<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সমাজবিজ্ঞান &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/civilization/sociology/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Sun, 02 Aug 2026 14:21:52 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>সমাজবিজ্ঞান &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>আখলাক ও আদালত</title>
		<link>https://rowyakbd.com/akhlaq-and-adalat/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/akhlaq-and-adalat/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 10 Apr 2026 17:00:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16741</guid>

					<description><![CDATA[আদালত কী? দ্বীনে মুবীন ইসলামে ‘আদালত’ পরিভাষাটি কেবল মানুষ ও সমাজের সাথে সম্পর্কিত একটি পরিভাষাই নয়, আদালত একই সাথে বিশ্বজগৎ ও সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত একটি পরিভাষা। শুধু তাই নয়, এই মহাবিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তার সাথেও এ পরিভাষাটির সম্পর্ক রয়েছে। বিচারক ও]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আদালত কী?</strong></p>
<p>দ্বীনে মুবীন ইসলামে ‘আদালত’ পরিভাষাটি কেবল মানুষ ও সমাজের সাথে সম্পর্কিত একটি পরিভাষাই নয়, আদালত একই সাথে বিশ্বজগৎ ও সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত একটি পরিভাষা। শুধু তাই নয়, এই মহাবিশ্বের মহান সৃষ্টিকর্তার সাথেও এ পরিভাষাটির সম্পর্ক রয়েছে। বিচারক ও আইনজীবীগণ ‘আইন’ ও ‘আদালত’ শব্দ দুটি একসাথে ব্যবহার করেন। আইনের আরবী হলো ‘হুকুক’। حُقُوْق শব্দটি حَقٌّ শব্দ থেকে, আর عَدَالَةٌ শব্দটি عَدْلٌ শব্দ থেকে উৎসারিত। আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দুটি গুণবাচক নাম হলো আল-হক্ব ও আল-আদিল।</p>
<p>ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাওহীদ, ইবাদত, আদালত ও আখলাক। এসকল পরিভাষাকে আমাদের উসূলবিদগণ আসলুল উসূল নামে অভিহিত করেন। এ পরিভাষাগুলোর মধ্য থেকে আদালত ও আখলাক নিয়ে আলোচনা করবো।</p>
<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে আদালতের উপর সৃষ্টি করেছেন। আদালত হলো, প্রত্যেকটি বস্তু বা বিষয়কে তার যথার্থ স্থানে স্থাপন করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের সৃষ্টিতত্ত্বের বর্ণনা করতে গিয়ে فَعَدَلَكَ&nbsp; শব্দ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ তিনি মানুষকে সুষম করে গড়েছেন। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে হক্ব ও আদালত পরিভাষাদ্বয়কে আমরা একসাথে দেখতে পাই। তিনি এই পরিভাষাদ্বয়কে কোথাও তাঁর সিফাত, আবার কোথাও এ মহাবিশ্বের ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।</p>
<p>মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ‘কিতাব’ শব্দের এর সাথে অসাধারণ একটি পরিভাষা ‘মীযান’ ব্যবহার করা হয়েছে। শাব্দিকভাবে ‘মীযান’ শব্দের অর্থ দাঁড়িপাল্লা। যার অর্থ হলো, ভারসাম্য, ব্যালান্স। সূরা রহমানেও মহান আল্লাহ বলেছেন—</p>
<p>وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ</p>
<p>অর্থ : “আসমানকে তিনিই সুউচ্চ করেছেন এবং মীযান কায়েম করেছেন।”</p>
<p>অর্থাৎ, ‘আদালত’ আসমান ও যমীন উভয় স্থানেই রয়েছে। পাহাড়, পর্বত, নদী-নালা, খাল-বিলসহ সকল সৃষ্টিতেই আদালত রয়েছে।</p>
<p>এরপরের আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন—</p>
<p>&nbsp;أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ</p>
<p>এর দাবি হলো, “তোমরা মীযানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না।”&nbsp;</p>
<p>আসমানে স্থাপনকৃত মীযানের সাথে সমাজের জন্য পাঠানো মীযানের মধ্যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটি সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছেন। এই দুই মীযানের সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার অর্থ হলো, পৃথিবীতে আদালত প্রতিষ্ঠা হওয়া।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কিতাব, মীযান ও হাদীদের মধ্যকার সম্পর্ক</strong></p>
<p>আপনারা সকলেই জানেন যে, পবিত্র কোরআনে হাদীদ নামে একটি সূরা রয়েছে। হাদীদ অর্থ লোহা। সূরা হাদীদের ২৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-</p>
<blockquote><p>لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ ۖ وَأَنزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ ۚ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ</p>
<p>অর্থ : “আমি আমার রাসূলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছি। তাদের সাথে ‘কিতাব’ ও ‘মীযান’ নাযিল করেছি যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। আর লোহা নাযিল করেছি যার মধ্যে রয়েছে বিরাট শক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। এটা করা হয়েছে এজন্য যে, আল্লাহ জেনে নিতে চান, কে তাঁকে না দেখেই তাঁকে ও তাঁর রাসূলদেরকে সাহায্য করে। নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিধর ও মহাপরাক্রমশালী।”</p></blockquote>
<p>এ আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কিতাব ও মীযানের সাথে সাথে হাদীদ নাযিলের কথা বলেছেন। যারা কোরআনের বৈজ্ঞানিক তাফসীর করেন, তারা বলেন, আকাশ থেকে বিভিন্ন ধরনের পাথর এসে দুনিয়ায় পড়েছে এর সাথে সাথে লোহাও দুনিয়াতে এসেছে। আমি এ ধরনের তাফসীরকে খুব বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করি না।</p>
<p>আমার মতে, এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা কিতাব বলতে তার অবতীর্ণ আসমানী কিতাবের কথা বুঝিয়েছেন, মীযান বলতে আদালত বুঝিয়েছেন, আর লোহা বলতে শক্তি ও ক্ষমতার কথা বুঝিয়েছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতের মাধ্যমে আমাদেরকে বলেছেন,</p>
<p><strong>কিতাববিহীন মীযান হবে না, আবার লোহাবিহীন মিযান হবে না। কেননা লোহাবিহীন মীযান কিতাবকে ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং কিতাববিহীন লোহা মীযানকে অদৃশ্য করে দেয়। আরও সুস্পষ্টভাবে বললে, কিতাব হলো আদালতের উৎস, মীযান হলো আদালত নিজে আর লোহা হলো শক্তি ও ক্ষমতা। এই তিনটি বিষয় অর্থাৎ- কিতাব, মীযান ও লোহা একসাথে না হলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যেখানে কিতাব নেই সেখানে শক্তি ও ক্ষমতা ‘মীযানকে’ (আদালত) নিয়ন্ত্রণ করে। আর এক্ষেত্রে আদালতের শক্তি নয়, শক্তি ও ক্ষমতার আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।</strong> যদি মীযান না থাকে তাহলে শক্তি ও ক্ষমতা; কিতাবকে তার নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং কিতাবকে তার নিজের স্বার্থ উদ্ধারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। কিতাব যখন শক্তি ও ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণাধীন হয়, তখন সেটা অকার্যকর হয়ে পড়ে। পূর্বের পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বীনসমূহ হলো এর জ্বলন্ত উদাহরণ। শক্তি ও ক্ষমতা না থাকলে মীযান শুধুমাত্র থিওরি হিসেবে থেকে যায়, সমাজে ও রাষ্ট্রে যার কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হয় না। কিতাবকে মীযানের সাথে এক হয়ে সামাজিক জীবনে প্রভাবশালী হওয়ার জন্য একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজন, একটি শক্তির প্রয়োজন, যে শক্তি কিতাবের আইনসমূহ বাস্তবায়ন করবে।</p>
<p>সূরা হাদীদের এই আয়াতের আলোকে আমরা বলতে পারি যে, কিতাব, মীযান এবং হাদীদ তথা রাষ্ট্রক্ষমতা যখন একসাথে হবে, তখনই কেবল পৃথিবীতে আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে।</p>
<p>আমি পাঠকদেরকে অনুরোধ করবো, কোরআনকে একবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আদালত’ এর একটি কিতাব হিসেবে পড়ুন। ‘আদালত’ এর চিন্তাকে ভিত্তি হিসেবে ধরে যদি সূরা ফাতিহা থেকে সূরা নাস পর্যন্ত সমগ্র কোরআন অধ্যয়ন করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, কোরআন একইসাথে ‘আদালত’-এরও একটি গ্রন্থ। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন কেবল আইনের গ্রন্থই নয়; বরং আদালতেরও গ্রন্থ। অর্থাৎ আমরা আইনকে যে অর্থে গ্রহণ করি কোরআন সে অর্থে আইনের কোনো গ্রন্থ নয়।</p>
<p>আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, কোরআন কোনো সংবিধান নয়। আমি যখন এই কথা বলি, তখন অনেকেই আমার উপর রাগ করেন। মুসলিম বিশ্বে বিখ্যাত একটি স্লোগান আছে। আমাদের সংবিধান হলো কোরআন, আমাদের আইন হলো কোরআন। আমি এটা সঠিক মনে করি না।</p>
<p>মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ‘আদালত ও আইন’ এর সবচেয়ে বড় উৎস। একইসাথে তাকবীনের (বিশ্বসৃষ্টি) সাথে তানযীল (অবতীর্ণ)-কে একত্রকারী একটি মহা উৎস। অর্থাৎ মহাবিশ্বের আয়াতসমূহের সাথে মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহ একসাথে ‘আদালত’ নামক একটি মৌলিক বিষয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু সেখান থেকে আইন-কানুন বের করার দায়িত্ব মানুষকে দেওয়া হয়েছে। আর মানুষ যখন এই কাজ করবে তখন তা উসূল অনুযায়ী করবে। উসূলুল ফিকহ নামক জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ এই শাখাটি এর উসূল শেখানোর জন্য উদ্ভাবিত হয়েছে।</p>
<p>কেউ কেউ ইলমুল ফিকহকে, ‘ইসলামী আইন’ নামে অনুবাদ করেন। ‘ইসলামী আইন’ এই পরিভাষাটি ব্যবহার করতে পারেন, তবে ফিকহের অনুবাদ হিসেবে কিংবা ফিকহের সমার্থক হিসেবে নয়। কারণ ফিকহ শুধুমাত্র আইনকে বুঝার জন্য এবং আইন-কানুনকে ব্যাখ্যা করার জন্যই নয়। ফিকহের অর্থ হলো, গভীর উপলব্ধি। ফিকহ এমন একটি ধারণার নাম, যা তাকবীন ও তানযীলকে, আকল ও ওহীকে, কাদীম (পুরাতন) ও জাদীদ (নতুন)-কে একত্রিত করে।</p>
<p>আমরা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনকে যেমন আখলাক ও আইনের গ্রন্থ হিসেবে যেমন পড়ি, তেমনি আদালতেরও একটি গ্রন্থ হিসেবে পড়া উচিত। কোরআনে আদালত সম্পর্কে অনেক আয়াত রয়েছে। যারা রাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত আছেন, আমি মনে করি তাদের সকলের উচিত এই আয়াতটি অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ আত্মস্থ করা। আয়াতটি হলো—</p>
<blockquote><p>يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ ۚ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَىٰ بِهِمَا ۖ فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَىٰ أَن تَعْدِلُوا ۚ وَإِن تَلْوُوا أَوْ تُعْرِضُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا</p>
<p>অর্থ : “হে ঈমানদারগণ ! ইনসাফের পতাকাবাহী ও আল্লাহর সাক্ষী হয়ে যাও, তোমাদের ইনসাফ ও সাক্ষ্য তোমাদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তার অথবা তোমাদের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে গেলেও। উভয় পক্ষ ধনী বা অভাবী যাই হোক না কেন আল্লাহ তাদের চাইতে অনেক বেশি কল্যাণকামী। কাজেই নিজেদের কামনার বশবর্তী হয়ে ইনসাফ থেকে বিরত থেকো না। আর যদি তোমরা বক্র কথা বলো অথবা সত্যকে পাশ কাটিয়ে চলো, তাহলে জেনে রাখো, তোমরা যা কিছু করছো আল্লাহ তার খবর রাখেন।”</p></blockquote>
<p>আমি মনে করি, এই আয়াতের সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবেন একজন আইনবিশারদ। এই আয়াতে শুধু ‘হে ঈমানদারগণ! ইনসাফের পতাকাবাহী ও আল্লাহর সাক্ষী হয়ে যাও&#8230;’ এই কথাই বলা হয়নি। এখানে আরও বলা হয়েছে যে, এই কাজ করার সময়, আল্লাহ যে তোমাদেরকে সব সময় দেখছেন এ বিষয়টি ভুলে যেও না। তোমরা হলে আল্লাহর সাক্ষী আর আল্লাহও হলেন তোমাদের সাক্ষী|</p>
<p>মহান আল্লাহর সাথে মানুষের দুটি মীসাক রয়েছে।</p>
<p style="padding-left: 40px;">১. মীসাকুল আমানাহ।</p>
<p style="padding-left: 40px;">২. মীসাকুশ শাহাদাহ।</p>
<p><strong>মীসাকুশ শাহাদাহ হলো, আল্লাহ সবসময় আমাকে দেখছেন আর আমিও তাঁকে সব সময় দেখছি। আর মীসাকুল আমানাহ হলো, আমার যা কিছু আছে সব কিছুই মহান আল্লাহর।</strong> তিনি সবকিছুই আমাদেরকে আমানত হিসেবে দিয়েছেন। আর আমিও আল্লাহ প্রদত্ত এসকল আমানতকে গ্রহণ করে নিয়েছি। এ বিষয়দুটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য ভিন্ন একটি আলোচনার প্রয়োজন তাই আমি আর সেদিকে যাচ্ছি না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কোরআন ও হাদীসে আদালত</strong></p>
<p>মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আদালতকে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার নজীর আর কোথাও নেই। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন আদালতকে উচ্চ স্থানে আসীন করেছে। যাবুরেও আদালত সম্পর্কে অনেক কথা বলা হয়েছে। তবে তা কোরআনের মত এত বিস্তৃত ও ব্যাপক নয়।</p>
<p>মহান আল্লাহ সূরা মায়েদার ৮ নং আয়াতে বলেন—</p>
<p>يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ</p>
<p>অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! সত্যের ওপর স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হও এবং ইনসাফের সাক্ষ্যদাতা হয়ে যাও। কোনো দলের শত্রুতা তোমাদেরকে যেনো এমন উত্তেজিত না করে দেয়, যার ফলে তোমরা ইনসাফ থেকে সরে যাও। ইনসাফ ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠিত করো। এটি আল্লাহভীতির সাথে বেশি সামঞ্জস্যশীল। আল্লাহকে ভয় করে কাজ করতে থাকো। তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন।”</p>
<p>বিচারবিভাগের সাথে সম্পৃক্ত একজন ব্যক্তি কী কী কারণে ন্যায়বিচার করা থেকে দূরে সরে যেতে পারে এটা আল্লাহ তায়ালা জানেন এবং সেই সব বিষয় তিনি এসকল আয়াতে উল্লেখ করেছেন।</p>
<p>আমি হাদীসের একজন ছাত্র হিসেবে এই আয়াতগুলোর পাশাপাশি আদালত সম্পর্কিত একটি হাদীস উল্লেখ করতে চাই।</p>
<p>আমরা সকলেই জানি যে, রাসূলে আকরাম (স.) একজন নবী ও রাসূল হওয়ার পাশাপাশি ইমাম (নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান) এবং বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। মদীনার সকল মামলা মোকাদ্দমার মীমাংসা করতেন স্বয়ং রাসূল (স.) নিজে। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনও এ আদেশ দিয়েছে। কোরআনে বর্ণিত আছে—</p>
<p>تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ</p>
<p>অর্থ : “যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যাপারে বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে তাকে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও| যদি তোমরা যথার্থই আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনে থাকো।”</p>
<p>সূরা নিসার ৬৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে—</p>
<p>فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا</p>
<p>অর্থ : “না, হে মুহাম্মদ! তোমার রবের কসম, এরা কখনো মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ এদের পারস্পরিক মতবিরোধের ক্ষেত্রে এরা তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেবে, তারপর তুমি যা ফায়সালা করবে তার ব্যাপারে নিজেদের মনের মধ্যে কোনো প্রকার কুণ্ঠা ও দ্বিধার স্থান দেবে না, বরং সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।”</p>
<p>আমি যেই হাদীসটি পাঠ করবো সেই হাদীসটি উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির প্রেক্ষাপট হলো, দুপক্ষ একটি মোকাদ্দমা নিয়ে রাসূল (স.)-এর নিকটে আসেন। রাসূল (স.) তাদের দুপক্ষের যুক্তি- তর্কই শোনেন। তবে একপক্ষ অত্যন্ত যৌক্তিক ও সুন্দর ভাষায় তাদের কথা তুলে ধরেন। অপর দিকে অপর পক্ষ ছিলো দুর্বল, নিজের যুক্তি বা অধিকারকে তুলে ধরার ব্যাপারে মোটেই পারঙ্গম ছিলো না। উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শোনার পর রাসূলে আকরাম (স.) বিশ্বমানবতার বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই কথাটি বলেন—</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>بحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ؛ فأَقْضِي لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ، فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنَ النَّارِ</strong></p>
<p><strong>অর্থ : “হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা মুকাদ্দমা নিয়ে আমার কাছে আগমন করো এবং তোমাদের একজন অপরজন অপেক্ষা অধিক বাকপটু হয়ে যুক্তি খাটিয়ে স্বীয় দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করো। আমি কথা শুনে তার অনুকূলে রায় প্রদান করি। সুতরাং এতে যদি তার ভাইয়ের হকের কিছু তাকে প্রদান করি (বাস্তবে হয়তো এতে তার কোনো অধিকারই নেই) তখন তার কর্তব্য হবে তা গ্রহণ না করা। কেননা, এতে যেনো আমি তাকে জাহান্নামের এক খণ্ড আগুন প্রদান করলাম|”</strong></p>
<p>এই হাদীসটির আধুনিক ব্যাখ্যা এরকম, ‘ধরা যাক একজন উকিল (অ্যাডভোকেট) একটি মামলা নিবেন। যে ব্যক্তি তার কাছে আসল তার কাছ থেকে সকল ঘটনা শোনার পর উকিল সাহেব বুঝতে পারলেন, যে লোক এসেছে সে একশত ভাগ দোষী বা অন্যায় কাজ করেছে। এখন এই লোকের এই অন্যায়কে সমর্থন করে তার পক্ষে এই উকিলের লড়া জায়েজ কিনা? এ বিষয় নিয়ে আলেমগণ নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করেছেন।</p>
<p>পাঠকদের মধ্যে অনেক ব্যক্তিবর্গই আইন বিভাগের সাথে জড়িত আছেন। এখন এই একই প্রশ্ন যদি আমি আপনাদেরকে করি, অন্যায়কারী কিংবা জুলুমকারী লোকের পক্ষে আইনী লড়াই করা জায়েজ, নাকি নাজায়েজ?</p>
<p>উত্তরে হয়তো এ কথা আসবে, খুনীরও তো একটি অধিকার রয়েছে। কারণ উকিল বা বিচারকগণ আইনের যে সব বই পড়ে উকিল বা বিচারক হয়েছেন, সেখানে গুরুত্ব দিয়ে এ কথাটি বলা হয়েছে।</p>
<p>তবে হ্যাঁ, খুনীকে কিংবা চোর বা অপরাধীকে বাঁচানোর জন্য নয়, নির্ধারিত আইনগত শাস্তির বাইরে খুনী যেনো আলাদা কোনো জুলুমের শিকার না হয় এই জন্য তাকে সাহায্য করা যেতে পারে।</p>
<p>এই হাদীস থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হলো, উকিল বা অ্যাডভোকেট যেনো তার মক্কেলকে এমনভাবে সমর্থন না করে যে, তার বাগ্মীতা কিংবা যুক্তির কারণে আদালত প্রভাবিত হয় এবং বিচারক ন্যায়বিচার করতে অপারগ হয়ে যান। আমাদের ফিকহের গ্রন্থসমূহে এই বিষয় নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। সুতরাং আমি সেদিকে যাচ্ছি না এবং কোনো ফতোয়াও দিচ্ছি না।</p>
<p>তবে মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে এ বিষয়ে একটি আয়াত রয়েছে। আয়াতটি হলো—</p>
<p>وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا</p>
<p>প্রখ্যাত মুফাসসির এলমালি হামদি ইয়াজার এই আয়াতের অনুবাদে বলেন, “হে প্রিয় বন্ধু! তুমি খেয়ানতকারীদের পক্ষে ওকালতি করতে পারবে না।”</p>
<p>উস্তাদ এলমালি হামদি ইয়াজার আরবী خَصِيمً শব্দটির অনুবাদ করেন উকিল বা অ্যাডভোকেট।</p>
<p>এ আয়াতের শানে নুযুল প্রথম যখন পড়ি, তখন আমি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। এখনো যখন পড়ি ভীতসন্ত্রস্ত হই। ইলাহী আদালতের সামনে কে না ভীত হয়!</p>
<p>ঘটনার নায়ক হচ্ছে আনসারদের যুফার গোত্রের তা’মাহ বা বশীর ইবনে উবাইরিক নামক এক ব্যক্তি। এই লোক একদিন এক ঘর থেকে আটা ও বর্ম চুরি করে। চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পথে বর্মকে আটার বস্তার ভেতরে রাখে। পথিমধ্যে বস্তায় থাকা বর্মের কারণে বস্তা ছিদ্র হয়ে যায়। হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে দেখে, তার বস্তা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে সে যে পথ দিয়ে যাচ্ছে সে পথে আটা পড়ে পড়ে চিহ্ন হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে চালাকি করে চুরিকৃত আটা এবং বর্মকে নিজের বাসায় না নিয়ে এক ইহুদী প্রতিবেশীর বাসায় যায় এবং চুরিকৃত মাল তার কাছে আমানত রাখে। সকাল বেলা যে সাহাবীর ঘর থেকে বর্ম ও আটা চুরি যায় সে আটা পড়ার পথ অনুসরণ করে সেই ইহুদীর বাড়ি পর্যন্ত যান।</p>
<p>বর্ম ও আটার মালিক সাহাবী রাসূলে আকরাম (স.)-এর কাছে এসে অভিযোগ দায়ের করেন। রাসূলে আকরাম (স.) এ ঘটনা নিষ্পত্তি করার জন্য সেই ইহুদীকে ডেকে পাঠান। রাসূল (স.) ইহুদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, এগুলো আমার না। তা’মাহ আমার নিকট আমানত রেখেছে। এই কথা শুনে রাসূল (স.) তা’মাহ কে ডেকে পাঠান। তা’মাহ কে জিজ্ঞাসা করলে সে শপথ করে বলে, আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না!&nbsp; তা’মাহ ও তার পক্ষপাতীরা তার সমর্থনে খুব জোড়ালো ভূমিকা রাখে। তারা বলে বেড়ায় : এ শয়তান ইহুদী, সে সত্যকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করে। তার কথা কেমন করে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। বরং আমাদের কথা মেনে নেওয়া উচিত, কারণ আমরা মুসলমান। এই মোকাদ্দমার বাহ্যিক ধারা বিবরণীতে প্রভাবিত হয়ে নবী করীম (স.) ইহুদীটির বিরুদ্ধে রায় দিতে প্রায় উদ্যত হয়েছিলেন। এমন সময় সমস্ত ব্যাপারটির প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করে বলেন—</p>
<blockquote><p>إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ ۚ وَلَا تَكُن لِّلْخَائِنِينَ خَصِيمًا</p>
<p>অর্থ : “হে নবী! আমি সত্য সহকারে এই কিতাব আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ আপনাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী আপনি লোকদের মধ্যে ফয়সালা করতে পারেন। আপনি খেয়ানতকারী ও বিশ্বাস ভংগকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হবেন না।”</p></blockquote>
<p>وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا</p>
<p>অর্থ : “আর আল্লাহর কাছে ক্ষমার আবেদন করুন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়।”</p>
<p>চিন্তা করে দেখুন তো, একজন ইহুদী অবিচারের শিকার হবে বলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াত নাযিল করেন এবং সেসব মুসলমানদের কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করেন, যারা নিছক গোত্র ও অন্ধ স্বজনপ্রীতির কারণে অপরাধীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলো। অন্যদিকে সাধারণ মুসলমানদের এই মর্মে শিক্ষা দান করা হয়েছে যে, ন্যায় ও ইনসাফের প্রশ্নে কোনো প্রকার অন্ধ বিদ্বেষ ও গোত্রপ্রীতির অবকাশ নেই। নিজের দলের লোকেরা বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের অযথা সমর্থন করতে হবে এবং অন্য দলের লোকেরা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে হবে-এ নীতি কখনো ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না।</p>
<p>আমি জানি আপনারা সকলেই এই সব বিষয় আমার চেয়ে ভালো জানেন। শুধুমাত্র আপনাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এ বিষয়ের অবতারণা করলাম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আখলাক ও আদালতের মধ্যকার সম্পর্ক</strong></p>
<p>এখন আমি আমার মৌলিক আলোচনায় ফিরে যেতে চাই। আমার বিষয় হলো, আখলাক এবং আদালতের মধ্যে সম্পর্ক।</p>
<p>আমাদের প্রাচীন গ্রন্থসমূহে আদালতের সাথে চারটি পরিভাষার সম্পর্ককে আলাদা আলাদা গ্রন্থ কিংবা অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো—</p>
<p style="padding-left: 40px;">১. আদালতের সাথে আখলাকের সম্পর্ক।</p>
<p style="padding-left: 40px;">২. আদালতের সাথে (مَرْحَمَةٌ) মারহামাত বা দয়ার সম্পর্ক।</p>
<p style="padding-left: 40px;">৩. আদালতের সাথে ইহসানের সম্পর্ক এবং</p>
<p style="padding-left: 40px;">৪. আদালতের সাথে আকলের সম্পর্ক।</p>
<p>ইবনে খালদুন তার বিখ্যাত গ্রন্থ আল-মুকাদ্দিমায় আদালতের সাথে রহমতের সম্পর্ক বর্ণনা করতে গিয়ে আগে জুলুমকে বর্ণনা করেছেন। আদালত এবং জুলুম নামক পরিভাষা দুইটি, হক্ব ও বাতিলের মতো বিপরীত অর্থবহনকারী দুটি পরিভাষা হিসেবে কোরআনে কারীমে ও হাদীসে বিবৃত হয়েছে।</p>
<p>ইবনে খালদুন মুকাদ্দিমায় বলেন—</p>
<p>أَنَّ الظُّلْمَ مُؤَذِّنٌ بِخَرَابِ الْعُمْرَان</p>
<p>অর্থ : “জুলুম সভ্যতার ধ্বংস ডেকে আনে।”</p>
<p>এরপর তিনি বলেন, আদালত কেবলমাত্র বিচার বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত কোনো বিষয় নয়। বিচার বিভাগ আদালতের খুব সামান্য অংশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। আদালতের উপরে যদি জুলুম বিজয় লাভ করে তাহলে মানুষের নিয়তের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, মুয়ামালাত বিনষ্ট হয়ে যায়, সর্বত্র হিংসা-বিদ্বেষ ও প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে, অবাধ্যতা ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়ে, জিনিসপত্রের দাম, চুরি ডাকাতি এবং দরিদ্রতা বেড়ে যায়। মানুষ বিভিন্ন ভাগে বিভাজিত হয়ে পড়ে, বিভিন্ন দল ও উপদলের সৃষ্টি হয় এবং তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দেশ ও সমাজ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বিদায় নেয়। জুলুমের কারণেই মূলত এসব হয়ে থাকে।</p>
<p>মাঝে মধ্যে আমি নিজেই নিজের কাছে অনেক প্রশ্ন করি। এর মধ্যে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি করি সেটি হলো, ‘মুসলিম উম্মাহ কেন আজকের এই অবস্থায়?’ কোরআন আমাদের কাছে, সুন্নত আমাদের কাছে, হাদীস আমাদের কাছে, ইসলাম আমাদের কাছে, ইযযত ও সম্মান আমাদের কাছে, সকল প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের কাছে। এক কথায় বলতে গেলে সবকিছুই আমাদের কাছে। এত কিছু থাকার পরেও মুসলিম উম্মাহ এই অবস্থায় কেনো?</p>
<p>আমার কাছে মনে হয় এর একটি জবাব রয়েছে। আর সেটি হলো, মুসলিম দেশসমূহে ‘আদালত’ নেই। যেখানে আদালত প্রতিষ্ঠিত থাকে না, ইসলাম সেখানে আমানত হিসেবে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখে মাত্র। ইসলামের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো সমগ্র দুনিয়াতে আদালত প্রতিষ্ঠা করা। এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত না থাকলে ইসলামের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্যই অপূর্ণ থেকে যায়। সে উদ্দেশ্যটি যদি পূর্ণ না হয়, আমরা সকলে হাফেজ হয়ে সারাদিন কোরআন তেলাওয়াত করলেও ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে না।</p>
<p>আমাদের প্রাচীন বই-পুস্তকে ও সাহিত্যে খুব সুন্দর একটি ইখতিলাফ রয়েছে, সেটা হলো আদালত বড় নাকি মারহামাত বড়? এটি একইসাথে ভুল আবার সঠিক।</p>
<p>এর সঠিক জবাব হলো শর্তহীন আদালত মারহামাতের চেয়ে বড় নয়, একইভাবে শর্তহীন মারহামাত আদালতের চেয়ে বড় নয়। কিছু কিছু স্থান আছে যেখানে মারহামাত আদালতের চেয়ে বড় বা আদালতের উপর প্রাধান্য পাবে। আবার কিছু কিছু স্থান আছে যেখানে আদালত মারহামাতের চেয়ে বড় এবং এর উপর প্রাধান্য পাবে।</p>
<p>আমরা প্রতি জুমুয়া’র খুতবায় আদালত ও ইহসানের মধ্যকার সম্পর্ক শুনে থাকি। জুমুয়া’র খুতবায় আদালত ও ইহসান সম্পর্কিত একটি আয়াত পড়ার প্রথা চালু করেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। অর্থাৎ দ্বিতীয় ন্যায়পরায়ণ উমর এই ধারা চালু করেন। তার সময় থেকে আজ পর্যন্ত দুনিয়ার যত স্থানে জুমুয়া’র নামাজ আদায় করা হয় প্রতিটি স্থানে জুমুয়া’র খুতবায় এই আয়াতটি পড়া হয়। আয়াতটি হলো—</p>
<blockquote><p>إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ</p>
<p>অর্থ : “আল্লাহ আদালত ও ইহসানের নির্দেশ দিয়েছেন।”</p></blockquote>
<p>এই আয়াতের তাফসীরে দেখা যায়, এমন অনেক স্থান রয়েছে যেখানে ইহসান আদালতের উপর প্রাধান্য পায় আবার আদালতও ইহসানের উপর প্রাধান্য পেয়ে থাকে।</p>
<p>মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে, ভাই-বোনদের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে এবং পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ আদালতের উপর প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ এসকল ক্ষেত্রে আদালতের চেয়ে ইহসান বড়। কিন্তু রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে, প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদালতই হবে মূলভিত্তি। এই সকল ক্ষেত্রে আদালত ইহসানের উপর প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ এখানে ‘আদালত’ দয়ার্দ্রতা ও ইহসানের চেয়ে বড়। এর অর্থ এই নয় যে, এখানে দয়ার্দ্রতা মোটেই থাকবে না।</p>
<p>এমন অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে আদালত প্রতিষ্ঠা জায়েজ নয়, ক্ষেত্রবিশেষ হারামও। আপনারা হয়তো বলবেন আদালত আবার হারাম হয় কী করে? যেমন ধরুন, আপনার মা অথবা বাবা অন্যায় ভাবে আপনাকে থাপ্পড় দিলো, আপনি কি আদালত প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাকে আঘাত করা তো দূরের কথা হাত তোলার কথা কি কল্পনাও করতে পারবেন?</p>
<p>এই জন্য পারিবারিক ব্যাপারে, বন্ধুদের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পারিক আচরণের ক্ষেত্রে ‘ইহসান’ হলো মূল ভিত্তি। এসব ক্ষেত্রে আদালতের চেয়ে ইহসান ও মারহামাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। যেমন, আদালতের প্রয়োগ সম্পর্কিত আয়াতসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি আয়াত হলো—</p>
<p>&nbsp;وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا&nbsp;</p>
<p>অর্থ : “খারাপের প্রতিদান সমপর্যায়ের খারাপ।”</p>
<p>এ আয়াতের দিকে গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে, দ্বিতীয় খারাপকে আদালতের স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ফলাফলের দিক থেকে আদালত প্রতিষ্ঠা হয়, কিন্তু সেই ঘটনাটিকে যদি ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যায় যে, এটিও একটি খারাপ বিষয়। যেমন, কিসাসের কথাই ধরুন। কোনো লোক যদি কাউকে হত্যা করে তাহলে তাকেও হত্যা করা হয়। এটা আদালতের দাবি, কিন্তু ফলাফলের দিক থেকে যার উপর কিসাস প্রয়োগ করা হচ্ছে সেই লোক অন্য একজনকে হত্যা করার কারণে তাকেও হত্যা করা হচ্ছে। অর্থাৎ ফলাফলের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, একজন মানুষকে মারা হচ্ছে। তবে এখানে কিসাস প্রয়োগ জায়েজ হওয়ার কারণ হলো, আরও খারাপ বিষয় তথা অন্যান্য হত্যাকাণ্ডকে প্রতিহত করার জন্য। এই জন্যই আল্লাহ বলেছেন—</p>
<p>&nbsp;وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ</p>
<p>অর্থ : “তোমাদের জন্য কিসাসের মধ্যে জীবন রয়েছে।”</p>
<p>একইভাবে একজন মানুষের কথা চিন্তা করুন, সে এক জায়গায় চাকরি করে। কিন্তু সে তার উপর অর্পিত দায়িত্বকে সঠিকভাবে পালন করে না। সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করার কারণে এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার কারণে, এই প্রতিষ্ঠান পরিচালকের দায়িত্ব হলো সেই লোককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা। আদালতের দাবিও এটাই। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, তাকে যদি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় তাহলে তার সন্তানরা অভুক্ত থাকবে, সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হবে ইত্যাদি। এমতাবস্থায় তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে কিনা? এই বিষয় নিয়ে আমাদের ফিকহের কিতাবসমূহে অনেক বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে এই ক্ষেত্রে ইহসান বা দয়ার্দ্রতাকে ভিত্তি হিসেবে ধরে সেই অনুযায়ী ফয়সালা করতে হবে। তবে যদি দেখা যায় যে, তাকে চাকরিতে রাখলে তার পরিবারের যতটুকু না ক্ষতি হবে তার চেয়ে সমাজ বা দেশের ক্ষতি বেশি হবে তাহলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি এ কাজ করতে পারবোনা। যতক্ষণ সম্ভব তাকে চাকরিতে বহাল রাখার চেষ্টা করবো।</p>
<p>রাসূলে আকরাম (স.) যখন মক্কা বিজয়ের লক্ষ্যে মক্কায় যাচ্ছিলেন, তখন সবার মনেই প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিলো। কারণ এই মক্কাবাসীরাই দশ বছর আগে তাদের সকল সম্পদ দখল করে নিয়ে সম্পূর্ণ খালি হাতে তাদেরকে মক্কা থেকে চলে আসতে বাধ্য করেছিলো। যারা তাদের সাথে এই আচরণ করেছিলো কয়েকদিন পরেই তাদের সাথে দেখা হবে।</p>
<p>রাসূল (স.) ইসলামের ঝাণ্ডাকে সা’দ বিন উবাদা (রা.) এর হাতে তুলে দিলেন। মক্কায় যাওয়ার পথে সা’দ বিন উবাদা তাঁর ঘোড়ার পিঠে বসে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে বলছিলেন—</p>
<p>اَلْيَوْمَ يَوْمُ الْمَلْحَمَةِ &#8211; اَلْيَوْمَ يَوْمُ أَذَلّ اللّهُ قُرَيْشًا- اَلْيَوْمَ يَوْمُ اَحَلَّ اللهُ دِمَاءً</p>
<p>অর্থ: “আজ যুদ্ধের দিন, আজকে এমন দিন যেই দিনে আল্লাহ কুরাইশদেরকে অপমানিত করবেন, আজ এমন দিন যে দিন আল্লাহ রক্তপাতকে হালাল করেছেন।”</p>
<p>সা’দ বিন উবাদা (রা.)-এর মুখে একথা শুনে রাসূলে আকরাম (স.) তার হাত থেকে ইসলামের ঝাণ্ডা নিয়ে নেন এবং তা আলী (রা.)-এর হাতে তুলে দিয়ে রাসূল (স.) নিজের উটের পিঠে দাঁড়িয়ে বলেন—</p>
<blockquote><p>اَيُّهَا النَّاسُ اَلْيَوْمَ يَوْمُ الْمَرْحَمَةِ &#8211; الْيَوْمَ يَوْمُ اَعَزَّ اللّهُ قُرَيْشًا &#8211; الْيَوْمَ يَوْمُ حَرَّمَ اللهُ دِمَاءً</p>
<p>অর্থ: “হে মানুষ সকল! আজ দয়ার্দ্রতা দেখানোর দিন, আজ এমন দিন যেদিন আল্লাহ কুরাইশদেরকে সম্মানিত করবেন। আজ এমন দিন যেদিন আল্লাহ রক্তপাতকে হারাম করেছেন।”</p></blockquote>
<p>অতঃপর তিনি মক্কা বিজয়ের পর সমবেত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা কি জানো আমি আজ তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করবো?”</p>
<p>এ বাক্যটা শোনার সাথে সাথে সম্ভবত কুরাইশদের চোখের সামনে তাদের কৃত জুলুম নির্যাতন, হিংস্রতা ও বর্বরতার দুই দশকের কালো ইতিহাস একটা সিনেমার ছবির মত ভেসে উঠেছিলো। তাদের বিবেক হয়তো অনুশোচনায় বিদীর্ণ হবার উপক্রম হয়েছিলো। হয়তো চরম অসহায়ত্ব ও অনুতাপের অনুভূতি নিয়েই তারা বলে উঠেছিলো—</p>
<p>“একজন মহানুভব ভাই এবং মহানুভব ভ্রাতুস্পুত্রের মতো।” জবাবে রাসূল (স.) ঘোষণা করলেন—“তোমাদের উপর আজ আর কোনো অভিযোগ নেই। যাও, তোমরা মুক্ত।”</p>
<p>আপনারা এই বিষয়ে সকলেই জানেন। সীরাত গ্রন্থসমূহে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।</p>
<p>উল্লিখিত ঘটনা আর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ঐতিহাসিক একটি ঘটনার সাথে দেশের বিচার বিভাগকে এক করে ফেললে চলবে না। তবে আমাদের সমাজ থেকে দয়ার্দ্রতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা যেনো উঠে যাচ্ছে। যার ফলে রহমতবিহীনতা সমাজের সকল ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। আমি মনে করি আপনাদের কাছে যে সকল মামলা এসে থাকে তার কারণ যদি অনুসন্ধান করা হয় তাহলে দেখা যাবে, অধিকাংশ মামলার মূলে হলো ইহসান, দয়ার্দ্রতা এবং ভ্রাতৃত্ব না থাকা।</p>
<p>আমাদের প্রখ্যাত দার্শনিক আল ফারাবী, আইন ও বিচারবিভাগকে আখলাকের সর্বনিম্ন স্তর বলে বিবেচনা করে থাকেন। অর্থাৎ, ফজিলত&nbsp; (فضيلة) ও আদালতকে যদি একে অপরের সাথে তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে, ফজিলত (فَضِيلَةٌ)&nbsp; অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিশাল। পক্ষান্তরে আদালত হলো ফজিলতের (فَضِيلَةٌ) একটি অংশমাত্র।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আখলাক ও দ্বীনের মধ্যকার সম্পর্ক</strong></p>
<p>আখলাক ও দ্বীনের মধ্যকার সম্পর্ক বুঝার ক্ষেত্রে আমাদের মুসলমানদের সমস্যা রয়েছে। এই দুইয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে আমরা ভালোভাবে বুঝতে পারি না। আমরা আখলাককে আকীদা ও ইবাদতের বাহিরের একটি বিষয় বলে গণ্য করি। আমরা মনে করি, আখলাক হলেও হবে, না হলেও হবে! এটা অনেক বড় একটি ভুল। আখলাক হলো আইনের আকল।</p>
<p>মরক্কোর বিখ্যাত দার্শনিক আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান বলেন—</p>
<p>اَلْأَخْلَاقُ عَقْلُ الْأَحْكَامِ</p>
<p>অর্থ : “আখলাক হলো, আহকামের আকল।”</p>
<p>মূলত আদালতেরও মূল উদ্দেশ্য হলো, এই দুনিয়াতে আখলাকের প্রতিষ্ঠা। ‘আদালত’ যেমন শুধু মানুষ ও সমাজ সম্পর্কিত একটি পরিভাষা নয়, তেমনিভাবে আখলাকও কেবলমাত্র মানুষ ও সমাজ সম্পর্কিত একটি পরিভাষা নয়। আখলাক একই সাথে সৃষ্টিতত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত। খালক হলো আমাদের জাগতিক বা ফিজিক্যাল অস্তিত্ব আর খুলক হলো আমাদের আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব। মানুষের ফিজিক্যাল অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলা যতটা ক্ষতিকর মানুষের আধ্যাত্মিক অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলাটাও ততটাই ক্ষতিকর।</p>
<p>এজন্য আমাদের দার্শনিকগণ আদালতকে আখলাকের একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করেন।</p>
<p>আপনারা জানেন—</p>
<ul>
<li>ভালো ও মন্দের মধ্যকার পার্থক্য থেকে আখলাকের সৃষ্টি হয়েছে।</li>
<li>সঠিক ও ভুলের মধ্যকার পার্থক্য থেকে আদালতের সৃষ্টি হয়েছে।</li>
<li>সুন্দর ও অসুন্দরের মধ্যকার পার্থক্য থেকে নন্দনতত্ত্ব বা এসথেটিকস এর সৃষ্টি হয়েছে।</li>
</ul>
<p>এসব বিষয় সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে হবে। এগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা কোনোভাবেই সঠিক হবে না। যেটা সঠিক একই সাথে সেটা সুন্দর, যেটা সঠিক একইসাথে সেটা ভালো। যেটা খারাপ একই সাথে সেট ভুল, যেটা ভুল একই সাথে সেটা কুৎসিত। এই সব বিষয়কে একে অপর থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়।</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/akhlaq-and-adalat/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16741</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইবনে খালদুন ও ইলমুল উমরান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-ilm-al-umran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-ilm-al-umran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. তাহসিন গরগুন]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 31 Jul 2025 15:05:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি ও অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15971</guid>

					<description><![CDATA[&#160; এ প্রবন্ধে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, শুরুতেই তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই, ১. ইবনে খালদুনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। ২. ইবনে খালদুনের ইলমুল উমরান কী? ৩. সমাজবিজ্ঞান বা Sociology কী? ৪. ইলমুল উমরান ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: left;"><strong>এ প্রবন্ধে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, শুরুতেই তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই,</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>১. ইবনে খালদুনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>২. ইবনে খালদুনের ইলমুল উমরান কী?</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>৩. সমাজবিজ্ঞান বা Sociology কী?</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>৪. ইলমুল উমরান ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হতে পারে?</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>৫. ইবনে খালদুন বর্তমান দুনিয়ার প্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারি?</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমাদের সামনে প্রথমেই যে প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়, তা হলো ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় যে থিওরিগুলো দিয়েছেন, সেগুলোকে আমরা সমাজবিজ্ঞান বা Sociology নামে অভিহিত করতে পারি কিনা? এ প্রশ্নটিকে আগে সুস্পষ্ট করার জন্য বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান (Sociology) বিভাগের পাঠ্য বই হিসেবে পঠিত এন্থনি গিডেন্সের লেখা Sociology নামক বইটি নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করতে চাই।</p>
<p>আগে দেখা যাক এন্থনি গিডেন্স সমাজবিজ্ঞানকে (Sociology) কীভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাঁর মতে,</p>
<p>&#8220;Sociology is the scientific study of human social life, groups and societies. It is a dazzling and compelling enterprise, as its subject matter is our own behavior as social beings. The scope of sociology is extremely wide, ranging from the analysis of passing encounters between individuals on the street to the investigation of crime, international relations and global forms of terrorism.&#8221;</p>
<p><em>অর্থাৎ,  সমাজ এবং সমাজের প্রতিষ্ঠানাদির বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই হচ্ছে সমাজবিজ্ঞান। সমাজের মৌলিক উপাদান এবং সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের আচরণকে বিশ্লেষণ করাই হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের কাজ। যার দরুণ এটি বেশ সমৃদ্ধ এবং প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়। সমাজবিজ্ঞানের পরিধি অনেক বিস্তৃত। যেমন, দুজন পথচারীর সাময়িক বিবাদের বিশ্লেষণ থেকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, মানুষের জীবনাচরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী সময়োপযোগী আলাপন উপস্থাপন করাই হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের নিত্যদিনের কাজ।</em></p>
<p>ইবনে খালদুন তাঁর নিজের তৈরিকৃত ডিসিপ্লি­ন ইলমুল উমরানকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন-</p>
<blockquote><p>&#8220;انه لما كانت حقيقة التاريخ انه خبر عن الإجتماع الإنساني الذي هو عمران العالم ، وما يعرض لطبيعة ذالك العمران من الأحوال&#8221;</p>
<p>&#8220;ইলমুল উমরান হলো এমন জ্ঞান যা বিশ্বজগতের উমরানের সাথে সম্পর্কিত মানুষের সমাজ এবং প্রকৃতির দাবি অনুসারে তার মধ্যে সৃষ্ট অবস্থাসমূহ এবং সে সকল অবস্থার আবশ্যিক ফলাফল হিসেবে ইতিহাস এবং ইতিহাসের হাকীকতকে বিষয়বস্তু হিসেবে গণ্য করে থাকে।&#8221;</p></blockquote>
<p>আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এন্থনি গিডেন্সের প্রদত্ত সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞা এবং ইবনে খালদুনের ইলমুল উমরানের সংজ্ঞার মধ্যে কতগুলো মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।</p>
<p><strong>প্রথমত</strong><strong>, </strong>ইলমুল উমরানের মধ্যে ইতিহাস বড় একটি ফ্যাক্টর।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত</strong><strong>,</strong> ইবনে খালদুনের মতে, সমাজ বলতে মানবসমাজ বুঝানো হয়, সে ক্ষেত্রে মানুষের একত্রে বসবাসের বিষয়টি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। ইবনে খালদুন মানুষের সামাজিক জীবনকে স্বীয় ইচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয়, বরং অত্যাবশ্যকীয় (Imperative) একটি বিষয় হিসেবে দেখে থাকেন। মানবসমাজকে অত্যাবশ্যকীয় (Imperative) একটি বিষয় হিসেবে দেখার অর্থ হলো এ বিষয়টিকে একটি মেটাফিজিক্যাল বিষয় হিসেবে দেখা কিংবা অন্টোলজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা। তাহলে আমরা এ কথা বলতে পারি, সমাজকে অন্টোলজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা ইলমুল উমরানের মূল বিষয়।</p>
<p>অপরদিকে সমাজবিজ্ঞান (Sociology) সমাজকে একটি মওজুদ বা বিদ্যমান বিষয় হিসেবে দেখে। বর্তমান সময়ের সমাজবিজ্ঞান এ মওজুদ বা বিদ্যমান সমাজের বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য ও অবস্থাকে বিশ্লেষণ করে।</p>
<blockquote><p><strong>এখানে আমরা যে মৌলিক পার্থক্যটি দেখতে পাই, তা হলো, সমাজবিজ্ঞানের (Sociology) ক্ষেত্রে ইতিহাস কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। এটি শুধুমাত্র মওজুদ বা বিদ্যমান সমাজকে ব্যাখ্যা করে।</strong></p></blockquote>
<p>অপরদিকে ইলমুল উমরান মানুষকে ও সমাজকে ঐতিহাসিক একটি অস্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করে। ঐতিহাসিক একটি অস্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করার কারণে সে অস্তিত্বটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে কীভাবে তার অস্তিত্বকে ধারাবাহিক রাখে সে বিষয়কে বিশ্লেষণ করে থাকে। এজন্য ইলমুল উমরানের ক্ষেত্রে ‘সময়’ এর ব্যপারটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>যেমন, এ বিষয়টিকে সুস্পষ্ট করে তুলে ধরার জন্য আমাদেরকে মুকাদ্দিমার সূচিপত্র ও এন্থনি গিডেন্সের Sociology বইয়ের সূচিপত্রকে তুলনামূলকভাবে নিরীক্ষণ করতে হবে। এ তুলনামূলক নিরীক্ষণের মাধ্যমে আমরা এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট একটি ধারণা পাব।</p>
<p>প্রথমেই যদি এন্থনি গিডেন্সের Sociology বইয়ের সূচিপত্রের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, তিনি প্রথমেই ‘সমাজবিজ্ঞান (Sociology) কী’ এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি বিশ্বায়ন (Globalization) নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপরের অধ্যায়সমূহে তিনি সমাজবিদ্যাগত প্রশ্ন ও উত্তর (Asking and Answering Sociological Questions), সমাজবিজ্ঞানে তাত্ত্বিক চিন্তা (Theoretical Thinking in Sociology), সামাজিক যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবন (Social Interaction and Everyday Life), সামাজিকীকরণ, জীবনযাত্রা ও বার্ধক্য (Socialization, Life-Course and Ageing), পরিবার ও ব্যক্তিগত সম্পর্কসমূহ (Families and Intimate Relationships), স্বাস্থ্য, অসুস্থতা ও অক্ষমতা (Health, Illness and Disability), স্তরবিন্যাস ও শ্রেণি (Stratification and Class) দরিদ্রতা, সামাজিক বাধা ও সমাজ কল্যাণ (Poverty, Social Exclusion and Welfare), বৈশ্বিক বৈষম্য (Global Inequality), লিঙ্গ ও যৌনতা (Sexuality and Gender), বর্ণ, জাতিভুক্ত ও অভিবাসন (Race, Ethnicity and Migration), আধুনিক সমাজে ধর্ম (Religion in Modern Society), গণমাধ্যম (The Media), প্রতিষ্ঠান/সংগঠন ও বিস্তৃতি/নেটওয়ার্ক (Organization and Networks), শিক্ষা (Education), অর্থনৈতিক জীবন ও কর্ম (Work and Economic Life) অপরাধ ও বিচ্যুতি (Crime and Deviance) রাজনীতি, সরকার ও সন্ত্রাসবাদ (Politics, Government and Terrorism), নগর ও নাগরিক অবস্থান (Cities and Urban Spaces), পরিবেশ ও ঝুঁকি (The Environment and Risk) নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে সাধারণত এ সকল বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়।</p>
<p>কিন্তু ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমার দিকে যদি লক্ষ্য করি, তাহলে দেখবো, এর প্রথম অধ্যায়ে তিনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা হলো একটি জীবসত্তা হিসেবে মানুষ কীভাবে অন্য মানুষের সাথে বসবাস করছে, মানুষের মৌলিকত্বের সাথে এ বিষয়টির সম্পর্ক কী এবং মূলগত দিক থেকে মানুষের ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত না হয়েও কীভাবে এটি সমাজে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এবং মানুষ কর্তৃক বসবাসকৃত সমাজের এ ব্যবস্থাপনাটি কার্য ও কারণের সম্বন্ধের (Causality Order) মাধ্যমে তুলে ধরার অর্থ হলো এ বিষয়টিকে অন্টোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা। সমাজকে অন্টোলজিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরে সমাজ কীভাবে অস্তিত্ব ও বিকাশ লাভ করে, সে বিষয়টিকেও তিনি উপস্থাপন করেছেন।</p>
<p>পরবর্তীতে তিনি সমাজ মূলগতভাবে যেমন, ঠিক সেভাবেই বিকশিত হওয়ার জন্য অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দুটি ভিন্ন উপাদানকে উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর মধ্যে <strong>প্রথমটি হলো;</strong> ‘মানুষ যদি এমন একটি আচরণের মধ্যে থাকে যে, আমি যদি আমার নিকটবর্তীজনকে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে আমি নিজেও আমার নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে পারবো না’। সমাজের মানুষ যদি এ ধরনের সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে আলোকে তাদের সমাজকে গড়ে না তুলে, তাহলে তারা একত্রে বসবাস করতে পারবে না। যেমন, মানবশিশু খুবই দুর্বল ও অসহায় হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। সমাজ যদি তাকে বড় হওয়ার জন্য ও বেঁচে/টিকে থাকার জন্য সাহায্য না করে, তাহলে তার পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভবপর নয়। এক অর্থে ইবনে খালদুন এ বিষয়টিকে এভাবে তুলে ধরেছেন, আল্লাহ মানুষকে একটি প্রজাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষ যেন এভাবে টিকে থাকতে পারে এজন্য তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে আল্লাহ তায়ালা একটি ‘অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার নীতি’ দান করেছেন। সে নীতিটি হলো মানুষজন মুসলিম হোক বা না হোক, তারা যেন একটি প্রজাতি হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে, সেভাবেই একে অপরকে রক্ষা করে থাকে। এ বিষয়টি হলো মানুষের সমাজজীবনের পর্যায়, এটি পরবর্তীতে পর্যায় থেকে পর্যায়ক্রমে অতিবাহিত হতে থাকে। অর্থাৎ, <strong>আসাবিয়্যাত হলো মানুষের জীবনকে সমাজবদ্ধভাবে পরিচালনা করার প্রথম ধাপ।</strong></p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি হলো,</strong> একটি সমাজ হিসেবে মানুষের টিকে থাকা বা বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশকেও মানুষের বাসোপযোগী হতে হবে। পরিবেশ যদি মানুষের বসবাসের উপযোগী না হয়, তাহলে মানুষের পক্ষে সেখানে বেঁচে থাকা সম্ভবপর নয়। যার কারণে মরুভূমিতেও উমরান গড়ে উঠবে না, আবার বরফাচ্ছাদিত অঞ্চলেও উমরান গড়ে উঠবে না।</p>
<p>এ দুটি মূলনীতি উমরানের জন্য অপরিহার্য।</p>
<p>মানুষের একসাথে বসবাস করার জন্য এ দুটি মূলনীতির সাথে ইবনে খালদুন তৃতীয় একটি মূলনীতি যুক্ত করেন। তিনি বলেন, <strong>যদি কোনো কওম বা গোত্রের নিকট কোনো পয়গাম্বর আসে</strong><strong>, </strong><strong>তাহলে সে পয়গাম্বরের উম্মতের মধ্যে এমন একটি শক্তিশালী চেতনা থাকতে হবে</strong><strong>, </strong><strong>যে চেতনার বলে তারা উম্মতের সকলকে রক্ষা করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাবে। আর সে প্রচেষ্টা হতে হবে এমন</strong><strong>, </strong><strong>যেমনটা একজন মা তার সন্তানকে রক্ষা করার জন্য করে থাকেন।</strong></p>
<p>ফলশ্রুতিতে সামাজিক অস্তিত্বের তৃতীয় মেটাফিজিক্যাল মূলনীতিটি হলো ‘নবুওয়ত’। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইবনে খালদুনকে নিয়ে যারা কথা বলেন, তারা জ্ঞাতসারে হোক কিংবা অজ্ঞাতসারে হোক এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে থাকেন। এ ‘নবুওয়ত’ এর মাধ্যমে সৃষ্ট আসাবিয়্যাত রক্ত সম্পর্কীয় আসাবিয়্যাতকে সম্পূর্ণ রূপান্তরিত করে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে থাকে। তাঁর এ সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে একইসাথে একজন পয়গাম্বরকে ইত্তিবা বা অনুসরণকারীদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সমাজিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠে।</p>
<p>ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার প্রথম অধ্যায়ে সাধারণভাবে আল-উমরানুল বাশারীর মধ্যে ইমাম ফখরুদ্দিন রাযীর রচিত গ্রন্থ <strong>“আল-মাবাহিসুল মাশরিকিয়্যা”</strong> এর মেটাফজিক্যাল পদ্ধতিকে সমাজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকা অতীব জরুরী।</p>
<p>এরপর দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি ‘উমরান আল হাদারী’ ও ‘উমরান আল বাদাবী’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ অধ্যায়ে তিনি মানুষের জীবনপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দুটি মৌলিক ক্যাটাগরিকে পরস্পর থেকে পৃথকভাবে তুলে ধরেছেন। সে মৌলিক ক্যাটাগরির মধ্যে একটি হলো সে সময়ে মানুষ যাযাবর হিসেবে বসবাস করত। বিশেষত যারা গ্রামীণ জীবনধারায় অভ্যস্ত ছিলো। তাদের যাযাবর হিসেবে বসবাস করার অর্থ আবার এ নয় যে, তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনা ছিল না। তাদেরও একটি ব্যবস্থাপনা ছিল, ইবনে খালদুন যেটিকে ‘উমরান আল বাদাবী’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। অপরদিকে শহরে বসবাসকারীগণ, যেটিকে তিনি ‘উমরান আল হাদারী’ হিসেবে নামকরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সত্যিকারের উমরান অবশ্যই শহরের মধ্যে বিকশিত উমরান। এরপর তিনি ‘উমরান আল হাদারী’ নিয়ে আলোচনা করেন এবং এর পূর্বশর্তসমূহ কী কী সেগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।</p>
<p>এক অর্থে বলতে গেলে এন্থনি গিডেন্স তাঁর Sociology নামক গ্রন্থে যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, তার প্রায় সকল বিষয় নিয়েই ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার এ অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন। তৃতীয় অধ্যায়ে তিনি রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত বিষয়সমূহ আংশিকভাবে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>তবে এন্থনি গিডেন্স সমাজবিজ্ঞান (Sociology) হিসেবে যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, সে বিষয়গুলোকে ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমার ইলমুল উমরানের মধ্যকার একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।</p>
<p>এখন পর্যন্ত আমরা যে আলোচনা করলাম, তা থেকে বুঝতে পারি যে, বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান বলতে যা বুঝায়, তা ইবনে খালদুনের সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্বের নিকটে খুবই সামান্য। ইবনে খালদুন সমাজবিজ্ঞানের যে তত্ত্ব দিয়েছেন তা অনেক বিস্তৃত ও ব্যাপক। বর্তমান সময়ে যে বিষয়কে সমাজবিজ্ঞান নামে অভিহিত করা হয়, সেটিকে ইবনে খালদুনের ইলমুল উমরানের মধ্যে একটি অধ্যায়ের সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।</p>
<p>এরপর ইবনে খালদুন আরেকটু অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ধাপে মানুষের একত্রে বসবাস করার ফলে সৃষ্ট ব্যবস্থাপনাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন। <strong>মানুষের তৈরি রাষ্ট্রকে ইবনে খালদুন দুভাগে বিভক্ত করেছেন। একটি হলো ‘মুলক’ অপরটি হলো ‘খেলাফত’।</strong></p>
<p>ইবনে খালদুনের মতে, মুলক (Kingdom) হলো এমন জনগোষ্ঠী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, যাদের নিকটে কোনো পয়গাম্বর আসেনি।</p>
<p>আর খেলাফত হলো সে রাষ্ট্রব্যবস্থা, যা একজন পয়গাম্বরের অনুসারীগণ যখন সে পয়গাম্বরের সাথে সম্পর্ক ঠিক রেখে কোনো আইনী ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলে।</p>
<p>এ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে, মূলকের ক্ষেত্রে আকলী ও আমলী (প্রায়গিক) হিকমত প্রযোজ্য, আর খেলাফতের ক্ষেত্রে শরয়ী হিকমত প্রযোজ্য।</p>
<p>এক স্থানে ইবনে খালদুন বলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর আদেশকে ‘মুলক’ এর মাধ্যমে পরিপূর্ণ করেন, তবে এটি এমন সমাজের জন্য প্রযোজ্য, যে সমাজে পয়গাম্বর আসেননি কিংবা যে সমাজ পয়গাম্বরের সাথে কোনো সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনি কিংবা সম্পর্ককে বিছিন্ন করে ফেলেছে।”</p>
<p>চতুর্থ অধ্যায়ে তিনি শহর ও শহরের জীবন নিয়ে আলোচনা করেছেন। শহরের জীবনের বিষয়টি আসলে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, শহরের জীবন ধারা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p><strong>আল ফারাবীর ভাষায়, “মানুষ আখলাকী কামালিয়াত (পরিপূর্ণতা) মূলত শহরের মাধ্যমে লাভ করে থাকে।”</strong></p>
<p>কেননা, একজন মানুষ যত বেশি ও যত ধরনের মানুষের সাথে মিশে, সে নিজেকে তত বেশি বিকশিত করতে পারে। এজন্য যদি প্রশ্ন করা হয় যে, ইনসানে কামিল কোথায় খুঁজে পাব, তাহলে আমি জবাবে বলব সবচেয়ে বড় ইনসানে কামিল বড় বড় শহরের মধ্যে পাওয়া যায়, গ্রামগঞ্জে কিংবা গুহার ভেতরে ইনসানে কামিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।</p>
<p>যে ব্যক্তি সমাজ থেকে নিজেকে বিছিন্ন করে গুহার মধ্যে বসবাস করে, তার আখলাকী শ্রেষ্ঠত্ব তো কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে গ্রামে বসবাসকারী মানুষের সুযোগও সীমাবদ্ধ।</p>
<p>অপরদিকে এমন এক ব্যক্তির কথা চিন্তা করুন, যার অঢেল সম্পদ রয়েছে এবং সে রাজনৈতিকভাবে অনেক বড় শক্তির নিয়ন্ত্রক কিংবা এমন একজন সেনাপতির কথাই ধরুন, যে অনেক বড় একটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে। এ ধরনের মানুষেরা যখন তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কাজ করে থাকে, তখন এমন অনেক সময় তাদের সামনে আসে, যখন তাদের পক্ষে আদালত ও আখলাকের মূলনীতিসমূহ মেনে চলা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু যদি তারা সে কঠিন অবস্থাতেও আখলাক ও আদালতের নীতিকে বিসর্জন না দেয়, তবে তখন সে অনুপাতে তাদের আখলাকী পূর্ণতা ফুটে উঠবে।</p>
<p>অনেক হাদীসেও আদিল বাদশাহ ও সৎ ব্যবসায়ীদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>ফলশ্রুতিতে যদি ইবনে খালদুনের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখতে পাই, যদি কোনো ব্যক্তি এ কথা বলে, আমার ভুল করার সম্ভাবনা রয়েছে এজন্য আমি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াদীর সাথে সম্পৃক্ত না হয়ে শুধু নিজেকে রক্ষা করার জন্য একাকী বসবাস করে সেখানে আমার আখলাকী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করবো, এমন ব্যক্তির এ আখলাকী সন্ধানের খুব বেশি মূল্য নেই।</p>
<p>সত্যিকার মারেফত হলো অনেক বড় বড় পদে থেকেও নিজেকে আখলাক ও আদালতের মূলনীতির আলোকে পরিচালিত করা।</p>
<p>ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার চতুর্থ অধ্যায়ে শহর সম্পর্কে অনেক ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এখানে বিষয়টি শুধুমাত্র শহরের সোশিওলজির সাথে সম্পর্কিত নয়, শহরের সাথে বিভিন্নভাবে সম্পর্কিত আরও অনেক বিষয় তিনি এখানে আলোকপাত করেছেন।</p>
<p>মুকাদ্দিমার পঞ্চম অধ্যায় হলো জীবিকা সংক্রান্ত অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি জীবিকা অর্জনের উপায়, শিল্প-কৌশল এবং তৎসমুদয়ে ক্রিয়াশীল বিচিত্র অবস্থা ও সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আর এ সকল বিষয় সরাসরি অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এ অধ্যায়ে তিনি অর্থনীতি সংক্রান্ত এত অসাধারণ মূলনীতি বর্ণনা করেছেন, যার কারণে শুধুমাত্র মুসলমানগণই নন, অনেক অমুসলিম অর্থনীতিবিদও ইবনে খালদুনকে অর্থনীতির জনক হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। পাশ্চাত্যের যে সকল অর্থনীতিবিদগণ ইবনে খালদুনকে অর্থনীতির জনক হিসেবে বিবেচনা করেন, তাঁরা ছোটখাট কোনো অর্থনীতিবিদ নন। তাদের মধ্যে অনেক বিখ্যাত অর্থনীতিবিদগণও রয়েছেন।</p>
<p><strong>ইবনে খালদুন অর্থনীতিকে ইলমুল উমরানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে দেখে থাকেন এবং স্থায়ী মূলনীতিসমূহের উপর ভিত্তি করে যে বিষয়সমূহ পরিবর্তিত হয়েছে, সে বিষয়সমূহকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন।</strong></p>
<p>এখানে ইবনে খালদুনের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে প্রচলিত সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির মূল পার্থক্য হলো সমাজবিজ্ঞানে শুধুমাত্র পদ্ধতিগত ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় বিষয়সমূহকে অনুসন্ধান করা হয়ে থাকে। কেননা, সমাজবিজ্ঞান সমাজের উৎপত্তির ফলে সৃষ্ট একেবারে মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় বিষয়সমূহ নিয়ে গবেষণা করে না । এর মূল কারণ হলো সমাজবিজ্ঞান স্থায়ী কিংবা অপরিবর্তনীয় কোনো কিছুর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। সমাজবিজ্ঞানীরা বর্তমানে বিদ্যমান সমাজসমূহের জীবনধারার মধ্যে তুলনামূলকভাবে পরিবর্তনীয় ও অপেক্ষাকৃত কম পরিবর্তনীয় বিষয়কে পরস্পর সম্পর্কিত করে এদের লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করে থাকেন।</p>
<p>অপরদিকে ইবনে খালদুনের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে স্বতন্ত্র পর্যায়সমূহ রয়েছে।</p>
<p><strong>প্রথমটি হলো,</strong> সমগ্র মানবতা ও সমাজের অস্তিত্বের মূলকে গঠনকারী মূলনীতিসমূহকে ইবনে খালদুন অপরিবর্তনীয় ও চিরন্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলশ্রুতিতে এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বিশেষ করে সমাজবিজ্ঞান ও সাধারণভাবে সমাজবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত যত বিষয় রয়েছে, সকল বিষয়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইবনে খালদুনের দৃষ্টিভঙ্গি স্বতন্ত্র।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি হলো,</strong> তিনি চিরন্তন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থেকে অপেক্ষাকৃত কম পরিবর্তনীয় ও অধিক পরিবর্তনীয় বিষয়কে পরস্পর থেকে পৃথক করেন। এগুলোকে পৃথক করার পর এদেরকে একটিকে অপরটির সাথে সম্পৃক্ত করে বিশ্লেষণ করেন।</p>
<p><strong>মুকাদ্দিমার সর্বশেষ অধ্যায় হলো জ্ঞান সম্পর্কিত। এ অধ্যায়টি একইসাথে জ্ঞানের ইতিহাস ও জ্ঞানের দর্শন সম্পর্কিত একটি অধ্যায়। শুধু তাই নয়, একদিক থেকে দেখলে এ অধ্যায়কে জ্ঞানের এনসাইক্লোপিডিয়া বলা যায়।</strong> ইবনে খালদুন এ অধ্যায়ে সমগ্র মানবতার উদ্ভাবিত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করেছেন। একইসাথে তিনি এ অধ্যায়ে জ্ঞান অর্জনের পন্থা সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন এবং এ সম্পর্কে একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ অধ্যায়কে পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, এখানে ইবনে খালদুন চার পর্যায়ের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করিয়েছেন।</p>
<ol>
<li>মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করার কারণে যেখানেই মানুষ রয়েছে সেখানেই সমাজ রয়েছে। সেটি বাদাবী (গ্রাম্য) কিংবা হাদারী (শহুরে) যে কোনোটি হতে পারে। এর অর্থ হলো এটি একটি মুভমেন্ট পয়েন্ট।</li>
<li> তাদের অস্তিত্ব কীভাবে সম্ভবপর হলো এটিকে বুঝার জন্য সহায়ক মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয়।</li>
<li> এ সকল বিষয়কে কীভাবে জানা যাবে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন।</li>
<li>আমরা এ সকল বিষয় সম্পর্কে কীভাবে জানি সে পন্থাকে নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। এটি অনেক বড় একটি দৃষ্টিকোণ। এ সকল দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার সর্বশেষ অধ্যায়কে দাঁড় করিয়েছেন।</li>
</ol>
<p>এ সকল বিষয়কে সামনে রাখলে দেখতে পাই, বর্তমান সময়ে সমাজবিজ্ঞানে যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে, ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় সে সকল বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন। তবে এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় স্বাভাবিকভাবেই তিনি যে সমাজে বসবাস করেছেন সে সমাজের অবস্থা তুলে ধরেছেন। সে সময়ে যেহেতু তিনি অনেক বড় বড় রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপালন করেছেন, সেজন্য সে সকল রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়কেও তিনি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি যেটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন, সেটি হলো ইমাম ফখরুদ্দিন রাযীর মেটাফিজিক্স। তিনি রাযীর মেটাফিজিক্যাল তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে এ সকল বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন, শ্রেণিবিন্যাস করেছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন।</p>
<p>অপরদিক থেকে দুটি বিষয়কে তিনি পৃথকভাবে তুলে ধরেন,</p>
<ul>
<li><em>চিরন্তন বা অপরিবর্তনীয়।</em></li>
<li><em>ঐতিহাসিক কারণে অপেক্ষাকৃত কম বা বেশি পরিবর্তনীয়।</em></li>
</ul>
<p>যদিও আমি আমার এ আলোচনায় এন্থনি গিডেন্সের রচিত বইকে কেন্দ্র করে আলোচনা করেছি, তবে বর্তমানে সমাজবিজ্ঞান একটি নয়। অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন সমাজবিজ্ঞান বা Sociology রয়েছে। যেমন জার্মান সোশিওলজি রয়েছে। যেমন, ম্যাক্স ওয়েবার জার্মান সোশিওলজিকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটির ধারণা ব্রিটিশদের সোশিওলজি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অপরদিক থেকে ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিলে দ্যুর্খায়েমের সমাজবিজ্ঞান যদি দেখি, তাহলে দেখতে পাই, জার্মান ও ব্রিটিশ সোশিওলজি থেকে ফ্রান্সের সোশিওলজি সম্পূর্ণ ভিন্ন। Marcel Mauss, Levi Strauss-সহ আরও অনেক ফরাসি সমাজবিজ্ঞানীর দিকে যদি তাকাই, তাহলেও দেখতে পাই, তাঁদের সমাজচিন্তা সম্পূর্ণ ভিন্ন।</p>
<p>অনুরূপভাবে, Social Theory-র নামে কিংবা সিস্টেম থিওরি হিসেবে গৃহীত অনেক তত্ত্ব রয়েছে, সেগুলোও আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন। এছাড়াও মার্কসবাদীদের তৈরি করা সমাজতত্ত্বগুলোও সম্পূর্ণ ভিন্ন। <strong>এ কারণে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, বর্তমান সময়ে সমাজবিজ্ঞান বুঝালে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কোনো একটি সমাজবিজ্ঞান নয়, বরং ভিন্ন ভিন্ন সমাজবিজ্ঞানকে বুঝানো হয়। এগুলোর মধ্যে শুধু যে বিষয়টি অভিন্ন সেটি হলো এদের নাম একই, কিন্তু এদের মধ্যে খুব বেশি মিল নেই।</strong></p>
<p>এর কারণ হলো ফ্রান্সের সোশিওলজি ফ্রান্সের সমাজকে মূলভিত্তি হিসেবে ধরে গবেষণা করেছে এবং সমাজ সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের উত্তর ফরাসি সমাজের উপর ভিত্তি করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।</p>
<p>জার্মান সোশিওলজি জার্মান সমাজকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেটির আলোকে তাদের সমাজবিজ্ঞান গঠন করে থাকে। ব্রিটিশরা ইংল্যান্ডের সমাজকে মূলভিত্তি হিসেবে ধরে ও আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানীরা আমেরিকার সমাজকে মূলভিত্তি হিসেবে ধরে সে আলোকে তাদের সমাজবিজ্ঞানকে গড়ে তুলেছেন।</p>
<p>এখানেই ইবনে খালদুন থেকে আমাদের যে বিষয়টি শিখতে হবে সেটি আমরা খুঁজে পাই। ইবনে খালদুন আরব, তুর্কি, বারবার (আফ্রিকান) ও ফ্রাঙ্কদের সমাজবিজ্ঞানকে পরস্পরের চেয়ে ভিন্ন বলে অভিহিত করেন না। তাঁর মতে, সকল মানুষের জন্য ও সমাজের জন্যই প্রযোজ্য, এমন একটি বিষয় রয়েছে। সে বিষয়টি হলো সকল মানুষ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে, আর এ সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করার মধ্যে একটি সংহতি বা আসাবিয়্যাত রয়েছে। আসাবিয়্যাত বা সংহতি ছাড়া সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করা সম্ভব নয়।</p>
<p>এখানে লক্ষ্য করুন, সকল সমাজের জন্য প্রযোজ্য এমন একটি মূলনীতির কথা তিনি এখানে আলোচনা করছেন, সেটি হলো ‘আসাবিয়্যাত’।</p>
<p>ইবনে খালদুন <strong>দ্বিতীয় যে বিষয়টির </strong>প্রতি গুরুত্বারোপ করেন, তা হলো একটি সমাজের বৈশিষ্ট্য সে সমাজের ভৌগলিক অবস্থানের উপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে এটি পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত। ফলশ্রুতিতে সে পরিবেশকেও বিবেচনায় নিলে আমরা দেখতে পাই, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধারার সমাজ গড়ে উঠে।</p>
<p><strong>তৃতীয় বিষয় হলো</strong>, যদি মানুষগণ কোনো একজন পয়গাম্বরের অনুসরণ করে, তাহলে রক্তের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিকতার সম্পর্কও ছিন্ন করে সে পয়গাম্বরের অনুসারীদের মধ্যে একটি ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে ও সে পয়গাম্বরের দেখানো পন্থার আলোকে একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠে। আর সে সময়ে ইন্দোনেশিয়াতে বসবাসকারী মুসলমানদের সাথে মরক্কো, সাইবেরিয়া, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়াতে বসবাসকারী মুসলমানদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একটি সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য চেষ্টা করে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করুন, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও একজন পয়গাম্বরের অনুসরণের ফলে তাদের মধ্যে খুব শক্তিশালী একটি আসাবিয়াত (সংহতি) গড়ে উঠতে পারে।</p>
<blockquote><p><em>এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বর্তমান সময়ে যদি আমরা সমাজ নিয়ে গবেষণা করতে চাই তাহলে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো পয়গাম্বররের অনুসরণকারী উম্মাহকে তথা মুসলিম উম্মাহকে একটি অভিন্ন জাতিসত্তা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এরপর এর নিচে উপবিভাগ হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে যে ভিন্নতা রয়েছে সেটি তুলে ধরতে হবে। আরব উপদ্বীপে বসবাসকারী মুসলমানদের ভিন্নতা, উত্তর আফ্রিকাতে বসবাসকারী মুসলমানদের ভিন্নতা, মধ্য এশিয়া ও বলকান অঞ্চলের মুসলমানদের ভিন্নতাকে তুলে ধরতে হবে। এগুলা একইসাথে এক, আবার একইসাথে এদের মধ্যে ভিন্নতাও রয়েছে। এটিকে আমরা ওয়াহদাতের মধ্যে কাসরাত (একের মাঝে বহুত্ব) বলে অভিহিত করতে পারি।</em></p></blockquote>
<p>এখন যদি রাশিয়ার কথা চিন্তা করি, রাশিয়ার সমাজ কোন মূলনীতিগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ প্রশ্নও আমাদেরকে করতে হবে। যেমন রাশিয়া যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন হিসেবে ছিল, তখন তারা নিজেদেরকে কম্যুনিস্ট হিসেবে দাবি করত। তবে এর পেছনে রাশিয়ার জাতীয়তাবাদ খুবই শক্তিশালী একটি ফ্যাক্টর ছিলো এবং তারা অন্যান্য অঞ্চলকে রাশিয়ার মধ্যে আত্মীকরণ করার জন্য চেষ্টা চালিয়েছে, তবে এক্ষেত্রে তারা সফল হতে পারেনি। কিন্তু এখন তারা রাশিয়ান জাতীয়তাবাদের সাথে অর্থোডক্সিয়া ধর্মবিশ্বাসকে একত্রিত করে নতুন করে একটি শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।</p>
<p>অনুরূপভাবে যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, সেখানে অর্থোডক্স, ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানরা রয়েছে। এরা কেউ কাউকেই পছন্দ করে না। দেশ হিসেবে দেখলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও জার্মানি রয়েছে। ব্রিটেনও ছিল ইতিপূর্বে। কিন্তু এদের মধ্যে অভিন্ন কোনো কিছু না থাকা সত্ত্বেও, পঞ্চাশ বছর আগেও এরা একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পরেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক কারণে একক একটি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে এবং একটি অভিন্ন সমাজ গঠনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।</p>
<p>আমরা যখন বাইরে থেকে দেখি, তখন আমাদের মনে একটি প্রশ্ন আসে, সেটি হলো এরা কি আদৌ সফল হতে পারবে? আমরা এটি চাই যে তারা সফল হোক, দুনিয়ার সকল মানুষ তাদের মানবিক মর্যাদা নিয়ে আদালত ও শান্তির মধ্যে বসবাস করুক, কেউ কারোর উপর অত্যাচারের স্টীমরোলার পরিচালনা না করুক।</p>
<p>কিন্তু যদি বাস্ততার নিরিখে বিবেচনা করি, তাহলে কী দেখি? তাহলে দেখতে পাই যে, সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন আজ কঠিন সংকটের সম্মুখীন। কেন? কারণ তাদের মধ্যে আসাবিয়্যাত নেই।</p>
<p>এখন বর্তমান সময়ে আমরা ইলমুল উমরানকে কীভাবে ব্যবহার করবো? আমি মনে করি এ নামে ব্যবহার করতে কোনো সমস্যা নেই। তবুও যদি এটিকে আমাদের তরুণ প্রজন্মের নিকট সহজভাবে তুলে ধরতে চাই, তাহলে আমরা একে ‘ইলমুল মাদানী’ (সভ্যতা সংক্রান্ত জ্ঞান) হিসেবে অভিহিত করতে পারি।</p>
<p>আমরা দেখতে পাই যে, ইলমুল উমরান বা ইলমুল মাদানী’র মধ্যে একইসাথে বিশ্বাস রয়েছে, আখলাক রয়েছে, রাজনীতি রয়েছে, আইন রয়েছে, একইসাথে সমাজ ও সমাজবিজ্ঞান রয়েছে, একইসাথে সামাজিক মনস্তত্ত্ব, সাইকোলজি, মেটাফিজিক্স রয়েছে, এক অর্থে বলতে গেলে এর মধ্যে সকল কিছুই রয়েছে। এ বিষয়টিকে যদি বিবেচনায় নেই, তাহলে দেখতে পাই, ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা আমাদেরকে এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইবনে খালদুন ও ইলমুল উমরান নিয়ে আলোচনা করার পর এ কথা অনায়াসেই বলা যায় যে, ইবনে খালদুনকে শুধুমাত্র একজন সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে আখ্যায়িত করা একজন মানুষকে শুধুমাত্র তাঁর কোনো একটি অঙ্গের নামে নামকরণ করার শামিল। যেমন মানুষের চোখ আছে, এখন তাকে শুধুমাত্র চোখ বলে ডাকা কি সমীচীন হবে? মানুষের কান আছে, এখন যদি কেউ তাকে কান বলে ডাকে, তাহলে কেমন হবে? এটি মোটেই ঠিক হবে না।</p>
<p>&#8211; একইভাবে ইবনে খালদুনকে অর্থনীতিবিদ বললেও ইবনে খালদুনের পরিচয়কে অসম্পূর্ণ করে রাখা হবে।</p>
<p>&#8211; ইবনে খালদুনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলার অর্থ হলো তাঁকে অসম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা।</p>
<p>&#8211; ইবনে খালদুনকে শুধুমাত্র দার্শনিক বলে আখ্যায়িত করাও তাঁর প্রতি অবিচার করার শামিল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p><em>তাহলে আমরা ইবনে খালদুনকে কী নামে ডাকব? তাঁকে আমরা তাঁর রাখা নামেই ডাকব। সে নামটি কী? সেটি হলো, তিনি হলেন ‘ইলমুল উমরানের প্রতিষ্ঠাতা’।</em></p></blockquote>
<p>আর ‘ইলমুল উমরান’কে বর্তমান ভাষায় আমরা ‘ইলমুল মাদানী’ বা ‘সভ্যতা সংক্রান্ত জ্ঞান’ বলে অভিহিত করতে পারি। ইবনে খালদুন একইসাথে একটি সভ্যতা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, কীভাবে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে, একটি সভ্যতা কোন ধরণের সংকটে নিপতিত হতে পারে এ সকল বিষয়কেও অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। আর সভ্যতা সংক্রান্ত সকল বিষয়কে এভাবে বর্ণনা করার কারণে ইবনে খালদুন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। কেননা আমরা ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণ চাই। আমরা যেহেতু ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণ চাই, তাই আমাদের অবশ্যই ইবনে খালদুনের মুখাপেক্ষী হতে হবে।</p>
<p>তবে একটি বিষয় না বললেই নয়, ইবনে খালদুনকে বুঝার ক্ষেত্রে একটি বড় সংকট রয়েছে, অনেকেই তাঁকে না বুঝেই তাঁর ব্যাপারে অপবাদ দিয়ে থাকে। তাঁর কথার উদ্দেশ্য এবং মর্মকে বুঝার পরিবর্তে যদি তাঁকে শাব্দিকভাবে বুঝার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তাঁকে বুঝার জন্য বর্তমান সময়ে তাঁর শব্দসমূহই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে আক্ষরিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যদি ইবনে খালদুনকে বুঝার চেষ্টা করা হয়, তাহলে মুকাদ্দিমার লাইনসমূহই ইবনে খালদুনকে বুঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে।</p>
<p>তাহলে কী করতে হবে?</p>
<p>ইবনে খালদুনের লেখাকে পড়তে হবে, তবে তাকে শুধু আক্ষরিকভাবেই নয় বরং বর্তমান সময় ও তাঁর সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হবে এবং এক্ষেত্রে আমাদেরকে সফল হতে হবে।</p>
<p>ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমার মাধ্যমে যে কাজটি করেছেন সেটিকে আমরা সোশ্যাল অন্টোলজি নামে অভিহিত করতে পারি। আর ইবনে খালদুনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো এ সোশ্যাল অন্টোলজি সৃষ্টি করতে পারা। সোশ্যাল অন্টোলজি সৃষ্টি করার দৃষ্টিকোণ থেকেও সত্যিকারার্থেই জ্ঞানের ইতিহাসে এর কোনো তুলনা নেই। যদিও ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পাশ্চাত্যের কিছু চিন্তাবিদ কিছু কিছু কাজ করেছেন যেগুলোকে সোশ্যাল অন্টোলজি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। অনুরূপভাবে বিংশ শতাব্দীতেও কিছু দার্শনিক এরকম কিছু করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তাঁদের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। তবে এদের কেউই ইবনে খালদুনের মত এক্ষেত্রে এত গভীর ও সামগ্রিক কোনো কিছু করতে পারেননি। যার কারণে ইবনে খালদুনের সাথে তাঁদের কোনো তুলনাই চলে না।</p>
<p>ইবনে খালদুনের এ সোশ্যাল অন্টোলজির মূল কাঠামোটি কী?</p>
<p>এ বিষয় সম্পর্কে ইবনে খালদুন <strong>প্রথম যে বিষয়টি উল্লেখ করেন সেটি হলো</strong> মানুষ মূলসত্তাগত দিক থেকে দুর্বল একটি সৃষ্টি এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল এক সৃষ্টজীব। এ বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলেই এমন। আর সবচেয়ে নির্ভরশীল ব্যক্তি হলো সে, যার অবস্থান সমাজে সবচেয়ে উপরে।</p>
<p>যেমন ধরুন, আপনি এমন একটি দেশের প্রেসিডেন্ট, যে দেশের জনসংখ্যা ১০ কোটি। এর অর্থ হলো আপনি একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সে দেশের ১০ কোটি মানুষের উপর নির্ভরশীল। তারা আপনাকে তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন বলেই আপনি শক্তিশালী। কিন্তু যদি তারা আপনার প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়, পরের দিন আপনি সাধারণ একজন নাগরিক ছাড়া আর কিছু নন। মানুষের মূল বৈশিষ্ট্য হলো মানুষ মূলসত্তাগত দিক থেকে দুর্বল এবং অন্যের মুখাপেক্ষী।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় যে বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন,</strong> তা হলো মানুষ তার নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য অন্য মানুষের সাথে কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার চুক্তি করতে বাধ্য।</p>
<p><strong>তৃতীয় বিষয়টি হলো,</strong> যারা কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতার চুক্তি করে, তারা সুযোগ ও সম্ভাবনার আলোকে একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকে। একটি নিজাম বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভবপর নয়। সকল মানুষই এমন।</p>
<p><strong>চতুর্থ বিষয়টি হলো,</strong> কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার যে চুক্তি, সে চুক্তির ভিত্তিতে গড়ে উঠা প্রতিটি ব্যবস্থা (প্রতিষ্ঠান) একটি শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটায় এবং একটি সমাজের মূল সে সমাজকে গঠনকারী মানুষগণের একে অপরকে সাহায্য ও সমর্থনের ক্ষেত্রে যে শক্তি, সে শক্তির সাথে সম্পর্কিত। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থনের দিক থেকে মানুষ যত বেশি শক্তিশালী, তাদের বসবাসকৃত সে সমাজও তত বেশি শক্তিশালী।</p>
<p><strong>পঞ্চম বিষয়টি হলো,</strong> হাতে যে শক্তি আছে, তা যত বেশি ব্যবহার করা হবে, তত বেশি বৃদ্ধি পাবে ও বড় হবে। এ বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>সর্বশেষ বিষয় হলো প্রতিটি শক্তিরই একটি সীমা ও শেষ রয়েছে। সীমায় উপনীত হওয়া কিংবা উদ্দেশ্যে উপনীত হওয়া প্রতিটি শক্তিই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার স্থান অন্য শক্তির নিকট ছেড়ে দেয়।</p>
<p>ইবনে খালদুনের এ সোশ্যাল অন্টোলজির মূল ফ্রেমটির তৃতীয় বিষয়টির অর্থাৎ যারা কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার চুক্তি করে, তারা সুযোগ ও সম্ভাবনার আলোকে একটি সিস্টেম বা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকে এ প্রশ্নের জবাব সমাজবিজ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করে। সমাজবিজ্ঞান শুধু এ কাজটিই করে থাকে।</p>
<p>কিন্তু ইবনে খালদুনের সামগ্রিক ব্যবস্থার মধ্যে এটি শুধুমাত্র একটি বিষয়, এছাড়া আর অন্য কিছু নয়।</p>
<p>এখন বর্তমান সময়ে আসা যাক। ইবনে খালদুন আমাদের বর্তমান সময়ের জন্য কী বলেন? বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনুষদে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। সে সকল অনুষদের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন, সেখানে ঐ সমাজের কোনো কিছু নিয়ে গবেষণা করা হয় না। যেমন, পাকিস্তান বলেন, তুরস্ক বলেন, মিসর বলেন কিংবা বাংলাদেশ বলেন, এ সকল দেশের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে নিজেদের দেশের সমাজ নিয়ে গবেষণা হয় না। যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ইউরোপের যে সকল ধারা অনুসরণ করেন, সাধারণত সে সকল ধারার থিওরিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। যেমন, যদি কেউ জার্মান ভাষা জেনে থাকেন, তাহলে তিনি জার্মান চিন্তাবিদগণ জার্মান সমাজকে সামনে রেখে যে সকল থিওরি দিয়েছেন, সে সকল থিওরীকেই শিক্ষার্থীদেরকে শিখান।</p>
<p>আর যারা ইংরেজি জানেন, তারা আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানের থিওরিকে শিক্ষার্থীদেরকে শিখিয়ে থাকেন এবং আমেরিকার সমাজকে সমাজবিজ্ঞান হিসেবে তুলে ধরেন। একইভাবে যারা ফ্রেঞ্চ জানেন, তারাও ফ্রান্সের সমাজকে সমাজবিজ্ঞান হিসেবে তাদের শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।</p>
<p>এখন কথা হলো বাংলাদেশের সমাজে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশী যুবকগণ কি সমাজবিজ্ঞান বিভাগসমূহে তাদের নিজেদের সমাজ ও দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়?</p>
<p>এর জবাব হলো, না, পায় না!</p>
<p>একবার চিন্তা করে দেখুন তো, এটি কত মারাত্মক একটি বিষয়!</p>
<p>শুধুমাত্র সমাজবিজ্ঞানই নয়, সকল বিভাগের ক্ষেত্রে এ একই কথা প্রযোজ্য। যারা অর্থনীতি পড়ে, তারা তাদের নিজেদের অর্থনীতি সম্পর্কে কতটুকু ওয়াকিবহাল?</p>
<p>তাহলে ইবনে খালদুন আমাদেরকে মূল যে বিষয়টি শিক্ষা দিয়ে থাকেন, সে বিষয়টি হলো <strong>আমরা যদি সমাজবিজ্ঞান তৈরি করতে চাই, তাহলে আমাদের নিজেদের সমাজকে মূলভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে সমাজবিজ্ঞান তৈরি করতে হবে।</strong> সমাজবিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজকে একইসাথে জ্ঞানের বিষয় ও জ্ঞানের উৎস হিসেবে তৈরি করতে হবে। যদি আমরা আমাদের সমাজকে একইসাথে জ্ঞানের বিষয় ও জ্ঞানের উৎস হিসেবে তৈরি করতে পারি, তাহলে হয়তোবা আমরা আমাদের সমাজের উপর ভিত্তি করে এমন এমন সব থিওরী সৃষ্টি করতে সক্ষম হব, যেগুলো দেখে জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও আমেরিকা তাদের সমাজকে সমালোচনার দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ পাবে। পরবর্তীতে তারা নিজেদেরকে পুনর্গঠন করতে পারবে। এটি হয়তো অনেকের কাছে কল্পনাপ্রসূত হতে পারে, কিন্তু এটি মোটেই অসম্ভব নয়। অতীতে তারা মূলত আমাদের সমাজ থেকেই শিখেছে, এখনো যদি আমরা এক্ষেত্রে সফল হতে পারি, তাহলে তারা আমাদের নিকট থেকেই শিখবে। কারণ আমরাই হলাম বিশ্ববিবেক।</p>
<p>এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান সংক্রান্ত যত বিষয় রয়েছে সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সমাজকে সামনে রেখে তত্ত্ব (থিওরী) ও মডেল দাঁড় করাতে হবে।</p>
<p style="text-align: left;"><strong>আর আমাদের সমাজ কী?</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>আমাদের সমাজ হলো মুসলিম সমাজ। আমাদের সমাজ ইসলামী সভ্যতা ও মুসলিম উম্মাহর একটি বড় অংশ। এখন যদি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরেকটু বিস্তৃত করি, তাহলে আমাদের যারা সমাজবিজ্ঞান পড়ে, তাদের মৌলিক দায়িত্ব হলো মুসলিম উম্মাহর মধ্যকার ঐক্যকে কীভাবে সুদৃঢ় করা যায়, কীভাবে মুসলমানদের মধ্যকার কথা ও কাজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা যায় এ সকল বিষয় নিয়ে গবেষণা করা।</strong></p>
<p style="text-align: left;"><strong>ইনশাআল্লাহ, আমরা ধীরে ধীরে ইবনে খালদুন যেদিকে ইঙ্গিত করেছেন, সে দিক বিবেচনায় রেখে আমাদের সমাজবিজ্ঞানকে নতুন করে গড়ে তুলব। নতুন করে সমগ্র মানবতা আমাদেরকে দেখে নিজেদের ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে নিবে। আর আমি বিশ্বাস করি, সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদ :</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-ilm-al-umran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15971</post-id>	</item>
		<item>
		<title>লিবারেলিজম ও লিবারেলিস্টদের ওয়াদাকৃত জান্নাত</title>
		<link>https://rowyakbd.com/liberalism-and-the-promised-paradise-of-liberals/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/liberalism-and-the-promised-paradise-of-liberals/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 15 Apr 2025 14:56:07 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি ও অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15761</guid>

					<description><![CDATA[মানবতাকে দীর্ঘ বারোশত বছর আদালত ও মারহামাতের সুশীতল ছায়া দানকারী এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের সর্বোচ্চ বিকাশ সাধনকারী ইসলামী সভ্যতার পতনের পরে মানবতাকে জাহেলিয়াত ও জুলুমের নিগূঢ় আধাঁরে নিপতিতকারী বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার যে আধুনিক শোষণ চলছে, এ শোষণকে বুঝার জন্য লিবারেলিজম]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মানবতাকে দীর্ঘ বারোশত বছর আদালত ও মারহামাতের সুশীতল ছায়া দানকারী এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের সর্বোচ্চ বিকাশ সাধনকারী ইসলামী সভ্যতার পতনের পরে মানবতাকে জাহেলিয়াত ও জুলুমের নিগূঢ় আধাঁরে নিপতিতকারী বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার যে আধুনিক শোষণ চলছে, এ শোষণকে বুঝার জন্য লিবারেলিজম কী, লিবারেলিস্টদের ওয়াদা কী, তারা বিশ্বকে মূলত কী দিতে চায়, তাদের তাকলীফ তথা প্রস্তাবনা কী- এ বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝা জরুরী। লিবারেলিজম বিগত প্রায় তিন শতাব্দীব্যাপী প্রভাবশালী ও বিজয়ী একটি চিন্তা। আমরা বর্তমানে কেমন দুনিয়ায় বসবাস করছি, এ দুনিয়ায় কোন কোন চিন্তাধারা প্রভাবশালী, তা যদি আমরা বুঝতে না পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে ইসলামের আহ্বান, ইসলামের আদালত, ইসলাম কর্তৃক মানুষকে দেওয়া মর্যাদার বিষয়গুলোকে অন্য কোনো চিন্তার বিপরীতে যৌক্তিক ও বিজয়ী হিসেবে হাজির করা সম্ভব হবে না। লিবারেলিজমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই এ মুহূর্তে আমাদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হলো বর্তমানের এ জাহেলিয়াতকে ভালোভাবে জানা ও বুঝা। হযরত উমর (রা.) এর ভাষায়- &#8220;যে জাহেলিয়াতকে ভালোভাবে চিনতে পারেনি, জানতে পারেনি, বুঝতে পারেনি, তার পক্ষে ইসলামকে খুব ভালোভাবে জানা সম্ভব নয়।&#8221; লিবারেলিজম এবং এর চিন্তাধারা পৃথিবীতে একটি প্রগতিশীল চিন্তাধারা হিসেবে পরিচিত। এ আলোচনার পূর্বে প্রাসঙ্গিকতার স্বার্থে প্রগতিবাদ সম্পর্কে আলোকপাত জরুরী। সাধারণত প্রগতিবাদের দুটি ধারণা পাওয়া যায়:</p>
<p>১. সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদ ও</p>
<p>২. লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদ।</p>
<p>কোনো চিন্তাধারার স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হলো তা আগামীর পৃথিবীকে কী দিতে চায়, মানুষকে কোন অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তা তুলে ধরতে পারা: অন্যথায় তার পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিটি চিন্তাধারার একটি ওয়াদা বা ভবিষ্যৎ দর্শন থাকা বাঞ্ছনীয়। যেমন- বর্তমান বস্তুবাদী World View বা বিশ্বদর্শনের একটি ধারণা হলো, যত দিন যাচ্ছে, পৃথিবী তত সুন্দর এবং কল্যাণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একইভাবে আমাদের মুসলমানদের একটি শ্রেণির ইতিহাসের ব্যপারে ধারণা হলো যত দিন যাচ্ছে, মানুষ তত খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাস্তবতা হলো এ দুটির একটি ইফরাত, অন্যটি তাফরিত। কারণ সত্যিকারার্থে মানবজাতির ইতিহাসের প্রকৃতি শুধুমাত্র উর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী নয়, বরং তা চক্রাকার। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ ব্যপারে বলেন,</p>
<p><strong>&#8220;আমি মানুষের মধ্যে খারাপ দিন এবং ভালো দিনগুলোকে চক্রাকারে আবর্তন করি।&#8221;</strong></p>
<p>ইবনে খালদুনের ইতিহাস দর্শনের দিকে লক্ষ্য করলে আমাদের ইতিহাসের প্রকৃতিতে অনেকটা এ রকমই দেখতে পাবো, কখনো তা উর্ধ্বমুখী, কখনো নিম্নমুখী, আবার কখনো ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে উর্ধ্বমুখী হয়েছে, আবার নিম্নমুখী হয়েছে। অর্থাৎ তা একটি আবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এটিই সবচেয়ে যৌক্তিক ইতিহাস দর্শন। ওয়াদা বা ভবিষ্যৎ দর্শন থাকার ধারাবাহিকতায় সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদ ও লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদেরও আলাদা আলাদা ওয়াদা বা ভবিষ্যৎ দর্শন রয়েছে এবং তারা পৃথিবীকে তাদের ভবিষ্যৎ দর্শনের দিকেই ধাবিত করতে চায়। সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদ ও লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদ উভয়েই প্রগতি (Progress) চায়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো তাদের প্রগতির (Progress) সর্বশেষ পর্যায় কী, তারা কোথায় গিয়ে থামতে চায়? সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদের ক্ষেত্রে প্রগতির সবচেয়ে বড় অনুঘটক হলো শ্রেণি বৈষম্য, অর্থাৎ বুর্জোয়া ও প্রলিটারিয়েতদের মধ্যকার সংঘাত। আর তাদের প্রগতির শেষ পর্যায় হলো শ্রেণিহীন একটি সমাজ বা Classless Society তৈরি, যে সমাজে ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো সম্পদ থাকবে না, সবাই সমান থাকবে এবং ধর্মের কোনো স্থান থাকবে না। বর্তমান সময়ের রাষ্ট্রের যে ধরণ, তাদের আকাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রের ধরণ তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের আকাঙ্ক্ষিত সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, পরিবারের সাথে পরিবারের সম্পর্কসহ এ ধরনের বিষয়গুলো নতুন করে বিন্যস্ত হবে। কোনো কোনো সমাজতান্ত্রিকের মতে তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবারের অস্তিত্বই থাকবে না। তারা তাদের এ চিন্তাধারাকে সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, বলকান এবং আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই, তাদের কৃত ওয়াদা এবং তার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য ছিল না।</p>
<p>এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের &#8220;অ্যানিমেল ফার্ম&#8221; (Animal Farm), যেখানে সুস্পষ্টভাবে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদের ইতিহাস পড়লেই বুঝা যায়, এটি ছিল মূলত একটি ইউটোপিয়া, যার সাথে মানুষের ফিতরাত ও মানব ইতিহাসের কোনো সম্পর্ক নেই। সেই সাথে এটি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিক্রিয়াশীল একটি আন্দোলন, যে আন্দোলন মানুষের শক্তিকে পুঁজি করে, পুঁজিবাদের প্রতি মানুষের আক্রোশকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছিল। এটি ছিল একটি ব্যর্থ বিপ্লব, যা কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটির বেশি, কিন্তু শুধুমাত্র সোভিয়েত রাশিয়ার ৭০ বছরের আমলে মারা গেছেন ৬ কোটিরও বেশি মানুষ। একটি বিপ্লব বা একটি মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য কী পরিমাণ মানুষকে খুন করা হয়েছে! এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ার পরেই তাদের উপলব্ধিতে এসেছে যে, তাদের এ তথাকথিত মতবাদ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ মতবাদ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যদিও বিভিন্ন আদলে তাদের আন্দোলন এখনো জারি আছে, কিন্তু তার অনুভূতি যতদিন যৌবনের তেজ থাকে, শক্তি-সামর্থ থাকে, ততদিনই জারি থাকে, তারপর তারা কেউ ব্যবসা করে, কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ঢোকে, তারপর তারা লিবারেলিস্ট হয়ে যায়। এটিই তাদের ইউটোপিয়া। এ ধরণের ইউটোপিয়া লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদের প্রস্তাবিত ভবিষ্যত দর্শনেও পরিলক্ষিত।</p>
<p>সমাজতান্ত্রিক এবং লিবারেলিস্টদের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য হলো সমাজতান্ত্রিকরা বিপ্লবকে (Revolution) প্রাধান্য দিয়ে থাকে, অন্যদিকে লিবারেলিস্টরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক পরিবর্তন, শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, আইনের পরিবর্তন, সংস্কৃতির পরিবর্তনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। মৌলিক এ পার্থক্যের দিক থেকে লক্ষ্য করলে উদাহরণ হিসেবে প্রথমেই ব্রিটেনের কথা উল্লেখ করা যায়। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল রাষ্ট্রের একটি হলো ব্রিটেন, যে রাষ্ট্র আমূল পরিবর্তনের (Radical change) মাধ্যমে স্থিতিশীলতা লাভ করেছে। ব্রিটেনে সে অর্থে কোনো রক্তাক্ত বিপ্লব সংঘটিত হয়নি। অনন্য শক্তিধর দেশ জাপানও কোনো রক্তাক্ত বিপ্লবের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে সমাজ পরিবর্তনের পন্থা হিসেবে রক্তাক্ত বিপ্লবকে বেছে নেওয়া অন্যতম প্রধান রাষ্ট্র হলো ফ্রান্স। ফ্রান্স আজও স্থিতিশীল হতে পারেনি, আজও হরতালে অগ্নি সংযোগে প্যারিসের রাজপথ পুড়ে যায়। নেপোলিয়নের ফ্রান্সে বিপ্লব-প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে যে পরিমাণ মানুষ মারা গিয়েছে, তা অকল্পনীয়। আর তাদের এ বিপ্লবের কারণ হলো যে কোনো মূল্যে প্রভাব বিস্তার। সমাজের একটি অংশ যখন তাদের মতাদর্শ গ্রহণ করবে এবং যখন তারা শক্তির অধিকারী হবে, তখন সমাজের বাকি অংশ যদি তাদের পক্ষে না আসে বা তাদের মতাদর্শের আলোকে কাজ করতে না পারে, তাহলে তারা যে কোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করবে। তারা হয় তাদের হত্যা করবে, না হয় নির্বাসনে পাঠাবে। এটিই তাদের বিপ্লবের মূল কথা।</p>
<p>একইভাবে লিবারেলিস্টদের চিন্তাধারায় বিপ্লবের পরিবর্তে বিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। তাঁদের মূলনীতি হলো Revolution নয় Evolution। অর্থাৎ তারা মানুষকে ধাপে ধাপে পরিবর্তন, পরিবর্ধন এমনকি রূপান্তরের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যায়। লিবারেলিজমের আলোকে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো শিক্ষা, মিডিয়া, আইন এবং অন্যান্য উপাদানকে নিয়ন্ত্রণ। যার কারণে আমরা তাদের পন্থা সহজে বুঝতে পারি না। বিষয়টা অনেকটা এমন যে, <strong>সমাজতান্ত্রিকরা সরাসরি মাথায় আঘাত করে</strong><strong>, </strong><strong>আর লিবারেলিস্টরা এনেস্থিসিয়া দিয়ে অচেতন করে ধীরে ধীরে সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে যায়</strong><strong>, </strong><strong>অথচ আমরা টেরও পাই না।</strong> <strong>কিন্তু উভয়টিরই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো মানুষকে শোষণ করা এবং মানুষের উপর আধিপত্য কায়েম করা।</strong></p>
<p>এ সমাজতান্ত্রিক এবং লিবারেলিস্টদের মধ্যে একটি সামঞ্জস্যও রয়েছে, তা হলো উভয়েই নিজেদের চিন্তাধারাকে বৈজ্ঞানিক বলে দাবি করে এবং তারা দাবি করে যে তারা ডগম্যাটিক নয়। তাদের অন্যতম একটি চিন্তাধারা হলো ইউরোপের একজন নিউটনের পূর্বে বিজ্ঞান ছিল না, সবই ছিল থিওলজি বা হিকমা। যেহেতু তারা তার পরবর্তী যুগে বসবাস করছে, তাই তাদের জন্য প্রযোজ্য হলো; বৈজ্ঞানিক নয়, এমন বিষয়গুলোকে ধর্তব্যে না নেওয়া। তারা তাদের নিজ নিজ চিন্তাধারাকে বৈজ্ঞানিক দাবি করার কারণ হলো তারা মনে করে তাদের চিন্তাধারাকে অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে, এছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো পন্থা নেই। আর তা বাস্তবায়িত হলে দুনিয়া একটি সুন্দর দুনিয়া হবে এবং এর ফলে দুনিয়া সমৃদ্ধির সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, তারপর আর কোনো ধরনের অনুসন্ধানের প্রয়োজন হবে না। তখন ইতিহাসও তার লক্ষ্যে উপনীত হবে। তারপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ &#8220;The End of History&#8221; বই রচনা করবে! অতঃপর তাদের সজ্জিত দুনিয়ায় সকলকে বসবাস করতে হবে।</p>
<p>আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করলে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক ও লিবারেলিস্টদের দর্শনকে বৈজ্ঞানিক বলার মূল কারণ হলো তাদের বিশ্বাসের দৃঢ়তা। মুসলমানরা আখিরাতের প্রতি যেমন দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে, তাদের চিন্তাধারার প্রতি তাদের বিশ্বাসও অনুরূপ। অর্থাৎ যে বিষয়টি বৈজ্ঞানিক, সেটিই একমাত্র সত্য। গোটা বিশ্বকেও এ সত্য মেনে নিতে হবে, ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, অন্যথায় পরিণতি হবে করুণ। তাদের মতে, তাদের এ প্রগতির সামনে যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাকে যে কোনো মূল্যে, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে সরিয়ে দিতে হবে, এ দুনিয়াতে বসবাস করার কোনো অধিকার তার নেই। সোভিয়েত রাশিয়া এর জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। তৎকালীন সময়ে যারা পুঁজিবাদ এবং বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী ছিল, তাদেরকে হত্যা করা হতো বা নির্বাসনে পাঠানো হতো। বর্তমানে বলকান, ককেশাস এবং সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের উপর যে নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তার মূল কারণও এটিই। তাদের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সামনে যারাই দাঁড়াবে, যারাই তাদের ভিশনের বিরোধী, তারা একইসাথে উন্নতি, অগ্রগতি এবং প্রগতির বিরোধী, আর এজন্য তাদের যে কোনো মূল্যে নিঃশেষ করতে হবে। লিবারেলিজম নিয়ে আলোচনার সর্বাগ্রে লিবারেলিজমের সংজ্ঞা নিয়ে আলোকপাত জরুরী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এন্ড্রো হেইউড (Andrew Heywood) তার &#8220;Politics&#8221; নামক গ্রন্থে লিবারেলিজমের মূল ধারণা (key-idea) হিসেবে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো হলো-</p>
<ul>
<li>১. Individualism.</li>
<li>২. Freedom.</li>
<li>৩. Reason.</li>
<li>৪. Equality.</li>
<li>৫. Toleration.</li>
<li>৬. Consent.</li>
<li>৭. Constitutionalism.</li>
</ul>
<p>এখানে তারা reason এর ক্ষেত্রে progress বা প্রগতিকে এবং equality এর ক্ষেত্রে meritocracy কে প্রাধান্য দিয়েছে। Consent এর ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, চুক্তির ভিত্তিতে সমতা থাকতে হবে। সাদা চোখে এ ধরনের বই পড়লে কেউ লিবারেলিজমের বিরোধিতা করবে না, কিন্তু এর পেছনের দর্শন জানলে যে কেউ আশ্চর্য হয়ে যাবে। তারা আমাদের সবাইকে প্রতারিত করে, পূর্বে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, এনেস্থিসিয়া দিয়ে অচেতন করে আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া হচ্ছে, অথচ আমরা টেরই পাচ্ছি না। কিন্তু যখন এনেস্থিসিয়ার প্রভাব ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে, তখন আমরা দেখছি আমাদের কারো চোখ নেই, কারো হাত নেই, কারো পা নেই! এহেন পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় হলো আমাদের ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে হবে যে, তারা কীভাবে আমাদের প্রতারিত করছে। আর এক্ষেত্রে সর্বাগ্রে জানতে হবে লিবারেলিজম কী, লিবারেলিস্টরা কেমন স্বপ্ন নিয়ে পথ চলতে শুরু করেছিল এবং তাদের মূল ওয়াদা বা ভবিষ্যৎ দর্শন কী। মূলত লিবারেলিস্টদের ওয়াদা বা ভবিষ্যৎ দর্শন হলো তারা দুনিয়াকে জান্নাতে পরিণত করবে। কিন্তু তারা কেমন জান্নাতের স্বপ্ন দেখে? লিবারেলিজমের পেছনে কার্যকরী সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। মূলত ব্রিটিশ সম্প্রসারণবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদের ক্ষেত্রে তাদের অর্থনৈতিক যে বিকাশ, এ চিন্তার পেছনের মূল চিন্তা হলো লিবারেলিজম। অর্থাৎ ব্রিটিশ পুঁজিবাদের সম্প্রসারণই হলো লিবারেলিজমের মূল লক্ষ্য।</p>
<p>লিবারেলিস্ট অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিস ফুকুয়ামার &#8220;The End of History and The Last Man&#8221; বইয়ের মূল কথা হলো- &#8220;অর্থনীতির ক্ষেত্রে লিবারেলিজম এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে ডেমোক্রেসি। এ দুটি ছাড়া মানুষের আর কোনো গন্তব্য নেই। আর এ গন্তব্যে পৌঁছানোর মানে হলো আর কোনো কিছু অনুসন্ধান করার প্রয়োজন নেই।&#8221;</p>
<p>Bernard Mandeville এর বিখ্যাত বই &#8220;The Fable of the Bees&#8221;, তাঁর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো এ বইয়ে তিনি আখলাক এবং অর্থনীতিকে পরস্পর থেকে আলাদা করছেন। তবে এ আখলাক হলো খ্রিস্টান ধর্মের আখলাক। তার মতে অর্থনীতির মূলভিত্তি হলো সুদভিত্তিক পুঁজিবাদ। এ বইটি মূলত একটি উপন্যাস, যেখানে মৌমাছিদের ঠিকভাবে কাজ না করা, অলস বসে থাকার পেছনে ধর্মীয় (খ্রিস্টান ধর্ম) বৈরাগ্যবাদকে তুলে ধরা হয়েছে। যখন দ্বীন থেকে আখলাককে সরিয়ে নেওয়া হলো, তখন মৌমাছিদের উৎপাদন ব্যপকভাবে বেড়ে যায় এবং তারা সমৃদ্ধি লাভ করে। মৌমাছিরা ঠিকভাবে কাজ না করার কারণ হলো বৈরাগ্যবাদ, আর এ বৈরাগ্যবাদ খ্রিস্টানদের রূহানিয়াত। ম্যান্ডেভিলের ভাষ্যে, &#8220;যদি আমরা উন্নতি এবং অগ্রগতি চাই, তাহলে আমাদের আখলাক ও দ্বীন থেকে দূরে থাকতে হবে। অন্যথায় আমরা উন্নতি করতে পারবো না।&#8221; এ বইয়ের উপর ভিত্তি করে অর্থনীতির জনক হিসেবে পরিচিত এডাম স্মিথ তার &#8220;The Wealth of Nations&#8221; বই লিখেন, যে বইকে অর্থনীতির বাইবেল বলা হয়। এ বই আখলাক এবং অর্থনীতিকে আলাদা করাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। পরবর্তীতে এ বইয়ের উপর ভিত্তি করেই মার্কেন্টালিজম বা ব্রিটেনের অর্থনীতি দাঁড়ায়। এখানেই লিবারেলিস্ট অর্থনীতির বীজ গ্রোথিত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>উপরোক্ত বিষয়গুলোকে ভালোভাবে না বুঝলে শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ বণিক সভ্যতাকে, বর্তমান অর্থনীতির মূল ভিত্তিকে বুঝা সম্ভব নয়। আমরা ইসলামী অর্থনীতি নিয়ে কথা বলি, ইসলামী ব্যাংকিং নিয়ে কথা বলি, কিন্তু আমরা জানি না যে টাকার সংজ্ঞা কী! মার্কেন্টালিজম বুঝা ছাড়া কারো পক্ষে বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। অর্থনীতি এবং আখলাকের মধ্যকার বিভাজনকে না বুঝে কারো পক্ষে অর্থনীতি নিয়ে কল্যাণমূলক কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। সাম্রাজ্যবাদীদের বিখ্যাত ঐতিহাসিক বাকল (Henry Thomas Buckle) বলেন, &#8220;যারা মেধাবী ও গতিশীল, তাদের আখলাককে নয়, বরং মেধাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ মেধা অগ্রসর হয়, শানিত হয়, কিন্তু আখলাক এক ধরণের প্রতিবন্ধকতা, যার জন্য যা ইচ্ছা তাই করা যায় না।&#8221; অর্থাৎ, তাদের মতে তাদের প্রগতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো দ্বীন ও আখলাক। এক্ষেত্রে এ দ্বীন ও আখলাক হলো খ্রিস্টান ধর্ম ও খ্রিস্টানদের আখলাক। একইভাবে আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বা সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো অধ্যয়ন করি, তখন দেখতে পাই, দ্বীন ও আখলাক বাদ দিয়ে এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক দর্শন ও সমাজদর্শন দাঁড় করানো হচ্ছে, যার সাথে আমাদের সমাজের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন আমরা তাদের বর্জনকৃত দ্বীন ও আখলাকের সাথে আমাদের দ্বীন (ইসলাম) ও আখলাককে মিলিয়ে ফেলছি?</p>
<p>আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, &#8220;আমরা দুনিয়া ও আবিরাত উভয় জগতে কণ্যান চাই&#8221; এবং আল্লাহ বলেন, &#8216;দুনিয়ায় তোমাকে যে অংশ দেওয়া হয়েছে, সেটি তুমি ভুলে যেও না। আমাদের মূল সমস্যা হলো আমরা স্বীন ও দুনিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক নিত্তপণ করতে পারছি না, সমন্বয় করতে পারছি না। সমন্বয় করতে না পারার মূল কারণ হলো দ্বীনের ব্যাপারে প্রান্তিক ধারণা। ইসলামে দ্বীন ও দুনিয়ার স্বরূপ তেমন তা সঠিকভাবে না জানার কারণে কেউ শুধু দ্বীনের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে, আবার কেউ শুধু দুনিয়ার পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে। অথচ দুটোই ইসলামের আদালতকে খারিজ করে দিচ্ছে। এ বিষয়টি আমাদের বুঝা প্রয়োজন, সেই সাথে আমাদের ভালোভাবে বুঝতে হবে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় দ্বীন বলতে যে খ্রিস্টানদের ধর্ম এবং আখলাক বলতে যে খ্রিস্টানদের আখলাককে বুঝানো হয়, এর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদ এবং লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদ উভয়টিই দ্বীন ও আখলাককে প্রধান শত্রু মনে করে, এক্ষেত্রে তারা এক। তাদের পার্থক্য হলো মালিকানা নিয়ে ধারণার ক্ষেত্রে। লিবারেল পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক প্রগতিবাদ মালিকানা রক্ষার চেষ্টা করে, আর সমাজতান্ত্রিক প্রগতিবাদ মালিকানা উৎখাতের চেষ্টা করে, অর্থাৎ ব্যক্তিমালিকানা বলতে কিছু থাকবে না।</p>
<p>বর্তমান বিশ্ব-অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষ সম্পদের মালিক নয়, মালিক হলো এরিস্ট্রোক্রেটরা। স্পেন ছাড়া সমগ্র ইউরোপে দশ হাজার এরিস্ট্রোক্রেট আছে, যাদেরকে Land Lord বলা হয়। মূলত তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য প্রণিত ব্যবস্থাই হলো লিবারেলিজম। উদাহরণস্বরূপ ব্রিটেনের কথা বলা যায়, ব্রিটেনের অর্থনীতি ভূমি মালিকানার সাথে সম্পর্কিত। যেমন- ব্রিটেনের পার্লামেন্টে দুইটি হাউজ রয়েছে, হাউজ অব কমন্স এবং হাউজ অব লর্ডস। হাউজ অব কমন্সের সদস্য সংখ্যা ৬৫০ জন এবং হাউজ অব লর্ডসের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০০ জন। প্রকাশ্যে হাউজ অব কমন্স এর বির্তক প্রচারিত হয়, কিন্তু কোনো নীতিই হাউজ অব কমন্সে পাস হয় না। অর্থাৎ এটি একটি কমিটি ছাড়া কিছুই নয়। সেই সাথে হাউজ অব কমন্সে যারা নির্বাচিত হয়, তাদেরকে এরিস্ট্রোক্রেটরা প্রোপাগান্ডার জন্য টাকা, ঘুষ প্রদান করে। অন্যদিকে আমেরিকার ধর্ম হলো Civil Religion। এই Civil Religion-ই তাদের প্রথম মূলনীতি। তাদের দ্বিতীয় মূলনীতি হলো, ব্যক্তিগত সম্পদে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করা যাবে না। মূলত এরিস্ট্রোক্রেটদের মালিকানা সু-সংহত করবে, তাদের সম্পদ বৃদ্ধি করবে এ ধরনের পদ্ধতিই লিবারেলিজম।</p>
<p>এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো ব্রিটিশদের সবচেয়ে বড় দার্শনিক, লিবারেলিজম চিন্তাধারার বড় অগ্রপথিক জন লক এর বিখ্যাত বাণী, <strong>&#8220;</strong><strong>প্রথম মালিকানা কীভাবে অর্জিত হলো তা দেখার কোনো প্রয়োজন নেই</strong><strong>, </strong><strong>মালিকানা অর্জিত হওয়ার পর তা রক্ষা করাই হলো মূল বিষয়।&#8221;</strong> এ অনুসারে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বাংলা অঞ্চলসহ গোটা পৃথিবী থেকে যত কিছু লুট করে নিয়ে সংরক্ষণে রাখা হয়েছে, এগুলোর জন্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা রাজি নয়, বরং তাদের চিন্তার বিষয় হলো কীভাবে এসব সম্পদ তারা রক্ষা করবে। আমাদের দেশে যদি কেউ ব্যাংকে মোটা অংকের টাকা জমা দিতে যায়, প্রশাসন প্রথমেই তারা টাকার উৎস অনুসন্ধান করবে। অন্যদিকে আমেরিকাতে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশ থেকে দুই ট্রিলিয়নের বেশি টাকা পাচার হয়। টাকা পাচারকারীদের জান্নাত হলো আমেরিকা এবং কানাডা। অথচ এসব দেশে এ টাকার উৎস নিয়ে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থাই নেই। একইভাবে রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে জন লক বলেছিলেন, <strong>&#8220;</strong><strong>রাষ্ট্র হলো মালিকানা রক্ষা করার জন্য গঠিত একটি ব্যবস্থা। মালিকানা রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্র মানুষকে মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারে।&#8221;</strong></p>
<p>ব্রিটেন এরিস্ট্রোক্রেটদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র, যেখানে তারাই সম্পদের মালিক। সম্পদের মালিকানা রক্ষায় তাদের নীতি হলো &#8220;যে মালিকানার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।&#8221; অর্থাৎ রাষ্ট্র হলো এরিস্ট্রোকেটদের ভূমির মালিকানা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা। মার্কস তার &#8220;Das Capital&#8221; বইয়ে তৎকালীন লন্ডনের অবস্থা তুলে ধরেছেন। এ বইয়ে তিনি শ্রমিকদের উপর কৃত অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। লন্ডনের ফ্যাক্টরিগুলোতে বিভিন্ন শর্তের আলোকে মানুষকে কাজ করানো হতো। সে শর্তগুলো এতটাই কঠিন ছিল যে, তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যুবকরা তাদের যৌবনের উৎসাহ, উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলতো, শিশুরা হারিয়ে ফেলতো শৈশবের কোমলতা। তার এ বই মূলত ক্যাপিটালজমের নির্মম জুলুম-নির্যাতনের বর্ণনা, যেখানে তিনি লন্ডনকে এ জুলুম-নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে, এ জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছিলো এরিস্ট্রোক্রেটরা। তাদের সম্পদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিলো, অন্যদিকে প্রলেতারিয়েত বা শ্রমিক শ্রেণি দিন দিন দরিদ্র হচ্ছিলো, নির্যাতিত, নিপিড়ীত হচ্ছিলো।</p>
<p>তারা তাদের শিল্পের বিকাশের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশকে শেষ করে দিয়েছে, বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন অঞ্চলকে শোষণ করেছে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, সে সময়ে জন লক, জন স্টুয়ার্ট মিল, থমাস ম্যালথাস-সহ বড় বড় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানীদের ভূমিকা কী ছিল? তিক্ত হলেও সত্য, তারা জুলুমকে গ্রহণযোগ্য বানানোর জন্য এবং সমগ্র পৃথিবীতে একমাত্র বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার জন্য তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। যেমন- জন লকের তত্ত্ব। এর উদাহরণ আমরা এডাম স্মিথের পুঁজি সম্পর্কিত বইগুলোতেও দেখতে পাই। তার মতে প্রাকৃতিক সম্পদ বা নগদ টাকা পুঁজি নয়, পুঁজি হলো শ্রম। তাদের চিন্তাধারা, ব্যবস্থাকে সমগ্র পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মূলত তারা এ ধরনের তত্ত্ব আবিষ্কার করতো। সামগ্রিকভাবে তাদের লক্ষ্য ছিল মালিকানার উপর ভিত্তি করে একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যে ব্যবস্থা মালিকানা বৃদ্ধি করবে, ধনীদেরকে আরও ধনী বানাবে। সেই সাথে অন্য মানুষের উপরে তাদের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা তারা তৈরি করবে, যেটি বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষা করবে।</p>
<p>সে সময়ে এত বিস্তৃত অর্থে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না। ইউরোপের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিহাস শিল্পায়নের সাথে জড়িত। শোষিতরা যেন তাদের ফ্যাক্টরিতে তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলতে পারে, সেই মানে তাদেরকে উন্নীত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়। এটিই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ইতিহাস। আর তালের ব্যবস্থার অধীনে মানুষকে কাজ করতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে নিয়ে আসা হয় ব্যক্তিস্বার্থকে। মানুষের মস্তিষ্কে গেঁথে দেওয়া হয় যে, তুমি যদি কাজ করো, তাহলে তুমি ধনী হতে পারবে, যাকে বলা হয় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ। এখানে আখলাক এবং দ্বীনের কোনো স্থান নেই। ডেভিড হিউম বলেছিলেন, <strong>&#8220;</strong><strong>যদি আমরা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই</strong><strong>, </strong><strong>তবে তাদেরকে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ধাবিত করতে হবে। কেননা ব্যক্তিস্বার্থ এমন একটি বিষয়</strong><strong>, </strong><strong>যা তাকে ব্যবস্থা (</strong><strong>System) </strong><strong>থেকেই অর্জন করতে হবে</strong><strong>, </strong><strong>যার কারণে তাকে অবশ্যই ব্যবস্থার অধীনে আসতে হবে।&#8221;</strong> ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ছুঁটে চলা মানুষের চিন্তায় থাকে সে কীভাবে কর্পোরেট, ব্যবস্থার (System) একজন ভালো শ্রমিক হবে। ব্যক্তিস্বার্থকে ব্যবহার করে মানুষকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি আমরা ফেরাউনের শাসনব্যবস্থায়ও দেখতে পাই। ফেরাউন তার জাতির উপর সবচেয়ে বেশি জুলুম করতো, তাদেরকে নিগৃহীত করতো, নিপীড়িত করতো, অসম্মানিত করতো, তবুও তারা ফেরাউনের আনুগত্য করতো, কারণ তারা ছিল ফাসেক জাতি। আর ফাসেক হলো তারা, যারা আল্লাহ এবং রাসূলের (স.) চেয়ে, আল্লাহর জন্য সংগ্রামের চেয়ে তাদের ব্যক্তিস্বার্থ, সম্পদ, পরিবারকে বেশি গুরুত্ব বা প্রাধান্য দেয়। এমনকি কেউ যদি ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে ছুটে বেড়ায়, শুধুমাত্র ব্যক্তিকেন্দ্রিক জীবন গঠন করে, তাহলে সে সারাদিন আল্লাহকে স্মরণ করলেও, নামাজ পড়লেও সে ফাসেক জাতিরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এটি করতে পারলেই তারা সফল। এ লক্ষ্যেই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে সকল ব্যবস্থা তাদের চিন্তার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। একজন মুসলমানের উচিত এ ব্যপারে সজাগ থাকা। কারণ যে ব্যক্তিস্বার্থের পেছনে না ছুটে মানুষের কল্যাণের পেছনে ছুটে বেড়ায়, তাকে পৃথিবীর কোনো শক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আর এ বিষয়টি আল্লামা ইকবাল তার &#8220;আসরারে খুদী ও রমুজে বেখুদী&#8221;তে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। এজন্য আমাদের খুদীকে বিকশিত করতে হবে, ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করতে হবে। একইসাথে এর মাধ্যমে যেন সমাজের মানুষ উপকৃত হয়, সমগ্র পৃথিবীর মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে বেঁচে থাকার সুযোগ পায়, তারা যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্রীড়নকে পরিণত না হয়, সে আলোকে কাজ করা আমাদের আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। শুধুমাত্র অর্থের পেছনে ছুটে বেড়ালে আমাদের জীবন হবে লাঞ্চিত, নিপীড়িত।</p>
<p>দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিল ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অন্যতম একজন শেয়ার হোল্ডার। তিনি নিজেও একজন লর্ড ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, By the natural growth of civilization, power passes individual to masses. And the worth and importances of an individual as compared with the mass sink into grater and grater insignificance! অর্থাৎ, &#8220;সভ্যতার ক্রমবিকাশের যে প্রাকৃতিক গতিধারা, তা ক্ষমতাকে ব্যক্তির হাত থেকে একটি গোষ্ঠীর হাতে নিয়ে যায় (এখানে গোষ্ঠী বলতে সাধারণ মানুষ নয়, বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি) এবং যখন ব্যক্তির মূল্য বা গুরুত্বকে এ গোষ্ঠীর সাথে তুলনা করা হয়, তখন ব্যক্তি মূল্যহীন হয়ে পড়ে।&#8221; ব্যক্তি যদি মূল্যহীন হয়ে পড়ে, তাহলে সে কাজ করবে কেন? মূলত এটিই হলো লিবারেলিজম। তাদের ভাষ্যে, &#8220;সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে গোষ্ঠীসমূহের শক্তি আরো বেশি বৃদ্ধি পায়। এখানে মূল বিষয় হলো বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ, এখানে ব্যক্তির ভূমিকা অর্থহীন। এখানে ব্যক্তি উৎপাদনের একটি উপাদান মাত্র।&#8221;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>জন স্টুয়ার্ট মিল বলেছিলেন, <strong>&#8220;</strong><strong>আমাদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে</strong><strong>, </strong><strong>যে শিক্ষা ব্যবস্থার অধীনে মানুষ বসবাস করবে এবং এ শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি উপ-শাখা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।&#8221;</strong> অর্থাৎ তারা মনে-প্রাণে এটিই বিশ্বাস করাবে যে, আমাদের সুন্দর একটি ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিতে পারে হয় ইউরোপ, না হয় আমেরিকা। মূলত এসব কারণেই আমাদের ফিকহ ভিত্তি হারিয়েছে, মুসলমানরা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে, মাদরাসাগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে, তার স্থলে বর্তমান ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিকতা লাভ করেছে। তারা শুধুমাত্র এ শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেই সাথে এমন একটি বিশ্বাস তৈরি করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে যে, এর চেয়ে ভালো কোনো ব্যবস্থা হয় না। আর তাদের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তাদের দুটি পন্থা রয়েছে-</p>
<p>১. অর্থনৈতিক শক্তি।</p>
<p>২. মনস্তাত্ত্বিক শক্তি।</p>
<p>পূর্বে লিবারেলিস্টদের অর্থনৈতিক শক্তি আলোচিত হয়েছে। এবারের আলোচ্য বিষয় তাদের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি। মানুষের মনস্তত্ত্বকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎকালীন সবচেয়ে বড় মাধ্যম ছিল উপন্যাস (যেমন- ড্যানিয়েল ডিফোর &#8220;রবিনসন ক্রুসো&#8221;), আর বর্তমানে সিনেমা। অর্থনীতি আর মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা বুঝানোর চেষ্টা করে যে, এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আর কিছু হতে পারে না। তারা বলে, তারা প্রতিটি ব্যক্তিকে শক্তিশালী বানায়, তাকে Freedom বা মুক্তি নেয়, Reason বা মুক্তচিন্তা দেয়, Equality বা সমতা দেয়, Toleration বা ধৈর্য্য শেখায়, Consent বা একতা শেখায়, Constitutionalism শেখায়। আদতে তারা শক্তিশালী করার নামে মানুষকে নফসের দাস হিসেবে গড়ে তুলে, মানুষের নফসের চাহিদা, আবেগ, যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাকেই মানুষের স্বপ্নে পরিণত করে, এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যতটুকু স্বাধীনতা দরকার, ততটুকু স্বাধীনতার ব্যবস্থাই তারা করে। মূলত পুঁজিবাদ কোনো পণ্য বানানোর পূর্বে তার ক্রেতা বানায়। তাদের প্রদত্ত স্বাধীনতা হলো মানুষের জৈবিক চাহিদা বা নফসের চাহিদা পূরণ করার স্বাধীনতা, সেই সাথে যতদিন কেউ পুঁজিবাদের সেবা করবে, ততদিন সে স্বাধীন। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো &#8216;American Dream&#8217;।</p>
<p>American Dream হলো একজন সঙ্গী, একটি কুকুর, দুইটি সন্তান, খাবার ভর্তি একটি ফ্রিজ, একটি ভালো গাড়ি। আর এটি কিন্তু বর্তমানে Dream of the World, যুব সমাজের স্বপ্ন! ইসলাম মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাকে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। কিন্তু একইসাথে ইসলাম মানুষকে শেখায় মানুষের জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী? মানুষের অস্তিত্বের উদ্দেশ্যকে, মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে শুধুমাত্র কয়েকটি বৈষয়িক বিষয়ের মধ্যে নামিয়ে আনা মানবতার প্রতি অপমান, কারণ মানুষ হলো খলিফাতুল্লাহ। এজন্য আমাদের জীবনে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। কাদেসিয়ার যুদ্ধের আগে পারস্যের সেনাপতি রুস্তমের সামনে রিবঈ (রা.) এর ভাষণ এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ। তিনি দৃপ্ত কন্ঠে বলেছিলেন, <strong>&#8220;আল্লাহ আমাদরকে পাঠিয়েছেন মানুষকে মানুষের গোলামী থেকে মুক্ত করে আল্লাহর গোলাম বানানোর জন্য, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে আখিরাতের বিশালতার দিকে ধাবিত করার জন্য। আমরা বিভিন্ন ধর্ম কর্তৃক সৃষ্ট মানুষের গোলামী থেকে মানুষকে মুক্ত করে ইসলামের আদালতের দিকে নিয়ে যেতে চাই।&#8221;</strong> অথচ আমরা গোলামী করি কোম্পানির! আমাদের জীবনের স্বপ্ন একটা কোম্পানির কর্পোরেট অফিসার হওয়া। আমরা আমাদের জীবনকে American Dream এর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি, অথচ আমাদের জন্য সমগ্র পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে, সমগ্র মহাকাশ, মহাজগৎ সৃষ্টি করা হয়েছে! আমরা যদি শুধুমাত্র আমাদের জীবনকে, জীবনের লক্ষ্যকে কয়েকটি বস্তুগত চাহিদার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখি, সেটি হবে আমাদের নিজেদের প্রতিই অপমান। কারণ, আমরা হিবাতুল্লাহ (আল্লাহর দেওয়া উপহার)। আমাদের ভেতরে আল্লাহর ফুঁকে দেওয়া রূহ রয়েছে। এজন্য আমাদের সর্বপ্রথম আমাদের মানবিক মর্যাদা বা খুদীকে আবিষ্কার করতে হবে।</p>
<p>লিবারেলিজমের দর্শনকে যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে, লিবারেলিজম নামে যা দেখানো হয়, তা Irony ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে ইউরোপের অনেক ভালো ভালো চিন্তাবিদও রয়েছেন, যাদেরকে ভালোভাবে পড়া উচিৎ। <strong>কেউ যদি পুঁজিবাদকে ভালোভাবে খণ্ডন করতে চায়, তাহলে তার জন্য মার্কস এর &#8220;Das Capital&#8221; পড়াই যথেষ্ট। কেউ যদি ড্যানিয়েল ডিফোর &#8220;রবিনসন ক্রুসো&#8221; কে খন্ডন করতে চায়, তাহলে তার উচিত Michel Tournier রচিত &#8216;Friday&#8217; নামক গ্রন্থটি পড়া। কেউ যদি লিবারেলিজমকে খণ্ডন করতে চায়, তাহলে তার জন্য বিখ্যাত জার্মান দার্শনিক কার্ল স্কিমিদ এর বইগুলো পড়াই যথেষ্ট।</strong> তার একটি বিখ্যাত বই হলো &#8220;Political Theology: Four New Chapters on the Concept of Sovereignty&#8221;। কার্ল স্কিমিদের মতে, <strong>&#8220;সত্যিকারের লিবারেলিজম আমাদের সামনে উপস্থাপিত লিবারেলিজমের সম্পূর্ণ বিপরীত।&#8221;</strong> এটিই মূলত লিবারেলিজমের সার-নির্যাস।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এবারের আলোচ্য বিষয় এ লিবারেলিস্টরা কেমন দুনিয়া চায় বা তাদের ওয়াদাকৃত জান্নাতের স্বরূপ কেমন। লিবারেলিস্টদের লক্ষ্য হলো World State বা বিশ্বরাষ্ট্র। তাদের মতে বিশ্বরাষ্ট্রই হলো ইতিহাসের সর্বশেষ পর্যায়, তারপর আর কিছু নেই। বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতেই হবে, আর এটি তারা প্রতিষ্ঠা করবে, যারা এ চিন্তাধারায় বিশ্বাসী, অর্থাৎ এরিস্ট্রোক্রেট, ডেমোক্রেটিক, ক্যাপিটালিস্ট চিন্তাধারায় বিশ্বাসীরা। অন্যদের দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এ বিশ্বরাষ্ট্র ব্যবস্থা কেমন হবে তা সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরেছেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক, ব্রিটেনের ইতিহাসে এংলো স্যাক্সন ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধিত্বকারী সবচেয়ে বড় দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব, এ কথা অনস্বীকার্য। বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়ার অনেক কিছুই তার &#8220;Principia Mathematica&#8221; এর উপর নির্ভরশীল। Logic and Linguistic এ তার ভূমিকা অনন্য, এক্ষেত্রে তার বিকল্প নেই। বার্ট্রান্ড রাসেলেরই স্বপ্ন ছিল বিশ্বরাষ্ট্র। লিবারেলিস্টদের ওয়াদাকৃত এ জান্নাতের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি তিনি। তার রচিত &#8220;Scientific Outlook&#8221; বইটি লিবারেলিস্টদের ওয়াদাকৃত জান্নাতের রূপরেখা।</p>
<p>তিনি বিশ্বরাষ্ট্রকে তুলে ধরছেন এভাবে, &#8220;লিবারেলিজমের উপর ভিত্তি করে যে আধুনিক সমাজ তৈরি হবে, সেটি হবে প্রোপাগান্ডার উপর ভিত্তি করে। আর এ প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে তারা মানুষকে বুঝাবে। এ পদ্ধতিতে তৈরিকৃত প্রোপাগান্ডাই হবে আধুনিক সমাজের মূলভিত্তি অর্থাৎ Advertisement&#8221;। রাসেলের এ কল্পিত দুনিয়ায় গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না, কারণ গণতন্ত্র থাকলে বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। Oligarchy এর উপর ভিত্তি করে বিশ্বরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে, আর এ Oligarchy ভূমির উপর ভিত্তিশীল হবে না, এটি হবে বিজ্ঞানীদের একটি সমাজ অর্থাৎ Scientific Oligarchy, যেখানে বিজ্ঞানীগণ হবেন মূল স্তম্ভ। তিনি তার বইয়ে বলছেন, উদাহরণ স্বরূপ রাশিয়ার কথাই ধরা যাক, আজকের গতিশীল ও মেধাবীরা একবার ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার পর প্রথম দিকে অধিকাংশ মানুষের বিরোধীতার সম্মুখীন হলেও তাঁরা তাঁদেরকে ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখতে সক্ষম হবে। দিন যত অতিবাহিত হবে ক্ষমতা ততই বংশগত অলিগার্কদের হাত থেকে বুদ্ধিজীবী অলিগার্কদের হাতে চলে যাবে। যে সকল দেশ দীর্ঘদিন যাবত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে সেই সকল দেশে এই অলিগার্কদের একচ্ছত্র আধিপত্য অগাস্টাসের রোমের মত ডেমোক্রেসির ছায়াতলে আশ্রয় নিতে পারবে। তবে অন্যান্য স্থানে এই অলিগার্কদের মুখোশ খুব দ্রুতই খসে পড়তে পারে। যদি নতুন ধরণের একটি সমাজকে তৈরি করতে হয় তাহলে সেখানে চিন্তাগত Oligarchy অবশ্যম্ভাবী। এখানে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, নতুন এক ধরণের অলিগার্ক গড়ে উঠবে আর এই অলিগারশিক গ্রুপ (মানুষের মধ্যে ছোট্ট একটি গোষ্ঠী) রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাকে ব্যবহার করবে এবং তাঁদের শাসন ব্যবস্থা যেন মানুষের সামনে গ্রহণযোগ্যতা পায় এই ভাবে তাঁরা মানুষকে কনভিন্স করার চেষ্টা করবে। আর এই ক্ষেত্রে প্রপাগাণ্ডা হবে তাঁদের মূল হাতিয়ার।</p>
<p>এরপর তিনি আরও বলেন, সে অলিগার্কদের মধ্যে মাঝেমধ্যে সমস্যা হলেও, দিনশেষে অলিগার্কদেরই একটি শ্রেণি সমগ্র পৃথিবীর ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে এবং একটি বিশ্বব্যপী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে; এক্ষেত্রে রাশিয়া একটি উদাহরণ। তাদের এ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বরাষ্ট্র খারাপও হতে পারে, আবার ভালোও হতে পারে। অর্থাৎ ছোট একটি গোষ্ঠী সমগ্র দুনিয়াকে শাসন করার জন্য একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে এবং এবং সমগ্র দুনিয়াকে তাঁরা সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে শাসন করবে! সমগ্র মানবতার ভবিষ্যতের জন্য লিবারেলিস্টদের এটাই হলো ওয়াদা! এমন একটি সমাজই সবচেয়ে অগ্রসর সমাজ বলে বিবেচিত হবে! রাসেলের ভাষায়, তাদের এ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বরাষ্ট্র খারাপও হতে পারে, আবার ভালোও হতে পারে। এই উভয় অবস্থায় একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আর সেটা হলো; যেকোনো অবস্থায় তাদের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে ধারণ করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভবপর হবে না। বৈজ্ঞানিক পন্থা সর্বদায় সংগঠন (Organization) চায়, আর বিজ্ঞান যত বেশী অগ্রসর হবে তাঁর কাঙ্ক্ষিত সংস্থাও ততবেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে! তাঁরা কেমন একটি সংগঠন (Organization) চাচ্ছে? এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ! কেননা যে ব্যক্তি এই কথা বলছেন তিনি মার্ক্সিস্ট কিংবা সোশ্যালিস্ট কোনো ব্যক্তি নন। এই ব্যক্তি একজন ব্রিটিশ লর্ড। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দার্শনিকদের একজন। এই ব্যক্তি এই সব কথা বলছে। এই ব্যক্তি মানবতার জন্য এমন একটি বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছেন।</p>
<p>তিনি আরও বলেন, এখানে যুদ্ধকে এক পাশে রেখে চিন্তা করলে আন্তর্জাতিক একটি ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স এবং ট্রেড সিস্টেমের দরকার, যার মাধ্যমে শুধু কিছু দেশ নয়, সকল দেশের উন্নতি এবং অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। এর মানে কী? International Organization of Credit and Banking এর মানে কী? এর অর্থ হলো সকল অর্থনৈতিক লেনদেন একটি কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হবে। কাকে কত ঋণ দেওয়া হবে, কোন খাতে দেওয়া হবে, কোন খাতে দেওয়া যাবে না, এই সকল বিষয়ই একটি মাত্র কেন্দ্র থেকে পরিচালিত হবে। রাসেলের মতে, এ ধরণের বিশ্বরাষ্ট্রের সুবিধাসমূহ হবে অনেক বেশি। প্রথমত যুদ্ধের কোনো ভয় থাকবে না। তবে অস্ত্র তৈরি করার জন্য যে প্রতিযোগিতা করা হচ্ছে নিঃসন্দেহে সেটা বৃথা যাবে না। বিশেষ করে যুদ্ধবিমান ও রাসায়নিক অস্ত্র থেকে উপকৃত হতে হবে যেন কেউ শক্তির সামনে দাঁড়াতে না পারে। কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা কখনো কখনো প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরিবর্তিত হলেও হতে পারে। কিন্তু এটি শুধুমাত্র ব্যক্তি পরিবর্তন করবে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। এটি তার স্বকীয়তা রক্ষা করার জন্য যে কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডা চালাতে পারবে। যদি এ রকম একটি বিশ্বরাষ্ট্রকে কোনো প্রজন্ম একবার ধরে রাখতে পারে, তাহলেই এটি স্থিতিশীল হবে। কীভাবে স্থিতিশীল হবে? এর জবাবে রাসেল বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক সুবিধা অর্জিত হবে। উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার কারণে অপচয় বলতে কোনো কিছু থাকবে না, পেশাগত জীবনে কোনো ধরণের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে না, দরিদ্রতা থাকবে না, খারাপ ও ভালো দিন চক্রাকারে আবর্তিত হবে না, যারা কাজ করবে তাঁরা আরাম আয়েশে জীবন যাপন করবে। আর যারা কাজ করতে অনাগ্রহ দেখাবে তাঁদের স্থান হবে জেলখানা। অর্থনীতিকে জনগণকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজে লাগানো হবে। (অর্থাৎ কতজন মানুষ জন্ম নিবে এটা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক সামর্থ্যের উপর)। হয়তোবা সকল মানুষকে শুধুমাত্র একটি স্থলভূমিতে রাখা হবে। মানুষের জীবনকে হুমকিতে ফেলে দিতে পারে এমন ধরনের সকল বিষয়কে উৎখাত করা হবে এবং অকাল মৃত্যুর হার কমে আসবে।</p>
<p>বার্ট্রান্ড রাসেল তাঁর এই চিত্রিত বিশ্বরাষ্ট্রকেই জান্নাত হিসেবে অভিহিত করেন! এমন একটি রাষ্ট্রই হলো লিবারেলিস্টদের ওয়াদাকৃত জান্নাত। আর তাঁদের এই জান্নাতে মানুষের অবস্থা কেমন হবে এটা রাসেলের মুখেই শুনা যাক, <strong>“আর এ ওয়াদাকৃত জান্নাতে মানুষ সুখী হবে কি হবে না সেটা আমি জানি না। বসবাস করার জন্য সকল কিছুকে অর্জন করার পর মানুষ সুখী হবে কি হবে না সেটার জন্য কি করা প্রয়োজন সেই শিক্ষা হয়তোবা জৈব রসায়ন (Biochemistry) দিবে।&#8221;</strong> এখানে রাসেল বায়োকেমেস্ট্রির কথা কেন আনলেন? এর অর্থ হলো মানুষকে সুখে রাখার জন্য ঔষধ তৈরি করা হবে। মনে করেন আজকে আপনার মন খারাপ, একটা ট্যাবলেট খেয়ে নিবেন যা আপনাকে খুশিতে রাখবে। এরপর সে প্রশান্তি অনুভব করবে। লিবারেলিস্টদের চিন্তাধারায় সুখ বলতে এতটুকুই। এখন কথা হলো নেশা করার সাথে সুখ পাওয়ার জন্য ঔষধ খাওয়ার মধ্যে পার্থক্য কি? মানুষকি তাঁর ব্যথা কিংবা দুঃখকে ভুলে থাকার জন্য নেশা করে না? একবার চিন্তা করুন মানুষকে জৈব রসায়ন (Biochemistry) এর মাধ্যমে সুখী করার চিন্তা কেমন একটি চিন্তাধারা!!</p>
<p>শুধু তাই নয় দেখুন লিবারেলিস্টরা তাঁদের জান্নাতে মানুষ সুখে রাখার জন্য কোন ধরণের প্রস্তাবনা পেশ করে। রাসেলের ভাষায়, কেউ কেউ মানসিক অশান্তির কারণে অরাজকতা সৃষ্টিকারী হতে পারে বলে তাঁদেরকে দমিয়ে রাখার জন্য বিপজ্জনক কিছু খেলাধুলার আবিষ্কার করা যেতে পারে। জুলুমকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে নিয়ে খেলাধুলাতে স্থানান্তর করা হবে। প্রস্তাবিত সমাধানের দিকে খেয়াল করুন। আর খেলাধুলার ক্ষেত্রে কী এখন এগুলোই হচ্ছে না? বর্তমানে ক্রীড়াজগতে আমরা তাকালে দেখতে পাই যে বিভিন্ন ধরনের খেলা রয়েছে এবং সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যদি খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে, মানুষের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে কমিয়ে আনা ও তাঁদেরকে নিয়ন্ত্রিত একটি স্রোতের দিকে ধাবিত করা। <strong>তিনি আরও বলেন, ফুটবলের পরিবর্তে আকাশ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা যেতে পারে। এক দিক থেকে দেখলে রাসেলের এই প্রস্তাবনা হলো, রোমানদের গ্লাডিয়েটরের আধুনিক রূপ! তদের প্রস্তাবিত জান্নাতে মানুষকে গ্লাডিয়েটর হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়</strong>। তাঁদের চিন্তার সীমানা এতটুকুই।</p>
<p>তিনি আরও বলেন, মৃত্যু যখন মানুষের হাতের মুঠোয় থাকবে, বিজয়ের নেশায় মৃত্যুর দিকেও ধাবিত হওয়া থেকে দ্বিধা করবে না। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে উপর থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষকে বিনোদন দেওয়া ছাড়া হয়তো অন্য কিছু হবে না, হয়তো এমন দিনও আসবে যখন তাঁকে বীরের মর্যাদা দেওয়া হবে। অর্থাৎ এমনভাবে প্রোপাগান্ডা চালানো হবে যে, অমুক ব্যক্তি এত হাজার ফিট উপর থেকে গড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। সে সকলের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে ইত্যাদি বলে মানুষের নিকটে এই ধরনের খেলাকে গ্রহণযোগ্য করা হবে। রাসেলের ভাষায়, এ ধরণের আরো অনেক পন্থা অবলম্বন করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সুনিয়ন্ত্রিত একটি শিক্ষাব্যবস্থা ও খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মধ্যকার অরাজকতার চিন্তা ও অন্যান্য অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।</p>
<p>আর মানুষের জীবন ধারাকেও একটি সানডে স্কুলের কোচিং সেন্টারের মত নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অবশ্যই সেখানে একটি বিশ্বজনীন ভাষা তৈরি করা হবে। আর এই বিশ্বজনীন ভাষাটি কেমন হবে? এই ক্ষেত্রে রাসেলের প্রস্তাবনা হলো, এই ভাষা হবে হয় এসপেরান্টো (Esperanto), আর না হয় পিডগিন ইংলিশ (Pidgin English)। আর অতীতের অনেক কিছুকেই এই ভাষায় অনুবাদ করা হবে না। কেননা ঐ সকল চিন্তা এই ভাষার মাধ্যমে মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে না। যারা ইতিহাস নিয়ে কাজ করবে তাঁরা ‘হ্যামলেট’ এবং ‘অথেলোর’ মত গ্রন্থসমূহকে ব্যাখ্যা করার জন্য সরকার থেকে অনুমতি নিতে পারবে তবে এগুলা জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। শিশুদেরকে রেড ইন্ডিয়ান ও অন্য কোনো জাতির ইতিহাস পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে না!</p>
<p>এটিই লিবারেলিজমের ওয়াদাকৃত জান্নাত। এখানে আমরা হয় তাদের ব্যবস্থার গোলাম হবো, অন্যথায় আমাদের জায়গা হবে কারাগারে। এ জান্নাতে মানুষের সুখ মূখ্য নয়, বরং তারা মানুষকে কল্পিত সুখে ডুবিয়ে রাখবে মাদক ও ভোগ-বিলাসের মাধ্যমে। আর তাদের ভাষা হিসেবে পিডগিন ইংরেজিকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো এ ভাষায় ব্যাকরণ মুখ্য নয়, শুধুমাত্র ভাব প্রকাশই মুখ্য। ভাষা হলো চিন্তা ও ধারণা প্রকাশের বড় একটি মাধ্যম। প্রতিটি ভাষাতেই মূল্যবোধের কথা উল্লেখিত আছে, স্রষ্টার কথা উল্লেখিত আছে। প্রতিটি ভাষাতেই ভালোর কথা বলা হয়েছে, খারাপের কথা বলা হয়েছে, জাতির বীরত্বের গৌরবের কথা বলা হয়েছে। আর এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে এমন দুনিয়ার জন্য তারা সবচেয়ে উপযুক্ত ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে পিডগিন ইংরেজিকে (Pidgin English)। আর পূর্বের বইগুলো এ পিডগিন ইংরেজিতে অনূদিত না হওয়ার কারণ হলো এর ফলে উদ্ভূত আবেগকে তারা অর্থনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে সমর্থ হবে না। সেই সাথে তারা সকলকে অতীত ভুলিয়ে দিয়ে অতীত ইতিহাসের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কবিহীন এক জাতিতে রূপান্তরিত করতে চায়। আর সত্যিকার ভালোবাসার ধারণা মুছে দিয়ে এর পরিবর্তে তাৎক্ষণিক বিনোদনের ব্যপারগুলোকে তুলে ধরতে চায়, যা তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সহায়ক। এখন যদি আমরা বর্তমান দুনিয়ার সাথে তাদের ওয়াদাকৃত জান্নাতকে মিলিয়ে দেখি, তবে কী দেখবো? আমেরিকার প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বী চীন, তাহলে আমেরিকা চীনের সাথে সংঘর্ষে না গিয়ে রাশিয়ার সাথে কেন সংঘর্ষে গেলো? কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বিশ্বরাষ্ট্র একটু হলেও ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্প চীনের দিকে নজর দিতে গিয়ে রাশিয়ার দিকে নজর দিতে পারেনি, যে কারণে ন্যাটো দুর্বল হয়ে গিয়েছে। যায়নবাদী সভ্যতা ন্যাটোর মাধ্যমেই ইউরোপে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করছে। আর তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য কিন্তু মানুষ মারা গেলেও তাদের কিছু যায়-আসে না, কিন্তু যেকোনো মূল্যে আধিপত্য বজায় রাখতে হবে, ন্যাটোর অবস্থান ঠিক রাখতে হবে। এটিই হচ্ছে মূল ব্যপার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ বিষয়গুলোকে আমাদের সামগ্রিকভাবে পড়তে ও উপলব্ধি করতে হবে। নিজে উপলব্ধি করে অপরকে উপলব্ধি করানো, মানুষের সামনে তুলে ধরা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। আমাদেরকে মুসলমানদের মধ্যকার সাহায্য ও সম্প্রীতির জাগরণ ঘটাতে হবে, ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের চিন্তার ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে সমগ্র পৃথিবীতে তা ছড়িয়ে দিতে হবে, সেই সাথে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ডি-৮ এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে এ উদ্যোগ আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলো, কিন্তু পরবর্তীতে আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। অথচ এই ডি-৮ ছিল একবিংশ শতাব্দীর যুবকদের জন্য সবচেয়ে বড় আশার বাতিঘর। ইউরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রায় পরিণত হয় ১৯৯৭ সালে, অন্যদিকে আমাদের অভিন্ন মুদ্রাব্যবস্থা ইসলামিক দিনারের ধারণা সৃষ্টি হয় ১৯৭৪ সালে। আমাদেরকে লিবারেলিস্টদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আমাদের নিজস্ব অর্থনেতিক ব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে এ মুহূর্তে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন সবচেয়ে বেশি জরুরী। আমাদেরকে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।</p>
<p>লিবারেলিস্টদের বৈজ্ঞানিক রূপরেখার জবাব আল্লামা ইকবাল ১৯৩২ সালেই দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে আমাদের বড় বড় আলেমগণ আমাদের সতর্ক করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তারা কাজ করেছেন। আলীয়া ইজ্জেতবেগভিচ এক অর্থে তাদের বিরুদ্ধে একটি জোরালো সতর্কবার্তা। কিন্তু আমরা এখনো নিজেদেরকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারি না, যার ফলে তাদের কৌশল গ্রাস করে নিচ্ছে আমাদের। যদি আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা না করি, তাহলে আমরা ধাপে ধাপে বিশ্বরাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ শিকারে পরিণত হবো। কিন্তু আমরা যদি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি, কাজ করি, তাহলে সফলতা অবশ্যই আসবে, এটি আল্লাহর ওয়াদা। এ লক্ষ্যে যদি আমরা ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারি, তবে তা বিশ্বের ১৯০ কোটি মুসলমানের আশার আলো হবেই। <strong>জুলুম কখনোই চিরস্থায়ী হয় না, আজ হোক বা কাল, জুলুমের পতন ঘটবেই। কিন্তু এ পতন কতটুকু ত্বরান্বিত হবে তা নির্ভর করে আমাদের চেষ্টা ও কাজের উপর।</strong> ফেরাউনী সাম্রাজ্যের যদি পতন হতে পারে, রোম সাম্রাজ্যের যদি পতন হতে পারে, সাসানীদের যদি পতন হতে পারে, এই যায়নবাদী সভ্যতারও পতন অবশ্যই হবে এবং তা হবে আমাদের হাত ধরেই, ইনশাআল্লাহ।</p>
<div id="gtx-trans" style="position: absolute; left: 370px; top: 3755.56px;">
<div class="gtx-trans-icon"></div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/liberalism-and-the-promised-paradise-of-liberals/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15761</post-id>	</item>
		<item>
		<title>প্রাচীন গ্রীসের অর্থনৈতিক চিন্তাধারা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/economic-thought-of-ancient-greece/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/economic-thought-of-ancient-greece/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 29 Sep 2024 14:24:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14904</guid>

					<description><![CDATA[প্রাচীন গ্রীসের অর্থনৈতিক চিন্তাধারা এর রাষ্ট্রব্যবস্থা; যাকে city state বলা হতো, তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও দার্শনিক জোসেফ শুম্পিটার এর মতে, প্রাচীন গ্রীসের চিন্তাধারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের বাস্তবিক বিষয়াবলীকে গুরুত্ব দিতো। এই চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিলো polis]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রাচীন গ্রীসের অর্থনৈতিক চিন্তাধারা এর রাষ্ট্রব্যবস্থা; যাকে city state বলা হতো, তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও দার্শনিক জোসেফ শুম্পিটার এর মতে, প্রাচীন গ্রীসের চিন্তাধারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের বাস্তবিক বিষয়াবলীকে গুরুত্ব দিতো। এই চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিলো polis এর উপর ভিত্তি করে। গ্রীক সভ্যতার মতাদর্শ অনুযায়ী, সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র এবং প্রতিফলিত রূপ হচ্ছে পলিস। সভ্যতা কেবল পলিসে’ই গড়ে তোলা সম্ভব।  polis একটি পরিভাষা। এর মাধ্যমে গ্রীসে city state, শহর এবং এই শহর ও city state এর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বোঝাতো।<strong> প্রাচীন গ্রীক সভ্যতায় অর্থনৈতিক বা অন্যান্য বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে। এর কারণ হলো</strong><strong>  polis </strong><strong>কে কেন্দ্রে রাখা। </strong><strong>অর্থনীতিকে তারা কম গুরুত্ব দেয়ার কারণ হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসমূহ বেশিরভাগ পরিচালনা করতো </strong><strong>slave (</strong><strong>দাস) এবং </strong><strong>patricians; </strong><strong>যাদের তারা নাগরিক হিসেবে গণ্য করতোনা। ফলে গ্রীক দার্শনিকদের চিন্তাধারায় অর্থনীতির সেরকম কোন থিওরি পাওয়া যায়না। যেগুলো পাওয়া যায় তা তাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের থিওরির মধ্যে থেকে।</strong><strong> </strong></p>
<p>প্লেটোর মতে রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ হলো দুটি:</p>
<p><strong>১. শাসক নির্বাচন করা</strong></p>
<p><strong>২. নির্বাচিতদের নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা।</strong></p>
<p>তবে তাদের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিলো city state বা ঘর পরিচালনা। এ বিষয়টি নিয়ে Xenophon সর্বপ্রথম তার রচিত গ্রন্থ Oikonomikos এ আলোচনা করেন। oikos বলতে বুঝায় ‘গৃহ বা ঘর’, nomos বলতে বুঝায় ‘আইন বা রীতি’। অর্থাৎ Oikonomikos বলতে বুঝায় গৃহ পরিচালনার রীতি।</p>
<p>প্রাচীন গ্রীসে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে তারা marketing approach নয়, বরং administrative approach এ চিন্তা করতো। মার্কেটিং অ্যাপ্রোচ হলো উৎপাদন ও কেনা-বেচার সাথে সংশ্লিষ্ট। তারা তাদের অর্থনৈতিক চিন্তাকে এই কেন্দ্রিক না করে গৃহস্থালির বা রাষ্ট্রের কর্মকান্ড কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তার ভিত্তিতে দাঁড় করিয়েছে।</p>
<p>প্রাচীন গ্রীসে ব্যবসা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন না হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিখ্যাত ঐতিহাসিক M. Finley বলেন, তারা ব্যবসায়িক পন্থায় সম্পদ উপার্জনকে খুব বেশি পছন্দ করতোনা। পাশাপাশি যেহেতু তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড দাস এবং প্যাট্রিসিয়ানদের হাতে ছিলো, যারা গ্রামে বাস করতো এবং নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতোনা, তাই এরিস্টোক্র‍্যাটদের এটা নিয়ে মাথাব্যাথা ছিলোনা। এর ফলে প্রাচীন গ্রীস এবং রোমান সভ্যতায় ব্যবসা ও প্রযুক্তির সেরকম কোন উন্নতি সাধিত হয়নি৷</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এরিস্টোক্র্যাটরা আইন ও রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতো। এর মাধ্যমে যেহেতু তারা অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করতো, এর দ্বারাই তারা সম্পদ উপার্জন করতো।</p>
<p>Xenophon (খ্রীস্টপূর্ব ৪৩০- ৩৫৪ খ্রী) তিনি মূলত এথেন্সের একজন ঐতিহাসিক। তিনি ভাড়াটে সৈন্য ছিলেন। টাকার বিনিময়ে যুদ্ধ করতেন। সক্রেটিসের যুগের ছিলেন বলে তিনি সক্রেটিসের ও ছাত্র ছিলেন। সক্রেটিসের  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনকেই মূলত লিখিতভাবে Oikonomikos/ ওইকনমিয়া গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এই গ্রন্থের মূল আলোচ্য বিষয় গৃহাস্থলির কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়। এই গ্রন্থটি যতটা না অর্থনীতির, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক দর্শনের গ্রন্থ। এখানে তিনি সম্পদ উৎপাদন ও বন্টন নীতি নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, যেহেতু সম্পদ সীমিত বা স্থিতিশীল; এর উৎপাদন ও বন্টনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে নেতারা। এখানে মূল ভিত্তি হলো man-power বা শ্রমশক্তি। বাড়ি, খামার বা ফার্ম যাই হোকনা কেন পরিচালকের পন্থার উপর বন্টননীতি নির্ভর করে। এক্ষেত্রে কর্মবন্টনের চেয়ে পেশাগত দক্ষতাকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। যার পেশাগত দক্ষতা যত বেশি সে উৎপাদনের ক্ষেত্রে তত বেশি ভূমিকা রাখে এবং ঐ উৎপাদনের বন্টন ব্যবস্থাও সুন্দর হয়। অর্থাৎ এখানে Xenophon কর্মবন্টনের চেয়ে administration/ প্রশাসনিকভাবে পরিচালনা ও পেশাগত দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।</p>
<p>Xenophon এর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে Cyropedia. তিনি যখন ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যান, তখন পারস্য সম্রাটের নেতৃত্ব ও যোগ্যতা নিয়ে এই বইটি লিখেন। এই বইয়ের কারণেই মূলত তাকে ঐতিহাসিক বলা হয়।</p>
<p>Oikonomikos এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় Subjective value theory. এবিষয়টি পরবর্তীতে এরিস্টটল বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>তার চিন্তার আরেকটি দিক হলো, উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দাস এবং প্যাট্রিসিয়ানদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। এজন্য আমাদের সিটি স্টেইটকে উন্নত এবং আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত করতে হবে। ফলত সারা দুনিয়া থেকে দাস এবং প্যাট্রিসিয়ানরা আমাদের এখানে কাজ করতে আসবে। আজকের পাশ্চাত্যকেও এ নীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্লেটোর চিন্তাধারা:</strong></h4>
<p>প্লেটোর (খ্রিষ্টপূর্ব ৪২৭- খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪৭) আরবী নাম আফলাতুন। তিনি মূলত সক্রেটিসের ছাত্র ছিলেন। আখলাক, দর্শন, মানতিক, রাজনৈতিক দর্শন, গণিত সব কিছু নিয়েই তিনি কাজ করেছেন৷ তবে সবচেয়ে বিখ্যাত হয়েছেন তার রিপাবলিক এর জন্য। রিপাবলিক এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় আইডিয়াল স্টেইট (আদর্শ রাষ্ট্র) এবং কর্মবণ্টন। এখানে তিনি সবচেয়ে বেশি আলাপ করেছেন আদালত নিয়ে৷ তিনি বলেছেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হলো ফযিলতপূর্ণ জীবন৷ তার মতে ফযিলতপূর্ণ সমাজ কেবল আদালতের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব৷</p>
<p><strong>রিপাবলিক এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা হলো ইউটোপিয়া। এখানে তিনি ইউটোপিয়া বলতে অলীক কল্পনাকে বুঝাননি। এখানে ইউটোপিয়া বলতে সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের যে চিন্তাভাবনা</strong><strong>, </strong><strong>তাকে বুঝিয়েছেন। প্লেটোর ইউটোপিয়া হচ্ছে</strong><strong>, </strong><strong>একটি আইডিয়াল স্টেইট প্রতিষ্ঠা করতে হবে</strong><strong>, </strong><strong>এবং এর জন্য যে আখলাকী আদর্শগুলো প্রয়োজন সেগুলোকে রাজনৈতিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। </strong></p>
<p>প্লেটোর মতে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব ৩ টি:</p>
<ul>
<li>১. মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ</li>
<li>২. রাষ্ট্রকে রক্ষা করা (defense system)</li>
<li>৩. প্রশাসন (administration)</li>
</ul>
<p>আদর্শ রাষ্ট্রের জনগণকে তিনি ৩ ভাগে ভাগ করেন:</p>
<ul>
<li>১. যারা রাষ্ট্রকে রক্ষা করে</li>
<li>২. সৈন্যবাহিনী</li>
<li>৩. সাধারণ জনগণ</li>
</ul>
<p>প্লেটোর এই বন্টন বর্ণপ্রথার ভিত্তিতে ছিলোনা, বরং পেশার ভিত্তিতে ছিলো। তার মতে, যদি কেউ জন্মগতভাবে দাস না হয়ে থাকে, তাহলে নিজ যোগ্যতায় সে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদেও অধিষ্ঠিত হতে পারে৷ অর্থাৎ তিনিও দাসপ্রথাকে সমর্থন করেছেন।</p>
<p>প্লেটোর মতে রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করবে, তারা প্রাইভেট সম্পদ বা সম্পদের ব্যক্তিমালিকানার অধিকারী হতে পারবেনা; তারা কোন ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করবেনা। তারা একটি ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ড এর জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রাষ্ট্র থেকে বেতন নিবে৷ খুব বেশি ধনী বা খুব বেশি দরিদ্র হওয়া মানুষের ফিতরাতের পরিপন্থী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>এরিস্টটলের চিন্তা</strong>:</h4>
<p>এরিস্টটল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা একজন চিন্তাবিদ। রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, আখলাক, ইতিহাস, মানতিক, মেটাফিজিক্স, রেটোরিক, পদার্থবিজ্ঞান, ফিলোসোফি অব সায়েন্স, ফিলোসোফি অব মাইন্ড, সাইকোলজি, ভূতত্ব; এককথায় জ্ঞানের প্রায় সব ক্ষেত্রেই তার নিজস্ব চিন্তা রয়েছে। মেটাফিজিক্স এর মতো বিষয়েও তার গ্রন্থ রয়েছে। নিকোমাখেন এথিক্স এ তিনি soul, virtues, partnership এবিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। পলিটিক্স এর ক্ষত্রে সংবিধান, বেইজ স্টেইট, বিপ্লব এসকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন৷ রেটোরিক এ আলোচনা করেছেন রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে। পোয়েট্রিক্স এ তিনি আলোচনা করেছেন ট্র‍্যাজেডি এবং এপি-পোয়েট্রি নিয়ে৷ জীবজন্তুর ইতিহাস, প্রজন্ম, গতিবিধি নিয়ে কাজ করেছেন। তার ছাত্র আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট তাকে এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য একটি আলাদা বন প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিলেন। লজিক বা যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে তিনি categories, interpretation, prior of analysis, posterior of analysis এসকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরিস্টটলের জ্ঞান চর্চার মেথড হচ্ছে এম্পিরিকাল বা গবেষণামূলক। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি প্রকৃতিকে এভাবে পরখ করে দেখেছেন।</p>
<p>পাশ্চাত্যের অধিকাংশ চিন্তাবিদই এরিস্টটলকে অর্থনৈতিক চিন্তার জনক মনে করে থাকেন। মূলত তার দুটি বইয়ে অর্থনৈতিক চিন্তা পাওয়া যায়। একটি হলো Politics (Politica), আরেকটি  Nicomachean ethics.</p>
<p>পলিটিক্সের প্রথম  এবং পঞ্চম অধ্যায়ে তিনি অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।</p>
<p>Nicomachean ethics এ মূলত আখলাকের আলোচনার মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ের আলোচনা এসেছে৷</p>
<blockquote><p>এরিস্টটল এবং প্লেটোর চিন্তার মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে এনালিটিক্যাল থিংকিং। এনালিটিক্যাল থিংকিং এ মূলত ডিডাকটিভ মেথড ব্যবহৃত হয়। এরিস্টটল তার প্রত্যেকটি গ্রন্থে মানতিককে ভালোভাবে ব্যবহার করেছেন এবং তার প্রত্যেকটি তত্ত্বকে তিনি কারণ এবং ফলাফল (cause and effect) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। জোসেফ শুম্পিটারের মতে, এনালিটিক্যাল হিস্ট্রি অব ইকোনমিকস এর দৃষ্টিকোণ থেকে এরিস্টটল গুরুত্বহীন একজন চিন্তাবিদ। এবং তার মতে, এরিস্টটল প্রাচীন গ্রীক রাষ্ট্রের সিটি স্টেইট এবং এর ব্যবস্থাপনার আখলাকী বিষয় নিয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। অর্থনৈতিক বিষয়গুলো এই প্রশাসনিক এবং আখলাকী চিন্তার একটা অংশ৷ অর্থাৎ, এরিস্টটলের চিন্তাধারা মৌলিকভাবে অর্থনৈতিক চিন্তাধারা নয়। বর্তমান ফিলোসফি অব সায়েন্সের অন্যতম দাবী হলো বিজ্ঞানকে অবশ্যই value free হতে হবে। এখানে কোন নরম্যাটিভ বিষয় আসবেনা। অর্থনীতি যেহেতু নিজেকে বিজ্ঞান বলে দাবী করে, তাই এখানেও আখলাক আলোচ্য বিষয় নয়। এজন্য ন্যায়-অন্যায় বা এধরণের কোন প্রশ্ন আসতে পারবেনা। অথচ সায়ন্স ও একটা আদর্শ অনুসরণ করে। সায়েন্সের আদর্শ হচ্ছে পজিটিভিজম।</p></blockquote>
<p>এরিস্টটলের মতে রাষ্ট্র হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন। তার মতে, “রাষ্ট্র হলো একটি আখলাকী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মানুষ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ ব্যাবস্থাপনা।” সময়গত দিক বিবেচনায় পরিবার ও সমাজ রাষ্ট্রের আগে আসলেও রাষ্ট্র হচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়। এরিস্টটলের মতে রাষ্ট্র হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক বিষয়। তিনি মনে করেন স্বভাবগতভাবেই মানুষ রাজনৈতিক সত্ত্বা। মানুষ তার মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্যই রাষ্ট্র গঠন করে থাকে। রাষ্ট্র বা সিটি স্টেইটকে এরিস্টটল পলিস বলে থাকেন। তার মতে ভালো এবং খারাপের সাথে সংশ্লিষ্ট আবেগ-অনুভূতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এরিস্টটলের মতে ভালো মানুষ তিনিই যিনি রাষ্ট্রের আইন এবং বিধানকে ভালোভাবে পালন করে থাকেন। আর ফযিলতপূর্ণ মানুষ তিনি, যিনি আদালত সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা রাখেন। আদালত হচ্ছে রাষ্ট্রের মেরুদন্ড।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এরিস্টটল মনে করেন সম্পদ দুইভাবে উপার্জন করা যায়:</strong></p>
<ul>
<li><strong>মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণের জন্য (যেগুলো পশুপালন এবং কৃষিকাজের সাথে সম্পৃক্ত)</strong></li>
<li><strong>অর্থ-সম্পদকে পুঞ্জিভুত করে রাখার জন্য সম্পদ উপার্জন (ব্যবসা ও প্রয়োজনহীন ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে)</strong></li>
</ul>
<p>প্রথমটিকে তিনি Oikonomikos  এবং দ্বিতীয়টিকে Chrematistics বলে অভিহিত করেন। দ্বিতীয়টিকে তিনি খারাপ কাজ হিসেবে দেখেন। বর্তমানে আমরা যে অর্থনীতি দেখি তাকে Chrematistics এর একটি প্রতিশব্দ বলা যায়। সতেরশো শতাব্দীর দিকে এটি political economy নামে পরিচিত ছিলো। ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে এই নামে পরিচিত হয়। অর্থাৎ আমরা বর্তমানে যাকে অর্থনীতি বলে থাকি, সেটি প্রাচীন গ্রীসের Chrematistics এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যা এরিস্টটলের মতে এক অর্থে অবৈধ বলা যায়।</p>
<p>ক্যাসেনোফন, প্লেটো সবার মতেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল নাগরিকদের একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী, ভালো জীবন দিতে হবে৷ আর এটা করা যায় একমাত্র শহরের মাধ্যমে। শহরে বসবাসকারী মানুষরাই একমাত্র ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে। যেহেতু ব্যবসার দ্বারা কোন উৎপাদন করা যায়না, এজন্য এরিস্টটল এর পক্ষে নন। এছাড়াও তার মতে, যেহেতু ব্যবসার মাধ্যমে সীমাহীন সম্পদ উপার্জন করা যায়, তাই এটি অবৈধ।</p>
<p>Value Theory:</p>
<p>এরিস্টটলের মতে, যেসব সম্পদকে ব্যক্তি কর্তৃক উপার্জন করা সম্ভব, এর প্রত্যেকটির সাথে দুটি মূল্য সংশ্লিষ্ট আছে:</p>
<ul>
<li>১. ব্যবহারিক মূল্য</li>
<li>২. বিক্রয় মূল্য</li>
</ul>
<p>ব্যবহারিক মূল্য হলো, জিনিসটি ব্যবহার করে মানুষের কতটুকু প্রয়োজন পূরণ হচ্ছে তার পরিমাপ। আর বিক্রয়মূল্য হচ্ছে ক্রেতা কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য। এটি ব্যবহারের উপযোগিতার উপর নির্ভর করেনা। যেমন, পানির অপর নাম জীবন হওয়া সত্বেও পানি অত্যন্ত সস্তা। কিন্তু ডায়মন্ডের সেরকম কোন প্রয়োজনীয়তা না থাকা সত্ত্বেও এটা এত মূল্যবান। এই মূল্য ক্রেতা কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য।</p>
<p>এরিস্টটল তার Nicomachean ethics এ এবিষয়ে আলোচনা করেছেন। তার মতে, কোন দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য থাকতে হবে। কোন সম্পদ দুষ্প্রাপ্য হলেই বা ক্রেতা কর্তৃক মূল্য বেশি দিতে চাইলেই তার মূল্য বাড়ানো যাবেনা। একটা ভারসাম্য রাখতে হবে। এরিস্টটল এখানে ভ্যালু থিওরি নিয়ে আলোচনা করেননি।</p>
<p>তার আলোচনার আরেকটি বিষয় ছিলো সম্পদের মালিকানা বা মুলকিয়াত। এক্ষেত্রে তিনি ব্যক্তি মালিকানাকে স্বীকার করেছেন। অর্থাৎ মানুষকে সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে মালিকানার অধিকার দিতে হবে। এটা সমষ্টিগত নয়, ব্যক্তিগত হতে হবে। যদি কোন সম্পদের সমষ্টিগত মালিকানা থাকে, তা একইসাথে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং উৎপাদনকে ব্যহত করে। এর একটা কারণ হলো নাগরিকদের ভালো বা সুন্দর জীবনযাপন ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদের উপর নির্ভর করে। কারণ ব্যক্তিমালিকানার অধীনে সম্পদ না থাকলে সে তার মৌলিক অধিকার পূরণে প্রয়োজনমতো তা ব্যবহার করতে পারবেনা।</p>
<p>ফলশ্রুতিতে সমাজের মানুষ সুখী হতে পারবেনা। ক্যাসেনোফন, প্লেটো সবার মতেই, মানুষের জন্য সুখী-সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করা জরুরি। এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দাস-দাসীরাও কি এই ব্যক্তি মালিকানার অন্তর্ভুক্ত হবে কিনা? এরিস্টটলের মতামত হলো, মানুষ দুই ধরণের; স্বাধীন মানুষ এবং গোলাম। যারা স্বাধীন হয়ে জন্ম গ্রহণ করে তারা মূলত নেতৃত্ব দেয়ার জন্য বা সমাজ পরিচালনার জন্য জন্ম গ্রহণ করে। আর দাস-দাসীদের জন্ম হয় স্বাধীন মানুষদের সেবা করার জন্য। ফলে এরিস্টটলের মতানুযায়ী, এই দাস-দাসীরাও মানুষের ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পদে রূপান্তরিত হয়। এরিস্টটল মূলত তিনি যে সমাজে বসবাস করতেন, সে সমাজের ব্যবস্থাপনাকে বৈধতা দেয়ার জন্য আদর্শিক একটা দৃষ্টিকোণ থেকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এর কোন প্রায়োগিক বা মানতিকী ব্যাখ্যা নেই। তার কোন এনালিটিক্যাল থিওরিই এটিকে সিদ্ধ করেনা। এটি পুরোপুরিই তৎকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং পরিবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট।</p>
<p>এরিস্টটলের মতে, টাকার কোন নমিনাল ভ্যাল্যু নেই। এর মূল্য রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত। টাকা হচ্ছে শুধুমাত্র মুবাদালা করার মাধ্যম। সে নিজে কোন ভ্যালু বহন করেনা। সুদ হচ্ছে টাকা থেকে টাকা উপার্জন করা। যেহেতু এখানে কোন উৎপাদন হচ্ছেনা, তাই তার মতে অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে ঘৃণিত মাধ্যম হচ্ছে সুদ। এমনকি এটি প্রকৃতিবিরুদ্ধ একটি কাজ। এটি সমাজের ভারসাম্যকে নষ্ট করে। অর্থাৎ আদালতের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি এটাকে অবৈধ মনে করেছেন।</p>
<p>প্রাচীন গ্রীসের অর্থনীতিকে আমরা মোটের উপর এই তিনজন ব্যক্তির চিন্তা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>সংকলকঃ</strong> নাজিয়া তাসনিম।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/economic-thought-of-ancient-greece/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14904</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মুসলিম সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-transformation-of-social-values-in-muslim-society/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-transformation-of-social-values-in-muslim-society/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 16 Sep 2024 07:01:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14824</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামের মহানবী শতধা-বিচ্ছিন্ন আরব সমাজে শান্তির বাণী নিয়ে আবির্ভূত হন। তাঁর বাণী প্রধানত ছিলো ধর্মীয়; সাত শতকের আরব সমাজে প্রচলিত চরম জগত-সর্বস্ব দৃষ্টিভংগির পটভূমিতেই তাকে পর্যালোচনা করতে হবে। এ সমাজে আরবদের জীবনে যা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দেয়, তা হলো]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামের মহানবী শতধা-বিচ্ছিন্ন আরব সমাজে শান্তির বাণী নিয়ে আবির্ভূত হন। তাঁর বাণী প্রধানত ছিলো ধর্মীয়; সাত শতকের আরব সমাজে প্রচলিত চরম জগত-সর্বস্ব দৃষ্টিভংগির পটভূমিতেই তাকে পর্যালোচনা করতে হবে। এ সমাজে আরবদের জীবনে যা একান্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দেখা দেয়, তা হলো এই হীন জড়বাদকে সক্রিয়ভাবে বাধা দান করে তাদের জীবনে একটা আধ্যাত্ববাদী দৃষ্টিভংগির সৃষ্টি করা। জগত-সর্বস্ব ও ঐশী তথা জড় ও আধ্যাত্ববাদী দৃষ্টিভংগির মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর নবুওয়তের অভীষ্ট লক্ষ্য। <em>এই</em> <em>পটভূমিকে</em> <em>সামনে</em> <em>রেখে</em> <em>চিন্তা</em> <em>করলেই</em> <em>চরম</em> <em>জগত</em> <em>সর্বস্বতার</em> <em>বিরুদ্ধে</em> <em>আল</em><em>&#8211;</em><em>কুরআনের</em> <em>অভিমতের</em> <em>সত্যকার</em> <em>মর্ম</em> <em>উপলব্ধি</em> <em>করা</em> <em>যেতে</em> <em>পারে</em><em>।</em> হতাশাবাদীদের ন্যায় সংসারের চরম অনিত্যতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে জাগতিক জীবনকে অপরিহার্য আপদ (Necessary evil) মনে করে একে ব্যাখ্যা করা চলে না।</p>
<p>যা হোক, এ সময়ে সমাজের অধিকতর বাস্তবমনা ব্যক্তিগণ ধর্মীয় ভিত্তির পরিবর্তে সুবিধা-অসুবিধার পরিপ্রেক্ষিতেই জীবনের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা ভোগ করে। খুলাফায়ে রাশেদার পরবর্তী ইসলামের রাজনৈতিক ইতিহাস, মুসলিম সমাজের ধর্মনেতার কাঠামো এবং মুসলিম জাতির অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতি ক্ষেত্রেই একথা সমভাবেই সত্য। ইসলামী চিন্তাবিদরা সকলেই এ বিষয়ে একমত এবং জোরের সাথেই ঘোষণা করেন যে, ইসলামের প্রারম্ভিক নীতি অনুসরণের মাধ্যমে এর কিছুই সংঘটিত হয়নি। তবে এ কথার দ্বারা, যে সব নিষ্ঠাবান মুসলিম তাদের জাগতিক জীবনের সমস্যাবলী সমাধানের জন্য ইসলামের আদর্শ অনুসরণ ও প্রয়োগে সচেষ্ট ছিলেন, তাদের সৎ প্রচেষ্টাকে কোন দিক দিয়ে খাটো করা হয় না, বরং বলতে হয় যে, সম্ভবত সময়, পরিস্থিতি, পরিবেশ, আঞ্চলিক কারণাদি এবং ব্যক্তিগত অনুরাগ-বিরাগই নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বের এই হের-ফের তথা নীতি পরিবর্তনের নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। ফলে, ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে ইসলামের নীতিসমূহকে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা চলতে থাকে। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাস এই যে, বিশ্বে প্রায় সর্বত্রই মুসলিম সমাজে আজ বিরাজমান রয়েছে রাজতন্ত্র (মালিক, আমীর ও সুলতান), ঘৃণাজনক সামাজিক ভেদাভেদ (আরব ও অনারব এবং আশরাফ ও আতরাফের মধ্যে) এবং অবমানিতা নারীত্বের (অবরোধ ও বহুবিবাহের কবলিত হয়ে) প্রকট প্রাচুর্য। আমাদের পণ্ডিতগণকে মুসলিম সমাজের এ পরিবর্তন সকল দিক দিয়ে পর্যালোচনা করে দেখতে হবে এবং বিভিন্নমুখী সামাজিক সমস্যাবলীর সমাধান নির্ণয় করতে হবে। এ প্রবন্ধে আমি মুসলিম সমাজের গোড়ার দিকে অর্থনৈতিক জীবনে যে পরিবর্তন দেখা দেয়, তারই পর্যালোচনা করার প্রয়াস পেয়েছি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সর্বশক্তিমান স্রষ্টা এবং বিশ্ব-ভ্রাতৃত্বের ধারণার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা নব-দীক্ষিত মুসলিম সমাজ তাদের বৈষয়িক জীবনে দুটি বিপ্লবী ধারণার দ্বারা পরিচালিত হয়- তার একটি যাকাত (যা সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে) ও অন্যটি রীবা (যা সম্পদকে দূষিত করে)। যাকাত পরিগণিত হতো সমাজের সাধারণ কল্যাণে ব্যক্তির বৈষয়িক ত্যাগ হিসেবে। পক্ষান্তরে, রীবাকে মনে করা হতো মানুষের দূরাবস্থার পরিপূর্ণ সুযোগ নিয়ে সঞ্চিত অর্থের সাহায্যে মুনাফা লুঠবার মানসিকতার অভিব্যক্তি এবং তাই সমাজ-বিরোধী বলে তা ছিল নিষিদ্ধ। প্রথম দিকে যাকাত ছিল রাষ্ট্রীয় রাজস্বের প্রধান উৎস এবং তা ব্যয়িত হতো অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের অভাব মোচনের জন্যে। এ বাধ্যতামূলক দান কখন কিভাবে প্রবর্তিত হলো, তার হার এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিষয়াদির গুরুত্ব প্রাথমিক নয়। এ ব্যবস্থার নীতি হচ্ছে এই যে, সমাজের সম্পদশালী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিবর্গ সবাই মিলে অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ-সুবিধার অধিকারী ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্যে দায়ী থাকবে। <strong>যাকাত</strong> <strong>খামখেয়ালীভাবে</strong> <strong>প্রদত্ত</strong> <strong>দান</strong> <strong>নয়</strong><strong>, </strong><strong>সমাজ</strong> <strong>জীবনে</strong> <strong>ভারসাম্য</strong> <strong>বিধানের</strong> <strong>একটি</strong> <strong>পরিকল্পনা</strong><strong>।</strong> ইসলামী অর্থনৈতিক উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায় রূপ লাভ করে হযরত উমর আল-ফারুকের জামানায়। এ সময়ে রাজস্বের নয়া খাত সৃষ্টি হতে থাকে। রাষ্ট্রীয় তহবিলে ধনী মুসলিমদের দান যাকাত ছাড়াও খুমুস্ (যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ) এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিকট থেকে খারাজ ও জিজিয়া এ সময়ে রাজস্বের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, রাষ্ট্রের আয় আশাতীত পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।</p>
<p><em>মুসলিম</em> <em>রাজধানীগুলোতে</em> <em>কারাভার</em> <em>পর</em> <em>কারাভাঁ</em> <em>বোঝাই</em> <em>যুদ্ধ</em><em>&#8211;</em><em>লব্ধ</em> <em>সম্পদ</em> <em>এসে</em> <em>জমা</em> <em>হতে</em> <em>থাকে</em><em>।</em> <em>রাসূলে</em> <em>করীম</em><em> (</em><em>সা</em><em>)-</em><em>এর</em> <em>প্রাথমিক</em> <em>যুগের</em> <em>সাহাবা</em> <em>এবং</em> <em>ইসলাম</em> <em>সম্পর্কে</em> <em>তাঁরই</em> <em>নিকট</em> <em>থেকে</em> <em>সরাসরি</em> <em>শিক্ষা</em> <em>গ্রহণের</em> <em>সৌভাগ্যে</em> <em>ভাগ্যবান</em> <em>হযরত</em> <em>উমর</em><em> (</em><em>রা</em><em>) </em><em>কল্যাণমূলক</em> <em>রাষ্ট্র</em> <em>কায়েমের</em> <em>এক</em> <em>পরীক্ষা</em> <em>শুরু</em> <em>করেন</em><em>।</em> তাঁর অর্থনৈতিক মৌল-ভিত্তি এই ছিলো যে, খলীফার হেফাযতে যে বায়তুল মাল বা রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠিত হবে, রাষ্ট্রের ধনী-গরীব, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা প্রত্যেকটি নাগরিকেরই তাতে হিসসা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় আয় নাগরিকদের মধ্যে নিয়মিত বন্টনের ব্যাপারে এটা সারা দুনিয়ায় অন্যতম পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা। আরবেরা যতদিন একটি মুজাহিদ জাতি ছিল, যতদিন বিজিত জাতিগুলোর জনসাধারণকে আপন আপন শান্তিপূর্ণ জীবনোপায় অবলম্বনের অধিকার দেওয়া হয় এবং যতদিন বিজাতীয়গণ কর্তৃক ব্যাপক হারে ইসলাম গ্রহণ মুসলিম রাষ্ট্রের পক্ষে একটি সমস্যা হয়ে না দাঁড়ায়, ততদিন উমরের এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ ছিল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ সময়ে আমরা ইসলামী অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতির দুটি পর্যায়ের সাক্ষাত পাই। একটি রাসূলে আকরাম (সা)-এর প্রত্যক্ষ পরিচালনাধীনে, অপরটি হযরত উমর ফারুকের খিলাফতে। এ দুটি পর্যায়ে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদেরকে ইসলামী অর্থনীতির আওতা ও পরিধি সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে। রাসূলে করীম (সা)-এর আমলে অপেক্ষাকৃত ধনী মুসলিমেরা সমাজের সাধারণ কল্যাণে স্বেচ্ছায় তাদের সম্পদ দান করতেন ও যাকাত প্রদান করা ছিল নিম্নতম সামাজিক বাধ্যবাধকতা; কিন্তু তাঁদের অনেকেই সোৎসাহে আরও অধিক দান করতেন। হযরত আবূ বকর, হযরত উসমান এবং প্রখ্যাত আনসার সাহাবীরা তাঁদের সাধ্যমত সবকিছুই সমাজের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য উৎসর্গ করেন। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল বলে কিছুই ছিল না, প্রত্যেকেই অন্য সবার জন্যে তথা সমাজের জন্যে সমভাবে অনুভব করতেন। তবে, আইনে ব্যক্তিগত সম্পত্তির সপক্ষে কঠোর বিধি-ব্যবস্থা প্রবর্তিত ছিল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত উমর ফারুক (রা)-এর সময়ে এ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র আরো প্রসারিত হয় এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত রাজস্বে রাষ্ট্রীয় তহবিল ফেঁপে ওঠে। ফলে, আরবীয় ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব প্রাচুর্য দেখা দেয়। উমর নিয়মিত আয়-ব্যয়ের একটি বিধি-ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ সাধনের মূলনীতি অব্যাহত রেখে মহানবীর সাথে কার কি সম্পর্ক, কে কত আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় কার অবদান কি, তারই ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থে প্রত্যেকের হিসসা নির্ণীত হতো। অবস্থাপন্ন মুসলিমেরা আগের মতই রাষ্ট্রীয় তহবিলে তাদের যাকাত দিতে থাকেন। এই ইসলামী রাষ্ট্রে কোন নাগরিক রাষ্ট্রীয় তহবিলে কোনরূপ রাজস্ব হিসেবে কোন অর্থ প্রদান করুক বা না-ই করুক, যেহেতু কর কেবল ধনীদেরই দেয়, প্রত্যেক নাগরিকই রাষ্ট্রীয় তহবিল হতে আনুপাতিক হারে একটা নির্দিষ্ট হিসসা লাভ করতো। <em>বায়তুল</em> <em>মাল</em> <em>ছিল</em> <em>মুসলিম</em> <em>সমাজের</em> <em>যৌথ</em> <em>সম্পত্তি</em> <em>এবং</em> <em>তাদেরই</em> <em>তরফ</em> <em>থেকে</em> <em>খলীফা</em> <em>শুধু</em> <em>একজন</em> <em>ভাতাভোগী</em> <em>হিসেবে</em> <em>সে</em> <em>তহবিলের</em> <em>হেফাযত</em> <em>করতেন</em><em>।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মুসলিমদের অর্থনৈতিক ক্রমোন্নতির পরবর্তী ধারা প্রাথমিক যুগের ঐতিহ্য বর্জন করে বিভিন্নতর খাতে প্রবাহিত হয়। রাজতন্ত্র ও শাহানশাহীই প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়ায় এবং কল্যাণধর্মী রাষ্ট্রের ধারণায় পরিপূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। উমাইয়া এবং পরবর্তীকালে আব্বাসীয় শাসনকর্তাগণের শাসন ছিল বংশগত রাজতন্ত্র; তাঁদের সকলেই কাজ করেছেন নিজের অথবা নিজ বংশের কল্যাণে। শাহানশাহীর উৎকর্ষের সাথে সাথে তাকে কেন্দ্র করে একটি ভূম্যাধিকারী অভিজাত শ্রেণী গড়ে উঠে। এমনকি, গোড়ার দিকে হযরত উসমানের খিলাফতের সময়ে &#8216;আরবরা আরবের বাইরে ভূসম্পত্তির অধিকারী হতে পারবে না&#8217; &#8211; হযরত উমরের এ নির্দেশ লংঘন করে মক্কা ও মদীনার একটি বিরাট অভিজাত গোষ্ঠী কৃষ্ণা ও বসরাতে ভূসম্পত্তির অধিকারী হয়ে বসতি স্থাপন করে। খলীফা তাদের আল-হিজাজের সম্পত্তি বর্জনের শর্তে এসব অঞ্চলে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন। এখান থেকেই নব-দীক্ষিত অন-আরব মুসলিম (মাওয়ালী) সমাজের সাথে স্বার্থ-সংঘর্ষে লিপ্ত ভূম্যাধিকারী আরব অভিজাত শ্রেণীর বিকাশ শুরু হয়; কেননা, হযরত উমর প্রবর্তিত আইন অনুসারে এসব ভূসম্পত্তির জন্যে রাষ্ট্রীয় তহবিলের কোনরূপ কর দিতে তাঁরা বাধ্য ছিলেন না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পক্ষান্তরে, তাদের শান-শওকতময় প্রাসাদরাজি, অগণিত ক্রীতদাসের ভীড়, ঘোড়া, উট, গরু ও দুম্বা-মেষের বহর, বিলাস-বসনের প্রাচুর্য এবং সমাজ-জীবনে নৈতিকতাবিরোধী ক্রিয়া-কলাপের বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তার দরুন মহানবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবাদের অনেকে দারুণভাবে মর্মাহত হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে হযরত আবূ যর গাফফারীর কাহিনী একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মাসুদীর বর্ণনা অনুযায়ী, সেনাপতি জুবায়েরের এক হাজার দাস-দাসী এবং এক হাজার ঘোড়া ছিল। সবগুলো প্রধান প্রধান শহরেই তার প্রাসাদ ছিল। তার ইরাকস্থ ভূ-সম্পত্তিরই দৈনিক আয় ছিল এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা। আবদুর রহমান এক হাজার উট ও দশ হাজার ভেড়ার মালিক ছিলেন এবং মৃত্যুকালে চার লক্ষ দীনার মূল্যের সম্পত্তি রেখে যান। যায়েদ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্য এবং দশ হাজার দীনার মূল্যের সম্পত্তি রেখে ইন্তিকাল করেন। কুরাইশ বংশীয় অভিজাতেরা মক্কা ও মদীনায় বিরাট বিরাট প্রাসাদ নির্মাণ করেন। <em>সুতরাং</em> <em>হযরত</em> <em>উসমান</em><em> (</em><em>রা</em><em>)-</em><em>এর</em> <em>খিলাফত</em> <em>আমলেই</em> <em>মুসলিম</em> <em>সমাজে</em> <em>পুঁজিবাদী</em> <em>কাঠামো</em> <em>কায়েম</em> <em>হতে</em> <em>আরম্ভ</em> <em>করে</em> <em>এবং</em> <em>জীবনের</em> <em>এই</em> <em>সর্বমুখী</em> <em>জড়বাদী</em> <em>দৃষ্টিভংগির</em> <em>বিরুদ্ধে</em> <em>তীব্র</em> <em>প্রতিবাদ</em> <em>তোলেন</em> <em>হযরত</em> <em>আবু</em> <em>যর</em> <em>গাফফারী</em><em>।</em> <em>আবু</em> <em>যর</em> <em>গাফফারী</em> <em>ইসলামের</em> <em>আদর্শবিরোধী</em> <em>বিলাসবহুল</em> <em>জীবন</em> <em>যাপনের</em> <em>অভ্যাসের</em> <em>তীব্র</em> <em>ভাষায়</em> <em>নিন্দা</em> <em>করেন</em><em>।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সিরিয়া সফরকালে তিনি আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত ব্যাখ্যা করেন-</p>
<blockquote><p>يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَرْتُمْ لأَنْفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنْتُمْ تَكْنِزُونَ</p>
<p>&#8220;তোমাদের এই স্বর্ণ, রৌপ্য একদিন দোযখের আগুনে তপ্ত-লাল করে তোমাদের ললাট, পৃষ্ঠ ও পার্শ্বদেশে তা দিয়ে ছাপ মারা হবে। অতএব হে অপব্যয়ীরা, তোমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংস্থান রেখে অবশিষ্ট অর্থ দান-খয়রাতে (সদকা) ব্যয় করো, অন্যথায় তোমাদের ভাগ্য সেদিন দুঃখ ভারাক্রান্ত হবে।&#8221; (৯:৩৫)</p></blockquote>
<p>তাঁর এ ঘোষণা শুনে গরীব জনসাধারণ এবং এতে যাদের ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা ছিল না, তারা তাঁকে কেন্দ্র করে ধনীদের সম্পদের হিস্সা পাবার স্বপ্ন দেখতে লাগল। হযরত আবু যর (রা) দামেশকে উপস্থিত হয়ে সুলতান মুয়াবিয়ার সাথে আলোচনায় প্রবৃত্ত হন এবং নিম্নলিখিতভাবে যুক্তি পেশ করেন-</p>
<p>&#8220;আপনারা বলছেন যে, সম্পদের মালিক রাব্বুল আলামীন এবং একথা বলেও আপনারা জনসাধারণকে সে সম্পদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। কেননা, আল্লাহ সকল সম্পদ তাঁর বান্দাদের ভোগের জন্যই তো দান করেছেন।” জওয়াবে মুয়াবিয়া বলেন, &#8220;আমরা সকলেই কি আল্লাহর বান্দা, সম্পদ তো সকলের কাছেই রয়েছে; সুতরাং তা আমার দৃষ্টিতে অতিশয়, কাজেই আপনি চলে যেতে পারেন।&#8221;</p>
<p>মদীনায় প্রত্যাবর্তন করে তিনি নির্ভীক কণ্ঠে ধনীদের বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান চালাতে লাগলেন এবং খলীফা উসমান (রা)-এর নিকট দাবী জানালেন তাদেরকে সম্পদ বন্টনে বাধ্য করতে। উসমান (রা) তাঁকে জানালেন যে, এসব লোকেরা যখন যাকাত দেয়, তখন তাদেরকে আর কোন ত্যাগ স্বীকারে তিনি বাধ্য করতে পারেন না। তাঁর প্রচারে দেশব্যাপী বিশৃংখলা ও অরাজকতা দেখা দেবার আশংকায় উসমান (রা) তাঁকে আল-রাবাদার নির্জন মরু এলাকায় নির্বাসিত করেন এবং সেখানেই এ ঘটনার দু&#8217; বছর পরে চরম অভাব-অনটন ও দারিদ্রের মাঝে তিনি ইন্তিকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথেই মুসলিম সমাজে পুঁজিবাদী কাঠামো কায়েমের বিরুদ্ধে যে সক্রিয় রক্ষণশীল বাঁধার প্রাচীর ছিল, তারও অবলুপ্তি ঘটল।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>উমাইয়া যুগে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ধারণাই পাল্টে গেল। খিলাফত পরিণত হলো মুল্ক তথা রাজ্যে এবং মুসলিম সমাজের সাধারণ তহবিল বায়তুল মাল পর্যবসিত হলো শাসক সুলতানের ব্যক্তিগত তহবিলে। আরব ও অন-আরবদের মধ্যে সামাজিক ভেদ-বৈষম্য প্রকট হয়ে উঠল এবং মাওয়ালী অর্থাৎ অন-আরব মুসলিমেরা আরব ভূম্যাধিকারীদের মতই করভারের দায় থেকে রেহাই চাইল। কোন আরব আরবের বাইরে ভূ-সম্পত্তির অধিকারী হতে পারবে না- এ মর্মে হযরত উমর-প্রবর্তিত যে আইন ছিল, ক্রমশই তা উপেক্ষিত হতে লাগলো; পক্ষান্তরে ভূ-সম্পত্তির অধিকারী আরব অভিজাতেরা ভূ-সম্পত্তি বাবদ কর দানের দায়মুক্ত থাকায় রাষ্ট্র ন্যায়সংগত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে লাগলো। এমতাবস্থায় মাওয়ালীদেরকেও এ দায় থেকে রেহাই দিলে রাজস্বের পরিমাণ আরো হ্রাস পেতো এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামোই ভেঙ্গে পড়তো। আবদুল মালিক ও হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ সকল নবদীক্ষিত মুসলিমদেরকেই তারা আগে যেরূপ ভূমি-রাজস্ব দিয়ে আসছিল, তা নিয়মিত প্রদান করতে বাধ্য করলো। এ কর আদায়ের ব্যাপরটি মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন: ইসলাম কি তাদেরকে আরবদের সমান অধিকার দান করে নি? ভূমি-রাজস্বের সমস্যাটির একদিন সমাধান হয়ে যেতো, যেমনটি হয়েছিল বহুদিন পর এই নীতি অনুসরণ করে যে, ভূম্যাধিকারী হলেই আরব-অনআরব নির্বিশেষে প্রত্যেককেই কর দিতে হবে; কিন্তু পরিস্থিতিকে যা অধিকতর খারাপের দিকে নিয়ে যায়, তা হলো ভেদ-বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অন-আরবদের মনের ধূমায়িত বিক্ষোভ। এমনকি, যুদ্ধ-ক্ষেত্রেও তাদেরকে অশ্বারোহণ করতে দেয়া হতো না- তাদেরকে যুদ্ধ করতে হতো পদাতিক সৈনিক হিসেবে। তারা বেতন পেতো, কিন্তু কোনরূপ নিয়মিত ভাতা পেতো না। একজন আরব যদিও ইচ্ছা করলেই কোন অন-আরব মেয়েকে বিয়ে করতে পারতো, কোন অন-আরবের পক্ষে কোন আরব মেয়েকে বিয়ে করার কথা চিন্তা করাও সংশ্লিষ্ট আরব-পরিবারকে অপমান করার শামিল বলে বিবেচিত হতো। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের এই ভেদ-বৈষম্য থেকে যে ব্যাপক আন্দোলন জন্ম নেয়, ক্রমে ক্রমে তা বৈপ্লবিক রূপ পরিগ্রহ করে এবং তার প্রবল স্রোতে আরব-আভিজাত্যের কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ভেসে যায়।</p>
<p>আব্বাসীয় যুগে এই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত শ্রেণীই রাষ্ট্রীয় শাসন-যন্ত্রের নিয়ন্তা হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামো পূর্বের মতোই পুঁজিবাদী প্রকৃতির রয়ে যায়। আব্বাসীয় যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়। পূর্ববর্তী সময়ের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এ সময়ে শান্তিকালীন অর্থনীতির রূপ পরিগ্রহ করায় ব্যবসায়ী, লগ্নীকার, জায়গীরদার প্রভৃতিই সত্যিকার অর্থে সমাজপতি হয়ে দাঁড়ায়। এ বংশীয় প্রথম যুগের সুযোগ্য সুলতানেরা প্রদেশগুলোর উপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন; কিন্তু পরবর্তী সুলতানেরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাঁদের পক্ষে শাহী শান-শওকত বজায় রাখা ও সেনাবাহিনীকে বেতন দেওয়াই অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সমাজ-জীবনে মানুষে-মানুষে আর্থিক অসাম্য দেখা দিয়েছিল, এটাই শুধু নয়, সমগ্র রাষ্ট্রই অনেক সময়ে লগ্নীকার, জায়গীরদার ও ছোট ছোট গোষ্ঠীপতিদের নেহায়েত করুণার পাত্র হয়ে দাঁড়ায়। অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের অভিভাবক হিসেবে ও কল্যাণধর্মী রাষ্ট্ররূপে ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণাও সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ সময়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থার দরুণ যে সকল বাহ্যিক বিপ্লব ও আভ্যন্তরীণ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ সংঘটিত হয়, তা দেখাবার জন্যে আরো দু&#8217;টি নজীর পেশ করা যেতে পারে। তার প্রথমটি হচ্ছে যাঁজ বিদ্রোহ। হযরত আলী (রা)-এর খান্দানের দাবীদার আলী ইবনে মুহাম্মদ নামক ব্যক্তির নেতৃত্বে চালিত এ বিদ্রোহের মুকাবিলায় রাষ্ট্রকে পনেরো বছর ভীতির মধ্যে অতিবাহিত করতে হয়েছে। নিম্ন ফোরাত অঞ্চলের সোনা-খনিতে অমানুষিক পরিবেশের মধ্যে কর্মরত নিগ্রো ক্রীতদাসদের মুক্তির দাবীতে এ বিদ্রোহ পরিচালিত হয়।</p>
<p>আর দ্বিতীয় নজীর হচ্ছে কারমেতিয়া ও আততায়ীদের আন্দোলন। হামদান কারমাতের নেতৃত্বে পরিচালিত এ আন্দোলন ইরাকের চাষী ও শ্রমিকদের দ্রুত সমর্থন লাভ করে এবং পরিণতিতে তারা অনেকটা কমিউনিজমেরই অনুরূপ (নারী ও সম্পত্তির উপর সামাজিক যৌথ অধিকার) বিধি-ব্যবস্থা-সম্বলিত একটি গোপন সমিতি গঠন করে। এরূপ ধারণা করা হয়ে থাকে যে, তারা পুরোপুরি সংগঠিত হবার পূর্বে যাঁজ বিদ্রোহের সাথে জড়িত ছিল। ৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তারা পারস্য উপসাগরের পশ্চিম উপকূলে একটি রাষ্ট্রও প্রতিষ্ঠা করে এবং এ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বহুদিন পর্যন্ত মুসলিম দেশগুলোর জন্য ভীতিপ্রদ ছিল। হাসান ইবনে সা&#8217;বার নেতৃত্বে পরবর্তীকালে অনুরূপ একটি আন্দোলন গড়ে উঠে। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ভক্তদেরকে ধর্মান্ধতার জাল থেকে মুক্ত করে অজ্ঞেয়তাবাদের পথে পরিচালিত করা। নিয়ামুল মুল্কের হত্যা থেকে শুরু করে এ হাশিশিউনেরা (আততায়ীরা) ব্যাপক গোপন হত্যার মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম জাহানে ত্রাসের সঞ্চার করে এবং ইসলামের রাজনৈতিক দেহে পচনশীল ক্ষত সৃষ্টিকারকের ভূমিকায় কাজ করে। তিন চার শতাব্দী ধরে নিরবচ্ছিন্ন গতিতে গড়ে ওঠা পুঁজিবাদের অন্যতম নজীর। <em>এসব</em> <em>আন্দোলনের</em> <em>সরাসরি</em> <em>লক্ষ্য</em> <em>ছিল</em> <em>অর্থনৈতিক</em><em>, </em><em>কিন্তু</em> <em>সাধারণ</em> <em>পন্থায়</em> <em>সেগুলোই</em> <em>সাফল্য</em> <em>অর্জন</em> <em>অসম্ভব</em> <em>বিবেচিত</em> <em>হওয়ায়</em> <em>চরম</em> <em>পন্থা</em> <em>অনুসৃত</em> <em>হয়</em><em>।</em> এসব আন্দোলনের ধুম্রজালে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধগুলো সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টির বাইরে চলে যায় এবং &#8216;উদর-সর্বস্বতার ধর্ম&#8217; ইসলামের পৃষ্ঠদেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছুরিকাঘাত করতে থাকে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> ইবনে আসাদ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-transformation-of-social-values-in-muslim-society/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14824</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সমাজ জীবনের গতি বৈচিত্র্য</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-dynamic-diversity-of-social-life/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-dynamic-diversity-of-social-life/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আবুল হাশিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 16 Sep 2024 05:11:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14809</guid>

					<description><![CDATA[জীবের দুইটি সত্তা আছে, একটি অহং-সত্তা ও অপরটি ভূমা-সত্তা। অহং-সত্তা আমিত্বকে ঘিরিয়া থাকে এবং ভূমা-সত্তা এককে বহুর মধ্যে বিস্তৃত করিতে চায়। অহং-সত্তা জীবের কর্ম-প্রেরণার উৎস; কিন্তু ইহা অত্যন্ত উচ্ছৃংখল ও স্বভাবে ইহা কাম, ক্রোধ প্রভৃতি ষড়রিপুর প্রভাবে পরিচালিত হয়। অহং-সত্তা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জীবের দুইটি সত্তা আছে, একটি অহং-সত্তা ও অপরটি ভূমা-সত্তা। অহং-সত্তা আমিত্বকে ঘিরিয়া থাকে এবং ভূমা-সত্তা এককে বহুর মধ্যে বিস্তৃত করিতে চায়। অহং-সত্তা জীবের কর্ম-প্রেরণার উৎস; কিন্তু ইহা অত্যন্ত উচ্ছৃংখল ও স্বভাবে ইহা কাম, ক্রোধ প্রভৃতি ষড়রিপুর প্রভাবে পরিচালিত হয়। অহং-সত্তা গতিশীল। ইহা বন্যার স্রোতের ন্যায় আপনার চলার আনন্দে ছুটিয়া বেড়ায় এবং চলার পথে বাঁধা পাইলে গর্জন করিতে থাকে ও শক্তি থাকিলে নির্মমভাবে বাঁধার প্রাচীরকে ধ্বংস করিয়া আপনার গতিপথ পরিষ্কার করিয়া লয়। এই অহং-সত্তাই সৃষ্টির গতি ও বৈচিত্র্যের কারণ। ইহা এক দিকে যেমন নতুন নতুন জনপদ ও উর্বর শস্যক্ষেত্র সৃষ্টি করে, অন্য দিকে তেমনি বহু সমৃদ্ধশালী নগর ও ক্ষেত্রকে নির্মমভাবে ধ্বংস করে; <strong><em>ইহা</em> <em>এক</em> <em>দিকে</em> <em>যেমন</em> <em>সভ্যতা</em> <em>ও</em> <em>সংস্কৃতির</em> <em>উন্নতি</em> <em>ও</em> <em>বিস্তারের</em> <em>কর্মপ্রেরণা</em> <em>দেয়</em><em>, </em><em>অপরদিকে</em> <em>তেমনি</em> <em>সভ্যতা</em><em>, </em><em>সংস্কৃতি</em> <em>ও</em> <em>মানবিক</em> <em>মূল্যবোধকে</em> <em>ধ্বংস</em> <em>করিয়া</em> <em>কোটি</em> <em>কোটি</em> <em>নর</em><em>&#8211;</em><em>নারীর</em> <em>অশেষ</em> <em>দুঃখের</em> <em>কারণ</em> <em>হয়</em><em>।</em></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পক্ষান্তরে ভূমা-সত্তা জ্ঞানলাভের উৎস। ভূমা-সত্তার সত্যানুসন্ধান স্পৃহা বর্ষার রস্রোতের ভরা-নদীর দুই পার্শ্বের বাঁধের ন্যায় অহং-সত্তার গতিকে সুসংহত ও সুনিয়ন্ত্রিত করে। বিশ্বের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ সাধনই ইহার স্বভাব। সংসারে দুঃখ আছে সত্য, কিন্তু ইহা কেবলই দুঃখ ভরা নয়, এখানে প্রচুর আনন্দও আছে। এই আনন্দের উৎস ভূমা-সত্তা। দ্বন্দ্ব, গতি ও পরিবর্তন সৃষ্টির শাশ্বত ধর্ম। অহং ও ভূমা-সত্তার বিরামহীন পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকে দেয় তাহার গতি-বৈচিত্র্য এবং সেই গতি-বৈচিত্র্যই আনে সৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য পরিবর্তন। এই দ্বন্দ্বরত দুই সত্তার মধ্যে অহং-সত্তার অবলুপ্তি ঘটিলে সৃষ্টির অগ্রগতি ও তাহার মাধ্যমে বিবর্তন রুদ্ধ হইয়া যায়, অপরপক্ষে ভূমা-সত্তার বিলুপ্তি ঘটিলে অহং-সত্তা যে অগ্রগতি ঘটায় উহা সৃষ্টিকে ধ্বংসের দিকেই আগাইয়া নেয় সমৃদ্ধির দিকে নয়। এই দুই সত্তার সুসামঞ্জস্য এবং ভারসাম্যময় অবস্থানই কেবল সৃষ্টিকে দিতে পারে শন্তিপূর্ণ ও নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি ও পরিবর্তন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মানুষের সমাজ-জীবনে যে দ্বন্দ্ব, গতি ও পরিবর্তন দেখা যায়, তাহা মানুষের অন্তর্জগতের এই দ্বন্দ্বের প্রতিক্রিয়া, সুতরাং বহির্জগতে যে দ্বন্দ্ব, গতি ও পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, মানুষের অন্তর্জগতের দ্বন্দ্ব-নিরপেক্ষ কোন অস্তিত্ব উহাদের নাই। অহং ও ভূমা-সত্তার এই বিরামহীন দ্বন্দ্বই ইতিহাসের স্রষ্টা, বহির্জগতের অর্থনৈতিক শ্রেণী। সংগ্রাম ইতিহাসের স্রষ্টা নহে। মার্ক্সবাদীরা ভূমা-সত্তার অস্তিত্ব স্বীকার করেন না, কিন্তু তাঁহারা স্বীকার না করিলেও মার্ক্সবাদের প্রবর্তক কার্ল মার্ক্স, এংগেলস ও তাঁহাদের উত্তরসূরী লেনিনের চিন্তা ও কর্মে ভূমা-সত্তার ক্রিয়া ও প্রভাব দিবালোকের মত পরিষ্কার দেখা যায়। ভূমা-সত্তাকে নীতিগতভাবে অস্বীকার করেন বলিয়া তাঁহাদের সমাজে বহু ত্যাগী ও ত্যাগের কাহিনী থাকা সত্ত্বেও ত্যাগের কোন দার্শনিক যৌক্তিকতা তাঁহাদের &#8216;দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদে&#8217; পাওয়া যায় না। ভূমা-সত্তাকে অস্বীকার করা হইয়াছে বলিয়াই মার্ক্সবাদ মানুষের অন্তর্জগতের ঐশ্বর্যকে অস্বীকার করে এবং মানুষের ধারণাকে তাহার বাস্তব পরিবেশের সৃষ্টি বলিয়া ভুল করিয়া থাকে। এই ভুল অত্যন্ত মারাত্মক। <em>যে</em> <em>দৃষ্টিভংগি</em> <em>রোগের</em> <em>আদি</em> <em>কারণ</em> <em>ও</em> <em>বাহ্যিক</em> <em>উপসর্গের</em> <em>পার্থক্য</em> <em>বুঝিতে</em> <em>না</em> <em>পারিয়া</em> <em>উপসর্গকে</em> <em>রোগের</em> <em>আদি</em> <em>কারণ</em> <em>বলিয়া</em> <em>ভুল</em> <em>করে</em><em>, </em><em>সেই</em> <em>দৃষ্টিভংগিতে</em> <em>মার্ক্সবাদীরা</em> <em>ইতিহাস</em> <em>বিশ্লেষণ</em> <em>করিয়া</em> <em>থাকেন</em><em>।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ভূমা-সত্তাকে অস্বীকার করেন বলিয়া মার্ক্সবাদীদিগকে সমাজ-পালননীতি ও পরিকল্পনার কেবলমাত্র মানুষের নশ্বর জৈবিক সত্তার লালন-পালনের ব্যবস্থা দেখিতে পাওয়া যায়। এই আদর্শ মনুষ্যত্বকে হত্যা করিয়া মানুষকে বাঁচাইয়া রাখিতে চায়। তাই এই আদর্শের আবেদন আপাতত দৃষ্টিতে সার্বিক হওয়া সত্ত্বেও সুদূর-প্রসারী দৃষ্টিতে ইহা কল্যাণপ্রসূ নহে। কারণ ইহার আবেদন বস্তুত এক বিশেষ শ্রেণীর মধ্যেই সীমিত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পরিবর্তন মাত্রই বিবর্তন নহে, পরিবর্তন বিবর্তনমূলক ও নিবর্তনমূলক দুই-ই হইতে পারে। যে গতি-বৈচিত্র্যে ভূমা-সত্তার প্রভাব পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে সেই গতি- বৈচিত্র্য যে পরিবর্তন ঘটায় তাহাই হয় বিবর্তনমূলক; অহং-প্রধান পরিবর্তন সাধারণত নিবর্তনমূলক। মানুষ সৃষ্টির প্রথম হইতে ব্যক্তির ন্যায় সমাজেরও অবিচ্ছেদ্য পরিবর্তন ঘটিতেছে। পরিবর্তনের স্রোতে বহু গ্রহ-উপগ্রহ নিশ্চিহ্ন হইয়াছে এবং বহু নতুন গ্রহ-উপগ্রহ জন্মলাভ করিয়া আকাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করিয়াছে। জীব-জগতের মধ্যে হস্তী, জলঘোটক প্রভৃতি বহু জীব ধরা-পৃষ্ঠ হইতে অবলুপ্ত হইয়া গিয়াছে, আবার বহু নতুন জীবেরও আবির্ভাব হইয়াছে। এইভাবে এক দিকে পৃথিবীর বহু সম্পদ রূপ, রস ও গন্ধ ধ্বংস হইয়াছে এবং অন্য দিকে বহু নতুন নতুন ঐশ্বর্য্য সৃষ্টি হইয়াছে। নিবর্তন, বিবর্তন ও ভাঙা-গড়ার হিসাব-নিকাশ করিলে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে সৃষ্টি সুন্দর হইতে সুন্দরতর হইতেছে। সৃষ্টির এই ধারাবাহিক পরিবর্তন নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করিতেছে যে, স্রোতমূখে তৃণের মত জগত কাল-স্রোতে অসহায়ভাবে বিক্ষিপ্ত ও লক্ষ্যহীন গতিতে ভাসিয়া বেড়াইতেছে না, কোন এক নির্দিষ্ট মঞ্জিল লক্ষ্য করিয়া ধীর পদক্ষেপে মহাকালের আঁধার ভেদ করিয়া অগ্রসর হইতেছে। অহং-সত্তার উচ্ছৃঙ্খল গতি ভূমা-সত্তা সংযত করিয়া সৃষ্টির এই অগ্রগতি নিয়ন্ত্রিত করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সমাজ-বিবর্তনের ক্ষেত্রেও এই একই কথা। <strong>ইতিহাস</strong> <strong>পর্যালোচনা</strong> <strong>করিলে</strong> <strong>সর্ব</strong> <strong>যুগে</strong> <strong>ছোট</strong> <strong>বড়</strong> <strong>সকল</strong> <strong>সমাজে</strong> <strong>তিন</strong> <strong>শ্রেণীর</strong> <strong>মানুষ</strong> <strong>দেখিতে</strong> <strong>পাওয়া</strong> <strong>যায়</strong><strong>।</strong> <strong>ইহাদের</strong> <strong>একটি</strong> <strong>জালিম</strong><strong>, </strong><strong>একটি</strong> <strong>মজলুম</strong><strong>, </strong><strong>আর</strong> <strong>একটি</strong> <strong>জালিমের</strong> <strong>দুশমন</strong> <strong>ও</strong> <strong>মজলুমের</strong> <strong>বন্ধু</strong><strong>।</strong> মজলুম-শ্রেণী জালিম-শ্রেণীর জুলুমের ফলে সৃষ্ট এবং জুলুম-বিরোধী শ্রেণীর সংগ্রাম, ত্যাগ ও তিতিক্ষার ফলভোগী। জুলুম-বিরোধী শ্রেণী সমাজের ভূমা-সত্তা এবং জালিম শ্রেণী অহং-সত্তার মূর্ত প্রতীক। এই দুই শ্রেণীর অবিরাম সংগ্রাম সমাজ জীবনের পরিবর্তনের কারণ, জালিম ও মজলুম-শ্রেণীর দ্বন্দ্ব নহে। দাস-প্রথা রহিত করিবার জন্য যাঁহারা আন্দোলন করিয়াছিলেন তাঁহারা দাস ছিলেন না, অর্থনৈতিক শ্রেণীবিচারে তাঁহারা ছিলেন দাসের প্রভু শ্রেণীভুক্ত। নারী-স্বাধীনতা-সংগ্রামের উদ্যোক্তরা নারী নহে পুরুষ এবং মজুরের মুক্তি-আন্দোলনের গোড়াপত্তন ও নেতৃত্ব করিয়াছিলেন যাঁহারা, তাঁহারাও মজদুর ছিলেন না, ছিলেন মালিক শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত জুলুম- বিরোধী মার্ক্স ও এংগেসের মত মহাপুরুষেরা। অর্থনৈতিক শ্রেণী বিচারে যাহারা জালিম শ্রেণীভুক্ত, চিন্তা ও কর্মে তাহারা সকলেই জালিম নহেন, অন্য দিকে যাহারা মজলুম শ্রেণীর পর্যায়ভুক্ত, তাহাদেরও সকলেই জুলুম-বিরোধী নহে। যাহাদের মধ্যে ভূমা-সত্তা প্রবল, তাহারা অর্থনৈতিক শ্রেণী বিচারে যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, তাহারাই জুলুম-বিরোধী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যুগে যুগে জুলুমের অস্ত্র ও পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখিতে পাওয়া যায়। সর্বযুগে উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারীরা জালিম এবং উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারে বঞ্চিতরা মজলুম, একথা সত্য নহে, অবশ্য বর্তমান যুগে একথা সত্য। আসলে সমাজের পরিচালন-ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিদের মধ্যে যখন অহং-সত্তার প্রাবল্য লাভ করে, তখনই তাহাদিগকে জালিমের ভূমিতায় দেখা যায়। তখন তাহাদের নিজ স্বার্থ রক্ষা ও পুষ্টির জন্য তাহারা দুর্বলদের উপর শাসন, শোষণ ও জুলুম-নিপীড়ন চালাইতে আরম্ভ করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এই ক্ষমতার ভিত্তি যেরূপ বিভিন্ন হইতে পারে, ক্ষমতার অধিকারী অহং-সর্বস্বদের জুলুম-নিপীড়নের পন্থা এবং পদ্ধতিও সেইরূপ বিভিন্ন হইতে পারে। সনাতন আর্য-ভারতের কঠিন বর্ণাশ্রমের যুগে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরা উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারী ছিলেন না, কিন্তু তাহারাই ছিলেন সেকালের সমাজ-পতি ও জালিম। মজলুম ছিলেন উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারী বৈশ্য ও শূদ্রেরা। সামন্ত যুগে সামন্তেরা উৎপাদন-যন্ত্র ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকারী ছিলেন না বরং ব্যবসা-বাণিজ্যকে বৃত্তি হিসাবে তাহারা তাহাদের আভিজাত্যের হানিকর মনে করিতেন- দোকানদার, ব্যবসায়ী এবং কৃষি ও শিল্প-যন্ত্রের অধিকারীকে ঘৃণার চোখে দেখিতেন। সুতরাং সেকালে উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারী তাঁতী, কামার প্রভৃতিরাই ছিলেন মজলুম এবং জালিম ছিলেন সামন্তেরা। বর্তমান ধনতান্ত্রিক যুগের পূর্বে শোষণ-নিপীড়নের অস্ত্র ছিল ব্রাহ্মণের জ্ঞান-বৃদ্ধি ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষাত্রশক্তি। বর্তমান যুগে সমাজের পরিচালন-ক্ষমতা হস্তান্তরিত হইয়াছে বণিক ও শিল্পপতিদের নিকট। সুতরাং আমাদের এই বিশেষ যুগে উৎপাদন ক্ষমতার অধিকারী গোষ্ঠীই সমাজ-জীবনের বল্লাহীন অহং-সত্তার প্রতীক তথা জালিম। কিন্তু মানবেতিহাসের আদি হইতে অন্ত পর্যন্ত এই শ্রেণীই জালিম- একথা সত্য নহে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সমাজের অহং-সত্তা অর্থাৎ জালিম-শ্রেণী নিজ শ্রেণীর স্বার্থে বহু সমাজ ও সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং কোটি কোটি নর-নারীর মর্মন্তুদ দুঃখ-কষ্টের কারণ ঘটাইয়াছে। অন্য দিকে ভূমা-সত্তা, অহং-সত্তার ধ্বংস-প্রবৃত্তিকে দমন করিয়া তাহার কর্মশক্তিকে সুনিয়ন্ত্রিত করিয়া সুন্দরতম সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতি গড়িয়া তুলিয়াছে। অহং ও ভূমা- সত্তার এই ভাঙা-গড়ার হিসাব-নিকাশ করিলেও দেখা যায়, সমাজ-জীবনে বিবর্তনমূলক অগ্রগতি সাধিত হইয়াছে এবং বিশ্বমানব সুন্দর হইতে সুন্দরতম জীবনের সন্ধান পাইয়াছে। বিশ্বমানবের এই সমাজ-বিবর্তন ও সৃষ্টির গতি-বৈচিত্র্যের একটি বস্তু- নিরপেক্ষ উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা আছে ইহাই প্রমাণ করে। ভূমা-সত্তা মহাবিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও বিবর্তনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার উৎস রাব্বুল আলামীনের সহিত জীবাত্মার পরিচয় ঘটায়। এই পরিচয় যে আদর্শের সন্ধান দেয়, সেই আদর্শভিত্তিক সমাজ সারা বিশ্বের জন্য নিরংকুশ কল্যাণপ্রসূ। এই প্রকার সমাজেরই নাম রব্বানী সমাজ। কারণ এই সমাজাদর্শ বিশ্বস্রষ্টা রাব্বুল আলামীনের বিশ্বপালন-নীতির আলোকে সমাজের লালন-পালন করিতে চায়। যে আদর্শের সহিত ভূমা-সত্তা তথা বিশ্বস্রষ্টা ও তাহার পালন-নীতির পরিচয় নাই, সেই আদর্শভিত্তিক সমাজ আদর্শভিত্তিক হওয়া সত্ত্বেও রব্বানী নহে, উহার বিপরীত নানী অর্থাৎ অহং-সর্বস্ব। বর্তমান যুগের মার্কস্বাদী সমাজ নফসানী সমাজের চরমতম বিকাশ। ইহার ধ্বংসাত্মক ক্রিয়া অব্যাহত থাকিলে রক্তভিত্তিক বা স্বার্থভিত্তিক নক্সানী সমাজের মত কেবল কোন একটি শ্রেণী, সমাজ বা সভ্যতাকেই ধ্বংস করিবে না, সমগ্র বিশ্ব-মানবকেই জীব-জগতের বহু লুপ্ত জাতির মত সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করিবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p>সামগ্রিক দৃষ্টিতে সমাজের বিবর্তন নিরবচ্ছিন্ন, কিন্তু কোন একটি সমাজ বা সমাজ- গোষ্ঠীর পরিবর্তন ধারাবাহিকভাবে বিবর্তনমূলক নহে। সমাজ-জীবনের নিম্নতম স্তর হইতে বিবর্তনের প্রতিটি স্তর অতিক্রম করিয়া কোন একটি সমাজের রূপান্তর হয় নাই। মহেঞ্জোদাড়ো ও হরপ্পায় যে উচ্চাংগের সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়, তাহার ধারাবাহিক বিবর্তন ঘটিলে বর্তমান যুগে যে সভ্যতা দেখিতেছি তাহা বহু শতাব্দী পূর্বেই দেখা যাইত। কিভাবে এই সভ্যতা সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হইল এবং ভারতে আবার নতুন করিয়া সমাজের অতি নিম্নস্তরের সভ্যতা, পশুপালন, কৃষি প্রভৃতি স্তর ধীরে ধীরে অতিক্রম করিয়া মৌর্যের পাটলীপুত্র ও নালন্দা গড়িয়া উঠিল, কে এই রহস্য উদঘাটন করিবে?</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><em>দুই</em> <em>একটি</em> <em>সমৃদ্ধশালী</em> <em>নগর</em> <em>প্রাকৃতিক</em> <em>বিপর্যয়ে</em> <em>ভূগর্ভে</em> <em>সমাধিস্থ</em> <em>হইলে</em> <em>অথবা</em> <em>অন্য</em> <em>কোনভাবে</em> <em>ধ্বংস</em> <em>হইলে</em> <em>ঐ</em> <em>নগরের</em> <em>সভ্যতা</em> <em>ও</em> <em>সংস্কৃতি</em> <em>সারা</em> <em>দেশ</em> <em>হইতে</em> <em>বিলুপ্ত</em> <em>হইবার</em> <em>কথা</em> <em>নহে</em><em>।</em> ভিসুবিয়াসের লাভা উদ্‌গীরণে পাম্পিয়ায় সুসভ্য নগর ধ্বংস হইলেও ইউরোপ হইতে পাম্পিয়াই-এ সভ্যতা লোপ পায় নাই। বর্তমান দুনিয়ায় সুসভ্য ইংরেজ ও ফরাসী জাতির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার গভীরে নরখাদক অসভ্য সমাজ আজও দেখিতে পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক শ্রেণী-সংগ্রাম ইতিহাসের গতি-বৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণ করে &#8211; ইহা যদি চরম ও পরম সত্য হইত, তাহা হইলে প্রত্যেকটি সমাজ এই শ্রেণী- সংগ্রামের মাধ্যমে সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে ইংরেজ ও ফরাসী সমাজের মতই সমৃদ্ধশালী হইত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যে আদর্শ ও কর্মপ্রেরণা উন্নততর সমাজ সৃষ্টি করে, কোন দুর্বল সমাজ-সংহতি- সম্পন্ন জরাগ্রস্ত অথচ বাস্তব সম্পদ, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ সমাজ তাহার প্রয়োগ- ক্ষেত্র হয় না, তজ্জন্য প্রয়োজন হয় কোন একটি বলিষ্ঠ সমাজ সংহতি-সম্পন্ন নবজাত সমাজ। এই কারণে উপনিষদের সভ্যতার প্রয়োগক্ষেত্র হইল বহিরাগত পশুপালক নবজাত আর্য-সমাজ, মহেঞ্জোদাড়ো-হরপ্পার সমসাময়িক কোন সুসভ্য আর্যসমাজ নহে। সেই একই কারণে ইসলামের প্রয়োগক্ষেত্র হইল বেদুঈন আরবের নবজাত মুসলিম সমাজ- সুসভ্য পারস্য অথবা বাইজান্টাইনের রোমক সমাজ নহে। কার্ল মার্ক্স তাঁহার অর্থনৈতিক শ্রেণী-সংগ্রামের ছক কাটিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করিয়াছিলেন যে, ইংল্যান্ড জার্মানীর মত ধনতান্ত্রিক শিল্পোন্নত দেশগুলোতেই হইবে মার্ক্সবাদের প্রথম বিকাশ, কল- কারখানার মালিক ও মজদুরের শ্রেণী-সংগ্রামের মাধ্যমের ইতিহাসে ইহাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করিয়াছে। কারণ, মার্ক্সবাদের বিকাশ ঘটিয়াছে সামন্তবাদী রাশিয়ায় এবং আজও পাশ্চাত্যের সুশৃংখল ধনতান্ত্রিক দেশগুলিতে মার্ক্সবাদের কোন প্রভাবই পরিদৃষ্ট হয় না, বরং অধুনাও উহার প্রসার ঘটিতেছে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার পশ্চাৎপদ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশসমূহে। <strong>বাষ্পীয়</strong> <strong>বা</strong> <strong>বৈদ্যুতিক</strong> <strong>শক্তির</strong> <strong>মত</strong> <strong>উৎপাদন</strong><strong>&#8211;</strong><strong>পদ্ধতি</strong> <strong>অথবা</strong> <strong>ইসলামের</strong> <strong>মত</strong> <strong>কোন</strong> <strong>এক</strong> <strong>জীবনাদর্শ</strong> <strong>যাহা</strong> <strong>সমাজের</strong> <strong>বৈপ্লবিক</strong> <strong>পরিবর্তন</strong> <strong>ঘটায়</strong> <strong>তাহা</strong> <strong>শ্রেণী</strong><strong>&#8211;</strong><strong>সংগ্রামের</strong> <strong>ফল</strong> <strong>নহে</strong><strong>, </strong><strong>ইতিহাসের</strong> <strong>গতি</strong><strong>&#8211;</strong><strong>বৈচিত্র্যের</strong> <strong>নিয়ন্তা</strong> <strong>রাব্বুল</strong> <strong>আলামীনের</strong> <strong>আকস্মিক</strong> <strong>দান</strong><strong>।</strong> <strong>এই</strong> <strong>রহস্যের</strong> <strong>উৎস</strong> <strong>ভৌতিক</strong> <strong>নহে</strong> <strong>ভূতোত্তর</strong><strong>।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হেগেলের দ্বান্দ্বিক ভাববাদ এবং মার্ক্সের দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের দৃষ্টিভংগি পরস্পর বিরোধী হইলেও উভয় দ্বন্দ্ববাদের প্রস্তাব একই। প্রত্যেক বস্তুর গর্ভে উহার বিপরীত আর একটি বস্তু আছে; এই দুই বিপরীত বস্তুর দ্বন্দ্বের ফলে হয় একটি তৃতীয় বস্তুর আবির্ভাব। আবার তৃতীয় বস্তুর গর্ভেও উহার বিপরীত আর একটি বস্তু থাকে এবং তাহাদের দ্বন্দ্বের ফলে আরেকটি নতুন বস্তুর আবির্ভাব ঘটে। এইভাবে এক বস্তু ও তাহার গর্ভস্থ বিপরীত বস্তুর বিরামহীন অবিচ্ছেদ্য দ্বন্দ্ব এক হইতে বহুর উৎপত্তি এবং সৃষ্টি-বৈচিত্র্যের কারণ, ইহাই হেগেল ও মার্ক্সের দ্বন্দ্ববাদের মূল প্রস্তাব। তাঁহাদের দার্শনিক মতবাদের পার্থক্য এই যে, হেগেল মনে করেন, এই দ্বন্দ্বের মূল উৎস ভাব, আর মার্ক্স মনে করেন বস্তু। মার্ক্স বস্তুবাদী। সুতরাং তিনি মনে করেন, বস্তুই অনাদি ও অনন্ত, ভাব বাস্তব পরিবেশের সৃষ্টি অর্থাৎ ভাবের কোন বস্তুনিরপেক্ষ স্বাধীন অস্তিত্ব নাই। মার্ক্সের মতে, বাস্তব পরিবেশের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ভাবেরও পরিবর্তন ঘটে এবং এই অর্থে বস্তু-নির্ভর। দার্শনিক পরিভাষায় দ্বন্দ্বের প্রথম সত্তাটিকে নয়। দ্বিতীয়টিকে অন্বয় এবং তৃতীয়টিকে সমন্বয় বলা হয়। বিশেষ লক্ষ্য করিবার বিষয় এই যে, হেগেল ও মার্ক্স উভয়েই নয়, অন্বয় ও সমন্বয় এই তিনটিকে ভিন্ন ভিন্ন সত্তা মনে করেন। এই দৃষ্টিভংগিতে ইতিহাস ব্যাখ্যা করিলে ইহাই বলিতে হয় যে, যে কোন সমাজের মধ্যে দুইটি পরস্পর-বিরোধী শ্রেণী থাকে ও ইহাদের দ্বন্দ্ব একটি তৃতীয় শ্রে সৃষ্টি করে এবং এই শ্রেণী-সংগ্রাম নতুন সৃষ্টির ফলে নতুন সমাজের জন্ম হয়। মার্ক্সের মতে এই শ্রেণীগুলি অর্থনৈতিক এবং দ্বন্দ্ব অর্থনৈতিক শ্রেণী-সংগ্রাম। সুতরাং মার্ক্সের মতে, এই দুই বিপরীত অর্থনৈতিক শ্রেণীর দ্বন্দ্বের ফলে আর একটি তৃতীয় শ্রেণীর জন্ম হয়। এই তৃতীয় শ্রেণী আপাত প্রগতিশীল হইলেও পরে ইহাকেই আবার জালিমের ভূমিকায় দেখা যায়। মার্ক্স মনে করেন যে, এই শ্রেণী-সংগ্রামের অবসান ঘটিবে সেইদিন, যেদিন অর্থনৈতিক শ্রেণী-সংগ্রামের মাধ্যমে সমস্ত শ্রেণী বিলুপ্ত হইয়া যাইবে অর্থনৈতিক শ্রেণীহীন সমাজের আবির্ভাবে। মার্ক্স বলেন যে, জালিম-শ্রেণী উৎপাদন যন্ত্রের অধিকারী এবং এই অধিকারে বঞ্চিত শ্রেণী মজলুম। সুতরাং বিশ্বের মজদুর যাহাদের শ্রম-মূল্য অপহরণ করিয়া মালিক-শ্রেণী বাঁচিয়া থাকে, যেই মজদূর বিশ্বের উৎপাদন-যন্ত্রের অধিকারী হইলেই শ্রেণী সংগ্রামের অবসান ঘটিবে; মজদুরকে উৎপাদন- যন্ত্রের অধিকারী হইতে হইলে মজদুরের রাজনৈতিক এক-নায়কত্ব প্রতিষ্ঠিত হইতে হইবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা পূর্বেই বলিয়াছি যে, এই দ্বন্দ্ব জালিম ও মজলুমের দ্বন্দ্ব নয়- সমাজের অহং ও ভূমা-সত্তার দ্বন্দ্ব। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক যে কোন শ্রেণীর মধ্যে অহং-প্রধান ও ভূমা-প্রধান লোক থাকে। দ্বন্দ্ব তাহাদের। মজলুম শ্রেণীর মধ্যেও এই দুই শ্রেণী দেখিতে পাওয়া যায়। অহং ও ভূমা-সত্তা দুইটি পৃথক বস্তু নহে, উহারা একই বস্তুর দুই বিপরীত ভাব। ইহাদের দ্বন্দ্বের ফলে ক্ষেত্র-বিশেষে কোন এক নতুন বস্তুর আবির্ভাব হইতে পারে; কিন্তু নতুন বস্তুর আবির্ভাব হইবেই এমন নহে। সাধারণত ইহারা বস্তুর দুইটি বিপরীত ভাব, সেই বস্তুর সামগ্রিক রূপান্তর ঘটে। এই দ্বন্দ্বে ভূমা প্রবল হইলে ফল শুভ এবং অহং প্রবল হইলে ফল অশুভ হয়। দ্বন্দ্বের ফল শুভ হইলে বস্তুর যে রূপান্তর ঘটে তাহা বিবর্তনমূলক এবং অশুভ হইলে নিবর্তমূলক হয়। সমাজ-জীবনে এই দ্বন্দ্ব নতুন কোন শ্রেণী সৃষ্টি হবে না, সমাজের বিবর্তন অথবা নিবর্তমূলক সামগ্রিক পরিবর্তন ঘটায়। হেগেল ও মার্ক্সের দ্বান্দ্বিকত্রয়ী ন্বয়, অন্বয় ও সমন্বয় ইতিহাসের গতি-বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা করিতে পারে না। অহং ও ভূমার দ্বান্দ্বিক সম্পর্কই এই সমাজের জন্ম, বৃদ্ধি, ক্ষয় ও লয়ের প্রকৃত রহস্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যে সমাজের জন্মের কারণ। সেই সমাজ-সৃষ্টির দ্বন্দ্ব সমাজের অন্তর্জগতে নহে, বহির্জগতে। কারণ ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুইটি বিপরীতধর্মী প্রাকৃতিক শক্তির ফল। জনসংখ্যার আধিক্য প্রভৃতি অর্থনৈতিক কারণে অথবা অন্য কোন প্রকার জুলুমে সমাজদেহের একাংশ মূল দেহ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যে নতুন সমাজ সৃষ্টি করে, সেই সমাজ-সৃষ্টির দ্বন্দ্বও সমাজের অন্তর্জগতে, সমাজের অহং ও ভূমা-সত্তার দ্বন্দ্ব। আদর্শ যে সমাজের সৃষ্টি করে, সেই সমাজ-সৃষ্টির দ্বন্দ্ব ভৌতিক নহে ভূতোত্তর। বিশ্বস্রষ্টা রাব্বুল আলামীনের ইতিহাসের গতি-বৈচিত্র্য নিয়ন্ত্রণের বিধান অনুযায়ী যে অবিরাম ভাঙা-গড়া চলিতেছে, ইহা সেই ভাঙা-গড়ার দ্বন্দ্ব। প্রত্যেক বস্তুর গর্ভে তাহার বিপরীত আর একটি বস্তু আছে, একথা সত্য নহে; প্রত্যেক বস্তুরই দুইটি পরস্পর বিরোধী ধর্ম আছে- অর্থাৎ বস্তু মাত্রই দুইটি বিপরীত শক্তির সমন্বয় ইহাই সত্য। এই দ্বন্দ্ব শাশ্বত এবং ইহাই সৃষ্টির গূঢ়তম রহস্য এবং ইহাই সৃষ্টির গতি ও বৈচিত্র্যের এবং এক হইতে বহুর উৎপত্তির কারণ। সৃষ্টির এ সংগ্রাম অবিরাম ও অবিচ্ছিন্ন। ইহার অবলুপ্তিতে সৃষ্টিরও অবলুপ্তি ঘটিতে পারে। এইভাবে কোন ব্যক্তির অন্তরে অহং ও ভূমার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিলে সেই ব্যক্তি নির্বাণ, মোক্ষ, মুক্তি, কৈবল্য বা বেলায়েত হাসিল করে এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব ও উহার বহিঃপ্রকাশের ঊর্ধ্বে স্থিত হইয়া নির্বিকার চিত্তের অনাবিল আনন্দের অধিকারী হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>(সমাজবিজ্ঞান ও ইসলাম গ্রন্থ থেকে সংকলিত)</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-dynamic-diversity-of-social-life/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14809</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহর ইরতিফাকাত; আর্থ-সামাজিক বিকাশের স্বাভাবিক পদ্ধতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-irtifakat/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-irtifakat/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 14 Feb 2024 15:34:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[কৃষি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি ও অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[abdul azim islahi]]></category>
		<category><![CDATA[imam ibn taimiah]]></category>
		<category><![CDATA[imam ibnul qaium]]></category>
		<category><![CDATA[mughol amol]]></category>
		<category><![CDATA[rowyak]]></category>
		<category><![CDATA[Shah Waliullah Dehlawi]]></category>
		<category><![CDATA[ইমাম ইবনে কাইয়্যুম]]></category>
		<category><![CDATA[তাইমিয়াহ]]></category>
		<category><![CDATA[মুঘল আমল]]></category>
		<category><![CDATA[শাহ ওয়ালিওল্লাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13638</guid>

					<description><![CDATA[প্রায়োগিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রাচ্যের প্রাচীন চিন্তাবিদদের ব্যপক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদগণ প্রাচ্যকে একেবারেই আলোচনার বাহিরে রেখে দিয়েছেন। এর কারণ মূলত পাশ্চাত্যে এরকম একটি প্রচারণা রয়েছে যে, ইউরোপীয় রেনেসাঁর পূর্বে অর্থাৎ দ্বাদশ শতাব্দীর আগে অর্থনীতি নিয়ে কোনো ধ্যান ধারণাই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>প্রায়োগিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রাচ্যের প্রাচীন চিন্তাবিদদের ব্যপক ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদগণ প্রাচ্যকে একেবারেই আলোচনার বাহিরে রেখে দিয়েছেন। এর কারণ মূলত পাশ্চাত্যে এরকম একটি প্রচারণা রয়েছে যে, ইউরোপীয় রেনেসাঁর পূর্বে অর্থাৎ দ্বাদশ শতাব্দীর আগে অর্থনীতি নিয়ে কোনো ধ্যান ধারণাই দুনিয়াতে ছিল না।<sup>১</sup> অন্যদিকে পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদগণ যে বিষয়ে আলোচনা করেন না তা অন্য কোথাও আলোচনা হয় না, এই প্রথা ইতোমধ্যেই পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদগণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।</p>
<p>যদিও এই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে বর্তমানে অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে।<sup>২</sup> কিন্তু সে সব গ্রন্থ এখনো অর্থনীতিবিদদের মূল্যায়নের অপেক্ষায় স্থবির হয়ে পড়ে আছে। এসকল গ্রন্থে আমাদের জন্য অসংখ্য অর্থনৈতিক চিন্তা উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন সুফি, বিভিন্ন সংস্কারক ও উলামাদের দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, আখলাক কিংবা মুঘলদের জীবনী, সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্বলিত গ্রন্থাবলি কিংবা আলাউদ্দিন খিলজির অর্থনৈতিক সংস্কার, সুলতান মুহাম্মদ তুঘলকের মুদ্রানীতি, শেরশাহ সুরির ভূমি জরিপ ইত্যাদি প্রত্যেকটি বিষয়ই কোনো না কোনো অর্থনৈতিক চিন্তার উপর গড়ে উঠেছে।</p>
<p>ভারতীয় উপমহাদেশের নেতৃত্ব স্থানীয় চিন্তাবিদ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর অর্থনৈতিক চিন্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শাহ ওয়ালীউল্লাহর অর্থনৈতিক চিন্তার দুই একটি বিষয়ের উপর যে কয়টি প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে তা নেহায়েতই হাতেগোনা।<sup>৩</sup> কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর সকল চিন্তার সমন্বিত পাঠ ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা এখনো অনেক বাকি। তবে এই প্রবন্ধে আমরা কেবল তার ‘আল-ইরতিফাকাত’ তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করবো। মূলত এই তত্ত্বটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পর্যায়ে পড়ে। আশাকরি এই প্রবন্ধ শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর অর্থনৈতিক চিন্তা নিয়ে গবেষক ও চিন্তাবিদদের মাঝে নতুন করে চিন্তা করার ক্ষেত্র তৈরি করবে।</p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর অর্থনৈতিক চিন্তার বৃহৎ অংশ মূলত ক্ষয়িষ্ণু মুঘল সালতানাতের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও উত্তরণকল্পে প্রদানকৃত অর্থনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকল্পে তাঁর অভিব্যক্তিমূলক আল-ইরতিফাকাত তত্ত্বের মাঝে লুকায়িত।</p>
<p><strong>শাহ ওয়ালীউল্লাহ এবং তার সময়কাল</strong></p>
<p>২১ সেপ্টেম্বর ১৭০৩ সালে শাহ ওয়ালীউল্লাহ ভারতের মুজাফফরনগরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০ আগস্ট, ১৭৬২ তে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আহমেদ ইবনে আব্দুর রহিম। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় পাঁচ জন মুঘল সুলতানের পতন দেখেছেন। শাহ ওয়ালীউল্লাহ এমন সময় জন্মগ্রহণ করেন যখন মহান সম্রাট জহিরউদ্দীন বাবরের প্রতিষ্ঠিত মুঘল সালতানাত পতনের দ্বার প্রান্তে। একই সময়ে মৌলিক জ্ঞান ও চিন্তার বিকাশ এবং মুসলমানদের রাজনৈতিক অধঃপতনের স্বাক্ষী এই আলেম তৎকালীন সময়ের বিদ্যমান জ্ঞানের সকল শাখায় পারদর্শী ছিলেন। কোরআন ও হাদীসের মূলনীতির ব্যাখ্যা, বিচার ব্যবস্থা, ইলমুল কালাম, দর্শন, ফিকহ, হিকমত ও মাকাসিদ আশ-শরিয়াহর ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। ১৭৩০ সালে তিনি হিজাজে গমন করেন এবং সেখানে তিনি ২ বছর অবস্থান করে মক্কা এবং মদীনায় অবস্থানরত আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তখন নজদে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের (১৭০৩-১৭৯২) সংস্কারের যুগ চলছিল। যদিও তাদের দুজনের মাঝে সাক্ষাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তবে শাহ ওয়ালীউল্লাহর সংস্কার কেবলমাত্র ধর্মতাত্ত্বিক জায়গায় সীমাবদ্ধ ছিল না, তাঁর সংস্কার আরো অনেক ব্যাপক-বিস্তৃত সামগ্রিক রূপ লাভ করেছিল। তিনি একইসাথে শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের সংস্কারে মনোযোগী ছিলেন।</p>
<p><strong>শাহ ওয়ালীউল্লাহর চিন্তায় অর্থনীতি</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর অর্থনৈতিক চিন্তাগুলো তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া যায়। যেমন ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ’, ‘আল বুদুর আল বাজিগাহ’, ‘আত-তাফহিমাত আল ইলাহিয়া’র মতো গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলের শাসক, গভর্নর, বিজ্ঞ আলেমদের নিকট প্রেরিত চিঠিগুলোর মাঝেও তাঁর অর্থনৈতিক চিন্তাগুলো ফোঁটে উঠে। বিশেষত তাঁর লেখা চিঠিগুলোয় তিনি মুঘল সালতানাতের পতনের জন্য অর্থনৈতিক পন্থাকে ব্যাপকভাবে সমালোচনা করেছেন। তাঁর এসকল তীক্ষ্ণ সমালোচনা এখনো অনেককে গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত করে।<br />
<a href="https://rkmri.co/ypSeoeIMIR2A/" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Irtifakat-01.jpg" height="133" /></a></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর সমসাময়িক একজন আলেম যিনি খুব কাছ থেকে তৎকালীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং একইসাথে শাহ ওয়ালীউল্লাহকেও অধ্যয়ন করেছেন, তাঁর দৃষ্টিকোণ শাহ ওয়ালীউল্লাহর অর্থনৈতিক চিন্তাগুলো পড়ার চেষ্টা করবো। আশাকরি এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা আপনাদেরকে শাহ ওয়ালীউল্লাহর চিন্তাকে বুঝতে সহায়তা করবে।</p>
<p><strong>ভারতে মুঘল শাসন অবসানের ক্ষেত্রে দুর্বল অর্থনীতি</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর সময়কালে মারাঠা, জাঠ, শিখ, রোহিলা ও বিভিন্ন প্রদেশে মুঘল গভর্নরদের দূরভিসন্ধিতে সৃষ্ট নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল। এসময় মুঘল সম্রাটরা কার্যত  লালকেল্লা আর পালামপুর গ্রামের মাঝেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। কৃষক এবং কারিগর সম্প্রদায় খুব খারাপভাবে দরিদ্র হয়ে পড়ে। ঘন ঘন ক্ষমতার রদ বদলের কারণে তাদেরকে বছরে কয়েকবার করে খাজনা প্রদান করতে হতো। সেনাবাহিনী ও আমলারা মাসিক হিসেবে বেতন পেত না।<sup>৪</sup> ন্যায়পরায়ণতার মূর্তপ্রতীক মুঘল সম্রাটরা এসময় একেবারেই অসহায় হয়ে পড়ে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুঘল সালাতানের পতনের মূল কারণ উল্লেখপূর্বক এ সংকট মোকাবেলায় যে সকল প্রস্তাবনা দেন সেগুলো হলো-</p>
<p><strong>১. রাজস্ব সংকট</strong> : রাজস্ব যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। পর্যাপ্ত পরিমাণ রাজস্ব ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই সঠিকভাবে তার কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারে না। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে রাজস্ব আট কোটি রুপির মতো হলেও এই পরিমাণ রাজস্ব আয় করা যে সম্ভব তা উপলব্ধি করার মতো শক্তি রাজস্ব কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকার হারিয়ে ফেলেছিল।<sup>৫ </sup></p>
<p><strong>২. খালিসা জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়া :</strong> খালিসা বলতে সরকারি জমিকে বুঝানো হয়ে থাকে। এই সব ভূমি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়ে থাকে, অন্যদিকে জায়গীরের আওতাধীন জমির রাজস্ব জায়গীরদাররা আদায় করতো। খালিসা জমি ছিল রাজস্ব আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রত্যেক শাসক-ই খালিসা আয়তন বৃদ্ধির চেষ্টা করতেন। শাহ ওয়ালীউল্লাহর খালিসা ভূমির বৃদ্ধির প্রতি জোর দেন। বিশেষত দিল্লির আশপাশের অঞ্চল, হিসার ও সিরহিন্দে এই ধরনের ভূমি বৃদ্ধিতে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং অপর্যাপ্ত রাজস্ব আয়ের কারণে এই সম্পূর্ণ অঞ্চল অথবা এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অংশকে খালিসার আওতাধীন করার প্রস্তাবনা দেন।<sup>৬</sup></p>
<p><strong>৩. জায়গীরের সংখ্যা বৃদ্ধি :</strong> খালিসা ভূমির সংকোচনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই জায়গীরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কিন্তু এসকল ছোট জায়গীরদাররা তাদের আওতাধীন এলাকা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম ছিল না। যার ফলে তারা এসব ভূমি ভাড়া দিয়ে দিতে শুরু করে যা অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহর প্রস্তাবনা ছিল জায়গীরদারী প্রদানের ক্ষমতা কেবলমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে সীমাবদ্ধ থাকুক। এছাড়া ছোট-খাটো জায়গীরদার থেকে আদায় নগদে হওয়া উচিত, যেমনটা সম্রাট শাহজাহানের আমলে হতো। কেননা এসকল ছোট জায়গীরদাররা তাদের আওতাধীন ভূমি ভাড়ায় প্রদান করতো এবং বেশিরভাগই অর্থকষ্টে ভুগত। ফলে তারা রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারতো না।<sup>৭</sup></p>
<p><strong>৪. সেনাবাহিনী ও আমলাদের অনিয়মিত বেতন প্রদান :</strong> মুঘল সালতানাতের পতনের অন্যতম আরেকটি কারণ ছিল সেনাবাহিনী এবং আমলাদের বেতন প্রদানের স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয় ঘটা। এই ব্যত্যয় ঘটার কারণ যে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপর্যাপ্ততা তা আগেই বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহ সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিলম্বে বেতন প্রদানের কঠোর বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করেন, সৈন্যদের যদি বেতন পেতে দেরি হয় তবে তারা সুদের উপর ঋণ নিতে বাধ্য হবে। আর সুদের চক্রে আবর্ত হয়ে তারা আরো বেশি দুর্ভোগের শিকার হবে, ফলে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে না।<sup>৮</sup></p>
<p><strong>৫. করের বোঝা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়া :</strong> রাষ্ট্রের ব্যয় মিটাতে কৃষক ও কারিগর শ্রেণির উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কৃষক ও কারিগরি পেশায় লাভ কমতে থাকে, যা স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন কমিয়ে দেয়। শাহ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহতে এ ব্যপারে বলেন,”আরেকটি কারণ হচ্ছে করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া এবং কর আদায়ের নির্মম পন্থা”।<sup>৯</sup></p>
<p><strong>৬. উচ্চাভিলাষী জীবনযাত্রা :</strong> শাহ ওয়ালীউল্লাহ অর্থনৈতিক সংকটকে মুঘল সালতানাতের পতনের একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তবে একমাত্র কারণ হিসেব নয়। তিনি অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি উচ্চাভিলাষী জীবনযাত্রা, আখলাকী অধঃপতন, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক অস্থিরতাকে মুঘল সালাতানাতের পতনের কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেন।<sup>১০</sup> এখানে প্রত্যেকটি বিষয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, এসকল সংকটের মূলে রয়েছে আল-ইরতিফাকাত আশ-শারিয়াহর লঙ্ঘন করা। অর্থনীতির ক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহর প্রস্তাবিত সকল সমাধান মূলত তাঁর আল-ইরতিফাকাত তত্ত্বে চারটি পর্যায়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এই পর্যায়ে আমরা সংক্ষেপে আল-ইরতিফাকাত তত্ত্বকে বুঝার চেষ্টা করবো।<br />
<a href="https://rkmri.co/ypSeoeIMIR2A/" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Irtifakat-01.jpg" height="133" /></a><br />
<strong>আল-ইতিফাকাত তত্ত্ব</strong></p>
<p>ইরতিফাকাত একটি আরবি শব্দ, এর মূল হচ্ছে (র, ফা, ক্বফ)। যার অর্থ হচ্ছে সহনশীল হওয়া, দয়ালু, পরোপকারী, লাভজনক, সুবিধাজনক ইত্যাদি। ইরতিফাকাত শব্দটি দ্বারা সুবিধাজনক পথ, সাহায্যকারী উপাদান, লাভজনক পন্থা, কার্যকর প্রযুক্তি এবং ব্যক্তি জীবনে আদবের অধিকারী হওয়া বুঝিয়ে থাকে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ এই শব্দটিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিশেষ একটি পন্থা বুঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে, গ্রাম্য সমাজ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে চারটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিক সংগ্রাম গুরুত্ব পেয়েছে এবং শেষ পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ও আদালত প্রতিষ্ঠায় যথাযথ রাজনীতির বিকাশ গুরুত্ব পেয়েছে। শাহ ওয়ালীউল্লাহর সকল অর্থনৈতিক চিন্তা মূলত আল-ইরতিফাকাত তথা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বিকশিত হয়েছে।</p>
<p><strong>আল-ইরতিফাকাত এর প্রথম পর্যায়</strong></p>
<p>আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে জীবজন্তু, স্বচ্ছতা, পারস্পরিক যোগাযোগ, সমাজের পরিশুদ্ধি, বুদ্ধিবৃত্তি।<sup>১১</sup> আল-ইরতিফাকাতের প্রথম পর্যায় মানুষকে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতায় নিমজ্জিত না থেকে উন্মুক্তভাবে নিজের মত প্রকাশের সক্ষমতা অর্জন করার দিকনির্দেশনা দেয়। এই পর্যায়ে মানুষ তার শরীর গঠনের জন্য উপযুক্ত খাদ্য-দ্রব্যের সাথে পরিচিত হয় এবং এই সকল খাদ্য-দ্রব্যকে খাবার উপযোগী করার পদ্ধতির সাথে অবগত হয়। এছাড়াও এ জাতীয় ফসলের চাষাবাদ, সেচ, ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ থেকে শুরু করে এসকল ফসল রান্না করার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে হয়। সেই সাথে পশু-পালন ও গৃহপালিত পশু থেকে চামড়া, দুধ, ঘি ইত্যাদি উৎপাদনের মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার পদ্ধতিও শিখতে হয়। কেননা পশুপালন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানারোহণ ছাড়া ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে মৌলিক জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা থেকে সুরক্ষায় পশুর চামড়া থেকে তৈরি বস্ত্র কিংবা গাছের পাতার ছাউনি থেকে শুরু করে আধুনিক পোশাক ও বাসস্থান প্রণালীও এই পর্যায়ের আলোচনার বিষয়।</p>
<p>এছাড়াও পরিবাবের মৌলিক ধারণা, জৈবিক চাহিদা পূরণ ও প্রজননও এই পর্যায়ের আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু।<sup>১২</sup> এই প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ কৃষি ও বাসস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরি করে, পণ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিজেদের মাঝে একটি আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তুলে এবং মানুষের দ্বারা সৃষ্ট এই সমাজে মানুষ সামাজিক বিচার ব্যবস্থা ও ক্ষমতার একটি সুবিন্যস্ত কাঠামো গড়ে তুলে। যেখানে তাদের মধ্যকার বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি থেকে শুরু করে দুষ্কৃতিকারী-অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হয়। অন্যদিকে বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যায়ে একজন বুদ্ধিজীবী ঐ সমাজের বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য ইরতিফাকাতের পন্থা খুঁজে বের করেন, যেন সমাজের বাকিরা এই পন্থার আলোকে সমাজকে সাজাতে পারেন।</p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর আল ইরতিফাকাতের প্রথম পর্যায়ের বর্ণনায় আমরা একটি আদর্শ গ্রামীণ সমাজের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাপনার উল্লেখ দেখতে পাই। যেখানে একজন মানুষ তার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান থেকে শুরু করে সকল মৌলিক চাহিদাগুলো প্রকৃতি দেওয়া সুযোগ-সুবিধা থেকে পূরণ করে। এখানে সে সমাজের মাধ্যমে আদালত প্রতিষ্ঠা করে। এই ব্যবস্থাপনায় মানুষ তার অর্থনৈতিক চাহিদাগুলো সামাজিক রীতি-নীতির মাধ্যমে পূরণ করে। কিন্তু এই সামাজিক কাঠামোয় কর্মীয় শ্রেণিবিন্যাস খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না এবং এখানে আধুনিক বাজার ব্যবস্থাও অনুপস্থিত। মূলত আল-ইরতিফাকাতের প্রথম পর্যায় মানুষের সমাজকে পশুদের জীবনপ্রণালী থেকে পার্থক্য করে এবং একইসাথে এটি আল-ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়কে বুঝার প্রাথমিক শর্ত।</p>
<p><strong>আল-ইরতিফাকাত এর দ্বিতীয় পর্যায়</strong></p>
<p>মানুষ যখন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে তখনই সে আর্থ-সামাজিক উন্নতির স্তরে প্রবেশ করে।<sup>১৪</sup> এই পর্যায়ে এসে তার আখলাক ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ প্রথম পর্যায়কে ছাড়িয়ে যায়।<sup>১৫</sup> জীবনযাত্রায় জটিলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে সমাজ পরিচালনায়, নীতি-নির্ধারণে, আদর্শ মানদ- স্থাপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে থাকে। এই পর্যায়ে এসে তিনি ক্রমান্বয়ে ৫ টি হিকমত আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন-</p>
<p><em>১. হিকমত আল মাসিয়াহ বা জীবনযাত্রা সম্পর্কিত জ্ঞান। যা একটি নির্দিষ্ট মানদন্ডের আলোকে শিষ্টাচার</em><em>, </em><em>খাওয়া-দাওয়া</em><em>, </em><em>পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে শুরু করে আদব-কায়দা তথা বসবাস সম্পর্কিত সকল বিষয়কে পরিচালনা করে থাকে। </em></p>
<p><em>২. হিকমত আল মানজিলিয়াহ বা গার্হস্থ্য জীবন সম্পর্কিত জ্ঞান। যা মূলত বৈবাহিক জীবন</em><em>, </em><em>সন্তান লালন-পালন</em><em>, </em><em>আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা</em><em>, </em><em>পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখার আদব সম্পর্কিত জ্ঞান।</em></p>
<p><em>৩. হিকমত আল ইকতিসাবিয়াহ বা জীবিকা উপার্জন সম্পর্কিত জ্ঞান। ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যরে জানান দেওয়ার মাধ্যম কামার</em><em>, </em><em>ছুতোর থেকে শুরু করে সমাজে বিদ্যমান সকল পেশাই আল হিকমত আল ইকতিসাবিয়াহর আলোচ্য বিষয়।</em></p>
<p><em>৪. হিকমত আত-তামুলিয়াহ বা পারস্পরিক বিনিময় সম্পর্কিত জ্ঞান। পণ্যের কেনা-বেচা</em><em>, </em><em>উপহার প্রদান</em><em>, </em><em>মালিক-ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক</em><em>, </em><em>ঋণ</em><em>, </em><em>সঞ্চয়</em><em>, </em><em>বন্ধক</em><em>, </em><em>ওয়াকফ ইত্যাদি এখানের আলোচ্য বিষয়। </em></p>
<p><em>৫. হিকমত আল-তাউনিয়াহ বা সহযোগিতার প্রজ্ঞা। যা স্থায়ী জামিন</em><em>, </em><em>নীরব অংশীদারিত্ব</em><em>, </em><em>বাণিজ্যিক উদ্যোগ</em><em>, </em><em>পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এবং ভোগদখলের সাথে সম্পর্কিত।<sup>১৬</sup> </em></p>
<p>উপর্যুক্ত ৫টি হিকমতের মাঝে প্রথম দুটি হিকমত সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত এবং পরবর্তী তিনটি হিকমত অর্থনীতি সম্পর্কিত।<sup>১৭</sup> আমরা প্রথমেই উল্লেখ করেছি। ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায় মূলত প্রথম পর্যায়ের উপর ভিত্তি করে দাঁড় করানো হয়েছে। যার ফলে প্রত্যকটি ধাপ একটি আরেকটির সাথে সংযুক্ত। এজন্য প্রত্যেকটি বিষয় সামনে রেখে সামগ্রিক-সমন্বিত রূপে চিন্তা করতে হবে। যেমন ইরতিফাকাত এর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রথম দুটি বিষয়কে আমরা ইরতিফাকাত এর প্রথম পর্যায়েও খুঁজে পাই। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে ক্রমান্বয়ে পরিমার্জিত-পরিবর্ধিত ক্রমশ বিকশিত রূপের মাঝে। যেমন মানুষের উচিত তার দ্বীন নির্দেশিত পন্থায় খাদ্য, পানীয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সাজসজ্জা, পোশাক, বাসস্থান, কথা বলা, চলাফেরা, ভ্রমণ, বেচাকেনা, সহবাস, চিকিৎসা এবং স্বামী-স্ত্রী-সন্তানের সাথে তাকওয়ায় উন্নত নৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাপন করা।<sup>১৮</sup> শাহ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর বুদুর আল বাজিগাহতে একজন সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়ার আলোকে জীবনযাত্রার একটি মডেল দাঁড় করিয়েছেন।<sup>১৯</sup> যদিও আপাতত এটা আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। আমরা বরং আল ইরতিফাকাত এর দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ তিনটি হিকমত নিয়ে আলোচনা করবো। যেখানে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনকে আরো বিকশিত এবং শক্তিশালী করার প্রচেষ্ঠা করেছেন।</p>
<p><strong>হিকমত আল-ইকতিসাবিয়াহ</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর হিকমত আল-ইকতিসাবিয়াহ দ্বিতীয় ইরতিফাকাতের দিকগুলো হলো শ্রমের বিভাজন, বিশেষীকরণ, পেশাগত বৈচিত্র্য এবং অর্থের ব্যবহার।</p>
<p><strong>শ্রমের বিভাজন</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে মানুষ যখন আল-ইরতিফাকাত এর প্রথম পর্যায় ছাড়িয়ে আল-ইরতিফাকাত এর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন মানুষের নানাবিধ চাহিদা ও একক ব্যক্তির পক্ষে সে সকল চাহিদার যোগান দেওয়ার সামর্থ্যহীনতার ফলে স্বাভাবিকভাবেই শ্রম বিভাজনের সৃষ্টি হয়।<sup>২০</sup> এক্ষেত্রে তিনি কৃষিকে আমাদের সামনে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে দেখান যে, শুধুমাত্র কৃষি কাজ করতেই প্রশিক্ষিত গবাদি পশু, নানান ধরণের যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের পেশার মানুষের এখানে প্রয়োজন হয়। অনুরূপভাবে তিনি পোশাক শিল্পের উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করেন যে, যদি একই পরিবারের সবাই এসকল কাজ সম্পাদন করার চেষ্টা করে তবুও তারা আল-ইরতিফাকাতের প্রথম পর্যায়ে যে অবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে সেই অবস্থাকে উত্তরণ করে আল ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারবে না।<sup>২১</sup> এই আলোচনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, যখন কোনো সমাজ আল-ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন সেখানে বিশেষায়িত কাজের উপর বিশেষভাবে দক্ষ শ্রেণি নানা রকম পেশার সৃষ্টি করে।</p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, মৌলিক পেশাগুলো হলো কৃষিকাজ, পশুচারণ, সমুদ্র ও ভূমি থেকে প্রকৃতি প্রদত্ত নিয়ামত আহরণ যেমন ধাতু, গাছ, পশু-পাখি এবং এসকল নিয়ামত থেকে দক্ষতার মাধ্যমে শিল্প গড়ে তোলা যেমন ছুতোর, লোহার কাজ, বয়ন ইত্যাদি। দ্বিতীয় ধাপে আসে ব্যবসা-বাণিজ্য, নগর ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্যের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।<sup>২২</sup> তাঁর মতে, একটি নির্দিষ্ট পেশায় একজন ব্যক্তির জন্য বিশেষীকরণের দুটি কারণ রয়েছে-</p>
<p><em>১. উদাহরণস্বরূপ শারীরিকভাবে সক্ষম একজন শক্তিশালী মানুষ যুদ্ধের জন্য ভালো</em><em>; </em><em>অন্যদিকে তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি গণিতের জন্য উপযুক্ত</em><em>; </em><em>আবার একটি শক্তিশালী মানুষ অনেক ভারী জিনিস বহনের কাজের জন্য উপযুক্ত। </em></p>
<p><em>২. পরিবেশগত সুবিধা যেমন একজন কামারের ছেলে বা প্রতিবেশী সহজেই লোহার কাজ করতে পারে ঠিক তেমনি সমুদ্রের নিকটে বসবাসকারী ব্যক্তি মাছ ধরার সুবিধা পান যা পাহাড়ে বসবাসকারীরা পায় না।<sup>২৩</sup></em></p>
<p>পেশাগত বৈচিত্র্য একজন মানুষকে তার বিশেষ দক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে এবং এর ফলে ব্যক্তি একইসাথে সমাজের এবং নিজের প্রয়োজন পূরণ করে। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, ফরজে কিফায়ার বিধান রাখার অন্যতম একটি কারণ হলো সামাজিক কর্তব্যগুলোকে পেশাগত বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আদায় করা এবং বিশেষ দক্ষতার জন্য ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া। কেননা, সকলে একই কাজের উপযুক্ত নয়। প্রত্যেককে তার দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগাতে হয়।<sup>২৪</sup></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, প্রত্যেকের উচিত স্রোতের তালে গা না ভাসিয়ে তার নিজস্ব সক্ষমতার আলোকে পেশা নির্বাচন করা।<sup>২৫</sup> এক্ষেত্রে তিনি সংশ্লি­ষ্টদের উপযুক্ত কাজে যথাযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনে, বেকারত্ব নিরসনে এবং বিলাসিতা পরিহারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।<sup>২৫</sup></p>
<p><strong>সুযোগের সদ্ব্যবহার</strong><br />
<a href="https://rkmri.co/ypSeoeIMIR2A/" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Irtifakat-01.jpg" height="133" /></a><br />
আর্থ-সামাজিক চাহিদার কথা আলোচনা করতে গিয়ে শাহ ওয়ালীউল্লাহ নগরপতিদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প গ্রহণ ও সেই সকল প্রকল্পে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোক নিয়োগ না হয় এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন এসকল প্রকল্পের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের এমন সুযোগ-সুবিধা যেন প্রদান করা না হয় যাতে লোকেরা শিল্প, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মতো মৌলিক উৎপাদনমুখী পেশার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। কেননা এতে একইসাথে নাগরিকদের মধ্যে কিছু অংশ বিলাসিতায় নিমজ্জিত হয়, অন্যদিকে এধরণের পেশার মোহ কৃষি ও বাণিজ্যের প্রতি লোকদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়, ফলে উৎপাদন কমে যায়।<sup>২৭</sup></p>
<p><strong>মুদ্রার ব্যবহার</strong></p>
<p>শ্রমের বিভাজন এবং দক্ষতা ভিত্তিক পেশার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এমন একটি মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় যা দ্বারা সম্পদের বিনিময় সম্ভব। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই মুদ্রার উদ্ভব ঘটে। এভাবে আল ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে মুদ্রার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, মুদ্রা অবশ্যই বহনযোগ্য ও সর্বজনগ্রহণীয় বস্তু হওয়া উচিত।<sup>২৮</sup> তার আল-বুদুর আল-বাজিগা গ্রন্থে তিনি বলেছেন, মুদ্রার নিজস্ব উপযোগিতা থাকা উচিত নয়; বরং মুদ্রা হওয়ার শর্ত হচ্ছে তা বিনিময়ে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।<sup>২৯</sup> হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা-তে তিনি উল্লেখ করেছেন, সোনা এবং রুপা মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কারণ, এগুলো সহজেই ছোট ছোট টুকরোয় বিভক্ত করা যায় এবং খন্ডগুলোর মাঝে সাদৃশ্য বজায় থাকে। এছাড়াও এসকল ধাতু সকল মানুষের কাছেই গ্রহণযোগ্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এসকল ধাতু মুদ্রা হিসেবে ব্যবহারের জন্য আদর্শ।<sup>৩০</sup> এভাবে মূলত তিনি, যারা বলেন মুদ্রার নিজস্ব মূল্যমান থাকার প্রয়োজন নেই, তাদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি মুদ্রা ব্যবস্থাকে ধাতব মুদ্রা এবং টোকেন মুদ্রা (বর্তমানে ব্যবহৃত মুদ্রা) এই দুভাগে বিভক্ত করেন এবং টোকেন মুদ্রার মানের দ্রুত পরিবর্তনশীলতার উপর ভিত্তি করে এ মুদ্রা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্ন নিয়ম-নীতি দাঁড় করান।</p>
<p><strong>হিকমত আত-তামুলিয়াহ</strong></p>
<p>হিকমত আত-তামুলিয়াহর অধীনে শাহ ওয়ালীউল্লাহ বাণিজ্য, নিয়োগ, দান, ঋণ এবং বন্ধকী নিয়ে আলোচনা করেন। শ্রম বিভাজন এবং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি অর্থনীতির জন্য এই ধরনের লেনদেনগুলো অপরিহার্য। কেননা এ ধরনের লেনদেনে জড়ানো ছাড়া কোনো সমাজ আল-ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে না। এই সকল লেনদেনের পেছনে মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা করা, সম্পদ ও শ্রমের বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করাই মূল উদ্দেশ্য। সেই সাথে লেনদেনের মাধ্যমে আমানতদারিতা, বিশ্বস্ততা কামালিয়্যাত লাভ করে। মানুষের সাথে মানুষের এ ধরনের বিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে উঠা পারস্পরিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বান্দা তার রবের কাছে মূল্যায়িত হবে। দুনিয়ার এসকল লেনদেনের ফলাফল সে আখিরাতে লাভ করে। শাহ ওয়ালীউল্লাহ ফিকহের আদলে এই চুক্তিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং বৈধতা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য শরীয়াহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি আরো বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন।<sup>৩১</sup> তিনি হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগায় পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামের উপস্থাপিত বিধানগুলোর পেছনের হিকমতগুলো নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।<sup>৩২</sup> ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে তিনি সদকাহ (দাতব্য), ওয়াসিয়্যাহ (ইচ্ছা) এবং ওয়াকফ (ধর্মীয় দান ও ট্রাস্ট) এর মতো পুণ্য ও কল্যাণের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত পারস্পরিক লেনদেনের আরো কিছু বিধানের হিকমত ব্যাখ্যা করেছেন।<sup>৩৩</sup> তাঁর মতে, ওয়াকফের ধারণা ইসলাম আসার পূর্বে মানুষের কাছে অজানা ছিল। এসকল নতুন সামাজিক প্রতিষ্ঠান হযরত মুহাম্মদ (স.) বিভিন্ন কল্যাণের বিবেচনায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ওয়াকফের মাধ্যমে দাতার আয়ের উৎস থেকে অভাবী লোকেরা উপকৃত হয়, তবে মালিকানা ওয়াকফকারীর অধীনেই থাকে।<sup>৩৪</sup></p>
<p><strong>পারস্পরিক লেনদেনে স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের অভ্যাস</strong></p>
<p>বিবাদ এবং শোষণ দূরীভূত করতে শরীয়ত এমন সব চুক্তিকে নিষিদ্ধ করে যার মাধ্যমে অকল্যাণ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে (ফিকহের পরিভাষায় সাদদুয জারিয়াহ বলা হয়ে থাকে -অনুবাদক)। যেমন অনিশ্চয়তার উপর ভিত্তি করে সম্পাদিত চুক্তি, প্রতারণা, দ্বিমুখী লেনদেন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিশেষভাবে সুদ, ঘুষ এবং জুয়া চর্চার প্রতি লক্ষ্য রাখেন।<sup>৩৫</sup> তিনি বলেন, এই সামান্য বিষয়গুলো বড় বড় বিষয়গুলোকে প্রভাবিত করে। এজন্য শরীয়ত এগুলোর সবগুলোকেই নিষিদ্ধ করে।<sup>৩৬</sup> তাঁর মতে, যখন সুদ সমাজে বিস্তার লাভ করে তখন তা সরাসরি কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনকে বাঁধাগ্রস্ত করে। অথচ কৃষি ও শিল্প সরাসরি মানব সমাজের জীবনধারণ ও আয়ের উৎস। প্রকৃতপক্ষে সুদ এবং জুয়া উভয়ই মদ্যপানের সমতুল্য, কারণ উভয়ই জীবিকা অর্জনের জন্য আল্লাহ যে নীতি নির্ধারণ করেছেন তার স্পষ্ট লঙ্ঘন।<sup>৩৭</sup></p>
<p><strong>রিবা আল-ফাদল এবং রিবা আল-নাসিআহ</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে যে সুদ(লভ্যাংশ) নেওয়া হয় সেটাকেই প্রকৃত সুদ (আর-রিবা আল-হাকীকী) হিসাবে বিবেচনা করেন।<sup>৩৮</sup> তিনি শরীয়তে রিবা আল-ফাদল এবং রিবা আল-নাসিয়াহ হিসাবে আখ্যায়িত পরিমাণ বা সময়ের ক্ষেত্রে বৈষম্যপূর্ণ বিনিময়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি এসবকে সুদের উপমা হিসেবে গণ্য করেন।<sup>৩৯</sup> সুদের উপর এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রাসূলুল্লাহর রেওয়ায়েত থেকে জানা যায়। রাসূল (স.) বলেছেন সোনার বদলে সোনা, রুপার বদলে রুপা, গমের বদলে গম, যবের বদলে যব, খেজুরের বদলে খেজুর এবং লবণের বদলে লবণ একই পরিমাণে বিনিময় করতে হবে।</p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, এই ধরনের সুদকে নিষিদ্ধ করার কারণ হলো, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বস্তুবাদের প্রতি মানুষের অত্যধিক ঝোঁককে সংযত করা।<sup>৪০</sup> কারণ সমপরিমাণ পণ্যের সাথে সমপরিমাণ পণ্যের আদান-প্রদান কখনোই মানুষের অত্যধিক সম্পদ লাভের বাসনা মেটায় না; বরং সংযত হতে বাধ্য করে। যদিও এই আলাপ অনেকের কাছে যুতসই নাও ঠেকতে পারে, তবুও ন্যায্যতার মানদন্ডে বিচার করলে নিম্নমানের গমের বিনিময় কেউ-ই ভালো মানের গম দিয়ে করবে না, কিন্তু রিবা আল-ফাদল মূলত এই বৈষম্যই তৈরি করে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলেমগণের মাঝে ইমাম ইবনুল কাইয়ূমের (১৩৫২ খ্রি.) মত অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। তাঁর মতে, রিবা আল-ফাদলকে নিষিদ্ধ করার মূল কারণ হচ্ছে, সুদের অবাধ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালনে বাধা দান করা।</p>
<p><strong>হিকমত আত-তাউনিয়্যাহ </strong></p>
<p>আল-ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়ের পঞ্চম হিকমতটি অর্থনীতির ক্ষেত্রে আর্থ-সামাজিক সহযোগিতার সাথে সম্পর্কিত। শাহ ওয়ালীউল্লাহ এ পর্যায়ে বলেন, “আর্থ-সামাজিক সহযোগিতা প্রয়োজন সমাজের নিজের প্রয়োজনেই। কেননা সমাজের কিছু মানুষ বুদ্ধিমান আবার কিছু মানুষ হয় নির্বোধ, কিছু পুঁজিপতি তো আবার কিছু লোক একেবারে হতঃদরিদ্র কিন্তু কঠোর পরিশ্রমে সক্ষম। কিছু মানুষ ছোটখাটো কাজ করতে অপছন্দ করে আবার কিছু মানুষ স্বাচ্ছন্দেই তা করে যায়। এখান থেকে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে মানুষের জাগতিক জীবন খুব কঠিন হয়ে উঠতো, যদি তারা একে অপরকে সহযোগিতা না করতো। মুজারাহ (শস্য বিনিময়)কে যদি উদাহরণ হিসেবে ধরি তাহলে দেখা যায়, একজন ব্যক্তির জমি আছে কিন্তু বীজ নেই, চাষ দেওয়ার জন্য বলদ নেই ফলে সেই ব্যক্তির পক্ষে কখনোই ফসল ফলানো সম্ভব নয়। অথবা আমরা যদি মুদারাবাহর থেকে উদাহরণ দেই যেমন একজন ব্যক্তির পুঁজি আছে কিন্তু সে ব্যবসা করার মতো পরিস্থিাতিতে নেই, কিন্তু অন্য আরেকজনের ব্যবসা করার মতো সক্ষমতা আছে কিন্তু পুঁজি নেই। এখানে প্রয়োজন উভয়ের পারস্পরিক সহযোগিতা”।<sup>৪১</sup></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহতে এরকম বিভিন্ন প্রকারের সম্পর্ক উল্লেখ করেছেন। যা মূলত ফিকহের গ্রন্থগুলোয় বিশদভাবে ঠাঁই পেয়েছে। তিনি বলেন, এসব লেনদেনের পন্থা নবী করিম (স.) এর পূর্বেও প্রচলিত ছিল। এগুলো রাসূল (স.)-এর বিশেষ কোনো কারণবশত নিষেধ ছাড়া সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।<sup>৪২</sup></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আল-ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায়</strong></p>
<p>দ্বিতীয় পর্যায়ের ইরতিফাকাত পূর্ণতা পেলে মানব সমাজ নগর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শাহ ওয়ালীউল্লাহ খুব জোর দিয়েই বলেন নগর মানে বড় বড় বাজার, উঁচু উঁচু দালান আর প্রাচীর না। বরং শহর হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক, যেখানে সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও নানা ধরনের লেনদেন।<sup>৪৩</sup> মানুষের মধ্যকার এই আন্তঃসম্পর্ক রক্ষা এবং অর্থনীতিকে বিভিন্ন দুষ্ট চক্র থেকে হেফাজত রাখার প্রয়োজনীয়তা সমাজকে আল-ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, নগর হচ্ছে একটা একক বা বলা যায় একটি শরীরের মতো এবং একটি শরীরের মতো এরও আভ্যন্তরীণ ও বহির্গত অনেক রোগ হতে পারে। এজন্য প্রত্যেকটি শহরের একজন দক্ষ চিকিৎসকের খুব বেশি প্রয়োজন। শহরের ইমাম বা নেতৃত্ব এই পর্যায়ে নগর চিকিৎসকের প্রতিনিধিত্ব করেন।<sup>৪৪</sup> ইমাম বা নেতৃত্ব এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার মাধ্যমে শহরের অখ-তা, স্বার্থ এবং স্বাধীনতা বজায় থাকে।<sup>৪৫</sup> আল-ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায়ে নিম্নলিখিত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর মাধ্যমে নগর-রাষ্ট্রের অগ্রগতি অব্যাহত থাকে এবং দুর্নীতি, অপব্যবহার, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষয়-ক্ষতির মতো অসুখগুলোর যথাযথ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা যায়।</p>
<p><strong>১. বিচার বিভাগ :</strong> কৃপণতা, হিংসা এবং অন্যের অধিকার হরণ যখন সামাজিক জীবনে প্রবেশ করে, তখন একটি নগর-রাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে বিবাদ ও মতানৈক্য তৈরি হতে বাধ্য। তাই একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে যার কাছে বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তির জন্য আসতে পারে।</p>
<p><strong>২. নির্বাহী বিভাগ :</strong> যখন বিকৃত স্বভাব ও ক্ষতিকর কর্মকা- মানুষের মাঝে প্রাধান্য পায় এবং মানুষ সেই অনুযায়ী কাজ করে, তখন নগর-রাষ্ট্র অপরাধপ্রবণ ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। তাই এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি শক্তিশালী সংস্থা থাকা উচিত।</p>
<p><strong>৩. আল-জিহাদ বা পুলিশ ও সামরিক বাহিনী :</strong> দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকৃতির লোকেরা প্রায়শই হত্যা, ডাকাতি বা বিদ্রোহের মতো হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একটি শহরের শান্তি ও শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করে। এই ধরনের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তাদের সৃষ্ট দুর্ভোগ থেকে নগর-রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য, সাহসী যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী অপরিহার্য।</p>
<p><strong>৪. আত-তাওয়াল্লি ওয়াল-নাকাবা বা কল্যাণ ও জনসাধারণের উপকারে কাজ :</strong> শহরে নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট সংস্থা থাকে যা একটি শহরকে নিখুঁত নগর-রাষ্ট্রে পরিণত করে। তবে এখানে যদি জনসাধারণের উপকারে কাজ করবে এমন প্রতিষ্ঠানের অভাব থাকে তাহলে এই নগরকে রক্ষা করা কঠিন। একটি নগর-রাষ্ট্রকে স্থায়িত্ব দিতে হলে জনসাধারণ সম্পর্কিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে, যেমন সীমান্ত রক্ষা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, বাজার নির্মাণ করা, সেতু-খাল নির্মাণ, এতিমদের বিয়ে দেওয়া এবং তাদের সম্পত্তি রক্ষা, অভাবগ্রস্তদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাহায্য বণ্টন, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে উত্তরাধিকার বণ্টন। রাষ্ট্রের নানা বিষয়ের হাল-হাকীকত সম্পর্কে অবগত করা ও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং আয় ও ব্যয়ের হিসাব রাখা।</p>
<p><strong>৫. আল-মাওইজাহ ওয়াল-তাজকিয়াহ বা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা :</strong> যেহেতু সত্য ধর্ম কখনোই মানুষকে নৈতিক জ্ঞান প্রদান থেকে বিতাড়িত করে না যদিও বিচক্ষণ মানুষ তার বিচক্ষণতা দিয়েই ধর্মের এসব জ্ঞানকে উপলব্ধিতে নিয়ে আসে কিন্তু সমাজে এমনও অসংখ্য মানুষ রয়েছে যা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজের নফসের প্ররোচনায় পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের মানুষের একজন মহৎ ব্যক্তির সাহচর্য প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এসব মানুষকে সঠিকভাবে জীবন পরিচালনায় শিক্ষা প্রদান করতে পারেন।<sup>৪৬</sup></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ ইমামদেরকে জনগণ এবং সেনাবাহিনীর সাথে ন্যায়পরায়ণ আচরণ করার এবং সেনাবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।<sup>৪৭</sup> এই পর্যায়ে সরকারের দায়িত্ব হবে বিভিন্ন শিল্প ও সেবায় কর্মসংস্থানের যথাযথ ব্যবস্থা করা। ব্যবসায়ী ও কৃষকদের তাদের স্ব স্ব পেশায় উৎসাহিত করা এবং তাদের যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থাও করা। এক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর সময়ের খারাপ অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে পূরণ হয়নি। শাহ ওয়ালীউল্লাহ বলেন, “আমাদের সময়ে শহরগুলোর পতনের দুটি প্রধান কারণ রয়েছে।</p>
<p><em><strong>এক. লোকেরা বাইতুল-মালের (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) উপর বোঝা চাপিয়ে দেয়। তারা যোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কবি হওয়ার অজুহাতে এখান থেকে তাদের জীবিকা অর্জনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।</strong></em></p>
<p><em><strong>দুই. কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের উপর ভারী কর আরোপ এবং তাদের প্রতি কঠোরতা, যা অনুগত কর্মকর্তাদের মধ্যেও হতাশা সৃষ্টি করে এবং একইসাথে ভিনদেশীদের কর ফাঁকি ও বিদ্রোহ আমাদের পতনকে ত্বরান্বিত করে।”</strong></em></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে পরিচালনা করতে হবে তার উপর বিশদ নীতি প্রণয়ন করেছেন। তিনি একজন সফল নেতার গুণাবলিও বর্ণনা করেছেন।<sup>৪৯</sup></p>
<p><strong>রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি</strong></p>
<p>আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চতুর্থ ও শেষ পর্যায় নিয়ে আলোচনা করার আগে, এখানে জাতীয় অর্থনীতি, কর আদায়ে পালনীয় নিয়মাবলি এবং রাজস্ব ব্যয় সম্পর্কে শাহ ওয়ালীউল্লাহর ধারণার সাথে পরিচিত হওয়া দরকার। তাঁর মতে, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে সফল হতে হলে জাতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থা আবশ্যক। ভারতে মুঘল শাসনের দুর্বলতা ও পতনের প্রধান কারণ হিসেবে বাইতুল-মালের অস্বচ্ছলতা এবং জনগণের উপর অতি নির্ভরশীলতা কীভাবে চিত্রায়িত করেছেন তা আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি। একই কথা পারস্য এবং বাইজেন্টাইন সাম্রারাজ্যের ক্ষেত্রেও সত্য।<sup>৫০ </sup></p>
<p>করের নিয়ম সম্পর্কে শাহ ওয়ালীউল্লাহ পরামর্শ দেন যে, কর ধার্য ও আদায়ের একটি ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক যাতে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কর থেকে প্রাপ্ত আয় রাষ্ট্রের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত হয়।<sup>৫১</sup> প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রতিটি পণ্যের উপর কর আরোপ করা উচিত নয়। এটি এমন লোকদের উপর হওয়া উচিত যাদের ক্রমবর্ধমান সম্পত্তি যেমন গবাদি পশুর প্রজনন, কৃষি খামার, গচ্ছিত সম্পদ এবং ব্যবসা রয়েছে। যদি আরো অর্থের প্রয়োজন হয় তবে শারীরিক শ্রমে উপার্জনকারী জনসংখ্যাকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।<sup>৫২</sup> তবে তাঁর প্রস্তাবনা হচ্ছে, যে রাষ্ট্রের অর্থ আয়ের নিজস্ব কিছু উপায় থাকা উচিত যেমন অনাবাদি জমি লিজ দেওয়া, গবাদি পশুর পালন ইত্যাদি উৎপাদনশীল কর্মকান্ড। এটি রাষ্ট্রকে জনগণের আয় থেকে কর্তন করার নির্ভরশীলতা থেকে স্বাধীন করবে এবং সামগ্রিকভাবে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।<sup>৫৩</sup> তবে এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, তিনি শরীয়ত নির্ধারিত উৎসগুলো থেকে প্রাপ্ত সম্পদ যেমন গনীমত, ফাই, উশর, খারাজের উপর কর কোন হারে আদায় হবে এ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা করেননি। শাহ ওয়ালীউল্লাহ রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎসের বর্ণনায় যাকাতকেও উল্লখ করেননি। উল্লেখ না করার কারণ, এসকল বিষয়ে শরীয়তের মানদন্ড পূর্বে নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবে এই আলোচনা তাঁর গ্রন্থে ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের সাথে এসেছে। আরেকটি কারণ হতে পারে যে, মুঘল আমলে সুদীর্ঘকাল থেকে সরকার কর্তৃক যাকাত আদায় ও বণ্টন বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বর্তমানে যাকাতের অর্থ সংগ্রহ এবং বিতরণ শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত কার্যকলাপে পরিণত হয়েছে। তবে ব্যয়ের বিষয়ে যতদূর আলোচনা হয়েছে তাতে এটি স্পষ্ট যে, আল-ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায়ের অধীনে উল্লিখিত সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান যথাযথ অংশ পাবে। তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত, তারপরের গুরুত্বপূর্ণ (আলহাম ফাল-আহাম্ম) এভাবে গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে খাত নির্ধারণের নীতিতে বিবেচনা করা হবে।<sup>৫৪</sup></p>
<p>যুদ্ধের পর কাফেরদের কাছ থেকে দখলকৃত জমি সম্পর্কে তার অভিমত হলো, হয় এর বণ্টন করে দিতে হবে অথবা বিদ্যমান শাসক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিবেন।<sup>৫৫</sup> তাঁর ইজালাতুল-খাফা গ্রন্থে তিনি দ্বিতীয় খলীফা ওমর (রা.)-এর জমির মালিকানা পূর্ববর্তীদের হাতে সোপর্দ করার অনন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পারস্যের লোকেরা যারা মুসলিম সৈন্যদের সাথে যুদ্ধ করেছিল তারা বিজিত জমির মালিক ছিল না; প্রকৃতপক্ষে মালিক হচ্ছে ঐসকল কৃষক যারা প্রকৃত যুদ্ধ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেছিলেন। শাহ ওয়ালীউল্লাহ এমন কোনো ব্যক্তিকে জমি দেওয়ার বিরোধিতা করেন যাকে ব্যবসা কিংবা কৃষিতে নয় বরং সমাজের এর চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজন।<sup>৫৭</sup> যাকাত এবং এর বণ্টন সম্পর্কে শাহ ওয়ালীউল্লাহ আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন। তার মতে, যাকাত প্রদান শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এটি প্রধানত মূল্যবান ধাতব সম্পদ, পশুসম্পদ, বাণিজ্যিক পণ্য এবং কৃষি পণ্যের উপর ধার্য করা হয়। যাকাত প্রদানকে সহজ করার জন্য একটি উপযুক্ত সময়কাল এবং একটি অব্যহতির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।<sup>৫৮</sup> তিনি যাকাত প্রদানের মাধ্যমে সৃষ্ট আধ্যাত্মিক কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছেন এবং যাকাতকে ভিত্তি হিসেবে ধরে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।<sup>৫৯</sup> সমুদ্র বা পাহাড়ি দ্রব্য এবং শুকনো ফল যাকাতের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে কিনা তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এ ব্যপারে শাহ ওয়ালীউল্লাহর অভিমত হচ্ছে, শাসক যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তিনি তা করতে পারেন।<sup>৬০</sup> তবে ঐতিহাসিক প্রমাণ থেকে দেখা যায় যে, শাহ ওয়ালীউল্লাহর সময়ে যাকাত সরকার কর্তৃক পরিচালিত হতো না, তাই এটিকে শাহ ওয়ালীউল্লাহর কেবলমাত্র একটি একাডেমিক মতামত বা একটি পরামর্শ হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে। তবে এর মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, তিনিও মনে করেন যাকাতের ব্যবস্থাপনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।</p>
<p><strong>আল-ইরতিফাকাতের চতুর্থ পর্যায়</strong></p>
<p>এই পর্যায়ে এসে মানব সমাজ ও সরকার আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করে এবং ছোট ছোট শাসনের উপর কেন্দ্রীয় শাসনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যখন ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায় সম্পাদিত হয়ে যায় তখন বিভিন্ন স্থানের শাসকদের নিজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়, তারা সাহসী যোদ্ধাদের সমর্থন লাভ করে কিন্তু তাদের পারস্পরিক সুরক্ষা বিধান ও লোভ তাদের মধ্যে শত্রুতার জন্ম দেয় ফলে এসকল শাসকেরা পরস্পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে জীবন ও জীবিকার ব্যপক প্রাণহানী ঘটে এবং পূর্বের সকল ইরতিফাকাত ধুলোয় মিশে যায়। এসকল সমস্যা একটি কেন্দ্রীয় শাসন বা খিলাফত আল খুলাফাকে প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করে।<sup>৬১</sup> এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শাসককে সামরিক এবং বস্তুগত দিক থেকে অন্তত এতটুকু শক্তিশালী হতে হবে যেন অন্য কোনো শক্তি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হওয়ার দুঃস্বপ্ন না দেখে।<sup>৬২</sup> জনসাধারণের জীবনের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে খলিফা দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করবেন।<sup>৬৩</sup></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ আন্তর্জাতিক চরিত্রের এই কেন্দ্রীয় সরকারকে কোনো অর্থনৈতিক দায়িত্ব অর্পণ করেননি, তবে শান্তিরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রদান এবং শোষণ রোধ করার দায়িত্ব পালনের জন্য এই কেন্দ্রীয় শাসকের প্রচুর লোক এবং উপাদানের প্রয়োজন হবে। এসকল খরচ মেটাতে বিভিন্ন কর ধার্য করা এবং এসকল বিষয় পরিচালনা করার অর্থ প্রয়োজন পড়বে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্রোহী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আর্থিক শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের শাস্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংস্কার করা এবং সেগুলোকে শৃঙ্খলায় আনা, তহবিল সংগ্রহ নয়।<sup>৬৪</sup> শাহ ওয়ালীউল্লাহ একজন যোগ্য ও সফল খলিফার গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং দায়িত্ব পালনে তাঁর ভূমিকাকে দৃঢ় ও কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন।<sup>৬৫</sup><a href="https://rkmri.co/ypSeoeIMIR2A/" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Irtifakat-01.jpg" height="133" /></a></p>
<p><strong>ইরতিফাকাত</strong><strong>; </strong><strong>একটি স্বাভাবিক বিকাশ পদ্ধতি</strong></p>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, ইরতিফাকাত হচ্ছে একটি স্বাভাবিক বিকাশ পদ্ধতি।<sup>৬৬</sup> তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে সেটা মূলত মানুষের খারাপ অভ্যাস ও অসৎ প্রকৃতির কারণে সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠান হিসেবে নবুওয়তের উদ্দেশ্যও ছিল মানুষকে ইরতিফাকাতের মাধ্যমে বিকশিত করা এবং এই পথে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সকল বাধাকে দূরীভূত করা। শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, গার্হস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা কোরআনী শরীয়তের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, রাসূল (স.)-এর দায়িত্ব ছিল ইরতিফাকাতের দ্বিতীয় পর্যায়কে পরিশুদ্ধ করা এবং তৃতীয় পর্যায়ের ইরতিফাকাত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া এবং এই দ্বীনকে চতুর্থ পর্যায়ের ইরতিফাকাতের মাধ্যমে দুনিয়ার কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করা।<sup>৬৮</sup> এভাবে তিনি আর্থ-সামাজিক বিকাশ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে একত্রিত করে ‘ইকতিরাবাত’ নামে নতুন একটি পরিভাষার জন্ম দেন। ইকতিরাবাতের মাধ্যমে একজন মানুষ তার আত্মপরিশুদ্ধিকে আরো বিকশিত করে।<sup>৬৯</sup> যাহোক এখন আমরা আবার আমাদের পূর্বের আলোচনায় ফিরে আসি।</p>
<p>এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার, তা হচ্ছে অর্থনীতির ক্ষেত্রে শাহ ওয়ালীউল্লাহর উল্লিখিত শ্রম বিভাজন, মুদ্রার বিনিময়, বাজার, সুদের বিকাশ রোধ, যাকাত, জাতীয় অর্থনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে শাহ ওয়ালীউল্লাহর পূর্ববর্তী আলেমগণ যেমন ইমাম আবু ইউসুফ (মৃত্যু : ৭৯৮ খ্রি.), ইমাম গাজ্জালী (মৃত্যু : ১১১১), ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু : ১৩২৮), ইমাম ইবনুল কাইয়্যুম (মৃত্যু : ১৩৫২), ইবনে খালদুন (মৃত্যু : ১৪০৬) সহ আরো অনেকে আলোচনা করেছেন। কিন্তু শাহ ওয়ালীউল্লাহ কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিক্ত করে ইরতিফাকাতের মূলনীতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।</p>
<p>প্রথম পর্যায় একেবারেই নিখাদ ঐতিহ্যবাহী আলোচনা যেখানে মানুষ কেবল খাবার এবং মৌলিক প্রয়োজন পূরণে ব্যস্ত। কিন্তু আস্তে আস্তে শ্রমের বিভাজন, দক্ষতা ভিত্তিক শ্রেণির বিকাশ মুদ্রার বিনিময় ঘটাতে বাধ্য করে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির বিকাশ সাধন ও মানুষের মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ককে কিছু মৌলিক চুক্তির উপর নিয়ে আসে। এটা আর্থ-সামাজিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই স্তর থেকেই মৌলিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিকশিত হতে শুরু করে এবং ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সদস্য হিসেবে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করে। এই স্তরেই আর্থ-সামাজিক বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো আর্থ-সামাজিক দুষ্টচক্রের প্রতিকার সাধন করে সমাজের জন্য একটি সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ ও অবকাঠামোর সৃষ্টি হয়। অর্থনীতি যখনই দ্বিতীয় স্তর অতিক্রম করে ফেলে তখন রাষ্ট্রের তথা শাসকের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।</p>
<p>এভাবে মানব সমাজ ইরতিফাকাতের তৃতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করে এবং নগর-রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্রে রূপলাভ করে। এই পর্যায়ে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি বজায় রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর অর্পিত হয়। জাতিরাষ্ট্রের মাঝে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রতিকারে জাতিরাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী কর্তৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের জন্ম দেয়। আর এভাবে মানব সমাজ ইরতিফাকাতের চতুর্থ পর্যায়ে প্রবেশ করে।</p>
<p>তবে শাহ ওয়ালীউল্লাহ এই কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেননি। কেন জড়িয়ে পরেননি এর উত্তরে বলা যায়, হয়ত শাহ ওয়ালীউল্লাহর সময়ে তিনি তেমনটা প্রয়োজনবোধ করেননি। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ দূর্বল রাষ্ট্রগুলোকে সাহায্য করে থাকে যা শাহ ওয়ালীউল্লাহ ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলোকে পারস্পরিক বিরোধ থেকে বাঁচানো এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে সাহায্য করার নীতিরই বাস্তবায়ন।</p>
<p><strong>শাহ ওয়ালীউল্লাহ এমন এক সময়ে আর্থ-সামাজিক বিকাশের এই সিস্টেমটি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরেন যখন দুনিয়ায় এই বিষয়টি তখনো একটি সাবজেক্ট হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর এমন কৃতিত্ব তাঁকে জ্ঞানের এই ক্ষেত্রে প্রধান গোড়াপত্তনকারীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করতে বাধ্য করে। তাঁর ইরতিফাকাতের তত্ত্ব এতবেশি সামগ্রিক যে বিংশ শতাব্দীর অসংখ্য মডেল এই তত্ত্বে অনায়াসেই ঠাঁই পেতে পারে।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তথ্যসূত্র :</p>
<ol>
<li>1. Schumpeter, J. A., <em>History of Economic Analysis</em>: London, George Allen and Unwin, 1972, p.73; Mazer, A J., &#8220;<em>Economic Thought and Its Application and Methodologz in the Middle East&#8221;</em> Middle East Economic Papers, Beirut, vol. 56, pp. 66-74.</li>
<li>2. Here are a few of them: Siddiqi, M.N., Recent Works on History of Economic Thought in Islam &#8211; A Survey, Jeddah, ICRIE, 1982; Islahi, Abdul Azim, Economic Thought of Ibn al-Qazzim, Jeddah, ICRIE, 1984; Islahi, Abdul Azim, Economic Concepts of Ibn Taimizah, Leicester, The Islamic Foundation, 1988.</li>
<li>3. For example, Ahmad, B., <em>Imam Wali-Allah Dehlawi awr unka Falsafah-e- Umraniyat wa Ma`ashizat</em> (<em>Shah Wali-Allah Dehlawi and his Philosophy of Sociology and Economics</em>), Lahore, Bait al-Hikmat, 1945.</li>
<li>4. Tadhkirah Adil Khan (Manuscript), p. 34, Quoted by Nizami, K. A., in his edited work: <em>Shah Wali-Allah Ke Siyasi Maktubat</em> (Political Letters of Shah Wali-Allah), Aligarh, 1950, p. 162.</li>
<li>5. <em>Dehlawi, Shah Wali-Allah, Shah Wali-Allah Ke Siyasi Maktubat</em> (<em>Political Letters of Shah Wali-Allah</em>), Nizami, K. A. (ed.), op. cit., p. 53.</li>
<li>Ibid. p. 52.</li>
<li>Ibid. p. 42.</li>
<li>Ibid.</li>
<li>Dehlawi, Shah Wali-Allah, <em>Hujjat-Allah al-Balighah</em> (Henceforth Hujjat), Beirut, Dar</li>
</ol>
<p>al-Fikr, n.d. vol. 1, p. 45.</p>
<ol start="10">
<li>Ibid. p.l06, Siyasi Maktubat, op. cit., pp. 43, 52, 83, 84. Shah Wali-Allah addresses different sections of the society and warns them of bad consequences of their sinful behaviour, cf. Dehlawi, Shah Wali-Allah, <em>al-Tafhimat al-Ilahiyah, Dabhel, al-Majlis al-`Ilmi</em>, n.d.</li>
<li>Dehlawi, Shah Wali-Allah, <em>al-Budur al-Bazighah</em> (henceforth al-Budur), Dabhel, al-Majlis al-`Ilmi, p. 51.</li>
<li>Ibid. pp. 53-54, <em>Hujjat</em>, op. cit., vol. 2, pp. 39-40</li>
<li>Hujjat, op. cit., p. 40.</li>
<li>al-Budur, p. 50.</li>
<li>Ibid. p. 52.</li>
<li>Ibid. p. 50.</li>
<li>Ibid. p. 51.</li>
<li>Ibid. p. 55.</li>
<li>Ibid. pp. 55-60.</li>
<li>Ibid. p. 60.</li>
<li>Ibid. pp. 66-67.</li>
<li>Ibid. p. 67; <em>Hujjat</em>, vol. 1, p. 43.</li>
<li>Ibid.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 1, p. 97</li>
<li><em>al-Budur</em>, op. cit., p. 68.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 105.</li>
<li>Ibid. p. 106.</li>
<li>Ibid. vol. 1, p. 43.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 67.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 43</li>
<li><em>al-Budur</em>, pp. 68-69.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, pp. 112-113.</li>
<li>Ibid. pp. 114-116.</li>
<li>Ibid. p. 1l6. This view is held by him although some others do not agree that the donor&#8217;s right of ownership rests with him.</li>
<li><em>al-Budur</em>, 69, 78; <em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 106.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 106.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2. p. 106.</li>
<li>Ibid. p. 107.</li>
<li>Ibid.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 70.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2 p. 1l7.</li>
<li><em>al-Budur</em>, pp. 50-51.</li>
<li>Ibid. p. 51.</li>
<li>Ibid. p. 71.</li>
<li>Ibid. pp. 71-72.</li>
<li>Ibid. p. 73.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 1, pp. 44-45.</li>
<li>Ibid. pp. 45-47;<em> al-Budur</em>, pp. 73-85.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 1, p. 105.</li>
<li>Ibid. p. 46; <em>al-Budur</em>, p. 85.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 1, p. 46.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 85.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 174.</li>
<li>Ibid. p. l71.</li>
<li>Dehlawi, Shah Wali-Allah, <em>Izalat al-Khafa, Bareilz</em> (India), 1286 H., vol. 2, p. 264.</li>
<li><em>Hujjat</em>, vol. 2, p. 104.</li>
<li><em>al-Budu</em>r, pp. 120, 214.</li>
<li>Ibid. pp. 214-215.</li>
<li><em>Izalat al-Khafa</em>, vol. 2, p. ll7.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 51; <em>Hujjat</em>, vol. I, p. 47.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 85.</li>
<li><em>Hujjat</em>,vol. 1, p. 47.</li>
<li>Ibid. p. 48</li>
<li>Ibid.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 94; <em>Hujjat</em>, vol 2, p. 48.</li>
<li>Deh1awi, Shah Wali-Allah, <em>al-Khair al-Kathir</em>, Dabhel, <em>al-Majlis al-`Ilmi</em>, 1352 H.,</li>
<li>83.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 199; <em>al-Tafhimat al-Ilahizah</em>, op. cit., vol. 1, p. 60.</li>
<li><em>al-Budur</em>, p. 266.</li>
<li>Ibid. pp. 241-42.</li>
</ol>
<p><strong>অনুবাদঃ সায়েম মুহাইমিন </strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-irtifakat/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13638</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল-কোরআনে মানুষের স্বরূপ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-nature-of-human-in-the-quran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-nature-of-human-in-the-quran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শহীদ সাইয়্যেদ কুতুব]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 09 Feb 2024 17:27:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[rowyak]]></category>
		<category><![CDATA[rowyakbd.com]]></category>
		<category><![CDATA[আল কোরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য]]></category>
		<category><![CDATA[আল-কোরআনে মানুষের স্বরূপ]]></category>
		<category><![CDATA[আল-কোরআন্‌]]></category>
		<category><![CDATA[রোয়াক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13617</guid>

					<description><![CDATA[আল-কুরআনে নানা ধরনের দ্বীনি বিষয়ের বর্ণনার সাথে সাথে মানুষের বিভিন্ন প্রকার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত চিত্র পেশ করা হয়েছে। আশ্চর্যের কথা হচ্ছে একটি কিংবা দুটি বাক্যের মাধ্যমে এমনভাবে মানুষের স্বরূপ উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে, যেন তা জীবন্ত ও সচল হয়ে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আল-কুরআনে নানা ধরনের দ্বীনি বিষয়ের বর্ণনার সাথে সাথে মানুষের বিভিন্ন প্রকার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কেও সংক্ষিপ্ত চিত্র পেশ করা হয়েছে। আশ্চর্যের কথা হচ্ছে একটি কিংবা দুটি বাক্যের মাধ্যমে এমনভাবে মানুষের স্বরূপ উদ্‌ঘাটন করা হয়েছে, যেন তা জীবন্ত ও সচল হয়ে আমাদের সামনে এসে হাজির হয়।</p>
<p>সম্ভবত এটি সমস্ত মানুষের প্রকৃত স্বরূপের চিত্রায়ণ। এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ও স্বরূপে মানুষের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে- যাদেরকে পৃথিবীতে অধিক সংখ্যক দৃষ্টিগোচর হয়। মানুষের এ স্বরূপগুলো স্থায়ী। কোন জাতি বা কোন গোত্রই এ সকল বৈশিষ্ট্যের বাইরে নয়। (কোন না কোন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তাকে অবশ্যই হতে হবে)।</p>
<p>এ আয়াতগুলো মূলত একটি বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু এর মাধ্যমে মানুষের জীবন্ত ও বাস্তব এমন কিছু চিত্র অংকিত হয়েছে যা বিষয়বস্তুর দিকে অলৌকিক এবং চিরন্তনী। কেননা এ চিত্রগুলো স্থান ও কালের আবর্তনে শতাব্দীর পর শতাব্দী চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে এবং তা সর্বদাই জীবন্ত-প্রাণবন্ত ও মূর্তমান।</p>
<p>এখন আমরা সংক্ষিপ্তভাবে কিছু উদাহরণ পেশ করছি, যেভাবে আল-কুরআনে পেশ করা হয়েছে। অবশ্য এ ধরনের কিছু উদাহরণ ইতোপূর্বে আমরা &#8216;শৈল্পিক চিত্র&#8217; শিরোনামে উপস্থাপন করেছি। এর প্রকৃত জায়গা অবশ্য সে অধ্যায়টি-ই ছিল। তবু ঘটনা বা কাহিনীর সাথে এর সামঞ্জস্য আছে বিধায় আমরা একে বক্ষমান অধ্যায়ে আলোচনা করার ইচ্ছে পোষণ করছি।</p>
<p><strong>১</strong><strong>. </strong><strong>মানব</strong> <strong>প্রকৃতি</strong></p>
<p>নিম্নোক্ত আয়াতটিতে এমন এক চিত্র অংকিত হয়েছে। যে চিত্রের সাথে সমস্ত মানুষই সম্পৃক্ত। ইরশাদ হচ্ছেঃ</p>
<p>وَ اِذَا مَسَّ الْاِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْۢبِهٖۤ اَوْ قَاعِدًا اَوْ قَآئِمًا١ۚ فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهٗ مَرَّ كَاَنْ لَّمْ یَدْعُنَاۤ اِلٰى ضُرٍّ مَّسَّهٗ١ؕ</p>
<p>“মানুষ যখন কোন বিপদ-মুসিবতে নিমজ্জিত হয় তখন সে দাঁড়িয়ে, শুয়ে-বসে সর্বাবস্থায় আমাকে ডাকতে থাকে। যখন তার বিপদকে দূর করে দেই তখন সে এমন আচরণ করে, মনে হয় সে বিপদে পড়ে আমাকে কখনো ডাকেনি”।</p>
<p>(সূরা ইউনুস: ১২)</p>
<p>উল্লেখিত সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্তে সত্য, সুন্দর এবং শৈল্পিক সৌন্দর্যের যাবতীয় উপকরণের একত্রে সমাবেশ ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রকৃতি ও ধরনই এরূপ। মানুষের ফিতরাত হচ্ছে- যখন সে বিপদগ্রস্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে যায় তখন মহাপরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নাম এমনভাবে স্মরণ করতে থাকে, মনে হয় এর প্রতিকার তাঁর নিকট ছাড়া আর কারো নিকট নেই। বিপদ-মুসিবত দূর হয়ে গেলেই সে সত্য ও সুন্দরের পথ থেকে ছিটকে পড়ে আগের মতোই চলতে থাকে। মনে করে, তার উপর আদৌ কোন বিপদ আসেনি। পেছনের দিকে একবার ফিরে দেখার ফুরসৎটুকুও তার থাকে না। তার কষ্টের অবস্থাকে শৈল্পিক নিপুণতায় তুলে ধরা হয়েছে এভাবেঃ</p>
<p>دَعَانَا لِجَنْۢبِهٖۤ اَوْ قَاعِدًا اَوْ قَآئِمًا١ۚ</p>
<p>“তারা তখন শুয়ে, বসে ও দাঁড়িয়ে (পেরেশান হয়ে) আমাকে ডাকে।&#8221;(সূরা ইউনুস: ১২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অতপর যখন বিপদ দূরীভূত হয়, তখনকার এক শৈল্পিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে এভাবে।</p>
<p>مَرَّ كَاَنْ لَّمْ یَدْعُنَاۤ اِلٰى ضُرٍّ مَّسَّهٗ</p>
<p>“(যখন) বিপদ দূর হয়ে যায়, তখন এমন আচরণ করে, মনে হয় তারা কখনো আমাকে ডাকেনি”।     (সূরা ইউনুস: ১২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ দুটো চিত্র থেকে প্রতীয়মান হয়, যখন মানুষ বিপদ-মুসিবতে পতিত হয় তখন তাদের জীবনের গতি থেমে যায়। কখনো কখনো এ বাধা দীর্ঘতর হয়। আবার যখন বিপদ-মুসিবত দূর হয়ে যায় তখন জীবন তরী আবার চলতে শুরু করে। যেন কখনো তা বাঁধার সম্মুখীন হয়নি।</p>
<p>আল-কুরআনে এ ধরনের দৃশ্য বড় আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও তার ধরন এক নয়। তবু সবগুলোর মূল চরিত্র একই। একটি কেন্দ্রে এসে সবগুলো একত্রিত হয়ে যায়। যেমন:</p>
<p>وَ اِذَاۤ اَنْعَمْنَا عَلَى الْاِنْسَانِ اَعْرَضَ وَ نَاٰ بِجَانِبِهٖ١ۚ وَ اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ یَئُوْسًا</p>
<p>“আমি মানুষকে নিয়ামত দান করলে সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং অহংকারে দূরে সরে যায়, যখন তাকে কোন অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে একেবারে হতাশ হয়ে যায়”। (সূরা বনী ইসরাঈল: ৮৩)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>وَ لَئِنْ اَذَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنٰهَا مِنْهُ١ۚ اِنَّهٗ لَیَئُوْسٌ كَفُوْرٌ- وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ نَعْمَآءَ بَعْدَ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ ذَهَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیْ١ؕ اِنَّهٗ لَفَرِحٌ فَخُوْرٌۙ</p>
<p>“আর যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের স্বাদ-আস্বাদন করতে দেই অতপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়। আর যদি তার ওপর আপতিত দুঃখ-কষ্টের পর তাকে সুখ ভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে: আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে। তখন সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় এবং অহংকারে উদ্ধত হয়ে পড়ে”।       (সূরা হুদ: ৯-১০)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>اِنَّ الْاِنْسَانَ خُلِقَ هَلُوْعًاۙ &#8211; اِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ جَزُوْعًاۙ وَّ &#8211; اِذَا مَسَّهُ الْخَیْرُ مَنُوْعًاۙ</p>
<p>“মানুষকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে অধৈর্য স্বভাবের করে। যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে তখন সে হা-হুতাশ করে। আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়”। (সূরা আল-মা&#8217;আরিজ: ১৯-২১)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><em>এ ধরনের আয়াত আল-কুরআনে অনেক। উদ্দেশ্য মানুষের চিরন্তনী স্বভাবগুলো বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা। কিন্তু</em></p>
<p><em>মানুষের জীবনের এ তৎপরতা এক জায়গায় এসে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়, তা হচ্ছে মানুষের শক্তি ও প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রবণতা। যখন সে পুরোপুরি এ অবস্থায় জড়িয়ে যায় তখন সে মূল্যবান হায়াতটাকে এ কাজে নিয়োজিত করে। আর যদি কোন বিপদ-মুসিবত এসে সে আশার অন্তরায় হয়ে যায় তবে পিছুটান দিতেও সে কুণ্ঠাবোধ করে না।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২</strong><strong>. </strong><strong>ঠুনকো</strong> <strong>বিশ্বাসী</strong></p>
<p>মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানুষ আছে, যাদের বিশ্বাস খুবই ঠুনকো। যারা তাদের বিশ্বাসের ওপর দৃঢ় থাকতে পারে না। এরা ততোক্ষণ ঈমানের পথে থাকে যতোক্ষণ নিরাপদ ও নির্ঝামেলায় ভা থেকে ফায়দা লাভ করা যায়। আর যদি কোনরূপ পরীক্ষা বা কাঠিন! আরোপ করা হয়, সাথে সাথে তারা ঈমান ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না।</p>
<p>وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّعْبُدُ اللّٰهَ عَلٰى حَرْفٍ١ۚ فَاِنْ اَصَابَهٗ خَیْرُ اِ۟طْمَاَنَّ بِهٖ١ۚ وَ اِنْ اَصَابَتْهُ فِتْنَةُ اِ۟نْقَلَبَ عَلٰى وَجْهِهٖ١ۚ۫ خَسِرَ الدُّنْیَا وَ الْاٰخِرَةَ١ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِیْنُ</p>
<p><em>“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণপ্রাপ্ত হয় তবে ইবাদতের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে আর যদি কোন পরীক্ষায় পড়ে, তবে পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত। বস্তুত এতো সুস্পষ্ট ক্ষতি”।      (সূরা আল-হাজ্জ: ১১)</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ فَاِذَاۤ اُوْذِیَ فِی اللّٰهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللّٰهِ١ؕ وَ لَئِنْ جَآءَ نَصْرٌ مِّنْ رَّبِّكَ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ١ؕ اَوَ لَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِمَا فِیْ صُدُوْرِ الْعٰلَمِیْنَ</p>
<p><em>“কতক লোক বলে: আমরা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি, কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয় তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মতো মনে করে। যখন তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে: আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্বাসীর অন্তরে যা আছে আল্লাহ কি তা অবহিত নন”। (সূরা আল-আনকাবুত: ১০)</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>৩</strong><strong>. </strong><strong>সুবিধাবাদী</strong> <strong>ধূর্ত</strong> <strong>প্রকৃতির</strong> <strong>লোক</strong></p>
<p>কিছু লোক আছে, যারা সুবিধাবাদী ধূর্ত প্রকৃতির। সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত কোন কাজ নিজেরা করবে এবং তা থেকে ফায়দা নেবে যখনই সেই কাজ অন্য কেউ করে তখন তা অস্বীকার করে বসে।</p>
<p>وَ لَمَّا جَآءَهُمْ كِتٰبٌ مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ١ۙ وَ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ یَسْتَفْتِحُوْنَ عَلَى الَّذِیْنَ كَفَرُوْا١ۖۚ فَلَمَّا جَآءَهُمْ مَّا عَرَفُوْا كَفَرُوْا بِهٖ١٘ فَلَعْنَةُ اللّٰهِ عَلَى الْكٰفِرِیْنَ</p>
<p>“যখন তাদের কাছে আল্লাহর কাছ থেকে কিতাব এসে পৌঁছল, যা সেই বিষয়ের সত্যায়ন করে যা তাদের কাছে রয়েছে এবং সর্বদা কাফিরদের ওপর তারা বিজয় কামনা করতো। যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল তখন তারা জেনেশুনে অস্বীকার করে বসলো। তাই অস্বীকারকারীদের ওপর আল্লাহর লানত”।                            (সূরা আল-বাকারা: ৮৯)</p>
<p>وَ اِذَا دُعُوْۤا اِلَى اللّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ لِیَحْكُمَ بَیْنَهُمْ اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ مُّعْرِضُوْنَ &#8211; وَ اِنْ یَّكُنْ لَّهُمُ الْحَقُّ یَاْتُوْۤا اِلَیْهِ مُذْعِنِیْنَؕ</p>
<p>“ফয়সালা করার জন্য যখন তাদেরকে আল্লাহ্ ও রাসূলের দিকে আহ্বান করা হয় তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর সত্য তাদের স্বপক্ষে হলে তারা বিনীতভাবে রাসূলের কাছে ছুটে আসে”।</p>
<p>(সূরা আন্-নূরঃ ৪৮-৪৯)</p>
<p><strong>৪</strong><strong>. </strong><strong>ভীরু</strong> <strong>কাপুরুষ</strong></p>
<p>কিছু লোক এমনও আছে যারা সত্যকে ঘৃণা ও অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে থাকে, সত্যের সাথে পরিচিত হতে চায় না। ফলে একদিকে তাদের জিদ ও হঠকারিতা সত্য থেকে বিরত রাখে, অপরদিকে তাদেরকে কাপুরুষতায় পেয়ে বসে। যার কারণে তারা কখনো সত্যের মুখোমুখী হওয়ার সাহস পর্যন্ত পায় না।</p>
<p>یُجَادِلُوْنَكَ فِی الْحَقِّ بَعْدَ مَا تَبَیَّنَ كَاَنَّمَا یُسَاقُوْنَ اِلَى الْمَوْتِ وَ هُمْ یَنْظُرُوْنَؕ</p>
<p>“তারা সত্য ও ন্যায় প্রতিভাত হওয়ার পরও তোমার সাথে ঝগড়া করছিল, যেন তাদেরকে মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তারা তা দেখছিল”।    (সূরা আল-আনফালঃ ৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>৫</strong><strong>. </strong><strong>হাসি</strong><strong>&#8211;</strong><strong>কৌতুক</strong> <strong>উদ্রেককারী</strong> <strong>লোক</strong></p>
<p>কিছু লোক আজব প্রকৃতির। তারা অগ্রপশ্চাৎ না ভেবেই সত্য থেকে পলানোর চেষ্টা করে।</p>
<p>فَمَا لَهُمْ عَنِ التَّذْكِرَةِ مُعْرِضِیْنَۙ &#8211; كَاَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنْفِرَةٌۙ &#8211; فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍؕ</p>
<p>“তাদের কি হলো যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। যেন তারা ইন্তত বিক্ষিপ্ত গর্দভ, হট্টগোলের কারণে পলায়নপর”।(মুদ্দাসসির: ৪৯-৫১)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>৬</strong><strong>. </strong><strong>শুধু</strong> <strong>আকৃতিতেই</strong> <strong>মানুষ</strong></p>
<p>এ যেন চলমান জড় পদার্থ, যা দেখে লোকদের হাসি পায়।</p>
<p>َ اِذَا رَاَیْتَهُمْ تُعْجِبُكَ اَجْسَامُهُمْ١ؕ وَ اِنْ یَّقُوْلُوْا تَسْمَعْ لِقَوْلِهِمْ١ؕ كَاَنَّهُمْ خُشُبٌ مُّسَنَّدَةٌ</p>
<p>“তুমি যখন তাদেরকে দেখ, তখন তাদের দেহাবয়ব অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হয়। আর যদি তারা কথা বলে, তুমি তাদের কথা শোন। কিন্তু তারা তো প্রাচীরে ঠেকানো কাঠের মতো। এটি মুনাফিকদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি চিত্র। যা বেদনা মিশ্রিত কৌতুক”।      (সূরা আল-মুনাফিকূনঃ ৪)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>৭</strong><strong>. </strong><strong>প্রশংসাকাংখী</strong></p>
<p>নিজেরা কিছুই করে না, কিন্তু না করা বিষয়ের জন্য লোকজন তাদের প্রশংসা করুক তা তারা চায়।</p>
<p>وَّ یُحِبُّوْنَ اَنْ یُّحْمَدُوْا بِمَا لَمْ یَفْعَلُوْا</p>
<p>“এবং না করা বিষয়ের জন্য তারা লোকদের প্রশংসা কামনা করে”। (সূরা আলে-ইমরান: ১৮৮)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রত্যেক যুগে এবং প্রত্যেক জায়গায়ই এ ধরনের লোকের উপস্থিতি দেখা যায়।</p>
<p><strong>৮</strong><strong>. </strong><strong>সুবিধাবাদী</strong></p>
<p>এমন কিছু লোক আছে, যারা সুবিধা দেখে একদলে ভিড়ে যায় আবার সেখানে অসুবিধা হলে অন্য দলে যোগ দেয়।</p>
<p>ِلَّذِیْنَ یَتَرَبَّصُوْنَ بِكُمْ١ۚ فَاِنْ كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ اللّٰهِ قَالُوْۤا اَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ١ۖ٘ وَ اِنْ كَانَ لِلْكٰفِرِیْنَ نَصِیْبٌ١ۙ قَالُوْۤا اَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَیْكُمْ وَ نَمْنَعْكُمْ مِّنَ الْمُؤْمِنِیْنَ</p>
<p>“এরা এমন ধরনের লোক, যারা সর্বদা তোমাদের কল্যাণ-অকল্যাণের প্রতীক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকে। যদি আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা বিজয়ী হও তবে তারা বলে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না। পক্ষান্তরে কাফিরদের যদি আংশিক বিজয় হয় তবে তাদেরকে বলে, আমরা কি তোমাদেরকে ঘিরে রাখিনি এবং মুসলমানদের হাত থেকে রক্ষা করিনি”।</p>
<p><strong>৯</strong><strong>. </strong><strong>অদ্ভূত</strong> <strong>অহংকারী</strong></p>
<p>নিচের আয়াত দুটোতে এক অদ্ভূত প্রকৃতির অহংকারীর চিত্র অংকিত হয়েছে। এ দুটো আয়াত &#8216;শৈল্পিক চিত্র&#8217; শিরোনামেও উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>وَ لَوْ فَتَحْنَا عَلَیْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَآءِ فَظَلُّوْا فِیْهِ یَعْرُجُوْنَۙ- لَقَالُوْۤا اِنَّمَا سُكِّرَتْ اَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُوْرُوْنَ۠</p>
<p>“আমি যদি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তারা দিনভর তাতে আরোহন করে, তবু তারা এ কথাই বলবে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে, না হয় আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি”।    (সূরা হিজর : ১৪-১৫)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>وَ لَوْ نَزَّلْنَا عَلَیْكَ كِتٰبًا فِیْ قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوْهُ بِاَیْدِیْهِمْ لَقَالَ الَّذِیْنَ كَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّا سِحْرٌ مُّبِیْنٌ</p>
<p>“যদি আমি কাগজে লিখিত কোন বিষয় তাদের প্রতি অবতীর্ণ করতাম। অতপর তারা তা হাত দিয়ে স্পর্শ করতো তবু কাফিররা এ কথাই বলতোঃ এটি প্রকাশ্য যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়”।     (সূরা আনআম: ৭)</p>
<p><strong>১০</strong><strong>. </strong><strong>ভীতু</strong> <strong>বেহায়া</strong></p>
<p>যে ব্যক্তি ভীতু কিন্তু তার সাথে বেহায়া বা নির্লজ্জও, তার দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে এভাবে:</p>
<p>وَ لَوْ تَرٰۤى اِذْ وُقِفُوْا عَلَى النَّارِ فَقَالُوْا یٰلَیْتَنَا نُرَدُّ وَ لَا نُكَذِّبَ بِاٰیٰتِ رَبِّنَا وَ نَكُوْنَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ &#8211; بَلْ بَدَا لَهُمْ مَّا كَانُوْا یُخْفُوْنَ مِنْ قَبْلُ١ؕ وَ لَوْ رُدُّوْا لَعَادُوْا لِمَا نُهُوْا عَنْهُ وَ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ</p>
<p>“আর যদি তুমি দেখতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের ওপর দাঁড় করানো হবে। তারা বলবে: কতোই না ভাল হতো যদি আমাদেরকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠান হতো। তাহলে আমরা প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহকে মিথ্যে মনে করতাম না এবং আমরা ঈমানদার হয়ে যেতাম। তারা ইতোপূর্বে যা গোপন করতো তা তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। যদি তাদেরকে পুনরায় পাঠান হয় তবু তারা তাই করবে, যা তাদেরকে করতে নিষেধ করা হয়েছিল। বস্তুত তারা মিথ্যেবাদী”।     (সূরা আন&#8217;আম : ২৭-২৮)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১১</strong><strong>. </strong><strong>দুর্বল</strong> <strong>মুনাফিক</strong></p>
<p>এখানে দুর্বল এক মুনাফিকের উদাহরণ পেশ করা হয়েছে। সে নিজে যেমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে না ঠিক তেমনিভাবে সত্যকে মেনে নিতেও পারে না। প্রতি মুহূর্তে দ্বিধা-দ্বন্দে দুদোল্যমান থাকে।</p>
<p>وَ اِذَا مَاۤ اُنْزِلَتْ سُوْرَةٌ نَّظَرَ بَعْضُهُمْ اِلٰى بَعْضٍ١ؕ هَلْ یَرٰىكُمْ مِّنْ اَحَدٍ ثُمَّ انْصَرَفُوْا١ؕ صَرَفَ اللّٰهُ قُلُوْبَهُمْ بِاَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ</p>
<p>“আর যখনই কোন সূরা অবতীর্ণ হয়। তখন তারা একে-অন্যের দিকে তাকায় এবং তারা পরস্পর জিজ্ঞেস করে কোন মুসলমান তোমাদেরকে দেখেছে কিনা, অতপর কেটে পড়ে। আল্লাহ্ তাদের অন্তরকে সত্যবিমুখ করে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই তারা নির্বোধ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত”। (সূরা আত-তাওবা: ১২৭)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ ধরনের লোক যখন চুপি চুপি ভাগতে থাকে তখন তা দেখার মতো দৃশ্য বটে।</p>
<p><strong>১২</strong><strong>. </strong><strong>ওজর</strong><strong>&#8211;</strong><strong>আপত্তিকারী</strong></p>
<p>এখানে এমনকিছু লোকের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা হচ্ছে যারা ভীরু, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী এবং মিথ্যে ওজর-আপত্তিকারী।</p>
<p>لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِیْبًا وَّ سَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوْكَ وَ لٰكِنْۢ بَعُدَتْ عَلَیْهِمُ الشُّقَّةُ١ؕ وَ سَیَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ لَوِ اسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَكُمْ١ۚ یُهْلِكُوْنَ اَنْفُسَهُمْ١ۚ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ اِنَّهُمْ لَكٰذِبُوْنَ۠</p>
<p>“যদি নগদ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হতো, তবে অবশ্যই তারা তোমার সহযাত্রী হতো। কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হলে তারা এমনভাবে শপথ করে বলবে: আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই আমরা আপনাদের সাথে বের হতাম। সত্যিকথা বলতে কি, এরা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আল্লাহ্ জানেন এরা মিথ্যেবাদী”।(সূরা আত-তাওবা: ৪২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong> </strong></p>
<p><strong> </strong></p>
<p><strong>১৩</strong><strong>. </strong><strong>নির্বোধ</strong> <strong>প্রতারক</strong></p>
<p>কিছুলোক আছে যারা প্রতারণা ও ভণ্ডামীতে লিপ্ত। নিজেদেরকে যদিও তারা চালাক মনে করে কিন্তু তাদের মাথায় ভূষি ছাড়া আর কিছুই নেই। তারা মানুষকে ঠকানোর চেষ্টা করে কিন্তু বিধিবাম, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ঠকাচ্ছে।</p>
<p>وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ وَ بِالْیَوْمِ الْاٰخِرِ وَ مَا هُمْ بِمُؤْمِنِیْنَۘ &#8211; یُخٰدِعُوْنَ اللّٰهَ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا١ۚ وَ مَا یَخْدَعُوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَ مَا یَشْعُرُوْنَؕ</p>
<p>“মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে: আমরা আল্লাহ্ এবং পরকালের ওপর ঈমান এনেছি অথচ তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ্ এবং ঈমানদারদেরকে ধোঁকা দেয়। অথচ তারা নিজেদেরকে ছাড়া আর কাউকে ধোঁকা দিতে পারে না, তাদের এ অনুভূতিটুকু নেই”।(সূরা বাকারা : ৮-৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১৪</strong><strong>. </strong><strong>বিপর্যয়</strong> <strong>সৃষ্টিকারী</strong></p>
<p>এক প্রকার লোক আছে, যারা না জেনে না বুঝে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় কিন্তু যদি তাদেরকে বিরত থাকার কথা বলা হয় তবে তারা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে।</p>
<p>وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوْا فِی الْاَرْضِ١ۙ قَالُوْۤا اِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُوْنَ &#8211; اَلَاۤ اِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُوْنَ وَ لٰكِنْ لَّا یَشْعُرُوْنَ</p>
<p>“আর যখন তাদেরকে বলা হয় পৃথিবীতে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করো না। তারা বলে আমরা তো সংস্কারের কাজ করছি। জেনে রাখ প্রকৃতপক্ষে তারাই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী। কিন্তু সে উপলব্ধিটুকু তাদের নেই”। (সূরা বাকারা : ১১-১২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১৫</strong><strong>. </strong><strong>পার্থিব</strong> <strong>জীবনের</strong> <strong>মোহে</strong> <strong>মোহগ্রস্ত</strong></p>
<p>এমন কিছু লোক আছে, যারা পার্থিব জীবনকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। যেখানেই থাকুক না কেন জৈবিক চাহিদাটাই তাদের কাছে বড়। তারা একে এতো বেশি গুরুত্ব দেয়, প্রয়োজনে লাঞ্ছনার জীবন যাপন করতে রাজী (তবু তার প্রতিবাদ করে মৃত্যুর ঝুঁকি নিতে রাজী নয়।) যা কোন স্বাধীনচেতা ব্যক্তির দ্বারা সম্ভবপর নয়। ইরশাদ হচ্ছে:</p>
<p>َ لَتَجِدَنَّهُمْ اَحْرَصَ النَّاسِ عَلٰى حَیٰوةٍ</p>
<p>“তুমি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চেয়ে বেশি লোভী দেখবে”। (সূরা বাকারা : ৯৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ আয়াতে خبر (জীবন) শব্দটি অনির্দিষ্টবাচক (نکره) নিয়ে এ কথাই বুঝাতে চেয়েছেন, তারা যে কোন ধরনের জীবনেই সুখী, হোক না তা লাঞ্ছনার কিংবা অপমানের।</p>
<p><strong>১৬</strong><strong>. </strong><strong>গোঁয়ার</strong> <strong>ও</strong> <strong>স্থবির</strong> <strong>প্রকৃতির</strong> <strong>লোক</strong></p>
<p>কিছু লোক এমনও আছে, মনে হয় তাদের পাগুলো পাথর দিয়ে তৈরী। তারা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের কোন চেষ্টাই করে না।</p>
<p>وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَاۤ اَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَاۤ اَلْفَیْنَا عَلَیْهِ اٰبَآءَنَا١ؕ اَوَ لَوْ كَانَ اٰبَآؤُهُمْ لَا یَعْقِلُوْنَ شَیْئًا وَّ لَا یَهْتَدُوْنَ</p>
<p>“আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাকে মেনে চলো। তখন তারা বলে: কক্ষণও নয়, আমরা তো সেই বিষয়ই মেনে চলি যার ওপর আমাদের বাপ-দাদাকে পেয়েছি। যদিও তাদের বাপ-দাদারা কিছুই জানতো না। চিনতো না সরল পথ”।     (সূরা বাকারা: ১৭০)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১৭</strong><strong>. </strong><strong>স্বেচ্ছাচারী</strong> <strong>দল</strong></p>
<p>কিছু লোক আছে, যারা কোন নির্দিষ্ট পথের পথিক নয় কিংবা কোন দল বা জামা&#8217;আতের অন্তর্ভুক্তও তারা নয়। তাদের সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছেঃ</p>
<p>اَوَ كُلَّمَا عٰهَدُوْا عَهْدًا نَّبَذَهٗ فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ١ؕ بَلْ اَكْثَرُهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ</p>
<p>“কি আশ্চর্য! যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয় তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। বরং অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়”।(সূরা বাকারা: ১০০)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১৮</strong><strong>. </strong><strong>সত্য</strong> <strong>হোক</strong> <strong>কিংবা</strong> <strong>মিথ্যে</strong><strong>, </strong><strong>ঝগড়া</strong> <strong>তারা</strong> <strong>করবেই</strong></p>
<p>কিছু লোক আছে, যারা সত্য হোক কিংবা মিথ্যে, জেনে হোক কিংবা না জেনে ঝগড়া বা গণ্ডগোল তারা করবেই। মানুষ এ ধরনের লোককে যেখানেই দেখুক না কেন দুঃখিত না হয়ে পারে না।</p>
<p>هٰۤاَنْتُمْ هٰۤؤُلَآءِ حَاجَجْتُمْ فِیْمَا لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَآجُّوْنَ فِیْمَا لَیْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ١ؕ وَ اللّٰهُ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ</p>
<p>“শোন! ইতোপূর্বে তোমরা যে বিষয়ে কিছু জানতে, তা নিয়ে বিবাদ করতে। এখন আবার যে বিষয়ে তোমরা কিছুই জান না, সে বিষয়ে কেন বিবাদ করছো? তোমরা যে জান না তা আল্লাহ ভাল মতোই জানেন”।       (সূরা আলে ইমরান: ৬৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ لَا هُدًى وَّ لَا كِتٰبٍ مُّنِیْرٍۙ &#8211; ثَانِیَ عِطْفِهٖ لِیُضِلَّ عَنْ سَبِیْلِ اللّٰهِ١ؕ لَهٗ فِی الدُّنْیَا خِزْیٌ وَّ نُذِیْقُهٗ یَوْمَ الْقِیٰمَةِ عَذَابَ الْحَرِیْقِ</p>
<p>“কিছু লোক জ্ঞান, প্রমাণ ও উজ্জ্বল কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক শুরু করে দেয়। সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে বিতর্ক করে যেন আল্লাহর পথ থেকে গুমরাহ করতে পারে”। (সূরা আল-হাজ্জঃ ৮-৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখানে বিতর্ককারী এবং অহংকারী ব্যক্তির এক নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে। সে অহংকারের বশবর্তী হয়ে এদিক-সেদিক ঘাড় ঘুরিয়ে বিতর্ক করতে থাকে।</p>
<p><strong>১৯</strong><strong>. </strong><strong>কৃপণ</strong></p>
<p>যারা প্রয়োজনের মুহূর্তে খরচ করে না, তারা কৃপণ। যদি কেউ খরচ করার পর ক্ষতিগ্রস্ত হয় তখন সে বিজয়ের হাসি হেসে বলে: যাক আমি খরচ না করে ভালই করেছি। আমার টাকাগুলো রয়ে গেল। আর যদি জিহাদে কোন কল্যাণ লাভ হয় তখন আক্ষেপ করে বলে: হায়! যদি আমিও খরচ করতাম তবে ভাল হতো।</p>
<p>وَ اِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَّیُبَطِّئَنَّ١ۚ فَاِنْ اَصَابَتْكُمْ مُّصِیْبَةٌ قَالَ قَدْ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَیَّ اِذْ لَمْ اَكُنْ مَّعَهُمْ شَهِیْدًا</p>
<p>“তোমাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক আছে, যারা গড়িমসি করবে এবং তোমাদের ওপর বিপদ হলে বলবে, ভাগ্যিস, আমি তাদের সাথে যাইনি, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। আর যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ আসে, তখন তারা এমনভাবে বলতে শুরু করবে যে, তোমাদের সাথে তাদের কোন মিত্রতাই ছিল না। তারা বলবে: হায়। আমি যদি তাদের সাথে থাকতাম তবে আমিও সফলতা লাভ করতাম”।         (সূরা নিসা : ৭২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২০</strong><strong>. </strong><strong>ভেতর</strong> <strong>ও</strong> <strong>বাইরের</strong> <strong>বৈপরীত্য</strong></p>
<p>কিছু লোক আছে যাদের বাইরের এবং ভেতরের কোন মিল নেই। সম্পূর্ণ বিপরীত। মনে হয় সে একজন নয় দু&#8217;জন মানুষ।</p>
<p>وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّعْجِبُكَ قَوْلُهٗ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ یُشْهِدُ اللّٰهَ عَلٰى مَا فِیْ قَلْبِهٖ١ۙ وَ هُوَ اَلَدُّ الْخِصَامِ &#8211; وَ اِذَا تَوَلّٰى سَعٰى فِی الْاَرْضِ لِیُفْسِدَ فِیْهَا وَ یُهْلِكَ الْحَرْثَ وَ النَّسْلَ١ؕ وَ اللّٰهُ لَا یُحِبُّ الْفَسَادَ</p>
<p>“আর এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের পার্থিব জীবনের কথাবার্তা তোমাকে চমৎকৃত করে। আর তারা নিজেদের মনের কথার ব্যাপারে আল্লাহকে সাক্ষী স্থাপন করে। প্রকৃতপক্ষে তারা ঝগড়াটে লোক। যখন ফিরে যায় তখন সেখানে অকল্যাণ সৃষ্টি করে, শস্যক্ষেত ধ্বংস ও প্রাণনাশের প্রয়াস পায়। অবশ্য আল্লাহ ফাসাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করেন না”।    (সূরা আল-বাকারা: ২০৪-২০৫)</p>
<p><strong>২১</strong><strong>. </strong><strong>মুমূর্ষু</strong> <strong>অবস্থায়</strong> <strong>তওবাকারী</strong></p>
<p>কতিপয় লোক ইচ্ছেমাফিক গোটা জিন্দেগী যাপন করে মৃত্যু পূর্ব মুহূর্তে তওবা করে। কিন্তু তাদের এ তওবা গ্রহণযোগ্য নয়।</p>
<p>وَ لَیْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِیْنَ یَعْمَلُوْنَ السَّیِّاٰتِ١ۚ حَتّٰى اِذَا حَضَرَ اَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ اِنِّیْ تُبْتُ الْئٰنَ وَ لَا الَّذِیْنَ یَمُوْتُوْنَ وَ هُمْ كُفَّارٌ١ؕ</p>
<p>“আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে আর যখন তাদের মাথার ওপর মৃত্যু পরওয়ানা ঝুলতে থাকে তখন বলেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য যারা কুফুরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে”।                  (সূরা আন-নিসা: ১৮)</p>
<p><strong>২২</strong><strong>. </strong><strong>স্বল্প</strong> <strong>বুদ্ধির</strong> <strong>লোক</strong></p>
<p>কিছু লোক এমন স্বল্প বুদ্ধির হয়ে থাকে, তাদের সামনে কি বলা হলো, না হলো সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন।</p>
<p>َ مِنْهُمْ مَّنْ یَّسْتَمِعُ اِلَیْكَ١ۚ حَتّٰى اِذَا خَرَجُوْا مِنْ عِنْدِكَ قَالُوْا لِلَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ مَا ذَا قَالَ اٰنِفًا١</p>
<p>“তাদের মধ্যে কতক লোক আপনার কথার দিকে কান পাতে ঠিকই, কিন্তু বাইরে বের হওয়া মাত্র যারা শিক্ষিত তাদেরকে বলেঃ এই মাত্র তিনি কি বললেন”।           (সূরা মুহাম্মাদ: ১৬)</p>
<p><strong>২৩</strong><strong>. </strong><strong>প্রকৃত</strong> <strong>ঈমানদার</strong></p>
<p>এ ধরনের লোকদের সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ</p>
<p>اَلَّذِیْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِیْمَانًا١ۖۗ وَّ قَالُوْا حَسْبُنَا اللّٰهُ وَ نِعْمَ الْوَكِیْلُ</p>
<p>“যাদের বলা হয়, তোমাদের সাথে মুকাবিলা করার জন্য বহু লোক সমাগম ঘটেছে এবং বহু সাজ-সরঞ্জাম জমা করা হয়েছে, তাদেরকে ভয় করো। তখন তাদের বিশ্বাস আরো দৃঢ়তর হয় এবং তারা উত্তর দেয়: আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিতো কতো উত্তম অভিভাবক”।</p>
<p>(সূরা আলে-ইমরান : ১৭৩)</p>
<p><strong>২৪</strong><strong>. </strong><strong>দরিদ্র</strong> <strong>অথচ</strong> <strong>অল্পে</strong> <strong>তুষ্ট</strong></p>
<p>কিছু লোক সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইরশাদ:</p>
<p>لِلْفُقَرَآءِ الَّذِیْنَ اُحْصِرُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ لَا یَسْتَطِیْعُوْنَ ضَرْبًا فِی الْاَرْضِ١٘ یَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ اَغْنِیَآءَ مِنَ التَّعَفُّفِ١ۚ تَعْرِفُهُمْ بِسِیْمٰىهُمْ١ۚ لَا یَسْئَلُوْنَ النَّاسَ اِلْحَافًا</p>
<p>“দান-সাদকা তো ঐসব গরীব লোকদের জন্য। যারা আল্লাহর পথে আবন্ধ হয়ে গেছে। জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র ঘুরাফেরা করতে সক্ষম নয়। অজ্ঞ লোকেরা হাত না পাতার কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে। তোমরা তাদেরকে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনবে। তারা মানুষের কাছে কাকুতি-মিনতি করে ভিক্ষা চায় না”।                                (সূরা আল-বাকারাঃ ২৭৩)</p>
<p><strong> </strong></p>
<p><strong>২৫</strong><strong>. </strong><strong>আল্লাহকে</strong> <strong>ভয়কারী</strong></p>
<p>এ সমস্ত লোকদের ব্যাপারে আল্লাহর ফরমান হচ্ছেঃ</p>
<p>اِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِیْنَ اِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَ جِلَتْ قُلُوْبُهُمْ وَ اِذَا تُلِیَتْ عَلَیْهِمْ اٰیٰتُهٗ زَادَتْهُمْ اِیْمَانًا وَّ عَلٰى رَبِّهِمْ یَتَوَكَّلُوْنَۚ</p>
<p>“যারা ঈমানদার তারা এমন, যখন তাদের সামনে আল্লাহ্র নাম নেয়া হয় তখন তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর কালাম পাঠ করা হয় তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। তারা স্বীয় পরওয়ারদিগারের প্রতি ভরসা রাখে”।  (সুরা আল-আনফালঃ ২)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২৬</strong><strong>. </strong><strong>আল্লাহর</strong> <strong>প্রকৃত</strong> <strong>বান্দা</strong></p>
<p>وَ عِبَادُ الرَّحْمٰنِ الَّذِیْنَ یَمْشُوْنَ عَلَى الْاَرْضِ هَوْنًا وَّ اِذَا خَاطَبَهُمُ الْجٰهِلُوْنَ قَالُوْا سَلٰمًا</p>
<p>“রহমানের প্রকৃত বান্দা তারা-ই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মূর্খরা কথা বলতে থাকে, তখন তারা সালাম বলে সরে যায়”।  (সূরা আল-ফুরকানঃ ৬৩)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২৭</strong><strong>. </strong><strong>দানশীল</strong> <strong>ও</strong> <strong>উদার</strong></p>
<p>দানশীল লোকদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেনঃ</p>
<p>وَ یُطْعِمُوْنَ الطَّعَامَ عَلٰى حُبِّهٖ مِسْكِیْنًا وَّ یَتِیْمًا وَّ اَسِیْرًا &#8211; اِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللّٰهِ لَا نُرِیْدُ مِنْكُمْ جَزَآءً وَّ لَا شُكُوْرًا</p>
<p>“তারা আল্লাহ প্রেমে অভাবগ্রস্ত, ইয়াতিম ও বন্দীদেরকে আহার করায় এবং বলে আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাদেরকে খাদ্য দান করি, তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান কিংবা কৃতজ্ঞতা কামনা করি না”।(সূরা দাহর : ৮-৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২৮</strong><strong>. </strong><strong>ধৈর্যশীল</strong></p>
<p>যারা ধৈর্যশীল তাদের ব্যাপারে ঘোষণাঃ</p>
<p>الَّذِیْنَ اِذَاۤ اَصَابَتْهُمْ مُّصِیْبَةٌ١ۙ قَالُوْۤا اِنَّا لِلّٰهِ وَ اِنَّاۤ اِلَیْهِ رٰجِعُوْنَؕ</p>
<p>“তাদের ওপর যখন কোন বিপদ-মুসিবত আসে তখন তারা বলে: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকটই আমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে”।    (সূরা আল-বাকারাঃ ১৫৬)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>২৯</strong><strong>. </strong><strong>অপর</strong> <strong>ভাইকে</strong> <strong>অগ্রাধিকার</strong> <strong>দানকারী</strong></p>
<p>یُحِبُّوْنَ مَنْ هَاجَرَ اِلَیْهِمْ وَ لَا یَجِدُوْنَ فِیْ صُدُوْرِهِمْ حَاجَةً مِّمَّاۤ اُوْتُوْا وَ یُؤْثِرُوْنَ عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ وَ لَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ١۫ؕ</p>
<p>“তারা মুহাজিরদেরকে ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তার জন্য তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে”।(সূরা আল-হাশর: ৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>৩০</strong><strong>. </strong><strong>ক্রোধ</strong> <strong>দমনকারী</strong> <strong>ও</strong> <strong>অপরকে</strong> <strong>ক্ষমাকারী</strong></p>
<p>ক্রোধ দমনকারী ও ক্ষমাশীল লোকদের ব্যাপারে আল্লাহর ফরমান-</p>
<p>َ الْكٰظِمِیْنَ الْغَیْظَ وَ الْعَافِیْنَ عَنِ النَّاسِ١ؕ</p>
<p>“তারা নিজেদের ক্রোধকে সম্বরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়”।(সূরা আলে-ইমরান: ১৩৪)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ওপরে যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা আলোচনা করা হলো তা সকল কালের এবং সকল মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়। আল-কুরআন তাদেরকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে শত শত বছর পরও মনে হয় যেন তারা সবাই আমাদের সামনে বর্তমান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>উৎসঃ আল কোরআনের শৈল্পিক সৌন্দর্য </strong></p>
<p><strong>অনুবাদঃ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মুমিন </strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-nature-of-human-in-the-quran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13617</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইবনে খালদুন ও তাঁর চিন্তাধারা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-his-thinkings/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-his-thinkings/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. তাহসিন গরগুন]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 20 Nov 2023 13:35:01 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[ibn khaldun]]></category>
		<category><![CDATA[ibnkhhaldun]]></category>
		<category><![CDATA[islamic thought]]></category>
		<category><![CDATA[muslim]]></category>
		<category><![CDATA[tahsin gorgun]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=12914</guid>

					<description><![CDATA[ইবনে খালদুনের পরিচয় ইবনে খালদুনের পূর্ণ নাম হল, আবু যায়েদ ওয়ালীউদ্দিন আব্দুর রহমান। তিনি ৭৩২ হিজরি সালের পহেলা রমজান, ১৩৩২ সালে তিউনিশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বড় একটি অংশ উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবাহিত করেন।এর পর তিনি আন্দালুসিয়াতে যান এবং সেখানে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto"><strong>ইবনে খালদুনের পরিচয়</strong></p>
<p dir="auto">ইবনে খালদুনের পূর্ণ নাম হল, আবু যায়েদ ওয়ালীউদ্দিন আব্দুর রহমান। তিনি ৭৩২ হিজরি সালের পহেলা রমজান, ১৩৩২ সালে তিউনিশিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বড় একটি অংশ উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবাহিত করেন।এর পর তিনি আন্দালুসিয়াতে যান এবং সেখানে একটি সময়কাল ধরে অবস্থান করেন। সেখান থেকে আবার তিনি তিলিমসানে আসেন সেখান বসবাস করেন। তাঁর নিজের জীবন অনেক ঘটনাবহুল এবং তিনি যে সময়ে বসবাস করেন সেই সময়ে ঐ সকল অঞ্চল ছিল রাজনৈতিকভাবে খুবই অস্থিতিশীল। ক্ষমতার পালাবদল খুব দ্রুত হচ্ছিল। এই অস্থিতিশীলতার সময়ে ইবনে খালদুনও বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হন। ইবনে খালদুনের অন্যতম একটি একটি বিষয় হল তিনি তাঁর জীবনীকে অসাধারন ভাবে লিপিবদ্ধ করেন। যা আমাদের মুসলিম আলেমদের মধ্যে খুবই বিরল।</p>
<p dir="auto">
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto"><strong>ইবনে খালদুন আমাদের জন্য কেন গুরুত্ত্বপূর্ণ?</strong></p>
<p dir="auto">ইবনে খালদুনের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, তিনি ইমাম ফখরুদ্দিন রাযীর মেটাফিজিক্সকে ঐতিহাসিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন এবং ইতিহাস ও সামাজিক ক্ষেত্রকে এক ধরণের সামাজিক মেটাফিজিক্স হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। ইবনে খালদুনের কাজকে আমরা সামাজিক মেটাফিজিক্স বলে থাকি তবে অনেকেই সেটাকে সামাজিক বা সোসাল অন্টলজি নামেও অভিহিত করে থাকেন। বর্তমান সময়ে যদিও সোসাল অন্টলজি-নামক পরিভাষাটি বেশী প্রসিদ্ধ।</p>
<p dir="auto">
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto"><strong>তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ</strong></p>
<p dir="auto">ইবনে খালদুন কর্তৃক রচিত গ্রন্থের সংখ্যা খুব বেশী নয়। তাঁর সবচয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হল <strong>কিতাবুল ইবার।</strong> একথা বলা যায় যে কিতাবুল ইবার তিনটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত। তবে এটাকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বলা যায় যে এটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। একটি হল গ্রন্থের প্রথম অধ্যায় যেটাকে তিনি মুকাদ্দিমা হিসেবে রচনা করেছেন। পরবর্তীতে যা আলাদা গ্রন্থ হিসেবে রচিত হয় এবং মুকাদ্দিমা নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করে। অপর দুই অধ্যায়ে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তিনি দুনিয়ার ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেছেন। চতুর্থ অধ্যায় নামে অভিহিত করতে পারি সেটা হল তাঁর নিজের আত্মজিবনী এটাকে তিনি বিশ্বের ইতিহাসের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে যুক্ত করেন। কেউ যদি তাঁর জিবনী সংক্রান্ত এই গ্রন্থটি হাতে নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন তাহলে তাঁর কাছে মনে হবে যে তিনি যেন সমগ্র দুনিয়ার ইতিহাসকে তিনি যে সময়ে বসবাস করেছেন সেই সময় ও তাঁর জীবনকালকে ব্যাখ্যা করার জন্য রচনা করেছেন।</p>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto">তবে এটা যদি ইতিহাসকে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গী হয়ে থাকে তাহলে দেখা যায় যে ইতিহাস তাঁর নিজের জন্য অর্থবহ হওয়ার চেয়ে বর্তমানকে বুঝার জন্য। অর্থাৎ ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহের গুরুত্ব অবশ্যই আছে তবে সেটার দ্বারা যদি বর্তমানকে বুঝা যায় তাহলে সেটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p dir="auto">
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto"><strong>ইবনে খালদুনের চিন্তাধারা</strong></p>
<p dir="auto">ইবনে খালদুনকে যে বিষয়টি অমরত্ব দান করেছে বা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে প্রাসংগিক করে তুলেছে সেটা হল জ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম বারের মত সোসাল অন্টলজির প্রতিষ্ঠা। অর্থাৎ, <em><strong>সমাজকে স্বতন্ত্র একটি সত্ত্বা হিসেবে গ্রহণ করে, সে যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সেটার মূল ক্যাটাগরি সমূহকে বিবেচনায় নিয়ে সিস্টেম্যাটিকভাবে বিশ্লেষণ করা। </strong></em>ইবনে খালদুন এই তত্ত্বকে দাঁড় করানো সময় তাঁর পূর্বের বড় বড় চিন্তাবিদগণের নিকট থেকে উপকৃত হয়েছেন। তিনি তাঁর পূর্বের মাসউদী, তাবারী, মাতুরিদি সহ অনেক চিন্তাবিদগণের চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন তবে তাঁর এই সমাজ চিন্তার ক্ষেত্রে যিনি সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছেন তিনি হলেন ইমাম মাওয়ারদী। তবে অন্যান্য চিন্তাবিদগণ থেকে ইবনে খালদুনকে যে বিষয়টি স্বাতন্ত্রতা দান করেছে সেই বিষয়টি হল, তাঁর ব্যবহৃত আসাবিয়াত নামক পরিভাষা ও এই আসাবিয়াত নামক পরিভাষাকে বিবেচনায় নিয়ে সমাজের অস্তিত্বকে বায়োলজিক্যাল (জীবতাত্ত্বিক) দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাখ্যা করেন এবং এর সাথে ধাপে ধাপে আবেগ, চিন্তা ও ইরাদা (ইচ্ছা) কেও এর মধ্যে সম্পৃক্ত করে আরও মিশ্র একটি পদ্ধতি দাঁড় করান। এই দৃষ্টিকোন থেকে তিনি ইমাম মাওয়ার্দীর দ্বারা প্রভাবিত হলেও মাওয়ার্দী এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করে জ্ঞানগত দিক থেকে বিশ্লেষণ করায় ইবনে খালদুন ও মাওয়ার্দীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও আমরা দেখতে পাই।</p>
<p>ইবনে খালদুন ও মাওয়ার্দীর সম্পর্কের আরেকটি দিক হল উমরান নামক পরিভাষা। ইবনে খালদুন এই পরিভাষাটিকে মাওয়ার্দী থেকে নিয়েছেন তবে আকল ও জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়কে নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি ইমাম গাজ্জালী, ইমাম ফখরুদ্দিন রাযি এবং মাওয়ার্দী সহ আরও অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ চিন্তাবিদগণের নিকট থেকে সাহায্য নিয়েছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ভবিষ্যৎকে তিনি যেভাবে প্রভাবিত করেছেন</strong></p>
<p>ইবনে খালদুন তাঁর পরবর্তী সময়ের চিন্তা ও চিন্তাবিদের অনেককেই ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছেন। বিশেষ করে তাঁর পরে আসা চিন্তাবিদগণ ইবনে খালদুন থেকে অনেক বেশী উপকৃত হয়েছেন। উসমানী খেলাফতের সীমানার মধ্যে বসবাসকারী আলেমগণ সহ সমগ্র দুনিয়ার চিন্তাবিদগণ ব্যাপকভাবে উপকৃত হন। ইবনে খালদুন কর্তৃক শুধুমাত্র মুসলমানগণ কিংবা ইসলামী চিন্তাধারাই প্রভাবিত হয়নি, একই সাথে পাশ্চাত্য চিন্তাদর্শনও অনেক বেশী উপকৃত হয়েছে। উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের চিন্তাবিদগণ কর্তৃক রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞান নিয়ে লিখিত চিন্তা সমূহকে যদি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে ইবনে খালদুনের সাথে তাদের চিন্তার মধ্যে অনেক সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।</p>
<p>তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা হুবুহু তাঁকে কপি করেছে, আমরা বুঝাতে চাচ্ছি যে ইবনে খালদুনের চিন্তার সাথে অনেক সাদৃশ্যতা রয়েছে। সাধারণভাবে যদি আমরা ইবনে খালদুনের গুরুত্বকে তুলে ধরতে চাই, তাহলে আমরা এই কথা বলতে পারি যে, ইবনে খালদুন ইতিহাস দর্শন এবং একই সাথে সমাজ দর্শনের ক্ষেত্রে বড়দের চেয়েও বড় চিন্তাবিদ। মাওয়ার্দীর সাথে তুলনা করে দেখলে মাওয়ারদীর চিন্তা অনেক বিস্তৃত ও ব্যাপক হলেও ইবনে খালদুন তাত্ত্বিক (থিওরিক) দিক থেকে অনেক বড় একজন দার্শনিক হওয়ার কারণে এবং রাজনীতি ও সমাজিক মেটাফিজিক্সের আলোকে বিশ্লেষণ করলে তিনি অনেক বেশী সামনে চলে আসেন।</p>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<p dir="auto"><em><strong>ইবনে খালদুনকে যদি আমরা বর্তমানে খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে আমরা যে সকল সমস্যার সম্মুখীন সে সকল সমস্যার সমাধানকল্পে একই সাথে থিওরী তৈরি করার ক্ষেত্রে আবার একই সাথে সমাধান তৈরি করার ক্ষেত্রে এবং অতীতের ঘটনা বুঝার ক্ষেত্রে এই বিশ্লেষণ অনেক সহায়ক হবে। অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বুঝার দৃষ্টিকোন থেকে ইবনে খালদুন আমাদের জন্য অনেক বড় একটি ইলহামের উৎস হতে পারেন।</strong></em></p>
<p><strong>অনুবাদ: <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></strong></p>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-his-thinkings/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">12914</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বিশ্বসভ্যতায় বাংলার মুসলমানদের অবদান প্রশ্নে এ প্রজন্মের চিন্তাধারা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/contribution-of-the-bengali-muslims-to-world-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/contribution-of-the-bengali-muslims-to-world-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 10 May 2023 13:43:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[উপমহাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7754</guid>

					<description><![CDATA[একটি জাতির সম্মান ও মর্যাদা হলো সে জাতি বিশ্বসভ্যতায় কী অবদান রেখেছে তা। আরবী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে, شرف المكان بالمكين অর্থাৎ “কোনো স্থানের সম্মান সে স্থানে বসবাসকারীদের উপর ভিত্তি করে নির্ণীত হয়।” এ প্রশ্নের আলোকে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">একটি জাতির সম্মান ও মর্যাদা হলো সে জাতি বিশ্বসভ্যতায় কী অবদান রেখেছে তা। আরবী ভাষায় একটি প্রবাদ আছে,</div>
<blockquote>
<div dir="auto"><strong>شرف المكان بالمكين</strong></div>
<div dir="auto"><strong>অর্থাৎ “কোনো স্থানের সম্মান সে স্থানে বসবাসকারীদের উপর ভিত্তি করে নির্ণীত হয়।”</strong></div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এ প্রশ্নের আলোকে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ জনগোষ্ঠী বাংলার মুসলমানদের অবদান নিয়ে অনেকেই অযৌক্তিক সমালোচনা, নানাবিধ প্রশ্ন উত্থাপন করে যাচ্ছেন!</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">প্রশ্ন ওঠে, বিশ্বসভ্যতায় বাংলার মুসলমানদের ঠিক কী অবদান আছে? বাংলার আদৌ কোনো সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে কিনা?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলায় মুসলিম শাসন বহিরাগত মুসলমানদের দ্বারা হওয়ার কারণে তা বাংলার নিজস্ব সালতানাত হতে পারেনি, বহিরাগত মুসলমান কিংবা আশরাফ-আতরাফ তত্ত্ব, বাঙ্গালী মুসলমান ইত্যকার কড়চা বাংলা অঞ্চলের মুসলমানদের ইতিহাস আলোচনায় নতুন নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো মৌলিক ইতিহাস বিস্মৃত হয়ে আমরা কেন এ সকল আলাপেই নিমগ্ন হই? এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>প্রথমত,</strong> পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী পাশ্চাত্য সভ্যতা চায় মুসলমানদেরকে ও অন্যান্য জাতিকে ইতিহাসবিহীন জাতিতে পরিণত করতে। আর এক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে আফ্রিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের ক্ষেত্রে।</div>
<div dir="auto">একইসাথে বৃটিশ একাডেমিয়া কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থা আজ গোটা উপমহাদেশে বিদ্যমান। ফলশ্রুতিতে মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস তৈরি, ইতিহাস ও সভ্যতার বয়ান তৈরির ক্ষেত্রে স্বাধীন জ্ঞান চর্চা নেই, পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই! তাই আমরা বাঙালীরা নিজস্ব সমৃদ্ধ ইতিহাস বাদ দিয়ে বৃটিশ একাডেমিয়া, ওরিয়েন্টালিস্টদের তৈরি করা ইতিহাসের বয়ানকে সামনে রেখে সবকিছু পাঠ করি এবং বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই তা গ্রহণ করি।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>দ্বিতীয়ত,</strong> আমরা যতটুকু গ্রহণ করি, ততটুকুই আবার ভারতীয় সংস্কৃতি আর সভ্যতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করি (যেটা মূলত উপমহাদেশের ইসলামী সভ্যতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে পুরোপরি সরিয়ে ফেলার জন্য ব্রিটিশ-ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের যৌথ প্রজেক্ট)। অথচ আমরা ভুলে যাই, আজকের গৌরবোজ্জ্বল ভারতীয় সভ্যতার অধিকাংশ ভিত্তিমূল মুসলিম শাসনকালের সৃষ্টি।</div>
<div dir="auto">পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম সালতানাতের পূর্বে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিলো। সে সভ্যতা গণিতের ধারণা দিয়েছে, দর্শনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, আরো অনেক ক্ষেত্রে তাদের পদচারণা ছিলো। এক কথায় তারা ছিলো সমৃদ্ধ। কিন্তু পরবর্তীতে সে সমৃদ্ধির জায়গা থেকে প্রতিটি বিষয়কে আরো বেশি উন্নত করেছে মুসলিম সালতানাত। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, কৃষি, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শিক্ষাব্যবস্থা– সব ক্ষেত্রেই অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছিলো উপমহাদেশের মুসলিম সালতানাতগুলো।</div>
<div dir="auto">কিন্তু এসবকে আমরা অবদান হিসেবে দেখি না কিংবা তুলে ধরতে পারিনা কেন? কেনই-বা বারবার হীনম্মন্য বয়ান তথা বাঙ্গালীর ইতিহাস নেই, অবদান নেই ইত্যাদি বয়ান তুলে ধরি!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমরা এ ভুল কেন করছি? আমাদের পূর্ববর্তী ইতিহাস তো আমাদের এটি শেখায় না!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আব্বাসী খেলাফতের সময় যখন সারা দুনিয়ার বিভিন্ন সভ্যতার মৌলিক গ্রন্থ, জ্ঞানসমূহ অনুবাদ করা হচ্ছিলো, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দুনিয়ার জ্ঞানকে একত্রিত করা হচ্ছিলো, তখনও কিন্তু মুসলমানরা সবকিছু একদম ঢালাওভাবে অনুবাদ করে ফেলেনি কিংবা সবকিছুকে গ্রহণও করেনি। তাহলে এখন আমরা কেন চোখ বুঁজে বৃটিশ একাডেমিয়ার বয়ান মেনে নিচ্ছি?</div>
<div dir="auto">আমরা আমাদের ইতিহাস, অন্যান্য ইতিহাস, ওরিয়েন্টালিস্টদের ইতিহাস, ইউরোপীয় বয়ান, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের বয়ানকে কেন আমরা সেভাবে পর্যালোচনা করতে পারছি না? কতটুকু গ্রহণ বা কতটুকু বাদ দেওয়া দরকার, সেটা আমরা কেন বুঝতে পারছি না?</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>তৃতীয়ত,</strong> বিশ্বসভ্যতায় অবদান কীভাবে রাখতে হয়? সভ্যতার মৌলিক ভিত্তিসমূহ কী কী, যা দ্বারা বিশ্বসভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো জাতির অবদান পর্যালোচনা করা যায়? এগুলো হলো–</div>
<blockquote>
<div dir="auto">১. জ্ঞান।</div>
<div dir="auto">২. অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উৎপাদন।</div>
<div dir="auto">৩. রাজনীতি ও প্রশাসন।</div>
</blockquote>
<div dir="auto">এছাড়াও ভাষা, নগর ও স্থাপত্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে। তাই এসব বিষয়ও আলাদা পর্যালোচনার দাবি রাখে৷</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এসব ক্ষেত্রে বাংলার মুসলমানদের অবস্থান পর্যালোচনা করা যাক।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>১. জ্ঞানের ক্ষেত্র:</strong></div>
<div dir="auto">ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, রাসূল (স.) দারুল আরকাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাহাবীদেরকে শিক্ষা দেওয়া এবং জ্ঞান যে একটি জাতি বা সমাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে তা উম্মতের সামনে তুলে ধরেন।</div>
<div dir="auto">পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিশু ও বন্দীদেরকে লিখাপড়া শেখানোর মাধ্যমে মুক্তিপণ দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেন তিনি, যার নজির দ্বিতীয়টি নেই। এরপর আসহাবে সুফফা প্রতিষ্ঠাসহ নানাবিধ সামষ্টিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আমরা জানি যে, কোরআনে ‘ইকরা’ বলতে সামগ্রিকতাকে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ তুমি মানুষকে পড়ো, সমাজকে পড়ো, মানুষের রূহকে পড়ো, সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্বকে পড়ো– এ কথা বলা হয়েছে। এজন্যই এত দ্রুত মানব সভ্যতায় মুসলমানদের প্রভাব বিস্তার সম্ভব হয়েছিলো। অথচ বর্তমান সময়ে আমরা পড়ালেখাকে কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের মাঝে সীমাবদ্ধ করায় আমাদের সভ্যতাকে পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে তুলে ধরতে পারছি না!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">জ্ঞানের গুরুত্বের বিষয়টা আমরা আমাদের সভ্যতায় প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখতে পাই। যেমন– উসমানী খেলাফত। উসমানী খেলাফত শুরু হয় উসমান গাজীর মাধ্যমে, যিনি ছোট একটি গোত্র প্রতিষ্ঠা করার পর সর্বপ্রথম উরহানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তৎকালীন সময়ের সেরা আলেম আল্লামা দাউদ আল কায়সারীকে সে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন শিক্ষক। Morning Shows the day, সকালের সূর্য বলে দেয় দিন কীভাবে যাবে! উরহানিয়া মাদ্রাসাও তার ভবিষ্যৎ দেখিয়ে দিয়েছিলো।</div>
<div dir="auto">ইসলামী সভ্যতার অধিকাংশ খলিফা-ই শিক্ষাব্যবস্থায় সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। বিভিন্ন ধারার উত্থান, জ্ঞানের আন্দোলন ও গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসাসমূহ তাদের পৃষ্ঠপোষকতায়-ই প্রতিষ্ঠা হতো।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এবার ভারতীয় উপমহাদেশের প্রসঙ্গে আসি। ভারতীয় উপমহাদেশের ক্ষেত্রে জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরসহ অধিকাংশ সুলতানের অবদান আমাদের জন্য অবিস্মরণীয়। পাশাপাশি এ অঞ্চলে সূফী দরবেশদের মাদ্রাসাসমূহ জ্ঞানের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই মুজাদ্দিদে আলফে সানী, ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী, মহাকবি আলাওল ও সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহরা উঠে এসেছেন। এখান থেকেই উঠে এসেছেন কুতুব মিনার, আতিয়া মসজিদ, আন্দরকিল্লার স্থাপত্যবিদরা। ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর দারসবাড়ি, মাদ্রাসাসমূহ যে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এসব ছিলো মুসলিম সালতানাতের শ্রেষ্ঠ স্মৃতিচিহ্ন, শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এতকিছুর পরেও বলা হয়ে থাকে, উপমহাদেশে কোনো শিক্ষাব্যবস্থা ছিলো না!</div>
<div dir="auto">এক্ষেত্রে ছোট্ট একটি প্রশ্ন হলো শিক্ষাব্যবস্থা যদি না-ই থাকতো, তাহলে কীভাবে ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর মতো শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদ উঠে এসেছেন? কীভাবে বাদশাহ আলমগীর উঠে এসেছেন? বাংলার বুজুর্গ উমেদ খাঁ এর মতো সেনাপতি, ইবনে হোসেনের মতো নৌ-সেনাপতি, দেওয়ান মুনাওয়ার খানের মতো বীর যোদ্ধা, বারো আউলিয়া সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরউদ্দিন ও বদর পীরসহ এ ধরনের ব্যক্তিত্বরা কীভাবে উঠে এসেছেন?</div>
<div dir="auto">কীভাবে আল বিরুনী উঠে এসেছেন? তৎকালীন শিক্ষাব্যবস্থার অধীনস্থ মাদরাসা থেকে পড়াশোনাকারীরা কীভাবে তাজমহলের ন্যায় অনবদ্য স্থাপত্য তৈরি করেছেন? বাংলার এত এত স্থাপত্য কীভাবে তৈরি হলো? কীভাবে উপমহাদেশের অন্তর্ভূক্ত আফগানিস্তানের থেকে মানবতার ইতিহাসে সেরা আলেম ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী উঠে এসেছেন? আগা বাকের খাঁ, শায়েস্তা খাঁ, সেকান্দার গাজীদের মতো মনীষীগণ-ই বা কীভাবে তৈরি হলেন?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বলা হয়ে থাকে, বাংলা অঞ্চলের মুসলমানরা নিরক্ষর ছিলো! অথচ সাড়ে সাতশো বছরের ঐতিহ্যবাহী মক্তবগুলো বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এখানের প্রতিটা গ্রামে গ্রামে, বাড়িতে বাড়িতে মক্তব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। যে অঞ্চলের মানুষ কোরআন পড়তে জানে, সে অঞ্চলের মানুষ কীভাবে নিরক্ষর হয়?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তারা বলে, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ছিলো না, শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থানকে তারা অস্বীকার করে নির্দ্বিধায়। আবার তারাই বলছে, এ অঞ্চলে অর্থনীতি ছিলো, কৃষি ছিলো, প্রশাসন ছিলো, রাষ্ট্র ছিলো। এগুলোকে তারা স্বীকার করে। এখন প্রশ্ন হলো এ ক্ষেত্রগুলো কি কোনো ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার সাহায্য ছাড়া এমনিতেই সচল ছিলো? অর্থাৎ তারা ধোঁয়াকে স্বীকার করছে, কিন্তু আগুনকে অস্বীকার করছে! আমরাও তার অনুসরণ করছি! এখানে কি স্পষ্ট বোঝা যায় না যে, এসব ব্রিটিশ একাডেমিয়ার ইতিহাসবিহীন জাতিতে পরিণত করার পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্রের অংশ? (তবে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থার উচ্চমানের দ্বিধাহীন প্রশংসাও বৃটিশদের অনেকে করেছেন। যেমন– বৃটিশ জেনারেল স্লিম্যান। তিনি তাঁর লেখায় বাংলা অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থাকে অক্সফোর্ডের সাথে তুলনা করেছেন। বাস্তবতা হলো বাংলা অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর বয়ানের তুলনায় বহুগুণ সমৃদ্ধশালী ছিলো।</div>
<div dir="auto">সাংস্কৃতিক আধিপত্য এবং ইতিহাসের বিকল্প বয়ান তৈরির ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তি, অঞ্চল কিংবা রাষ্ট্র তার নিজস্ব সংস্কৃতি অধীনস্থদের উপর চাপিয়ে দেয় এবং অধীনস্থদের সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্র ধরে নিজেদের সংস্কৃতির আদলে বিকল্প চিন্তার বাস্তবায়ন ঘটায়। ফলশ্রুতিতে অধীনস্থরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি বিস্মৃত হয়ে যায়। এর মাধ্যমে অধীনস্থ বা শোষিত জনগোষ্ঠীর ইতিহাসকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বাংলা অঞ্চলের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা এ কাজটিই করেছে। এর মাধ্যমে প্রথমেই তারা বাংলায় ইসলামী সভ্যতার স্মারকচিহ্নগুলো ধ্বংস করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, জার্মান পণ্ডিত ম্যাক্স মুলারের হিসাব অনুযায়ী ব্রিটিশরা বাংলা দখল করার পরেও ৭০,০০০ প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান ছিলো। অথচ আজ তার একটিও আমরা খুঁজে পাই না! আজ আমরা সোনারগাঁওয়ের মাদ্রাসাতুশ শরফ, দারসবাড়িগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত নই!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অর্থাৎ জ্ঞান একটি জাতি বা সমাজের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং সকল ফলাফল জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। জ্ঞান যত বেশি, প্রোডাকশন তত বেশি হয়।</div>
<div dir="auto">পাশাপাশি জ্ঞান ছাড়া কোনো সভ্যতাই নিজস্ব ভিত্তি নিয়ে টিকে থাকতে পারে না। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, বাংলায় মুসলিম সভ্যতার সময়কাল ছিলো ৫০০ বছর! যদি জ্ঞান না থাকতো, তবে এ সভ্যতা কীভাবে এত দীর্ঘ সময় টিকে ছিলো?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রেও আমরা স্থাপত্য এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকার কারণে হুবহু পাশ্চাত্যকে অনুকরণ করছি। অর্থাৎ যে সকল ক্ষেত্রে আমাদের জ্ঞান নেই, সে সকল ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি! এভাবে সমাজের সকল উৎপাদন ও ভিত্তিমূল জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাই পাঁচশো বছরের বাংলা অঞ্চলের মুসলিম সভ্যতার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতি, শক্তিশালী প্রশাসন, উন্নত কৃষি ও শিল্প, সেরা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গৌরবোজ্জ্বল নগর ও স্থাপত্য ইত্যাদিই বুঝিয়ে দেয়, আমাদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ভিত্তি কতটা মজবুত ছিলো, বিশ্বসভ্যতায় আমরা কীভাবে অবদান রেখেছিলাম!</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>২. অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উৎপাদন:</strong></div>
<div dir="auto">ভারতীয় উপমহাদেশে ছিলো অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। সমগ্র বিশ্বের প্রায় ২৫-৩০% GDP নিয়ন্ত্রণ করতো এ উপমহাদেশ। আমাদের কৃষি থেকে শুরু করে মসলা, কাপড় বিশ্ব-বিখ্যাত ছিলো। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আমাদের বাংলা ছিলো কৃষি ও বাণিজ্যের অন্যতম মূল রাজধানী। এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, আমরা উপমহাদেশের মুসলমানগণ ও বাংলা সালতানাত পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। সুতরাং এ অবদানকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করা এক প্রকার বাতুলতা!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">পাশাপাশি ইসলামী সভ্যতা একইসাথে দেখিয়েছে যে, শুধু অর্থনৈতিক উৎপাদন একটি সভ্যতাকে খুব বেশি সামনে এগিয়ে নিতে পারে না, একইসাথে সাংস্কৃতিক উৎপাদনও করতে হয়। সাংস্কৃতিক উৎপাদনের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, জ্ঞানের চর্চা। শহর ও গ্রামকে বসবাসের উপযোগী করে আমি যে মূল্যবোধকে ধারণ করি তার আলোকে গড়ে তোলা। অধিকাংশ শহরে সে মূল্যবোধ লালিত হবে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সে মূল্যবোধ ধারণ করে বেড়ে উঠবে। মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতিফলনের জন্য সূরা বনী ইসরাঈলের ২৬ থেকে ৩৮ নাম্বার আয়াত থেকে শিক্ষা নেওয়া হতো। এগুলো বর্তমানে আমাদের সমাজে কতটুকু বাস্তবায়িত? অর্থাৎ সাংস্কৃতিক উৎপাদন সম্পর্কেও আমরা এখন জ্ঞানহীন। যেমন– আমাদের মিউজিক, আর্ট, শিল্পকলা, স্থাপত্য, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা কোথা থেকে এসেছে? আমার ঘরে আমার স্থানীয় সংস্কৃতি, ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ কতটুকু প্রতিফলিত হয়? এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলোতে আমরা নজর দেই না কিংবা ইসলামী সভ্যতার গুরুত্ব-ই উপলব্ধি করি না!</div>
<div dir="auto">পুঁজিবাদী আগ্রাসনের ধাক্কায় কীভাবে টাকা উপার্জন করবো, আমেরিকান ড্রিমস কীভাবে বাস্তবায়ন করবো সেদিকেই আমরা নিজেদের ধ্যান-জ্ঞান দিয়ে রাখি! কিন্তু আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি কতটুকু শক্তিশালী সেদিকে নজরও দিচ্ছি না! সভ্যতা বা সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ঘর হলো ভাষা। যেমন– সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত অর্থনৈতিকভাবে উন্নত, কিন্তু সাংস্কৃতিগতভাবে শূন্য! সেখানকার অধিবাসীরা আরবী, আঞ্চলিক মাতৃভাষার চেয়ে ইংরেজিতেই বেশি কথা বলে, যার ফলেই তাদের এ অবস্থা।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক উন্নতির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে “ইসলামী ডেক্লারেশন”-এ আলীয়া বলেছেন, “শুধু এককেন্দ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি জাতিকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”</div>
<div dir="auto">এ এককেন্দ্রিকতা একটি জাতিকে অধঃপতনের দিকেও নিয়ে যায়। যেমন– বর্তমান সমাজ। যেখানে আমাদের সাহিত্য, আমাদের কবিতা, আমাদের শিল্প কোনো কিছুরই বিকশিত হওয়ার সুযোগ নেই! সবই পুঁজিবাদী আগ্রাসনের হাতে বন্দী!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যাই হোক, আমরা যদি বাংলার মুসলিম সালতানাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করি, তাহলে এ বিষয়টি অসাধারণভাবে ফুটে ওঠে। এ সালতানাত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উৎপাদন সমানভাবে করে একটি উন্নত সভ্যতা বিশ্ববাসীকে উপহার দিলো, অসাধারণ উপমা হিসেবে পেশ করলো, তবুও আমরা বলছি বিশ্বসভ্যতায় আমাদের অবদান নেই!</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>৩. রাজনীতি ও প্রশাসন:</strong></div>
<div dir="auto">জ্ঞান ও উৎপাদনকে সঠিকভাবে বন্টন করবে রাষ্ট্রীয় আকল, কারণ এটির সঠিক বাস্তবায়ন না হলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে ইসলামের মূলনীতি হলো–</div>
<blockquote>
<div dir="auto">• আদালত।</div>
<div dir="auto">• ইহসান।</div>
<div dir="auto">• সামাজিক নিরাপত্তা।</div>
<div dir="auto">• ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধন।</div>
<div dir="auto">• চিন্তা ও ধর্মের স্বাধীনতা (ইসলাম কারো ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না।)।</div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a"></div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ইসলাম যেহেতু মানুষকে মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তোলে, তাই আমাদের সমাজের ভিত্তি হলো আখলাক এবং আদালত।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যেসব রাষ্ট্র নাগরিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা নিশ্চিত কর‍তে পারেনি, উল্টো তাদের উপর কঠোরতা আরোপ করেছে, সেসব রাষ্ট্র খুব কম সময়ই টিকে থাকতে পেরেছে। যেমন– সোভিয়েত ইউনিয়ন মাত্র ৭০ বছর টিকে ছিলো, কারণ এ রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগনের শোয়ার ঘর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে!</div>
</div>
</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কিন্তু একেকটি ইসলামী রাষ্ট্র ৫০০-৭০০ বছর স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে ছিলো, বাংলা সালতানাতের ইতিহাসও ভিন্ন নয়। সুতরাং বিশ্বসভ্যতায় এ অনন্য উপমা কীভাবে প্রশংসিত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা আমরা সমাজকে মূল্যবোধের আলোকে গড়ে তুলেছিলাম। সে সমাজে মূল বিষয় ছিলো ইহসান। এখানে আইন, আদালত আর ইহসান হলো আখলাকের বিষয়। এজন্য আমাদের সমাজে ভিত্তি ছিলো আখলাক। এভাবে শ্রেষ্ঠত্বের নিশান উড়িয়েছিলো আমাদের বাংলা সালতানাতের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>নগর, সংগীত ও স্থাপত্য:</strong></div>
<div dir="auto">একটি সভ্যতার মোহর দুই জায়গায় খুব শক্তিশালীভাবে প্রতিফলিত হয় এবং সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো–</div>
<blockquote>
<div dir="auto">১. সংগীত, মিউজিক।</div>
<div dir="auto">২. স্থাপত্য।</div>
</blockquote>
<div dir="auto">হিন্দুদের উলু ধ্বনি জাতীয় কিছু বিষয় ছাড়া নিজস্ব কোনো মিউজিক ছিলো না, এবং এখনকার যা রয়েছে, সবই অন্যদের থেকে ধার করা! হিন্দু মিউজিক বলে পরিচিত এ রকম শক্তিশালী ভিত্তিসম্পন্ন কিছু পাওয়া যায় না, বরং ভারতীয় উপমহাদেশে যতগুলো মিউজিকের ধারণা, সব মুসলমানদের তৈরি করা। কাওয়ালি, হামদ ও নাত, মারেফতী, মুর্শিদি, ভান্ডারী, সুফী সংগীত ভারতীয় উপমহাদেশের সুফীদের সংগীতের ভান্ডার। আবার নকশীবন্দী ত্বরিকাসহ সবারই আলাদা সংগীতের ধারা রয়েছে। আমির খসরু বা আখি সিরাজ উপমহাদেশের মিউজিক জগতের অন্যতম স্তম্ভ। কাওয়ালী থেকে শুরু করে বিশাল একটি ধারা উনাদের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে। হাল আমলের সুরসম্রাট নুসরাত ফতেহ আলী, সামি ইউসুফও এর দ্বারা প্রভাবিত। এবং বৃটিশ শোষণ পরবর্তী নজরুলের সংগীতের যে প্রাজ্ঞতা, তা পূর্বের সালতানাতের রূহের সাক্ষ্যই বহন করে।</div>
<div dir="auto">ঐতিহাসিকদের মতে, বাংলা অঞ্চলে বহু ধারার মিউজিক বিদ্যমান ছিলো। সুতরাং এ সভ্যতা শুধুমাত্র মিউজিকের ক্ষেত্রেই যদি এত কিছু করে থাকে, তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রে কী করেছিলো তা সহজেই অনুমেয়!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এখন আমরা যদি আমাদের স্থাপত্য নিয়ে পর্যালোচনা করি, সেক্ষেত্রে একটি উদাহরণ দিয়ে আমাদের অবদান তুলনা করতে চাই। ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের মন্দিরের অবকাঠামো মুসলমানরা আসার পরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে? হিন্দুদের স্থাপত্যকলায় জানালার ধারণা সে অর্থে ছিলো না, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জানালা সদৃশ ছিদ্রের প্রচলন ছিলো শুধু। কিন্তু মুসলমানরা যাওয়ার পর, বিশেষ করে কুতুব মিনার তৈরির পর থেকে তারা বড় বড় জানালা বানাতে শুরু করে, এভাবে সব ক্ষেত্রেই মুসলমানদের মতো পরিকল্পিত বিষয় গড়ে তোলার চেষ্টা করে। বাস্তবতা হলো এ ধর্মগুলোর মাধ্যমে কখনোই স্থাপত্যের শক্তিশালী ভিত্তি রচনা করা, ছাপ ফেলা সম্ভব নয়। যেমন– হিন্দু, জৈন ধর্মে পরিচ্ছন্নতার ধারণা পর্যন্ত গোছালো মূলনীতি আকারে নেই! সুতরাং তারা কিছু মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেও সে অর্থে তাদের দ্বারা স্থাপত্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে উপমহাদেশে আমরা মুসলমানরা গর্বের সাথে বলতে পারি, স্থাপত্য, পরিকল্পিত নগর আমরাই সফলভাবে সৃষ্টি করতে পেরেছি এবং আমরাই বিশ্বসভ্যতায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছি। সমসাময়িক পৃথিবীতেও স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনায় আমরাই ছিলাম অতুলনীয়।</div>
<div dir="auto">বাংলা অঞ্চলের শত শত প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্য, পুরান ঢাকার স্মৃতিচিহ্ন, সোনারগাঁওসহ ১২০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এসব প্রাচীন ক্ষেত্র কিসের সাক্ষ্য দেয়? সাক্ষ্য দেয়, স্থাপত্য এবং মিউজিকে আমরা সেরা ছিলাম। কিন্তু জ্ঞান ও বুদ্ধিভিত্তিক ক্ষেত্রে সমাজ তার হাফেজা তথা মেমোরিকে হারিয়ে ফেলার কারণে আমাদের মনে হচ্ছে, চিন্তাগত ক্ষেত্রে বাংলার মুসলমানরা বিশ্বসভ্যতায় কোনো অবদান রাখতে পারেনি। অর্থাৎ বিশ্বসভ্যতা অবদানের সংজ্ঞাই আমরা বৃটিশ একাডেমিয়ার আদলে পর্যালোচনা করছি, আর তাই হীনম্মন্যতার বয়ান দিচ্ছি!</div>
<div dir="auto">চিন্তা করে দেখি তো, একটি সভ্যতা স্থাপত্য, মিউজিক শিল্পে এত উন্নতি সাধন করেছে, অথচ এর কোনো জ্ঞানগত ভিত্তি ছিলো না– এটি কখনো সম্ভব? আবার ইদানীং বলা হচ্ছে, বাংলার কোনো চিন্তাগত ভিত্তি নেই, থাকলেও তার রেফারেন্স বা দলিল নেই, সুতরাং বিশ্বসভ্যতায় বাংলার কোনো অবদান নেই।</div>
<blockquote>
<div dir="auto"><em>প্রশ্ন হলো সূর্য যে আছে তার দলিল কী?</em></div>
<div dir="auto"><em>জবাব হলো আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখুন। কারণ সূর্যের কখনো দলিল প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ সব কিছুর জন্য দলিল প্রয়োজন হয় না, আকলী চোখ দিয়ে লক্ষ্য করলেই তা উপলব্ধি করা যায়।</em></div>
</blockquote>
<div dir="auto">আমাদের সবচেয়ে বড় দলিল হলো এ বাংলার জমিন, যে জমিনে এত বড় বড় স্থাপত্য গড়ে উঠেছে, যে জমিনে এত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে; সে সংস্কৃতি, যে সংস্কৃতি এত উৎকর্ষ সাধন করেছে; সে কয়েকশো বছরের শক্তিশালী প্রশাসন, রাজনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা, যা পৃথিবীকে আন্দোলিত ও লালিত করেছে; যে সমাজের জ্ঞান ও চিন্তা, যার উপর ভিত্তি করে এত সুলতান, আলেম ও ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছে। এসবই কি সবচেয়ে বড় দলিল নয়?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">মূলত এক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হয়েছি জাতির হাফেজা তথা স্মৃতিভান্ডার বা মেমোরি রক্ষার ক্ষেত্রে। ইসলামী সভ্যতার শুধুমাত্র মূলনীতির উপর ভিত্তি করেও আমরা অনেক কিছু তৈরি করতে পারতাম; তুলে ধরতে পারতাম, সাংস্কৃতিক উৎপাদন সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে শহরে, কারণ সভ্যতার প্রতিফলন শহরে, সমাজে ও মানুষের চিন্তা-চেতনায় সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু এগুলো আমাদের কোথাও নেই, আমাদের শহরগুলো আজ এক একটি ধ্বংসস্তুপ!</div>
<div dir="auto">তাই নয়া আহ্বান হওয়া উচিত, আমরা যার যার অবস্থান থেকে হলেও কাজ করবো, বাড়ি বানালে সেটা আমাদের সভ্যতার আলোকে সুন্দর করে বানাবো। আমাদের সমাজ, আবহাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত এ ধরনের বাড়ি বানাতে হবে। এক্ষেত্রে মূলনীতি হওয়া উচিৎ, আমি যদি সম্পূর্ণ করতে না পারি, তাহলে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিবো না। আমার যতটুকু সামার্থ্য আছে, ততটুকুর আলোকে করবো। এভাবে যদি আমরা আমাদের বাড়িকে সাজাতে পারি, তাহলে সময়ের ব্যবধানে অবশ্যই একটি পরিবর্তন আসবে, কারণ মানুষ সুন্দরের পূজারী। সুন্দর দেখলে মানুষ এমনিতেই আকর্ষিত হয়। তাই যা আছে, তাকে সুন্দর, সাংস্কৃতিকভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা আবশ্যক।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলা ভাষার সমৃদ্ধির পিছনে মুসলমানদের অবদান, তাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি স্থাপনের বর্ণনা দু-চার লাইনে ব্যাখ্যা করলে তা অসমাপ্ত রয়ে যাবে এবং বাংলা ভাষার সমৃদ্ধশালী ইতিহাস ও উপাখ্যানের প্রতিও অবিচার করা হবে। ভাষার সমৃদ্ধির বিবেচনায় চিন্তা করতে গেলে অন্যান্য সব অঞ্চল বাদ দিয়ে যদি আফ্রিকার দিকে তাকাই, সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো আফ্রিকার মতো বিশাল দেশে কোনো নিজস্ব ভাষা নেই বললেই চলে। মরক্কো, আলজেরিয়ায় ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যবাদের কারণে তাদের নিজস্ব ভাষা যেন আজ বিলুপ্ত। অথচ–</div>
<blockquote>
<div dir="auto">• দুইশো বছরের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের শিকার হয়েও আমাদের মাতৃভাষা বাংলা সগৌরবে টিকে আছে।</div>
<div dir="auto">• স্বরতন্ত্র, লিপি থেকে শুরু করে বাংলা ভাষার সম্পূর্ণ প্যাটার্ন আমাদের নিজস্ব।</div>
<div dir="auto">• আমাদের মৌখিক এবং লিখিত ভাষায় পার্থক্য নেই।</div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এর দ্বারা বাংলা ভাষার ভিত্তি কতটা শক্তিশালী তা সহজেই অনুমেয়।</div>
<div dir="auto">আমাদের ভাষা, জাতীয়তা, আত্মপরিচয় নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও এ অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতি, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, জাতীয়তার মূল ভিত্তি ও আত্মপরিচয়ের গৌরবময় বাহন বাংলা। এত শোষণের পরেও নজরুল, ফররুখের রচিত ভাষা ও সাহিত্যের দূর্জয় প্রকাশ সাক্ষ্য দেয়, এ ভাষা বিশ্বসভ্যতার বিবেকের ভাষা।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বিশ্বসভ্যতায় বাংলার মুসলমানদের অবদান নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, বিশ্বসভ্যতা বলতে কী বুঝেন? বিশ্বসভ্যতা শব্দটা কবে এসেছে এবং কোথা থেকে এসেছে?</div>
<div dir="auto">সভ্যতা যদি চিন্তা ও বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত হয়, সেক্ষেত্রে সভ্যতায় অবদান রাখাকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।</div>
<blockquote>
<div dir="auto">১. অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখা।</div>
<div dir="auto">২. সাংস্কৃতিকভাবে ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অবদান রাখা৷</div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">উপরোক্ত আলাপে এটি ফুটে উঠেছে যে, আমাদের অবদান কতটুকু এবং আমাদের অজ্ঞতার জায়গা কোথায়!</div>
<div dir="auto">এরপরেও যদি সন্দেহ জাগে, তবে এ ঘাটতি ইসলামী সভ্যতা বা ইতিহাসের নয়, এ ঘাটতি আমাদের জ্ঞানের। অর্থাৎ সূর্যকে যদি ঢেকে রাখি, তাহলে এর আলো বন্ধ হয়ে যায়নি কিংবা সূর্য পূর্বে ছিলো না– এ কথা বলার সুযোগ নেই!</div>
<div dir="auto"><em>যেমন– প্রফেসর ড. তাহসিন গরগুন প্রমাণ করেছেন যে, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ হস্তলিখিত লাইব্রেরী হল সুলেইমানিয়া।</em> এখানে উসমানী আমলের ৮০০ জন আলেমের লিখিত বই আছে। তিনি তার ছাত্রদের দিয়ে তালিকা করেছেন, তারা গবেষণায় ৮০০ আলেম পেয়েছেন, এদের মধ্যে ৮০ জন আছেন তাঁদের প্রত্যেকের বই এর সংখ্যা ১০০ উপরে। এর মধ্যে অনেক বই আছে যেগুলো মৌলিক।</div>
<div dir="auto">চিন্তা করুন তো, ঔপনিবেশিক শোষণ থেকে অনেকাংশেই মুক্ত থাকা সত্ত্বেও যদি তাদের এ অবস্থা হয়, তাহলে ২০০ বছরের শোষিত বাংলা অঞ্চলের অবস্থা কেমন হওয়ার কথা?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<blockquote>
<div dir="auto">আমাদের সব লাইব্রেরির বই ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে ! উসমানী খেলাফতের এত কিছু থাকার পরেও তাদের অবদান অস্বীকার করা হয় এবং বলা হয়, উসমানীরা যুদ্ধ ছাড়া কিছুই করেনি, জ্ঞান-দর্শনে তাদের কোনো অবদান নেই! এ প্রেক্ষিতে ওই অঞ্চলের ঐতিহাসিকরা বলে, মানুষ অজ্ঞ হলেও চোখে পড়া উচিৎ, সুবিশাল সোলায়মানিয়া লাইব্রেরিসহ মসজিদগুলো নিজেই এক একটি সাক্ষী, যেখানে ১০ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পার, অথচ এখানে তখন কোনো মাইক লাগতো না! বর্তমান বিজ্ঞানীরা আজ পর্যন্ত এর রহস্য আবিষ্কার করতে পারেনি, কারণ এর স্থপতি মিমার সীনান ছিলেন একইসাথে একজন পদার্থবিদ, রসায়নবিদ ও মিউজিকের সর্বোচ্চ চূড়া৷ বিজ্ঞানীর পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ মিউজিশিয়ান না হলে এ ধরনের স্থাপত্য নির্মাণ কখনোই সম্ভব নয়। রসায়ন না জানলে শক্ত মাটি, পাথরের উপর ভিত্তি করে এত মজবুত বিল্ডিং তৈরি করা সম্ভব হতো না। এমনকি তিনি দেয়ালের ভেতরে লিখে গিয়েছিলেন, পরবর্তীতে সংস্কার করার সময় কোন কোন উপকরণ প্রয়োজন হবে বা কীভাবে সংস্কার করতে হবে, যে লিখা ৪০০ বছর পরে সংস্কারের জন্য দেয়াল ভেঙ্গেও পাওয়া গেছিলো। প্রশ্ন হলো তিনি কোন কালি দিয়ে লিখছেন যে, ৪০০ বছরেও তা মুছেনি? আর কতটা দক্ষতা থাকলে এত বছর পরের সংস্কার কাজের পদ্ধতিও তিনি বলে যেতে পারেন ?</div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">একইভাবে আমাদের অঞ্চলের স্থাপত্য, প্রাচীন শহর ও ভাষা, সুবিশাল সালতানাতের স্মৃতিচিহ্ন দেখার পরেও যদি আমরা বলি, মুসলমানদের কোনোই অবদান নেই, তাহলে আমাদের জন্য বৃটিশ একাডেমিয়ার চিন্তার দাসত্ব ছাড়া ভিন্ন কিছু করার নেই!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এজন্য ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ভালোভাবে না পড়লে কখনোই অবদান সম্পর্কে জানা সম্ভব নয় এবং অবদান রাখাও সম্ভব নয়। কোনো জাতি তার অতীতকে অস্বীকার করতে পারে না, কারণ সে জাতির বৈশিষ্ট্য অতীতের সৃষ্টি। এটিই আমাদের মূলনীতি হওয়া উচিত। আমাদের এ সমাজ ও সভ্যতা ছিলো মানুষের সমাজ ও সভ্যতা। নানা সংকট, উত্থান-পতনের আবর্তেই তা পরিচালিত হতো। এখান থেকে মূল শিক্ষাগুলো গ্রহণ করাই আসল পর্যালোচনা। অর্থাৎ আমরা ইতিহাসকে নিন্দা করবো না, বরং বিশ্লেষণ করবো।</div>
<div dir="auto">এসব পর্যালোচনা করে শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসী আলাপগুলোই তুলে ধরার দায়িত্ব ছিলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে, নয়া জ্ঞান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে!</div>
<div dir="auto">এজন্য আমাদের নতুন করে সমাধানে জন্য কাজ করতে হবে।</div>
<div dir="auto">যেমন– <em>কাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে বসেও রচনা করেছেন,</em></div>
<blockquote>
<div dir="auto">“কারার ঐ লৌহকপাট,</div>
<div dir="auto">ভেঙ্গে ফেল, কর রে লোপাট,</div>
<div dir="auto">রক্ত-জমাট</div>
<div dir="auto">শিকল পূজার পাষাণ-বেদী।</div>
<div dir="auto">ওরে ও তরুণ ঈশান!</div>
<div dir="auto">বাজা তোর প্রলয় বিষাণ!</div>
<div dir="auto">ধ্বংস নিশান</div>
<div dir="auto">উড়ুক প্রাচীর প্রাচীর ভেদি।”</div>
</blockquote>
<div dir="auto">তিনি জেলে থেকেও নিজের সমাজকে জ্ঞানের উৎস হিসেবে নিয়েছেন এবং নিজের ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন। তখন ছিলো ইংরেজদের জয়-জয়কার, অথচ তার কবিতায় একটি ইংরেজি শব্দও নেই।</div>
<div dir="auto">মুসলমান ও ইংরেজদের সংঘাত চলাকালে তিনি বলছেন,</div>
<blockquote>
<div dir="auto">“তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!</div>
<div dir="auto">যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান।</div>
<div dir="auto">ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,</div>
<div dir="auto">ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার।</div>
<div dir="auto">অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন</div>
<div dir="auto">কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন।</div>
<div dir="auto">হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন?</div>
<div dir="auto">কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার</div>
<div dir="auto">গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ,</div>
<div dir="auto">পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ!</div>
<div dir="auto">কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ?</div>
<div dir="auto">করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার!</div>
<div dir="auto">কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর,</div>
<div dir="auto">বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর!</div>
<div dir="auto">ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর!</div>
<div dir="auto">উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার।</div>
<div dir="auto">ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান,</div>
<div dir="auto">আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান</div>
<div dir="auto">আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ?</div>
<div dir="auto">দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!”</div>
</blockquote>
<div dir="auto">নিজের সমাজ ও চেতনাকে উৎস বানালে যে ছোট একটি কবিতা দিয়ে শক্তিশালী বড় সভ্যতার বিপরীতে লড়াই করা যায়, তার উদাহরণ এটি। যে সাম্রাজ্যের সূর্য ডুবে না, সে সাম্রাজ্যের জেলে বন্দী থেকে যদি এমন সব কবিতা, প্রতিবাদী কথামালা তিনি রচনা করতে পারেন, তাহলে আমাদের পক্ষে এখন তা কেন সম্ভব নয়? এগুলো আমাদের সামনে জ্বলন্ত উদাহরণ, যা ব্যাপকভাবে আন্দোলিত ও প্রভাবিত করে।</div>
<div dir="auto">আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ১০/১২ টি গান গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করেছিলো!</div>
<div dir="auto">যেমন–</div>
<blockquote>
<div dir="auto">“মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি। &#8230;যে শিশুর মায়া হাসিতে আমার বিশ্ব ভোলে।”</div>
</blockquote>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাই আমাদের কর্তব্য হলো আমাদের সমাজকে উৎস হিসেবে নেওয়া এবং আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করা। বৃটিশ ওরিয়েন্টালিস্টদের শিখিয়ে দেওয়া পদ্ধতিতে এসব বোঝা সম্ভব নয়!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">হ্যাঁ, এটি সত্য যে, আমাদের গৌরবজ্জ্বল অতীতের কোনো কিছুই এখন অবশিষ্ট নেই বা আমাদের হাতে নেই। কিন্তু তা প্রমাণ করা সম্ভব! সত্যের আলাদা শক্তি আছে। সত্যকে সবার সামনে হাজির করাটাও আমাদের দায়িত্ব, যে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এ শতকের মহান মুজাহিদ, আলেম ড. ফুয়াদ সেজগিন। তিনি ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। পশ্চিমা সভ্যতার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবঞ্চনা ও তৈরিকৃত মিথ্যা বয়ানকে তিনি যৌক্তিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে ইসলামী সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরেন।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তার মতোই আমাদের উপমহাদেশে, আমাদের বাংলা অঞ্চলের মানুষদের মধ্য থেকে নিজেকে উৎসর্গকারী কিছু মানুষ প্রয়োজন, যারা উপমহাদেশের ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসকে, ইসলামের জ্ঞানের ইতিহাসকে, ইসলামের শিক্ষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসকে, আলেম এবং দার্শনিকদের ইতিহাসকে, স্থাপত্য ও শিল্পকলার ইতিহাসকে, সমাজ ও অর্থনীতির ইতিহাসকে এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ শোষণের নিকৃষ্টতম জুলুমপূর্ণ অধ্যায়কে ও ব্রিটিশ পরবর্তী হীনম্মন্যতার সময়কালকে খুব ভালোভাবে তুলে ধরে আত্মবিশ্বাসী বিজয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার মতো বয়ান সৃষ্টি করবে। অবশ্যই অবশ্যই ড. ফুয়াদ সেজগিনের মতো আমাদেরকেও নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে হবে। কেননা ত্যাগ ও প্রচেষ্টা ছাড়া এ হীনম্মন্যতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমরা যদি আমাদের জ্ঞান, চিন্তা ও পর্যালোচনার জায়গায় শক্তিশালী হই, তবে অবশ্যই সত্যকে খুঁজে পাব। এভাবেই ইসলামী সভ্যতার নিশ্চিত বিজয়, নতুন দুনিয়া গড়া ও ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণ অবশ্যই সম্ভব এবং এটি ততটাই সত্য, যতটা সত্য আগামীকালের সূর্যোদয়।</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/contribution-of-the-bengali-muslims-to-world-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7754</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ধর্ম ও আইন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/religion-and-law/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/religion-and-law/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 26 Jan 2023 15:02:38 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[আইন]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্ম]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্ম ও আইন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7610</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী ব্যবস্থা এর দ্বারা আমরা কি বুঝি? আমাদের প্রজন্ম এটাকে কিভাবে বুঝেছে? যে প্রজন্ম এটাকে নিয়ে চিন্তা করেছে এর ব্যাপারে কথা বলেছে ও অনুপ্রাণিত হয়েছে। খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ইসলামী ব্যবস্থাকে এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃ ধর্ম ও আইন, শিক্ষা এবং শক্তি,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী ব্যবস্থা এর দ্বারা আমরা কি বুঝি? আমাদের প্রজন্ম এটাকে কিভাবে বুঝেছে? যে প্রজন্ম এটাকে নিয়ে চিন্তা করেছে এর ব্যাপারে কথা বলেছে ও অনুপ্রাণিত হয়েছে।</p>
<blockquote><p><em>খুবই সংক্ষিপ্তভাবে ইসলামী ব্যবস্থাকে এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায়ঃ ধর্ম ও আইন, শিক্ষা এবং শক্তি, আদর্শ ও স্বার্থ, আধ্যাত্মিক সমাজ ও রাষ্ট্র এবং স্বতঃস্ফূর্ততা ও জোরপূর্বকতার ঐক্য।</em></p></blockquote>
<p>এই সকল উপাদান সমূহের সংশ্লেষণ হিসেবে ইসলামী ব্যবস্থার দুইটি মৌলিক ভিশন রয়েছে। একটি হল ইসলামী সমাজ অপরটি হল ইসলামী ক্ষমতা। প্রথমটি হল ইসলামী ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয়বস্তু আর দ্বিতীয়টি হল এর বাহ্যিক অবয়ব। ইসলামী ক্ষমতা ছাড়া ইসলামী সমাজ অসম্পূর্ণ এবং শক্তিহীন; আর<strong><em> ইসলামী সমাজ বিহীন ইসলামী ক্ষমতা হয়ত ইউটোপিয়া (কাল্পনিক) আর না হয় জুলুম</em></strong>।</p>
<p>সাধারণভাবে মুসলমানগণ ব্যক্তি হিসেবে অস্তিত্ববান নয়। মুসলমান হিসেবে যদি বসবাস করতে চায় ও টিকে থাকতে চায় তাহলে ঐ পরিবেশ, ঐ সমাজ, এবং ঐ ব্যবস্থা তাকে সৃষ্টি করতেই হবে।<strong><em> সে দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে বাধ্য আর না হয় দুনিয়া তাকে তার মত করে পরিবর্তন করে দিবে</em></strong>। ইতিহাসে সত্যিকারের এমন কোন ইসলামী আন্দোলন নেই যা একই সাথে রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না। অর্থাৎ আমাদের ইতিহাসে প্রতিটি ইসলামী আন্দোলনই এক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল। এর কারণ হল ইসলাম একটি দ্বীন হওয়ার পাশাপাশি একই সাথে ইসলামের একটি দর্শন, আখলাক, ব্যবস্থা, পন্থা, আবহাওয়া রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে ইসলাম সমগ্র জীবনকেই পরিগ্রহকারী একটি বিষয়। ইসলামী বিশ্বাস ও ধারণা নিয়ে, অনৈসলামী জীবন ধারা, বিনোদন এবং পরিচালনা মোটেই সম্ভবপর নয়। এই অবস্থা হয় মুনাফিক আর না হয় অসুখী ও বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের লোকদের জন্য প্রযোজ্য। (তারা না পারে কোরআনকে পরিত্যাগ করতে আর না পায় সেই শক্তি যে শক্তির মাধ্যমে তারা যে অবস্থায় বসবাস করছে সেই অবস্থাকে পরিবর্তন করতে)। যারা এক ধরণের সন্ন্যাসী জীবন এবং একাকীত্ত্বকে বেছে নেয় (দুনিয়া ইসলামী না হওয়ার কারণে তারা নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নেয়) কিংবা অবশেষে ইসলাম সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে যারা দ্বিধাদন্দে থাকে তারা ইসলামকে পরিত্যাগ করে প্রচলিত জীবন ব্যবস্থাকে এবং মওজুদ দুনিয়া যেভাবে চলছে সেটাকেই গ্রহণ করে থাকে। অন্য কথায় বলতে গেলে অন্যরা এই দুনিয়াকে যেভাবে গঠন করেছে সেটাকেই তারা গ্রহণ করে নেয়।</p>
<p>কিন্তু ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা এমন এক সমাজ ব্যবস্থা যে সমাজে এই ধরণের কোন বৈপরীত্য নেই। মুসলমানদের গঠিত সমাজ সকল কিছুর সমন্বয়ে সমাজে অসাধারণ এক ঐকতান তৈরি করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কেউ যদি আমাদের প্রশ্ন করে যে মুসলিম সমাজ কি?</strong></p>
<p><em>আমরা এই প্রশ্নের জবাবে বলি মুসলমানদের তৈরি সমাজই হল মুসলিম সমাজ। আর এই সমাজ এমন এক সমাজ যে সমাজে কোন বৈপরীত্য নেই। সকল কিছুই চলে ঐকতানের মধ্য দিয়ে। মুসলিম সমাজ বলতে আমরা এটাই বুঝি এবং এটাই হল সমাজের পরিপূর্ণ রূপ।</em></p>
<p><strong>কোন ব্যবস্থাই নিজে নিজে কখনো ইসলামী কিংবা অনৈসলামি হয় না। একটি ব্যবস্থাকে মানুষ যে ভাবে ও যে সকল মূলনীতির আলোকে গড়ে তুলে সেটা সেই সকল মূলনীতির আলোকে সেভাবেই গড়ে উঠে। আর এই কারণে সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে মানুষের তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠান সমূহ, এই সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক সমূহ ও আইন কানুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</strong></p>
<p>ইউরোপীয়ানরা বিশ্বাস করে থাকে যে সমাজ মূলত আইন কানুনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্যে প্রবেশ করে। সেই একদম প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ থেকে শুরু করে উৎকৃষ্ট/পারফেক্ট একটি ব্যবস্থার ইউটোপিয়া পর্যন্ত, আর এই ইউটোপিয়া সমূহের মধ্যে মার্কসিজম পর্যন্ত, ইউরোপের রূহ, সমাজের মধ্যকার সম্পর্ক সমূহ খুব সাধারণ পরিবর্তন সমূহের মধ্য দিয়ে উৎকৃষ্ট/পারফেক্ট একটি সমাজে পরিণত হবে এর পেছনে ছুটে চলছে।</p>
<p>এই কারণে কোরআনে কারীমে খুব কম সংখ্যক ‘ আইন’ রয়েছে। কোরআন বহুলাংশে এমন একটি দ্বীনের প্রত্যাশা করে যে দ্বীনের আলোকে মানুষ তার জীবনকে পুনর্বিন্যাস করবে।</p>
<blockquote><p>আইনের আধিক্যতা ও বিচার ব্যবস্থার জটিলতা সাধারণত সমাজে ‘কোন কিছুর ভঙ্গুরতা’-র দিকে ইশারা করে আমাদেরকে বলে থাকে যে নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করার পরিবর্তে সমাজের মানুষকে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। সমাজের মধ্যকার ব্যধি যখন একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম ফেলে তখন আইন কানুন সমূহ অক্ষম (শক্তিহীন) হয়ে যায়। তখন ঐ সকল আইন কানুন সমূহ হয় দুর্নীতিবাজ ও মন্দ বিচারব্যবস্থার হাতে গিয়ে পড়ে আর না হয় ভঙ্গুর সমাজের প্রকাশ্য কিংবা অপ্রকাশ্য প্রতারণার উপাদানে পরিণত হয়।</p></blockquote>
<p>মদ, জুয়া ও যাদু এই খারাপ বিষয় তিনটি মধ্যপ্রাচ্যে খুবই প্রচলিত ও সমাজের গভীরে প্রোথিত ছিল। মহাগ্রন্থ আল কোরআনের একটি আয়াতের মাধ্যমে ও একটি ব্যাখ্যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সে সকল বিষয়কে হারাম করেছেন এবং দীর্ঘ একটি সময়কাল পর্যন্ত ও অনেক বিশাল একটি অঞ্চল থেকে এই খারাপ বিষয় সমূহের মূলোৎপাটন করেছেন। এই দ্বীনের শিক্ষা ও শক্তি যখন দুর্বল হয়ে যায় তখন এই সকল খারাপ বিষয় সমূহ ও বিভিন্ন বাতিল মতবাদ সমূহ নতুন শক্তি নিয়ে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই সকল খারাপ বিষয় সমূহ পুনরায় মানব সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এই সকল বিষয়কে বাঁধা দিয়ে দমন করার মত কোন শক্তি কিংবা সংস্কৃতি না থাকায় এই সকল বিষয় বাঁধাহীন ভাবে সমগ্র দুনিয়াতেই ছড়িয়ে পড়ে। অ্যামেরিকার Prohibition Law&nbsp; শতাব্দীর বৈজ্ঞানিক গবেষণা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং দুনিয়ার সবচেয়ে সংগঠিত একটি সমাজের শক্তির মাধ্যমে প্রয়োগ করার পরেও বিংশ শতাব্দীর চল্লিশ শতাব্দীর দিকে ব্যাপক বিক্ষোভ ও জনরোষের মুখে এই আইনকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। অ্যামেরিকা এই আইনকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ১৩ বছর ধরে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালায় এবং জুলুমে পূর্ণ অনেক সহিংস কর্মকাণ্ড করে। কিন্তু এই আইনকে বলবদ রাখতে সক্ষম হয়নি। স্কেন্ডিনেভিয়ান&nbsp; দেশ সমূহেও এই আইন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তারাও অ্যামেরিকার মত একই ভাবে ব্যর্থ হয়।</p>
<p><em><strong>এই সকল উদাহরণ এবং এই ধরণের আরো অনেক উদাহরণ আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে একটি সমাজকে কেবলমাত্র আল্লাহর নামে এবং মানুষকে শিক্ষা (তারবিয়া) দেওয়ার&nbsp; মাধ্যমেই সংশোধন করা সম্ভব। তাই আমরা যদি সমাজকে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজে পরিণত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে এই নিশ্চিত এবং একমাত্র পথকেই অবলম্বন করতে হবে।</strong></em></p>
<p>ইসলাম তার নীতি দর্শনকে বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক এবং অভ্যন্তরীণ নিয়মনীতির উপরেই নির্ভর করেনি। ইসলাম একই সাথে শয়তানের হাতে থাকা উপাদান সমূহকে একের পর এক দুর্বল করে দেওয়ার জন্যও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। ইসলামী যদি মানুষ ও দুনিয়ার মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষকে কেন্দ্রে স্থান না দিত তাহলে দ্বীন বলে কিছু হত না। মানুষকে যদি কেন্দ্রে স্থাপন না করত তাহলে ঈসার নীতি ও আদর্শকে পুনরাবৃত্তিকারী একটি দ্বীন ছাড়া আর অন্য কিছু হত না। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর সুন্নত ও কোরআনে কারীমের মাধ্যমে ইসলাম মানুষকে ইনসানে কামিলে (পরিপূর্ণ মানুষ) রূপান্তরিত করেছে। এবং এই কাজ করার ক্ষেত্রে দুনিয়ার সাথেও ইসলাম সম্পর্ক তৈরি করে বিশ্বকে বিনির্মাণ করেছে। এই সকল কিছুর মাধ্যমে ইসলাম মানুষের সমগ্র জীবনকে পরিগ্রহকারী একটি জীবন ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। দ্বীনের সাথে আইন এবং তারবিয়ার সাথে শক্তি একত্রিত হয়েছে এবং ইসলাম এই ভাবে একটি বিশ্বব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>উৎসঃ ইসলামী ডেক্লারেশন।</strong></p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/religion-and-law/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7610</post-id>	</item>
		<item>
		<title>জাতির মূলস্তম্ভ দ্বীন ও ভাষা; বাংলাদেশে আমাদের জাতিসত্তার ইশতেহার</title>
		<link>https://rowyakbd.com/religion-and-language-manifesto-of-our-political-nationhood/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/religion-and-language-manifesto-of-our-political-nationhood/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 22 Aug 2022 16:31:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উপমহাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[সাহিত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7292</guid>

					<description><![CDATA[বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে, বর্তমান অবস্থাকে বুঝতে হলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রাখতে হয়। ১. বিশ্বজনীনতা ২. আঞ্চলিকতা এ দুটি বিষয়কে সামনে রাখার কারণে একটি মূলনীতিকে গ্রহণ করতে হয়, তা হলো ‘বিশ্বজনীন হওয়া ব্যতীত স্বীয়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">বিশ্বায়নের এ যুগে আমরা এমন অবস্থায় উপনীত হয়েছি যে, বর্তমান অবস্থাকে বুঝতে হলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রাখতে হয়।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">১. বিশ্বজনীনতা</div>
<div dir="auto">২. আঞ্চলিকতা</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এ দুটি বিষয়কে সামনে রাখার কারণে একটি মূলনীতিকে গ্রহণ করতে হয়, তা হলো ‘বিশ্বজনীন হওয়া ব্যতীত স্বীয় অঞ্চলকে ধারণ করা যায় না। ফলশ্রুতিতে আমাদের পন্থা, আমাদের লক্ষ্যমাত্রার সাথে একটি বিষয়কে জড়িয়ে নিতে হয়, সেটি হলো আমাদের বর্তমান দুনিয়া কোন অবস্থায় আছে তা নির্ণয় করা, নিজের রাষ্ট্র ও সমাজকে পর্যালোচনা করে সংকট এবং ভবিষ্যতের সমাধান নিয়ে সর্বদা সচেতন থাকা। আর যদি ইসলামী সভ্যতার সন্তান হিসেবে, সম্মানিত জাতির সন্তান হিসেবে বিশ্বের সামনে আমরা বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা না দাঁড়াতে পারি, আমাদের অধিকার ও মর্যাদাকে তুলে ধরতে না পারি, তাহলে উম্মাহকে জাগিয়ে তোলা অনেকটাই অসম্ভব। কারণ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় একশো কোটি মুসলমানের বসবাস, আর এ মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি সংখ্যকই কথা বলে বাংলা ভাষায়। এ সংখ্যা ত্রিশ কোটি। তাই স্বাভাবিকভাবেই একশো কোটি মুসলমানের কেন্দ্রবিন্দু এ বাংলা অঞ্চল-ই। সুতরাং যদি আমরা, ত্রিশ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান এ অঞ্চল থেকে জাগ্রত না হই, তাহলে একশো কোটি মুসলমানকে জাগ্রত করা অসম্ভব।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এজন্য আমাদের ভবিষ্যত ও নতুন দুনিয়া প্রতিষ্ঠা বা শান্তিপূর্ণ একটি বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আল মাওয়ার্দীর তত্ত্বকে সামনে হাজির রাখতে হবে। এ তত্ত্বের মধ্যে তিনি ছয়টি বিষয় সম্পর্কে বলেছেন, যার একটি হলো الدين المتّبع, অর্থাৎ এমন একটি দ্বীন সমাজের মধ্যমণি বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকতে হবে, যা অনুসরণযোগ্য।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">ইমাম মাওয়ার্দীর মূলনীতিগুলোকে &#8216;Normative values&#8217; হিসেবে অনুবাদ করা হয়ে থাকে, যার অর্থ মানুষ কর্তৃক গৃহীত হয়েছে এমন একটি বিষয়। নরম্যাটিভ ভ্যালু মূলত এমন মূল্যবোধ যা সকল পর্যায়ের মানুষ গ্রহণ করে নেয়। এটি সহজাত মূল্যবোধ যা গ্রহণ করতে প্রশ্ন বা চিন্তাভাবনার প্রয়োজন হয় না। আল মাওয়ার্দীর মূলনীতিসমূহকে এ নামকরণের কারণ হলো তার উত্থাপিত মূলনীতিসমূহ সহজাত, যা মানুষের আকল স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে নেয়। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবো, বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলে দ্বীন হিসেবে ইসলামকে সবাই মেনে নিচ্ছে। তারা দ্বীন কতটুকু পালন করছে বা গ্রহণ করছে, তারচেয়েও বড় বিষয় হলো তারা সবাই দ্বীন অনুসরণ করার চেষ্টা করছে, তাদের মাঝে এ দ্বীনের গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে মূল আলাপ হল, তা অবশ্যই অনুসরণ যোগ্য হতে হবে, এবং যদি তা অনুসরণ যোগ্য না হয় তবে তা কখনোই দ্বীনুল মুত্তাবাআ হতে পারবে না।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সুতরাং আমরা যে অঞ্চলেই থাকি না কেন, এটি আমাদের জন্য আবশ্যকীয় একটি বিষয়। এটির সাথে পরবর্তী বিষয়গুলোও সম্পৃক্ত, অর্থাৎ সামগ্রিক আদালত, সামগ্রিক নিরাপত্তা, সমাজে সম্পদের প্রাচুর্য ও সুষ্ঠু বন্টন থাকা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বাস্তবধর্মী স্বপ্ন থাকা, যে স্বপ্ন মানুষের মাঝে ভিশন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে তুলে ধরবে। এভাবেই আল মাওয়ার্দী তার তত্ত্বটিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং এটি বাস্তবিকভাবেই গ্রহণযোগ্য। যদি মুসলিম উম্মাহ কিংবা বা যে কোনো জাতি, গোষ্ঠী এটি পালন করে, তাহলে সেখানে আদালত, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই আমরা যদি দ্বীনুল মুত্তাবাআকে জাতির সামনে সঠিকভাবে হাজির করতে না পারি, তাহলে বুঝতেই পারছি যে, সেই শান্তিপূর্ণ দুনিয়ার দিকে, সত্যিকারের জাতিসত্তা বিনিমার্ণের দিকে আমরা হাঁটতে পারবো না, জাতির রূহকে উপলব্ধি করতে পারবো না। এজন্য আমাদের অন্যতম কাজ ও প্রধান স্তম্ভ হলো–</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<blockquote>
<div dir="auto">জাতির সামনে দ্বীনের সঠিক ব্যাখ্যা হাজির করা। যুগ, সময় এবং স্থানের প্রেক্ষাপটের আলোকে দ্বীনকে সুন্দরভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা, চিন্তাকে নবায়ন করা। তাই আমরা যদি ইসলামী সভ্যতার মহান উসূলী ধারা<strong> ‘আহলুর রায়’</strong> ধারাকে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারি, একইভাবে এ ধারার ছয়জন মহান ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখে আমরা আমাদের পরবর্তী ব্যক্তিত্ব তৈরি এবং সেই লক্ষ্য পানে এগিয়ে চলার চেষ্টা করতে পারি, তাহলে অবশ্যই নতুন এক দিগন্তের পুনঃউন্মোচন হবে, ইনশাআল্লাহ্‌।</div>
</blockquote>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">সেই ছয়জন মহান ব্যক্তিত্বরা হলেন</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
<h3 dir="auto"><strong>• হযরত উমর (রা.)</strong></h3>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">প্রথমত আল্লাহর রাসূলের (স.) সহচরদের মধ্যে তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছেন। তার হাত ধরেই মূলত আহলুর রায় ধারার চিন্তা বিকশিত হয়। তার যে চিন্তা, তা অর্ধ পৃথিবীর চেয়েও বেশি জায়গা জয় করছে, কুদুস জয় করছে, এমনকি সে সময়ের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সভ্যতাগুলোর পতন হয়েছিলো এবং সেগুলো ইসলামের ছায়াতলে এসেছিলো। দ্বিতীয়ত তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি সমগ্র পৃথিবীতে আদালতের ধারণাকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করছেন যে, আজ পর্যন্ত তার মতো কোনো শাসক আসেননি এবং কারো শাসন তার শাসন ও ন্যায়পরায়ণতার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারে। তৃতীয়ত তিনিই সর্বপ্রথম ইসলামী সভ্যতাকে ধারাবাহিকতা দান করার জন্য প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্মাণ করেছেন। চতুর্থত তিনিই সর্বপ্রথম ইজতেহাদকে সুস্পষ্ট ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছেন। পঞ্চমত তিনি জ্ঞানের বহু শাখার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এভাবে উমর (রা.) আমাদের জন্য বিশাল একটি দ্বার উন্মোচন করেছেন।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<h3 dir="auto"><strong>• ইমাম আবু হানিফা (র.)</strong></h3>
<div dir="auto">তিনি হযরত উমর (রা.) এর ধারাকে অনুসরণ করে, আরও উন্নত করে সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানদর্শন ও জ্ঞানতত্ত্বে নতুনভাবে রূহ সঞ্চার করেছেন। ইসলামের বিশ্বজনীনতাকে সামগ্রিকভাবে সামনে নিয়ে আসায় তাকে ‘ইসলামের বিশ্বজনীন রূপের প্রখর দৃষ্টিমান সাধক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পরবর্তী মুতাফাক্কির মুজতাহিদগণ!</div>
</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<h3 dir="auto"><strong>• ইমাম গাজ্জালী (র.)</strong></h3>
<div dir="auto">তিনি তার আগের চারশো বছরের সারসংক্ষেপ করে পরের ছয়শো বছরকে প্রভাবিত করেছেন। এজন্য তাকে<strong> ‘ইসলামী সভ্যতার সারমর্ম’</strong> হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। চিন্তকেরা অনেকেই ইসলামী চিন্তা দর্শনের ইতিহাস লেখার সময় ‘ইমাম গাজ্জালী পূর্ববর্তী’ আর ‘ইমাম গাজ্জালী পরবর্তী’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন! (যদিও এ সংজ্ঞায়ন যৌক্তিক নয়, তবুও এর দ্বারা ইমাম গাজ্জালীর প্রভাব সম্বন্ধে আন্দাজ করা যায়)</div>
</div>
<div dir="auto"></div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<h3 dir="auto"></h3>
<h3 dir="auto"><strong>• ইমাম শাতেবী (র.)</strong></h3>
<div dir="auto">যে সময়ে আমাদের ট্র্যাডিশনাল, ক্লাসিকাল ফিকহ non functional হয়ে যাচ্ছিলো, আন্দালুসিয়ার পতন ঘটছিলো এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ মোঙ্গলদের আক্রমণে একদম নাস্তানাবুদ হয়ে গেছিলো, সবাই কিয়ামতের জন্য অপেক্ষা করছিলো, সে সময়েই তিনি তার অমর গ্রন্থ<em><strong> “মুয়াফাকাত”</strong></em> এর মাধ্যমে আমাদের অস্তিত্বের অংশ ‘ফিকহ’ এর ক্ষেত্রে মাকাসিদের মাধ্যমে নতুন ডাইমেনশন সৃষ্টি করেছেন।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<h3 dir="auto"></h3>
<h3 dir="auto"><strong>• ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (র.)</strong></h3>
<div dir="auto">ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর জন্ম ১৭০৭ সালে, যে সালে সুলতান আওরঙ্গজেব মৃত্যুবরণ করেন। আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই মুঘল সালতানাতের পতন শুরু হয়। ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভীর ৫৭ বছরের জীবন কাটে এ ভয়াবহ সংঘাতপূর্ণ সময়েই। তিনি মৃত্যুবরণ করেন ১৭৬৫ সালে। জীবদ্দশায় তিনি পাশ্চাত্যের ক্ষমতায়ন ও ডেভেলপমেন্টকে খুব ভালোভাবে দেখেছিলেন, তখন তিনি বলেন, <strong><em>“বর্তমানে আমাদের বিদ্যমান যে ধারণা, তা দিয়ে আর ইসলামী সভ্যতাকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।” তখন তিনি তার অমর গ্রন্থ “হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা” রচনা করেন।</em></strong> বড় সুফি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলেন, “কায়িম বিল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহর নামে আমি টিকে থাকবো৷” (সুফিবাদের ধারণা ছিলো ‘ফানাফিল্লাহ’, অর্থাৎ আল্লাহর অধীনে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া।) শুধুমাত্র এ কারণেই সমগ্র পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে সকল আন্দোলন তার ছাত্রদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছিলো। এমনকি পরবর্তীতে তৈরি হওয়া সকল মুক্তি আন্দোলনও এ ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছিলো।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<h3 dir="auto"></h3>
<h3 dir="auto"><strong>• আল্লামা ইকবাল</strong></h3>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">তিনি পাশ্চাত্যের গগণবিজয়ী আধিপত্যকালীন সময়ে মুসলিম উম্মাহর সুদীর্ঘ সময়কার চিন্তাগত স্থবিরতা, জড়গ্রস্ততার বিপরীতে জ্ঞানকে যুগের সমালোচনার নিরিখে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জিহাদ ও ইজতেহাদের কাঠামো বয়ান সামনে নিয়ে এসেছিলেন তার অমর গ্রন্থ &#8220;Reconstruction of the Religious Thought in Islam&#8221; এর মাধ্যমে। এ গ্রন্থের মাধ্যমেই বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ জাগ্রত হয়।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এভাবে যদি আমরা ছয়জন ব্যক্তিত্বকে দেখি, তাহলে আমাদের পথ-পন্থা কী হবে, আমরা কীভাবে অগ্রসর হবো, আমাদের জাতিকে কী দিতে হবে– এসব কিছুই আমাদের সামনে সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হবে। এ ব্যক্তিদের সামনে রেখেই আমরা আমাদের জ্ঞান চর্চা চালিয়ে যাবো। আমরা যা শিখবো, তা জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখবো, চিন্তা করবো এবং বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। সেক্ষেত্রে আল্লাহ অবশ্যই ফলাফল দিবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। পাশাপাশি যদি আমাদের সোশিওলজি, সোশিওকালচারকে বুঝতে চাই এবং সেই রূহকে ধারণ করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের এ অঞ্চলকে খুব ভালোভাবে পাঠ করতে হবে। এ মাটি, এ আবহাওয়া, এ পরিবেশ, এ সংস্কৃতিকে উপলব্ধি করা ব্যতীত কখনোই ধার করা কোনো বিষয় দিয়ে আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবো না, জাতির সামনে দ্বীনুল মুত্তাবাআকে সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করতে পারবো না। যেমন আমরা যদি লক্ষ্য করি, ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী তার “হুজ্জাতুল্লাহুহিল বালিগা” দিল্লিতে বসে লিখলেও তা সমগ্র উপমহাদেশের সোশিওলজির সাক্ষ্য দেয়। “ফতোয়ায়ে আলমগীরি” আরবী ভাষায় লিখা হলেও তা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের রূহের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশরা, ব্রাহ্মণরা ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশানের সোশিওলজিকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে এবং সেগুলোকে পাঠ করতে বাধ্য করেছে, ফলশ্রুতিতে আমরা সমাধানের দিকে ধাবিত হতে পারছি না। এজন্য আমাদের জাতির রূহকে বুঝতে হলে নিজেদের ফিকহ বা বর্তমান সময়ের সমাজবিজ্ঞানকে, অঞ্চলের মানুষ ও ভূমিকে খুব ভালোভাবে বুঝে সেই আলোকে ইশতেহার রচনা করতে হবে। এটি দ্বীনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<h3 dir="auto"></h3>
<h3 dir="auto">‘বাংলা ভাষা’ তথা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষা</h3>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">বিগত ৩০০ বছর যাবত বাংলা ভাষা নিয়ে প্রকৃত অর্থে কোনো কাজ হচ্ছে না। এজন্য নতুন করে বাংলা ভাষাকে পুনর্জাগরিত করা, বাংলা ভাষাকে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হতে হবে, এর কোনোই বিকল্প নেই। এক্ষত্রে আশার দিক হলো এত জুলুম, অত্যাচারের মাঝেও বাংলা ভাষা হারিয়ে যায়নি, বরং সে তার আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। আমরা তার নিজস্ব হরফে এখনো তাকে চর্চা করে যাচ্ছি, নতুন করে পুনর্জাগরণের স্বপ্ন দেখতে পাচ্ছি যা পৃথিবীর অনেক অঞ্চলেই সম্ভব হয়নি। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মতো সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে নিভে যায়নি আমাদের বাংলা ভাষার স্বকীয়তা!</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">বাংলা ভাষার অবস্থান অনেক উচ্চে। এখনো স্ব-মহিমায় বলতে পারা যায়, “বাংলা মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষা।” আরবী ছিলো সাধারণ একটি কওমের ভাষা, কিন্তু সেটি একটি বিশ্বজনীন ভাষায় রুপান্তরিত হয়েছে। আমরা বাংলা ভাষাকে বিশ্বজনীন করতে চাই না, তবে–</div>
<div dir="auto"></div>
<blockquote>
<div dir="auto">৪০ কোটি মানুষের ভাষা হিসেবে নতুন করে জাগরিত কর<span class="bq6c9xl4 ms56khn7 kjdc1dyq ewco64xe m8h3af8h gh55jysx b2rh1bv3 fxk3tzhb">‍</span>তে চাই।</div>
<div dir="auto">জাতিসত্তাকে বোঝার জন্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে প্রস্ফুটিত করতে চাই।</div>
<div dir="auto">আমাদের সংস্কৃতিকে বহনের সর্বপ্রধান মাধ্যম হিসেবে নতুন করে উত্থান ঘটাতে চাই। আর এ উত্থানকাব্যে বড় অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে আমাদের যুবকরা, ইনশাআল্লাহ।</div>
</blockquote>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এটি কীভাবে সম্ভব? সেক্ষেত্রে উল্টো প্রশ্ন হলো, কেন সম্ভব নয়?</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">যে হিব্রু ভাষার গত ৬ হাজার বছরে কোনো অস্তিত্ব ছিলো না, সে হিব্রু ভাষাকে কি নতুন করে জাগরিত করে আন্তর্জাতিক ভাষায় পরিণত করা হয়নি?</div>
<div dir="auto">উসামানী ভাষার হরফ পরিবর্তন করে আজকের তুর্কি ভাষা তৈরি করা হয়েছে, মাত্র ৮০ বছরের ব্যবধানে সকল জ্ঞানকে তুর্কি ভাষায় রূপায়ন করে জাগরিত করা হয়নি?</div>
<div dir="auto">আজ থেকে কয়েকশো বছর আগেও চাষীদের বা গ্রাম্যদের ভাষা ছিলো উর্দু। এটি কি এখন একটি দেশের রাষ্ট্রভাষা নয়?</div>
<div dir="auto">আজ থেকে দেড়শো বছর আগেও হিন্দি ভাষার কোনো অস্তিত্ব ছিলো না, সেই হিন্দি ভাষা কি আজ উপমহাদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে না?</div>
<div dir="auto">শেক্সপিয়ার কি একাই ইংরেজি ভাষাকে দাঁড় করাননি?</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">তাহলে কেন হাজার বছর ধরে চলে আসা মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষা এবং সেই সাথে ৪০ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে কেন আমরা নতুন করে দাঁড় করাতে পারবো না? কেন তা সম্ভব নয়? আমরা অবশ্যই পারবো। যদিও হতাশার দিক রয়েছে, কিন্তু এ ধরনের হতাশার দিক সকল অঞ্চলেই রয়েছে।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">বড় বড় ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, বৃটিশদের দ্বারা প্রভাবিত পণ্ডিতরা আমাদের প্রতিনিয়তই বোঝানোর চেষ্টা করে যে, বাংলা ভাষা মুসলমানদের ভাষা নয়, বাংলা ভাষায় মুসলমানদের তেমন কোনো কাজ হয়নি, কোনো মৌলিক জ্ঞান চর্চা হয়নি, তাই এর দ্বারা জাগরণ সম্ভব নয়! কিন্তু বাস্তবতা যা, তা একটি উদাহরণের মাধ্যমেই ফুটে ওঠে। উসমানীদের নিজেদের লিখিত ১৮ লক্ষ পৃষ্ঠার ইতিহাস তাদের সামনে আছে, সুলাইমানীয়া লাইব্রেরি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, অথচ মাত্র একজন লেখক উসমানী আমলে প্রতি ১০০ বছরে মাত্র ৫০ জন করে চিন্তকের তালিকা দেখিয়েছেন, যাদের প্রায় প্রত্যেকের কমপক্ষে ৮০ টি করে বই আছে! যে সুবিশাল উসমানী খেলাফত ছয়শো বছর গোটা বিশ্বকে সবেচেয়ে বেশি প্রভাবের সাথে নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের সম্পর্কেই বলা হয় যে, উসমানীদের সাধারণ তলোয়ার চালানো ছাড়া ভিন্ন কোনো কিছু করার যোগ্যতা ছিলো না বা ওই অর্থে কোনো কিছু ছিলো না!</div>
<div dir="auto">উসমানীদের তুলনায় বাংলা অঞ্চলের মুসলমানরা কোনো ডকুমেন্ট রেখে যেতে পারেনি, দুইশো বছরের ব্রিটিশ আগ্রাসন আমাদের সবকিছুকে নিঃশেষ করে দিয়েছে! উসমানী অঞ্চল বা তুর্কিশ অঞ্চল, যেখানে ঔপনিবেশিক শাসনই প্রতিষ্ঠা হয়নি, সে অঞ্চলের ইতিহাসকেই যদি এভাবে অস্বীকার করা হয়, মিথ্যা ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে দুইশো বছর শোষণের শিকার আমাদের বাংলা অঞ্চলের মুসলমানদের ইতিহাস, ডকুমেন্ট তো মুছে ফেলা হবেই। আর যেহেতু কোনো ডকুমেন্ট অবশিষ্ট নেই, তাই তা অস্বীকার করা হবেই এবং আমাদেরকে নানাভাবে হীনমন্য করা হবেই! এবং এটিই স্বাভাবিক!</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">পাশাপাশি আমরা এটিও দেখতে পাই, ওরিয়েন্টালিস্ট ও ব্রাহ্মণ্যদের লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস সর্বাবস্থায়ই আমাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করেছে। তারা আমাদের ইতিহাসবিহীন জাতিতে পরিণত কর<span class="bq6c9xl4 ms56khn7 kjdc1dyq ewco64xe m8h3af8h gh55jysx b2rh1bv3 fxk3tzhb">‍</span>তে চাচ্ছে, এটিই তাদের উদ্দেশ্য।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">আমরা যদি এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে নতুন করে ডায়ালগ সৃষ্টি করতে পারি; বাংলার ত্বহা আব্দুর রহমান তৈরি কর<span class="bq6c9xl4 ms56khn7 kjdc1dyq ewco64xe m8h3af8h gh55jysx b2rh1bv3 fxk3tzhb">‍</span>তে পারি, আল্লামা ইকবাল তৈরি কর<span class="bq6c9xl4 ms56khn7 kjdc1dyq ewco64xe m8h3af8h gh55jysx b2rh1bv3 fxk3tzhb">‍</span>তে পারি; ইমানুয়েল কান্টের তত্ত্ব খন্ডন করে নতুন এক তত্ত্ব বাংলা ভাষায় দাঁড় করাতে পারি, তাহলে অবশ্য-অবশ্যই বাংলা ভাষাকেও সেভাবে হাজির করতে পারবো। আর বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুবাদ, ক্লাসিক গ্রন্থের বাংলা ব্যাখ্যা, ক্লাস, গবেষণা প্রবন্ধ, প্রস্তাবনাসহ নিজেদের যোগ্য করার মধ্য দিয়ে ক্লাসিক গ্রন্থ লেখার দিকে ধাবিত করা এখন আমাদের অন্যতম ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। একইসাথে মৌলিক চিন্তা ও জ্ঞানের দিক দিয়ে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধ করতেও বাংলায় বিশাল সাহিত্য ভাণ্ডার তৈরি আমাদের অন্যতম ভিশনে রূপ নিয়েছে।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto">দ্বীন এবং ভাষাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আমরা যে যে আন্দোলন শুরু করেছি, তার নাম দিয়েছি ‘জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণের আন্দোলন’। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নিকট ভবিষ্যৎ নিকট অতীতের চেয়ে অনেক ভালো হবে, ইনশাআল্লাহ।</div>
</div>
<div class="l7ghb35v kjdc1dyq kmwttqpk gh25dzvf jikcssrz n3t5jt4f">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">পরিশেষে, যে বিষয়টি বলতে চাই, দ্বীন এবং ভাষা যেহেতু জাতির মূল স্তম্ভ, আর এ দুটি বিষয়কে কেন্দ্রে রেখেই আমরা আমাদের আন্দোলন শুরু করেছি, তাই পুনরায় নিখিল ভারতের ইসলামী সভ্যতার পুনর্জাগরণের চিন্তা এবং ভিত্তি নির্মাণের সংগ্রাম এ বাংলা অঞ্চল থেকেই শুরু হবে, তার ভিত্তি প্রস্তর এ ভূমিতেই হবে– এটিও আমরা বিশ্বাস করি। এজন্যই আমরা বলতে চাই, ৭০০ বছরের সালতানাতের সাক্ষ্য বহনকারী দারসবাড়ি, আতিয়া মসজিদ এবং আন্দরকিল্লার সন্তান হিসেবে, ঈসা খাঁ, উমিদ শাহ ও শরীয়তুল্লাহর উত্তরসূরী হিসেবে এ অঞ্চলের যুবকদের মধ্যে ঈমান গ্রোথিত রয়েছে, তাদের মধ্যে সেই চেতনার রূহ এখনো বিদ্যমান। তাই আমরা যদি জাতির উপর পড়ে থাকে আস্তরণ বা ছাই সরিয়ে দিতে পারি, তাহলে জাতির ভিতরে লুকিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি নতুন করে জেগে উঠবে। এ আগ্নেয়গিরি হবে আগামীর মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার, ভবিষ্যৎ নির্মানের অন্যতম স্তম্ভ এবং আমাদের পুনর্জাগরণের মিনার, ইনশাআল্লাহ।</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/religion-and-language-manifesto-of-our-political-nationhood/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7292</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সুস্থ সমাজ গঠনের পদ্ধতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/methods-of-building-a-healthy-society/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/methods-of-building-a-healthy-society/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শাহ আব্দুল হান্নান]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Apr 2022 06:46:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[সুস্থ সমাজ গঠনের পদ্ধতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7073</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী দাওয়াত ইসলামী আদর্শ ও বিধানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামী দাওয়াত হচ্ছে ইসলামের সংরক্ষণ এবং ইসলামী সমাজের রূপায়ণ ও অগ্রগতির পদ্ধতি। কুরআন মজিদেই ইসলামী দাওয়াতকে মুসলমানদের ওপর ফরজ করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, বিশ্বমানবের কল্যাণের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী দাওয়াত ইসলামী আদর্শ ও বিধানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামী দাওয়াত হচ্ছে ইসলামের সংরক্ষণ এবং ইসলামী সমাজের রূপায়ণ ও অগ্রগতির পদ্ধতি। কুরআন মজিদেই ইসলামী দাওয়াতকে মুসলমানদের ওপর ফরজ করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, বিশ্বমানবের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা ন্যায় ও সৎ কাজের নির্দেশ করো এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করো, বিরত রাখো’ (আল কুরআন : ৩, ১১০)। </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">‘তোমাদের মধ্যে একদল থাকা উচিত; যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান জানাবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে’ (আল কুরআন : ৩, ১০৪)। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">‘তোমাদের বানিয়েছি এক মধ্যপন্থী জাতি, যেন তোমরা বিশ্বমানবের হেদায়েতের সাক্ষী হতে পারো।’ (আল কুরআন : ২, ১৪৩)। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী দাওয়াতের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রত্যেক মানুষকে ইসলামের অনুগত ব্যক্তি হিসেবে তৈরি করা ও সুকৃতির প্রসার এবং দুষ্কৃতির মূলোৎপাটন করা। যেখানেই সম্ভব সেখানে ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করাও নিশ্চয়ই ইসলামী দাওয়াতের লক্ষ্য। কেননা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন এবং রাসূলের সুন্নাত হলো আমাদের আদর্শ। ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্য সম্পর্কে কুরআন পাকে বলা হয়েছে </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">‘যখন তাদের দুনিয়ার বুকে ক্ষমতা দেয়া হয় তখন তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, সুকৃতির প্রতিষ্ঠা করে ও দুষ্কৃতির মূলোৎপাটন করে (আল কুরআন : ২২, ৪১)। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী দাওয়াতের চূড়ান্ত লক্ষ্য নিশ্চয়ই ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করা এমন রাষ্ট্র, যা ইসলামী আইনকানুনের অনুগত হবে ও ইসলামের আলোকে সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবে এবং অনৈসলামী প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে; </span><b><i>কিন্তু যদি কোনো সময়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন ইসলামী রাষ্ট্রের লক্ষ্যে বাস্তবভাবে কাজ করা সম্ভব নয়, তাহলে ইসলামী সমাজ ও ব্যক্তি তৈরি করাই হবে ইসলামী দাওয়াতের লক্ষ্য। সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া ইসলামের দাবি বা শিক্ষা নয়। </i></b><span style="font-weight: 400;">যেমনঃ কুরআন পাকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘আল্লাহ কাউকে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না’ (আল কুরআন : ২, ২৬৮)। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইসলামী শিক্ষা হচ্ছে ক্ষমতানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া। কাজেই ইসলামী দাওয়াতের লক্ষ্য হবে, কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করা এবং কোথাও ইসলামী সমাজ ও ব্যক্তি তৈরি করা। আর তা নির্ভর করবে পরিস্থিতি ও পরিবেশের ওপর। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী দাওয়াতের এসব লক্ষ্য কার্যকর করার কর্মপদ্ধতি কী হতে পারে, তা নির্ধারণ করার জন্য আমাদের নবীর সুন্নাতের দিকে দেখতে হবে। নবীর জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তিনি ইসলামী দাওয়াত প্রসারের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি খাওয়ার মজলিসে দাওয়াত দিয়েছেন, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আহ্বান জানিয়েছেন, গোপনে মক্কার আশপাশে এবং বিভিন্ন মেলায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছেন, মক্কার বাইরের বিভিন্ন শহরে দাওয়াত দিতে বের হয়েছেন, হিজরত করেছেন, যুদ্ধ করেছেন অর্থাৎ দাওয়াতের প্রসারের জন্য যখন যা উপযুক্ত মনে করেছেন, তা-ই করেছেন। তবে ইসলাম যে সাধারণ নৈতিক নিয়মাবলি দিয়েছে, তা কখনো ভঙ্গ করেননি। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, ইসলামী দাওয়াতের ব্যাপারে নবীর সুন্নাত হলো, একটি উন্মুক্ত ও উদার পথ। অর্থাৎ ইসলামের নৈতিক নিয়মাবলির সীমার মধ্যে হলে যেকোনো কর্মপদ্ধতি অনুসরণই নবীর সুন্নাত মোতাবেক হবে। ইসলামী দাওয়াতের পদ্ধতি একটি মুক্ত ও খোলা বিষয় হওয়ার কারণেই বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামী আন্দোলন বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি নিয়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পদ্ধতিগত সুন্নাতের আলোচনার পর দেখতে হবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামী দাওয়াতের জন্য কী কী কর্মপদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। ইসলামী আদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্য দু’টি পদ্ধতি হতে পারে। প্রথমত রাজনৈতিক, দ্বিতীয়ত সাংস্কৃতিক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দল গঠন, স্বাধীন সংবাদপত্র ও প্রকাশনার সদ্ব্যবহার, নির্বাচনে অংশ নেয়া, সরকার গঠন, আইন ও শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে কাজ করে ইসলামি আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে রাজনৈতিক পদ্ধতি বলা যেতে পারে। অন্য দিকে, উন্নত সাহিত্যের মাধ্যমে শিক্ষিত জনগণকে এবং অন্যান্য উপায়ে সাধারণ জনগণকে ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে শিক্ষিত, অবহিত ও উদ্বুদ্ধ করা এবং ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে ইসলাম অনুসরণে উৎসাহিত করাকে ইসলামী দাওয়াতের সাংস্কৃতিক পদ্ধতি বলা যায়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোনো দেশে দাওয়াতের কী পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, তা নির্ভর করবে সে দেশের পরিস্থিতির ওপর। এমনো হতে পারে যে, বিভিন্ন পদ্ধতিকে একই সাথে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগাতে হবে। তবে একটি কথা আমাদের খুব ভালো করে বুঝে নিতে হবে যে, বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব একটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। বেশির ভাগ মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে গত ষাট বছরের মধ্যে। এর আগে এরা ছিল বিভিন্ন উপনেশবাদী রাষ্ট্রের অধীনে। সে সময় তাদের গভীর ও সুদৃঢ় কোনো রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ফলে পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড যে ধরনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে, মুসলিম বিশ্ব সে ধরনের কোনো স্থিতিশীলতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। মুসলিম বিশ্বে এখনো হরহামেশা সামরিক বিপ্লব, নতুন নতুন দল গঠন, সরকার পরিবর্তন ও পতন লেগেই আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী দাওয়াতের জন্য রাজনৈতিক পদ্ধতির সাথে সাথে সাংস্কৃতিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামী দাওয়াত ও মিশনের প্রসারের জন্য সাংস্কৃতিক পদ্ধতির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা উচিত। কেননা বর্তমান পরিস্থিতিতে এ পদ্ধতিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হওয়া সম্ভব। সাংস্কৃতিক পদ্ধতির লক্ষ্য হবে জনগণকে ইসলামী আদর্শ, বিধান, মূল্যবোধ ও ইতিহাস সম্পর্কে ব্যাপকভাবে শিক্ষিত করে তোলা, যেন ইসলামী বিধান ও আদর্শ জনগণের এক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের বিশ্বাস, বিবেক ও চিন্তার অংশে পরিণত হয়। </span></p>
<p><b><i>জনগণের চিন্তাকে এমনভাবে প্রভাবিত করতে হবে, যাতে যেকোনো সমস্যা ও বিষয়ে তাদের নজর সর্বপ্রথম স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলাম ও তার শিক্ষার দিকে নিবন্ধ হয়। সাংস্কৃতিক পদ্ধতি প্রকৃতপক্ষে হবে একটি শিক্ষা আন্দোলন। যত দিন পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামী রূপ দেয়া না হবে; অর্থাৎ ইসলামী শিক্ষা জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা না পাবে, তত দিন পর্যন্ত উন্নত ইসলামী সাহিত্যের মাধ্যমেই কেবল শিক্ষিত সমাজকে ইসলামী বিধান, মূল্যবোধ ও ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ পথই আমাদের অনুসরণ করতে হবে।</i></b></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সৌভাগ্যক্রমে মুসলিম বিশ্বে গত পঞ্চাশ বছরে এক নতুন ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে। এ সাহিত্যের ভাষা আধুনিক, এর পরিভাষা আধুনিক। সমাজবিজ্ঞানে বর্তমান সময়ের সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে এ নতুন সাহিত্য রচিত হয়েছে। এ সাহিত্য রচনায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের মধ্যে উপমহাদেশের আল্লামা ইকবাল, সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদূদী, মওলানা আকরম খাঁ, খুররাম জাহ মুরাদ, উমর চোপড়া, খুরশীদ আলম ও ফররুখ আহমদ উল্লেখযোগ্য। আরব বিশ্বের সাইয়্যেদ কুতুব, ইউসুফ আল কারজাভি, মোস্তফা আল জারকা, সাঈদ রমাদান, তারিক রমাদান, মুহাম্মদ আল গাজালি ও অন্যদের মধ্যে আলিজা ইজেতবেগভিচ, মুহাম্মদ আসাদ, মরিয়ম জামিলা, ড. জামাল আল বাদাবি, আবদুুল হামিদ আবু সুলেমান ও টিবি আরভিংয়ের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইসলামের প্রাথমিক যুগে রচিত সাহিত্যের পর এ নতুন সাহিত্য রচনার ফলে এক বিরাট শূন্যতার কিছুটা পূরণ হয়েছে। আমাদের মুসলিম বিশ্বের প্রতি কোণায় এ বিরাট সাহিত্যভাণ্ডারকে পৌঁছাতে হবে। মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় এ সাহিত্যের অনুবাদ করতে হবে, যাতে এক ভাষায় সাহিত্যের যে অভাব রয়েছে অন্যান্য ভাষায় রচিত সাহিত্য অনুবাদ করে তা পূরণ করা যায়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বর্তমানে যে ইসলামী সাহিত্য রয়েছে তা যদিও যথেষ্ট উন্নত পর্যায়ের, তথাপি অনেক ক্ষেত্রে আরো প্রচুর সাহিত্য রচিত হওয়া দরকার। সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এটিও একটি দিক। ইসলামি চিন্তাবিদ ও সংগঠনগুলো অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত রয়েছেন। ইতোমধ্যেই মুসলিম বিশ্বে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকটি রিসার্চ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এদের তৈরি সাহিত্যকেও দ্রুত অনুবাদ করে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি কোণায় পৌঁছে দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে। </span></p>
<p><b>সাধারণ জনগণকে অবশ্য এ সাহিত্য দিয়ে ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দেয়া যাবে না। এ জন্য প্রচলিত পদ্ধতিতে জুমার খুতবা ও ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে হবে। অবশ্য জুমার খুতবাকে আরো সময়োপযোগী করার জন্য দেশবরেণ্য আলেমদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের কমিটি গঠন করে নতুনভাবে খুতবার বই প্রণয়ন করার দরকার হবে। এসব কাজই হবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মূল কর্মসূচি। </b></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী দাওয়াতের সাংস্কৃতিক পদ্ধতিকে সফল করতে হলে ইসলামী সংগঠনগুলোকে এ কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর উচিত সাংস্কৃতিক কাজকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া। অবশ্য সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগ করার সাথে এসব প্রতিষ্ঠানে সামাজিক খেদমত, কর্মীদের চরিত্র গঠন ও সংগঠনের শক্তি বাড়ানোর জন্য অন্যান্য কর্মসূচি নিতে হবে। কেননা চরিত্র গঠন ও সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি ছাড়া সাংস্কৃতিক কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ ধরনের বহু আয়াত কুরআন মজিদে রয়েছে। </span><span style="font-weight: 400;">এ</span><span style="font-weight: 400;">সব আয়াতের ‘মারুফ’ ও ‘মুনকার’ শব্দকে সামগ্রিক অর্থে গ্রহণ করতে হবে, কেবল নৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করলে চলবে না</span><span style="font-weight: 400;">। এ আয়াতের আলোকে ইসলামি অর্থনীতির লক্ষ্য হচ্ছে এমন সব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, নীতি, পলিসি ও প্রতিষ্ঠান কায়েম করা, যাতে কল্যাণের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হয় এবং দুর্নীতি দূর হয়। একইভাবে এ আয়াতের তাৎপর্য হবে অর্থনীতিতে এমন সব ব্যবস্থা, নীতি, পলিসি, প্রতিষ্ঠান, আইন সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ, অপসারণ ও দূর করা যার ফলে জনগণের কল্যাণ হয়। এসব কাজ করা ইসলামী সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অবশ্য কর্তব্য। </span></p>
<ul>
<li><b>জনগণের সহজ জীবন নিশ্চিত করা </b></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহ পাক নবী সা:-এর অন্যতম দায়িত্ব এভাবে নির্ধারণ করেছেন : </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">তিনি তাদেরকে বোঝা  হতে মুক্ত করেন এবং যেসব শিকলে তারা আবদ্ধ তা থেকে তাদেরকে মুক্ত করেন (সূরা আরাফ : আয়াত ১৫৭)। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">নবী সা:-এর উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রতিটি মুসলিম সরকার ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে সেসব অন্যায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষ্পেষণ, বিধিবিধান ও নিয়মনীতি  থেকে উদ্ধার করা, যা জনগণের জীবনের ওপর বোঝা ও শিকল হয়ে আছে। অপ্রয়োজনীয় রীতি-রেওয়াজ ও আইনকানুন মানুষের জীবনের স্বাধীনতা ও শান্তি নষ্ট করে। কাজেই ইসলামী সমাজ ও অর্থনীতিতে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিধিবিধানের স্থান নেই। অবশ্য কোনটি প্রয়োজনীয় আর কোনটি অপ্রয়োজনীয় তা ইসলামী সরকারের আইন পরিষদই ঠিক করবে। </span></p>
<ul>
<li><b>সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার </b></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলাম জনকল্যাণের জন্য সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার চায়। এ জন্য  ইসলাম পতিত জমি ফেলে রাখা সমর্থন করেনি। যে কেউ তিন বছর পর্যন্ত জমি ফেলে রাখলে নবী সা: তা নিয়ে নেয়ার জন্য বলেছেন। পতিত সরকারি জমি আবাদ করার জন্য হজরত ওমর ইবনে আবদুুল আজিজ এক-দশমাংশ ফসল পাওয়ার বিনিময়ে হলেও চাষিদের কাছে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য গভর্নরদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই নীতি অর্থনীতির সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য করতে হবে। </span></p>
<ul>
<li><b>সম্পদের যথাযথ বণ্টন </b></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলাম সম্পদের যথাযথ বণ্টনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ পাকের নীতিনির্ধারণী ঘোষণা হচ্ছে : </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">সম্পদ যেন তোমাদের ধনীদের মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে না থাকে (সূরা হাশর : আয়াত ৭)। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">এ আয়াতের আলোকে ইসলামি অর্থনীতির লক্ষ্য হচ্ছে আইন ও পলিসির মাধ্যমে সম্পদের সর্বাধিক বিস্তার ও বণ্টন নিশ্চিত করা এবং লক্ষ রাখা, যেন সম্পদের অতিরিক্তি পুঞ্জীভূত হওয়ার সুযোগ না হয়। </span></p>
<ul>
<li><b>কল্যাণকর দ্রব্যের সর্বাধিক উৎপাদন </b></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">নবী সা:-এর দায়িত্ব হিসেবে আল্লাহ পাক  বলেছেন : </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">তিনি তাদের জন্য পবিত্র দ্রব্য হালাল করেন এবং অপবিত্র দ্রব্য হারামক করেন। (সূরা আরাফ : আয়াত : ১৫৭)। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">এ আয়াতের আলোকে ইসলামের উৎপাদনব্যবস্থায় অপবিত্র দ্রব্যের কোনো স্থান নেই। সেখানে কেবল স্বাস্থ্যকর ও পবিত্র দ্রব্যই থাকবে। তাই ইসলামী অর্থনীতির অন্যতম লক্ষ্য হবে জনগণের স্বার্থে স্বাস্থ্যসম্মত দ্রব্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং সব অকল্যাণকর দ্রব্যের উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, ব্যবসায় নিষিদ্ধ করা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ প্রবন্ধে ইসলামী অর্থনীতির কয়েকটি প্রধান লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মূলনীতি কার্যকর করা ইসলামী সরকারগুলোর কর্তব্য। এসব কার্যকর করার ওপরই ইসলামী বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নির্ভর করে। আইন করেও যদি এসব লক্ষ্য অর্জিত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে ইসলামের কোনো ভুল নেই, ভুল রয়েছে আমাদের আইন, বিধিবিধান ও আমাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে। এ কথা যেমন আজকের জন্য সত্য, তেমনি সত্য ভবিষ্যতের জন্যও।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">লেখক : সাবেক সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার</span></p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/methods-of-building-a-healthy-society/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7073</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কঠিন সময়ের আখলাকঃ ইসলামী দৃষ্টিকোণ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/akhlaq-in-hard-times/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/akhlaq-in-hard-times/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 May 2021 16:51:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[কঠিন সময়ের আখলাকঃ ইসলামী দৃষ্টিকোণ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5283</guid>

					<description><![CDATA[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আমি আমার আলোচনার শুরুতেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, বিশ্বমানবতা যে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দোয়া করছি। এই কঠিন সময়েও জীবন দিয়ে যারা এই মহামারীকে প্রতিহত করার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম</p>
<p>আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু</p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার আলোচনার শুরুতেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহ, বিশ্বমানবতা যে এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দোয়া করছি। এই কঠিন সময়েও জীবন দিয়ে যারা এই মহামারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই সকল ডাক্তার ভাই-বোনদেরকে, নার্সদেরকে এবং তাদের পাশাপাশি মানুষের জরুরী প্রয়োজন সমূহকে পূর্ণ করার জন্য সকল ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে যারা সেবাকে ইবাদত মনে করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে এবং যারা এই সময়ে বাসায় থেকে বাসার সকল মুরুব্বীকে  সাহায্য করছেন, তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সময়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথাকে মেনে চলা প্রয়োজন। এখন তাদের উপদেশ শুনে সেই অনুযায়ী চলাই মূলত আমাদের পবিত্র দ্বীনেরও আদেশ। কারণ মহান আল্লাহ প্রদত্ত আমানত <strong>‘নিজকে’</strong> রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এখন নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য এবং অন্যকে সংক্রমিত হওয়া থেকে বিরত রাখার জন্য আমাদের ঘরে অবস্থান করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এক অর্থে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাচীরের মত দাঁড়ানোর মত, মানুষকে রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করার মত।মহান আল্লাহ আমাদের সকলের জন্য এবং সমগ্র মানবতার জন্য যেন সব কিছুকে সহজ করে দেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকের আলোচনায় আমি তিনটি প্রশ্নের জবাব আমার সাধ্যমত অল্প সময়ের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করবো। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রথম প্রশ্ন হলো,</strong> এই কঠিন সময়ে, কঠিন সময়ের ঈমান  এবং কঠিন সময়ের আখলাক বলতে কি বুঝায়? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো,</strong> এই সময়ে আমরা আমাদের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক (Immune) ইমিউন সিস্টেমকে কিভাবে শক্তিশালী করবো?</span></p>
<p><strong>তৃতীয় প্রশ্ন হল</strong>, মানব সভ্যতা হিসেবে আমরা এই সময়কে কিভাবে রহমতে রূপান্তরিত করতে পারি?</p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি জানি, আজ দারস (শিক্ষা) দেওয়ার সময় নয়, আজ দারস (শিক্ষা) নেওয়ার সময়। আজ হাহাকার করার সময় নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমস্যাকে দূরীভূত করার সময়। আজকে আমি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো আশা করি সামান্য হলেও অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এবং সমস্যা সমূহকে দূরীভূত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। এই আশা নিয়ে আমি আপনাদের সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করতে চাই। </span></p>
<p><strong>আমাদের সকলের উপর অর্পিত দায়িত্ব কি? </strong></p>
<p>রাষ্ট্র-প্রশাসন, ব্যক্তি, পরিবার, যুবক সকলের উপর অর্পিত দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে এই সকল বিষয়ের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করতে চাই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের জীবনে অনেক কঠিন সময় আসে। জাতীয় জীবনেও অনেক কঠিন সময় আসে।সামাজিক জীবনেও অনেক কঠিন সময় আসে। কিন্তু বর্তমান সময়েই হয়তোবা প্রথমবারের মত পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ধনী, দরিদ্র কোন কিছুর মধ্যে ভেদাভেদ না করে কঠিন সময় চলে এসেছে। সমগ্র মানবতা আজ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। মহা-গ্রন্থ আল কোরআন, মানুষকে নিয়ে আলোচনা করা সময় তাদের এই কঠিন সময়কে দুইটি পরিভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">      <strong>  الْبَأْسَٓاءِ</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">  <strong>     وَالضَّرَّٓاء</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, সমস্যা ও কঠিন সময়, যুদ্ধ-বিগ্রহ, মহামারী, খরা, বালা-মুসিবত, অসুস্থতা এই সকল কিছুর জন্য এই পরিভাষা। যে সকল আয়াতে এই সকল পরিভাষা সমূহ উল্লেখিত হয়েছে সে সকল আয়াতে আমাদেরকে কঠিন সময়ের ঈমান এবং কঠিন সময়ের আখলাকের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। কঠিন সময়ের ঈমান হলো অনেক আশা ভরসা নিয়ে মহান প্রভুর কাছে দোয়া করা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষকে আশার বাণী দেওয়া, তাদের হৃদয়ে ভালোবাসার সৃষ্টি করা। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো- কখনোই হতাশ না হওয়া। কঠিন সময়ে যে বিষয়টি মু&#8217;মিনের সাথে একেবারেই যায় না সেটা হলো হতাশ হয়ে পড়া।</span></p>
<p><strong>মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মানুষের দুইটি ভুলকে তুলনামূলক ভাবে উল্লেখ করে থাকে </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সেটা হলো, যখন অবস্থা ভালো থাকে তখন অকৃতজ্ঞের মত আচরণ করে, আর যখন অভাব-অনটন কিংবা কোন সমস্যায় পড়ে তখন আশাহত হয়ে পড়ে। এই উভয় বিষয়টিকে কোরআন একই ধরণের ভুল হিসেবে গণ্য করে থাকে এবং মানুষের এই আচরণ কিংবা বৈশিষ্ট্যকে নিয়ে কোরআনের অনেক স্থানে সমালোচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা ইসরায় মু’মিনের এই বিষয়কে এইভাবে উল্লেখ করেছেন-</span></p>
<p><strong>  وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الْإِنسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَىٰ بِجَانِبِهِ ۖ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ كَانَ يَئُوسًا</strong></p>
<p><strong>অর্থাৎ, মানুষের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যখন আমি তাকে নিয়ামত দান করি, তখন সে গর্ব করে ও পিঠ ফিরিয়ে নেয় এবং যখন সামান্য বিপদের মুখোমুখি হয় তখন হতাশ হয়ে যেতে থাকে ৷ (সূরা বনী ইসরাইল-৮৩)</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই একই বিষয় দেখুন সূরা রুমে মহান আল্লাহ কিভাবে উল্লেখ করেছেন,</span></p>
<p><strong>  وَإِذَا أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوا بِهَا</strong></p>
<p><strong>অর্থাৎ, যখন লোকদের দয়ার স্বাদ আস্বাদন করাই তখন তারা তাতে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।</strong></p>
<p><strong> وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ</strong></p>
<p><strong>অর্থাৎ,  যখন তাদের নিজেদের কৃতকর্মের ফলে তাদের ওপর কোন বিপদ এসে পড়ে তখন সহসা তারা হতাশ হয়ে যেতে থাকে ৷</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের আচরণ ও অবস্থাকে মহান আল্লাহ সমালোচনা করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই একই বিষয়কে মহান আল্লাহ সূরা ফুসসিলাতে ভিন্নভাবে তুলে ধরেছেন,</span></p>
<p><strong>  لَا يَسْأَمُ الْإِنْسَانُ مِنْ دُعَاءِ الْخَيْرِ</strong></p>
<p><strong>অর্থাৎ, কল্যাণ চেয়ে দোয়া করতে মানুষ কখনো ক্লান্ত হয় না ৷</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> <strong>  وَإِنْ مَسَّهُ الشَّرُّ فَيَئُوسٌ قَنُوطٌ</strong></span></p>
<p><strong>অর্থাৎ, আর যখন কোন অকল্যাণ তাকে স্পর্শ করে, তখন সে হতাশ ও মনভাঙ্গা হয়ে যায় ৷</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কঠিন সময়ের ঈমান বলতে আমি এই সকল বিষয়ের দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মু&#8217;মিন যতই কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হোক না কেন, কখনোই আশাহত হবে না এবং মহান রবের উপর ভরসা করে অনেক আশা নিয়ে এই সকল অবস্থাকে পরিবর্তন করার জন্য চেষ্টা করবে।  একই আয়াত সমূহে একই সাথে কঠিন সময়ের আখলাক সমূহও রয়েছে। কঠিন সময়ের আখলাক হলো <em>ইহসানের</em>  আখলাক, কঠিন সময়ের আখলাক হলো<em>পরার্থপরতার</em>  আখলাক, <em>ইনফাকের </em> আখলাক, <em>ক্ষমার</em>  আখলাক, <em>ধৈর্যের</em>  আখলাক। এই সকল বিষয় একই আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে। মুলতঃ কঠিন সময়ের আখলাক হলো ইহসান।</span></p>
<p><strong>ইহসান হলো, সকল ধরণের খারাপ বিষয়কে ভালোর দ্বারা প্রতিহত করা, কাজকে সহজভাবে তুলে ধরা। এই কঠিন সময়ে কোন ভাইয়ের জীবনই যেন বিপন্ন না হয় এজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>কঠিন সময়ের আখলাক হলো ‘ইসার’।</strong> ইসার কাকে বলে?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সর্বাবস্থায় অন্যকে, অপর ভাইকে নিজের উপর প্রাধান্য দেয়া, প্রতিবেশীকে নিজের উপর প্রাধান্য দেয়া। </span></p>
<p>কঠিন সময়ের আখলাক হলো ইনফাকের আখলাক। নিজের যা কিছু আছে সব কিছুকে অপর ভাইয়ের সাথে শেয়ার করা। কঠিন সময়ের আখলাক হলো ক্ষমার আখলাক। সব সময় ক্ষমাশীল হওয়া, দয়াশীল হওয়া এবং গঠনকারী হওয়া। কঠিন সময়ের আখলাক হলো ধৈর্যের আখলাক।</p>
<p><strong>প্রিয় ভাই  ও বোনেরা </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><em>কোরআনে যে ধৈর্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার অর্থ সহ্য করা কিংবা কোন ভাবে পার করে দেয়া নয়। কোরআনে যে ধৈর্যের কথা বলা হয়েছে তার অর্থ হলো, প্রতিরোধী হওয়া; অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রেরণাকে কখনোই হারিয়ে না ফেলা। </em>এই সকল বিষয়কে কোরআনে এই ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে- </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">     <strong>الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ </strong></span><strong>وَاللّٰهُ يُحِبُّ الْمُحْسِن۪ينَۚ  </strong></p>
<p><strong>অর্থাৎ, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল সব অবস্থায়ই অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ দমন করে ও অন্যের দোষ–ত্রুটি মাফ করে দেয় ৷ আর এ ধরনের সৎলোকদের আল্লাহ অত্যন্ত ভালোবাসেন ৷</strong></p>
<p><strong>প্রিয় ভাই  ও বোনেরা </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দ্বিতীয় যে বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করতে চাই সেটা হলো, </span><strong>আমাদের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ইমিউন সিস্টেম নিয়ে । </strong><span style="font-weight: 400;">ইনশাল্লাহ মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে এই কঠিন সময় পার হয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে আমরা যে মর্যাদা ও আখলাকী আচরণ অর্জন করব তা আমাদের কাছে থেকে যাবে। এই সময়ে একটি ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়ার জন্য আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে (শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা) শক্তিশালী রাখা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, একই সাথে জাতি হিসেবে ও উম্মাহ হিসেবে আমাদের রুহী, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করা আরও অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ।</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">এই কঠিন সময়ে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন নামক আমানতকে রক্ষা করা, তাঁর সবচেয়ে বড় আদেশ সমূহের একটি। আমি আমার আলোচনার শুরুতেও এই কথা বলেছি। কিন্তু; একদিক দিয়ে আমাদের শরীরকে রক্ষা করার সময় অপর দিকে আমাদের ঐক্য, একতা এবং ভ্রাতৃত্ব যেন বিনষ্ট না হয় এই জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এক দিক থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি। সকলেই আমাদেরকে এই উপদেশ দিচ্ছে। কিন্তু অপরদিক থেকে আমরা যেন আমাদের মধ্যকার বন্ধনকে শক্তিশালী করার কথা ভুলে না যাই। একদিক থেকে শারীরিকভাবে একত্রিত হওয়া থেকে মাহরুম হচ্ছি, মুসাফাহা পর্যন্ত করতে পারছি না।</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু এই সময়ে আমাদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্ককে বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। একদিক থেকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদেরকে কোয়ারেন্টাইনে রাখছি এবং আমাদেরকে বারংবার এই কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা আমরা অবশ্যই করব। অপর দিক থেকে সামাজিক ঐক্য এবং ভ্রাতৃত্বকে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। </span></p>
<p><strong><em>যে সকল ভাষা আমাদেরকে মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে ও দূরত্ব বাড়ায় সেই সকল ভাষা থেকে দূরে থাকবো। সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্ত্বা প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশী সতর্ক থাকবো। আমরা নিকট অতীতে আমাদের জাতিকে যে বিভাজন করেছি ও নিজেরা বিভাজিত হয়েছি সেটাকে ভুলে যেতে হবে। </em></strong></p>
<p><strong>প্রিয় ভাই  ও বোনেরা </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই মুসিবত আজ হোক কিংবা কাল হোক পার হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এই সময়ে যদি আমরা কারও মনে কষ্ট দেই তাহলে কিন্তু সেটা থেকে যাবে, খুব সহজেই সেই ক্ষত দূর হবে না। </span></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">সাবধান ! আসুন কারও মনে কষ্ট না দেই। মানবতা এই ধরণের কঠিন সময় পাড়ি দেয়ার সময় সকল প্রতিষ্ঠানের সকলের উপরে আলাদা আলাদা দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পিত হয়ে থাকে। </span></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি পুনরায় একথা বলতে চাই যে, &#8220;আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই কঠিন সময়কে পাড়ি দিতে পারব ইনশাআল্লাহ। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকে আমরা সকলেই ঘরের মধ্যে থাকলেও আমাদের মানবিক, ইসলামী ও আখলাকী দায়িত্ব সমূহ চলমান রয়েছে। বিশেষ করে, এই কঠিন সময়ে বিত্তশালী ভাইদের উপর অনেক বড় দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। </span></p>
<p><strong>প্রিয় ভাই  ও বোনেরা </strong></p>
<p><strong>এমন অনেক ভাই আছেন যারা দিন আনেন দিন খান। তারা আজ বাধ্য হয়ে ঘরের মধ্যে অবস্থান করছেন। এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ আমাদের সমাজে রয়েছে যা আমরা সকলেই জানি। আজ জমা করার দিন নয়, দান করার দিন, সকলে মিলে এক সাথে খাওয়ার দিন। আসুন আজকের এই দিনে কোরআনের এই আয়াতের উপর আমল করি</strong></p>
<p><strong>  وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَۚ</strong></p>
<p><strong>‘আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি সেখান থেকে তারা অন্যকে দান করে ।’</strong></p>
<p><strong> আসুন সকলেই যার যার অবস্থান থেকে দান করি। আমরা নিজের জন্য যা চাই, অপরের জন্যও তা চাওয়ার সময় আজ।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজ আমরা এমন দিন অতিক্রম করছি যখন আমার নিজেকে নিয়ে যতটুকু চিন্তা করছি অপরকে নিয়ে ততটুকু চিন্তা করার দিন। ইনশাআল্লাহ মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে এই কঠিন সময় চলে যাবে। কিন্তু এই সময়ে যে সকল ভালো বিষয় সমূহ আমরা অর্জন করব তা আমাদের কাছে থেকে যাবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিত্তশালী ভাইদের প্রতি অনুরোধ; যা আমি আমার পূর্বের দারসেও বলেছি, দয়া করা বাস্তব দোয়াকে বৃদ্ধি করুন। তারা কি করতে পারেন? </span></p>
<p><strong><em>ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ভাড়া মওকুফ করে দিতে পারেন, এই কথা বলেছিলাম। তার অধীনে যারা কাজ করেন যতদূর সম্ভব তাদের বেতন দেওয়া অব্যাহত রাখুন। </em></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অতীতে যে সকল যাকাতকে দিতে পারি নাই, সে সকল যাকাত দেয়ার উপযুক্ত সময় এটা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এমনকি সামনের বছর আমরা যে যাকাত দিব তা আমরা এই বছরই দিয়ে দিতে পারি। যাকাত দেওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত কিন্তু আগেও হিসাব করে দেওয়া সম্ভব বলে আমি মনে মনে করি। এই সময়ে আমাদের পারিবারিক জীবন আরও অনেক বেশী গুরুত্বের দাবিদার। বাধ্য হয়ে আমরা  আজ আলাদা অবস্থান করছি  এবং কোরআনে কারীমেও উল্লেখিত</span><span style="font-weight: 400;"> রমজানের শেষ দশ দিনে আমরা যে ই&#8217;তিকাফ করি সেই ই&#8217;তিকাফের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এই একাকিত্বকে ই’তিকাফের মত বরকতময় করে তুলতে পারি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্যাসিভ কোন আইসোলেশন নয়, একটিভ আইসোলেশনে রূপান্তর করি। এই মুসিবত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদেরকে প্রত্যেকের উপর অর্পিত দায়িত্বকে আমরা</span> যেখানেই থাকি না কেন সেখান থেকেই পালন করার চেষ্টা করি।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সময়ে আমরা আমাদের ঘর-বাড়ি ও বাসাকে দু-জাহানের কামিয়াবের স্থানে রূপান্তরিত করতে পারি। এই সময়ে সব জায়গায় সুন্দর একটি শ্লোগান ভাইরাল হয়েছে, সবাই বলেছেন যে, বাসা জীবনকে ধারণ করতে পারে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হ্যাঁ, বাসা শুধু মাত্র দুনিয়াবী জীবনকেই নয়,  মূলত আখেরাতের জীবনকেও  ধারণ করতে পারে। উভয় জীবন যেন আমাদের বাসা ধারণ করতে পারে, আসুন এই চিন্তা করি।  ইন্টারনেট ও আরও অন্যান্য বৈষয়িক মাধ্যম সমূহকে ব্যবহার করে আমাদের বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, দূরে অবস্থানকারী ভাই-বোনদের খোঁজ-খবর নিয়ে এই সময়কে বরকতময় করতে পারি। আধুনিক যুগের প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আমাদের বাসা-বাড়িকে ইলম ও ইরফানের মক্তবে পরিণত করতে পারি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ মুসা (আঃ) ও তাঁর ভাইকে উদ্দেশ্য করে একটি বিষয় বলেছিলেন- </span></p>
<p><strong>وَاجْعَلُو بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً</strong></p>
<p><strong>তোমরা তোমাদের ঘরকে কিবলায় পরিণত করো তথা ইবাদতগাহে পরিণত করো।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আপনাদের ঘরকে নামাজগাহে পরিণত করুন। এখন এ সকল বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সময়ে আমার প্রিয় যুবক বন্ধুদেরকে কিছু কথা বলতে চাই। </span></p>
<p><strong>প্রিয় যুবকেরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সময়ে তোমাদের উপরেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এই সময় নিজেদেরকে রক্ষা করার সময়, পাশাপাশি মুরুব্বীদের প্রতিও খেয়াল রাখবে, তাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। বিশেষ করে এই দিন সমূহে যে সকল মুরুব্বীগণকে তাদের নিজেদের সু-স্বাস্থ্যের জন্য বাহিরে বের হতে হয়, তাদের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তার দিকে বিশেষভাবে নজর দিবে।এছাড়াও তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য পড়াশুনা চালিয়ে যাবে। নিজেদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য বড়দের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রিয় যুবকেরা,</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমরা কি জানো, আমাদের সংস্কৃতিতে বয়স্ক পরিভাষাটি খুব বেশী ব্যবহার করা হয় না। ইখতিয়ার শব্দটিকে বেশী ব্যবহার করা হয়।এই শব্দটি খাইর থেকে আসে। যার অর্থ হলো সমাজের মুল ব্যক্তিগণ। এর অর্থ হলো সমাজের কল্যাণ।</span></p>
<p><strong>যেখানে মুরুব্বীগণ থাকেন সেখানে কল্যাণ থাকে। যেখানে মুরুব্বীগণ থাকেন সেখানে বরকত থাকে এবং শান্তি থাকে।</strong></p>
<p><strong>প্রিয় যুবকেরা,</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শারীরিক দূরত্বকে বজায় রাখলেও মুরুব্বীদের সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করো। </span><span style="font-weight: 400;">কঠিন সময়ে সমাজকে হেদায়াতের প্রতি আহবানকারী সম্মানিত আলেমদের প্রতি আবেদন, আপনাদের একজন ভাই হিসেবে ও একই পেশার মানুষ হিসেবে কয়েকটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।</span></p>
<p><strong>প্রিয় আলেমগণ, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্যান্য সকল বিষয়ে আমরা যেমন ভুল করে থাকি আসুন, দয়া করে এই বিষয়ে একই ভুল আর না করি। যদিও এই কথা বলার অধিকার </span>আমার নেই, তবুও আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই মুসিবতকে মূল্যায়ন করার সময় তাড়াহুড়া করে যেন আমাদের কেউ এটাকে কিয়ামত, কেউ আবার দাব্বাতুল আরদ, কেউ আবার ইয়াজুজ মাজুজ, কেউ আবার ইলাহী আযাব-গজব, কেউ আবার ধ্বংস এই ধরণের মন্তব্য না করি।  দয়া করে ইলম ও হিকমাহ থেকে পৃথক হয়ে </span></p>
<p><strong> رَجْماً بِالْغَيْبِۚ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআনের ভাষায়, গায়েবে পাথর নিক্ষেপ না করি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সম্মানিত আলেমগণ, এই ধরণের বড় বড় অসুস্থতার সময়ে আমাদের দ্বীনদারদেরকে রোগের বাহন হতে যেন না দেই। খণ্ডিত একটি দুনিয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে আমরা যা তা যেন না বলে ফেলি। আসুন কোন বিষয়কে মূল্যায়ন করার সময় সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করি। </span></p>
<p><strong>আয়াতে তাকভীনির (মহাবিশ্বের) সাথে কোরআনকে, সুন্নতকে, মানুষকে এবং আকলকে এক সাথে মূল্যায়ন করি। এই রকম সময় সমূহ, থিওরিক থিওলজি করার জন্য মোটেই উপযুক্ত সময় নয়।ইতিহাসের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, বড় বড় বিপদের সময়ে একই সাথে ই’তিকাদকে বিনষ্টকারী বাতিল বিশ্বাস সমূহের জন্ম হয়ে থাকে। অনেকদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মধ্যেই এমন বিষয় সমূহ দেখি যার সাথে দ্বীনের কোন সম্পর্ক নেই। আসুন সেই সকল বিষয়কে পরিত্যাগ করি। আজকে কথার মুয়াল্লিম নয়, আশার মুয়াল্লিম হওয়ার সময়।</strong></p>
<p><strong>মুহতারাম হুজুরগণ, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা সকলেই পরীক্ষার এই দুনিয়ায় শিক্ষায় পরিপূর্ণ এক বিশ্বব্যাপী সংক্রামক ব্যাধির মুখোমুখী। আমরা আলেমগণ যদি এটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে মানুষের হেদায়াতের ওসিলা হতে চাই তাহলে মানুষকে ভীতিমূলক একটি স্রষ্টার দিকে ধাবিত না করি। কেউ যেন রাহমান ও রাহীম রবকে আকাশ থেকে ক্রোধ বর্ষণকারী, আযাব প্রেরণকারী একজন ইলাহ হিসেবে তুলে না ধরি। এই অধিকার কারও নেই। এটা আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা যে সুন্নাতুল্লাহ এবং এর মধ্যে যে অনেক শিক্ষা রয়েছে সেই শিক্ষাকে অর্থহীন করে তুলবে, এমনিভাবে  আখেরী যামান বলে বলে মূল শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়া থেকে কাউকে </span>যেন আমরা বঞ্চিত না করি। আমাদের মহান রব এই মহা বিশ্বকে তার রহমান সিফাতের মাধ্যমে পরিচালনা করে থাকেন-</p>
<p><span style="font-weight: 400;">  <strong>كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلٰى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَۙ</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি নিজের জন্য রহমতকে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। মহান রব একথা বলেছেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি শুধুমাত্র তার নামাজ আদায়কারী এবং তাঁর অনুগত বান্দাদেরকেই রিজিক দেন না। যারা তাঁর অবাধ্যতা করে তাদেরকেও তিনি রিজিক দেন, লালন পালন করেন। যারা তাঁর অবাধ্যতা করে তাদেরকে তিনি মাঝে মধ্যে আরও বেশী করে দেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল বিষয়কে বিশ্লেষণ কিংবা মূল্যায়ন করার সময় এই সামগ্রিক বিষয়কে বিবেচনায় রাখতে হবে।</span></p>
<p><strong>আজ যুবকদের মনে অনেক প্রশ্ন, আজ মুসলমান আলেমদের উচিত হলো, যুবকদের সেই সকল প্রশ্নের জবাব তৈরি করা। খারাপ এবং অকল্যাণের সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত অনেক বড় বড় প্রশ্ন তাদের মনে। তাদের জন্য আমাদের জ্ঞানগর্ব মূলক জবাব প্রস্তুত করতে হবে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকে আমাদেরকে পরিবেষ্টনকারী এই সকল অকল্যাণকে ইলাহী রহমত ও ইলাহী আদালতের সাথে সঠিক সম্পর্ক স্থাপন করে পড়তে হবে, আর সেই আলোকেই যুবকদের সামনে তুলে ধরতে হবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইনশাআল্লাহ সামনের কোন এক দারসে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">আমার যুবক বন্ধুদের পাশাপাশি মুসলমান আলেমদের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে তা হলো, এই করোনা পরবর্তী সময়ের দুনিয়া দ্বীনে মুবিন ইসলামকে কিভাবে প্রভাবিত করবে? </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">মানুষের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবন এই সময়ের দ্বারা কিভাবে প্রভাবিত হবে? </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">এই ধরণের বিষয় সমূহ নিয়ে এখন থেকেই জ্ঞানগত সংলাপের আয়োজন করতে হবে। সকলেই মিলে এই সকল প্রশ্নের সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। </span><span style="font-weight: 400;"> সবশেষে, মানব জাতি হিসেবে আমরা এই সময়কে কিভাবে রহমতে পরিণত করতে পারি? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা বাকারার ২১৬ নম্বর আয়াতে বলেছেন- </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> <strong>  وَعَسٰٓى اَنْ تَكْرَهُوا شَيْـٔاً وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ</strong></span></p>
<p><strong>“হতে পারে কোন জিনিস তোমরা অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক।” </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">  <strong>  وَعَسٰٓى اَنْ تُحِبُّوا شَيْـٔاً وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْۜ</strong></span></p>
<p><strong>“হতে পারে এমন অনেক জিনিস রয়েছে তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ।” </strong></p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হতে পারে আমরা এই দুনিয়াকে খুব বেশী ক্লান্ত করে ফেলেছি তাই তার একটু বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো। </span></p>
<blockquote><p>সত্যি আমরা প্রকৃতিকে অনেক ক্লান্ত করে ফেলেছি, দুনিয়াকে যথেচ্ছা ব্যবহার করেছি। হয়ত প্রকৃতির দিকে আমাদেরকে নতুন করে নজর দিতে হবে। আমরা প্রকৃতির অধিকারকে কতটা নষ্ট করেছি এটা আমাদের পুনর্বিবেচনা করা দরকার ছিলো।</p></blockquote>
<p><strong> কারণ আমাদের রব সেখানেও একটি মিযান স্থাপন করেছেন-</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">   <strong>وَالسَّمَٓاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْم۪يزَانَۙ</strong></span></p>
<p>আল্লাহর স্থাপিত মিযান যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে প্রকৃতি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মানুষ অসুস্থ হয়ে যায় এবং পানি দূষিত হয়ে পড়ে।</p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">খাদ্য মানুষকে অসুস্থ বানায় এবং ঔষধ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। আমাদের সকলেরই সাক্ষী হতে পারে এই মুসিবত ,মানুষের মূল্য ও মর্যাদা, সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং হিকমাহকে নতুন করে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে। যেই সময় শক্তির প্রতিযোগিতা জীবনের মৌলিক একটি বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে, সেই সময়ে আজ এটা সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে ,মানুষ কত সামান্য এবং তার অহংকার করা বড় একটি বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।</span></p></blockquote>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা, </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের জন্য এই বিশ্বজগত একই সাথে নিয়ামত ও কষ্টের জায়গা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই প্রতিকূলতাকে নিয়ামতে রূপান্তরিত করার জন্য  মানুষকে  শক্তি এবং সম্ভাবনা দান করেছেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাসের গতিধারাকে পরিবর্তন করে দেয়ার মত শক্তি ও সম্ভাবনা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মানবতা ইতিহাসের অনেক মুসিবতকে আল্লাহর সাহায্যে নিয়ামতে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে কোন সন্দেহ নেই।ইনশাআল্লাহ আমরা জ্ঞানের মাধ্যমে, ঈমানের মাধ্যমে, দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে, তাদবিরের মাধ্যমে এবং তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে আজকের এই বৈশ্বিক সংকটকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো। কেউ কেউ বলে থাকে মানুষ মানুষের শত্রু, আমি এটা সঠিক মনে করি না। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ মানুষের বন্ধু, এই ঘটনা আমাদেরকে তা প্রমান করবে। মানুষ মানুষের জন্য শিফা। </span><span style="font-weight: 400;">এই ওসিলায় মানুষ যে মানুষের বন্ধু এবং শিফা এটা নতুন করে দেখতে পাবো ইনশাআল্লাহ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের প্রত্যাশা হলো, মানবতা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠার পরে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে যেন অভিন্ন শত্রুর মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হয়, এখন আমাদের সকলের অভিন্ন শত্রু হলো ভাইরাস।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এমন এক ভাইরাস যা মাইক্রোস্কোপ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না। কিন্তু প্রিয় ভাইয়েরা, মূলত মানুষের অনেক অভিন্ন বা কমন শত্রু রয়েছে। আমরা আজ যে অবস্থায় পতিত হয়েছি, হয়তোবা সেই অভিন্ন শত্রুকে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে পারিনি বলে। </span></p>
<p><strong>ঐ সকল শত্রু কি? </strong></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">যেমন- শক্তি ও ক্ষমতার প্রতি আকাংখা। </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>ওইগুলো কি?</strong> </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">স্বার্থপরতা।</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>সেই অভিন্ন শত্রু কি?</strong> </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">শোষণ, জুলুম, মূর্খতা, হিংসা ও বিদ্বেষ। </span></li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে মহান আল্লাহ ! সমগ্র মানবতার এই সংকটকে রহমতে পরিণত করার তওফিক দান করুন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার আলোচনাকে মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) ও আদি মাতা হযরত হওয়া (আঃ) এর কোরআনের মাধ্যমে চিরন্তনতা প্রাপ্ত দোয়ার মাধ্যমে শেষ করতে চাই ,</span></p>
<p><strong> رَبَّـنَا ظَلَمْنَٓا اَنْفُسَ<span style="font-weight: 400;">نَا</span></strong></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">হে প্রভু আমরা নিজেদের উপরে জুলুম করেছি </span></p></blockquote>
<p><strong>وَاِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا</strong></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করো, আমাদের উপর রহম না করো </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِر۪ينَ</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">তাহলে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে আল্লাহ তুমি আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত করো না।</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, এই দিন গুলো থেকে আমাদের পরিত্রান দান করে, সমগ্র মানবতার অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে </span><span style="font-weight: 400;">আমাদেরকে যেন নতুন এক দুনিয়া প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দান করেন। (আমিন)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সকলকে  জানাই </span>সালাম।</p>
<p><strong>আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আল্লাহ হাফেজ।।</strong></p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/akhlaq-in-hard-times/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5283</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল কোরআনের আলোকে কথা বলার আখলাক </title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-manners-of-speaking-in-the-light-of-the-quran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-manners-of-speaking-in-the-light-of-the-quran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 23 Apr 2021 12:22:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[সংস্কৃতি]]></category>
		<category><![CDATA[আল কোরআনের আলোকে কথা বলার আখলাক]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4836</guid>

					<description><![CDATA[মহাগ্রন্থ আল কোরআন আমাদেরকে কথা বলার আখলাক, কথার মাধুর্যতা সম্পর্কে খুব সুন্দর একটি ফ্রেম এঁকে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সেটাকে ভুলে গিয়ে ডিজিটাল দুর্গ বানিয়েছি এবং সেটা নিজেদের জন্য আত্মরক্ষার বাহন হিসেবে ব্যবহার করে, সোস্যাল মিডিয়ার একাউন্ট সমূহ থেকে আমাদের কি-বোর্ডের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহাগ্রন্থ আল কোরআন আমাদেরকে কথা বলার আখলাক, কথার মাধুর্যতা সম্পর্কে খুব সুন্দর একটি ফ্রেম এঁকে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সেটাকে ভুলে গিয়ে ডিজিটাল দুর্গ বানিয়েছি এবং সেটা নিজেদের জন্য আত্মরক্ষার বাহন হিসেবে ব্যবহার করে, সোস্যাল মিডিয়ার একাউন্ট সমূহ থেকে আমাদের কি-বোর্ডের বাটন সমূহকে একে অপরের কালবে গুলি ছোঁড়ার মত করে ব্যবহার করছি।</p>
<p><strong>আমরা আমদের কালবকে এবং পেটকে হয়ত রোজা রাখাতে পেরেছি, কিন্তু আমাদের মুখকে এবং হাতের নখকে রোজা রাখাতে পারিনি। এই বিষয়কে সামনে রেখে আজকে আমি কথা বলার আদব বা আখলাক নিয়ে আলোচনা করতে চাই। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআনে মূলত কথা বলার আখলাক আমাদেরকে বুঝানোর জন্য; &#8216;আখলাক&#8217; নামক একটি সূরা রয়েছে, যার নাম সূরা-হুজুরাত । সূরা-হুজুরাত, আমাদের প্রিয় নবীর সামনে, বিখ্যাত আরব গোত্র বনী তামিমের সাথে সাহাবাদের মধ্য থেকে কয়েকজন কবি ও বক্তা সাহাবীর মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়েছিল। রাসূলে করীমের সেই বিখ্যাত বাণী,  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ لَسِحْرًا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোন কোন কথা কতই না যাদুকরী। ( বুখারী, নিকাহ, ৪৭; তিব্ব, ৫১; তিরমিজি, বিরর, ৮১; আবু দাউদ, আদব, ৯৬) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই কথা বলে যে আশ্চর্যতা প্রকাশ করেছিলেন, সেটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সূরা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> সূরা হুজুরাত, আমাদেরকে কথা বলার আখলাককে শেখানোর জন্য নাযিল হয়েছে। এই সূরা একই সাথে সকল মানুষের একই মূল থেকে, একই মাটি থেকে, একই মা-বাবা, একই সৃষ্টি থেকে আসা সকলের জন্য বিশ্বজনীন এক ভ্রাতৃত্বের ঘোষণা দেয়। আবার একই সাথে ঈমানী ভ্রাতৃত্বের কথাও ঘোষণা দেয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সূরার ১৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">﴿يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হে মানব জাতি, আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি৷ তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করে দিয়েছি যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো৷ একে অপরের অধিকারকে যেন চিনতে পারো। একে অপরের সাথে যেন মারেফত এবং জ্ঞানের আদান প্রদান করতে পারো এই জন্য। ( সূরা হুজুরাত, ১৩) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সুরায় বর্ণিত অপর একটি ভ্রাতৃত্ব হল, ঈমানের ভ্রাতৃত্ব।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ اِخْوَةٌ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মু&#8217;মিনগণ হল পরস্পর ভাই ভাই। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَاَصْلِحُوا بَيْنَ اَخَوَيْكُمْ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদি তাই হয়, তাহলে তোমাদের সকলের কর্তব্য হল, মু&#8217;মিনদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বকে ঠিক করে দেওয়া, মু&#8217;মিনদের মধ্যকার সম্পর্ককে জোড়া লাগিয়ে দেওয়া। (সূরা হুজুরাত, ১০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই আয়াতটিও এই একই সুরার।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু এই সূরা একই সাথে সৃষ্টিগত দিক থেকে সৃষ্ট হওয়া ভ্রাতৃত্ব এবং একই সাথে আমাদেরকে ভাইয়ে পরিণতকারী ঈমানী ভ্রাতৃত্বকে বিনষ্টকারী সবচেয়ে ভয়ংকর যে বিষয়টি  সেই মূল বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে থাকে। এই কারণে এই সূরাকে সূরাতুল আখলাক বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই অর্থে এই অধিকারকে বিনষ্টকারী ৭ টি  জঘন্য খারাপ  বিষয়কে কোরআন খুবই গুরুত্বের সাথে এই সূরায় উল্লেখ করেছে। সেগুলো হল, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong> ১।</strong> لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِنْ قَوْمٍ  তথা একে অপরকে বিদ্রুপ করো না, সাবধান এক গোষ্ঠী যেন অপর কোন গোষ্ঠীকে বিদ্রুপ না করে। (হুজুরাত, ১১) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহিলারাও যেন অন্য মহিলাদের বিদ্রূপ না করে। হতে পারে তারাই এদের চেয়ে উত্তম৷ </span></p>
<p><strong>২। </strong><span style="font-weight: 400;">وَلَا</span> <span style="font-weight: 400;">تَلْمِزُٓوا</span> <span style="font-weight: 400;">اَنْفُسَكُمْ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একে অপরকে অপমানিত করবে না। ( হুজুরাত, ১১)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একে অপরকে ছোট করে দেখবে না। একে অপরকে নিচু করে দেখবে না। </span></p>
<p><strong>৩। </strong><span style="font-weight: 400;">وَلَا</span> <span style="font-weight: 400;">تَنَابَزُوا</span> <span style="font-weight: 400;">بِالْاَلْقَابِۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পরস্পরকে খারাপ উপাধি ধরে ডেকো না। (হুজুরাত, ১১) পছন্দ করবে না এমন নামে ডেকো না। </span></p>
<p><strong>৪। </strong><span style="font-weight: 400;">اجْتَنِبُوا</span> <span style="font-weight: 400;">كَث۪يراً مِنَ الظَّنِّۘ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে খারাপ ধারণা করো না, খারাপ ধারণা থেকে বিরত থাকো। (হুজুরাত, ১২) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>৫।</strong> </span><span style="font-weight: 400;">وَلَا</span> <span style="font-weight: 400;">تَجَسَّسُوا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন আরেক জনের দোষ অন্বেষণ করো না। একে অপরের বিরুদ্ধে  গোয়েন্দাগিরি করো না। (হুজুরাত, ১২) </span></p>
<p><strong>৬। </strong><span style="font-weight: 400;">وَلَا</span> <span style="font-weight: 400;">يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضاً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একে অপরের গীবত করো না। (হুজুরাত, ১২) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এবং গীবতের আয়াতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ&#8217;লামিন গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মত খারাপ একটি বিষয়ের সাথে তুলনা করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>৭।</strong> </span><span style="font-weight: 400;">اِنْ جَٓاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ فَتَبَيَّنُٓوا</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদি কোন ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোন খবর নিয়ে আসে সেটাকে ভালোভাবে যাচাই না করে গ্রহণ করো না। তা না করলে; পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে৷ এই কথা বলা হয়েছে। (হুজুরাত, ৬) </span></p>
<p><strong>কোরআনে কথা বলার আখলাক সম্পর্কিত আয়াত সমূহ শুধুমাত্র সূরা হুজুরাতেই আলোচিত হয়নি। সমগ্র কোরআনেই উল্লেখিত রয়েছে এবং কোরআনে কথার আখলাক সম্পর্কিত  আয়াত সমূহকে যদি একত্রিত করি তাহলে অসাধারণ একটি চিত্র আমাদের সামনে ফুটে উঠে। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>১। &#8220;কাওলুল হাসান&#8221; তথা সুন্দর কথা।</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মু&#8217;মিন সুন্দর কথার অধিকারী। যখন কথা বলবে উত্তম কথা বলবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো। (সূরা বাকারা, ৮৩) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এমনকি এই আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আ&#8217;লামিন বনী ইসরাইলের নিকট থেকে অঙ্গীকার নেওয়ার সময় ঈমানের, ইবাদতের এবং আখলাকের মূলনীতির সাথে একত্রে উল্লেখ করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْناً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলবে। (বাকারা, ৮৩) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্য একটি আয়াতে খারাপ কথা বা &#8216;কাওল-উ সু&#8217; উল্লেখ বলা হয়েছে। কাওল-উ হাসানার বিপরীত হল কাওলু সু&#8217;উ বা খারাপ কথা যা আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">لَا يُحِبُّ اللّٰهُ الْجَهْرَ بِالسُّٓوءِ مِنَ الْقَوْلِ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বলা হয়েছে, আল্লাহ খারাপ কথাকে পছন্দ করেন না। </span></p>
<p><strong>২। &#8220;কাওলু আদল&#8221; তথা আদালত পূর্ণ কথা। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَاِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যখন কথা বলবে তখন আদালতপূর্ণ তথা ন্যায্য কথা বলো। (আনআম, ১৫২) </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">যখন কথা বলবে তখন তোমাদের কথা যেন আদালত পূর্ণ হয়। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, <em>কথার আদালত হল, ভারসাম্যপূর্ণ কথা। সকল ধরণের চরমপন্থা থেকে বিরত থাকা।</em> আদালত পূর্ণ কথার বিপরীতে পরিত্যাজ্য এক প্রকারের কথা রয়েছে; আর সেটাই হলঃ &#8220;কাওলু যুর&#8221;। কাওলু যুর হল, হাকিকত-বিহীন কথা বার্তা। গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে বলা সকল কথার অপর নাম হল কাওলু যুর। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِۙ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এমনকি তাগুত থেকে, মূর্তি থেকে বিরত থাকার মত গুজব ও মিথ্যা থেকে কাওলু যুর থেকে দূরে থাকো। আল্লাহ আমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা হজ্জ, ৩০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>৩। &#8220;কাওলু সাদিদ&#8221; ভারসাম্যপূর্ণ, সঠিক কথা বলা।</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُولُوا قَوْلاً سَد۪يداًۙ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমরা সঠিক কথা বলো (আহযাব, ৭০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমাদের কথা যেন হক্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। তোমাদের কথা যেন সঠিক হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ভারসাম্যপূর্ণ, সত্য এবং ইনসাফপূর্ণ কথা বলার নাম হল কাওলু সাদিদ। অন্যদের সম্পর্কে সকল প্রকারের ইশারাপূর্ণ এবং গোপন অর্থ থেকে, সন্দেহ থেকে মুক্ত ভাবে কথা বলা হল কাওলু সাদিদের অধিকারী হওয়া। সত্যকে অতিরঞ্চিত না করে আবার কোন ধরণের কমতি না রেখে যে রকম আছে সেভাবেই পৌঁছে দেওয়া। এর বিপরীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ&#8217;লামিন অন্য আয়াত সমূহে, বক্রতাপূর্ণ কথা থেকে দূরে থাকার জন্য আদেশ দিয়েছেন এবং সেটাকে কাওলু লাহন বলা হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর <strong>কাওলু লাহন</strong> হল, নিফাকের মধ্যে নিমজ্জিত মানুষদের কথা বার্তা সমূহ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ ف۪ي لَحْنِ الْقَوْلِۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরশাদ হয়েছে, তুমি তাদের বক্রতা পূর্ণ কথা থেকেই বুঝতে পারবে। (মুহাম্মদ, ৩০) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্য এক প্রকারের কথার ধরণ হল, কাওলু যুখরুফ, অন্যদেরকে শুধুমাত্র প্রভাবিত করার জন্য বলা চমকপ্রদ কথা-বার্তাকে কাওলু যুখরুফ বলা হয়েছে। কাওলু যুখরুফ এবং কাওলু লাহন বলতে বক্রতাপূর্ণ কথা বার্তা এবং চমকপ্রদ কথা সমূহ থেকে দূরে থেকে বিশেষ করে কাওলু সাদিদ এবং সঠিক কথা বলার নির্দেশ দেয়, মহাগ্রন্থ আল কোরআন। </span></p>
<p><strong>৪। &#8220;কাওলু লায়্যিন&#8221; তথা কোমল কথা। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> কাওলু লায়্যিনের আয়াত, বিশেষ করে যারা নিজেদেরকে আল্লাহর দ্বীনের মালিকের (নাউযুবিল্লাহ) মত আচরন করেন এবং এই সকল পয়েন্টে চরমপন্থায় নিপতিত হয়ে থাকেন এই ধরণের মানুষদেরকে আশ্চর্যাবস্থায় ফেলে দেওয়ার মত একটি আয়াত। কারণ এই আয়াত দুইজন বড় নবী, হযরত মুসা এবং হযরত হারুন (আঃ) কে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জালেম ফেরাউনের নিকটে পাঠানোর সময় আমাদের রব তাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَقُولَا لَهُ قَوْلاً لَيِّناً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরশাদ হচ্ছে, তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো। (তাহা, ৪৪)</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">বিখ্যাত জালেম শাসক, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ একদিন খুতবা দেয়। সে খুতবা দেওয়ার সময় এক আলেম উঠে দাঁড়ান এবং তাকে খুব কঠিন ভাষায় সমালোচনা করেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সে যে কত বড় জালেম এই কথা বলতে গিয়ে ঐ আলেম একটু গালি দেওয়ার মত করে কথা বলেন। বর্ণিত হয়েছে, জালিম হাজ্জাজ সেই আলেমকে লক্ষ্য করে বলেনঃ এই ভাই! আমি তো আর ফেরাউনের চেয়ে বেশী খারাপ না। আর তুমিও মুসা এবং হারুনের চেয়েও বড় না। আল্লাহ মুসা এবং হারুনকে পর্যন্ত ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় বলে দেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَقُولَا لَهُ قَوْلاً لَيِّناً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তোমরা তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">তাই, কোমল কথা, এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। </span></p>
<p><strong>৫। &#8220;</strong><span style="font-weight: 400;"><strong>কাওলু কারিম&#8221; হল মন জয় করার মত করে কথা বলা। সম্মানজনক কথা। বীরত্বপূর্ণ কথা।</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কাওলু কারিম হল, সন্তানগণ যখন তাদের পিতা-মাতার সাথে কথা বলবে তখন কিভাবে কথা বলবে সেটার পন্থা সম্পর্কিত। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُلْ لَهُمَا قَوْلاً كَر۪يماً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পিতা-মাতার সাথে কথা বলার সময় মর্যাদা সহকারে কথা বলো। তাদের মন জয় করার মত করে কথা বলো, সম্মান জনক ভাবে কথা বলো। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">فَلَا تَقُلْ لَهُمَٓا اُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তাহলে তাদেরকে “উহ্‌” পর্যন্তও বলো না এবং তাদেরকে ধমকের সুরে জবাব দিয়ো না। </span></p>
<p><strong>৬। &#8220;কাওলু মারুফ&#8221; হল জ্ঞান ভিত্তিক, ইতিবাচক, উপকারী, গঠনমূলক, মাকবুল এবং যথোপযুক্ত কথার নাম। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلاً مَعْرُوفاً</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, তাদের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো। (সূরা নিসা, ৫)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর বিপরীতে অন্যান্য আয়াতেও মারুফ কথার বিপরীত মুনকার কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অশ্রাব্য, খারাপ কথা বুঝানোর জন্য কাওলু মুনকার ব্যবহার করা হয়েছে । আর সেটা হল হাকিকতের পাল্লায় যার কোন মূল্য নেই এমন খারাপ কথা এবং বিশেষ করে যারা নিফাকির মধ্যে রয়েছে তাদের কথা বলা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখানে আমি একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। কাওলু মারুফ বিশেষ করে পরিবারের ব্যাপারে স্বামীগণ তাদের স্ত্রী গণের প্রতি এবং স্ত্রীগণ তাদের স্বামীদের প্রতি ব্যবহার করবেন। এটার নাম হল কাওলু মারুফ এবং কথা বলার সময় মুনকার থেকে দূরে থাকবে। কারণ, এই আয়াত সমূহ জাহেলি যুগে মহিলাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কথা ও আচরণ সমূহকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমাদেরকে পথ প্রদর্শনকারী আয়াত সমূহে এই সকল কথা উল্লেখ করা হয়েছে। </span></p>
<p><strong>৭। কাওলু মাইসুর; </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কাওলু মাইসুর হল, নরম সুরে বলা স্বস্তিদায়ক কথাকে কাওলু মাইসুর বলা হয়। বিশেষ করে কাওলু মাইসুর, ধনী ও বিত্তশালী লোকদের দরিদ্র মানুষের প্রতি, ঋণ গ্রহীতার সাথে ঋণ দাতা যেভাবে কথা বলবেন তার নাম হল কাওলু মাইসুরা। তারা যদি কোন আবেদন নিয়ে আসে তাহলে তাদের সাথে নরমভাবে কথা বলবে। তাদের উপর জোর জবরদস্তি করবে না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">قُلْ لَهُمْ قَوْلاً مَيْسُور</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরশাদ হয়েছে, অন্তত তাদের সাথে নরম সুরে কিছু বলো। (সূরা বনী ইসরাইল ২৮) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই আয়াতটি, সূরা বাকারায়ও মহান আল্লাহ বলেনঃ হে ইমানদারগণ! দরিদ্রদেরকে কষ্ট দিয়ে ও খোঁটা দিয়ে তোমাদের সাদাকাকে নষ্ট করো না। (বাকারা, ২৬৪) এই কথা বলার পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আ&#8217;লামিন কাওলু মারুফকে এখানেও ব্যবহার করেছেন, কাওলু মাইসুরের সাথে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরশাদ হয়েছে, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">قَوْلٌ مَعْرُوفٌ وَمَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَٓا اَذًىۜ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মারুফ, মন জয়কারী একটি কথা এবং কোন অপ্রীতিকর ব্যাপারে সামান্য উদারতা ও ক্ষমা প্রদর্শন এমনি দানের চেয়ে ভালো, যার পেছনে আসে দুঃখ ও মর্মজ্বালা ৷ (সূরা বাকারা, ২৬৩) </span></p>
<p><strong>৮। কাওলু তায়্যিবঃ পবিত্র কথা । </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কালিমায়ে তায়্যিবা, যদিও কালেমায়ে তাওহীদের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবুও এই আয়াতের অর্থ অনেক ব্যাপক। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই আয়াতেও উত্তম কথা বলাকে এমন একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন যার মূল মাটির গভীরে প্রোথিত, এবং শাখা প্রশাখা সমূহ আকাশে পৌঁছে গেছে, এবং যার ফল সমূহ সব সময় ভক্ষণ করা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ &#8211; تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا ۗ  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">(সূরা ইব্রাহিম ২৪-২৫) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু খারাপ কথার উদাহরণও এমন যার কোন ফল নেই, কোন উপকার নেই, পাতা এমন কি কোন মূলও নেই, গন্ধহীন এবং মাটির উপরে নিক্ষিপ্ত একটি গাছের সাথে তুলনা করা হয়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَمَثَلُ كَلِمَةٍ خَب۪يثَةٍ كَشَجَرَةٍ خَب۪يثَةٍۨ اجْتُثَّتْ مِنْ فَوْقِ الْاَرْضِ مَا لَهَا مِنْ قَرَار</span></p>
<p><strong>অন্যদিকে মন্দ কথার উপমা হচ্ছে, একটি মন্দ গাছ, যাকে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপড়ে দূরে নিক্ষেপ করা হয়, যার কোন স্থায়িত্ব নেই৷ (সূরা ইব্রাহিম- ২৬)</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এরকম একটি পয়েন্টে, বিশেষ করে যারা মানুষকে আল্লাহর দ্বীনের রহমতের দিকে আহবান করেন, আল্লাহর দ্বীনকে মানুষের নিকট প্রচারকারী, নিজেদেরকে মুরশিদ হিসেবে পরিচয় দানকারী, নিজেকে উস্তাদ হিসেবে উপস্থাপনকারী ভাইদের কাছে, আমি নিজেকেও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। বিশেষ করে যারা আমর বিল মারুফের দায়িত্ব পালন করেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের নিকটে এবং যুবকদেরকে কাছে যারা দ্বীনকে তুলে ধরে থাকেন তারা যেন সবচেয়ে সুন্দর ভাষা ব্যবহার করেন, সবচেয়ে সুন্দর পন্থা যেন অবলম্বন করেন। সবচেয়ে সুন্দর কথা হল, সবচেয়ে ন্যায্য কথা, সবচেয়ে নরম কথা, কাওলু লায়্যিন, কাওলু আদল, কাওলু সাদিদ। সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ভাষা, সম্মানজনক কথা, মন জয়কারী কথা, জ্ঞানভিত্তিক বাণী, মারুফ কথা, সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কথা, সহজবোধ্য কথা এবং সবচেয়ে দয়াদ্রপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা মানুষকে শুধুমাত্র হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে দাওয়াত দান করতে বাধ্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ&#8217;লামিন কতই না সুন্দর করে বলেছেন,  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَمَنْ اَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَٓا اِلَى اللّٰهِ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে তার কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে? (সূরা ফুসসিলাত, ৩৩) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইরশাদ, দাওয়াত এবং তাবলীগ কখনো দাম্ভিকতা পূর্ণ কথা দিয়ে হয় না। চিল্লা-পাল্লা করে মানুষকে কখনো দ্বীনের পথে ডাকা যায় না। মানুষকে ছোট করে ও নিচু করে দেখে তো মোটেই না। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্য একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞাপন ও প্রোপাগান্ডার ভাষা, ইরশাদের (দাওয়াতের) ভাষা এক হতে পারে না। দাওয়াতের ভাষা হল দয়ার ভাষা, মারহামাতের ভাষা, ভালোবাসার ভাষা। আজ কোন আলেম উলামা যেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ ভাষায় কথা না বলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বন্দপূর্ণ ভাষা দিয়ে মানুষকে কিভাবে আল্লাহর দিকে আহবান করা যেতে পারে? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ভাইয়েরা, আমর বিল মারুফের ভাষা কেবল মারুফই। মুনকার ভাষা দিয়ে কাওলু মুনকার কখনো আমর বিল মারুফ হতে পারে না। কাওলু লায়্যিনের অধিকারী হওয়া আবশ্যকীয়, যারা আল্লাহর দ্বীনকে বুঝিয়ে থাকেন। মাটিতে পর্যন্ত আমাদেরকে আস্তে আস্তে পা রাখতে বলা হয়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَلَا تَمْشِ فِي الْاَرْضِ مَرَحاًۚ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একই ভাবে সুন্দর এবং সঠিক কথার মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে আমরা বাধ্য। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দৃঢ় চিত্তে হাঁটা, নরম ও ভদ্র ভাষায় কথা বলা বীরত্ব। নম্রতা কোন দুর্বলতা নয়, কোন খারাপ বিষয় নয় বরং গর্ব অহংকার মানুষকে নীচে নামিয়ে দেয়, নম্রতা মানুষকে মর্যাদাবান করে তুলে। মু&#8217;মিন তার মারহামাতপূর্ণ হৃদয়কে সকলের জন্য উম্মুক্ত করে দিতে বাধ্য। এটা আমাদের রবের আদেশ তার প্রিয় রাসূলের প্রতি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যে কোরআনে কারীম কথা বলার আদবের দিকে এত গুরুত্ব দিয়েছে তা কি শুধুমাত্র মানুষের সাধারণ কোন আচরণের দিকে ইঙ্গিত করে? </span></p>
<p><em><span style="font-weight: 400;">মূলত এগুলো হল মানুষের ব্যক্তিত্ত্বের বহিঃপ্রকাশের জন্য। কারণ কথা বলার পূর্বে নিয়ত রয়েছে। নিয়ত হল আমলের বীজ। কথার পূর্বে ইচ্ছা রয়েছে। কথার পূর্বে একটি চিন্তা রয়েছে। এরপরে রয়েছে কাজ, আমল এবং আচরণ। কথা একই সাথে নিয়ত এবং কাজের বহিঃপ্রকাশ। </span></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূল সঃ বলেছেনঃ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রত্যেক কাজের ফলাফল তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ( বুখারী, বাদাউল ওহী, ১) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মূলত এখানে ভুলে গেলে চলবে না যে, কথা নিজেই একটি আমল। যে সকল মানুষের কথার মধ্যে কোন মাধুর্যতা নেই তাদের কাজের মধ্যেও আখলাক এবং এসথেটিকস খুঁজে বেড়ানো বেহুদা কাজ। আল্লাহ যে সকল কালেমা ও নাম শিক্ষা দিয়েছে সেগুলো তার শিক্ষা দেওয়া বয়ানের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَعَلَّمَ اٰدَمَ الْاَسْمَٓاءَ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহ আদমকে সকল নাম শিখিয়েছেন। (বাকারা, ৩১) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">اَلرَّحْمٰنُۙ ﴿١﴾ عَلَّمَ الْقُرْاٰنَۜ ﴿٢﴾ خَلَقَ الْاِنْسَانَۙ ﴿٣﴾ عَلَّمَهُ الْبَيَانَ ﴿٤﴾</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বায়ানও তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন। ( রাহমান, ১-৫) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ এমন ভাবে কথা বলবে তা যেন তার রবের শিক্ষা দেওয়া নামের তাজাল্লি গাহে পরিণত হয়। সুন্দর কথা হল; সুন্দর আচরণের ফলাফল।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি একটু আগে যে আয়াত পাঠ করেছি সেই আয়াতের ধারাবাহিকতায় তা রয়েছেঃ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَقُولُوا قَوْلاً سَد۪يداًۙ يُصْلِحْ لَكُمْ اَعْمَالَكُمْ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সঠিক কথা বলো। আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ ঠিকঠাক করে দিবেন। (আহযাব, ৭০-৭১) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এগুলো একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। সুন্দর করে কথা বলুন, যেন আপনাদের আমল সালিহ হয়। আপনাদের আমল যেন সুন্দর হয় তাহলে কথাও সুন্দর হবে। শুধুমাত্র আমাদের হাত এবং পায়ের কাজ কর্ম সমূহকেই আমাদের আমলনামা সমূহে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে না। আমাদের মুখ যে কাজ করছে সেটাও কিন্তু একটা আমল। আমাদের আঙ্গুল সমূহ আমাদের কি-বোর্ডের উপর যা করে সেটাও কিন্তু একটি আমল। আমাদের মুখ থেকে নিঃসৃত প্রতিটি কথাকেই হাকিকতের পাল্লায় অবশ্যই মাপা হবে এবং ইলাহী রেকর্ডে রেকর্ড করে রাখা হচ্ছে। আমাদের মহান প্রভু বলেনঃ  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَق۪يبٌ عَت۪يدٌ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি শব্দ এবং কালেমা, আল্লাহর পাহারাদার ফেরেশতাদের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে ঐ সকল লিপিবদ্ধকৃত বিষয় সমূহকে আমল হিসেবে আমল নামায় লিপিবদ্ধ করা হয়। (ক্বাফ, ১৮) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা একই বিশ্বাসের উত্তরাধিকারী, একই কিতাবে বিশ্বাসী মু&#8217;মিন, একই পয়গাম্বরের উম্মত, একই জাতি এবং একই ইতিহাসের সন্তান। তাই আসুন সকল ধরণের বিভাজনকে এক পাশে রেখে দিয়ে কথার আখলাককে সুন্দর করে নতুন একটি জীবন শুরু করি। এমন একটি বিপদপূর্ণ সময়ে অন্যান্য সময়ের মত এই সময়কেও রহমতে পরিণত করি। আমি বলেছিলাম যে, আসুন আমরা দুঃখকে আনন্দে, বঞ্চনাকে রহমতে পরিণত করি, মুহাসারাকে মুহাসাবাতে রূপান্তরিত করি। </span></p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-manners-of-speaking-in-the-light-of-the-quran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4836</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মুসলমানদের অনগ্রসরতার কারণ ও উত্তরণের উপায়</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-cause-of-backwardness-of-muslims/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-cause-of-backwardness-of-muslims/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আলীয়া ইজ্জেতবেগোভিচ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 04 Mar 2021 16:01:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলমানদের অনগ্রসরতার কারণ ও উত্তরণের উপায়]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4137</guid>

					<description><![CDATA[একই স্থানে ঘুরপাক খাওয়া, পরনির্ভরশীলতা, দারিদ্রতা এবং অনগ্রসরতা থেকে কি আপনারা মুসলমানদেরকে উদ্ধার করতে চান ? নতুন করে সামনের দিকে, সম্মানের সাথে এবং আলোর পথে নিজেদের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে সাজাতে চান ? নৈতিকতা, প্রতিভা এবং সাহসিকতাকে সকল শক্তি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-size: inherit;">একই স্থানে ঘুরপাক খাওয়া, পরনির্ভরশীলতা, দারিদ্রতা এবং অনগ্রসরতা থেকে কি আপনারা মুসলমানদেরকে উদ্ধার করতে চান ? নতুন করে সামনের দিকে, সম্মানের সাথে এবং আলোর পথে নিজেদের ভবিষ্যতকে সুন্দর করে সাজাতে চান ? নৈতিকতা, প্রতিভা এবং সাহসিকতাকে সকল শক্তি দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করতে চান ? তাহলে এই পথে আমাদেরকে নিয়ে যেতে সক্ষম, সে পথের সুনির্দিষ্ট সন্ধান দিতে চাইঃ</span></p>
<p><strong>ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনের সকল স্তরে ইসলামী চিন্তা চেতনাকে নতুন করে সাজানো এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে মরক্কো পর্যন্ত ইসলামী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই লক্ষ্য অনেক দূর এবং অবাস্তব মনে হতে পারে কিন্তু প্রচেষ্টা চালালে এটা অবশ্যই সম্ভব এবং এটা আমাদের নাগালের বাহিরে নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস আমাদেরকে একটি বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাবে এটা দেখায় যে; <em>মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে শিহরণ, শৃঙ্খলা, ইলহাম এবং চেতনা সৃষ্টি করতে পারবে একমাত্র ইসলাম। </em></span></p>
<p><em><strong>১৯৫০ এর দশকে শুধুমাত্র কয়েক হাজার সত্যিকারের মুসলিম মুজাহিদ ব্রিটিশ বাহিনীকে সুয়েজ খাল থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয়েছিল। অপরদিকে আরব বর্ণবাদী শাসক গোষ্ঠীর সেনাবাহিনী ইসরাইলের কাছে তিন বার পরাজয় বরণ করে।  </strong></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্ক সমগ্র দুনিয়ার শাসন কর্তা ছিল। ইসলাম গ্রহণের পরে কোন ব্যক্তি বা জনগোষ্ঠী অন্য কোন আদর্শকে ধারণ করে বেঁচে থাকতে কিংবা মৃত্যুবরণ করতে পারে না। একজন মুসলমানের নাম যাই হোক না কেন, যে কোন সম্রাট অথবা হুকুমদার একটি জাতির জন্য, দলের জন্য অথবা এর সাথে সাদৃশ্য কোন কিছুর জন্য নিজেকে কুরবানী করার কথা চিন্তাও করতে পারে না। সত্যিকারের ইসলামী চিন্তা মতে সে এখানে মূর্তি পূজা কিংবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে পারবে না। মুসলমান কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার নামে এবং ইসলামের বিজয়ের জন্য জীবন  দিতে পারে অথবা যুদ্ধ থেকে পলায়ন করতে পারে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই জন্য মুসমানদের পশ্চাদপদতার মূল কারণ হল ইসলামের অনুপস্থিতি এবং সেই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্ব আজ প্রস্তুত নয়। সেগুলো মূলত মুসলমানদের মধ্যে আধ্যাত্মিকতার অনুপস্থিতির একটি প্রকাশ মাত্র।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই বিষয় গুলোকে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের কর্মের ফল হিসেবে গ্রহণ করে সুস্পষ্টভাবে একথা বলতে চাই যে, মুসলিম বিশ্ব ইসলাম ব্যতীত এবং ইসলাম বিরোধী হয়ে কখনোই নবচেতনায় উজ্জীবিত হতে পারবে না।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলাম, মানুষের সাথে ইসলামের সম্পর্ক, পৃথিবীতে মানুষের অবস্থান, মানব জীবনের উদ্দেশ্য, মানুষের সাথে আল্লাহর সম্পর্ক এবং মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ব্যাপারে মনোভাব, মুসলিম জনগণের অবস্থার উন্নতির জন্য সত্যিকারের সমাধান হিসাবে চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয় চরিত্র, দর্শন, চিন্তা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসাবে অবশিষ্ট আছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা সুস্পষ্ট যে আমাদের সামনে বিকল্প কিছু নেই। হয় ইসলামী রেনেসাঁর জন্য সংগ্রাম করা অথবা অবক্ষয় ও অবনতি মেনে নেওয়া। মুসলমানদের জন্য তৃতীয় কোন পথ নেই।</span></p>
<p>উৎসঃ ইসলামী ডেক্লারেশন</p>
<p>অনুবাদক: <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ </a></p>
<p>&nbsp;</p>

<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-cause-of-backwardness-of-muslims/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4137</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক বৃত্ত</title>
		<link>https://rowyakbd.com/ibn-khalduns-circle-of-politics/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/ibn-khalduns-circle-of-politics/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 04 Mar 2021 10:48:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[ইবনে খালদুনের]]></category>
		<category><![CDATA[ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক বৃত্ত]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক বৃত্ত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4088</guid>

					<description><![CDATA[ইবনে খালদুন, ইসলামী চিন্তার পর্যায়কালের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, তিনি ছিলেন নবায়ন পর্বের একজন দার্শনিক । ইবনে খালদুন ১৩৩২সালে তিউনিসিয়াতে জন্ম ও ১৪০৪ সালে মিসরে মৃত্যুবরন করেন। তিউনিসিয়ায় পড়াশোনা শেষ করে তারপর আন্দালুসিয়াতে যান, সেখানে মন্ত্রী হন, এরপরে সুলতান]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><figure id="attachment_14962" aria-describedby="caption-attachment-14962" style="width: 625px" class="wp-caption aligncenter"><img fetchpriority="high" decoding="async" class="wp-image-14962" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-scaled.jpg" alt="" width="625" height="274" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-scaled.jpg 1920w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-300x132.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-1024x449.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-768x337.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-1536x674.jpg 1536w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/islami-chinta-o-dorshon-cover1-01-2048x898.jpg 2048w" sizes="(max-width: 625px) 100vw, 625px" /><figcaption id="caption-attachment-14962" class="wp-caption-text">(ইসলামী চিন্তার পর্যায়কাল)</figcaption></figure></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুন, ইসলামী চিন্তার পর্যায়কালের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই, তিনি ছিলেন নবায়ন পর্বের একজন দার্শনিক । </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুন ১৩৩২সালে তিউনিসিয়াতে জন্ম ও ১৪০৪ সালে মিসরে মৃত্যুবরন করেন। তিউনিসিয়ায় পড়াশোনা শেষ করে তারপর আন্দালুসিয়াতে যান, সেখানে মন্ত্রী হন, এরপরে সুলতান এর বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অতপর উত্তর আফ্রিকায় ফিরে আসেন, বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেন, মিসরে যান এবং সেখানে মালেকী মাযহাবের চিফ জাস্টিস হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তিনি বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, বাবা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। যার ফলে ছোটবেলাই বড় বড় শিক্ষকদের কাছে পড়েছেন, ২০ বছর বয়সে পড়াশোনা শেষ করে ফেলেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">উস্তাদদের বিশেষ তত্ত্বাবধানের ফলাফল হচ্ছে, ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীর বিখ্যাত উসুলের গ্রন্থ &#8216;আল মুহাসসাল&#8217; এর সারমর্ম লিখেন ১৮ বছর বয়সে। আরবীতে বিখ্যাত একটি প্রবাদ আছে,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">الوالد سر ابیہ</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">&#8220;সন্তান হচ্ছে বাবার চিহ্ন বা রহস্য&#8221;। ফখরুদ্দীন রাজী হচ্ছেন ইমাম গাজ্জালীর سر বা রহস্য, আবার অনেকক্ষেত্রে ইমাম গাজ্জালীকেও ছাড়িয়ে গেছেন ইমাম রাজী । চিন্তার পর্যায়কালের নবায়ন যুগ মুলত উনাকে দিয়েই শুরু হয়। যেমন, ফিলোসফি ও কালামকে একত্রিত করে, গণিত, মেডিসিন, মানতিক ইত্যাদিকে নতুনভাবে নবায়ন করেন। ইমাম রাজীর &#8220;মুহাসসাল&#8221;কে খুব ভালোভাবে পড়ে ইবনে খালদুন তার সারাংশ  &#8220;লুবাবুল মুহাসসাল&#8221; (মুহাসসাল এর আসল কথা) রচনা করেন। তাই, ইমাম ফখরুদ্দীন রাজীকে ভালোভাবে না বুঝলে ইবনে খালদুনকে বোঝা সম্ভব না। কেননা, যেমন ইবনে খালদুনের মেটাফিজিক্যাল ধারণার সম্পূর্ণটাই এসেছে আল মুহাসসাল থেকে, আবার এটার প্রভাব পড়েছে আল মুকাদ্দিমাতে। তাই রাজীর মেটাফিজিক্যাল ধারণা না বুঝে ইবনে খালদুনের মেটাফিজিক্যাল ধারণা বুঝা সম্ভব না। </span></p>
<p><strong>আবার, &#8220;লুবাবুল মুহাসসাল&#8221; বুঝা বা পড়ানোর যোগ্যতা কম উস্তাদেরই রয়েছে। কেননা ফখরুদ্দীন রাজী মেডিসিন, অ্যাস্ট্রোনমি, অ্যাস্ট্রোলজি, ফিজিক্স, গণিত, কালাম, ফিলোসফি এসবকিছুর শীর্ষ ব্যক্তি। সুতরাং তার একটা বই বুঝা, ব্যখ্যা করা অতি সহজ কোন ব্যাপার নয়! আমাদের কাছে ব্যাপারটা এমন যে ক্লাস নাইনের গণিত, ফিজিক্স পড়ে আইনস্টাইনের বই পড়া।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু অল্প বয়সেই ইবনে খালদুনের বড় বড় শিক্ষকদের কারণে তাঁর জ্ঞানের পর্যায় ওই পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর তিনি ইহা লিখেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আরেকটি বিষয়, ইবনে খালদুনের শাইখুল কাবীর হচ্ছে ফখরুদ্দীন রাজী। তিনি মুকাদ্দিমা তে যত জায়গায় শাইখুল কাবীর বলেছেন তা মূলত ইমাম রাজীকে বুঝিয়েছেন (তবে সাধারনত শাইখুল কাবীর বলা হয় মহিউদ্দিন ইবনুল আরাবীকে)।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান বিজ্ঞানী ইবনে খালদুন ছিলেন সুফী শায়খ, তার নিজস্ব খানকাও ছিল। এতো যোগ্যতা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও ফ্যামিলির সন্তান, বহুমুখিতার কারণে প্রতিটি অঞ্চলে বড় বড় পদ গ্রহণের অফার আসত প্রতিনিয়তই।</span></p>
<p><strong>গ্রন্থসমূহঃ</strong></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> কিতাবুল ইবার (ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি) </span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">(এটার ভূমিকাই হচ্ছে আল-মুকাদ্দিমা) </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> লুবাবুল মুহাসসাল। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> আত্মজীবনী, মুকাদ্দিমার সকল সোর্স আত্মজীবনীতে রয়েছে এবং বহু ভুল ধারণার জবাব পাওয়া যাবে। আত্মজীবনীর বড় শিক্ষা হচ্ছে, বর্তমান দুনিয়াকে খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে, অন্যথায় অতীত বুঝা যাবে না। তিনি বলেন, অতীত ও বর্তমান হচ্ছে পানির মতো। পূর্বের পানি ও বর্তমান পানির যেমন সামঞ্জস্য, তেমনি অতীত ও বর্তমান সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বর্তমানকে ভালভাবে না বুঝে অতীতকে বুঝা যাবেনা, আবার অতীতকে না বুঝলে ভবিষ্যতকে বুঝা যায় না। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> শিফাউস সায়িল( প্রশ্নকারীর শিক্ষা), এটা তাসাউফ সংক্রান্ত বই। এখানে তাসাউফ নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেছেন। উনার মৌলিক গ্রন্থগুলোর মধ্যে এই চারটি বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>ইবনে খালদুন ও তার চিন্তা সম্পর্কে কয়েকটি মন্তব্য</strong>,</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> সভ্যতার ইতিহাস লিখা পাশ্চাত্যের বিখ্যাত মনীষী টয়েনবি বলেন, &#8220;আল মুকাদ্দিমা ইতিহাস দর্শনের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। না তার পূর্বে, না তার পরে অনুরূপ কোন গ্রন্থ লেখা হয়েছে।&#8221; </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> মহান দার্শনিক আল্লামা ইকবাল বলেন, &#8220;সাহাবীদের পর থেকে উনার সময় পর্যন্ত ইসলামকে সবচেয়ে ভালভাবে বুঝতে পেরেছিলেন ইবনে খালদুন।&#8221;</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> জেমিল মেরিচ বলেন, &#8220;আকাশে যদি কোনো তারকা থাকেন সেটা ইবনে খালদুন, এছাড়া আর কোনো তারকাই নেই।&#8221;</span></li>
</ul>
<p><strong>ইবনে খালদুনের চিন্তাঃ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুনের চিন্তার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মানুষ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তার দৃষ্টিতে &#8216;মানুষ&#8217; কি? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ হচ্ছে বায়োলজিক্যাল প্রাণী, সে নিজেকে আত্মরক্ষার জন্য চেষ্টা ও কাজ করে থাকে। মানুষ একজন আরেকজনের মুখাপেক্ষী, একা কেউ যথেষ্ট নয় অর্থাৎ একজন আরেকজনের পরিপূরক। তাই একজন অন্যজনকে রক্ষা করে এবং এরই সাথে মানুষ অন্যান্য অনেক কিছুর মুখাপেক্ষী ও সেগুলোকেও মানুষ রক্ষা করে। যেমন প্রকৃতিকে মানুষ রক্ষা করে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুন বলেন, &#8220;মানুষ বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য সে তার সব কিছুকে রক্ষা করে। আর এটিই হচ্ছে মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি।&#8221;</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তাহলে এটির শুরু কোথায়? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটি শুরু হয় নিজের পরিবার থেকে, নিজের আত্মীয়দের মধ্য থেকে। এসব হচ্ছে গ্রুপ গ্রুপ রক্ষাপন্থা, এটিই আস্তে আস্তে একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয় অর্থাৎ যিনি বুঝাচ্ছেন ফিজিক্যাল বিষয় থেকে সাইকোলজিকাল রূপান্তরিত হয়ে মানুষের গ্রুপ তৈরি হয় ও রক্ষা করেন, সেখান থেকে রাষ্ট্র তৈরি হয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ ফিজিক্স থেকে সাইকোলজি, রাষ্ট্র ও আইন তৈরি হলো। </span></p>
<blockquote><p><strong>আর এই পুরো তত্ত্বটি &#8220;আসাবিয়্যা থিওরি।&#8221; </strong></p>
<p><strong>(দুঃখজনক হলেও একটি ব্যাপার হচ্ছে, পাশ্চাত্য চিন্তায় ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় প্রভাবিতগণ আসাবিয়াহ তত্ত্বকে গোত্র/জাতীয়বাদী থিউরি ব্যাখ্যা দেয় এবং ইবনে খালদুন কে জাতীয়তাবাদী সেকুলারিস্ট বানায়! অথচ আসাবিয়্যাত এটি হচ্ছে একটি নাম বা পরিভাষা, যার ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ ইসলামী মূলনীতির আলোকেই প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু অনুবাদ করতে গিয়ে এভাবে গোত্র/জাতীয়তাবাদী অর্থে নিয়ে আসে, ভুল করে! এবং থিওরিকে না বোঝার কারণে তাকে ভুল ব্যাখ্যা ও অপবাদ দেয়!</strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">উনার মত একজন বড় আলেম, মাযহাবের চিফ জাস্টিস, সুফীকে সেকুলার জাতীয়তাবাদ বানানো!</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বা উনার মত এত বড় আলেম ইসলাম বুঝে নাই, ইসলামের মূলনীতি বিরোধী তত্ত্ব দিবেন! এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়!)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুনের মতে রাষ্ট্রের বড় উপাদান হচ্ছে, </span></p>
<p><strong>১। ভূখন্ড,</strong></p>
<p><strong>২। মানুষ বা আসাবিয়া,</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেখানে নবী আসেনি, কিন্তু এই দুইটি আছে সেটা হল মূলক বা রাষ্ট্র। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেখানে নবী এসেছেন। সেখানে নবীগণ তিনটি বিষয় এনেছেন, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>১। দ্বীন,</strong></span></p>
<p><strong>২। ভূখন্ড,</strong></p>
<p><strong>৩। মানুষ বা আসাবিয়্যাহ।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ এই দ্বীনের সমন্বয়ে যা হবে তা হচ্ছে খেলাফত, এখানে দ্বীন-ই হচ্ছে খেলাফত। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ দ্বীন হচ্ছে খেলাফত ও মুলকিয়াত এর পার্থক্য নিরুপন করে। দ্বীন থাকলে খেলাফত, না থাকলে মুলকিয়াত।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">(অথচ এখানে দুঃখজনকভাবে ইবনে খালদুনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। শুধু মুলকিয়াত বা রাষ্ট্রের সংজ্ঞা এনে উনার থিউরি হিসেবে দেখায়, এরপর বলে এটাই ইবনে খালদুনের আলোকে মুলক বা রাষ্ট্র, সুতরাং আমরাই সঠিক। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আবার উনাকে এমনভাবে দেখানো হয়, যেন উনি এমন এক গাছ, যা মরুভূমির মাঝখানে অবস্থান করছে! আশেপাশে কিছুই নাই! কোন ঐতিহ্য, উস্তাদ, সামগ্রিকতা নাই! </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অথচ ইমাম গাজ্জালী, ইমাম রাজীকে যেভাবে পড়েছেন, তেমনি ভাবে শাফেয়ীকে পড়েছেন। নিজে মালেকী মাযহাবের ইমাম ছিলেন, তৎকালীন বড়বড় উস্তাদের কাছে সরাসরি অধ্যয়ন করেছেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী সভ্যতার সকল ধারাকে উনি নিবিড় ভাবে অধ্যয়ন করেছেন, সবার দ্বারাই উপকৃত হয়েছেন, সুতরাং ছিন্নভিন্ন কোন ব্যক্তি তিনি নন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যাইহোক, ফরাসিরা ইবনে খালদুনের আল মুকাদ্দিমাকে মুসলমানদের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অনুবাদ করে। যা তাদের বহুক্ষেত্রেই প্রচন্ডমাত্রায় কাজে আসে। কেননা মুকাদ্দিমায় উল্লেখিত বার্বার গোষ্ঠী মূলত আফ্রিকার মুসলিমরা, আর সে আলোকেই ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকায় উপনিবেশ করার ক্ষেত্রে, শোষণের জন্য মুকাদ্দিমাকে ভালোভাবে গবেষণা করে, ব্যাখ্যা করে, বিস্তারিত অবস্থান বুঝে তারপর শোষণ করতে থাকে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একইভাবে, আমরা জানি যে ফরাসি বিপ্লবের পর সোশ্যাল সায়েন্স ডেভেলপ হয়। পাশ্চাত্যের সোশ্যাল সাইন্স এর ভিত্তি নির্মাণে অসাধারণ ভূমিকা পালন করে আল মুকাদ্দিমা। এভাবে বহু ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে ইবনে খালদুনের আল মুকাদ্দিমা।) </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এগুলো হলো তার পরিচয় ও চিন্তা ধারা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এপর্যায়ে ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক চক্র বুঝার পূর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ইতিহাসকে তিনি দুই ভাগে ভাগ করেন যা ইতিপূর্বে ছিলনা, বরং প্রচলিত সকল বয়ানকে খন্ডায়ে নতুনভাবে ইতিহাসের বিজ্ঞান দাঁড় করান।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস হচ্ছে দুই প্রকার যথা,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১। <strong>জাহিরী</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটি হচ্ছে দৈনন্দিন ঘটনা, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, যা ঘটে, বাহ্যিকভাবে দেখায় ইত্যাদি। বর্তমানে যে কাজ সমূহ ভবিষ্যতে জাহিরী ইতিহাস হবে, তাহলো পত্র-পত্রিকা, মিডিয়া, খবর, চামচামি বা তেলবাজি ইত্যাদি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">২। <strong>বাতেনী</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যা সামগ্রিক, আর তত্ত্বটিই মূলত ইবনে খালদুনকে ইবনে খালদুন বানিয়েছে, অর্থাৎ তার পূর্বে ইতিহাসকে কেউ এভাবে ডিফাইন বা ক্লাসিফাই করতে পারেনি।</span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">সুতরাং এই সামগ্রিক ইতিহাসই মূলত ইতিহাস, যা সবকিছুকে প্রভাবিত করে। যার উপর ভিত্তি করে সব নিয়ন্ত্রিত হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বাতেনী ইতিহাস হচ্ছে</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وفي باطنه نظر وتحقيق وتعليل للكائنت ومباديها دقيق وعلم بكيفية الواقع واسبابها عميق</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সংজ্ঞাটিকে ভালো করে লক্ষ্য করি তাহলে দেখবো,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>نطر</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;">মানে হচ্ছে, ইতিহাসের জন্য থিওরি থাকতে হবে, থিওরিটিক্যাল চিন্তাকে ডেভেলপ করা, তাত্ত্বিক চিন্তা। অর্থাৎ (দেখা বা পড়ার সাথে সাথে বিবেচনা না করে পড়া যাবে না) থিউরিটিক্যালি সামনে আনতে হবে। ইতিহাসের পেছনে, সামনে, বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করে ইতিহাসকে পর্যালোচনা করা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>تحقيق</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;">ক্রিটিকাল থিংকিং। শুনার সাথে সাথে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করা, যেমন তিনি প্রচুর উদাহরণ দিয়েছেন,</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> ইব্রাহিম (আ) ৭০ হাত লম্বা ছিল। কিন্তু তিনি বলেন, &#8220;আমি অনেকবার কুদুসে গিয়েছি তার কবর তো এত লম্বা নয়!&#8221;</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> নূহ (আ) এর পুত্র কেনান এত লম্বা ছিল যে মাছ ধরে উপর দিকে ধরতো, সূর্যের তাপে পুড়াতো। তিনি বলেন, তাপ মাটির সাথে সম্পৃক্ত, যত উপরে উঠবে ততো ঠান্ডা। তাহলে এই কাহিনির ভিত্তি কি? যেমন বর্তমান যুগে আমরা এখন বিমানে উঠলেই বুঝতে পারি উপরে ঠান্ডা।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> মাসউদির বিভিন্ন ইতিহাস সহ বেশকিছু যুদ্ধের কাহিনী এনেছেন। যেমন, দুই পক্ষে ছয়লক্ষ সৈন্য ছিল। তিনি বলেন, ছয় লাখ সৈন্য এটি বাস্তবে সম্ভব? এতো বড় জায়গা কই? এত সৈন্য একসাথে কিভাবে যুদ্ধ করবে? তখন জনসংখ্যা কত ছিল?</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">আর এই تحقیق শব্দটি এসেছে حق থেকে। অর্থাৎ হকে পৌছানো, সত্যে পৌঁছানোর জন্য ক্রিটিকাল থিংকিং করা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>تعلیل</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;"> কজ এবং ইফেক্ট (কারণ এবং ফলাফল)। কজ ও ইফেক্টের মধ্যে সামঞ্জস্য করা অথবা পার্থক্য স্থাপন করা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন বর্তমান দুনিয়ায় যা হচ্ছে তা এমনিই হঠাৎ করেই ঘটেনা, ঘটে যাচ্ছেনা। সবই পরিকল্পিত কাজ এর ইফেক্ট।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ সবই ডিজাইন করা হয়। সব যুগের ক্ষেত্রেই একই কথা, হুট করেই কিছু হয়না। তাই সেই ডিজাইন (কারণ এবং ফলাফল) পর্যালোচনা করেই ইতিহাসকে পড়া।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>ومباديها دقيق</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;">সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ মূলনীতি। </span><span style="font-weight: 400;">উপরের কজ এবং ইফেক্ট (কারণ এবং ফলাফল) কে মিলাতে হবে, পর্যালোচনা করতে হবে মূলত সুক্ষ্ণাতিসুক্ষ্ণ মূলনীতির আলোকেই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>وعلم بكيفية الوقع</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;">ঘটনার অন্তর্নিহিত রহস্য, কারণ সমূহ, কিভাবে আসলো তথা সমগ্র রহস্য জানা ইত্যাদি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর এসব কেন? প্রশ্নের জবাব হচ্ছে تعلیل</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>واسبابها عميق</strong> &#8211; </span><span style="font-weight: 400;">কারণ সমূহ হচ্ছে গভীর থেকে গভীরতর।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সর্বোপূরি বলা যায়, তারিখে বাতিনী (অন্তর্নিহিত ইতিহাস) হচ্ছে </span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> থিউরি। </span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> ক্রিটিকাল থিংকিং।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> কজ এবং ইফেক্ট।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> কারণ ও ফলাফলের কাহিনি সমূহ।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> উপরোক্ত সবকিছুর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ মূলনীতি।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> ঘটনার রহস্য সম্পর্কে জ্ঞান এবং কারণ গুলি হচ্ছে অনেক গভীর থেকে গভীর।</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">&#8220;কিতাবুল ইবার&#8221; পুরোটাই এই মূলনীতির উপর ভিত্তি করে রচিত। যা ইতিহাসের কষ্টিপাথর বা মূলনীতি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক বৃত্তঃ</span></p>
<p><figure id="attachment_14961" aria-describedby="caption-attachment-14961" style="width: 243px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class="wp-image-14961 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/Asset-2.png" alt="চিত্রঃ ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক বৃত্ত (এটি ইবনে খালদুনের নিজের হাতে লেখা)" width="243" height="232" /><figcaption id="caption-attachment-14961" class="wp-caption-text">চিত্রঃ ইবনে খালদুনের রাজনৈতিক বৃত্ত (এটি ইবনে খালদুনের নিজের হাতে লেখা)</figcaption></figure></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ইবনে খালদুনের &#8216;বৃত্ত&#8217;। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসবে &#8220;বৃত্ত&#8221; কেন?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেননা, বর্তমানের ক্ষমতাসীন রাজনীতি বা পাশ্চাত্য সভ্যতার নীতিকে বলা হয় পিরামিড আকৃতির। অর্থাৎ উপর থেকে নিচে বা নিচ থেকে উপরে এভাবেই সবকিছু পরিচালিত হয়, নিয়ন্ত্রিত হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সেক্ষেত্রে ইসলামী রাজনীতি বা রাষ্ট্র হচ্ছে বৃত্ত। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী সভ্যতার বৃত্ত হচ্ছে, &#8220;কেউ কারোর ওপরে নয়, কেউ কাউকে চাপ প্রয়োগ করবে না। অর্থাৎ একটি আরেকটির পরিপূরক।&#8221;</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু পাশ্চাত্য নীতির বর্তমান রাষ্ট্র এমন নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যাইহোক আমরা বৃত্তের দিকে ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হব আশাকরি,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১। </span><span style="font-weight: 400;">العلم بستان</span></p>
<p><strong>এখানে العلم বলতে বুঝানো হচ্ছে সমাজকে, তাই এর অর্থ সমাজ হচ্ছে বাগানের ন্যায়।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">سياحة الد ولة অর্থাৎ, </span><span style="font-weight: 400;">রক্ষাকারী দেওয়াল হচ্ছে রাষ্ট্র। সমাজকে রক্ষা করবে রাষ্ট্র।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">২। </span><span style="font-weight: 400;">الد ولة سلطان</span></p>
<p><strong>রাষ্ট্র হচ্ছে শক্তি, এখানে سلطان শক্তি অর্থে এসেছে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">تحيابه السنة  </span><span style="font-weight: 400;">আর এটি থাকে সুন্নাতের মাধ্যমে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ রাষ্ট্র হচ্ছে শক্তি, যা সুন্নাতের মাধ্যমে টিকে থাকে।</span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">এখানে ইবনে খালদুন তুলে ধরেছেন যে, রাষ্ট্র সুন্নতের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। আলেমগণ বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ &#8220;<strong><em>রাষ্ট্রবিহীন সুন্নাহ বেঁচে থাকতে পারে না।&#8221; </em></strong> কারণ, রাসূলে আকরাম (সঃ) জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় বসবাস কারী কোন ব্যক্তি ছিলেন না কিংবা মসজিদে নববীতে বসে শুধুমাত্র ওয়াজ নসিহত করেননি। তিনি একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি নিজে। এই জন্যই ইবনে খালদুন এইভাবে তুলে ধরেছেন যে, রাষ্ট্র ছাড়া সুন্নত তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারবে না। কারণ রাষ্ট্র না থাকলে সুন্নত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। অথচ সুন্নত শুধুমাত্র আমাদের ব্যক্তিজীবনকেই প্রভাবিত করে না, সামগ্রিকভাবে সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। আর সেটা কেবলমাত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই হতে পারে। </span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">ইবনে খালদুন এখানে সুন্নাহর একটি অসাধারণ ধারণা প্রদান করেছেন, তিনি সুন্নতকে সমাজের একটি নিজাম (ব্যবস্থা) হিসেবে দেখিয়েছেন। </span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">৩। </span><span style="font-weight: 400;">السنةسياسة </span></p>
<p><em><strong>সুন্নাত হচ্ছে রাজনীতি।</strong></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে এক্ষেত্রে যদি লক্ষ্য করি, আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় সুন্নাত কি? বা সুন্নাত বলতে কি ধরণের বয়ান প্রতিষ্ঠিত রয়েছে?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সে অনুযায়ী আমরা জবাব দিবো– দাড়ি, টুপি বা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ইত্যাদি। কিন্তু সত্যিকারার্থে সবচেয়ে বড় সুন্নত হচ্ছে আদালত,হক,সত্য কথা, রাজনীতি ইত্যাদি ।</span><span style="font-size: inherit;"> উনি এখানে রাসূল(সা) এর গোটা জীবনকে বুঝাচ্ছেন, তবে শুধু পলিটিকাল অর্থে নয় অর্থাৎ রাসুলের গোটা জীবন হচ্ছে &#8220;সমাজ বিনির্মাণে&#8221;র, তাই এখানে &#8220;সমাজ বিনির্মাণে&#8221;র অর্থে এসেছে। সবচেয়ে বড় সুন্নাত হচ্ছে &#8220;রাজনীতি বা সমাজ বিনির্মাণ&#8221;। অর্থাৎ সমাজকে পরিচালনা পদ্ধতি, একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিস্তৃত অর্থে, এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের আলোকে সামাজিক সিস্টেম ও রাষ্ট্রীয় সিস্টেম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাই সুন্নতকে শুধুমাত্র ব্যক্তিজীবনকে গঠনকারী একটি বিষয় হিসেবে নয়, সামগ্রিক অর্থে সমগ্র দুনিয়াকে শাসনকারী একটি ব্যবস্থা হিসেবে তিনি সুন্নতকে সঙ্গায়িত করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">يَسُوْسُهُمَا الملک অর্থাৎ, </span><span style="font-weight: 400;">রক্ষাকারী শাসক বা রাষ্ট্র। তবে অনেকেই রাজতন্ত্র বা গোত্র প্রীতি বোঝায় কিন্তু আসলে এখানে শাসক বোঝানো হয়েছে।</span></p>
<blockquote><p><strong>অর্থাৎ সুন্নত হচ্ছে রাজনীতি, আর রাজনীতিকে রক্ষা করে শাসক।</strong></p>
<p><strong><span style="font-size: inherit;">অর্থাৎ সুন্নাহ থেকে উৎসারিত এই রাজনীতিকে কে বাস্তবায়ন করবে? এর জবাবে তিনি রাষ্ট্র এর বাস্তবায়ন করবে। যার অর্থ হল রাসূল (সঃ) সুন্নতের একটি রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ধারণা রয়েছে। আর এটা বাস্তবায়ন করবে রাষ্ট্র।</span></strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">৪। </span><span style="font-weight: 400;"><strong>الملك راع يَعُضُّهُ الْجَيْش</strong> &#8211; </span><strong>রাষ্ট্রনায়ক হচ্ছে রক্ষাকারী  রাখাল বা পরিচালক।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">يَعُضُّهُ الْجَيْش অর্থাৎ, </span><span style="font-weight: 400;">তাকে রক্ষা করে সেনাবাহিনী। অর্থাৎ রাষ্ট্রনায়ক হচ্ছে রাখাল বা পরিচালক তাকে রক্ষা করে সেনাবাহিনী।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে, এ পয়েন্টের আলোচনা নিয়ে ব্যাপক ধোঁয়াশা লক্ষ্য করা যায়। মূলক অর্থ রাষ্ট্র। এখানে রাষ্ট্রনায়ক বোঝানো হলেও একটা শ্রেণী এটাকে শুধু রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র বুঝিয়ে থাকে!</span></p>
<blockquote><p><strong>উনাকে না বুঝে, দ্বীন ও রাষ্ট্রের অবস্থান না বুঝে উনাকে সেক্যুলার বানানো হয়!</strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন ধরুন, কোন খেলাফতের দলিল দস্তাবেজে মুলক শব্দ দেখে অনেকে বলেন, মূলক হচ্ছে সবকিছুর মালিক, সুতরাং ইসলামী রাষ্ট্র ও কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের মতোই। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু এটাতো ইসলামের মূলনীতি বিরুদ্ধ, অর্থাৎ রাষ্ট্রের মূলনীতি হচ্ছেত- আদালত এবং যেখানে সম্পদের স্বাধীনতাসহ সকল কিছুই ন্যায়ভিত্তিক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন- ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা বলেন, &#8220;দুনিয়া কুফরের মাধ্যমেও আবাদ হতে পারে, যদি সেখানে আদালত থাকে। আবার যদি সেখানে ইসলাম থাকে, কিন্তু জুলুম থাকে তাহলে সেটা টিকবেনা।&#8221;</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেন যদি তা কাফেরও হয়, আল্লাহ জালেম রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেন না, যদি তা মুমিনও হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ যেখানে আদালত, তারাই এগিয়ে থাকবে। বর্তমানেও আমাদের তুলনায় পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে আদালত বেশি, সুতরাং তারাই এগিয়ে থাকবে। এইজন্যই রাসুল(সাঃ) নিজেও সাহাবাদের হিজরত করতে আদালত ওয়ালা বাদশাহ নাজ্জাসীর অঞ্চলেই অনুমতি দিয়েছিলেন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তাই ইসলামী সালতানাতকে না বুঝে, খন্ডিত দলীলদস্তাবেজ দেখেই এসব বলা নিছক মূর্খতা!</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">৫। </span><span style="font-size: inherit;">الجيش اعون</span></p>
<p><strong>সেনাবাহিনী হচ্ছে সমাজ-সংগঠন। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">يَكْفُلُهُمُ الْمَال অর্থাৎ, </span><span style="font-weight: 400;">তাকে রক্ষা করে অর্থনীতি, সম্পদ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, সেনাবাহিনী হচ্ছে মূল সংগঠন, তাকে রক্ষা করে অর্থনীতি। আল মাওয়ার্দী বলেন, &#8220;একটি রাষ্ট্রের অবশ্যই তিনটা জিনিস থাকা আবশ্যক,</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> অর্থসম্পদ।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> শক্তিশালী সেনাবাহিনী।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;"> একজন আরেকজনকে একত্রিতকারী দ্বীন।&#8221;</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">সুতরাং এসব ব্যতীত ইসলামী রাষ্ট্রের কল্পনাই করা যায় না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">৬। </span><span style="font-weight: 400;">المال رزق تخمعہ الرعة</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সম্পদ হচ্ছে রিজিক, আর এটাকে একত্রিত করে হচ্ছে জনগণ। যেমনঃ ট্যাক্স, ভ্যাট সহ সব ক্ষেত্রে কাজ করে জনগণ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">৭। </span><span style="font-weight: 400;">الرعیة عبید یتعبدھم العدل</span></p>
<p><strong>জনগণ  রাষ্ট্রের অনুগত, তবে তারা অনুগত থাকবে আদালতের মাধ্যমে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">(এখানে সুস্পষ্টভাবে জালিমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের দলিল দেয়া হচ্ছে। যেমনঃ আমরা দোয়া কুনুতে পড়ি, আমরা সকল বন্ধন খুলে নিলাম, পরিত্যাগ করলাম যে জুলুম করে।)</span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">৮। </span><span style="font-weight: 400;">العدل ما لوف و بہ قوام العلم</span></p>
<blockquote><p><strong>আদালত এমন এক বিষয়, যা সকলের প্রয়োজন।সকলেই চায়, সকলের আকাঙ্খিত বিষয়। </strong></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">তাই আদালত কে কখনোই নষ্ট করতে নেই, তাতে নিজেরাও একপর্যায়ে তার স্বীকার হতে হয়! যেমন- বিএনপির আমলে ভি&#8217;আইপি ডিভিশন বাতিল হয়, এখন সেটার জন্য সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগ পোহাচ্ছে বিএনপিই।</span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">উসমানী খিলাফতের বিখ্যাত দার্শনিক আলী চেলেবীও ইবনে খালদুনের বৃত্তের আলোকে এই বৃত্তটি তৈরি করেন,</span></p>
<p><figure id="attachment_6062" aria-describedby="caption-attachment-6062" style="width: 439px" class="wp-caption aligncenter"><img decoding="async" class=" wp-image-6062" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/dairetus-siyasiye-300x236.jpg" alt="" width="439" height="345" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/dairetus-siyasiye-300x236.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/03/dairetus-siyasiye.jpg 719w" sizes="(max-width: 439px) 100vw, 439px" /><figcaption id="caption-attachment-6062" class="wp-caption-text">চিত্রঃ আলী চেলেবীর বৃত্ত</figcaption></figure></p>
<p>আলী চেলেবীর বৃত্তের ব্যাখ্যাঃ</p>
<ul>
<li><strong> জনগণের ঐক্যবদ্ধতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় আদালতের মধ্য দিয়ে। </strong></li>
<li><strong> দুনিয়ার শান্তির মূলে  রয়েছে আদালত।</strong></li>
<li><strong> দুনিয়া বা বাগানের রাখাল হচ্ছে রাষ্ট্র।</strong></li>
<li><strong> রাষ্ট্রের নিজাম হচ্ছে শরীয়ত।</strong></li>
<li><strong> শরীয়ত/সুন্নত ছাড়া রাষ্ট্র হবে না।</strong></li>
<li><strong> রাষ্ট্র সেনাবাহিনী ছাড়া হবে না।</strong></li>
<li><strong> সেনাবাহিনী অর্থ-সম্পদ ছাড়া হবে না।</strong></li>
<li><strong> অর্থনৈতিক শক্তি জনগণ ছাড়া হবে না।</strong></li>
</ul>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/ibn-khalduns-circle-of-politics/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4088</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
