# রোয়াক > চিন্তার বিনির্মাণে... ## Posts - [ইসলামের ঔদার্য](https://rowyakbd.com/islamer-ouudarjo/): ভাই ভাই মিলি তোমরা সবাই এক মহা পরিবার- নাহি ভেদাভেদ আজমী আরবী এক আদমের সন্তান সবি গরব কিসের তার? (১) -হজরত মুহম্মদ (দঃ) ইসলাম ফেতরতের ধর্ম। ফেতরত মানে স্বভাব প্রকৃতি। অন্য কথায় ইসলাম স্বভাব সঙ্গত ধর্ম। যা অস্বাভাবিক, যা প্রকৃতির বিরোধী ইসলামে তা ধর্ম নয়। চির-কৌমার্য স্বাভাবিক নয়, না খেয়ে শরীরকে শুকিয়ে ফেলা, চেষ্টা করে বিকলাঙ্গ হওয়া, সংসার-সমাজ সব ছেড়ে নির্জন বাস, জঙ্গল-গুহায় আত্মগোপন-এ সব স্বাভাবিক নয়-কাজেই ইসলামে এতে ধর্ম নাই। “লা রোহহ্বানিয়াতু ফিল্ ইসলাম”-‘ইসলামে বৈরাগ্য নাই’। ‘বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি সে আমার নয়-‘ ইসলামেরই মর্মবাণী-বাঙ্গালী কবির কণ্ঠে নবভাষা লাভ করেছে। বিধাতার বিধানের বিরুদ্ধে ইসলাম নব-সাম্রাজ্য স্থাপনের দুশ্চেষ্টা করে নাই বরং - [মানব সভ্যতার প্রতি ইসলামী সভ্যতার অবদান](https://rowyakbd.com/contribution-of-islamic-civilization-to-human-civilizations/): মানব সভ্যতার ইতিহাসকে যদি খুব ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে এক সভ্যতা আরেক সভ্যতা দ্বারা অনেক বেশী প্রভাবিত। বিশেষ করে ‘শক্তি’-র উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সভ্যতা সমূহের নাম আলাদা হলেও তাদের মূলনীতি সমূহ ছিল এক ও অভিন্ন। তাদের সভ্যতার মূলে ছিল শোষণ ও জুলুম।। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত হল ইসলামী সভ্যতা। মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ছিল ইসলামী বিপ্লব, যা সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মুহাম্মাদ (সঃ) এর নেতৃত্বে হয়েছিল। এই বিপ্লব ছিল এমন এক বিপ্লব যা সকল নিয়ম নীতিকে পাল্টে দিয়ে সংগঠিত হয়েছিল এবং যার প্রভাবে সমগ্র পৃথিবী নতুন করে সেজেছিল। ইসলামী সভ্যতা মানবতার জন্য কি এনেছে? কি দিয়েছে? - [ইসলামী সভ্যতা; রাষ্ট্রের সীমা পেরিয়ে এক চিন্তার উত্তরাধিকার](https://rowyakbd.com/islamic-civilization-a-legacy-of-thought-that-transcends-the-boundariies-of-the-state/): আমরা যখন ইসলামী সভ্যতার পরিসমাপ্তি নিয়ে আলাপ করি, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রগুলোর পতন আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে, আব্বাসী খেলাফতের পতন, ১৪৯২ সালে গ্রানাডার পতন, ১৭৫৭ সালে বাংলা সালতানাতের অবসান কিংবা ১৯২৪ সালে উসমানী খেলাফতের বিলুপ্তি। এই রাষ্ট্রকাঠামোগুলোর পতনকে সামনে রেখে আমরা ইতিহাসের যে বোঝাপড়া গড়ে তুলেছি, তাতে অনেক সময় ইসলামি সভ্যতার ব্যাপারে এক ধরনের সীমাবদ্ধ ও সংকুচিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। কিন্তু এগুলো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলেও, সভ্যতাগত দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো মোটেও ইসলামী সভ্যতার পরিসমাপ্তি বা অবসানের তারিখ নয়। কারণ ইসলামী সভ্যতা কখনোই কোনো একটি রাষ্ট্রনির্ভর, নিছক রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে দাঁড়ায়নি। রাষ্ট্র এখানে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ ছিল বটে, কিন্তু তা কখনোই - [ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের যাত্রা, কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার](https://rowyakbd.com/special-interview-on-the-journey-activities-and-future-plans-of-the-institute-of-islamic-thought-and-research/): (ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব হাসান আল ফিরদাউস; জ্ঞানের আন্দোলন হিসেবে ইন্সটিটিউটের যাত্রা, এর কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন জনাব সা’দ মুসান্না।)   সা’দ মুসান্না: ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? আপনারা কী চাচ্ছেন? নতুন শিক্ষা আন্দোলনের কথা বলা হচ্ছে, এক্ষেত্রে মূল ভিশন কী? হাসান আল ফিরদাউস: প্রথম বিষয় হচ্ছে, ব্রিটিশদের শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন চলেছে প্রায় ১৯০ বছরের অধিক সময়কাল ধরে। এ শোষণ-সাম্রাজ্যবাদ পরবর্তী আমাদের বাংলাদেশ। আমরা যদি ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকের কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করি; যেমন আসাম রাজ্য বা পূর্ববঙ্গের রাজধানী হিসেবে ঢাকা কিছুটা উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। সেই সময় - [বায়তুল মাকদিস মুক্তির শপথগ্রহণের রজনী হোক শবে মেরাজ](https://rowyakbd.com/may-shab-e-meraj-be-the-night-of-taking-the-oath-of-liberating-baitul-maqdis/): শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে যেমন গুরুত্বপুর্ণ একটি ঘটনা, তেমনি বাঙ্গালী মুসলমানের সংস্কৃতিতে এটি হয়ে আছে তাৎপর্যপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। এই অঞ্চলে মুসলমানদের আগমনের পর থেকেই ঘটা করে পালন হয়ে আসছে এই দিবসটি। দরবার ও খানকাগুলোতে হেদায়াতি তা’লিম, জিকিরের মজলিস শেষে একসাথে তবারক গ্রহণ, ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি তৈরির মাধ্যমে উদযাপনের এক নান্দনিক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে এই শবে মেরাজের। শবে মেরাজের জলসাতে এসে এই রজনীতে কী ঘটেছিল, কীভাবে রাসূল নিজ ঘর থেকে ইসরা (রাত্রিকালীন ভ্রমণ) করে মসজিদে আকসায় গেলেন, সেখান থেকে উর্ধ্ব গগণে আরোহনের মাধ্যমে কীভাবে মেরাজ সংঘটিত হয় – এসব কাহিনী শুনেন নি এমন ব্যক্তি বোধহয় বাঙ্গালী মুসলিম সমাজে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। - [রাষ্ট্র নির্মাণে সংস্কৃতি](https://rowyakbd.com/culture-in-building-a-state/): ভূমিকা দীর্ঘায়িত ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশজুড়ে সংকট ও সম্ভাবনা বিরাজ করছে। একদিকে অতীতে ঘটে যাওয়া সকল প্রকার দুর্নীতি, দেশদ্রোহিতা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সকল প্রকার অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে হাজির হচ্ছে দেশ গড়তে নানান সম্ভাবনা। সমস্যা ও সম্ভাবনার মাঝে সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণে নানাভাবে আলোর মুখ দেখাচ্ছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতি এখানে কাজ করবে পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সেতুর মতো। রাষ্ট্র কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বহিঃপ্রকাশ। সংস্কৃতি রাষ্ট্রকে একতায় আবদ্ধ করে, বৈধতা প্রদান করে এবং নাগরিকদের মাঝে জাতীয় ও পরিচয় নির্মাণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাষ্ট্র শুধুই রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কাঠামো নয়, বরং রাষ্ট্র হচ্ছে সামাজিক ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জনগণের মানসিকতার - [বাংলায় ইসলামী সংস্কৃতির বোঝাপড়া; ঐতিহাসিক শিকড় ও জাতিসত্তা](https://rowyakbd.com/understanding-islamic-culture-in-bengal/): ইসলামী সভ্যতায় সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি মানবমুক্তির একমাত্র জীবনব্যবস্থা দ্বীনে মুবীন ইসলামের যে মূলনীতি, মূলভিত্তি বা স্থায়ী নীতিসমূহ রয়েছে, যেগুলোকে আমরা উসূল বা আসাসুল কুল্লিয়া নামে জানি, এই মূলনীতিগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইসলামের ধর্মীয় বিধান, আকিদা, শরিয়াহ এবং ইবাদতের অপরিবর্তনীয় কাঠামো। আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসলে সেই ভিত্তিগুলিই। কারণ, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলার, কিংবা অঞ্চলভেদে ভিন্নভাবে চিন্তা করার কোনো অবকাশ নেই। এগুলোই ইসলামী চিন্তাধারা ও শরীয়তের কেন্দ্র, যার বাইরে ইসলামকে কল্পনা করা যায় না। তবে আমার প্রশ্নটি কিছুটা ভিন্ন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন নানা ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে। আমরা দেখি, প্রতিটি জাতিসত্তার রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক আবহ, ঐতিহ্য ও মানসিক গঠন। - [আতিয়া মসজিদ](https://rowyakbd.com/atiya-mosque/): বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সুপরিচিত একটি স্থাপত্য নিদর্শন আতিয়া মসজিদ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত পুরনো দশ টাকার নোটে ছবিযুক্ত থাকা এ মসজিদের অবস্থান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামে; লৌহজং নদীর পূর্বপারে। টাঙ্গাইল অঞ্চলে প্রাপ্ত মূল শিলালিপিগুলোর মধ্যে আতিয়া জামে মসজিদে পাওয়া একটি আরবি ও একটি ফারসি শিলালিপি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে মসজিদের নির্মাতা, সময়কাল ও প্রচলিত কিছু অসঙ্গতিমূলক তথ্য সমস্যার সমাধান করা যায় । বিদায়ী সুলতানি আর নবাগত মোগল- উভয় রীতির সংমিশ্রণে অপূর্ব এক মুসলিম স্থাপত্য এটি, যা দৃষ্টিনন্দন এবং এ অঞ্চলে বিরল। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত শিলালিপি অনুসারে প্রত্মতাত্ত্বিক আতিয়া মসজিদটির নির্মাণকাল ১০১৯ হিজরি (১৬১০-১১ খ্রি.) উল্লেখ আছে। সম্রাট - [প্রগতিবাদের ফাঁকা বুলি](https://rowyakbd.com/the-empty-rhetoric-of-progressivism/): ১৯৩৩ সালের জুন সংখ্যা ‘নিগার’ পত্রিকায় জনাব নিয়াজ ফতেহপুরী আমার সম্পাদিত ‘তর্জুমানুল কুরআন’ সম্পর্কে এক বিস্তৃত সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। এজন্যে আমি জনাব ফতেহপুরীর শুকরিয়া আদায় করি। সাধারণত পত্র পত্রিকার সমালোচনা সম্পর্কে বাদানুবাদ কিংবা পাল্টা সমালোচনা করা রীতিসম্মত নয়। কিন্তু যোগ্য সমালোচক তাঁর নিবন্ধটিতে এমন কতকগুলো মতামত প্রকাশ করেছেন, যা তাঁর প্রগতি-ধর্মের বিশিষ্ট মূলনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত; আর এই সমস্ত মূলনীতির সংশোধন করাই তর্জুমানুল কুরআনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। এ কারণেই আমি এ সম্পর্কে আমার নিজস্ব মতামত প্রকাশের এই প্রথম সুযোগের সদ্ব্যবহার করা একান্ত জরুরি বোধ করছি। তিনি লিখেছেন : এই পত্রিকার উদ্দেশ্য এর নাম থেকেই প্রতিভাত হয় অর্থাৎ কুরআনের অর্থ, তাৎপর্য ও - [আধুনিক কালের ব্যাধিগ্রস্ত জাতিসমূহ](https://rowyakbd.com/modern-disease-ridden-nations/): আজ প্রাচ্য পাশ্চাত্য ও মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই একই বিপদে জড়িয়ে পড়েছে। তাহলো, নিরেট বস্তুতান্ত্রিকতার ক্রোড়ে লালিত এক সভ্যতা ও সংস্কৃতি এসে সবার ওপর চেপে বসেছে। তাই সভ্যতার চিন্তা-পদ্ধতি ও কর্মকৌশল উভয়েরই ইমারত গড়ে উঠেছে ভ্রান্ত বুনিয়াদের ওপর। এর দর্শন, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, সামাজিকতা, রাজনীতি, আইন কানুন ইত্যাদি প্রত্যেকটি জিনিসই এক ভ্রান্ত জায়গা থেকে যাত্রা করে এক ভ্রান্ত পথে উৎকর্ষ লাভ করে এসেছে। আর বর্তমানে সে এমন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, তার ধ্বংসের শেষ প্রান্ত খুবই নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। এই সভ্যতার সূত্রপাত হয়েছে এমন লোকদের মধ্যে, যাদের কাছে প্রকৃতপক্ষে খোদায়ী জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো স্পষ্ট ও পবিত্র উৎসই বর্তমান ছিলোনা। সেখানে ধর্মগুরু বা - [উপমহাদেশের স্থাপত্যে জানালার বৈচিত্র্য](https://rowyakbd.com/the-diversity-of-windows-in-the-architecture-of-the-subcontinent/): জানালা- বাইরের কোলাহল ও অন্দরমহলের নৈঃশব্দের এক অনন্য মেলবন্ধনের সুর। যে সুরের কাব্যিক প্রহেলিকায় রচিত হয় প্রাত্যহিক জীবনের বিচিত্র চিত্রপট। প্রতিটি খাঁজ, প্রতিটি খোদাই ,কারুকাজ এবং প্রতিটি ফ্রেম এক একটি স্থাপনার সময়ের দলিল হিসেবে আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের কথা বলে। যেন এক একটি ক্যানভাসরুপে হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হিসেবে রয়ে যায়। এক্ষেত্রে উপমহাদেশের স্থাপত্যে, শিল্পের অনবদ্য ছাপ জানালাগুলোতে যেন আরও বিস্তৃত বিশেষণ দেয়; স্থাপত্যের বিশেষ অংশ হিসেবেই নয় বরং  প্রকৃতি ও মানুষের অমলিন মেলবন্ধনের শ্বাশত আবহের প্রতীকরুপে। কেবল আলো-বাতাস চলাচলের জন্যই জানালাগুলো  তৈরি করা হত না বরং একদিকে বাইরের পৃথিবীকে ফ্রেম করতো অন্য দিকে অভ্যন্তরের মানুষের সুরক্ষা্য় সর্বোচ্চ - [ভবিষ্যৎ গাজাঃ পথ চারটি, কিন্তু গন্তব্য একটি!](https://rowyakbd.com/future-gaza-four-paths-but-one-destination/): ২০২৩ এর ৭ অক্টোবর পরবর্তী গাজায় ইজরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধটি ছিল ফিলিস্তিনিদের মনোবলকে পরিপূর্ণভাবে নিঃশেষ করে ফেলার উদ্দেশ্যে। এর লক্ষ্য ছিল গাজাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা এবং পশ্চিম তীরকে ভয় দেখানো। আগুন, ভয় ও অনাহারে একটি জাতিকে মুছে ফেলার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ভেঙে পড়েনি। তারা স্থির এবং অটলভাবে নিজেদের ভূমি ও সত্যের প্রতি এমন অবিচলতা প্রদর্শন করেছে যে, তাদের আন্দোলনকে কোনো অবরোধ বা অবিরত আক্রমণ দ্বারা মুছে ফেলা সম্ভব নয় এমনটিই প্রতীয়মান হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী এক নৃশংস গণহত্যার সাক্ষী হয়েছে, যা লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে প্রতিটি ফোনে পৌঁছেছে। এবং একইসাথে প্রকাশিত হয়েছে সমকালীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার - [মুঘল আমলে মুসলিম বাংলার ইসলামী উৎসব](https://rowyakbd.com/islamic-festivals-of-muslim-bengal-during-the-mughal-period/): মুসলিম শাসনামলে, বাংলার মুসলমানদের ধর্মানুরাগের খ্যাতি ছিল। তারা ঈদ ইত্যাদি ধর্মীয় উৎসবগুলোতে খুব আমোদ-স্ফূর্তি করত। আর্থিক প্রাচুর্য থাকার ফলে তারা তাদের সামাজিক অনুষ্ঠানসমূহ, যেমন বিবাহ ইত্যাদি খুব জাঁকজমকের সঙ্গে সম্পন্ন করত। এটা উল্লেখযোগ্য যে, মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবসমূহ সমগ্র মুসলমান শাসনামলে একই রকম ছিল। তাদের সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোও শতাব্দীর পর শতাব্দীব্যাপী অপরিবর্তিত থাকে। মুসলমান সমাজে কিছু সংখ্যক নতুন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের আবির্ভাব হয়। মুহররম, বেড়া এবং সব-ই-বরাত ইত্যাদি উৎসবগুলোতে বাংলার হিন্দু উৎসবাদির চাকচিক্য এবং সমারোহের অনেকটা প্রভাব পড়েছিল।   রমজান উপবাস, সংযম, প্রার্থনা ও সামাজিক সম্মেলনীর সময় হিসেবে সে যুগের মুসলমানগণ ‘রমজান’ পালন করত। তারা রমজানকে পবিত্র ও মঙ্গলজনক মাসরূপে গণ্য - [সভ্যতার বিনির্মাণে ভাষার ভূমিকা](https://rowyakbd.com/the-role-of-language-in-building-civilization/): সভ্যতা বিনির্মাণের ক্ষেত্রে একটি জনগোষ্ঠীকে ভাষা, ধর্ম, ভৌগোলিক অবস্থানসহ আরো কিছু মৌলিক বিষয়কে সামনে রেখে অগ্রসর হতে হয় এবং সভ্যতা বিনির্মাণের সফর শুরু হয় সমাজের রূহকে উপলব্ধির মধ্য দিয়ে। উল্লিখিত অনুসঙ্গসমূহ স্থান, কাল ভেদে বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়ায়, এমন কিছু শাশ্বত, সর্বজনীন বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক যা সকল সমাজের ভিন্নতাকে পরিগ্রহ করে। আমরা যেহেতু বাংলাদেশ রাষ্ট্র থেকে সভ্যতার আলাপ তুলছি, সেহেতু বাংলা ভাষা এবং প্রায় নব্বই শতাংশ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে দ্বীনে ইসলামে সভ্যতা বিনির্মাণের সম্ভাবনা ও সক্ষমতার প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়া জরুরি। সেই সাথে সমাজের শাশ্বত বৈশিষ্ট্য এ দুটি অনুষঙ্গে কীভাবে ক্রিয়াশীল হতে পারে, সে আলাপ উত্থাপনও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে। বর্তমান - [মুঘল আমলে ইসলাম ও হিন্দুধর্মের সমন্বয়](https://rowyakbd.com/the-coordination-of-islam-and-hinduism-during-the-mughal-period/): মুসলমানগণ এই উপমহাদেশে এক উদারনৈতিক শক্তির সূত্রপাত করে। তাঁদের ধর্মীয় সারল্য, সামাজিক সাম্যবোধ এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গী ও সংস্কৃতি হিন্দুসমাজকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। জাতিধর্ম নির্বিশেষে হিন্দু ও অপরাপর প্রজাসাধারণের প্রতি মুসলিম শাসকবর্গের নীতি ছিল উদার ও সহনশীল। আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে আলেকজান্ডার হামিলটন নামক এক পরিব্রাজক বলেন “ইসলাম বাংলার আইন স্বীকৃত ধর্ম হলেও একজন মুসলমানের অনুপাতে ভিন্নধর্মাবলম্বী লোকের সংখ্যা হচ্ছে একশত জন। সরকারি কাজে উভয় সম্প্রদায় হতে লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রত্যেকে নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মাচারণ করতে পারেন এবং ধর্মের নামে নির্যাতন তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।” মুসলিমগণের সারল্য এবং সহিষ্ণুতা হিন্দুদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠতর করে এবং উভয়ের জন্য জীবনের সকল - [ভারতবর্ষের তরুণ সম্প্রদায়](https://rowyakbd.com/the-youth-of-indian-subcontinent/): নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে নবীন ভারতবর্ষের কথা বর্তমানে দ্রুত উচ্চারিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো তা আত্মপ্রকাশের কৌশল আয়ত্ত করতে পারেনি। জীবনের যে পুরাতন নকশা পূর্বপুরুষদের বিশ্বাসের শেকড় ও উদ্দেশ্যকে পুষ্ট করেছিল, তা এখন মূলসূত্রে মিশে যাচ্ছে। নতুন ঘটনাধারা সবেমাত্র বিবর্ধিত হওয়ার পথে। উত্তরাধিকারসূত্রে নব-প্রজন্ম পেয়েছে বিশাল সামাজিক জটিলতা, অস্পষ্ট অভিলাষের জগাখিচুড়ি এবং সন্দেহ ও নৈতিকতার অনিশ্চয়তা। এর প্রেক্ষিতে, নতুন প্রজন্ম পূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক উচ্চতায় পৌঁছায়নি। তারা অভাববোধ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সুনিশ্চিত পদ্ধতির এবং সেই সঙ্গে আত্ম-উচ্চারণের ক্ষমতার, যা প্রতিষ্ঠিত সমাজ জীবনকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করবে। এ যেন এক স্বপ্ন দেখা, যে স্বপ্ন বড় অস্পষ্ট ও ক্ষণস্থায়ী; যেন গরাদহীন যাদুর বাতায়ন নিমেষের জন্য - [মুঘল আমলে মুসলিম বাংলায় কৃষির অবস্থা](https://rowyakbd.com/the-agriculture-in-muslim-bengal-during-the-mughal-period/): বর্তমানের ন্যায়, মুসলিম আমলেও বাংলা প্রধানত একটি কৃষিপ্রধান দেশ ছিল এবং কৃষি-সম্পদে ইহা সমৃদ্ধিশালী ছিল। কৃষি সমৃদ্ধি ছিল বাংলার মাটির উর্বরতার অবদান। আবহমান কাল ধরে এর মাটির উর্বরতার খ্যাতি ছিল। প্রকৃতি এই প্রদেশের প্রতি সদয় ছিল। অসংখ্য নদ-নদী ও স্রোত-স্বিনীর জলে বিধৌত একটি উর্বরা দেশ বাংলা স্বাভাবিক জলসেচের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে; ফলে এই প্রদেশে প্রচুর শস্য শাকসব্জি, ফল-মূল ইত্যাদি উৎপন্ন হয়েছে। প্রাকৃতিক জলসেচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মৌসুমী বৃষ্টিপাতের আশীর্বাদ। এ সবই বাংলাকে পরিচিত করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে উর্বর অঞ্চলরূপে। সমসাময়িক লেখকগণ এবং বিদেশী পর্যটকগণ এর প্রাচুর্য ও ঐশ্বর্য দৃষ্টে বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে পড়েছেন। ইবনে বতুতা লিখেছেন যে, তিনি মেঘনার উভয় তীরে উদ্যানরাজি, - [বাংলাদেশের চামড়া ও ট্যানারি শিল্প](https://rowyakbd.com/leather-and-tannery-industry-in-bangladesh/): কোরবানি ঈদের কাঁচা চামড়ার মূল্যের ভয়াবহ নিম্নমুখীতা, অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের বিষয়, অদক্ষতা, কাঁচা চামড়া কেনা-বেচা নিয়ে মৌসুমী ব্যাবসায়ীদের ভীতি ও সিন্ডিকেট; এবং এর দরুণ সাধারণ জনগণের ক্ষোভ মিশ্রিত হতাশা যেন প্রতিবছরের নারকীয় দৃশ্য। উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় ভাগারে, নর্দমায় অথবা নদীতে। আর সঠিক সংরক্ষনের অভাবে নষ্ট হয়ে যায় হাজারও মুল্যবান চামড়া। ক্ষোভে-দুঃখে কেউ কেউ চিরদিনের জন্য এ’ব্যাবসা থেকে ইস্তফা নেয়। কাউকে তার শেষ সম্বল বা পুঁজিটুকু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হয়; পথের ভিখিরি হতে হয়। নাম-মাত্র মূল্যে চামড়া কিনে কেন চামরাজাত পন্যের দাম আকাশছোঁয়া ধরা হয়? একবিংশ শতাব্দীর গোঁড়ার দিকে, পতোন্মুখ গার্মেন্টস ব্যাবসার - [বাংলা ভাষায় ইসলামী সাহিত্য চর্চা](https://rowyakbd.com/practice-of-islamic-literature-in-bangla-language/): সাহিত্যের গোড়ার কথা ইসলামের নবী কেবল আরব দেশে আসেননি, দুনিয়ার সব দেশেই এসেছেন। আল্লাহর পাঠানো সবই ছিলেন ইসলামের নবী। সাহিত্যের আলোচনায় প্রথমেই নবী প্রসংগে এলাম কেন? কারণ নবীরাই মানুষের প্রথম শিক্ষক । নবীরাই সমাজ সংগঠক।নবীদের যোগ মানুষের সাথে তৃণমূল পর্যায় থেকেই। মানুষের সভ্যতা সংস্কৃতি সাহিত্য নবীদের  ভূমিকা ছাড়া কল্পনাই করা যেতে পারে না। নবীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক পথের সন্ধান এনেছেন এবং সে পথ মানুষকে দেখাননি এমনটি হতে পারে না। সাহিত্য মানুষের জীবনের একটা প্রয়োজনীয় অংশ আর নবীরা এ  অংশে কোনা অবদান রাখেননি একথা কেমন করে ভাবা যেতে পারে? নবীরা যেসব সহিফা ও কিতাব এনেছেন সেগুলোও সাহিত্যরস সমৃদ্ধ। নিছক কাটখোট্টা আলোচনা - [বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থা ও ভারতীয় বাঁধ](https://rowyakbd.com/bangladeshi-river-system-and-indian-dams/): একাদশ শতাব্দীতে বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার। একসময় সেসব নদীকে ঘিরে কত গল্প-কল্পকাহিনী শোনা যেত দাদি-নানীদের মুখে! কী ছিল তার রূপ, কী ছিল তার স্রোত—কোনো এক অতীতে–বর্ষাকালে। এখন বর্ষাকালে পানি থাকলেও শীতকালে প্রায় পুরোটাই যেন ধানক্ষেত। নদীর পেটের মধ্যে সামান্য এক ধার ঘেঁষে মৃদুস্রোত বয়, নৌকা চলে— যেখানে বাংলার চিরাচরিত রূপ ছিল নদীময়, জলময়, আর বনময়। বাংলার সেই আদিরূপ, নদীর সেই কলকল ধ্বনি– এখন শুধুই বিস্মৃত অতীত। বাংলার অতীতের যত সব খরস্রোতা নদ-নদী, খাল-বিল তাদের বেশিরভাগই এখন মৃতপ্রায়। সেখানে বৈশাখে নয়, বর্ষায় হাঁটুজল থাকে। বৈশাখে তারা একেবারেই মৃত। ভাটির এই অঞ্চলে বর্তমানে ৭০০’র মতো নদী, উপনদী ও শাখা-নদী - [আগামী দিনের ইতিহাস](https://rowyakbd.com/the-history-of-future/): আমার বন্ধুদের, অবশ্যই উচিত হবে না, আজ আমার কাছ থেকে একটা জ্ঞানগর্ভ ও সুসম্পন্ন বক্তৃতা আশা করা। কারণ, বক্তৃতার বিষয়বস্তুর উপর চিন্তা করার জন্য আমি ঘণ্টা দুয়েকের বেশি সময় পাইনি। কিন্তু ঠিক এ প্রসঙ্গে কিছুদিন আগে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা বক্তৃতা দিয়েছিলাম। আশা করি সেখানে বলা কিছু কথা আজও মনে করতে পারবো এবং আপনাদের সামনে তা-ই উপস্থাপন করবো। টিবর মেনডে হচ্ছেন ইদানীংকালের একজন শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ। তার গবেষণার বিষয় ছিলো ‘তৃতীয় বিশ্ব’। হাঙ্গেরীয়-ফরাসি এ বিখ্যাত পণ্ডিত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ইতিহাস ও সভ্যতার উপর ব্যাপক গবেষণা করেন। তৃতীয় বিশ্ব সম্পর্কিত তার সুচিন্তিত মতামত ও রচিত গ্রন্থ অত্যন্ত আধুনিক ও প্রগতিশীল বলে বিবেচিত হয়। - [সবুজ বিপ্ল­ব : প্রত্যাশা ও ফলাফল](https://rowyakbd.com/green-revolution-expectations-and-results/): পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে কিন্তু খাদ্যের উৎপাদন কিংবা চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের যোগান সে পরিমাণে বাড়ছে না, এজন্যে আমাদের উন্নত প্রযুক্তির দ্বারস্থ হতে হবে। অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে অল্প ব্যয়ে অধিক ফসল অর্জনের মাধ্যমে এ ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা মেটানো সম্ভব, নতুবা খাদ্যের অভাবে বিভিন্ন দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা যাবে-অনেকটা এরকম শঙ্কা এবং তার প্রতিকারের লক্ষ্যেই সবুজ বিপ্লবের যাত্রা শুরু হয়। এজন্যে মানবশ্রমের মাধ্যমে প্রাচীন পদ্ধতির কৃষি ব্যবস্থাকে সরিয়ে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো, নতুন নতুন সহনশীল জাতের উদ্ভাবন, কৃষি জমিতে ফলন বৃদ্ধির জন্যে সার ব্যবহারের আধিক্য, আগাছা নিড়ানোর জন্যে শ্রমিক নয় বরং ঔষধ দিয়ে আগাছার উৎপাদন বন্ধ করা, কীটনাশক এর ব্যপক - [বাংলা অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা; প্রেক্ষিতে ইসলামী সভ্যতা](https://rowyakbd.com/agriculture-and-food-system-in-the-bengal-region-islamic-civilization-in-context/): ইসলামী সভ্যতায় কৃষি ও খাদ্য : ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি রচিত হওয়ার পর তৎকালীন দুনিয়ায় যে শোষণমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, আল্লাহর রাসূল (স.) তার বিপরীতে নতুন এক ব্যবস্থার প্রস্তাবনা পেশ করেন। অর্থনৈতির মূলনীতিকে গোটা জাতির সামনে তুলে ধরেন এবং তা বাস্তবায়নে যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় একাধিক মূলনীতি বাস্তবায়ন করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহাবিগণ এ ধারা অব্যাহত রাখেন। ফলস্বরূপ তৎকালীন সমাজের দারিদ্র্যতা, অর্থনৈতিক সংকট দূরীভূত হয়ে এমন একটি সভ্যতার সূচনা হয়, যেখানে দারিদ্র্যতা, খাদ্য সংকট, বেকারত্বের মত সমস্যাগুলো ছিল অনুপস্থিত। যার দৃষ্টান্ত আমরা ইতিহাসের পাতায় দেখতে পাই। রাসূল (স.) এবং আবু বকর (রা.) এর যামানা পার হয়ে উমর - [মুসলিম উম্মাহর পুনর্জাগরণে ডি-৮](https://rowyakbd.com/d-8-for-the-revival-of-the-muslim-ummah/): আমরা কি কখনো এমন কোনো বিশ্বব্যবস্থার কথা শুনেছি, যাতে যুদ্ধ হানাহানি নয়; বরং ব্যালেন্স অফ পাওয়ার (BOP) প্রতিষ্ঠায় সমমর্যাদা এবং সংলাপকে মূলনীতি ধরা হয়? কখনো কি শুনেছি এমন কোন বিশ্ববীক্ষার কথা, যা ‘Absolute Anarchy’ এর বদলে রাষ্ট্রসমূহকে ঈড়হারহপব করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে? বৈশ্বিক ক্ষুধামান্দ্য ও দারিদ্র্যের মোকাবেলায় যে বিশ্বব্যবস্থা দান খয়রাত ও চ্যারিটির মুখাপেক্ষি নয়; বরং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতির কথা বলে। যেখানে একজন মানুষও গরীব থাকবে না; অভুক্ত থাকা তো বহু দূর! শুনেছি কি এমন আন্তর্জাতিক বন্ধনের উপাখ্যান, “Violation of Sovereignty” নয় বরং পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে সামগ্রিক উন্নয়ন ও টেকসই শান্তির প্রতিশ্রুতি দিতে সক্ষম? ভাবতে অকল্পনীয় লাগলেও গত - [ফিকহুল মীযান (প্রথম পর্ব)](https://rowyakbd.com/fiqhul-mizan-part-1/): ফিকহুল মীযান —সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, বুদ্ধিবৃত্তি, আকীদা ইত্যাদি সমস্ত বিষয় পরিগ্রহ করে আছে। মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে এই সমস্ত বিষয়গুলো আমাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। উম্মাহর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে উম্মাহ সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। কেননা, যে ব্যক্তি মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করে না, সে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। ফিকহুল মীযান নিয়ে কলম ধরতে এ বিষয়টিই আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছে। আল্লাহ রব্বুল আলামীন পারস্পরিক বিরোধ দূর করে একে অপরের বন্ধন মজবুত করতে মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল করেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিলের অন্যতম মূল মাকসাদ এটি। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ সদস্য এই মাকসাদ থেকে যোজন-যোজন দূরে অবস্থান করছে। - [টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান; যুক্তি যেখানে গল্প, সংলাপ সেখানে নায়ক](https://rowyakbd.com/twelve-angry-men-movie-review/): বিচারব্যবস্থায় জুরিসিস্টেম একটি আদি-প্রক্রিয়া। এথেন্সে ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দেও জুরির অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। অবশ্য আধুনিক জুরিসিস্টেমের সূচনা হয় ১২ শতকের মাঝামাঝি, তখন ইংল্যান্ডে দ্বিতীয় হেনরির রাজত্ব চলছিল। এখনো পৃথিবীর অনেক জায়গায় বিচারকার্যে জুরিসিস্টেমের ব্যবহার করা হয়। সিডনি লুমেটের ‘টুয়েলভ অ্যাংরি ম্যান’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যেটি আপনাকে জুরিসিস্টেম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিবে। সাদাকালো আলোকচিত্রের যুগে তৈরি  হওয়া এই সিনেমা হীরক জয়ন্তী পার করার পরও অবস্থান করছে শ্রেষ্ঠের শীর্ষ তালিকায়। ‘কোর্টরুম ড্রামা’ এই ধারাটি বর্তমান সিনে জগতে ব্যাপক আলোচিত। বিশেষ করে উপমহাদেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। কিন্তু এই ধারা উদ্ভাবন হয়েছে আজ থেকে ৬৫ বছর আগে অস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা সিডনি লুমেট এর হাত ধরে। লুমেট - [সোনারগাঁও : বাংলায় ইলমী সিলসিলার অনন্য মিনার](https://rowyakbd.com/sonargaon-a-unique-minar-of-scholarly-tradition-in-bengal/): সোনারগাঁও, যে স্থানটি ইতিহাসখ্যাত, অনেকে তার নাম দিয়েছে সুবর্ণগ্রাম১, বর্তমানে যদিও তা ঢাকা জেলার নারায়ণগঞ্জ মহকুমার [বর্তমানে জেলা] অধীন একটি গুরুত্বহীন গ্রাম মাত্র। অথচ স্থানটি প্রাক মোগল মুসলিম শাসন আমলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সমৃদ্ধশালী ও সৌভাগ্যসম্পন্ন নগর ছিলো। খ্রিষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর সূচনাকালে এই স্থানটি দিল্লীর মুসলিম সুলতানদের শাসনাধীন হওয়ার অব্যবহিত পর থেকেই দূর ও নিকট থেকে বিদ্বান ও উচ্চ মনীষাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। এই স্থানটি তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের রাজধানীতে পরিণত হওয়ার কারণে মুসলিম প্রশাসক, বীর সেনানী, সেনাধ্যক্ষ ও দুঃসাহসী দেশ বিজেতাদের চোখে তদানীন্তন পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী লক্ষ্মণাবতীর পরপরই অধিকতর গুরুত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয় এবং প্রায় দুইশ বছর পর্যন্ত এর সাথে - [মানুষের জীবনে বিশ্বাসের গুরুত্ব](https://rowyakbd.com/the-importance-of-faith-in-human-life/): মানুষের জীবনে বিশ্বাসের গুরুত্ব নিম্নরূপ, প্রথমত: বিশ্বাস একজন বিশ্বাসী ও আল্লাহর মধ্যে খুব গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই সম্পর্ককে বিকশিত করে যা বিশ্বাসী হৃদয়কে ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং নিশ্চয়তায় পূর্ণ করে। দ্বিতীয়ত: বিশ্বাস মানুষের জীবনযাত্রা ইতর প্রাণি থেকে ভিন্নতর করে তোলে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। তাকে সৃষ্টিজগতের সকল কিছুর চেয়ে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, সম্মানিত করা হয়েছে, নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। সে পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি। ফেরেশতারাও ভাবতেন যদি মানুষের মতো তাদেরকেও এত সম্মানিত করা হতো! দ্বীন মানুষকে অনুধাবন করার আহ্বান জানায় যে, তার সত্তার যে অংশে আল্লাহ রূহ ফুঁকে দিয়েছেন, সে অংশে তার শক্তি নিহিত এবং যে - [ইসলামে অর্থনৈতিক বিধানের উদ্দেশ্যসমূহ](https://rowyakbd.com/objectives-of-economic-provisions-in-islam/): ইসলাম জীবনবিমুখ কোনো ধর্ম নয় (১) এবং এটি কখনো মানুষকে “আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতসমূহ” (কোরআন, ৭:৩২) থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করে না। বরং ইসলাম মানুষের প্রতি ইতিবাচক একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে এভাবে, “মানুষ জন্মগতভাবে গুনাহগার নয়, বরং সে পৃথিবীতে আল্লাহ পাকের প্রতিনিধি বা খলীফা এবং সে শুধুমাত্র নিজের কৃত গুনাহসমূহের জন্যই দায়ী থাকবে।” (আল কোরআন, ২:৩০) এমনকি “মানুষের জন্যই এই পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে।” (২:২৯)। সুতরাং আল্লাহর দেওয়া অনুগ্রহকে ত্যাগ করার মধ্যে নয়, বরং তার দেওয়া সীমারেখায় থেকে সেগুলোকে ভোগ করার মাঝেই কল্যাণ নিহিত। যাবতীয় মানবীয় কার্যাবলি ইসলামের ধর্মীয় মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে জাগতিক কাজ বলে আলাদা করে কোনো বিভাজন নেই। - [দর্শনের গুরুত্ব](https://rowyakbd.com/importance-of-philosophy/): দর্শন বলতে আসলে কি বুঝায় ? প্রথমেই  দর্শনের সংজ্ঞাকে পরিষ্কার করা দরকার। অনেক আধুনিক মুসলিম সংস্কারক ও চিন্তাবিদ, যেমন মুহাম্মদ আবদুহু, দর্শন শব্দটি নিয়ে একটু ভয় বা সন্দেহ পোষণ করেন। যদিও এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা জামালউদ্দিন আফগানি তেহরানে বহু বছর ইসলামী দর্শন অধ্যয়ন করেছিলেন, যতক্ষণ না তিনি সরকারের চাপে দেশ ছেড়ে আফগানিস্তান, তারপর তুরস্ক ও মিশরে পালিয়ে যান। একটি বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে বিদ্যমান থাকায় ইসলামী প্রেক্ষাপটে দর্শন শব্দটি একটু অস্পষ্ট মনে হয়। তবে পশ্চিমা ও ইসলামী প্রেক্ষাপটে দর্শনের অস্পষ্টতার ধরন একেবারেই আলাদা। পশ্চিমে দর্শনের অর্থ অনেক রকম—প্লেটো এবং দেরিদার মত সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর মানুষকেও দার্শনিকই ডাকা হয়। এখানে একক কোনও বিশ্বদর্শন - [বই পড়ার ব্যাপারে আলেমগণের পরামর্শ](https://rowyakbd.com/advice-from-alims-on-reading-books/): জ্ঞান অর্জন করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বই পড়া। বই পড়ার ব্যাপারে আমাদের আলেমগণ বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাসমূহ প্রদান করেছেন, যা আমাদেরকে আল্লাহর সন্তোষভাজন একজন বান্দা এবং মর্যাদাপূর্ণ ও হিকমত সম্পন্ন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।   ১. পড়া শুরু করার পূর্বে নিয়ত করো। ইমাম শাফেয়ী বলেন, “যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে জ্ঞানের বরকতে উপনীত হয়।” জ্ঞানকে শুধুমাত্র তথ্য হিসেবে নয়—জ্ঞান যেন তোমার রূপান্তর ঘটায়, বিকশিত করে এবং হাকীকতের নিকটবর্তী করে।২. অল্প করে হলেও প্রতিদিন পড়ো। ইবনে খালদুন বলেন, “জ্ঞানকে যদি ছোট ছোট অংশে গ্রহণ করা হয়, তবে সে জ্ঞান স্থায়ী হয়।” একসাথে বড় - [জ্ঞান ও সভ্যতার পুনর্জাগরণে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহৎ ভাষা 'বাংলা'](https://rowyakbd.com/bangla-the-second-largest-language-of-the-muslim-ummah/): ভাষা শুধুমাত্র ভাব প্রকাশের বাহন নয়, ভাষা হচ্ছে একটি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি এবং বাহক। এজন্য একটা ভাষার ভাণ্ডার যতবেশি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হবে, ওই ভাষার সংস্কৃতি ও সমাজ ততবেশি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। একইসাথে ভাষা কেবল সাহিত্য সংস্কৃতির বাহন হিসেবেই নয়, একটি স্বাধীন জাতির মূল প্রাণসত্তাও বটে। বাংলা ভাষা জনসংখ্যার দিক থেকে, ইতিহাসের দিক থেকে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা, আমাদের জাতীয় মর্যাদার প্রতীক। এজন্য ঢাকাও শুধুমাত্র বাংলাদেশের রাজধানী নয়, একটি দেশের প্রধান শহর নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা ‘বাংলা ভাষা’র রাজধানী। এই অঞ্চলে মানুষের আশা, জীবনসংগ্রাম, আনন্দ-বেদনা, গৌরবগাঁথার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বাংলা ভাষা আমাদের সামনে সর্বদাই - [ইসলাম যে সমাজ প্রতিষ্ঠা করে](https://rowyakbd.com/the-society-islam-establishes/): ইসলাম মানবজাতিকে ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি এবং ধর্মপরায়ণ পরিবারের পাশাপাশি ধর্মপরায়ণ সমাজের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সমাজ ঈমান ও পুণ্যের সমাজ, এ সমাজ পরিপূর্ণ ঈমানদারদের সমাজ, যারা বস্তুবাদের বলয় থেকে মুক্ত থাকে, প্রভুর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখে, একে অপরের সাথে সদাচরণ করে এবং আদালত ও পারস্পরিক পরামর্শ ও আলোচনার ভিত্তিতে একে অপরকে উপদেশ দেয়, যেভাবে তাদের পালনকর্তা কোরআনে বর্ণনা করেছেন, فَمَآ أُوتِيتُم مِّن شَىْءٍۢ فَمَتَـٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا ۖ وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌۭ وَأَبْقَىٰ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ. وَٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَـٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا۟ هُمْ يَغْفِرُونَ. وَٱلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ “যা-ই তোমাদের - [আহমদ ছফার “বাঙালি মুসলমান” চরিত্রের ক্রিটিক](https://rowyakbd.com/criticism-of-ahmed-safas-bengali-muslim-character/): [পন্ডিত আহমদ ছফা’ প্রণীত  ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ শীর্ষক  দীর্ঘ-প্রবন্ধটি প্রকাশের পর সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল, বৈশাখ ১৩৮৩ (এপ্রিল ১৯৭৬), অষ্টাদশ বর্ষ চতুর্থ সংখ্যায় প্রফেসর ড. এবনে গোলাম সামাদ একটি  প্রতিক্রিয়া হাজির করেন।] সমকালে (ফাল্গুন ১৩৮২ সংখ্যায়) আহমদ ছফার একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এতে তিনি বাঙালি মুসলমানের মানসিকতা বিশ্লেষণ করে দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রবন্ধটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, তথ্য ও তত্ত্বের বেশ কিছু অসঙ্গতি আছে। তাই এই আলোচনায় অবতীর্ণ হচ্ছি। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি খোলা মন নিয়ে এ প্রসঙ্গে সমকালে আরো আলোচনা হবে। আমাদের সংশয় ঘুচবে।   আর্য ও অনার্য ছফা সাহেবের মতে বাঙালি মুসলমানের একটি বিরাট অংশই নিম্নবর্ণের - [ইবনে খালদুন ও ইলমুল উমরান](https://rowyakbd.com/ibn-khaldun-and-ilm-al-umran/):   এ প্রবন্ধে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো, শুরুতেই তা সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই, ১. ইবনে খালদুনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। ২. ইবনে খালদুনের ইলমুল উমরান কী? ৩. সমাজবিজ্ঞান বা Sociology কী? ৪. ইলমুল উমরান ও সমাজবিজ্ঞানের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হতে পারে? ৫. ইবনে খালদুন বর্তমান দুনিয়ার প্রেক্ষিতে কতটা প্রাসঙ্গিক এবং আমরা তাঁর নিকট থেকে কীভাবে উপকৃত হতে পারি?   আমাদের সামনে প্রথমেই যে প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়, তা হলো ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমায় যে থিওরিগুলো দিয়েছেন, সেগুলোকে আমরা সমাজবিজ্ঞান বা Sociology নামে অভিহিত করতে পারি কিনা? এ প্রশ্নটিকে আগে সুস্পষ্ট করার জন্য বর্তমান বিশ্বের প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান (Sociology) বিভাগের পাঠ্য - [সিনেমার রাজনীতি : শোষণ থেকে জনজীবন](https://rowyakbd.com/politics-in-film/): পহেলা পর্ব–সিনেমায় রাজনৈতিক ভাষার সৃষ্টি “সিনেমা হলো সমাজের আয়না” বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ফেদেরিকো ফেলিনির এই মন্তব্যের মতো করেই সিনেমার রাজনৈতিক ভাষা প্রভাবিত করেছে শিল্পের সকল মাধ্যমকে। রাজনৈতিক চলচ্চিত্র এমন এক মাধ্যম যেখানে পর্দায় যা দেখানো হয় এবং যা আড়ালে থাকে, তার মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র ও শাসনব্যবস্থার ক্ষমতা প্রকাশ পায়। এই চলচ্চিত্রগুলো শুধু বিনোদনের সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে সমাজের বিবর্তনের দিকে মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক চলচ্চিত্র সমাজের সংকট, শোষণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে সমাজের সামনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে। ফলে, চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক ভাষা ও ভাবধারা মানুষের চিন্তায় বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূত্রপাত করেছে। রাজনৈতিক - [বড়র পিরীতি বালির বাঁধ](https://rowyakbd.com/boror-pirity-balir-badh/): তখন আমি আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাজ-কয়েদী। অপরাধ, ছেলে খাওয়ার ঘটা দেখে রাজার মাকে একদিন রাগের চোটে ডাইনী বলে ফেলেছিলাম।… এরি মধ্যে একদিন এসিস্ট্যান্ট জেলার এসে খবর দিলেন- আবার কি মশাই, আপনি তো নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন, আপনাকে রবি ঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ নাটক উৎসর্গ করেছেন। আমার পাশেই দাঁড়য়েছিলেন আরো দু’একটি কাব্য-বাতিকগ্রস্ত রাজ-কয়েদী। আমার চেয়েও বেশী হেঁসেছিলেন সেদিন তাঁরা। আনন্দে নয়, যা নয় তাই শুনে। কিন্তু ঐ আজগুবী গল্পও সত্য হয়ে গেল। বিশ্বকবি সত্যি সত্যিই আমার ললাটে ‘অলক্ষণের তিলক-রেখা’ এঁকে দিলেন। অলক্ষণের তিলক-রেখাই বটে! কারণ এর পর থেকে আমার অতি অন্তরঙ্গ রাজবন্দী বন্ধুরাও আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন। যাঁরা এতদিন আমার - [এক নতুন অর্থনীতির প্রয়োজন](https://rowyakbd.com/a-new-economy-is-needed/): দুনিয়ার অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে একটা নতুন চিৎকার ধ্বনিয়া উঠিয়াছে। এই চিৎকার যেমনি ভাঙ্গা গলার,তেমন বলিষ্ঠও নয়; তবু উহার প্রতি জনগণের উৎকণ্ঠা না জাগিয়া পারে নাই। সে চিৎকার হইল, একটু নতুন অর্থব্যবস্থা (New Economic order) চাই যাহা বর্তমানের বিরাজমান অর্থ ব্যবস্থার দুর্বহ চাপে নির্যাতিত নিষ্পেষিত ও শোষিত –বঞ্চিত জনগণকে নিষ্কৃতি ও স্বস্তি দিতে পারিবে। কেননা বর্তমানের যাবতীয় মানব-রচিত অর্থব্যবস্থা মানবজাতির অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হইয়াছে। শুধু তাহাই নয়, যে অর্থ ব্যবস্থা বর্তমানে বিভিন্ন দেশে কার্যকর রহিয়াছে, তাহা পুঁজিবাদ হউক, কি সমাজতন্ত্র, মানুষের জীবনে নিত্যনতুন জটিল সমস্যা ও অর্থনৈতিক ব্যাধির সৃষ্টি করিয়া চলিয়াছে। সাধারণ মানুষকে ঠেলিয়া দিতেছে নির্মম কষ্টদায়ক দারিদ্র ও - [উপমহাদেশে মুসলিম ইতিহাস পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা](https://rowyakbd.com/the-need-to-reevaluate-muslim-history-in-the-subcontinent/): এক. আরবী ভাষায় একটা কথা আছে, উকুলুন না-সি আ’লা কদরি যামানিহিম। যার অর্থ অনেকটা এমন হয় যে, সময় ও পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতেই একজন মানুষের আকল ও বুদ্ধিমত্তা বিকশিত হয়। জীবন চলার পথের প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেমন একেবারে স্বাভাবিকভাবেই এই কথাটি সত্য, সুদূর অতীত থেকেই দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তেমনি এই কথাটি সত্য। অতএব, কোনো একজন ব্যক্তি যখন অতীতকে কলমের ডগায় ফুটিয়ে তুলবেন, তখন সেই ব্যক্তির আশপাশ এবং তার চিন্তাভাবনা অবশ্যই প্রভাব ফেলবে। এক্ষেত্রে তিনি যদি উদার মনের হন তাহলে এক দৃষ্টিকোণ থেকে অতীতকে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করবেন, আর যদি তার পূর্বের সকল ধর্ম ও মতের উপর সঠিক ও স্বচ্ছ ধারণা না থাকে তাহলে - [ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামী সভ্যতা; সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দের অনন্য উপমা](https://rowyakbd.com/islamic-civilization-in-the-indian-subcontinent-a-unique-example-of-social-harmony/): এক ইতিহাস, সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি—আমাদের সবচেয়ে সুপরিচিত কয়েকটি পরিভাষা। সমগ্র মানবেতিহাসকে সংজ্ঞায়ন করা পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এসব শব্দাবলি আজ ভিন্ন অর্থ প্রদানে সিদ্ধহস্ত। কারণ অনুসন্ধানে সর্বাগ্রে যে বিষয়টি আমাদের সামনে লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠে, তা হলো প্যারাডাইম ওয়ার বা পারিভাষিক যুদ্ধ। পৃথিবীর ইতিহাসে একটা সময় যখন এসব শব্দসমূহ সামগ্রিকতাকে পরিমণ্ডল করে ব্যাপৃত হতো, সেসব শব্দগুলোর প্রতিটিই আজ নির্দিষ্ট কিছু শোষকগোষ্ঠীর স্বার্থান্বেষণের প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু শোষকগোষ্ঠী বলতে যে শোষণ ও স্বার্থপরতার বিষবাষ্প নিঃসরণকারী মানবতার এক পরম শত্রু এবং সেকিউলারিজমের নামে রব বা সৃষ্টিকর্তাবিহীন তথাকথিত আধুনিক পরজীবী পাশ্চাত্য সভ্যতা-কে বুঝানো হচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো সভ্যতায় যদি - [শ্বেতাংগ দর্শনের মূল কথা](https://rowyakbd.com/the-essence-of-white-philosophy/): ইংরেজ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন যে শ্বেতাংগদের প্রতিপত্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে। শ্বেতাংগ জাতিগুলো অনির্দিষ্ট কালের জন্য তাদের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখতে পারে না। কারণ এটা স্বাভাবিক নিয়মের খেলাফ। রাসেল বিশ্বাস করতেন যে বিগত চার শতকের মতো সুখের সময় শ্বেতাংগদের জন্যে আর আসবে না। তার মতে শ্বেতাংগ জাতিগুলোর মধ্যে কেবল রাশিয়ানরাই হয়তো এশিয়ার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এশিয়ার লোকেরা সাম্রাজ্যবাদ ঘৃণা করে এবং তাদের ধারণা রাশিয়ার সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্য নেই। এশিয়ার লোকেরা পাশ্চাত্য জাতিগুলোর শাসনাধীন ছিলো। এরা পাশ্চাত্যবাসীদের রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার শিকার ছিলো। রাশিয়ার হাতে এভাবে ব্যবহৃত হবার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। এসব কারণে রাসেল সাহেব ভাবতেন যে এশিয়ায় পাশ্চাত্য দেশগুলোর প্রাধান্যকাল শেষ - [স্বাধীনতার আড়ালে থেকে যাওয়া কথা](https://rowyakbd.com/words-that-remained-behind-the-freedom/): আমার বয়স অনেক হলো। আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন অনেক কথাই আমার মনে পড়ে। আমি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না হলেও রাজনীতি সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল থাকার চেষ্টা করেছি। আওয়ামী লীগ গঠিত হয়েছিল কেবলমাত্র বাংলাভাষী মুসলমানের স্বার্থরক্ষার জন্য নয়। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল সাবেক পাকিস্তানের আমজনতার আর্থসামাজিক উন্নয়ন। কেবলমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কল্যাণ সাধন নয়। শেখ মুজিব তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেন, ‘আমি শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজোরিটি পার্টির নেতা।’ এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, শেখ মুজিব নিজেকে সাবেক পাকিস্তানের নেতা হিসেবে মনে করতেন। কেবলই পূর্ব পাকিস্তানের নেতা হিসেবে মনে করতেন না। তিনি নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিলেন সাবেক নিখিল পাকিস্তানকে; - [আল-কুরআনে সুর ও ছন্দ](https://rowyakbd.com/melody-and-rhythm-in-the-quran/): আল-কুরআনের শব্দের মিল ও সাদৃশ্য সম্পর্কে অন্যান্য লেখকগণ যা কিছু আলোচনা করেছেন, আমি তার ওপর শুধুমাত্র একবার দৃষ্টি প্রদান করে আল-কুরআনের শৈল্পিক বিন্যাসের ঐ বিষয়ে আলোচনা করতে চাই, যে সম্পর্কে এখন বিস্তারিত কিছু আলোচনা হয়নি এবং তা এ পুস্তকের বিষয়বস্তুর সাথেও সংশ্লিষ্ট। বিশেষ করে আল-কুরআনের উচ্চারণের সাদৃশ্যতা। আমি এর আগে আভাস দিয়েছি যে, কুরআনে কারীমের মধ্যে সুর ও ছন্দ (শব্দের উচ্চারণ সাদৃশ্যতা) আছে এবং তার কিছু প্রকার ও ধরন আছে। যা তার বক্তব্য উপস্থাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেহেতু সমস্ত কুরআন-ই ছন্দবদ্ধ সেহেতু সর্বত্রই সুর ও তাল বিদ্যমান। দেখা গেছে একই শব্দের বিভিন্ন অক্ষর এবং একই আয়াত ও তার শেষ - [বিশ্বায়নের যুগে মাসলাহাত প্রতিষ্ঠায় মুসলিম স্কলারদের ভূমিকা](https://rowyakbd.com/the-role-of-muslim-scholars-in-establishing-maslahah-in-the-era-of-globalization/): বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক মহান রাব্বে কারীমের নামে। দরূদ ও শান্তির বার্তা প্রেরিত হোক আমানাতদার সৎ বান্দার উপর, যাকে বিশ্বজাহানের রহমত হিসেবে এবং হেদায়েত অনুসন্ধানীদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে মানুষ তার ভেতরে থাকা সত্যিকারের ক্বলব, আকল ও রূহের দর্শন পেয়েছে। যাকে প্রেরণ করা হয়েছে জুলুমপূর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আদালত ও হেদায়েতের পথে নিয়ে আসার জন্য। সম্মানিত সুধী, বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এবং কর্তব্যপরায়ণ ও ন্যয়ানুরাগ ব্যক্তিবর্গ, শুরুতেই সবাইকে ইসলামের সম্ভাষণ জানাই, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অফ মুসলিম স্কলার কর্তৃক ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এই ৫ম সাধারণ অধিবেশনে উপস্থিত হতে পেরে সত্যিই আমি - [আল-কুরআনের শৈল্পিক বিন্যাস](https://rowyakbd.com/artistic-arrangement-of-the-quran/): যখন আমরা বলি কুরআনী উপকরণের মধ্যে চিত্রায়ণ পদ্ধতি মূল সূত্রের বা মূল ভিত্তির মর্যাদা রাখে এবং কল্পনা ও রূপায়ণ চিত্রায়ণের উজ্জ্বলতম নমুনা। তো এখানেই কথা শেষ নয়। শুধু একথা বলায় না কুরআনের বিশেষত্ব বর্ণনার হক আদায় হয়ে যায় আর না কুরআনের দৃশ্যায়নের পুরো বৈশিষ্ট্যসমূহ সামনে চলে আসে। সত্যি কথা বলতে কি, চিত্রায়ণ, কল্পনা ও রূপায়ণ ছাড়াও কুরআনে বহু আলংকারিক দিক রয়েছে। যতোক্ষণ সে অরণ্যে প্রবেশ করা না যাবে ততোক্ষণ কুরআনের শৈল্পিক বিন্যাসের কথা বলা যেতে পারে, যা দৃশ্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।   শৈল্পিক বিন্যাসের ধরন শৈল্পিক বিন্যাসের কয়েকটি স্তর আছে। বিন্যাসের শৈল্পিক এবং আলংকারিক কতিপয় দিক এমন আছে, যে - [ইসলামী অর্থনীতিতে ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা](https://rowyakbd.com/the-role-of-islamic-institutions-in-islamic-economics/): “কোন দলটি উত্তম, যারা আল্লাহর ভয় ও সন্তুষ্টির উপর তাদের ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেছিলো তারা, নাকি তারা-যারা একটি পতনোন্মুখ পাহাড়ের কিনারায় তা স্থাপন করেছিলো, যা তাদের সাথে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পড়ে গিয়েছিল?” ইসলামী আইন অথবা সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক ইসলামী অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে কিছু অনন্য ইসলামী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো একটি ইসলামী সমাজ বা রাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। ইতিহাসের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোই বিলুপ্ত বা প্রান্তিক হয়ে পড়ে। আধুনিককালের সকল সমাজকে একই পথ অনুসরণের ধারণার কারণে ইসলামী ঐতিহ্যগুলো শুধুমাত্র ঐতিহাসিক মূল্য রাখে, বর্তমানের জন্য সেগুলো ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়। ইসলামী বিশ্বে ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলোর আত্মশক্তি পুনরুদ্ধার এবং তাদের পুনরুজ্জীবিত - [এক নজরে আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমানের চিন্তা-দর্শন](https://rowyakbd.com/allama-taha-abdur-rahmans-philosophy-at-a-glance/): পৃথিবীর অতীত ইতিহাসে নজর বুলালে সুগভীর পর্যবেক্ষণ বা তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ ব্যতীতই স্বাভাবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলেও এটাই প্রতীয়মান হয়ে উঠে যে, একটি সভ্যতা তার ধারক-বাহকদের দ্বারা পরিচালিত হবার পূর্বে উক্ত সভ্যতার উত্থান ও বিকাশ হয় হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন চিন্তাশীল-দার্শনিকের হাতে। আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান তেমনি একজন সুমহান ব্যক্তিত্ব, এ-যুগের ইমাম গাজালী। যার হাত ধরে গড়ে উঠেছে আগামীর বিশ্ব দর্শন। যার ক্ষুরধার লেখনীতে পর্যদুস্ত একালের পাশ্চাত্য সভ্যতার দার্শনিক ভিত্তিসমূহ। গ্রীক থেকে শুরু করে তথাকথিত মধ্যযুগ পেরিয়ে হাল আমলের আধুনিক সব আখলাকবিহীন দর্শনগুলোকে একের পর এক খণ্ডন করে গেছেন তিনি। বিপরীতে উপস্থাপন করে গেছেন আখলাক-সম্পন্ন, আদালাত-সমৃদ্ধ ও মারহামাতপূর্ণ যুগোপযোগী সব বিশ্ব দর্শন। - [ইসলাম; আকাঙ্ক্ষিত সভ্যতার মূর্ত প্রতীক](https://rowyakbd.com/islam-the-embodiment-of-desired-civilization/): বর্তমানে মানবতার এমন একটি নতুন সভ্যতা খুব বেশি প্রয়োজন, যে সভ্যতার পাশ্চ্যত্য সভ্যতার থেকে ভিন্ন দর্শন এবং বার্তা রয়েছে। পাশ্চ্যত্য সভ্যতার বলতে আমরা এ সভ্যতার কমিউনিস্ট এবং বস্তুবাদী দিক উভয়টিকেই বুঝাচ্ছি। উভয়টিই কোরআন, তাওরাত এবং যাবুরে বর্ণিত সেই অভিশপ্ত গাছের দুটি শাখা। আর গাছটি হলো বস্তুবাদ। মানবতার এমন একটি সভ্যতা প্রয়োজন, যে সভ্যতা আল্লাহ, কোরআন, হাশর, মিজানে বিশ্বাসী; সেইসাথে মানুষের মহৎ মূল্যবোধে বিশ্বাসী। যা ছাড়া মানুষ তার মানবিকতাবোধ হারায় এবং জীবনের অর্থ হারিয়ে ফেলে। মানবতার এমন একটি সভ্যতা প্রয়োজন, যে সভ্যতা ধর্ম, বিজ্ঞান, বিশ্বাস, আকল, চেতনাসহ মানুষের আকাঙ্ক্ষিত সবকিছুকে বেষ্টন করে রাখে। এ সভ্যতা যেমন পরকালে মানুষের জান্নাত প্রাপ্তির পথকে - [একটি বাস্তব নাকবা নির্মাণ; ফারহা](https://rowyakbd.com/construction-of-a-real-naqba-farha/): ২০২১ সালে লাইট অব দ্য ওয়ার্ল্ড ফটোগ্রাফির মঞ্চোকাপানো সেই এক জোড়া পেঙ্গুইন মেলবোর্নের কোনো ভিন্ন দুটি দ্বীপে দীর্ঘদিন একলা বিচ্ছিন্ন দাঁড়িয়ে ছিল কম হলেও ছ’মাস। এ- দীর্ঘসময়ে ওই দুটি প্রাণ-ই কখনো হয়তো রোদে পুড়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে; নিশ্চয়ই নির্ভিক অথবা বিমর্ষচিত্তে ওদের বিরহের ক্ষতটা নিয়েই ঠাই দাঁড়িয়েছিল! তবে চিরন্তন হলো- প্রিয়জন হারানোয় কিংবা বিচ্ছেদের বেদনায় ক্ষতবিক্ষত প্রাণদুটি যখন মাসের পর মাস ওদের ভাঙা হৃদয়খানা উজাড় করে সমূদ্র পানে চেয়ে ছিল নিষ্পলক, তখনও ওরা লোকচক্ষুর ঢের আড়ালেই! কোন এক ভর পূর্ণিমায় যখন একত্রিত হলো পেঙ্গুইন দুটি, অর্থাৎ ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফিটা ঠিক যে সময়ের, যেন তখন থেকেই আলোচনায় পাখি দুটির বিচ্ছেদ ও পুণর্মিলন। - [রাজনৈতিক সংকটে উপজাতি](https://rowyakbd.com/ethnic-people-in-the-political-crisis/): ব্রিটিশ শাসনামলে আদমশুমারির আরম্ভ ১৮৭১ সাল থেকে। আদমশুমারির রিপোর্টে কেবল উপমহাদেশের লোকজনের হিসাবই থাকত না, থাকত এই উপমহাদেশের মানুষ সম্বন্ধে বহু তথ্য। যাদের আমরা সাধারণভাবে উল্লেখ করি ‘উপজাতি’ হিসেবে, তাদের আদমশুমারির রিপোর্টে প্রথম দিকে উল্লেখ করা হতো অ্যানিমিস্ট (Animist) বা ‘আত্মা-উপাসক’ হিসেবে। পরে ১৯৩১ সালের আদমশুমারির রিপোর্টে যাদের একসময় বলা হতো অ্যানিমিস্ট বা আত্মপূজারী তাদের উল্লেখ করা হয় ট্রাইব (Tribe) হিসেবে। (Kingsley Davis; The Population of India and Pakistan, Prenceton University Press. 1951)। ‘ট্রাইব’ কথাটার বাংলা করা হয় উপজাতি। ‘উপজাতি’ বলতে বোঝানো হয় এমন জনগোষ্ঠীকে, যারা বাস করে প্রধানত অরণ্যে, যাদের জীবনধারা হয়ে আছে আদিম যুগের মতো। এরা অনেকে হলো - [পাশ্চাত্য সভ্যতার আদর্শিক ভিত্তি, বৈশিষ্ট্য এবং বিশেষত্ব](https://rowyakbd.com/the-ideological-foundations-characteristics-and-peculiarities-of-western-civilization/): পাশ্চাত্য সভ্যতার আদর্শিক ভিত্তি পাশ্চাত্য সভ্যতার মূল ভিত্তি বা উৎস সম্পর্কে জানতে হলে গ্রিক ও রোমানদের সময়ে ফিরে যেতে হবে। কারণ পাশ্চাত্য সভ্যতার উৎস যা থেকে এ সভ্যতা তার নীতিমালাসমূহ আহরণ করে, তা জানতে না পারলে আমরা এ সভ্যতা সম্পর্কে সমালোচনামূলকভাবে জানতে সক্ষম হবো না। সেইসাথে পাশ্চাত্য মতাদর্শের উপাদান ও বিশেষত্বগুলোও আমাদেরকে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে হবে। পাশ্চাত্য মতাদর্শ মূলত ‘তাত্ত্বিক মতাদর্শ’, যা ইউরোপ এবং আমেরিকার সমসাময়িক পশ্চিমাদের মধ্যে বিরাজমান। এ মতাদর্শ বলতে আমরা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণভিত্তিক ‘বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ’কে বুঝাই না; বরং আমরা সেই দার্শনিক মতাদর্শের কথা বলছি, যা ধর্ম ও জীবন, দুনিয়া ও মানুষ, জ্ঞান ও মূল্যবোধের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি - [ইতিহাসের ধারায় আরাকান](https://rowyakbd.com/arakan-in-the-history/): যে দেশটাকে আমরা এখনো বাংলায় সাধারণভাবে ডাকি আরাকান (বর্তমান নাম রাখাইন) তাকে ফারসিতে বলা হতো AviLO। আবুল ফজল তার আইন–ই–আকবরীতে আরাকান সম্পর্কে লিখেছেন : সুবে বাঙ্গালাহ–ও দক্ষিণ–পূর্বে হলো AviLO রাজ্য। এই রাজ্যে অনেক হাতি পাওয়া যায়। কিন্তু অশ্ব খুবই মহার্ঘ। গাধা ও উট এখানে চড়া দামে বিক্রি হয়। এই রাজ্যে গরু ও মহিষ দেখা যায় না। এখানে মানুষ গাভি জাতীয় একপ্রকার প্রাণীর দুধ পান করে। এই দেশে মানুষ না হিন্দু, না মুসলমান। যমজ ভাতা ভগ্নীর মধ্যে এই দেশে বিবাহ প্রচলিত আছে। মাতা–পুত্র ব্যতীত আর সবার মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হতে পারে। এই দেশে লোকে তাদের পুরোহিতের (ওয়ালির) সম্পূর্ণ আজ্ঞাবহ। এখানে রাজপ্রাসাদে - [পাশ্চাত্য চিন্তার ভিত্তি ও তার সমালোচনা](https://rowyakbd.com/the-foundations-of-western-thought-n-its-vanity/): মানুষ তার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই নিজের অস্তিত্ব, চারপাশের পরিবেশ এবং প্রকৃতিকে জানার চেষ্টা করেছে। আর এ বিষয়টি মানুষের স্বভাবতাড়িত। সে অপর জনগোষ্ঠীর আচরণকে জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছে। তবে এই বোঝাপড়ার প্রক্রিয়াটা সবসময় নিষ্কলুষ কিংবা নিষ্পাপ ছিলো না। যার কারণে এ জানাশোনার সূত্রেই বিভিন্ন চিন্তার বিনির্মাণ ও উৎপত্তি ঘটেছে। চিন্তাগত দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান দুনিয়া দুটি ভাগে বিভক্ত; আর তা হলো- প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য। তবে এই আলোচনায় মূল বিষয়বস্তু হলো ‘পাশ্চাত্য ও তার চিন্তার ভিত্তি’। আধুনিক যুগে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় রকমের প্রতিবন্ধকতা হলো পাশ্চাত্য চিন্তাধারা। যা আমাদের অস্তিত্ব এবং চিন্তার মাঝে এমনভাবে মিশে গিয়েছে যে, যার দরুন আমাদের দ্বীন, - [উপমহাদেশে ভাষা নিয়ে দ্বন্দ্ব-সংঘাত](https://rowyakbd.com/the-conflict-of-language-in-the-subcontinent/): মানুষ কথা বলা প্রাণী। মানুষ তার বাগ্‌যন্ত্র দিয়ে অনেক রকম শব্দ করতে পারে। সে সামাজিকভাবে স্বীকৃত অর্থপূর্ণ শব্দের মাধ্যমে বাক্য গঠন করে মনোভাব প্রকাশ করে। ভাষা রচনা করে সামাজিক বন্ধন। সৃষ্টি করে জাতীয় ভাব। ভাষাকে নির্ভর করেই গড়ে উঠতে চায় জাতিসত্তা। বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। কেননা, এক জাতি চাপিয়ে দিতে চাইতে পারে, অন্য জাতির ওপর তাদের ভাষাকে। আর অন্য জাতি চাইতে পারে, এই চাপিয়ে দেয়ার বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। এই উপমহাদেশের ইতিহাসে এর একাধিক নজির আছে। ব্রিটিশ ভাষাতাত্ত্বিক জর্জ গ্রিয়ার্সনের বিখ্যাত ভাষা জরিপ (Linguistic Survey of India, 1903-1928) থেকে দেখা যায়, ব্রিটিশ ভারতে তখন ভাষার সংখ্যা ছিল - [উচ্চশিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানাগুলোর রূপান্তর করবে কে?](https://rowyakbd.com/who-will-transform-the-factories-of-highly-educated-unemployed-people/): শিক্ষার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সম্পর্কহীনতার সমস্যা শুধু মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং প্রকটভাবে উপস্থিত আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিষয়ে পড়া স্নাতকদের বেলাতেও। চাকরির বাজারে এসব বিষয়ের অনেকাংশে এখন চাহিদা নেই। সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপমতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শতাংশ স্নাতক বেকার। কী দেশ, কী শিক্ষাব্যবস্থা—অর্ধেকই বেকার! বিআইডিএস জরিপে উঠে আসে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪২ থেকে ৪৮ শতাংশই বেকার অবস্থায় রয়েছেন। অন্য জরিপে দেখা গেছে, তাঁরা শিক্ষা সমাপ্তির পরে প্রায় তিন-চার বছর বেকার থাকেন। বেকার অবস্থায় থাকা তরুণর মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি বিএ পাস করেছিলেন। ২৩ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে - [রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ইসলামের ভূমিকা](https://rowyakbd.com/influence-of-islam-on-state-and-politics/): ইসলামে রাষ্ট্রের অবস্থান ইমাম হাসান আল বান্না ইসলামের ব্যাপকতা বর্ণনায় সর্বপ্রথম রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- “যেমনিভাবে ইসলাম আকিদা ও ইবাদত, তেমনিভাবে ইসলাম হচ্ছে রাষ্ট্র ও ভূখণ্ড।” এই বাস্তবতাটির ঘোষণা এবং এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ ইসলামের প্রথম যুগের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ইমাম বান্না তাঁর প্রত্যেকটি প্রবন্ধ ও আলোচনায় রাষ্ট্র ও ভূখণ্ডের ওপর গুরুত্ব দিতেন। আর এই গুরুত্ব দেওয়ার কারণ আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। মুসলিমদের ভূখণ্ড জবরদখলকারী ঔপনিবেশিকরা অনেক মুসলিমের চিন্তায় এই বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে যে- ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম; রাষ্ট্র বা রাজনীতির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই’। তাদের চিন্তায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে- ‘ধর্ম মানেই পশ্চিমা চিন্তাধারার ধর্ম। রাষ্ট্রীয় কাজের - [বেকারদের জন্য নতুন চাকরি তৈরির দায়িত্ব কার?](https://rowyakbd.com/who-is-responsible-for-creating-new-job-sectors/): চাকরির বাজারে হাহাকার চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালকের ১৫ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭২ হাজার ৪৫ জন। ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১৩ লাখ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ৮১টি পদের বিপরীতে আবেদন ছিল প্রায় ৩ লাখ। বেকারত্বের এমন বিপর্যয়কারী পরিস্থিতি নিয়ে সরকার দৃশ্যত নির্বিকার। দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির বিজ্ঞাপনের সাইট বিডিজবস-এর তথ্যমতে, তৈরি পোশাক খাতের কর্মসংস্থানে আগস্ট ২০২২-এর পর নেতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে; কমছে চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ এবং বিজ্ঞাপন দানকারী কোম্পানির সংখ্যাও। ২০২২ সালের শেষ চার মাসে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় চাকরির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ ও শূন্য পদ কমেছে - [লিবারেলিজম ও লিবারেলিস্টদের ওয়াদাকৃত জান্নাত](https://rowyakbd.com/liberalism-and-the-promised-paradise-of-liberals/): মানবতাকে দীর্ঘ বারোশত বছর আদালত ও মারহামাতের সুশীতল ছায়া দানকারী এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের সর্বোচ্চ বিকাশ সাধনকারী ইসলামী সভ্যতার পতনের পরে মানবতাকে জাহেলিয়াত ও জুলুমের নিগূঢ় আধাঁরে নিপতিতকারী বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার যে আধুনিক শোষণ চলছে, এ শোষণকে বুঝার জন্য লিবারেলিজম কী, লিবারেলিস্টদের ওয়াদা কী, তারা বিশ্বকে মূলত কী দিতে চায়, তাদের তাকলীফ তথা প্রস্তাবনা কী- এ বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝা জরুরী। লিবারেলিজম বিগত প্রায় তিন শতাব্দীব্যাপী প্রভাবশালী ও বিজয়ী একটি চিন্তা। আমরা বর্তমানে কেমন দুনিয়ায় বসবাস করছি, এ দুনিয়ায় কোন কোন চিন্তাধারা প্রভাবশালী, তা যদি আমরা বুঝতে না পারি, তাহলে আমাদের পক্ষে ইসলামের আহ্বান, ইসলামের আদালত, ইসলাম কর্তৃক মানুষকে দেওয়া মর্যাদার - [রাজনীতি প্রসঙ্গে ইসলাম](https://rowyakbd.com/islam-about-politics/): ইসলামের ব্যাপকতাকে ধূলির আস্তরণ সরিয়ে মানুষের সামনে পুনরায় উদ্ভাসিত করতে ইমাম হাসান আল বান্নাকে অবিশ্রান্ত সংগ্রাম করতে হয়েছে। তেরো শত বছর ধরে ইসলাম যা ছিল- সেদিকে মুসলিমদের আবার ফিরিয়ে আনতে তিনি সর্বাত্মক পরিশ্রম করেছেন। ইসলামী আইন ও পথনির্দেশ সমগ্র মানবজীবনকে শামিল করে। শুধু জন্ম থেকে মৃত্যু নয়; জন্মের পূর্বের এবং মৃত্যু পরবর্তী বিষয়ও ইসলামী আইনের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- ইসলামে ভ্রূণ সংক্রান্ত কিছু বিধানও রয়েছে। এমনকি মানুষ মারা যাওয়ার পরও বেশ কিছু বিধান রয়েছে। ইসলাম মুসলিমদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের সকল বিষয়ে পথনির্দেশনা দেয়। শৌচকর্মের শিষ্টাচার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা যুদ্ধ, সন্ধি- সবক্ষেত্রেই ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে। ইমাম হাসান - [মুসলিম দার্শনিকদের দৃষ্টিতে ইতিহাস](https://rowyakbd.com/history-from-the-pov-of-muslim-philosophers/): মহাগ্রন্থ আল-কোরআন যে সকল মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, ইতিহাস তার মধ্যে অন্যতম। এই অর্থে কোরআনের মৌলিক বিষয় সমূহের একটি হল ‘ইতিহাস’।মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ইতিহাসের কোন বই না হওয়া সত্ত্বেও এর দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ শুরু থেকেই ইতিহাসের ব্যাপারে জোর দিয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রে মুসলিমগণ ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসকে পাঠ করেছেন ও বিশ্লেষণ করেছেন। আর সেটা হল, তারা ইতিহাসকে দেখেছেন ‘ইবরাত’ হিসেবে।এই কারণে মুসলিম চিন্তাবিদগণ ‘তারিখ (ইতিহাস)’ ও ‘ইবরাত’ নামক পরিভাষাদ্বয় একত্রে ব্যবহার করেছেন।যেমন ইবনে খালদুন তাঁর লেখা ইতিহাস গ্রন্থের নাম দিয়েছেন, ‘ কিতাবুল ইবার’ তথা ইবরাতের গ্রন্থ। কেননা, ইবরাত (عبرة) হল; মহাবিশ্ব নিয়ে এবং - [মক্কা বিজয়; হাল আমলের প্রেক্ষিতে রাসূলের (সা.) বিজয়ী ভাষণের গুরুত্ব](https://rowyakbd.com/the-conquest-of-mecca-the-importance-of-the-prophets-victory-speech-in-the-context-of-modern-times/): ০১. সারাটা জীবন রাসূলের সীরাত পড়ার পরেও আমরা রাসূল (সা.)-কে কতটুকু চিনতে পেরেছি, সেটা বিরাট একটা প্রশ্ন আমাদের সামনে। বেশ আলোচনা, পর্যালোচনা ও বিবেচনার বিষয়ও বটে। তারচেয়েও বড় কথা, রাসূলের জীবনীকে আমরা কেনো যেনো সেই ১৪০০ বছর পূর্বের ঘটনাবলি হিসেবে বিবেচনা করেই ক্ষান্ত হই। দুঃখের বিষয় হলো, রাসূলের সীরাত বর্তমান সময়ের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত আর সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়টা নিয়ে আমাদের মাঝে কোনোপ্রকার আলাপ হয় না বললেই চলে। আমাদের দেশের একটা রূঢ় বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশের অধিকাংশই রাসূলের সীরাত পড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে। তাই, রাসূলের সীরাতটা পড়া থাকলেও রাসূলের জীবনকে সেই সময়ের আলোকেই বুঝি আমরা; বর্তমানের সাথে খুব একটা সম্পৃক্ত - [ইমাম রশিদ রিদার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের মাকাসিদ](https://rowyakbd.com/the-maqasid-of-the-quran-in-the-view-of-imam-rashid-rida/): প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম রশিদ রিদার দৃষ্টিতে আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহঃ ১। কোরআনের সবচেয়ে বড় মাকসাদ হল, দ্বীনী ক্ষেত্রে ইসলাহ (সংশোধন)। আর এই বিষয়টি তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে করে থাকে। ক) আল্লাহর প্রতি ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে। খ) আখিরাতে পুনরুত্থান ও সেখানের শাস্তি ও পুরস্কারের চিন্তাকে জাগ্রত করার দৃষ্টিকোণ থেকে। গ) আমলে সালেহর দৃষ্টিকোণ থেকে। অর্থাৎ প্রথম মাকসাদ হল দ্বীনের বিষয়ে আমাদের মনে সঠিক একটি দৃষ্টিভঙ্গিকে গ্রোথিত করে দেওয়া। ২। নবুয়তের বিষয়কে তুলে ধরার পাশাপাশি নবীদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করে দেওয়া। কেননা এই বিষয়টি ওহীর জ্ঞান ব্যতীত মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ৩। দ্বীন ইসলাম যে ফিতরাত, আকল, চিন্তা, জ্ঞান, হিকমত, দলীল, - [ইসলামে পর্দার দর্শন](https://rowyakbd.com/the-philosophy-of-veil-in-islam/): সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যই পর্দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ তাঁর জাগতিক ও আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে নিয়ে তাঁর শরীর আবৃত করে রাখার বিষয়টিকে মৌলিক একটি ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ কারণে কিছু কিছু আদিম উপজাতি ছাড়া সমগ্র ইতিহাসকাল ধরে, সকল সংস্কৃতিতে, সকল সভ্যতায় এবং সকল আখলাকী ব্যবস্থায় মানুষের জন্য মূল বিষয় হল নিজেকে আবৃত করে রাখা। মানুষ, তাঁর শরীরকে আবহওয়ার বিরূপ প্রভাব থেকে কিংবা ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করার জন্যই নয় একই সাথে আধ্যাত্মিক একটি মূল্যবোধকে সামনে রেখে নিজেকে আবৃত করে থাকে। সমগ্র ইতিহাসকাল ধরে মানবসভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ পোশাক পরিচ্ছদের দিকে আরও - [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন](https://rowyakbd.com/rabindranath-thakur-education-philosophy/): রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষা নিয়ে অনেক ভেবেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বয়স যখন ৩১ বছর, তখন তিনি ‘শিক্ষার হেরফের’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। যাতে তিনি বলেন, “বাল্যকাল হইতে যদি ভাষাশিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে ভাবশিক্ষা হয় এবং ভাবের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত জীবনযাত্রা নিয়মিত হইতে থাকে, তবেই আমাদের সমস্ত জীবনের মধ্যে একটা যথার্থ সামঞ্জস্য হইতে পারে- আমরা বেশ সহজ মানুষের মতো হইতে পারি এবং সকল বিষয়ের একটা যথাযথ পরিমাণ ধরিতে পারি।” তিনি তার এই প্রবন্ধে কিছু আগে আরও বলেন যে, “চিন্তাশক্তি এবং কল্পনাশক্তি জীবনযাত্রা-নির্বাহের পক্ষে দুইটি অত্যাবশ্যক শক্তি তাহাতে আর সন্দেহ নাই। অর্থাৎ যদি মানুষের মতো মানুষ হইতে হয় তবে ওই দুটো পদার্থ জীবন হইতে বাদ - [আমাদের দেশ ও সার্বভৌমত্ব ভাবনা](https://rowyakbd.com/thinking-of-our-country-and-sovereignty/): ক’দিন আগে পত্রিকার একটি খবর চোখে পড়ে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা: আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেছেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। কারণ তাদের বিচার না হলে বাংলাদেশ পাকিস্তানে রূপান্তরিত হবে। তিনি আরো বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার্থে বিএনপি ও জামায়াতের কার্যক্রম শহীদদের অবমাননার শামিল। হীন এই কার্যক্রমের জন্য এদের নেতা ও কর্মীদের শাস্তি দেয়া উচিত। ১৯৭১ সালে আমি দেশে ছিলাম না। ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে আমি চলে যাই কলকাতায়। আর সেখানেই কাটে ১৯৭১ সাল। কলকাতা থেকে দেশে ফিরেছিলাম ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। দেশের বহু ঘটনাই কলকাতায় বসে যথাযথভাবে অবহিত হতে পারিনি। অনেক ঘটনার কথা জেনেছি কলকাতা থেকে দেশে ফেরার - [সাংস্কৃতিক দাসত্ব রাজনৈতিক দাসত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়](https://rowyakbd.com/cultural-slavery-is-not-apart-from-politacal-slavery/): এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের ঈমান এবং মানুষ হিসেবে আমাদের অনন্য পরিচিতির দিক থেকে বিদেশী রাজনৈতিক শাসনের চাইতে সাংস্কৃতিক অধীনতা অনেক বেশী ক্ষতিকর। তবে বাস্তবে সাংস্কৃতিক দাসত্ব রাজনৈতিক দাসত্বের সঙ্গে শুধুমাত্র সম্পৃক্তই নয় বরং সকল ইচ্ছা ও কাজে তা অবিভাজ্য। প্রায় ৬শ বছর আগে কৃতি মুসলমান ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন তার মুকাদ্দিমায় এই সত্য স্বীকার করেছেনঃ “বিজিতরা সব সময় বিজয়ীদের পোশাক, প্রতীক, বিশ্বাস এবং অন্যান্য আচার প্রথা অনুকরণ করতে চেষ্টা করে। এর কারণ হচ্ছে মানুষ সব সময় বিজয়ীদের কাছে প্রিয় পাত্র হতে আগ্রহী হয়। এটা দুই কারণে হয় প্রথমতঃ বিজয়ীদের প্রতি শ্রদ্ধা, দ্বিতীয়তঃ বিজয়ীদের মত যোগ্যতার অধিকারী হলে তাদের পরাজয় - [বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান](https://rowyakbd.com/short-medium-and-long-term-solutions-to-the-electricity-crisis/): চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবন, কর্মসংস্থান ও সার্বিক অর্থনীতিতে বিপর্যয় তৈরি করেছে। সরকার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে খরুচে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি কমিয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ৩৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল, ৩৬টি কেন্দ্র সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা হয় এবং ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে ছিল। রাতের পিক-আওয়ারে লোডশেডিং থাকছে প্রায় পৌনে ২ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সরকারের উদ্যোগ হচ্ছে, রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নির্ভর প্রাথমিক জ্বালানি কম কিনে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে পরিকল্পিত লোডশেডিং করা এবং নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো। কিন্তু ‘ডলার ড্রেইনের’ প্রধানতম খাতগুলো খোলা রেখে এমন চেষ্টা কি আদৌ টেকসই? ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ - [আমাদের জাতিসত্তার স্বরূপ](https://rowyakbd.com/the-nature-of-our-nationhood/): বাংলাদেশ একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ। এ দেশের মানুষের জাতিসত্তার একটি উপাদান হলো ভাষা। আর একটি উপাদান হলো ইসলামের স্বাতন্ত্র্য। ২০১২ সালে প্রকাশ হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। এতে তিনি বলেছেন, বাংলাভাষী মুসলমানের জাতিসত্তার উপাদান দু’টি। একটি হলো বাংলা ভাষা আর একটি হলো ইসলামের স্বাতন্ত্র্য চেতনা। আওয়ামী লীগের জয় বাংলা আওয়াজের সাথে শেখ মুজিবের এই ধারণা মনে হচ্ছে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এই বাংলা আসলে কোন বাংলা; আর বাঙালি বলতেই বা ঠিক কাদের বুঝতে হবে। কেননা বাংলাভাষী মানুষের প্রায় ৬০ শতাংশ বাস করেন বাংলাদেশে আর ৪০ শতাংশ বাস করেন ভারতে। এর মূলে আছে ইসলামের স্বাতন্ত্র্য। ১৯৪৭ সালে বাংলা প্রদেশ ভাগ হয়েছিল মুসলিম - [মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদের পর্যালোচনা](https://rowyakbd.com/discussion-of-intellectual-doctrine/): পূর্ণ মানব (আদর্শ মানব) কে, তা জানা একটি অপরিহার্য বিষয়। ব্যক্তির প্রশিক্ষণ ও চরিত্র গঠনের জন্য প্রতিটি মতাদর্শেই আদর্শ মানবের দিকে দৃষ্টি দেয়া হয়। যেহেতু আমরা ইসলামের পূর্ণ ও আদর্শ মানবের প্রতিকৃতি ও স্বরূপ জানতে চাই, সেহেতু প্রচলিত অন্য সব মতবাদের আদর্শ মানবের প্রকৃতির পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরব। গত দিনের আলোচনায় বিভিন্ন মতবাদ সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করেছি। আজকে আমাদের আলোচনা বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদ দিয়ে শুরু করব।   বুদ্ধিবৃত্তিক মতবাদের সার–সংক্ষেপ প্রাচীন দার্শনিক ভাবনায় মানুষের অস্তিত্বের মূল বিষয় ছিল তার বুদ্ধিবৃত্তি। তাদের মতে, মানুষের আমিত্ব হলো তার বুদ্ধিবৃত্তি বা আকল। যেমনভাবে মানবদেহ তার ব্যক্তিত্বের অংশ নয় তেমনিভাবে তার আত্মিক - [বাংলাদেশের সমুদ্র আইন ও সমসাময়িক ভাবনা](https://rowyakbd.com/maritime-law-of-bangladesh-and-contemporary-thought/): আন্তর্জাতিক আইনের জনক হিউগো গ্রোশিয়াস (১৫৮৩-১৬৪৫) জন্মেছিলেন হল্যান্ডে। তিনিই প্রথম সমুদ্র সম্পর্কে আইন করার প্রস্তাব রাখেন। গ্রোশিয়াস মনে করতেন, মানুষের আইন হতে হবে প্রাকৃতিক নিয়মের সাথে সংগতি রেখে। মানুষ বাস করে স্থলে। মানুষ জলচর প্রাণী নয়। সমুদ্র তাই কোনো বিশেষ জাতির অধিকারের ব্যাপার হতে পারে না। সমুদ্রে থাকতে হবে সব জাতির জাহাজ চলাচলের সমান অধিকার। কিন্তু একটা দেশের কাছে অবস্থিত সমুদ্রে কিছু দূর পর্যন্ত থাকা উচিত সে দেশের কর্তৃত্ব। কারণ তা না থাকলে সমুদ্রতীরবর্তী দেশটির নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে। প্রত্যেকটি জাতি চায় তার নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা চাওয়া হলো মানুষের স্বাভাবিক প্রকৃতি। যেকোনো আইনে তাই একে নিতে হবে বিশেষ বিবেচনায়। গ্রোশিয়াসের - [ইসলামের দৃষ্টিতে ইনসানে কামেল](https://rowyakbd.com/insan-al-kamil-from-the-point-of-view-of-islam/): و إذ ابتلى إبراهيم ربه بكلمات فأتمهن قال إني جاعلك للناس إماماً قال و من ذريتي قال لا ينال عهدي الظالمين আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ইসলামের দৃষ্টিতে ইনসানে কামেল বা পূর্ণ মানব। ইনসানে কামেল অর্থ আদর্শ মানুষ, সর্বোত্তম মানুষ বা সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। অন্যান্য বস্তু বা জিনিসের মত মানুষেরও পূর্ণতা ও অপূর্ণতা রয়েছে, এমনকি ত্রুটিযুক্ত ও ত্রুটিহীন হওয়ার বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। ত্রুটিমুক্ত মানুষ আবার দু’ধরনের পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত মানুষ এবং অপূর্ণ ত্রুটিমুক্ত মানুষ। পূর্ণ বা আদর্শ মানুষকে চেনা ইসলামের দৃষ্টিতে আমাদের প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। অর্থাৎ যদি আমরা পূর্ণ মুসলমান হতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের জানতে হবে পূর্ণ মানবের রুপ কী। যেহেতু ইসলাম চায় - [সেলজুকী সালতানাতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস](https://rowyakbd.com/a-brief-history-of-seljuki-sultanate/): তুর্কীদের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ : মাওয়ারাউন নামক নদীর দেশে অবস্থিত আজকের তুর্কিস্তান নামক অঞ্চল এবং মঙ্গোলিয়া থেকে উত্তর চীন পর্যন্ত এবং পশ্চিম থেকে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, উত্তর সার্বিয়া থেকে নিয়ে দক্ষিণ ভারত এবং ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল এলাকা জুড়ে ওউজ (Oğuz) নামক বিভিন্ন গোত্র বসবাস করত যারা তুর্ক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এই গোত্রসমূহ খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে তাদের আসল বাসভূমি ছেড়ে অভিবাসিত হয়ে ছোট এশিয়াতে (Anatoliya) তে চলে আসতে শুরু করে। তারা কেন সেখান থেকে অভিবাসিত হয়ে চলে এসেছিল এ ব্যাপারে ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন মূলত অর্থনৈতিক কারণেই তারা চলে এসেছিল।অব্যাহত ভাবে দুর্ভিক্ষ - [বিশ্ব-সভ্যতায় ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ (সা)](https://rowyakbd.com/islam-and-rasulallahsaw-in-world-civilization/): বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা ও বিস্তৃতি ইসলাম ও মানব সভ্যতা-সংস্কৃতি একটি জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত বিষয়- যার সম্পর্ক কেবল মুহাম্মদ (সা)-এর নবুয়ত এবং ইসলামের পয়গাম ও শিক্ষার সাথেই নয় বরং জীবনের বাস্তবতা, মানবতার বর্তমান ও ভবিষ্যত এবং সভ্যতা- সংস্কৃতির পুনর্গঠন ও দিকনির্দশনার ক্ষেত্রে মুসলিম উম্মাহর ঐতিহাসিক ভূমিকার সাথেও রয়েছে। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই মূলত একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে সম্মিলিত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার দাবিদার। কারণ, এ বিষয়টি তার বিষয়বস্তুর ব্যাপকতার দিক থেকে বিশ্বজনীন ও মানবীয় বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং তা নিজের ভিতরে গভীরতা ও ব্যাপকতা, ব্যাপক প্রশস্ততা ও বিস্তৃত পরিসর ধারণ করে রেখেছে। তার সময়কাল হলো প্রথম ইসলামি শতাব্দী থেকে শুরু করে আমাদের বর্তমান শতাব্দী পর্যন্ত। আর - [মানবতাবাদের বাস্তব রূপায়ণের প্রয়াস](https://rowyakbd.com/an-attempt-to-realize-humanism/): হযরত রসূলে আকরাম (সাঃ) এর প্রিয়তম সাহাবী হযরত আবু যর গিফারীর (রাঃ) জীবনী সম্বন্ধে বাংলা ভাষায় ইতিপূর্বে দু’খানা পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে। এ দু’টি পুস্তকে জীবনদর্শন সম্বন্ধে মাঝে মাঝে আলোচনা থাকলেও বিশ্বস্তভাবে কোন আলোচনা হয়নি। বর্তমানে বাংলা ভাষায় আবু যর গিফারী (রাঃ) অপরিচিত নাম না হলেও তাঁর জীবনদর্শনের সঙ্গে বাংলা ভাষাভাষী পাঠক-পাঠিকার সম্যক পরিচয় নেই। যে জীবনদর্শনের আলোকে তিনি তৃতীয় খলীফা হযরত উসমানকে আমীর মুয়াবিয়া (রাঃ), আমীর আমর বিন আস্ (রাঃ) ও মারওয়ানের কবল থেকে উদ্ধার করে সত্যিকারের ইসলামী শাসনব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা বর্তমানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়; কেননা বর্তমানে ইসলামের নামে অনেক কিছুই প্রবর্তিত হচ্ছে। কুরআন-উল-কারীমে আল্লাহকে ধারণা করা হয়েছে - [হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার দর্পণে ইসলামী শরীয়ত ও আল ইরতিফাকাত](https://rowyakbd.com/islamic-shariah-and-al-irtifaqat-in-the-mirror-of-hujjatullahil-baliga/): হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার বৈশিষ্ট্য শাহ সাহেবের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ ও জ্ঞানগত কৃতিত্ব ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’। যার মধ্যে ইসলামী শরীয়তের এমন এক মজবুত, সামগ্রিক ও প্রামাণ্য চিত্র পেশ করা হয়েছে, যেখানে আকীদা-বিশ্বাস, ইবাদত-বন্দেগী, লেনদেন, আচার-অনুষ্ঠান, আখলাক-চরিত্র, সামাজিকতা, সভ্যতা-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও ইহসান (অনুগ্রহ-দান) কে এমন এক যোগসূত্র ও সঠিক সামঞ্জস্যের সঙ্গে পেশ করা হয়েছে, মনে হয় যেন তা একই মালার মুক্তা ও একই শিকলের অসংখ্য কড়া। তাতে আসল ও শাখা-প্রশাখা, লক্ষ্য- উদ্দেশ্য ও উপায়-উপকরণ এবং সার্বক্ষণিক ও সাময়িকের পার্থক্য দৃষ্টির আড়াল হতে পারে না। এ তো সেসব রচনাবলি ও গবেষণাকর্মের পুরোনো দুর্বলতা, যা কোনও বাড়াবাড়ি ও অন্যায়, বে-ইনসাফী প্রত্যাখ্যান কিংবা কোনও আবেগ-আগ্রহ নিয়ে - [আনন্দের জোয়ার ঈদুল-ফিতর](https://rowyakbd.com/eid-ul-fitr-a-tide-of-joy/): রোজা ও ঈদ ঈদ অর্থ আনন্দ-উৎসব। ঈদুল-ফিতর অর্থ উপাস ভাংগার আনন্দ-উৎসব। এ উৎসবের আনন্দ যা-তা মামুলি আনন্দ নয়। এটা উল্লাস। যাকে বলে পুলকানন্দে ফাটিয়া পড়া। এ ঈদ আসে অনেক দিনের সাধনার পর। কি কঠোর কৃচ্ছ ও সংযম সাধনা তা। একটানা ত্রিশ দিনের নিরঙ্কু উপবাস। দিনে রোযা ও রাতে এবাদত। ইন্দিয়েরা সবাই শৃঙ্খলিত বন্দী। এক মাস পরে পায় তারা মুক্তি। কি পুলক সে মুক্তিতে। সেই মুক্তির আনন্দেই এই উল্লাস। যেন বাঁধ-ভাংগা স্রোত। সেই বেগ সেই তেজ। আনন্দ-উৎসবকে গলা-ফাটানো উল্লাসের উন্মত্ততায় উদযাপন করা যদি কখনো প্রয়োজন ও সংগত হয়, তবে তা এই দিনে। এই কারণেই এই উৎসবের এই নাম। এ নাম তাৎপর্যপূর্ণ। - [মুসলিম বাংলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আজকের ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ](https://rowyakbd.com/communal-harmony-in-muslim-bengal-and-todays-inclusive-bangladesh/): এক. গত জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই “ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ” পরিভাষাটা বেশ অনেকবারই সামনে এসেছে। আমাদের দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও যখন এদেশের জনসাধারণ এমন একটি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করে, এরপর আবার “স্বাধীন বাংলাদেশ ২.০” পরিভাষারও উৎপত্তি করে, তখন আসলেই উপলব্ধি হয় যে, এমন একটি গণঅভ্যুত্থান আমাদের জন্য কেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো! স্বাধীন বাংলাদেশ ২.০-এর শুরুতেই বাংলাদেশ কেমন হবে, তা নিয়ে প্রতিটি মতাদর্শ থেকেই আলোচনা আসতে থাকে। এমন সময়ই “ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ” পরিভাষাটা বারংবার শোনা যায়। সহজ ভাষায়, ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ হচ্ছে এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে না কোনো ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিগত ভেদাভেদ। সকল ধর্মের, সকল গোত্রের এবং সকল শ্রেণিপেশার মানুষই দেশের যেকোনো - [ইমাম শাফেয়ীর দৃষ্টিতে জ্ঞান অর্জনের পন্থা](https://rowyakbd.com/the-method-of-acquiring-knowledge-according-to-imam-shafii/): ইমাম শাফেয়ীর ভাষায়, أخي لن تنال العلم إلا بستة سأبينك عن تفصيلها ببيان ذكاء و حرص و اجتهاد و بلغة و صحبة أستاذ و طول زمان الإمام الشافعي (رحمة الله عليه) হে ভাই, ৬ টি বিষয় ছাড়া কক্ষনো জ্ঞানী হতে পারবে না। আমি তোমাকে এই সম্পর্কে অচিরেই বর্ণনা করে জানাব। সেগুলো হল: ১) الذكاء বা মেধা। ২) حرص বা প্রচন্ড আগ্রহ। ৩) اجتهاد বা চেষ্টা-প্রচেষ্টা। ৪) بلغة বা জীবন ধারণের জন্য যতটুকু সম্পদ থাকা প্রয়োজন, ততটুকু সম্পদ থাকা। ৫) صحبة أستاذ বা উস্তাদের সহবত। ৬) طول زمان বা দীর্ঘ সময়। ১) الذكاء: যে কোনো বিষয় দ্রুততার সাথে ধরতে পারার মতো - [সিনেমা; শুধুই কি বিনোদন?](https://rowyakbd.com/is-cinema-just-entertainment/): আচ্ছা, ধরুন তো, প্রতিদিনের মতোই কাকডাকা ভোরে—শহরে থাকেন হেতু—কিচিরমিচির মধুর তানের পরিবর্তে এলার্মের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো আপনার। প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিছানা ত্যাগ করলেন আপনি। ঘুমজড়ানো চোখে প্রভাতের স্নিগ্ধ কোমল বাতাসে দু’কদম হাঁটলেন কি হাঁটলেন না! প্রাতরাশ সাড়লেন চিরাচরিতভাবে। বিরক্তিভরা মন নিয়ে শরীরে কর্পোরেট পোশাক জড়ালেন। অফিস যাওয়ার পথে টানা দুই ঘণ্টা জ্যামে বসে ধুলাবালির স্বাদ নিলেন। বিরক্তিকর অসহ্য হর্নের কারণে কর্ণকুহরের উপর চললো নিদারুণ অত্যাচার। কর্মস্থলে গিয়ে শুনতে হলো প্রতিষ্ঠান প্রধানের তর্জন গর্জন আর উর্ধ্বতনের হম্বিতম্বি। কাজের চাপে দুপুর পেরিয়ে দিন গড়িয়ে কখন যে বিকেল হয়ে এলো, তার কোনো হদিস পেলেন না। ঘণ্টা বা বেলের আওয়াজে ঘোর কাটলো আপনার। বুঝলেন, - [আকালের সন্ধানে: ক্ষুধার পরম বন্ধু মৃণাল সেন](https://rowyakbd.com/in-search-of-famine-mrinal-sen/): “হেই সামালো ধান হো কাস্তেটা দাও শান হো জান কবুল আর মান কবুল আর দেবনা আর দেবনা রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো। পঞ্চাশে লাখ প্রাণ দিছি মা-বোনদের মান দিছি, কালোবাজার আলো কর তুমি মা। মোরা তুলবোনা ধান পরের গোলায় মরবোনা আর ক্ষুধার জ্বালায় মরবোনা, ধান জমিতে লাঙ্গল চালাই ঢের সয়েছি আর তো মোরা সইবোনা। এই লাঙ্গল ধরা কড়া হাতের শপথ ভুলবোনা।”   কিংবদন্তী সংগীত পরিচালক সলীল চৌধুরীর এই গান অবিভক্ত বাংলার তেভাগা আন্দোলন এর সময় কৃষকদের করেছিলো তুমুল উজ্জীবিত। এই গান বাঙালি কৃষকদের শ্রমকে পরিণত করেছিলো শক্তিতে। ‘আকালের সন্ধানে’ সিনেমাটি শুরুই হয় এই গান দিয়ে। পরবর্তীতে পুরো সিনেমা জুড়েই - [ইসলামে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ](https://rowyakbd.com/preservation-of-the-natural-environment-in-islam/): আমরা যদি পৃথিবীর এই অঞ্চলের তথা কাতারের জমিনের দিকে তাকাই, তবে এই জায়গাটি খুব শুষ্ক, নিষ্ফলা বলে মনে হবে, কিন্তু যদি আমরা এখান থেকে কয়েক মাইল দূরেই সাগরের তলদেশ লক্ষ্য করি তাহলে বিস্ময়করভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ বাস্তুতান্ত্রিক অঞ্চলটি দেখতে পাবো। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই অঞ্চলটি বিস্তৃত হয়েছে এখান থেকে হরমুজের বন্দর আব্বাস ও পারস্য উপসাগরের উত্তর পর্যন্ত, যেখান থেকে আমি এসেছি। আমি মনে করি ইসলাম এবং পরিবেশের সংরক্ষণ প্রশ্নে কথা বলার জন্য এটি একটি চমৎকার উপলক্ষ হতে পারে।   ১৯৬৬ সালে পরিবেশ সংকট নিয়ে আমিই সর্বপ্রথম কথা বলা শুরু করি। ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর প্রস্তাবিত একটি লেকচার সিরিজে আমি পরিবেশ সংকটের সম্ভাব্যতা - [ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) ও তাঁর চিন্তাধারা](https://rowyakbd.com/imam-ghazali-and-his-method-of-thought/): সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল গাজ্জালী সমগ্র দুনিয়াতে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ নামে অর্থাৎ ইসলামের নিশ্চিত দলীল নামে পরিচিত। তিনি ফিকহ, কালাম, দর্শন ও তাসাউফের মত বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারার সাথে সমালোচনামূলক একটি সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং এই সকল ধারায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছেন। তিনি ১০৫৬ সালে বর্তমানের দক্ষিনপূর্ব ইরানের তুস শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তুস, নিশাপুর, ইস্পাহান, বাগদাদ, শাম, হিজাজ ও কুদুস শহরে তিনি তার জীবনকাল অতিক্রম করেন। সমগ্র মানব সভ্যতার চিন্তার ইতিহাসকে প্রভাবিতকারী এই মহান ইমাম ১১১১ সালে তাঁর জন্মস্থান তুসে মৃত্যুবরণ করেন।   ইমাম গাজ্জালীর গুরুত্বঃ ইমাম গাজ্জালীর গুরুত্বকে কয়েকটি পয়েন্টে একত্রিত করে - ['A Separation' তেহরান থেকে লস এঞ্জেলস; ইরানি সিনেমার শ্রেষ্ঠত্বের আখ্যান](https://rowyakbd.com/a-separation-from-tehran-to-los-angeles/): চলচ্চিত্র একটি সৃষ্টিশীল গণমাধ্যম। এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ। যে দেশে তা নির্মিত হয় সে দেশের জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে চলচ্চিত্রটি। বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রের হালচাল নিয়ে আলাপ করতে গেলে বলতে হয় রূপকথার জন্য বিখ্যাত পারস্যের কথা- যার বর্তমান নাম ইরান। বৃহৎ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডারসমৃদ্ধ ইরানে আনুমানিক ১৯০০ সালে আমদানিকৃত কিছু চলচ্চিত্র দিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হয়। ১৯০০ সালের ১৮ আগস্ট প্রথম একজন ইরানি ক্যামেরায় চিত্র ধারণ করেছিলেন। তবে সেদেশে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয় ১৯৩০ সালে-যার নাম ‘আবি ভা রাবি’ (আবি ও রাবি), যা পরিচালনা করেন আভানেস ওহানিয়ান। হলিউড-বলিউড এর বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক - [ইমাম আযম আবু হানীফার (রহঃ) তাঁর ছাত্রের উদ্দেশ্যে উপদেশ](https://rowyakbd.com/imam-abu-hanifas-advice-to-his-student/): বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম [ইমাম আবু হানীফা তাঁর একজন ছাত্র ‘ইউসুফ বিন খালিদ আস-সামতি’ কে বসরায় পাঠানোর সময় এই উপদেশ প্রদান করেন] সামতি, জেনে রাখো, তুমি যখন মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে, ভালো সম্পর্ক না রাখবে, তখন তারা শত্রুতে রুপান্তরিত হবে। তারা তোমার বাবা মা হলেও। আর যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করো, তাহলে তারা তোমার আত্মীয়তে পরিণত হবে, তোমার আত্মীয় না হলেও। ধরে নিচ্ছি, তুমি বসরায় গিয়েছো। এবং সেখানকার মানুষের সাথে বিরুদ্ধাচারণ শুরু করেছো। তারা যেসব চিন্তা করে, তার বিরুদ্ধে তুমি বলা শুরু করেছো। তুমি তাদের উপর তোমার শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা শুরু করেছো। এবং তুমি তোমার জ্ঞান দিয়ে তাদেরকে পরাভূত - [গাজা এবং মুসলিম উম্মাহ](https://rowyakbd.com/gazza-and-muslim-ummah/): ।। বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম ।।   জালিমের বিচারক এবং মজলুমের সহায়ক শক্তিশালী সেই মহান রবের নামে শুরু করছি। প্রশংসা তাঁর, যিনি সর্বদা নিত্য-নতুন কর্ম সম্পাদন করেন, যিনি মুমিনদের হৃদয়কে অবিচল রাখেন এবং অত্যাচারীদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করেন। দুরূদ ও সালাম প্রেরিত হোক মানবজাতির সর্দার মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি। সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিশিষ্ট দায়ীগণ এবং বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম! আপনাদেরকে ইসলামের সম্ভাষণ জানাই, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। আজ এখানে আমরা একত্রিত হয়েছি বর্ণনাতীত আমাদের এই দুঃখটাকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। গাজায় আমার ভাইয়েরা আজ অবরুদ্ধ ও কারাবন্দি, শিশুরা আজ ক্ষতবিক্ষত এবং বোনেরা আজ নিপীড়িত ও বিতাড়িত। আমাদের নিজেদের এখন প্রশ্ন করা উচিত, - [কৌলিন্যবাদ ও প্রাথমিক আলাপ](https://rowyakbd.com/elitism-and-initial-conversation/): বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম   হাল যমানায় মুসলিমদের উপরে দমন পীড়ন অত্যাচারের মাত্রাটা বিশ্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এরকম প্রহসনের ধারা মুসলিম উম্মাহর উপরে এই প্রথম নয়! এই ধারাতো ইসলামের একেবারে শুরু থেকেই, যার ফলাফলই তো ছিল ইতিহাসের গতিপথ পালটে দেয়া সায়্যিদুল মুরসালীন ও তাঁর সাহাবীগণের হিজরত। এর পরের ইতিহাসতো শুধু ইসলামের বিজয়ের ইসলামের মহিমান্বিত সম্প্রসারণের…. আজকের পরিণতির এই নিষ্ঠুর ধারার সূচনাটা হয়েছিল আলমে ইসলামীর একেবারে পশ্চিম থেকে, ফেরদাউসে মাকফুদ আন্দালুস থেকে। স্পেনের যমীন থেকে সম্পূর্ণ ইসলামকে নির্মূল করতে সফল হলো ইউরোপীয়ানরা। এর পরের কয়েক শতাব্দী মোটামুটি এই মুসিবত থেকে উম্মাহ মুক্ত ছিল। উপনিবেশিক শাসনের শেষ পর্যায়গুলোতে হতে থাকল ক্ষমতার পালাবদল। ইউরোপীয়ানরা - [বাংলার কৃষি; সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও বর্তমান দুরবস্থার সুলুক সন্ধান](https://rowyakbd.com/agriculture-of-bangla-finding-solutions-to-imperialist-aggression-and-the-current-crisis/): এক. মনে করুন, আপনি একজন প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফার। দামী একটা ক্যামেরা নিয়ে ঢুঁ মারছেন উত্তরের কৃষিনির্ভর কোনো একটি গ্রামের মেঠোপথ ধরে। থেকে থেকে ক্লিক-ক্লিক শব্দ তুলে ভরে যাচ্ছে আপনার ক্যামেরার মেমোরি। ইতি-উতি তাকিয়ে পছন্দমাফিক কম্পোজিশন খুঁজছেন আপনি। সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে তখন। দূরদিগন্তে সূর্য উঁকি দিচ্ছে, গাছ বা কৃষিক্ষেত-এর পেছন থেকে বেরিয়ে আসছে রক্তিম বা কমলা-রং। রক্তিম সে আলোয় ডানা মেলে ক্ষুধার্ত পেটে পাখিরা তাদের নীড় ছাড়তে শুরু করেছে, চতুর্দিকে কান-জুড়ানোর পাখির কলকাকলি। ঘাস ও পাতার ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো ভোরের আলোয় মুক্তোর মতো ঝলমল করছে। সূর্য-গাছ-পাখি-কৃষিক্ষেত—সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি। ন্যাচার-ফোটোগ্রাফির জন্য একেবারে উপযুক্ত এক সময়। মনের আনন্দে ছবি তুলেই - [উপনিবেশবাদের নেপথ্যে ওরিয়েন্টালিজম; পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গির সমাচার](https://rowyakbd.com/orientalism-behind-colonialism-the-gospel-of-the-western-perspective/): ‘Every Native of Hindustan, I verily believe, is corrupt’- ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল, লর্ড কর্নওয়ালিশের এই উক্তি এদেশীয় জনতার প্রতি এক বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রভাব। যার মধ্যে দিয়ে ১৯০ বছরের ঔপনিবেশিক ইতিহাসে ব্রিটিশরা উপমহাদেশীয় জনগণকে এক নতুন আইডেন্টিটি প্রদান করার চেষ্টা করে; এবং এই পরিচয় ও সংজ্ঞায়ন থেকে বেরিয়ে যেতেই ভারতবাসী দীর্ঘ দুইশ বছর সংগ্রাম করে নিজেদের আত্মপরিচয় ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের ঢেউ ভারতবাসীকে উদ্বেলিত করে, এবং তার উপর ভিত্তি করেই তারা আত্মপরিচয় বিনির্মাণে নিবিষ্ট হয়। যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী’র ঘটনায়। এই প্রবন্ধে আমরা দেখার চেষ্টা করব, ১. ঠিক কেন এবং কীভাবে বৃটিশরা উপমহাদেশের - [আল্লামা ত্বহা আবদুর রহমান ও তাঁর চিন্তাদর্শন](https://rowyakbd.com/allama-taha-abdur-rahman-and-his-philosophical-thought/): আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমান বহুমাত্রিক একজন আলেম ও চিন্তাবিদ। তাঁর মতো চিন্তাবিদের চিন্তাধারা একটি প্রবন্ধের মধ্যে তুলে ধরা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। বিগত পঞ্চাশ বছরের চিন্তাগত জীবনে তিনি দ্বীন, রাজনীতি, আখলাক, দর্শন, ফিকহ ও মডার্নিটির মতো বিভিন্ন বিষয়ে ত্রিশের অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই সকল গ্রন্থে স্বতন্ত্র একটি ভাষার মাধ্যমে তিনি শত শত পরিভাষা তৈরি করেছেন। ত্বহা আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে আমাদের সামনে তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময়ে তাঁর বয়স ২৩-২৪ বছর। সে সময়ের একজন যুবক হিসেবে তাঁর মানসপট কীভাবে পরিবর্তন হয়েছিল সেটা তিনি আমাদেরকে অবহিত করেছেন। এ সময়ে তিনি সাহিত্য ও কবিতা নিয়ে ব্যস্ত - [হাসান আল বান্না](https://rowyakbd.com/hasan-al-banna-2/): এক ১৯২৮ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে তরুণ স্কুল শিক্ষক হাসান আল বান্না একালের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম পুনর্জীবনবাদী সংগঠন ইখওয়ানুল মুসলেমুন (মুসলিম ভ্রাতৃসংঘ, ইংরেজিতে Muslim Brotherhood) প্রতিষ্ঠা করেন। তখন পর্যন্ত ইসলামী ব্যবস্থার সংস্কার এবং সমাজের চালিকাশক্তি হিসেবে ইসলামের প্রধান ভূমিকা পালনের চিন্তাভাবনা কিছু শিক্ষিত মানুষের মনে আবেদন সৃষ্টি করলেও এটি কখনোই গণআন্দোলনে পরিণত হয়নি। এর আগে আফগানী, আবদুহু, রশিদ রিদার মত মানুষেরা একই লক্ষ্যে লড়াই করেছিলেন, মুসলিম ভাবজগতে তারা অসাধারণ প্রভাব ফেলেছিলেন এ সব কথা সত্য, কিন্তু তাদের সেসব লড়াই ছিল অনেকটা ব্যক্তিগত পর্যায়ের। এটি কখনো রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয়নি। হাসান আল বান্নাই এই এলিটিস্ট, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবণতাকে জনপ্রিয় আন্দোলনে পরিণত - [মধ্যযুগের অর্থনৈতিক চিন্তা](https://rowyakbd.com/medieval-economic-thought/): মধ্যযুগের অর্থনৈতিক চিন্তা নিয়ে আলোচনার আগে, ইতিহাসে মধ্যযুগের আবির্ভাব কীভাবে হলো, তা জানা জরুরি। অষ্টাদশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত ইতিহাসকে দুইভাগে ভাগ করা হতো। হযরত পয়গম্বরের আগমনের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে বলা হতো প্রাচীন যুগ; এবং রাসুলের (সা:) আগমনের মধ্য দিয়ে সূচনা হয়েছিলো আধুনিক যুগের। তৎকালীন সময়ের সব বড় বড় দার্শনিকরাই এক বাক্যে এটিকে স্বীকার করেন। উনবিংশ শতাব্দীতে এসে ইতিহাসে মধ্যযুগের অনুপ্রবেশ ঘটানো হয় এবং এটিকে সম্পৃক্ত করা হয় রোমান সাম্রাজ্যের সাথে। তাদের মতে, রোমান সাম্র‍্যাজ্যের উত্থানের মধ্য দিয়ে মধ্যযুগের সূচনা হয়। আর এর শেষ হয়, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য বা পূর্ব রোমের পতনের মধ্য দিয়ে। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিলো সুলতান ফাতিহর মাধ্যমে। অর্থাৎ - [আলী শরিয়তি](https://rowyakbd.com/ali-shariati/): এক ১৯৭৯ সালে ইরানী জনতার অভ্যুত্থান ও আন্দোলনের মুখে সেখানকার বহু বছরের পুরনো কর্তৃত্ববাদী রেজা শাহ পাহলভীর রাজতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটে। এই বৈপ্লবিক ঘটনার ভিতর দিয়ে যেমন একদিকে স্বৈরাচারী রেজা শাহ পাহলভীর অপসারণ সম্ভব হয় তেমনি সেখানকার মানুষ পাশ্চাত্য ঘেঁষা সরকার পদ্ধতি বাদ দিয়ে ইসলামকে ভিত্তি করে একালে এক ধর্মরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়। পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে দেখে পাহলভী জামানার অইসলামীকৃত পরিচয় বদলে ফেলে ইরানের মানুষ ইসলামী পরিচয়ের জন্য উন্মুখ হয়ে উঠেছে এবং এই পুনঃইসলামীকরণের পিছনে ইরানের শিয়া উলেমাদের এক সম্মোহনী নেতৃত্ব কাজ করেছে। এইসব উলেমারা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বিপ্লবের মাধ্যমে একটি পূর্ণ পরিণতির দিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ইরানের শিয়া উলেমারা - [ইসলামে সুখের দার্শনিক ভিত্তি](https://rowyakbd.com/philosophical-basis-of-happiness-in-islam/): দর্শনশাস্ত্র যে সব বিষয় আলোচনা করেছে তন্মধ্যে মানব জাতির ইতিহাসে সুখের প্রশ্নটি হচ্ছে একটি অত্যন্ত পুরনো বিষয়। বিষয়টি ব্যবহারিক বা প্রয়োগীয় দর্শনের অন্তর্ভুক্ত। নীতিশাস্ত্র ও সমাজতত্ত্ব বিশারদ বিজ্ঞ পণ্ডিতগণ এর প্রকৃতি শর্তাবলী, কারণ, বাধাপ্রতিবন্ধকতা ও অসঙ্গগতিসমূহ আলোচনায় ব্যস্ত থাকেন। যদি সুখ ও দুঃখ বা দুর্ভাগ্যের প্রশ্নটি জল্পনাধর্মী দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় উত্থাপিত হয়, তখন এটি সমস্যার একটি ছোটখাট বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত থাকে, অর্থাৎ সুখ (এবং দুঃখ) কি দৈহিক ও বস্তুগত? অথবা এটা কি নিম্নে বর্ণিত দুই প্রকার? যেমন: ১. শারিরীক ও বস্তুগত সুখ। ২. আধ্যাত্মিক ও মানসিক সুখ। ধর্মতত্ত্ববিদগণ এ প্রশ্নটি আলোচনা করেছেন। তার কারণ এই যে, তাঁরা প্রমাণ করতে - [বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন: মসজিদ](https://rowyakbd.com/traditional-architecture-of-bangla-mosque/): ৯৩ হিজরি, ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলায় মুসলিম সভ্যতার উন্মেষকাল। তখন থেকেই বাংলায় স্থাপত্যধারায় অনন্যতা সৃষ্টির সূচনা যা নদীমাতৃক এদেশের সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ভাবধারা বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত এসব স্থাপত্যশিল্পের সর্বমূলে রয়েছে এদেশের মানুষের জীবনধারার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় সম্মিলন। প্রথমত বাংলায় মুসলিম স্থাপত্য মূলত গৌড় এবং পান্ডুয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে কেননা এ দুটি নগরী তৎকালীন মুসলিম শাসকদের রাজধানী ছিল। স্থাপত্য নির্মাণরীতি ও গঠনশৈলীর ওপর ভিত্তি করে বাংলার মুসলিম স্থাপত্যকে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা যায়— সুলতানি স্থাপত্য ও মোগল স্থাপত্য। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নির্মিত মসজিদ ও অন্যান্য  ইমারতকে সুলতানি স্থাপত্য এবং ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৭৫৭  - [জ্ঞানের হাকিকত](https://rowyakbd.com/the-haqiqat-of-knowledge/): আমরা এমন একটি গ্রন্থের প্রতি ঈমান এনে মু’মিন হয়েছি যে কিতাবের প্রথম আদেশ হল, পড়! প্রথমেই বলা হয়নি যে নামাজ আদায় কর ও রোজা রাখ। জ্ঞান, অস্তিত্বের পূর্বে আসে। আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানার জন্য জ্ঞানের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন। আর অস্তিত্বগত জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার জন্য এই তিনটি গ্রন্থকে একে অপরের থেকে পৃথক করা সমীচীন নয়;১। ছোট বিশ্ব তথা মানুষ (হাকিকাতুল ইনসান)২। বড় বিশ্ব (হাকিকাতুল কাওন)৩। কোরআন (হাকিকাতুল কিতাব)এই তিনটি গ্রন্থকে যদি আমরা একত্রে পাঠ করি কেবলমাত্র তখন-ই আমরা হাকিকতে উপনীত হতে পারব। ফলশ্রুতিতে প্রতিটি মুসলমানের উচিত হল এই তিনটি গ্রন্থকেই পাঠ করা এবং এগুলোর হাকিকত নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা।ইমাম মুহিউদ্দিন ইবনুল - [প্রাচীন গ্রীসের অর্থনৈতিক চিন্তাধারা](https://rowyakbd.com/economic-thought-of-ancient-greece/): প্রাচীন গ্রীসের অর্থনৈতিক চিন্তাধারা এর রাষ্ট্রব্যবস্থা; যাকে city state বলা হতো, তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও দার্শনিক জোসেফ শুম্পিটার এর মতে, প্রাচীন গ্রীসের চিন্তাধারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জীবনের বাস্তবিক বিষয়াবলীকে গুরুত্ব দিতো। এই চিন্তাধারা গড়ে উঠেছিলো polis এর উপর ভিত্তি করে। গ্রীক সভ্যতার মতাদর্শ অনুযায়ী, সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র এবং প্রতিফলিত রূপ হচ্ছে পলিস। সভ্যতা কেবল পলিসে’ই গড়ে তোলা সম্ভব।  polis একটি পরিভাষা। এর মাধ্যমে গ্রীসে city state, শহর এবং এই শহর ও city state এর প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বোঝাতো। প্রাচীন গ্রীক সভ্যতায় অর্থনৈতিক বা অন্যান্য বিষয়ের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে। এর কারণ হলো  - [সমাজ পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় ইসলামী মূল্যবোধ](https://rowyakbd.com/islamic-values-necessary-for-social-reconstruction/): মূল্যবোধ জীবনে ও জীবন-যাপন পর্যায়ে মূল্যবোধের অর্থ বা তাৎপর্য কি? দৈনন্দিন জীবনের লেনদেন উপলক্ষ করে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত চাল-চলনে যে আদর্শ বা উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে, তাতেই রয়েছে তার মূল্যবোধের পরিচিতি। শ্রেষ্ঠমূল্যবোধ মানব-প্রকৃতির সমধর্মী, অতএব স্বাভাবিক ঊর্ধ্বতন মানুষের জন্যে সহায়ক; অপরপক্ষে হীন মূল্যবোধ ও ধারণাবলী থেকে মানব-প্রকৃতির স্বাভাবিক স্ফুরণ হয় বাধাপ্রাপ্ত। অজ্ঞতা, বল্লাহীন অহংকার, খামখেয়ালি ও গোঁয়ার্তুমি থেকে এসবের উদ্ভব, আবার এসব থেকেই সূত্রপাত হয় ‘যুগ্ম’ বা সীমালংঘন-প্রবৃত্তির। প্রতিটি জীবনদর্শন নিজ নিজ ছাপে মানব-সমাজ গড়ে চলেছে; প্রতিটি দর্শনে অন্তর্নিহিত যে মূল্যবোধ, তা প্রকট হয় তার অনুসারীদের চরিত্র-বৈশিষ্ট্যে। ইসলাম সম্বন্ধেও এর ব্যতিক্রম কিছু নেই। ইসলামও নিজস্ব মূল্যবোধ দিয়ে তার অনুসারীদের চরিত্র–বৈশিষ্ট্য - [মুসলিম শিল্পের একত্ব এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বীগণ](https://rowyakbd.com/the-unity-of-muslim-art-and-its-rivals/): ইসলামী শিল্পকলার একত্ব নিয়ে বিতর্ক অর্থহীন। যদিও, ইতিহাসবিদেরা ভৌগোলিক বা কালানুক্রমিকভাবে পৃথক বিপুলসংখ্যক বিচিত্র মোটিফসমূহ উপাদান-উপকরণ এবং রীতিপ্রকরণ লক্ষ্য করে থাকেন, তবুও সমস্ত ইসলামী শিল্পকলার প্রবল বাস্তবতা হচ্ছে এর উদ্দেশ্য ও রূপের একত্ব। কর্ডোভা থেকে মিন্দানাও পর্যন্ত দেশগুলো ইসলামে দীক্ষিত হবার পরই এর শিল্পকলায় একই রকম গঠনগত বৈশিষ্ট্য এবং বিকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠে। এতে দেখা যায়, রীতি বা শৈলির অগ্রাধিকার এবং অন্তহীনতার অগ্রাধিকার। সমস্ত ইসলামী শিল্পকলায় কুরআন এবং হাদীসের অতিশয় উদ্দীপক শব্দমালা, আরবী এবং ইরানী কাব্যের অথবা ইসলামী সাহিত্যের জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভিব্যক্তিগুলোর শরণ নিয়েছে এবং সেগুলো ব্যবহার করেছে, আরবী লিখন শিল্প বা ক্যালিগ্রাফিতে সেসবের রূপ দিয়েছে। একইভাবে, যুগের পর - [সমাজের জন্ম ও জীবন](https://rowyakbd.com/origin-of-society-and-life/): সমাজ ব্যক্তি সমষ্টির বিমূর্ত ধারণামাত্র নহে। ব্যক্তি-দেহের ন্যায় সমাজেরও দেহ আছে এবং এই দেহ প্রাণবান। কোটি কোটি জীব-কোষ লইয়া ব্যক্তি-দেহ গঠিত। এই কোটি কোটি জীব-কোষ তাহাদের দ্বারাই গঠিত প্রাণবান ব্যক্তি-দেহের পৃথক সত্তার ধারণা করিতে পারে না। এইভাবে হাজার হাজার ব্যক্তি দ্বারা সমাজের পৃথক সত্তা কোন এক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করিতে পারে না। ব্যক্তির ন্যায় সমাজেরও জন্ম আছে, বৃদ্ধি আছে, ক্ষয় ও মৃত্যু আছে এবং সমাজ-দেহের জন্ম-মৃত্যু, ক্ষয় ও লয় ব্যক্তি-দেহের মতই জীব-বিজ্ঞানের নিয়মাধীন। জীব-বিজ্ঞানের যে সমস্ত নিয়ম বিশেষভাবে সমাজ-জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে, তাই সমাজ-বিজ্ঞান। সুতরাং সমাজ-জীবনের উত্থান ও পতনের প্রাকৃতিক রহস্যই সমাজ-বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। ব্যক্তি যতই ক্ষুদ্র হউক অথবা যতই বিরাট হউক - [পরিবার প্রথার মূলনীতি](https://rowyakbd.com/principle-of-family/): ১. পৃথিবীতে পরিবার প্রথার অবক্ষয়   ক. সমতা কমিউনিষ্টগণ সমাজের উৎপত্তি সম্পর্কে তাদের নিজস্ব মতবাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবারের বিলোপ সাধন করে তার স্থলে কম্যুন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছিল। কমিউনিষ্টরা মানব জীবনের সেই আদর্শ অবস্থাকেই চিত্রিত করেছিলো যাতে মানুষ একসঙ্গে ডরমিটরীতে বাস করে, মেসের হলে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে এবং সন্তান সন্ততিকে রাষ্ট্রের সন্তান বলে গণ্য করে। অনেক কম্যুন সৃষ্টি হয়েছিল বটে, কিন্তু কমিউনিষ্টরা শীঘ্রই বুঝতে পারলো ব্যক্তিগত সংগঠনের এই যৌথ পদ্ধতি ব্যর্থ হতে বাধ্য, তাই চিরাচরিত পরিবারের রূপটিতে থাকলো সাধারণত বাবা মা তাদের সন্তানের প্রতি ভালবাসা, স্নেহ ও স্বাভাবিক মমতা বশে যেসব কর্তব্য পালন করে থাকেন, রাষ্ট্র তার অনেকগুলো ## Pages - [Donor Dashboard](https://rowyakbd.com/donor-dashboard/) - [Donation Confirmation](https://rowyakbd.com/donation-confirmation/) - [ডোনেশন](https://rowyakbd.com/donate/): অনুদান তহবিল - [Donation Failed](https://rowyakbd.com/donation-failed/): We're sorry, your donation failed to process. Please try again or contact site support. - [বিজ্ঞাপন](https://rowyakbd.com/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%a8/) - [Write a Post](https://rowyakbd.com/user-post-submission/): আপনার লিখাটি সাবমিট করুন [user-submitted-posts] - [বিভাগসমূহ](https://rowyakbd.com/categories/): চিন্তা ও দর্শন সভ্যতা সংস্কৃতি ইতিহাস উপমহাদেশ বই পর্যালোচনা অর্থনীতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি শহর ও স্থাপত্য দর্শন রাজনীতি সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিত্ব আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব ইলমুল কালাম তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা মুসলিম উম্মাহ ইসলামী দর্শন বাংলাদেশ - [Password Reset](https://rowyakbd.com/password-reset/) - [Account](https://rowyakbd.com/account/): View / Edit Profile Publish A Post - [Logout](https://rowyakbd.com/logout/) - [Members](https://rowyakbd.com/members/) - [Register](https://rowyakbd.com/register/) - [Login](https://rowyakbd.com/login/) - [User](https://rowyakbd.com/user/) - [যোগাযোগ](https://rowyakbd.com/contact/): যোগাযোগ চিন্তার বিনির্মাণে বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট মোকাবেলায় রোয়াকের সাথে আপনার পথচলা শুভ হোক । মেসেজ বক্সে রোয়াকের সার্বিক মান উন্নয়নে আপনার যেকোনো পরামর্শ জানাতে পারেন ,বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করতে পারেন এবং ব্লগের যেকোনো পোস্টে কোনো সংশোধনী বা দ্বিমত থাকলে জানাতে পারেন নির্দ্বিধায় । ঠিকানা উত্তরা, ঢাকা-১২৩০   আমাদের সময় সকাল ১০ ০০ টা – বিকাল ৫ টাশনি – বৃহস্পতি যোগাযোগ ইমেইল : rowyak@rowyakbd.com             info@rowyakbd.com Facebook-f Twitter Instagram - [টার্মস এন্ড কন্ডিশন](https://rowyakbd.com/terms-and-conditions/): টার্মস এন্ড কন্ডিশন (Terms & Conditions) 1. Terms By accessing the website at www.rowyakbd.com, you are agreeing to be bound by these terms of service, all applicable laws, and regulations, and agree that you are responsible for compliance with any applicable local laws. If you do not agree with any of these terms, you are prohibited from using or accessing this site. The materials contained in this website are protected by applicable copyright and trademark law. 2. Use License Permission is granted to temporarily download one copy of the materials (information or software) on Roar Media Pte. Ltd’s website for personal, - [প্রাইভেসি পলিসি](https://rowyakbd.com/privacy-policy/): প্রাইভেসি পলিসি (Privacy Policy) Your privacy is important to us. It is Rowyak Blog policy to respect your privacy regarding any information we may collect from you across our website, https://rowyakbd.com/, and other sites we own and operate. 1. Information we collect Log data When you visit our website, our servers may automatically log the standard data provided by your web browser. It may include your computer’s Internet Protocol (IP) address, your browser type and version, the pages you visit, the time and date of your visit, the time spent on each page, and other details. Device data We may - [রোয়াক কি](https://rowyakbd.com/about/): রোয়াক কি? বাংলা ভাষায় চিন্তার বিনির্মাণের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করলো ‘রোয়াক’ ব্লগ। বিশেষ উদ্বোধনী প্রোগ্রামে ব্লগের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট এর প্রেসিডেন্ট, প্রকৌশলী আশিকুর রহমান সৈকত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইন্সটিটিউট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব হাসান আল ফিরদাউস, ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তারেক সাইফুল্লাহ ও ত্রৈমাসিক মিহওয়ারের সহ-সম্পাদক ফজলে এলাহী, আকবর হোসেন সহ অনেকেই। প্রোগ্রাম উপস্থাপনায় ছিলেন রোয়াকের নির্বাহী সম্পাদক সায়েম মুহাইমিন। প্রত্যেকেই তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি “ইসলামী চিন্তা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট” এর অনলাইন মুখপাত্র সমূহের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও রোয়াক ব্লগ কাজ করে যাবে।আশাকরছি সবাই নিয়মিত পাঠ পর্যালোচনা, লেখনী, অনুবাদ - [লেখকবৃন্দ](https://rowyakbd.com/authors/) - [মূলপাতা](https://rowyakbd.com/): প্রফেসর ড. হেবা রউফ ইযযেত ফিচারড প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ আন্তর্জাতিক রাজনীতি আল্লামা তাহির বিন আশুর উসূল ও মেথডোলজি রোয়াক ডেস্ক কৃষি প্রফেসর ড. সাইয়েদ হোসাইন নাসর ইসলামী দর্শন বাংলায় ইসলামী সংস্কৃতির বোঝাপড়া; ঐতিহাসিক শিকড় ও জাতিসত্তা হাসান আল ফিরদাউসDecember 7, 2025 আতিয়া মসজিদ রোয়াক ডেস্কNovember 25, 2025 সুলতান আকবর এবং দীন-ই-এলাহী রোয়াক ডেস্কNovember 24, 2025 প্রগতিবাদের ফাঁকা বুলি সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীNovember 23, 2025 আধুনিক কালের ব্যাধিগ্রস্ত জাতিসমূহ সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীNovember 23, 2025 উপমহাদেশের স্থাপত্যে জানালার বৈচিত্র্য রোয়াক ডেস্কNovember 21, 2025 ভবিষ্যৎ গাজাঃ পথ চারটি, কিন্তু গন্তব্য একটি! রোয়াক ডেস্কNovember 16, 2025 মুঘল আমলে মুসলিম বাংলার ইসলামী উৎসব [comment]: # (Generated by Hostinger Tools Plugin)