিকল্পের প্রথমটির পক্ষে। আমরা যা করব তাতে ভাল, জোরদার এবং স্থিতিশীল সরকারের ব্যবস্থা করতে হবে যা অরাজকতা এবং দেউলিয়াত্ব দূর করে মিশরকে ইউরোপের জন্যে সমস্যায় পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এ ধরনের সরকারের কাজে আমাদের বেশী মাথা ঘামানো উচিত নয়। তবে আমাদের বিদায়ের পর সরকারকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ&#8230;.. এটা মনে করা ঠিক হবে না যে মিশরে সম্পূর্ণ মুসলমানী নীতির ওপর প্রাচীন চিন্তাধারা ও পশ্চাদগামী সরকার প্রতিষ্ঠার সময় ইউরোপ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে। মিশর যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে ঐ ধরনের চিন্তাধারা অনুসৃত হলে বস্তুগত স্বার্থের সাংঘাতিক ক্ষতি হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে চান এবং সমস্যার সমাধান চান তাদেরকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে মিশরের নতুন বংশধর পশ্চিমা সভ্যতা সত্যিকারভাবে অনুসরণ বা গ্রহণে বাধ্য হয়। আমার বিশ্বাস ইংল্যাণ্ডের সুমহান পরিচালনায় পশ্চিমা সভ্যতার রশ্মি কৃষ্ণ আফ্রিকার সবচাইতে দুর্ভেদ্য স্থানে গিয়ে পৌছুবে এবং এমনকি মিশরের ক্লেদাক্ত কৃষকেরা ও তাতে নতুন জীবন লাভ করবে। মিশরীয়দের অজ্ঞতা এবং অকৃতজ্ঞতা সত্ত্বেও আমি এখনো আশা করি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বংশধরেরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে যে, Anglo-saxon জাতির লোকেরা প্রথম তাদের অত্যাচারী কৃতদাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছে, তারা তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে যে, তারাও মানবিক আচরণ পাওয়ার অধিকারী, তারা তাদের সামনে নৈতিক অগ্রগতি এবং চিন্তার স্বাধীনতা ও বস্তুগত সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের পথ উন্মুক্ত করে খুলে দিয়েছে পশ্চিমা সভ্যতার সত্যিকার মহাসড়ক।”</p>
<p>এটাই ছিল বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের মূল লক্ষ্য, স্বাধীনতার পরও কেন আমাদের ওপর বিদেশী প্রভাব এত জোরদার তার জবাবও এই বৃটিশ শাসকের উক্তি থেকে পাওয়া যাবে। বস্তুত সকল প্রচারণা সত্ত্বেও আমাদের স্বাধীনতা একটা সামান্য ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘদিন আমাদের দেশ বিদেশী শাসনাধীন ছিল, আমাদের জনগণকে অতীত ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যে বিদেশী প্রভুরা খুব যত্নের সঙ্গে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এইভাবে তারা সাফল্যের সঙ্গে বিশেষত সামাজিক দিক থেকে প্রাজ্ঞ লোকদের মধ্য থেকে একদল সাক্ষী গোপাল ও গৃহশত্রু বিভীষণ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। তথাকথিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়ার পর আমাদের নেতৃত্ব এই পশ্চিমা চক্রের হাতে গিয়ে পড়ে।</p>
<p>বিদেশী সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থে এই নেতৃত্ব অব্যাহত থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ল। কারণ আমাদের জনসংখ্যার বৃহৎ অংশই তাদের ধ্যান-ধারণা এবং তাদেরকে ঘৃণা করতো এই কারণে গণতান্ত্রিক পন্থায় পশ্চিমা সভ্যতার বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়ল। এই জন্যে খুবই শক্ত হাতে একনায়কত্ব চাপিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা হলো। যারা এর বিরোধীতা করলো তাদেরকে নির্দয়ভাবে নিশ্চিহ্ন করা হলো। এমনকি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত বৃহৎ শক্তিগুলো তাদের জনগণকে দেয়া গণতান্ত্রিক সুযোগ সুবিধা মুসলমানদের দিতে রাজী হবে না, কারণ তারা ভাল করেই জানে মুসলমানদের মনে ইসলামের প্রভাব খুবই জোরদার, গণতান্ত্রিক রায় প্রকাশের সুযোগ একবার আসলেই সকল মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর এই অবস্থা হলে এশিয়া ও আফ্রিকায় তাদের প্রভুত্ব চিরদিনের জন্যে খতম হয়ে যাবে। এই জন্যে ইসলামী আন্দোলনকে তাদের বিরাট ভয়, বিশ্বব্যাপী তাদের সংগঠিত সকল চক্রান্তের লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামী আন্দোলনকে শেষ করা।</p>
<p>রাজনৈতিক দাসত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত অর্থনৈতিক দাসত্বকেও আমরা উপেক্ষা করতে পারি না, বরং বলা যায় অর্থনৈতিক দাসত্বই আমাদের এই পরিস্থিতিতে নিক্ষিপ্ত হতে বাধ্য করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিদেশী সাহায্যের টোপ গেলাতে উৎকণ্ঠিত। উচ্চ হারে সুদ নিয়ে এই সাহায্য শেষ পর্যন্ত গ্রহীতা দেশকে ভিক্ষুকে পরিণত করে। এতে কোন অতিশয়োক্তি নেই যে, পশ্চিমা বিরাট বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো তাদের সাংস্কৃতিক অনুপ্রবেশের প্রধান মাধ্যম। অনুন্নত (এখন উন্নয়নগামী) মুসলিম দেশসমূহে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে পর্যায়ক্রমে বিরাট বিরাট বিলাসবহুল ভবন, অত্যাধুনিক কারুকার্যের হোটেল, শহরের রূপ পাল্টিয়ে দেয়।</p>
<p>ব্যবস্থা হয় নৈশ ক্লাব এবং ক্যাবারে নাচের। হলিউড থেকে অপরাধমূলক ও অবৈধ যৌন সংসর্গের জঘন্য ছবি আসে, তার অনুকরণে দেশে ছবি নির্মিত হয়, পর্ণ ছবি, পুস্তক এবং বিদঘুটে পোশাক এসে বাজারে সয়লাবের সৃষ্টি করে যা সামাজিক উৎকর্ষতার চূড়ান্ত বিকাশ বলে বিবেচিত হয়। খাদ্যে ভেজাল দেয়া আমাদের শরিয়তে বিরাট পাপ বলে গণ্য হলেও এই পরিবেশে তা দ্রুত প্রসার লাভ করে এবং অন্যের জীবন ও স্বাস্থ্যের বিনিময়ে ভেজালদানকারী দিনে দিনে প্রাচুর্যের উচ্চ শিখরে আরোহণ করে। মাদক দ্রব্যের ব্যবহার অস্বাভাবিক বেড়ে যায়, আমাদের বেতারগুলো কদর্য ও নগ্ন গানের দ্বারা সাধারণ মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে।</p>
<p>বিদেশী প্রভাবিত শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থায় পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ করিয়ে মেয়েদেরকে চাকুরীতে নেয়া হয়। এই ভাবে আমাদের মহিলারা স্ত্রী, মা, বোন এবং কন্যার পবিত্র আসন থেকে বাস ট্রেনের টিকেট সংগ্রাহক, ব্যাংকের কেরানী, টেলিফোন অপারেটর, সেলস গার্ল, বিমানবালা, রেস্তোঁরার ওয়েট্রেস, হোটেলের কক্ষ সেবিকা, ফ্যাশান মডেল এবং বেতার, টেলিভিশন, ছায়াছবি ও রাষ্ট্র আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের গায়িকা ও নর্তকীতে পরিণত হয়। এইভাবে পর্যায়ক্রমে পর্দা, বাড়ী, পরিবার অবৈধ যৌন সংসর্গের জোয়ারে ভেসে যায়। যুবক যুবতীরা একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে গড়ে উঠে। এইসব ব্যাপার আকস্মিকভাবে হয় না। বরং আমাদের ওপর যারা প্রভুত্ব বজায় রাখতে চায় তারা খুবই সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে আমাদের জীবন প্রবাহে এ সবের অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয়। আমাদের শত্রুরা নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকে আমাদের অধঃপতন ঘটিয়ে দৈহিক ও মানসিক দিক থেকে ছোট করতে চায়। তাদের স্বার্থেই আমাদের অধঃপতন ঘটুক আমাদের দেশ দুর্নীতিতে ভেসে যাক এটাই তাদের কাম্য।</p>
<p><strong>এই ভীতি কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্যে আমাদেরকে বুঝতে হবে রাজনৈতিক দাসত্ব আর সাংস্কৃতিক দাসত্ব কেন অবিচ্ছেদ্য, সঙ্গে সঙ্গে এটাও বুঝতে হবে যে, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া সত্যিকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। বিরোধী এবং বিদেশী শাসনের অধীনে ইসলামের উৎকর্ষ অসম্ভব। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের ইসলামী পুনর্জাগরণের সকল আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানাতে হবে এবং আমাদের সরকার যাতে আইন হিসেবে ইসলামের নির্ভেজাল শরিয়তকে গ্রহণ করে সে জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। ইসলামী আন্দোলনকে সকল গণসংযোগ মাধ্যমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে।</strong></p>
<p>কোন বিদেশী শক্তি যাতে আমাদের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি করতে না পারে তার তীব্র বিরোধিতা করতে হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যে আমাদের সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব সম্পদ ও বন্ধু মুসলিম দেশগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে। প্লেগরূপী বিদেশী সাহায্য অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনে, বিশেষ করে বৃহৎ শক্তিবর্গের সঙ্গে আমাদেরকে সমঅংশীদার হিসেবে সৎ ব্যবসার ওপর জোর দিতে হবে। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃবৃন্দ সব সময় ইসলামকে তাদের শক্তিশালী শত্রু জ্ঞান করে আসছেন ফলে তাদের নতুন বংশধরেরা একই দৃষ্টি ভঙ্গিতে ইসলামকে অধ্যয়ন করে থাকে।</p>
<p>পশ্চিম ইউরোপ থেকে উদ্ভুত বস্তুবাদী দর্শনই প্রতিটি মুসলিম দেশে ইসলামী জীবন পদ্ধতি পুনরুজ্জীবনে সব চাইতে বড় বাধা হয়ে আছে। এই কারণে আমাদের কিছু উলেমাকে পাশ্চাত্যের অধিবাসী হয়ে ইউরোপের সাহিত্য, ইতিহাস, ধর্ম এবং দর্শন পড়তে হবে যাতে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নত দর্শন উপস্থাপন করা যায়। এই ভাবে সকল দিক থেকে আমাদেরকে সাম্রাজ্যবাদের মোকাবিলা করতে হবে যাতে আমাদের ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি করে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ </strong>এ কে এম হানিফ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/cultural-slavery-is-not-apart-from-politacal-slavery/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15548</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাশিয়ান কর্মকর্তাদের ছয়টি আফ্রিকান দেশ ভ্রমণের নেপথ্যে</title>
		<link>https://rowyakbd.com/behind-the-scenes-of-russian-officials-trip-to-six-african-countries/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/behind-the-scenes-of-russian-officials-trip-to-six-african-countries/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হিশাম আল নোমান]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 23 Sep 2024 13:46:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14853</guid>

					<description><![CDATA[আফ্রিকায় প্রভাবশালী পরাশক্তিগুলোকে আরো দুর্বল করতে এবং তাদের প্রভাব নিঃশেষ করতে রাশিয়া সে শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রণয়ন করেছে। আফ্রিকা নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ কোন সাময়িক বিষয় নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিগত বছরগুলোতে আফ্রিকার অন্যতম ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স, মহাদেশটিতে ক্রমাগতভাবে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আফ্রিকায় প্রভাবশালী পরাশক্তিগুলোকে আরো দুর্বল করতে এবং তাদের প্রভাব নিঃশেষ করতে রাশিয়া সে শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে নতুন কৌশল প্রণয়ন করেছে।</p>
<p>আফ্রিকা নিয়ে রাশিয়ার আগ্রহ কোন সাময়িক বিষয় নয়, বরং একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। বিগত বছরগুলোতে আফ্রিকার অন্যতম ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স, মহাদেশটিতে ক্রমাগতভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। রাশিয়া এখন চাচ্ছে আফ্রিকায় ফ্রান্সের বিকল্প হয়ে উঠতে।</p>
<p>এই কৌশলের নবিনতর পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ এবং উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউনুস বেক ইয়েভকুরভ  বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে ধারাবাহিকভাবে সফর করেছেন।</p>
<p>এসব সফরে রাশিয়ান কূটনৈতিকদের চারটি গন্তব্য ছিল : <strong>গিনি, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, বুরকিনা ফাসো এবং শাদ। অন্যদিকে সামরিক কর্মকর্তারা লিবিয়া সফর শেষে নাইজার এবং মালি সফর করেন।</strong></p>
<p>ল্যাভরভ ৩ রা জুন, ২০২৪ শে গিনি ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার কূটনৈতিক সফর শুরু করেন। যেখানে রুসাল সহ বেশ কিছু রাশিয়ান কোম্পানি কাজ করছে। রুশ দূতাবাসের তথ্যমতে এই রুসাল রাশিয়ার এ্যালুমিনিয়াম প্লান্টগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহ করে, এ খাতের মোট উৎপাদনের শতকরা ২৫ ভাগই রুসালের অবদান।</p>
<p>জুনের ৪ তারিখ তিনি কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে পৌঁছান, যেখানে শুধু ২০২৩ সালের জানুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যের মাত্রা আচানক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সফরের সময় আলোচিত বিষয়াবলীর মধ্যে ছিল উভয়পক্ষের মধ্যে সামরিক প্রকৌশলগত সহযোগীতা বৃদ্ধি করা।</p>
<p>কঙ্গোতে কিছু রুশ সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানো হবে মর্মে ২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। এখনও দেশটিতে অত্যাধুনিক রুশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে দর কষাকষি চলছে।</p>
<p>জুনের ৫ তারিখ, ল্যাভরভ বুরকিনা ফাসো পৌঁছান। যে দেশটিতে বর্তমান মস্কোর সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সরকারের শাসন জারী রয়েছে। সেখানে তিনি জানান যে, “বুরকিনা ফাসোতে রুশ প্রশিক্ষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।“</p>
<p>বুরকিনা ফাসোতে ল্যাভরভের সফরকালীন বক্তব্য থেকে তাস নিউজ এজেন্সি উদ্ধৃতি করেছে-“ প্রেসিডেন্ট ইবরাহীম তাওরে ক্ষমতায় আসার পরে আমাদের দেশের সাথে সর্বপ্রথম যে চুক্তি হয়, তখন থেকেই আমরা খুব নিবিড়ভাবে সামরিক এবং সমর প্রকৌশল খাত সহ সকল ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগীতা বজায় রেখেছি।“</p>
<p>একই দিনে ল্যাভরভ চতুর্থ দেশ হিসেবে শাদে পৌঁছান এবং বলেন, “আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি যে আমাদের বন্ধুত্ব কোনভাবেই আমাদের সাথে থাকা ফ্রান্সের সম্পর্ককে প্রভাবিত করবেনা। ফ্রান্সের পদ্ধতিই ভিন্ন; তারা এই মূলনীতি মেনে চলে যে, হয় তুমি আমার সাথে, নয় তুমি আমার বিরুদ্ধে।”</p>
<p>বুরকিনা ফাসো এবং শাদের সাথে ইতিহাসে প্রথমবারের মত রাশিয়ার সংযোগ স্থাপিত হলো এই সফরের মধ্য দিয়ে, যা গত দুই বছরের মধ্যে ল্যাভরভের ষষ্ঠ আফ্রিকা মহাদেশ সফরের একটা অংশ ছিল।</p>
<p>জুলাই, ২০২২ সালে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিশর, ইথিওপিয়া , উগান্ডা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ভ্রমণ করেন। এরপরে তিনি জানুয়ারী, ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইসওয়াতিনি, এ্যাঙ্গোলা এবং ইরিত্রিয়া সফর করেন। একই বছর ফেব্রুয়ারীতে তিনি মালি, মৌরিতানিয়া এবং সুদানেও সফর করেন। মে মাসের শেষ এবং জুনের শুরতে কেনিয়া, বুরুন্ডি, মোজাম্বিক সফর করেন। ২০২৩ সালে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগস্ট মাসে তিনি সফর করেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>সামরিক সফর</strong></h4>
<p>সমান্তরালভাবে নর্থ আফ্রিকান নিউজ ২০২৪ সালের জুনের ২ তারিখ প্রতিবেদন করে যে, পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহী জেনারেল, খলিফা হাফতার জুনের শুরতে রাজমায় অবস্থিত জেনারেল কমান্ড হেডকোয়ার্টারে রুশ উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইউনুস বেক ইয়েভকুরভকে স্বাগত জানান।</p>
<p>একই উৎসের তথ্যমতে, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধ সহ সামরিক ও অর্থনৈতিক খাতে তাদের ইতিবাচক অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরে খলিফা হাফতার দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতীম সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।</p>
<p>রাশিয়ার সামরিক দূত সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পারষ্পারিক সহায়তার দিকে ইঙ্গিত করে লিবিয়ার জেনারেল কমান্ড ফোর্সের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তার দেশের অবদানের কথা তুল ধরেন।</p>
<p>নোভা নিউজের খবর অনুসারে, ২০২৪ এর ৪ জুন ইয়েভকুরভ লিবিয়ার বেনগাযি থেকে নাইজারে পৌঁছান।</p>
<p>একই সূত্র উল্লেখ করে যে, রাশিয়ান সামরিক কর্মকর্তা নাইজারের বর্তমান সামরিক সরকারের প্রধান আব্দুর রহমান ছিয়ানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালিফৌ মোদির সাথে সাক্ষাত করেন। যেখানে সুরক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগীতার আলোচনা স্থান পায়।</p>
<p>উভয়পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত সমাধান খোঁজার লক্ষ্যে পারস্পারিক শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতে কৌশলগত অংশিদারিত্ব শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করে। ইয়েভকুরভ নাইজারকে তাদের সকল বৈধ উদ্যোগে সমর্থন করার জন্য রাশিয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।</p>
<p>ইয়েভকুরভ প্রকৃতপক্ষে নাইজার এবং রাশিয়ার মধ্যে একাধিক খাতে সহযোগিতার একটি স্মারক স্বাক্ষর করতে ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩-এ নিয়ামে এসেছিলেন।</p>
<p>আফ্রিনজ ওয়েবসাইট ৫ জুন, ২০২৪-এ রিপোর্ট করেছে যে রাশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইউনুস বেক ইয়েভকুরভ মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারার সাথে দেখা করেছেন।</p>
<p>সূত্রটি উল্লেখ করেছে যে মন্ত্রী সাদিওর সাথে মালিতে এই বৈঠকে দুই দেশের মাঝে ইতোমধ্যে ভালোভাবে এগিয়ে চলা সামরিক সহযোগিতার দিকে মনোনিবেশ করা হয়।</p>
<p>এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরলস যুদ্ধে মালিকে সমর্থন করার জন্য রাশিয়া তার প্রস্তুতি এবং অবিচল প্রতিশ্রুতি কখনোই লুকানোর চেষ্টা করেনি।</p>
<p>ওয়েবসাইটটি উল্লেখ করেছে যে &#8220;এই সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, মালিয়ান সেনাবাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি থেকে অঞ্চলগুলির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।&#8221;</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্রভাব বলয় নষ্ট করা</strong></h4>
<p>রাশিয়ার এই পদক্ষেপ সমূহের ব্যাখ্যায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আফ্রিকা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আহমেদ নুরুদ্দীন বলেছেন যে রাশিয়ার অভিষ্ঠ লক্ষ্যগুলি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বিশেষ করে এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চার চার দফা সফর এটারই ইঙ্গিত দেয় যে, ন্যাটো দেশগুলির দ্বারা আরোপিত একঘরে করন থেকে রাশিয়া যেকোন মূল্যে মুক্তি পেতে চাইছে।</p>
<p>তিনি আল-ইস্তিকলালকে বলেন যে এই সফর ও পদক্ষেপের মাধ্যমে  রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে আফ্রিকায় ফরাসি এবং পশ্চিমা প্রভাব বলয় ভেঙে ফেলা। সকল পক্ষকে ক্লান্ত করে দেবার কৌশল প্রয়োগ করে তাদের দুর্বল ও নির্মূল করে দেয়া। এখানে, &#8220;পক্ষ&#8221; বলতে আফ্রিকান দেশগুলি, লাতিন আমেরিকার দেশগুলি এবং এশিয়ান দেশগুলি উদ্দেশ্য।<br />
বিশেষভাবে নুরুদ্দীন দেখান যে &#8220;২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার পর রাশিয়ার গৃহীত এই কৌশলটি আফ্রিকা অঞ্চলে পশ্চিমা প্রভাবকে দুর্বল করে চলেছে। এবং এখানে রাশিয়া উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।&#8221;</p>
<p>নুরুদ্দীন আরও ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে এই কৌশলটিতে নিরাপত্তা এবং সমর সংক্রান্ত দিকগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞদের দ্বারা সামরিক সহায়তা প্রদান এবং আফ্রিকান শিক্ষার্থীদের রাশিয়ান ইনস্টিটিউটে প্রবেশ করানো। আবার, পুরো আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে থাকা দেশগুলিতে ওয়াগনার গ্রুপ বাহিনী মোতায়েন বৃদ্ধির মাধ্যমেও এই কৌশলের লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে।</p>
<p>বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন, <strong>&#8220;এই সমস্ত কিছু রাশিয়াকে পশ্চিমের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্বার্থ অর্জন করতে সাহায্য করেছে, বিশেষ করে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ; যখন আমরা ফ্রান্সকে মালি থেকে অপমানিত এবং নাইজার, বুর্কিনা ফাসো এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে তার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার হতে দেখেছি।&#8221;</strong></p>
<p>তিনি জোর দিয়ে বলেন, &#8220;এই দেশগুলি, তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং ভঙ্গুরতা সত্ত্বেও, একাধিক স্তরে ফরাসি অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। উদাহরণস্বরূপ, ফ্রান্স দ্বারা শোষিত হয়ে আসা নাইজারের একটি ইউরেনিয়াম খনি রয়েছে যা ফ্রান্সের পারমাণবিক শক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।&#8221;<br />
&#8220;উপরন্তু, প্যারিস সাধারণত উপকূলীয় এবং আফ্রিকান দেশগুলিতে প্রচুর পরিমাণে সোনা, হীরা এবং মূল্যবান ধাতব খনির উপর শোষণ পরিচালনা করে।&#8221;</p>
<p>তাই, নুরদ্দীন পুনর্ব্যক্ত করেন যে রাশিয়া যখন ফ্রান্সকে চারটি দেশ থেকে বহিষ্কার হওয়াকে কাজে লাগিয়ে ময়দানে আসে, তখন এটি একদিকে যেমন সরাসরি ফ্রান্সের অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় এবং অন্যদিকে, আফ্রিকার এই দেশগুলিতে ফ্রান্সের কৌশলগত নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অন্যদিকে, ইউরেশিয়া-আরব স্টাডিজ সেন্টার (সিএইএস) এর গবেষক দিমিত্রি ব্রিডজে বলেছেন যে রাশিয়া এখন বিভিন্ন আফ্রিকান দেশ সমূহের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে এবং তাদের কাছে যেতে আগ্রহী। এটা আফ্রিকায় যেকোন সময় পা রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে তার গৃহীত কৌশল।</p>
<p>তিনি আল-ইস্তিকলালকে এটা পরিষ্কার করেন যে, ল্যাভরভের এই সফরটিই প্রমাণ হিসবে যথেষ্ট যে রাশিয়া আফ্রিকায় ফ্রান্সের দুর্বল নীতি থেকে উপকৃত হয় এবং আফ্রিকান দেশগুলিতে ফ্রান্সের প্রাক্তন ঔপনিবেশিক ভূমিকার জন্য প্রত্যাখ্যান প্রকল্পে বিনিয়োগ করে।</p>
<p>&#8220;বিশেষ করে ফ্রান্স যেহেতু আফ্রিকাকে কিছুই দেয়নি; না জনগণের মুক্তিকে সমর্থন করে, না মহাদেশটির জন্য ভাল একটি অর্থনৈতিক মডেল হিসাবে কাজ করে। উল্টো ফ্রান্সের দৃষ্টিভঙ্গি হলো আফ্রিকান এই দেশগুলির পলিসিকে ম্যানিপুলেট করা এবং তাদের খনিজ সম্পদ লুট করা।&#8221;</p>
<p>রাশিয়ান এই একাডেমিক গবেষক জোর দিয়ে বলেন যে মস্কো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আফ্রিকান বিষয়গুলোতে সরাসরি নিযুক্ত রয়েছে, &#8220;সাংস্কৃতিক এন্ট্রিপয়েন্টগুলোর মধ্য দিয়ে রাশিয়া আফ্রিকা মহাদেশে তার সফট পাওয়ারকে আরো শক্তিশালী করতে চায়। যেমন শিক্ষা, স্নাতক পর্যায়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, রুশ ভাষার প্রসার ও পাঠদান ইত্যাদি।&#8221;</p>
<blockquote><p>ব্রিডজে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে রাশিয়া প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে আফ্রিকান সামরিক নেতাদের একটি নতুন অভিজাত শ্রেণী তৈরি করতে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে আফ্রিকার দেশীয় নীতিতে বেশ প্রভাব রাখবে। এছাড়াও, বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সহযোগিতার জন্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আফ্রিকা কর্পস; এমন একটি প্রকল্প যা আফ্রিকা মহাদেশের ভবিষ্যত বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।</p></blockquote>
<p>তিনি আরো উল্লেখ করেন যে আফ্রিকায় সোভিয়েত নীতির রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার থেকে রাশিয়া উপকৃত হচ্ছে, কেননা আফ্রিকায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক নীতির তুলনায় এটি ততোটা নেতিবাচক নয়। মস্কো একটি বহুমাত্রিক ডাইমেনশনের জন্য এই পলিসি তৈরি করেছে।</p>
<p>তিনি এ ব্যাপারটাও একেবারে উড়িয়ে দেননি যে রাশিয়া বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের সাথে তার সম্পর্ক গভীর করবে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা রাশিয়ার অর্থনীতির সাথে পাশ্চাত্য, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংঘর্ষের একটি ক্ষেত্র তৈরি করবে।</p>
<p>বিশেষজ্ঞ এই ব্যক্তি আরও উল্লেখ করেন যে অভিবাসন এবং বৈদেশিক সম্পর্ক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউনিয়ন নীতিগুলির ব্যর্থতার আভাস হিসেবে বেশিরভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশে চরম ডানপন্থী প্রভাবের উত্থান ঘটছে। এর মধ্য দিয়েই রুশ-পশ্চিমা প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে ।</p>
<p>রুশ কর্মকাণ্ড থেকে আফ্রিকা কী সুবিধা পাবে সে সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে, আহমেদ নুরুদ্দীন বলেছেন যে প্রথম সুবিধাটি হলো কৌশলগত অংশীদারদের মধ্যে বৈচিত্র‍্য আনা। এটি সাবেক ঔপনিবেশিক দেশগুলি বা প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলির বিরুদ্ধে বৃহত্তর সার্বভৌম লাভ অর্জনের জন্য কৌশলের নতুন এক মানদন্ড স্থাপন করবে।</p>
<p>অন্য একটি সাক্ষাতকারে তিনি আল-ইস্তিকলালকে বলেছিলেন, “আমরা দেখতে পাই যে আফ্রিকান দেশগুলি রাশিয়া থেকে গম আমদানির উপর প্রচুর নির্ভরশীল, ২০% গম রাশিয়া থেকে আমদানি হয়ে আসে। তাছাড়া, আফ্রিকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী রপ্তানি করে।”</p>
<p>COVID-19 সংকট আফ্রিকার কাছে প্রমাণ করেছে যে রাশিয়ার উপর নির্ভর করা যেতে পারে, কারণ এটি এমন সময়ে বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছিল যখন এই ভ্যাকসিনগুলি বিশ্বব্যাপী দুষ্প্রাপ্য ছিল। আবার বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে কীভাবে সেসময় ইউরোপ নিজের দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।</p>
<p><strong>নুরুদ্দিন আরও বলেন যে</strong> <strong>রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্রের উৎস। এদিকে অস্ত্র প্রদানের ক্ষেত্রে মূলত আফ্রিকান দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেইল করার লক্ষ্যে পাশ্চাত্য অন্যায্যভাবে এক প্রকার অধিকার দাবি করে;  যেমন মানবাধিকার, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র ইত্যাদী। অথচ আসল উদ্দেশ্য এসবের ছদ্মবেশে আফ্রিকান দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং নীতিসমূহে নাক গলানো। অথচ পাশ্চাত্যের মত এই অনধিকার চর্চা না করেই আফ্রিকার বাজারে রাশিয়া সেসব অস্ত্র সরবরাহ করে চলেছে।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>ফরাসি দৃষ্টিকোণ</h4>
<p>ফরাসি সহ ইউরোপীয় মিডিয়া, আফ্রিকায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে উপেক্ষা করেনি। বরং নিশ্চিত করেছে যে মস্কো আফ্রিকা মহাদেশে তার প্রভাব বাড়াতে চায়। যেমনটি উঠে এসেছে ফরাসি ওয়েবসাইট আফ্রিকা নিউজের ৭ জুন, ২০২৪ -এর সম্পাদকীয়তে।</p>
<p>ওয়েবসাইটটি উল্লেখ করেছে যে ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আফ্রিকান সরকারের জন্য পছন্দের নিরাপত্তা অংশীদার হয়ে উঠেছে।</p>
<p>এতে আরো বলা হয় যে, মস্কো প্রাইভেট সিকিউরিটি কোম্পানি ওয়াগনার এবং এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি আফ্রিকান লিজিওনের ব্যবহারের মাধ্যমে আফ্রিকান দেশগুলির সাথে তার সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। যেখানে রাশিয়ান ভাড়াটে সৈন্যরা আফ্রিকান নেতাদের রক্ষা করা থেকে শুরু করে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশগুলিকে সহায়তা করে থাকে।</p>
<p>এই প্রবন্ধে উঠে এসেছে যে রাশিয়া ইউক্রেনে তার আগ্রাসনের বিষয়ে ৫৪ টি আফ্রিকান দেশের অনেকের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন বা কমপক্ষে নিরপেক্ষতা চায়৷ কেননা আফ্রিকান দেশগুলি জাতিসংঘের বৃহত্তম ভোটিং ব্লক গঠন করে।</p>
<p>সম্পাদকীয়টিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে আফ্রিকান দেশসমূহ এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাশিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট এসব সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।</p>
<p>একই উৎসের তথ্যমতে, সাবেক ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্সের প্রতি জনগণের হতাশা ও ক্ষোভকে রাশিয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রোধে পরিণত করেছে এবং সেসব দেশে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে।</p>
<p>সামরিক অভ্যুত্থানগুলি ফ্রান্স এবং পাশ্চাত্য ঘেঁষা সরকারগুলিকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। কিন্তু, বেকারত্ব এবং অন্যান্য অসুবিধা দূর করতে খুব একটা কাজ করেনি।</p>
<p>রাশিয়া রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করেই নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে। যা রাশিয়াকে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার অধীনে থাকা মালি, নাইজার এবং বুরকিনা ফাসোর মতো দেশগুলিতে একটি আকর্ষণীয় অংশীদার করে তোলে। এর বিনিময়ে, মস্কো আফ্রিকান দেশগুলোর কাছে খনিজ ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা চায়।</p>
<p>আফ্রিকা নিউজ উল্লেখ করেছে যে <strong>&#8220;রাশিয়া মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সোনা এবং হীরা, কঙ্গোতে কোবাল্ট, সুদানে সোনা এবং তেল, মাদাগাস্কারে ক্রোমাইট এবং জিম্বাবুয়েতে প্ল্যাটিনাম এবং হীরা, সেইসাথে নামিবিয়াতে ইউরেনিয়ামের অ্যাক্সেস পেয়েছে।“</strong></p>
<p>এতে আরও বলা হয়েছে যে, ওয়াগনার এবং রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে আফ্রিকান সোনার বাণিজ্য থেকে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।</p>
<p>বিপরীতে, ২৮ মে ২০২৪ -এ ফরাসি ম্যাগাজিন লে গ্র্যান্ড কন্টিনেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত &#8220;&#8221;Militarizing Africa: Soviet Assets for Russian Doctrine,&#8221; শিরোনামের একটি গবেষণায় যুক্তি দেখানো হয় যে &#8221; আফ্রিকা মহাদেশের সাথে দীর্ঘমেয়াদী লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার একটি কৌশল এবং পরিকল্পনাগত অভাব রয়ে গিয়েছে।&#8221;</p>
<p>সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয় যে &#8220;আফ্রিকাতে সোভিয়েত নীতি পশ্চিমা পুঁজিবাদের বিকল্প প্রস্তাবনা হিসেবে একটি আদর্শের মধ্যে নিহিত ছিল। কিন্তু, বর্তমানে আফ্রিকায় রাশিয়ার কৌশলগুলি সাধারণত সুবিধাবাদী, মৌলিক সম্পদের উৎস সমূহের দখল এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে রাজনৈতিক পুঁজি অর্জনের দিকেই মনোনিবেশ করে।&#8221;</p>
<p>একই সূত্রমতে, &#8220;আফ্রিকা মহাদেশে চলমান অস্থিতিশীলতার মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণেই সেখানে রাশিয়ার পুনরুত্থান ঘটে চলেছে।&#8221;</p>
<p>&#8220;রাশিয়ার পাশ্চাত্য বিরোধী মতবাদ অনেক আফ্রিকান অভিজাতের স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা ঔপনিবেশিক দায় সম্পর্কে ন্যায্য ভাবেই ঐতিহাসিক অভিযোগ উত্থাপন করে এবং পাশ্চাত্যের সাথে একটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হওয়াকে রাশিয়ার সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ন্যায্যতা প্রমাণের দলিল হিসবে পেশ করে।&#8221;</p>
<p>উপসংহারে এসে এই প্রতিবেদন বলছে, &#8220;এই পরিস্থিতিতে, রাশিয়ার আক্রমণের মুখে ইউক্রেন &#8211; আফ্রিকান দেশগুলিকে তার পক্ষে জমায়েত করার মত এক বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।&#8221;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>(মূলঃ আল-ইস্তিকলাল পত্রিকা</p>
<p>অনুবাদঃ হিশাম আল নোমান)</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/behind-the-scenes-of-russian-officials-trip-to-six-african-countries/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14853</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূলনীতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 01 Sep 2024 11:25:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইলমুল কালাম]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14770</guid>

					<description><![CDATA[তৌহীদ ঘোষণা করে যে, &#8220;তোমাদের উম্মাহ্ একটি মাত্র উম্মাহ, যার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ। তাই তাঁর উপাসনা এবং ইবাদাত কর১।&#8221; মুমিনগণ যে একটি মাত্র ভ্রাতৃসমাজ, যার সদস্যরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে পরস্পরকে ভালবাসবে, যারা একে অপরকে ন্যায়বিচার করতে ও ধৈর্য্যশীল হতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>তৌহীদ ঘোষণা করে যে, &#8220;তোমাদের উম্মাহ্ একটি মাত্র উম্মাহ, যার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ। তাই তাঁর উপাসনা এবং ইবাদাত কর<sup>১</sup>।&#8221; মুমিনগণ যে একটি মাত্র ভ্রাতৃসমাজ, যার সদস্যরা আল্লাহর উপর ঈমান এনে পরস্পরকে ভালবাসবে, যারা একে অপরকে ন্যায়বিচার করতে ও ধৈর্য্যশীল হতে পরামর্শ দেয়<sup>২</sup>, যারা ব্যতিক্রমহীনভাবে সকলে একত্রে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়না<sup>৩</sup>। যারা একসঙ্গে বসে পরামর্শ করে, সৎকাজে উৎসাহ দেয় এবং মন্দকার্য নিষেধ করে<sup>৪</sup> যার পরিণতিতে আল্লাহ এবং তার রাসুলকে মেনে চলে<sup>৫</sup>-এ সমুদয়ই হচ্ছে সমাজের বিষয়ে তৌহীদের প্রাসঙ্গিকতা।</p>
<p>উম্মাহর স্বপ্ন এক, তেমনি এক হচ্ছে অনুভূতি অথবা ইচ্ছা এবং কর্ম, উম্মাহর সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মনোভঙ্গিতে, তাদের চরিত্রে ও তাদের বাহুতে, চিন্তার একটা ঐক্যমত রয়েছে। উম্মাহ হচ্ছে এমন একটি মানবিক ব্যবস্থা যা মন, হৃদয় এবং বাহু, এই তিনের ঐক্যমতে ঘটিত। এ একটি বিশ্বজনীন ভ্রাতৃসমাজ, যা বর্ণ যেমন স্বীকার করেনা তেমনি স্বীকার করেনা নৃতাত্বিক পরিচয়। এর দৃষ্টিতে সকল মানুষই এক, কেবলমাত্র সদাচারণ ও ধার্মিকতার মানদন্ড দ্বারা যার পরিমাপ হবে<sup>৬</sup>। এর কোন সদস্য যদি জ্ঞান, ক্ষমতা, খাদ্য বা আরাম আয়েশ অর্জন করে, তার কর্তব্য হচ্ছে অন্য সবাইকে তাতে শরীক করা, যদি কোন সদস্য সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, সাফল্য বা সমৃদ্ধি অর্জন করে, সে অবস্থায় তার কর্তব্য হবে, অন্যেরাও যাতে প্রতিষ্ঠিত, সফল ও সমৃদ্ধশালী হতে পারে, সেজন্য সাহায্য করা<sup>৭</sup>। এটি এমন একটি মানবিক ব্যবস্থা, যার সদস্যরা উম্মাহর মূল্যায়ন ও নীতিমালা দ্বারা নিজের জীবন শাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এবং অন্য সকল মানুষের জীবন যাতে অনুরূপ নীতিমালার দ্বারা শাসিত হয় তার জন্য চেষ্টা করে। তারা বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দা হতে পারে, এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্য হতে পারে; তারা উম্মাহর সদস্য বলে এই সদস্যপদ সমস্ত বৈষম্য ও পার্থক্যের উপর শরীয়াকে দেয় চূড়ান্ত কর্তৃত্ব। উম্মাহর ভিত্তি প্রজাতির (race) উপর নয়, অঞ্চল বা ভাষার উপর নয়, রাজনীতিক এবং সামরিক সার্বভৌমত্বের উপর নয়। অতীত ইতিহাসের উপরও নয়, এর বুনিয়াদ হচ্ছে ইসলামের উপর। নর-নারী নির্বিশেষে যে কেউ ইসলামকে তার ধর্ম বলে গণ্য করে এবং চায় যে, এর আইন কানুন দ্বারা তার জীবন শাসিত হবে, সে বাস্তবে এবং কার্যত উম্মাহর একজন সদস্য, দ্বারা শাহাদার আইনগত চাহিদার এই হচ্ছে অর্থ। তাছাড়া অন্য কোন প্রয়োজনটা আবশ্যক নয়। এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে কোন ব্যক্তিই শরীয়াহ কর্তৃক স্বীকৃত সকল অধিকার সকল সুযোগ সুবিধা ভোগের অধিকারী হয়ে উঠে এবং নিজেকে শরীয়াহর সমস্ত দায়িত্বের অধীনে স্থাপন করে।</p>
<p>ব্যক্তি মুসলমান, পৃথিবীর যে কোন স্থানে বাস করতে পারে এবং সেই দেশের আইনের প্রতি আনুগত্যশীল হতে পারে, যতক্ষণ না সে সব আইন জীবনের সেই সব ক্ষেত্রে শরীয়ার বিরোধিতা করে, যার দ্বারা তার নিজের জীবন প্রভাবিত হয়। যখন যে অঞ্চলে সে বাস করে, তার আইন কানুন যদি ইসলামের বিপরীতে তার জীবনকে প্রভাবিত করে, তখন একটি ইসলামিক অঞ্চলে হিযরত করার বিকল্প তার থাকে। অথবা ইসলামিক কিংবা ভিন্নতর কোন বাহ্য উদ্দেশ্য পূরণের আশায় সে তার নিজের জীবনে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া সহ্য করে যেতে পারে। তার পক্ষে উম্মাহ হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য নয়। অবশ্য প্রত্যেক ব্যক্তি মুসলিমের কর্তব্য হচ্ছে অন্য সকলকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত করা, নিজের অঞ্চলে উম্মাহকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। দেশের আইন হিসাবে শরীয়াহর প্রবর্তনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে তার কর্তব্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>১</strong><strong>. </strong><strong>তৌহীদ</strong> <strong>এবং</strong> <strong>খিলাফত</strong></h4>
<p>উপরে যে উম্মাহর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সে উম্মাহ হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছা পূরণের জন্য বিশ্ব পুনর্গঠন বা বিশ্ব সংস্কারের বাহন। এ হচ্ছে সৃষ্টিতে আল্লাহর খিলাফত, কেননা মানুষের বিষয়ে সৃষ্টির সূচনা লগ্নে প্রদত্ত এই ভবিষ্যত বাণী অবশ্যই সম্প্রসারিত হবে উম্মাহ পর্যন্ত এবং তার যুক্তি হচ্ছে পূর্ববর্তী অংশে উল্লেখিত যুক্তিসমূহ। সমভাবে উম্মাহ একটি রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্বের অর্থে এবং সার্বভৌম শক্তির জন্য যে সব অঙ্গ ও ক্ষমতা সার্বভৌমত্বকে বলবৎ করার জন্য প্রয়োজন সে সমুদয়ের অর্থে। রাষ্ট্র হিসাবে উম্মাহর উল্লেখ করতে হবে খিলাফত হিসাবে, দাওলাত হিসাবে নয়। ইসলামী ঐতিহ্যের জন্য খিলাফত হচ্ছে নিকটতর এবং তৌহীদের ঘনিষ্ঠতর, যে তৌহীদ একটি সরাসরি এবং কুরআনি সিদ্ধান্ত<sup>৮</sup>। দ্বিতীয়টি হচ্ছে &#8216;দাওলাত&#8217; একটি আধুনিক ধারণা যার অবস্থান কুরআনের প্রতিনিধিত্ব বা খিলাফতের ধারণা থেকে সবচাইতে দূরতম ব্যবধানে। আর খিলাফতের এই ধারণাটি হচ্ছে উম্মাহর মূল শর্ত। আমরা যখন খিলাফত উল্লেখ করতে রাষ্ট্রকে বুঝাই তখন উম্মাহ এবং পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রের মৌলিক পার্থক্য আমাদের মনে রাখতে হবে। তাই উম্মাহর সার্বভৌমত্ব বলবৎ করার ক্ষেত্রে খিলাফতই হচ্ছে উম্মাহ। এই সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ সম্পূর্ণভাবে না হলেও উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব এর দ্বারাই গঠিত। খিলাফতের বিশ্লেষণ দ্বারা আমরা রাষ্ট্রতত্বের ক্ষেত্রে তৌহীদের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে চাইছি। খিলাফত হচ্ছে ত্রিমুখী ঐক্মত্য দৃষ্টির ঐকমত্য, ক্ষমতার ঐকমত্য এবং উৎপাদনের ঐকমত্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ক</strong><strong>. </strong><strong>ইজমা</strong> <strong>আর</strong><strong>&#8211;</strong><strong>রুইয়াহ্</strong> <strong>বা</strong> <strong>দৃষ্টির</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>ইজমা আর-রুইয়াহ্ বা দৃষ্টির ঐকমত্য হচ্ছে মানসিক ঐক্য বা চৈতন্য এবং এর রয়েছে তিনটি উপাদান। প্রথম হচ্ছে, যে সব মূল্যায়ন নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছা ঘটিত সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাদের বাস্তব রূপায়ণ ইতিহাসে যে আন্দোলন সৃষ্টি করেছে, সে বিষয়ে জ্ঞান। স্পষ্টতই ইহা পদ্ধতিবদ্ধ এবং ঐতিহাসিক, দৃষ্টির উপাদানগুলো প্রকৃতিগতভাবেই অপরিসীম, অন্তহীন। তাই সমস্ত কিছু সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টির প্রয়োজন নেই, কেবলমাত্র তার সার নির্যাসেরই প্রয়োজন হতে পারে এবং প্রয়োজন হওয়া উচিত। এটি হচ্ছে একটি কাঠামো, একটি পদ্ধতি, স্তরে স্তরে বিন্যাস এবং সিদ্ধান্তের জন্য আবশ্যক যার পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন, যা একবার আয়ত্ব হলে এক জনের পক্ষে সমন্বিততার মধ্যে যা হারিয়ে গিয়েছিল, তা আবিস্কার করা এবং প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হয়। মূল্যমানের পদ্ধতিবদ্ধ জ্ঞান সম্পর্কে এ হচ্ছে বিশেষ করে সত্য। আর এই জ্ঞানের উৎস হচ্ছে প্রত্যাদেশ অর্থাৎ কুরআন এবং সুন্নাহ এবং যুক্তি, বুদ্ধি এর নিজস্ব প্রক্রিয়ার উপলদ্ধির মাধ্যমে, ন্যায়শাস্ত্র ও জ্ঞানতত্ত্ব এবং সাধারণভাবে সত্য সম্পর্কে উপলব্ধি (পরাতত্ত্ব) নিসর্গ সম্পর্কে উপলব্ধি (প্রকৃতি বিজ্ঞান), মানুষের সম্পর্কে জ্ঞান (নৃতত্ব, মনস্তত্ব এবং নীতিশাস্ত্র), এবং সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান (সমাজ বিজ্ঞানসমূহ)। প্রত্যাদেশের ক্ষেত্রে যেমন নয়, তেমনি বুদ্ধির ক্ষেত্রেও দৃষ্টির একাডেমিক ফল আবশ্যক নয়, যা উপাদানের পদ্ধতিগত ধারণা নিয়ে গঠিত, বরং তা হতে হবে ইনটুইটি স্বজ্ঞালব্ধ, অর্থাৎ এমন একটি উপলব্ধির আলোর অভিজ্ঞতা হতে হবে যা, যে কোন অঞ্চলকে আলোকিত করতে পারে, দৃষ্টির জন্য ইসলামের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এমন একটি ছবি প্রতিষ্ঠিত ক&#8217;রে<sup>৯</sup>।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একদিকে ইতিহাসে ইসলামী মূল্যমানসমুহ যে আন্দোলন সৃষ্টি করেছিল, সেই আন্দোলন এবং ইসলামী মূল্যমানগুলোর বাস্তবায়ন সম্পর্কে জ্ঞান মূখ্যত একটি অভিজ্ঞতার বস্তু<sup>১০</sup>। এই জন্যই প্রথম দিকের মুসলমানরা মহানবী সম্পর্কে সকল বিবরণ এবং তাঁর সাহাবাদের জীবন থেকে আহরিত ঘটনাবলী জানার জন্য অবিরাম চেষ্টা করেছেন। প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই এধরনের চাহিদা দেখা যায়, কারণ অনুসারীদের জন্য তাদের বিশ্বাসের অনুযায়ী ধারণা কি করে একটি কংক্রীট রূপে প্রকাশ পায় তার জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যমান বাস্তবায়নের বিশেষ উপাদানগুলো তাদের ছাত্রদের উপর একটি সার্থক এবং বাঞ্চনীয় শিক্ষকীয় প্রভাব বিস্তার করে। এগুলো তাদের পদ্ধতিগত অধ্যয়নের উপাদানগুলো থেকে সহজে বোঝা এবং স্মরণ রাখা যায়। যাই হোক খিলাফতের জন্য যে দৃষ্টিভঙ্গির উৎপাদন আবশ্যক তার জন্য উভয়টিই সমরূপে আবশ্যক।</p>
<p>মূল্যমানের পদ্ধতিগত উপলব্ধি এবং ইতিহাসে সেগুলোর রূপায়ণ, এ দুটি বিষয় নিয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানের জ্ঞানের অভাবে এবং বর্তমান কি করে সেগুলোকে নতুন করে বাস্তবায়িত করতে পারে, সেই জ্ঞান ছাড়া প্রায় এখন অসম্পূর্ণ। <strong>যেহেতু খিলাফত পশ্চাৎমুখী হতে পারে এবং বর্তমানের মধ্যে বাস করতে পারে এবং ভবিষ্যতেও কার্যকর হবে, সেজন্য বর্তমানের সঙ্গে মূল্যমানকে সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। স্থির করতে হবে বাস্তবে অস্তিত্বশীল কোন উপাদান কোন মূল্যমানকে বাস্তবায়িত করবে, সেগুলো রূপায়ণের বেলায় কেমন করে বর্তমান অবস্থাগুলো মূল্যমানসমুহের শ্রেণীর উপর প্রভাব বিস্তার করে।</strong></p>
<p>এখানে যে ইজমা আর-রুইয়াহর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাতে ধর্মীয় জ্ঞানের একটি উৎস বলে ধরা হয়েছে। রাসুল্লাহর এই হাদিস, &#8220;আমার উম্মাহ অসত্য বা মিথ্যার ব্যাপারে একমত হবেনা&#8221;, উম্মাহর জনমতের উপর প্রায় একটি পবিত্রতা আরোপ করেছে। তা সত্ত্বেও এ কোন অনড় মত নয় বরং সব সময়ই উন্মুক্ত<sup>১১</sup>। এই উম্মুক্ততাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে ইজতিহাদে, যা কেবল সামর্থ নয়, বরং প্রত্যেক বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন মুসলমানের কর্তব্য, ইসলামী সত্য ও মূল্যমানের সমগ্র পরিসর বা তার কোন অংশকে নতুন করে আত্মসাৎ করে। প্রকৃতিগতভাবেই ইজতিহাদ গতিশীল এবং সৃজনধর্মী এবং তার স্বগুণেই উপলব্ধিক্ষম মনের কাছে খুবই আবেদনশীল। ইজতিহাদকেও রাসুলুল্লাহ এই হাদীসে অভিনন্দনের যোগ্য বলে গণ্য করেছেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;যে কেউ ইজতিহাদ করে একটি ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সেও একটা সৎ কাজ করলো। যে কেউ ইজতিহাদ করে সত্যে উপনীত হয়, সে দ্বিগুণ পূণ্য লাভ করে।&#8221;</p></blockquote>
<p>ইজতিহাদ এবং ইজমা সম্মিলিতভাবে সৃষ্টি করে একটি দ্বান্দিক গতি, যা চিন্তার রাজ্যে ইসলামী গতিশীলতা গঠন করে। কারণ ইজমা যেখানে উপলব্ধি লাভের প্রয়াসে চূড়ান্ত বলে গণ্য হয় সেখানে তা ক্রমাগতই লংঘিত হয় ইজতিহাদের সৃজনধর্মী শক্তির বলে। অন্যপক্ষে, যেখানে ইজতিহাদ উপলব্ধির সর্বোচ্চ বাঞ্ছিত লক্ষ্য বলে পবিত্র বলে গণ্য হয় সেখানে তা সকল মুসলমানকে এর বৈধতা সম্পর্কে বিশ্বাসী করার প্রয়োজনে তা হয় নিয়ন্ত্রিত, সংশোধিত এবং সমালোচনা অর্থাৎ সকলের দ্বারা তা (ইজমা) তা সমর্থিত হবার প্রয়োজনে।</p>
<p><strong> </strong></p>
<p><strong>খ</strong><strong>. </strong><strong>ইজমা</strong> <strong>আল্</strong><strong>&#8211;</strong><strong>ইরাদা</strong> <strong>বা</strong> <strong>ইচ্ছার</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>ক্ষমতার ঐকমত্য হচ্ছে ইচ্ছার মিল বা ঐক্য এবং এর দুটি উপাদান আছে আল্ আসাবিয়া (সামাজিক সংহতি) যার বলে মুসলমানরা বিভিন্ন ঘটনা এবং পরিস্থিতিতে একইভাবে আল্লাহর আহবানের প্রতি সম্মিলিত আনুগত্যে সাড়া দেবার জন্য নিজেরা অঙ্গীকার করে এবং আন্- নিজাম, সিদ্ধান্তের বাস্তব রূপদানে সামর্থবান, মুসলিমদের কাছে পৌছাতে এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ করতে এবং সাংগঠনিক এবং যৌক্তিক কাঠামো মূল্যমানের ঔচিত্যকে ব্যক্তির গ্রুপ ও তাদের নেতাদের কর্তব্যের রূপদানে পারঙ্গম।</p>
<p>আল আসাবিয়া দৃষ্টিগত ঐক্যের সমান বা ফল নয়। এই ধরনের ঐকমত্যের দ্বারা আসাবিয়াকে সমৃদ্ধ ও তাৎপর্যপূর্ণ করা যেতে পারে। <strong>আসলে এই ধরনের ঐকমত্য ছাড়া আসাবিয়ার অস্তিত্ব অসম্ভব, কেননা যেখানে কোনো ব্যাপারে ঐকমত্য নেই, সেখানে কখনো সংহতি অর্জিত হতে পারে না। দৃষ্টিগত ঐকমত্যের চাইতেও আসাবিয়ার চাহিদা আরো বেশী, এর অভিব্যক্তি ঘটে আন্দোলনের সঙ্গে নিজের অভিন্নতা ঘোষণার সিদ্ধান্তে।</strong> বলতে গেলে উম্মাহর অর্ণবজানে নিজের ভাগ্য সমর্পণ করতে এবং পরে আহবানে সাড়া দিতে- অর্থাৎ আহবান বা দাওয়াতে ইতিবাচক &#8220;হ্যাঁ&#8221; বলতে এবং দাওয়াতে যা কিছু চায় তা ইতিবাচকভাবে সম্পাদন করতে।</p>
<p>খোদ্‌ এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি নির্মিত হয় একটি দীর্ঘ মনস্তাত্বিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ার উপর, যে প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি নিজেকে উম্মাহর সঙ্গে অভিন্ন রূপে দেখতে পায়, যার পরিশেষে তার চৈতন্য হয়ে উঠে বাস্তবায়নমুখী এবং মানুষ নিজেকে উম্মাহর ঐতিহাসিক ঘূর্ণাবর্ত ও সূচীমুখ হিসাবে খিলাফতের সঙ্গে নিজেকে এক করে দেখে। এই মনস্তাত্বিক প্রক্রিয়া শিক্ষা এবং অনুশীলনের বিষয়বস্তু হতে পারে। যেখানে তা হয় সেখানে এই প্রক্রিয়া হয়ে উঠে মার্জিত এবং সমৃদ্ধ। তবে জন্মের মাধ্যমেও প্রকৃতিগতভাবে এর আবির্ভাব হতে পারে এবং গোত্র বা গোষ্ঠীর বদ্ধ পরিবেশে তা লালিত পালিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া হয়ে উঠবে বিচার বুদ্ধিহীন। অন্ধ আরেক নিজেকে গোত্র বা জাতের সঙ্গে একাত্ম পণ্য করার এই অর্থে ইবনে খলদুন আসাবিয়াকে সমাজ সংহতির ভিত্তি বলে ঘোষণা করেছিলেন<sup>১২</sup>। যেহেতু ইসলামে এই বাস্তব উপাদানগুলো অতিক্রান্ত হয়েছে তৌহীদের আদর্শের দ্বারা সে কারণে ইসলামের আসাবিয়া হবে একটি নতুন প্রক্রিয়ার, একটি নতুন সংস্কৃতির ফল (আল্লাহর অভিপ্রেত আদলে  সক্রিয় ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিজের চেহারা বদল করা)। তাই আসাবিয়া হবে ইচ্ছাকৃত লালিত পালিত বিকশিত এবং পরিণত। কেবলমাত্র প্রকৃতিগতভাবে একটি অনৈচ্ছিক বিকাশ নাও হতে পরে, ইউরোপীয় রোমান্টিসিজমের জাতীয়তাবাদী অনুভূতির সঙ্গেও একে এক করে দেখা যাবেনা যা প্রায় বর্ণিত হয় অচেতন, অনৈচ্ছিক, অবর্ণনীয়রূপে অন্তর্গত এবং গূঢ় বলে, প্রকৃতপক্ষে যা গোত্র গোষ্ঠীতন্ত্রের আসাবিয়া। ইসলামী আসাবিয়া ইচ্ছাকৃত, পরিস্কারভাবে বিশ্লেষণযোগ্য একটি নৈতিক ও দায়িত্বপূর্ণ কর্ম। এ আসাবিয়া হচ্ছে তৌহীদের স্বচ্ছ আলোকে, তৌহীদের সকল তাৎপর্যের পূর্ণ প্রভায় উম্মাহর ভাগ্যের সঙ্গে, নিজেকে অভিন্ন গণ্য করার অঙ্গীকার এবং তাতে অংশগ্রহণ। এ দৃষ্টান্ত পাই আমরা এর বিশুদ্ধতমরূপে মক্কায় হজ্জ যাত্রীদের সম্মিলিত ধ্বনিতে যখন তারা কাবা ঘর তাওয়াফ করে অথবা যখন আরাফার দিকে ধাবিত হয়; &#8220;লাব্বায়েক আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক&#8221;- (তোমার আহ্বানে হে প্রভু এখানে আমরা হাজির, তোমার আহবানে)। আর এ হচ্ছে বহু শতাব্দী ধরে যে ভৌগোলিক বা গোত্র গোষ্ঠী ধর্মী বা সংস্কৃতিগত বৈশেষিকতা খাস পাশ্চাত্য জাতীয়তার চরিত্র শতাব্দীর পর শতাব্দী ধ&#8217;রে তার সম্পূর্ণ বিপরীত<sup>১৩</sup>।</p>
<p>যেহেতু আসাবিয়া ভূমন্ডলের একটি বিস্তৃত অঞ্চলে বিস্তৃত বিশ্বজনীন উম্মাহ্-গঠনকারী একটি উপাদান সে কারণে আল আসাবিয়া মুসলমানের ব্যক্তিগত মূহুর্তের একটি সত্য মাত্র হতে পারেনা। পরিস্থিতি এবং ঘটনায় সাড়া দিতে গিয়ে মুসলমান যখনি সক্রিয় হতে ইচ্ছা করে বা বাধ্য হয় তখন তা একটি অবাধ তরঙ্গোচ্ছাস হিসাবে কাজ করতে পারেনা; এরূপ কাজ হবে জগৎব্যাপী বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জনক। আসাবিয়া ইসলাম সম্মত এবং সে কারণে দায়িত্বশীল হতে হলে শৃংখলার অধীন, অবশ্যই হবে নিয়ম গভীরতা ও দিশার দিক দিয়ে এবং অন্য সকল মুসলমানের সঙ্গে সমবায়মূলক ক্রিয়াকান্ডের সঙ্গে নিজেকে অভিন্নভাবে যুক্ত করার জন্য শৃংখলার অধীন। এটাই হচ্ছে আন্-নিজামের রূপ, যে বিষয়ে তৌহীদের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে ইজমা-প্রথা মুসলমানদের তৈরি করেছে। এই নিজামের দিকে লক্ষ্য করে, আমাদের পিতৃপুরুষেরা ভালভাবেই জানতেন যে প্রত্যেক মুসলমানকে হতে হবে অক্ষরজ্ঞান এবং সাহিত্যের রুচীসম্পন্ন তাকে কুরআনের বৃহৎ অংশ সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান রাখতে হবে, নবী চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে হবে এবং সাহাবাদের জীবনী জানতে হবে, তার গৃহের নিকটবর্তী জামাতে এবং ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে হবে- (অর্থাৎ অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ইবাদত করতে হবে- আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি নিকটবর্তী মসজিদে সালাতের সময় যে মুসলমানদের কাঁধ পরস্পর স্পর্শ করা উচিত, এই তাগিদের মানে এই যে, এতে করে, একের কাছে অপরের অস্তিত্ব জীবন্ত হয়ে উঠবে, একের সঙ্গে অপরের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পরিচয় এবং শব্দটির আক্ষরিক অর্থে বৃহত্তর উম্মাহর সঙ্গে সহযোগিতার উপলব্ধি. বাস্তব হয়ে উঠবে, যাতে করে আল্লাহ যে সকলের প্রভু এবং মালিক ইবাদতকারীর চেতনায় তা মুদ্রিত হয়ে যায়। এ সমস্তই পরিকল্পিত হয়েছে খিলাফতের আনুষ্ঠানিক সংগঠনের প্রস্তুতি হিসাবে। সেকালে মসজিদ ছিলো এবং একালেও তা হওয়া উচিত সকল ইসলামী কর্মতৎপরতার কেন্দ্র, ইসলামের আবশ্যিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু, কারণ মসজিদে মুসলমানরা দৈনিক মিলিত হত, তৌহীদের বন্ধনে তার সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে একটি জীবন্ত সম্পর্ক স্থাপন করতো এবং লাভ করতো আধ্যাত্মিক, নৈতিক, রাজনৈতিক জীবনীশক্তির দৈনিক বরাদ্দ। এই খোরাক সরবরাহ করা যায় এবং প্রকৃতই তা সরবরাহ করা হতো যে কোন মুসলিম কর্তৃক, যার অধিকতর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছিলো তার সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার, যাতে খোদ খলিফাকেও বাদ দেওয়া হতোনা। আল্লাহর আদেশ পালন করতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালার দিকে আহবান কর মানুষকে প্রজ্ঞা এবং অধিকতর সুন্দর যুক্তির মাধ্যমে<sup>১৪</sup>। এবং রাসুলুল্লাহর (সঃ) নসিহত প্রদানের আদর্শে স্বাধীনভাবে প্রদত্ত পরামর্শ, যে নসিহতের আদর্শকে ইজতিহাদের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়েছে<sup>১৫</sup>। সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে এই সম্পর্ক ও সংসর্গ রূপ নেবে জুম্মার সালাতে যেখানে ঈমামের খুৎবা হচ্ছে একটি গঠনমূলক স্তম্ভসদৃশ। খুৎবার বিষয়বস্তু হবে বর্তমান পরিস্থিতি, মুসলামান সমাজকে যে সব সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে সেসবের উপরই খুৎবা দেবেন ইমাম। খুৎবাতে যে কুরআন এবং হাদিসের কিছু উল্লেখ থাকে তার উদ্দেশ্য হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইসলামী প্রজ্ঞার বক্তব্য পেশ করা এবং এভাবে তার প্রাসঙ্গিকতা ঘোষণা করা। আমির (শাসক) নিজেই যে জুম্মার সালাতের ইমাম হবেন, এই প্রথার উদ্দেশ্য ছিলো কার্যকর করার জন্য সপ্তাহের আলাপ আলোচনা থেকে যে ঐক্যমতের সৃষ্টি হয় তার সুস্পষ্ট রূপদান কিংবা ঐকমত্য অর্জিত না হলে নেতৃত্বকে ঘিরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং উপস্থিত প্রশ্নের আবশ্যক বিচার ও প্রতিবাদের ব্যবস্থা করা। ইসলামের এ সমস্ত ইবাদত পৃথিবী এবং মানুষের বাস্তব রূপান্তর, যে উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে খোদ কুরআন<sup>১৬</sup>, পৃথিবীস্বরূপ আল্লাহর জমিদারীতে রায়ত এবং কৃষকের বাস্তব খিদমত, মরুভূমিকে খুটি করে উপনিষদীয় গুরুর, তথা সন্যাসীর, শারীরিক কসরত, তথা যোগ সাধন নয়, কোন ধর্মীয় ঐতিহ্যের আত্মনিঃগ্রহ, বিশ্বের অস্বীকৃতি এবং ইতিহাস প্রত্যাখ্যান নয়!</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>গ</strong><strong>. </strong><strong>আমলের</strong> <strong>ইজমা</strong> <strong>বা</strong> <strong>কার্যের</strong> <strong>ঐকমত্য</strong></p>
<p>কার্যক্ষেত্রে পূর্বে উল্লেখিত সমস্ত প্রস্তুতির চূড়ান্ত শীর্ষ হচ্ছে ইজমা আল-আমাল। এ হচ্ছে ইজমা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠা ঔচিত্যের রূপ। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা ইজমা-ইজতিহাদ দ্বন্দের চিরন্তন গতিশীলতার মতই কখনো নিঃশেষ হতে পারেনা। মানুষকে তার বেহেস্তের অধিকার অর্জনের প্রয়াসে, দেশকালের মধ্যে আল্লাহর ইচ্ছাকে বাস্তাবায়িত করা এমন একটি প্রয়াস কেবল বিচার দিবসই যাতে যতি টানতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে উম্মাহর বৈষয়িক চাহিদাগুলো পুরণের ব্যবস্থা, এর প্রত্যেক সদস্যকে এমন একটি শিক্ষাদান যাতে করে তার পূর্ণ আত্মপরিচয় সম্ভব হবে; আরো রয়েছে উম্মাহর সফল প্রতিরক্ষার জন্য বৈদেশিক শত্রুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার বৈষয়িক ও নৈতিক উপায়ের ব্যবস্থা করা এবং তৎসহ সারা পৃথিবীতে আল্লাহর অভিপ্রায় রূপায়ণের জন্য নৈতিক ও বৈষয়িক উপায়ের ব্যবস্থা।</p>
<p>আল্লাহর অভিপ্রায়ের সার নির্যাস হচ্ছে, উম্মাহর বৈষয়িক চাহিদা পুরণ এবং সে কারণে তা ধর্মেরও মর্মকথা। যেহেতু তার খিদমত করার জন্য আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন<sup>১৭</sup> এবং আল্লাহর জমিনে রায়ত-কৃষকের মত এই দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন<sup>১৮</sup>&#8211; তাতে করে ইহা অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, আল্লাহ চান মানুষ জমি চাষ করবে, প্রকৃতির উপাদান এবং শক্তিগুলোকে ব্যবহার করবে এবং তার খুশীমত সভ্যতার বিকাশ ঘটাবে<sup>১৯</sup>। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করতে গিয়ে কুরআন দারিদ্রকে শয়তানের অঙ্গীকার বলে বর্ণনা করেছে<sup>২০</sup>। এবং ধর্মের সঙ্গে ক্ষুধার্তের খাদ্য দান এবং দুর্বলের রক্ষণকে অভিন্ন গণ্য করেছে<sup>২১</sup>। বিশেষ করে মানুষ যখন আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব পালন করে<sup>২২</sup>, তখন মানুষের খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের স্বাভাবিক প্রতিফল এই যে, সে সৃষ্টির মাধুর্য এবং আনন্দ উপভোগ করবে। মেসোপটেমীয় দৃষ্টিতে মানুষের সৃজনের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আল্লাহর জমিনে স্থাপন করা হয়েছে, তাঁর ভৃত্য হিসাবে। কিন্তু মানুষের এই সৃজন কর্মই হচ্ছে সংঘবদ্ধ কৃষিকর্ম, বাঁধ তৈরী, সেচ এবং পানি নিষ্কাশন, খাল খনন, শষ্য সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের জন্য, পিরামিড, মন্দির নির্মাণ, লিখন ও হিসাব রক্ষণ পদ্ধতি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে গ্রাম-সরকার, নগরী, প্রদেশ, জাতি এবং বিশ্ব পর্যায়ে সরকার প্রতিষ্ঠার সূচনা। সংক্ষেপে আল্লাহর এই সৃজন কর্মই হচ্ছে বিশৃংখলা থেকে সৃষ্টিকে শৃংখলার অধীনে আনয়ন এবং শৃংখলাবদ্ধ জগতের সৃষ্টি<sup>২৩</sup>।</p>
<p>সেমিটিক মন কখনো সংসারত্যাগীর সংসার বর্জন বা আত্মনিগ্রহের অর্থ বুঝতে সক্ষম নয়, ইহা কখনো কাম ও প্রজনন, খাদ্য ও আরাম আয়েশকে স্বাভাবিক পাপ বলে গণ্য করেনা। এর দৃষ্টিতে পাপ হচ্ছে এসবের অপব্যবহার, কখনো প্রকৃতির বিষয় হিসাবে এগুলো পাপ নয়। খ্রীষ্টান ধর্ম বস্তুর সকল ভীতিসহ যে গ্নষ্টিক (gnostic) ঐতিহ্যকে উত্তরাধিকারস্বরূপ গ্রহণ করে, তাই খ্রীষ্টান আন্দোলনে সংসার বর্জন ও আত্মনিগ্রহরে বীজ বপন করে। ইসলাম অবশ্যই শ্রম বা উপবাসের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এর উদ্দেশ্য হচ্ছে দুটিঃ আত্মসংযমের অনুশীলন এবং অভাবগ্রন্থের প্রতি সমবেদনা ও সহানুভূতি। একই আয়াতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর খাদ্য, পানীয় এবং আনন্দের মাধ্যমে অবশ্যই ভাঙতে হবে রোজা।</p>
<p>খলিফাকে যদি মানুষের বৈষয়িক চাহিদা অবশ্যই পূরণ করতে হয় যা প্রত্যাশা করা হয় খলিফার কাছ থেকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে মানুষের এই বৈষয়িক চাহিদা কি পরিমাণ হলে যথেষ্ট হবে। ন্যূনতম চাহিদা সহজেই নির্ণয় করা যায়; সে চাহিদা হচ্ছে সকল মানুষের জন্য দুর্ভিক্ষ, ব্যাধি এবং শিশু মৃত্যুর প্রকোপ থেকে রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন তাই হচ্ছে ন্যূনতম চাহিদা, কিন্তু সর্বোচ্চ চাহিদা নির্ণয় করা অসম্ভব, কেননা প্রকৃতির ব্যবহারের সীমা অথবা প্রকৃতির খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা নির্ণয় করা যায়না। এদুটিই হচ্ছে মানুষের কল্যাণের জন্য, আল্লাহ তায়ালা প্রকৃতি বা তার পদ্ধতির মধ্যে যে নিয়ম প্রবর্তন করেছেন সেগুলোর উপর মানুষের কর্ম প্রসারণশীল কর্তৃত্বের বিষয়<sup>২৪</sup>। কুরআন আমাদেরকে জানাচ্ছে আসমানে এবং জমিনে যা কিছু আছে সমস্তই আমাদের কল্যাণের জন্য। রাসুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;যে কেউ রাত্রে গৃহে প্রত্যাবর্তন করে যখন তার একদিনের পথে কোথাও একটি মাত্র মানুষও ক্ষুধার্ত থাকে, সে আল্লাহকে কষ্ট দিয়েছে।&#8221;</p></blockquote>
<p>এবং দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রাঃ) ঘোষণা করেছিলেন</p>
<blockquote><p>&#8220;আমি ভয় করি যে, বিচার দিবসে নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে দায়ী করবেন, প্রত্যেকটি খচ্ছরের জন্য যা হোচট খায় বা পড়ে যায়, খিলাফতের সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের মেরামতহীন ভাঙ্গাচুড়া রাস্তায়<sup>২৫</sup>।&#8221;</p></blockquote>
<p>নিশ্চয়ই ইসলাম অন্য সকল ধর্মের মতই দান খয়রাতের নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম দান খয়রাতকে বলে সাদাকা (শাব্দিক ভাবে যার অর্থ হচ্ছে সত্যপরায়ণতার একটি খন্ড) যার দ্বারা ইসলাম একে একজনের ঈমানের সত্যতার অভিব্যক্তি এবং সূচক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। কিন্তু সকল ধর্মের চাইতে স্বতন্ত্রভাবে ইসলাম ব্যবস্থা করেছে যাকাতের, যা বার্ষিক শতকরা আড়াই ভাগ হিসাবে একটি সম্পদ কর এবং তা আদায় করা হয় রাষ্ট্রীয় আইনের অনুমোদনক্রমে। ইসলাম যে একে যাকাত বলে (মাধুর্য বা মিষ্টতা) এর দ্বারা ইসলাম বোঝাতে চায় যে, আমরা যদি আমাদের সম্পদে আমাদের সঙ্গী সাথীদের অংশীদার না করি, তাহলে বছরে সে সম্পদ হয়ে উঠে তেতো। অধিকন্তু ইসলাম বঞ্চিতদেরকে এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, তাদের জন্য ভিক্ষা, দান বা অপমানজনকভাবে ছুঁড়ে মারা কোনো রুটীর টুকরো নয়, বরং এ হচ্ছে বিত্তবানের সম্পদ তাদের হক, তাদের অধিকার<sup>২৬</sup>। ইসলাম একচেটিয়া ব্যবসা যেমন নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি নিষিদ্ধ করেছে মজুতদারী এবং মানুষের উপর মানুষের শোষণের প্রধান হাতিয়ারস্বরূপ সুদকে উচ্ছেদ করেছে<sup>২৭</sup>। পক্ষান্তরে যেখানে ইচ্ছা এবং সর্বত্র আল্লাহের অনুগ্রহ সন্ধানের জন্য মানুষকে নির্দেশ দিয়েছে<sup>২৮</sup>। এদেরকে সেই প্রকৃতপক্ষে অনুগ্রহ প্রাচুর্যের সন্ধানে দেশ দেশান্তরে যেতে বলেছে, তলে আল্লাহর নৈতিক বিধানের আওতায়- বিশ্বাসঘাতকতা, প্রবঞ্চনা, চৌর্যবৃত্তি অবলম্বন বা লুটপাট না করে এবং এভাবে একবার প্রাচুর্য অর্জনের পর সেই বিপুল সম্পদের কোন অংশ কিংবা তার বহুগুণ বৃদ্ধিতে যাকাত প্রদান করে তিক্ততা দূর ক&#8217;রে মধুর করে তুলতে হবে। এবং এভাবে সাদাকাত দ্বারা এই বৃত্তির অধিকারীর সত্যবাদিতা প্রমাণ করতে হবে<sup>২৯</sup>।</p>
<p>উম্মাহর প্রত্যেকটি সদস্য যাতে পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ামত অর্জন ও ভোগ করতে পারে তার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করাই অবশ্য খিলাফতের দায়িত্ব। কিন্তু এই লক্ষ্য, মহৎ এবং আবশ্যক হলেও যে মুহুর্তে একে মানব জীবনের একমাত্র বা চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে গণ্য করা হয় তখনই তা পর্যবসিত হয় তাহা পাশবিকতায় এবং অধঃপতনে, যাতে মানুষের ব্যক্তিত্বের ঘটে বিকৃতি এবং গোটা ঐশী অভিপ্রায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা<sup>৩০</sup>। মানুষের বৈষয়িক প্রয়োজনগুলো নির্দোষ এবং বস্তুতই উত্তম; সম্ভাব্য উচ্চতম মাত্রায় এগুলোর পরিপূরণ আবশ্যক। কিন্তু জীবনের গোটা বৈষয়িক দিকটি যেগুলো রক্ষা করবে, সেগুলো ব্যক্তি বা সমগ্রভাবে উম্মাহর আধ্যাত্মিক মর্মের উপায় বা বাহন মাত্র। বৈষয়িক অর্জনকে চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে গণ্য করার মানে হচ্ছে আধ্যাত্মিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা।</p>
<p>এ হচ্ছে এরূপ দাবীরই নামান্তর যে, আধ্যাত্মিকতা হচ্ছে একটি শূন্য বিষয়, আচার অনুষ্ঠান ও মনস্তাত্বিক আত্মরূপান্তরের দেহ বিযুক্ত জীবন, যা বস্তুগত জীবন অনুসন্ধানের বিকল্প ইসলামে আধ্যাত্মিক জীবন হচ্ছে তিনটি পর্যায়ের, যা একই সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে। এর প্রথম পর্যায়টি হচ্ছে, উম্মাহর সাধারণ বৈষয়িক কাজকর্মে ব্যক্তির অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে মানুষের নিজের বৈষয়িক প্রয়োজনকে উম্মাহর কাজকর্মের প্রয়োজনের অধীনে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয় স্তরটি হচ্ছে দুটি পর্যায়ে নিজের এবং অন্যদের শিক্ষার জন্য প্রয়াস; যেমন প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব মানুষের জন্য প্রকৃতির ব্যবহারকে অধিকতর সম্ভব এবং সহজসাধ্য করে তোলে; এবং ইজমা ইজতিহাদের দ্বান্দ্বিকতা হয়ে উঠতে পারে গতিশীল, সৃজনধর্মী এবং ঐশী অভিপ্রায়ের আরো উঁচু হতে উঁচুতর ক্ষমতার স্তর পর্যন্ত পৌছুতে পারে। তৃতীয় স্তরটি হচ্ছে নন্দনতাত্বিক সৃষ্টি, যাতে উম্মাহর আকুতি এবং জীবনরূপ পায়- কারণ উম্মাহ মূল্যবান বা ঐশী অভিপ্রায়কে বাস্তব এবং রূপায়িত করে তুলে ইতিহাসের পরিক্রমায়।</p>
<p>ইজমা ইজতিহাদের (উৎপাদনের মতৈক্য) দ্বিতীয় উপাদান হচ্ছে উম্মাহর প্রত্যেক সদস্যের জন্য এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করা যার বদৌলতে পূর্ণ আত্মপরিচয় অর্জন সম্ভব হয়<sup>৩১</sup>। আল্লাহর বান্দা হিসাবে কোনো ব্যক্তি তার পেশাকে উপলদ্ধি করেনা, যদিনা তার ব্যক্তিগত সম্ভাবনা ও ক্ষমতার চূড়ান্ত বিকাশ ও সম্ভাব্য পূর্ণতম ব্যবহার হয়। এধরনের ব্যক্তি নিজেকে অসুখী বলে মনে করবেনা এবং এধরনের ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি ব্যর্থ সমাজ হবেনা, কিন্তু মেধার পূর্ণ ব্যবহার না হলে, শক্তি অব্যবহৃত থাকলে এবং উৎসাহ উদ্দীপনা অপূর্ণ থাকলে, উম্মাহর গন্ডীর বাইরে আত্মউপলব্ধির প্রলোভন অথবা খিলাফতকে ক্ষতিগ্রস্থ এবং ব্যর্থ করার প্রবণতা থেকেই যাবে। খিলাফতকে দুটিই করতে হবে: &#8220;প্রয়োজন সৃষ্টি করা অর্থাৎ সদস্যদের মধ্যে সত্য সম্ভাবনা জাগ্রত করা এবং সেগুলোর পরিপূরণের উপায়ের ব্যবস্থা করা।&#8221; যদি পূর্বোক্ত ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হয় সে পাবে এমন একটি উম্মাহ যা অজ্ঞ এবং অজাগ্রত ও অর্বাচীন লোকদের নিয়ে গঠিত, যদি দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হয়, তাহলে তা দেশ ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে শূন্য ও ধ্বংস করার পথ উম্মুক্ত করে দেবে, অথবা অভ্যন্তরীণ নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ এবং বিদেশীদের শোষণের মাধ্যমে আত্মবিনাসের পথ উন্মুক্ত করে দেবে।</p>
<p>উৎপাদনের ঐকমত্য চরিতার্থ করার জন্য খেলাফত অবশ্যই উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করবে, শত্রুর আক্রমণ থেকে উম্মাহর কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য, প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করবে<sup>৩২</sup>। কোনো সদস্যই স্বেচ্ছাসেবী নয়। বরং সকলেই বাধ্যতামূলকভাবে তালিকাবদ্ধ সৈনিক, যখন উম্মাহর মূল অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে, অথবা যখন পৃথিবীতে আল্লাহর বাণীকে সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তাদের সার্ভিস প্রয়োজন।</p>
<p>চূড়ান্ত বিশ্লেষণে ইজমা আল-আমালের এই দিকটির দ্বারাই উম্মাহর সর্বোচ্চ সাফল্য স্থিরীকৃত হয়, অর্থাৎ পৃথিবীকে ইসলামের জীবন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করায় এর অবদান নির্ণিত হয়। পেশা বা বৃত্তির এই দিকটি উম্মাহকে সেই স্তরে উন্নীত করে যেখানে পৌঁছানোর পর সে মানুষের ইতিহাসের এবং বিশ্ব ইতিহাসের মোকাবেলা করতে পারে। এই পর্যায়ে উম্মাহর সাফল্য হচ্ছে আল্লাহর দৃষ্টিতে উম্মাহর চূড়ান্ত যৌক্তিকতা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>২</strong><strong>. </strong><strong>তৌহীদ</strong> <strong>এবং</strong> <strong>রাজনৈতিক</strong> <strong>ক্ষমতা</strong></h4>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ক</strong><strong>. </strong><strong>ইসলাম</strong> <strong>ও</strong> <strong>মুসলিম</strong> <strong>বিশ্ব</strong><strong>: </strong><strong>দুঃখজনক</strong> <strong>কতগুলো</strong> <strong>বাস্তবতা</strong></p>
<p>মুসলিম বিশ্ব আল্লাহর পৃথিবীতে আল্লাহর কালামকে সবার উপরে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি মহাসম্ভাবনাপূর্ণ শক্তি, কেননা এই মুহুর্তে মুসলিম বিশ্বে বাস করছে আটলান্টিক থেকে পূর্ব দিকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে, একশত কোটির বেশী মানুষ এবং তা এখন ইউরোপ এবং আমেরিকাতে শিকড় গাড়তে ও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তার নিজের জন্য এবং পৃথিবীর জন্য এটি একটি দুর্ভাগ্যের বিষয় যে আল্লাহর অভিপ্রেত লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্ব এখনো তার ক্ষমতার বিকাশ ও ব্যবহার থেকে দূরে। প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিশ্ব তার নিজের ক্ষমতা, নিজের বিকাশের জন্য প্রয়োগ, স্বদেশে তার ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যর্থ প্রয়াস ও অমুসলমানদের স্বার্থে গঠনমূলক প্রচেষ্টায় সেই সব শক্তির অপচয়ের মধ্যে একটি অনিশ্চিত ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে।</p>
<p>মুসলিম দেশগুলোর সংবিধানের অধিকসংখ্যকই ঘোষণা করে যে, রাষ্ট্রের ধর্ম হচ্ছে ইসলাম। কেবলমাত্র একটি দেশই, সৌদি আরব, এই ঘোষণাকে গুরুত্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে, যার লক্ষণ হচ্ছে রাষ্ট্রে শরীয়াহর কার্যকরণ। অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো কিছু সংখ্যকের, যেমন- পাকিস্তান ও কুয়েতের স্থান এর পরেই, কারণ এই সব দেশের সংবিধান ঘোষণা করেছে, ইসলাম হচ্ছে রাষ্ট্রের এবং উম্মাহর মূল শর্ত, তবে এর সঙ্গে তারা যোগ করেছে পাশ্চাত্য বর্ণনামূলক এসব ধারণা যে, তারা যে জাতি বা রাষ্ট্র এর কারণ তারা একটি জাতি গোষ্ঠী, একটি অঞ্চল এবং সার্বভৌমত্ব সমবায়ে তাদের জাতি বা রাষ্ট্র গঠিত, এটি এমন একটি বিবেচনা যাতে অপরিহার্য শর্ত হিসাবে ইসলাম অসম্পূর্ণ বলে গণ্য। তৃতীয় শ্রেণীর রাষ্ট্রগুলো যেমন মিশর, মরক্কো এবং সুদান ইত্যাদি। যারা ইসলামকে কেকের উপর বরফের একটি আবশ্যক আস্তর বলে গণ্য করে, যে কেকটির অন্তর্গত কাঠামো এবং বিন্যাস গঠিত পাশ্চাত্যের ধ্যান ধারণার দ্বারা, ইসলামী ধ্যান ধারণার দ্বারা নয়। জাতীয়তাবাদ নামক এক নতুন শুউবীয়া বা গোত্রবাদ পাশ্চাত্য ধরনের (রক্ত এবং মাংসের) রোমান্টিসিজম দ্বারা নির্ধারিত হয় অভিবাসন, এবং ন্যাচারালাইজেসনের আইন কানুন, নেতাদের সক্রিয় রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ও অন্যান্য শিক্ষিত শ্রেণীর জীবন আচরণের রূপ এবং নিজেদের সামাজিক প্রতিকৃতি যা জনগণের শিক্ষা এবং প্রেরণার জন্য পরিকল্পিত ও প্রচারিত হচ্ছে। এমন কোন মুসলমান দেশই নেই যা মদীনায় রাসুল্লাহর সমগ্র সময়ে মহানবীর সমাজ যে নিরবিচ্ছিন্ন মবিলাইজেশন ও সতর্ক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে সেই মবিলাইজেশন ও সর্তকতার মধ্যে নিজেকে পরিচালিত করেছে। এবং সম্ভবত মুসলিম বিশ্বের সবচাইতে নিকৃষ্ট দিক হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে তার দেউলিয়াপনা। এমন কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব কোথাও নেই যা পাঁচ বছর বয়স্ক মুসলিম শিশুর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তার সম্ভাবনাপূর্ণ বিকাশে তাকে উম্মাহর নিকট প্রত্যর্পণ করে। পৃথিবীকে রূপান্তরিত করার জন্য মুসলিমদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণের কোন সুযোগ সুবিধা আমাদের নেই- সে সুযোগ সুবিধা নেই ঐশী নক্সার আদলে উপাদান উপকরণকে রূপ দেওয়ার এই চেতনায় যে, সেই ঐশী নক্সাই হচ্ছে তার ব্যক্তিগত জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। পি. এইচ. ডি অথবা এম. ডি. গ্রাজুয়েটদের মোট সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষিত ইমিগ্রান্ট এবং হতাশ বসবাসকারীদের হার ভয়ংকরভাবে অনেক উচ্চে, এর পরিসরের অন্যপ্রান্তে শিক্ষিতদের সঙ্গে অশিক্ষিতদের সর্বোচ্চ হার আতংকজনক।</p>
<p>মুসলমানরা যে দীর্ঘদিনের নিদ্রা থেকে জেগে উঠতে শুরু করেছে তাতে বিচলিত হবার কিছু নেই, তাদের সমাজগুলো আর্থিক সামাজিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে যে দুর্বল অথবা তাদের রাষ্ট্রগুলো যে নিষ্ক্রীয়তা ও আলস্য থেকে পৃথক ধ্বনি তুলে এলোমোলোভাবে পা ফেলে দাঁড়াচ্ছে তাতেও বিচলিত হবার কিছু নেই। বিচলিত হবার বিষয় হচ্ছে উম্মাহর এই মুহূর্তে বর্তমান ও ভবিষ্যতের এই সন্ধিকালে মুসলিম নেতাদের উম্মাহ সম্পর্কে দূরদৃষ্টির অভাব। আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হচ্ছে এই দূরদৃষ্টির অভাবের ফল এবং ইসলামী নাগরিকদের গড়ে তোলার চেষ্টার সম্পূর্ণ অভাব, যে নাগরিকেরা ইসলামী আদর্শের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কারণ সে একবিংশ শতাব্দীতে নিজের পরিচয় সম্পর্কে সজাগ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>খ</strong><strong>. </strong><strong>রাজনৈতিক</strong> <strong>ক্ষমতার</strong> <strong>প্রতিশ্রুতি</strong></p>
<p>কোনো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মুসলিমই এই শতাব্দীতে উম্মাহর দুঃখজনক ব্যর্থতাগুলো সম্পর্কে মুসলিম রাজনৈতিক নেতারা সাধারণত যে সব কৈফিয়ত দিয়ে থাকেন, সেগুলো বোঝেনা বা গ্রহণ করেনা এবং কেউ এ যুক্তি গ্রহণ করেনা যে, খিলাফতের নেতাদের উদ্যোগ গ্রহণের পূর্বেই জনতার মধ্যে থেকেই আসতে হবে। যে এলিট শ্রেণীর এ বিষয়ে উৎকৃষ্টতর জ্ঞান আছে নিশ্চয়ই তাদের অস্তিত্ব রয়েছে এবং তারা সংখ্যায় প্রচুর। ইতিহাসের এই মুহূর্তে যা প্রয়োজন মুসলিম উম্মায় ইচ্ছা-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তাকে গতিশীল করে তোলা। এবং কেবল তখনই তা সম্ভবপর হতে পারে, যখন নেতারা প্রস্ততি গ্রহণ করবেন, কর্তা হিসাবে ইতিহাসের গতিধারায় হস্তক্ষেপের বিপজ্জনক ভূমিকায়, এর বোগী বা কর্ম (object) হিসাবে নয়<sup>৩৩</sup>।</p>
<p>মুসলিম উম্মাহ কর্তৃক ইতিহাসে হস্তক্ষেপের সূচনা হয় গৃহেই, খিলাফতকে নির্মাণ করার ধৈর্য্যপূর্ণ অবিচলিত প্রয়াসের মাধ্যমে যা বর্তমান কোন মুসলিম রাষ্ট্রেই বিদ্যমান রয়েছে বলে মনে হয়না। যেখানে নোঙ্গর ফেলতে হবে তার একটি সাময়িক বুনিয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই খিলাফতকে অবশ্যই সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে মবিলাইজ করার জন্য চেষ্টিত হতে হবে, এবং মার্চ করে অগ্রসর হবার জন্য ডাক দিতে হবে। এই উদ্দেশ্য পুরণের জন্য খোদ খিলাফতের বিলুপ্তি ছাড়া আর কোন প্রয়াসই বাহুল্য বলে গণ্য হওয়া উচিত নয়। খিলাফতের কর্মচারী ও পরিচালকদেরকে কোরবান করা যেতে পারে বা কোরবানী করা উচিত, যদি কোরবানী ছাড়া অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতি সম্ভব না হয়। যে মুহূর্তে উম্মাহ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়াবে সেই মুহূর্তে আবু বকরের খিলাফত আবার আয়ত্বে এসে যাবে আর তা হবে সর্বকালের মহত্তম মুহূর্ত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>টীকা:</strong></p>
<p>১. তোমাদের এই উম্মাহ এক, ঐক্যবদ্ধ এবং অবিভাজ্য এবং আমি তোমাদের রাব্ব, তোমরা আমার বন্দেগী কর (২১: ৯২)।</p>
<p>২. (মানবজাতি ক্ষতিগ্রস্থ) তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, একে অপরকে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে এবং ধৈর্য্যশীল হতে আদেশ করেছে (১০৩: ৩)- যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং ধৈর্য্য ও দয়া দাক্ষিণ্যের নির্দেশ দেয় (৯০: ১৭)।</p>
<p>৩. আল্লাহ রজ্জু দৃঢ়ভাবে অবলম্বন কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা, স্মরণ কর তার অনুগ্রহের কথা, তোমাদের মিলনের কথা, যখন তোমরা ছিলে একে অপরের শত্রু এবং তোমরা হয়ে উঠলে পরস্পরের ভাই এবং যখন তোমরা ধ্বংসের অতল গহ্বরে কিনারে উপনীত হয়েছিলে এবং তিনি তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছিলেন, এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে দেখান তার নির্দশন, যাতে তোমরা সৎপথ পেতে পার (৩: ১০৩)।</p>
<p>৪. তোমাদের মধ্য থেকে একটি উম্মাহ্ হউক, যে সৎকাজের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের নির্দেশ দিবে, মন্দ কাজ নিষেধ করবে। প্রকৃতপক্ষে তারাই সফলকাম (৩: ১০৪)।</p>
<p>৫. আল্লাহ এবং তাঁর নবীকে মেনে চল, যদি তোমরা প্রকৃতই মুমিন হও (৮: ১)।</p>
<p>৬. আল্লাহর দৃষ্টিতে সেই মহত্তম তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে পুণ্যব্রতী, সবচেয়ে সদাচারী (৪৯: ১৩)।</p>
<p>৭. তোমরা পরস্পরের সহযোগিতা কর সৎকর্মে ও পুণ্যকাজে, মন্দকর্মে ও সীমা লংঘনে নয় (৫: ২)।</p>
<p>৮. খিলাফাহ, খুলাফাহ, খালায়েফ, ইয়াস্তাখলিফুকুম প্রভৃতি শব্দগুলোর দ্বারা কুরআনের আয়াতে এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>৯. তোমাদের মধ্য থেকে একটি উম্মাহ্ হউক যে সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কর্ম বারণ করে, প্রকৃতপক্ষে তারাই সফলকাম (৩: ১০৪)।</p>
<p>১০. ইসলামী আইন-কানুনের কংক্রীট রূপদান ও বাস্তবায়নের এই ত্যাগীদের ইসলামে এবং ইউটোপিয়াবাদী ধর্মগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীতে, একটি বাস্তব ধর্ম হিসেবে ইসলাম খ্যাতি অর্জন করে।</p>
<p>১১. ইসলামে জনকণ্ঠ বা জনমতকে কখনো আল্লার কণ্ঠের সমান গণ্য করা হয়নি, বরং জনকণ্ঠ বা জনমত সবসময়ই আল্লাহর নির্দেশের অনুবর্তি ও অধীনে রয়েছে, জনমত যখন আল্লাহর আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তখনই তা বাধ্যতামূলক এবং যখন আল্লাহর বাণী থেকে ভিন্নপথ অবলম্বন করে তখনই তা নিন্দনীয় হয়।</p>
<p>১২. Abd al Rahman ibn Khaldun. Al Muqaddimah (Cairo: Matbaut Mustafa. Muhammad n.) pp. 127 if.</p>
<p>১৩. দেখুন এই গ্রন্থকারের (Christion Ethics Chap 1 VII Urubah and Religion pp. ff</p>
<p>১৪. তোমরা রবের পথের দিকে আহ্বান কর, প্রজ্ঞা ও শোভন প্রচারের মাধ্যমে, অবিশ্বাসীদের সঙ্গে সংলাপে সবসময় শ্রেষ্ঠতর এবং শোভনতর যুক্তি উত্থাপন কর (১৬: ১২৫)।</p>
<p>১৫. শাসকের বৈধ সমালোচনাকে উৎসাহিত করার জন্য মহানবী বলেছেন, &#8220;যে কেউ শাসকের জবাবদিহি বাধ্য করার প্রয়াসে মারা যায়, সে শহীদের মৃত্যুবরণ করে&#8221; এবং কোন জাতি যখন দেখে একটি শাসক জবরদাস্ত স্বৈরশাসন চালাচ্ছে এবং তাকে থামাবার জন্য চেষ্টা করছেনা তখন সে জাতি এমন একটি অপরাধ করে যার জন্য সে আল্লাহর কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়ে পড়ে।</p>
<p>১৬. আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের পরিবর্তনের চেষ্টা করে (১৩: ১১), তারাই সদাচারী যারা পৃথিবীতে তাদেরকে ক্ষমতা দেওয়া হলে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয়, সৎকর্মের নির্দেশ দেয় এবং মন্দকর্ম নিষেধ করে, চূড়ান্ত পর্যায়ে সমস্ত কিছুর প্রত্যাবর্তন আল্লাহর নিকট (১২: ৪১)।</p>
<p>১৭. আমি জ্বীন এবং মানবজাতিকে আমার ইবাদত ছাড়া জন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি (৫১: (৫১:৫৬)। ৫৬)।</p>
<p>১৮. হে জনগোষ্ঠী, আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি মাটি থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদেরকে স্থাপন করেছেন যাতে তোরা পৃথিবীতে বাস করতে পার। অতএব তার ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর নিকট অনতাপ কর, তিনি হচ্ছেন প্রভু, তিনি নিকটেই আছেন এবং তিনি দয়ালু (১১: ৬১)।</p>
<p>১৯. যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে রাজত্ব দান করবেন যেমন তিনি দিয়েছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে তিনি তাদের নিকট থেকে যা গ্রহণ করেছিলেন তাদের সেই ধর্মকে শক্তিশালী করবার জন্য তিনি কথা দিয়েছিলেন এবং তাদের আতংক ও নিরাপত্তহীনতাকে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তায় পরিণত করতে। তদের কাজ হচ্ছে তাঁর ইবাদত করা এবং কোনো কিছুতেই তাঁর শরীক না করা, যারা ঈমান আনেনা তারা অন্যায়চারী (২৪: ৫৫)।</p>
<p>২০. দারিদ্র হচ্ছে শয়তানের প্রতিশ্রুতি, শয়তান তোমাদেরকে অশ্লীল ও পাপকর্ম করতে নির্দেশ দেয়, আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন, তার দয়া ক্ষমা ও অনুগ্রহের, তিনি সবকিছু জানেন। তিনি প্রাচুর্যময় (২: ২৬৮)।</p>
<p>২১. তুমি কি দ্বীনের অস্বীকারকারীেেদর দেখেছো, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি সে এতিমকে গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেয়, যে মিসকিনকে খাদ্য দানে নির্দেশ দেয়না (১০৭: ১-৩)।</p>
<p>২২. বল হে মোহাম্মদ, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সব শোভার বস্তু ও বিশুদ্ধ জীবিকা দিয়েছেন, কে তা নিষিদ্ধ করেছে? বল, এই পৃথিবীতে এগুলো মুমিনদেরই জন্য এবং পরকালে তারা এগুলো উপভোগ করবে। এরূপে আল্লাহ জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর নিদর্শন বিশদভাবে বিবৃত করেন (৭: ৩২)।</p>
<p>২৩. Pritchard. Ancient Near Eastern. Tests 60.</p>
<p>২৪. আসমানে এবং জমিনে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুই তোমাদের অধীন করেছেন। যারা চিন্তা করে এবং বিচার করে, তাদের জন্য এতে রয়েছে নিদর্শন (৪৫: ১৩) আল্লাহই তোমাদের জন্য ধরিত্রীকে করেছেন বশীভূত, তোমাদের উদ্দেশ্য সাধন ও কর্মের জন্য তাই পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়, আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে ভক্ষণ কর এবং স্মরণ রাখ যে তার কাছেই তোমাদের ফিরতে হবে (৬৭:১৫)।</p>
<p>২৫. Mohammad Husayn Haykal-Al Faruq Umar (Cairo Matbaat Misr 1364) Vol. 2 p. 200.</p>
<p>২৬. এবং তারা তাদের সম্পদে দরিদ্র ও বঞ্চিতের অধিকার স্বীকার করে (৫১: ১৬)।</p>
<p>২৭. (দুর্ভাগ্য তাদের) যারা সম্পদ পুঞ্জীভূত করে এবং মনে করে যে, তাদের সম্পদ অমরতা দান করবে (১০৪: ২-৩) আল্লাহ ক্রয় বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন (২০২: ২৭৫) ২৮. যখন সালাত সম্পন্ন হয়, তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান কর এবং</p>
<p>আল্লাহকে বার বার স্মরণ কর যাতে তোমরা প্রকৃতই সফলকাম হতে পার (৬২: ১০)। (হে মোহাম্মদ) তাদের থেকে একটি অংশ গ্রহণ কর অভাবগ্রস্থকে দেবার জন্য। এবং তাতে তাদের অন্তরের সৎকর্মশীলতা দৃঢ় হবে। তাদের জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা কর, তাদের জন্য তোমার প্রার্থনা, তাদের জন্য সৃষ্টি করবে আত্মবিশ্বাস, কারণ আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৯: ১০৩)।</p>
<p>২৯. যাকাতের আদেশ বিষয়ক কুরআনের আয়াত অসংখ্য। দেখুন Barakat. Al Murshid&#8230; Zakah. বিশেষ করে কুরআন ৯: ১০৩)।</p>
<p>৩০. প্রকৃতপক্ষে অন্য মূল্যগুলোকে বাদ দিয়ে কোনো একটি মূল্যের অনুসরণ হচ্ছে সেই মূল্যের উপর একটি জুলুম। একচ্ছত্র শাসন এই ধরনের কোনো একটি মূল্যের অনুসরণে বাড়াবাড়ি যা মূল্য অনুসরণের প্রয়াস এবং তার উদ্দেশ্য দুটিকেই দুষিত করে এবং সেগুলোকে মূল্যহীন করে তোলে।</p>
<p>৩১. পাঠ কর তোমার রবের নামে যিনি স্রষ্টা (৯৬: ১)&#8230; পাঠ কর তোমার প্রভু মহিমান্বিত, তিনি লিখতে শিখিয়েছেন, তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন যা সে আগে কখনো জানতনা (৯৬: ৩-৫)। মুমিনগণের একসঙ্গে যুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়, তাদের কিছু সংখ্যকের উচিত ধর্মের অনুসরণের জন্য এবং এর নিয়ম কানুন আদেশ নিষেধের চর্চার জন্য গৃহে অবস্থান করা কারণ তাদের সাথীরা যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তাদেরকে শিক্ষাদানের জন্য তদের প্রয়োজন হবে, যেন তারা পাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে (ধর্মের নির্দেশ মত) (১: ১২২)।</p>
<p>৩২. তোমাদের সর্বশক্তি নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবার জন্য তৈরী হও। তোমাদের অশ্বারোহী যোদ্ধাগণকে এভাবে বিন্যস্ত কর, যাতে আল্লাহর শত্রুগণ এবং তোমাদের শত্রুগণ ভীত হয় এবং অন্যেরাও ভীত হ্যা, যাদের তোমরা হয়তো জাননা, কিন্তু আল্লাহ জানেন। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে যা কিছু ব্যয় কর, সমস্ত কিছুই তোমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে, তোমাদের পুরস্কারসহ এবং তোমাদের প্রতি অবিচার করা হবেনা (৮:৬০)।</p>
<p>৩৩. (হে বিশ্বাসীগণ) আল্লাহ যা ইতিহাসেই নির্ধারণ করেছেন তা ছাড়া আর কিছুই তোমাদের উপর আপতিত হবেনা, তিনি আমাদের রব, আমরা মুমিনগণ সবসময়ই তার উপর নির্ভর করবো। বল তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করছো (শাহাদাত এবং জান্নাত, অথবা যুদ্ধে বেঁচে থাকা এবং শত্রুর উপর বিজয়) এবং আমরা প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের শান্তি দিবেন সরাসরি নিজ পক্ষ হতে অথবা আমাদের হস্তের দ্বারা (৯: ৫১-৫২)।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> অধ্যাপক শাহেদ আলী।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/principles-of-political-system/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14770</post-id>	</item>
		<item>
		<title>স্বৈরাচারী শাসকের পতন : বাংলার জনবিপ্লবে আরব নেতৃবৃন্দের পরামর্শ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-fall-of-the-autocrat-advice-from-arab-leaders-in-the-bengal-revolution/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-fall-of-the-autocrat-advice-from-arab-leaders-in-the-bengal-revolution/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. জাসের আল আওদাহ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 08 Aug 2024 11:49:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14645</guid>

					<description><![CDATA[হে বাংলার প্রিয় উম্মাহ এবং সম্মানিত জনসাধারণ, সমগ্র আরববিশ্বে বিগত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে চলমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতির আলোকে বিগত একদশকে আরব জনসাধারণ যেসব বিষয়াদির সম্মুখীন হয়েছে আপনাদের সাথে সেসব পরামর্শমূলক আলোচনাই করতে চাই। এমনকি, ইতোমধ্যেই আপনাদের দেশের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>হে বাংলার প্রিয় উম্মাহ এবং সম্মানিত জনসাধারণ,</strong><br />
সমগ্র আরববিশ্বে বিগত এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে চলমান সংকটাপন্ন পরিস্থিতির আলোকে বিগত একদশকে আরব জনসাধারণ যেসব বিষয়াদির সম্মুখীন হয়েছে আপনাদের সাথে সেসব পরামর্শমূলক আলোচনাই করতে চাই। এমনকি, ইতোমধ্যেই আপনাদের দেশের চলমান এই পরিস্থিতিতেও একই বিষয়াদি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই আলোচনার কারণ এটাই যে, বাংলায় বসবাসরত প্রিয় জনসাধারণ যেনো পূর্বে আরববিশ্বে ঘটে যাওয়া সেসব পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারে। মুসলিম উম্মাহর প্রধান শত্রুরা-সহ দেশের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা দেশদ্রোহী শত্রুরাও আপনাদের এই বিপ্লবের হাওয়া অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায় বাংলার জনবিপ্লবকে বাতিল করতে, তারা চায় বাংলার জনসাধারণকে পরাধীন করতে, তারা চায় বাংলার মধ্যবিত্ত সমাজের উপরে আরো হিংস্রভাবে নিপীড়ন চালিয়ে যেতে। ফলশ্রুতিতে, আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে, যেনো আরবের মতো তারা একই পরিবেশ বাংলার ভূমিতেও তৈরি করতে না পারে।</p>
<p>আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইলো,<br />
এখনই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বা আন্দোলনের সূতিকাগার স্থানগুলোকে ফেলে রেখে ঘরে ফিরে যাবেন না। এমনকি, একমুহুর্তের জন্যও ফাঁকা রাখবেন না। সরকারের অবর্তমানে আগত সেনাবাহিনীদের সকলেই কিন্তু দেশের কল্যাণ চায় না; আবার, তাদের মধ্য থেকে যারা দেশের কল্যাণ চায়, তাদেরকেও কিন্তু সকলে চিনে না; ফলে তারা যা-ই বলুক না কেনো, তাদের বক্তব্যকে চূড়ান্তভাবে মেনে নিবেন না। <strong>মনে রাখবেন, এদেরই একাংশের হাতে কিন্তু বিগত কিছুদিনে ছোটো-বড়ো অসংখ্য ছাত্র ও জনসাধারণ নৃশংসভাবে নিহত হয়েছে। যারা নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করেছে, যাদের হাতে উদীয়মান মেধাবী তরুণদের তাজা রক্ত লেগে আছে এবং রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার-বিভাগীয় যেসব নেতৃবৃন্দের হাত বাংলার আপামর জনসাধারণের রক্তে রঞ্জিত, একমাত্র মৃত্যুদণ্ড ব্যতিত আর কোনো বিচারই তাদের ক্ষেত্রে আপনাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয়।</strong> মানবতা রক্ষার তথাকথিত এসব আইনের নামে যারা আপনাদের উপর দীর্ঘ একটা সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও সাংস্কৃতিকভাবে জুলুম করে এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে কোনোপ্রকার ছাড় দেবেন না; হোক সে যুবক, প্রৌঢ় বা বয়োবৃদ্ধ! বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই অতিসত্বর একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবী করবেন না, চাই সে নির্বাচন সুষ্ঠু হোক বা অন্যায্য হোক। এমনকি, চলমান এই পরিস্থিতিতে পূর্বের মতোই সর্বজনীন, সাধারণ ও বেসামরিক সরকারের দাবী করে বসবেন না।</p>
<p><strong>এসবের কারণগুলো হলো,</strong></p>
<p><strong>০১.</strong><br />
আপনাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আমার চেয়ে কিন্তু আপনারাই ভালো বুঝবেন যে, বর্তমানে যারা সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদেরকে বিগত স্বৈরাচারী শাসকই নিযুক্ত করেছেন। সেহেতু, তাদের অনেকের ভেতরেই বিগত শাসকের অন্যায়, অবিচার, জুলুমের পরোক্ষ মতামত রয়েছে এবং স্বভাবগতভাবে একই হবে। মনে রাখবেন, মাত্র এক ঘণ্টার জন্য হলেও সমগ্র সেনাবাহিনীর উপর বিশ্বাস রাখবেন না। কারণটাও শক্তিশালী যে, যেহেতু বর্তমান সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ বিগত স্বৈরাচারী শাসকই নিযুক্ত করেছেন, সেহেতু দুর্নীতি রোধ করার বিপরীতে সেটাকে আরো রক্ষা করা এবং জনসাধারণের উপর অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে জুলুম করার ক্ষেত্রে বিগত স্বৈরাচারী শাসকের পাশাপাশি তারাও কিন্তু সমভাবে অপরাধী।</p>
<p><strong>০২.</strong><br />
<strong>ইসলামী শাসনব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক সর্বজনীন সরকার-কে সামরিক শাসনের বিকল্প হিসেবে দেখা হয় না। কেননা, ন্যয়ভিত্তিক অর্থনীতি ও আদালতপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা-র জন্য ইসলাম যেকোনো ধরনের সরকারকে সাধুবাদ জানায়।</strong> মূল কথা, নেতৃত্বে যারই আগমন ঘটুক না কেন, তাকে আদালত, মারহামাত ও বিশ্বাস-কে প্রাধান্য দিতে হবে; নতুবা তাকেও গ্রহণ করা হবে না। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হলো, বিগত স্বৈরাচারী শাসকের পরে আগত সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন সংখ্যক চিন্তা লালনকারী এবং দেশ ও জাতির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী সৈন্য-সংখ্যা খুবই কম রয়েছে।</p>
<p>আপনাদের এখন মূল কাজ হলো, জাতির জন্য উৎসর্গকৃত সেসব প্রাণ খুঁজে খুঁজে বের করে দেশের নেতৃত্বের ভার তাদের হাতে অর্পণ করা, যাতে করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক, প্রশাসনিক ও বিচার-বিভাগীয়-সহ বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরেই যেনো আদালত, মারহামাত ও বিশ্বাস প্রতিস্থাপিত হয় এবং বসবাসযোগ্য একটি বাংলাদেশ পুনঃগঠিত হয়। এমনকি, তারা যদি চলমান এই গনহত্যার হত্যকারীদের কঠিন বিচার করে, তবুও তাদেরকেই সমর্থন করুন।</p>
<p><strong>০৩.</strong><br />
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে কখনই আপনারা আপনাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন না বা সেসব বিষয়গুলোকে মূল আলোচনার বিষয়বস্তু বানাবেন না। যদিও সেসব বিষয়গুলো বর্তমান পরিস্থিতির মাত্রাতিরিক্ত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা নিয়ে হোক না কেনো। এছাড়াও, নিহতদের নিয়ে মাতামাতি করা, সাম্প্রদায়িকতা-সহ যতো ধরনের মনোযোগ-বিশৃঙ্খলকারী বিষয় আছে, সেসবকে দূরে রাখতে হবে। নতুবা, এতে করে দেশ ও জাতির শত্রুরা আপনাদেরকে বিশৃঙ্খল করে দিতে সক্ষম হবে এবং আপনাদের অভ্যন্তরেই বিভাজন সৃষ্টি করে দেবে। তবে, এসব নিয়ে ততটুকু আলোচনাই করবেন, যতটুকু আন্দোলন ও বিপ্লবের জন্য উপকারী হবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণার্থে ব্যবহৃত হবে।</p>
<p><strong>০৪.</strong><br />
<strong>আপনাদের লক্ষ্য কিন্তু তথাকথিত পশ্চিমা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা বা আপনাদের দেশে ইউরোপীয় কৃষ্টিকালচার প্রতিষ্ঠা করা নয়। আপনাদের লক্ষ্য হলো দেশ ও জাতির কল্যাণে ন্যয়ভিত্তিক অর্থনীতি ও আদালতপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা-র সূচনা করা।</strong> আর এসব সম্ভব হবে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে থাকা জীবন উৎসর্গকারী সেই হাতেগোনা কয়েকজন-এর দ্বারাই, যারা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং আপনাদের বিপ্লবকে বিপথে পরিচালনাকারী ও প্রোপাগাণ্ডা সৃষ্টিতে সিদ্ধহস্ত মিডিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে, বা প্রয়োজনে সেগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেবে।</p>
<p><strong>০৫.</strong><br />
মনে রাখবেন, বিগত বিপ্লবে নৃশংসভাবে হত্যার পেছনে—এমনকি বিগত এক যুগ বা তারও বেশি সময় ধরে তাদের অন্যায়, অবিচার, জুলুম, নির্যাতন, নিষ্পেষণে তারা যেসব আইনগুলোকে সামনে রাখে, প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর কিন্তু কোনো অস্তিত্ব নেই; অথবা থাকলেও সেসব আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য গণহত্যায় সমর্থন নয়। খেয়াল করলে দেখবেন, বিগত এক যুগে তারা যে আইনগুলোই প্রণয়ন করেছে, সেগুলো দিয়েই কিন্তু দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করে গিয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্যই তারা এসব আইন প্রণয়ন করেছে। ফলে, এগুলোর প্রতিটি আইনই অবৈধ; কেননা এসব আইন দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের কোনো কল্যাণে আসেনি। অতএব, অতিসত্বর এসব আইন বিলুপ্ত করে দিবেন এবং এমন আইন প্রণয়নে সর্বদা বাধা হয়ে দাঁড়াবেন।</p>
<p><strong>০৬.</strong><br />
আপনাদের দেশের চলমান এই পরিস্থিতি কখনই গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়, চাই সে নির্বাচন সুষ্ঠু হোক বা অন্যায্য। দেশের ইসলামী দলগুলোর প্রতি অনুরোধ রইলো, <strong>দীর্ঘ সময়ের জুলুমের পর মরিচীকাতুল্য এই ক্ষমতা পাওয়ার সুযোগের ফাঁদে পা দিবেন না। ইউরোপীয় গণতান্ত্রিক পন্থায় আপনারা রাজনীতিতে পদার্পণ করেন না। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, জনসাধারণকে আপনাদের যতোই প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকুক না কেনো, রাজনৈতিকভাবে বা রাজনীতির শক্তিতে বাকী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে আপনারাই কিন্তু অনেক পিছিয়ে।</strong> এটা মেনে নিয়ে নিজেদেরকে গুছিয়ে নিন, সংঘবদ্ধ করুন। বাকী দলগুলো দীর্ঘ সময় রাজনীতিতে ব্যয় করেছে, কমবেশি তারা রাজনীতির অলি-গলিতে চলাচল করেছে; কিন্তু আপনারা তাদের মতো করে রাজনীতিতে সময় দেননি। মাঠে-ময়দানে আপনাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া বা রাজনীতিতে আপনাদেরকে বিশৃঙ্খল করে দেওয়া বাকী দলগুলোর চেয়ে সহজ হবে। এটাও কিন্তু সত্য যে, জনসাধারণকে আপনাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকলেও রাষ্ট্র বা বর্তমান সেনাবাহিনীর উপরে আপনাদের প্রভাবিত করার ক্ষমতা কম। সাথে এটাও সত্য যে, দেশের আপামত জনতাকে যারা নৃশংসভাবে খুন করেছে এবং যারা দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে, তারা কিন্তু আপনাদের পেছনেই লেগে রয়েছে; এমনকি তারা আপনাদের সর্বশেষ কর্মীকে পর্যন্ত হত্যা করতে পিছপা হবে না। কারণ, জনসাধারণের মাঝে তাদের চেয়ে আপনারা দ্রুত প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। এখন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ রইলো, নিজেদের এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতির অলি-গলি ও পথ-ঘাট ভালোভাবে চিনে নিয়ে নিজেদেরকে সংঘবদ্ধ করুন এবং গুছিয়ে নিন।</p>
<p><strong>০৭.</strong><br />
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে আমার অনুরোধ হলো, স্বল্পমেয়াদে নিজেদের আন্দোলনের স্বার্থকতা রক্ষার জন্য মিডিয়াগুলোকে প্রভাবিত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের আন্দোলনের স্বার্থকতা রক্ষার জন্য প্রচুর পরিমাণে অধ্যয়ন করতে হবে। দুর্নীতিবাজ ও প্রোপাগাণ্ডা সৃষ্টিতে সিদ্ধহস্ত মিডিয়াগুলোকে শক্তহাতে দমন করতে হবে এবং তাদের ভুবন-ভোলানো বক্তব্যের দ্বারা প্রভাবিত হওয়া যাবে না; এক্ষেত্রে নিজেও সতর্ক থাকতে হবে এবং অপরকেও সতর্ক করতে হবে। সত্যিকারার্থে, প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যে কোথাও ‘স্বাধীন মিডিয়া’ বলে কিছুই নেই। ফলে এই মুহূর্তে লক্ষ্য রাখা উচিত, কারা সত্য ও সঠিক খবরাখবর প্রকাশ করে। আর যারাই মিথ্যা ও প্রোপাগাণ্ডা-মূলক খবর প্রচার করে, এখনই তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান এই আন্দোলনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং এর স্বার্থকতা রক্ষা করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মনোযোগী হতে হবে। কেননা, এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষিত একটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা এই আন্দোলনের স্বার্থকতাকে বয়ে নিয়ে বেড়াবে এবং ন্যয়ভিত্তিক অর্থনীতি ও আদালতপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা-কে দীর্ঘায়িত করবে।</p>
<p><strong>পরিশেষে আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই,</strong><br />
এসবই আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসল, যেসব অভিজ্ঞতার সূচনা হয়েছিলো আরব বসন্তের মাধ্যমে। আরব বসন্তের সেই সময়ে আমাদেরকেও এমন কথাগুলোই বলেছিলেন উম্মাহর মহান মুজাহিদগণ। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য যে, আমরা সেসব কথাগুলোকে খুব একটা প্রাধান্য দেইনি। যার ফলে আজ আমরা এই অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছি। দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ রইলো, আপনারা একই ভুল দুইবার করবেন না, একই গর্তে দু&#8217;বার পা দেবেন না। সতর্ক থাকুন, চোখ-কান খোলা রাখুন। মহান রব সাক্ষী, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতালব্ধ মৌলিক বিষয়গুলোই বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের প্রচেষ্টাকে কবুল করুক।<br />
<strong>আল্লাহুম্মা আমীন।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদ: মিফতাহুর রহমান। </strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-fall-of-the-autocrat-advice-from-arab-leaders-in-the-bengal-revolution/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14645</post-id>	</item>
		<item>
		<title>১৩ জুলাই ২০২৪; আমাদের দেশ, মাটি ও মানুষ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/13-july-2024-our-country-soil-and-people/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/13-july-2024-our-country-soil-and-people/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 13 Jul 2024 11:53:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14551</guid>

					<description><![CDATA[আজকের দিনে বাংলাদেশের যুব সমাজের চোখে চোখ রাখলে, সহজেই একটি বিষয় উপলব্ধি করা যাচ্ছে- জাতীয় এক হতাশা আমাদের মাঝে নিমজ্জিত হয়েছে। চতুর্দিকে দুর্নীতি, দরিদ্রতা, সংকট ও দুর্যোগ, বিভিন্ন আন্দোলনসহ হতাশাজনক ভবিষ্যৎ যখন বিভিন্ন ইস্যু হয়ে যুবসমাজের সামনে আসছে, তখন সে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজকের দিনে বাংলাদেশের যুব সমাজের চোখে চোখ রাখলে, সহজেই একটি বিষয় উপলব্ধি করা যাচ্ছে- জাতীয় এক হতাশা আমাদের মাঝে নিমজ্জিত হয়েছে। চতুর্দিকে দুর্নীতি, দরিদ্রতা, সংকট ও দুর্যোগ, বিভিন্ন আন্দোলনসহ হতাশাজনক ভবিষ্যৎ যখন বিভিন্ন ইস্যু হয়ে যুবসমাজের সামনে আসছে, তখন সে যুবসমাজের হতাশ না হওয়ার কোনো কারণ অবশিষ্ট থাকেনা। বাংলাদেশের বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কাজ করা এবং কর্ম-ভাবনার বহু বিষয় রয়েছে। যেমন- নানাবিধ ইস্যু জারি থাকলেও, জাতীয় সংকট বহুমুখী। এই বহুমুখী সংকটকালের বেশ কিছু বিষয়কে যদি আমরা সামনে নিয়ে আসি তাহলে আমরা দেখতে পাই-</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রথমত,</strong> সিলেট বিভাগসহ আরও ১৭ টি জেলা ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে বেহাল অবস্থায় নিমজ্জিত হয়েছে৷ এর অন্যতম একটি কারণ- আমরা আমাদের শহরগুলোকে, পানি ও নদী ব্যবস্থাপনাকে ঔপনিবেশিক শাসনামলের আলোকেই গড়ে তুলেছি, সে আলোকেই পরিকল্পনা সাজাই এবং উন্নয়ন খুঁজে বেড়ায়। যেমন, আমাদের শহরগুলোতে পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই না; কিছুদিন আগে মাত্র দু&#8217;দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পুরো শহর ডুবে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিলো। শহরকে সুরক্ষা করার নাম দিয়ে আমরা নদীগুলোতে বাঁধ দিলেও, শহরে পানি নিষ্কাশনের জন্য নদীর সাথে সুন্দর সংযোগ স্থাপন করে বিভিন্ন ধরনের নগরায়ণ করা সম্ভব, এ বিষয়গুলো কখনো চিন্তা ও মানসপটে নেই না। ফলশ্রুতিতে, একটু বৃষ্টি হলেই শহরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়; আর শহরের এই জলাবদ্ধতায়, পানি যাওয়ার রাস্তা না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই পানি বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়, পরবর্তীতে দুর্গন্ধ নগরীতে পরিণত হয় এবং এসবের প্রভাব গ্রামাঞ্চলে গিয়ে পড়ছে।</p>
<p>অপরদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের কোনো কারণ ছাড়াই বাঁধ ছেড়ে দেওয়া, তাদের চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে মারাত্নক সংকট ও দূর্ভোগ নিয়মিত আমাদের পোহাতে হচ্ছে৷</p>
<p>আমাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকা যেমন সমস্যা; তেমনি একই সাথে যখন আমরা এসব পরিস্থিতিতে পড়ছি, সেই সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সঙ্কটকাল মোকাবেলা করার যে উদ্যোগ, সেখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়-</p>
<p>গত কয়েক বছরে বন্যা হওয়ার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। এই জেলাগুলোতে যে হারে বন্যা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রায় ছয় মাসের অধিক সময় ঐ অঞ্চলের বড় একটি অংশ তথা জনসংখ্যার প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ বেকারত্বের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে; দিনের পর দিন পানিবন্দি! ভয়াবহ অবস্থায় সরকার, প্রশাসন, কোন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় গোষ্ঠীর দেখা নেই; উদ্যোগ নেই, প্রতিবাদ নেই! এগুলো নিয়ে আজ পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ, জাতীয় উদ্যোগ লক্ষ্য করিনি৷ এমনকি কোনো ইস্যুও লক্ষ্য করবেন না৷ <strong>অথচ, বন্যা হলেই আমাদের একটাই কাজ তা হলো- বিভিন্ন দল, ধর্মীয় জনগোষ্ঠী, সেলেব্রিটি ব্যক্তিদের ত্রাণ নিয়ে দৌড়ানোর হিড়িক পড়ে যায়; যাতে লোকসম্মুখে জনপ্রিয় হওয়া যায়। এভাবে প্রতিবছর ত্রাণের মাধ্যমে কি আদৌ এ সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব? এ সমস্যা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কোন দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তাবনা কিংবা উদ্যোগ নাই। এটি জাতির জন্য বড় আশংকা এবং হতাশার বিষয়৷</strong></p>
<p>ল্যান্ডস্কেপ স্থপতি দিলিপ দা কুনহা, উনার একটা গবেষণায় দেখিয়েছেন, বন্যা বলতে আমরা যা বুঝি এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক কোনো ঘটনা নয়। তিনি তার অঙ্কিত ছক-এ দেখিয়েছেন, পানি যখন এসকল বিষয়কে অতিক্রম করে, কিছু শর্ত পূরণ করে, তখন এটাকে আমরা বন্যা বলি। কিন্তু পানি সেসকল শর্তগুলোকে অতিক্রম করছে না, অর্থাৎ মানুষের অব্যাবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট এই দুর্দশা, এগুলোকে বন্যা বলা যায় না। এমনকি প্রকৃতিকেও দোষারোপ করা যায় না।</p>
<p>আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করলে বুঝা যায়, ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে নদীর নিয়ন্ত্রণ এ বিষয়টি যুগযুগ ধরে চলে আসা একটি শোষণ৷ আর ঔপনিবেশিক আমলে এ ধরনের বাঁধ দেওয়া, এগুলোকে বিভিন্ন দাতা সংস্থার মাধ্যমে শক্ত অবস্থানে নেওয়া, দেশীয় বিভিন্ন সম্পদ নষ্ট করা, দেশের নদীগুলোকে মৃত করে ফেলা, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে দুর্ভোগে ফেলে, শহর রক্ষার নাম দিয়ে শহরকেও আরেকটি বড় ধরনের দুর্ভোগের মধ্যে নিপতিত করা, এগুলো ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে ব্রিটিশ জায়োনিস্টদের কাজ ছিলো। এ কাজগুলো এখনো পর্যন্ত চরম মাত্রায় বিদ্যমান। অর্থাৎ এখনও আমরা মন-মানসে ব্রিটিশ জায়োনিজমের দাসত্ব করে যাই।</p>
<p>আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, সিভিল সোসাইটি কিংবা নাগরিক সমাজ; এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ কিন্তু এগুলোকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করছে না। এখান থেকে উত্তরণের উপায় বাতলে দিচ্ছে না। অথচ এ নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা দেশের অন্যতম আয়ের উৎস, অর্থনীতিকে সচল রাখার বড় এক মাধ্যম। কিন্তু সে মাধ্যমকে আজকে উল্টো অর্থনৈতিক সংকট, ধ্বংস ও মানুষকে মহাদুর্দশায় নিপতিত করার অস্ত্রে পরিণত করেছি। বরাবরের ন্যায় আবারও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে বেহাল অবস্থায় নিমজ্জিত হলো উপকূল অঞ্চলের লোকজন।</p>
<p>এ সকল পানি ব্যবস্থাপনা, নগর ব্যবস্থাপনা, নদী ব্যবস্থাপনা, সঙ্কট বা দুর্যোগগুলোকে মোকাবেলা করার জন্য রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাকারী, পানি বিশেষজ্ঞ, ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গ, বিজ্ঞানী, স্থপতিগণ সকলকে সাথে নিয়ে ও সকলের চিন্তাগুলোকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি ইশতেহার প্রণয়ন করা এবং জাতীয় রূপরেখা প্রণয়ন করা আবশ্যক ছিল। এ কাজগুলোকে নিয়ে আজ পর্যন্ত আমরা কোনো ইস্যু লক্ষ্য করলাম না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত,</strong> প্রথম আলো কিংবা বণিক বার্তা-র মত পত্রিকাগুলোতে প্রায়শই দেখা যায় যে, গরিবরা মহাসংকটে, মধ্যবিত্তরা দুর্দশায়, এ ধরনের নানাবিধ প্রবন্ধ। টিসিবির পণ্যের জন্য হুমড়ি খেয়ে ঝাপিয়ে পড়ে কিংবা পরিচিত কাউকে দেখলেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মধ্যবিত্তরা মুখ লুকাচ্ছেন কিংবা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না টিসিবির থেকে কাঙ্ক্ষিত পণ্য, এজাতীয় খবর! বারবার একই অভিযোগ করা হচ্ছে, মানুষের যে চাহিদা এর ৫ শতাংশও সরকারি টিসিবি থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের আয়ের উৎসের সংকটের কারণে দেশ এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, গরীব এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষেরা সত্যিই কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে তাদের দিন অতিবাহিত করছে।</p>
<p><strong>এখন</strong>, আমরা এখন যদি পর্যালোচনা করি, যে শর্করা জাতীয় খাবার বাজার থেকে কিনতে হয়, যেমন- চাল, আলু ইত্যাদি। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে আলুর দাম ছিল পনেরো টাকা কেজি। ২০২২ বা ২৩ সালেও ছিল তা ২৮ টাকা বা ৩০ টাকা কেজি। এবছর বা আজকের দিনে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজিতে গিয়ে সেটা পৌঁছেছে। কিন্তু আমরা যদি একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন লক্ষ্য করি, ২০১৮ সালে তাদের বেতন সর্বনিম্ন যে মজুরি ছিল একজন শ্রমিক ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা বেতন পেতো। <strong>বর্তমানে তার বেতন সর্বসাকুল্যে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হয়েছে। বেতন অনুপাত অনুযায়ী ডাবল হওয়া তো দূরের কথা, একদমই বাড়েনি। কিন্তু ১৫ টাকার আলু ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি পুরুষ গার্মেন্টস শ্রমিক, ভ্যানচালক, রিক্সাচালক বা এ ধরনের বিভিন্ন শ্রমজীবী মানুষদের ক্ষেত্রে যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই, তারা দুপুরের খাবার না খেয়ে হয়তো গার্মেন্টস এর আশেপাশে এলাকায় টং দোকানে রুটি বা বনরুটি ইত্যাদি খাবার খায়, তারাও সংকটে! কারণ এগুলোর মূল্যও প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।</strong></p>
<p>অপরদিকে নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তো আরো ভয়াবহ অবস্থা। নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ গার্মেন্টস সেক্টরেও বেশি। তারা টাকা বাঁচানোর জন্য সন্ধ্যায় টিফিন হিসেবে বা দুপুরের খাবার হিসেবে ঘর থেকে বিভিন্ন খাবার বানিয়ে নিয়ে আসে। কখনো চাল ভাজা, সস্তায় বিস্কুট, চানাচুর, কেউ আটা দিয়ে চাপটি, কেউ বা ডাল-ভাত কিংবা শুটকি তরকারী-ভাত। এই নারী শ্রমিকদের আয় যেখানে বৃদ্ধি পায়নি, যারা টাকা বাঁচানোর জন্য বাহিরে পর্যন্ত খান না, তাদের কাছে আলু বা চালের দাম কমেনি বরং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের জন্য এই ধরনের খাবার বহন করা অনেক বেশি কষ্টকর হয়ে গিয়েছে‌। আমিষ জাতীয় যে খাদ্য দ্রব্যগুলো রয়েছে, সবগুলোরই কিন্তু ব্যাপক আকারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সে তুলনায় আয়ের যে উৎস, তা খুবই নগন্য।</p>
<p>বাংলাদেশ গার্মেন্টস পেশা থেকে অন্যান্য যেসব শ্রম পেশা আছে, সে তুলনায় শুধুমাত্র গার্মেন্টস সেক্টরে করোনাকালীন সময়ে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য যে শ্রেণী পেশার শ্রমিকগণ রয়েছে, তাদের কাজের যে ভয়াবহ অবস্থা অর্থাৎ আয়ের তুলনায় ব্যয়ভার অনেক বেশি। একটা পরিবারের মানুষের খাবার খরচ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। কিন্তু যদি এক পরিবারে একজন মানুষ চাকরি করে তাহলে তাদের আয় ১২ হাজার টাকার বেশি না। সেক্ষেত্রে ক্ষুদে বিক্রেতা, ঠেলাগাড়ি টানা কিংবা পুরনো কাগজ সংগ্রহকারী লোকজন, দিনমজুর, বেসরকারি বা আধা সরকারি অফিসের কর্মচারী, যারা বিভিন্ন গাড়ির চালক, শিল্প শ্রমিক, হোটেল বয়, নারীদের ক্ষেত্রে গৃহকর্মী, ঝাড়ু দেওয়া কর্মী, পানি আনা, ক্যান্টিনে কাজ করা, কারখানায় নিম্ন স্তরের কাজ করা বা সেলাই করা মানুষ রয়েছে তাদের কি অবস্থা?</p>
<p>একটি জরিপ বলছে, <strong>৪৯ ভাগ শ্রমিক একদম রুগ্ন এবং পুষ্টিহীন</strong>, যাদের গড় আয়ু কমে আসছে। বিশিষ্ট লেখক মাহমুদ শফিক তাঁর ঢাকা নগরের বিপন্ন পরিবেশ গ্রন্থের ‘অবধারিত মৃত্যু’ অধ্যায়ে লিখছেন, বকুল (তালাকপ্রাপ্ত একজন নারী যার রিকশাচালক স্বামী তাকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন) বলেন: ‘আমার স্বামীর ছিল দানবের মতো দেহ। কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তার স্বাস্থ্য ভেঙে যায়। এখন বুঝতে পারি, রিকশা চালানো কত কষ্টের কাজ। কাজের শেষে দেহটা বিছানার সঙ্গে লেগে যেত। তার পাশে যে একজন মেয়েমানুষ শুয়ে আছে, সে তা মোটেও ভাবত না’। বিষয়টা ভাবতেও কেমন জানি গাঁ শিউরে উঠে…!</p>
<p>এরপর আমরা আরেকটি জরিপ যদি দেখি, <strong>প্রতি ১০ জন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাঝে অধিকাংশই তিন বেলা খায় না।</strong> অথবা খেলেও পুষ্টিহীন খাবার খায়। এদের ৯৮ ভাগ পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে থাকে এবং এর মূল কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে তারা ন্যায্য মজুরি পায় না। বাংলাদেশের ৮৭ ভাগ শ্রমিক; যারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ কোম্পানি থেকে ঋণ নেয় এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে সুদের ঋণ গ্রহণ করে। <strong>৮৭ ভাগ শ্রমিক সারা বছর ঋণগ্রস্ত থাকে এবং ৬৩ ভাগ শ্রমিক বাকিতে চাল-ডাল কিনে।</strong> এসব নিয়ে তাদেরকেও বিভিন্ন ধরনের অনিরাপত্তার মুখোমুখি হতে হয়।</p>
<p>একইসাথে তাদের খাদ্য যোগানের সাথে সাথে তাদের বড় একটি যোগানের ক্ষেত্র হচ্ছে চিকিৎসা। তাদের পুষ্টির যে অবস্থা এক্ষেত্রে আমরা যদি বিভিন্ন জরিপগুলো দেখি তাহলে দেখা যায়, প্রতিটি শিশু, প্রত্যেকটি ব্যক্তি অপুষ্টির মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে। সে ক্ষেত্রে ঢাকা শহর কিংবা চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ সকল শহরের কিছু জরিপ যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে আমরা সহজেই বুঝতে পারি; দারোয়ান, পিয়ন, ঝাড়ুদার, মেথর, কুলি, মালি ও বর্জ্য কাগজ সংগ্রহক, বিভিন্ন মেকানিক, দর্জি বা কারখানার শ্রমিক, বাইন্ডিং প্রেসে কিংবা মেটাল সংক্রান্ত কারখানায় কর্মরত যে শ্রমিকরা অর্থাৎ নিম্নশ্রেণীর কর্মচারী যারা রয়েছে, তাদের অধিকাংশই কিন্তু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এর মূল কারণ হচ্ছে তাদের ক্যালরি গ্রহণের অভাব অর্থাৎ এক্ষেত্রে একটা নীরব হাহাকার চলছে!</p>
<p>প্রথমত, তাদের ওজন কমে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তাদের অসুস্থতা বেড়ে যায় এবং বৃদ্ধ শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মারা যাচ্ছে।</p>
<p>যে কোনো একজন শ্রমিক বিল্ডিংয়ে কর্মরত অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে, তাকে পরিচর্যা করার কেউ নেই, হাড় ভেঙে যাচ্ছে কিংবা মারা গেলেও তার দায়ভারকে গ্রহণ করবে কে? এ নিয়ে কোনো নীতিমালা আমরা আজ পর্যন্ত লক্ষ্য করিনি। এভাবে শত শত শ্রমিক বিনা চিকিৎসায় মারা যায়, যার জরিপ আজ পর্যন্ত কখনও হয়নি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এরপর আসা যাক গার্মেন্টস শ্রমিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে; যাদেরকে শিক্ষিত বানানোর স্বপ্ন তাদের বাবা-মা দেখে। কিন্তু তাদের ব্যয়ভার বহন করে উঠতে পারে না; তাই তাঁদের বড় একটি অংশ তাদের সন্তানদেরকে এখন কর্মমুখী করার চেষ্টা করছে অর্থাৎ তাদের সন্তানরাও শ্রমিক হিসেবে গড়ে উঠছে। একইসাথে এই সন্তানরাও পুষ্টিহীন অবস্থায় বেড়ে উঠছে, কারণ পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা এতটাই ব্যয়বহুল, যা তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়না। ফলশ্রুতিতে তারা সুস্বাস্থ্যহীন প্রজন্ম হিসেবে বেড়ে উঠছে, দিনাতিপাত করছে। ‌</p>
<p>কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ কী আদৌ এরকম একটা দেশ?</p>
<p>যেখানে এরকম দুরাবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের কোটি কোটি জনগণের পথ চলতে হচ্ছে। যেখানে আমরা কয়েকদিন আগে দেখলাম চট্টগ্রামের ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখায় দেড়শ ভরির অধিক স্বর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছে। অমুক ব্যাংকের টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। <strong>অপরদিকে ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদ এ ধরনের লোকেরা কোটি টাকা বাহিরে পাচার করে নিশ্চিন্তে তাঁদের দিন পার করছে।</strong> কিন্তু সে পাচারের ক্ষেত্রে আমরা সুষ্ঠু সমাধান না দিয়ে চিন্তা করছি, কালো টাকা দেশে কেন ভোগ করতে পারে না, যার কারণে বাহিরে দেশে পাঠাচ্ছে। আবার কালো টাকা ভোগ করার সুবিধা যদি দেশে দেওয়া হয়, তাহলে সবাই এটি অর্জন করতে শুরু করবে। এসব নিয়েই তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। এ বছর বাজেটে ১৫ % ভ্যাটের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সিস্টেমেটিক ওয়েও দেখা যায়।</p>
<p>অথচ এসবের বিরুদ্ধে গণমুখী ব্যবস্থা নেওয়া কত বেশি জরুরি ছিল, সেসব নিয়ে কিন্তু আমাদের কোনো মাথাব্যথা কিংবা উদ্যোগ নেই।</p>
<ul>
<li>অপরদিকে হাজার হাজার শ্রমিক যারা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে রেমিটেন্স পাঠায়, তারাও নানাবিধ কষ্টের মধ্য দিয়ে উপার্জন করে। তাদের পরিবারেরও শহর অঞ্চলে সকলেরই বাড়ি ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়, সন্তানের ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানো সম্ভব হয়না। তবে, তারা তুলনামূলকভাবে সচ্ছল। মূল বিষয় হলো, তাদের এই কষ্টের টাকা বাংলাদেশে আসছে, তাদের অর্থ উপার্জনের চেয়েও বড় বিষয় তারা পরিবার থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকে। কেউ বাংলাদেশে এসে হয়তো বিয়ে করে, তাকে আবার ফিরে যেতে হয়। আবার যারা বিবাহিত অবস্থায় গিয়েছে, বছরের পর বছর পরিবার সন্তান থেকে দূরে, মা-বাবা থেকে দূরে পড়ে থাকে। এত সকল ত্যাগের মধ্য দিয়ে তাদের পাঠানো রেমিটেন্সগুলো দেশে আসে। হয়তোবা এরচেয়ে বেশি পাঠানো সম্ভব ছিল, যদি তারা দক্ষ হতো। কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই অদক্ষ, এ ধরনের মানুষরাই বিদেশে যায়, এটাও আরেক জাতীয় দুর্বলতা।</li>
</ul>
<p><strong>আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ভিত্তি ও আয়ের অন্যতম উৎস বিদেশে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো আয়।</strong> <strong>সবমিলিয়ে যখন তাদের পাঠানো কষ্টের টাকাগুলো/রেমিটেন্সগুলো দেশে আসে এবং নানাভাবে বাইরেই পাচার হয়ে যাচ্ছে, গোটা জাতি শোষিত হচ্ছে! এরচেয়ে বড় জাতীয় লজ্জা আর কি হতে পারে আমাদের জন্য!? </strong></p>
<p>গত কয়েকবছরে প্রায় ২৫ লক্ষ শ্রমিক বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে খালি হাতে! কিন্তু কেউ কি খবর রেখেছে তাদের? বা তাদের কোনো মৌলিক দাবির? তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে? তাদের পারিবারিক অসহায়ত্বের কোনো সমাধান কি হয়েছে? জমি বিক্রি করে আমাদের টগবগে যুবকরা বিদেশে গিয়ে অসহায় চেহারা নিয়ে রাতদিন খেটে যায়, নির্যাতিত হয়; তাদেরকেই যখন খালি হাতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তখন একটা লাইনও আমরা উচ্চারণ করি না! কোনো উদ্যোগ ও কর্মসূচি তো বহুদূর! আদৌ এর কোন সমাধান হয়েছে কি?</p>
<ul>
<li>এরপর যদি আসা যাক নারী শ্রমিকদের আলোচনায়, নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থা। নিয়মিতই দেশে প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের লাশ ফেরত আসছে। <strong>এক বছরে সবমিলিয়ে লাশ এসেছে ৪ হাজার ৮৮১ টি।</strong> এর মধ্যে নারীদের সংখ্যাও অনেক। সাড়ে তিন বছরে শুধু সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকের লাশ এসেছে প্রায় <strong>সাড়ে তিনশ</strong>। তাঁদের মধ্যে <strong>৫৩ জনই আত্মহত্যা</strong> করেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আত্মহত্যার এই হার তিন বছর আগের চেয়ে ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মানে এই সময়ে তাঁদের ওপর নির্যাতনও ১৭ গুণ বেড়েছে! কোনটা আত্মহত্যা আর কোনটা হত্যা, তাইবা কে বলবে? কেনইবা পরিবারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ আমাদের মায়েরা আত্নহত্যা করে? কেউ আছে আমাদের? আছে কোনো পররাষ্ট্রনীতি, কোনো বৈদেশিক শ্রম ও অধিকার মন্ত্রণালয়?</li>
</ul>
<p>এ সকল পরিস্থিতিতে সত্যিকার সমাধান বা উত্তরণের উপায় বের করতে এগুলোকেই জাতীয় অর্থনৈতিক ইস্যু কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা বিভিন্ন ধরনের অহেতুক ইস্যুতে ব্যস্ত। ফলশ্রুতিতে যুবকরা কেন-ই-বা হতাশ হবেনা?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তৃতীয়ত,</strong> আমরা যদি লক্ষ্য করি, বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে নিমজ্জিত। অপরদিকে এসকল জ্বালানি সংকট নিয়ে আমাদের কোনো কাজ নেই, থিসিস বা রিসার্চ পেপার নাই, কোনো প্রস্তাবনা নেই কিংবা সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেই। কিছুদিন আগেও আমরা দেখতে পেয়েছি, সেন্টমার্টিন নিয়ে এত কথা ও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। অথচ, সেন্টমার্টিন নিয়ে কোনো ধরনের থিসিস বা প্রস্তাবনা নেই। আসলে সেখানে কী হয়েছিল? এখানে কী আমাদের কোনো রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা অথবা সুশীল সমাজের দুর্বলতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে না? এগুলো কেন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয় না?</p>
<ul>
<li>এরপর যদি আমরা লক্ষ্য করি, আমাদের পার্বত্য অঞ্চল এখনো পর্যন্ত একটি ধোঁয়াশায় নিপতিত হয়ে আছে। সেটি নিয়ে আমাদের কোনো কাজ নেই, বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ কারো কোনো গঠিত প্রস্তাবনা নেই কিংবা এ বিষয়ে আমাদের কোন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি নাই।</li>
</ul>
<p>আমরা কিছুদিন আগে মেতে উঠলাম ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে। এখানে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, আমাদের সম্মানজনক পররাষ্ট্রনীতি নেই কেন? পররাষ্ট্রনীতি থাকলেও সেটা আদৌ কী? অর্থাৎ সম্মানজনক পররাষ্ট্রনীতি যদি থাকতো, তাহলে এই নীতির উপর ভিত্তি করে ভিন্ন দেশের সাথে আমরা চুক্তি করতে পারতাম। সম্মানজনক পররাষ্ট্রনীতিই যেখানে নেই, সেখানে ছোটখাটো দুই-একটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস কিংবা ছোট দুই-একটি খবর দেশের পলিসির কিই-বা পরিবর্তন করতে পারে। অর্থাৎ স্থায়ী মুক্তির জন্য কোনো ইশতেহার সামনে হাজির নেই, কোনো গবেষণা নেই, সুশীল সমাজের কাজ নেই, সেখানে যুব সমাজ কেন-ই-বা হতাশ হবে না?</p>
<ul>
<li>বাংলাদেশের দারিদ্র্য কিংবা যুব সমাজের হতাশা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দেশের মৌলিক আলাপের বিষয় হওয়া দরকার ছিল; শিক্ষাব্যবস্থা। আর এই সেক্টর দক্ষ যুব সম্প্রদায়ের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হবে, পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন খাতসমূহকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। এ ধরনের কোনোকিছুই কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি না অর্থাৎ আজকের এই যে ভয়াবহ বেকারত্ব সৃষ্টি হয়েছে, এর পেছনের অন্যতম কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা।</li>
</ul>
<p>জাতীয় সংকট পূরণে এ শিক্ষাব্যবস্থা কোনো সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারছেনা। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে যে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে কোন প্রস্তাবনা নেই, কর্মপরিকল্পনা নেই।</p>
<p>সার্টিফিকেট ছাড়া ভিন্ন কোন অর্জনও নেই, বিবেকবোধ পর্যন্ত জাগ্রত হচ্ছেনা! বর্তমানে আমাদের এমন অবস্থা যে, রাস্তার পাশে বৃদ্ধ অসহায় নারীদের পড়ে থাকা, কিংবা যুবতী নারীরা শিশুসন্তান নিয়ে ফুটপাতে ঘুমাচ্ছে, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করছে, শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য ও সুস্থতাসহ সকল কিছু থেকে বঞ্চিতরা পথে ঘুমাচ্ছে, সেসকল মানুষজনের দিকে তাকানোর পরেও শিক্ষার্থী সমাজের ভবিষ্যৎ ভাবনা, দেশকে গঠন করার ভাবনা, কাজ করার মানসিকতা তৈরি হচ্ছেনা। অর্থাৎ এক ভয়াবহ মানসিক দাসত্বের মধ্যে দিয়ে বড় হচ্ছি কিংবা দিন পার করছি। তার মূল কারণও আখলাক ও আধ্যাত্মিকতাহীন এই শিক্ষাব্যবস্থা। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা যদি হাজির থাকে, কেন-ই-বা আমাদের যুব সম্প্রদায় হতাশ হবেনা?</p>
<ul>
<li>গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয়ে আমাদের নজর দেওয়া আবশ্যক।</li>
</ul>
<p>কিছুদিন আগে ঈদ গেল! শুধুমাত্র গত এক বছরে- প্রায় ০৭ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু পরিসংখ্যান আমাদের আড়ালেই থাকে তা হচ্ছে- মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়। রেলপথে দুর্ঘটনা ঘটছে, নদীপথেও দুর্ঘটনা ঘটছে; এগুলোকে শক্তিশালী করে সুন্দর একটি বিকল্প মাধ্যম বানানো যেত, কিন্তু নদীগুলোকেও আমরা হত্যা করছি।</p>
<p>অপরদিকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সাইটে আমরা দেখতে পাচ্ছি, কয়েক লক্ষ ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লক্ষ-লক্ষ ভুয়া চালক এখন বিদ্যমান। <strong>বিশেষ করে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মনির মারা যাওয়ার পর বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডক্টর শামসুল হক বলেছিলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ রাস্তার বাঁকগুলো অবৈজ্ঞানিক। যে ধরনের প্রশস্ততা থাকা দরকার সে ধরনের প্রশস্ততা নেই। রাস্তাগুলো যেখানে যে ধরনের বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি করা দরকার ছিল সেগুলো নেই।</strong></p>
<p>গাড়ির যে অবস্থা সেখানকার যে তদারকিসহ সকল জায়গাতেই একটা ব্যর্থতার পরিচয় আমরা দিয়ে যাচ্ছি। এগুলোকে জাতীয় ইস্যু, সংস্কার করা, সমাধান করা নিয়ে সে অর্থে দাবী উত্থাপন করতে দেখা যায়না, এমনকি জাতীয় রাজনীতি ও জাতীয় ইস্যুতে এ সকল বিষয়গুলোকে আমরা হরহামেশা অনুপস্থিত রেখে দিচ্ছি। অথচ দূর্ঘটনা আমাদের জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।</p>
<ul>
<li>সম্প্রতি হঠাৎ ব্যাপকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেড়েছে! দ্যা ডেইলি স্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছর ২০২৩ সালে ২৭৬২৪টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ দৈনিক ৭৭টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সারা দেশে এই অগ্নিকাণ্ডে ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও অসংখ্য ঘটনা মিডিয়া কভারেজের বাইরে ছিল।</li>
</ul>
<p>বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড, বিভিন্ন কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি বিষ্ফোরণ হয়ে বিভিন্ন বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছে। এসব কিন্তু সিস্টেমেটিক বিষয়ের সাথে জড়িত। অর্থাৎ এই বিষয়গুলো চাইলেই সমাধান করা সম্ভব। যখন মারা যাচ্ছে, তখন কিছু কথাবার্তা হচ্ছে, কিছু গ্রুপ ত্রাণ দিচ্ছে, কোন কোন সংগঠন আবার সমবেদনা জানিয়ে প্রেস ব্রিফিং করছে কিন্তু তারপরে কেউ এ ব্যাপারে এমনকি ট্রেড ইউনিয়ন থেকে শুরু করে কেউ কথা বলছে না, কেউ কোনো ভূমিকা রাখছে না। এ সকল ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যখন দেশ আগাচ্ছে, তখন যুব সম্প্রদায়ের মনে হতাশা তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।</p>
<p><strong>কারণ এই সময়ে বসে আমরা দেখতে পাচ্ছি,</strong> সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে। সামগ্রিকভাবে আইনের শাসনে ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০২। ঋণ খেলাপের দিক থেকেও বাংলাদেশ প্রথম সারিতে অবস্থান করে। এভাবে করে বাংলাদেশে ধর্ষণ সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে, গত দুই বছরে ১৭ হাজারের অধিক নারী-শিশু ধর্ষিত হয়েছে। অর্থাৎ আইন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এ সকল সহিংসতার দিক থেকে বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান চতুর্থ। ২০০২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধর্ষণ ও গণধর্ষণের পর হত্যা, এছাড়াও বিভিন্ন যে হত্যাগুলো হয়েছে অর্থাৎ বিনা অপরাধে কিংবা হত্যা সংশ্লিষ্ট যে মামলাগুলো হয়েছে, তার ৯৭ ভাগেরই সাজা হয়নি। নাগরিক নিরাপত্তার বেলায়ও আমরা দেখতে পাই, ১১৩ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০২ বা ১০৩ এ থাকছে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনা, যানবাহন নির্মাণ-শিল্প, পাহাড়কাটা, জাহাজের কিংবা ট্রেনের নিচে অবহেলার জন্য দুর্ঘটনা, নানাবিধ কারণে শত শত হাজার হাজার মানুষ মরছে। বৈদ্যুতিক শক কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে, উচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে একইভাবে হাজার হাজার শ্রমিক নিহত হচ্ছে। এর থেকেও বেশি নিহত হচ্ছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিনা অপরাধে হত্যার মধ্য দিয়ে। কিন্তু আমরা সুষ্ঠু কোন সমাধান পাচ্ছিনা। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো সমাধান হচ্ছে না অর্থাৎ ৯৭ ভাগ অপরাধী এ পর্যন্ত সাজারই বাইরে থেকে গেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এ সকল পরিস্থিতিতে দেশের যুব সম্প্রদায়ের মূল অংশটি কিন্তু দেশ ছাড়ার জন্য উন্মুখ।</strong></p>
<p>যে দেশে বেকারত্ব, যে দেশের কৃষি সংকট, যে দেশে সুস্থ শিক্ষার সংকট, যে দেশে এরকম অনিরাপত্তা! এই ধরনের সৃষ্ট সমস্যাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত করা, সেখানে গোটা প্রজন্মই যেন বড় হচ্ছে দেশ ছাড়ার স্বপ্ন নিয়ে।</p>
<p>তবে সেখানে একটি বড় অবদান রাখতে পারতো বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলসমূহ। ক্ষমতাসীন দল কিংবা বিরোধী দল, তাঁদের কোন দল ক্ষমতায় আসার পরে প্রথমে কিছু ইনোভেটিভ, ভালো ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিগত ছয় মাসে বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে সেটিও কিন্তু আমরা লক্ষ্য করিনি। একইভাবে এই সকল জায়গাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারতো বিরোধী দলগুলো, তারা কোনো ভূমিকা রাখছে না। মূল কথা হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি চরম হাহাকারে নির্মিত হচ্ছে।</p>
<p>এ হাহাকারটা কিসের?</p>
<p>এ হাহাকার নেতৃত্বের হাহাকার, যুবক সমাজের প্রস্ফুটিত হওয়ার হাহাকার। কারণ শক্তিশালী যুববান্ধব নেতৃত্ব নেই, কিছু কথাবার্তা হলেও সেগুলো ফেসবুকের কিছু লেখালেখি, কিছু ইউটিউবের ভিডিও! অর্থাৎ কোনো ভিশনারি দলের পক্ষ থেকে শক্ত লিডারশিপ এবং জাতির সংকট উত্তরণের জন্য তাদের পক্ষ থেকে কোন যৌক্তিক আহ্বান করছেনা। <strong>যুব সমাজকেও গড়ে তোলার কোনো প্রচেষ্টা করছে না। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে এর ভয়াবহ যে শূন্যতা, তার বড় প্রমাণ হচ্ছে তরুণ নেতৃত্ব তুলে আনার জন্য কোনো সামাজিক, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক কোনো উদ্যোগ বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করি না।</strong> বরঞ্চ নানাবিধ ইস্যুর ভীড়ে আমরা হারিয়ে যাচ্ছি। অথচ এই যুবসমাজকে গড়ে তোলার চেয়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতিক যে উদ্যোগগুলো প্রয়োজন ছিল; এই প্রয়োজন সেখানে ব্যর্থ হচ্ছে। বেকারত্ব, শিক্ষা কাঠামো, দেশের অব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়গুলোকে নিয়েই কিন্তু ইস্যু হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেগুলো কেউ করতে পারছে না। মূলত এই প্রত্যেকটি কাজ ছিল বড় বড় রাজনৈতিক দল, সংগঠন, অর্থনৈতিক সংগঠন থেকে শুরু করে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর। অথচ কেউ এক্ষেত্রে স্বার্থক কিংবা সফল হতে পারেনি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আবার সকলের একটি মুখস্ত দোষ দেওয়ার জায়গা তৈরি হয়েছে, আওয়ামী লীগ দেশ চালাচ্ছে, তারা কিছু করতে দিচ্ছেনা। আসলে কি আওয়ামী লীগ দেশ চালাচ্ছে? নাকি বাহ্যিকভাবে কোনো নেতৃবৃন্দ দেখা গেলেও তাদের হাতে আসলে দেশ নেই। মাফিয়া সিন্ডিকেট কিংবা ডিপ স্টেটগুলো দেশ চালাচ্ছে। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীগুলো তাদের মত করে সমস্ত কিছুকে শোষণ করে তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করে নিচ্ছে। আমরা সম্পূর্ণ একটি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছি।</p>
<p>আমরা যদি বিএনপি-জামাতের দিকে লক্ষ্য করি, তারা নির্বাচনের আগে একটু একটিভ হলেও বাকি সময়গুলোতে জাতীয় ইস্যু তারা নির্ধারণ করতে পারছে না। গণমুখী আহবান তাদের করতে হবে। এটা তাদেরকে করতে হবে, যদি তারা সামনে কিছু করতে চায়। তারা আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, তারাই দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ সংগ্রামকে এগিয়ে নেবে; এ ধরনের দৃঢ়তা তাদের জন্য আবশ্যক।</p>
<p>অর্থাৎ এই যে সংকট, এ সংকটগুলো কেন-ই-বা তৈরি হচ্ছে? এ প্রশ্ন কিন্তু আমরা করছি না। কারণ এ অবস্থা একদিনে হয়নি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। কেন জাতীয় ব্যর্থতা?</p>
<ul>
<li><strong><em>সমাজ গতিশীলতা হারিয়ে ফেলছে, আমরা ব্যক্তি পর্যায় থেকে কেউ কাজ করি না। কেউ দেশকে শক্তিশালী করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি না।</em></strong></li>
<li><strong><em>সাম্রাজ্যবাদী বিদেশি শক্তি চেপে বসা।</em></strong></li>
<li><strong><em>ডিপ-স্টেটগুলির নিয়ন্ত্রণ। </em></strong></li>
<li><strong><em>আমাদের সামাজিক সচেতনতাকে সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলা। এ সকল কারণগুলোর মধ্য দিয়ে একটা অজানা দাসত্ব ব্রিটিশ আমলের ন্যায় চেপে বসে আছে। </em></strong></li>
</ul>
<p>ফলশ্রুতিতে জ্বালানি খাতের মতো এতো বড় খাত কিংবা সাধারণ একটি খাতের কোনো সুষ্ঠু নীতি তৈরি করতে পারি না। যেমন- জ্বালানি খাতের ভুল নীতির কারণে আজকে বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে হচ্ছে। সত্যিকারের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নেই, থাকলেও তাদের নীতি সর্বদাই সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তৈরি হয় এবং সে আলোকেই প্রস্তাবনা দেয়। আমদানি নির্ভর জ্বালানি খাত বানানোর মতো অন্যতম কারণও এটি। খাদ্যের ক্ষেত্রে একই ভাবে এটি আমদানি নির্ভর করে রেখেছে। খাদ্য বিশেষজ্ঞ আমাদের নেই? সে ধরনের নেতৃত্ব কি নেই? সত্যিই তো নেই। যেখানে বড় বড় গোষ্ঠীর দলগুলি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সেখানে যুবকদের অবস্থা কিইবা হবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এজন্য বলতে চাই,</p>
<p>জাতীয় ব্যর্থতাকে কাটিয়ে উঠতে, সমাজকে গতিশীল করতে, সাম্রাজ্যবাদী শোষণ থেকে মুক্ত করতে, সামাজিক সচেতনতা এবং দাসত্ব থেকে মুক্ত একটি যুব সম্প্রদায়কে গড়ে তুলতে; <strong>সর্বপ্রথম যুবকদেরকে একটি জাতীয় ভিশন দেখাতে হবে।</strong> প্রত্যেকটি ব্যক্তি যেনো তার ব্যক্তি পর্যায়ে থেকে, নিজ ফিল্ডে জানা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে পারে, উপমা তুলে ধরতে পারে। সংস্কৃতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা শিক্ষা বা অন্য কোনো মাধ্যমে যুবকদের গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাতে পারে। ভিশনারী এই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাহলেই আজকের এই দিনের হতাশা যুব সম্প্রদায়ের মাঝে আত্মবিশ্বাস আকারে ফিরে পাবে।</p>
<p>কারণ আমরা সংগ্রামী জাতি, যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করেই আমাদের আজানকে টিকিয়ে রাখতে পেরেছি, জাতীয় সত্তাকে টিকিয়ে রেখেছি, ঈমানকে টিকিয়ে রেখেছি, আমাদের মাটি ও মানুষের মৌলিক যে চেতনা সেটিকে টিকিয়ে রেখেছি। অতএব এ সকল বিষয়কে যেহেতু আমরা টিকিয়ে রাখতে পেরেছি, অর্থনীতি, পানি, নগর, গার্মেন্টস, জ্বালানি সকল ব্যর্থতাকে কাটিয়ে উঠতে পারবো এবং জাতীয় নেতৃত্ব আমাদের যুব সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই দিতে পারবো, এ বিশ্বাস লালন করতে হবে এবং এটার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তার ওয়াদা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য যোগ্য করে তুলবেন, ইনশাআল্লাহ।</p>
<div id="gtx-trans" style="position: absolute; left: 66px; top: 2202.93px;">
<div class="gtx-trans-icon"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/13-july-2024-our-country-soil-and-people/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14551</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বিশ্বব্যবস্থার মৌলনীতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/principles-of-world-order/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/principles-of-world-order/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. ইসমাঈল রাজী আল ফারুকী]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 May 2024 11:57:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14315</guid>

					<description><![CDATA[আল্লাহ যেহেতু এক এবং একক, সে কারণে তার সকল আদেশই সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এই বিশ্বজনীনতা কর্তা হিসেবে অর্থাৎ আদেশ পালনকর্তা হিসেবে মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আবার কর্ম হিসেবেও মানুষের বেলায় প্রযোজ্য যাদের মধ্যে আল্লাহর আদেশগুলো পূরণ হয়। এর পূর্বে মানুষ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আল্লাহ যেহেতু এক এবং একক, সে কারণে তার সকল আদেশই সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য। এই বিশ্বজনীনতা কর্তা হিসেবে অর্থাৎ আদেশ পালনকর্তা হিসেবে মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আবার কর্ম হিসেবেও মানুষের বেলায় প্রযোজ্য যাদের মধ্যে আল্লাহর আদেশগুলো পূরণ হয়। এর পূর্বে মানুষ একত্র হয়েছে রেস্ (নরগোষ্ঠী) অথবা সংস্কৃতির ভিত্তিতে কিংবা উভয়ের ভিত্তিতে। ইসলাম মানবিক মিলনের এক অভিনব ভিত্তি স্থাপন করেছে, উম্মাহ হচ্ছে সেই ভিত্তি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইতিপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি দৃষ্টি, ইচ্ছা এবং কর্মের ত্রয়ী ঐকমত্য হচ্ছে উম্মাহ, যাতে কেবল মুসলমানরাই একমত হবে বলে আশা করা হয়। তাওহীদ যে বিশ্বজনীনতা বুঝায় তা একটি নতুন বিন্যাস দাবী করে। যেহেতু মুসলিম উম্মাহ একটি নতুন সমাজ, যার ভিত্তি গোত্র বা রেস নয় বরং ধর্ম, তাই আশা করা হয় অমুসলমানরাও এই নীতিই অনুসরণ করবে, অর্থাৎ তারা গোত্র এবং রেসের বন্ধন অতিক্রম করে ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদেরকে সংগঠিত করবে। আধুনিক পাশ্চাত্য প্রচার মাধ্যম ধর্মকে মনে করে পশ্চাতমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানব সংহতির অচল বিভেদমূলক ও সংকীর্ণ নীতি। কিন্তু ধর্ম মোটেই তা নয়। এখনো পৃথিবীতে মানবজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ধর্ম। ধর্মেই আমরা পাই মানুষের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংজ্ঞা। খ্রীষ্টিয়ান চার্চের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য জাতিগুলোর দীর্ঘ এবং তিক্ত সংগ্রাম ধর্মের এই অপখ্যাতির জন্য দায়ী&#8217; [১] যেহেতু চার্চের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করেছে রাজার প্রতি আনুগত্য, নৃতত্ত্বকেন্দ্রীকতা এবং জাতীয়তাবাদের শক্তিসমূহ। [২]</p>
<p>তাই মিলনের ভিত্তি হিসেবে এবং ধর্মের উদ্দিষ্ট বিশ্বজনীন সমাজের বুনিয়াদ হিসেবে ধর্ম পরিত্যক্ত হয়েছে এবং চার্চের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের জন্য নিন্দিত হয়েছে। তাই পাশ্চাত্য মন এনলাইটেনমেন্টের আদর্শে মুখ ফিরিয়েছে। বিশ্বজনীন সম্প্রদায়ের আদর্শের দিকে যেখানে চার্চের একই আদর্শ অনুসৃত হল কেবল যুক্তির ভিত্তিতে, ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়। পরে আবার সে আদর্শ পরিত্যক্ত হয়, কারণ বৈপ্লবিক ফ্রান্সের জাতীয়তাবাদী -সাম্রাজ্যবাদীদের মোকাবেলায় পশ্চিমা জগৎ তা সমর্থন করতে গিয়ে স্নায়ুর শক্তি হারিয়ে ফেলে।</p>
<p>ইসলাম পৃথিবীকে দেখতে চেয়েছে বাস্তবতা সম্পর্কে তার নিজের ধারণা, তার নিজের আদর্শ, তার স্বজন ও বংশধরদের ও মানব জাতির চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে, আর এ সমুদয় নিয়েই গঠিত ইসলাম। ইসলাম অমুসলমানদের কাছ থেকে এ ধরনের একটি সত্যকে প্রত্যাহার করবেনা যা দ্বীনের উপর ভিত্তি করে নিজেদের সংগঠিত করে পালন করে থাকে। পক্ষান্তরে, ইসলাম এ তাগিদ দেয় যে তারা একইরূপ সম্মান ও মর্যাদা ভোগ করবে অন্য কোন ভিত্তির উপর নিজেদের পরিচয় দিতে বা সমাজ গঠনে অস্বীকৃতি জানিয়ে; বস্তুত এটা ইসলামের জন্য আরো সম্মাজনক যে, যারা ইসলাম অনুসরণ করবেনা তাদের পার্থিব জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোতে প্রতিযোগী হিসেবে দেখে এবং তাদের কেবল এই সব প্রশ্নের জবাবকে কেন্দ্র করে গঠিত সমাজ বলেই গণ্য করে। [৩]</p>
<p>হিযরতের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদেরকে দ্বীনের ভিত্তিতে একটি সংগঠনরূপে সংগঠিত করেন। তিনি &#8216;আওস&#8217; এবং &#8216;খাযরাজ&#8217; গোত্র দুটিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ করেন, কোরাইশের সেই সব গোত্রীয় লোকদের সাথে, যাদেরকে তিনি মদীনায় পাঠাতে শুরু করেছিলেন। তদুপরি তিনি আযাদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন দাসদের সঙ্গে, প্রভুকে তার প্রজার সঙ্গে, তাদের সকলের জন্য সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর আইনকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় কায়েম করেছিলেন। সমভাবেই তিনি তাদের উপর নিজেকে স্থাপন করেছিলেন রাজনৈতিক ও বিচার বিষয়ক প্রধান হিসেবে। কিন্তু <strong>৬২২ খ্রীষ্টাব্দের জুলাই মাসে মদীনায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি মুসলমান ও ইহুদীদের জন্য একটি সনদ ঘোষণা করেন, যে চুক্তিতে মুসলমান ও ইহুদীরা আবদ্ধ হবে এবং তদনুসারে তাদের জীবনকে গঠন করবে। এই সনদটি ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধান এবং বিশ্বব্যবস্থার গঠনতন্ত্র, মানবজাতির জন্য যে ব্যবস্থার নির্মাণ হচ্ছে ইসলামের লক্ষ্য। এই সংবিধান বলবৎ করার মানেই ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের প্রবর্তন এবং তৎসহ বিশ্ব ইতিহাসে একটি প্রতিযোগী আন্দোলন হিসেবে ইসলামের ঘোষণা। এই শেষোক্ত বিবেচনায় উদ্দীপিত হয়ে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ঘোষণা করেন যে, এই দিবসটি হচ্ছে ইসলামী ইতিহাসের সূচনা, ইসলামের সময়কে হিসেব করার শুরু।</strong> মূলত [৪] সংবিধানটি ছিলো একটি সনদ যার বলে সৃষ্টি হল ইসলামী রাষ্ট্র, এই সনদ বা চুক্তি হল রাসূলুল্লাহ (সা.), মুসলিমগণ এবং মদীনার ইহুদী ও বিভিন্ন গোত্রের লোকদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি। এই সনদের গ্যারান্টার হচ্ছেন আল্লাহ নিজে যার নামে তা প্রবর্তিত হল, এই সনদ প্রথমে গোত্রীয় আনুগত্যের পরিচয়ে দল গঠনের পদ্ধতিকে উচ্ছেদ করে এবং কর্তব্য, অধিকার ও দায়িত্বকে গোত্রের প্রতি আনুগত্য হিসেবে প্রকাশ করার নিয়ম রহিত করে। গোত্রবাদের স্থানে এই সনদ দ্বীনকে প্রথম নীতি হিসেবে স্থাপন করে এবং তার অধীনে বিভিন্ন গোত্র সামাজিক মর্যাদার এবং নানা জাতের লোকদের সংঘবদ্ধ করে। তখন থেকে সকল মুসলমান হল একটি মুক্ত, পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উম্মাহর সদস্য, যার সামাজিক ঐক্যবন্ধন হচ্ছে ইসলাম। [৫] মুসলমানদের উম্মাহর পাশাপাশি ছিল আর একটি উম্মাহ-ইহুদী উম্মাহ। মুসলমানদের মত তারাও নিজেদেরকে গঠন করবে একটিমাত্র পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত সত্তায় তাদের গোত্রীয় আনুগত্য উপেক্ষা করে। তাদের উম্মাহ শাসিত হবে ইহুদী (তাওরাত) আইন দ্বারা এবং এর সদস্যদের জীবন পরিচালিত হবে রাব্বিগণ কর্তৃক ব্যাখ্যাত ইহুদী ধর্মের বিধিবিধান দ্বারা। ইসলামে রাষ্ট্রের কর্তব্য হচ্ছে ইহুদী উম্মাহর সুরক্ষা, রাব্বিনিক আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা, এবং এর কল্যাণ ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা, শান্তি ও পরিবেশের ব্যবস্থা করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ছয় বছর পরে দক্ষিণ আরবের নাজরানের খ্রীষ্টানরা মদীনায় রাসূলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে সাক্ষাত করে ইসলামী রাষ্ট্রে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার জন্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে অভিনন্দিত করে ইসলাম গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান, তাদের মধ্যে যারা ইসলাম কবুল করলো, তারা মুসলিম উম্মাহর ভেতর সামিল হয়ে গেল, কিন্তু যারা খ্রীষ্ট ধর্ম ত্যাগ করলনা রাসূলুল্লাহ তাদেরকে ইহুদীদের মত আর একটি উম্মায় সংগঠিত করলেন, তাদের জন্য একই অগ্রাধিকার এবং কর্তব্যের নিশ্চয়তাসহ। পরবর্তীকালে খলিফারা একের পর এক একই মর্যাদা দিয়েছেন জরথুস্ত্রীয়, হিন্দু এবং বৌদ্ধগণকে। ইসলামী রাষ্ট্র সম্প্রসারিত হবার সঙ্গে সঙ্গে নওমুসলিমরা মুসলিম উম্মাহর পরিসর স্ফীত করে তোলে, এবং যারা ইসলাম কবুল করলোনা তারা ইহুদী, খ্রীষ্টান ও অন্যান্য উম্মাহর সদস্য রয়ে যায়। প্রথমোক্তগণ ইসলামী রাষ্ট্রের পদাংক অনুসরণ করে, ইসলামী রাষ্ট্রের মধ্যে নওমুসলিম লোকদের অন্তর্ভুক্ত ও অঙ্গীভূত করে নেয় এবং নতুন ব্যবস্থার নাগরিক হিসেবে তাদেরকে পুনর্বাসিত করে। প্রথম দিকের কয়েক যুগ পর ইসলামী রাষ্ট্রের প্রাথমিক আঞ্চলিক সম্প্রসারণের পর ইসলামী রাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণে সংখ্যাগুরু ছিলো অমুসলিমরা। রাষ্ট্রের সেবাযত্নের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের বিষয়বস্তু ছিলো এইসব অমুসলিমের ভবিষ্যত এবং নিশ্চয়তা, তাদের কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠাসমূহ।</p>
<p>আজকের দিনে জাতি অর্থে যাকে &#8216;স্টেট&#8217; বলা হয়, সেই অর্থে ইসলামী রাষ্ট্র একটি রাষ্ট্র নয়। ইসলামী রাষ্ট্র একটি সমজাতিক সমগ্র নয়, একটি জাতীয়তামূলে সংহত একক নয়। সম্প্রদায় শব্দটির সংজ্ঞাবদ্ধ সদস্যদের একটি সম্প্রদায় নয়, যার একমাত্র যৌক্তিকতা হচ্ছে সকল বিষয়ের মানদণ্ড হিসেবে এর প্রতিরক্ষা ও খিদমত। ইসলামে রাষ্ট্র ছিল একটি সুদৃঢ় কেন্দ্র, যার প্রতিরক্ষার পেছনে ছিলো একটি প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি এবং একটি মুসলিম উম্মাহর সমর্থন ও স্বায়ত্তশাসিত ধর্মীয় সম্প্রদায়সমূহের একটি ফেডারেশনের সহযোগিতা, যে সম্প্রদায়গুলোর প্রত্যেকটিরই ছিলো নিজস্ব ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাদের সকলের উপর ছিলো ইসলামী রাষ্ট্র, তবে তার ক্ষমতা ছিলো কেবল নির্বাহী ক্ষমতা। রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা ছিলোনা। রাষ্ট্র নিজেকে যে আইনের অধীন মনে করতো তা হচ্ছে আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত, তার অভিপ্রায়কে কার্যকর করার জন্য রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, পৃথিবীতে রাষ্ট্রের মিশন হচ্ছে পৃথিবীর সর্বত্র তার সম্প্রসারণ এবং তাতে করে সকল মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য ও দাসত্বের ভিত্তিতে একত্রীকরণ, কেননা আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন গোত্র, জাতিতে বিভক্ত করেছেন, পরিচয়ের সুবিধা এবং সহযোগিতার জন্য। [৬] ইসলামী রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্ব হচ্ছে আইনের, রাষ্ট্র তার সকল প্রতিষ্ঠানসহ এই আইনের নির্বাহী শক্তিমাত্র। এই ঐশী আইন রাষ্ট্রের মিশন হিসেবে বিধান দিয়েছে এই পৃথিবীকে এবং মানবজাতিকে আল্লাহ তাঁর প্রত্যাদেশ মারফত যে নমুনা দিয়েছেন সেই নমুনার আদলে রূপান্তরিত করতে।</p>
<p>ইসলামী রাষ্ট্র খ্রীষ্টান, ইহুদী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রের গঠনকারী উপাদান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতেই কেবল বাধ্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতিকেই ইসলামী রাষ্ট্রের অন্তর্গত করা তার দায়িত্ব। তাই অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধানে এমন একটা জীবন ব্যবস্থার সুযোগ থাকবে যেখানে সকল সম্প্রদায় শান্তিতে বসবাস করবে পুরো ন্যায় নিষ্ঠার সঙ্গে এবং একে অপরের সঙ্গে নানা কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সাথে। ইসলামী রাষ্ট্রের সংবিধানে এ সকলেরই ব্যবস্থা করা হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>ক. ইসলামে শান্তি</strong></h4>
<p>ইসলাম যে নতুন বিশ্বব্যবস্থা পেশ করেছে তা হচ্ছে শান্তির ব্যবস্থা, পৃথিবী থেকে চিরকালের জন্য যুদ্ধ এবং শত্রুতার চির অবসান ঘটাতে হবে। এই শান্তি সকলের জন্য, এবং ব্যক্তি ও গ্রুপ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এই শান্তির দ্বার অবারিত। আল্লাহ মুসলমানদেরকে আদেশ করেছেন, &#8220;হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা শান্তিতে প্রবেশ কর সম্পূর্ণভাবে এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা।&#8221; [৭] তিনি তাদেরকে আদেশ করেছেন সকল মানুষকে শান্তির দিকে আহ্বান করতে। &#8220;যদি তারা (বিরোধীগণ) শান্তির প্রতি আগ্রহশীল হয়, তোমরাও শান্তি অনুসরণ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন কর। [৮]&#8221; শান্তির ব্যবস্থা প্রদান করতে হবে সকল মানুষকে এবং প্রত্যশা করা হয় যে, সকলেই তা গ্রহণ করবে এবং সর্বান্তকরণে সকলে শান্তিতে প্রবেশ করবে, শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা যাবেনা। যদি কেউ প্রত্যাখ্যান করে তবে বুঝতে হবে সে দল শান্তি চায়না এবং তা যুদ্ধ ঘোষণারই শামিল। নিদেনপক্ষে অবস্থা এই হতে পারে যে, শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দ্বারা বুঝাতে পারে, যে দল শান্তির প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল তাদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক স্থাপনে অনিচ্ছুক। কিন্তু এ তো &#8216;আইসোলেশনিজম&#8217; বা অন্যদের থেকে দূরে সরে থাকা; এই বিকল্প কিন্তু যুদ্ধের মতই নিন্দনীয় যদিও তা হিংসাত্মক নয়। কারণ এতে শান্তির দাবির প্রতি তাচ্ছিল্য বুঝায়। যে দাবি উত্থাপিত হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অথবা এর দ্বারা বুঝায় ইসলামী রাষ্ট্রের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আদান প্রদানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জনগণকে নিরাপদ রাখার বাসনা। <strong>ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দুই বিকল্পের জন্যই শান্তি হচ্ছে জবরদস্তিমূলক জবাব; প্রথমত, যে কোন জনের পক্ষ থেকে শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা অমানবিক কাজ এবং দ্বিতীয়ত, যে লোকগুলোকে এ ধরনের আদান প্রদানের জন্য আহ্বান করা হয়েছে তাদের মর্যাদার জন্য তা অপমানজনক।</strong> বস্তুত নর-নারী নির্বিশেষে কেউ যাতে অন্যদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা না করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে কোন মানুষকে একটা নিরেট পর্দার অন্তরালে আড়াল করা তার সততার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর আক্রমণ এবং সে কারণে এরূপ কর্ম সেই লোকের বিরুদ্ধে একটি আগ্রাসী কার্য। ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিকদের সঙ্গে প্রকল্পিত আদান প্রদান হতে পারে ব্যবসায়িক এবং সামাজিক সম্পর্কের মাধ্যমে, যা অন্য রাষ্ট্র আপত্তিকর মনে করতে পারে, কিন্তু তাতে সম্ভাব্য ভবিষ্যত সম্পর্কগুলোর সম্ভাবনা ফুরিয়ে যায় না। সকল আর্থক এবং সামাজিক আদান প্রদানের পরও রয়েছে ইসলামের এই আদর্শগত দাবি যে, বিশ্বশন্তির একটি নতুন ব্যবস্থা হচ্ছে মানব জাতির অধিকার, যোগাযোগের এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে মানুষ আদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাধীন। অন্যের কথা শুনতে ও অন্যকে তার কথা শোনাতে, অন্যকে সত্যের ব্যাপারে বিশ্বাসী করতে এবং অন্যের দ্বারা নিজে বিশ্বাসী হবার বেলায় সে বাধাহীন, তার সামনে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবেনা। ইসলামী রাষ্ট্র তার সনদ দ্বারা বাধ্য আল্লাহর কালাম ঘোষণা করতে, এর দাবি এই যে, তার কথা শুনতে হবে। বাণীটি গৃহীত হলো কি, না হলো, তা একটি স্বতন্ত্র ব্যাপার, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পছন্দের ব্যাপারে মানুষ সম্পূর্ণ স্বাধীন, কিন্তু অন্যের কথা না শোনার ব্যাপারে মানুষ স্বাধীন নয়। এধরনের প্রত্যাখ্যান যখন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসে, তখন তা হয়ে দাঁড়ায় তাদের নেতাগণ কর্তৃক জনগণের অবমাননা এবং ইসলামের বিচার সম্মত দাবীর প্রতি একটি অযৌক্তিক প্রতিক্রিয়া।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>খ. জাতি সম্পর্কিত ইসলামী বিধান</strong></h4>
<p>যদি ইসলামী রাষ্ট্রের সনদের শান্তির প্রস্তাবের উত্তরে কোন একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দেয়, তাহলে সেই রাষ্ট্র ইসলামের শান্তিতে বা নতুন বিশ্বব্যবস্থায় প্রবেশ করে এবং সঙ্গে সঙ্গে সে সদস্যপদের জন্য নির্ধারিত সকল অধিকার এবং প্রাধিকার লাভের অধিকারী হয়ে উঠে। এভাবে যে সদস্য নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় প্রবেশ করল তার রাজনৈতিক, আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ অক্ষুন্ন থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে, এ এগুলো ইসলামী রাষ্ট্রের সুরক্ষার দাবিদার। এখন থেকে হিংসা বা বিপ্লবের মাধ্যমে কিংবা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সম্মতি ছাড়া এগুলো পরিবর্তন করা যাবেনা। এই সব প্রতিষ্ঠানের রায় ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধতা, সর্বোপরি আইন আদালতের রায় ও সিদ্ধান্ত লঙ্ঘনের পরিণামে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইসলামী রাষ্ট্রের ক্ষমতা সঙ্গে সঙ্গে বলবৎ হবে। সেই জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারসমূহ তাদের নিজেদের আইন দ্বারা শাসিত হবে। জনগণ তাদের নিজেদের ধর্মের নীতিমালার আলোকে তাদের নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী কিংবা যথাবিধি গঠিত ও নিযুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যাখ্যার আলোকে তাদের নিজেদের জীবন অবাধে যাপন করবে। সকল মানুষকে আল্লাহর দিকে, তার দ্বীন ইসলামের দিকে আহ্বান করা মুসলমানের কর্তব্য বলে, এইসব নতুন নাগরিকের সঙ্গে মুসলমানরা সম্পর্ক স্থাপনে চেষ্টা করবে তাদের সঙ্গে ইসলামের বিষয়ে আলাপ আলোচনার আহ্বান জানাবে। অবশ্য নতুন নাগরিকদের প্রতি এবং তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আল্লাহ মুসলমানদের আদেশ করেছেন দয়া ও সহানুভূতির সঙ্গে অমুসলমানদের কাছে ইসলামকে পেশ করতেঃ <strong>“মানুষকে তোমার প্রভুর দিকে আহ্বান কর হিকমত ও সৎ উপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে আলোচনা কর সৎভাবে।</strong>[৯] যদি তারা ইসলামের এই দাওয়াত গ্রহণ করে, তারা হবে মুসলমানদের ভ্রাতা ও ভগ্নী। আর যদি গ্রহণ না করে, তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে এবং কোন অবস্থাই তাদের উপর পীড়ন করা যাবেনা। সর্বোপরি তাদেরকে ইসলামে দীক্ষিত করার প্রয়াসে জবরদস্তি, প্রতারণা, প্রলোভন বা ঘুষের আশ্রয় নেয়া চলবেনা। <strong>আল্লাহর আদেশ সম্পূর্ণই স্পষ্টঃ &#8220;দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নেই।&#8221; (কুরআন ২:২৫৬)</strong>। কোনো ব্যক্তিকে দ্বীনে দীক্ষিত করার জন্য জবরদস্তি, বা উৎকোচের আশ্রয় নিলে আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অধিকন্তু ইসলামী আইনের দৃষ্টিতে এর কোন বাধ্যবাধকতাই নেই। যেখানে ইসলামী রাষ্ট্রের নতুন নাগরিকদের সংঘর্ষ বাধে পুরনো নাগরিকদের সঙ্গে, সেখানে বাদী এবং বিবাদী প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ উম্মাহর আশ্রয় নিতে পারে। আদালত শুনানীর পর এই নীতিকে সম্মান করতে এবং তদনুসারে বিচার করতে বাধ্য হবে। যেখানে বিবাদের কারণটি সুস্পষ্ট নয় সেখানে উভয় পক্ষের সর্বোত্তম স্বার্থের খাতিরে এবং তাদের নিজ নিজ উম্মাহর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে একই আদালত বা উচ্চতর আদালতে এর মীমাংসা করতে হবে। আইনের প্রক্রিয়ার সুযোগ গ্রহণের জন্য শরীয়াহ প্রত্যেকের অধিকারই স্বীকার করে। ব্যক্তি হোক কিংবা গ্রুপ হোক, নতুন নাগরিকেরা আইনের সাহায্য নিতে পারে। অভিযোগটি অন্য কোনো মুসলিম ব্যক্তি, গ্রুপ, এমনকি খোদ ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হলেও তাতে কিছু আসে যায়না। অমুসলিম উম্মাহর যে কোন সদস্য খলিফা, ইসলামী রাষ্ট্র, মুসলিম উম্মাহ বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারে। ইসলামী আদালত স্বভাবতই এই অভিযোগ গ্রহণ করতে এবং আইন অনুসারে তা বিচার করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত।</p>
<p>প্রকৃতপক্ষে কোনো ইসলামী আদালতে অভিযোগ পেশ করার জন্য বাদীর ইসলামী রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া মোটেই আবশ্যক নয়। পৃথিবীর সকল মানুষ, মুসলিম এবং অনাগরিকসহ সকলে ইসলামী বিচারালয়ে অভিযোগ পেশ করতে পারে। ইসলামী আন্তর্জাতিক আইনের এটি একটি মহৎ শ্রেষ্ঠত্ব যে, এ আইন কেবল সার্বভৌম জাতিসমূহের অধিকারই স্বীকার করেনা, একইভাবে ব্যক্তিবর্গের অধিকারও স্বীকার করে। এর ব্যাখ্যা এই যে, ইসলামী আইন তার লক্ষ্য হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তির স্বার্থে ন্যায়বিচারের সংজ্ঞা নিরূপণ করেছে, অথচ পাশ্চাত্য আন্তর্জাতিক আইন বিভিন্ন সার্বভৌম গ্রুপের মধ্যে সংগতি বিধানের চেষ্টা করে। গ্রুপের স্বার্থ যে ব্যক্তির স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নাও হতে পারে, সেকথা বিবেচনা না করেই- একথা প্রায়শই ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রবলের স্বার্থে। অসঙ্গত মনে হতে পারে যে, ইসলামী আইন অন্য রাষ্ট্রের কোনো নিঃস্ব নাগরিককে বা রাষ্ট্রপরিচয়হীন একজন নাগরিককেও গোটা ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযুক্ত করার অধিকার দেয় এবং তার খলিফাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। কিন্তু <strong>ইসলামে আদালত কর্তৃক নির্দোষ ঘোষিত ব্যক্তির জন্য ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে- আদালতের ব্যয় সব সময় বহন করে অপরাধী। প্রবলপরাক্রান্ত খলিফার সম্মান এবং আরাম আয়েশের চাইতে এই নিঃস্বের সুবিচার আইনের দৃষ্টিতে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। যেমন খলিফার দায়িত্ব গ্রহণের পর আবু বকর সিদ্দীক (রা) বলেছিলেন: &#8220;আমি যতক্ষণ না প্রবলের কাছ থেকে দুর্বলের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পেরেছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার দৃষ্টিতে শক্তিশালী পক্ষ হবে তুচ্ছ। দুর্বল আমার দৃষ্টিতে হবে শক্তিশালী যতক্ষণ না আমি তাদেরকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পেরেছি”। </strong>[১০]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সমভাবে ইসলামী আন্তর্জাতিক আইন আন্তর্জাতিক যুদ্ধে বন্দীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রভূত যত্ন নিয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, যুদ্ধোত্তর মীমাংসায় আলোচনার ক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দীরা বিভিন্ন গ্রুপের দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাদের জীবন এবং ভাগ্য নির্ধারিত হয় ইউরোপীয় শক্তিগুলোর গৃহীত স্বেচ্ছাচারী কনভেনশনের আওতায়। ইসলামিক আইনে এটা স্বীকৃত যে যুদ্ধবন্দীদের নিজেকে মুক্ত করার অধিকার আছে।</p>
<p>সে নিজে এবং নিজের উদ্যোগেই মুক্তি অর্জন করতে পারে- তার নিজের আত্মীয়- স্বজন বা বন্ধু-বান্ধব মুক্তিপণস্বরূপ যা দিতে পারে তার সাহায্যে অথবা বিষয় সম্পদ বা খেদমতের বিনিময়ে সে ব্যক্তিগতভাবে যা উৎপাদন করতে পারে তার বিনিময়ে। ইসলামী রাষ্ট্র যুদ্ধবন্দীর নিজের প্রদত্ত অথবা তার পক্ষে প্রদত্ত উপযুক্ত মুক্তিপণ প্রত্যাখ্যান করতে পারেনা; ইসলামী আদালত এ ব্যাপারে রাষ্ট্রকে বাধ্য করতে পারে। <strong>ইসলামে বিধান রয়েছে সকল মুসলমান ব্যক্তি এবং গ্রুপ নির্বিশেষে তাদের যাকাতের এক সপ্তমাংশ যুদ্ধবন্দীদের মুক্তপণ স্বরূপ ব্যয় করবে, যুদ্ধবন্দীরা মুসলমান হউক বা না হউক। ইসলাম একদিকে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিদান মহাপুণ্যের কর্ম বলে ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিদানকে মহাপাপের কাফফারা বলে ইসলাম ধর্মীয় নির্দেশ ঘোষণা করেছে।</strong> যখন কোনো মহিলা যুদ্ধবন্দী গর্ভবতী হয়ে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে তার বন্দীত্বের অবসান হয় এবং আমৃত্যু সে তার বন্দীকর্তার স্বাধীন স্ত্রীর পূর্ণ মর্যাদা ভোগ করে। ব্যক্তির জন্য এই সুবিচারের আগ্রহের ইসলামী আন্তর্জাতিক আইন ইসলামী রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভিন্ন রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য সম্ভাবনার পথ খুলে দেয়। ইসলামী রাষ্ট্রে ক্রয় বিক্রয়ের অধিকার তার এলাকার ভেতর দিয়ে লোক চলাচল, পণ্য ও তহবিল চলাচলের অধিকার? ইসলামী রাষ্ট্র এবং আগ্রহী পরদেশী ব্যক্তির মধ্যে বিশেষ চুক্তির বিষয় হতে পারে, যাকে বলা হয় আল-ইস্তিমান। এসবের মধ্যেই ইসলামী আন্তর্জাতিক আইনের প্রধান বিবেচনার বিষয়ের ইঙ্গিত মেলে। যেমন, ন্যায়বিচার ও সুবিচার তৎসহ মুসলিম নাগরিক অথবা অনাগরিক নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিজের কল্যাণ, নিজের শুভ ও সমৃদ্ধি অনুসন্ধানের স্বাধীনতা- সংক্ষেপে গ্রুপ বা দলের স্বার্থের আগে ব্যক্তি মানুষের স্বার্থের স্থান। কিন্তু পাশ্চাত্য আন্তর্জাতিক আইনে গ্রুপ বা সমষ্টির স্বার্থকেই সম্মান করা হয়। [১১]</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>গ. যুদ্ধ বিগ্রহ</strong></h4>
<p>ব্যক্তি এবং গ্রুপের জন্য ইসলামী শান্তিতে প্রবেশের ফলে যে সব সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা হয় সে সমুদয়ের বিপরীতে, নতুন ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য ছাড়া কেবল বাধ্যবাধকতাই রয়েছে। সেই বাধ্যবাধকতাটি হচ্ছে, বৎসরে একবার করে সকল অমুসলিমের উপর ধার্যকৃত একটি কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা, এ করকে বলা হয় জিজিয়া। এই কর সকল অমুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক, যাকাতের চেয়ে অনেক কম। <strong>জিজিয়া সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের উপর ধার্য করা হয় এবং কেবলমাত্র এই শর্তে যে, এই লোকগুলো এই কর পরিশোধের জন্য আর্থিক দিক দিয়ে সমর্থ। যাজকমন্ডলী, অপ্রাপ্ত বয়স্ক লোকজন, রমনীগণ এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অর্থ, এই করের আওতায় পড়েনা। তারা মুসলমান হলে তা পরিশোধ করতে তারা বাধ্য থাকতো।</strong> ইসলামী আদালতসমূহ এই আইন ঘোষণা করছে যে, খ্রীষ্টান এবং ইহুদীদের কাছ থেকে একই বৎসরে সংগৃহীত অর্থ ইসলামী রাষ্ট্র অবশ্যই ফেরত দেবে, যদি রাষ্ট্র তাদের সীমান্ত গ্রামগুলোকে বাইজানটাইন শক্তি বা কোন অজ্ঞাত শত্রুর আক্রমণের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। [১২]</p>
<p>অধিকন্তু, একটি ইসলামী রাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কাজ করার জন্য অমুসলিমদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করা যাবেনা। রাষ্ট্র যেহেতু আদর্শরূপে প্রতিষ্ঠিত, তাই অমুসলমানরা সামরিক বাহিনীতে যোগ দেবে এবং প্রয়োজনবোধে তার জন্য প্রাণ দেবে, ন্যায়ের দিক থেকে তা প্রত্যাশা করা যায়না। নিশ্চয়ই সে স্বেচ্ছাসেবী হতে পারে এবং যদি সে স্বেচ্ছাসেবী হয়, তাকে মুসলিম বলে গণ্য করা হয় এবং সে মুসলমানদের উপর ধার্যকৃত যাকাত এবং তার সঙ্গে জিজিয়া- এই উভয় কর থেকেই অব্যাহতি পায়। এমন লোককে ইসলামী রাষ্ট্রে নিয়োগ দিতে পারে এবং সে সর্বোচ্চ বেসামরিক পদে উন্নীত হতে পারে এবং অনেক ইহুদী এবং খ্রীষ্টান প্রধানমন্ত্রী এমনকি</p>
<p>উজিরে আজম পদে নিযুক্ত হয়েছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের দরবারে হাসদাই বিন সারপুত এবং উমাইয়াদের আমলে সারজিউদের নিয়োগ উল্লেখ করা যায়। [১৩]</p>
<p>যুদ্ধ ঘোষণা ও পরিচালনার জন্য ইসলামী আইন একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা দিয়েছে। যুদ্ধ ঘোষণার অধিকার নির্বাহী কর্তৃপক্ষের হস্তে ন্যস্ত হয়, এ অধিকার হচ্ছে আদালতের, যা সাক্ষ্য তলব করবে যখন ইসলামী রাষ্ট্র বা তার নাগরিকদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বা অবিচার সংগঠিত হয়। <strong>নির্বিচারে হত্যা বা সম্পত্তি বিনাশ, যাজক, স্ত্রীলোক ও শিশুদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে; অর্থাৎ আদালত এবং আল্লাহ কর্তৃক দণ্ডনীয় বলে ঘোষিত হয়েছে যদি না যাজক, রমনী ও শিশুগণ যুদ্ধক্ষেত্রে সশরীরে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। সবচেয়ে বড় কথা, ইসলাম আগ্রাসনকে নিষিদ্ধ করেছে এবং সে কারণে আত্মসম্প্রসারণ, যুদ্ধলব্ধ মাল অথবা ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে।</strong> একই দৃষ্টান্ত দ্বারা ইসলামে মুসলমানদের নিজেদের জান বিনা দ্বিধায় কোরবান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যখন ন্যায়বিচার লংঘিত হয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কোরবানী কর্তব্য হয়ে ওঠে। ইসলাম এই শিক্ষা দেয় যে, একটি ন্যায় যুদ্ধে কোনো মুসলমান মারা গেলে সে স্বতঃই একজন শহীদ বলে গণ্য হয়, যার জন্য বেহেশতে স্থান নির্ধারিত। শাহাদাত হচ্ছে সর্বোচ্চ এবং মহত্তম মুকুট, যার দ্বারা কোন মানুষের জীবনকে ভূষিত করা যায়। &#8220;আল্লাহর উদ্দেশ্যে যারা জান দেয়, তাদেরকে মৃত বলোনা, তারা জীবিত যদিও তোমরা দেখনা&#8230;।&#8221; [১৪]</p>
<p>&#8220;যারা ঈমান এনেছে এবং মহানবীর সঙ্গে জেহাদ করেছে তাদের জান ও মাল দিয়ে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার এবং তারা মহাভাগ্যবান। আল্লাহ তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন জান্নাত যার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদী, ওখানেই তাদের চিরস্থায়ী আবাস।&#8221; [১৫]</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ অধ্যাপক শাহেদ আলী</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>টীকাঃ </strong></p>
<p>১. এর প্রধান কারণ হচ্ছে, রোমান ক্যাথলিক চার্চের দূর্নীতি, যাদের যাজক নেতৃত্ব তাদের ইউরোপীয় প্রজাদের শাসন করতো। তাদের কাছ থেকে জবরদস্তি ধন-সম্পদ আদায় করতো এবং তা ব্যয় করতো তাদের নিজেদের স্বার্থে ও রোমের নান্দনিক পুনর্গঠনের জন্য।</p>
<p>২. Reinhold Niebuhr. An Interpretation of Christian Ethics (New York Harper. 1935) c,ov. 91. 235-244</p>
<p>৩. এ হচ্ছে জিম্মি শ্রেণী সম্পর্কে শরীয়াহর বক্তব্যের তাৎপর্য। ইসলাম মানুষের সংজ্ঞা দিয়েছে তাদের ধর্মীয় আনুগত্যের বিচারে, যারা মুসলিম ছিলোনা, তাদেরকে শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছিলো তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে, যে সম্প্রদায়গুলো নিয়ে গঠিত ছিলো যৌথ অস্তিত্ব। ইসলামী আইনের অর্থে পূর্ণ আইনগত ব্যক্তিত্বসহ।</p>
<p>৪. একাজ করে, ইসলাম একটি নতুনত্বের অবতারণা করে যা কিছু পূর্ববর্তী সকল ধর্ম থেকে পৃথক। যে সব ধর্মের জন্য ধর্মপ্রবর্তকের জন্ম অথবা মৃত্যু কিংবা তাঁর নবুয়তের &#8216;সূচনাকেই, তাদের কালের সূচনা গণ্য করা হতো&#8217; ইহা ইহুদী ধর্ম থেকে ছিলো একইভাবে ভিন্ন, কেননা ইহুদী ধর্ম নির্বিচারে সৃষ্টির একটি তারিখ নির্ধারিত করে এবং সেই বিন্দু থেকে সকল সময়ের হিসাব করে।</p>
<p>৫. এই তোমাদের উম্মাহ এক, ঐক্যবদ্ধ এবং অবিভাজ্য এবং আমি তোমাদের রব রাব্ব, আমার ইবাদত কর (২১:৯২)।</p>
<p>৬. আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো। আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সেই হচ্ছে সবচেয়ে মহৎ যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ (৪৯: ১৩)।</p>
<p>৭. যে মুমিনগণ, তোমরা শাস্তিতে প্রবেশ করো পূর্ণভাবে এবং ব্যতিক্রমহীনভাবে শয়তানের আদর্শ অনুসরণ করোনা, সে তোমাদের প্রকাশ শত্রু (২:২০৮)</p>
<p>৮. এবং শত্রু যদি শান্তির জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে তোমরাও শান্তি অনুসরণ কর এবং আল্লাহতে বিশ্বাস করো, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ (৮:৬১)।</p>
<p>৯. তোমাদের প্রভুর প্রতি আহ্বান করো হিকমত এবং সুন্দর শোভন প্রচারের মাধ্যমে। অবিশ্বাসীদের</p>
<p>সঙ্গে উত্তম যুক্তি তর্কসহ কথা বলো (১৬:১২৫)।</p>
<p>১০. Ibn Hisham. The life of Muhammad Abyt A Guillaume (London Oxford University Press 1955) 687</p>
<p>১১. দ্র: জাতিপুঞ্জ সনদ ১৯৪৫, একই ব্যাপার ঘটেছিলো, জাতিসংঘের ক্ষেত্রে, যা স্থান গ্রহণ করে জাতিপুঞ্জের এবং হেগের আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে, যা আজও টিকে আছে।</p>
<p>১২. দেখুন: T. W. Arnold, The Preaching of Islam (Lahore: Sh Muhammad Asraf Publisher 1961) পৃ. ৬১।</p>
<p>১৩. Phillip K. Hitti. History of the Arabs (London Macmillan Co. 1963) পৃ. 195. 524</p>
<p>১৪. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে মৃত গণ্য করোনা। তারা আল্লাহর কাছে জীবিত এবং তিনি তাঁদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেন (৩:১৬৯)।</p>
<p>১৫. কিন্তু নবী এবং তাঁর সঙ্গীগণ, তাঁদের অর্থবিত্ত এবং জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছেন তাদের জন্য রয়েছে আল্লাহ কর্তৃক নির্দিষ্ট কল্যাণ এবং তারাই সফলকাম (৯:৮৮)।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/principles-of-world-order/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14315</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলাম ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক</title>
		<link>https://rowyakbd.com/relationship-between-islam-and-politics/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/relationship-between-islam-and-politics/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 11 May 2024 11:20:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14214</guid>

					<description><![CDATA[আপনারা সকলেই জানেন যে পবিত্র কোরআনে হাদীদ নামে একটি সূরা রয়েছে। হাদীদ অর্থ হল, লোহা। সূরা হাদীদের ২৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আপনারা সকলেই জানেন যে পবিত্র কোরআনে হাদীদ নামে একটি সূরা রয়েছে। হাদীদ অর্থ হল, লোহা। সূরা হাদীদের ২৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:</p>
<p><em>لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ</em></p>
<p><em>অর্থাৎঃ</em><em> &#8220;</em><em>নিশ্চয়ই</em> <em>আমি</em> <em>আমার</em> <em>রাসূলদেরকে</em> <em>প্রেরণ</em> <em>করেছি</em> <em>স্পষ্ট</em> <em>প্রমাণসহ</em> <em>এবং</em> <em>তাদের</em> <em>সঙ্গে</em> <em>দিয়েছি</em> <em>কিতাব</em> <em>ও</em> <em>ন্যায়</em> <em>নীতি</em><em>, </em><em>যাতে</em> <em>মানুষ</em> <em>সুবিচার</em> <em>প্রতিষ্ঠা</em> <em>করে।</em> <em>আমি</em> <em>লৌহও</em> <em>দিয়েছি</em> <em>যাতে</em> <em>রয়েছে</em> <em>প্রচন্ড</em> <em>শক্তি</em> <em>এবং</em> <em>রয়েছে</em> <em>মানুষের</em> <em>জন্য</em> <em>বহুবিধ</em> <em>কল্যাণ</em><em>; </em><em>এটা</em> <em>এ</em> <em>জন্য</em> <em>যে</em><em>, </em><em>আল্লাহ</em> <em>প্রকাশ</em> <em>করে</em> <em>দিবেন</em> <em>কে</em> <em>প্রত্যক্ষ</em> <em>না</em> <em>করেও</em> <em>তাঁকে</em> <em>ও</em> <em>তাঁর</em> <em>রাসূলদেরকে</em> <em>সাহায্য</em> <em>করে।</em> <em>আল্লাহ</em> <em>সর্বশক্তিমান</em><em>, </em><em>পরাক্রমশালী</em><em>&#8220;</em><em>।</em></p>
<p>এই আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিতাব ও মীযানের সাথে সাথে লোহাও নাযিলের কথা বলেছেন। কোরআনের যারা বৈজ্ঞানিক তাফসীর করেন তারা বলে থাকেন যে, আকাশ থেকে বিভিন্ন ধরণের পাথর এসে দুনিয়ায় পড়েছে এর সাথে সাথে লোহাও দুনিয়াতে এসেছে। আমি এই ধরণের তাফসীরকে খুব বেশী গ্রহণযোগ্য মনে করি না।</p>
<p><strong>আমার</strong> <strong>মতে</strong><strong>, </strong><strong>এই</strong> <strong>আয়াতে</strong> <strong>আল্লাহ</strong> <strong>তায়ালা</strong> <strong>কিতাব</strong> <strong>বলতে</strong> <strong>তার</strong> <strong>অবতীর্ণ</strong> <strong>আসমানী</strong> <strong>কিতাবের</strong> <strong>কথা</strong> <strong>বুঝিয়েছেন</strong><strong>, </strong><strong>মীযান</strong> <strong>বলতে</strong> <strong>আদালত</strong> <strong>বুঝিয়েছেন</strong><strong>, </strong><strong>আর</strong> <strong>লোহা</strong> <strong>বলতে</strong> <strong>শক্তি</strong> <strong>ও</strong> <strong>ক্ষমতার</strong> <strong>কথা</strong> <strong>বুঝিয়েছেন।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে বলেছেন, কিতাব বিহীন মীযান হবে না, আবার লোহা বিহীনও মিযান হবে না।</p>
<p>কেননা, লোহাবিহীন মীযান (আদালত) কিতাবকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, কিতাব বিহীন লোহা (শক্তি ও ক্ষমতা) মীযানকে (আদালত) অদৃশ্য করে দেয়।</p>
<p>যদি আরও সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই তাহলে বলব যে, কিতাব হল, আদালতের উৎস; মীযান হল স্বয়ং আদালত নিজে, শক্তি ও ক্ষমতা হল, আদালতের প্রয়োগ।</p>
<p><em>এই</em> <em>তিনটি</em> <em>বিষয়</em> <em>এক</em> <em>সাথে</em> <em>না</em> <em>হলে</em> <em>সমস্যার</em> <em>সৃষ্টি</em> <em>হয়।</em> <em>যেখানে</em> <em>কিতাব</em> <em>নেই</em> <em>সেখানে</em> <em>শক্তি</em> <em>ও</em> <em>ক্ষমতা</em> <em>‘</em><em>মীযানকে</em><em>’</em><em> (</em><em>আদালত</em><em>) </em><em>নির্ধারণ</em> <em>করে।</em></p>
<p><em>আর</em> <em>ঐ</em> <em>সময়ে</em> <em>আদালতের</em> <em>শক্তি</em> <em>নয়</em><em>, </em><em>শক্তির</em> <em>ও</em> <em>ক্ষমতার</em> <em>আদালত</em> <em>প্রভাবশালী</em> <em>বা</em> <em>কর্তৃত্বশালী</em> <em>হয়।</em></p>
<p>যদি মীযান না থাকে, তাহলে শক্তি ও ক্ষমতা, কিতাবকে তার নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কিতাবকে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নিজের মত করে ব্যাখা করার চেষ্টা করে থাকে। কিতাব যখন শক্তি ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণাধীন হয়, কিতাব তখন অকার্যকর হয়ে পড়ে।</p>
<p>এর জ্বলন্ত উদাহরণ হল পূর্ববর্তী পরিবর্তীত ও পরিবর্ধিত দ্বীন সমূহ। শক্তি ও ক্ষমতা না থাকলে মিযান (আদালত) শুধুমাত্র থিওরী হিসেবে র‍য়ে যায়, সমাজে ও রাষ্ট্রে যার কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না। কিতাবকে মিযানের সাথে এক হয়ে সামাজিক জীবনে প্রভাবশালী হওয়ার জন্য একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, একটি শক্তির প্রয়োজন, যে শক্তি কিতাবের আইন সমূহকে বাস্তবায়ন করবে।</p>
<p><strong>সূরা</strong> <strong>হাদীদের</strong> <strong>এই</strong> <strong>আয়াতের</strong> <strong>মাধ্যমে</strong> <strong>বুঝতে</strong> <strong>পারি</strong> <strong>যে</strong><strong>; </strong><strong>কিতাব</strong><strong>, </strong><strong>মিযান</strong> <strong>এবং</strong> <strong>হাদীদ</strong> <strong>তথা</strong> <strong>কিতাব</strong><strong>, </strong><strong>মিযান</strong><strong> (</strong><strong>আদালত</strong><strong>) </strong><strong>ও</strong> <strong>রাষ্ট্র</strong> <strong>ক্ষমতা</strong> <strong>যখন</strong> <strong>একসাথে</strong> <strong>হবে</strong><strong>, </strong><strong>তখনই</strong> <strong>কেবলমাত্র</strong> <strong>পৃথিবীতে</strong> <strong>সুখ</strong> <strong>ও</strong> <strong>শান্তি</strong> <strong>প্রতিষ্ঠিত</strong> <strong>হবে।</strong><br />
<a href="https://www.facebook.com/maktabprokashon" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 715px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/05/jubo-jiggasa.png" height="118" /></a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/relationship-between-islam-and-politics/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14214</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাজনীতির ভেতরে নয়, বরং রাজনীতির উপরিভাগে আমাদের অবস্থান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/our-position-is-not-inside-politics-but-at-the-upper-side-of-politics/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/our-position-is-not-inside-politics-but-at-the-upper-side-of-politics/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 Mar 2024 11:45:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বরং রাজনীতির উপরিভাগে আমাদের অবস্থান]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতির ভেতরে নয়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13734</guid>

					<description><![CDATA[ব্রিটিশ উপনিবেশ-পূর্ব বাংলাদেশ প্রায় দীর্ঘ দুইশত বছর ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীন জুলুম, গণহত্যা ও নানাবিধ ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। এই দীর্ঘ সময়ের পর ব্রিটিশ উপনিবেশের অবসান ঘটে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পর যে স্বাধীনতা আমরা লাভ করি, এবং ১৯৭১ সালে নতুন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ব্রিটিশ উপনিবেশ-পূর্ব বাংলাদেশ প্রায় দীর্ঘ দুইশত বছর ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীন জুলুম, গণহত্যা ও নানাবিধ ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। এই দীর্ঘ সময়ের পর ব্রিটিশ উপনিবেশের অবসান ঘটে। কিন্তু ১৯৪৭ সালের পর যে স্বাধীনতা আমরা লাভ করি, এবং ১৯৭১ সালে নতুন করে স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়, এসব বৃহৎ স্বাধীনতার পরও উপনিবেশ নানা রূপে আমাদের মধ্যে রয়ে গিয়েছেছে। একে আমরা নয়া উপনিবেশ বলে আখ্যায়িত করে থাকি। এ অঞ্চলে মুক্তির জন্য ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যতগুলো সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে, ফকির মজনু শাহর আন্দোলন, কারামত আলী জৈনপুরীর আন্দোলন, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তিতুমীরের সংগ্রাম, তরিকতে মুহাম্মাদিয়া, মাদরাসায়ে রহীমিয়া; প্রতিটি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছে। এর বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমূহ, নানা ধরনের ওয়াকফ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সংগ্রাম আজকের দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।</p>
<p>কিন্তু ১৯৪৭-এর পর নয়া উপনিবেশের মাধ্যমে বহু বিষয় আমাদের মধ্যে স্থায়ীভাবে বিদ্যমান হয়ে গেছে। ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া আইন ও প্রশাসন, তাদের প্রবর্তিত শিক্ষা পদ্ধতি তথা ব্রিটিশ একাডেমির প্রতিটি School of Thought এখনো আমাদের জ্ঞান ও চিন্তাকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। উদারপন্থার স্লোগানের আড়ালে তারা লিবারেলিজম নামক এক ধরনের ‘ধর্ম’ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। পুঁজিবাদী দাসত্বের এক নতুন শৃঙ্খলে আমাদের আবদ্ধ করা হয়েছে, ফ্রি মার্কেটের নামে কৃষি, সব ধরনের পণ্য, পরিবেশ ও খনিজ সম্পদে লাগামহীন শোষণ চলছে।</p>
<p>লিবারেলিজম এমন এক ধর্ম, যার গণ্ডি থেকে বাংলাদেশে আমরা কোন অর্থেই বের হয়ে আসতে পারছি না। পুঁজিবাদ এমন এক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ ক্রমাগত নিষ্পেষণের শিকার হচ্ছে। তাদের প্রতিটি School of Thought; যেমন- অ্যাংলো-সেকশন ধারা, ওরিয়েন্টালিস্ট ধারা, মিশনারি ইভাঞ্জেলিক্যাল ধারা, লিবারেল ইউটিলিটারিয়ান ধারা, জাতীয়তাবাদী ও সংস্কারবাদী কিছু ধারাসহ তাদের একাডেমিয়া আমাদের চিন্তার জগৎ ও মনস্তত্ত্বকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলশ্রুতিতে উপনিবেশিক মানসিকতার এই চিন্তাধারার মধ্য দিয়েই অধিকাংশ মিডিয়া তাদের সংস্কৃতিক ও প্রচারকার্য অব্যাহত রেখেছে।</p>
<p>প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও একই চিত্র বিদ্যমান। যে প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, সেই প্রযুক্তিই আজ অর্থনৈতিক শোষণ, চিন্তা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এই নয়া উপনিবেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম সমাজ। আমাদের সাংস্কৃতিক আবহ পাশ্চাত্যের আকাশছোঁয়া সংস্কৃতির কাছে পরাজিত হচ্ছে। মিলাদ, আমাদের উৎসবসমূহ, রুহানি দিবস, আধ্যাত্মিক মিলনমেলাগুলো ক্রমে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে।</p>
<p>অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ওয়াকফভিত্তিক সমাজকাঠামো, ন্যায়ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা, উৎপাদন ও সুষ্ঠু বণ্টননীতির ভয়াবহ সংকট আমরা প্রত্যক্ষ করছি। এর ফল হিসেবে বেকারত্ব, অনিরাপত্তা, হতাশা, পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা, জমি নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ব ভেঙে পড়ার মতো সংকট প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বড় বড় মার্কেট, কোম্পানি ও হাসপাতাল গড়ে উঠলেও মাত্র ৫–৬ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারছে। অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ন্যায্য অধিকার পাচ্ছে না।</p>
<p>ধর্মীয় অঙ্গনেও পাশ্চাত্য ও পাশ্চাত্যের তৈরি রাষ্ট্রগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে গত একশ বছর ধরে বিশেষ করে ওরিয়েন্টালিজম ও ব্রিটিশ সালাফিজমের প্রভাবে এমন পরিস্থিতি হয়েছে, যার ফলে আমাদের ধর্মীয় আধ্যাত্মিক প্রভাব, আখলাকি দৃষ্টিভঙ্গি, উসূল ও মাকাসিদভিত্তিক শিক্ষা কাঠামো, সুফি ও আলেমদের সামাজিক কর্মসূচি এবং ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের সিলসিলাসমূহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।</p>
<p>এর বিপরীতেও বহু আন্দোলন, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বহু ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু একটি সূক্ষ্ম বিষয় আমাদের নতুন করে অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছে। ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার সময় আমাদের সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা না দিলেও, স্বাধীনতার সংজ্ঞা আমাদের শিখিয়ে গেছে তাদের মতো করে। তারা বোঝাতে চেয়েছে, স্বাধীনতা মানেই রাজনৈতিক কিছু কর্মকাণ্ডের সফলতা। কিন্তু অর্থনীতি, প্রশাসন, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিন্তার ধারায় উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ তারা রেখে গেছে।</p>
<p>ফলস্বরূপ আমরা ভুলে গেছি প্রকৃত স্বাধীনতা কী। উপনিবেশ আমলে অর্থনৈতিক শত্রু, শিক্ষা ও ধর্মীয় সংকট, আইন ও প্রশাসনের প্রকাশ্য শত্রু চিহ্নিত করা যেত। কিন্তু নয়া উপনিবেশে শিক্ষা, অর্থনীতি, আইন, কৃষি, প্রতিরক্ষা; সব ক্ষেত্রে শত্রুকে আড়াল করা হয়েছে ব্রিটিশ-জায়োনিস্ট চিন্তাধারার মাধ্যমে। ফলে আমরা ধরে নিয়েছি, শুধু রাজনৈতিক কিছু কর্মসূচির সফলতাই মুক্তির পথ- যা আমাদের বারবার ভুল পথে চালিত করেছে।</p>
<p>এই অঞ্চল মুসলিম অধ্যুষিত ও সমাজনির্ভর। আমাদের সমাজ, ব্যক্তি ও রাষ্ট্র তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রিটিশ জায়োনিস্টদের রাষ্ট্রকাঠামোতে সে অর্থে সমাজ নেই, তাদের আছে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাই তাদের সাংস্কৃতিক এজেন্ডা সমাজবিচ্ছিন্ন ও অশ্লীলতায় ভরপুর। <strong>অথচ আমাদের সংস্কৃতি মানুষকে কাছে টানে, ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে, আখলাক, আদব, ইনসানিয়াত, পারিবারিক বন্ধন ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এবং এসব কোনো রাজনৈতিক প্রকল্পও নয়।</strong></p>
<p>মানুষকে আদব শেখানো, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এসব কাজ রাজনীতি দিয়ে সম্ভব নয়। এগুলো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান, আলেম, শিক্ষক, চিন্তাবিদ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। রাজনীতির বাইরেও আমাদের বিশাল দায়িত্ব ও কর্মযজ্ঞ রয়েছে, যা মুসলিম সমাজের জন্য অপরিহার্য। সুতরাং কেবল রাজনৈতিক পরিসরে সব পরিবর্তন সম্ভব; এই ধারণা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে ব্রিটিশ জায়োনিস্ট শক্তি।</p>
<p>তবু প্রশ্ন থাকে, রাজনৈতিক আত্মপরিচয় কি থাকবে না? অবশ্যই থাকবে। রাজনীতি আবশ্যকীয় এবং রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও যুগযুগ ধরে চলে আসা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। তবে আমরা রাজনীতি করব ইসলামের সংজ্ঞা অনুযায়ী, পাশ্চাত্যের সংজ্ঞা অনুযায়ী নয়। এরিস্টটল বলেছিলেন এবং যা আজকের পাশ্চাত্য সভ্যতার মূলনীতি! তাহল, Homo est animal politicum (মানুষ স্বভাবগতভাবেই রাজনৈতিক প্রাণী)। জন পিলিটকন ভাষ্যমতে, Man is essentially a political being (মানুষ মূলত একটি রাজনৈতিক সত্তা)।</p>
<p><strong>কিন্তু ইসলামী সভ্যতার দার্শনিক আলেমগণের কথা হল, &#8220;</strong><strong>الإنسانُ</strong> <strong>مَدَنِيٌّ</strong> <strong>بِالطَّبْعِ&#8221;</strong><strong> (মানুষ স্বভাবগতভাবেই সভ্যতা-নির্ভর, অর্থাৎ সভ্যতা গড়ে তুলে চায়) মানুষ মাত্রই সভ্যতা নির্মাণকারী। রাজনীতি সেই সভ্যতার একটি অংশ মাত্র; পরিবার, সমাজ ও ভ্রাতৃত্বও তার অংশ। সুতরাং সভ্যতা নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজনীতিকে আমরা একটি অংশ হিসেবে গ্রহণ করি, রাজনীতিকেই ইসলাম বা সম্পূর্ণ সভ্যতা মনে করা ইসলামের চিন্তাধারায় কখনোই ছিল না। </strong></p>
<p>এখন আমাদের লক্ষ্য এই সভ্যতার জাগরণ। জ্ঞান ও চিন্তা, আখলাক, পরিবার, সমাজ, আইন, প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি ও রাজনীতি সবই এই জাগরণের অংশ। এই প্রেক্ষাপটে জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের পথে আমাদের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা কতটুকু এবং কীভাবে হবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। তাই রাজনীতির সংজ্ঞায়নের শুরুতেই যে বিষয়টি আসে—</p>
<ul>
<li><strong>রাজনীতি হল, জাতির আত্মবিশ্বাস গঠনের একটি প্রক্রিয়া এবং জাতীয় স্বপ্নকে সকল মানুষের নিকটে পৌঁছানোর মাধ্যম। এগুলো মূলত রাজনৈতিক সচেতনতার উপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠে, তবে এ জাতীয় স্বপ্নের পাঠাতন তৈরি হয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিক ভিত্তিমূল থেকে।</strong></li>
<li><strong>একইভাবে মুক্তি সংগ্রাম, অর্থাৎ জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সংগ্রামও রাজনীতি। জাতীয় সংকট নিরসন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামও রাজনীতি।</strong></li>
<li><strong>রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিচালনাকারী নেতৃত্বের সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টাকেও রাজনীতি বলা হয়।</strong></li>
</ul>
<p>আর উপরোক্ত বিষয়সমূহ দুনিয়ার সকল স্থানে, সকল সংস্কৃতিতে একইভাবে প্রযোজ্য। রাজনৈতিক পন্থা অঞ্চলভেদে, দেশভেদে, প্রেক্ষাপট ও বয়ানভেদে ভিন্ন হলেও মূলনীতি ও লক্ষ্যসমূহ একই।</p>
<p>উপনিবেশ উত্তর দেশগুলি কিংবা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এ মূলনীতিগুলো যেভাবে প্রযোজ্য, সৌদি-আরবের মতো রাজতান্ত্রিক দেশেও এ মূলনীতিগুলো সমানভাবে প্রযোজ্য। আবার কমিউনিজম দ্বারা প্রভাবিত চীনের ক্ষেত্রে এই মূলনীতি যেমন প্রযোজ্য, তেমনি দারিদ্র্য পীড়িত বিভিন্ন দেশেও এই একই মূলনীতিগুলো প্রযোজ্য।</p>
<p>আবার যদি আমরা পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড অথবা ভারতের কোনো সাধারণ রাজ্যের কথা বলি, সকল জায়গাতে একই মূলনীতি প্রয়োগ করে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখন এ মূলনীতিগুলো যদি নির্ধারণ করতে পারি, তাহলে প্রেক্ষাপটগত কারণেই বাংলাদেশের পরিস্থিতির আলোকে আমাদের সামনে প্রশ্ন আসবে, এ দেশের ক্ষেত্রে আমার ভূমিকা কী হবে? বিরাজমান পরিস্থিতির আলোকে আমার মুক্তি সংগ্রামের পন্থা কী হবে? আমাদের করণীয় দিকসমূহই-বা কী? ইত্যাদি।</p>
<p>আমরা যুগ-যুগ ধরে চলে আসা সংগ্রামের প্রেক্ষিতে একটি সংগ্রামী জাতি, অর্থাৎ বাংলা অঞ্চলের মানুষ, বাংলার ভূখণ্ড মূলত একটি মুক্তি সংগ্রামের ফসল। এক হাজার বছরেরও বেশি সময় যাবৎ এ অঞ্চলের মানুষ স্ব-স্ব সংকট ও পরাধীনতার পরিপ্রেক্ষিতে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ অঞ্চলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হওয়ার পূর্বে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার পরে প্রতিটা সময়েই এ সংগ্রাম অব্যাহত ছিলো।</p>
<p>আবার যখন ইসলামী সভ্যতার পতন হয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীর শোষনের উত্থান হয়, তখনও সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ এ বাংলা অঞ্চল থেকেই গড়ে উঠেছিলো। এ বাংলা অঞ্চলের মাটি সে মাটি, যে মাটির এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে কাফন বিহীন শহীদেরা ঘুমায় না! পরবর্তীতে বঙ্গভঙ্গ, দেশভাগ, পাকিস্তান আন্দোলন, একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলন– প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা মুক্তির জন্য রাজনৈতিক কিংবা সাংস্কৃতিকভাবে লড়াকু সৈনিক হিসেবে আত্মবিশ্বাসের সাথে সংগ্রাম পরিচালনা করেছি।</p>
<p>তাই এ সময়ে এসে আমাদেরকে ঠিক করতে হবে যে, আমরা মূলত কিসের মুক্তি চাচ্ছি এবং কিসের ভিত্তিতে মুক্তি চাচ্ছি!</p>
<p>মুক্তির এ সুনির্দিষ্ট বয়ান হাজির করাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আবশ্যকীয় কাজ।</p>
<p>আর এটি নির্ধারণ করতে গেলেই প্রশ্ন এসে যায়, মুক্তির বয়ানকে কোন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রস্তুত করবো?</p>
<p>তা হল, আমাদের দেশ ও জাতিকে পর্যালোচনা করে নতুন একটি ইশতেহার নিয়ে আসতে হবে, যা গোটা জাতির ভিশন হিসেবে প্রস্ফুটিত হবে। এবং সে অনুযায়ী কর্মপন্থা তুলে ধরতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এক্ষেত্রে প্রথম কাজই হলো–</strong></p>
<p>এ বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান ও চিন্তা থাকতে হবে, আর এ জ্ঞান ও চিন্তা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন, অর্থাৎ ব্রিটিশ একাডেমিয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত। কারণ এ স্বাধীনতা যদি না থাকে, আমরা মূল আলাপের দিকে অগ্রসর হতে পারবো না।</p>
<p>আর আমরা ইসলামী সভ্যতার সন্তান হিসেবে জ্ঞানকে কখনো অব্জেক্টিভ কোনো বিষয় হিসেবে চর্চা ও প্রয়োগ করবো না, বরং জ্ঞানকে অনেকগুলো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে চর্চা ও প্রয়োগ করবো। যেমন– মা’রেফাতুল্লাহ, তাযক্বিয়াতুন নাফস, আমলে সালেহ ইত্যাদি।</p>
<p>পাশ্চাত্য যেভাবে রাজনীতির উদ্দেশ্যে, বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে এবং বিশ্ববাসীর উপরে নিজেদের সুবিধার্থে রচিত জ্ঞানের ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেয় ও সে আলোকে চিন্তা করতে বাধ্য করে, তা করা যাবে না। আমাদের জ্ঞানকে কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর সম্পদের পরিণত করা যাবে না। যেমন– কেউ যদি তাসাউফ অর্জন করতে চায় বা তাসাউফের মাধ্যমেই নাফসের তাড়না থেকে মুক্তি পেতে চায়, তাহলেও সে জ্ঞান আর পন্থা অবলম্বন করতে হবে, যে জ্ঞান আর পন্থা মুক্তি লাভের জন্য আবশ্যক।</p>
<p>আবার একইভাবে বলা যায়, মাযহাব ইসলামী সভ্যতার অন্যতম একটি বিষয়। মাযহাব হল, দ্বীনের বসবাসকৃত একটি রূপ। অর্থাৎ, আমি দ্বীনকে কীভাবে বাস্তবে রূপান্তরিত করবো তার একটি লিখিত ভাষাই মাযহাব। এক্ষেত্রে ফিকাহ, কালাম, উসূল ইত্যাদি জ্ঞান এর অন্তর্ভূক্ত। জ্ঞান এসব ক্ষেত্রে উপরিভাগে থেকে মুক্তির দিশা দিচ্ছে, সেদিকে সঞ্চালিত করছে, সমাজকে বসবাস উপযোগী করার রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছে। সুতরাং যুগোপযোগী যথেষ্ট জ্ঞান ও চিন্তা আমাদের সামনে হাজির থাকা আবশ্যক।</p>
<p>এবং এ আবশ্যকীয়তার সাথে আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, আমরা মুক্তি আন্দোলন বলতে যা বুঝে থাকি, তা এককেন্দ্রিক কোনো বয়ান দিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, বরং জ্ঞান, আখলাক, রাজনীতি, সংস্কৃতিসহ এ জাতীয় সকল বিষয়ে মুক্তির বয়ান হাজির করতে হবে।</p>
<p>সুতরাং এ মুক্তি আন্দোলন বিষয়টির ব্যাখ্যা মূলত আপেক্ষিক। কারো কাছে স্বাধীনতা আন্দোলন মানে মুক্তি, কারো কাছে কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা মানে মুক্তি, কারো কাছে তার দলকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় আনাটাই মুক্তি, কারো কাছে সবাই ইবাদাত করবে– এটিই মুক্তির একমাত্র মূলমন্ত্র, কারো কাছে সহীহ আকিদা প্রচারই মুক্তি। <strong>আবার শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে যদি বলা হয় যে, ১৯০০-এর দিকে ব্রিটিশ আমলে যে প্রভাবশালী ধারাগুলো ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল- অ্যাংলো-সেকশন ধারা, ওরিয়েন্টালিস্ট ধারা, মিশনারি ইভাঞ্জেলিক্যাল ধারা, তথা লিবারেল ইউটিলিটারিয়ান ধারা, অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী ও সংস্কারবাদী কিছু ধারা; এই প্রত্যেকটি ধারাই কিন্তু ব্রিটিশ জায়োনিস্টদের সৃষ্ট ধারা এবং এসবের আলোকেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে। তাই শিক্ষাব্যবস্থা ব্রিটিশ একাডেমিয়ার দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ইসলামী সভ্যতার মিরাসের আলোকে গড়ে উঠবে, উসূল ও মাকাসিদের আলোকে একটি মুক্তি নিয়ে আসবে, এটিও একটি মুক্তি আন্দোলন।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>দ্বিতীয় কাজ হলো–</strong></p>
<p>কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।</p>
<p>এ মুক্তি আন্দোলন বিষয়টির আপেক্ষিক তত্ত্বের সাথে রাজনৈতিক আইডেন্টিটির সম্পর্ক কী? এবং রাজনীতি করার মাধ্যমে যে মুক্তি চাওয়া হচ্ছে, এটিই কি একমাত্র মুক্তি? ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলাই কি মুক্তির একমাত্র উপায়? তাহলে সমাজসহ অনান্য ক্ষেত্রে মুক্তি কিভাবে আসবে? রাজনীতি ব্যতীত অন্য কোনো পন্থা নেই? যদি থাকে, সে পন্থাটা কী?</p>
<p>এক্ষেত্রে প্রথম কথা হল, মুক্তির অনেক পন্থা রয়েছে এবং সবগুলিই স্বতন্ত্র ও আবশ্যক, একেকজনকে একেকটি নিয়ে সংগ্রাম চালাতে হবে, রাজনীতি তার একটি। আবার এ রাজনীতি প্রচলিত ধারার রাজনীতি নয়, বরং পূর্বে উল্লেখিত স্থায়ী মূলনীতির আলোকে পরিচালিত রাজনীতি। এক্ষত্রেও প্রশ্ন আসে, আমাদের দেশে আমরা যারা রাজনীতি করছি, তারা কি সত্যিই স্থায়ী মূলনীতির আলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি? আমাদের অর্থনীতি, গার্মেন্টস, কৃষি, বেকারত্ব, খনিজ সম্পদ, নগর, বন্দর থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগনের রাজনৈতিক দলের কাছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে যে চাহিদা, সেটি কি আমরা পূরণ করতে পারছি? নাকি শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি কিংবা দলীয় কিছু কার্যক্রমকেই আমরা রাজনীতি মনে করছি? তাহলে কি অবস্থা এ রকম নয় যে, রাজনীতিতে সবই আছে, শুধু রাজনীতিই নেই! রাজনীতি অন্তঃসারবিহীন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এক্ষেত্রে কয়েকটি আলাপ প্রাসঙ্গিক এবং জরুরী।</p>
<ul>
<li>নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলে না থেকেও স্থায়ী মূলনীতির আলোকে পরিচালিত রাজনৈতিক কার্যক্রম ভালোভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে এবং অনেকে তা করছেও।</li>
</ul>
<p style="padding-left: 40px;">তাই কেউ তা করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া যাবে না, বরং সবার জন্য এ পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। কারণ চিন্তা করার বহু ক্ষেত্র রয়েছে, মুক্তি সংগ্রামের কাজের জন্য বহু ক্ষেত্র রয়েছে। সমাজবিজ্ঞানের কোনো বিষয় অথবা ভাষাকেন্দ্রিক কোনো বিষয়ে কাজ করেও একজন ব্যক্তি মুক্তির উছিলা খুঁজে পেতে পারে ও সমাজে বহু অবদান রাখতে পারে, এবং সে আলোকে যদি সে বহু ব্যক্তি তৈরি করে, প্রতিষ্ঠান তৈরি করে, একটি প্রজন্ম তৈরি করে, তাহলে সেটিও অনেক বেশি রাজনৈতিক এবং মুক্তির সংগ্রামের কাজের ক্ষেত্রে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায় বলে আমি মনে করি।</p>
<ul>
<li>রাজনীতি মানেই শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতি কিংবা বিপ্লব বা সশস্ত্র যুদ্ধ; এগুলো আদৌ কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা হতে পারে না। স্থায়ী মূলনীতির আলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে শুরুতে যে আলাপ করেছি, সেই লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য একটি মাধ্যম হতে পারে– ভোট, বিপ্লব বা সশস্ত্র আন্দোলন। <strong>কিন্তু এগুলোকে একমাত্র পন্থা হিসেবে দাঁড় করালে তা মূলত জাতির চিন্তাধারাকেই গুলিয়ে ফেলা হয়। রাজনীতির বাইরের বিশাল অংশকে অলস, কাজহীন ও সংগ্রামহীন করে তুলে; এক ধরনের আধুনিক বৈরাগী গোষ্ঠী তৈরি হয়। একই সঙ্গে সকল দায়িত্ব ও দায়ভার রাজনৈতিক নেতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে এক ধরনের অবাস্তব মানসিক তৃপ্তি খুঁজে ফেরে! এবং নিজেকে রিলাক্স করে নিজের কাজ খুজে পায়না। অথচ এসকল মানসিকতাই এ অঞ্চলের আধ্যাত্মিকতা, ব্যক্তি গঠন, ওয়াকফ আন্দোলন এবং শক্তিশালী সমাজ গঠনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।</strong></li>
<li>রাজনীতি মূলত একটি উপায়, একটি পন্থা এবং সমাজের অনান্য ক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল।</li>
</ul>
<p style="padding-left: 40px;">এটিই জাতির একমাত্র ও সামগ্রিক উদ্দেশ্য বা ভিশন নয়। কেউ যদি মনে করে, আমি একটি দলের নেতা, আমার দল ক্ষমতায় আসীন হলেই দেশ আমূল পরিবর্তন হয়ে যাবে, সব কিছু সংস্কার হয়ে যাবে, তা মূলত চিন্তার বাতুলতা ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়! কারণ এ-ই বইরে বিশাল সামাজিক কাঠামো বিদ্যমান, যা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।</p>
<p style="padding-left: 40px;">রাজনৈতিক ভুল ব্যাখ্যা ও চিন্তার বাতুলতার জন্মই হয়েছে ব্রিটিশ আমলে, এরপূর্বে সুলতানী আমলে আমরা সবকিছুই সমান গুরুত্ব দিয়েছি। ব্রিটিশরাও আমাদেরকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে স্বাধীনতা মানে হচ্ছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা। আর, এই বিষয়টিকে আত্মস্থ করার কারণে ৪৭, ৭১, ৯০ এবং ২৪ সালে একই রকম ভুল করেছি যে, রাজনীতির বাইরে গিয়ে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন, জাতির ভিত্তিমূলকে শক্তিশালী করবে, সে বিষয়ে আলাপ করতে পারিনি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>১৯৪৭ এর স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ০৬ টি অভ্যুত্থান ঘটেছে, ভাষা আন্দোলন হয়েছে, এবং নানাবিধ সাংস্কৃতিক সংগ্রাম আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের অন্তর্নিহিত শিক্ষা; বাংলা ভাষার জাগরণ ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভিত্তি নির্মাণের যে আহ্বান, তা আমরা গ্রহণ করতে পারিনি। নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভিত্তি নির্মাণের সংগ্রামও আমরা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পাকিস্তান আমলের অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক বৈষম্য কিংবা একাত্তরের পরেও বৃটিশদের মেথড অনুযায়ী একই ধরনের প্রশাসন, আইন ও অর্থনৈতিক কাঠামো বহাল থাকায় বিষয়গুলো নিয়ে কোনো মৌলিক সংস্কার বা পুনর্গঠন হয়নি। এর ফলেই আমাদের রাষ্ট্র কাঠামো ক্রমশ দুর্বল একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।</p>
<blockquote><p><em>যেমন, সমাজের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল</em><em>–</em><em> ব্যক্তির গঠন; এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির উর্ধ্বে। এবং এ গঠন প্রক্রিয়া, এটি ব্যতীত কিন্তু কখনো একটি রাষ্ট্র বা একটা সমাজ দাঁড়াতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, শিক্ষকদের ভূমিকা, আলেম এবং সমাজ চিন্তকদের ভূমিকা। এসব ভূমিকা রাখার জন্য প্রয়োজন প্রচুর প্রতিষ্ঠানের, বিশেষ করে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানের যারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষ গঠনের জন্য কাজ করবে, পেট্রোনাইজ করবে, উদ্যোগ গ্রহণ করবে, নানাভাবে কর্মসূচি দিবে। এর মধ্যদিয়ে আলেমগণ, শিক্ষকগণ, চিন্তাবিদগণ মানুষকে গড়ার জন্য, প্রজন্মকে একটি আলোকদীপ্ত রাস্তার দিকে এগিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা চালাবে। আর, এখান থেকেই মূলত সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক ভ্রাতৃত্ব, আখলাকের বিনির্মাণ হয়। সুন্দর সংস্কৃতির জন্ম দেয়।</em></p>
<p><em>এ প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো রাষ্ট্র বা সমাজ কখনোই দাঁড়াতে পারে না। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা, শিক্ষকদের ভূমিকা, আলেম ও সমাজচিন্তকদের ভূমিকা অপরিহার্য।</em></p></blockquote>
<p><strong><em>তাহলে এটাই স্পষ্ট যে- জ্ঞান, ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির গঠন; এই তিনটি বিষয় পরস্পরের পরিপূরক। রাজনীতি এখানে সহযোগিতা করতে পারে, কিন্তু এসব রাজনীতির মুখাপেক্ষী নয়, বরং রাজনৈতিক সকলকিছুই জ্ঞান, ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির গঠন এর উপর নির্ভরশীল।। </em></strong></p>
<p>কিন্তু বৈশ্বিক বাস্তবতা ও এককেন্দ্রিক দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে, দুনিয়া জোড়া সমাজ পরিবর্তন করার জন্য যে রাজনীতি ছাড়া অন্য কোনো পন্থা নেই– এটি একটি ধ্রুব সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা৷ মানুষকে আজ বোঝানোই যাচ্ছে না যে, রাজনীতি ছাড়া অন্য পন্থায়ও সমাজ পরিবর্তন করা যেতে পারে, আরো অনেক অনেক পন্থা রয়েছে যা মুক্তির দিকে, জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের দিকে ধাবিত করে। এ অর্থে ইসলামী সভ্যতার মহান দার্শনিক আলেমদের ভাষ্যানুযায়ী আমাদের উপর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো বর্তমান মুসলিম সমাজকে এই চিন্তা থেকে বের করে নিয়ে আসা, অর্থাৎ পাশ্চাত্য সভ্যতার শোষণ থেকে যদি আমরা মুক্তি পেতে চাই, তাহলে শুধুমাত্র ছোট এবং খণ্ডিত আন্দোলনে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের চিন্তাগত আখলাকী আন্দোলনকে সঠিকভাবে সকল স্তরে পৌঁছে দিতে হবে এবং এর কোনোই বিকল্প নেই। এ এক বিষয়ের মধ্য থেকেই মূলত অন্যান্য বিষয় উৎসারিত হয়। এজন্য উস্তাজ ত্বহা আব্দুর রহমান মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক জাগরণ চিন্তাগত ও আখলাকী আন্দোলনের মধ্যেই নিহিত হিসেবে তুলে ধরেছেন। এবং তিনি বলেছেন, <strong>“আমরা যদি বর্তমান মুসলিম উম্মাহর দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই যে, ইসলাহ বা শোষণের বিরুদ্ধে যে সংগ্রামগুলো রয়েছে, সেগুলোকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।”</strong></p>
<p>সেই সাথে তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনসমূহকে সামগ্রিক বয়ান হাজির করা, মৌলিক চিন্তাসমূহ ও আখলাকী আন্দোলনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং এসবের প্রসার ঘটানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র যদি দেখি, বিদ্যমান আন্দোলনগুলোর বা ব্যক্তিদের কেউ সেক্যুলার পন্থায়, কেউ জাতীয়তাবাদী লক্ষ্যে এগুচ্ছে। আবার কেউ সকল সমস্যার সমাধান শাসক গোষ্ঠীর মধ্যেই দেখে, অর্থাৎ তার বা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যই হল, নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তন ঘটানো এবং তাদের বিশ্বাস, এটি হলেই সব পরিবর্তন হয়ে যাবে! আবার কেউ-বা রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে “খেলাফত আসছে, বাতিল কাঁপছে” ধরনের স্লোগান দিয়ে সব মুক্তি আন্দোলনকে এককেন্দ্রিক করে ফেলছে! কেউ-বা আবার পাশ্চাত্যের আদলে চিন্তা করে সেটিকে মডেল হিসেবে নিয়ে সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে! আবার কেউ কেউ শক্তি প্রয়োগ করে, জোরপূর্বক তথা অস্ত্রের জবাব অস্ত্র দিয়ে দিতে হবে– এ ধরনের চিন্তা লালন করে চরমপন্থাকে ধারণ করছে।</p>
<p>সার্বিক প্রেক্ষিতে আমাদের কাজ হলো আমরা চিন্তাগত আখলাকী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্তি সংগ্রামের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, যার মাধ্যমে নিজস্ব জাতিসত্তার আলোকে জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতিসহ সকল কিছুর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মেথড জাতিকে উপহার দিতে পারবো।</p>
<p>আমরা যখন চিন্তা ও শিক্ষা আন্দোলনের কথা তুলে ধরছি, তখন আমাদের সামনে পাশ্চাত্যের মডার্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং তার আদলে গড়ে উঠা নানাবিধ ধর্মীয় চিন্তাগুলোও নানাভাবে ব্যাঘাত ঘটানোর মাধ্যমে আমাদেরকে বাধাগ্রস্থ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।</p>
<p>পাশ্চাত্যের এই মডার্ণ দৃষ্টিভঙ্গি মূলত তাদের লালিত চিন্তাকেই একমাত্র মেথড হিসেবে আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চায়, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা, তাদের আইডিওলজি এবং পরিভাষা আমাদেরকে গিলতে বাধ্য করে। পাশ্চাত্যের এমন মনোভাব আমাদের কিছু রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় কায়েমী গোষ্ঠীসহ অনেকের মধ্যেই বিরাজমান। তারা যা বুঝছে, তাই অন্যদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এমন করতে গিয়ে তারা ভুলে যায় যে, ইসলামী সভ্যতায় শত শত মাজহাব আর ধারা গড়ে উঠেছিলো! তারা যে দল করছে, যে চিন্তা লালন করছে, যে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করছে, যে ধারা লালন করছে, সেটিকেই একমাত্র ভাবে। আর তাদের চেয়ে ভিন্ন চিন্তা লালন করলেই তাকে খারিজ হয়ে গেছে, দ্বীন থেকে বের হয়ে গেছে, তা&#8217;গুতে হয়ে গেছে– এ ধরনের তকমা দেয়। এ ধরনের মানসিকতা ব্রিটিশ সালাফিজমের মাধ্যমে এসে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আমাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সৃষ্টি করছে৷ আর এর গোড়া হলো পাশ্চাত্যের এই মডার্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।  যেমন– পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থায় দর্শন বলতে বুঝায় গ্রিক দর্শনকে। ফরাসি বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যের সকল দার্শনিক উঠে এসেছেন।  আপনি হেগেল, দেকার্তে, বার্ট্রান্ড রাসেলকে পড়াকেই দর্শন চর্চা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা যদি আমাদের ইলমুল-কালাম পড়ি, ইমাম মাতুরীদিকে পড়ি, ইমাম গাজ্জালীকে পড়ি, সেটি কি দর্শন চর্চা নয়? এ দর্শনের উপর ভিত্তি করেই তো ইসলামী সভ্যতা বারশত বছর গোটা দুনিয়াকে আলোকিত করেছিলো! পাশ্চাত্য এটিকে সমস্ত সিলেবাস থেকে আলাদা করে দিচ্ছে এবং শুধুমাত্র গ্রিক দর্শন ও তার আলোকে গড়ে উঠা কিছু চিন্তাধারাকেই আমাদের সামনে বারবার জ্ঞান হিসেবে উপস্থাপন করছে। অর্থাৎ তাদের যে ফরমেট, পরিভাষা, একাডেমিক পদ্ধতি, এর বাহিরে গিয়ে যদি আমরা কাজ করি, সে কাজকে তারা কাজ হিসেবেই গণ্য করবে না। তাহলে আমাদের আল্লামা ইকবাল যে পাশ্চাত্যের চিন্তাধারাকে খণ্ডন করেছেন, এটিকে আমরা কীভাবে দেখবো? একইভাবে ইমাম শাতিবী যে স্বতন্ত্র জ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা, এটিকে আমরা কীভাবে দেখবো?</p>
<p>আবার এখানে যদি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অথবা মুক্তি সংগ্রামের দিক থেকে প্রশ্ন করি, তাহলে প্রশ্ন আসছে, ইমাম শাতিবী, আল্লামা ইকবাল যে জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি করলেন, তা কি তাদের মুক্তি সংগ্রাম নয়? জিহাদের অংশ নয়? এটি আমরা কয়জন পারছি অথবা মানবসভ্যতায় কয়জন-ই বা পেরেছে?  এর থেকে বড় সংগ্রাম আর কী হতে পারে?</p>
<p>এ মহামানবগণ পাশ্চাত্যের আদলে চিন্তা না করার কারণে, তাঁদের কাজ জ্ঞানের উৎস হিসেবে মর্যাদা পাচ্ছে না। কিন্তু আমরা মুসলমানরাও কেন এটিকে মর্যাদা দিচ্ছি না? কেন আমরা এটিকেও একটি শ্রেষ্ঠ সংগ্রাম হিসেবে এবং তাদের প্রত্যেকটি ধারাকে আমাদের সামনে মডেল হিসেবে গ্রহণ করছি না? যদি আমরা গ্রহণ করতে পারতাম, তাহলে আমাদের মধ্যে সংকীর্ণ চিন্তা, এককেন্দ্রিক মানসিকতার যে বীজ রোপিত হয়েছে, তা আদৌ জায়গা পেতো না। যদি আমরা তখনি এই বলে প্রশ্ন করতাম যে, পাশ্চাত্যের দর্শন মানে যদি স্বাধীনতা হয়, তাহলে ইমাম আল-মাওয়ার্দী, ইমাম ইবনে সিনা এবং ইমাম ইবনে খালদুনকে পড়লেও কেন স্বাধীনতা হবে না? বরঞ্চ এগুলোই মানবতার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাধীনতম জ্ঞান। এ প্রশ্ন যেমন রাখতাম, একইভাবে ব্যক্তিকে, ধারাকে আলাদা আলাদাভাবে দেখে সকলকে উম্মাহর সম্পদ মনে করতাম, তারই প্রেক্ষিতে বর্তমানে যারা ইসলামের জন্য কাজ করছে, তাদের প্রত্যেককেও ইসলামের সম্পদ মনে করতাম। কিন্তু আজ আমরা এক্ষেত্রে ব্যর্থ!</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এবার আসি আমরা কেন স্বতন্ত্র আন্দোলনের কথা বলছি? এ মুক্তি আসলে কিসের মুক্তি?</p>
<p>মুক্তির ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে আসতে পারে। আমি যদি বাঙ্গালী হই, বাংলাভাষী মানুষ হিসেবে মুক্তির কথাই তুলে ধরি, তাহলে আমার নেতার কেমন হওয়া উচিত? এক্ষেত্রে যদি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি, জহির-উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের কথা ধরি, তারা তো বাঙ্গালী ছিলেন না। আবার গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ, তিতুমীর, শরীয়তুল্লাহ থেকে শুরু করে অনেকে বাংলাতেই গড়ে উঠেছেন। তাই নেতার জাতীয়তা বা বংশ এখানে মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হলো–</p>
<ul>
<li>স্থায়ী মূলনীতি তথা আদালত ঠিক আছে কিনা।</li>
<li>জাতির ভবিষ্যৎ মর্যাদা এবং ইজ্জত সম্পন্ন বিষয়াদি গড়ে উঠছে কিনা।</li>
<li>মাদ্রাসা বা স্কুল যেখানেই পড়ি না কেন, ব্রিটিশ একাডেমিয়ার চিন্তাগত দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামী সভ্যতার চিন্তার মিরাসকে ধারণ করতে পারছি কিনা।</li>
</ul>
<p>এ সকল বিষয়কে যদি আমরা সামনে রাখি, তাহলে আমাদের মুক্তির সংজ্ঞাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এ আলোকে চিন্তা করলেই আমরা এতটুকু অর্থবহতা খুঁজে পাই যে–</p>
<ul>
<li>আমাদেরকে স্বতন্ত্র জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের বয়ান হাজির করতে হবে।</li>
<li>চিন্তাগত ও আখলাকী আন্দোলনের বয়ান হাজির করতে হবে।</li>
<li>সামগ্রিকভাবে একটি শিক্ষাগত আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, সে আন্দোলনকে গ্রহণযোগ্যভাবে তুলে ধরতে হবে এবং এ গ্রহনযোগ্য চিন্তা, পরিভাষা এবং মেথডকে যেন সকলপন্থী মানুষ আপন করে নিতে পারে, এমন একটি বয়ানের ক্ষেত্র আমাদেরকে হাজির করতে হবে।</li>
</ul>
<p>এ আলোকে জ্ঞান এবং চিন্তা যদি দিতে পারি, তাহলেই কেবল মানুষ, যে কোনো প্রতিষ্ঠান ও ধারাগুলো বুঝতে পারবে, জাতির কল্যাণে সামাজিক পদক্ষেপগুলো কেমন হওয়া উচিত, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পদক্ষেপগুলো কেমন হওয়া উচিত। আর তখন আদর্শিক দ্বন্দ্বসমূহ, ইতিহাসের বিভিন্ন পরিভাষা, সমাজকে বুঝার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় ইত্যাদি নীতিনির্ধারক ব্যক্তিত্বদের সামনে স্পষ্ট হয়ে যায়।</p>
<p>এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো আমরা কি এত বড় দায়িত্ব পালন করতে পারবো?</p>
<p>হ্যাঁ, এটি আসলেই অনেক বড় দায়িত্ব যা আমাদের একার পক্ষে পালন করা কখনোই সম্ভবপর নয়। এ দায়িত্ব বিভিন্ন ধারার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে, স্ব স্ব অবস্থান থেকে বাস্তবায়ন করতে হবে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাখার মতো একটি বিষয়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? করণীয়র প্রেক্ষিতে জ্ঞানের বিষয় নিয়ে যদি উদাহরণ দিই–</p>
<p>আমরা যদি জ্ঞানের বেসিক বিষয়গুলো, ভাষা ও পরিভাষাগুলো, মৌলিক গ্রন্থসমূহ বুঝতে পারি, ক্লাসের মাধ্যমে উসূল ও মেথোডলজি অনুধাবন করতে পারি, শিখতে পারি, তাহলে পরবর্তীতে যে ব্যক্তিত্বগণ উঠে আসবেন এবং তারা এ মেথোডলজিকে ফাংশনাল করার কার্যকরী ও প্রায়োগিক জ্ঞান হিসেবে যখন প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করবেন, সেই সাথে পরবর্তীতে মানুষের সাথে ইন্টারেকশন এর জায়গাগুলোতে কাজ করতে পারবেন, তখন সমাজে একটি প্রভাব সৃষ্টি হবে এবং আত্মবিশ্বাসের একটি জায়গা তৈরি হবে, সেই সাথে চাহিদার জায়গাও তৈরি হবে। আত্মবিশ্বাস এবং চাহিদার জায়গা তৈরি হলে সেখান থেকে এমন একটি প্রজন্ম সৃষ্টি হবে, যারা ঠিকই আমাদের জাতিকে শক্তিশালী করার জন্য স্বাধীনভাবে একটি লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবে।</p>
<p>আর এই জ্ঞান, চিন্তা, আখলাক যখন কারো হৃদয়-মননে প্রবেশ করে, তখন সে আগুনের মতো হয়ে যায়। আগুনের ধর্ম যেমন আলোকজ্জ্বল করা, ঠিক সেভাবে এ চিন্তাবিদ, আখলাক সম্পন্ন মানুষদের কাজই হলো সমাজকে আলোকিত করা, কার্যকরী জ্ঞান সমাজে প্রয়োগ করা। সর্বোপরি এই দীর্ঘমেয়াদি কাজের প্রভাব সমাজে পড়তেই থাকবে।</p>
<p>আর এ জ্ঞানের আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার কারণ হলো আমরা মূলত শিকড়ে হাত দিয়েছি।</p>
<p>এ শিকড় যদি মাটিতে শক্তভাবে গেঁড়ে বসে, তাহলে পুষ্ট গাছ  থেকে ফুল, ফল এবং পাতা ছড়াবেই। আর এ মূল বা শিকড় হলো হাকীক্বত অন্বেষী এক জ্ঞানের বিনির্মাণ, চিন্তা ও ভাষার বিনির্মাণ। আমরা এ হাকীকত সম্পন্ন জ্ঞানের দিকে ধাবিত হওয়ার পাশাপাশি তা নিজেদের সমাজ ও আশেপাশে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রবেশ করাচ্ছি। চিন্তাবাদী আন্দোলনের কাজই হলো চিন্তা প্রবেশ করানো। চিন্তা একবার প্রবেশ করানো হলে তা পরবর্তীতে প্রভাব ছড়াবেই। এটিই প্রাকৃতিক নিয়ম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ পর্যায়ে আলোচ্য বিষয় হলো আমাদের, তথা যুবসমাজের রাজনীতির উপরিভাগে অবস্থানের মানে কী। এর মানে হলো আমরা, তথা যুবসমাজ রাষ্ট্র পরিচালনা, সমাজ পরিচালনা, সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে প্রভাব রাখাসহ সকল স্তরে প্রভাব রাখতে সক্ষম, আমরাই সে যুবসমাজ, যারা সকল কিছুর উপরিভাগে থেকে ভবিষ্যত বিনির্মাণ, মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিকে ধাবিত হতে পারি, জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের জন্য এগিয়ে যেতে পারি। সেই সাথে যুবক শ্রেণি থেকে এ ধরনের কাজে ব্যক্তিত্ব উঠিয়ে আনতে পারি। প্রশ্ন আসে, এক্ষেত্রে আমাদের মৌলিক  লক্ষ্যসমূহ কী কী?</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১। চিন্তাকে ইঞ্জেক্ট করা</strong></p>
<p>আল্লামা ইকবালের “ইসলামে ধর্মীয় চিন্তার পুনর্গঠন” গ্রন্থটি ১০০ বছর আগে লেখা কয়েকটি বক্তব্যের সংকলন, কিন্তু সেটি আজও গোটা দুনিয়াকে আলোকিত করছে। তার মানে হলো সঠিক চিন্তাকে সঠিকভাবে প্রচার-প্রসার করতে পারলে তা প্রভাব সৃষ্টি করতে বাধ্য, তা হাজার মাইল দূরে হোক বা হাজার বছর পরে হোক। আমাদের সমাজ যদি মার্ক্সিজম দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, লেলিনের মত দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এডাম স্মিথ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, তাহলে তাদের থেকে অনেক গুণ শক্তিশালী আল-মাওয়ার্দী, ইবনে খালদুন, আল্লামা ইকবালকে যদি আমরা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারি, সেসব চিন্তাকে ইঞ্জেক্ট করতে পারি, এটি নিশ্চিত যে আমাদের সমাজও তা গ্রহণ করবেই। কারণ আমরা এখনো একই কাবার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ি, একই আজান প্রতিদিন পাঁচবার এই জাতিকে আহ্বান করে, আলো ছড়ায়। আর এই চিন্তা শুধু জ্ঞান নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, কারণ সংস্কৃতি মানুষ দেখে দেখেই গ্রহণ করে। বারবার বলতে বলতে, লিখতে লিখতে, ক্লাস করতে করতে, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে অতীত পর্যালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যত ইশতেহার দেওয়ার মাধ্যমেই সমাজে সিম্বল হিসেবে এ চিন্তাগুলো ছড়িয়ে পড়বে। আর তার দ্বারা সমাজ, রাজনীতির নীতিনির্ধারকরা প্রভাবিত হতে বাধ্য; কারণ এর বাহিরে তখন ভিন্ন কোনো মেথড দ্বারা এই সমাজকে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>২। শিক্ষা দানের সিলসিলা</strong></p>
<p>ইমাম আবু হানিফা হলেন এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ। নববী মেথড এর অনন্য সৌন্দর্য হলো মানুষ গড়ে তোলা। সেই সাথে আমরা আমাদের সভ্যতার জন্য কতটুকু অবদান রাখছি তার অন্যতম মানদন্ডও হলো আমরা কতজন মানুষকে গড়ে তোলার জন্য কতটুকু চেষ্টা চালাচ্ছি তা। এই শিক্ষাদানের যে সিলসিলা এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্ম গড়ে উঠবে, গড়ে তুলবে; মূলত এই সিলসিলাটা আমরা জারি করতে চাই। এটি করতে পারলে রাজনীতি, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রেই বড় ব্যক্তিত্বগণ নিজেরা শিক্ষক হয়ে যার যার ক্ষেত্রের লোকজনকে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন। আর শিক্ষকগণ যদি সংকট, সংকট থেকে মুক্তির জন্য যুবমননের যে হৃদয়ের কথা– সেটি বলতে পারেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বলতে পারেন, যুবমননে লুকায়িত যে হাজারো প্রশ্ন, সেগুলোর আদলে জবাব দিতে পারেন, তাহলে অবশ্যই তাদের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। একইসাথে শিক্ষকগণ যখন কাজের পর্যালোচনাগুলোর মূল্যায়ন করবেন, এই মূল্যায়নগুলোকে হতাশার দলিল হিসেবে না দেখিয়ে আত্মবিশ্বাস এবং ভিশনারী সংগ্রামের দিকে ধাবিত করার জন্য উৎসাহিত করবেন। এই শিক্ষকদের ছাত্ররাই পরবর্তী সভ্যতাকে বিনির্মাণ করবে। আমরা এই শিক্ষা দানের সিলসিলাই তৈরি করতে চাই।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৩। ব্রিটিশ একাডেমীয়া থেকে মুক্ত একটি শ্রেণি</strong></p>
<p>আমরা যদি আমাদের সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গণিত (ম্যাথমেটিক্স), ফিলোসোফিসহ প্রত্যেকটি বিষয়কে এভাবে পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখবো, আমাদের একাডেমীয়া মূলত ব্রিটিশ একাডেমীয়ার আবদ্ধ একটি শিক্ষাব্যবস্থা। এটির বিপরীতে একটি স্বাধীন রূহ সম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৪। যুবকদের রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন করা</strong></p>
<p>আমরা যুবকদের রাষ্ট্র, অর্থনীতি, রাজনৈতিকভাবে সচেতন করতে চাই, অর্থাৎ একটি সচেতন নাগরিক শ্রেণি তৈরি করতে চাই। এই সচেতন নাগরিক শ্রেণি মূলত সমাজের প্রতিটি বিষয় নিয়ে কাজ করে তাদের স্ব-স্ব অঙ্গন থেকে সমাজকে গতিশীল করবে, নিজস্ব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করবে, নিজস্ব কিছু প্রতিবাদ, প্রস্তাবনা হাজির করবে, হোক তা ছোট একটি পত্রিকা বা ছোট একটি ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে। যুবকরা এ জাতির রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে ভাবলে তার মাধ্যমেই মূলত একটি সমাজ গতিশীল হয়। নির্দিষ্ট একটি দল, একটি প্রতিষ্ঠান সমাজকে গতিশীল করতে পারে না। যুবসমাজের মধ্যে এ সকল বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করে ফ্যাশন আকারে তা ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের অন্যতম একটি লক্ষ্য এটি, অর্থাৎ ইতিহাসের মেলবন্ধন ও যুগের আবু বকর তৈরি করার চেষ্টা করা।</p>
<p>যেমন– আবু বকর (রা.)। আল্লাহর রাসূল (সা.) মারা যাওয়ার পরে তিনি সে ঘোষণা দিয়েছেন এবং দৃঢ়তার সহিত নেতৃত্ব দিয়ে আবার উম্মতকে গোছালো একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছেন।</p>
<p>আজ আমাদের মাঝে এ দুই শতাব্দীর বড় বড় ব্যক্তিগণ, ইমাম শাহ ওয়ালী-উল্লাহ দেহলভী, আল্লামা ইকবাল, শাইখুল হিন্দ, আল্লামা শিবলী নোমানী, আবুল হাসান আলী নাদভীরা জীবিত নেই। তাদের অবর্তমানে আমাদেরকেও আবু বকর (রা.) এর মতো হাল ধরতে হবে এবং যুগের আল্লামা ইকবাল তৈরির জন্য নিজেদেরকে হাজির করতে হবে। এভাবে সমাজের সাথে পূর্বের মিরাসকে সম্পৃক্ত করে, পূর্বের সভ্যতার সাথে মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হতে হবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৫। ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটানো ও একটি আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তৈরি করা</strong></p>
<p>ইসলামী সভ্যতার গৌরবোজ্জল ইতিহাসের সাথে মেলবন্ধন ঘটিয়ে আমরা মূলত যুবসমাজের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চাই। আর এর মাধ্যমে মূলত একটি আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে উঠবে। এই আত্মবিশ্বাসী প্রজন্মের কাজ হলো তারা যুগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে সকল চিন্তাবিদদের মেথডকে, চিন্তাকে হাজির করবে।</p>
<p>আমাদের সকল কথা, ডায়লগ, ইতিহাস নিয়ে কাজ, চিন্তা নিয়ে কাজ, বড় বড় মনীষীদের আহ্বানকে যুবক সম্প্রদায়ের মাঝে হাজির করার মিশন– এ রকম যত ধরনের কাজ রয়েছে, সবই মূলত একটি আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তৈরি করার জন্য। কারণ উম্মাহর সামনে যদি আমরা ইসলামী সভ্যতার ইতিহাস ও শ্রেষ্ঠত্বকে, বর্তমান মুক্তির দিশা ইসলামকে বারবার উপস্থাপন করতে পারি, তাহলে একটি আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। চিন্তাবিদ ও শিক্ষক শ্রেণি তৈরি করলেও আমাদের মূল লক্ষ্য সর্বাগ্রে আখলাক এবং আধ্যাত্মিকতা। এটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে নিয়েই আমাদের সকল কার্যক্রম পরিচালনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ফল স্বরূপ, যে দল বা যে পন্থীরাই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সর্বাগ্রে আখলাক এবং আধ্যাত্মিকতার ধারণা যদি তাদের এক-দুইজন যোগ্য নেতাও গ্রহণ করে নেন, তবে তিনি বা তারাই গোটা জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারবেন।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৬। উম্মতের ঐক্য</strong></p>
<p>এমনভাবে আমাদের কাজ, চিন্তা, আহ্বান তুলে ধরতে হবে এবং প্রতিটি কার্যক্রমের মধ্যে এগুলোকে স্থাপন করতে হবে, যাতে সকল ধারার লোকজন নিজস্ব খোরাক, উপকরণ খুঁজে পায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে কাজ করতে হবে, যেমন– সুদ থেকে মুক্তির জন্য কাজ করা, সুদমুক্ত অর্থনীতির উপর কার্যক্রম পরিচালনা করা। উম্মতের আখলাকের আন্দোলনের উপর কাজ করতে হবে, মুসলিম উম্মাহর ক্রাইসিস জোন আরাকান, কাশ্মীর, ফিলিস্তিন নিয়ে কাজ করতে হবে। ঠিক মেথোডলজির ক্ষেত্রেও আমাদের এমনভাবে সব কিছুকে হাজির করা, যেখানে উম্মত তার ঐক্যের একটি ক্ষেত্র খুঁজে পাবে, ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নানাবিধ চিন্তার খোরাক খুঁজে পাবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৭। ভাষাকে বিনির্মাণ</strong></p>
<p>আমাদের সমস্যাগুলোর একটি হলো ভাষাগত সমস্যা। কারণ আমরা আমাদের ভাষায় চিন্তা করতে পারি না, আমাদের ভাষা আমাদের জ্ঞানের উৎস না। আমাদের চিন্তা ও শেখার ভাষা হলো ব্রিটিশদের চাপিয়ে দেওয়া একটি ভাষা। অর্থাৎ ঔপনিবেশিক শাসকরা যে অঞ্চলেই গিয়েছে, সে অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর উপর তাদের ভাষাকে চাপিয়ে দিয়ে সে ভাষার মাধ্যমে তাদের জ্ঞান এবং চিন্তা, জাতীয় মুভমেন্টকে পরিচালনা করার চেষ্টা করেছে।</p>
<p>আরবী আমাদের দ্বীনের ভাষা এবং বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ও মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষা। এ ভাষাগুলোকে বিশ্বজনীনভাবে মুসলমানদের ভাষা হিসেবে তুলে ধরতে হবে এবং সকল পরিভাষাকে বাংলা ভাষায় রূপান্তর করার মতো যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মাতৃভাষায় আমরা কীভাবে আমাদের জ্ঞানকে হাজির করবো, ফিলোসোফিকে (দর্শন) হাজির করবো সে ব্যাপারে চিন্তা করতে হবে। আমাদের জ্ঞানের উৎস হিসেবে বাংলা ভাষাকে হাজির করার চেষ্টা যেমন চালাবো, একইসাথে অনুবাদ, পরিভাষার রূপান্তরসহ সকল ক্ষেত্রে সমানভাবে গুরুত্বারোপ করবো। কারণ ভাষাই হলো ধর্ম ও সংস্কৃতির অন্যতম বাহন। তাই বাংলা ভাষা বিনির্মাণ আমাদের মূল দায়িত্বগুলোর একটি।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৮। ইসলামের কাজকেই মূলধারার কাজ হিসেবে প্রস্তুত করা</strong></p>
<p>বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাব্যবস্থা ব্রিটিশ একাডেমীয়ার অধীনস্থ থাকার কারণে ইসলামের কোনো কাজই মূলধারার কাজ হিসেবে বিবেচিত হয় না। আমাদের বইমেলা, আমাদের রাজনৈতিক দল সবক্ষেত্রেই ইসলামপন্থীগণ তৃতীয় পক্ষ হিসেবে থাকেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় ও শিক্ষাব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে যেসকল গবেষণা, কার্যক্রম, সেমিনার, প্রতিষ্ঠানিকতা ইত্যাদি, যেগুলিকে আমরা দেশের মূলধারার কার্যক্রম হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি, আর এসকল মূলধারার কার্যক্রমে ইসলামী ঘরণার কোন কাজই মূল্যায়ন পায়না। এক্ষেত্রে আমরা যদি নিজস্ব চিন্তা ও প্রভাবের মাধ্যমে মূলধারায় পরিণত হতে পারি, তাহলে এটিই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের জায়গা হিসেবে কাজ করবে।</p>
<p>আর, এজন্য হৃদয়ের কথা, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি সকল বিষয়গুলোর মৌলিক দিকগুলো জনগণের ভাষায় তুলে ধরে রাষ্ট্র এবং সংবিধানসহ নানাবিধ কার্যপ্রণালী, এজেন্ডাগুলোকে যদি আমরা বারবার হাজির করতে পারি, তাহলে রাষ্ট্র এবং সাংবিধানিক দিক থেকেও আমরা একটি মূলধারার আন্দোলন হিসেবে ইসলামী সভ্যতার জাগরণী চিন্তাকে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারবো।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>০৯। জাতিকে বা উম্মতকে শক্তিশালী করা</strong></p>
<p>আমাদের কেউ প্রশাসনে যাবে, কেউ রাজনীতিবিদ হবে, কেউ শিক্ষক হবে, কেউ সৃংস্কৃতিবিদ হবে ইত্যাদি। পেশাগত অবস্থানে যাওয়ার প্রচেষ্টার পাশাপাশি আমরা আমাদের পড়াশোনা, লেখালেখি, ক্লাস সবই যদি সমানভাবে পরিচালনা করতে পারি, তাহলে পেশাগত অবস্থানে গিয়ে আমর স্ব স্ব অঙ্গন থেকে মূলনূতির আলোকে কাজ করে আমাদের জাতিকে, উম্মতকে শক্তিশালী করতে পারবো। নির্দিষ্ট কোনো দলকে নয়, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে নয়, বরং গোটা জাতিকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও আমৃত্যু চেষ্টা চালাবো।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১০। স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে উঠে আসা</strong></p>
<p>আমাদোর মধ্য থেকে বড় বড় চিন্তাবিদ, আখলাক সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, যদি উঠে আসতে পারে, অর্থাৎ শক্তিশালী চিন্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবয়বে যদি আমরা উঠে আসতে পারি, তাহলে এটি স্বতন্ত্র একটি ধারায় পরিণত হবে। এর উদাহরণ উপমহাদেশে দেওবন্দী ধারা, আলীগড় আন্দোলন। দেওবন্দী ধারা নির্দিষ্ট কারো উপর হস্তক্ষেপ করেনি, এখান থেকে অনেক বড় রাজনীতিবিদ উঠে এসেছেন, এখান থেকে উঠে এসে অনেকে শুধুমাত্র হাদিস নিয়ে কাজ করেছে, অনেকে বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন, অর্থাৎ নানাবিধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়েছেন, কিন্তু দেওবন্দী ধারা একটি স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে এখনো আলো ছড়াচ্ছে। আমরাও যদি নিজেদেরকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, তাহলে আমরাও উসূল ও মাকাসিদী ধারা হিসেবে জাতির সামনে নিজেদেরকে প্রস্ফুটিত করতে পারবো।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১১। যুব চিন্তায় জাতীয় স্বপ্নকে তুলে ধরা, সেদিকে ধাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখা</strong></p>
<p>আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সংকটের একটি হল, আমাদের কোনো জাতীয় স্বপ্ন নেই। যে কোনো সফল বা শক্তিশালী সভ্যতার ভিত্তিমূলে সবসময়  জাতীয় স্বপ্ন বিদ্যমান থাকে।  আমরা যদি বর্তমানে ইরানের দিকে তাকাই, দেখব তাদের কাছে এই ধরনের স্পষ্ট স্বপ্ন রয়েছে। আমেরিকার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, তারা লিবারেলিজমকে ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের জাতীয় স্বপ্ন– বিশ্বশাসনের দিকে পরিচালিত। ব্রিটিশরাও একইভাবে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। তার্কিশরাও মধ্য এশিয়া ও ককেশাসে তাদের প্রভাব বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। চীনও তাদের জাতীয় স্বপ্নের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আমরা পারছিনা!</p>
<p>তাই আমাদের যুব চিন্তায় জাতীয় স্বপ্নকে তুলে ধরা, সেদিকে ধাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতেই হবে। আর সেটি হল, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান জাতিগোষ্ঠী হিসেবে, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সফট পাওয়ারে এবং জ্ঞানের রাজধানী হিসেবে আমরা প্রস্তুত করব, এটাই আমাদের জাতীয় ভিশন।</p>
<p>বৃহৎ বাংলাদেশের জাতীয় স্বপ্ন, অর্থাৎ বাংলাদেশকে শক্তিশালী অর্থনীতি ও সভ্যতানির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নকে সামগ্রিকভাবে যুবসমাজের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করব। কেননা এগুলিই আমাদের সবচেয়ে বড় জাতীয় স্বপ্ন।।</p>
<p>এই ১১ টি বিষয়কে সামনে রেখে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি, অল্প পরিসরে হলেও কাজ করতে পারি, তাহলে এ বিষয় কি প্রমাণিত হয় না যে, আমরা রাজনীতির ভেতরে নয়, বরং রাজনীতির উপরিভাগে থেকে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রভাব রাখতে পারবো, ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বকে প্রভাবিত করতে পারবো এবং এখান থেকেই বড় বড় ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্ব উঠে আসবেন? ইনশাআল্লাহ! কারণ আমাদের রাজনৈতিক আইডেন্টিটিই হলো রাজনীতির উপরিভাগে থেকে জাতিকে, দেশকে, বাংলা অঞ্চলকে শক্তিশালী করার আইডেন্টিটি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই,</strong> আমরা আমাদের জায়গা থেকে  নিজেদেরকে এমন মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেন আমরা আমাদের আলামিয়্যাত এবং সকল কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করতে পারি। কারন এ ধরনের ব্যক্তিরাই মূলত দুনিয়া ইমারত ও মানবতার ভবিষ্যৎ বিনির্মানের জন্য কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে আল্লামা ইকবাল খুব সুন্দর একটি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেটি হলো ‘আল্লাহর সহকর্মী’। তিনি তার কবিতাতেও তুলে ধরেছেন,</p>
<p style="padding-left: 80px;">“তুমি তৈরি করেছো রাত্রি</p>
<p style="padding-left: 80px;">আমি তো জ্বেলেছি আলোক,</p>
<p style="padding-left: 80px;">মাটি তোমার, তাই দিয়ে রচলাম পান পাত্র।</p>
<p style="padding-left: 80px;">তোমার ছিলো মরুভূমি, পর্বত, অরণ্য,</p>
<p style="padding-left: 80px;">আমার তৈরি ফুলের কানন।</p>
<p style="padding-left: 80px;">আমি সে, যে পাথরকে করে আয়না,</p>
<p style="padding-left: 80px;">বিষ হতে যে বানায় মধু।”</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এই ইমারতের ধারণার ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোরআনে বলেছেন,</p>
<p><strong>واستعمركم فيها</strong></p>
<p>আর এ ইস্তেমার শব্দ থেকেই মূলত ইবনে খালদুন তার উমরান তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা তিনি তার আল-মুকাদ্দিমাতে আলোচনা করেছেন। সমাজের ক্ষেত্রে আমাদের উমরান কেমন হবে তা ইবনে খালদুন তুলে ধরেছেন। আল্লামা রাগেব আল ইস্পাহানি ‘উমরানুন নাস’ পরিভাষা তুলে ধরেছেন, অর্থাৎ সমাজকে বিনির্মাণের জন্য নিজেকে তুলে ধরা, নতুন বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্নের কথা বলা। এক কথায় এই শোষণের বিপরীতে এমন এক ব্যবস্থা তুলে ধরা, যা জোরপূর্বক নয়, বরং সত্যিকারের মানবধর্ম হিসেবে ইসলামী সভ্যতাকে তুলে ধরতে পারবে। যেখানে ধনী-গরীবের মর্যাদাহীনতা, অধিকারহীনতা থাকবে না, যেখানে শোষণের  ত্রাসের প্রাসাদকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়ে নতুন সভ্যতার দুয়ার উন্মোচন করে দিতে হবে। আল্লামা ইকবালের এই পরিভাষার আলোকে আমরা যদি আল্লাহর সহকর্মী হই, তাহলে আমরা দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকি না কেন, শুরুতেই রাজনীতির যে মূলনীতি উল্লেখ রয়েছে, সেই মূলনীতির আলোকেই কাজ করবো। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, এই মুহুর্তে আমাদের পন্থা যাই হোক না কেন, আমরা সেই মূলনীতির আলোকেই কাজ করবো। তখন একক কোন পন্থীদের পন্থাই একমাত্র মুক্তির পন্থা, একটা গোষ্ঠীই সঠিক– এসব চিন্তা কার্যকরী থাকবে না। আমরাও তখন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করতে পারবো, দারুল আরকাম, দারুল হিকমাহ, নিজামিয়া মাদ্রাসা, দারসবাড়ির কি তখন কোনো পলিটিক্যাল ভিউ দরকার ছিলো? এসবের রাজনৈতিক আইডেন্টিটি কী ছিলো?</p>
<p>বাস্তবতা হলো এগুলো রাজনীতির উপরিভাগে থেকে সভ্যতা বিনির্মাণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে। কারণ এগুলো ছিলো জ্ঞান এবং আখলাকী আন্দোলন।  আব্বাসীদের আটশো বছর, উসমানী খেলাফতের ছয়শো বছর, উপমহাদেশীয় ৭০০ বছরসহ সামগ্রিকভাবে গোটা মুসলিম সালতানাতে চিন্তার চর্চা ছিলো, বড় বড় শিক্ষা আন্দোলন, ধারা ও প্রতিষ্ঠান ছিলো। সে সকল পরিপ্রেক্ষিতেও এই প্রতিষ্ঠানগুলো, ধারাগুলো মূলত উপরিভাগে থেকেই সমাজ, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করেছে, যোগ্য যোগ্য ব্যক্তি উপহার দিয়েছে। আর এভাবেই মূলত ইসলামী সভ্যতা ১২০০ বছর আলো ছড়িয়েছে।</p>
<p>এজন্য আমরা আমাদের মূলনীতির আলোকে মূল ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে একটি চিন্তা ও আখলাকের আন্দোলন, একটি জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের আন্দোলনের ইশতেহার দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে আমরা মুক্তি আন্দোলনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র পরিসর থেকে হলেও কিছু কাজ করে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। আর এটিই হলো আমাদের মূল আত্মপরিচয়।।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/our-position-is-not-inside-politics-but-at-the-upper-side-of-politics/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13734</post-id>	</item>
		<item>
		<title>শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদঃ অনতিবাহিত এক অতীত</title>
		<link>https://rowyakbd.com/expolitation-and-imperialism/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/expolitation-and-imperialism/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 24 Jan 2024 11:41:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উপমহাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13349</guid>

					<description><![CDATA[ সৃষ্টিগতভাবে প্রতিটি মানুষের ইজ্জত এবং মর্যাদা নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। কারণ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সম্মানিত করে। তাই আমরা আমাদের বর্তমান দুনিয়াকে  পরিবর্তন করে এমন একটা নতুন দুনিয়া বিনির্মাণ করতে চাই, যে দুনিয়ায় মানুষ  ইজ্জতের সাথে বসবাস করতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong> </strong>সৃষ্টিগতভাবে প্রতিটি মানুষের ইজ্জত এবং মর্যাদা নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। কারণ মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সম্মানিত করে। তাই আমরা আমাদের বর্তমান দুনিয়াকে  পরিবর্তন করে এমন একটা নতুন দুনিয়া বিনির্মাণ করতে চাই, যে দুনিয়ায় মানুষ  ইজ্জতের সাথে বসবাস করতে সক্ষম হবে। মহান আল্লাহ মুসলিম হিসেবে আমাদেরকেই এ দায়িত্ব দিয়েছেন, একই সাথে যুবক বা তরুন হিসেবে আগামী দিনের মুসলিম উম্মাহর কর্ণধার আমরা। এজন্য আমাদের জন্য নতুন দুনিয়া বিনির্মানের এ দায়িত্ব পালন এক অর্থে ফরজ। আমরা যদি এই দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে চাই তাহলে প্রথমে  আমাদেরকে বর্তমান দুনিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। বলা হয়, বর্তমানে আমরা পোস্ট কলোনিয়াল যুগে বসবাস করছি। সত্যি কি আমরা পোস্ট কলোনিয়াল যুগে বসবাস করছি নাকি আমরা যে শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদের যাঁতাকলে ছিলাম সেখানেই এখনও আমরা পড়ে আছি? এ বিষয়টি আগে আমাদেরকে খুব ভালোভাবে জানতে হবে।</p>
<p>প্রথম কথা হচ্ছে এই শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ এ বিষয়টি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এ বিষয়টি কেন আমাদেরকে খুব ভালোভাবে বুঝা উচিত? আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, মুসলিম উম্মাহ তিনবার সবচেয়ে বড় হুমকির সম্মুখীন হয় এবং দখলে নিপতিত হয়।</p>
<p><strong>‌</strong><strong>প্রথমবার</strong> <strong>হল; </strong><strong>ক্রুসেডারদের</strong> <strong>আক্রমন</strong><strong>।</strong> যে আক্রমণের ফলে বায়তুল মাকদিস বা সমগ্র আকসা সাম্রাজ্যবাদী অর্থাৎ ক্রুসেডারদের বা ইউরোপিয়ানদের দখলে চলে যায়।</p>
<p><strong>দ্বিতী</strong><strong>য়বার হল; মো</strong><strong>ঙ্গলদের</strong> <strong>আক্রমণ</strong><strong>।</strong> যে আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের আব্বাসি খেলাফতের আনুষ্ঠানিকভাবে পতন ঘটে অর্থাৎ বাগদাদের পতনের মধ্য দিয়ে। যদিও মোঙ্গলরা মামলুকীদের কাছে আইন জালুতের যুদ্ধে পরাজয় বরণ করার পর ধীরে ধীরে তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্ম ইসলাম গ্রহণ করে। তারা পরবর্তীতে ইসলামের সেবক হয়ে যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তৃতীয়</strong> <strong>আক্রমণটি</strong> <strong>হচ্ছে</strong><strong>, </strong><strong>সাম্রাজ্যবাদী</strong> <strong>কলোনিয়ালিস্ট</strong> <strong>বা</strong> <strong>এই</strong> <strong>শোষকদের</strong> <strong>আক্রমণ</strong><strong>।</strong> আর এই আক্রমণের ফলে মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত,নিপীড়িত এবং নির্যাতিত হয়েছি আমরা অর্থাৎ ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা। বিশেষভাবে বাংলা অঞ্চলের মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত-নিগৃহীত এবং নির্যাতিত হয়েছে, গণহত্যার শিকার হয়েছে এবং আজ অবধি আমরা তাদের সেই শোষণের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে ব্রিটিশরা তো চলে গেছে সেই ৪৭ এ। তাহলে আমরা এখনো কিভাবে তাদের কলোনি? এজন্যই প্রবন্ধের নামকরণ করা হয়েছে শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদ অনতিবাহিত এক অতীত। আমরা একে আজ অতীত হিসেবে আখ্যায়িত করলাম এটা মোটেও আমাদের জন্য অতীত নয় আজকের আলোচনা থেকে আশা করি এটি আমাদের সামনে সুস্পষ্টভাবে প্রতিপাদন হবে।</p>
<p>সূরা আনফালের ৪২ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন;</p>
<p>وَلَٰكِن لِّيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْرًا كَانَ مَفْعُولًا لِّيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَن بَيِّنَةٍ وَيَحْيَىٰ مَنْ حَيَّ عَن بَيِّنَةٍ ۗ وَإِنَّ اللَّهَ لَسَمِيعٌ عَلِيمٌ</p>
<p>এটি বদরের যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি আয়াত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা আগেই নিয়েছিলেন অর্থাৎ যারা টিকে থাকবে যারা বেঁচে থাকবে যাতে সুস্পষ্ট দলিল এবং প্রমাণ এর ভিত্তিতে বেঁচে থাকে। আবার যারা ধ্বংস হবে তারাও যাতে সুস্পষ্ট দলিলের ভিত্তিতে ধ্বংস হয়। এজন্য আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, আমরা আসলে কিসের উপর ভিত্তি করে আমাদের জীবনকে পরিচালনা করব আমাদের আন্দোলনকে পরিচালনা করব?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর উত্তরসূরী হিসেবে, হযরত মুসা এবং হারুন আলাইহি সালামের উত্তরসূরী হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু, আলী (রা), ফাতেমা, আসিয়া,  সুলতান ফাতিহ, ইকবালের উত্তরসূরী হিসেবে আমরা আসলে কিসের উপর ভিত্তি করে আমাদের চিন্তা এবং দর্শনকে এবং আমাদের জীবনকে পরিচালনা করব, এমনকি এর ভিত্তিতে একটি নতুন দুনিয়া গড়বো?</p>
<p>আমরা যদি শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, এই শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ ষোড়শ শতাব্দী থেকে অর্থাৎ ১৫০০ সাল থেকে নিয়ে বর্তমান সময় পর্যন্ত পৃথিবীর বা মানব সভ্যতার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। অর্থাৎ এটাকে আমরা গত ৫০০ বছর ধরে সমগ্র পৃথিবীর ভাগ্যাকাশে একটা কালো মেঘ হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। একইভাবে এটাকে আমরা দুনিয়ার ইতিহাসের একটি নতুন মাত্রা বলতে পারি।</p>
<p>ইতিপূর্বে বলেছি আমরা মুসলমানরা তিনবার সবচেয়ে বড় আক্রমণের শিকার হয়েছি, কিন্তু এর কোনটি সাম্রাজ্যবাদীদের মত এত সর্বগ্রাসী, সর্বব্যাপী ছিল না এবং  এত স্থায়ী ছিল না। এ আক্রমণ আমাদের উপর যেভাবে এসেছে। তবে এ ৫০০ বছরের পুরো সময়ে এক না। অর্থাৎ এই ৫০০ বছরকে আমরা সমান্তরালভাবে বিচার করতে পারি না। শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদ হল, দুনিয়ার ইতিহাসের সর্বশেষ পাঁচশত বছরের ভাগ্যকে নিরূপণকারী একটি পর্যায়। অর্থাৎ দুনিয়ার ইতিহাসের একটি মাত্রা। তবে এর রূপ এক এক শতাব্দীতে এক এক রকম। একেক অঞ্চলে এর রঙ একেক রকম। যেমন মধ্য এশিয়াতে একরকম, মিশর এবং উত্তর আফ্রিকাতে একরকম, উপমহাদেশে এক রকম। একই ভাবে উত্তর ও দক্ষিন অ্যামেরিকার ক্ষেত্রেও ভিন্ন।</p>
<p>আমরা যদি সাম্রাজ্যবাদকে বুঝতে চাই তাহলে আমাদেরকে এই ৫০০ বছর অর্থাৎ কলম্বাসের তথাকথিত আমেরিকার আবিষ্কার দিয়ে শুরু হওয়া যে শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ এটাকে অঞ্চলভিত্তিক, সময় ভিত্তিক, এমনকি ব্যক্তি ভিত্তিক বিভাজিত করে পড়তে হবে।</p>
<p>যেমন এটা মধ্য এশিয়াতে একরকম অর্থাৎ রাশিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত যে সাম্রাজ্যবাদ সেটা একরকম। আবার উত্তর আফ্রিকা এবং মিশরে ফ্রান্সের মাধ্যমে পরিচালিত সেটা একরকম। ‌ ভারতের হিন্দুস্তান তথা ভারতীয় উপমহাদেশে এক রকম আবার উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার ক্ষেত্রে এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই ভিন্নতাকে আমাদেরকে বিবেচনায় নিতে হবে।</p>
<p>তবে এদের একটি অভিন্ন বিষয় আছে। ‌এদের মধ্যে অভিন্ন বিষয় হল, এর মাধ্যমে যদি আমরা সাম্রাজ্যবাদকে সংজ্ঞায়িত করতে চাই তবে তা হলো,<strong> “বৈদেশিক সংখ্যালঘু কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা ও অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাঁদের যা কিছু আছে সেগুলোকে নিজেদেরকে স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য একটি ব্যবস্থা বা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা এবং এই সিস্টেম বা ব্যবস্থার মাধ্যমে তাঁদের সম্পদকে- সে দেশের সকল অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে (যেমন: সে দেশের বিভিন্ন মিলসগুলো) লুণ্ঠন করে, সে দেশের সকল সম্পদকে কুক্ষিগত করে তাঁদের কেন্দ্রীয় দেশে (যেমন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কেন্দ্র ছিল লন্ডন, একইভাবে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির  কেন্দ্র ছিল নেদারল্যান্ডস) প্রেরন করা।”</strong></p>
<p>একই সাথে ঐ অঞ্চলে বসবাসকারী একদল মানুষকে তারা এ শোষণের অংশীদার বানাত। শুধু তাই নয় এই গোষ্ঠীকে তারা একটা নাম দিত। এটা অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতো যাকে আমরা এলিট গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। আমাদের ক্ষেত্রে এটা ছিল আমাদের আমাদের দেশের জমিদাররা।  এ গোষ্ঠীকে এলিট গোষ্ঠী নামে নামকরণ করে তাঁদেরকে স্বেচ্ছাসেবী বানানো। যারা একটা স্বার্থের জন্য শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষ হয়ে কাজ করতো। তাদের (শোষক) সাথে মিলে তাদের নিজেদের দেশকে মানুষকে শোষণের জন্য  শোষকদের পক্ষ নিয়ে কাজ করতো। ‌ এভাবে আমরা শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ কে সংজ্ঞায়িত করতে পারি।</p>
<p>শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ যেন স্তিমিত হয়ে না যায় এক্ষেত্রে তারা এক ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করে। যার মাধ্যমে এমন একটা শ্রেণি বা এমন একটা গোষ্ঠী তারা তৈরি করে যাতে করে এর মাধ্যমে যে শিক্ষিত শ্রেণী গড়ে উঠবে তারা তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাদের মেকানিজমের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে তাদের পরিচালিত, তাদের প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা- যা এখনো আমাদের দেশসহ আমাদের সকল অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত আছে। মূলত এটি তাদের কমন (অভিন্ন) একটি বৈশিষ্ট্য।</p>
<p>আমরা যদি শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা না করি তাহলে এটা বলতে কী বুঝায় এই বিষয়টাকে সঠিকভাবে মোটেই বোঝা সম্ভব হবে না।</p>
<p>এটা আমাদের পূর্ববর্তী যেসব আক্রমণকারী; ক্রুসেডার এবং মোঙ্গলদের আক্রমণের চাইতে সাম্রাজ্যবাদের আক্রমণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।  মোঙ্গলদের আক্রমণের সময় আমরা দেখেছি তারা এসেছে, বাগদাদকে আক্রমণ করেছে বাগদাদের সকল লাইব্রেরীগুলোকে পুড়িয়ে দিয়েছে গণহত্যা চালিয়েছে এবং হয় তারা চলে গেছে না হয় সেখানের প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা কর্তৃক ওখানের প্রতিষ্ঠিত সংস্কৃতির মধ্যে নিজেরা বিলীন হয়ে গিয়েছে।   কিন্তু শোষকদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা হয়নি। <strong>এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদের সবচেয়ে সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই, স্থায়ীভাবে ও পদ্ধতিগতভাবে একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে তৈরি করে সেটার আলোকে তাদের সমগ্র কালকে পরিচালিত করে যা এখনো জারি রয়েছে।</strong> যেমন এখন আমাদের যে ওয়ার্ল্ড ভিউ এটা ব্রিটেনের দেওয়া। আমাদের জাস্টিস বা বিচার ব্যবস্থা হল ব্রিটিশদের বিচার ব্যবস্থা। আমাদের অর্থনীতি সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী  অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। তাহলে কিভাবে আমরা এই শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্তি পাবো?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদের যে বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে অন্যতম তা হলো,  স্থায়ী ও পদ্ধতিগতভাবে একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে সেটার আলোকে তারা যেসকল  অঞ্চলকে  শোষণ এবং সাম্রাজ্যবাদের কেন্দ্র ভূমিতে পরিণত করেছিল সেটাকে তারা পরিচালনা করেছে। এর আবার ভিন্ন ভিন্ন পন্থাও আছে। যেমন উত্তর অ্যামেরিকা। সেখানে পশ্চিম ইউরোপীয়রা  যাওয়ার পরে সেখানে বসবাসকারি প্রায় সকলকেই হত্যা করে। তারা কেন সেখানে তাঁদেরকে হত্যা করে? এর অন্যতম কারন হল সেখানের অধিবাসীরা যাযাবর হিসেবে বসবাস করত। অর্থাৎ মাটির সাথে তাঁদের মালিকানার সম্পর্ক ছিল না। মালিকানা সত্তকে গ্রহণ না করে যাযাবর একটা জীবন তারা যাপন করত। ইউরোপীয়রা  দেখল, এদেরকে আমরা গোলাম বানাতে পারবো না। যার ফলে তাঁদেরকে গোলাম বানিয়ে হালচাষ করাতে পারত না। এই কারণে তাঁদের সামনে একটি মাত্র পথই খোলা ছিল সেটা হল হত্যা করে তাঁদেরকে শেষ করে দেওয়া। সকল রেড ইন্ডিয়ানকে  তারা হত্যা করে। আবার ওই অঞ্চলকে আবাদ করার জন্য নিজেদের শিল্প বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করার জন্য আফ্রিকা থেকে মানুষদেরকে ধরে নিয়ে এসে দাস বানিয়েছে। তাই বলা হয়েছিল তাদের চিত্র এবং ৪০০ বছরের যে সাম্রাজ্যবাদ এর মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। এটা অঞ্চল ভেদে, দেশ ভেদে, সময় ভেদে।</p>
<p>আবার আলজেরিয়াতে ফরাসিরা আসার সাথে সাথে দেখতে পায় এখানে একটি শক্তিশালী সভ্যতা সংস্কৃতি আছে‌ এখানে তারা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে এখানে তাদের ভাষা কে বদলে দেয়ার চেষ্টা করেছে তাদের জীবনধারাকে বদলে দেয়ার চেষ্টা করেছে আর অন্যান্য অনেক পন্থাই এখানে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।এটা   কেননা সেখানে বসবাসকারি মানুষের স্থায়ী একটি জীবন ধারা ছিল। এই কারণে সেখানে  ভিন্ন পন্থা অবলম্ববন করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আমার আলোচনার যে বিষয়বস্তু , সেটাকে আমরা উপনিবেশবাদ বলতে পারতাম। এটা না বলে আমরা কেন সাম্রাজ্যবাদ বলে আখ্যায়িত করলাম? শোষকদের কে ইংরেজিতে বলা হয় exploiters. কিন্তু কোথাও ব্রিটিশদেরকে এক্সপ্লোয়েটের হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়নি। আখ্যায়িত করা হয়েছে কলোনাইজার হিসেবে।</strong></p>
<p>আমাদের বই পুস্তকে বা তারা উপনিবেশবাদ বলতে যেটা বুঝায় &#8211;</p>
<p>উপনিবেশবাদ বা কলোনাইজেশনের সাথে কলোনি বা উপনিবেশ বানানোর একটি সম্পর্ক রয়েছে।</p>
<p><strong>কলোনি বা উপনিবেশ বানানোর অর্থ হল, সাধারণ কোন একটি জনগোষ্ঠী কর্তৃক বসবাসকৃত একটি অঞ্চল থেকে অন্য একটি অঞ্চলে সেখানে বসতি স্থাপন করা। এবং সেখানে অবস্থা বুঝে তাদের নিজেদের কল্যাণে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি ব্যবস্থা বা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা। এটা হল উপনিবেশবাদের মূল অর্থ। এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে কলোনাইজেশন বা উপনিবেশবাদ খুব বেশী নেতিবাচক কোন কিছু নয়। যেমন তোরা নিজেদের স্বার্থে ইন্ডিয়াতে এসেছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বানিয়েছে এবং ব্যবসা বাণিজ্য করেছে। কিন্তু কেন আমরা তাদেরকে শোষক বলছি? আমরা কেন তাদেরকে সাম্রাজ্যবাদী নির্যাতনকারী হিসেবে আখ্যায়িত করছি? ‌এটা মূলত কলোনাইজার বা উপনিবেশের এটা মৌলিক সংজ্ঞা।</strong></p>
<p>তারা আমাদের সাথে সবসময় খেলতে আসে ভাষা এবং পরিভাষা দিয়ে। আমরা মুসলমানরা খুব কম তাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত হয়েছি। আমরা যেখানে সবচেয়ে বেশি পরাজিত , সেটা হচ্ছে কুটনীতির টেবিলে। যার কারণে কলোনাইজেশন এর মত গণহত্যার ইতিহাসকে  খুব স্বাভাবিকভাবে তারা সংজ্ঞায়িত করতে পেরেছে। ‌ আমাদের জিহাদ আমাদের শরীয়তকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।</p>
<p>এই দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদ হল উপনিবেশবাদের নামে পশ্চিম ইউরোপের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। এই কারণে পূর্বের যে কোন কলোনাইজেশনের চেয়ে এটা ভিন্ন। কলোনাইজেশন কিন্তু অতীতেও হয়েছে কিন্তু এটা একেবারেই ভিন্ন। যেমন ইতিপূর্বেও রোম অনেক দেশে দখল করেছে এবং শাসন করেছে। ফনেশিয়া ও  গ্রীকদের অনেক  কলোনি ছিল। কিন্তু বর্তমান যে কলোনাইজেশন এটা অতীতের রোম, ফনেসিয়া বা গ্রীকদের Colonization এর চাইতে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। এটা পূর্বের এই সকল কলোনির চেয়ে ভিন্ন।</p>
<p>এই ভিন্নতা বুঝার জন্য আমাদেরকে বুঝতে হবে মডার্ন ইউরোপের মূলে কি রয়েছে? মডার্ন ইউরোপীয়দের সৃষ্টিজগতের সাথে সম্পর্ক, এবং আশেপাশের অন্যান্য মানুষের সাথে তাঁদের তৈরিকৃত সম্পর্ক ও মহাবিশ্বের সাথে তাদের সম্পর্ক, এই সম্পর্কের স্বরূপ সম্পর্কে জানতে হবে।</p>
<p>এখন এই মডার্ন ইউরোপের মূলে কি রয়েছে?</p>
<p>যারা সমগ্র পৃথিবীকে নির্যাতন, লুণ্ঠন, শোষণ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করছে না এদের মূল বিষয়টা কি? বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক ফ্রেডরিক নিচে’ এই বিষয়কে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, মডার্নিটির মূল হল Will to Power অর্থাৎ তাহাক্কুমের ইরাদা। প্রভাব বা আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছাকে মর্ডান ইউরোপের ভাষায় বলা হয়, উইল টু পাওয়ার।</p>
<p>এর মূল কথা হচ্ছে মানুষের অস্তিত্বের মূল কারন হল শক্তি সঞ্চয় করা এবং সঞ্চয়কৃত শক্তির মাধ্যমে তাঁর আশে পাশে যা কিছু আছে সেগুলোর উপর তাহাক্কুম বা আধিপত্য কায়েম করা, তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করা ও নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা। এজন্য বর্তমানে তাদের যে ফিজিক্সের ধারণা, তা হলো- প্রকৃতপক্ষে আমি কিভাবে আমার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখান থেকে উপকৃত হতে পারি বা নিজের স্বার্থকে হাসিল করতে পারব। এর ব্যাকগ্রাউন্ডে যদি আমরা এক ধাপ পেছনে যাই তাহলে দেখতে পাই, দেকার্তের কার্টেসিয়ান থট সেখানে আছে Cogito Ergusum বা I am there, because I am thinking- আমি চিন্তা করি বলেই আমি আছি এ কথার পেছনেও  will to power এই বিষয়টি লুকায়িত।</p>
<p>আমরা যদি আরও এক ধাপ পেছনে যাই খ্রিস্টান যে ধর্মতত্ত্ব এর মধ্যেও এ বিষয়টি আমরা খুঁজে পাই। সেটা হল খ্রিস্টান ধর্মের ইতিহাসে দেখতে পাব  যে, হযরত ঈসার পরে খ্রিস্টান ধর্ম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলো পাউলস। খ্রিষ্টান ধর্মে হযরত ঈসার পরে পাউলস কর্তৃক তৈরিকৃত পরিভাষার মধ্যে একটি হল “অন্যরা”। এই অন্যরা বা আদার্স হল ইয়াহুদীরা। খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বে এমন একটি চিন্তা আছে, যা পাউলসের চিন্তাকে সামারাইজ করে পাই; হযরত ঈসা যখন ফিরে আসবে তখন যারা তাঁকে স্রষ্টা হিসেবে গ্রহন করবে তারা চিরস্থায়ী জীবন পাবে আর যারা গ্রহণ করবে না তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে।</p>
<p><strong>এর অর্থ কী?</strong></p>
<p><em><strong>এর অর্থ হল যারা খ্রিষ্টান না তাঁদের বেঁচে থাকার কোন অধিকার নেই। যার ফলে বেঁচে থাকার পূর্ব শর্ত হল, চার্চের অনুগত হওয়া।</strong></em></p>
<p>পরবর্তীতে আসে পঞ্চম শতাব্দীতে Augustine এর চিন্তা-ধারা, তিনিও খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় তাত্ত্বিকদের একজন। তিনি এই চিন্তা বা আদার্স বিষয়টাকে এমন  ভিত্তির উপর দাঁড় করান যা পরবর্তীতে Inquisition ও ক্রুসেডের জন্ম দেয়। মর্ডান ইউরোপীয় যে স্টেট, এর  রূহের মধ্যে কিভাবে সাম্রাজ্য এবং শোষণ গেঁথে আছে এটাকে যদি বুঝতে চাই তাহলে আমাদেরকে এক ধাপ পেছনে, রেনে দেকার্তের কার্তেসিয়ান থট বুঝতে হবে। এরপর এক ধাপ পেছনে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বের কাছে যেতে হবে। তাহলে কেন সাম্রাজ্যবাদ হত্যাযজ্ঞ চালাবে, সবাইকে তার নিজের কাজে ব্যবহার করবে- এর কারণও আমরা খুঁজে পাই। পরবর্তীতে এই চিন্তা ক্যাথলিক চার্চের মূল দর্শন হিসেবে জারি থাকে।</p>
<p><strong> এখন খ্রিস্টানদের আদার্স হিসেবে পরিবর্তিত হয়েছে ইহুদীদের পরিবর্তে মুসলমানরা। পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত তাদের ক্রুসেডগুলো বারবার মুসলমানদের জিহাদি প্রেরণা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের শক্তি এবং আকলের শক্তির কাছে পরাজিত হয়। ফলে একপর্যায়ে তারা হতাশ হয়ে যায়। কিন্তু তারা একটা জায়গায় আশা পায় তা হল আন্দালুসিয়ার গ্রানাডা পতনের মাধ্যমে। অর্থাৎ ১৪৯২ সালে তারা নতুন করে আশা খুঁজে পায় এবং তারা বলতে শুরু করে যে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ থেকে যেহেতু তাড়াতে পেরেছি তাহলে মুসলমানদেরকে সমগ্র পৃথিবী থেকেও তাড়িয়ে দিতে পারব।</strong></p>
<p>এই মন্ত্র সারা দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর প্রথম পদক্ষেপ হলো ক্রিস্টোফার কলম্বাস। সে মূলত আমেরিকা আবিষ্কার করতে যায় নাই। কারণ আমেরিকার সাথে দুনিয়ার সীমা আছে। মূলত ক্রিস্টফার কলম্বাস যায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অর্থনৈতিক শক্তি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেনাবাহিনী আনার জন্য। এই লক্ষ্যেই মূলত কলম্বাস সহ অন্যরা অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সৈন্য সংগ্রহের জন্য। এ উদ্দেশ্যে সে তথাকথিত আবিষ্কারের নেশায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।  এই তথাকথিত আবিষ্কারের নামে তারা যেখানেই গিয়েছে সেখানেই মানুষকে খ্রিষ্টান বানিয়েছে ও তাঁদের সম্পদকে লুণ্ঠন করেছে আর না হয় তাঁদেরকে হত্যা করেছে।</p>
<p>এই কারণে খ্রিষ্টান ধর্মের মূলতত্ত্ব ও কার্টেসিয়ান চিন্তার মাধ্যমে সামগ্রিকতা লাভকারী এই চিন্তাকে বিবেচনা করা ছাড়া এবং এই অর্থে সেক্যুলার চিন্তাকে উপলব্ধি করা ছাড়া পশ্চিম ইউরোপীয়রা কিভাবে মানবতার ইতিহাসে শুধুমাত্র নিজেদের জন্য স্বতন্ত্র একটি তাহাক্কুমের ফরম বা নিপীড়ন মূলক ব্যবস্থা হিসেবে শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদকে গঠন করেছে সেটাকে বুঝতে পারব না।</p>
<p><strong>সপ্তদশ শতাব্দীতে এসে ‘অন্যরা’ অর্থাৎ যারা খ্রিষ্টান নয় তাঁদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এই চিন্তাকে খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্ব থেকে বের করে এনে সেক্যুলারাইজডকারী এবং বিশেষ করে থমাস হবের মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্রের আদর্শে পরনিতকারী এবং সেই রাষ্ট্রের জন্য সকল প্রকার পন্থাকে গ্রহণ করাকে বৈধতা দানকারী একটি চিন্তা হিসেবে বুঝলে তাঁদের শোষণ ও সাম্রাজ্যের মূলমন্ত্রকে বুঝতে পারব।</strong></p>
<p>সাম্রাজ্যবাদীরা এসব অঞ্চল বা দেশসমূহ কে লুণ্ঠন করার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। এখানে আমরা বলেছি যে, সাম্রাজ্যবাদী ও শোষকরা বা এই সকল দেশ সমূহ  একেক সময় একেক পন্থাকে গ্রহণ করে। কখনোবা মিশনারী কার্যক্রম, কখনো ব্যবসা আবার কখনোবা শিক্ষাকে ব্যবহার করে থাকে। কখনো সেনাবাহিনী, আবার কখনোবা বিভিন্ন চুক্তিকে ব্যবহার  করে থাকে। এর জন্য এর বিভিন্ন পন্থা রয়েছে। কখন কোনটা ব্যবহার করবে সেটা তারা অবস্থা বুঝে সিন্ধান্ত নিয়ে থাকে।</p>
<p>যেমন থমাস ম্যালথুস, যিনি ছিলেন বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ। An Essay on the Principle of Population নামক বইয়ে তিনি বলেছেন, জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে, সম্পদ বা খাদ্য বাড়ে গাণিতিক হারে।‌ তিনি ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানির অন্যতম একজন কর্মকর্তা। তিনি কেবল কর্মকর্তা ছিলেন না তিনি সেই সময় ইন্ডিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছিলেন। ‌ যেমন জন স্টুয়ার্ট মিল তিনি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যতম একজন শেয়ার হোল্ডার ছিলেন।</p>
<p>থমাস হবস এর রাষ্ট্রের যে মূল আদর্শ তার মৌলিক পরিভাষা হচ্ছে পার্সোনালিটি। পার্সোনালিটি শব্দটি দিয়ে আমরা কর্মক্ষম ও যোগ্য, ব্যক্তিত্ত্ববান একজন মানুষকে জানি, কিন্তু তিনি এটাকে আরও বিস্তৃত করেন। তিনি বলেন, একটি জনগোষ্ঠীও যদি একসাথে কাজ করার চুক্তি করে ও সমবায়ের ভিত্তিতে কাজ করে তাহলে তারাও একটি ফা’য়িল (কর্মক্ষম)  হিসেবে গৃহীত হবে। তারাও কোন স্বার্থকে সামনে রেখে এক সাথে কাজের  মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে। তার এই পার্সোনালিটি আর ইসলামী সভ্যতায় মুরুয়াত বা ব্যক্তিত্ব এর মাঝে সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে।</p>
<p>এটা বিস্তারিত জানতে হলে  ইমাম মাওয়ারদির আদাবুদ্দিন ওয়াদ দুনিয়া গ্রন্থে মুরুয়াত নামে একটি অধ্যায় আছে, সেটি পড়তে হবে। এক হাকিমকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে ‘আকল’ এবং ‘মুরুয়াতে’র মধ্যে পার্থক্য কী? <strong>তখন</strong> <strong>তিনি</strong> <strong>জবাব</strong> <strong>দিয়েছেন</strong><strong>, </strong><strong>আকল</strong> <strong>হচ্ছে</strong> <strong>সবচেয়ে</strong> <strong>উপকারী</strong> <strong>যে</strong> <strong>কাজ</strong> <strong>সে</strong> <strong>কাজটা</strong> <strong>করা, </strong> <strong>আর</strong> <strong>মুরুয়াত</strong> <strong>হচ্ছে</strong> <strong>কোন</strong> <strong>কাজকে</strong> <strong>সবচেয়ে</strong> <strong>সুন্দর</strong> <strong>ভাবে</strong> <strong>করা</strong><strong>।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা সবচেয়ে বেশি লুন্ঠিত নির্যাতিত হয়েছি যাদের মাধ্যমে, তাদের ক্ষেত্রে যদি দেখি, তারা হচ্ছে ব্রিটিশ aristrocat। ইংল্যান্ডের দুইটি  পার্লামেন্ট রয়েছে। একটি হচ্ছে সাধারণ পার্লামেন্ট আরেকটা হচ্ছে হাউজ অফ লর্ডস অফ দা ইউনাইটেড কিংডম যা এরিস্টোক্র‍্যাটের। আর এটাই হল মূল পার্লামেন্ট‌। হাউজ অব লর্ডসের সদস্যসংখ্যা ৭০০ জন এবং হাউজ অফ কমন্সের  ৬০০ জন। ‌  হাউস অফ লর্ডস হলো মূলত এরিস্টোক্র‍্যাটদের জন্য।</p>
<p>এটাকে যদি আমরা ব্রিটিশ এরিসটোক্র্যাট গ্রুপকে বিবেচনায় নিয়ে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাই যে এরিস্টোক্রাটরা; যাদেরকে আমরা House of Lords of the United Kingdom হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি তারা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করে ও সমবায়ের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। এবং তাঁদের মধ্যে থেকে একজনকে Peerage নির্বাচিত করে একজন ব্যক্তি হিসেবে নিজেদেরকে পরিচালিত করতে পারে। এই প্রেসিডেন্ট কে তারা তাদের প্রতিনিধি বানায় এবং নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন যা লাগে সেটার আলোকে তাদের পরিকল্পনা এবং কর্ম গ্রহণ করে থাকে।এবং নিজেদের স্বার্থে কাজ করে থাকে। যেমন ওসমানীদের সাথে তারা কখনো লড়াইয়ে যায়নি কেননা যখনই লড়াই গিয়েছে সেখানেই হেরেছে।  এজন্য তারা ওসমানীদের সাথে সবসময় চুক্তি করত। কারণ তারা জানতো এখানে পারা যাবে না। কোথাও চুক্তি (উসমানী), কোথাও যুদ্ধ, কোথাও গনহত্যা, কোথাও ব্যবসার (হিন্দুস্তান) নামে সকল কিছুকে দখল করে ফেলেছে। ‌</p>
<p>তাদের এই পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করে হাউজ অব লর্ড স এর সদস্যরা।</p>
<ul>
<li>এই সকল বিষয়কে বিবেচনায় নিলে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, মূলগতভাবে খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্ব দ্বারা লালিত, ফরম বা গঠনগত দিক থেকে আধুনিক রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধাকে ব্যবহারকারী আবার একই সাথে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমেও ধারাবাহিকতা দানকারী এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বকে সামনে রেখে এটাকে সেক্যুলার এই আদর্শে রুপান্তরিত করে।</li>
<li>একই সাথে তারা অন্য সমাজ ও দেশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দাবী করে।</li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এই চিন্তাকে তারা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে, তাদের অন্যান্য পন্থার মাধ্যমে এটা আমাদের মন মগজে গেঁথে দিতে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারাই সকল মেকানিজম ও চিন্তা তথা খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বের চিন্তাভাবনাকে দার্শনিক ফর্ম দিয়ে, আধুনিক মডার্ন স্টেট এর আদর্শে পরিণত করেছে এবং এই আদর্শকে পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে যেমন ইংল্যান্ডের হাউস অফ লর্ডসের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে এটা প্রয়োগ করেছে। এটা হচ্ছে মূলত তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড। এখানে মূল হলো ধর্ম দর্শন, এমনকি তাদের জাতীয়তাবাদী চিন্তা ও অন্যান্য চিন্তাগুলো এক্ষেত্রে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।</strong></p>
<p>তারা এটা আমাদের উপর কীভাবে প্রয়োগ করেছে?  আমাদের উপমহাদেশের ক্ষেত্রে তারা ভেবেছে, আমরা যদি তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাই, তাদেরকে শোষণ করতে চাই, শোষণ করার জন্য সর্বাগ্রে যে বিষয়টি করতে হবে সেটা হল, তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে শেষ করে দেওয়া। এই জন্য তারা ইতিহাসবিহীন একটি জাতিতে পরিণত করার জন্য আমাদের সকল কিছুকে ধ্বংস করে দেয়। ভারতীয় উপমহাদেশে তারা প্রথম এই কাজটি করে। ইসলাম আমাদের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলাম ভারতীয় উপমহাদের ১০০০ বছরের ভাগ্য নিয়ত্ত্বা ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশে মোহাম্মদ বিন কাসিম এর মধ্য দিয়ে যে বিজয় এবং বাংলা অঞ্চলে আরব বণিকদের মধ্য দিয়ে ইসলামের যে প্রচার এবং প্রসার যা ভারতীয় উপমহাদেশের এক হাজার বছরের ভাগ্যনিয়ত্তা ছিল। এককথায় ইসলামই ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এমন একটা জায়গায় এসে তারা সর্বপ্রথম আক্রমণ চালায় ওই সময়ের ভাষা এবং ধর্মের উপরে। তারা প্রথমে এসে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার যে ভাষা সেটাকে পরিবর্তন করে দেয়। এটা তারা রাষ্ট্রশক্তির মাধ্যমে করে।</p>
<p>দ্বিতীয় আঘাতটি করে তারা আমাদের দ্বীনের উপরে। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের মাযহাব হানাফী মাযহাব। আকিদায় আমরা আশয়ারী-মাতুরিদি। ব্রিটিশরা আসার পর তারা ব্রিটিশ সালাফিজমের পথকে উন্মোচিত করেছে। অর্থাৎ তারা দ্বীনকে এমন অবস্থায় নিয়েছে যাতে আমরা সেই দ্বীনকে পালন করতে না পারি। এই দ্বীন যেন আমাদের ভিতরে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য  জন্ম দেয়। এজন্য ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম ফরমেট বা সমস্যার সৃষ্টি হয় সালাফিজমের মাধ্যমে। মাত্র ৫০ থেকে ৬০ বছরের পরেই আহলে কোরআন, আহলে হাদিস এর জন্ম হয়।</p>
<p>ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন সময়ে ২২ হাজার পাউন্ড দিয়েছে মিশকাতুল মাসাবিহ কে অনুবাদ করার জন্য। কারণ মিশকাতুল মাসাবিহকে বলা যায়, আমাদের মুসলমানদের হ্যান্ডবুক। এটাকে তারা আগে ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করার চেষ্টা চালায় এবং এক্ষেত্রে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফান্ডিং করে।</p>
<p><em><strong>এ কারণে ভাষা যদি শক্তিশালী না হয় তাহলে দ্বীনও শক্তিশালী হবে না। এজন্য ভাষাকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। আমাদের দেশের মানুষের ভাষা বাংলা। কিন্তু আমাদের শিক্ষার ভাষা কি বাংলা? আজকে আমরা বাংলা ভাষায় ইসলামকে সঠিকভাবে তুলে ধরার মতো কোন কিছু কি করতে পেরেছি?</strong></em></p>
<p>তারা তো তাদের কাজ করেছে তারা এসে আমাদের ভাষার উপর আক্রমণ চালিয়েছে,  আমাদের পরিভাষার উপর আক্রমণ চালিয়েছে। এটা করে তারা বাংলা ভাষাকে হিন্দুদের ভাষা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এবং বাংলা ভাষার সাথে মুসলমানরা যাতে দূরত্ব বজায় রাখে এজন্য সব সকল ধরনের পন্থা অবলম্বন করেছে। ‌ পরবর্তীতে মুসলমানরাও বাংলা ভাষাকে হিন্দুদের ভাষা হিসেবে দূরে সরিয়ে দিয়ে রেখেছে। ‌ অথচ যে কোন চিন্তাধারার ক্ষেত্রে মানুষ যদি তার মাতৃভাষাকে ভালোভাবে না জানে অন্য ভাষাও ভালোভাবে শিখতে পারবে না ভালোভাবে চিন্তা করতে পারবে না। একারণে তারা প্রথমে আক্রমণ চালায় আমাদের দ্বীনের উপরে আর সেটা করে আমাদের আলেমদেরকে হত্যা করার মাধ্যমে, তারা আমাদের দারস বাড়িগুলো ধ্বংস করে দেয়। ওদের যত প্রতিষ্ঠান ছিল তা মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং আমাদের দ্বীন যাতে একটি অনুসৃত দ্বীন না হয়, ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্য সৃষ্টি হবে বহুধা অথবা বিভক্ত হবে এটার জন্য সকল ধরনের কার্যক্রম তারা চালায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আজকে যদি আমরা শোষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই এজন্য আমাদেরকে আমাদের দ্বীনকে ভালোভাবে বুঝতে হবে দ্বীনুল মুত্তাবা’ অর্থাৎ অনুসরণযোগ্য  যে দ্বীন। আর এক্ষেত্রে আমরা ইসলামের ইতিহাসে হেরা থেকে শুরু করে প্রবাহমান নদীগুলোর দিকে যদি আমরা দেখি সবচেয়ে প্রশস্ত এবং প্রবাহমান নদী হল উসুলবিদ বা আহলে রায়ের ধারা। এটা সবচেয়ে বড় ধারা। কারন এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা এবং এর বীজ বপন করেছেন হযরত ওমর (রা)। আব্বাস খিলাফতের রাষ্ট্র,  ওসমানী, মুঘলসহ  আন্দলুসিয়ার যে খেলাফত দেখি- এই ফিকহের আলোকে রাষ্ট্র  পরিচালনা করা হয়েছে। আমরা যদি আমাদের দ্বীনকে একটি অনুসরণযোগ্য একটি দ্বীনে পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে পুনরায় এই উসুলি ধারা যার প্রতিনিধিত্ব শুধুমাত্র হানাফীরাই করে না যার শুরু  হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা&#8217;আলা আনহু, ইমাম আবু হানিফা থেকে ইমাম গাজ্জালী। ‌ অথচ ইমাম গাজ্জালী কে দেখানো হয়, তার সময় এসে জ্ঞান মরে গেছে অথচ তিনি তার পূর্বের ৪০০ বছরের জ্ঞান কে সামারাইজ করেছেন এবং তারপর ৬০০ বছর এর জ্ঞানকে  ডাইমেনশন দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তৃতীয় ব্যক্তি হলো ইমাম শাতেবী। তিনি যখন দেখলেন আমাদের হানাফী উসুল বা আমাদের ক্লাসিক উসুল দিয়ে ইসলামকে যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য একটি বিশ্বজনীন দ্বীন হিসেবে পরিচালনা করতে পারব না, তখন তিনি মুয়াফাকাত লিখে মাকাসিদের আলোকে এই দ্বীনকে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এরপর ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি এর চিন্তা দেখলে, সেই সময় ইউরোপে এনলাইটেনমেন্ট হচ্ছে, তারা আমাদের বাংলা অঞ্চলে চলে আসছে। বিভিন্ন অঞ্চলকে তারা সাম্রাজ্যবাদের অধীনে নিয়েছে৷ তখন তিনি নতুন করে উসুল প্রণয়ন করেন, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা। তারপর আসেন আল্লামা ইকবাল। তিনি ঐসময়ের দুনিয়াকে নতুনভাবে রিড করেন। রিড করে ইসলামের গতিশীলতা কীভাবে আসতে পারে, আগামী দিনের সভ্যতা হিসেবে ইসলামী সভ্যতা কীভাবে গতিশীল হবে, পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, মুসলমানগণ কীভাবে জ্ঞান এবং সভ্যতায় নতুন ভাবে নিজেদের জায়গা গ্রহণ করতে পারে এজন্য তিনি কবিতার মাধ্যমে,  লেখনির মাধ্যমে, রাজনীতির মাধ্যমে আমাদের সামনে বিশাল এক মেনিফেস্টো তুলে ধরেন। এজন্য আমরা সাম্রাজ্যবাদ এবং শাসকদের চিন্তাধারা থেকে যদি মুক্তি পেতে চাই তাহলে আমাদেরকে খুব ভালোভাবে এই ধারাকে অনুসরণ করতে হবে খুব ভালোভাবে রিড করতে হবে এমনকি আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া যে জ্ঞান তাকে নবায়ন করে আমাদের যুগের আলোকে নতুনভাবে তুলে ধরতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই ভাষার উপর জোর দিতে হবে। এজন্য আমাদের মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি আরবি ভাষাকে মাতৃভাষার মত  রপ্ত করতে হবে। অন্যথায় আমাদের পক্ষে সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের কাছ থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। আমাদের তথাকথিত যারা এলিট তারা কথা বলার সময় অর্ধেক বাংলা, অর্ধেক ইংরেজি বলে, এমনকি  আরবির শিক্ষক  বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে লেকচার দেয়। দৈন্যতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে মানুষের এসকল আচরণ করতে পারে! এখন আমাদের প্রয়োজন আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করা কারণ আমাদের ভাষা ইংরেজি ভাষার চেয়ে কোন অংশে কম না। শেক্সপিয়ারের চাইতে আলাউল ছোট কবি না। আমাদেরকে এগুলো নতুন ভাবে জাগ্রত করতে হবে এবং নতুনভাবে সামনে তুলে ধরতে হবে।</p>
<p><em><strong>তারপর তারা যে কাজটা করে যে আমাদের অতীত বলতে কিছু নাই। এটা হচ্ছে আমাদের উপর উনবিংশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের চিন্তার প্রভাব এর সবচেয়ে বড় প্রভাব হচ্ছে আমাদের অতীত বলতে কিছু নেই এটা তারা কেন বলতো এটা করার মূল কারণ হচ্ছে তারা যে অঞ্চলে গিয়েছে সে অঞ্চলের মানুষদেরকে তারা অসভ্য বর্বর এমনকি সভ্যতাহীন একটি জাতি হিসেবে দেখতো তাদের কাছে মানুষ হচ্ছে দুই পা ওয়ালা প্রাণী যেমন ছাগলের পা গরুর চারপা এরকম মানুষও দুই পা ওয়ালা প্রাণী ছাড়া আর কিছু না।</strong> </em>যখন ইচ্ছা হাত কেটে ফেলতো, যখন ইচ্ছা ফাঁসিতে ঝুলাতো, যখন ইচ্ছা পিটাতো যখন ইচ্ছা আগুনে ফেলত, যখন ইচ্ছে কৃত্রিমভাবে খরা সৃষ্টি করে হত্যা করত এটা হচ্ছে তাদের অসভ্য বা বর্বর জাতির সাথে আচরণ। কারণ তারা মনে করত তারাই একমাত্র মানুষ অন্যরা মানুষ নয়। তাদের মতে তাদের যে বিবর্তনবাদের ধাপ তা ইউরোপিয়ানরা ছাড়া অন্য কেউ অতিক্রম  করতে পারেনি। এজন্য তারা যে অঞ্চলে গেছে সে অঞ্চলের  মানুষদেরকে হত্যা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করত না।</p>
<p>এর প্রমাণ আমরা দেখতে পাই পাশ্চাত্যের সবচেয়ে বড় দার্শনিক হেগেল তার দ্য হিস্ট্রি অফ ফিলোসফি বইয়ে। সেখানে একটা ক্যাটাগরি আছে- তা হলো ইতিহাসবিহীন জাতি। ইতিহাসবিহীন জাতি কারা? তাদের কথা হচ্ছে যারা বর্তমানে ক্ষমতাবান নয় তাদের ইতিহাসে কোন জায়গা নেই। এ কারণে মানব সভ্যতার ইতিহাসে বাঙালি জাতির গৌরব, ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের অবদান আমরা খুঁজে পাই না। এগুলো কোথাও পড়ানো হয় না কারণ আমাদের বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নাই। এটা শুধুমাত্র হেগেল না, এটা পাশ্চাত্য দার্শনিকদের ফিলোসফি বা হিস্ট্রির মূল কথা। তারা আমাদেরকে ইতিহাসবিহীন জাতি হিসেবে গ্রহণ করে। এটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ইতিহাস পড়ি তখন আমাদের নিজেদের ইতিহাসের প্রতি আমাদের ঘৃণা সৃষ্টি হয়। আমাদের সমাজবিজ্ঞান বলতে কিছু নাই অর্থনীতি বলতে কিছু নাই কেন এই প্রবণতার কারণে  আমাদের অস্তিত্বই নাই। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য মনে করা হয়। কিন্তু এটা ইসলামিক স্টাডিজ এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ হাদিসের ইতিহাস আমরা কতটুকু জানি? ইতিহাস আমরা জানি ইমাম গাজ্জালী পর্যন্ত অর্থাৎ পঞ্চম হিজরী শতাব্দী  পর্যন্ত। তাদের কথা হলো জ্ঞান গাজ্জালীর মাধ্যমে মরে গেছে। অথচ ইসলামের ইতিহাসে ইমাম গাজ্জলীর পর ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বড় দার্শনিক জন্ম নিয়েছে। যেমন ফখরুদ্দিন রাজি তিনি এত বড় চিন্তাবিদ, মুয়াফাকাতের লেখক ইমাম শাতিবীসহ আরও অনেক চিন্তাবিদ।</p>
<p>তাদের সত্যায়িত করার জন্য এটা আমার গোগ্রাসে গিলে নিয়েছি। বাংলাদেশের কোন মাদ্রাসায় দেখবেন না যে উসুলের ইতিহাস আছে, হাদিসের ইতিহাস আছে, দর্শনের ইতিহাস আছে, আখলাকের ইতিহাস আছে- এটা পঞ্চম হিজরী শতাব্দী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আমাদেরকে শুধু সোশাল সায়েন্স বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবজেক্ট গুলোকে মুক্ত করলে হবে না আমাদেরকে মুক্ত করতে হবে তাফসীর এবং হাদিসকে। কারণ আমরা তাফসীরের ইতিহাস জানি না, হাদিসের ইতিহাস জানি না। আর জানলেও তা আংশিক।</p>
<p>আমরা তাদের এই বয়ানকে গ্রহণ করে তাদের কথাকে স্বীকৃতি দিয়েছি যে ঠিকই আছে আমরা ইতিহাসবিহীন জাতি, গাজ্জালীর পরে আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের চিন্তা ও দর্শন নামে কোন দিন কোন লেকচার শোনা হয় না। আমরা যে ইতিহাসের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ জাতি মর্যাদা পূর্ণ জাতি এটা আমাদেরকে নতুন করে আবিষ্কার করে আবার আমাদের আত্মবিশ্বাসকে জাগ্রত করতে হবে। আমরা ইতিহাসবিহীন জাতি নই, ইতিহাসবিহীন জাতি ইউরোপ নিজে কারণ তার কোন ইতিহাস নেই,  তার ইতিহাস সম্পূর্ণ ফিকশন।</p>
<p>আমাদের ইতিহাসবিহীনতার আরেকটি বড় প্রমাণ হচ্ছে আমাদের শহরগুলো। এগুলো কে কি শহর বলা হয়? এগুলোকে বস্তি বলতেও লজ্জা লাগে। ঢাকা কি আজকে আমাদের হাতের কামাই নয়? আমাদের শহরগুলো, বাসা বাড়ি গুলো একজনের বেডরুম থেকে আরেকজনের বেডরুম দেখা যায়, এটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে? একটা মুসলিম দেশে অথচ তথাকথিত ইসলামের নাম দিয়ে দিয়ে তারা এগুলোকে ইসলামী বানিয়েছে। কোন কিছু নাম দিয়ে ইসলামী হয় না, এর মধ্যে ইসলামের রুহ থাকতে হয়।</p>
<p><strong>যে ইয়াসরিবকে আল্লাহর রাসূল মদিনায় রূপান্তর করেছিলেন সেটা ইসলামী মূল্যবোধের মাধ্যমে, যদি সেই সকল মূল্যবোধ একটি শহরের মধ্যে না পাওয়া যায় তাহলে ওটা কোনক্রমে ইসলামী শহর না।</strong></p>
<p><strong>জিওগ্রাফির ক্ষেত্রে যদি আমরা দেখি গ্রিনিচ হচ্ছে পৃথিবীর কেন্দ্র। এটা কিভাবে পৃথিবীর কেন্দ্র হতে পারে? সেটাতো পৃথিবীর এক প্রান্তে। যদি পৃথিবীর কেন্দ্র হয় সেটা মক্কা হবে।</strong></p>
<p><strong>গ্রিনিচকে পৃথিবীর কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার কারণে  আমরা আমেরিকার কাছে সাউথ ইস্ট এশিয়া। মধ্যপ্রাচ্য তার কাছে মিডিল ইস্ট। সৌদি আরবের কাছে কিভাবে তা মধ্যপ্রাচ্য হয়? যদি আমরা এভাবে চিন্তা করি তাহলে আমাদের ধারনার পরিবর্তন  হবে এবং আমরা নতুন করে কিছু একটা কিছু করতে পারবো। এই সাম্রাজ্যবাদ এবং শোষণ এখনো অতিবাহিত হয়নি। আমরা এখনো সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের যাতাকলে। </strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/expolitation-and-imperialism/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13349</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কোরআনের ১৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাফাক্কুর</title>
		<link>https://rowyakbd.com/tafaqqur-on-the-occasion-of-1400-years-of-quran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/tafaqqur-on-the-occasion-of-1400-years-of-quran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 29 Dec 2023 14:18:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[কোরআনের ১৪০০ বছর]]></category>
		<category><![CDATA[কোরআনের ১৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাফাক্কুর]]></category>
		<category><![CDATA[তাফাক্কুর]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13036</guid>

					<description><![CDATA[এ বছর মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন নাজিলের ১৪০০ বছর পূর্ণ হলো। কোরআনের এই ১৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সমগ্র দুনিয়াতেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। আমি নিজেও কোরআনকে পুনরায় অধ্যয়ন করে অনেক নতুন কিছু উপলব্ধি করেছি। এইবার কোরআন অধ্যয়ন করতে গিয়ে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এ বছর মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরআন নাজিলের ১৪০০ বছর পূর্ণ হলো। কোরআনের এই ১৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সমগ্র দুনিয়াতেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে। আমি নিজেও কোরআনকে পুনরায় অধ্যয়ন করে অনেক নতুন কিছু উপলব্ধি করেছি। এইবার কোরআন অধ্যয়ন করতে গিয়ে আমি নতুন করে কী শিখলাম, এবং বিশেষ করে এইবার কোন কোন বিষয়গুলো আমার নজর কেড়েছে, সেই বিষয়সমূহ পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।</p>
<p>ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ একটি দৃষ্টিভঙ্গি হলো &#8211; <strong>“ইসলাম শুধু একটি বিশ্বাসের নাম নয়, ইসলাম এর চেয়েও আরও অনেক বিস্তৃত বিষয়। ইসলাম কেবলমাত্র মানুষের ব্যক্তিগত জীবনধারাই নয়, একইসাথে সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকেও পরিগ্রহকারী একটি দ্বীন”</strong>। মৌলিকভাবে সঠিক এই চিন্তাটি কাদের দ্বারা সৃষ্টি হলো, কেমন একটি জ্ঞান এবং যা সত্যের অধিকারী, এবং সর্বজনবিদিত এ দাবিকে কেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এসকল বিষয় সম্পর্কে অনেক বই পুস্তক লেখা হয়েছে। এখানে আমাদের জন্য যেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হল, ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম বিশ্বাসের নাম নয়, ইসলাম মানুষের জীবনকে সামগ্রিকভাবে পরিগ্রহকারী একটি ব্যবস্থা।</p>
<p>সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী পুনর্জাগরণ নিয়ে অনেক বেশী আলোচনা হওয়ায় এই বিষয়টি সকলের মধ্যে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে এবং একটি সংগ্রামী ধারায় রূপান্তরিত হয়েছে। শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগত বিষয় সমূহ নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলির সমাধানও ইসলামেই রয়েছে (ভিনদেশি আইডিওলজি সমূহে নয়)।</p>
<p>ইসলাম মানুষের জীবনের সকল কিছুকেই সামগ্রিকভাবে পরিগ্রহ করে, এই আশ্চর্যজনক দাবিকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করে আমার নিজেকে এই প্রশ্ন করলাম, <strong>ইসলাম; বিশেষ করে তার প্রথম ও মৌলিক উৎস হিসেবে কোরআন কোন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বজনীন?</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যখন যুবক ছিলাম তখন এই প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করার সময় কোরআনকে অধ্যয়ন করে শুধুমাত্র দ্বীনী বিষয়সমূহ নয়, তার সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক &#8211; এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা করতাম। কোরআনের মধ্যে আমি বৈজ্ঞানিক সত্য সমূহ, রাজনৈতিক, সামাজিক, এমনকি অর্থনৈতিক সিস্টেম সম্পর্কে নির্দেশনা খুঁজে পাব, এ ব্যাপারে আমার বিশ্বাস ছিলো অতান্ত শক্তিশালী। আমার এ শক্তিশালী বিশ্বাস &#8211; কোরআনের মধ্যে সরাসরি পাওয়া যাবে না, এমন বিষয়সমূহও কোরআনের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার নেশায় আকুল করে তুলতো। পরবর্তীতে যখন আস্তে-আস্তে চিন্তাগত দিক থেকে পরিপক্ব হওয়া শুরু করলাম, তখন আমার নিজস্ব জীবনবোধ আমার কিছু কিছু বিষয়কে সংশোধন করে দিতো এবং আমি উপলব্ধি করতে শুরু করি যে, মানুষের জীবন ও তাকদীরগত দিক থেকে দ্বীনি ও আখলাকী বিষয়সমূহই মূলত একমাত্র সত্য। কেননা আমি সেভাবেই চিন্তা করতাম যে, নিকট ভবিষ্যতে আমরা সবাই প্রতিষ্ঠিত হবো এবং হয়তোবা অনেক কম কাজ করে অনেক কিছুর মালিক হওয়ার পরেও সুখ এবং আত্মতৃপ্তি পাবো না &#8211; এটা দেখতে পেতাম। শুধুমাত্র নিজের জন্য বেঁচে থেকে এবং নিজের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরস্পর একত্রে বসবাস করার দ্বীনি চিন্তাকে পরিত্যাগ করার কারণে ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক, জযবার স্থানটি দখল করে নিবে আবেগহীনতা এবং জীবনসঙ্কট। আর ইবাদতের সাথে গভীর চিন্তার পরিবর্তে দখল করে নিবে অর্থহীন এক মৃত্যু এবং তৈরি হবে এমন এক দুনিয়া: যেথায় পরবর্তীতে বসবাসকারীরা আমাদের উপর দিবে অভিশাপ।</p>
<p>মানুষের শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বৈষয়িক উন্নতি যে এককভাবে সুখ-শান্তি বয়ে আনতে পারে না, এটা প্রাচীনকাল থেকেই বড় বড় দ্বীনের প্রতিষ্ঠাতাগণ এবং আখলাকবিদগণ বলে আসছেন। তবে শুধুমাত্র বৈষয়িক উন্নতি ও অগ্রগতিই যে মানুষের জীবনে শান্তি বইয়ে আনতে পারে না, এটা আজ সবচেয়ে বেশী সুস্পষ্টভাবে মানুষের সামনে এসে ধরা দিয়েছে। আজকের এই যুগে ইউরোপ ও আমেরিকা এর বাস্তব সাক্ষী। একজন মানুষের সাথে অপর একজন মানুষের মধ্যকার পার্থক্য তাদের পরিচয়কে কীভাবে তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে নয়, বরং সত্যিকার অর্থেই তারা কী &#8211; এই ব্যাপারটার মাঝে নিহিত রয়েছে। একইভাবে দুইটি সমাজের মধ্যকার সত্যিকার পার্থক্য, তাদেরকে কীভাবে পরিচালিত করা হয়েছে তার মধ্যে নয়; বরং সেই সমাজের মানুষকে গঠনকারী মূল্যবোধসমূহের মাঝে নিহিত থাকে। মানুষকে সত্যিকার অর্থেই মানুষ করে তুলে তাদের মধ্যকার আখলাক, মানবতাবোধ, ব্যক্তিত্ব ও তাদের বিবেকবোধ। যে সমাজের মানুষ তাদের আখলাক ও মূল্যবোধকে হারিয়ে ফেলেছে, তাদের দ্বারা আদর্শ সমাজ গঠন করা অসম্ভব। এই ধরনের সমাজের মানুষ সামান্য স্বার্থ পেলেই তাদের আখলাকহীনতাকে প্রকাশ করে দেয়।</p>
<p>যদি একটি সমাজকে আখলাকী মূল্যবোধের উপর গড়ে তুলতে হয়, তাহলে সেই সমাজের শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর কোনো বিকল্প নেই। কারণ সমাজ শৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে মানুষের শিক্ষা-দীক্ষার উপর নির্ভর করে থাকে। কোরআনের ১৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই চিন্তা ভাবনাকে সামনে রেখে আমি কোরআন অধ্যয়ন করেছিলাম।</p>
<p>যৌবনকালে আমি সবসময় চিন্তা করতাম যে, সকল ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সমস্যাবলি মানুষকে ‘শিক্ষা দেওয়া’র মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আমার রুহের মধ্যকার এই গোপন রহস্যটি একটি সমাধানে উপনীত হয়েছে। কোরআন কীভাবে মানুষের জীবনের সকল সমস্যার জবাব দিতে সক্ষম হয়েছিল? কোরআনকে ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে গিয়ে উপলব্ধি করলাম যে, মানুষের জীবনের সকল সমস্যার সমাধান কোরআনে রয়েছে, তবে আমরা যেভাবে ধারণা করি সেভাবে নয়। মূলত কোরআন মানুষের এই দুনিয়ার জীবনকে ব্যাখ্যা করেছে এবং তাদের অবস্থাকে তুলে ধরে, মৌলিক হাকীকতসমূহকে তুলে ধরে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে আমাদেরকে মূলনীতি দিয়েছে। এই হাকীকতসমূহও দ্বীন ও আখলাকের বিষয়। আর মানুষের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এগুলোই হলো প্রতিটি মানুষের মৌলিক বিষয়। মানবজীবনকে পরিগ্রহকারী অন্যান্য বিষয়াবলির তুলনায় এই বিষয় দুটি আরও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই, এই বিষয় দুইটি (দ্বীন ও আখলাক) ব্যতীত মানব জীবনের অগ্রগতি ও উন্নতি অসম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এখন, আমরা দেখতে পাই যে, কোরআনের মৌলিক হাকীকত সমূহ হচ্ছে- </strong></p>
<p>সকল কিছুর স্রষ্টা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই দুনিয়ার শক্তির সাথে, আইন ও কানুনের সাথে মানুষের সম্পর্ক যাই হোক না কেন, সকল মানুষ তার কাজের হিসাব প্রদান করবে। সকল মানুষের জন্য দুইটি পথ সব সময় উন্মুক্ত রয়েছে &#8211; সে চাইলে খারাপ পথ কিংবা ভালো পথ বেছে নিতে পারে। মহান আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সকল মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।</p>
<p>এ সকল মৌলিক বিষয়ে এবং দ্বীন ও আখলাকের গুরুত্বের ব্যাপারে কারোর কোনো দ্বিমত করার ক্ষমতা নেই। একইসাথে একমাত্র ওহীভিত্তিক দুনিয়া-দর্শন ছাড়া অন্য কোন জীবন দর্শন নেই, এটিও যুক্তিসংগত ও বাস্তবভিত্তিক।</p>
<p>হুমকি এবং কষ্টের বিনিময়ে আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা, নাকি মান সম্মান ও ইজ্জতকে বিকিয়ে দিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট ও আয়েশি জীবন যাপন করা &#8211; এই দুইয়ের মধ্যে কোনটি বেছে নিব? এই প্রশ্নটি সকল মানুষের সামনে প্রতিনিয়ত পুনরাবৃত্ত হতে থাকে। দুনিয়ার কোনো গবেষণাই এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি। বিশ্বাস করবে কি করবে না, এই প্রশ্ন কিংবা এই ধরনের অন্যান্য প্রশ্নের মুখোমুখি হলে প্রতিটি মানুষই নিঃসঙ্গতায় পড়ে যায়। কেবলমাত্র এবং শুধুমাত্র ওহীই এই নিঃসঙ্গতাকে দূরীভূত করে দিতে পারে। এই সকল প্রশ্নের জবাব কেবলমাত্র ওহীর মধ্যেই রয়েছে। এ কারণে ওহী শুধুমাত্র মূল্যবান একটি বিষয়ই নয়, ওহী একইসাথে এমন এক জ্ঞান যার শুন্যতাকে পূর্ণ করা অসম্ভব।</p>
<p>মানুষের এ সকল বড় বড় প্রশ্নের জবাবে কোরআন কী বলে? কোরআন কোন ধরনের জবাব দেয়? পূর্বে উল্লিখিত এ সকল বড় বড় বিষয়ে কোরআনের অবস্থান কী? এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্যই হলো কোরআনকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> কোরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রথম উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি ঈমানকে মানুষের মনে বদ্ধমূল করে দেওয়া এবং একক, মহান ও ন্যায়পরায়ণ এক স্রষ্টার ব্যাপারে মানুষের চেতনাকে জাগ্রত করে বিকাশ করা। এই অর্থে কোরআন সবচেয়ে সুস্পষ্ট এবং সবচেয়ে মহান একত্ববাদের উপমা।</strong></p>
<p>১. “পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহর। যেদিকে তোমরা মুখ ফিরাবে, সেদিকেই আল্লাহর সত্তা বিরাজমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশালতার অধিকারী এবং সর্ব বিষয়ে অবহিত।” (সূরা আল-বাকারা: ১১৫)</p>
<p>২. “বলো, হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর কথা মানতে অস্বীকার করছো? তোমরা যেসব কাজকর্ম করছো, তা সবই আল্লাহ প্রত্যক্ষ করছেন”। (সূরা আলে-ইমরান: ৯৮)</p>
<p>৩. “আল্লাহ তোমার প্রতি কিতাব ও হিকমত নাজিল করেছেন এবং তোমাকে এমন বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন, যা তোমার জানা ছিলো না। বস্তুত তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অসীম।” (সূরা আন-নিসা: ১১৩)</p>
<p>৪. “অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনো এবং বলো না, তিন জন আছে। বিরত হও; এ তোমাদেরই পক্ষে কল্যাণকর। আল্লাহই অভিভাবক হিসেবে যথেষ্ট।” (সূরা আন-নিসা: ১৭১)</p>
<p>৫. “আল্লাহ কি তাঁর শোকর আদায়কারী বান্দাদেরকে এদের নিজেদের অপেক্ষাও বেশি জানেন না? আমার আয়াতের প্রতি যারা ঈমান আনে তারা যখন তোমার কাছে আসে তখন তাদেরকে বলো, “তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।” তোমাদের রব দয়া ও অনুগ্রহের নীতি নিজের জন্য অপরিহার্য করে নিয়েছেন। তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনো খারাপ কাজ করে বসে, তারপর তাওবা করে এবং সংশোধন করে নেয়, তাহলে তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং নরম নীতি অবলম্বন করেন, এটি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহেরই প্রকাশ।&#8221; (সূরা আল-আনয়াম: ৫৩-৫৪)</p>
<p>৬. “ইবরাহীমের ঘটনা স্মরণ করো, যখন সে আপন পিতা আজরকে বলেছিল, ‘তুমি কি মূর্তিকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছ? আমি তো তোমাকে ও তোমার দলের লোকজনকে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত দেখতে পাচ্ছি’। ইবরাহীমকে এভাবেই আমি জমিন ও আসমানের রাজ্য পরিচালন-ব্যবস্থা দেখাচ্ছিলাম। আর এজন্য যে, সে যেন নিঃসন্দেহে বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অতঃপর যখন তার উপর রাত আচ্ছন্ন হয়ে এলো তখন সে একটি তারকা দেখতে পেলো। বললো, এ আমার রব। কিন্তু পরে তা যখন অস্তমিত হয়ে গেলো, তখন বললো, অস্ত হয়ে যাওয়া জিনিসের প্রতি আমি কিছুমাত্র অনুরাগী নই। পরে যখন উজ্জ্বল চন্দ্র দেখতে পেল তখন বললো, এ আমার রব। কিন্তু তাও যখন অস্তগমন করল, তখন বললো, আমার রব যদি আমাকে পথ না দেখান তাবে আমিও গোমরাহ লোকদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়ব। এরপর যখন সূর্যকে উজ্জ্বল-উদ্ভাসিত দেখতে পেলো, তখন বলল, এ-ই হচ্ছে আমার রব। এটি সর্বাপেক্ষা বড়। কিন্তু পরে এটাও যখন ডুবে গেলো, তখন ইবরাহীম চিৎকার করে বলে উঠল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক বানাচ্ছ, আমি সেই সব থেকে মুক্ত। আমি তো একনিষ্ঠভাবে নিজের লক্ষ্য সেই মহান সত্তার দিকে কেন্দ্রীভূত করেছি, যিনি যমীন ও আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা আল-আনয়াম: ৭৪-৭৯)</p>
<p>৭. “আল্লাহই শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনিই জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন এবং তিনিই বের করেন মৃতকে জীবিত থেকে। এ সমস্ত কাজ তো আল্লাহই করেন, তাহলে তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে কোন দিকে ছুটে চলছো? তিনিই রাতের আবরণ বিদীর্ণ করে রঙিন প্রভাতের উন্মেষ করেন। তিনিই রাতকে করেছেন প্রশান্তিকাল। তিনিই চন্দ্র ও সূর্যের উদয়াস্তের হিসেব নির্দিষ্ট করেছেন। বস্তুত এসবই সেই মহাপরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানীর নির্ধারিত পরিমাপ। আর তিনিই তোমাদের জন্য তারকাসমূহকে মরু-সমুদ্রের গভীর অন্ধকারে পথ জানার উপায় বানিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ করো, আমি নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। আর তিনিই এক প্রাণসত্তা থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর প্রত্যেকের জন্য রয়েছে একটি অবস্থান স্থল এবং তাকে সোপর্দ করার একটি জায়গা। এ নিদর্শনগুলো সুস্পষ্ট করে দিয়েছি তাদের জন্য যার জ্ঞান বুদ্ধির অধিকারী। আর তিনিই আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। তারপর তার সাহায্য সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপাদন করেছেন এবং তার দ্বারা শস্য-শ্যামল ক্ষেত-খামার ও গাছ-পালার সৃষ্টি করেছেন। তারপর তা থেকে বিভিন্ন কোষসম্পন্ন শস্যদানা উৎপাদন করেছেন, খেজুরের মোচা থেকে ফলের থোকা থোকা বানিয়েছেন, যা বোঝার ভারে নুয়ে পড়ে। আর সজ্জিত করেছেন আঙুর, যয়তুন ও ডালিমের বাগান, সাজিয়ে দিয়েছেন সেখানে ফলসমূহ পরস্পর সদৃশ, অথচ প্রত্যেকটি পৃথক বৈশিষ্ট্যেরও অধিকারী। এ গাছগুলো যখন ফলধারণ করে তখন তাদের ফল বের হওয়া ও তা পেকে যাওয়ার অবস্থাটি একটু সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ করো। এসব জিনিসেই সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিহিত রয়েছে তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-আনয়াম: ৯৫-৯৯)</p>
<p>৮. “বলো, আমার নামাজ, আমার সর্বপ্রকার ইবাদত অনুষ্ঠানসমূহ, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু সবকিছুই সারে জাহানের রব আল্লাহরই জন্য।” (সূরা আল-আনয়াম: ১৬২)</p>
<p>৯. “মূলত একথা তারা শুধু এ জন্যই বলবে যে, যে সত্যকে তারা পূর্বে আবৃত ও গোপন করে রেখেছিল, এক্ষণে তা উন্মুক্ত হয়ে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে; নতুবা, তাদেরকে পূর্ববর্তী জীবনের দিকে যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তা হলেও তারা সেইসব কাজই করবে যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো বড়ই মিথ্যাবাদী। (তাই নিজেদের মনোবাঞ্ছা প্রকাশ করার ক্ষেত্রেও তারা মিথ্যারই আশ্রয় নেবে)। আজ তারা বলে, জীবন বলতে যা কিছু আছে, তা শুধু এ দুনিয়ার জীবনটুকুই এবং মৃত্যুর পর আমরা কখনই পুনরুত্থান লাভ করব না।” (সূরা আল-আনয়াম: ২৮- ২৯)</p>
<p>১০. “বলুন, ‘আমার রব নির্দেশ দিয়েছেন ন্যায়বিচারের।’ আর তোমরা প্রত্যেক সাজদাহ বা ইবাদতে তোমাদের লক্ষ্য একমাত্র আল্লাহকেই নির্ধারণ কর এবং তাঁরই আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁকে ডাক। তিনি যেভাবে তোমাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে। একটি দলকে তিনি সোজা পথ দেখিয়ে দিয়েছেন কিন্তু অন্য দলটির ওপর গোমরাহী সত্য হয়ে চেপেই বসেছে। কারণ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানদেরকে নিজেদের অভিভাবকে পরিণত করেছে এবং তারা মনে করছে, আমরা সঠিক পথেই আছি।” (সূরা আল-আ’রাফ: ২৯-৩০)</p>
<p>১১. “আমার সাহায্যকারী ও রক্ষাকর্তা হচ্ছেন সেই আল্লাহ, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তিনি তার সালিহ বান্দাদেরকে সাহায্য করে থাকেন। পক্ষান্তরে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা না তোমাদের কোনো সাহায্য করতে পারে আর না তারা নিজেদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে।&#8221; (সূরা আ’রাফ: ১৯৬-১৯৭)</p>
<p>১২. “আল্লাহ তোমাদের মায়ের পেট থেকে তোমাদের বের করেছেন এমন অবস্থায় যখন তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের কান দিয়েছেন, চোখ দিয়েছেন, চিন্তা-ভাবনা করার মতো হৃদয় দিয়েছেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এই লোকেরা কি কখনও পাখিদের দেখেনি যে, আকাশের শূন্যলোকে তা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে? আল্লাহ ছাড়া কে তাদেরকে ধরে রেখেছে? নিশ্চয়ই এতে বহু নিদর্শন রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা ঈমান আনে।” (সূরা নাহল: ৭৮-৭৯)</p>
<p>১৩. “আল্লাহ তায়া’লা ন্যায়বিচার (ইনসাফ), অনুগ্রহ ও সিলায়ে রেহমীর নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অন্যায়, পাপাচার, নির্লজ্জতা ও জুলুম পীড়ন করতে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে নসিহত করেছেন, যেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো। তোমরা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে ওয়াদা করার পর তা পূরণ করো এবং নিজেদের কসম পাকা-পোক্তভাবে করার পর তা ভঙ্গ করো না, যখন তোমরা আল্লাহকে নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। আল্লাহ তোমাদের সব কাজকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিফহাল রয়েছেন।&#8221; (সূরা নাহল: ৯০-৯১)</p>
<p>১৪. &#8220;আল্লাহর ওয়াদা-প্রতিশ্রুতিকে সামান্য ও নগণ্য ফায়দার বিনিময়ে বিক্রি করে দিও না। যা কিছু আল্লাহর কাছে রয়েছে, তা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম-যদি তোমরা জানতে ও বুঝতে পারো। তোমাদের কাছে যা কিছু আছে তা নিঃশেষ হয়ে যাবে আর যা আল্লাহর কাছে রয়েছে, তাই চিরদিন অবশিষ্ট থাকবে। আমরা অবশ্যই ধৈর্য ধারণকারীদেরকে তাদের উত্তম কাজ অনুপাতে প্রতিফল দান করব।&#8221; (সূরা নাহল: ৯৫-৯৬)</p>
<p>১৫. &#8220;আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে এ রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ। সূর্য ও চাঁদকে সেজদা করো না; সেজদা করো সেই আল্লাহকে যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, যদি বাস্তবিকই তোমরা তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাকো।&#8221; (সূরা হা-মীম আস সাজদাহ: ৩৭)</p>
<p>১৬. &#8220;আর আল্লাহর নিদর্শনের মধ্যে একটি এই যে, তোমরা দেখতে পাচ্ছ, জমিন শুকনো জীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। অতঃপর যখনই আমরা তার ওপর পানি বর্ষণ করি, সহসা তা উথলে ওঠে-অঙ্কুরোদগমে স্ফীত হয়। যে আল্লাহ এ মৃত জমিনকে জীবন্ত করে দেন, তিনি মৃত লোকদেরকেও নিশ্চিতভাবে জীবন দান করবেন। নিঃসন্দেহে তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর ক্ষমতাবান।&#8221; (সূরা হা-মীম আস সাজদাহ: ৩৯)</p>
<p>১৭. &#8220;এরপর সে সেগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল আর ডান হাতে খুব করে আঘাত হানলো। সেই লোকেরা (ফিরে এসে) দ্রুতবেগে তার কাছে উপস্থিত হলো। সে বললঃ “তোমরা কি নিজেদেরই নির্মিত জিনিসের পূজা-উপাসনা করো? অথচ আল্লাহই তোমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন আর তোমরা যে জিনিসগুলো বানিয়ে রাখো সেগুলোকেও।” (সূরা সাফফাত: ৯৩-৯৬)</p>
<p>১৮. &#8220;অতীব মহান ও শ্রেষ্ঠ সেই সত্তা, যার মুষ্ঠির মধ্যে রয়েছে সমগ্র সৃষ্টিলোকের কর্তৃত্ব-সার্বভৌমত্ব। প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর-ই তাঁর কর্তৃত্ব সংস্থাপিত। তিনিই মৃত্যু ও জীবন উদ্ভাবন করেছেন, যেন তোমাদেরকে পরখ করে দেখতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক দিয়ে সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি যেমন সর্বজয়ী শক্তিমান, তেমনি ক্ষমাশীলও।&#8221; (সূরা মূলক: ১-২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> একক, কাদিরে মুতলাক এবং সর্বোত্তম এক স্রষ্টার ধারণা সম্পর্কে এমন সুস্পষ্ট পরিভাষা সমূহের উপর নির্ভরশীল দ্বীন এবং ঈমানও সাধারণ মানুষের আকল এবং কালবের জন্য উন্মুক্ত। এবং স্রষ্টা সম্পর্কে এত সহজ ধারণা সকলের দ্বারাই অনুধাবনযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য। আর মানুষের এই ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর ইচ্ছাকে গ্রহণ করা এবং উত্তম কাজ করা।</strong></p>
<p>১. &#8220;নিশ্চয় জানো শেষ নবীর প্রতি বিশ্বাসী হোক, কি ইহুদি, খ্রিষ্টান কিংবা সাবীই-যে ব্যক্তিই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনবে ও নেক কাজ করবে, তার পুরস্কার তার রব-এর কাছে রয়েছে এবং তার জন্য কোনো প্রকার ভয় ও চিন্তার কারণ নেই।&#8221; (সূরা বাকারা: ৬২)</p>
<p>২. &#8220;স্মরণ করো, ইসরাইল-সন্তানদের কাছ থেকে আমরা এ পাকাপোক্ত প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলাম যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না। পিতামাতার সাথে, আত্মীয়-স্বজনের সাথে, ইয়াতীম ও মিসকীনদের সাথে ভালো ব্যবহার করবে। লোকদের সাথে ভালো কথাবার্তা বলবে, নামাজ কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। কিন্তু মুষ্টিমেয় লোক ছাড়া তোমরা সকলেই এ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছ এবং এখন পর্যন্ত সেই অবস্থায়ই রয়েছে।&#8221; (সূরা বাকারা: ৮৩)</p>
<p>৩. &#8220;প্রত্যেকের জন্য একটি দিক রয়েছে, যেদিকে সে মুখ করে দাঁড়ায়। কাজেই তোমরা প্রতিযোগিতার সাথে কল্যাণের দিকে অগ্রসর হও। তোমরা যেখানেই থাকবে, আল্লাহ তোমাদেরকে নিশ্চয়ই পাবেন। কোনো জিনিসই তার শক্তিবহির্ভূত নয়।&#8221; (সূরা বাকারা: ১৪৮)</p>
<p>৪. &#8220;হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য ও নামাজের সাহায্যে প্রার্থনা করো, আল্লাহ ধৈর্যশীল লোকদের সঙ্গে রয়েছেন।&#8221; (সূরা বাকারা: ১৫৩)</p>
<p>৫. &#8220;তোমাদের মুখ পূর্ব দিকে বা পশ্চিম দিকে ফিরাবার মধ্যে কোন পুণ্য নেই। বরং কাজ হচ্ছে এই যে, মানুষ আল্লাহ‌, কিয়ামতের দিন, ফেরেশতা আল্লাহ‌র অবতীর্ণ কিতাব ও নবীদেরকে মনে প্রাণে মেনে নেবে এবং আল্লাহ‌র প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রাণপ্রিয় ধন-সম্পদ, আত্মীয়-স্বজন, এতীম, মিসকীন, মুসাফির, সাহায্য প্রার্থী ও ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য ব্যয় করবে। আর নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দান করবে। যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করবে এবং বিপদে-অনটনে ও হক–বাতিলের সংগ্রামে সবর করবে তারাই সৎ ও সত্যাশ্রয়ী এবং তারাই মুত্তাকী।&#8221; (সূরা বাকারা: ১৭৭)</p>
<p>৬. &#8220;হে ঈমানদারগণ! যা কিছু অর্থ-সম্পদ আমরা তোমাদেরকে দান করেছি, তা থেকে ব্যয় করো, সেই দিনটি উপস্থিত হওয়ার পূর্বে যে দিন না ক্রয়-বিক্রয় হবে, না বন্ধুত্ব কোনো কাজে আসবে আর না চলবে কোনো সুপারিশ। প্রকৃত জালিম তারাই, যারা কুফরির নীতি অবলম্বন করে।&#8221; (সূরা বাকারা: ২৫৪)</p>
<p>৭. &#8220;হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের দান-খয়রাতের কথা বলে (অনুগ্রহের দোহাই দিয়ে) এবং কষ্ট দিয়ে তাকে সেই ব্যক্তির ন্যায় নষ্ট করো না, যে ব্যক্তি শুধু লোকদের দেখাবার উদ্দেশ্যেই নিজের ধন-মাল ব্যয় করে আর না আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে, না পরকালের প্রতি। তার খরচের দৃষ্টান্ত এইরূপ : যেমন একটি পাথুরে চাতাল, যার ওপর মাটির আস্তর পড়ে ছিল-এর ওপর যখন মুষলধারে বৃষ্টি পড়ল, তখন সমস্ত মাটি ধুয়ে ভেসে গেল এবং গোটা চাতালটি নির্মল ও পরিষ্কার হয়ে পরে রইল। এই সব লোক দান-সদকা করে যে পুণ্য অর্জন করে, তার কিছুই তাদের হাতে আসে না। আর কাফেরদেরকে সঠিক পথ নির্দেশ করা আল্লাহর রীতি নয়।&#8221; (সূরা বাকারা: ২৬৪)</p>
<p>৮. &#8220;পক্ষান্তরে যারা নিজেদের ধন-মাল খালেসভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য মনের ঐকান্তিক স্থিরতা ও দৃঢ়তা সহকারে খরচ করে, তাদের এই ব্যয়ের দৃষ্টান্ত এইরূপ। যেমন কোনো উচ্চ ভূমিতে একটি বাগান রয়েছে, প্রবল বেগে বৃষ্টি হলে দ্বিগুণ ফল ধরে, আর জোরে বৃষ্টি না হলেও বৃষ্টির রেণুই তার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়। বস্তুত তোমরা যা করো, সবই আল্লাহর গোচরীভূত রয়েছে।&#8221; (সূরা বাকারা: ২৬৫)</p>
<p>৯. &#8220;তোমরা কিছুতেই প্রকৃত কল্যাণ লাভ করতে পারো না, যতক্ষণ না তোমরা (আল্লাহর পথে) সেই সব জিনিস ব্যয় ও নিয়োগ করবে, যা তোমাদের প্রিয় ও পছন্দনীয়। আর যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহ সে সম্পর্কে নিশ্চয়ই অবহিত রয়েছেন। (সূরা আলে-ইমরান: ৯২)</p>
<p>১০. &#8220;হে ঈমানদারগণ! অঙ্গীকারসমূহ পুরোপুরি মেনে চলো। তোমাদের জন্য গৃহপালিত ধরনের সমস্ত জন্তুকে হালাল করা হয়েছে, সে সব বাদে, যা একটু পরই তোমাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ইহরামের অবস্থায় শিকার কার্যকে নিজেদের জন্য হালাল করে নিও না। বস্তুত আল্লাহ যা-ই চান, তারই আদেশ দান করেন।&#8221; (সূরা মায়েদা: ১)</p>
<p>১১. &#8220;হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর আনুগত্য ও ভক্তির নিদর্শনসমূহের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করো না। হারাম মাসসমূহের কোনো মাসকে হালাল করে নিও না। কুরবানির জন্তু-জানোয়ারগুলোর ওপর হস্তক্ষেপ করো না; সে সব জন্তুর ওপরও হস্তক্ষেপ করো না, যে সবের গলদেশে খোদায়ী মানতের চিহ্নস্বরূপ পট্টি বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই সব লোককেও কোনো কষ্ট দিয়ো না, যারা নিজেদের পরোয়ারদেগারের অনুগ্রহ এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের সন্ধানে পবিত্র ও সম্মানিত ঘরে (কা’বায় যাচ্ছে। ইহরামের অবস্থা শেষ হয়ে গেলে অবশ্য তোমরা শিকার করতে পারো। আর দেখো, একদল লোক যে তোমাদের জন্য মসজিদে হারামের পথ বন্ধ করে দিয়েছে, সেজন্য তোমাদের ক্রোধ যেন তোমাদেরকে এতদূর উত্তেজিত করে না তোলে যে, তোমরাও তাদের মোকাবিলায় অবৈধ বাড়াবাড়ি করতে শুরু করবে। যে সব কাজ পুণ্যময় ও আল্লাহর ভয়মূলক, তাতে সকলের সঙ্গে সহযোগিতা করো; আর গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজ, তাতে কারো একবিন্দু সাহায্য ও সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো, কেননা, তাঁর শান্তি অত্যন্ত কঠিন।&#8221; (সূরা মায়েদা: ২)</p>
<p>১২. &#8220;হে ঈমানদার লোকেরা! এই মদ, জুয়া, আস্তানা ও পাশা এ সবই নাপাক শয়তানি কাজ। তোমরা এটা পরিহার করো। আশা করা যায় যে, তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে।&#8221; (সূরা মায়েদা: ৯০)</p>
<p>১৩. &#8220;হে মুহাম্মাদ! এই লোকদেরকে বলো যে, তোমরা এসো, আমি তোমাদেরকে শুনিয়ে দেবো তোমাদের রব তোমাদের ওপর কি কি বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন। তা এই যে, তাঁর সঙ্গে কাউকেও শরিক করবে না, ব্যবহার করবে, পিতামাতার সঙ্গে ভালো নিজেদের সন্তানদের দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করবে না, কেননা আমিই তোমাদেরকে রিযিক দেই, এবং তাদেরকেও দেবো। নির্লজ্জতার বিষয় ও। প্রসঙ্গের কাছেও যাবেনা, তা প্রকাশ্যেই হোক, কি গোপনে। কোনো প্রাণ আল্লাহ্ যাকে সম্মানীয় করেছেন ধ্বংস করবে না, অবশ্য সত্য ও ন্যায় সহকারে (করা যাবে)। এসব কথা পালন করার জন্য তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, সম্ভবত তোমরা বুঝে-শুনে কাজ করবে।&#8221; (সূরা আনয়াম: ১৫১)</p>
<p>১৪. &#8220;আরো এই যে, তোমরা ইয়াতীমের মাল-সম্পদের নিকটেও যাবে না, অবশ্য এমন নিয়ম ও পন্থায় (যেতে পারো) যা সর্বাপেক্ষা ভালো, যতদিন না সে জ্ঞানবুদ্ধি লাভের বয়স পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর মাপে এবং ওজনে পুরোপুরি ইনসাফ করো। আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর দায়িত্বের বোঝা ততখানিই চাপাই, যতখানির সাধ্য তার রয়েছে। আর যখন কথা বলো, ইনসাফের কথা বলো: ব্যাপারটি নিজের আত্মীয়েরই হোক না কেন এবং আল্লাহর ওয়াদা পূরণ করো। এসব বিষয়ের হেদায়েত আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দিয়েছেন; হয়ত তোমরা নসীহত কবুল করবে।&#8221; (সূরা আনয়াম: ১৫২)</p>
<p>১৫. &#8220;আমি কি তাকে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা এবং দুটি ওষ্ঠ দেই নাই? আর আমি কি তাকে দুটি স্পষ্ট পথ দেখাই না? কিন্তু সে দুর্গম বন্ধুর পথ অতিক্রম করার সাহস করেনি। তুমি কি জানো সেই দুর্গম বন্ধুর পথটি কি? কোনো গলাকে দাসত্ব শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা কিংবা উপবাসের দিনে কোনো নিকটবর্তী ইয়াতীম বা ধূলি মলিন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। সেই সঙ্গে শামিল হওয়া সেই লোকদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যারা পরস্পরকে ধৈর্য ধারণের ও (সৃষ্টিকুলের প্রতি) দয়া প্রদর্শনের উপদেশ দেয়। এ লোকেরাই দক্ষিণপন্থি। আর যারা আমার আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা বামপন্থী। তাদের ওপর আগুন। একেবারে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে।&#8221; (সূরা বালাদ: ৮-১৬)</p>
<p>১৬. সূর্য ও তার রৌদ্রের শপথ। চাঁদের শপথ যখন তা সূর্যের পিছনে পিছনে আসে। দিনের শপথ যখন তা (সূর্যকে) প্রকট করে তোলে। এবং রাতের শপথ যখন তা (সূর্যকে) আচ্ছাদিত করে নেয়। আকাশসমূহের এবং সেই সত্তার শপথ যিনি তা সংস্থাপিত করেছেন। আর পৃথিবীর ও সেই সত্তার শপথ, যিনি তাকে বিছিয়ে দিয়েছেন। মানব-প্রকৃতির এবং সেই সত্তার শপথ, যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন। অতঃপর তার পাপ ও তার তাকওয়া (সতর্কতা) তার প্রতি ইলহাম করেছেন। নিঃসন্দেহে কল্যাণ পেল সে, যে নিজের নফসের পবিত্রতা বিধান করল। এবং ব্যর্থ হলো সে, যে তাকে খর্ব ও গুপ্ত করল। (সূরা শামস: ১-১০)</p>
<p>১৭. &#8220;(লোকেরা) জিজ্ঞেস করছে মদ ও জুয়া সম্পর্কে কী নির্দেশ? বলে দাও এ দুটি জিনিসেই বড় পাপ রয়েছে, যদিও এতেই লোকদের জন্য কিছুটা উপকারিতাও আছে; কিন্তু উভয় কাজের পাপ উপকারিতা থেকে অনেক বেশি জিজ্ঞেস করছে? আমরা আল্লাহর পথে কি খরচ করব? বলো, যা কিছু তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত। বস্তুত, আল্লাহ তোমাদের জন্য এভাবে বিধানসমূহ স্পষ্টরূপে বিবৃত করেন।&#8221; (সূরা বাকারা: ২১৯)</p>
<p>১৮. &#8220;একটু মিষ্টি কথা এবং কোনো অপ্রিয় ব্যাপারে সামান্য উদারতা দেখানো সে দান অপেক্ষা ভালো যার পিছনে আসে দুঃখ ও তিক্ততা। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, তিনি ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা গুণে ভূষিত।&#8221; (সূরা বাকারা: ২৬৩)</p>
<p>১৯. &#8220;সেই পথে তীব্র গতিতে চলো, যা তােমাদের রব্ব-এর ক্ষমা এবং আকাশ ও পৃথিবীর সমান প্রশন্ত বেহেশতের দিকে চলে গেছে এবং যা সেই মুত্তাকী লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যারা সব সময়ই নিজেদের ধন-মাল খরচ করে, দুরবস্থায়ই হোক আর সচ্ছল অবস্থায়ই হোক, যারা ক্রোধকে হজম করে এবং অন্যান্য লোকদের অপরাধ মাফ করে দেয়। এই সব নেককার লোককেই আল্লাহ খুব ভালোবাসেন।&#8221; (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৩-১৩৪)</p>
<p>২০. &#8220;হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য অবলম্বন করো, বাতিলপন্থীদের মুকাবিলায় দৃঢ়তা ও অনমনীয়তা প্রদর্শন করো, সত্যের খেদমতের জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। আশা করা যায়, তোমরা কল্যাণ লাভ করতে পারবে।&#8221; (সূরা আলে-ইমরান: ২০০)</p>
<p>২১. &#8220;ইয়াতিমদের ধন-সম্পত্তি তাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। ভালো সম্পদ খারাপ সম্পদের সাথে বদল করো না এবং তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে হজম করে ফেলো না। এটি অত্যন্ত বড় গুনাহ।&#8221; (সূরা নিসা: ২)</p>
<p>২২. &#8220;যারা ইয়াতিমদের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা প্রকৃতপক্ষে আগুন দ্বারা নিজেদের পেট বোঝাই করে এবং তারা নিশ্চয়ই জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।&#8221; (সূরা নিসা: ১০)</p>
<p>২৩. &#8220;সেই সব লোককেও আল্লাহ পছন্দ করেন না, যারা কার্পণ্য করে এবং অন্য লোককেও কার্পণ্য করার উপদেশ দেয় এবং আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দান করেছেন, তা লুকিয়ে রাখে এরূপ অকৃতজ্ঞ-নেয়ামত অস্বীকারকারী লোকদের জন্য আমরা অপমানকর আযাবের ব্যবস্থা করে রেখেছি।&#8221; (সূরা নিসা: ৩৭)</p>
<p>২৪. &#8220;নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাদের সব ক্রিয়াকার্য জানেন গোপন ও অদৃশ্য বিষয়ও এবং প্রকাশ্য ব্যাপারগুলোও। তিনি সে লোকদেরকে আদৌ পছন্দ করেন না যারা আত্ম-অহংকারে নিমজ্জিত।&#8221; (সূরা নাহল: ২৩)</p>
<p>২৫. &#8220;হে নবী! তোমার রব-এর পথের দিকে আহ্বান জানাও হেকমত ও উত্তম নসিহতের সাহায্যে। আর লোকদের সঙ্গে পরস্পর বিতর্ক করো এমন পন্থায়, যা অতি উত্তম। তোমার রবই বেশি ভালো জানেন, কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে আর কে সঠিক পথে আছে।&#8221; (সূরা নাহল: ১২৫)</p>
<p>২৬. &#8220;(হে নবী!) তিলাওয়াত করো এই কিতাব, যা ওহীর মাধ্যমে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে আর নামাজ আদায় করো: নিঃসন্দেহে নামাজ অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকির তা থেকেও অধিক বড় জিনিস। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কিছু করো।&#8221; (সূরা আনকাবুত: ৪৫)</p>
<p>২৭. &#8220;ধ্বংস, হীন ঠকবাজদের জন্য (যারা মাপে বা ওজনে কম দেয়)। তাদের অবস্থা এই যে, লোকদের কাছ থেকে গ্রহণের সময় পুরোমাত্রায় গ্রহণ করে; কিন্তু তাদেরকে ওজন বা পরিমাপ করে দেওয়ার সময় তাদের ক্ষতিসাধন করে। এ লোকেরা কি চিন্তা করে না যে, একটা মহাদিবসে তাদেরকে উঠিয়ে আনা হবে? এটি সেই দিন, যেদিন সমস্ত মানুষ রাব্বুল আ’লামীনের সামনে দাঁড়াবে।&#8221; (সূরা মুতাফফিফীন, ১-৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> দ্বীন আকলের কোন ফসল নয়, তবে আকলের সাথে দ্বীনের কোনো সংঘর্ষও নেই। জ্ঞান ও বিজ্ঞান যদিও দ্বীনকে বিচার করার ও তাকে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা রাখে না, তবুও জ্ঞান ও বিজ্ঞান তাকে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আমাদের জযবার মাধ্যমে আমাদের গভীর চিন্তার গোপন রহস্য সমূহকে অনেক বেশী সম্প্রসারিত করতে পারে।</strong></p>
<p>১. &#8220;পৃথিবী ও আকাশের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের পালাক্রমে যাওয়া আসার মধ্যে যে সমস্ত বুদ্ধিমান লোক উঠতে, বসতে ও শয়নে সব অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশ ও পৃথিবীর গঠণাকৃতি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বহুতর নিদর্শন। তারা আপনা আপনি বলে ওঠে, হে আমাদের প্রভু! এসব তুমি অনর্থক ও উদ্দেশ্যবিহীনভাবে সৃষ্টি করোনি। বাজে ও নিরর্থক কাজ করা থেকে তুমি পাক-পবিত্র ও মুক্ত।&#8221; (সূরা আলে-ইমরান: ১৯০-১৯১)</p>
<p>২. &#8220;হে ঈমানদারগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেয়ো না। নামাজ সেই সময় পড়া উচিত যখন তোমরা যা বলছো তা জানতে পারো। অনুরূপভাবে অপবিত্র অবস্থায়ও গোসল না করা পর্যন্ত নামাযের কাছে যেয়ো না। তবে যদি পথ অতিক্রমকারী হও, তাহলে অবশ্য স্বতন্ত্র কথা। আর যদি কখনো তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো, সফরে থাকো বা তোমাদের কেউ মলমূত্র ত্যাগ করে আসে অথবা তোমরা নারী সম্ভোগ করে থাকো এবং এরপর পানি না পাও, তাহলে পাক পবিত্র মাটির সাহায্য গ্রহণ করো এবং তা নিজেদের চেহারা ও হাতের ওপর বোলাও। নিঃসন্দেহে আল্লাহ কোমলতা অবলম্বনকারী ও ক্ষমাশীল।&#8221; (সূরা নিসা: ৪৩)</p>
<p>৩. &#8220;তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যারা বললো, আমরা শুনেছি অথচ তারা শোনে না। অবশ্য আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধরনের জানোয়ার হচ্ছে সেই সব বধির ও বোবা লোক যারা-বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগায় না।&#8221; (সূরা আনফাল: ২১- ২২)</p>
<p>৪. &#8220;এদেরকে জিজ্ঞেস করো, আকাশ ও পৃথিবীর রব কে? বলো আল্লাহ! তারপর এদেরকে জিজ্ঞেস করো, আসল ব্যাপার যখন এই তখন তোমরা কি তাঁকে বাদ দিয়ে এমন মাবুদদেরকে নিজেদের কার্যসম্পাদনকারী বানিয়ে নিয়েছো যারা তাদের নিজেদের জন্যও কোন লাভ ও ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না? বলো অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হয়ে থাকে? আলো ও আঁধার কি এক রকম হয়? যদি এমন না হয়, তাহলে তাদের বানানো শরীকরাও কি আল্লাহর মতো কিছু সৃষ্টি করেছে, যে কারণে তারাও সৃষ্টি ক্ষমতার অধিকারী বলে সন্দেহ হয়েছে? বলো, প্রত্যেকটি জিনিসের স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ। তিনি একক ও সবার ওপর পরাক্রমশালী।&#8221; (সূরা রা’দ: ১৬)</p>
<p>৫. &#8220;একমাত্র আল্লাহই সেই সময়ের জ্ঞান রাখেন। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কি লালিত হচ্ছে। কোন প্রাণসত্তা জানে না আগামীকাল সে কি উপার্জন করবে এবং কোন ব্যক্তির জানা নেই তার মৃত্যু হবে কোন যমিনে। আল্লাহই সকল জ্ঞানের অধিকারী এবং তিনি সবকিছু জানেন।&#8221; (সূরা লোকমান: ৩৪)</p>
<p>৬. &#8220;(এরা মানছে না) তাহলে কি এরা উটগুলো দেখছে না, কীভাবে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে? আকাশ দেখছে না, কীভাবে তাকে উঠানো হয়েছে? পাহাড়গুলো দেখছে না, কীভাবে তাদেরকে শক্তভাবে বসানো হয়েছে? আর যমীনকে দেখছে না, কীভাবে তাকে বিছানো হয়েছে? বেশ (হে নবি) তাহলে তুমি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকো। তুমি তো শুধুমাত্র একজন উপদেশক, এদের উপর বল প্রয়োগকারী নও।&#8221; (সূরা গাশিয়া: ১৭-২২)</p>
<p>৭. &#8220;(এই সত্যটি চিহ্নিত করার জন্য যদি কোন নিদর্শন বা আলামতের প্রয়োজন হয় তাহলে) যারা বুদ্ধি-বিবেক ব্যবহার করে তাদের জন্য আকাশ ও পৃথিবীর ঘটনাকৃতিতে, রাত্রদিনের অনবরত আবর্তনে, মানুষের প্রয়োজনীয় ও উপকারী সামগ্রী নিয়ে সাগর দরিয়ার চলমান জলযানসমূহে, বৃষ্টিধারার মধ্যে, যা আল্লাহ বর্ষণ করেন ওপর থেকে তারপর তার মাধ্যমে মৃত ভূমিকে জীবন দান করেন এবং নিজের এই ব্যবস্থাপনার বদৌলতে পৃথিবীতে সব রকমের প্রাণী ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেন, আর বায়ু প্রবাহে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালায় অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।&#8221; (সূরা বাকারা: ১৬৪)</p>
<p>৮. &#8220;হে নবী! তোমার কাছে অহীর মাধ্যমে যে হেদায়াত পাঠানো হচ্ছে তুমি তার অনুসরণ করো। আর আল্লাহ ফায়সালা দান করা পর্যন্ত সবর করো এবং তিনিই সবচেয়ে ভালো ফয়সালাকারী।&#8221; (সূরা ইউসুফ: ১০৯)</p>
<p>৯. &#8220;আর তিনিই এ ভূ-তলকে বিছিয়ে রেখেছেন, এর মধ্যে পাহাড়ের খুঁটি গেড়ে দিয়েছেন এবং নদী প্রবাহিত করেছেন। তিনিই সব রকম ফল সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় এবং তিনিই দিনকে রাত দিয়ে ঢেকে ফেলেন। এ সমস্ত জিনিসের মধ্যে বহুতর নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্য যারা চিন্তা-ভাবনা করে।&#8221; (সূরা রা’দ: ৩)</p>
<p>১০. &#8220;আর দেখো, পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংলগ্ন আলাদা আলাদা ভূখণ্ড, রয়েছে আঙুর বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ- কিছু একাধিক কান্ডবিশিষ্ট আবার কিছু এক কাণ্ড বিশিষ্ট, সবাই সিঞ্চিত একই পানিতে কিন্তু স্বাদের ক্ষেত্রে আমি করে দেই তাদের কোনোটাকে বেশী ভালো এবং কোনোটাকে কম ভালো। এসব জিনিসের মধ্যে যারা বুদ্ধিকে কাজে লাগায় তাদের জন্য রয়েছে বহুতর নিদর্শন।&#8221; (সূরা রা’দ: ৪)</p>
<p>১১. &#8220;পাক-পবিত্র সে সত্তা যিনি সব রকমের জোড়া সৃষ্টি করেছেন, তা ভূমিজাত উদ্ভিদের মধ্য থেকে হোক অথবা স্বয়ং এদের নিজেদের প্রজাতির অর্থাৎ মানব জাতি মধ্য থেকে হোক কিংবা এমন জিনিসের মধ্য থেকে হোক যাদেরকে এরা জানেও না। এদের জন্য রাত হচ্ছে আর একটি নিদর্শন। আমি তার উপর থেকে দিনকে সরিয়ে দেই তখন এদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায়। আর সূর্য, সে তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলছে। এটি প্রবল পরাক্রমশালী জ্ঞানী সত্তার নিয়ন্ত্রিত হিসেবে আর চাঁদ, তার জন্য আমি মনযিল নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, সেগুলো অতিক্রম করে সে শেষ পর্যন্ত আবার খেজুরের শুকনো ডালের মতো হয়ে যায়। না সূর্যের ক্ষমতা আছে চাঁদকে ধরে ফেলে এবং না রাত দিনের ওপর অগ্রবর্তী হতে পারে, সবাই এক একটি কক্ষপথে সন্তরণ করছে।&#8221; (সূরা ইয়াসিন: ৩৬-৪০)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> এখন যে আয়াত সমূহকে আমি উল্লেখ করেছি, সেই সকল আয়াতে আমরা দেখতে পাই যে, প্রকৃতির সাথে ইসলামের সম্পর্ক এবং বহিঃজগতের সাথে তার সম্পৃক্ততা আমাদের নজর কেড়ে নেয়। মহাগ্রন্থ আল কোরআন আল্লাহর প্রতি ঈমান সম্পর্কে, মানুষের দায়িত্ব ও আদালত সম্পর্কে যেমন বলে থাকে, একইভাবে আমাদেরকে পশু-পাখি, নদী-পাহাড়, তারকাপুঞ্জ, চন্দ্র-সূর্য, পিঁপড়া, মৌমাছি, খেজুর এবং উট সম্পর্কেও বলে থাকে। এই সকল সৃষ্ট বিষয় সমূহের অভ্যন্তরীণ এবং প্রাকৃতিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে ইসলাম কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করে না। </strong>এই দুনিয়ার ব্যাপারে ইসলাম আমাদের সামনে অনুপম এক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরে। হয়তোবা এটি ইসলামের আখলাকের ক্ষেত্রে ভালোবাসা ও মারহামাতের পরিবর্তে হক এবং আদালতকে বেশী প্রাধান্য দেওয়ার একটি জবাবও।</p>
<p>১. &#8220;হে ঈমানদারগণ! ইনসাফের পতাকাবাহী ও আল্লাহর সাক্ষী হয়ে যাও, তোমাদের ইনসাফ ও সাক্ষ্য তোমাদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তার অথবা তোমাদের বাপ-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে গেলেও। উভয় পক্ষ ধনী বা অভাবী যাই হোক না কেন আল্লাহ তাদের চাইতে অনেক বেশী কল্যাণকামী। কাজেই নিজেদের কামনার বশবর্তী হয়ে ইনসাফ থেকে বিরত থেকো না। আর যদি তোমরা প্যাঁচালো কথা বলো অথবা সত্যতাকে পাশ কাটিয়ে চলো, তাহলে জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তার খবর রাখেন।&#8221; (সূরা নিসা: ১৩৫)</p>
<p>২. &#8220;লোকেরা তোমাকে জিজ্ঞেস করেছে, তাদের জন্য কি হালাল করা হয়েছে? বলে দাও, তোমাদের জন্য সমস্ত পাক- পবিত্র জিনিস হালাল করা হয়েছে। আর যে-সব শিকারি প্রাণীকে তোমরা শিক্ষিত করে তুলেছ, যাদেরকে আল্লাহর দেয়া জ্ঞানের ভিত্তিতে তোমরা শিকার করা শিখিয়েছো, তারা তোমাদের জন্য যে-সব প্রাণী ধরে রাখে, তাও তোমরা খেতে পারো। তবে তার ওপর আল্লাহর নাম নিতে হবে। আর আল্লাহর আইন ভাঙার ব্যাপারে সাবধান। অবশ্য হিসাব নিতে আল্লাহর মোটেই দেরি হয় না।&#8221; (সূর মায়েদা: ৮)</p>
<p>৩. &#8220;এরা মিথ্যা শ্রবণকারী ও হারাম আহারকারী। কাজেই এরা যদি তোমাদের কাছে (নিজেদের মামলা নিয়ে) আসে তাহলে তোমরা চাইলে তাদের মীমাংসা করে দিতে অথবা অস্বীকার করে দিতে পারো। অস্বীকার করে দিলে এর তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর মীমাংসা করে দিলে যথার্থ ইনসাফ সহকারে মীমাংসা করো। কারণ আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।&#8221; (সূরা মায়েদা: ৪২)</p>
<p>৪. &#8220;আর যদি তোমরা প্রতিশোধ নাও, তাহলে ঠিক ততটুকু নাও যতটুকু তোমাদের ওপর বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। কিন্তু যদি তোমরা সবর করো তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটা সবরকারীদের পক্ষে উত্তম।&#8221; (সূরা নাহল: ১২৬)</p>
<p>৫. &#8220;(আমি তাকে বললাম) হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছি, কাজেই তুমি জনগণের মধ্যে সত্য সহকারে শাসন কর্তৃত্ব পরিচালনা করো এবং প্রবৃত্তির কামনার অনুসরণ করো না, কারণ তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করবে। যারা আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী হয় অবশ্যই তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শান্তি, যেহেতু তারা বিচার দিবসকে ভুলে গেছে।” (সূরা সোয়াদ: ২৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> আদালত, সামাজিক আদালত এবং ইনসাফ সম্পন্ন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইসলামের যে প্রচেষ্টা, সেটার মূল ভিত্তি হচ্ছে আখলাক। আমি এখন যে সকল আয়াতকে উল্লেখ করব, সেই সকল আয়াতসমূহ অতীতের মুসলমানদের ভুবনজয়ী ঐতিহাসিক বিজয় সমূহের সাথে বর্তমান মুসলিম সমাজের পরাজয়ের কারণ সমূহকে বুঝার জন্য সাহায্য করবে।</strong> যদি কোরআনের ব্যবস্থাকে অপচয়হীন এবং দুর্দশাহীন একটি ব্যবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তাহলে আমাদেরকে আজকে একথা স্বীকার করতে হবে যে, কোরআনের ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি ব্যবস্থা আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যার ফলে আজকের মুসলিম সমাজে এত অপচয় ও দুর্দশা বিরাজ করছে।</p>
<p>১. &#8220;আর তোমরা জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু গনিমতের মাল লাভ করেছো তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ, তাঁর রসূল, আত্মীয়স্বজন, এতিম মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত। যদি তোমরা ঈমান এনে থাকো আল্লাহর প্রতি এবং ফায়সালার দিন অর্থাৎ উভয় সেনাবাহিনীর সামনা সামানি মোকাবিলার দিন আমি নিজের বান্দার ওপর যা নাফিল করেছিলাম তার প্রতি, (অতএব সানন্দে এ অংশ আদায় করো) আল্লাহ প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর শক্তিশালী।&#8221; (সূরা আনফাল: ৪১)</p>
<p>২. &#8220;এ সদকাগুলো তো আসলে ফকীর মিসকীনদের জন্য। আর যারা সাদকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত এবং যাদের জন্য মন জয় করা প্রয়োজন তাদের জন্য। তাছাড়া দাস মুক্ত করার, ঋণগ্রস্তের সাহায্য করার, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের উপকারে ব্যয় করার জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষে থেকে একটি বিধান এবং আল্লাহর সবকিছু জানেন, তিনি বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ।&#8221; (সূরা তওবা: ৬০)</p>
<p>৩. &#8220;আর দেখো, আল্লাহ তোমাদের একজনকে আর একজনের ওপর রিযিকের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তারপর যাদেরকে এ শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে তারা এমন নয় যে নিজেদের রিযিক নিজেদের গোলামদের দিকে ফিরিয়ে দিয়ে থাকে, যাতে উভয় এ রিযিকে সমান অংশীদার হয়ে যায়। তাহলে কি এরা শুধু আল্লাহরই অনুগ্রহ মেনে নিতে অস্বীকার করে?&#8221; (সূরা নাহল: ৭১)</p>
<p>৪. &#8220;তোমাদের মধ্য থেকে যারা প্রাচুর্য ও সামর্থ্যের অধিকারী তারা যেন এ মর্মে কসম খেয়ে না বসে যে, তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, গরিব-মিসকিন ও আল্লাহর পথে গৃহত্যাগকারীদেরকে সাহায্য করবে না। তাদেরকে ক্ষমা করা ও তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করা উচিত। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তোমাদের মাফ করেন? আর আল্লাহ ক্ষমাশীলতা ও দয়া গুণে গুণান্বিত।&#8221; (সূরা নূর: ২২)</p>
<p>৫. &#8220;এবং যখন এদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু আল্লাহর পথে খরচ করো তখন এসব কুফরিতে লিপ্ত লোক মু’মিনদেরকে জবাব দেয় “আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো, যাদেরকে আল্লাহ চাইলে নিজেই খাওয়াতেন? তোমরা তো পরিষ্কার বিভ্রান্তির শিকার হয়েছো।&#8221; (সূরা ইয়াসিন: ৪৭)</p>
<p>৬. &#8220;(এ সবই এজন্য) যাতে যে ক্ষতিই তোমাদের হয়ে থাকুক তাতে তোমরা মনক্ষুণ্ন না হও। আর আল্লাহ তোমাদের যা দান করেছেন। সেজন্য গর্বিত না হও। যারা নিজেরা নিজেদের বড় মনে করে এবং অহংকার করে, নিজেরাও কৃপণতা করে এবং মানুষকেও কৃপণতা করতে উৎসাহ দেয় আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। এরপর ও যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ অভাবশূন্য ও অতি প্রশংসিত।&#8221; (সূরা হাদীদ: ২৩-২৪)</p>
<p>৭. &#8220;তুমি কি তাকে দেখেছো যে আখেরাতের পুরস্কার ও শাস্ত্রিকে মিথ্যা বলছে? সে-ই তো এতিমকে ধাক্কা দেয় এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না।&#8221; (সূরা মাউন: ১-৩)</p>
<p>৮. &#8220;কাজেই (হে মুমিন!) আত্মীয়দেরকে তাদের অধিকার দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকে (দাও তাদের অধিকার)। এ পদ্ধতি এমন লোকদের জন্য ভালো যারা চায় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তারাই সফলকাম হবে।&#8221; (সূরা রুম: ৩৮)</p>
<p>এই আয়াতের মাধ্যমে পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা সম্পর্কিত এই হুকুম সমূহ, সমাজের দুর্বলদের অধিকারের সাথে শক্তিশালীদের দায়িত্ব সমূহকে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সকল মানুষ যে সমান এই মূলনীতির মাধ্যমে অনুপম এক সাদৃশ্য রয়েছে। কোরআনে আলোকে নির্বাচিত কোনো সমাজ কিংবা উচ্চ বর্ণের কোনো জাতি নেই।</p>
<p>৯. &#8220;প্রথমে সব মানুষ একই পথের অনুসারী ছিল। (তারপর এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকেনি, তাদের মধ্যে মতভেদের সূচনা হয়) তখন আল্লাহ নবী পাঠান। তারা ছিলেন সত্য সঠিক পথের অনুসারীদের জন্য সুসংবাদদাতা এবং অসত্য ও বেঠিক পথ অবলমম্বনের পরিণতির ব্যাপারে ভীতিপ্রদর্শনকারী। আর তাদের সাথে সত্য কিতাব পাঠান, যাতে সত্য সম্পর্কে তাদের মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছিল তার মীমাংসা করা যায়। এবং প্রথমে তাদেরকে সত্য সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হয়নি বলে এ মতভেদগুলো সৃষ্টি হয়েছিল, তা নয়। মতভেদ তারাই করেছিল যাদেরকে সত্যের জ্ঞান দান করা হয়েছিল। তারা সুস্পষ্ট পথনির্দেশ লাভ করার পরও কেবলমাত্র পরস্পরের ওপর বাড়াবাড়ি করতে চাচ্ছিল বলেই সত্য পরিহার করে বিভিন্ন পথ উদ্ভাবন করে। কাজেই যারা নবীদের ওপর ঈমান এনেছে তাদেরকে আল্লাহ নিজের ইচ্ছাক্রমে সেই সত্যের পথ দিয়েছেন, যে ব্যাপারে লোকেরা মতবিরোধ করেছিল। আল্লাহ যাকে চান সত্য সঠিক পথ দেখিয়ে দেন। (সূরা বাকারা: ২১৩)</p>
<p>১০. &#8220;হে মানব জাতি! তোমাদের রবকে ভয় করো। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একটি প্রাণ থেকে। আর সেই একই প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া। তারপর তাদের দুজনার থেকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। সেই আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পরের কাছ থেকে নিজেদের হক আদায় করে থাকো এবং আত্মীয়তা ও নিকট সম্পর্ক বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকো। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ তোমাদের ওপর কড়া নজর রেখেছেন।&#8221; (সূরা নিসা: ১)</p>
<p>১১. হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। তোমাদের মধ্যে যে অধিক পরহেজগার সে-ই প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও সবকিছু সম্পর্কে অবহিত। (সূরা হুজুরাত: ১৩)</p>
<p>১২. তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকতে হবে, যারা নেকী ও সৎকর্মশীলতার দিকে আহ্বান জানাবে, ভাল কাজের নির্দেশ দেবে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। যারা এ দায়িত্ব পালন করবে তারাই সফলকাম হবে। (সূরা আলে-ইমরান: ১০৪)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> মানুষের মধ্যকার সমতা ও সমমর্যাদার বিষয়টি নারীদের সাথেও অনেক বেশী সংগতিপূর্ণ। এই বিষয়টির গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম নয়। সকলেই অবগত যে সমগ্র মানবতার অর্ধেকই হলো নারী। এই ক্ষেত্রে ইসলাম ইউরোপিয়ানদের তথাকথিত নারী অধিকার ও সমতা নয়, ইসলাম কোরআনের আলোকে মানুষের মর্যাদাকে নিরূপণ করে এবং নারীর সমতা ও মর্যাদা নিয়ে অনুপম একটি ধারণা পেশ করে থাকে। আর সমতার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বিষয় হলো &#8211; নারী একজন মানুষ হিসেবে একই মূল্য ও মর্যাদার অধিকারী। নারী ও পুরুষের মূল্য ও মর্যাদা একই, তবে তারা একে অপরের চেয়ে ভিন্ন।</strong> কোরআন নারী পুরুষের মধ্যকার এই ভিন্নতাকে উঠিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে এই সকল ভিন্নতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। নারীর ক্ষেত্রে ইসলাম ও পাশ্চাত্যের পার্থক্য এখানেই। ইসলাম চায় নারীর ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্যকে রক্ষা করে তাদেরকে সমান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে। আর পাশ্চাত্য চায় নারী ও পুরুষের মধ্যকার পার্থক্যকে তুলে দিয়ে তাদেরকে সমান মর্যাদা দিতে চায়। তবে সমতার প্রশ্নে কোরআন শুধুমাত্র এই বিষয়টিকে স্বীকৃতিই দেয় না, একইসাথে কেউ যেন ভুল অর্থ বের করতে না পারে, এমন বাক্য ব্যবহার করেছে।</p>
<p>১. &#8220;জবাবে তাদের রব বললেন, আমি তোমাদের কারো কর্মকাণ্ড নষ্ট করবো না। পুরুষ হও বা নারী, তোমরা সবাই একই জাতির অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যারা আমার জন্য নিজেদের স্বদেশ ভূমি ত্যাগ করেছে এবং আমার পথে যাদেরকে নিজেদের ঘর বাড়ি থেকে বের করে দেয়া ও কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং যারা আমার জন্য লড়েছে ও মারা গেছে, তাদের সমস্ত গোনাহ আমি মাফ করে দেবো এবং তাদেরকে এমন সব বাগানে প্রবেশ করাবো যার নিচে দিয়ে ঝর্ণাধারা বয়ে চলবে। এসব হচ্ছে আল্লাহর কাছে তাদের প্রতিদান এবং সবচেয়ে ভালো প্রতিদান আল্লাহর কাছেই আছে।&#8221; (সূরা আলে-ইমরান: ১৯৫)</p>
<p>২. &#8220;আর যা কিছু আল্লাহ তোমাদের কাউকে অন্যদের মোকাবিলায় বেশি দিয়েছেন তার আকাঙ্ক্ষা করো না। যা কিছু পুরুষেরা উপার্জন করেছে তাদের অংশ হবে সেই অনুযায়ী। আর যা কিছু মেয়েরা উপার্জন করেছে তাদের অংশ হবে সেই অনুযায়ী। হাঁ, আল্লাহর কাছে তাঁর ফজল ও মেহেরবানীর জন্য দোয়া করতে থাকো। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সমস্ত জিনিসের জ্ঞান রাখেন।&#8221; (সূরা নিসা: ৩২)</p>
<p>৩. &#8220;মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, এরা সবাই পরস্পরের বন্ধু ও সহযোগী। এরা ভাল কাজের হুকুম দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, নামাজ কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আনুগত্য করে। এরা এমন লোক যাদের ওপর আল্লাহর রহমত নাজিল হবেই। অবশ্যই আল্লাহ সবার ওপর পরাক্রমশালী এবং জ্ঞানী ও বিজ্ঞ। এ মুমিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে। এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।&#8221; (সূরা তওবা: ৭১-৭২)</p>
<p>৪. &#8220;পুরুষ বা নারী যে-ই সৎকাজ করবে, সে যদি মুমিন হয়, তাহলে তাকে আমি দুনিয়ায় পবিত্র-পরিচ্ছন্ন জীবন দান করবো এবং (আখেরাতে) তাদের প্রতিদান দেবো তাদের সর্বোত্তম কাজ অনুসারে।&#8221; (সূরা নাহল: ৯৭)</p>
<p>৫. &#8220;যারা সতী সাধ্বী, সরলমনা মু’মিন মহিলাদের প্রতি অপবাদ দেয় তারা দুনিয়ায় ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশান্তি।&#8221; (সূরা নূর: ২৩)</p>
<p>৬. &#8221; হে নবী! মু’মিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য বেশী পবিত্র পদ্ধতি। যা কিছু তারা করে আল্লাহ তা জানেন। আর হে নবী! মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া স্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোনোরকম উদ্দেশ্য নেই এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ। তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তওবা করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে।&#8221; (সূরা নূর: ৩০-৩১)</p>
<p>৭. &#8220;একথা সুনিশ্চিত যে, যে পুরুষ ও নারী মুসলিম, মুমিন, হুকুমের অনুগত, সত্যবাদী, সবরকারী, আল্লাহর সামনে বিনত, সাদকাদানকারী, রোযা পালনকারী, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণকারী আল্লাহ তাদের জন্য মাগফিরাত এবং প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।&#8221; (সূরা আহযাব: ৭৩)</p>
<p>৮. &#8220;সেই দিন তাদের বলা হবে, হে আমার বান্দারা, আজ তোমাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো দুঃখও আজ তোমাদের স্পর্শ করবে না। তোমরা এবং তোমাদের স্ত্রীরা জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাদের খুশী করা হবে।&#8221; (সূরা যুখরুফ: ৬৯-৭০)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অর্থাৎ একটি নারীদের জন্য অপরটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এরকম দুই ধরনের আখলাকের স্থান নেই। কোরআন এই অনুপম আখলাকের ধারণার আলোকে সকল মানুষের কাছ থেকে যা কিছু চেয়ে থাকে সেগুলো হলো: </strong></p>
<p>১. &#8220;তোমার রব ফায়সালা করে দিয়েছেন: তোমরা কারোর ইবাদাত করো না, একমাত্র তাঁরই ইবাদাত করো। পিতামাতার সাথে উত্তম ব্যবহার করো। যদি তোমাদের কাছে তাদের কোনো একজন বা উভয় বৃদ্ধ অবস্থায় উপনীত হয়, তাহলে তাদেরকে “উহ্” পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমকের সুরে জবাব দিও না। আর তাদের সাথে মর্যাদা সহকারে কথা বলো। আর দয়া ও কোমলতা সহকারে তাদের সামনে বিনম্র থাকো এবং দোয়া করতে থাকো এই বলেঃ হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা দয়া, মায়া, মমতা সহকারে শৈশবে আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।&#8221; (সূরা ইসরা: ২৩-২৪)</p>
<p>২. &#8220;এতীমের সম্পত্তির ধারে কাছে যেও না, তবে হ্যাঁ সুদপায়ে, যে পর্যন্ত না সে বয়োপ্রাপ্ত হয়ে যায়। প্রতিশ্রুতি পালন করো, অবশ্যই প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে। মেপে দেবার সময় পরিমাপ পাত্র ভরে দাও এবং ওজন করে দেবার সময় সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো। এটিই ভালো পদ্ধতি এবং পরিণামের দিক দিয়েও এটিই উত্তম। এমন কোনো জিনিসের পেছনে লেগে যেও না, যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দিল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যমীনে দম্ভভরে চলো না। তুমি না যমীনকে চিরে ফেলতে পারবে, না পাহাড়ের উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারবে। এ বিষয়গুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেকটির খারাপ দিক তোমার রবের কাছে অপছন্দনীয়।&#8221; (সূরা ইসরা: ৩৪-৩৮)</p>
<p>৩. &#8220;হে ঈমানদারগণ! নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো এবং তার অধিবাসীদেরকে সালাম করো। এটিই তোমাদের জন্য ভালো পদ্ধতি, আশা করা যায় তোমরা এদিকে নজর রাখবে। তারপর যদি সেখানে কাউকে না পাও, তাহলে তাতে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি না দেয়া হয়। আর যদি তোমাদের বলা হয়, ফিরে যাও তাহলে ফিরে যাবে, এটিই তোমাদের জন্য বেশী শালীন ও পরিচ্ছন্ন পদ্ধতি এবং যা কিছু তোমরা করো আল্লাহ তা খুব ভালোভাবেই জানেন।&#8221; (সূরা নূর: ২৭-২৮)</p>
<p>৪. &#8220;হে ঈমানদারগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাসদাসী এবং তোমাদের এমন সব সন্তান যারা এখনো বুদ্ধির সীমানায় পৌঁছেনি, তাদের অবশ্যই তিনটি সময়ে অনুমতি নিয়ে তোমাদের কাছে আসা উচিত: ফজরের নামাযের আগে, দুপুরে যখন তোমরা পোশাক ছেড়ে রেখে দাও এবং এশার নামাযের পর। এ তিনটি তোমাদের গোপনীয়তার সময়। এরপরে তারা বিনা অনুমতিতে এলে তোমাদের কোন গুনাহ নেই এবং তাদেরও না। তোমাদের পরস্পরের কাছে বারবার আসতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিজের বাণী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন এবং তিনি সবকিছু জানেন ও বিজ্ঞ।&#8221; (সূরা নূর: ৫৮)</p>
<p>৫. &#8220;হে নবী, সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান নয়। তুমি অসৎ কাজকে সেই নেকী দ্বারা নিবৃত্ত করো যা সবচেয়ে ভাল। তাহলে দেখবে যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল সে অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গিয়েছে। ধৈর্যশীল ছাড়া এ গুণ আর কারো ভাগ্যে জোটে না। এবং অতি ভাগ্যবান ছাড়া এ মর্যাদা আর কেউ লাভ করতে পারে না।&#8221; (সূরা ফুসসিলাত: ৩৪-৩৫)</p>
<p>৬. &#8220;এটাই সেই জিনিস যার সুসংবাদ আল্লাহ তার সেই সব বান্দাদের দেন যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে। হে নবী, এসব লোককে বলে দাও, এ কাজের জন্য আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না। তবে আত্মীয়তার ভালবাসা অবশ্যই চাই। যে কল্যাণ উপার্জন করবে আমি তার জন্য তার সেই কল্যাণের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিব। নিশ্চয়ই আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল ও নেক কাজের মর্যাদাদাতা।&#8221; (সূরা শুরা: ২৩)</p>
<p>৭. &#8220;আমি মানুষ এই মর্মে নির্দেশনা দিয়েছি যে, তারা যেন পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করে। তার মা কষ্ট করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছিলো এবং কষ্ট করেই তাকে প্রসব করেছিলো। তাকে গর্ভে ধারণ ও দুধপান করাতে ত্রিশ মাস লেগেছে। এমন কি যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌঁছেছে এবং তারপর চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হয়েছে তখন বলেছেঃ “হে আমার রব, তুমি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে যে-সব নিয়ামত দান করেছো আমাকে তার শুকরিয়া আদায় করার তাওফীক দাও। আর এমন সৎ কাজ করার তাওফীক দাও যা তুমি পছন্দ করো। আমার সন্তানদেরকে সৎ বানিয়ে আমাকে সুখ দাও। আমি তোমার কাছে তওবা করছি। আমি নির্দেশের অনুগত (মুসলিম) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।&#8221; (সূরা আহকাফ: ১৫)</p>
<p>৮. &#8220;হে ঈমান গ্রহণকারীগণ, যদি কোন ফাসেক তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে তাহলে তা অনুসন্ধান করে দেখ। এমন যেন না হয় যে, না জেনে শুনেই তোমরা কোনো গোষ্ঠীর ক্ষতি করে বসবে এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।&#8221; (সূরা হুজুরাত: ৬)</p>
<p>৯. &#8220;ঈমানদারদের মধ্যকার দু’টি দল যদি পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। তারপরও যদি দু’টি দলের কোন একটি অপরটির বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে তবে যে দল বাড়াবাড়ি করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করো। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। এরপর যদি তারা ফিরে আসে তাহলে তাদের মাঝে ন্যায় বিচারের সাথে মীমাংসা করিয়ে দাও এবং ইনসাফ করো। আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন। মু’মিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই। অতএব তোমাদের ভাইদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে দাও। আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতি মেহেরবানী করা হবে।&#8221; (সূরা হুজুরাত: ৯-১০)</p>
<p>১০. &#8220;হে ঈমানদাগণ, বেশী ধারণা ও অনুমান করা থেকে বিরত থাকো কারণ কোনো কোনো ধারণা ও অনুমান গোনাহ। দোষ অন্বেষণ করো না। আর তোমাদের কেউ যেন কারো গিবত না করে। এমন কেউ কি তোমাদের মধ্যে আছে, যে তার নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? দেখো, তা খেতে তোমাদের ঘৃণা হয়। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ অধিক পরিমাণে তওবা কবুলকারী এবং দয়ালু।&#8221; (সূরা হুজুরাত: ১২)</p>
<p>১১. &#8220;মনমরা হয়ো না, দুঃখ করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।&#8221; (সূরা আলে-ইমরান: ১৩৯)</p>
<p>১২. &#8220;হে পুত্র! নামাজ কায়েম করো, সৎকাজের হুকুম দাও, খারাপ কাজে নিষেধ করো এবং যা কিছু বিপদই আসুক সে জন্য সবর করো। একথাগুলোর জন্য বড়ই তাকিদ করা হয়েছে। আর মানুষের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কথা বলো না, পৃথিবীর বুকে চলো না উদ্ধত ভঙ্গিতে, আল্লাহ পছন্দ করেন না আত্মম্ভরি ও অহংকারীকে। নিজের চলনে ভারসাম্য আনো এবং নিজের আওয়াজ নীচু করো। সব আওয়াজের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে গাধার আওয়াজ।&#8221; (সূরা লোকমান: ১৭-১৯)</p>
<p>১৩. &#8220;আমি তাওরাত নাযিল করেছি। তাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো। সমস্ত নবী, যারা মুসলিম ছিল, সে অনুযায়ী এ ইহুদী হয়ে যাওয়া লোকদের যাবতীয় বিষয়ের ফায়সালা করতো। আর এভাবে রব্বানী ও আহবারও (এরই ওপর তাদের ফায়সালার ভিত্তি স্থাপন করতো)। কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এবং তারা ছিল এর ওপর সাক্ষী। কাজেই (হে ইহুদী গোষ্ঠী।) তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় করো এবং সামান্য তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে আমার আয়াত বিক্রি করা পরিহার করো। আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী যারা ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।&#8221; (সূরা মায়েদা: ৪৪)</p>
<p>১৪. &#8220;তোমরা অন্যদের সৎকর্মশীলতার পথ অবলম্বন করতে বলো কিন্তু নিজেদের কথা ভুলে যাও। অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করে থাকো। তোমরা কি জ্ঞান বুদ্ধি একটুও কাজে লাগাও না?&#8221; (সূরা বাকারা: ৪৪)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> মহাগ্রন্থ আল কোরআন সুদ এবং যারা সুদি কারবার করে তাদেরকে এমনভাবে নিন্দা জানায় যার দৃষ্টান্ত অন্য কোনো কিতাবে কিংবা কোরআনের আগে পরে রচিত কোনো আইনের গ্রন্থে দেখা যায় না। কোরআন এমন এক সমাজের ধারণা তুলে ধরে, যে সমাজের মূল ভিত্তি হবে আখলাক ও ইহসান, এই জন্য এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোরআন উচ্চকণ্ঠ হতে বাধ্য হয়। কোরআন সুদকে এবং সকল ধরণের সুদি কারবারকে প্রত্যাখ্যান করে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় এবং যারা বৈধ পথে উপার্জন করে তাদের পক্ষাবলম্বন করে থাকে।</strong> কোরআন শুধুমাত্র এর মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে নি, একইসাথে সকল ধরনের শোষণ, মধ্যস্বত্বভোগী এবং অন্যায়ভাবে উপার্জন করে যারা জীবন নির্বাহ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান গ্রহণ করে।</p>
<p>১. &#8220;কিন্তু যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় ঠিক সেই লোকটির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। তাদের এই অবস্থায় উপনীত হওয়ার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলে: ব্যবসা তো সুদেরই মতো। অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই নসীহত পৌঁছে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদখোরি থেকে সে বিরত হয়, সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে। আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে, সে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানে সে থাকবে চিরকাল। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন। আর আল্লাহ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতিকারীকে পছন্দ করেন না। অবশ্যই যারা ঈমান আনে, সৎকাজ করে, নামাজ কায়েম করে ও যাকাত দেয়, তাদের প্রতিদান নিঃসন্দেহে তাদের রবের কাছে আছে এবং তাদের কোন ভয় ও মর্মজ্বালাও নেই। হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকদের কাছে তোমাদের যে সুদ বাকি রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও, যদি যথার্থই তোমরা ঈমান এনে থাকো। কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো তাহলে জেনে রাখো, এটা আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এখনো তওবা করে নাও (এবং সুদ ছেড়ে দাও) তাহলে তোমরা আসল মূলধনের অধিকারী হবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপর জুলুম করাও হবে না।&#8221; (সূরা বাকারা: ২৭৫-২৭৯)</p>
<p>২. &#8220;যে সুদ তোমরা দিয়ে থাকো, যাতে মানুষের সম্পদের সাথে মিশে তা বেড়ে যায়, আল্লাহর কাছে তা বাড়ে না। আর যে যাকাত তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দিয়ে থাকো, তা প্রদানকারী আসলে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করে।&#8221; (সূরা রূম: ৩৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>➤</strong><strong> সবশেষে, কেউ কেউ বিভিন্ন দলিলের উপর ভিত্তি করে জিহাদকে ইসলামের ষষ্ঠ রুকন বলে উল্লেখ করেছেন। আমিও তাদের এই মতকে সমর্থন করি। কারণ জিহাদবিহীন ইবাদত ও তাবলীগ রিয়া ছাড়া অন্যকিছু নয়। জিহাদ এবং শুধুমাত্র জিহাদের জযবাই পারে আমাদেরকে সত্যিকারের মুসলিম বানাতে।</strong></p>
<p>১. “আর তোমরা আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো, যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, কিন্তু বাড়াবাড়ি করো না। কারণ যারা বাড়াবাড়ি করে আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না।” (সূরা বাকারা: ১৯০)</p>
<p>২. “আল্লাহর পথে ব্যয় করো এবং নিজের হাতে নিজেকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না। অনুগ্রহ প্রদর্শনের পথ অবলম্বন করো, কেননা আল্লাহ অনুগ্রহ প্রদর্শনকারীদেরকে ভালোবাসেন।” (সূরা বাকারা: ১৯৫)</p>
<p>৩. তোমাদের যুদ্ধ করার হুকুম দেয়া হয়েছে এবং তা তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর। হতে পারে কোনো জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ। আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। (সূরা বাকারা: ২১৬)</p>
<p>৪. “তারপর তালুত যখন সেনাবাহিনী নিয়ে এগিয়ে চললো, সে বললোঃ “আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নদীতে তোমাদের পরীক্ষা হবে। যে তার পানি পান করবে সে আমার সহযোগী নয়। একমাত্র সে-ই আমার সহযোগী যে তার পানি থেকে নিজের পিপাসা নিবৃত্ত করবে না। তবে এক আধ আঁজলা কেউ পান করতে চাইলে করতে পারে। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক লোক ছাড়া বাকি সবাই সেই নদীর পানি আকণ্ঠ পান করলো। অতঃপর তালুত ও তার সাথী মুসলমানরা যখন নদী পেরিয়ে সামনে এগিয়ে গেলো তখন তারা তালুতকে বলে দিল, আজ জালুত ও তার সেনাদলের মোকাবিলা করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু যারা একথা মনে করছিল যে, তাদের একদিন আল্লাহর সাথে মোলাকাত হবে, তারা বললোঃ “অনেকবারই দেখা গেছে, স্বল্প সংখ্যক লোকের একটি দল আল্লাহর হুকুমে একটি বিরাট দলের ওপর বিজয় লাভ করেছে। আল্লাহ সবরকারীদের সাথী।” (সূরা বাকারা: ২৪৯)</p>
<p>৫. “অবশেষে আল্লাহর হুকুমে তারা কাফেরদের পরাজিত করলো। আর দাউদ জালুতকে হত্যা করলো এবং আল্লাহ তাকে রাজ্য ও প্রজ্ঞা দান করলেন আর এই সাথে যা যা তিনি চাইলেন তাকে শিখিয়ে দিলেন। এভাবে আল্লাহ যদি মানুষদের একটি দলের সাহায্যে আর একটি দলকে দমন না করতে থাকতেন, তাহলে পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হতো। কিন্তু দুনিয়াবাসীদের ওপর আল্লাহর অপার করুণা (যে, তিনি এভাবে বিপর্যয় রোধের ব্যবস্থা করতেন)।” (সূরা বাকারা: ২৫১)</p>
<p>৬. “হে ঈমানদারগণ! এ আহলে কিতাবদের অধিকাংশ আলেম ও দরবেশের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তারা মানুষের ধন- সম্পদ অন্যায় পদ্ধতিতে খায়, এবং তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখে। যারা সোনা রূপা জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না তাদেরকে যন্ত্রণাময় আযাবের সুখবর দাও।” (সূরা তওবা: ৩৪)</p>
<p>৭. “তোমাদের ওপর যখন বিপদ এসে পড়লো তোমরা বলতে লাগলে, এ আবার কোথায় থেকে এলো? তোমাদের এ অবস্থা কেন? অথচ (বদরের যুদ্ধে) এর দ্বিগুণ বিপদ তোমাদের মাধ্যমে তোমাদের বিরোধী পক্ষের ওপর পড়েছিল। হে নবী! ওদের বলে দাও, তোমরা নিজেরাই এ বিপদ এনেছো। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের ওপর শক্তিমান।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৬৫)</p>
<p>৮. “হে ঈমানদানগণ! সবরের পথ অবলম্বন করো, বাতিলপন্থীদের মোকাবলায় দৃঢ়তা দেখাও, হকের খেদমত করার জন্য উঠে পড়ে লাগো এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। আশা করা যায়, তোমরা সফলকাম হবে।” (সূরা আলে-ইমরান: ২০০)</p>
<p>৯. “হে ঈমানদারগণ! মোকাবিলা করার জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকো। তারপর সুযোগ পেলে পৃথক পৃথক বাহিনীতে বিভক্ত হয়ে বের হয়ে পড়ো অথবা একসাথে।” (সূরা নিসা: ৭১)</p>
<p>১০. “যে-সব মুসলমান কোন প্রকার অক্ষমতা ছাড়াই ঘরে বসে থাকে আর যারা ধন-প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, তাদের উভয়ের মর্যাদা সমান নয়। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের তুলনায় জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের মর্যাদা আল্লাহ বুলন্দ করেছেন। যদিও সবার জন্য আল্লাহ কল্যাণ ও নেকীর ওয়াদা করেছেন তবুও তাঁর কাছে মুজাহিদদের কাজের বিনেময়ে বসে থাকা লোকেদের তুলনায় অনেক বেশী।” (সূরা নিসা: ৯৫)</p>
<p>এখন আমি বিশেষ একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সেই বিষয়টি হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান। দ্বীনের বিষয় আসলে আমরা সাধারণত মানুষকে দুইভাগে বিভক্ত করে থাকি: মু’মিন (বিশ্বাসী) ও কাফির (অবিশ্বাসী)। যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব যে, এই ধরনের বিভাজন করলে খুবই সরলীকরণ হয়ে যায়। এই দুই ধরনের মানুষ ছাড়াও সমাজে তৃতীয় একটি দল রয়েছে, আমরা অনেক সময় তাদেরকে উল্লেখ করতে ভুলে যাই। এই তৃতীয় দলটি হলো এমন দল যারা নিজেদেরকে বিশ্বাসী (মুমিন) দাবি করে এবং বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে তারা এমন নয়। এরা কম হোক কিংবা বেশি হোক আল্লাহর ইবাদত করে, ঈদ উদযাপন করে, দ্বীনের নির্দিষ্ট কিছু আচার অনুষ্ঠান পালন করে। কিন্তু তারা ভয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করে, ব্যবসার ক্ষেত্রে মানুষকে প্রতারিত করে, অন্যের উপর ভর করে নিজের জীবন পরিচালনা করে, মদ পান করে, হারামভাবে জীবনকে উপভোগ করে এবং যেন এক হাজার বছর বেঁচে থাকবে এমনভাবে জীবন, সম্পদ ও পদপদবীকে ভয়ের সাথে রক্ষা করে অথবা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবানদের চাটুকারী করে। এই ধরণের মানুষদের অভিন্ন ও সুস্পষ্ট একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে &#8211; ‘ভয়’। আর এই ভয় তাদের জীবনের জন্য, তাদের সম্পদের জন্য এবং তাদের পদ-পদবীর জন্য। তাদের জীবন যেন ভয়কে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়ে থাকে। তাদের সকল প্রচেষ্টা হয়ে থাকে শক্তিশালী গোষ্ঠীর কিংবা সরকারের সমর্থন অর্জন করার জন্য।</p>
<p>আর তাদের এত সকল ভয়ের মধ্যে একটি ভয়ের ঘাটতি রয়েছে আর সেটি হলো &#8211; “আল্লাহর ভয়”। তারা তাদের এই রুহ এবং অনির্ধারিত দ্বিমুখী একটি পরিবেশের মধ্যে বসবাস করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলে থাকে। তবে আমরা যদি এই তৃতীয় দলটির অস্তিত্বকে বিবেচনায় ধরি তাহলে দুনিয়ার অনেক কিছুকে অনেক সহজভাবে বুঝতে পারব। ‘কী হচ্ছে’, এর সাথে ‘কেন হচ্ছে’ সেটাও আমরা বুঝতে পারব।</p>
<p>বর্তমান মুসলিম উম্মাহর মধ্যে দ্বীনের সত্যিকারের অনুসারীর সংখ্যা খুবই কম, তবে মৌখিকভাবে দ্বীনের স্বীকৃতিদানকারীদের সংখ্যা অনেক। দ্বীনের জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গকারীদের সংখ্যা খুবই কম, তবে দ্বীনকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারকারীদের সংখ্যা অনেক। এরা দ্বীনকে শর্তহীনভাবে সামনে নিয়ে আসে, তবে ঐ একই দ্বীনের চাওয়াকে ব্যক্তিগত জীবনে খুব কমই বাস্তবায়ন করে। এই প্যারাডক্স এবং বাহ্যিকতা ও অভ্যন্তরের মধ্যকার এই অন্তর্দ্বন্দ্ব মুসলিম উম্মাহর বর্তমান অবস্থাকে ব্যাখ্যা করার জন্য খুবই সহায়ক।</p>
<p>মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোরআনের যে অবস্থান, তা আজকের অবস্থাকে খুব করুণভাবে তুলে ধরেছে। আজ মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের ঘরে গিয়ে দেখবেন কোরআনকে সবচেয়ে উঁচু স্থানে তুলে রাখা হয়েছে। কোরআনকে সবচেয়ে ভালো উপহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কোরআন ছাপার জন্য সবচেয়ে ভালো মানের কাগজ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মানুষ এখনো কোরআনের আয়াত দিয়ে সুন্দর সুন্দর ক্যালিগ্রাফি অঙ্কন করে এবং এর পৃষ্ঠা সমূহকে চাকচিক্য করে তুলে ধরার জন্য প্রতিযোগিতা করে।</p>
<p>শিশুরাও সর্বপ্রথম যে বইটি পড়তে শেখে সেটি হলো কোরআন। কিন্তু তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ এর মধ্যে আসলেই কী লেখা আছে, সেটা না জেনে এবং সেটার গুরুত্ব না বুঝেই বড় হবে ও জীবন যাপন করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোরআন হলো অনেক বড় একটি شعائر (সিম্বল)। কিন্তু বর্তমানে কুরআনকে এই শায়ায়ীর বা নিদর্শনের মাঝেই সীমাবদ্ধ রেখে জীবন পাথেয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।</p>
<p>একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, কোরআন বুঝে পড়ার চেয়ে সুন্দর সুরে কোরআন পড়াকে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। আবার সুর দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরব হোক কিংবা অনারব হোক, কেহই কোরআনের মৌলিক অর্থে উপনীত হতে পারছে না। এছাড়াও কোরআনের রয়েছে অনুপম এক সুরের দ্যোতনা। কখনো আদেশ দানকারী ও নিশ্চিত অর্থবোধক, আবার কখনো মিষ্টিভাবে সতর্ককারী ও দাওয়াতদানকারী এবং উচ্চস্বরে সতর্ককারী। কিন্তু যারা সুন্দর সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করেন, তারা কি এসব বিষয় খেয়াল রাখেন?</p>
<p><strong>দ্বীন আরাম আয়েশের জন্য নয়। দ্বীন হলো একটি আহ্বান, একটি দায়িত্ব, একটি আবেদন। সত্যিকারের ঈমানদ্বার ও জযবাধারী একটি প্রজন্ম, জযবা ও চেতনাহীনভাবে দ্বীনকে ধারণাকারী একটি প্রজন্ম থেকে অনেক কিছু করতে সক্ষম। বিগত ১৪০০ বছর ধরে ইসলামের মধ্যে যে সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং যে আখলাক দেখতে পাচ্ছি, এটা শুরুর দিকের ৩ টি মুসলিম প্রজন্ম কর্তৃক তৈরিকৃত। ১৪০০ বছর আগে সেই তিনটি প্রজন্ম যা কিছু করেছেন মুসলিম উম্মাহ আজও সেটার উপরেই দাঁড়িয়ে আছে। তাদের পরবর্তীতে যারাই এসেছে তারা সকলেই এই তিন প্রজন্মকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাদের নিকট থেকে প্রেরণা নিয়েছেন।</strong></p>
<blockquote><p>এই কারণে মুসলিম দেশসমূহে ভবিষ্যতে যে সকল বিপ্লব হবে তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম হবে দ্বীনি বিপ্লব। মানুষের রুহ এবং কলবের মধ্যে সংগঠিত হওয়া এই বিপ্লব অনেক মুজিযার জন্ম দিবে। আজকে যে সকল বিষয়কে অসম্ভব ও অকল্পনীয় মনে হচ্ছে সেই সকল কিছু অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে এই অদৃশ্য বিপ্লবের বদৌলতে। রুহ ও কালবের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই বিপ্লবের বদৌলতে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবদিগন্ত উন্মোচিত হবে, শোষক ও দখলদারদেরকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করবে, অভাব, কুসংস্কার, আদালতহীনতা, জুলুম ও মূর্খতা বিদায় নিবে। আমাদের শহর ও গ্রামগুলো হবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি &#8211; এমন অনেক ক্ষেত্রে এমন এমন কাজ হবে, যেটার বদৌলতে মানুষ দেখতে পাবে এক নব সংস্কৃতি ও নব দিগন্ত।</p>
<p><span style="font-size: 16px;">হে আল্লাহ, তুমি সকল মুসমানদেরকে এবং সকল মানুষকে ঈমান দান করো। আমিন।</span></p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>(সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/mamunmuzahid123/"><strong>বুরহান উদ্দিন আজাদ</strong></a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/tafaqqur-on-the-occasion-of-1400-years-of-quran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13036</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ধর্ম ও আইন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/religion-and-law/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/religion-and-law/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 Jan 2023 15:02:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[আইন]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্ম]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্ম ও আইন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7610</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী ব্যবস্থা এর দ্বারা আমরা কি বুঝি? আমাদের প্রজন্ম এটাকে কিভাবে বুঝেছে? যে প্রজন্ম এটাকে নিয়ে চিন্তা করেছে এর ব্যাপারে কথা বলেছে ও অনুপ্রাণিত হয়েছে। খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ইসলামী ব্যবস্থাকে এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃ ধর্ম ও আইন, শিক্ষা এবং শক্তি,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী ব্যবস্থা এর দ্বারা আমরা কি বুঝি? আমাদের প্রজন্ম এটাকে কিভাবে বুঝেছে? যে প্রজন্ম এটাকে নিয়ে চিন্তা করেছে এর ব্যাপারে কথা বলেছে ও অনুপ্রাণিত হয়েছে।</p>
<blockquote><p><em>খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ইসলামী ব্যবস্থাকে এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃ ধর্ম ও আইন, শিক্ষা এবং শক্তি, আদর্শ ও স্বার্থ, আধ্যাত্মিক সমাজ ও রাষ্ট্র এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও জোরপূর্বকতার ঐক্য।</em></p></blockquote>
<p>এই সকল উপাদান সমূহের সংশ্লেষণ হিসেবে ইসলামী ব্যবস্থার দুইটি মৌলিক ভিশন রয়েছে। একটি হল ইসলামী সমাজ অপরটি হল ইসলামী ক্ষমতা। প্রথমটি হল ইসলামী ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয়বস্তু আর দ্বিতীয়টি হল এর বাহ্যিক অবয়ব। ইসলামী ক্ষমতা ছাড়া ইসলামী সমাজ অসম্পূর্ণ এবং শক্তিহীন; আর<strong><em> ইসলামী সমাজ বিহীন ইসলামী ক্ষমতা হয়ত ইউটোপিয়া (কাল্পনিক) আর না হয় জুলুম</em></strong>।</p>
<p>সাধারণভাবে মুসলমানগণ ব্যক্তি হিসেবে অস্তিত্ববান নয়। মুসলমান হিসেবে যদি বসবাস করতে চায় ও টিকে থাকতে চায় তাহলে ঐ পরিবেশ, ঐ সমাজ, এবং ঐ ব্যবস্থা তাকে সৃষ্টি করতেই হবে।<strong><em> সে দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে বাধ্য আর না হয় দুনিয়া তাকে তার মত করে পরিবর্তন করে দিবে</em></strong>। ইতিহাসে সত্যিকারের এমন কোন ইসলামী আন্দোলন নেই যা একই সাথে রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না। অর্থাৎ আমাদের ইতিহাসে প্রতিটি ইসলামী আন্দোলনই এক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। এর কারণ হল ইসলাম একটি দ্বীন হওয়ার পাশাপাশি একই সাথে ইসলামের একটি দর্শন, আখলাক, ব্যবস্থা, পন্থা, আবহাওয়া রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে ইসলাম সমগ্র জীবনকেই পরিগ্রহকারী একটি বিষয়। ইসলামী বিশ্বাস ও ধারণা নিয়ে, অনৈসলামী জীবন ধারা, বিনোদন এবং পরিচালনা মোটেই সম্ভবপর নয়। এই অবস্থা হয় মুনাফিক আর না হয় অসুখী ও বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের লোকদের জন্য প্রযোজ্য। (তারা না পারে কোরআনকে পরিত্যাগ করতে আর না পায় সেই শক্তি যে শক্তির মাধ্যমে তারা যে অবস্থায় বসবাস করছে সেই অবস্থাকে পরিবর্তন করতে)। যারা এক ধরণের সন্ন্যাসী জীবন এবং একাকীত্ত্বকে বেছে নেয় (দুনিয়া ইসলামী না হওয়ার কারণে তারা নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নেয়) কিংবা অবশেষে ইসলাম সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে যারা দ্বিধাদন্দে থাকে তারা ইসলামকে পরিত্যাগ করে প্রচলিত জীবন ব্যবস্থাকে এবং মওজুদ দুনিয়া যেভাবে চলছে সেটাকেই গ্রহণ করে থাকে। অন্য কথায় বলতে গেলে অন্যরা এই দুনিয়াকে যেভাবে গঠন করেছে সেটাকেই তারা গ্রহণ করে নেয়।</p>
<p>কিন্তু ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা এমন এক সমাজ ব্যবস্থা যে সমাজে এই ধরণের কোন বৈপরীত্য নেই। মুসলমানদের গঠিত সমাজ সকল কিছুর সমন্বয়ে সমাজে অসাধারণ এক ঐকতান তৈরি করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কেউ যদি আমাদের প্রশ্ন করে যে মুসলিম সমাজ কি?</strong></p>
<p><em>আমরা এই প্রশ্নের জবাবে বলি মুসলমানদের তৈরি সমাজই হল মুসলিম সমাজ। আর এই সমাজ এমন এক সমাজ যে সমাজে কোন বৈপরীত্য নেই। সকল কিছুই চলে ঐকতানের মধ্য দিয়ে। মুসলিম সমাজ বলতে আমরা এটাই বুঝি এবং এটাই হল সমাজের পরিপূর্ণ রূপ।</em></p>
<p><strong>কোন ব্যবস্থাই নিজে নিজে কখনো ইসলামী কিংবা অনৈসলামি হয় না। একটি ব্যবস্থাকে মানুষ যে ভাবে ও যে সকল মূলনীতির আলোকে গড়ে তুলে সেটা সেই সকল মূলনীতির আলোকে সেভাবেই গড়ে উঠে। আর এই কারণে সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে মানুষের তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠান সমূহ, এই সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক সমূহ ও আইন কানুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</strong></p>
<p>ইউরোপীয়ানরা বিশ্বাস করে থাকে যে সমাজ মূলত আইন কানুনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রবেশ করে। সেই একদম প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ থেকে শুরু করে উৎকৃষ্ট/পারফেক্ট একটি ব্যবস্থার ইউটোপিয়া পর্যন্ত, আর এই ইউটোপিয়া সমূহের মধ্যে মার্কসিজম পর্যন্ত, ইউরোপের রূহ, সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক সমূহ খুব সাধারণ পরিবর্তন সমূহের মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট/পারফেক্ট একটি সমাজে পরিণত হবে এর পেছনে ছুটে চলছে।</p>
<p>এই কারণে কোরআনে কারীমে খুব কম সংখ্যক ‘ আইন’ রয়েছে। কোরআন বহুলাংশে এমন একটি দ্বীনের প্রত্যাশা করে যে দ্বীনের আলোকে মানুষ তার জীবনকে পুনর্বিন্যাস করবে।</p>
<blockquote><p>আইনের আধিক্যতা ও বিচার ব্যবস্থার জটিলতা সাধারণত সমাজে ‘কোন কিছুর ভঙ্গুরতা’-র দিকে ইশারা করে আমাদেরকে বলে থাকে যে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করার পরিবর্তে সমাজের মানুষকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের মধ্যকার ব্যধি যখন একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম ফেলে তখন আইন কানুন সমূহ অক্ষম (শক্তিহীন) হয়ে যায়। তখন ঐ সকল আইন কানুন সমূহ হয় দুর্নীতিবাজ ও মন্দ বিচারব্যবস্থার হাতে গিয়ে পড়ে আর না হয় ভঙ্গুর সমাজের প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য প্রতারণার উপাদানে পরিণত হয়।</p></blockquote>
<p>মদ, জুয়া ও যাদু এই খারাপ বিষয় তিনটি মধ্যপ্রাচ্যে খুবই প্রচলিত ও সমাজের গভীরে প্রোথিত ছিল। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের একটি আয়াতের মাধ্যমে ও একটি ব্যাখ্যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সে সকল বিষয়কে হারাম করেছেন এবং দীর্ঘ একটি সময়কাল পর্যন্ত ও অনেক বিশাল একটি অঞ্চল থেকে এই খারাপ বিষয় সমূহের মূলোৎপাটন করেছেন। এই দ্বীনের শিক্ষা ও শক্তি যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন এই সকল খারাপ বিষয় সমূহ ও বিভিন্ন বাতিল মতবাদ সমূহ নতুন শক্তি নিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সকল খারাপ বিষয় সমূহ পুনরায় মানব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এই সকল বিষয়কে বাঁধা দিয়ে দমন করার মত কোন শক্তি কিংবা সংস্কৃতি না থাকায় এই সকল বিষয় বাঁধাহীন ভাবে সমগ্র দুনিয়াতেই ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামেরিকার Prohibition Law&nbsp; শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং দুনিয়ার সবচেয়ে সংগঠিত একটি সমাজের শক্তির মাধ্যমে প্রয়োগ করার পরেও বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ শতাব্দীর দিকে ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে এই আইনকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। অ্যামেরিকা এই আইনকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ১৩ বছর ধরে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায় এবং জুলুমে পূর্ণ অনেক সহিংস কর্মকাণ্ড করে। কিন্তু এই আইনকে বলবদ রাখতে সক্ষম হয়নি। স্কেন্ডিনেভিয়ান&nbsp; দেশ সমূহেও এই আইন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তারাও অ্যামেরিকার মত একই ভাবে ব্যর্থ হয়।</p>
<p><em><strong>এই সকল উদাহরণ এবং এই ধরণের আরো অনেক উদাহরণ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে একটি সমাজকে কেবলমাত্র আল্লাহর নামে এবং মানুষকে শিক্ষা (তারবিয়া) দেওয়ার&nbsp; মাধ্যমেই সংশোধন করা সম্ভব। তাই আমরা যদি সমাজকে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজে পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে এই নিশ্চিত এবং একমাত্র পথকেই অবলম্বন করতে হবে।</strong></em></p>
<p>ইসলাম তার নীতি দর্শনকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক এবং অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতির উপরেই নির্ভর করেনি। ইসলাম একই সাথে শয়তানের হাতে থাকা উপাদান সমূহকে একের পর এক দুর্বল করে দেওয়ার জন্যও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ইসলামী যদি মানুষ ও দুনিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষকে কেন্দ্রে স্থান না দিত তাহলে দ্বীন বলে কিছু হত না। মানুষকে যদি কেন্দ্রে স্থাপন না করত তাহলে ঈসার নীতি ও আদর্শকে পুনরাবৃত্তিকারী একটি দ্বীন ছাড়া আর অন্য কিছু হত না। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর সুন্নত ও কোরআনে কারীমের মাধ্যমে ইসলাম মানুষকে ইনসানে কামিলে (পরিপূর্ণ মানুষ) রূপান্তরিত করেছে। এবং এই কাজ করার ক্ষেত্রে দুনিয়ার সাথেও ইসলাম সম্পর্ক তৈরি করে বিশ্বকে বিনির্মাণ করেছে। এই সকল কিছুর মাধ্যমে ইসলাম মানুষের সমগ্র জীবনকে পরিগ্রহকারী একটি জীবন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। দ্বীনের সাথে আইন এবং তারবিয়ার সাথে শক্তি একত্রিত হয়েছে এবং ইসলাম এই ভাবে একটি বিশ্বব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>উৎসঃ ইসলামী ডেক্লারেশন।</strong></p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/religion-and-law/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7610</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মুসলিম সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হতে হবে?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-should-the-education-system-of-a-muslim-society-be/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-should-the-education-system-of-a-muslim-society-be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 22 Jan 2023 16:28:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হতে হবে?]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7604</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী সমাজের মূলভিত্তি দ্বীন হওয়ায় তারবিয়া শুধুমাত্র একটি বাধ্যবাধকতা নয় এটি একই সাথে তাঁর অস্তিত্বের সাথেও সম্পর্কিত একটি বিষয়। দ্বীন ও আখলাকী তারবিয়া সর্বাগ্রে শুরু হয় পরিবারে এবং পরবর্তীতে তা সমাজে ও বিদ্যায়তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। ইসলামী ব্যবস্থার বিশেষ দায়িত্ত্ব]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ইসলামী সমাজের মূলভিত্তি দ্বীন হওয়ায় তারবিয়া শুধুমাত্র একটি বাধ্যবাধকতা নয় এটি একই সাথে তাঁর অস্তিত্বের সাথেও সম্পর্কিত একটি বিষয়। দ্বীন ও আখলাকী তারবিয়া সর্বাগ্রে শুরু হয় পরিবারে এবং পরবর্তীতে তা সমাজে ও বিদ্যায়তনের মাধ্যমে বিকশিত হয়।</strong></p>
<p>ইসলামী ব্যবস্থার বিশেষ দায়িত্ত্ব হল, মানুষকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যে সকল উপাদান প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সেই সকল নেতিবাচক প্রভাবকে সমূলে উৎখাত করার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করা। ইসলাম যে সকল বিষয়কে নিষেধ করেছে এবং ইসলামী ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সকল উপাদানের প্রসার একেবারেই প্রতিহত করতে হবে সেগুলো হল;</p>
<p>১। জাতিকে মাদকাসক্তিতে আসক্ত করতে পারে এমন সকল উপাদানের রোধন।<br />
২। মুক্ত ও গুপ্ত গণিকাবৃত্তি।<br />
৩। কথা, ছবি, ফিল্ম, টিভি প্রভৃতিতে পর্ণগ্রাফি-অশ্লীলতার প্রসার রোধ।<br />
৪। ইসলামের আখলাকী মূল্যবোধের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্যাসিনো, নাইট ক্লাব, ক্যাবারে এবং এই ধরণের তথা কথিত বিনোদনের উপাদান সমূহ।</p>
<p>এই ধরণের সমন্বিত তারবিয়ার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কাজের অভ্যাস এবং প্রশিক্ষণ। মুসলিম জগতকে বর্তমান দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হলে ইসলামী ঐক্যের পাশাপাশি শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটাতে হবে। মুসলিম দেশগুলোর হাতে যথেষ্ট পরিমাণে পুঁজি নেই। এরূপ হওয়ার কারণে মুসলমানদের হাতে যা আছে তাঁর সর্বোচ্চটুকু শিক্ষাখাতেই বিনিয়োগ করা দরকার। জ্ঞান-বিজ্ঞান ব্যবহারের যথার্থ ক্ষমতা অর্জন ব্যতিত এবং এই অর্জনকে আরও অগ্রসর করা ছাড়া মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত আজাদী আসবে না। ইসলাম তার প্রারম্ভের সূচনাকাল থেকেই কোন প্রকার দ্বিধাদন্দ ছাড়াই তাঁর পূর্বের সভ্যতা সমূহের সামষ্টিক জ্ঞান ভাণ্ডার থেকে অনেক কিছুই অর্জন করেছে এবং সেই সকল জ্ঞানকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছে।</p>
<p>অথচ মুসলমানগণ আজ কেন ইউরোপ ও অ্যামেরিকার যে অর্জন সে অর্জন থেকে উপকৃত হওয়ার পন্থাকে গ্রহণ না করে অন্য পন্থা গ্রহণ করছে? অথচ ইউরোপ ও অ্যামেরিকার সাথে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অর্থাৎ, আমরা তাঁদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করব কি করব না বিষয়টি এই সম্পর্কীয় নয়। আমরা যদি আমাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে চাই বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক তৈরি করতে হবে এবং এগুলোকে মানব কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।</p>
<blockquote><p><strong>এখানে প্রশ্ন হল আমরা কি এটাকে আমাদের আত্ম-মর্যাদাকে রক্ষা করে সৃষ্টিশীল কিংবা যান্ত্রিকভাবে করব নাকি হীনমন্যতার সাথে করব? আমরা কি এই অনিবার্য যাত্রায় পরাজয় বরণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হব নাকি আমাদের আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সুরক্ষাদানের জন্য প্রচেষ্টা চালাব?</strong></p></blockquote>
<p>এই হাকীকতকে সামনে রেখে একথা বলতে দ্বিধা নেই যে, শিক্ষাই হল একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা মুসলিম উম্মাহর গুণগত ও পরিমাণগত, জরুরী ও বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। গুণগত পরিবর্তন অর্থে শিক্ষা মুসলিম উম্মাহর উপর ভিন্ন জাতির জাগতিক ও নৈতিক নির্ভরশীলতাকে কমিয়ে এনে মুসলমানদেরকে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে ও মুসলিম সমাজের একজন সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার প্রতি জোর দিলে, মুসলিম সমাজে দীর্ঘকালে ধরে দানা বেঁধে উঠা সমস্যাকে দূরীভূত করতে সাহায্য করবে এবং সকলেই যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উপকৃত হতে পারে এই জন্য শিক্ষাকে তাঁদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। আর এই কারণে শুরুর দিকে মসজিদ সমূহকে স্কুল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।</p>
<p><strong><em>কেননা আমরা যদি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যর্থ না হই তাহলে এমন ক্ষেত্র নেই যেখানে আমরা বিজয়ী হব না।</em></strong></p>
<p>অনুবাদক: <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ </a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-should-the-education-system-of-a-muslim-society-be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7604</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামের পুনর্জাগরণ: ধর্মীয় বিপ্লব নাকি রাজনৈতিক বিপ্লব</title>
		<link>https://rowyakbd.com/islamic-renaissance-religious-revo-lution-or-political-revolution/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/islamic-renaissance-religious-revo-lution-or-political-revolution/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 21 Oct 2022 14:44:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামের পুনর্জাগরণ: ধর্মীয় বিপ্লব নাকি রাজনৈতিক বিপ্লব]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক বিপ্লব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7477</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী ব্যবস্থা একই সাথে বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমন্বয়। তাহলে ইসলামী ব্যবস্থায় কিভাবে উপনীত হব? ধর্মীয় নবায়নের মাধ্যমে নাকি রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে? এই প্রশ্নের জবাব হল, ধর্মীয় চিন্তার নবায়ন ছাড়া ইসলামের পুনর্জাগরণ শুরু হবে না, তবে রাজনৈতিক বিপ্লব ছাড়াও এটা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী ব্যবস্থা একই সাথে বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমন্বয়। তাহলে ইসলামী ব্যবস্থায় কিভাবে উপনীত হব? ধর্মীয় নবায়নের মাধ্যমে নাকি রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে?</p>
<p>এই প্রশ্নের জবাব হল, <strong><em>ধর্মীয় চিন্তার নবায়ন ছাড়া ইসলামের পুনর্জাগরণ শুরু হবে না, তবে রাজনৈতিক বিপ্লব ছাড়াও এটা সফলতার সাথে পূর্ণতায় পৌঁছাবে না। এই জবাব, ইসলামী পুনর্জাগরণকে দ্বিমুখী একটি বিপ্লব হিসেবে সঙ্গায়িত করে।</em></strong> একটি হল, আখলাকী বিপ্লব, অপরটি হল সামাজিক বিপ্লব। এই জবাবের মধ্যে ধর্মীয় চিন্তার নবায়নের প্রতি বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। এর প্রতি জোর দেওয়ার কারণ হল, ইসলামের প্রকৃতি ও মূলনীতি সমূহের পাশাপাশি মুসলিম দুনিয়ার কিছু অবশ্যস্বীকার্য বাস্তবতা।</p>
<p>আজকে যদি আমরা মুসলিম দেশ সমূহের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, মুসলমানদের মধ্যে আজ আখলাকহীনতা, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, কুসংস্কার, অলসতা, দ্বিমুখীতা, অনৈসলামী কৃষ্টি-কালচার এবং চরম বস্তুবাদীতা ব্যপকভাবে দানা বেঁধে উঠেছে। শুধু তাই নয় এর সাথে যুক্ত হয়েছে উদ্যোগ ও স্বপ্নের নির্মম অনুপস্থিতি। অবস্থা যখন এমন তখন কি কোন ধরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার অনতিবিলম্বে শুরু করা সম্ভব?</p>
<blockquote><p><strong>ইতিহাসের মঞ্চে যথাযথ ভূমিকা পালন করার পূর্বে প্রত্যেক জাতিকেই একটি অভ্যন্তরীণ আত্মশুদ্ধির পথ পাড়ি দিতে হয় এবং কিছু কিছু মৌলিক আখলাকী মূল্যবোধকে সত্যিকার ভাবে হৃদয় দিয়ে ধারণ করতে হয়। দুনিয়ার মঞ্চে আত্মপ্রকাশকারী প্রতিটি শক্তিই, বলিষ্ঠ আখলাকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। আর প্রতিটি পরাজয়ই শুরু হয় আখলাকী অধঃপতনের মধ্য দিয়ে। যা কিছুই করতে চাওয়া হোক না কেন সর্বাগ্রে সেটা মানুষের রূহের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা রূহের জাগরণ ছাড়া কোন জাগরণই সম্ভবপর নয়।</strong></p></blockquote>
<p>ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পূর্ব শর্ত হিসেবে ইসলামী চিন্তার নবায়ন বলতে কি বুঝানো হয় ?</p>
<p><strong>সর্বাগ্রে এটা দুইটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেঃ নতুন এক জজবা ও নতুন এক ইচ্ছাশক্তি (ইরাদা)</strong></p>
<p>ধর্মীয় চিন্তার নবায়ন করার অর্থ&nbsp; হল,&nbsp; জীবনের মূল উদ্দেশ্য কি, কেন ও কিসের জন্য বেঁচে আছি এবং কিভাবে বেঁচে থাকা প্রয়োজন , এই সকল বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট একটি জজবার অধিকারী হওয়া। এই উদ্দেশ্য কি ব্যক্তিগত কিংবা অভিন্ন কিছু মানে উন্নীত হওয়া ,&nbsp; নিজ দেশ ও জাতির জন্য মান-মর্যাদা বইয়ে নিয়ে আসা, নিজেকে সত্যায়িত করা, নাকি আল্লাহর বিধানকে দুনিয়াতে বিজয়ী করা? আমাদের অবস্থান থেকে ধর্মীয় চিন্তার নবায়ন করার অর্থ হল, নিজেকে মুসলমান বলে দাবিকারী কিংবা তাঁদেরকে এই নামে অভিহিত করার ব্যক্তিদেরকে ইসলামীকরণ করা। এই ইসলামীকরণের সূচনাবিন্দু হল, আল্লাহর প্রতি অটল ও অবিচল ঈমান এবং ইসলামের যে আখলাকী মূল্যবোধ রয়েছে সেই সকল মূল্যবোধকে যথাযথ আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়ন।</p>
<p>ধর্মীয় চিন্তার&nbsp; নবায়নের দ্বিতীয় মৌলিক ধাপ হল, মূল উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত জজবার যে দাবী সে দাবীকে বাস্তবায়ন করার জন্য প্রস্তুত থাকা। এই কারণে ধর্মীয় চিন্তার নবায়নের অর্থ হল মানসম্পন্ন একটি উচ্চ আখলাক ও উৎসাহ-উদ্দীপনাকে হৃদয়ে লালন করা এবং&nbsp; <strong>বস্তুর উপর রূহের প্রভাব যে অপরিসীম এটার উপর বিশ্বাস করা</strong>। শুধু তাই নয়, এমন একটি আদর্শ লালন করা যে আদর্শ সাক্ষ্য দেয় সাধারণ মানুষ অসীম সাহসী হয়ে থাকে এবং তাঁরা আত্মত্যাগের জন্যও সদা প্রস্তুত থাকে। বিশ্বাস ও ইচ্ছাশক্তির (ইরাদা) দিক থেকেও এটা অনেকটা নতুন ধরণের বিশ্বাস ও উদ্যোগ যার ভিত্তিতে সবাই তাঁদের আদর্শের জন্য চূড়ান্ত ত্যাগ স্বীকার করতে উজ্জীবিত হবে।</p>
<p>এই নব চেতনা ও রূহে উপনীত হওয়া ছাড়া বর্তমান মুসলিম উম্মাহর মধ্যে সত্যিকারের কোন পরিবর্তন আসা সম্ভবপর নয়।</p>
<p><strong><em>এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময় অনেক সময় দেখতে পাই যে,&nbsp; অনেকেই সংক্ষিপ্ত পন্থায় ক্ষমতা দখল করে ইসলামী ব্যবস্থাকে বাস্তবায়ন করার কথা চিন্তা করে থাকেন। তাঁরা বলে থাকেন যে এই ভাবে ক্ষমতায় গিয়ে তাঁরা যথাযথ প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে জনগণকে ধর্মীয়, আখলাকী ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা দিয়ে ইসলামী ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন।&nbsp;</em></strong></p>
<p><strong><em>এই ধরণের চিন্তা প্রলোভন ছাড়া অন্য কিছু নয়। ইতিহাসের পাতায় এমন কোন সত্যিকারের বিপ্লব পাওয়া যায় না, যা ক্ষমতার বিন্দু থেকে শুরু হয়েছে। সত্যিকারের বিপ্লব শিক্ষার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং সেই শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁর মূলে আখলাকী একটি আহ্বানকে ধারণ করেছে।&nbsp;&nbsp;</em></strong></p>
<p>অপর দিক থেকে যারা ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাকে ক্ষমতা ও বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করতে চান, তাঁদেরকে যদি প্রশ্ন করা হয় এমন ধরণের সরকার ও প্রতিষ্ঠান কোথা থেকে আসবে? তখন তাঁরা এই প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেন না। এই ধরণের সরকার কে প্রতিষ্ঠা করবে? কে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে এবং এই সরকার ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ কোথা থেকে আসবে? সর্বশেষে, এই সরকারের কর্মকাণ্ড সমূহকে কে পর্যবেক্ষণ করবে এবং যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত হবে সেটাকে বাদ দিয়ে যে তাঁরা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা শুরু করবে না এর নিশ্চয়তা কে দিবে?</p>
<p>ক্ষমতায় যারা থাকে তাঁদেরকে এক গ্রুপকে দিয়ে অন্য গ্রুপকে পরিবর্তন করা যায়, এটা নিত্তনৈমিত্তিক&nbsp; একটি ব্যাপার। একজনের জুলুম ও স্বৈরতন্ত্র অপরের মাধ্যমে পরিবর্তন করা কিংবা দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পদও অপরের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব। নাম, পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত এবং স্লোগান সমূহকে পরিবর্তন করা যায়।&nbsp; কিন্তু&nbsp;&nbsp; এসব কিছুর মাধ্যমে পৃথিবীর এক নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে ইসলামী ব্যবস্থার কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব নয়, যার মাধ্যমে মানুষের সাথে নিজের, অন্যের এবং তাবৎ জগতের এক নতুন সম্পর্কের গতিপথ রচিত হয়।</p>
<p>শক্তি অর্জন কিংবা ক্ষমতা দখলের ভাবনার মধ্যে আছে মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা, নিজের প্রবৃত্তির মোকাবেলায় যে জিহাদ তার প্রাথমিক ও কষ্টদায়ক পথটা পরিহার করা। <strong><em>মানুষকে তৈরি করে তাঁকে পরিচালনা করা কঠিন কিন্তু তাঁর চেয়েও কঠিন হল নিজেকে তৈরি করে সঠিক পথে পরিচালিত করা।</em></strong></p>
<blockquote><p>ধর্মীয় পুনর্জাগরণের সূচনাই হয় নিজেকে দিয়ে এবং নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে। অপর দিকে শক্তি প্রয়োগ ও জবরদস্তির ঘটনা ঘটে অন্যকে দিয়ে। আর এ&nbsp; কারণেই এই চিন্তাটা এত বেশী চিত্তাকর্ষক।</p></blockquote>
<p>এই কারণে যে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হল ইসলামী ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা, সর্বাগ্রে সেই আন্দোলনকে একটি আখলাকী আন্দোলন হতে হবে। আর এই ধরণের আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল মানুষকে আখলাকী দৃষ্টিকোণ থেকে উজ্জীবিত ও উচ্চ মর্যাদায় আসীন করা যাবে । মানুষ যেন আরও ভালো মানুষে পরিণত হতে পারে এই জন্য আন্দোলনের মধ্যে আখলাকী কর্মকাণ্ডের ধারাকে ব্যাপকভাবে জারী রাখতে হবে। ইসলামী আন্দোলন ও সাধারণ রাজনৈতিক দলের মধ্যে এটাই হল মৌলিক পার্থক্য। কেননা সাধারণ রাজনৈতিক দলসমূহ একই চিন্তা ও অভিন্ন স্বার্থে একত্রিত হওয়ার পরে তাঁদের মধ্যে আখলাকী কোন মূল্যবোধ কিংবা আখলাকী কোন দায়িত্ত্ববোধ নেই।</p>
<p>ধর্মীয় চিন্তার নবায়নকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি অন্যান্য উৎসের পাশাপাশি ইসলামের মূল উৎস সমূহের মধ্যেও সুস্পষ্টভাবে দেখতে পাওয়া যায়।</p>
<p><strong>প্রথমত,</strong> কোরআনে কারীম উল্লেখ করেছে যে অভ্যন্তরীণ পুনর্জাগরণ হল জনগণের অবস্থার পরিবর্তন বা উন্নতির পূর্বশর্ত।</p>
<p><strong>দ্বিতিয়ত,</strong> এই অমোঘ বিধানটি হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কর্তৃক&nbsp; ইসলামী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রামে এবং প্রথম যুগে ইসলামকে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের পাতায় সত্যায়িত হয়ে আছে। প্রথম তের বছর ধরে কোরআনে কারীমের শুধুমাত্র ঈমানী ও দায়িত্ত্বশীলতা সংক্রান্ত বিষয়ে জোর প্রদানের বিষয়টিও এই বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে। এই ১৩ বছর ধরে কোরআনে কারীম কোন ক্রমেই রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে কোন ধরণের মতামত পেশ করেনি এবং সামাজিক সমস্যা সংক্রান্ত ইসলামী কোন সমাধানও তুলে ধরেনি।</p>
<p><strong>ধর্মীয় চিন্তার নবায়নের পূর্বে তিনটি গুরুত্ত্বপূর্ণ বিষয় চাই;</strong></p>
<p><strong>১।</strong> কোরআনে কারীমের আদেশ সমূহের, বিশেষ করে শিকড় সমূহ গভীরে প্রোথিত এমন সামাজিক সমস্যা সমূহ সংক্রান্ত বিষয়াদি কিংবা ক্ষমতাসীন অথবা সম্পদশালীদেরকে বিরক্ত করে এমন আদেশ সমূহের মধ্যে কোন ধরণের পরিবর্তন না ঘটিয়ে এবং কোন প্রকার আপোষ না করে সেই আদেশ সমূহকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে দৃঢ়তা প্রয়োজন সেটা কেবলমাত্র ধর্মীয় চিন্তার নবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব। ধর্মীয় চিন্তার নবায়নের মাধ্যমে কোন প্রকারের শক্তি প্রয়োগ না করেই এবং ঘৃণাবোধকে জাগিয়ে না তুলেই করা সম্ভব। কেননা তখন সকলেই কিংবা নতুনভাবে জাগ্রত সমাজের অধিকাংশই মনে করবে যে এটাই হচ্ছে স্রষ্টার নির্দেশ এবং আদালতের মানদণ্ড, যা আমাদের সকলের মেনে চলতে হবে।</p>
<p><strong>২।</strong> ইসলামী পুনর্জাগরণ, এমন মানুষ ছাড়া কল্পনাও করা যাবে না যারা এই ধর্মীয় পুনর্জাগরণের জন্য বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিকভাবে সকল কিছুকেই ত্যাগ করতে প্রস্তুত। অনুরূপভাবে পারস্পারিক আস্থা ও সহযোগিতা ছাড়াও এই জাগরণের কথা চিন্তাও করা যায় না। <em>আবার এই বৃহৎ ত্যাগ-তিতিক্ষা ও কুরবানীর ফলাফল যে নিজের ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও অন্যকে অধীনস্ত করে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হবে না এর নিশ্চয়তা কে দেবে? কোন ব্যবস্থা একটি নৈতিক ব্যর্থতার ট্রাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারবে যার উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসে সুপ্রচুর।</em> ইসলামী ব্যবস্থাসহ প্রতিটি ব্যবস্থাই শেষ পর্যন্ত ঘোষিত নীতির চেয়ে সেই সব মানুষকে প্রতিফলিত করে যারা এর প্রতিষ্ঠার সাথে যুক্ত।</p>
<p><strong>৩।</strong>&nbsp; মুসলিম উম্মাহ আজ ঘোরতর পশ্চাদপদতার মধ্যে&nbsp; নিপতিত। এই অবস্থা থেকে মুসলিম উম্মাহকে উদ্ধার করতে হলে শিক্ষা ও শিল্পায়নের দিকে জোর দিতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই ক্ষেত্রে&nbsp; গৃহীত পরিকল্পনাসমূহকে বাস্তবায়ন করতে হবে।&nbsp; <em><strong>ত</strong>বে পাশ্চাত্যের হুবুহু অনুকরণ করতে গিয়ে যদি যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া যদি উন্নয়নের দিকে যাওয়া হয় সেই অতি উন্নয়ন স্বৈরাচার, দুর্নীতি, পারিবারিক ব্যবস্থার অবক্ষয়, দ্রুত ও বৈষম্যমূলকভাবে সম্পদ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অবিবেচক ও সম্পদশীল লোকদের উত্থান, ঐতিহ্য থেকে দূরে সরে গিয়ে অপরিকল্পিত নগরায়ন, সমাজের ভাঙ্গন ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিক্ততা বৃদ্ধি, মাদকাসক্তি ও গণিকাবৃত্তির প্রসারের মত আরও অনেক সমস্যার জন্ম দিতে পারে।</em> এই অপসংস্কৃতি ও আদিমতার তুফানকে মোকাবেলা করার জন্য অনুপম পন্থা হল, আল্লাহর প্রতি অবিচল বিশ্বাস এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে সমাজের সকলে বাস্তবায়ন। এই ক্ষেত্রে ধর্মই পারে সংস্কৃতিকে ধর্মহীন সভ্যতা থেকে রক্ষা করতে। নিছক বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আদিমতার প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারে। যার অহরহ নজির আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি।</p>
<p>উৎসঃ ইসলামী ডেক্লারেশন</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদক: <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ </a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/islamic-renaissance-religious-revo-lution-or-political-revolution/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7477</post-id>	</item>
		<item>
		<title>চিন্তার সংকট থেকে রাজনৈতিক সংকট; পরিণতি: অস্তিত্বের সংকট</title>
		<link>https://rowyakbd.com/crisis-of-thought-to-political-crisis-the-result-an-existential-crisis/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/crisis-of-thought-to-political-crisis-the-result-an-existential-crisis/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 26 Aug 2022 09:08:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7314</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী সভ্যতার বিখ্যাত দার্শনিক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আল-মাওয়ারদীর তত্ত্বের আলোকে সালাহুদ্দুনিয়া বা সমগ্র বিশ্বে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আদালত সম্পন্ন একটি নিজাম যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে দুটি পর্যায়ে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আদালত সমানভাবে থাকতে হবে। ১। বৃহত্তর পর্যায় ২। ক্ষুদ্রতর পর্যায়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী সভ্যতার বিখ্যাত দার্শনিক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আল-মাওয়ারদীর তত্ত্বের আলোকে সালাহুদ্দুনিয়া বা সমগ্র বিশ্বে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আদালত সম্পন্ন একটি নিজাম যদি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে দুটি পর্যায়ে শান্তি, শৃঙ্খলা ও আদালত সমানভাবে থাকতে হবে।<br />
১। বৃহত্তর পর্যায়<br />
২। ক্ষুদ্রতর পর্যায়</p>
<p>আর এ দুটি বিষয় মূলত ছয়টি মূলনীতি বা বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত। যথা:<br />
১) الدين المتّبع<br />
২) سلطان قاهر<br />
৩) عدل شامل<br />
৪) أمن عام<br />
৫) خصب دار<br />
৬) أمل فسيح</p>
<p>যেখানে &#8220;الدين المتّبع&#8221; অর্থাৎ এমন একটি দ্বীন সমাজের মধ্যমণি হিসেবে থাকতে হবে, যা অনুসরণযোগ্য।</p>
<p>মূলনীতিগুলোকে &#8216;Normative values&#8217; নামে অনুবাদ করা হয়ে থাকে, অর্থাৎ মানুষ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এমন একটি বিষয়। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবো, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলে দ্বীন হিসেবে ইসলামকে সবাই মেনে নিচ্ছে। তারা দ্বীন কতটুকু পালন করছে বা গ্রহণ করছে, তারচেয়েও বড় বিষয় হলো তারা সবাই দ্বীন অনুসুরন করার চেষ্টা করছে, তাদের মাঝে দ্বীন গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে মূল আলাপ হল, তা অবশ্যই অনুসরণ যোগ্য হতে হবে, এবং যদি তা অনুসরণ যোগ্য না হয় তবে তা কখনোই দ্বীনুল মুত্তাবাআ হতে পারবেনা।</p>
<p>বাকি মূলনীতিগুলিতে তুলে ধরা হয়েছে সামগ্রিক আদালত, সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সমাজে মালের প্রাচুর্যতা থাকার ব্যাপারে এবং শেষে বলা হয়েছে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী স্বপ্ন থাকার ব্যাপারে, যে স্বপ্ন মানুষের মাঝে ভিশন ও ভবিষ্যৎকে তুলে ধরবে।<br />
এভাবেই আল মাওয়ার্দী তার তত্ত্বটিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এবং এটি বাস্তবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য। যদি মুসলিম উম্মাহ এটিকে গ্রহণ বা যেকোনো জাতি, গোষ্ঠী যদি এটিকে পালন করে তাহলে সেখানে শান্তি, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।</p>
<p>যেমন তিনি সর্বশেষ যে বিষয়টি এনেছেন, তা হলো ‘আমানুন ফাসিহুন’, অর্থাৎ ভবিষ্যত সম্পর্কে বাস্তবিক স্বপ্ন বা জাতিকে ভবিষ্যৎ দেখানোর জন্য তিনি যে গুরুত্বারোপ করেছেন। এই মূলনীতি থেকে শুরু করে অনুসরণ যোগ্য একটি দ্বীনের আলোচনা পর্যন্ত সবগুলি বিষয় একটি জাতির মধ্যে চিন্তাগতভাবে থাকতে হবে অন্যথায় এই বিষয়টির গুরুত্ব আমরা সত্যিকারার্থে কখনোই উপলব্ধি করতে পারবে না।</p>
<p>আর বর্তমান বাংলাদেশে যে সংকট বিদ্যমান, আমরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছি যে, এ সংকট সামগ্রিক রাজনৈতিক সংকট, আদালত ও আখলাকের সংকট।<br />
কিন্তু এ সংকট সৃষ্টির কারণ কী? কিসের ফলাফল স্বরুপ আমরা এ সংকটে নিপতিত?<br />
একটু চিন্তা করলেই আমরা এর উত্তর পেয়ে যাবো।</p>
<p>উপরোক্ত মূলনীতিগত বিষয়গুলো আমাদের চিন্তারাজ্যে হাজির নেই, এগুলো নিয়ে সেই অর্থে কোনো চর্চা নেই, সমাধানকল্পে কোনো বাস্তবধর্মী প্রস্তাবনাও নেই! অর্থাৎ আমাদের মাঝে এক প্রকট চিন্তাগত সংকট বিদ্যমান, যা আমাদেরকে একটি ভয়ানক রাজনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত করেছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসের সাক্ষ্যও বলে দেয়, যুগোপযোগী ও দুরদর্শী চিন্তার সংকট একটি জাতিকে সর্বদাই রাজনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত করে। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই জাতির সামগ্রিক সংকট ‘রাজনৈতিক সংকট’ মোকাবেলার জন্য শক্তিশালী চিন্তা এবং সমাধানযোগ্য প্রস্তাবনা হাজির করতে হবে, ইতিহাসই যার প্রমাণ।</p>
<p>যারা চিন্তাগত সংকট মোকাবেলা করতে পেরেছে, তারাই রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে পেরেছে; যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মোঙ্গল আক্রমন পরবর্তী সময়ে ইসলামী সভ্যতার জাগরণ, সেলজুক পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের জাগরণ এবং ক্রুসেডারদের আক্রমণ পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের জাগরণ। নিমাজ-উল-মূলক, ইবনে খালদুন, ইমাম গাজ্জালীরা যেভাবে জাতির সামনে সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইশতেহার হাজির করেছেন, সে আলোকে পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের লক্ষ্যপানে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং জনগণকে ভবিষ্যৎ উপলব্ধি করিয়ে সেদিকে ধাবিত করতে পেরেছেন, যার ফলে সমাধান সম্ভবপর হয়েছিলো। পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি তখনো চিন্তা তৈরি করতে পারেনি, বরং নিজাম-উল-মূলক, ইবনে খালদুনের মতো ব্যক্তিরা ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোই চিন্তা তৈরি করেছিলো। বর্তমানে ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেই তাদের ন্যায় এগিয়ে আসতে হবে।</p>
<p>একইভাবে আরও একটি বিষয় হলো যখন কোনো জাতি রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করতে পারে না, ভবিষ্যতের ইশতেহার রচনা করতে পারে না, তখনই তারা ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয় এবং ভয়ংকর অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে নিপতিত হয়। এ ব্যাপারে ইতিহাস বারবার সাক্ষ্য দিয়েছে। এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। তাই আমরাও যদি এ সংকট মোকাবেলা করতে না পারি, তাহলে আমরাও একই অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হবো এবং এটিই পৃথিবীর চরম বাস্তবতা।</p>
<p>এজন্য যুগশ্রেষ্ঠ মুজাহিদগণ বলেছিলেন, “যদি তুমি টেবিলের যুদ্ধে হেরে যাও, কলমের যুদ্ধে হেরে যাও এবং নিজেকে রক্ষা করতে না পারো, তাহলে নিশ্চিত থাকো, একদিন তুমি হেলমেট, লৌহ বর্ম পরেও জাতি এবং অর্থনীতিকে রক্ষা করতে পারবে না।” এর দ্বারা আমরা স্পষ্টতই বুঝি যে, জাতির অর্থনীতি, রাজনীতি রক্ষা না হলে গোটা জাতি ভয়ংকর অস্তিত্ব সংকটে নিমজ্জিত হবে।</p>
<p>এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে, রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা না করলে যে আমরা অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হবো– এটিই আমরা কতটুকু বুঝতে পারছি? হয়তো আমরা সত্যিই বুঝতে পারছি না, কিন্তু আমরা যদি একটু পেছন ফিরে ইতিহাসের দিকে দেখি, যে সময়ে বৃটিশরা আমাদের অঞ্চলে আগমন করছিলো, গোটা বিশ্বে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করছিলো, ইউরোপের কেন্দ্রে বিভিন্ন বিপ্লব সাধন করছিলো, সে সময়ে আমরা মুসলমানরা আমাদের চিন্তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেলেছিলাম এবং এখনো স্থবির অবস্থায়ই রয়েছি। আর এ কথা আল্লামা ইকবাল বারবার স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন।</p>
<p>আমরা মুসলমানরা আমাদের চিন্তার গতিশীলতা হারিয়ে ফেলার ফলেই কিন্তু সেই সময়ে ইউরোপীয় পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো চিন্তা হাজির করতে পারিনি। ড. আলী শরীয়তির ভাষায়, “মুসলমানরা পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কিছু দাঁড় করাতে পারছিলো না বলেই মার্ক্সবাদ বিশ্বব্যাপী জাতির বিবেক হিসেবে অর্বিভূত হতে শুরু করেছিলো।” তখন লেলিলের মতো ব্যক্তিরা বলতে শুরু করেছিলো যে, পুঁজিবাদের শীর্ষবিন্দু হলো সাম্রাজ্যবাদ। আর আমরা সেই সময়ে নিজেদের সভ্যতার যে গতিশীলতা, আদিল যে ব্যবস্থা তা সে অর্থে মানবতার সামনে তুলে ধরতে পারিনি!</p>
<p>যখন ঔপনিবেশিক শক্তি আমাদের দখল করছিলো, তখন আমরা বিতর্ক করছিলাম বন্দুক দিয়ে যুদ্ধ করবো নাকি তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করবো। সেই সময়ে আমরা হজ্জ করে শাহাদাতের তামান্নায় উজ্জীবিত হলেও অন্যান্য দেশে গিয়ে উচ্চতর প্রযুক্তি তৈরি করতে নিজেদের উজ্জীবিত করতে পারিনি, যুদ্ধ করতে পারিনি। আমরা বুঝতেই পারিনি যে, সময়ের আলোকে যুদ্ধ হবে সে সময়ের সর্বোচ্চ টেকনোলজি দিয়েই। আমরা বুঝতেই পারিনি যে, দারুল হারব, দারুল ইসলামের ব্যাখ্যা ফিকহের দৃষ্টিতে কেমন হওয়া উচিত, এ সকল বিষয়ের পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যা কেমন হবে এবং পর্যালোচনা থেকে সুষ্ঠু ইশতেহার কীভাবে প্রদান করতে হবে। আমাদের আলেমদের একটি বড় অংশ তা বুঝতে পারলেও সেভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেননি!</p>
<p>অর্থনীতির ক্ষেত্রে যখন নানাভাবে শোষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছিলো, নানা তত্ত্ব উদ্ভাবন হচ্ছিলো, ইয়াল্টা কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন করে পৃথিবীকে ডিজাইন করা হচ্ছিলো এবং গত ৮০ বছরে পৃথিবীর অর্থনীতি, সংস্কৃতি আমাদের থেকে বিশাল একটি দূরত্বে অবস্থান করছিলো, সেই সময়ে এসেও আমরা বীমা করা হালাল না হারাম, ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি যাবে না, সিনেমা হালাল নাকি হারাম– এ জাতীয় তর্কে নিমজ্জিত হয়েছি।</p>
<p>জ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই কথা। যখন বৃটেন, জার্মানী, ফ্রান্স বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে আমাদের ইবনে সিনা, গাজ্জালীদের পাঠ পর্যালোচনা করেছে, তখন আমরা নিজেদের জাগরিত করার জন্য ইমাম শাতিবির রেখে যাওয়া “আল মুয়াফাক্কাত”কে অপ্রাসঙ্গিক মনে করেছি, এমনকি এ মনোভাব বিরাজমান ৪০০ বছর ধরে। গত তিন/চারশত বছর যাবৎ আমরা ফিকহ, আখলাকি বয়ানকে নতুন করে হাজির করা এবং সামনে ধাবিত হওয়ার গুরুত্বই উপলব্ধি করে পারিনি!</p>
<p>ফলশ্রুতিতে চিন্তাগত দিক থেকে, রাজনীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অনেক পেছনে পড়তে নিজেরাই নিজেদের বাধ্য করেছি। একইসাথে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে নিজস্ব ভাষা, জ্ঞানগুলোকে অপ্রাসঙ্গিক মনে করেছি এবং হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছি।</p>
<p>দ্বিতীয়ত এ সকল চিন্তা, আখলাক এবং গতিশীলতার মধ্য দিয়েই কিন্তু ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে এবং এ ব্যক্তিত্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোই নেতৃত্বের জন্ম দেয়, রাজনৈতিক মুভমেন্টগুলোর ইশতেহার রচনা করে, আর এ আলোকে মুক্তি ও কল্যাণের কর্মসূচি জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু আমরা এক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছি; আমরা নেতৃত্ব তৈরি ও ভবিষ্যৎ ইশতেহার রচনা করতে পারিনি। এ কারণেই গত কয়েকশো বছরে আমরা মহান সালতানাতগুলো হারিয়েছি, আমাদের স্বর্ণালী সভ্যতাকে নতুন করে বিনির্মাণ করার স্বপ্ন পর্যন্ত ভুলে গিয়েছি।</p>
<p>উপরোক্ত সংকটের কারণে বর্তমান বাংলাদেশে যে সমাধান দরকার ছিলো, আমরা সেই সমাধান থেকে দূরে অবস্থান করছি! চিন্তাকে বিকশিত না করতে পারার ফলে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে আমরা আটকে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা স্থবির হয়ে গিয়েছি। আর এই স্থবিরতা জাতিগত অস্তিত্ব সংকটের অন্যতম আলামত।</p>
<p>এরপরে যদি প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান সময়ে আমরা কি নিজস্ব চিন্তা দিয়ে, নিজস্ব জাতিসত্তার রূহ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি? বর্তমান সমাজবিজ্ঞান, সংস্কৃতি আদৌ কি আমাদের? সামাজিক নিরাপত্তা কি আছে? রাষ্ট্রীয় সম্পদ কি আমরা রক্ষা করতে পারছি? এ সকল ক্ষেত্রে উত্তর আসবে, “না, আমরা অনেক ক্ষেত্রে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছি।”</p>
<p>আমাদের সমাজ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, সত্যিকারার্থেই এগুলো নিয়ে চর্চা হচ্ছে কি-না? এর উত্তর পাবার জন্য পত্র-পত্রিকা, স্যোশাল মিডিয়ার দিকে তাকালেই বুঝতে পারব যে কোন সকল বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি! কি নিয়ে বির্তক হচ্ছে, ভাইরাল নিউজ হচ্ছে!<br />
অথচ নেতৃত্ব তৈরি ও ভবিষ্যৎ ইশতেহার রচনার আলাপ ব্যাতীত মুক্তি অসম্ভব।</p>
<p>এজন্য আল-মাওয়ারদী&#8217; মূলনীতির আলোকে মহান সভ্যতা ইসলামি সভ্যতার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, শুরু থেকে রাসূল (সাঃ) তিনি গোটা জাতির সামনে তৎকালীন সময়ের সমস্ত চ্যালেজ্ঞকে গ্রহণ করে মুক্তির জন্য একটি ওয়াদা দিয়েছিলেন। সেটি হচ্ছে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার ওয়াদা। কেননা একটি জাতি বেচে থাকে তার আগামীদিনের ওয়াদার উপর ভিত্তি করে। এজন্যই রাসূল (সাঃ) আঁকাবার শপথের নিশ্চয়তা বা যে সকল চিঠিগুলো প্রেরন করতেন সেগুলোর মধ্যেও নিশ্চয়তা দিতেন এবং রাসূল (সাঃ) এর সাহাবিদের প্রত্যেকটি ভাষণও হলো আগামীদিনের নতুন সভ্যতার নিশ্চয়তা, আদালত ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, কিন্তু আমরা কি আদৌ সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছি? আমরা কি সেই ডায়লগ তৈরি করতে পারছি?</p>
<p>কিন্তু তৈরি না করতে পারলে সমাধাণও আমাদের সামনে আসবে না। আবার এটার জন্য যে শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ প্রয়োজন সেই ভিত্তি নির্মাণের জন্য জ্ঞানসম্রাট আলীয়া ইজ্জেতবেগভিচ বলতেন, শক্তি ও সমৃদ্ধির অন্যতম উৎস হচ্ছে আমাদের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা, এটার মধ্য দিয়েই বিজয় আসবে, এটার মধ্য দিয়েই সমস্ত সংকট দূরীভূত করে নতুন এক সুবহে সাদিকের জন্ম দেয়া সম্ভব, এটাই সুন্নাতুল্লাহ্, এছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা আমাদের সামনে খোলা নেই।</p>
<p>তাই আমরা আমাদের চিন্তাকে, চিন্তার গতিশীলতাকে অগ্রভাগে রেখে এবং সেই চিন্তার মাঝে হাকীকত অন্বেষী জ্ঞান, মানবতার কল্যাণ, খলীফা হিসেবে ইমারতের দায়িত্ব, এগুলিকে কেন্দ্র বিন্দুতে স্থাপন করতে পারি তাহলে চিন্তার গতিশীলতা আরও বেশি গতিশীল হবে। পরবর্তীতে এসকল চিন্তা একটি প্রজন্ম থেকে অন্য একটি প্রজন্মে পৌছবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম এসে এর ফল ভোগ করতে শুরু করবে। এটিই পৃথিবীর বাস্তবতা।</p>
<p>তাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি, অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কাঠামোকে ইসলামি সভ্যতার মূলনীতির আলোকে সাজিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গঠন সম্ভব, সেই বাংলাদেশের ভিত্তি আখলাক ও জাগতিক দুই দিক থেকেই শক্তিশালী ভিত্তি রচনা সম্ভব, তা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরতে পারি তবেই যুব সম্প্রদায় নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে। একইভাবে যদি বাংলা ভাষাকে দাঁড় করাতে পারি, ডেভলাপ করতে পারি তাহলেও মুসলিম উম্মাহও দ্বীতিয় বৃহৎ ভাষা বাংলা ভাষা নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জেগে উঠবে। যেই হিব্রু ভাষার ৫ হাজার বছর পর্যন্ত কোন খবর ছিলনা, সেই হিব্রু ভাষাই আজকে একটি আন্তর্জাতিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। ইবনে সিনার বই অনুবাদ উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষায় নেই, অন্য কোন ভাষায়ও দেখা যায়না। সেখানে তাদের ইব্রানি ভাষায় ১৬ টি আলাদা আলাদ অনুবাদ করা হয়েছে। অথচ তাদের জনসংখ্যা মাত্র এককোটি! ১০০ বছর আগেও দুনিয়াতে তাদের কোন বাস্তবতা ছিলো না, তারা তাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বেও কল্পনা করেনি যে তারা একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু ২৩ বছর বয়সী যুবক যখন সেই সপ্ন তাদের সামনে তুলে ধরলেন এবং পরবর্তীতে ৫০ বছর সময়ও লাগেনি বাস্তবায়ন হতে। তখন কিন্তু &#8216;ইমাম হাসান আল বান্নার&#8217; সেই কথাটি বাস্তবায়িত হতে দেখলাম, তাহল- &#8220;আজকের স্বপ্নই আগামীকালের বাস্তবতা, এজন্যই হে যুবকেরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো। অর্থাৎ যে যুবকেরাই প্রস্তুতি গ্রহণ করবে সেই যুবকেরাই তাদের জাতির কল্যাণ কল্যাণ নিয়ে আসতে পারবে এবং এটিই যুগে যুগে হয়েছে।</p>
<p>তাই আমরাও বাংলা ভাষাকে, বাংলাদেশকে সেভাবে সাজাতে পারবো ইনশাআল্লাহ্‌।</p>
<p>এরপর বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের বাজেট, সামাজিক নিরাপত্তা, গার্মেন্স ফ্যাক্টরী, কৃষির ভয়াবহ সংকট, আমাদের শ্রমিক এবং ইনড্রাষ্ট্রিগুলোতে যেই ভয়াবহ জুলুম প্রতিষ্ঠিত! এ প্রত্যেকটি সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে রাজনৈতিক সংকট! আমাদের খাদ্য, চিকিৎসা, পরিবেশ, নগরায়ণসহ মেডিসিনের মতো সকল জায়গায় আগ্রাসণ উপনিবেশ শাষণামল থেকে বেশি মাত্রায় হচ্ছে! এটির কারণও কি রাজনৈতিক সংকট নয়? সুতরাং এই রাজনৈতিক সংকটকে মোকাবেলা করতে না পারলে যেইরকম অস্তিত্ব সংকটে নিপতিত হব একইভাবে এই রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলা করার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে চিন্তাগত সংকট মোকাবেলা করা। তাই যেকোনো মূল্যে এ বিষয়গুলোকে কেন্দ্রে রেখে আমরা আমাদের নিজেদের যোগ্য করার জন্য সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং যার কোনই বিকল্প নেই। আমাদের জীবনে ভালোবাসা, অভাব ও সংকট সবই আসবে, এক্ষেত্রে আমরা যদি আমাদের লক্ষ্যকে, ভিশনকে, হাকিকতকে কেন্দ্রে স্থাপন করে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে অবশ্যই চিন্তাগত সংকটকে মোকাবেলা করা সম্ভব। আমাদের প্রজন্মে মোকাবেলা করা সম্ভব না হলেও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে রেখে যাব কারণ চিন্তার যুদ্ধটি একটি জাতির, প্রজন্মের ও একটি সভ্যতার যুদ্ধ।</p>
<p>এজন্য শপথ করতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই চিন্তা পৌছে দেয়ার। আর যদি এই চিন্তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতে পারি তাহলে অবশ্যই বিজয় আমাদের এবং এই ব্যাপারে আল্লাহ নিজে ওয়াদা করেছেন।</p>
<p>সর্বশেষ তালুত-জালুতের ঘটনাকে সামনে রেখে যদি শিক্ষা নিই যে, অনেক সংকট ও কঠিনতম পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে, সেই পথে বহুধরনের চ্যালেঞ্জ আসবে ও বাধা আসবে কিন্তু আমাদের ভিশনকে সামনে রেখে এগিয়ে গেলে, বড় একটি অংশ ঝড়ে পড়লেও যে অংশটি নবীর সাথে বিজয়ের ঝান্ডা উড়িয়েছিলো; সেই বিজয়ের ঝান্ডা উড়ানোর একজন কর্মী হিসেবে জাতির সামনে নিজেদেরকে তুলে ঊরতে পারব। আর এই প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্র উভয় দিক থেকেই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, পারষ্পরিক ভ্রাতৃত্য, রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থাপনায় প্রভাব পরবে ইনশাআল্লাহ্।</p>
<p>অস্তিত্ব সংকটে পড়ার পূর্বেই চিন্তায় গতিশীলতা ও চিন্তাগত ভিত্তি নির্মাণ করে রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সংগ্রাম করে যেতে হবে। এটাই হোক আমাদের ইশতেহার।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/crisis-of-thought-to-political-crisis-the-result-an-existential-crisis/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7314</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাজনৈতিক বিজয় স্থায়ীকরণের পন্থা ও চ্যালেঞ্জ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-to-establish-political-victory/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-to-establish-political-victory/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 Jul 2022 01:38:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7224</guid>

					<description><![CDATA[মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, যে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে তা টিকিয়ে রাখা এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে গতিশীল রাখা সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। রাজনৈতিক বিজয় অর্জন বা রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমেই কেবলমাত্র কোনো রাজনৈতিক চিন্তা বাস্তবায়নের পটভূমি তৈরি হয়।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">মানবসভ্যতার ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, যে কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে তা টিকিয়ে রাখা এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে গতিশীল রাখা সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। রাজনৈতিক বিজয় অর্জন বা রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমেই কেবলমাত্র কোনো রাজনৈতিক চিন্তা বাস্তবায়নের পটভূমি তৈরি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয়, বিজয় অর্জন মাত্রই সে চিন্তার বাস্তবায়ন হয়ে যায়। এজন্যই মুসলিম উম্মাহর বড় বড় আলেমগণ তাদের চিন্তাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে জ্ঞানের পুনর্জাগরণ ও সভ্যতার পুনর্জাগরণকে একত্রে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ জ্ঞানকে কেন্দ্র করে চিন্তা আবর্তিত হবে, সেই চিন্তার আলোকে গড়ে উঠা রাজনৈতিক শক্তি সমন্বিত বিপ্লবের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এভাবে জ্ঞান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড একটি সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রার দিকে সমান তালে ধাবিত হবে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এক্ষেত্রে রাসূল (স.) এর জীবনের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা এই বিষয়টিই দেখতে পাই। মূলত রাসূল (স.) এর মাদানী জীবন হলো তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিকব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সূচনাকাল। মাদানী জীবনের দশ বছরে রাসূল (স.) মদীনায় প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও মজবুত ভিত্তির উপর স্থাপন করেন। পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতিসহ সকল ক্ষেত্রে বিকল্প প্রস্তাবনা দেন, বিদ্যমান সমাজ-ধারণার বিপরীতে নতুন সমাজব্যবস্থার মডেল হাজির করেন। মদীনায় তার প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থা এমন এক টেকসই ও মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়ায়, যার উপর ভর করে ইসলামী সভ্যতা সুদীর্ঘ ১২০০ বছর ন্যায়ভিত্তিকভাবে গোটা দুনিয়া শাসন করে।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">এখন প্রশ্ন হলো রাজনৈতিক বিজয় পাকাপোক্ত বা স্থায়ী করতে হলে কী প্রয়োজন? কিংবা রাজনৈতিক বিপ্লব স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে হলে কোন বিষয়টি আবশ্যক?</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">এক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট যে, ৩ টি বিষয়ের সামগ্রিক সমন্বয় ছাড়া একটি রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লব পাকাপোক্ত করা বা স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা কখনোই সম্ভব নয়। বিষয় তিনটি হলো–</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">• <strong>হাকিকতমুখী ‘বুদ্ধিবৃত্তি’</strong></div>
<div dir="auto"><strong>• ইরফানমুখী ‘সংস্কৃতি’</strong></div>
<div dir="auto"><strong>• আদালতমুখী ‘অর্থনীতি</strong>’</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এ বিষয়গুলো একটি গাছের শিকড়ে সাথে তুলনীয়। গাছের শিকড় সাধারণত সবদিক থেকে সমান তালে বৃদ্ধি পায়, ফলে গাছের গোঁড়া মজবুত ও পাকাপোক্ত হয়। সময় যত অতিবাহিত হয়, গাছের শিকড়ও তত বিস্তৃত হয় এবং জমিতে গাছের স্থায়ী আসন গড়ে উঠে।</div>
<div dir="auto">ঠিক তেমনি যদি রাজনৈতিক বিজয়ের স্থায়ীত্বের সাথে সম্পৃক্ত তিনটি কার্যকারণ, অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের যে কোনো একটি শক্তিশালী হয় এবং অপরটি দুর্বল হয়, তাহলে বিজয় স্থায়ী হবে না। গাছের একদিকের শিকড় যদি মাটিতে বাড়তেই থাকে, আর অপরদিকে না বাড়ে, তাহলে সামান্য বাতাসেই গাছ ভেঙে পড়বে; রাজনৈতিক বিজয়ের স্থায়িত্বের বিষয়টিও তেমন। এর একদিক শক্তিশালী ও অপরদিকে দুর্বল হলে বিজয় ব্যর্থ হবে। বাস্তবতা হলো এর প্রতিটি দিকই একে অপরের পরিপূরক। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন একটি জাতি যদি বুদ্ধিবৃত্তিক ও চিন্তাগতভাবে পরাধীন কিংবা পরনির্ভরশীল হয়, তাহলে তাদের পক্ষে রাজনৈতিক স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়, বরং তা হবে কথিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা!</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">একইভাবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিজস্ব অবস্থান ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা না থাকলে একটি জাতি দারিদ্রতা ও আত্মপরিচয়ের সংকটে নিপতিত হয়। ফলশ্রুতিতে তারা আত্মবিশ্বাস ও বিজয়ী চেতনা হারিয়ে ফেলে।</div>
<div dir="auto">বৃটিশ পরবর্তী বাংলায় বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা মূলত এ তিনটি ক্ষেত্রে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমেই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। তারা বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের শৃঙ্খল, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপিয়ে দেয়, যার ফলে মুসলমানরা হীনমন্য হয়ে পড়ে।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখানে ভিন্ন আরেকটি দিক আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য দুটি বিষয়ের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন, তা হলো–</div>
<div dir="auto">• <strong>ক্যারিশম্যাটিক লিডার এবং</strong></div>
<div dir="auto"><strong>• শক্তিশালী সংগঠন</strong></div>
<div dir="auto">এ দুইয়ের উপস্থিতি থাকলেই তা করা সম্ভব। আর তাই রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়াটাই রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লবের স্থায়ীত্বের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন নয়। সভ্যতাগত অবস্থান বা শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণের জন্য যে কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক পরনির্ভরতা কাটিয়ে উঠা আবশ্যক। চিন্তাগতভাবে কোনো জাতি যদি অপর জাতির অনুকরণ করতে শুরু করে, তাহলে সে জাতির সৃজনশীলতা ও স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে সে জাতির তৈরিকৃত যে কোনো কিছুই পরনির্ভর ও অনুকরণমূলক হয়ে ওঠে।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">একইভাবে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় ও স্বকীয়তা টিকিয়ে রাখতে না পারলে জাতীয় চিন্তা ও মন-মগজ ভিন্ন সংস্কৃতির অনুবর্তী হয়ে ওঠে। ফলশ্রুতিতে বাহ্যিকভাবে সে জাতির বর্ণ ও ভাষা ভিন্ন থাকলেও তারা অভ্যন্তরীণভাবে হুবহু অন্য জাতির মডেলে পরিণত হয়। এ প্রেক্ষিতে গত শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক মুহাম্মদ আসাদ বলেছিলেন,</div>
<blockquote>
<ul>
<li dir="auto"><strong>“নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভিত্তি না থাকলে কোনো চিন্তা অপর চিন্তার সম্মুখে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে না কিংবা ভিন্ন পরিচয় বহন করতে পারে না।”</strong></li>
</ul>
</blockquote>
<div dir="auto">অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীল হয়ে রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লব পাকাপোক্ত করা বা স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। ইতিহাসে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট। একজন ফরাসি চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক বলেছিলেন, <strong><em>“অর্থনৈতিকভাবে যার কোনো ভিত্তি নেই বা যে দরিদ্র অবস্থায় আছে, তার মাধ্যমে কোনো আর্ট কিংবা সৃজনশীল কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। কারণ যার খাবার ও সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু অন্য কারো কাছ থেকে আমদানি করা, অর্থাৎ নিজের উৎপন্ন নয়, সে উপকরণগুলো ব্যবহার করে তার তৈরিকৃত কোন কিছু কি সৃজনশীল আর স্বকীয় হতে পারে?”</em></strong> আবার এ বিষয়টিও এখন সমভাবে প্রণিধানযোগ্য যে, বর্তমান অর্থনীতি মানুষের জীবনের শতকরা ৮০ ভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট। অতএব, অর্থনৈতিক ভিত্তি না থাকলে কখনোই রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লব পাকাপোক্ত করা বা স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না, কারণ অর্থনৈতিক ভিত্তি বাদ দিলে মানুষের জীবনের বৃহদাংশই আওতাবহির্ভূত থেকে যায়!</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখন জিজ্ঞাসা হলো এ তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়? এক্ষেত্রে পদ্ধতি কী?</div>
<div dir="auto">পদ্ধতিগুলো হলো—</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">• <strong>সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা</strong></div>
<div dir="auto"><strong>• মন-মগজের বিস্তৃতি</strong></div>
<div dir="auto"><strong>• বুদ্ধি ও চিন্তার লালন</strong></div>
</div>
<p><a href="https://www.facebook.com/Mihwar.bd" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 734px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/05/mihwar-6.jpg" height="121" /></a></p>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অবশ্যই ক্রমাগত নিজেদেরকে নবায়ন করা, যুগের প্রেক্ষিতে চিন্তা করা, সময়ের আলোকে সর্বোচ্চ আপডেট হওয়া সবচেয়ে জরুরী বিষয়; যে বিষয়টিকে যুগের গাজ্জালী খ্যাত মহান আলেম ও দার্শনিক আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান বলেছেন <em><strong>‘তায়াক্কুল’ ও ‘তায়াম্মুল’</strong></em>।কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো–</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">• মানবতার মুক্তির দূত রাসূল (স.) মদীনা রাষ্ট্রেও সবচেয়ে আপডেটেড ও উন্নত পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি স্বতন্ত্র শিক্ষা, আদালত ও প্রশাসনের জন্য মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন, দরিদ্রতা দূরীকরণকারী ও মানুষের মুক্তিকামী অর্থনীতির জন্য বিকল্প বাজার প্রতিষ্ঠা করেন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">• সুলতান ফাতিহ তার সময়ের সবচেয়ে আপডেটেড পরিকল্পনা ও উন্নত প্রযুক্তির প্রস্তাবনা দিয়ে ইস্তাম্বুল বিজয়ের দিকে ধাবিত হন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">• এ শতাব্দীর নাজমুদ্দিন এরবাকান শুধু একজন নেতা নন, তিনি একজন বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং তার গঠিত আন্দোলনেও ছিলো শিক্ষাবিদ আর বিজ্ঞানীদের সমন্বয়। তিনি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তার নির্বাচনী মেনিফেস্টো তৈরি করিয়েছিলেন ৫০০ জন আন্তর্জাতিক মানের অধ্যাপকের মাধ্যমে। এ যুগের গ্রেট পরিকল্পনা তথা নতুন বিশ্বব্যবস্থার পরিকল্পনাও এই আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছে। সুতরাং, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ব্যতীত কোনকিছুই সম্ভব নয়।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আবার, মন-মগজের বিস্তৃতির জন্য জ্ঞানগত ক্ষেত্রে গ্রহণের মানসিকতা, উদারতা এবং বিস্তৃত ভঙ্গিতে চিন্তা করা আবশ্যক। কারণ উপরোক্ত সব পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন এই বিষয়ের উপরেও নির্ভরশীল।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">আর এ দুটি পদ্ধতির সমান্তরালে বুদ্ধি ও চিন্তার লালন, ক্রমাগত বিকাশ একইসাথে গুরুত্ববহ; যাতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও মন-মগজের বিস্তৃত অবস্থান বুদ্ধি ও চিন্তাগত দিক থেকে লালন করা যায়। কম্যুনিস্ট তাত্ত্বিক লিও ট্রটস্কি তার “The Permanent Revolution” গ্রন্থে এ পদ্ধতিগুলোই তুলে ধরেছেন। একইসাথে ট্রটস্কি এ বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন, এ পদ্ধতিগুলোর সমন্বয় না হলে কোনো বিপ্লব আর যাই হোক, পার্মানেন্ট বা স্থায়ী হবে না।</div>
</div>
<div class="cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x c1et5uql o9v6fnle ii04i59q">
<div dir="auto">আর এসবের মাধ্যমেই মূলত বিপ্লবের ভিত্তি আত্ম-শক্তি-প্রবুদ্ধ মানুষেরা গড়ে উঠেন এবং সভ্যতাকে স্থায়ীত্ব দিয়ে থাকেন। আত্ম-শক্তি-প্রবুদ্ধ ব্যক্তিত্ব তথা যুগের ইবনে খালদুন, আল মাওয়ার্দী, আল্লামা ইকবালরা উঠে না আসলে টিকে থাকা অসম্ভব এবং অসম্ভব।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সুতরাং পদ্ধতিগুলোর সমন্বয়ে তিনটি বিষয়কে সামগ্রিকভাবে অগ্রসর করার মাধ্যমেই কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লবকে জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের বয়ানগত মাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব। না হয় সে রাজনৈতিক বিজয় বা রাজনৈতিক বিপ্লব শুধুমাত্র কথিত আলাপ অথবা কাল্পনিক রোমান্টিকতায়ই থেকে যাবে, কখনোই একটি বিশ্বজনীন বয়ানে পরিণত হবে না।</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-to-establish-political-victory/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7224</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্প কী?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/brrihot-moddhyo-praccyo-prokolpo-ki/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/brrihot-moddhyo-praccyo-prokolpo-ki/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 11 Jan 2022 10:40:30 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[burhan uddin]]></category>
		<category><![CDATA[erbakan]]></category>
		<category><![CDATA[najmuddin]]></category>
		<category><![CDATA[najmuddin erbakan]]></category>
		<category><![CDATA[নাজমুদ্দিন]]></category>
		<category><![CDATA[নাজমুদ্দিন এরবাকারন]]></category>
		<category><![CDATA[বুরহান উদ্দিন]]></category>
		<category><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></category>
		<category><![CDATA[বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্প কী?]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6563</guid>

					<description><![CDATA[যায়নবাদ (zionism) কী? যায়নবাদ হলো একটি বর্ণবাদী চিন্তা চেতনার নাম। বনী ইসরাইল নামে পৃথিবীতে একটি জাতি আছে। এই জাতিটির বর্তমান বয়স ৫৭০৬ বছর। ফিরাউনের শাসনামলে ফিরাউন এদের উপর চরম জুলুম নির্যাতন পরিচালনা করে। এই জুলুমের প্রেক্ষাপটে তাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দেওয়ার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="j83agx80 cbu4d94t buofh1pr l9j0dhe7">
<div class="cwj9ozl2 axx3y1d9 t28du0na sfcisb4t tfzoqjvc sbcfpzgs j83agx80 o8rfisnq cbu4d94t hpfvmrgz cjxzsqrr k4urcfbm buofh1pr g5gj957u tr9rh885 wkznzc2l sjgh65i0 dhix69tm">
<div class="f36cnskx d2edcug0 ikscmtro wkznzc2l kok2ops2 dhix69tm o8rfisnq">
<div class="buofh1pr j83agx80 cbu4d94t gs1a9yip k4urcfbm qv66sw1b">
<div class="_8emu">
<p class="jlfdnvsn" dir="auto">যায়নবাদ (zionism) কী? যায়নবাদ হলো একটি বর্ণবাদী চিন্তা চেতনার নাম। বনী ইসরাইল নামে পৃথিবীতে একটি জাতি আছে। এই জাতিটির বর্তমান বয়স ৫৭০৬ বছর। ফিরাউনের শাসনামলে ফিরাউন এদের উপর চরম জুলুম নির্যাতন পরিচালনা করে। এই জুলুমের প্রেক্ষাপটে তাদেরকে উৎসাহ উদ্দীপনা দেওয়ার জন্য এবং তাদের ধৈর্য শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য তাদের মধ্য থেকে কাবালা নামে একজন লোক একটি বই লিখেন। এই বইটি কাব্বালা নামে পরিচিত। কী লিখেছিলেন তিনি এই গ্রন্থে ? তিনি লিখেছিলেন,</p>
<blockquote><p>“হে বনি ইসরাইল! ফিরাউনের এই জুলুমের প্রতি দৃষ্টি পাত করো না। এই সমস্ত জুলুম নির্যাতন হলো কালের একটি পরিক্রমা মাত্র। এসব আসবে, যাবে। এই সকল ঘটনা ক্ষণস্থায়ী। এই ফিরাউন নিজেকে খোদা দাবি করলেও তোমরা এমন এক জাতি যারা আল্লাহ তা&#8217;লাকেও পরাজিত করেছো (নাউজুবিল্লাহ)। সুতারাং, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো। দেখবে তোমরা ফেরাউনকেও পরাজিত করেছো। কেন? কারণ তোমরা হলে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, তোমরা হলে আল্লাহ তালার আসল বান্দা যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। আর অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীর সকল মানুষকে বানর হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা মানুষ হয়েছে।”</p></blockquote>
<p>এই কথাগুলোকে পরবর্তীতে ইয়াহুদি হামহামগণ তাওরাতে শামিল করে এবং তাদের ঈমানের স্তম্ভ হিসাবে ঘোষণা করে।</p>
<p><strong>এখন আমি আপনাদেরকে যায়নবাদের ঈমান কী তা বুঝাবো। তাদের ঈমানের স্তম্ভসমূহ হলঃ</strong></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto"><em>১। আমরা হলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। আমরা দুনিয়ার শাসনকর্তা হবো।</em></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto"><em>২। দুনিয়ার অন্য মানুষদেরকে আমাদের গোলাম হিসাবে সৃষ্টি করা হয়েছে।</em></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto"><em>৩। আমরা বৃহৎ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করবো। আমাদের মাসীহ আসবে। তিনি দুনিয়ার শাসন কর্তা হিসাবে সারা দুনিয়াকে শাসন করবেন।</em></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto"><em>৪। দুনিয়ার সকল মানুষ আমাদের গোলামী করবে।</em></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto">এটাকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে তারা যে পরিকল্পনাসমুহ হাতে নিয়েছে সেগুলো হলোঃ</p>
<p><strong>১। পৃথিবীর ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমগ্র দুনিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইয়াহুদিদেরকে পুনরায় ফিলিস্তিনে (বায়তুল মুকাদ্দাসে) একত্রিত করতে হবে।</strong></p>
<p><strong>২। ওয়াদাকৃত ভূমিতে (promised land) বৃহৎ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা।</strong></p>
<p><strong>ওয়াদাকৃত ভূমি (promised land) কি?</strong>&nbsp; &#8220;<em>ফোরাত এবং নীল নদের মাঝখানের সমস্ত জায়গাতে (যেটা আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন) আর কারো কোন অধিকার নেই। এটা মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত একটা বিশাল ভূমি। এই স্থানে শুধু মাত্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হওয়া যাবে না। এর আশে পাশের সমস্ত দেশ সমূহ মুসলিম দেশ, তারা ইসরাইলকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করবে। তাই প্রতিষ্ঠিত বৃহৎ ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত ২৮ টি দেশের কর্তৃত্ব আমাদের ইসরাইলের হাতে থাকতে হবে এবং আনাতলিয়াতে (বর্তমান তুরস্ক) ১৯ টি ক্রুসেডে বিজয় অর্জনকারী এবং সেলজুকীয় রাষ্ট্র ও উসমানী খিলাফাতের উত্তরাধিকারী কোন রাষ্ট্র থাকবে না। অর্থাৎ তুরস্ক নামে কোন দেশ থাকবে না।&#8221;</em></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto">এটা হল তাদের দ্বীনের অংশ বিশেষ। এটা তারা তাওরাতকে বিকৃত করে সেখানে প্রতিস্থাপন করেছে। সুতারাং এটা নিয়ে কোন প্রকার সংলাপ, সমঝোতা, দরকষাকষি চলবে না। ইসরাইলের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট এই কথাটি বলে থাকে। আমাদের ২ টি মানচিত্র রয়েছে, একটি হল দেয়ালে টানানো মানচিত্র ছোট ইসরাইল, অপরটি হল আমাদের অন্তরের মণিকোঠায় অঙ্কিত মানচিত্র অর্থাৎ বৃহৎ ইসরাইল। এটা আল্লাহ তায়ালার ওয়াদাকৃত ভূমি। তিনি এই ভূমিকে আমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন।</p>
<p><strong>৩। বাইতুল মুকাদ্দাসে সুলায়মানের গম্বুজ (The Temple of sulayman) পুনরায় স্থাপন করবো।</strong></p>
<p class="jlfdnvsn" dir="auto">এই তিনটি কাজ করতে পারলে আমাদের মাসীহর আগমনের জন্য এই পৃথিবী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হবে। এর পর দাউত আঃ আসবেন এবং তার সিংহাসনে বসার মধ্য দিয়ে সমগ্র দুনিয়ায় আমাদের শাসন কায়েম হবে।</p>
<p dir="auto">এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কেন যায়নবাদের এই সকল বিষয়ে আলোচনা করছি? কারণ এই সব বিষয় সম্পর্কে জানা ছাড়া আমরা বর্তমানের ঘটনা প্রবাহ বুঝতে পারবো না। আপনারা প্রায়ই বলেন, তায়্যিপ এটা করছে , সেটা করছে, সে কত না মহৎ কাজ করে ফেলছে! কিন্তু কথা হচ্ছে, কেন করছে? কারণ ইসরাইল তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য এদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে। সাইপ্রাসকে হস্তগত করার জন্য সকল পরিকল্পনা গ্রহন করেছে আর তাদের হাতে সাইপ্রাসকে তুলে দেওয়ার লক্ষে সকল বন্দোবস্তু করা হচ্ছে। কেন? কারণ তারা বৃহৎ ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকা সাইপ্রাসকে সেনা ঘাটিতে পরিণত করবে।</p>
<div class="bcvklqu9">
<div class="l9j0dhe7 du4w35lb rq0escxv j83agx80 cbu4d94t pfnyh3mw d2edcug0 jeucouz4">
<div class="rq0escxv l9j0dhe7 du4w35lb j83agx80 cbu4d94t buofh1pr tgvbjcpo taijpn5t">
<div class="rq0escxv l9j0dhe7 du4w35lb j83agx80 cbu4d94t pfnyh3mw d2edcug0 bp9cbjyn">
<div class="oajrlxb2 gs1a9yip g5ia77u1 mtkw9kbi tlpljxtp qensuy8j ppp5ayq2 goun2846 ccm00jje s44p3ltw mk2mc5f4 rt8b4zig n8ej3o3l agehan2d sk4xxmp2 rq0escxv nhd2j8a9 mg4g778l pfnyh3mw p7hjln8o kvgmc6g5 cxmmr5t8 oygrvhab hcukyx3x tgvbjcpo hpfvmrgz jb3vyjys rz4wbd8a qt6c0cv9 a8nywdso l9j0dhe7 i1ao9s8h esuyzwwr f1sip0of du4w35lb n00je7tq arfg74bv qs9ysxi8 k77z8yql pq6dq46d btwxx1t3 abiwlrkh p8dawk7l lzcic4wl" tabindex="0" role="button">
<p class="jlfdnvsn" dir="auto"><b>অনুবাদঃ </b>বুরহান উদ্দিন আজাদ।</p>
<div class="n00je7tq arfg74bv qs9ysxi8 k77z8yql i09qtzwb n7fi1qx3 b5wmifdl hzruof5a pmk7jnqg j9ispegn kr520xx4 c5ndavph art1omkt ot9fgl3s rnr61an3" data-visualcompletion="ignore">&nbsp;</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/brrihot-moddhyo-praccyo-prokolpo-ki/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6563</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী সভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান সম্রাট আলীয়া ইজ্জেতবেগভিচ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/aliya-izzetbegovic-on-the-future-of-islamic-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/aliya-izzetbegovic-on-the-future-of-islamic-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 15:51:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগভিচ]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী সভ্যতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান সম্রাট আলীয়া ইজ্জেতবেগভিচ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6377</guid>

					<description><![CDATA[আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে প্রান্তরে ইসলামী জাগরণ দেখা দিয়েছে। প্রতিটি মুসলিম দেশেই মুসলিমরা তাদের হৃত গৌরব পুনঃরোদ্ধারে আজ বদ্ধপরিকর। যখন কোন কিছু আন্দোলিত হওয়া শুরু করে তখন সেই আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার শক্তি আর কারো নেই। আজ পর্যন্ত মুসলিম দেশ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে প্রান্তরে ইসলামী জাগরণ দেখা দিয়েছে। প্রতিটি মুসলিম দেশেই মুসলিমরা তাদের হৃত গৌরব পুনঃরোদ্ধারে আজ বদ্ধপরিকর। যখন কোন কিছু আন্দোলিত হওয়া শুরু করে তখন সেই আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়ার শক্তি আর কারো নেই। আজ পর্যন্ত মুসলিম দেশ সমূহে যা হয়েছে তা হয়ত আগামী দিনের বিপ্লবের জন্য যথেষ্ট নয়, কিন্তু আগামী দিনে যে সফল একটি বিপ্লব হবে এর বারতা নিয়ে এসেছে এই নবজাগরণ।</p>
<p>অন্যান্য অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের মত আলিয়া ইজ্জেত বেগভিচও “মুসলিম দুনিয়া কেন পেছনে পড়ে আছে?” এবং “এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?” এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মুসলিম বিশ্বকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মেনিফেস্টোও দাড় করিয়েছেন।</p>
<p>আলিয়া ইজ্জেতবেগোভিচ ১৯১৮ সালকে মুসলিম বিশ্বের জন্য পতনের সর্বশেষ বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কেননা সেই সময়ে পৃথিবীতে কোন একটি স্বাধীন মুসলিম দেশ ছিল না। এই সময়কে বিবেচনায় নিয়ে আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচ মুসলিম উম্মাহর পশ্চাদপদতার “অভ্যন্তরীণ” এবং “বাহিরের” কারণ সমূহকেও চিহ্নত করেন। বাহিরের কারণ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ কারণ সমূহের একটি হল; মঙ্গোলদের আক্রমন। কেননা এই মঙ্গোলরা মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিগত, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক সকল অভিজ্ঞতাকে ভয়াবহ ভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিল। <strong>আর পশ্চাৎপদতার অভ্যন্তরীণ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইসলামকে কেবলমাত্র একটি ধর্ম হিসাবে এবং ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টি কোন থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। </strong></p>
<p>আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচ বিশেষ করে দ্বিতীয় কারণটির উপরে অনেক বেশী গুরুত্ত্বারোপ করেছেন এবং এই বিষয়ে বেশী বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি পাশ্চাত্যের চোখে ইসলামকে কেবলমাত্র যারা একটি ধর্ম (Religion) হিসেবে দেখে থাকেন তাদেরকে তিনি সমালোচনা করেন কঠিনভাবে।</p>
<blockquote><p><strong> আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচের মতে মানুষ রূহ এবং শরীরের সমন্বয়ে গঠিত একটি জীব। এই ‘রূহ এবং শরীর’ উভয়ের প্রয়োজনকে পূর্ণ করার জন্য ইসলাম প্রয়োজন। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটিকে নিয়ে থাকলে তা কক্ষনই পরিপূর্ণতা লাভ করবে না।</strong></p></blockquote>
<p>আলিয়া ইজ্জেত বেগভিচ তার ইসলামী ডেক্লারেশন নামক গ্রন্থে বলেন; “ইবাদত, আত্মত্যাগ, তওবা, জুহুদ, উত্তম কাজ এবং ভালোবাসা, কেবলমাত্র এই সকল পরিভাষাকে ব্যবহার করে ইসলামকে পরিপূর্ণ ভাবে বুঝা সম্ভবপর নয়। ইসলামকে পরিপূর্ণ ভাবে বুঝার জন্য শরীর, ক্ষমতা, সংগ্রাম, অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, আদালত, স্বাস্থ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, পুরস্কার, পরিবেশ এবং শক্তি এই সকল পরিভাষাকেও খুব ভালভাবে জানতে হবে।</p>
<p>“ তার মতে মুসলমানগণ যখন ইসলামকে বহুমাত্রিক দিক থেকে বিবেচনা করা পরিহার করেছে তখন থেকেই মূলত মুসলমানদের পতন শুরু হয়েছে। তিনি অন্য স্থানে বলেন, ইসলামকে রাজনীতি বিমুখ করে কেবলমাত্র রাজনীতি বিহীন একটি ইবাদতের মধ্যে ফ্রেমবন্দী করে ফেলার ফলে মুসলমানগণ বিশ্ববিজয়ের নেশা এবং দুনিয়াকে পরিবর্তন করার প্রবল বাসনা থেকে ফিরে আসে। মুসলমানদের এই ফিরে আসাটা মঙ্গোলদের আক্রমণের চেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে।</p>
<p><em><strong>মুসলমানগণ অরাজনৈতিক এবং দুনিয়াকে পরিবর্তনের নেশা থেকে ফিরে আসার ফলে তাদের মধ্যে আস্তে আস্তে ভীতির সঞ্চার হতে থাকে। এই ভীতি আস্তে আস্তে মুসলমানদের মধ্য থেকে সাহসিকতা, উচ্ছাস, সংগ্রামী চেতনাকে দূরীভূত করে দেয়। ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ার পরিবর্তে, নিজেদের চেয়ে যাদেরকে শক্তিশালী দেখেছে সেই সকল বিদেশী শক্তির পক্ষাবলম্বন করা শুরু করে। পরবর্তীতে তাদের হাতের খেলার পুতুল হয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ সংঘাত এবং একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে!</strong></em></p>
<p>আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচ মুসলিম বিশ্বের পশ্চাদপদতার কারণ সমূহকে তুলে ধরার পাশাপাশি, মুসলিম উম্মাহকে সামনে যেতে হলে কোন ধরণের পথ এবং পন্থাকে অবলম্বন করতে হবে সেই ব্যাপারের উপরেও আলোকপাত করেছেন।</p>
<p>আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচের মতে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত হল দ্বীনী ক্ষেত্রে একটি ‘তাজদীদ’ করা অর্থাৎ ধর্মীয় চিন্তাকে যুগজিজ্ঞাসার আলোকে নতুন করে বিন্যাস করা এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ‘ইত্তিহাদি ইসলাম’ (ইসলামী ঐক্য) র ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করার সাথে সাথে নতুন করে বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসা।</p>
<p>আলিয়া ইজ্জেতবেগভিচ, জাতীয় অঙ্গনে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একটি ইসলামী সংগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন মুসলিম দেশসমূহকে নিয়ে একটি বিশাল ফেডারেশন গঠনের জন্য সংগ্রাম করা প্রয়োজন বলে মনে করতেন। এই ফেডারেশন বা ইসলামী ঐক্যকে প্রতিষ্ঠা করা কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন মুসলমানগণ তাদের রাষ্ট্রীয় শক্তি এবং অর্থনৈতিক শক্তি সমূহকে এক করতে পারবেন। অর্থ-সম্পদ, জনশক্তি, পেট্রোল, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং এই ধরণের যত সম্ভাবনা আছে সেগুলোকে এক করতে হবে। তাহলেই কেবলমাত্র মুসলমানদের এই ফেডারেশনটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে (Global System) একটি সত্যিকারের পার্থক্য তৈরি করতে পারবে।</p>
<p>জ্ঞান সম্রাট ইজ্জেতবেগভিচ, রক্ষনশীলদের (Conservative) পুরানো প্রেসক্রিপশন এবং আধুনিকতাবাদীদের (Modernist) ভিনদেশী সব প্রেস্ক্রিপশনকে সমাধান হিসেবে পেশ করার সমালোচনা করেন। তার মতে মুসলমানদের পশ্চাদপদতার কারণ হচ্ছে ইসলামকে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা না করা। অর্থাৎ ইসলামের কারণে মুসলমানদের পতন হয়নি বরং ইসলামকে মেনে না চলার কারণে মুসলমানগণ আজ অধঃপতিত এবং নিপীড়িত এক জাতি।</p>
<p>মুসলমানগণ যদি পুনরায় ইসলামকে ধারণ করে নতুন একটি সভ্যতা এবং সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে তাহলে এটা থেকে শুধুমাত্র মুসলমানগণ নয় সমগ্র মানবতা লাভবান হবে বলে তিনি মনে করেন। শ্বাস-প্রশ্বাস এবং খাদ্য মানুষের জন্য যত টুকু প্রয়োজন সংস্কৃতি এবং সভ্যতাও মানুষের জন্য ততটুকুই প্রয়োজন। এই জন্য মুসলমানগণ তাদের বিশ্বাসের আলোকে সংস্কৃতি এবং সভ্যতাকে গড়ে তুলতে বাধ্য!</p>
<p>‘সংস্কৃতি’, মানুষের অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতাকে বৃদ্ধি করার একটি পন্থা। ‘সংস্কৃতি’, ‘কেন বসবাস করি’ এই প্রশ্নের জবাব খুজে আর “সভ্যতা” ‘কিভাবে বসবাস করব’, এই প্রশ্নের জবাব খুজে। <em><strong>ইসলামের যেমন একটি নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে তেমনিভাবে ইসলামের নিজস্ব একটি সভ্যতাও রয়েছে</strong></em>। এই জন্য মুসলমানদের উচিত হল, প্রকৃতির উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নয় প্রকৃতিকে ভালো ভাবে বুঝা এবং উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।</p>
<p>আলিয়া ইজ্জেত বেগভিচের মতে, পাশ্চাত্য সভ্যতা প্রকৃতিকে নিজের জন্য একটি আমানত নয় বরং নিজের সম্পদ মনে করে। এই দর্শনের উপর ভিত্তি করে তারা যে প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক উন্নয়ন সাধন করেছে তা মানবতার জন্য কখনো কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না। ‘তাওহীদ’ এর শিক্ষা বিহীন এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ‘অনেক সুবিধার পাশাপাশি অনেক বিপদও বয়ে এনেছে’। এই কথা বলে তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ভয়ঙ্কর দিকের দিকে ইশারা করেছেন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/aliya-izzetbegovic-on-the-future-of-islamic-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6377</post-id>	</item>
		<item>
		<title>রাষ্ট্রব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা ও আমাদের চিন্তাধারা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-imbalance-of-the-state-system-and-our-way-of-thinking/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-imbalance-of-the-state-system-and-our-way-of-thinking/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 04 Sep 2021 11:12:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[অর্থনৈতিক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6095</guid>

					<description><![CDATA[যখন একটা জাতি তার উপর চলতে থাকা রাজনৈতিক জুলুম, অর্থনৈতিক ভয়াবহ ধ্বস এবং সকল আগ্রাসন থেকে মুক্তির চিন্তা বাদ দিয়ে দেয়! কোন কার্যকর কর্মসূচি, আলাপ বা উদ্যোগ নেওয়া ছেড়ে দেয়! তখন সেই জাতিকে নির্লজ্জ নানা ইস্যু তৈরি করে মূল বিষয়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>যখন একটা জাতি তার উপর চলতে থাকা রাজনৈতিক জুলুম, অর্থনৈতিক ভয়াবহ ধ্বস এবং সকল আগ্রাসন থেকে মুক্তির চিন্তা বাদ দিয়ে দেয়! কোন কার্যকর কর্মসূচি, আলাপ বা উদ্যোগ নেওয়া ছেড়ে দেয়!</p>
<p>তখন সেই জাতিকে নির্লজ্জ নানা ইস্যু তৈরি করে মূল বিষয় থেকে দূরে রাখা হবে এটাই স্বাভাবিক!</p>
<p>ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি, কৃষি, রাষ্ট্র ইত্যাদি নিয়ে কোন আলাপ বা প্রস্তাবনা আমরা দিচ্ছিনা কিংবা গত সময়ের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যখাত নিয়েও কোন মাথাব্যাথা নেই।<br />
তাহলে সব মাথাব্যাথা তো তৈরিকৃত ইস্যু নিয়েই হবে, এটাও স্বাভাবিক।</p>
<p>• GDP(Gross Domestic Product) তথা মোট উৎপাদিত দেশীজ পণ্য বেড়ে গেছে, আরো কত উন্নয়নের সূচক এখন দেখা যাচ্ছে!</p>
<p>অথচ BBS এর মতে করোনাকালীন সময়েই কর্মক্ষম মানুষ বেকার হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ! সরকারপন্থী গবেষক দলের মতেও, প্রথম দিকেই ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ নতুন বেকার হয়েছে। আর CPD এর মতে ৫ কোটি। <strong><em>কিন্তু আসল হিসেব হলো এখন ৮ কোটি বেকার!</em></strong></p>
<p>হিসেব কমবেশী যাই হোক, কিন্তু মানুষের এখন আসল অবস্থা কী তা ভাবতে পারছি আমরা?</p>
<p>যারা আগেই বেকার ছিল, তাদের কী অবস্থা? এর প্রভাব কোথায় কোথায় পড়বে, কতটা ভয়াবহ আকারে ছড়াবে– ভাবতে পারি আমরা? যেখানে বর্তমান কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লক্ষ। এগুলি প্রতিদিন বাড়ছে নাকি কমছে!?</p>
<p>•<strong><em> খাদ্য সংকটে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ৬ কোটি ৯৯ লক্ষ মানুষ।</em></strong></p>
<p>বিআইডিএসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জনসংখ্যার ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ স্থায়ী কর্মসংস্থানহীন। বিশ্বব্যাংক গত অর্থবছরে ২% এবং চলতি অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছে। কোটিপতি ধনী বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে অথচ সানেম গবেষণায় দেখা যাচ্ছে মহামারিতে দারিদ্র্য দ্বিগুণ হয়ে ৪২ শতাংশে পৌছেছে। বিআইডিএসও গবেষণা দেখিয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দেশে কোটিকোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কাতারে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ দারিদ্র্যবিরোধী লড়াইয়ের প্রায় ১৫টি বছর হারিয়ে গেছে। এটা কত ভয়াবহ ভাবছি একবারো?</p>
<p><strong><em>• দরিদ্র ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ থেকে বেড়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ সাড়ে আট কোটিতে পৌঁছাচ্ছে, যাদের দৈনিক আয় ১.৯ ডলারেরও কম।</em></strong><br />
মানুষের আয় কমছে, ব্যক্তি-সঞ্চয় ফুরিয়ে যাচ্ছে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সামষ্টিক বা পরিবারিক সঞ্চয় কমছে বলে ব্যক্তিগত ধার/ঋণের সুযোগ কমছে।</p>
<p>বেকারত্বজনিত কর্মহীনতায় পড়ে শিক্ষা খাতে ঝরে পড়া বাড়বে, কৃষি ও ভাসমান কাজে শিশু শ্রম বাড়বে। একই সাথে প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ঝরে পড়াও বাড়বে এবং হয়তো পাশের হারও কমে আসবে।</p>
<blockquote><p><strong>শিক্ষায় ঝরে পড়া বিশাল ছাত্র-সমাজকে নিয়ে কে ভাববে? কাউকে এই ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখছি কি? আর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে, প্রতিবাদ করে ও সংকট তুলে ধরে সমাধানের ব্যাপারে যেন কারোরই কোনো মাথাব্যথা নেই!</strong></p></blockquote>
<p>• বেকারত্ব আর ঝরে পড়া যখন বাড়বে, সামাজিক অপরাধ কি তখন কমবে? নাকি সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ আকারে বাড়তে থাকবে?</p>
<p>• রেমিটেন্স আমাদের আয়ের খাতের অন্যতম, অথচ প্রবাস থেকে শ্রমিকরা ফিরে আসছে প্রতিনিয়ত! সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই! এখন পর্যন্ত খালি হাতে দেশে ফিরেছেন প্রায় ২০ লক্ষ! যা আভাস পাওয়া যাচ্ছে খুব শীঘ্রই ফিরবেন আরো কয়েক লক্ষ শ্রমিক!</p>
<p>অথচ আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ভিত্তি ও আয়ের অন্যতম উৎস বিদেশে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো আয়। কোটি কোটি যোদ্ধাদের দুর্দশা বোঝার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। গত এক বছরে প্রায় ২০ লক্ষ শ্রমিক বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে খালি হাতে! কিন্তু কেউ কি খবর রেখেছে তাদের? বা তাদের কোনো মৌলিক দাবির? তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে? তাদের পারিবারিক অসহায়ত্বের কোনো সমাধান কি হয়েছে?</p>
<blockquote><p><strong>জমি বিক্রি করে আমাদের টগবগে যুবকরা বিদেশে গিয়ে অসহায় চেহারা নিয়ে রাতদিন খেটে যায়, নির্যাতিত হয়; তাদেরকেই যখন খালি হাতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তখন একটা লাইনও আমরা উচ্চারণ করি না! কোনো উদ্যোগ ও কর্মসূচি তো বহুদূর!</strong></p></blockquote>
<p>আরোও কষ্টের ব্যাপার হল,<br />
বাংলার গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প চলমান ছিল, ছোট ছোট উদ্যোক্তার ভূমিকা ছিল, কিন্তু কৃষিতে ভয়াবহ ধ্বস নেমে এসেছে গত কয়েক দশকে! যতটুকুও আছে তা কায়িক শ্রম নির্ভর, আবার সেটাতেও নেই ন্যায্যতা! সবমিলিয়ে গাণিতিক হারে বেড়েছে নারী বেকারত্ব, নারী অসহায়ত্ব। আর এটাকেই ঘুণেধরা রাষ্ট্র কাজে লাগিয়েছে এবং পাচার করেছে লক্ষ লক্ষ নারীকে। বর্তমান সরকার ব্যাপকহারে তাদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।</p>
<p>বিগত মাত্র এক বছরে তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। ফলে নির্যাতন, বেকারত্ব বিষয়ে সুরাহায় না গিয়ে সরকার আরো শ্রমিক পাঠানোর ধান্দায় থেকেছে, আছে।</p>
<p><strong>যেটা বলতে চাচ্ছি, শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকেই দিনে আসছে গড়ে ১১ টি কফিন। এক বছরে এসেছে ৪ হাজার ৮৮১ টি। এর মধ্যে নারীদের সংখ্যাও অনেক। সাড়ে তিন বছরে শুধু সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকের লাশ এসেছে প্রায় সাড়ে তিনশ। তাঁদের মধ্যে ৫৩ জনই আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আত্মহত্যার এই হার তিন বছর আগের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি। তার মানে এই সময়ে তাঁদের ওপর নির্যাতনও ১৭ গুণ বেড়েছে!</strong></p>
<p>কোনটা আত্মহত্যা আর কোনটা হত্যা, তাইবা কে বলবে? কেনইবা পরিবারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ আমাদের মায়েরা আত্নহত্যা করে? কেউ আছে আমাদের? আছে কোনো পররাষ্ট্রনীতি, কোনো বৈদেশিক শ্রম ও অধিকার মন্ত্রণালয়?<br />
আচ্ছা, এসব কি ইস্যু হতে পারেনা?</p>
<blockquote><p><strong>• আবার অর্থনীতির অন্যতম আরেক ভিত্তি আমাদের সমুদ্র বন্দর, যে বন্দর নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও সামগ্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে! কিন্তু এ সকল সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার বদলে পুরো বন্দরকে দিয়ে দেওয়া হল ভারতের হাতে!</strong><br />
<strong>চিন্তা করা যায়? একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বন্দর নিয়ন্ত্রণ করবে ভিন্ন একটি দেশ।</strong></p></blockquote>
<p>• ৫০ এর উপরে খনিজ সম্পদ, সব বিদেশীদের হাতে ইজারা দেওয়া।<br />
ইউরেনিয়ামের মত দামী সম্পদ, যার জন্য এত যুদ্ধ, তা কিনা আমরা সাম্রাজ্যবাদীদের বিনা পয়সায় দিয়ে যাচ্ছি! সবকিছু বাদ দিলাম, গ্যাস যে আমাদের কত বড় সম্পদ– তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র আমাদের, সেটাও নিয়ে যাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীরা!</p>
<p>সেখানে সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হল, আমাদের সরকার বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মূল্যের তিনগুণ দামে গ্যাস আমদানি করছে!! কোন লাইভ প্রোগ্রাম হয়েছে এটা নিয়ে? কোন ভাইরাল পোস্ট!</p>
<p>• এদিকে কৃষির ক্ষেত্রে বণিক বার্তায় প্রকাশিত যে সবচেয়ে ভয়াবহ রিপোর্ট আমরা দেখেছি তা হলো– ধান ব্যতীত সকল প্রকার কৃষিদ্রব্য বাহির থেকে আমদানি করতে হচ্ছে আমাদের!!!</p>
<p>সারা দেশব্যাপী যে বেকারত্বের ভয়াবহ কালো ছায়া বিরাজমান। তাতে এই বেকার, চাকুরিহীন মানুষগুলো কোথায় যাচ্ছে? তাদের সন্তান, পরিবার সব কিছুই তো গ্রাম-কেন্দ্রিক, তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই গ্রামমুখী হচ্ছে। কিন্তু গ্রামের যে সার্বিক অবস্থা তা দ্বারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সম্ভবপর নয়। এমনকি সরকার থেকেও তারা কোনো সহযোগিতা, ভর্তুকি পাচ্ছে না।</p>
<p><em><strong>অথচ সরকার থেকে কৃষি ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা! এই বড় অঙ্কের অর্থ আসলে কোথায় যাচ্ছে, যেখানে ৭০% মানুষই ভূমিহীন চাষী!</strong></em> তারা তো সরকারের তালিকারই বাইরে, সরকার থেকে কোনো ঋণ পাচ্ছে না। আবার প্রত্যেক বারই ঘাটতি দেওয়া হচ্ছে। এই ঘাটতির টাকাগুলো কোথায় যাচ্ছে যেখানে ধান ছাড়া সব ফসলই আমাদেরকে বাহির থেকে আমদানি করতে হচ্ছে? এটা সহজেই অনুমেয়– এ জায়গাতেও বড় ধরণের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, অযোগ্য নেতৃত্ব কাজ করছে।</p>
<p><strong><em>LLRD এর মতে বর্তমানে ৫০% পুরুষ এবং ৬০% নারী কৃষক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।</em></strong> বিভিন্ন ক্ষুদ্র ঋণ, অন্যান্য চাহিদার কারণে তারা নিজেদের উৎপাদিত ফসল, শাক-সবজি, নিজেদের চাষ করা মাছ নিজেরাই গ্রহণ করতে পারছে না। তারা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না, বঞ্চিত হচ্ছে তাদের সন্তানেরাও।</p>
<p>এমনকি অনেক বছর আগেও তাদের অবস্থা এ রকমই ছিল। আর তারা যতটুকু গ্রহণ করতে পারছে, সেটাতেও আছে কীটনাশক, সার আর ভেজালের সমাহার। তাহলে চিন্তা করে দেখুন, এই চাষী, হাওড়-নদীর জেলে, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক, নারী কৃষক, কুটির-শিল্পীদের নিয়ে, তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে আমরা একটুও ভাবছি? রাষ্ট্রের কোন সহযোগিতা বা উদ্যোগ আছে? আছে কি কোন পরিকল্পনা, পর্যালোচনা, প্রস্তাবনা? না, নেই।</p>
<p>• করোনাকালীন সময়ে শহরাঞ্চলের যে ২ কোটি পুরুষ কর্মসংস্থানহীন হয়ে পড়েছে তারা সবাই কিন্তু গ্রামেই ফিরে যাচ্ছে। ফলে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্বটা অনেকাংশে তাদের স্ত্রী অর্থাৎ নারীদের উপর চলে গেছে। গ্রামের নারীরা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে কিছু টাকা আয় করে। এই আয়ের পরিমাণ-ই বা কতটুকু? তারা আদৌ ন্যায্যমূল্যটা পাচ্ছে? তাদের স্বাস্থ্যের কী অবস্থা, চিকিৎসার কী অবস্থা? আর যতটুকুই বা পাচ্ছে তা দিয়ে কি সংসার, একটি পরিবার চালানো সম্ভব? সবমিলিয়ে এই প্রশ্নগুলো কিন্তু থেকেই যায়!</p>
<blockquote><p><strong>কিন্তু কোন ইস্যু তৈরি হয় এসব নিয়ে?</strong></p></blockquote>
<p>• এদিকে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যা, কিন্তু চিকিৎসা ব্যবস্থার কি হাল? তবুও আমাদের গুরুত্বহীন, অপরিচ্ছন্ন ও ভয়াবহ নোংরা পরিবেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা বাদই দিলাম!</p>
<p>প্রতিদিন যে হারে মানুষ মারা যাচ্ছে, এগুলিও নজরে পড়েনা আমাদের? এর উত্তরণের কোন কর্মসূচিই নেই!</p>
<p><strong>সব নজর তাহলে সাময়িক ইস্যু গুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-imbalance-of-the-state-system-and-our-way-of-thinking/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6095</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বর্তমান বাংলাদেশ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/our-state-system-and-current-bangladesh/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/our-state-system-and-current-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 04 Sep 2021 11:00:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা]]></category>
		<category><![CDATA[আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বর্তমান বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বর্তমান বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6083</guid>

					<description><![CDATA[চোখ মেলে তাকালেই কি রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবস্থা দেখা যায়? নাকি, ইস্যুতে ভরা বাংলাদেশের করুণ চিত্র ভেসে উঠে চোখের মণি কোঠায়? অবশ্য ইস্যুও খারাপ কিছু না, যদি তা মানবতার কল্যাণকামী কোন রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন ধারার গোষ্ঠীগুলো তৈরি করতো। কিন্তু বাস্তবতা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>চোখ মেলে তাকালেই কি রাষ্ট্রের সামগ্রিক অবস্থা দেখা যায়?</strong></p>
<p>নাকি, <strong>ইস্যুতে ভরা বাংলাদেশের করুণ চিত্র ভেসে উঠে চোখের মণি কোঠায়?</strong></p>
<p>অবশ্য ইস্যুও খারাপ কিছু না, যদি তা মানবতার কল্যাণকামী কোন রাজনৈতিক দল বা বিভিন্ন ধারার গোষ্ঠীগুলো তৈরি করতো। কিন্তু বাস্তবতা হল মেরুদণ্ড সম্পন্ন এমন কোনো দল বা গোষ্ঠী এই মুহূর্তে নেই!</p>
<p><strong>বর্তমানে গোটা জাতি যে ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তার কয়েকটি আলামত হল-</strong></p>
<blockquote><p>•<strong> BBS এর মতে করোনাকালীন সময়েই কর্মক্ষম মানুষ বেকার হয়েছে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ! সরকারপন্থী গবেষক দল বলছে, প্রথম ৬৬ দিনে ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ নতুন বেকার হয়েছে। আর CPD এর মতে ৫ কোটি। কিন্তু আসল হিসেব হলো ১০০ দিনে ৭ কোটি বেকার! (প্রখ্যাত গবেষক শ্রদ্ধেয় ফাইয়াজ স্যারের মতেও এটিই।)</strong></p></blockquote>
<p>শতদিন চলে গেছে অনেক আগেই, এখন কী অবস্থা ভাবতে পারেন?</p>
<p>যারা আগেই বেকার ছিল, তাদের কী অবস্থা? এর প্রভাব কোথায় কোথায় পড়বে, কতটা ভয়াবহ আকারে ছড়াবে– ভাবতে পারি আমরা? <strong>যেখানে বর্তমান কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লক্ষ।</strong></p>
<blockquote><p>• <strong>খাদ্য সংকটে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ৬ কোটি ৯৯ লক্ষ মানুষ।</strong></p></blockquote>
<p>স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আয় ব্যাপক হারে কমে গেছে। এগুলো কোনো সাময়িক সমস্যা নয়। ৬ কোটি লোক নতুন করে স্থায়ী বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছে। প্রায় ৭ কোটি লোক ব্যবসা, চাকরি ও সঞ্চয় হারিয়ে দারিদ্র্য সীমার নিচে চলে গিয়েছে, বাকীরা যাওয়ার পথে।<br />
অথচ, <em><strong>সিস্টেমেটিক ব্যর্থতা ও চিকিৎসা বিপর্যয় ঢাকতে, টালমাটাল অর্থনীতি আড়াল করতে, ব্যাংক লুট অব্যাহত রাখতে সরকার খাদ্য সংকট ও বেকারত্বকে অস্বীকার করে!</strong></em></p>
<p><strong>সবকিছু ঢেকে রাখা দরকার না? তাই নানাবিধ ইস্যু দিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বস্তিতেই আছেন। শুধু শেখ হাসিনার দোষ দিয়ে কী লাভ বলেন? সকল রাজনৈতিক দলও যে এখন শীতনিদ্রা যাপন করছে!</strong></p>
<blockquote><p><strong> ৫০ এর উপরে খনিজ সম্পদ, সব বিদেশীদের হাতে ইজারা দেওয়া।</strong></p></blockquote>
<p>ইউরেনিয়ামের মত দামী সম্পদ, যার জন্য এত যুদ্ধ, তা কিনা আমরা সাম্রাজ্যবাদীদের বিনা পয়সায় দিয়ে যাচ্ছি! সবকিছু বাদ দিলাম, গ্যাস যে আমাদের কত বড় সম্পদ– তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র আমাদের, সেটাও নিয়ে যাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীরা!</p>
<p>সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় কী জানেন?<br />
<strong>আমাদের সরকার বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মূল্যের তিনগুণ দামে গ্যাস আমদানি করছে!! পূর্বের অবস্থা তবুও একটু ভালো। যদিও সেই ভালো অবস্থাতেই বহুদিন ধরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছিল!</strong></p>
<p><strong>আমরা এটুকুতেই থেমে নেই। এই কেনা গ্যাসেরও অপচয় হচ্ছে। অপচয়ের একটা উদাহরণ দেই, ওয়াসা বিশুদ্ধ পানি দিতে সরবরাহ করতে পারে না, তাই শুধু ঢাকাতেই ৯১ শতাংশ গ্রাহক পানি ফুটিয়ে বা সেদ্ধ করে পান করেন, আর এ জন্য প্রতি বছর আনুমানিক ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাসের অপচয় হয়! নিজের সম্পদ দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে কিনেও যেন আমাদের শান্তি হয় না!</strong></p>
<blockquote><p><strong>• বন্যার অবস্থা আর কী বলবো! মূলত বন্যার পরিস্থিতি বেইজ করে ভাবলাম লিখি।</strong></p></blockquote>
<p>যাদের দেখলাম, তারা গত দুইমাস যাবত পানিবন্দী! ভয়াবহ অবস্থা। সরকার, প্রশাসন, কোন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় গোষ্ঠীর দেখা নেই; উদ্যোগ নেই, প্রতিবাদ নেই!<br />
অথচ পুরো ব্যাপারটাই রাজনৈতিক। ভারত বাঁধ খুলে দিচ্ছে, খরার সময় পুড়িয়ে মারছে আবার বর্ষার সময় বন্যায় ভাসিয়ে মারছে!</p>
<p>আমরা কেউ কি এসব নিয়ে কথা বলি? এগুলো নিয়ে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু কি দেখেন? কিছু দান-সদকা দিয়েই কি এসব সমাধান করা সম্ভব? কোটি কোটি মানুষ বেকার হচ্ছে, কর্মক্ষম যুবকেরা বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ঘরে খাবার নেই!<br />
<em><strong>কুর&#8217;আনের আয়াত পড়ে &#8216;এসব আল্লাহর গযব&#8217; বলে চালিয়ে দিলেই কি সমাধান হয়ে যাবে? এই বন্যা, নদী ভাংগনের গযব উন্নত দেশে হয় না কেন? নাকি পানিবিদ্যা, নগরায়ন, নদী ডিজাইন– এসব ইসলামে নেই?</strong></em></p>
<p>পানি, নদী ভাঙন, বন্যার কারণে টানা ৬ মাস মানুষকে বেকার থাকতে হবে! চালের বস্তা, বিরিয়ানির প্যাকেট দান করার ছবি দিয়ে এসব সমাধান কখনোই সম্ভব নয়। এটা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সংকট, সুতরাং এটাকে সেভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।</p>
<blockquote><p>• <strong>দরিদ্র ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ থেকে বেড়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ সাড়ে আট কোটিতে পৌঁছাচ্ছে, যাদের দৈনিক আয় ১.৯ ডলারেরও কম।</strong><br />
<strong>মানুষের আয় কমছে, ব্যক্তি-সঞ্চয় ফুরিয়ে যাচ্ছে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সামষ্টিক বা পরিবারিক সঞ্চয় কমছে বলে ব্যক্তিগত ধার/ঋণের সুযোগ কমছে। বেকারত্বজনিত কর্মহীনতায় পড়ে শিক্ষা খাতে ঝরে পড়া বাড়বে, কৃষি ও ভাসমান কাজে শিশু শ্রম বাড়বে। একই সাথে প্রাইমারি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ঝরে পড়াও বাড়বে এবং হয়তো পাশের হারও কমে আসবে।</strong></p></blockquote>
<p>শিক্ষায় ঝরে পড়া বিশাল ছাত্র-সমাজকে নিয়ে কে ভাববে? কোনো ছাত্রসংগঠকে এই ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখছি কি? আর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারে, প্রতিবাদ করে ও সংকট তুলে ধরে সমাধানের ব্যাপারে যেন কারোরই কোনো মাথাব্যথা নেই!</p>
<blockquote><p><strong>• বেকারত্ব আর ঝরে পড়া যখন বাড়বে, সামাজিক অপরাধ কি তখন কমবে? নাকি সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ আকারে বাড়তে থাকবে?</strong></p></blockquote>
<blockquote><p><strong>• রেমিটেন্স আমাদের আয়ের খাতের অন্যতম, অথচ প্রবাস থেকে শ্রমিকরা ফিরে আসছে প্রতিনিয়ত! সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই! এখন পর্যন্ত খালি হাতে দেশে ফিরেছেন ১৪ লক্ষ, খুব শীঘ্রই ফিরবেন আরো ২৩ লক্ষ শ্রমিক!</strong></p></blockquote>
<blockquote><p><strong>• কৃষি খাত</strong><br />
<strong>• শিল্প খাত</strong><br />
<strong>• চিকিৎসা খাত</strong><br />
<strong>• যোগাযোগ ব্যবস্থা</strong></p></blockquote>
<p>এসব নিয়ে আলাপ না হয় আজ না-ই করলাম!<br />
আমার এসব বলাতে কতদূরই-বা কী হবে, তাইনা?</p>
<p>তবে একটা বিষয় বলতে চাই,</p>
<blockquote><p><strong>♦ কিছুদিন আগেই আমাদের বাজেট পাশ হল। যদিও দায়সারা কপি-পেস্ট বাজেট। কিন্তু বাজেট নিয়ে একটা মানসম্মত পর্যালোচনা দেখেছেন কেউ? (দু-চারজন লেখক, গবেষক ছাড়া? অথচ এই কাজ তো বড় বড় দলগুলোর, বড় ইন্সটিটিউটগুলোর) অন্তত আমার চোখে পড়েনি। যারাও কিছু বিবৃতি দিয়েছে, বুঝাই যায় মুখস্থ বুলি, দেখে দেখে রিডিং পড়ছে!</strong></p></blockquote>
<blockquote><p><strong>• সুদ!</strong></p>
<p><span style="font-size: 16px;">আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) বিদায় হজ্জের ওসিয়ত, যা থেকে মুক্ত না হলে মানবতার মুক্তি অসম্ভব। কিন্তু ইসলামপন্থী কাউকেই দেখা যায় না রাষ্ট্রীয় সুদ নিয়ে কিছু বলতে! একটা মানসম্মত প্রস্তাবনা, সুদের কুফল, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা কেউ করেনি। </span><strong style="font-size: 16px;">(এবারের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেটে দ্বিতীয় সর্ব বৃহৎ খাতই হল সুদ! যে দেশে লক্ষ লক্ষ শিশু না খেয়ে বস্তিতে ঘুমায়, যে দেশে একজন শ্রমিক ১২ ঘণ্টা কাজ করে মাত্র ৮০০০ টাকা বেতন পায়, যে দেশে দরিদ্রতার কারণে মা-বাবা তার আদরের, কলিজার টুকরো সন্তানকে বিক্রি করে দেয়, যে দেশের মানুষ অর্থ যোগানের জন্য চোরা পথে জীবিকার সন্ধানে সাগরে ডুবে মরে, সে দেশ আজ ৬৩ হাজার কোটি টাকা সুদ দিচ্ছে! </strong><strong style="font-size: 16px;">কখনো প্রশ্ন করেছেন, এই টাকা কাদের দেওয়া হচ্ছে? এই টাকা দেওয়া হচ্ছে দেশের বড় বড় হোল্ডিংকে, যায়নবাদী ব্যাংক ও লবিদেরকে।)</strong></p>
<p><span style="font-size: 16px;">ইসলামী দলগুলো যদি এসব নিয়ে কথা না বলে, প্রতিবাদ না করে, সমাধানের সংগ্রাম না চালায়, আর সামান্য কিছু বললেও যদি তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র পরিসরের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে কি মুক্তি মিলবে কোনোদিন? এটা আদৌও সম্ভব?</span><br />
<a href="https://www.facebook.com/Mihwar.bd" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 734px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/05/mihwar-6.jpg" height="121" /></a><br />
<strong style="font-size: 16px;">• আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ভিত্তি ও আয়ের অন্যতম উৎস বিদেশে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পাঠানো আয়। কোটি কোটি যোদ্ধাদের দুর্দশা বোঝার ক্ষেত্রে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। গত এক বছরে প্রায় ষোল লক্ষ শ্রমিক বিদেশ থেকে ফিরে এসেছে খালি হাতে! কিন্তু কেউ কি খবর রেখেছে তাদের? বা তাদের কোনো মৌলিক দাবির? তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে? তাদের পারিবারিক অসহায়ত্বের কোনো সমাধান কি হয়েছে? </strong><strong style="font-size: 16px;">জমি বিক্রি করে আমাদের টগবগে যুবকরা বিদেশে গিয়ে অসহায় চেহারা নিয়ে রাতদিন খেটে যায়, নির্যাতিত হয়; তাদেরকেই যখন খালি হাতে দেশে ফেরত পাঠানো হয়, তখন একটা লাইনও আমরা উচ্চারণ করি না! কোনো উদ্যোগ ও কর্মসূচি তো বহুদূর!</strong></p>
<p><span style="font-size: 16px;">মজার ব্যাপার কি জানেন?</span></p>
<p><span style="font-size: 16px;">শুধু একটা উদাহরণ দিলেই উপলব্ধিতে আসবে, </span><span style="font-size: 16px;">বাংলার গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে কৃষি ও ক্ষুদ্র শিল্প চলমান ছিল, ছোট ছোট উদ্যোক্তার ভূমিকা ছিল, কিন্তু কৃষিতে ভয়াবহ ধ্বস নেমে এসেছে গত কয়েক দশকে! যতটুকুও আছে তা কায়িক শ্রম নির্ভর, আবার সেটাতেও নেই ন্যায্যতা!</span></p>
<p><span style="font-size: 16px;">সবমিলিয়ে গাণিতিক হারে বেড়েছে নারী বেকারত্ব, নারী অসহায়ত্ব। আর এটাকেই ঘুণে ধরা রাষ্ট্র কাজে লাগিয়েছে এবং পাচার করেছে লক্ষ লক্ষ নারীকে। বর্তমান সরকার ব্যাপকহারে তাদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে;</span><strong style="font-size: 16px;"> যেখানে অস্থিতিশীল অবস্থার জন্য বেশ কিছু বাজার বন্ধ, সেখানে সাড়ে তিন বছরে শুধু সৌদি আরবেই গেছেন ২ লাখ ৬০ হাজার নারী।</strong><span style="font-size: 16px;"> বিগত মাত্র এক বছরে তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় ৯০ হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। ফলে নির্যাতন, বেকারত্ব বিষয়ে সুরাহায় না গিয়ে সরকার আরো শ্রমিক পাঠানোর ধান্দায় থেকেছে, আছে।</span></p>
<p><strong style="font-size: 16px;">যেটা বলতে চাচ্ছি, শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকেই দিনে আসছে গড়ে ১১ টি কফিন। এক বছরে এসেছে ৪ হাজার ৮৮১ টি। এর মধ্যে নারীদের সংখ্যাও অনেক। সাড়ে তিন বছরে শুধু সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিকের লাশ এসেছে প্রায় সাড়ে তিনশ। তাঁদের মধ্যে ৫৩ জনই আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আত্মহত্যার এই হার তিন বছর আগের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি। তার মানে এই সময়ে তাঁদের ওপর নির্যাতনও ১৭ গুণ বেড়েছে!</strong></p>
<p><span style="font-size: 16px;">কোনটা আত্মহত্যা আর কোনটা হত্যা, তাই বা কে বলবে? কেনই বা পরিবারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ আমাদের মায়েরা আত্নহত্যা করে? কেউ আছে আমাদের? আছে কোনো পররাষ্ট্রনীতি, কোনো বৈদেশিক শ্রম ও অধিকার মন্ত্রণালয়? (বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ দেশের ভিতরেও তার নারী শ্রমিকের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা দেয় না। ধর্মীয়শ্রেণি বই লিখে- নারী ফিতনা, কীভাবে পুরুষদের চরিত্র ধ্বংসের কারণ নারী ইত্যাদি।)</span></p></blockquote>
<p>যাই হোক, মজার ব্যাপার বলতে যেটা বুঝাচ্ছিলাম সেটা হল, আমাদের দৈন্যদশার কথা।<br />
<em><strong>দেশের প্রধান আয়ের ব্যাপারে, কোটি কোটি শ্রমিকের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিচ্ছে! এবং তাদেরই ব্যর্থতা এটা!</strong></em></p>
<blockquote><p><strong>কিছুদিন আগে দেখলাম ধর্মীয় সেলিব্রিটি/শায়খ (ফেসবুকে তার কয়েক মিলিয়ন ফলোয়ার) ভিডিও বার্তায় বলছেন যে, নারীদের এ লাশ হয়ে ফিরে আসার জন্য নারীরা নিজেরাই দায়ী, তারা গায়রে মাহরাম ছাড়া বিদেশে কেনো গেল! তারা পর্দা বিধান পালন না করে কেনো বাহিরে যায়! পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা তাদের জন্য কাল হয়ে এসেছে!</strong></p></blockquote>
<p>তার মানে কী?<br />
এ সকল ধর্মীয় সেলিব্রেটিরা রাষ্ট্রব্যবস্থা, ইসলামী অর্থনীতি, ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, নারীর মর্যাদা, খাদ্যসংকট ও বেকারত্বসহ সামাজিক কোনো বিষয়েই ন্যূনতম ধারণা রাখার চেষ্টা করেন না বা সে আলোকে সমাধান খুঁজেন না, সব কিছুকেই ধর্মীয় খোলসে নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করাই তাদের কাজ!</p>
<p><strong>আজ এ রকমটা হওয়াই তো স্বাভাবিক, তাই না? কারণ দাবীগুলো, কথাগুলো বলার কথা ছিল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, জনগণের নেতাদের।</strong> <strong>তাই তাদের ব্যর্থতার কারণে ক্রিকেটার, ফেইসবুক হুজুর, টিকটক গায়ক আজকাল জনগণের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে!</strong></p>
<blockquote><p><strong>• দারিদ্রতার হার যেখানে বেড়ে গিয়ে প্রায় ৪০%, সেখানে অর্থনীতির অন্যতম আরেক ভিত্তি আমাদের সমুদ্র বন্দর, যে বন্দর নানাবিধ অবকাঠামোগত সমস্যা, দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও সামগ্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে! কিন্তু এ সকল সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার বদলে পুরো বন্দরকে দিয়ে দেওয়া হল ভারতের হাতে!</strong></p></blockquote>
<p><em>চিন্তা করা যায়? একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বন্দর নিয়ন্ত্রণ করবে ভিন্ন একটি দেশ</em>। আবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক সাহেব গর্ব করে বললেন, <em><strong>&#8220;দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী অবশ্যই ভারতের পণ্যবাহী জাহাজগুলোকেই আগে প্রায়োরিটি দিতে হবে।&#8221; (সূত্র- ডেইলি স্টার, জুলাই ১৬, ২০২০)</strong></em></p>
<p>আচ্ছা, এসবে কি আমরা রাজনীতি খুঁজে পাই না? এসব কি বড় ইস্যু হতে পারে না? <strong><em>নাকি ইসলাম শুধুমাত্র আর্লি ম্যারেজ, সূরা কাহাফ রিমাইন্ডার, হাতমোজা পরা পর্দা, ডিপ্রেশন আর দাড়িতেই সীমাবদ্ধ?</em></strong><br />
অথচ আমাদের কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও মুক্তির ক্ষেত্র এই বন্দরগুলো।<br />
তাই কষ্ট নিয়ে এটাই বলতে হয় যে, <strong>মানুষের মুক্তি, মানবতার কল্যাণ ও ব্যবস্থাগত উন্নয়ন এসবে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো ভয়াবহভাবে ব্যর্থ!</strong></p>
<blockquote><p><strong>• সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপারগুলোর একটি হচ্ছে,</strong><br />
<strong>আমাদের নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শক্তি পুরোটাই এখন ভারতের হাতে! সবাই-ই লক্ষ্য করেছি এসব নিয়ে কোথাও কেউ কথা বলছে না, কোনো এজেন্ডাও নেই!</strong></p></blockquote>
<p>আমরা জানি যে, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের বাণিজ্যিক সী লাইন অব কমিউনিকেশন স্লক, ওয়াটার টেরিটরিজ, মেরিন ফিশারিজ, মেরিটাইম সিকিউরিটি, হাইড্রোকার্বন রিজার্ভ ইত্যাদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত। একটি নৌবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত অবকাঠামো হলো তার সার্ভেইলেন্স ইনফ্রাস্ট্রকচার। আর ঠিক এটাই ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে দাসবৃত্তিক সরকার।<br />
আচ্ছা, তাহলে আমাদের স্বাধীনতা কোথায় রইলো? কেউ বলতে পারবেন?</p>
<p><strong>মানে আমাদের অভ্যন্তরীণ সব কিছু ভারত জানবে এবং যদি কখনো বাংলাদেশ নেভি ইন্ডিয়ামুখী হয়, তা সাথে সাথেই ট্রেক এন্ড ট্রেইস করতে পারবে তারা।</strong><br />
<strong>হায়রে স্বাধীনতা! ৭১ এর চেতনা!</strong></p>
<p>যেখানে আগ্রাসী ভারতীয় বাহিনীর দৈনন্দিন ঝামেলা, সামরিক বেসামরিক অন্যায়, ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রশ্রয়ে গড়ে উঠা সুবিশাল জলদস্যুতা, মৎস্য দস্যুতা, সুন্দরবন দস্যুতার নেটওয়ার্ক, মিয়ানমারের ড্রাগ ট্রাফিকিং নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশের ব্লকে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের হাইড্রোকার্বন ড্রিলিং অপতৎপরতা– সবই ভারতীয় বাহিনী করছে, সেখানে আমাদের সব তাদের হাতেই তুলে দিলাম!</p>
<p><strong>৯০% মুসলমানের দেশে কেউ তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খবর রাখে না? লেখনী, লেকচার, ইসলাম চর্চা, ইসলামী রাজনীতি পুরোটাই যেন ধর্মীয় কিছু ইবাদতে সীমাবদ্ধ! তালিম-তারবিয়াত আর নসিহতের গণ্ডিবদ্ধ!</strong></p>
<blockquote><p>• এদিকে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে আমাদের দেশে রোগীর সংখ্যা, নেই চিকিৎসা ব্যবস্থা। রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ আমাদের অপরিচ্ছন্নতা ও ভয়াবহ নোংরা পরিবেশ।</p></blockquote>
<p>কোথাও কোনো ভালো ড্রেন ব্যবস্থা পর্যন্ত নেই, সেখানে নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে! সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার কী জানেন? গোটা ভারতের সকল আবর্জনা গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার অববাহিকার বিপুল পানির স্রোত বহন করে এনে বাংলাদেশের কৃষিভূমি ও নদীগর্ভ হয়ে সাগরে ফেলছে।<br />
বাহ! কি অসাধারণ, তাইনা?<br />
আবার আমাদের অবস্থা তো আমরা ভালভাবেই জানি! সবচেয়ে বড় পরিবেশ দূষণকারী তো আমরা নিজেরাই, নিজেদের কোনো কিছু নিয়েই তো ভাবনা নেই! সেখানে গোটা উপমহাদেশীয় ময়লা, আবর্জনা এসে পড়ছে আমাদের উপরে!</p>
<p>কেউ কি আওয়াজ তুলেছে?<br />
<strong>নাকি &#8216;পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ&#8217; শুধু ব্যক্তির ইসলামে? সমাজ, রাষ্ট্র, ব্যবস্থা– এসবে কি ইসলামের এই মূলনীতি প্রযোজ্য নয়?</strong><br />
<strong>নগরায়ন, নদী-ব্যবস্থা, ড্রেন-ব্যবস্থা কি ইসলামী সভ্যতায় ছিলো না?</strong></p>
<p>নিজের কাছেই প্রশ্ন করি, প্রকৃতি, বাস্তুসংস্থান ও কৃষি ভূমির রূহকে হত্যা করে কিভাবে এই সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেঁচে থাকব আমরা?</p>
<blockquote><p><strong>• সর্বোপরি কথা হল, আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন লাগবে। এছাড়া মুক্তি মিলবে না। ঋণ গ্রহণ, হাবিজাবি কথিত উন্নয়নের ডায়ালগ বাদ দিয়ে আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রি, কৃষিকে উন্নত করতে হবে। শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, ছোট শিল্প, ছোট উদ্যোগ, মৎস্য শিল্প, পোল্ট্রি ও সবজি উৎপাদনে ব্যাপক পরিমাণে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সবাইকে কথা বলতে হবে</strong>।</p></blockquote>
<p>জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশল কমিটি, জাতীয় সংকট মোকাবেলা কমিটি এবং জাতীয় উন্নয়ন কমিটি করে আগাতে হবে। এসবের জন্য নাজমুদ্দিন এরবাকান হোজার মত সেরা সফলতম উদাহরণ আছে আমাদের সামনে।</p>
<p><strong>♦ আফসোসের বিষয় কি এটা নয়?</strong></p>
<p><em><strong>• </strong></em><strong>১৩ কোটি কর্মক্ষম মানুষ,</strong><br />
<strong>• বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সম্ভাবনা,</strong><br />
<strong>• দুনিয়ার সেরা কৃষি (১০বছরে সেরা ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া সম্ভব),</strong><br />
<strong>• গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর,</strong><br />
<strong>• এত এত খনিজ সম্পদ,</strong><br />
<strong>• বনাঞ্চল,</strong><br />
<strong>• মৎসশিল্প ইত্যাদি দিয়ে মাত্র বিশটা বছর ভালভাবে কাজ করলে এদেশে বেকারত্ব, খাদ্য সংকট, চিকিৎসা সংকট এসবের সমাধান তো হবেই, যাকাত নেওয়ার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না।</strong></p>
<p>ইসলামী সভ্যতা যার সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ।</p>
<p><em><strong>                       # ইসলামী সভ্যতা   </strong></em></p>
<p><em> <strong>                       # নতুন বাংলাদেশ</strong></em></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/our-state-system-and-current-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6083</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
