<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>উসূল ও মেথডোলজি &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/thought-and-philosophy/usul-and-methodology/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার নবায়ন ও পুনর্গঠনের জন্য...</description>
	<lastBuildDate>Wed, 26 Aug 2026 15:43:41 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.2</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>উসূল ও মেথডোলজি &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>সীরাত পড়ার উসূল ; হযরত পয়গাম্বর (স.) এর জীবনকে কিভাবে পাঠ করবো?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-method-of-reading-the-seerat-how-to-read-the-life-of-the-prophet-pbuh/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-method-of-reading-the-seerat-how-to-read-the-life-of-the-prophet-pbuh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 16:41:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল]]></category>
		<category><![CDATA[সীরাত পড়ার উসূল]]></category>
		<category><![CDATA[হযরত পয়গাম্বর (স.) এর জীবনকে কিভাবে পাঠ করবো্‌ সীরাত]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=17601</guid>

					<description><![CDATA[আজ রবিউল আওয়াল মাসের ১২তম রজনী। অর্থাৎ, রাসূলে আকরাম (স.)-এর আগমনের ১৫০১তম জন্মবার্ষিকী। মুসলিম উম্মাহর ঈদে মিলাদুন্নবী মোবারক হোক। সালাত ও সালাম দোজাহানের কাণ্ডারি, রাহমাতুল্লিল আলামীন এবং তাঁর আহলে বাইত ও আসহাবে কেরামের ওপর। মিলাদুন্নবী কীভাবে উদযাপন করব এই ব্যাপারে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজ রবিউল আওয়াল মাসের ১২তম রজনী। অর্থাৎ, রাসূলে আকরাম (স.)-এর আগমনের ১৫০১তম জন্মবার্ষিকী। মুসলিম উম্মাহর ঈদে মিলাদুন্নবী মোবারক হোক। সালাত ও সালাম দোজাহানের কাণ্ডারি, রাহমাতুল্লিল আলামীন এবং তাঁর আহলে বাইত ও আসহাবে কেরামের ওপর।</p>
<p>মিলাদুন্নবী কীভাবে উদযাপন করব এই ব্যাপারে আমি আমার তরুণ বন্ধুদের সাথে আমার কিছু চিন্তাকে শেয়ার করতে চাই। অথবা মিলাদুন্নবীকে ওসিলা হিসেবে নিয়ে সীরাতুন্নবীকে কিভাবে পাঠ করবো? কোন কোন বই পড়ব এবং কীভাবে পড়ব? এ বিষয়গুলো নিয়ে আমি আপনাদের সাথে আমার কিছু চিন্তা তুলে ধরতে চাই।</p>
<p>সীরাত ও সিয়ার নামক শব্দদ্বয়ের আভিধানিক অর্থ হলো পথ, পন্থা ও চলার ধরন। ইসলামের মতে, দুনিয়া একটি স্টেশন, অবস্থান করার জায়গা নয়; দুনিয়া মূলত একটি পথ। এই পথে আমাদের যাত্রাই হলো সীরাত। হযরত পয়গাম্বর (স.) ইলাহী ওহীর নির্দেশনায় এই পথ ধরে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ অর্থে হেঁটেছেন। তাই তাঁর যাত্রাই সীরাতের সবচেয়ে সঠিক ও পরিপূর্ণ উপমা। রাসূলুল্লাহ (স.) সমগ্র মানবতার জন্য উসওয়ায়ে হাসানা হওয়ার কারণে তাঁর এই পথচলা তাঁর উম্মতের কাছে আজও অনুসরণীয় ও অব্যাহত রয়েছে।</p>
<p>যার কারণে সীরাত ইতিহাসে কেবল একবার ঘটে যাওয়া কোনো জীবনকাহিনী নয়। এটি শুধু রেওয়ায়েত ও হাদীসের মধ্যেও সীমাবদ্ধ নয়। সীরাত হলো হাকীকতের সাক্ষী। এটি এমন সব শিক্ষা (ইবরাত) ও নিদর্শনের সমষ্টি, যা অনন্তকাল পর্যন্ত আমাদের পথ দেখিয়ে যাবে।</p>
<p>সিয়ার এমন কোনো বিষয় নয়, যা একবার লিখেই চূড়ান্ত করে ফেলা যায়। সময়ের পরিবর্তন, নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়া রাসূলের সীরাতকে নতুনভাবে পাঠ ও মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে প্রতিনিয়ত সামনে নিয়ে আসে।</p>
<p>আমরা রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সীরাত থেকে শুধু অতীতই নয়, ভবিষ্যৎকেও শিখে থাকি। শুধু আমাদের আখলাক নয়, আমাদের আকল ও ইরাদা (ইচ্ছাশক্তি) বিনির্মাণের পন্থাও এখান থেকে শিখি। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সীরাত মানে কেবল অতীতের ঘটনাবলি পাঠ করা নয়; একইসঙ্গে সীরাতুন্নবীর পথ ধরে চলতে শেখাও।</p>
<p>এই কারণে কোনো একক সীরাতগ্রন্থের পক্ষেই সীরাতুন্নবীকে সামগ্রিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। রাসূলে আকরাম (স.) কামালিয়াত বা পূর্ণতার সর্বোচ্চ চূড়ার প্রতিনিধিত্ব করেন বলে প্রতিটি সীরাতগ্রন্থেই কিছু না কিছু গ্যাপ থেকে যায়। পাশাপাশি, হযরত পয়গাম্বরকে বুঝতে জ্ঞানের প্রতিটি শাখাই নিজস্ব পরিসর ও মেথডোলজি অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র পঠনরীতি তৈরি করেছে।</p>
<ul>
<li><strong>মুহাদ্দিসগণ</strong> হযরত পয়গাম্বরের কথা, কাজ, অনুমোদন ও তাকরীরের ভিত্তিতে পয়গাম্বরের একটি ধারণা বা নবী-পরিচিতি তুলে ধরেছেন।</li>
<li><strong>ফকীহগণ</strong> তাঁর জীবনকে হুকুম-আহকাম, হালাল-হারাম, ইবাদত এবং মানুষের জীবনকে বিন্যস্তকারী বিভিন্ন নীতিমালার আলোকে মূল্যায়ন করেছেন।</li>
<li><strong>ঐতিহাসিকগণ</strong> রাসূলুল্লাহ (স.)-এর জীবনকে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, গাজওয়া ও সারিয়্যার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করেছেন।</li>
<li><strong>সুফী ও সাহিত্যিকগণ</strong> নবী করীম (স.)-কে আশক, মুহাব্বত, রহমত ও মারহামাতের আলোকে পর্যালোচনা করেছেন।</li>
<li><strong>আখলাকবিদগণ</strong> রাসূলে আকরাম (স.)-কে আখলাকে হামিদার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখারূপে তুলে ধরেছেন।</li>
</ul>
<p>এই পঠনরীতিসমূহের প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ এবং সীরাত রচনা ও চর্চার ক্ষেত্রে নিজ নিজ দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। তবে নবী করীম (স.)-এর ব্যক্তিত্বকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করতে হলে এসব পঠনরীতিকে সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এর মধ্য দিয়ে সীরাত-চিন্তাকে আরও পূর্ণতার দিকে এগিয়ে নিতে হবে।</p>
<p>সামগ্রিকভাবে দেখলে দেখা যায়, সীরাত-লেখকগণ সাধারণত হযরত পয়গাম্বর (স.)-এর জীবনকে মক্কী ও মাদানী, এই দুই পর্বে বিভক্ত করেছেন। আমাদের যুগের গাজ্জালীখ্যাত মরক্কোর প্রখ্যাত দার্শনিক আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমানও এই বিভাজনকে অনুসরণ করেছেন। তবে তিনি একে ভিন্ন একটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আরও বিকশিত ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়েছেন। আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমানের মতে, পয়গাম্বর (স.)-এর জীবনকে যদি দুই ভাগে বিভক্ত করতেই হয়, তাহলে সেই বিভাজন হওয়া উচিত এভাবে:</p>
<p>১. মক্কী জীবনে তিনি ওহীর আলোকে একটি আকল বিনির্মাণ করেছেন।</p>
<p>২. আর মাদানী জীবনে সেই একই ওহীর নির্দেশনায় তিনি একটি ইরাদা বা ইচ্ছাশক্তির বিনির্মাণ করেছেন।</p>
<p>মক্কায় তিনি আকলের সবচেয়ে বড় আখলাক সিদককে বিনির্মাণ করেছেন, আর মদীনায় তিনি ইরাদা বা ইচ্ছার সবচেয়ে বড় আখলাক হিসেবে বিবেচিত আমানতকে বিনির্মাণ করেছেন। আর এই কারণে তিনি হলেন আস-সাদিকুল আমীন। এখানে সিদক বলতে কেবল কথার সঙ্গে অবস্থার সামঞ্জস্য বোঝানো হয়নি। বরং কথার সঙ্গে কর্মের এবং কর্মের সঙ্গে বিশ্বাসের সামঞ্জস্যও এর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে আমানত বলতে শুধু কারও কাছে কোনো বস্তু গচ্ছিত রাখাকে বোঝানো হয়নি। এখানে আমানত বলতে সমগ্র সৃষ্টিজগতের সঙ্গে একটি আস্থা ও আমানতের সম্পর্ক স্থাপন করা বুঝায়। সিদক হলো, হাকীকতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা না করা, আর আমানত হলো অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা।&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রিয় তরুণ</strong><strong>&#8211;</strong><strong>তরুণীরা</strong><strong>, </strong></p>
<p>আজ আমরা যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে অর্থবহতার এক গভীর সংকটের মুখোমুখি, তখন কেবল ‘হযরত পয়গাম্বর (স.) কখন ও কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, কখন হিজরত করেছেন, তাঁর কতজন সন্তান ছিলেন কিংবা তাঁর দুধমাতা কে ছিলেন’ এধরনের ঐতিহাসিক তথ্য জানাই আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আমাদের ভাবতে হবে, তাঁর সুন্নত ও সীরাতকে কীভাবে আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গী করে তুলবো এবং কীভাবে তাঁকে আমাদের রাহবার হিসেবে গ্রহণ করবো। বর্তমান সময়ে সীরাতচর্চার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হওয়া উচিত এগুলোই।</p>
<p>এই কারণে রাসূল (স.)-এর সীরাত সম্পর্কে অবশ্যপাঠ্য বইগুলোর কথা বলার আগে এমন দুটি গ্রন্থ এবং তাদের লেখকের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাই, যেগুলো হাকীকতের পথ অনুসন্ধানে সহায়ক হতে পারে। এর একটি হলো ইবনে তুফায়েলের <em>হাই ইবনে ইয়াকযান</em>, আর অপরটি ইবনে নাফিসের <em>ফাযিল ইবনে নাতিক</em>, যেখানে ‘কামিল’-এর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।</p>
<p>এই দুই যুবকের মধ্যেই হক ও হাকীকতের প্রতি এক প্রবল তৃষ্ণা ছিল। তাঁদের অন্তরে ছিল হাকীকত ও অর্থবহতার গভীর অনুসন্ধান। কিন্তু তাঁদের কাছে কোনো পূর্বনির্ধারিত কোনো উত্তর ছিলো না। বরং উভয়ের সামনেই ছিল এক বিশাল প্রশ্ন। সেই প্রশ্নটি হলো, হাকীকত কী? আর মানুষ কীভাবে সেই হাকীকতে পৌঁছাতে পারে?</p>
<p>ইবনে তুফায়েল ‘হাই’কে কল্পনা করেছেন একটি নির্জন দ্বীপে। তাঁর পাশে কোনো শিক্ষক নেই, কোনো বই নেই, নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। তবে আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন তিনটি মহাগ্রন্থ: আকল, তাঁর নিজ সত্তা এবং মহাবিশ্ব।</p>
<p>হাই তাঁর চারপাশের জগৎকে দেখেন, পর্যবেক্ষণ করেন, কৌতূহলী হন, প্রশ্ন করেন এবং চিন্তা করেন। জীবজগতের জন্ম ও মৃত্যু নিয়ে অনুসন্ধান করেন, আকাশের দিকে তাকান এবং সৃষ্টিজগতের শৃঙ্খলা ও বিন্যাস নিয়ে গভীরভাবে ভাবেন। এভাবে এক কারণ থেকে আরেক কারণের অনুসন্ধানে অগ্রসর হতে হতে অবশেষে তিনি সৃষ্টি থেকে স্রষ্টার দিকে, বহুত্ব থেকে একত্বের দিকে এবং বিশ্বজগতের অস্তিত্ব থেকে আল্লাহর অস্তিত্বের উপলব্ধিতে উপনীত হন।</p>
<p>ইসলামও আমাদের এমন এক আকলের অধিকারী হতে শিক্ষা দেয়, যে আকল হাকীকতকে অনুসন্ধান করে, হাকীকতকে নিয়ে প্রশ্ন করে এবং শেষ পর্যন্ত হাকীকতের সামনে আত্মসমর্পণ করে। কেননা বিশুদ্ধ বা সহীহ আকল যদি আন্তরিকতার সঙ্গে অনুসন্ধান অব্যাহত রাখে, তবে তা মানুষকে হাকীকত থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না; বরং ক্রমেই তাকে হাকীকতের নিকটবর্তী করে।</p>
<p>ইবনে তুফায়েলের প্রায় এক শতাব্দী পর ইবনে নাফিসও আরেক যুবককে নিয়ে প্রায় অনুরূপ একটি কল্পকাহিনী নির্মাণ করেন। সেই যুবকের নাম কামিল।</p>
<p>কামিলও চিন্তা করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন তোলে। সেও তার আকলকে ব্যবহার করে। তবে তার অনুসন্ধান হাইয়ের তুলনায় আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। মানুষ কি কেবল আকলের মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্বের সন্ধানই পায়? মানবতার জন্য একজন পয়গাম্বরের প্রয়োজনীয়তাও কি সে আকলের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পারে? নবুয়তের হিকমত, ওহীর প্রয়োজনীয়তা এবং মানবতার জন্য ইলাহী নির্দেশনার অপরিহার্যতা কি মানুষের আকল উপলব্ধি করতে সক্ষম?</p>
<p>কামিল এসব প্রশ্ন করতে করতে একপর্যায়ে উপলব্ধি করেন যে, মানুষের শুধু আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে জানাই যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে কীভাবে সে তাঁর অভিমুখী হবে, কীভাবে তাঁর ইবাদত করবে, সেই পথও তার জানা প্রয়োজন। এ কারণেই আকলের ঊর্ধ্বে গিয়ে তার ওহীর প্রয়োজন। আর সেই ওহীকে বাস্তব জীবনধারায় রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি উসওয়ায়ে হাসানা, অর্থাৎ একজন পয়গাম্বর। কামিল শেষ পর্যন্ত এটিও উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।</p>
<p>এভাবে হাইয়ের যাত্রা কামিলের মাধ্যমে এসে নতুন একটি পর্যায়ে উপনীত হয়। হাই মহাবিশ্ব থেকে ইলাহী হাকীকতের দিকে যাত্রা করেন, আর কামিল মানুষ ও সমাজের হাকীকত থেকে নববী হাকীকতের দিকে অগ্রসর হন। একজন আমাদের <em>আয়াতে কাউনিয়া</em> পাঠ করতে শেখান, আর অপরজন <em>আয়াতে নববিয়্যাকে</em> &nbsp;বুঝতে শেখান।</p>
<p><strong>প্রিয়</strong> <strong>যুবক</strong> <strong>ভাই</strong> <strong>ও</strong> <strong>বোনেরা</strong><strong>, </strong></p>
<p>আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা তথ্য বা জ্ঞানের ঘাটতি নয়। মানব ইতিহাসে সম্ভবত আমাদের মতো আর কোনো প্রজন্ম এত সহজে এবং এত দ্রুত জ্ঞান ও তথ্য-উপাত্তের নাগাল পায়নি। মাত্র কয়েকটা ক্লিকেই অসংখ্য তথ্য আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। কিন্তু এই বিপুল সুযোগের সঙ্গে একটি বড় বিপদও যে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে, তা ভুলে গেলে চলবে না।</p>
<p>তথ্যের প্রবাহ যত বাড়ছে, আমাদের অনুসন্ধানের প্রবণতা ততই কমে যাচ্ছে। জবাব যত বাড়ছে, প্রশ্ন ততই কমছে। স্ক্রিনের আকৃতি বড় হচ্ছে, অথচ তাফাক্কুরের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।</p>
<p>হাই ইবনে ইয়াকযানের ছোট্ট দ্বীপে কোনো ইন্টারনেট ছিল না। কিন্তু তাঁর মধ্যে ছিল সত্যকে জানার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, বিস্ময়বোধ এবং গভীর অনুসন্ধিৎসা।</p>
<p><em>ফাযিল ইবনে নাতিক</em>-এ বর্ণিত কামিলের হাতেও চ্যাটজিপিটি বা ক্লাউড প্রযুক্তির মতো কোনো আধুনিক উপকরণ ছিল না। কিন্তু হাকীকতের প্রতি তাঁর ছিল গভীর আগ্রহ এবং তাকে অনুসন্ধান করার অদম্য তৃষ্ণা।</p>
<p>কিন্তু আমরা আজ হয়তো সব জবাবই পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই, অথচ কখনো কখনো সেই বিপুল জবাবের ভিড়েই নিজেকে হারিয়ে ফেলি। এই কারণেই আপনাদেরকে ‘অনেক কিছু জানুন’ বলার আগে আমি আরও জরুরি মনে করি এই কথাটি: হক ও হাকীকতের প্রতি আপনাদের আকাঙ্ক্ষাকে জীবন্ত রাখুন, হাকীকতের অনুসন্ধানী হোন এবং যা কিছু দেখেন, তার অন্তর্নিহিত অর্থ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শিখুন।</p>
<p>এই কারণে এখন আমাদের মূল কাজ শুধু তথ্য-উপাত্ত জমা করা নয়। আমাদের আসল কাজ হলো এমন একটি আকলকে নতুন করে বিনির্মাণ করা, যা হাকীকতকে ইদরাক করতে সক্ষম হবে, এবং এমন একটি ইরাদাকে গড়ে তোলা, যা হাকীকতের দিকে ধাবিত হয়ে তার দাবি পূরণ করবে। আর এর জন্য,</p>
<p><strong>আকাশের দিকে তাকান হাইয়ের মতো, আর মানুষ ও সমাজকে পর্যবেক্ষণ করুন কামিলের মতো।</strong></p>
<p>ইতিহাসের দিকে তাকান ইবরাতের দৃষ্টিতে।</p>
<p>কোরআনের দিকে তাকান নিজেকে ইলাহী ওহীর মুখাতাব হিসেবে বিবেচনা করে।</p>
<p>আর হযরত পয়গাম্বর (স.)-এর জীবনকে কেবল অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে নয়, বরং আপনার নিজের জীবনের প্রতি নিবেদিত এক জীবন্ত আহ্বান হিসেবে দেখুন।</p>
<p>ভুলে যাবেন না, ইসলামী সভ্যতায় আকল ও ওহী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক। দ্বীনবিহীন আকল হাকীকতের পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে না, আবার আকল ছাড়া দ্বীনের যথার্থ ব্যাখ্যাও সম্ভব নয়। আকল হলো চোখ, আর ওহী হলো আলো। চোখ ছাড়া যেমন আলোকে দেখা যায় না, তেমনি আলো ছাড়া চোখও পথ খুঁজে পায় না।</p>
<p>হাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন, আকল কত উচ্চতায় আরোহণ করতে পারে। আর কামিল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন, আমাদের আকল যত বেশি পরিণত ও বিকশিত হবে, আমরা নবুওয়তের হিকমতকে ততই গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারব।</p>
<p>সুতরাং আপনাদের পথ যেন কেবল তাকলিদের পথ না হয়, আবার অহংকারী র‍্যাশনালিজমের পথও না হয়। আপনাদের পথ হোক এমন এক পথ, যেখানে আকল হাকীকতের অনুসন্ধান করবে, ওহীকে রাহবার হিসেবে গ্রহণ করবে, রাসূলে আকরাম (স.) কে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করবে এবং সর্বশেষে হাকীকতের সামনে আত্মসমর্পণ করবে।</p>
<p><strong>প্রিয় তরুণ-তরুণীরা, </strong></p>
<p>তিনটি মূলনীতিতে জীবনের কেন্দ্রে স্থাপন করবেঃ&nbsp; কৌতূহলকে কখনো হারিয়ে ফেলবেন না; আপনার আকলকে কারও কাছে বন্ধক রাখবেন না; আর হাকিকতের সন্ধান করতে গিয়ে কখনো ক্লান্ত হবেন না।</p>
<p>মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভুল কোনো উত্তর খুঁজে পাওয়া নয়। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো হাকীকতের অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষাকে হারিয়ে ফেলা। কেননা হাকীকত এমন এক বাস্তবতা, যে তাকে আন্তরিকভাবে অনুসন্ধান করে, তার কাছেই তা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়। মানুষ হাকীকতের জন্য যত বেশি তৃষ্ণার্ত হয়, হাকীকতও তার সামনে তত বেশি উন্মোচিত হতে থাকে।</p>
<p>হাই আমাদের বলেন, ‘মহাবিশ্বকে পড়ো।’ কামিল আমাদের বলেন, ‘মানুষ ও নবুওয়তকে নিয়ে চিন্তা করো।’ আর কোরআন যেন এই দুই ধারাকে এক সূত্রে গেঁথে আমাদের আহ্বান জানায়, পড়ো, চিন্তা করো, আকলকে কাজে লাগাও, তাফাক্কুর করো। তবে এই পাঠ, চিন্তা ও অনুসন্ধানের সবকিছুই যেন শেষ পর্যন্ত তোমাকে তোমার রবের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক আধ্যাত্মিক সফরে পরিণত হয়।</p>
<p><strong>প্রিয় তরুণ-তরুণী ভাই ও বোনেরা, </strong></p>
<p>আপনাদের প্রত্যেকের কলবে যেন একজন হাই থাকেন, যিনি বিস্ময়ভরা দৃষ্টিতে সৃষ্টিজগতের দিকে তাকান।</p>
<p>আপনাদের প্রত্যেকের অন্তরে যেন একজন কামিল থাকেন, যিনি মানুষ ও ইতিহাসের অন্তর্নিহিত অর্থের অনুসন্ধান করেন।</p>
<p>আর আপনাদের প্রত্যেকের সামনে যেন থাকেন মুহাম্মদ মুস্তফা ﷺ, যিনি দেখিয়ে দেন, আপনারা যে হাকীকতের সন্ধান পেয়েছেন, সেই হাকীকতকে কীভাবে জীবনে বাস্তব রূপ দিতে হয়।</p>
<p>কেননা হাকীকত কেবল জানার বিষয় নয়। হাকীকতকে অনুসন্ধান করতে হয়, আবিষ্কার করতে হয়, জীবনে ধারণ করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেই হাকীকতকে আখলাকে রূপান্তরিত করতে হয়।</p>
<p>আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আমাদের সভ্যতার প্রত্যাশা হলো, তারা মুকাল্লিদ বা অন্ধ অনুকরণকারী হবে না, বরং হবে মুহাক্কিক।</p>
<p>তারা নিষ্ক্রিয় দর্শক হবে না, বরং হবে মুশাহিদ।</p>
<p>তারা কেবল তথ্য-উপাত্তের বাহক হবে না, বরং হবে হিকমতের সন্ধানী।</p>
<p>এখন যারা হক ও হাকীকতের অনুসন্ধানে হযরত রাসূলে আকরাম (স.)-এর সীরাতকে সঙ্গী করে পথ চলতে চান, সেই প্রিয় তরুণদের জন্য আমি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ পাঠের পরামর্শ দিতে চাই। আমার বিশ্বাস, প্রতিটি গ্রন্থই রাসূলুল্লাহ (স.)-এর জীবনকে ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার এবং তাঁর পথনির্দেশনাকে নিজেদের জীবনে নতুনভাবে উপলব্ধি ও অনুধাবন করার সুযোগ করে দেবে।</p>
<p>১. ইব্রাহিম সারিচাম রচিত <strong>হযরত মুহাম্মদ (স.) ও তাঁর বিশ্বজনীন বার্তা</strong></p>
<p>২. জেলালেদ্দিন ভাতানদাশ রচিত <strong>হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন ও ইসলামী রাষ্ট্র</strong></p>
<p>৩. ওয়াদ্দাহ খানফার রচিত <strong>রবিউল আওয়াল বা প্রথম বসন্ত</strong></p>
<p>৪. ইজ্জত দারওয়াজা রচিত <strong>কোরআনের আলোকে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন</strong></p>
<p>৫. মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ রচিত <strong>ইসলামের পয়গাম্বর</strong></p>
<p>৬. ত্বহা আব্দুর রহমান রচিত <strong>আস-সীরাতুন নববিয়্যা ওয়াত-তা’সিসুল আখলাকী</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি আমাদের আলোচনাকে কোরআনে কারীমের এই আয়াতটি দিয়ে শেষ করতে চাই,</p>
<p>وَمَا قَدَرُواْ ٱللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِۦٓ إِذْ قَالُواْ مَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٍ مِّن شَىْءٍ‌ۗ قُلْ مَنْ أَنزَلَ ٱلْكِتَـٰبَ ٱلَّذِى جَآءَ بِهِۦ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِ‌ۖ تَجْعَلُونَهُۥ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا‌ۖ وَعُلِّمْتُم مَّا لَمْ تَعْلَمُوٓاْ أَنتُمْ وَلَآ ءَابَآؤُكُمْ‌ۖ قُلِ ٱللَّهُ‌ۖ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِى خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ</p>
<p>এই লোকেরা আল্লাহর যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি। কেননা তারা বললঃ আল্লাহ কোন মানুষের উপর কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি; তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো: মানুষের হিদায়াত ও আলোকবর্তিকা রূপে যে কিতাব মূসা এনেছিল তা কে অবতীর্ণ করেছেন? তোমরা সেই কিতাব খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন পত্রে রেখেছো, ওর কিয়দংশ তোমরা প্রকাশ করছো এবং বহুলাংশ গোপন করছো। (ঐ কিতাব দ্বারা) তোমাদেরকে বহু বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্ব-পুরুষরা জানতো না; তুমি বলে দাওঃ তা আল্লাহই অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং তুমি তাদেরকে তাদের বাতিল ধারণার উপর ছেড়ে দাও, তারা খেলা করতে থাকুক। (সূর আনআম, ৯১)</p>
<p>যদি তাই হয়, তাহলে আল্লাহকে চেনা ও তাঁকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করার পথ হলো নবুওয়তকে চেনা। আর নবুওয়তকে চেনার অর্থ হলো সর্বশেষ নবী, খাতামুল আম্বিয়া, রাসূলে কিবরিয়া মুহাম্মদ মুস্তফা (স.)-কে চেনা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর জীবন ও আদর্শকে নিজের জীবনে ধারণ করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-method-of-reading-the-seerat-how-to-read-the-life-of-the-prophet-pbuh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">17601</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল্লাল আল ফাসী; উসূলের নবায়নে তাঁর চিন্তাদর্শন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/allal-al-fasi-n-his-philosophy-on-the-renewal-of-usul/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/allal-al-fasi-n-his-philosophy-on-the-renewal-of-usul/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 15 Jun 2026 13:23:40 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16875</guid>

					<description><![CDATA[আল্লাল আল-ফাসী হলেন এমন একজন মুতাফাক্কির ও আলেম যিনি বিংশ শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকাতে মাকাসিদ ও আখলাককে একত্রিত করে নতুন একটি উসূলের প্রস্তাবনার মাধ্যমে একটি ইহইয়া/ পুনর্জাগরণ ও ইসলাহ/সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন এবং এক্ষেত্রে অগ্রগামী ব্যক্তিত্বের ভূমিকা পালন করেন। আল্লাল আল-ফাসী,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আল্লাল আল-ফাসী হলেন এমন একজন মুতাফাক্কির ও আলেম যিনি বিংশ শতাব্দীতে উত্তর আফ্রিকাতে মাকাসিদ ও আখলাককে একত্রিত করে নতুন একটি উসূলের প্রস্তাবনার মাধ্যমে একটি ইহইয়া/ পুনর্জাগরণ ও ইসলাহ/সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন এবং এক্ষেত্রে অগ্রগামী ব্যক্তিত্বের ভূমিকা পালন করেন।</p>
<p>আল্লাল আল-ফাসী, ১৯১০ সালে মরক্কোতে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি স্পেন ও ফ্রান্সের শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং মরক্কো ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোকে শোষকদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার কারণে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাঁকে নির্বাসনে কিংবা দেশের বাহিরে কাটাতে হয়েছে। ১৯৫৬ সালে মরক্কো স্বাধীনতা অর্জন করলে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং আইন অনুষদে অধ্যাপনা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিভিন্ন পত্রিকার সাথে যুক্ত হন। তিনি দেড় বছর ওয়াকফ ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন করার জন্য এক রাষ্ট্রীয় সফরে রোমানিয়াতে যান। রোমানিয়াতে সরকারের বিভিন্ন মহলে ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করার সময়ে সেখানেই ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।</p>
<p>আল্লাল আল-ফাসীর মতে, আধুনিক সময়ে এসে মুসলমানগণ যে সকল উদ্ভূত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন প্রাচীন উসূলে ফিকহ সেসকল সমস্যা সমাধান করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, আমাদেরকে এমন একটি উসূল দাঁড় করাতে হবে যা প্রাচীন উসূলকে প্রত্যাখ্যান করবে না, বরং ক্ল্যাসিক উসূলের ভেতরে থেকেই যুগসমস্যার সমাধান প্রদানে সক্ষম হবে।<sup>১</sup></p>
<p>কোরআন, সুন্নত, ইজমা, কিয়াস, ইসতিহসান, মাসালিহি মুরসালা, ইসতিসহাব, ওরফ, সাদ্দে যারাই-এর মতো উসূলে ফিকহের মৌলিক বিষয়াবলিকে তিনি স্বতন্ত্রভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং এর প্রতিটিকেই বর্তমান সময়ের আলোকে কীভাবে বুঝবো সে ব্যাপারে নতুনভাবে প্রস্তাবনা দেন। তবে ইসতিসহাব ও সাদ্দে যারাই নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং নতুন উসূলের বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এই দুটি পরিভাষা থেকে কীভাবে উপকৃত হওয়া যাবে, সেই বিষয়ে উপমা পেশ করেন।</p>
<p>তাঁর মতে, ইসতিসহাবের চারটি ধরণ রয়েছে। সেগুলো হলো-</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>প্রথমত,</strong> বারায়াত-ই আসলিয়্যাহ।<sup>২</sup><br />
<strong>দ্বিতীয়ত,</strong> নসের মাধ্যমে নির্ধারিত উমুম ও খুসুস তথা সাধারণ ও বিশেষের মধ্যে সম্পর্ক।<br />
<strong>তৃতীয়ত,</strong> সাবিত ওয়াসিফ-সংক্রান্ত বিষয়।<sup>৩</sup><br />
<strong>চতুর্থত,</strong> إبقاء ما كان على ما كان তথা পূর্ববর্তী অবস্থাকে পূর্বের মতোই বজায় রাখা।<sup>৪</sup></p>
<p>এই বিষয়টিকে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন এবং নতুন উসূলের ক্ষেত্রে ইসতিসহাবকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেই বিষয় নিয়েও বিস্তর আলোচনা করেছেন।</p>
<p>তিনি মনে করেন ইমাম শাতিবীর মুয়াফাকাতের পর মাকাসিদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি উসূলের জন্য একটি ঘাটতি ডেকে এনেছে। যদি মুয়াফাকাতের পর এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতো তাহলে ইলমুল উসূল আজ আরও অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হতো। উসূলে ফিকহের উচিত হলো, কেবল ইল্লত (কারণ) কে কেন্দ্র করে না থেকে, সমস্যাসমূহকে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য তথা মাকাসিদ আশ শরীয়াহর আলোকে ব্যাখ্যা করা। তিনি মাকাসিদকে &#8216;মাকাসিদ আশ শরীয়াহ/শরীয়তের সামগ্রিক উদ্দেশ্য&#8217; হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। মাকাসিদের ধারণাকে তিনি আদালত ও হুররিয়াতের (স্বাধীনতা) উপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন।</p>
<p><strong>তাঁর মতে, শরীয়তের সম্পূর্ণটাই হলো আদালত ও রহমত। আদালত ও রহমত যখন জুলুমে পরিণত হয়, তখন শরীয়তের মূল উদ্দেশ্য অবলুপ্ত হয়ে যায়।<sup>৫</sup></strong></p>
<p>আল্লাল আল ফাসী, তাঁর নতুন উসূলকে মাকাসিদ ও আখলাকের সামগ্রিকতার উপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর এই চিন্তাকে তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ, <strong>&#8216;মাকাসিদুশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যা ও মাকারিমাহা&#8217;</strong> নামক গ্রন্থে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর অন্যতম বিশেষত্ব হলো, মাকাসিদকে তিনি আখলাকের মধ্যে স্থাপন করেছেন।</p>
<p>এছাড়াও তিনি উসূলে ফিকহের মৌলিক বিষয়ের মধ্যকার অন্যতম বিষয় কুল্লিয়াতি খামসা তথা জীবন, আকল, দ্বীন, বংশধারা ও সম্পদ-কে তিনি বর্তমান সময়ে এসে যথেষ্ট মনে করেননি। সমাজ ও সভ্যতাকে রক্ষাকারী ইসলামের বড় বড় মৌলিক মূলনীতিকে (কুল্লি আসাস) তিনি শুধুমাত্র কুল্লিয়াতের খামসার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চাননি। মানুষের সম্মান, তাঁদের চিন্তার স্বাধীনতা, কর্মের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, সম্পদের মালিকানার স্বাধীনতার মতো মৌলিক রাজনৈতিক, সামাজিক অধিকারকেও কুল্লি আসাসসমূহের মধ্যে বিবেচনা করেছেন এবং এগুলোকে মাকাসিদের মধ্যে যুক্ত করেছেন।</p>
<p><strong>তাঁর মতে, হিজরী পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত মুসলিম আলেমগণ ইজতিহাদকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সুন্দর সমাধান পেশ করে আমাদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু তাকলীদের যুগ শুরু হওয়ার পর থেকে যে অনুপম বৈশিষ্ট্যটি ইসলামকে অন্য সকল দ্বীন থেকে স্বাতন্ত্র্য দান করেছে, সে ইজতিহাদ থেকে মুসলমানরা বঞ্চিত হয়েছে।</strong> বর্তমান সময়ে একজন মুজতাহিদকে ইজতিহাদ করতে হলে তাঁকে মাকাসিদ সম্পর্কে অবশ্যই জানা থাকতে হবে। এটা ইজতিহাসের অন্যতম প্রধান শর্ত। কেননা যে ব্যক্তি মাকাসিদ জানে না, তাঁর পক্ষে ইজতিহাদ করা সম্ভবপর নয়। শুধু তাই নয়, মাকাসিদ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিকে মুজতাহিদও বলা যায় না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h3 style="font-family: Kalpurush;">উসূলের মধ্যে &#8216;আমরি ইরশাদী বা ইরশাদী আমরকে&#8217; যুক্তকরণ</h3>
<p>আল্লাল আলা ফাসী তাঁর নতুন উসূলের ধারণাকে একটি ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে গিয়ে কাওয়াইদে ফিকহিয়‍্যার মধ্যে &#8220;ইরশাদী আমর (أمر إرشادي)&#8221; নামক নতুন একটি পরিভাষা যুক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ইরশাদী আমরসমূহ দুই প্রকার:</p>
<p>প্রথমত, যে সকল হুকুম-আহকামের ব্যাপারে কোরআন ও সুন্নত চূড়ান্ত বক্তব্য প্রদান করেছে। এগুলোর ক্ষেত্রে উম্মতের দায়িত্ব হলো, এসকল হুকুম-আহকামের প্রতি পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা এবং এখানে উল্লিখিত আদেশ ও নিষেধকে বিনাপ্রশ্নে বাস্তবায়ন করা।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, কোরআন ও সুন্নত যেসকল হুকুম-আহকামের ক্ষেত্রে সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও মাকাসিদের মাধ্যমে উম্মতের উপনীত হওয়া প্রয়োজন এমন একটি লক্ষ্য দেখিয়ে থাকে। এ ধরণের আদেশসমূহ হলো, &#8220;ইরশাদী আমর (أمر إرشادي)&#8221;। এগুলো হলো সেসব হুকুম-আহকাম, যেগুলোর মাধ্যমে উম্মতের কাছে প্রত্যাশা করা হয় যে তারা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ)-কে অনুধাবনের মাধ্যমে চূড়ান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে। আল্লাল আল-ফাসীর এ কায়েদাটি খাজানের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুসা জারুল্লাহ বিগিয়েফ কর্তৃক উদ্ভাবিত &#8220;আহকাম-ই ইবতিদাইয়া&#8221; এবং &#8220;আহকাম-ই বিফাকিয়া&#8221; নামক পরিভাষাদ্বয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।<sup>৬</sup></p>
<p>যেমন, তিনি মদ হারাম হওয়ার বিষয়টিকে ইরশাদী আমর হিসেবে বিবেচনা করেছেন এবং মদের হারাম হওয়ার ইল্লতকে শুধুমাত্র &#8216;মত্ততা কিংবা মাতাল হওয়া বোঝাকে ইরশাদী আদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট মনে করেননি। মদকে যে আয়াতের মাধ্যমে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে সে আয়াতটি হলো,</p>
<p>إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاء فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلاةِ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ</p>
<p>অর্থ: শয়তান তো চায়, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব, তোমরা এখনও কি নিবৃত্ত হবে?&#8217;<sup>৭</sup></p>
<p><strong>আল্লাল আল ফাসীর মতে, উক্ত আয়াতে ইরশাদী আমরের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনটি ইল্লত রয়েছে। সেগুলো হলো,</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১. মানুষদের মধ্যকার আদালতকে বিনষ্ট করা।</strong><br />
<strong>২. মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সঞ্চার করা।</strong><br />
<strong>৩. মানুষকে আল্লাহর যিকির ও নামাজ থেকে দূরে রাখা।</strong><sup>৮</sup></p>
<p>অনুরূপভাবে এতিমের সম্পদকে তাঁদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার যে আয়াত রয়েছে সে আয়াতটি হলো,<br />
وَ ابْتَلُوا الْيَتَمَى حَتَّى إِذا بَلَغُوا النِّكَاحَ فَإِنْ أَنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوا إِلَيْهِمْ أَمْوَالَهُمْ<br />
অর্থ: আর ইয়াতীমরা বিয়ের যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে পরীক্ষা করে নাও; অতঃপর যদি তাদের মধ্যে বিবেক-বুদ্ধি পরিদৃষ্ট হয় তাহলে তাদের ধন-সম্পত্তি তাদেরকে সমর্পণ করো।<sup>৯</sup></p>
<p>আল্লাল আল ফাসী, ইরশাদী আমরের দাবি অনুযায়ী এতিমের সম্পদ হস্তান্তরের জন্য কেবল রুশদ (বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা) নয়, একইসাথে অভিজ্ঞতাকেও শর্ত হিসেবে যুক্ত করেছেন। তবে তাঁর এই শর্তটি অধিকাংশ আলেমই গ্রহণ করেননি।</p>
<p>আল্লাল আল ফাসী তায়াদ্দুদু যাওজাত তথা বহুবিবাহের ব্যাপারেও তার এ ইরশাদী আমরের নীতিকে প্রয়োগ করেছেন।</p>
<p>যে আয়াতের মাধ্যমে বহু বিবাহের ব্যাপারে রুখসত দেওয়া হয়েছে সেই আয়াতটি হলো,</p>
<p>فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلث وَرُبَعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ۖ ذَلِكَ أَدْنَى أَلَّا تَعُولُوا</p>
<p>অর্থ: &#8220;তোমরা পছন্দনীয় নারীদের মধ্যে থেকে দু&#8217;টি, তিনটি অথবা চারটি বিয়ে করো। কিন্তু যদি তোমরা ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা করো, তাহলে একজন নারীর সাথেই সীমাবদ্ধ থাকো অথবা তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাসীদের সঙ্গেই সন্তুষ্ট থেকো। এটি হলো আদালত থেকে বিচ্যুত না হওয়ার জন্য অধিকতর উপযুক্ত।&#8221;<sup>১০</sup></p>
<p>ইরশাদী আমরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে আদালত বজায় রাখা সাপেক্ষে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বহু বিবাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে এমন কোনো রুখসত দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, বহুবিবাহের বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে, কিংবা বিশেষায়িত ক্ষেত্রের জন্য। সামাজিক পর্যায়ে একে গণহারে উৎসাহিত করা, কিংবা এর ব্যাপক প্রচলন করা, কোনোটাই ইসলামের উদ্দেশ্য ছিলো না।</p>
<p><strong>পারিবারিক ব্যবস্থাকে আদালতের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে মূল বিষয় কী হবে? অর্থাৎ এখানে কাকে প্রাধান্য দেয়া হবে? ব্যক্তি নাকি সমাজ? সকলেই এই ব্যাপারে একমত হবেন যে, সমাজ-ই হবে মুখ্য বিষয়। ফলশ্রুতিতে ইরশাদী আমরের দৃষ্টিকোণ থেকে আয়াতের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো, এক বিবাহ।</strong></p>
<p>একইভাবে তাঁর মতে, যুদ্ধের আয়াতসমূহও বিশেষ পরিস্থিতির বিবেচনায় বিভিন্ন মাসলাহাতের বা কল্যাণের জন্য যুদ্ধের ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেছে। তবে এখানে মূল বিষয় কী? যুদ্ধ নাকি শান্তি? আমরা যদি কুল্লি আসাস বা সামগ্রিক মূলনীতির আলোকে দেখি তাহলে দেখতে পাই যে ইরশাদী আমরের দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে মূল বিষয় হলো শান্তি বা সুলহ।</p>
<p>দাসপ্রথার ব্যাপারেও ইরশাদী আমরের দৃষ্টিকোণ থেকে শরীয়ত প্রণেতার চূড়ান্ত উদ্দেশ্যকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। রাসূল (স.) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে যদিও তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার কারণে দাসপ্রথাকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়নি তবে শরীয়ত প্রণেতা মানুষের স্বাধীনতার দিকে যে পরিমাণ গুরুত্বারোপ করেছেন, যদি সেদিকে দৃষ্টিপাত করা হয় তাহলে ইরশাদী আমরের দাবি অনুযায়ী শরীয়ত প্রণেতার মূল উদ্দেশ্য হলো দাসপ্রথার বিলোপ সাধন।</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>টীকাঃ</strong></p>
<div style="font-size: 18px;">
<p>১. আল্লাল আল ফাসী, মাকাসিদুস শারিয়াতিল ইসলামিয়্যা ওয়া মাকারিমাহা।</p>
<p>২. বারায়াতে আসলিয়্যা (البراءة الأصلية) কে উসূলে ফিকহের ইসতিসহাব-এর একটি ধরণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার ভিত্তিতে বলা হয়-যে দায়িত্ব বা দায়বদ্ধতার অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো প্রমাণ না থাকলে, সেটি মূলত ব্যক্তির উপর বর্তায় না। অন্যভাবে বললে, যদি কোনো ব্যক্তির ওপর কোনো দায়িত্ব, ঋণ, নিষেধাজ্ঞা বা দায় আরোপ করতে হয়, তবে তার জন্য স্পষ্ট প্রমাণ থাকা আবশ্যক। প্রমাণ না থাকলে ব্যক্তিকে &#8220;দায়মুক্ত&#8221; হিসেবে বিবেচনা করা হয়। (অনুবাদক)</p>
<p>৩. সাবিত-ওয়াসিফ, উসূল ফিকহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচ্য বিষয়। একটি জিনিস বা ব্যক্তির নির্দিষ্ট কোনো গুণ (বিশেষত্ব) স্থায়ীভাবে তার সঙ্গে থাকে কি না, অর্থাৎ একটি গুণ একটি জিনিসের বা ব্যক্তির সঙ্গে স্থায়ীভাবে সম্পর্কিত কিনা, তা বোঝানোর জন্য এই সাবিত ও ওয়াসিফ নামক বিষয়টি দিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। অন্যভাবে বললে, সাবিত-ওয়াসিফ হলো, একজন ব্যক্তির পূর্ববর্তী অবস্থা, গুণ বা বৈশিষ্ট্য যদি পরিবর্তন না হয়, তবে সেটি তার সাথে অব্যাহত থাকবে কি না, এ বিষয়টি নির্ধারণকারী একটি নীতি। অন্যভাবে বললে,<br />
সাবিত-ওয়াসিফ হলো একটি জিনিস বা ব্যক্তির যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, সেটি সেই ব্যক্তি বা বস্তুতে আছে কি না এবং তা চলতে থাকবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। এটি ইসতিসহাবের কাছাকাছি একটি ধারণা। এখানে, একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য যদি একটি ব্যক্তির বা জিনিসের থেকে চলে না যায়, তবে এটি অব্যাহত থাকে। তবে, শুধুমাত্র তখনই তা পরিবর্তিত হবে যদি কোনো প্রমাণ (যেমন, অন্য একটি সিদ্ধান্ত বা নতুন কোনো ঘটনা) সামনে আসে।<br />
<strong>উদাহরণ:</strong> ধরা যাক, একজন ব্যক্তি পূর্বে একটি অপরাধে দোষী ছিলো এবং এমন নতুন কোনো প্রমাণ নেই, যা তার নির্দোষ হওয়াটা প্রমাণ করবে। তাহলে সে এখনও অপরাধী হিসেবেই গণ্য হবে। অন্য কথায়, সে তার অপরাধী হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি হারায়নি। তবে, যদি সে তার নির্দোষ হওয়া প্রমাণ করতে কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করে, তবে তার সাবিত-ওয়াসিফ পরিবর্তিত হবে এবং তাকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এটি সাবিত-ওয়াসিফ ধারণার একটি সাধারণ উদাহরণ। (অনুবাদক)</p>
<p>8. إبقاء ما كان على ما كان, উসূলের গুরুত্বপূর্ণ একটি মূলনীতি এবং এর অর্থ হলো &#8220;পূর্ববর্তী অবস্থাকে পূর্বের মতোই বজায় রাখা।&#8221; এই নীতি অনুযায়ী, একটি বিদ্যমান অবস্থা, যদি কোনো পরিবর্তনের জন্য স্পষ্ট প্রমাণ না থাকে, তবে তা যেমন ছিলো তেমনি অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যভাবে বললে, কোনো জিনিসের বর্তমান অবস্থা, তার পরিবর্তনের জন্য একটি যথাযথ কারণ না পাওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে এবং পূর্বের অবস্থায় চলতে থাকে। এ নীতি ইসতিসহাবের মূলনীতির সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।</p>
<p>৫. আল্লাল আল ফাসী, মাকাসিদুস শারিয়াতিল ইসলামিয়্যা ওয়া মাকারিমাহা।</p>
<p>৬. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, Musa Carullah, İslam Şeriatının Esasları, çev. Hatice Kübra Görmez, OTTO yay., 2017 Ankara. একইসাথে, আল্লামা মুসা জারুল্লাহ বিগিয়েফের চিন্তাদর্শন সম্বন্ধে জানতে পড়ুন, <a href="https://rowyakbd.com/the-philosophy-of-allama-musa-jarullah-bigiev/">আল্লামা মুসা জারুল্লাহ বিগিয়েফ এর চিন্তাদর্শন (১৮৭৫-১৯৪৯)</a>।</p>
<p>৭. সূরা মায়েদা, ৯১।</p>
<p>৮. আল্লাল আল ফাসী, মাকাসিদুশ শারিয়াতুল ইসলামিয়্যা ও মাকারিমাহা</p>
<p>৯. সূরা নিসা, ৬।</p>
<p>১০. সূরা নিসা, ৩।</p>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/allal-al-fasi-n-his-philosophy-on-the-renewal-of-usul/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16875</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কোরআন কীভাবে পড়বো?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. জাসের আল আওদাহ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 18 Apr 2026 13:56:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16756</guid>

					<description><![CDATA[بسم الله الرحمن الرحيم আল কোরআন দুনিয়ার সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। তবে কোরআনকে কীভাবে পড়তে ও বুঝতে হবে, এই প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন পন্থা বা মেথডের আলোচনা সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রে মাকাসিদকে কেন্দ্রে রেখে “মাকাসিদভিত্তিক পদ্ধতি” (Maqasid Methodology) ব্যবহার করে কীভাবে পবিত্র]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>بسم الله الرحمن الرحيم</p>
<p>আল কোরআন দুনিয়ার সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ। তবে কোরআনকে কীভাবে পড়তে ও বুঝতে হবে, এই প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন পন্থা বা মেথডের আলোচনা সামনে চলে আসে। এক্ষেত্রে মাকাসিদকে কেন্দ্রে রেখে “মাকাসিদভিত্তিক পদ্ধতি” (Maqasid Methodology) ব্যবহার করে কীভাবে পবিত্র কোরআন পাঠ করতে হবে, এ বিষয়টিই এ প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয়।</p>
<p>শুরুতেই একটি স্বাভাবিক প্রশ্নের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। প্রায়ই আমরা এই প্রশ্নটি করে থাকি যে- “আমি কীভাবে কোরআন পড়ব?” প্রশ্নটি দেখতে হয়তো খুব সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের জন্য এটি ব্যাখ্যা করা অত্যন্ত জটিল। কেন? কারণ পবিত্র কোরআন বোঝার জন্য এমন কিছু দরজা আছে, যা আল্লাহ নিজেই বান্দার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।</p>
<p>আমাদেরকে সেই দরজায় কড়া নাড়তে হবে, এবং অপেক্ষা করতে হবে কখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা আমাদের দোয়া কবুল করে কোরআনের আয়াত সমূহ, নিদর্শন, মিসাল ও অর্থগুলো আমাদের সামনে উন্মুক্ত করবেন। যেটি পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য নতুন ভাবনার উন্মেষ ঘটাবে। এরপর আমরা সেই অর্থ ও উপলব্ধির মধ্যে এক নতুন সম্পর্ক খুঁজে পাবো, বুঝতে শুরু করবো কোরআনের কিছু বক্তব্য কীভাবে আমাদের প্রশ্ন ও উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p>এজন্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনের কাছে আমাদের দ্বারস্থ হতে হবে একদম পরিষ্কার মন নিয়ে, যেন একেবারে নতুন একটি পাতার মতো আমরা সেখানে উপস্থিত হয়েছি। যাতে করে আমাদের উপলব্ধিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারকারী নিদর্শন সমূহ আমরা লিপিবদ্ধ করে উপকৃত হতে পারি। শুধু তাই নয়, কোরআনের কাছে আমাদের যেতে হবে এমন একটি হৃদয় নিয়ে, যা আল্লাহর কাছে একান্তে হেদায়েত প্রত্যাশা করে। কারণ কোরআন হলো কেবল তাদের জন্যই পথনির্দেশ, যারা আল্লাহভীরু। যদি আমাদের অন্তরে সমস্যা ও রোগাক্রান্ত থাকে, তবে কোরআনের গভীর জ্ঞান, বোঝাপড়া বা ফিকহ সংশ্লিষ্ট জ্ঞান অর্জন করা আমাদের জন্য কখনোই সম্ভব হবেনা। কারণ কোরআন হলো মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত সরূপ, যেমন বলা হয়েছে- <strong>“হুদা ওয়া রহমাতুল্লি কওমিন ইউ’মিনুন।”</strong></p>
<p>আমরা জানি, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি আমাদের বিশ্বাস স্থাপনের পরের স্তরে ঈমানের গভীরতা সকলের এক নয় এবং এটি ওঠানামা করে। যেমন, নেক আমল করলে তা বৃদ্ধি পায়, আর গুনাহ করলে তা কমে যায়। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যদি আমাদের নৈতিক বা মানসিক সমস্যা থেকে থাকে, যদি ঈমানের প্রাথমিক স্তরে পরিপূর্ণনা না থেকে থাকে কিংবা যদি সন্দেহ পোষণ করে থাকি; তবে এইভাবে কোরআন পড়ার আগে সেই সমস্যাগুলো দূরীকরণের উপর বিশেষ মনোযোগী হতে হবে ও এজন্য কাজ করতে হবে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে তখন আমরা একেবারে নির্ভুল হয়ে কোরআন পড়তে পারবো। আমরা সবাই মানুষ, আমাদের সবারই ভুল আছে। কিন্তু অন্তত বড় বড় সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে, যাতে আমাদের হৃদয় সমূহ মহান আল্লাহর দেওয়া পবিত্র জ্ঞান গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারে।</p>
<blockquote><p>মহাগ্রন্থ আল কোরআন একটি শাশ্বত আলো। আমরা যখন তা পড়তে শুরু করি, তখন আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেখানে স্বয়ং নিজেই আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি এমন নয় যে অন্য কেউ আল্লাহর কথা বর্ণনা করছে; এটি সরাসরি আল্লাহরই বাণী। এ কারণে এই বাণীর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকে। মানব রচিত যেকোনো বক্তব্য থেকে তার আলোকবর্তিকা ভিন্ন এক ছন্দের মাধ্যমে আমাদের হৃদয় সমূহ বিগলিত করে যায়। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা নিজেই বলছেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির মতো নয়।</p></blockquote>
<p>ফলে আমরা বলি, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। কিন্তু তাঁর শোনা আমাদের মতো নয়, তাঁর দেখা আমাদের মতো নয়, তাঁর জীবনও আমাদের মতো নয়। আমাদের জীবন দেহ ও আত্মার সমন্বয়, কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এ কারণেই তাঁর বাণীও আমাদের বাণীর মতো নয়। হ্যাঁ, আমরা এটি আরবি ভাষায় পড়ি। কিন্তু এটি তাবৎ জাহানের সকল লেখ্যরূপের চেয়েও ভিন্ন। এর শব্দের নির্বাচন, ধ্বনি, শব্দমূল, বাক্যের বিন্যাস, আয়াতের ক্রম; সবকিছুতেই এক ঐশ্বরিক বিশেষত্ব রয়েছে। ভাবার্থের জায়গা থেকেও কখনো বাক্যের মাঝেই একবচন থেকে বহুবচনে পরিবর্তন হয়, কখনো আখিরাত থেকে দুনিয়া, আবার দুনিয়া থেকে আখিরাতে ফিরে আসে। এটি এক অসাধারণ গ্রন্থ। তাই আমাদেরকে সেই দরজায় কড়া নাড়তেই হবে, যাতে মহান আল্লাহ আমাদের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেন এবং আমাদের প্রতি সহায় হোন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এজন্য আমাদের যে বিষয়টি করা জরুরী তা হলো একটি পবিত্র হৃদয়কে কোরআনের সামনে নিবেদিত করে কোরআন থেকে জ্ঞান উৎপাদনের চেষ্টা করা। প্রকৃত ফিকহ এটিই। কোরআনের গভীর বোঝাপড়া নির্ণয়ের চেষ্টা করা; <strong>শুধু কিছু ফিকহি বিধানই “ফিকহ” এর মতো গভীর একটি বিষয়কে পরিপূর্ণতা দেয়না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ফিকহ কেবল শরীয়তের বিধান নিয়ে আলোচ্য কোনো বিষয় নয়; এটি আমাদের জ্ঞানের একটি বিস্তৃত ধারণা। যেমন স্থাপত্য, চিকিৎসা, মনোবিজ্ঞান, শিক্ষা, প্রকৌশল, নীতি নির্ধারণ; সব ক্ষেত্রেই ফিকহের প্রয়োগ রয়েছে, পাশাপাশি হাদীস ও দাওয়াহর ক্ষেত্রেও।</strong> এখানে আমরাই গবেষক, আমরাই পাঠক, এবং এক অর্থে আমরাই মুজতাহিদ। আমাদের কাজ হলো- নতুন তত্ত্ব, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির চেষ্টা করে যাওয়া।</p>
<p>কোরআন পাঠের অর্থবহতা তো কেবল তখনই পরিপূর্ণতা পায় যখন আমরা এখান থেকে কোনো সমস্যার নতুন সমাধান আবিষ্কার করতে চেষ্টা করবো, নতুন কৌশল তৈরি করতে স্বচেষ্ট হবো, অথবা আমাদের নিজস্ব জ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুনভাবে কাঠামো নির্মাণ করে তা নিয়ে পুনরায় গবেষণা করবো। এজন্য আমি পরামর্শ দিতে পারি যে, আপনারা যে যেই ক্ষেত্রেই দক্ষ হোন না কেন, বিভিন্ন ভাষা ও বিভিন্ন লেখকের লেখা তাফসির পাঠ করা অত্যন্ত জরুরী। আমি বলছি না যে আপনি ফকিহদের মতো ফতোয়া দেবেন, বরং আমাদের নিজ নিজ প্রেক্ষাপট ও নিজস্ব অবস্থানের আলোকেও কোরআনকে বুঝতে চেষ্টা করার মধ্য দিয়ে এর একটি সামগ্রিকতা আমাদের সামনে নতুন করে হাজির হতে পারে। যেমন, কানাডার একজন ইঞ্জিনিয়ার কোরআনকে একভাবে পড়বে, আবার সামরিক বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী ভিন্নভাবে পড়বে। এর মানে এই নয় যে এইক্ষেত্রে তাফসীর অপ্রাসঙ্গিক, বরং তা আরো ব্যাপকতা পাবে সেই আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমাদের কোরআনের নিকটবর্তী হওয়া উচিত।</p>
<p>প্রসঙ্গত, জ্ঞানের ইতিহাস এবং নতুন জ্ঞান উৎপাদন; এই দুইয়ের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে। আর আমরা যেন আমাদের সময়ের আলোকে নতুন জ্ঞান তৈরি করতে সক্ষম হতে পারি, সেই বিষয়ে আমাদের স্বচেষ্ট হওয়া জরুরী। এজন্য আমাদের নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট তাফসীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখাটা কখনোই সমীচীন নয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উন্মুক্তকারী জ্ঞান হলো “উসূল”। এর উৎপত্তি ও বিকাশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- ইলমুল উসূল শুধু ফিকহের নিয়ম তৈরির একটি সাধারণ পদ্ধতিই নয়, বরং এটি জ্ঞান উৎপাদনের সীমানা নির্ধারণ করে এবং ইসলামী জ্ঞানকেও একটি দার্শনিক উচ্চতায় উন্নীত করতে সহায়তা করে। বিশেষত আইন ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে মুসলমানদের দার্শনিক জ্ঞান গঠনে উসূল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শুধু তাই নয়, এটি কাঠামো নির্ধারণ, নিয়ম প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণের কাজও করে।</p>
<p>এই কারণে উসূলে ফিকহকে স্রেফ ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে বিষয়টি সঠিক হবেনা, বরং এটি অন্যান্য জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড হিসেবেও কাজ করেছে। সংক্ষেপে, দ্বীনের নামে কথা বলার সীমানা নির্ধারণ করেছে এই জ্ঞান। এজন্য উসূল কেবল একটি জ্ঞানের শাখাই নয়; এটি চিন্তারও একটি পদ্ধতি। <strong>কোরআন ও সুন্নাহ বোঝার ক্ষেত্রে সবসময় উসূলের নীতিমালা ব্যবহার করা হয়েছে।</strong></p>
<p><strong>মাকাসিদ ধারণাটি ক্লাসিক উসূলের “ওয়াসফুল মুনাসিব” থেকে এসেছে। ইমাম গাজালী এটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করেন; জারুরিয়্যাত, হাজিয়্যাত এবং তাহসিনিয়্যাত। তিনি আবার জারুরিয়্যাতকেও পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন; দ্বীন, জীবন, সম্পদ, বুদ্ধি ও বংশ রক্ষা।</strong></p>
<p>কিন্তু বর্তমান সময়ের তাবৎ সব জটিল সমস্যার সমাধানে এই সীমিত ধারণা যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই এখন আমাদের মাকাসিদকে সংকীর্ণ অর্থ থেকে বের করে দ্বীনের সামগ্রিক উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্ত করে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি।</p>
<p>এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে-<br />
সৃষ্টির উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত তাকবীন), জীবন ও সভ্যতার উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল উমরান), ওহী নাযিলের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত তানযীল), কোরআনের উদ্দেশ্য, সুন্নাহর উদ্দেশ্য এবং দায়িত্বের উদ্দেশ্য।</p>
<p>নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর দ্বীনে কোনো অর্থহীন বা উদ্দেশ্যহীন বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সংকীর্ণ চিন্তা কখনো কখনো আমাদের ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। মাকাসিদ আমাদেরকে এই অর্থহীনতা থেকে রক্ষা করে থাকে; যদি আমরা সঠিকভাবে এর অর্থ নির্ধারণ করে দ্বীনের রহমত, হিকমত, ন্যায়বিচার ও কল্যাণকে মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে পারি।</p>
<p>এছাড়া আহকামের পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য বর্তমান সমস্যার সমাধানের জন্য ফিকহকে গতিশীল করতে তিনটি মূলনীতি খুবই গুরুত্ব বহন করে। সেগুলো হলো-</p>
<p><strong>১. সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে হুকুমের পরিবর্তন অস্বীকার করা যায় না।</strong><br />
<strong>২. কোনো হুকুম যদি তার উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল দেয়, তবে তা বাতিল গণ্য হবে।</strong><br />
<strong>৩. নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জিত হলে সেই হুকুমের কার্যকারিতাও শেষ হবে।</strong></p>
<p>এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিলে বর্তমান যুগের সমস্যার উপযোগী কোনো ফিকহ তৈরি করা সম্ভব নয়। এটা এই অর্থে নয় যে তারা ভুল, বা তাদের পদ্ধতি অগ্রহণযোগ্য; বরং আমরা এখানে যে অনুশীলনটি করতে চাইছি, সেটি ভিন্ন। যেমন, যদি আমরা এই অনুশীলনের মধ্যে প্রবেশ করে সরাসরি ইবনে কাসীরের মতো তাফসীর খুলি, তাহলে আমাদের নিজস্ব চিন্তার প্রক্রিয়াটি হয়তো পূর্ণতা পাবেনা।</p>
<p>কারণ <strong>আমরা যদি শিক্ষা বিষয়ে কাজ করি, তাহলে আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা নিশ্চয়ই ইবনে কাসীরের মধ্যে যত্রতত্রভাবে খুঁজে পাব না! কারণ এই তাফসীরে তিনি শিক্ষা-দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআন ব্যাখ্যা করেননি। তিনি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করেছেন যেখানে তিনি আয়াতের সাথে সম্পর্কিত হাদীস, সাহাবা ও তাবেঈদের বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন।</strong> তবে এটি অবশ্যই একটি অত্যন্ত সম্মানিত পদ্ধতি, এবং ব্যক্তিগতভাবে আমিও তাঁর থেকে অনেক কিছু শিখেছি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>কোরআন পড়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- আংশিকতা (partialism), অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন করে পড়া। কোরআন পড়ার সময় কখনোই আমাদের বিচ্ছিন্নভাবে পড়া উচিত না। সবসময় সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</strong> আগের আয়াতের সাথে পরের আয়াতকে যুক্ত করা, শব্দগুলোর মধ্যে সম্পর্ক খুঁজতে চেষ্টা করা। সেইসাথে, কেন এমন বলা হলো; এই “কেন” প্রশ্নটি নিজেকে বারবার করা।</p>
<p>আমি মনে করি, ছোটবেলায় যখন আমরা কোরআন মুখস্থ করতাম, তখন শায়খরা আমাদের পরীক্ষা করার জন্য মাঝখান থেকে আয়াত শুরু করতেন, কখনো কখনো শব্দের মাঝখান থেকেও। এর ফলে আমাদের মধ্যে কোরআনকে টুকরো টুকরো করে দেখার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি চাই না আমরা কোরআনকে এভাবে ভেঙে ফেলি। বরং আসুন আমরা কোরআনকে তার অর্থবহতার জায়গা থেকে সমন্বিতভাবে (integrated) পড়তে চেষ্টা করি।</p>
<p>ধরুন, আপনি একজন অর্থনীতিবিদ, এবং আপনি “আল-মাল” (সম্পদ/ধন) শব্দে এসে থামলেন। তখন নিজেকে প্রশ্ন করুন যে কোরআনের আর কোথায় “আল-মাল” এসেছে? আগের সূরায় কি এ বিষয়ে কিছু পড়েছিলাম? গিয়ে মিলিয়ে দেখুন। সংযোগ তৈরি করুন। আমরা পড়ার সুবিধার জন্য কোরআনকে সাত ভাগে ভাগ করছি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা এই অংশগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে ভেঙে ফেলবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তৃতীয় বিষয়টি হলো- অ্যাপোলোজেটিক্স (apologism), অর্থাৎ নিজের পূর্বধারণা কোরআনের উপর চাপিয়ে দেওয়া। এই বিষয়টি ভীষণ গুরুত্বের সাথে আমাদের পরিত্যাগ করা উচিত।</strong> যেমন, আপনি যদি একজন অর্থনীতিবিদ হন, তাহলে কোরআনের মধ্যে পুঁজিবাদ খুঁজবেন না। যদি আপনি মনোবিজ্ঞানী হন, তাহলে ফ্রয়েডকে কোরআনের মধ্যে বসানোর চেষ্টা করবেন না। যদি আপনি সমাজবিজ্ঞানী হন, তাহলে ডুরখাইমের তত্ত্ব দিয়ে কোরআন ব্যাখ্যা করবেন না। উদাহরণ হিসেবে, ডুরখাইম সমাজে মানুষের শ্রেণিবিন্যাসকে তাদের আত্মপরিচয়ের উপর ভিত্তি করে দেখেন। আজকের দিনে যেমন লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কিন্তু কোরআন এভাবে শ্রেণিবিন্যাস করে না।</p>
<p>কোরআনে দল বা গোষ্ঠীর পরিচয় তাদের নিজেদের দাবির উপর নয়, বরং নির্দিষ্ট মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। তাই আমাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানকে কোরআনের উপর চাপিয়ে দিয়ে সেটিকে “ন্যায়সঙ্গত” প্রমাণ করার চেষ্টা করা ভীষণ কদার্য মানসিকতার পরিচয়। তাহলে কোরআন শুধু উন্নয়ন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক চুক্তির বইয়ে পরিণত হয়ে যাবে; যা আসলে কোরআনের মূল আলোচ্য বিষয় নয়। এমনকি “সমতা” (equality) বা “স্বাধীনতা” (freedom) -এই শব্দগুলোও কোরআনে সরাসরি নেই। এর মানে এই নয় যে এসব মূল্যবোধ নেই; বরং এটি একটি গভীরতর আলোচনার বিষয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>চতুর্থ বিষয়টি হলো বিরোধ (contradiction)। আকল (যুক্তি) ও নকল (ওহী/প্রমাণ) এদের মধ্যে বিরোধ খোঁজার চেষ্টা করা যাবেনা। কোরআনকে এদের ঊর্ধ্বে রাখুন।</strong></p>
<p>কোরআন সর্বোচ্চ, এবং এটি সবকিছুকে সমন্বিত করে। এছাড়া “ডিকনস্ট্রাকটিভ” দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কোরআন পড়া যাবেনা। যেমন শুরুতেই ক্ষমতার কাঠামো খোঁজা, যেমন পিতৃতন্ত্র (patriarchy)। কোরআন পুরুষের ক্ষমতা বা নারীর ক্ষমতা; কোনোটিরই বই নয়। এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা বা সাধারণ মানুষের ক্ষমতার বইও নয়; এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।</p>
<p>বিশেষ করে যারা সমাজবিজ্ঞান পড়েছেন, তারা এ ধরনের বিশ্লেষণে প্রশিক্ষিত হন, কিন্তু কোরআনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবেনা।</p>
<p>এতোক্ষণ যে বিষয় গুলো আমি তুলে ধরার চেষ্টা করছিলাম, এগুলো ছিল “কি করা যাবে না”।</p>
<p>এখন আসুন আলোকপাত করা যাক কোরআন পাঠের ক্ষেত্রে “কি করতে হবে” -এই বিষয় নিয়ে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রথমত, আমরা যে উপাদান সমূহ নিয়ে আলোচনা করছি, সেগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখি।</strong> বিশেষ করে “উদ্দেশ্য” (objectives)। চলুন প্রতিনিয়ত প্রশ্ন করি, আল্লাহ কেন এটি বলছেন? কেন এভাবে বলা হলো? কেন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়নি? যেমন, কেন কোরআনে “সমতা” শব্দটি নেই? বরং এখানে স্তরভেদ (hierarchy) আছে। “ফাদ্দালাল্লাহু…” (আল্লাহ কিছু মানুষকে অন্যদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন)।</p>
<p>তাহলে এবার প্রশ্ন করি যে সমতার মধ্যে তবে সমস্যা কী? একইভাবে, কেন “ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি” নেই? কেন “গণতন্ত্র” নেই? এই “কেন” প্রশ্নগুলো আমাদেরকে একটি সুসংগঠিত সমালোচনামূলক চিন্তায় নিয়ে যাবে। “কেন” প্রশ্ন ভবিষ্যতের সাথে সম্পর্কিত, এবং এটি সমন্বিত চিন্তার দরজা খুলে দেয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত বিষয়টি হলো, ধারণা (concepts) বিশ্লেষণ করা। যেমন, বিয়ে (marriage) বনাম যিনা (zina)।</strong> এই দুটি ধারণার ভিত্তিতে সমাজ ও পরিবারকে বুঝার চেষ্টা করি। কোরআনের দৃষ্টিতে “ইলম” (জ্ঞান) আসলে কী? মানুষ (human) কী; এই ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ডাক্তার, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ বা স্থপতি বা যাই হই না কেন, “মানুষ” ধারণাটি আমাদের জন্য কেন্দ্রীয়।</p>
<p>একজন স্থপতির জন্য যে স্থানে মানুষ বসবাস করবে, সেই স্থানে মানুষের ভূমিকা কী? এই ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করে আমাদেরকে আমাদের নিজস্ব তত্ত্বগুলোকে পুনর্গঠন করতে হবে।</p>
<p><strong>তৃতীয়ত, মূল্যবোধ (values) নির্ধারণ করা।</strong> এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা যে নৈতিকতা কী? সৌন্দর্য কী? উপকার ও ক্ষতি কী? কোরআন আমাদেরকে এই মানদণ্ডগুলো নতুনভাবে গঠন করে দেবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>চতুর্থত, কোরআনের নির্দেশনাগুলো (commands) খুঁজে বের করার চেষ্টা করা।</strong> কি করতে হবে, আর কি থেকে বিরত থাকতে হবে। আসলে এইভাবেই কোরআন পাঠ একটি গভীর, সমন্বিত এবং সৃজনশীল জ্ঞানচর্চায় পরিণত হবে। মনে রাখা জরুরী যে, কোরআনে “করণীয়” ও “বর্জনীয়” বিষয়গুলো শুধু আহকামের জন্য নয়; শুধু হালাল-হারাম বা ওয়াজিবের বিধানও নয়। বরং এগুলো আরও বহু বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য।</p>
<p>কোরআন আমাদেরকে পৃথিবীতে চলতে, পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পরিণতি দেখতে, আগের প্রজন্ম ও সভ্যতাগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে নির্দেশ দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এটি এমন একটি নির্দেশ যা সরাসরি বাধ্যতামূলক বিধানের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু, নির্দেশনাগুলোর দিকে তাকান এবং দেখুন কীভাবে আপনি সেগুলোকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেন। এটা আমাদের জন্য কোআরনের নতুন নতুন দিকগুলো উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।</p>
<p>এরপর রয়েছে সার্বজনীন নিয়মাবলি বা সুন্নাতুল্লাহ। যখন আল্লাহ বলেন যে এগুলো পুনরাবৃত্ত হয় কিংবা এই ধারাবাহিকতা বিদ্যমান; আমরা দেখি:<br />
“وكذلك نجزي المحسنين”<br />
অর্থাৎ, “এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিই।”</p>
<p>এরপর এই নিয়মগুলোর দিকে তাকাই। কী সেই প্যাটার্ন? ইতিহাসের প্যাটার্ন, ভূগোলের প্যাটার্ন, সমাজের প্যাটার্ন; আমরা যে ক্ষেত্র থেকেই আসি না কেন। সুনানুল্লাহ খুঁজুন, এখানে আল্লাহর নিয়ম কী? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার ধারা কী? এরপর গোষ্ঠীগুলোর দিকে তাকাই। এবং যখন আমরা গোষ্ঠীগুলো দেখবো, তখন সেগুলোকে আমাদের ধারণার সাথে সংযুক্ত করবো।</p>
<p>কারণ কোরআনে এবং ইসলামে গোষ্ঠীগুলো মানুষের স্বাভাবিক ধারণা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।<br />
যেমন—<br />
العلم والعلماء<br />
والتجارة والتجار<br />
والملك والملوك ইত্যাদি।</p>
<p>প্রতিটি গোষ্ঠীর সাথে একটি ধারণা যুক্ত থাকে। কিন্তু ইংরেজি ভাষায় আমরা এই বিষয়টি ততটা পাই না। আমরা সহজেই কোনো একটি গোষ্ঠীকে “terrorists” বলে লেবেল দিই, কিন্তু “terror” কী তা সংজ্ঞায়িত করি না। অথবা আমরা কাউকে “celebrities” বলি; কিন্তু সেটার অর্থ কী, সেটাও স্পষ্ট করি না। আমরা কীভাবে এগুলো সংজ্ঞায়িত করব? ধারণাটি কী? এবং সেই ধারণার কি কোনো কর্তৃত্ব (سلطان) আছে?</p>
<p>আসলে আমাদের আধুনিক সমাজ ধারণাগত ও গোষ্ঠীগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, বিশেষ করে বিশ্বকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে। কী সঠিক, কী ভুল, কী ভালো মূল্যবোধ; এসব নির্ধারণেও আমরা বিভ্রান্ত। এখন মূল্যবোধ মানেই যেন সংখ্যা আর সংখ্যা বেশি মানেই ভালো।</p>
<p>কিন্তু আল্লাহ বলেন:<br />
“قل لا يستوي الخبيث والطيب ولو اعجبك كثرة الخبيث”<br />
অর্থাৎ, “বলুন, অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য আপনাকে মুগ্ধ করে।”</p>
<p>প্রমাণ (حجج) বিষয়টি নিয়েও ভাবুন। একটি শক্তিশালী প্রমাণ (برهان) ও একটি ভ্রান্ত যুক্তি (fallacy)-এর মধ্যে পার্থক্য কী? কোরআন আমাদের এই বিষয়গুলোও শেখায়।</p>
<p>বিশেষ করে ফিরআউনের দর্শনগুলো দেখুন, <strong>শুধুমাত্র ফিরআউনের দর্শনই আমাদেরকে যুক্তি নির্মাণের অনেক পদ্ধতি দেখাবে। তাই পড়ার সময় এগুলো খুঁজে দেখা জরুরী। এবং মনে রাখতে হবে যে এগুলো আলাদা আলাদা বিষয় নয়।</strong> যেমন, আপনি যেন এক্সেল শিট খুলে না বলেন “এটা একটি concept, এটা একটি objective।” ন্যায় (العدل، القسط) এটি একইসাথে একটি objective এবং একটি concept। আবার মসজিদ একটি গোষ্ঠী। এবং এটিও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার একটি নিয়মের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p>“قائماً بالقسط” তিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। অতএব, এটি তাঁর একটি নিয়ম। এবং القسط একটি মূল্যবোধ। এবং القسط একটি নির্দেশ। “وأقسطوا” অতএব, এটি সবকিছু। তাহলে কেন আমরা এগুলোকে এতোগুলো উপাদানে ভাগ করলাম? শুধু আমাদের চিন্তাকে উন্মুক্ত করার জন্য, যাতে আমরা বিভিন্ন দিক থেকে বিষয়গুলো দেখতে ও বিবেচনা করতে পারি।</p>
<p>কারণ আমাদের চিন্তার প্রবণতা ভিন্ন। কেউ ধারণা-কেন্দ্রিক শব্দ ও অর্থ খোঁজে। কেউ উদ্দেশ্য-কেন্দ্রিক; সবসময় জিজ্ঞেস করে “কেন?” এবং “আমি কোথায় যাচ্ছি?”</p>
<p>কেউ নির্দেশনাভিত্তিক; তাদেরকে শুধু বলা হলেই হয় “اعدلوا، اقسطوا” তখনই তারা বুঝে নেয়। কিন্তু তারা “قسط” শব্দটি নিয়ে দার্শনিক বিশ্লেষণ করে না। আবার কেউ গোষ্ঠী বিশ্লেষণে আগ্রহী। এভাবে বিভিন্ন ধরণের প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু আমরা মনে রাখিনা যে এই সবকিছুই পরস্পর সংযুক্ত ও আন্তঃসম্পর্কিত। প্রসঙ্গত, এখন মাকাসিদ পদ্ধতি অনুযায়ী এই অনুশীলনে আমরা দুটি ধাপ এক পাশে রেখে পুনরায় কোরআন পাঠের পদ্ধতিকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রথমত রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ। এই অনুশীলনে হাদীস ব্যবহার করব না। এর মানে এই নয় যে হাদীস ভুল, বা আমি সুন্নাহর বিরুদ্ধে; কখনোই না।</p>
<p>আমার কোনো বই-ই এমন নেই যেখানে হাদীস নেই; এক পৃষ্ঠাতেও এক-দুটি বা পাঁচটি হাদীস না থাকে; এমন নয়।</p>
<p>কিন্তু হাদীস একটি ভিন্ন আলোচনার বিষয়। এইবার কোরআন পড়ার সময় আমরা হাদীস অন্তর্ভুক্ত করবো না। কেন? কারণ হাদীসকে কোরআনের আলোকে প্রাসঙ্গিক করতে হয়-<br />
“عرض الحديث على القرآن”</p>
<p>আমি জানি সুন্নি ও শিয়া ঐতিহ্যের মধ্যে এ বিষয়ে দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু এটি আপাতত আমাদের বিষয় নয়, এমনকি আমার মতো একজন গবেষকেরও মূল বিষয় নয়।</p>
<p>আমি এই বিতর্কের ঊর্ধ্বে যেতে চাই। বলতে চাই, হাদীস কেন দেখবেন না? কারণ বর্ণনা (narration) অনেক সময় খণ্ডিত হয়, কিন্তু কোরআন সমন্বিত (integrative)। হ্যাঁ, একটি আয়াত কোরআনের একটি অংশ। কিন্তু আপনি একটি আয়াতকে পুরো কোরআন ছাড়া বুঝতে পারবেন না। এটিই বাস্তবতা। কিন্তু মানুষ হাদীসের ক্ষেত্রে প্রায়ই তা করে, একটি হাদীস নিয়ে নেয়, বাকি অংশ বা প্রেক্ষাপট না দেখেই তা বিশ্লেষণের চেষ্টা করে।</p>
<p><strong>বিশেষ করে জনপ্রিয় হাদীস গ্রন্থগুলোতে অনেক সময় হাদীস কেটে ছোট করা হয়েছে। একজন গবেষক হিসেবে এক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে, বিশেষ করে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের ক্ষেত্রে, তারা অনেক সময় হাদীসকে খুব বেশি সংক্ষিপ্ত করেছে।</strong></p>
<p><strong>হাদীস একটি পূর্ণ অনুচ্ছেদ, কিন্তু আপনি আমাকে পাঁচটি শব্দ দিয়ে বলছেন এটি একটি হাদীস! এমন অনেক উদাহরণ আছে। এছাড়া হাদীসের সাথে সত্যতা (authenticity) বিষয়টি জড়িত এবং সব “সহিহ” সংগ্রহের সবকিছুই সত্য নয়।</strong></p>
<p>হাদীস বর্ণনাকারীর প্রেক্ষাপটের উপরও নির্ভর করে, এমনকি সাহাবির ক্ষেত্রেও। যদি আপনার বিশেষায়ন হাদীসে হয় তাহলে আপনি হাদীস দেখবেন। কারণ আপনাকে দেখতে হবে; কোরআনে সাহাবাদের যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কি হাদীসে একইভাবে এসেছে? অবশ্যই না। কোরআনে তারা “মুহাজিরীন” ও “আনসার” -এটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট।</p>
<p>তাই যদি আপনি হাদীসের গবেষক হন, তাহলে কোরআনের আলোকে হাদীস বিশ্লেষণ করুন। এটি খুব জরুরী। কিন্তু যদি আপনি চিকিৎসা, ব্যবস্থাপনা, আইন, স্থাপত্য, ভাষা বা সমাজবিজ্ঞান; এই ক্ষেত্রগুলোর কোনো একটিতে থাকেন; তাহলে আজ হাদীসকে পাশে রাখুন।</p>
<p>শুধু কোরআনকে ঘিরে চিন্তা করি চলুন, যাতে আমরা একটি কার্যকর আলোচনার দিকে অগ্রসর হতে পারি। আমি জানি এভাবে পড়তে গিয়ে অবশ্যই আমাদের মনে আসবে “আমি তো একটি হাদীস জানি, যা এর সাথে মেলে না!” ঠিক আছে; এসব নিয়ে আমরা অন্য কোনো প্রবন্ধে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আরেকটি বিষয়, এই অনুশীলনে আমরা অন্যান্য জ্ঞান বা সমালোচনামূলক গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করবো না। অর্থাৎ আমরা যা করছি তা হলো: উদ্দেশ্য নির্ধারণ, কোরআনের উপর চিন্তা-ভাবনা, এবং একটি কাঠামো (framework) তৈরি করা; concept, objective ইত্যাদি নিয়ে।</p>
<p>আমরা অন্যান্য জ্ঞানের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ আপাতত বাদ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো কোরআন থেকে নতুন তত্ত্ব ও নীতি খুঁজে বের করা। যেমন, “কোরআনে সম্পদ সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে, তাই একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে আমি সম্পদের সংজ্ঞা পরিবর্তন করতে পারি।” অথবা “কোরআনে সৌন্দর্যের একটি বিশেষ ধারণা রয়েছে, তাই একজন শিল্পী হিসেবে আমি সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা দিতে পারি বা এটিকে বিশেষায়িত করতে পারি।” তাই এই পর্যায়ে সুন্নাহ ও অন্যান্য সমালোচনামূলক গবেষণা আমাদের জন্য এক পাশে রাখাটাই শ্রেয়।</p>
<p>আলোচনার এই অংশে এখন আমাদের উদ্দেশ্য কী? চলুন নিজেদেরকে এই চারটি শ্রেণির একটিতে স্থাপন করি:</p>
<p>১. دراسات اصولي(শাস্ত্রভিত্তিক গবেষণা)<br />
২. دراسات فينومينا(ঘটনাভিত্তিক গবেষণা)<br />
৩. دراسات ديسبلنري (শাখাভিত্তিক গবেষণা)<br />
৪. دراسات استراتيجي (কৌশলগত গবেষণা)<br />
যদি আমি ফিকহে বিশেষজ্ঞ হই, তাহলে কোরআনের সাথে আমাদের শেখা ফিকহ তুলনা করি। যেমন, পারিবারিক আইন। আমি নিজে ফতোয়া ও আদালতের কাজে পারিবারিক আইন নিয়ে কাজ করি এবং বড় পার্থক্য দেখি। যেমন বিয়েকে একটি “চুক্তি” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কিন্তু কোরআনের দৃষ্টিতে এটি কেবল চুক্তি নয়। বা এটি শুধু “লাভ বিনিময়ের চুক্তি” নয়, এভাবে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়।</p>
<p>এমনকি “الاحتباس” নামক একটি তত্ত্ব আছে, যেখানে বলা হয়, স্ত্রী যেন স্বামীর ঘরে বন্দি! সে বাইরে যেতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে, না হলে তার ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে যাবে! তালাক হলে ক্ষতিপূরণও পাবে না! এগুলো কী ধরনের ধারণা? তাই যদি আমরা উসূলভিত্তিক গবেষণায় থাকি, তাহলে কোরআনের আলোকে ফিকহ, হাদীস, তাফসীর সবকিছুই চলুন পুনর্বিবেচনা করি।</p>
<p>এবার আমরা যদি নিজেকে কোনো শাখার (discipline) অধীনে রাখি, তাহলে আমরা মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, প্রাকৃতিক বিজ্ঞান বা প্রয়োগমূলক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। যেমন, রাজনীতি, মনোবিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। নিজেকে এই শ্রেণির একটিতে রাখুন এবং সেই অনুযায়ী আমাদের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করি।</p>
<p>শাখাভিত্তিক গবেষণায় মূল কাজ হলো, আমাদের শাস্ত্রের মৌলিক ধারণাগুলো পুনঃসংজ্ঞায়িত করা। যেমন, ভাষা কী? ইতিহাস কীভাবে বোঝা উচিত? কোরআন ইতিহাসকে যেভাবে উপস্থাপন করে তা প্রচলিত ইতিহাস তত্ত্বের মতো নয়। সমাজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি আমরা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা সমস্যা (phenomena) নিয়ে কাজ করি, যেমন দারিদ্র্য; তাহলে যেন পুরো কোরআনের আলোকে সেটি বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। শুধু “فقراء” শব্দ খুঁজে বের করলেই হবে না। কোরআন অনেকভাবে দারিদ্র্যের কথা বলে, এমনকি শব্দটি ব্যবহার না করেও।</p>
<p><strong>আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ভাষাগত সীমাবদ্ধতায় আমরা নিজেদেরকে আটকে না ফেলি। গণনা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বিষয়বস্তু গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি বলে, কোরআনে “শরীয়াহ” শব্দটি মাত্র দুইবার এসেছে, তাই এটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; এটি ভুল ধারণা। পুরো কোরআনই শরীয়াহ।</strong></p>
<p>স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ হলো সংগঠনভিত্তিক বিশ্লেষণ, যেমন একটি NGO, রাষ্ট্র বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখানে কোরআনকে বাস্তব প্রয়োগ করতে হবে। আপনার সংস্থার লক্ষ্য কোরআনের উদ্দেশ্য থেকে নির্ধারণ করুন, অন্য কোনো মতবাদ থেকে নয়। আপনি গণতন্ত্রকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু সেটিকে আপনার মূল লক্ষ্য বানাতে পারবেন না, যদি আপনি একটি ইসলামী সংগঠন হন।</p>
<p>আপনার লক্ষ্য আসবে ইসলাম থেকে, তারপর আপনি বিচার করবেন কোন অংশ গ্রহণযোগ্য। কার্যত, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে আমাদের বিশ্বদৃষ্টিও (worldview) অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত নয়। আমরা সমাজকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করবো, তা কোরআনিক কাঠামোর ভিত্তিতে হওয়া উচিত। আমরা গোষ্ঠীসমূহকেও অন্যের কাঠামো দিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে পারি না। আমাদের নিজস্ব কোরআনিক কাঠামো থাকতে হবে, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সঠিকভাবে করতে পারেন।</p>
<p>যেমন, সংস্কারক (reformers) ও দুর্নীতিবাজ (corruptors) এই বিভাজন আমাদেরকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সবশেষে বলতে চাই, আমরা পবিত্র কোরআনকে বোঝার ক্ষেত্রে যখন নিজেদেরকে এই চারটি ক্ষেত্রের একটিতে স্থাপন করবো, তখন আমাদের উদ্দেশ্য পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। সেইসাথে, প্রচলিত ধারণার উর্ধ্বে উঠে কোরআনকে আমাদের সময়, যুগ, সভ্যতা, ক্রান্তি ও সংস্কৃতির আলোকে নিজেদের অবস্থান থেকেও নতুন নতুন তত্ব ও আহকাম উন্মোচিত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত পাঠ করা জরুরী।</p>
<p>অনুবাদঃ মুশফিকুর রহমান।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-to-read-the-quraan/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16756</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামে পর্দার দর্শন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-philosophy-of-veil-in-islam/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-philosophy-of-veil-in-islam/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 12 Mar 2025 13:29:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[দর্শন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15602</guid>

					<description><![CDATA[সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যই পর্দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ তাঁর জাগতিক ও আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে নিয়ে তাঁর শরীর আবৃত করে রাখার বিষয়টিকে মৌলিক একটি ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ কারণে কিছু কিছু আদিম উপজাতি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সমগ্র মানবসভ্যতার জন্যই পর্দা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষ তাঁর জাগতিক ও আধ্যাত্মিক অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত থাকার কারণে সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে নিয়ে তাঁর শরীর আবৃত করে রাখার বিষয়টিকে মৌলিক একটি ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এ কারণে কিছু কিছু আদিম উপজাতি ছাড়া সমগ্র ইতিহাসকাল ধরে, সকল সংস্কৃতিতে, সকল সভ্যতায় এবং সকল আখলাকী ব্যবস্থায় মানুষের জন্য মূল বিষয় হল নিজেকে আবৃত করে রাখা। মানুষ, তাঁর শরীরকে আবহওয়ার বিরূপ প্রভাব থেকে কিংবা ঠাণ্ডা ও গরম থেকে রক্ষা করার জন্যই নয় একই সাথে আধ্যাত্মিক একটি মূল্যবোধকে সামনে রেখে নিজেকে আবৃত করে থাকে।</p>
<p>সমগ্র ইতিহাসকাল ধরে মানবসভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ পোশাক পরিচ্ছদের দিকে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। সকলেই জানেন যে, আজ থেকে একশত বছর পূর্বেও নারীরা খ্রিষ্টান কিংবা ইয়াহুদী, যে ধর্মেরই হোক না কেন মুসলমান নারীদের মত তারাও পর্দা করত। কিন্তু আধুনিক সময়ে এসে শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে সকল ক্ষেত্রের মত এই ক্ষেত্রেও মানবতা অনেক বড় একটি পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। এই কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, আধুনিক সময়ে পর্দাকে এতটা প্রান্তিকীকরণ করা হয়েছে, যা জীবনের সাথে সম্পর্কহীন একটি বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। একদিকে পর্দাকে তুচ্ছ ও প্রান্তিক বিষয় হিসেবে দেখানো হয়েছে আর অপর দিকে শরীর প্রদর্শনকে আকর্ষণীয় ও আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক সময়ে শোষণের একটি ক্ষেত্রে হিসেবে মানুষের শরীরকে বেঁছে নেওয়া হয়েছে। নারী, পুরুষ কিংবা শিশু সকলের শরীরকেই যথেচ্ছাভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৫০ সালের দিকে শুরু হওয়া যৌন বিপ্লবের মাধ্যমে শরীরকে মালিকানাধীন একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা শুরু হয়। যা পরবর্তীতে শরীরকে একটি পণ্যে রূপান্তরিত করে এবং শরীর প্রদর্শন ফ্যাশনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে ‘ফ্যাশন’, ‘স্বাধীনতা’ কিংবা সর্বজনীনতার নামে বিভিন্ন পন্থায় মানুষের সামনে এই যৌনতাকে তুলে ধরার ফলে সমগ্র দুনিয়াজুড়ে মানবতা আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সমস্যার সম্মুখীন।</p>
<p>ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে নতুন <strong>ভার্চুয়াল স্ক্রিন সভ্যতা </strong>প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এই সভ্যতায় বিনোদন কেন্দ্রিক একটি <strong>ভিজ্যুয়াল ইদরাক</strong> প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এই সভ্যতায় মানুষ; তাঁর নিজের সাথে, অন্যদের সাথে এবং মহাবিশ্বের সাথে সম্পর্ককে হাকীকতের উপর ভিত্তি করে নয় বরং চিত্র ও ছবির উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। এই সভ্যতায় আকলের বদলে চোখ-ই হয়ে উঠেছে সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। একই এই সভ্যতার বড় কাজ হল, চিন্তা করার বদলে দেখা। অর্থাৎ এই <em>ভার্চুয়াল</em> <em>স্ক্রিন</em> <em>সভ্যতা</em>  আকলের উপর চোখকে এবং চিন্তা করার বদলে দেখাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আর এই সভ্যতায় ‘চোখ’ নাজার ও মুশাহাদা (অবলোকন) &#8211; এর উপাদান হওয়ার পরিবর্তে কামনা-বাসনা ও শাহওয়াতের উপাদানে পরিণত হয়েছে। আর এই বিষয়টি পর্দার ফিতরাতী, দ্বীনী, আধ্যাত্মিক ও মেটাফিজিক্যাল অর্থকে হারিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে এবং ইলাহী উদ্দেশ্যকে বিলীন হওয়ার ক্ষেত্রে এমনকি আখলাকী ভিত্তি থেকেও সরে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে। ভিজুয়াল ইদরাকের আধিপত্য এমন অনেক গায়রে আখলাকী বিষয়কে দৃশ্যায়িত করেছে যা আমাদের কল্পনারও অতীত। <strong>ভিজ্যুয়াল ইদরাকের আধিপত্য মানুষকে পণ্যরূপে উপস্থাপন করে তার গোপনীয়তাকে নিঃশেষ করে দিয়েছে। এমন অনেক ক্ষেত্র তৈরি করেছে যা মানুষকে সাময়িক কিছু আনন্দ দেয়, এবং তাকানোকে শাহাওয়াতে এবং দেখাকে কামনায় পরিণত করেছে। ভিজ্যুয়াল ইদরাকের আধিপত্য আকলের ইদরাককে দুর্বল করেছে, এবং কলবের ইদরাককে মৃত্যুঝুকিতে ফেলে দিয়েছে। </strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>শুধুমাত্র ইসলামের অপরিবর্তনীয় ও শাশ্বত নীতিমালাসমূহ মানুষকে আবৃত হওয়ার দিকে আহবান জানিয়ে আধুনিকতা, বিশ্বায়ন ও ডিজিটালাইজশন কর্তৃক ছুড়ে এই সকল চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় মহাপর্বতের ন্যায় এসে দাঁড়িয়েছে। ইসলামের এই মূলনীতিগুলো চাচ্ছে মানুষকে হায়া ও সতীত্বের দিকে ফিরিয়ে আনতে। তবে আধুনিকতা, বিশ্বায়ন এবং ডিজিটালাইজেশন কর্তৃক সৃষ্ট চাপের পাশাপাশি নিম্নোক্ত কারণসমূহও এই একই সমস্যাকে আরও বেশী ঘনীভূত করেছে।</p>
<ul>
<li>১। আধুনিক সময়ে এসে নারী ও পর্দার বিষয়কে ইসলামের মূলনীতির আলোকে সঠিকভাবে বিনির্মাণ করতে ব্যর্থ হওয়া।</li>
<li>২। মুসলমানদের নিকটে পর্দার হিকমত ও দর্শনকে ভালোভাবে তুলে ধরতে না পারা এবং এই ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করা।</li>
<li>৩। পর্দাকে যেন শুধুমাত্র নারীদের জন্যই আবশ্যক এই ধারণার ব্যাপক প্রসার।</li>
<li>৪। পর্দার ব্যাপারে পুরুষদের প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি।</li>
<li>৫। কখনো কখনো পর্দাকে নারীদের সামাজিক জীবনে অংশগ্রহণের একটি বিষয় হিসেবে না নিয়ে বরং সেটাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা।</li>
<li>৬। নারীদের পর্দার পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হিজাবকে পরিত্যাগ করা এবং হিজাব ত্যাগ করাকে ব্যক্তিস্বাধীনতা হিসেবে উপস্থাপন করা।</li>
<li>৭। হিজাব পরিধানকারী নারীদেরকে ইসলামের প্রতিনিধি রূপে তুলে ধরে তাঁদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা।</li>
</ul>
<p>উপর যেমনটা উল্লেখ করা হয়েছে, এই সকল বিষয়সমূহ মুসলিম উম্মাহর মধ্যে পর্দার বিষয়টিকে আরও কঠিন করে ফেলেছে। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঘটে যাওয়া এই সকল সমস্যাসমূহ আসলে শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, একই সাথে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যাও। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে ধর্ম এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত হয়েছে। আর এই বিষয়টি হিজাবের বিষয়টির রূহ ও মাকসাদকে নেতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে প্রভাবিত করেছে এবং পর্দার আধ্যাত্মিক, রূহী এবং মেটাফিজিক্যাল ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।</p>
<p>এই সকল বিষয়কে সামনে রেখে আমি <strong><em>ইসলামের</em> <em>পর্দা</em> <em>দর্শন</em> <em>এবং</em> <em>নতুন</em> <em>একটি</em> </strong><em><strong>দৃষ্টিভঙ্গি</strong>  </em>এই বিষয়ে কিছু চিন্তা আপনাদের নিকটে পেশ করতে চাই।</p>
<p>ইসলামের সকল বিষয়কে নারীদেরকে কেন্দ্র করে আলোচিত হওয়ার ফলে আল্লাহর নারী বান্দাদের উপর যে একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এই বিষয় সম্পর্কে আমরা সকলেই অবগত। এই কারণে পর্দার বিষয়টিকে নারী কিংবা পুরুষকে কেন্দ্র করে নয়, বরং এই বিষয়টিকে আমি ‘মানুষ’ এর উপর ভিত্তি করে আলোচনা করতে চাই এবং আমি সুস্পষ্ট করতে চাই যে এই বিষয়টি শুধুমাত্র নারী ও পুরুষের সাথে সম্পর্কিত বিষয় নয়। একই সাথে আমি এই বিষয়টিও তুলে ধরতে চাই যে পর্দার বিষয়টি অনেক বিস্তৃত ও ব্যাপক অর্থবোধক।</p>
<p>পর্দার বিষয়টিকে পাঁচটি দিক থেকে বিবেচনা করে পাঁচটি দৃষ্টিভঙ্গি দাঁড় করানোর চেষ্টা করব। সেগুলো হলোঃ</p>
<ul>
<li>১. <em>পর্দার</em> <em>ব্যাপারে</em> <em>ফিতরাতী</em> <em>দৃষ্টিকোণ</em>  অর্থাৎ পর্দার স্বয়ং মানুষের সাথে সম্পর্কিত দিক।</li>
<li>২. <em>পর্দার</em> <em>ব্যাপারে</em> <em>কালামী</em> <em>দৃষ্টিকোণ</em> অর্থাৎ মানুষের সাথে তার রবের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্দা।</li>
<li>৩. পর্দার ব্যাপারে ফিকহী দৃষ্টিকোণ, অর্থাৎ মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে পর্দা ।</li>
<li>৪. <em>পর্দার</em> <em>ব্যাপারে</em> <em>আখলাকী</em> <em>দৃষ্টিকোণ</em> , অর্থাৎ পর্দার নৈতিক দিক।</li>
<li>৫. পর্দার ব্যাপারে নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ, অর্থাৎ পর্দার সৌন্দর্যগত, শোভাগত এবং চারিত্রিক দিক।</li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>১</strong><strong>।</strong> <strong>পর্দার</strong> <strong>ব্যাপারে</strong> <strong>ফিতরাতী</strong> <strong>দৃষ্টিকোণ</strong></h5>
<p>পর্দার বিষয়টি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই ফিতরাতী একটি বিষয়। ফিতরাত হলো, সৃষ্টিগতভাবে মানুষকে দেওয়া মূল্যবোধের এক রত্নভাণ্ডারের নাম। অন্য কথায়, জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে আপলোডকৃত ইলাহী এক সফটওয়্যারের নাম হলো ফিতরাত। আবৃত করে রাখা, আদব, হায়া ও সতীত্বের মত অনুভূতিসমূহ মূলত এই মেমোরির মধ্যে তথা ইলাহী সফটওয়্যারের মধ্যে রক্ষিত মূল্যবোধ থেকেই উৎসারিত হয়ে থাকে। নিজের গোপনীয়তাকে রক্ষা করে যে ভালো, সঠিক ও সুন্দর এবং শরীর প্রদর্শন করা যে খারাপ, কুৎসিত ও ভুল,  এই সকল বিষয়সমূহ মানুষের এই মূল্যবোধের ভাণ্ডারের মধ্যে মওজুদ রয়েছে।</p>
<p>পর্দার ফিতরাতী দৃষ্টিকোণের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যাকে আমরা কোরআনে কারীমে বর্ণিত হযরত আদম ও হযরত হাওয়ার কিসসার মধ্যে দেখতে পাই।<a href="#_ftn1" name="_ftnref1"><sup>[1]</sup></a>  এই কিসসা অনুসারে হযরত আদম ও হাওয়াকে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে সকল ধরণের নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে রাখেন এবং  তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন; ‘হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী জান্নাতে বসবাস কর এবং যথা ও যেথা ইচ্ছা আহার কর। কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, হলে তোমরা অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ কিন্তু শয়তান তাঁদেরকে প্রতারিত করে এবং তাঁদের গোপনাঙ্গকে একে অপরের নিকটে উন্মুক্ত করার জন্য তাঁদেরকে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলে, “তোমাদের রব যে, তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করেছেন তার পেছনে এ ছাড়া আর কোন কারণই নেই যে, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাও অথবা তোমরা চিরন্তন জীবনের অধিকারী হয়ে পড়ো”। শয়তান কসম খেয়ে তাঁদেরকে বলে যে, “ আমি নিঃসন্দেহে তোমাদের কল্যাণকামী”। এই ভাবে আদম ও হাওয়া উভয়কেই প্রতারিত করতে সক্ষম হয় এবং নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার সাথে সাথে লজ্জাস্থান পরস্পরের সামনে খুলে যায়। অতপর তাঁরা নিজেদের লজ্জাস্থানকে আবৃত করার জন্য জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেদের লজ্জাস্থানকে ঢাকার চেষ্টা চালায়। এমতাবস্থায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি কি তোমাদের এ গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি এবং তোমাদের বলিনি যে ,শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু”?  তাঁরাও বলে উঠে, “হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের ওপর জুলুম করেছি৷ এখন যদি তুমি আমাদের ক্ষমা না করো, এবং আমাদের প্রতি রহম না করো, তাহলে নিসন্দেহে আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো ৷” কোরআনে কারীম এই কিসসাকে এই নিম্নোক্ত আয়াতের মাধ্যমে শেষ করেছে,</p>
<p>&nbsp;</p>
<blockquote><p>يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا ۖ وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ</p>
<p>অর্থাৎ, হে বনী আদম! অবশ্যই আমরা তোমাদের জন্য পোশাক নাযিল করেছি, তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকা ও বেশ-ভূষার জন্য। আর তাকওয়ার পোষাক, এটাই সর্বোত্তম। এটা আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।<a href="#_ftn2" name="_ftnref2"><sup>[2]</sup></a></p></blockquote>
<p>এ কিসসা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে বাশারিয়্যাত থেকে আদামিয়্যাতের দিকে এবং আদামিয়্যাত থেকে ইনসানিয়্যাতের দিকে যাত্রাকালে মানুষ সর্বপ্রথম যে বিষয়টিকে উপলব্ধি করে সেটা হল মানুষের ফিতরাতের মধ্যকার আবৃত করার বিষয়টি। আর বিষয়টি না শুধু নারীর জন্য আর না শুধু পুরুষের জন্য। আবৃত করার বিষয়টি নারী ও পুরষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই প্রযোজ্য একটি বিষয়।</p>
<p>আর আলোকে এই কথা বলা যায় যে, পর্দার বিষয়টি আসমানী একটি নিয়ামত। আবৃত করার বিষয়টি মানুষের জন্য একটি তাকওয়া অর্থাৎ রক্ষা করা, পরিশুদ্ধ করা, সুন্দর করা ও ইজ্জত সম্পন্ন করার একটি বিষয় হিসেবে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অন্যতম একটি নিয়ামত। এ নিয়ামতটি আমাদেরকে ইহসানের চেতনা দান করে এবং যেন আমরা সর্বদায় আল্লাহকে দেখছি এমন ভাবে আচরণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে। আর এটা কেবলমাত্র তাকওয়ার পোশাক পরিধান করার মাধ্যমেই সম্ভব।</p>
<p>আর তাকওয়ার পোশাক কেবলমাত্র বাহ্যিক একটি পোশাক-ই নয়। তাকওয়ার পোশাক হল, মানুষকে স্বয়ং তার নিজের প্রতি, সৃষ্টিজগত ও রবের প্রতি দায়িত্ববান করে তোলা। আর এই দায়িত্ববোধ বাহ্যিক পোশাককে অর্থবহতা দান করে, পর্দার মধ্যে রূহ প্রদান করে এবং সকল প্রকার পর্দার চূড়া হলো এ দায়িত্ববোধ। তাকওয়ার পোশাক বিহীন শরীর রসকষবিহীন একটি অবয়ব ছাড়া আর অন্য কিছু নয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>২</strong><strong>।</strong> <strong>পর্দার</strong> <strong>ব্যাপারে</strong> <strong>কালামী</strong> <strong>দৃষ্টিকোণ</strong></h5>
<p>অনেকেই ধারণা করেন যে, পর্দা শুধুমাত্র মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিংবা নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ককে নিরূপণকারী একটি বিষয়। আসলে ব্যাপারটি এমন নয়। পর্দার একই সাথে আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে নিরূপণকারী একটি দিকও রয়েছে। কেননা মানুষ  ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ক শুধুমাত্র খালেক-মাখলুক কিংবা রুবুবিয়্যাত-উলুহিয়্যাত- এর সম্পর্কই নয়। আল্লাহ ও মানুষের মধ্যকার এই সম্পর্ক একই সাথে শাহিদ-মাশহুদেরও সম্পর্ক। এ সম্পর্কের দাবি অনুযায়ী মানুষ সর্বদা আল্লাহকে স্মরণে রেখে পথ চলে। কোরআনে কারিমে এই সম্পর্ককে নিম্নোক্তভাবে  তুলে ধরা হয়েছেঃ</p>
<blockquote><p>اَیَحۡسَبُ اَنۡ لَّمۡ یَرَهٗۤ اَحَدٌ</p>
<p>অর্থাৎ, সে কি ধারণা করে যে, তাকে কেহই দেখছেনা?<a href="#_ftn3" name="_ftnref3"><sup>[3]</sup></a></p>
<p>وَ هُوَ مَعَکُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ ؕ</p>
<p>তোমরা যেখানেই থাক না কেন তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন। <a href="#_ftn4" name="_ftnref4"><sup>[4]</sup></a></p>
<p>فَاَیۡنَمَا تُوَلُّوۡا فَثَمَّ وَجۡهُ اللّٰهِ</p>
<p>তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সেই দিকেই আল্লাহকে পাবে।<a href="#_ftn5" name="_ftnref5"><sup>[5]</sup></a></p></blockquote>
<p>শুধু তাই নয় শাহিদ ও মাশহুদের এই সম্পর্ক একটি মিসাক (শাহাদাতের মিসাক) এর উপর নির্ভর করে। এই মিসাকের আলোকে মানুষ তার সৃষ্টির পূর্বেও আলমে আরওয়াহ/রূহের জগতে তাঁর রবের একত্বে ও মহত্বে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছে। কোরআনের ভাষ্যমতে,</p>
<blockquote><p>وَ اَشۡهَدَهُمۡ عَلٰۤی اَنۡفُسِهِمۡ ۚ اَلَسۡتُ بِرَبِّکُمۡ ؕ قَالُوۡا بَلٰی ۚۛ شَهِدۡنَا</p>
<p>অর্থাৎ, আর তাদেরকেই সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ; এ ব্যাপারে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’<a href="#_ftn6" name="_ftnref6"><sup>[6]</sup></a></p></blockquote>
<p>আর সৃষ্টির পরে দুনিয়াতে এসেও মানুষ তাঁর মহান প্রভুর নাম, আয়াত, সিফাত ও নিয়ামতসমূহকে অবলোকন করছে। আল্লাহ তায়ালাও তাঁর বান্দার সকল অবস্থা, কাজ, নিয়ত ও গোপন বিষয়ের সাক্ষী। <strong>“ وَ اللّٰهُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَهِیۡدٌ /আর আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ের প্রত্যক্ষদর্শী”।<a href="#_ftn7" name="_ftnref7"><sup>[7]</sup></a></strong> যার কারণে পর্দা শুধুমাত্র আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ‘আমার চোখে’ কিংবা বাহিরের ‘অন্যদের চোখে’ কেমন লাগলো এর সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়-ই নয়, আমার রব আমাকে কেমন দেখছেন এর সাথেও এই বিষয়টি সম্পর্কিত। কেননা কোন দৃষ্টি-ই মহান প্রভুর দৃষ্টির চেয়ে অধিক মূল্যবান নয়। <strong>কলবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজা হলো চোখ। এ চোখকে যারা রক্ষা করতে পারবে তাঁরা আল্লাহর নজরগাহ হিসেবে আখ্যায়িত কলবকেও রক্ষা করতে পারবে। হাদীসে যেমনটা বর্ণিত হয়েছে; “إِنَّ اللهَ تعالى لَا ينظرُ إلى صُوَرِكُمْ وَأمْوالِكُمْ ، ولكنْ إِنَّما ينظرُ إلى قلوبِكم وأعمالِكم / নিশ্চয় আল্লাহ দৃষ্টি দিবেন না তোমাদের শরীর এবং তোমাদের আকৃতির দিকে, বরং দৃষ্টি দিবেন তোমাদের অন্তর ও তোমাদের কর্মসমূহের দিকে”।</strong></p>
<p>এখানে আমাদের মনে এমন একটি প্রশ্নের উদ্রেক হতে পারেঃ “ অগণিত গ্যালাক্সির স্রষ্টা মহান আল্লাহ তায়ালা আমার পোশাক-আশাক কিংবা চুলের স্টাইলের দিকে কেনই বা নজর দিবেন?” এখানে মূল বিষয়টি আসলে পোশাক-আশাক কিংবা চুল দাঁড়ির সাথে সম্পর্কিত নয়। এখানে মূল বিষয়টি আসলে মানুষকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও হিকমতের সাথে সম্পর্কিত। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও হিকমত সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তাঁদের ফিতরাতের মধ্যে যে মূল্যবোধ দিয়েছেন সেই মূল্যবোধের দাবির আলোকে বসবাস করতে বলেছেন। তাঁরা তাঁদের রবের উপর ঈমান আনবে কি আনবে না এটা তাঁদের স্বাধীন ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। পর্দা ও শরীরকে আবৃত করে রাখার বিষয়টিও মহান প্রভুর পক্ষ থেকে মানুষের নিকট চাওয়া সেই সকল মূল্যবোধসমূহের মধ্যকার একটি । মূলত, পর্দার বিষয়টিকে শুধুমাত্র নারী ও পুরুষের জন্য সীমাবদ্ধ একটি বিষয় বলে ধারণা করার কারণে অনেকেই এই ধরণের প্রশ্ন করে থাকেন। অনেকেই আবার আরেক ধাপ এগিয়ে গিয়ে পর্দাকে শুধুমাত্র নারীদের একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখে থাকেন। বিশেষ করে <strong>আধুনিক সময়ে পর্দাকে বাহ্যিক একটি বিষয় হিসেবে উত্থাপন করে একে আদর্শিক একটি  সংঘর্ষের বিষয়ে পরিণত করা হয়েছে। যা খুবই বিপদজনক একটি দৃষ্টিভঙ্গী। অথচ পর্দা আদর্শিক (Ideological) কোন প্রতীক নয়; পর্দা হল বিশ্বাস, ইজ্জত-আব্রু ও সম্মানের প্রতীক। ফিতরাত, ইজ্জত, সতীত্ব, ব্যক্তিত্ব ও ইস্তিকামাতের বাহ্যিক বহিঃপ্রকাশের নাম হল পর্দা।</strong> এর আলোকে পর্দা আদবকে সজ্জিত করে এবং মানুষকে পরিশুদ্ধ একটি রূহের মাধ্যমে বসবাস করতে সাহায্য করে। পর্দা নিভপ্ল একটি আলামত কিংবা কোন প্রতীক নয়, পর্দা হল একটি আয়াত। প্রতীক হল জাগতিক ও শারীরিক একটি বিষয় অপরদিকে আয়াত হলো আধ্যাত্মিক ও রূহী একটি বিষয়!</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>৩</strong><strong>।</strong> <strong>পর্দার</strong> <strong>ব্যাপারে</strong> <strong>ফিকহী</strong> <strong>দৃষ্টিকোণ</strong><strong>  </strong></h5>
<p>আমাদের অধিকাংশ আলেম-ই পর্দার প্রকৃতি ও সীমানাকে, শুধুমাত্র নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে আওরাত ও ফিতনার উপর ভিত্তি করে বিনির্মাণ করেছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কোরআন ও সুন্নতের নির্ধারিত সীমাকে অতিক্রম করে আঞ্চলিক ও সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত বিষয়কে দ্বীনি বিধানের সাথে সম্পর্কিত করে দেওয়া হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, পর্দার ব্যাপারে পুরুষদের অসামঞ্জস্যতাকে বৈধতাদানকারী, পুরুষদেরকে কেন্দ্রে রেখে পর্দার ব্যাপারে যে দৃষ্টিভঙ্গি  দাঁড় করানো হয়েছে সেটা ধর্মীয় নয় বরং সাংস্কৃতিক। পর্দাকে যদি শুধুমাত্র আওরাত<a href="#_ftn8" name="_ftnref8"><sup>[8]</sup></a> ও ফিতনা নামক পরিভাষাদ্বয় এর উপর ভিত্তি করে পর্যালোচনা করা হয় তাহলে,</p>
<ul>
<li>১। পর্দাকে কেবলমাত্র নারী ও পুরুষের মধ্যকার সম্পর্ককে বিন্যস্তকারী একটি বিষয় হিসেবে দেখা হবে।</li>
<li>২। পুরুষরা যেন ফেতনায় পতিত না হয় এই কারণে নারীদেরকে পর্দা করার আদেশ করা হয়েছে, এমন একটি ধারণা তৈরি হবে। অথচ এরকম চিন্তা ইলাহী হিকমতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।</li>
<li>৩। পর্দার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাহ্যিক বিষয় সমূহকেই আবশ্যকীয় বলে পালন করা হবে এবং পর্দার রূহকে উপেক্ষা করা হবে।</li>
</ul>
<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে প্রথমে পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,</p>
<blockquote><p>قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ یَغُضُّوۡا مِنۡ اَبۡصَارِهِمۡ وَ یَحۡفَظُوۡا فُرُوۡجَهُمۡ</p>
<p>অর্থাৎ, মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের সতীত্বের হেফাযত করবে। <a href="#_ftn9" name="_ftnref9"><sup>[9]</sup></a></p></blockquote>
<p>পুরুষদের পরে নারীদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তায়ালা বলেন,</p>
<blockquote><p>وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ</p>
<p>অর্থাৎ, আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের সতীত্বের হেফাযত করে।<a href="#_ftn10" name="_ftnref10"><sup>[10]</sup></a></p></blockquote>
<p>এই সকল আয়াতকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে পর্দার বিষয়টি শুধুমাত্র নারীদের জন্যই নয় পুরুষদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষ একে অপরকে পরস্পরের জন্য পর্দা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মহান প্রভুর ভাষায়, <strong>“ هُنَّ لِبَاسٌ لَّکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ لِبَاسٌ لَّهُنَّ / তারা তোমাদের জন্য পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের জন্য পরিচ্ছদ”। <a href="#_ftn11" name="_ftnref11"><sup>[11]</sup></a></strong></p>
<p>খাজানের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা মুসা জারুল্লাহ বিগিয়েফ তাঁর <em>“</em><em>কোরআনে</em> <em>কারীমের</em> <em>আয়াতের</em> <em>নূরের</em> <em>আলোকে</em> <em>খাতুন</em><em>”</em>  নামক গ্রন্থে বলেন, “<strong>“আমাদের আলেমগণ পর্দা সংক্রান্ত সকল বিধানসমূহকে ‘ফিতনার ভয়’- এর মত ধারণামূলক একটি হিকমতের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার কারণে এ বিধানসমূহ কখনো কখনো এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে নারীগণ সূর্যের নূর থেকে জ্ঞানের আলো পর্যন্ত অনেক বিষয় থেকেই বঞ্চিত হয়েছে। অথচ, জ্ঞান ও ঈমানের আলো কখনো ফিতনা হতে পারেনা। যদি ফিতনা থেকেই থাকে তা থাকার সম্ভাবনা পুরুষদের চোখে, অন্তরে ও ভাষায়। তাই ফিতনা থেকে যদি নিষ্কৃতি পেতেই হয়, তবে পুরুষদের চোখে নিকাব, কলবে আদব এবং মুখে লাগাম লাগানোই হবে মোক্ষম তদবীর। </strong></p>
<p>এ কারণে সকল আসমানী দ্বীন কর্তৃক গৃহীত পর্দাকে কেবল ফিতনার সাথে সম্পর্কিত করার অধিকার কারোর-ই নেই। কেননা ইসলাম আনীত পর্দার বিধানটি শুধুমাত্র নারীদের মুখমণ্ডল ও শরীরের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়-ই নয়, একই সাথে তা তাঁদের সম্মান-মর্যাদা ও অধিকারের সাথেও সম্পর্কিত। পর্দাকে কখনোই “ আওরাতের পর্দা” হিসেবে আদেশ করা হয়নি। পর্দাকে সম্মানের প্রতীক, ইসমাতের চাদর এবং সম্মানের ইহরাম হিসেবে ফরজ করা হয়েছে। ঘরের মধ্যে নারীরা যে অংশে অবস্থান করেন সেই অংশকে হেরেম বলার কারণ হল হুরমাত বা  সম্মানের কারণে। কাবাকে যে উদ্দেশ্যে হারাম বলা হয়ে থাকে, নারীরা যে ঘরে অবস্থান করে সেই ঘরকেও এজন্যই হারাম বা হারেম বলা হয়ে থাকে”।</p>
<p>সংক্ষেপে বলতে গেলে উপরোল্লিখিত আয়াতসমূহ মতে ইসলামের পর্দার বিষয়টি সকলের জন্যই আবশ্যকীয়। যা নারী ও পুরুষ উভয়কেই পরিগ্রহ করে থাকে। হায়া ও সতীত্বকে রক্ষা করা এবং এ চেতনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব শুধুমাত্র নারীদের-ই নয়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের উপরেই এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে যে পার্থক্য সেটা পর্দার সীমা ও পরিসীমার সাথে সম্পর্কিত। যেমনটা আয়াতের ধারাবাহিকতায় এসেছে, “  وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِهِنَّ / তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে”।<a href="#_ftn12" name="_ftnref12"><sup>[12]</sup></a> এ আদেশের মাধ্যমে হিজাবকে নারীদের জন্য পর্দার একটি পরিপূরক বিষয় হিসেবে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>পর্দার ব্যাপারে যে ফিকহী দৃষ্টিকোণ রয়েছে তাঁর মধ্যে অন্যতম গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল মানুষ ও তাঁর শরীরের মধ্যকার সম্পর্ক। প্রথমত আমি বলতে চাই যে, মানুষ ও তাঁর শরীরের মধ্যকার যে সম্পর্ক, তা মালিকানার কোন সম্পর্ক নয়। এই সম্পর্ক হল আমানতের সম্পর্ক। আধুনিক সময়ে আমরা একটি কথা অনেক বেশী শুনে থাকি, সে কথাটি হলো, “ শরীর আমার এটাকে ইচ্ছামত ব্যবহার করার অধিকারও আমার”। এটাকে অনেক সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে  ব্যক্তি স্বাধীনতা হিসেবে পেশ করা হয়ে থাকে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানুষের সাথে তাঁর রবের যে মিসাক (চুক্তি) তাঁর মধ্যে অন্যতম একটি হলো আমানতের চুক্তি (মিসাক)। এ মিসাক বা চুক্তি অনুযায়ী সকল কিছুকেই মানুষের নিকটে আমানত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজগতের সাথে মানুষের যে সম্পর্ক সেই সম্পর্ক প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা মালিকানার সম্পর্ক নয়। মানুষের সাথে মহাবিশ্বের যে সম্পর্ক সে সম্পর্ক হলো আমানতের সম্পর্ক। ফলশ্রুতিতে শরীর আমাদের মালিকানাধীন কোন বিষয় নয়, আমাদের নিকট আমানত।</p>
<p>এ মিসাকের  (চুক্তি) মাধ্যমে আমরা সাক্ষ্য দিয়ে থাকি যে আমরা আমাদের শরীরের উপর আধিপত্য ও প্রভুত্ব কায়েম করব না। আমরা বুঝতে পারব যে, “ শরীর আমার এটাকে ইচ্ছামত ব্যবহার করার অধিকারও আমার”, এ কথা বলার অধিকার আমাকে দেওয়া হয়নি। আমি উপলব্ধি করতে পারব যে, আমি আমাকে অন্যের সামনে একটি পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে পারি না। এই মিসাক আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, আমার শরীর হল আমার নিকট রাখা একটি আমানত এবং কোন অবস্থাতেই আমি এই আমানতের খেয়ানত করতে পারি না। যেমনটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলেছেন,</p>
<blockquote><p> “ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَخُوۡنُوا اللّٰهَ وَ الرَّسُوۡلَ وَ تَخُوۡنُوۡۤا اَمٰنٰتِکُمۡ وَ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ</p>
<p>তোমরা জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আর যে বিষয়ে তোমরা আমানাত প্রাপ্ত হয়েছ তাতেও বিশ্বাস ভঙ্গ করো না”। <a href="#_ftn13" name="_ftnref13"><sup>[13]</sup></a></p></blockquote>
<p>পর্দার বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অপর একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গি হলো, পর্দাকে এমনভাবে তুলে ধরা যা নারীদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এই ক্ষেত্রে “ নারীদের আওয়াজ হলো আওরাত, তাঁদের মুখমণ্ডল ও হাত-পা হলো আওরাত” এ ধরণের আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গীর প্রভাবের বিষয়টি লক্ষ্যনীয়। <strong>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে , “وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا / তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে” এই কথা বলার পরেও, এবং রাসূলুল্লাহ (স) হযরত আবু বকরের (রা) কন্যা, হযরত আসমার (রা) উপর ভিত্তি করে নারীদের পর্দার সীমানাকে উম্মতের সামনে সুস্পষ্ট করে দেওয়ার পরেও<a href="#_ftn14" name="_ftnref14"><sup>[14]</sup></a> বিভিন্ন মুসলিম অঞ্চলে কিছু কিছু আঞ্চলিক পোশাকের উপর ভিত্তি করে জনপরিসরে নারীদের উপস্থিতি ও অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ার মত প্রান্তিক চিন্তাকে মেনে নেওয়া হয়েছে।</strong> অথচ নারীদেরকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দী রেখে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা পর্দার উদ্দেশ্য নয়। পর্দার উদ্দেশ্য হলো নারীগণ যেন নিরাপত্তা ও শালীনতার সাথে সমাজের সকল স্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে এবং নর ও নারী উভয়ের জন্যই এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে তাঁরা মানবিক মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে কাজ করতে পারবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালো কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ করা এবং দ্বীনের রহমত ও হিকমতকে প্রচারের দায়িত্ব নারী-পুরুষ নির্বিশেষে উভয়কেই দিয়েছেন। মহান প্রভুর ভাষায়ঃ</p>
<blockquote><p>وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ وَ الۡمُؤۡمِنٰتُ بَعۡضُهُمۡ اَوۡلِیَآءُ بَعۡضٍ ۘ یَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَ یَنۡهَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ یُطِیۡعُوۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ ؕ اُولٰٓئِکَ سَیَرۡحَمُهُمُ اللّٰهُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ</p>
<p>অর্থাৎ “মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা ভাল কাজের আদেশ দেয় আর অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, আর তারা নামাজ আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে।আল্লাহ শীঘ্রই এদের উপর দয়া (মারহামাত) করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।</p></blockquote>
<h5><strong>৪</strong><strong>।</strong> <strong>পর্দার</strong> <strong>ব্যাপারে</strong> <strong>আখলাকী</strong> <strong>দৃষ্টিভঙ্গী</strong></h5>
<p>প্রথমত এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, দ্বীন ইসলামে আখলাক ফিতরাতের থেকে, কালাম কিংবা ফিকহ থেকে আলাদা বিভাগে অবস্থানকারী কোন বিষয় নয়। জোর দিয়ে বলতে চাই যে, “ কোন কিছু  আখলাকী” এর অর্থ মোটেই এই নয় যে তা ঐচ্ছিক একটি বিষয়”। কোন কিছু আখলাকী এর অর্থ হলো, তা আবশ্যক একটি বিষয়। যারা আখলাককে ‘হলেও চলবে না হলেও চলবে’ এমন একটি বিষয় হিসেবে দেখে থাকেন তাঁরা মূলত দ্বীনের মধ্যে আখলাকের অবস্থানকে নির্ণয় করতে পারেন না। কেননা ইসলামে আখলাক পরিপূর্ণতাদানকারী কোন বিষয় নয়, আখলাকের বিষয়টি অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত একটি বিষয়। অনুরূপভাবে একথা বলাও সম্ভবপর নয় যে, দ্বীন ও আখলাক আলাদা আলাদা বিষয়। দ্বীন থেকে আখলাককে আলাদা করে ফেলার অর্থ হল, স্বয়ং দ্বীনকেই আলাদা করে ফেলা। দ্বীন ও আখলাক যেমন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ অনুরূপভাবে দ্বীনের আহকাম কেও আখলাক থেকে স্বতন্ত্রভাবে চিন্তা করা যায় না। কেননা, <strong>“ الاخلاق عقل الأحكام / আখলাক হলো, আহকামের আকল”। </strong> পর্দার আখলাকী ভিত্তি হলো হায়া। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি যে, হায়া মানে হল লজ্জাশীলতা, আসলে তা নয়। হায়ার অর্থ আরও অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। হায়া ও হায়াত একই উৎস থেকে উৎসারিত হয়ে থাকে। হায়ার অপর নাম হল হায়াত। হায়া অনেকটা তাকওয়ার মত আল্লাহর প্রতি দায়িত্বানুভূতির চেতনা। হায়া স্বয়ং কল্যাণ।<a href="#_ftn15" name="_ftnref15"><sup>[15]</sup></a> হায়া হল কুল্লি একটি আখলাক। কুৎসিত, অসুন্দর ও  বিষয় থেকে বিরত থাকা এবং ভাল, সুন্দর ও সঠিককে মেনে চলার নাম হল হায়া। হায়া হল এমন এক চেতনার নাম, যে চেতনা আমাদেরকে খারাপের দিকে ধাবিত হওয়া থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহ যে আমাদের সব কিছুই দেখছেন এ বিষয়কে স্মরণ করিয়ে দিবে। অপরদিকে পর্দা ও হিজাব মানুষের হায়াকে লালিত করে। আর রূহ এখান থেকে উপকৃত হয়ে থাকে। রূহ হল পানির মত। যে পাত্রে যায় এই পাত্রের-ই আকার ধারণ করে।</p>
<p>রাসূলে আকরাম  (স) একটি হাদীসে হায়াকে, ইসলামের মূল আখলাক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর ভাষায়, <strong>“ إنَّ لِكُلِّ دينٍ خُلُقًا، وإنَّ خُلُقَ الإسلامِ الحياءُ / প্রতিটি দ্বীনের-ই মৌলিক একটি আখলাক রয়েছে। ইসলামের মূল আখলাক হল হায়া”।<a href="#_ftn16" name="_ftnref16"><sup>[16]</sup></a></strong> এর আলোকে হায়া শুধুমাত্র একটি মূল্যবোধের নাম নয়। হায়া হল মূল্যবোধ উৎপাদনকারী কুল্লি একটি আখলাকের নাম।</p>
<p>রাসূল (স) হায়া ও ঈমানকে একে অপরের থেকে আলাদা কোন বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেন,</p>
<blockquote><p>الحياء شعبة من الإيمان</p>
<p>অর্থঃ হায়া হলো ঈমানের একটি শাখা।<a href="#_ftn17" name="_ftnref17"><sup>[17]</sup></a></p>
<p>الحياء من الإيمان</p>
<p>অর্থঃ হায়া হলো ঈমানের অংশ।<a href="#_ftn18" name="_ftnref18"><sup>[18]</sup></a></p>
<p>الحياءُ والإيمانُ قرناءُ جميعًا فإذا رُفِع أحدُهما رُفِع الآخرُ</p>
<p>অর্থঃ ঈমান ও হায়া হলো ভাইয়ের মত। একটি চলে গেলে অপরটিও চলে যায়।<a href="#_ftn19" name="_ftnref19"><sup>[19]</sup></a></p></blockquote>
<p>রাসূলে করীম (সঃ) হায়াকে অন্য একটি হাদীসে সকল পয়গাম্বর কর্তৃক আনীত অভিন্ন একটি মূল্যবোধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।</p>
<blockquote><p>إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الْأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحى فاصنعْ مَا شئْتَ</p>
<p>অর্থাৎ, সমগ্র মানবতা, প্রথম দিন থেকে এমন একটি কথা জানেন যে কথার ব্যাপারে সকল পয়গাম্বর ঐকমত্য পোষণ করেছেন সেটা হলো, যদি হায়া না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পার।<a href="#_ftn20" name="_ftnref20"><sup>[20]</sup></a></p></blockquote>
<h5>৫। <strong>পর্দার ব্যাপারে নন্দনতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ</strong></h5>
<p>দ্বীনের প্রতিটি হুকুমের-ই নান্দনিক বা সৌন্দর্যগত একটি দিক রয়েছে। ইসলামের প্রতিটি বিধানের ক্ষেত্রেই আল্লাহর জামাল নামের একটি প্রতিফলন দেখা যায়। একজন ব্যক্তি যখন শাহাদাতের চেতনার অধিকারী হয় তখন সে এমন এক অস্তিত্বের প্রতি ঈমান আনে যা তাঁকে প্রতিমুহূর্ত পর্যবেক্ষণ করছে। আখলাকী মূল্যবোধ ও দ্বীনের বিধানসমূহকে শুধুমাত্র কামাল (পরিপূরক) হিসেবেই নয়; জামাল হিসেবেও দেখে থাকে এবং এই জামাল মানুষের মধ্যে জ্ঞান, হিকমত, মারেফত ও মুহাব্বতে রূপান্তরিত হয়।</p>
<p>পর্দার দায়িত্ব শুধুমাত্র শরীরকে ঢেকে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্দার একই সাথে নান্দনিক ও সৌন্দর্যগত একটি দিক রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, <strong>“ قَدۡ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکُمۡ لِبَاسًا یُّوَارِیۡ سَوۡاٰتِکُمۡ وَ رِیۡشًا / আমি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার ও শোভা বর্ধনের জন্য তোমাদের পোশাক পরিচ্ছদের উপকরণ অবতীর্ণ করেছি”।</strong> এই আয়াতের দিকে তাকালে দেখা যায় মানুষের জন্য পর্দার একই সাথে  সৌন্দর্যগত একটি দিকও রয়েছে। আয়াতে উল্লেখিত رِیۡشً/রিশ শব্দের শাব্দিক অর্থ হল পাখির পালক। <strong>কোরআনের ভাষায় রিশ দ্বারা সৌন্দর্য ও নান্দনিকতার সর্বোচ্চ চূড়া বুঝানো হয়ে থাকে।</strong> ইমাম ফখরুদ্দিন রাযীর ভাষায়, رِیۡشً/রিশ হল পর্দার সৌন্দর্যগত দিক। অর্থাৎ رِیۡشً/রিশ যিনাতেরও উপরের একটি সৌন্দর্যকে বুঝিয়ে থাকে। তবে কোরআনে রিশ শুধুমাত্র বাহ্যিক সৌন্দর্যকেই নয়, আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যকেও ব্যক্ত করে থাকে। অপর একটি আয়াতে মহান রব কাবা ঘরকে উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফকারী জাহেলী সমাজকে এই অবস্থা থেকে বিরত রাখার জন্য বলেছেন, <strong>“یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَکُمۡ عِنۡدَ کُلِّ مَسۡجِدٍ / হে আদম সন্তান! মসজিদে যাওয়ার সময় সাজসজ্জা করো”। <a href="#_ftn21" name="_ftnref21"><sup>[21]</sup></a></strong> এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখাকে লঙ্ঘন না করা। তাছাড়া এখানে নির্দিষ্ট কোন অবয়ব কিংবা পোশাকের কথা বলা হয়নি। অন্যথায় আবহাওয়া ও সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে পোশাক আশাকে ভিন্নতা একটি রহমত স্বরূপ। ইসলাম পোশাকে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন পোশাক বা ধরণ চাপিয়ে দেয়নি। ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখাকে মেনে চলার পরও যদি কেউ কারোর উপর পোশাকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন ধরণকে চাপিয়ে দেয়, তাহলে সেটা হবে এই রহমতকে লঙ্ঘন করার শামিল।</p>
<p>আল্লামা ত্বহা আব্দুর রহমানের ভাষায় দুই ধরণের সৌন্দর্য রয়েছে। একটি হল <strong>ভেনাসী</strong> <strong>সৌন্দর্য</strong> অপরটি হলো <strong>ইউসুফী</strong> <strong>সৌন্দর্য</strong>।</p>
<p><strong>ভেনাসী</strong> <strong>সৌন্দর্য</strong>, তার নামকে তিনি রোমের পৌরাণিক কাহিনীতে ( Roman Mythology)<a href="#_ftn22" name="_ftnref22"><sup>[22]</sup></a> আলোচিত প্রেম, সৌন্দর্য ও কামনার দেবী ভেনাস থেকে নিয়েছেন। আর সেটা গ্রীক পৌরাণিক কাহিনীতে (Greek Mythology) আলোচিত আফ্রোদিতি থেকে এসেছে। এটার দ্বারা শুধুমাত্র শারীরিক ও বাহ্যিক সৌন্দর্যকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর এর উৎস হলো জাগতিক আবেগ ও অনুভূতি। এটা শুধুমাত্র আবেগকে উদ্বেলিত করে থাকে, প্রভাবিত করে, কিন্তু প্রতারণামূলক। <strong>মানুষকে</strong> <strong>বস্তুগত জগৎ</strong> <strong>ও</strong> <strong>বাহ্যিকতার</strong> <strong>মধ্যে</strong> <strong>বন্দী</strong> <strong>করে</strong> <strong>ফেলে</strong><strong>।</strong></p>
<p><strong>অপরটি</strong> <strong>হল</strong> <strong>ইউসুফী</strong> <strong>সৌন্দর্য</strong><strong>।</strong> এই সৌন্দর্যের নামকে তিনি হযরত ইউসুফ (আ) থেকে নিয়েছেন। ইউসুফী সৌন্দর্যের ভিত্তি হল, শারীরিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি রূহী সৌন্দর্য। এ সৌন্দর্যের মধ্যে আনন্দের চেয়ে চোখের নূর ও কালবের প্রশান্তি রয়েছে। এই সৌন্দর্য শুধুমাত্র বাসারকেই (দৃষ্টিকেই) নয়, বাসিরাতকেও (দূরদৃষ্টি) উদ্দেশ্য করে কথা বলে। প্রভাবিত করে কিন্তু প্রতারিত করে না। মানুষকে সুন্দর ও নান্দনিকতার দিকে পরিচালিত করে। হাদীসের ভাষ্য মতে, <strong>“إنَّ اللهَ جميلٌ يُحبُّ الجمالَ / আল্লাহ তায়ালা সুন্দর তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন”।<a href="#_ftn23" name="_ftnref23"><sup>[23]</sup></a></strong></p>
<p>সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ব্যাখ্যানুসারে হযরত ইউসুফের তিনটি পোশাক পর্দার তিনটি ধরণ ও তিন বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করে থাকে।</p>
<p>প্রথমটি হল মিথ্যাবাদী পোশাক। ‘ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে’ এই কথা বলার জন্য ইউসুফ (আ) এর ভাইয়েরা তাঁদের বাবার নিকট রক্তমাখা যে পোশাক নিয়ে যায় এই পোশাক। “ وَ جَآءُوۡ عَلٰی قَمِیۡصِهٖ بِدَمٍ کَذِبٍ ؕ / আর তারা তার জামায় মিথ্যা রক্ত লাগিয়ে নিয়ে এসেছিল”।<a href="#_ftn24" name="_ftnref24"><sup>[24]</sup></a></p>
<p>দ্বিতীয় পোশাক হলো, ছেঁড়া পোশাক কিন্তু সেই শার্ট সামনে থেকে নয়, বরং পেছন থেকে ছেঁড়া ছিলো। সে পোশাক ছিলো এমন পোশাক যা তাঁর পরিধানকারীকে ফিতনা থেকে রক্ষা করে হায়া’র দিকে ধাবিত করেছিলো। “وَ اِنۡ کَانَ قَمِیۡصُهٗ قُدَّ مِنۡ دُبُرٍ فَکَذَبَتۡ وَ هُوَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ  / আর তার জামা যদি পেছন থেকে ছেঁড়া হয় তাহলে সে (মহিলা) মিথ্যা বলেছে এবং সে (পুরুষ) হচ্ছে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত”।<a href="#_ftn25" name="_ftnref25"><sup>[25]</sup></a></p>
<p>তৃতীয় পোশাক হলো, অন্ধ চোখকে উন্মীলিতকারী পোশাক। এ পোশাকের আধ্যাত্মিক একটি ঘ্রাণ ও সুন্দর একটি দিক রয়েছে। যা চোখকে খুলে দেয় এবং বাসিরাতকে (দূরদৃষ্টি) বৃদ্ধি করে। এর ঘ্রাণ এমনকি হযরত ইয়াকুবের অন্ধ হয়ে যাওয়া চক্ষুকে খোলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়েছিলো। আর এটা হল এমন জামা যা চক্ষুকে উম্মুক্ত করে দেয় এবং বাসিরাতকে লালিত করে। <strong>“اِذۡهَبُوۡا بِقَمِیۡصِیۡ هٰذَا فَاَلۡقُوۡهُ عَلٰی وَجۡهِ اَبِیۡ یَاۡتِ بَصِیۡرًا / তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও, অতঃপর সেটি আমার পিতার চেহারায় স্পর্শ করাও। এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন”। <a href="#_ftn26" name="_ftnref26"><sup>[26]</sup></a></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আমি জানি যে সকল বিষয়ের মত পর্দা নিয়েও তোমাদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। আর এর পেছনে অনেক অভ্যন্তরীণ ও বহির্গত কারণ রয়েছে সেটাও আমাদের দৃষ্টির অন্তরালে নয়। আমাদের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা ও পর্যালোচনাসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের এই সকল জেরা ও জিজ্ঞাসাসমূহ যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং আমাদেরকে আমাদের রবের দিকে ধাবিত করে। অন্যথায় এসকল জিজ্ঞাসা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর অন্য কোনকিছু বয়ে আনবে না। যেসকল আত্মজিজ্ঞাসা ও বিশ্লেষণ আমাদের মূল্যবোধকে বিনাশ করে দেয় তা সঠিক কোন জিজ্ঞাসা বা বিশ্লেষণ হতে পারে না।</p>
<p>হিজাব কিংবা পর্দাকে ছেড়ে দেওয়া শুধুমাত্র হিজাব ও পর্দাকে ছেড়ে দেওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। কেননা পর্দা হলো মহান প্রভুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার একটি বহিঃপ্রকাশ। পর্দা মানুষকে তার অবস্থান সম্পর্কে  সচেতন করে তুলে এবং মানুষকে মর্যাদাপূর্ণ একটি জীবনধারা অর্জনে সাহায্য করে। আর এ ক্ষেত্রে শুধু পর্দা করলে কিংবা হিজাব পরিধান করলেই হবে না, আমি কেন পর্দা করি, কেন হিজাব পড়ি এই বিষয়কে কোরআনের আলোকে জানতে হবে এবং আল্লাহর আখলাককে আখলাকাসম্পন্ন হতে হবে। আমরা যদি এই চেতনাকে ধারণ পর্দা করতে পারি তখন-ই কেবলমাত্র আমাদের নিজেদেরকে ইস্তেকামাতের পথে দৃঢ় রাখতে পারবো।</p>
<p>সমাজবিজ্ঞানে হাবিটাস (Habitus) নামে একটি পরিভাষা রয়েছে। হাবিটাস (Habitus)  ব্যক্তির আচরণকে প্রভাবিতকারী এবং আমরা যে সমাজে বসবাসকরী সেই সামাজিক জীবন। বিগত শতাব্দী পর্যন্ত  হাবিটাস (Habitus) ছিল পর্দার প্রভাবাধীন, অর্থাৎ অধিকাংশ মানুষ-ই পর্দা করত। কিন্তু আধুনিকতার প্রভাবে এই হাবিটাস (Habitus)- এ পরিবর্তন এসেছে এবং মানুষ পর্দাকে পরিত্যাগ করে শরীর প্রদর্শনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আমি জানি আমাদের তরুণ-তরুণীরা স্বাধীনতাকে অনেক বেশী পছন্দ করে। তবে নফসের নিকট আত্মসমর্পণ করার নাম স্বাধীনতা নয়। অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠদের অনুসরণ করে জনপ্রিয় সংস্কৃতির আলোকে মেনে  জীবন পরিচালনা করাকেও স্বাধীনতা বলে না। সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা হলো, আমাদের উপর বৈশ্বিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই সকল হাবিটাস (Habitus)- এর নিকটে আত্মসমর্পণ না করা</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তথ্যসূত্রঃ</strong></p>
<p><a href="#_ftnref1" name="_ftn1">[1]</a> সূরা আরাফ, ১৯-২৩।</p>
<p><a href="#_ftnref2" name="_ftn2">[2]</a> আরাফ, ২৬।</p>
<p><a href="#_ftnref3" name="_ftn3">[3]</a> বালাদ, ৭</p>
<p><a href="#_ftnref4" name="_ftn4">[4]</a> হাদিদ, ৪</p>
<p><a href="#_ftnref5" name="_ftn5">[5]</a> বাকারা, ১১৫।</p>
<p><a href="#_ftnref6" name="_ftn6">[6]</a> আরাফ, ১৭২।</p>
<p><a href="#_ftnref7" name="_ftn7">[7]</a> বুরুজ, ৭।</p>
<p><a href="#_ftnref8" name="_ftn8">[8]</a> আওরাত বলতে আমাদের ভাষায় মেয়েলোক বা নারী জাতি বুঝায়। কিন্ত আরবী ভাষায় এর মানে হয় বাধা ও বিপদের জায়গা এবং যে জিনিসের খুলে য়াওয়া মানুষের জন্য লজ্জার ব্যাপার এবং যার প্রকাশ হয়ে পড়া তার জন্য অস্বস্তিকর হয় এমন জিনিসের জন্যও এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া কোন জিনিসের অসংরক্ষিত হওয়া অর্থেও এর ব্যবহার হয়। (অনুবাদক)</p>
<p><a href="#_ftnref9" name="_ftn9">[9]</a> নূর, ৩০।</p>
<p><a href="#_ftnref10" name="_ftn10">[10]</a> নূর, ৩১।</p>
<p><a href="#_ftnref11" name="_ftn11">[11]</a> বাকারা, ১৮৭।</p>
<p><a href="#_ftnref12" name="_ftn12">[12]</a> সূরা নূর, ৩১।</p>
<p><a href="#_ftnref13" name="_ftn13">[13]</a> আনফাল, ২৭।</p>
<p><a href="#_ftnref14" name="_ftn14">[14]</a> আবু দাউদ, লিবাস, ৩১।</p>
<p><a href="#_ftnref15" name="_ftn15">[15]</a> মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ৩৭।</p>
<p><a href="#_ftnref16" name="_ftn16">[16]</a> ইবনে মাজা, যুহুদ, ১৭।</p>
<p><a href="#_ftnref17" name="_ftn17">[17]</a> মুসলিম, ঈমান, ৫৮; নাসাঈ, ঈমান, ১৬।</p>
<p><a href="#_ftnref18" name="_ftn18">[18]</a> মুসলিম, ঈমান, ৫৯।</p>
<p><a href="#_ftnref19" name="_ftn19">[19]</a> হাকিম, <em>মুসতাদরাক</em><em>,</em> ৫৮।</p>
<p><a href="#_ftnref20" name="_ftn20">[20]</a> বুখারী, আদব, ৭৮।</p>
<p><a href="#_ftnref21" name="_ftn21">[21]</a> আরাফ, ৩১।</p>
<p><a href="#_ftnref22" name="_ftn22">[22]</a> Venus is a Roman goddess, whose functions encompass love, beauty, desire, sex, fertility, prosperity, and victory. In Roman mythology, she was the ancestor of the Roman people through her son, Aeneas, who survived the fall of Troy and fled to Italy. Julius Caesar claimed her as his ancestor. Venus was central to many religious festivals and was revered in Roman religion under numerous cult titles. (অনুবাদক)</p>
<p><a href="#_ftnref23" name="_ftn23">[23]</a> মুসলিম, ঈমান, ১৪৭।</p>
<p><a href="#_ftnref24" name="_ftn24">[24]</a> ইউসুফ, ১৮।</p>
<p><a href="#_ftnref25" name="_ftn25">[25]</a> ইউসুফ,২৭ ।</p>
<p><a href="#_ftnref26" name="_ftn26">[26]</a> ইউসুফ,৯৩ ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-philosophy-of-veil-in-islam/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15602</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম শাফেয়ীর দৃষ্টিতে জ্ঞান অর্জনের পন্থা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-method-of-acquiring-knowledge-according-to-imam-shafii/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-method-of-acquiring-knowledge-according-to-imam-shafii/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 15 Dec 2024 12:24:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15302</guid>

					<description><![CDATA[ইমাম শাফেয়ীর ভাষায়, أخي لن تنال العلم إلا بستة سأبينك عن تفصيلها ببيان ذكاء و حرص و اجتهاد و بلغة و صحبة أستاذ و طول زمان الإمام الشافعي (رحمة الله عليه) হে ভাই, ৬ টি বিষয় ছাড়া কক্ষনো জ্ঞানী হতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইমাম শাফেয়ীর ভাষায়,</p>
<blockquote><p>أخي لن تنال العلم إلا بستة سأبينك عن تفصيلها ببيان ذكاء و حرص و اجتهاد و بلغة و صحبة أستاذ و طول زمان<br />
الإمام الشافعي (رحمة الله عليه)</p></blockquote>
<p>হে ভাই, ৬ টি বিষয় ছাড়া কক্ষনো জ্ঞানী হতে পারবে না। আমি তোমাকে এই সম্পর্কে অচিরেই বর্ণনা করে জানাব। সেগুলো হল:</p>
<ul>
<li>১) الذكاء বা মেধা।</li>
<li>২) حرص বা প্রচন্ড আগ্রহ।</li>
<li>৩) اجتهاد বা চেষ্টা-প্রচেষ্টা।</li>
<li>৪) بلغة বা জীবন ধারণের জন্য যতটুকু সম্পদ থাকা প্রয়োজন, ততটুকু সম্পদ থাকা।</li>
<li>৫) صحبة أستاذ বা উস্তাদের সহবত।</li>
<li>৬) طول زمان বা দীর্ঘ সময়।</li>
</ul>
<p>১) <strong>الذكاء:</strong> যে কোনো বিষয় দ্রুততার সাথে ধরতে পারার মতো সক্ষমতা থাকতে হবে, জ্ঞান অর্জন করার মতো যোগ্যতা থাকতে হবে, স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে হবে, বোঝার ক্ষেত্রে খুব বেশি কাঠিন্য বোধ করবে না। এ বিষয়গুলো মেধার প্রমাণ।</p>
<p>২)<strong> حرص:</strong> প্রচন্ড স্পৃহা থাকতে হবে। সে সময়ের ব্যাপারে সব সময় সতর্ক থাকবে, অযথা সময় নষ্ট করবে না। সে ভালো ভালো বইপুস্তকের ব্যাপারে সব সময় উদগ্রীব থাকবে, সেগুলা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করবে। ভালো ভালো আলেমের সন্ধান করবে। উপকারী তথ্যগুলো লিখে রাখবে বা নোট করার চেষ্টা করবে। এসব কাজ যদি সে না করে, তাহলে তার ক্ষেত্রে এ কথা বলার সুযোগ নেই যে, সে জ্ঞান অর্জনের ব্যাপারে খুব আগ্রহী।</p>
<p>৩) <strong>اجتهاد:</strong> চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে হবে। জ্ঞান অর্জনের জন্য সকল ধরনের কষ্ট, ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমি আমার মতো থাকবো, কোনো কষ্ট করবো না, এমনিতেই সব জ্ঞান আসবে, আমি ঘরেই বসে থাকবো, জ্ঞান ঘরের দরজা-জানালা দিয়ে প্রবেশ করবে– বিষয়টি মোটেই এমন নয়৷ জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করতে হবে, কষ্ট করতে হবে, আরাম পরিত্যাগ করতে হবে।</p>
<p>৪) <strong>بلغة:</strong> জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে সম্পদ থাকতে হবে। কারণ একজন আলেমের জ্ঞান অর্জন করার সময়ে এ কথা ভাবার সুযোগ নেই যে, অন্যরা এসে তাকে খাইয়ে দিবে। তার জীবন ধারণের জন্য পর্যাপ্ত টাকা তার থাকতে হবে। একজন আলেম যদি জীবন ধারণের জন্য কোনো ধনী মানুষের সম্পদের মুখাপেক্ষী হয়, তাহলে সে সত্যিকার অর্থে আলেম হতে পারবে না। কারন তখন তাকে সে মানুষটা বলবে, আমি তোমাকে রিজিক দিই, তাই আমি যা বলতে বলবো, তাই বলবে আর আমি যে ব্যাপারে চুপ থাকতে বলবো, সে ব্যাপারে চুপ থাকবে। এ কারণে একজন আলেম যদি রাব্বানী হতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই নিজেই উপার্জন করতে হবে এবং মুসতাকির বা স্বতন্ত্র হতে হবে, অন্য মানুষের মুখাপেক্ষী হওয়া যাবে না। এটি অন্যতম শর্ত।</p>
<p>৫)<strong> صحبة أستاذ:</strong> উস্তাদের সহবত অর্জন করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জ্ঞান বিস্তৃতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাবো, আমাদের জ্ঞান বিস্তৃত হয়েছে হযরত জিবরাইল (আ.) থেকে নবী করীম (সা.) এর মাধ্যমে, এরপর সাহাবাদের মাধ্যমে, এরপর তাবেঈনদের মাধ্যমে, এরপর প্রতিটি যুগের উস্তাদদের মাধ্যমে। বর্তমানে আমাদেরকে উস্তাদদের মাধ্যমেই জ্ঞান অর্জন করতে হয়, অর্থাৎ তারাই কেন্দ্রবিন্দু। তাই তাদের সহবত জরুরী। কারণ <strong>জ্ঞান অর্জনের পথে যে একাই প্রবেশ করে, সে একাই বের হয়, অর্থাৎ সে খালি হাতে প্রবেশ করে এবং খালি হাতেই বের হয়; কারণ সে উস্তাদের সহবত পায় না। আবার যার শায়েখ বা উস্তাদ শুধুমাত্র কিতাব বা বইপুস্তক, তার ভুলভ্রান্তি অনেক বেশি।</strong> বর্তমানে এ বিষয়টিই আমাদের যুবক ভাইদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাদের কথা হলো তারা কোরআন-হাদিসের কাছে ফিরে যাবে, এভাবে তারা যা পাবে, তাই জ্ঞান। এখানে কোনো মনুষ্য উস্তাদের প্রয়োজনীয়তা নেই, নিজে যা বুঝবে, তাই যথেষ্ট। এটি সবচেয়ে ভুল পন্থা বা মেথড। এ ধরনের ব্যক্তিরা হলো জাহেল আল মুরাক্কাব, অর্থাৎ সে যে জাহেল বা মূর্খ তা সে নিজেও জানে না। সে নিজেকে আলেম ভাবে, কিন্তু সে-ই আসলে সবচেয়ে মূর্খ। কারণ নিজেই কোরআন-হাদীস বোঝার মতো যোগ্যতা আসলে কারো নেই, এজন্য তার অবশ্যই উস্তাদ প্রয়োজন। আর উস্তাদের সহবতের পূর্বশর্ত হলো ধৈর্য। কারণ দীর্ঘদিন উস্তাদের সহবত নিতে হয়, এ সময়ে তার উঠাবসা, চাল-চলন অনেক কিছু হয়তো পছন্দ হবে না, কিন্তু তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করার জন্য ধৈর্য ধরে তার কাছে থাকতে হবে।</p>
<p>৬) <strong>طول زمان:</strong> অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হবে। এটিও এক অর্থে ধৈর্যের সাথে সম্পৃক্ত। অনেক সময় দেখা যায়, আমরা অল্প সময়ে অনেক কিছু অর্জন করতে চাই, কিন্তু তা হয়ে ওঠে না বা সময় স্বল্পতার কারণে আমরা ভুল করি। কিন্তু জ্ঞান অর্জনের সময় যদি দীর্ঘ হয়, তাহলে পর্যালোচনা করার যথেষ্ট সুযোগ থাকে এবং ভুল পথে আগালে সেখান থেকে ফিরে আসারও সুযোগ থাকে। তাই দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-method-of-acquiring-knowledge-according-to-imam-shafii/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15302</post-id>	</item>
		<item>
		<title>জ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠগ্রন্থ &#8221; হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা&#8221;</title>
		<link>https://rowyakbd.com/one-of-the-best-books-in-the-history-of-knowledge-huzzatullahil-baliga/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/one-of-the-best-books-in-the-history-of-knowledge-huzzatullahil-baliga/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Feb 2024 01:05:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[বই পর্যালোচনা]]></category>
		<category><![CDATA[জ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠগ্রন্থ " হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা"]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13673</guid>

					<description><![CDATA[ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ যে সকল গ্রন্থ রচনা করেছে তাঁর মধ্যে  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর উসূল বর্ণনা করেছেন। ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ শব্দদ্বয় একটি আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে। এটি এমন একটি গ্রন্থ যার পূর্বে এমন আর কোনো]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ যে সকল গ্রন্থ রচনা করেছে তাঁর মধ্যে  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো <strong>‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’</strong>। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর উসূল বর্ণনা করেছেন। ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ শব্দদ্বয় একটি আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে।</p>
<p>এটি এমন একটি গ্রন্থ যার পূর্বে এমন আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এই গ্রন্থটি সকল কিছুর মধ্যে সমন্বয় ও সংযোজন ঘটায়। প্রথমত, আকল ও নাকলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। দ্বিতীয়ত, তাসাউফ ও শরীয়তের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। তৃতীয়ত, উসূল এবং আখলাককে মিশ্রিত করে তুলে ধরে। আমি মনে করি এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong> হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার কিছু বৈশিষ্ট্য</strong></p>
<p><strong>১/</strong> জ্ঞানকে তিনি ‘<em>শরীয়তী জ্ঞান’</em> ও ‘<em>মাসলাহাতী জ্ঞান</em>’ নামে দুই ভাগে ভাগ করেন এবং তিনি মাসলাহাতকে আহকামের মূল হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আহকামে শরীয়া শুধুমাত্র ইখতিবারের জন্য নয়। অর্থাৎ, হুকুমসমূহ কেবলমাত্র কৃতকার্যদেরকে জান্নাতে এবং অকৃতকার্যদেরকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য আসেনি। প্রতিটি হুকুমেরই একটি ‘ইল্লত’ রয়েছে আর সেই ইল্লত হলো ‘মাসলাহাত’।<strong> শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, হুকুমের উদ্দেশ্য হলো- মাসলাহতের প্রতিষ্ঠা ও মাফসাদাতের অপসারণ।</strong></p>
<p>হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার কিছু কিছু অধ্যায়ে আকলের উপর জোর দেওয়ার কারণে তাকে <strong>‘মু’তাযিলা’</strong> অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ তিনি এই গ্রন্থেরই এক স্থানে বলেছেন, আকল হালাল ও হারামকে নির্ণয় করতে পারবে না এবং হুসুন ও কুবুহকে নির্ণয় করতে হলে ওহীর প্রয়োজন। এই কথা বলার পরও আকলের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব প্রদান তাকে মু’তাযিলা বলে অভিযুক্ত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আকলের উপর জোর দানকারী সকল আলেমদেরকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীকেও এই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।</p>
<p><strong>২/ ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী তার হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন।</strong></p>
<p><strong>ক) القواعد الكلية التي تنتظم بها المصالح المرئية في الشرائع</strong></p>
<p>এই অধ্যায়ে তিনি ইমাম গাজালীর ‘ইহইয়া উলূমুদ্দীন’ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন, এমন কয়েকটি বিষয়কে উসূলের মধ্যে সন্নিবেশিত করে উল্লেখ করেন। যেমন, أسرار الشرائع- অর্থাৎ শরীয়তের অন্তর্নিহিত অর্থসমূহকে দুটি মূলনীতির উপর দাঁড় করান। একটি হলো, مبحث البر و الاثم অর্থাৎ কল্যাণ ও অকল্যাণ বিষয়ক অধ্যায়। খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করুন এটি উসূলের একটি গ্রন্থ। এমন একটি গ্রন্থে مبحث البر و الاثم নামক একটি শিরোনাম রয়েছে। অপর একটি অধ্যায়ের নাম হলো, مَبْحَث السِّياسات المِلِّيَّة অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির অধ্যায়। এখানে মিল্লাত শব্দটি তিনি উম্মত অর্থে ব্যবহার করেছেন।</p>
<p><strong>ইসলামী সাহিত্যে তিনি নতুন একটি পরিভাষা যুক্ত করেন সেটা হলো الارتفقات ‘ (আল-ইরতিফাকাত)। এ পরিভাষাটি আরব ভাইগণও ভারত থেকে শিখেছেন। ‘الارتفقات ’ কে الإنتفعات العامة (সর্বসাধারণের জন্য সুবিধা, Public Benefit) হিসেবে অনুবাদ করা হয়। তবে এর সামগ্রিকতার দিকে তাকালে দেখা যায় যে তিনি ‘الارتفقات ’ দ্বারা সমগ্র মানবতার কল্যাণকে বুঝিয়েছেন। ‘الارتفقات ’ নামক পরিভাষাকে তিনি মাকাসিদের মধ্যে স্থাপন করেন।</strong></p>
<p>অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা শাহ ওয়ালীউল্লাহ ব্যবহার করেছেন। সেটা হলো, تدبير منزل । এই পরিভাষাটিকে সর্বপ্রথম আল ফারাবী ব্যবহার করেন। কিন্তু শাহ ওয়ালীউল্লাহ تدبير منزل কে ‘الارتفقات ’এর মধ্যে স্থাপন করে উসূলের মধ্যে সন্নিবেশ করার চেষ্টা করেন।</p>
<p><strong>খ) في بيان ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم تفصيلا</strong> এই অধ্যায়ে তিনি রিসালাত নামক পরিভাষাকে কোরআন ও সুন্নতকে একত্রিতকারী একটি দলীল হিসেবে বিশ্লেষণ করেন। <em>এই কারণে তিনি সুন্নতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। একটি হলো রিসালাতের অংশ হিসেবে সুন্নত, অপরটি হলো অন্যান্য সুন্নত। এই রিসালাতের অংশ হিসেবে পরিগণিত হওয়া সুন্নতের সাথে অন্যান্য সুন্নতকে তিনি আলাদা করেন এবং তিনি বলেন, যে সুন্নতটি রিসালাতের অংশ সে সুন্নতকে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের অনুসরণ করতে হবে</em>।</p>
<blockquote><p>এই গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাক্য রয়েছে যেটি নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা করা প্রয়োজন। সেই বাক্যটি হলো “আমাদের ফিকহ রূহবিহীন একটি শরীরের মতো আমাদের মধ্যে তার অস্তিত্বকে রক্ষা করে চলেছে এবং ফিকহের রূহ হলো আহকামের আসরারসমূহ”। অর্থাৎ ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো ফিকহের রূহ। নামাজের হিকমত, রোজার হিকমত বা আসরারসমূহকে হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার মতো একটি উসূলের গ্রন্থে আমরা দেখতে পাই। তিনি আরও বলেন ‘<strong>ফিকহের সবচেয়ে বড় রূহ হলো ইজতিহাদ’</strong>। ফিকহ যখন ইজতিহাদকে হারিয়ে ফেলে তখন তা রূহবিহীন একটি শরীরের মতো হয়ে যায়।</p></blockquote>
<p><strong>৩। এই গ্রন্থে তিনি জ্ঞানকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যাস করেন :</strong></p>
<p>ক) ইলমুল হাদীস<br />
খ) ইলমুল লুগাত<br />
গ) ইলমুল ইসতিনবাত<br />
ঘ) ইলমুল ইসতিদলাল<br />
ঙ) ইলমুল আসরার</p>
<p>ইলমুল আসরার নামক অধ্যায়ে শরীয়তের সাথে তাসাউফ এবং উসূলের সাথে আখলাককে একত্রিত করার চেষ্টা করেন।</p>
<p>একইভাবে তার ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহের মধ্যে একটি হলো, <strong>‘সা’দাত’</strong> (سعادة) বা কল্যাণ , এই পরিভাষাটিকে তিনি মাকাসিদ ও উসূলের মধ্যে উল্লেখ করেন। আপনারা জানেন যে, সা’দাত (কল্যাণ) একইসাথে আখলাকের প্রকারভেদের মধ্যে একটি। অর্থাৎ, আনুগত্যের আখলাক রয়েছে, ফজিলতের আখলাক রয়েছে এবং সাদাতের আখলাক রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকে যে সা’দাতের আখলাক মুসলমানগণ গ্রীকদের কাছ থেকে নিয়েছে। এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। এটা এখান থেকে, ওটা ওখান থেকে এইভাবে বলে তারা আমাদের চিন্তা ও দর্শনকে, গ্রীক দর্শনের অংশ বলে চালিয়ে দিতে চায়। এসব ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।</p>
<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ, আখলাকের সাথে উসূল এবং আখলাকের সাথে ফিকহকে মিশ্রিত করার সময় ‘সা’দাত’ নামক পরিভাষাটিকে কেন্দ্রে স্থাপন করেন। তিনি বলেন, সা’দাতকে অর্জন করতে হলে চারটি বিষয় প্রয়োজন।</p>
<blockquote><p><em>১। ত্বাহারাত (পবিত্রতা)। এখানে শুধুমাত্র শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়; বরং বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা এর অন্তর্ভুক্ত।</em><br />
<em>২। আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে নত হওয়া।</em><br />
<em>৩। ঔদার্য, মহানুভবতা, উদারতা, বদান্যতা ও দয়া। একজন মানুষের সাথে অন্য মানুষের সম্পর্ক স্থাপনের মূলভিত্তি হিসেবে এই পরিভাষাটিকে ব্যবহার করেন।</em><br />
<em>৪। আদালত।</em></p></blockquote>
<p>এই বিষয়গুলোকে তিনি মাকাসিদ বা বড় উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমরা যদি এই সকল বিষয়কে অর্জন করতে পারি তাহলে <strong>সা’দাতে দারাইনে</strong> (ইহকালীন ও পরকালীণ কল্যাণ) উপনীত হতে সক্ষম হব।</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/one-of-the-best-books-in-the-history-of-knowledge-huzzatullahil-baliga/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13673</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আল-কোরআনের মাকাসিদসমূহ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আল্লামা তাহির বিন আশুর]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 18 Jan 2024 09:47:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13196</guid>

					<description><![CDATA[মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনকে নাযিল করেছেন সমগ্র মানবতাকে সংশোধন করার জন্য। শুধু তাই নয় এই কোরআন এসেছে রহমতের জন্য এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যকে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভাষায়, আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনকে নাযিল করেছেন সমগ্র মানবতাকে সংশোধন করার জন্য। শুধু তাই নয় এই কোরআন এসেছে রহমতের জন্য এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যকে তাঁদেরকে জানিয়ে দেওয়ার জন্য।</p>
<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ভাষায়,<br />
আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। (নাহল-৮৯)</p>
<p><strong>কোরআনের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হল, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও বিশ্বজনীন অবস্থার সংশোধন।</strong></p>
<p>ব্যক্তিগত অবস্থার সংশোধন নফসের পরিশুদ্ধি এবং উত্তম আখলাকের মাধ্যমে সম্ভব। আর এর মূল হল, শক্তিশালী ভিত্তিসম্পন্ন আকাইদ। কেননা ই’তিকাদ বা আকাইদ হল, আখলাক ও চিন্তার উৎস। এর পর মানুষের অভ্যন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আর এটা করতে হবে নামাজের মত যাহিরি ইবাদত সমূহের মাধ্যমে এবং হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণাকে পরিত্যাগ করার মত বাতিনি আখলাকের মাধ্যমে।<a href=" https://rkmri.co/meyepM5TRSee/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 646px;" src=" https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/islam-o-sovvota-01-01.jpg" height="117"></a>আর সামাজিক সংশোধন (সালাহ) শুরু হয় ব্যক্তির সংশোধনের মাধ্যমে। কেননা ব্যক্তির সমন্বয়েই সমাজ গড়ে উঠে থাকে। আর কোন কিছুর অংশের পরিশুদ্ধি ছাড়া সেটা পূর্ণভাবে পরিশুদ্ধ হবে না। আর এটা তখন-ই সম্ভব যখন মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে এবং তাঁর নফসকে শাহওয়াত থেকে মুক্ত রাখা যাবে। আর এটা হল, ইলমূল মুয়ামালাত বা মুয়ামালাত সংক্রান্ত জ্ঞানের সাথে সম্পর্কিত।<br />
<strong>আর আমাদের দার্শনিক (হুকামাগণ) এটাকে সিয়াসাতুল মাদানী বলে অভিহিত করে থাকেন।</strong></p>
<p>উমরানী সালাহ বা বিশ্বজনীন সালাহ হল, এই দুইটির চেয়েও অনেক বেশী সামগ্রিক। আর এটা মুসলিম উম্মাহর নিজাম (ব্যবস্থাপনা) – কে রক্ষা করার মাধ্যমে সম্ভব। বিভিন্ন অঞ্চল ও সেই সকল অঞ্চলে গড়ে উঠা বিভিন্ন জামায়াত (দল ও প্রতিষ্ঠান) এর সাথে সম্পর্ককে মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দাঁড় করাতে হবে এবং তাঁদের মধ্যকার ঐক্যকে ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর মাসলাহাত (স্বার্থ) এর দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে যখন ছোট মাসলাহাতের সাথে বড় মাসলাহাতের দ্বন্দ তৈরি হবে তখন বড় বা সামগ্রিক মাসলাহাতকে বেঁছে নিতে হবে। আর এই সকল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞানকে ইলমূল উমরান ও ইলমূল ইজতিমা’ (সমাজের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান) বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।</p>
<p><strong>এই ভূমিকা প্রদানের পর আল্লামা তাহির বিন আশুর তাঁর ইসতিকরা (আরোহী) পন্থার মাধ্যমে কোরআনের ৮ টি মাকসাদের কথা উলেখ করেন (অনুবাদক),</strong></p>
<p>১। বিশুদ্ধ একটি ই’তিকাদ (আকাঈদ) এর শিক্ষা দেওয়া এবং সঠিক সামাজিক চুক্তিকে শিক্ষা দেওয়া।</p>
<p>২। তাহযিবুল আখলাক (উত্তম আখলাক)।</p>
<p>৩। শরিয়ত (আইন ও বিধান)। একই সাথে ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিধানকে শিক্ষা দেওয়া।</p>
<p>৪। সিয়াসাতুল উম্মাহ (উম্মতের রাজনীতি)। আর এটা কোরআনে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল সমগ্র উম্মাতের সালাহ (সংশোধন) এবং এর নিজাম বা ব্যবস্থাপনা কে রক্ষা করা।</p>
<p>৫। উপমা নেওয়ার জন্য ও খারাপ বিষয় সমূহ থেকে বিরত রাখার জন্য পূর্বের জাতি সমূহের কাহিনী সমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।<br />
<a href=" https://rkmri.co/5NSNee5SeA2M/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 663px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Islami-gyane-usuler-dhara-01.jpg" height="120"></a></p>
<p>৬। যুগজিজ্ঞাসার জবাব দানে সক্ষম একটি শিক্ষা ব্যবস্থা। যে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষকে শরিয়তের বিধিবিধানকে শিক্ষা দেওয়া হবে।</p>
<p>৭। ওয়াজ, নসিহত, সতর্কবাণী ও সুসংবাদ।</p>
<p>৮। রাসূলের সিদক বা সত্যতাকে প্রমাণ করার জন্য প্রেরিত মু’জিযা সমূহ।</p>
<p>অনুবাদকঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/maqasid-of-the-quran/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13196</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী চিন্তায় উসূল ও মেথডোলজি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/principles-and-methodology-in-islamic-thought/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/principles-and-methodology-in-islamic-thought/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 08 Jun 2022 17:45:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তায় উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7161</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী জ্ঞানের ধারার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সমূহের একটি হল তাফাক্কুর, যা আকলের ইবাদত। কালব কেবলমাত্র এই ইবাদতের মাধ্যমেই সজীব ও সতেজ থাকে। এই ইবাদত; প্রতিটি নজরকেই ইবরাতে, প্রতিটি আবেগকেই বাসিরাতে, প্রতিটি কথাকে হিকমতে এবং প্রতিটি আমলকে সালিহে পরিণত করে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী জ্ঞানের ধারার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা সমূহের একটি হল তাফাক্কুর, যা আকলের ইবাদত। কালব কেবলমাত্র এই ইবাদতের মাধ্যমেই সজীব ও সতেজ থাকে। এই ইবাদত; প্রতিটি নজরকেই ইবরাতে, প্রতিটি আবেগকেই বাসিরাতে, প্রতিটি কথাকে হিকমতে এবং প্রতিটি আমলকে সালিহে পরিণত করে।<strong> প্রতিটি ইবাদতেরই যেমন একটি উসূল, ফরজ সমূহ, ওয়াজীব সমূহ এবং সুন্নত সমূহ রয়েছে, তেমনিভাবে তাফাক্কুর নামক ইবাদতেরও একটি উসূল রয়েছে।</strong> এই উসূলের আলোকে আমাদের তাফাক্কুরের ধারা; কোরআন এবং সুন্নতকে অবলম্বন করে তাফসির, ফিকহ এবং কালামের মত জ্ঞানের সৃষ্টি করে অনুপম একটি জ্ঞানের ধারা তৈরি করে করেছে। এই সকল উৎস সমূহের উপর ভিত্তি করে মহাবিশ্ব ও প্রকৃতিকে নিয়ে চিন্তা করায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞান (ন্যাচারাল সাইন্স) এর জন্ম হয়েছে, আনফুসি জগতে বাস্তবায়িত হওয়া ওহী কেন্দ্রিক তাফাক্কুর সাইকোলজি এবং আখলাকের মত বিভিন্ন ধরণের জ্ঞানের পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক জগতকে সমৃদ্ধকারী একটি ইরফানী ধারা অস্তিত্ব লাভ করেছে।</p>
<p>দ্বীনের শাশ্বত বিষয়ের সাথে পরিবর্তনশীল বিষয় সমূহের, মূল (আসল) এর সাথে শাখা-প্রশাখার (ফুরু’) দ্বীনী বিষয়ের সাথে সাংস্কৃতিক বিষয়ের, অভ্যাসের সাথে ইবাদতের, আঞ্চলিক বিষয়ের সাথে বিশ্বজনীন বিষয় সমূহ যখন মিশ্রিত হয়ে পড়েছে সেই সময়ে নতুন একটি সূচনা ও পুনর্জাগরণের জন্য ইসলামী চিন্তার মৌলিক ধারা সমূহকে, মূলনীতি সমূহকে নতুন করে বিচার বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা ও অধ্যয়ন করা প্রয়োজন। একটি সভ্যতার পুনর্জাগরণ ও বিনির্মাণের জন্য প্রথমেই যে বিষয়টির প্রয়োজন সেটি হল এই ক্ষেত্রে আমরা কোন উৎসসমূহকে মূলনীতি হিসেবে নিব এবং এই সকল উৎস সমূহের সাথে কেমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলব এমন একটি উসূল ও মেথডলজি দাঁড় করানো। কারণ ইসলামী চিন্তার ইতিহাস সামগ্রিকভাবে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত এবং কেবলমাত্র আমাদের হাতে থাকা ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সঠিকভাবে পাঠ করেই ইসলামী সভ্যতার ধারণা দাঁড় করানো সম্ভব। ইসলামী চিন্তার অভ্যন্তরীণ সামগ্রিকতা, সঙ্গতি এবং ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে ইসলামের বিভিন্ন ধারার অভিন্ন গ্রাউন্ডকে নির্ণয় করা এবং সঠিক একটি চিন্তা দাঁড় করানোর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/principles-and-methodology-in-islamic-thought/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7161</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বুঝা ও ব্যাখ্যার উসূল হিসেবে &#8216;ইবরাত&#8217;</title>
		<link>https://rowyakbd.com/bujha-o-bakkhar-usul-hisebe-ibrat/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/bujha-o-bakkhar-usul-hisebe-ibrat/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 02 Mar 2022 18:07:41 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6827</guid>

					<description><![CDATA[পবিত্র কোরআনে ‘ইবরাত’ (عبرة), নামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিভাষা রয়েছে। নয় জায়গায় উল্লেখিত ‘ইবরাত’ (عبرة), শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, আমার মতে শুধু একটি পরিভাষাও নয়। আমি মনে করি এটি একটি বুঝার পন্থা (Method of Understanding), বুঝা এবং বিশ্লেষণের উসূল। বিশ্ব]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>পবিত্র কোরআনে ‘ইবরাত’ (عبرة), নামে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিভাষা রয়েছে। নয় জায়গায় উল্লেখিত ‘ইবরাত’ (عبرة), শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়, আমার মতে শুধু একটি পরিভাষাও নয়। আমি মনে করি এটি একটি বুঝার পন্থা (Method of Understanding), বুঝা এবং বিশ্লেষণের উসূল।</strong></p>
<blockquote><p>বিশ্ব মানবতা হিসেবে যে সকল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখী হয় সেই সকল চ্যালেঞ্জকে আকল, ইদরাক (উপলব্ধি) এবং বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) দিয়ে মূল্যায়ন করার পন্থা হল ‘ইবরাত’। ইবরাত হলো, বস্তু (ম্যাটেরিয়াল) থেকে অর্থ (মিনিং) এর দিকে, স্বপ্নের জগত থেকে হাকিকতের দুনিয়ায় পদার্পণ করার নাম। অন্য অর্থে, ইবরাত হলো ডাইমেনশন (মাত্রা) পরিবর্তন করা।</p></blockquote>
<p><strong>ইবরাত (عبرة) হল মহাবিশ্ব নিয়ে এবং একই সাথে আল্লাহ তার এই সৃষ্টির উপর যে বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেগুলো নিয়ে এবং সর্বোপরি সুন্নাতুল্লাহ নিয়ে চিন্তা করা। কঠিন অভিজ্ঞতা সমূহকে আকল দিয়ে চিন্তা (তাফাক্কুর) করে দূরদৃষ্টি দিয়ে শিক্ষনীয় বিষয় সমূহ খুঁজে বের করা।</strong></p>
<blockquote><p>ইবরাত (عبرة) এর শাব্দিক অর্থ, ঘটনা সমূহের কারণ এবং ফলাফলের উপরে দূরদৃষ্টি দেওয়া, গভীর ভাবে চিন্তা করা এবং দেখা থেকে শিক্ষা খুঁজে বের করা। মূলত ইবরাত (عبرة), শব্দবিহীন এবং উচ্চারণবিহীন ইলাহী একটি ওয়াজ। আমাদের অন্তরের আবেগ, অনুভূতি এবং চিন্তার গোপন একটি বহিঃপ্রকাশ হওয়ার কারণে, আরবীতে চোখের পানির অপর নাম হল ইবরাত (عبرة )।</p></blockquote>
<p>অনেক আয়াতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সমূহ, ঐতিহাসিক কাহিনী সমূহ আমাদের উদ্দেশ্যে বিবৃত করার পর কোরআনে কারীম বলে থাকে যে,<br />
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِي الْأَبْصَارِ<br />
অর্থঃ এখানে বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) সম্পন্ন লোকদের জন্য ইবরাত (শিক্ষা) রয়েছে। (সূরা নূর-৪৪)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অন্য একটি আয়াতে বলা হয়েছে,<br />
فَاعْتَبِرُوا يَٓا اُو۬لِي الْاَبْصَارِ<br />
অর্থঃ শিক্ষা (ইবরাত) গ্রহণ করো হে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন লোকেরা। (সূরা হাশর- ৫৯)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তাফাক্কুর (গভীর চিন্তা) এবং বাসিরাত (দূরদৃষ্টি) ছাড়া ইবরাত (শিক্ষা) গ্রহণ করা সম্ভব নয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/bujha-o-bakkhar-usul-hisebe-ibrat/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6827</post-id>	</item>
		<item>
		<title>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/evolution-of-usul/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/evolution-of-usul/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 06 Feb 2022 07:32:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6729</guid>

					<description><![CDATA[প্রথমত আমরা,  চিন্তা ও দর্শন হিসেবে উসূলের উৎপত্তি এবং লিখিত বা শাস্ত্র রূপে উসূলের আত্মপ্রকাশকে পরস্পর থেকে পৃথক হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। চিন্তা ও দর্শন হিসেবে উসূলের উৎপত্তি বা আত্মপ্রকাশ হয় কোরআন নাযিল হওয়ার মাধ্যমে। কোরআন নিজে তার উপর ঈমান]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>প্রথমত আমরা,  চিন্তা ও দর্শন হিসেবে উসূলের উৎপত্তি এবং লিখিত বা শাস্ত্র রূপে উসূলের আত্মপ্রকাশকে পরস্পর থেকে পৃথক হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। চিন্তা ও দর্শন হিসেবে উসূলের উৎপত্তি বা আত্মপ্রকাশ হয় কোরআন নাযিল হওয়ার মাধ্যমে। কোরআন নিজে তার উপর ঈমান আনয়নকারীদেরকে উসূলের একটি চিন্তা দিয়ে থাকে। আসবাবে নুযূল, নাসেখ-মানসুখের মতো বিষয়সমূহ, একজন মানুষের উপর কোরআন অবতীর্ণ হওয়া এবং যে নবীর উপর কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে, সে নবী কতৃক কোরআনকে তার জীবনে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন উসূলের একটি অনুপম উপমা।</strong></p>
<p>কোরআনে বর্ণিত হয়েছে,</p>
<p>وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَن تَأْتُوا الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَٰكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَىٰ ۗ وَأْتُوا الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ</p>
<p>“তাদেরকে আরো বলে দাও: তোমাদের পেছন দিক দিয়ে গৃহে প্রবেশ করার মধ্যে কোন নেকী নেই ৷ আসলে নেকী রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার মধ্যেই, কাজেই তোমরা দরজা পথেই নিজেদের গৃহে প্রবেশ করো৷ তবে আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, হয়তো তোমরা সাফল্য লাভে সক্ষম হবে৷”</p>
<p>أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ</p>
<p>“তুমি কি দেখছো না আল্লাহ কালেমা তাইয়েবার উপমা দিয়েছেন কোন জিনিসের সাহায্যে? এর উপমা হচ্ছে যেমন একটি ভালো জাতের গাছ, যার শিকড় মাটির গভীরে প্রোথিত এবং শাখা-প্রশাখা আকাশে পৌঁছে গেছে৷”</p>
<p>এ আয়াতসমূহ এবং এ ধরনের অন্যান্য আয়াতসমূহ একই সাথে উসূলের প্রতি ইশারা করে থাকে।</p>
<p>রাসূলে আকরাম (সঃ) এর জীবদ্দশায় কোরআনের তাফসীর, তা’বীল এবং কোরআনকে তার জীবনে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের নমুনা একটি উসূলের দিকে ইশারা করে থাকে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মুয়াজ ইবনে জাবালের হাদীসের কথা আপনারা সকলেই জানেন।</p>
<p>হাদীসটি হল,</p>
<p>مِنْ أَهْلِ حِمْصَ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَبْعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ ‏&#8221;‏ كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ ‏&#8221;‏ ‏.‏ قَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏&#8221;‏ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ ‏&#8221;‏ ‏.‏ قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ ‏&#8221;‏ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ فِي كِتَابِ اللَّهِ ‏&#8221;‏ ‏.‏ قَالَ أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلاَ آلُو ‏.‏ فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَهُ وَقَالَ ‏&#8221;‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ ‏</p>
<p>“রাসূলে আকরাম (সঃ) যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে (রাঃ) ইয়েমেনে গভর্নর করে পাঠানোর ইচ্ছা পোষণ করেন, তখন তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘যদি তোমার কাছে কোন বিষয় আসে, তাহলে সে ব্যাপারে কিভাবে সিদ্ধান্ত দিবে?’</p>
<blockquote><p><strong>মুয়াজ (রাঃ) জবাবে বলেন, ‘আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিব।’</strong></p>
<p><strong>রাসূলে আকরাম (সঃ) তার জবাব শুনে বলেন, ‘যদি সেখানে না পাও, তাহলে?’</strong></p>
<p><strong>মুয়াজ (রাঃ) জবাবে বলেন, ‘তাহলে রাসূলুল্লাহর সুন্নত অনুসারে।’</strong></p>
<p><strong>রাসূল (সঃ) তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘যদি রাসূলের সুন্নতে এবং আল্লাহর কিতাবেও না পাও, তাহলে?’</strong></p>
<p><strong>মুয়াজ (রাঃ) জবাবে বলেন, ‘আমি আমার বুদ্ধি বা রায়কে ব্যবহার করে ইজতিহাদ করব।’</strong></p>
<p><strong>এটা শুনে রাসূলে আকরাম (সঃ) তার (মুয়াজ) বুকে হাত রাখলেন এবং বললেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের যিনি তার রাসূলকে সাহায্য করেছেন এমন মানুষ দ্বারা, যাদেরকে পেয়ে আল্লাহর রাসূল (সঃ) সন্তুষ্ট।’ </strong></p></blockquote>
<p>এ হাদীসটিও উসূলের দিকে ইশারা করে থাকে। আমীরুল মু’মিনীন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কর্তৃক তার শাসনকালে আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ), আবু উবায়দা (রাঃ) এবং কাজী শুরায়হাকে প্রেরিত চিঠিতে বর্ণিত বা উল্লেখিত বিষয়সমূহকে যদি আমরা ভালোভাবে বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই, মহান আল্লাহ তার প্রেরিত গ্রন্থটিকে উসূলের আলোকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করার দিকে ইশারা করেছেন। শাস্ত্র রূপে উসূলের উৎপত্তি হয় আরও পরে। শাস্ত্র রূপে উসূলের উৎপত্তি হওয়ার দুইটি কারণ রয়েছে। কারণগুলো হল–</p>
<p><strong>১। বহির্গত কারণ</strong></p>
<p><strong>২। অন্তর্গত কারণ</strong></p>
<p>বহির্গত কারণকে যদি আমরা দেখি, তাহলে দেখতে পাই, মুসলমানগণ ইসলামকে সমগ্র দুনিয়াতে বিজয়ী এক আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিজয়াভিযান পরিচালনা করে। এ সকল বিজয়াভিযানের ফলে ইরান, ইরাক, শাম, ফিলিস্তিনসহ অনেক অঞ্চল মুসলমানদের হাতে বিজিত হয়। কিন্তু এ সকল অঞ্চল শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। ইসলাম আসার পূর্বে বিগত ২০০০ বছর ধরে এ সকল অঞ্চল জ্ঞান-বিজ্ঞান সৃষ্টি করে যাচ্ছিল। সে সকল অঞ্চলে যাওয়ার পর মুসলমানগণ এমন এমন সমস্যা ও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, যা তারা কোনদিন কল্পনাও করেনি। নব উদ্ভূত এ সকল সমস্যার সমাধানকল্পে মুসলমানদের মধ্য থেকে হাজার হাজার আলেম এগিয়ে আসেন। কিন্তু এ আলেমদের এক একজনের এক এক চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গী ছিল। হিজাজ অঞ্চলে বসবাসকারী আলেমগণ ও পরবর্তীতে ইসলামী শাসনের পতাকাতলে আসা অঞ্চলের আলেমগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত জ্ঞানের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়।</p>
<p>ইসলামের আত্মপ্রকাশের পর ১০০ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে অনেক বড় বড় সমস্যা মুসলমানদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল জ্ঞানের ব্যবস্থাপনা (Management of Knowledge)। দ্বীনী জ্ঞানের বিভিন্ন ধারার মধ্যে সমন্বয় করা ছিল তৎকালীন মুসলমান আলেমদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওহীভিত্তিক দ্বীনী জ্ঞান যদি একটি উসূলের মধ্য দিয়ে বুঝা না যায় বা পরিচালনা করা না যায়, তাহলে সেটি মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের পরিবর্তে অনৈক্যের জন্ম দেয়। উসূল অনুসরণ না করার কারণে প্রথমে ইখতিলাফ বা মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়, আর এ মতপার্থক্য থেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন ফিরকা বা দলের উৎপত্তি হয়ে থাকে। এ অবস্থার মধ্যে সমন্বয় করার প্রয়োজন ছিল।</p>
<p>কোরআন নাযিলের শুরু থেকে রাসূলে আকরাম (সঃ) ও চার খলিফার শাসন আমল থেকে মুসলমান আলেমদের মধ্যে উসূলের চিন্তা জাগ্রত হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা তাদের এ চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে উসূলকে লিখিত রূপ দেন এবং এ উসূলের মাধ্যমে দ্বীনী জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা বিভিন্ন ধারার মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন।</p>
<p><strong>মূলত নস বা ওহীর বিশেষত্ব বা বৈশিষ্ট্য, মানুষের বিশেষত্ব বা বৈশিষ্ট্য, নসকে বুঝার জন্য আকলের প্রয়োজন; আর এ আকলের বিশেষত্ব এবং বৈশিষ্ট্য ভিন্নতার দাবী করে। নস (আয়াত) একটি নির্দিষ্ট ভাষায় অবতীর্ণ হওয়ার কারণে ঐ ভাষার মুহকামসমূহ রয়েছে, মুতাশাবিহসমূহ রয়েছে, মাজায (রূপক) রয়েছে, হাকিকাত রয়েছে, মুফাসসার রয়েছে, মুবায়্যান রয়েছে, মুশকিল রয়েছে এবং মুবহাম রয়েছে। এ সকল ভিন্নতা ইখতিলাফকে অবশ্যম্ভাবী করে দেয়। একই সাথে মানুষের বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্য এবং তার বুঝার ক্ষমতা ভিন্নতার দাবী করে। ভিন্ন ভিন্ন মানুষগণ ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন ভিন্ন প্রভাবের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। ইখতিলাফের এ স্তর বা পর্যায়টি রহমত স্বরূপ। অর্থাৎ, নস থেকে উৎসারিত, মানুষ থেকে উৎসারিত এবং বসবাসকৃত পরিবেশ থেকে উৎসারিত প্রাকৃতিক ইখতিলাফ রহমত স্বরূপ। এক্ষেত্রে কোন সমস্যা নেই।</strong></p>
<p>কিন্তু এ সকল ইখতিলাফের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়া এবং দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার পর দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়া অনেক বড় একটি সমস্যা এবং আমাদের প্রভুর সবচেয়ে বড় ইচ্ছার পরিপন্থী। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা কী? সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হল উম্মাহর ওয়াহদাত বা ঐক্য। ভিন্নতার মধ্যে ঐক্য এবং ঐক্যের মধ্যে ভিন্নতা হতে পারে। কিন্তু ইখতিলাফ যেন তাফরিকা (দলাদলি)-তে রূপান্তরিত না হয়। যে ইখতিলাফ উম্মাহর জন্য রহমত স্বরূপ, সে ইখতিলাফ যেন উম্মাহর যাহমাত (সমস্যা) এর কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে আমাদের সাহিত্য অনেক বেশী সমৃদ্ধ।</p>
<p><em>প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের কাছ থেকে এ ব্যাপারে আমার চাওয়া হল তোমরা যেন ইখতিলাফের কারণ, ইখতিলাফের আদাব, ইখতিলাফের আখলাক সম্পর্কে লিখিত বইসমূহের দিকে চোখ বুলাও।</em></p>
<p>এমন অনেক বিষয় আছে, যে সকল বিষয়ে ইখতিলাফ করা ওয়াজিব, আবার এমন অনেক বিষয় আছে, যে সকল বিষয়ে ইখতিলাফ করা জায়েজ নয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মূল বিষয়সমূহকে ভিত্তি হিসেবে ধরে, এর মধ্যকার ভিন্নতাকে বিবেচনায় নিয়ে, একে কোন প্রকার দ্বন্দ্ব সংঘাতের দিকে না নিয়ে গিয়ে রহমতে পরিণত করা। কিন্তু ইসলামের প্রথম ১৫০ বছরে আলেম-উলামাদের মধ্যে সৃষ্ট ইখতিলাফ আস্তে আস্তে তাকফিরে (অন্যকে কাফির বলে আখ্যায়িত করা) তেলয়িনে (একে অপরকে অভিশাপ দেওয়া) পরিণত হয়।</p>
<blockquote><p><strong>ইমাম আহমদ বিন হাম্বল এ অবস্থাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,</strong></p>
<p><strong>ما زلنا نلعن أهل الرأي ويعلنوننا</strong></p>
<p><strong>“আমরা আহলে রা’য়কে অভিশাপ দিতাম, তারাও আমাদেরকে অভিশাপ দিত।”</strong></p>
<p><strong>حتى جاء الشافعي فمزج بيننا</strong></p>
<p><strong>“পরে শাফেয়ী আসেন এবং আমাদের মধ্যে সমন্বয় (ঐক্যবদ্ধতা) সাধন করেন।”</strong></p>
<p><strong>ইমাম শাফেয়ী মূলত উসূলের মাধ্যমে এ উভয় দলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।</strong></p></blockquote>
<p>এখন আমি আপনাদেরকে দুইটি বইয়ের নাম বলব, এ দুইটি বইয়ের একটির লেখক হলেন বাতালিআওসি (البطليوسي)। বাতালিআওসির খুব সুন্দর একটি বই রয়েছে,  এ বই ৮ টি অধ্যায়ে বিভক্ত। বইটি পড়লে ইসলামে ইখতিলাফের কারণ জানার সাথে সাথে ইখতিলাফের আদাব এবং আখলাক সম্পর্কেও খুব ভালোভাবে জানতে পারবেন। বইটির নাম হল,</p>
<p>الإنصاف في التنبيه على المعاني والأسباب التي أوجبت الاختلاف بين المسلمين في آرائهم و مذاهبهم</p>
<p>(সংক্ষেপে “আল ইনসাফ”) <a href="#_ftn1" name="_ftnref1"><sup>[1]</sup></a></p>
<p>الإنصاف في التنبيه على المعاني والأسباب التي أوجبت الاختلاف بين المسلمين في آرائهم و مذاهبهم</p>
<p>(যে সকল বিষয়সমূহ মুসলমানদেরকে ইখতিলাফ করতে বাধ্য করে, এর কারণসমূহ ও এর অর্থসমূহ এবং এ ব্যাপারে সতর্কবানীসমূহ)</p>
<p>আপনারা জানেন, বাতালিআওসি (البطليوسي) কোথায়? বাতালিআওসি (البطليوسي) ছিল আন্দালুসিয়ার অন্তর্ভুক্ত, এখন তা পর্তুগীজের সীমানাবর্তী একটি শহর। এ ব্যক্তি ৫১০ হিজরীতে জন্ম গ্রহণ করেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অন্য বইটি আব্দুল জলীল ঈসার লেখা। আব্দুল জলীল ঈসা মিশরের একজন আলেম। তার বইয়ের নাম হল,</p>
<p>ما لا يجوز الخلاف بين المسلمين</p>
<p>(যে সকল বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে ইখতিলাফ করা জায়েজ নয়) <a href="#_ftn2" name="_ftnref2"><sup>[2]</sup></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সবচেয়ে মজার বিষয় হল ইখতিলাফ সম্পর্কিত অধিকাংশ বইয়ের নাম ‘ইনসাফ’! শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির বইয়ের নামও الإنصاف في بيان أسباب الاختلاف <a href="#_ftn3" name="_ftnref3"><sup>[3]</sup></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আসলে এখানে মূল বিষয় হল ইখতিলাফ করলেও ইনসাফের সাথে করা। ইনসাফকে দূরে ঠেলে দিয়ে ইখতিলাফ করলে সে ইখতিলাফ সংঘাত এবং সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি আমার ছাত্রজীবনে এ দুইটি বই একসাথে পড়েছিলাম এবং অনেক উপকৃত হয়েছিলাম। আপনাদেরকেও অনুরোধ করব বই দুটি পড়ার জন্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আগে الإنصاف في التنبيه على المعاني والأسباب التي أوجبت الاختلاف بين المسلمين في آرائهم و مذاهبهم (“যে সকল বিষয়সমূহ মুসলমানদেরকে ইখতিলাফ করতে বাধ্য করে এর কারণসমূহ ও এর অর্থসমূহ এবং এ ব্যাপারে সতর্কবানীসমূহ”) বইটি পড়তে পারেন। এ বইটি পড়লে দেখতে পারবেন কী কী কারণে ইখতিলাফের সৃষ্টি হয়ে থাকে। যেমন: লেখক উক্ত বইয়ে ভাষাগত কারণে, নসের (কোরআন ও হাদীস) কারণে, মানুষের মেজাজের ভিন্নতার কারণে, পরিবেশের কারণে ইখতিলাফের সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেছেন।</p>
<p>এর পর ما لا يجوز الخلاف بين المسلمين (যে সকল বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে ইখতিলাফ করা জায়েজ নয়) বইটি পড়তে পারেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইমাম আশয়ারীর বিখ্যাত বইয়ের নাম কী?</p>
<p>তার বিখ্যাত বইয়ের নাম হল مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين ( মুসুল্লিদের ইখতিলাফ)<a href="#_ftn4" name="_ftnref4"><sup>[4]</sup></a></p>
<p>আমি একটি কথা সব সময় বলে থাকি, এখানেও তার পুনরাবৃত্তি করতে চাই। সেটা হল মুসলমানদের মধ্যকার ইখতিলাফকে যদি আমরা নামাজের মধ্যকার ইখতিলাফের মত করে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে আমাদের ইখতিলাফ অনেকাংশেই কমে যাবে।</p>
<p>আমার এ কথা বলার উদ্দেশ্য কী? যেমন আমরা নামাজের তাকবীরে তাহরিমা নিয়ে কোন মতভেদ বা ইখতিলাফ করি না। সকল স্থানে, সকল জায়গায়, সকল মুসলমানগণ নামাজ আদায় করার জন্য দাঁড়ালে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তাকবীরে তাহরিমা পড়ে। তাকবীর পড়ার সময় কেউ কানের লতি পর্যন্ত, আবার কেউবা আবার কাঁধ পর্যন্ত, কেউ কেউ আবার তারও নিচ পর্যন্ত হাত তুলে থাকেন।</p>
<p>তাকবীরে তাহরিমা পড়ার ক্ষেত্রে যেহেতু আমরা কোন ইখতিলাফ করি না, তথাপি হাত কোন পর্যন্ত তুলব বা তুলব না এটা নিয়ে মতভেদ করার মধ্যে খুব বেশি ফায়দা নেই।</p>
<p>কিয়ামের ক্ষেত্রে কি আমাদের মধ্যে কোন ইখতিলাফ আছে? না, কিয়াম নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন ইখতিলাফ নেই। কিন্তু কিয়াম অবস্থায় হাত বাঁধা নিয়ে আমাদের মধ্যে ইখতিলাফ আছে। মালেকী মাযহাবের ভাইয়েরা হাত একদম ছেড়ে দিয়ে নামাজ আদায় করেন, হানাফী মাযহাবের ভাইয়েরা নাভীর নিচে বা উপরে হাত বাঁধেন, শাফেয়ী মাযহাবের ভাইয়েরা বুকের উপর কালবের কাছাকাছি হাত বেঁধে থাকেন।</p>
<p>নামাজের আরকানসমূহের ক্ষেত্রে আমাদের কোন ইখতিলাফ নেই, আরকানের ব্যাপারে সকলেই একমত, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন পন্থা অনুসরণ করে থাকি। একই ভাবে আমরা যদি ইসলামের সকল মৌলিক ব্যাপারে (আসলুল উসূল) এবং আসলুল কুল্লির ব্যাপারে যদি ইখতিলাফ না করে সেগুলোর বাস্তবায়নের ব্যাপারে ভিন্ন ভিন্ন পন্থা বা মতামতকে মেনে নিতে পারতাম, তাহলে আমাদের মধ্যে এত বেশি ইখতিলাফের সৃষ্টি হতো না।</p>
<p>এজন্য আমার কাছে ইমাম আশআরীর এ বইয়ের নাম (مقالات الإسلاميين واختلاف المصلين) অনেক অর্থবহ মনে হয়েছে।</p>
<p>একইভাবে ইমাম শাফেয়ী তার বিখ্যাত গ্রন্থ “আর-রিসালা”য় ‘ইখতিলাফ’ নামে একটি সন্তন্ত্র অধ্যায়ের স্থান দিয়েছেন।</p>
<p>এছাড়াও তার “আল-ইখতিলাফু ফিল হাদীস” নামে আলাদা একটি বই রয়েছে। যদিও বইটি “আর-রিসালা” থেকে সংকলিত। এভাবে ইমাম শাফেয়ীর “আর-রিসালা” যখন পড়বেন, তখন দেখতে পাবেন, ইখতিলাফের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য তিনি এ উসূল শাস্ত্রটি রচনা করেছেন। মুসলমান আলেমগণ কতৃক উদ্ভাবিত ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় করার জন্য এবং ইখতিলাফসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্যই উসূল শাস্ত্র জ্ঞানের আলাদা একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।</p>
<p>একইভাবে ইমাম তাবারীর “اختلاف الفقهاء” ( ইখতিলাফুল ফুকাহা) নামে একই বই রয়েছে।</p>
<p>আবু বকর আল-জাসসাসের “ইখতিলাফুল উলামা” নামে একটি বই রয়েছে। জাসসাসের লেখা এ বইটিকে পরবর্তীতে সংক্ষিপ্ত করে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে প্রকাশ করেন ইমাম-ত্বাহাবী, “ইখতিসারুল ইখতালাফুল উলামা” নামে।</p>
<p>শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির الإنصاف في بيان أسباب“ الاختلاف” বইটি খুব ছোট একটি বই। সকলকে অনুরোধ করব বইটি ভালোভাবে পড়ার জন্য। বিশ্বাস করুন, এক বসাতেই পড়ে শেষ করতে পারবেন এবং অনেক কিছু জানতে পারবেন।</p>
<p><strong>আমি আমার পূর্বের কথা পুনঃরাবৃত্তি করে বলতে চাই যে, উসূল শাস্ত্রের উন্মেষের প্রথম অভ্যন্তরীন কারণ হল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত জ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি মূলনীতির আওতায় নিয়ে আসা। </strong></p>
<p>ইমাম মালেকের সাথে আব্বাসী খলিফা জাফর মানসুরের কথোপকথনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী জ্ঞানের উৎপত্তি এবং ইখতিলাফের স্বাভাবিকতার দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা অনেকেই জানেন যে, খলিফা জাফর মানসুর মদিনায় গিয়ে ইমাম মালেকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার সাথে সাক্ষাৎ করে বলেন যে, “আমাকে একটি বই লিখে দিন। আমি আপনার লেখা বইটিকে সকল শহরে পাঠিয়ে দিব। আর প্রতিটি শহরের বিচারক (কাজী) ও মুফতিকে বলে দিব, তারা যেন এ কিতাবের আলোকে ফতোয়া দেয় ও বিচারকার্য পরিচালনা করে।”</p>
<p>অপর এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, “আমাকে একটি বই লিখে দিন। তবে বইটি যেন ইবনে উমরের কাঠিন্যতা থেকে, ইবনে আব্বাসের রুখসাত (সহজতা) থেকে এবং ইবনে মা’সউদের গারাইয়িব (শাজ ফতওয়া, আজব ফতওয়া, ভিন্ন ধারার চিন্তা ও ফতওয়া) থেকে দূরে থাকে।”</p>
<p>কিন্তু ইমাম মালেক তার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, শামে ইমাম আব্দুর রহমান আল আওজায়ী, ইরাকে ইমাম আবু হানিফা থাকা অবস্থায় আমার এ ধরনের কোন কাজ করা ঠিক হবে না।</p>
<p>এ ধরনের কাজের উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসেও রয়েছে। আন্দালুসিয়াতে মুওয়াহহিদিদের শাসনামলে এ ধরণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকল ইখতিলাফ ও মতপার্থক্য দূর করার জন্য সকল মাযহাবকে একটি মাযহাবে রূপান্তরিত করে সকলকে একটি পথ (মতবাদ) অনুরসণ করে ফতোয়া ও বিচারকার্য পরিচালনা করার জন্য বাধ্য করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে মুওয়াহহিদিদের পতনও এ কারণেই হয়।</p>
<p>অনেক সময় অনেকেই মনে করে থাকেন যে, সকলকেই যদি একটি মেথডোলজি মানতে বাধ্য করা যায়, তাহলে ইখতিলাফ ও মতপার্থক্য কমে যাবে। কিন্তু এ পন্থা কক্ষনো কল্যাণ বয়ে আনেনি এবং এটা সঠিক কোন পন্থাও নয়।</p>
<p><strong>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির প্রথম কারণ হল দ্বীনী জ্ঞানের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও এর ব্যবস্থাপনা। দ্বীনী জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া থেকে মুসলমানদেরকে রক্ষা করা। ইখতিলাফপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বন করা, ইখতিলাফের আদাব ও আখলাকের মূলনীতিকে মুসলমানদের সামনে উপস্থাপন করা।</strong></p>
<p><strong>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির দ্বিতীয় কারণ হল দ্বীনী নসসমূহ (কোরআন ও হাদীস)-কে সঠিকভাবে বুঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করা।</strong> জাযিরাতুল আরব ছাড়া অন্য কোন অঞ্চলের ভাষা আরবী ছিল না। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলত। যেমন ইরাক, ইরান, আজারবাইজান, আফ্রিকাসহ আরও অনেক অঞ্চলের মানুষ। তারা ইসলামের আলোকে তাদের জীবন সমস্যাসমূহ সমাধান করার জন্য কোরআন ও হাদীস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু তাদের ভাষা আরবী না হওয়ায় কোরআন ও হাদীস থেকে হুকুম উদ্ভাবন করা তাদের জন্য অনেক কঠিন ছিল। এজন্য ইজতিহাদ ও ইসতিনবাতের মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছিল। এমনকি আরবগণ যখন আরব দেশসমূহ ছেড়ে এ সকল অঞ্চলে যায়, তখন তাদের আরবীও পরিবর্তন হতে শুরু করে। এক ভাষার মানুষ অন্য ভাষায় কথা বলে এমন স্থানে যাওয়ার ফলে এক ভাষার শব্দ অন্য ভাষার মধ্যে প্রবেশ করতে শুরু করে। আরবী ভাষায় নাযিল হওয়া কোরআনের অনেক শব্দের অর্থ পরিবর্তন হওয়া শুরু হয়, এক অর্থের শব্দ অন্য অর্থে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়; দেখা গেছে, আরবী ভাষায় অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলোর অর্থ অনেক ব্যাপক ও বিস্তীর্ণ, কিন্তু অন্য স্থানে যাওয়ার ফলে আস্তে আস্তে এ সকল শব্দের অর্থের ব্যাপকতা হারিয়ে যেতে শুরু করে। এমনও দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত একটি শব্দ তার সম্পূর্ণ ব্যাপকতা হারিয়ে একান্ত সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক শব্দ তার আসল অর্থ হারিয়ে ফেলে এবং অস্পষ্ট অর্থের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে।</p>
<p>আপনারা যদি তাফসীর ও হাদীস শাস্ত্র হতে উদ্ভাবিত সাহিত্যের দিকে তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন যে, غريب القران ও غريب الحديث (গারীবুল কোরআন ও গারীবুল হাদীস)-সমূহ এ কারণে উদ্ভাবিত হয়েছে। غريب القران ও غريب الحديث (গারীবুল কোরআন ও গারীবুল হাদীস) হল কোরআন ও হাদীসে ব্যাবহৃত শব্দসমূহ সমাজে থেকে আস্তে আস্তে ব্যবহৃত না হওয়ার ফলে غريب বা অপরিচিত, অস্পষ্ট অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ইসলামের মহান আলেমগণ غريب القران ও غريب الحديث (গারীবুল কোরআন ও গারীবুল হাদীস) এর অনেক গ্রন্থ রচনা করেন, যেন কোরআন ও হাদীসের মূল অর্থ হারিয়ে না যায়।</p>
<p>এ কারণে দ্বীনী নসসমূহকে কীভাবে বুঝতে হবে তা জানার জন্য একটি পন্থার প্রয়োজন ছিল। উসূল শাস্ত্র এভাবেই জন্ম লাভ করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>উসূলের গ্রন্থসমূহের ‘দালালাত’ অধ্যায়সমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, যাহির, মুহকাম, মুফাসসার, মুজমাল, মুবায়্যান, মাজাজ, হাকীকাত, তাশবিহ, ইস্তিয়ারা, তামছিল এ সকল বিষয়কে বুঝার জন্য মূলনীতির অনুসরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের কাছে বোধগম্য করে তোলার জন্য উসূল শাস্ত্র এ সকল বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এজন্য উসূলের উপর লেখা ইমাম শাফেয়ীর “আর-রিসালা” র দিকে যদি তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন, كيف البيان  (কাইফাল বায়ান, অর্থাৎ বয়ান কী? কীভাবে বয়ান করতে হবে) নামক একটি শিরোনাম রয়েছে।বয়ান অধ্যায়ে নসকে বুঝার পদ্ধতি নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি পরবর্তী সময়ে লেখা উসূল গ্রন্থসমূহের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, পরবর্তী উসূল গ্রন্থসমূহের বড় একটি অংশ দখল করে আছে দালালাত (الدلالات)। দালালাত (الدلالات) এর অধ্যায়সমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরবী ভাষায় যে কোন একটি বাক্যকে যদি তাহকীক ও তাহলিল (সংশ্লেষণ পদ্ধতি, সিনথেসিস) করেন, তাহলে দেখতে পাবেন , ১০ থেকে ১২ টি ভিন্ন অর্থ বের করা সম্ভব। বাতালিআওসি (البطليوسي) তার বইয়ে এবং ইমাম শাতেবী তার “মুওয়াফাকাত” এ এর অনেক উদাহরণ দিয়েছেন। মাযাযী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এক অর্থ হয়, হাকীকী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এক অর্থ হয়, নিজেই নিজের মধ্যে ভিন্ন অর্থ সৃষ্টি করতে পারে। এভাবে ১০ এর বেশি ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হতে পারে।</p>
<p>এ কারণে কোরআন ও হাদীসকে বুঝার জন্য উসূল এবং উসূলের এ দালালাত (الدلالات) অধ্যায়সমূহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।<strong> ইমাম শাতেবীর “মুওয়াফাকাত” এর الافهام   الفهم و (আল-ফাহম ওয়াল ইফহাম) নামক একটি অধ্যায় রয়েছে। এ অধ্যায়ে তিনি এ বিষয়ে খুব সুন্দর করে আলোচনা করেছেন। কিছু কিছু বর্ণনা নিজে নিজেই মুবায়্যান বা (স্পষ্ট), কিছু আছে যেগুলো হল মুজমাল, কিতাব সেটাকে বর্ণনা করে, আবার এমন কিছু মুজমাল আছে যেগুলোকে বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করে থাকে সুন্নত, আবার কিছু আছে যেগুলোর ব্যাখা কেবলমাত্র সুন্নতের মধ্যে রয়েছে। যার ফলে প্রতিটিরই আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি (বিভাগ) রয়েছে এবং প্রতিটিকেই ভিন্ন ভিন্নভাবে বুঝা প্রয়োজন।</strong></p>
<p>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির তৃতীয় কারণ হল ‘ইজতিহাদের মূলনীতি সমূহ নির্ণয় করা’। উসূল কেবলমাত্র নস থেকে হুকুম বের করার (ইসতিনবাত) জন্য নয়, একই সাথে ইজতিহাদ করার নিয়মকানুনসমূহ নির্ধারণ করার জন্য।</p>
<p>আমি এটা সব সময় বলি যে,</p>
<p>النصوص معدودة والحوادث ممدودة</p>
<p>“নসসমূহ হল সীমাবদ্ধ আর ঘটনা প্রবাহ সীমাহীন।”</p>
<p>এ সীমাহীন ঘটনার উপর সীমাবদ্ধ নস (কোরআন ও সুন্নাহ)-কে প্রয়োগ করার জন্য অনেক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। যে সকল বিষয়ে নস নেই, সে সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে কী করব? ধরুন, নতুন একটি দুনিয়া প্রতিষ্ঠা করেছেন, এ নতুন দুনিয়ায় নতুন নতুন সমস্যা আপনাদের সামনে আসবে, এ সকল সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন? এ সকল সমস্যা সমাধান করার জন্য নতুন একটি ইজতিহাদের প্রয়োজন। অনেকেই আছেন যারা ইজতিহাদ এবং কিয়াসকে সমান মনে করেন। তাদের কথা অনুযায়ী কিয়াসই হল ইজতিহাদ। আবার ইসলামী জ্ঞানের ধারায় এমন অনেক ফকীহ রয়েছেন যারা ‘রায়’ এর মাধ্যমে ইজতিহাদ করেছেন। ইসতিহসান, মাসালিহি মুরসালাহ, সাদ্দে যারিয়াহ এর মত মূলনীতিসমূহকে সামনে রেখে ইজতিহাদ করা হয়েছে, এমন অনেক ইজতিহাদ রয়েছে। تحقيق المناط (তাহকীকূল মাণাত) এবং মাকাসীদও একই রকম। মাকাসীদ পরবর্তীতে আলাদা একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ সকল বিষয় উসূলের প্রয়োজনীয়তাকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। যদি এটা না হতো, তাহলে ইজতিহাদের নামে একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হতো। যে কেউ বের হয়ে একটি চিন্তা সামনে আনত এবং বলত এটা আমার ইজতিহাদ। অথচ ইজতিহাদকে মূলনীতিসমূহের সাথে সম্পৃক্ত করা উচিত। প্রাকৃতিক জ্ঞান (Natural Science) এর ক্ষেত্রে সৃষ্টি জগতের সাথে জ্ঞানের যে সম্পর্ক রয়েছে, দ্বীনী জ্ঞানের ক্ষেত্রে জ্ঞান (ইলিম) ও নস এর সম্পর্ক তেমনই।</p>
<p><strong>প্রাকৃতিক জ্ঞান (Natural Science) এর ক্ষেত্রে যেমন মহাবিশ্ব ও দুনিয়াকে বাদ দিয়ে কোন জ্ঞানের ধারা নির্মাণ করা সম্ভব নয়, তেমনি দ্বীনী জ্ঞানের ক্ষেত্রেও নস (কোরআন ও সুন্নাহ)-কে বাদ দিয়ে কোন জ্ঞান (ইলিম) এর ধারাকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।</strong></p>
<p>এজন্য বিগত বছরসমূহ ধরে নসের গুরুত্ব নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি করা হয়েছে, এটা আমার মতে সঠিক নয়। তাদের এ তর্ক-বিতর্ক বা নসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে প্রচেষ্টা, তা নসকে ভালোভাবে বুঝার কোন প্রচেষ্টা নয়, নসকে বিশ্লেষণ (analysis) করার প্রচেষ্টা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এক্ষেত্রে ২ টি পদ্ধতি রয়েছে,</strong></p>
<p><strong>একটি হল المنهج التفهيمي বা বুঝার পদ্ধতি।</strong></p>
<p><strong>অপরটি হল المنهج التفكيكي বা বিশ্লেষণে পদ্ধতি।</strong></p>
<p>বিশ্লেষণের পদ্ধতি দিয়ে বুঝা সম্ভব নয়। কারণ এখান থেকে কোন উসূলের উৎপত্তি হয় না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এজন্য উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল দ্বীনের ব্যাপারে যে সকল ইজতিহাদ করা হবে, সে সকল ইজতিহাদ যেন প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা, ব্যাক্তিগত ইচ্ছা থেকে দূরে থেকে ইলাহী ইচ্ছা (মুরাদ), আসলুল উসূল, মূলনীতি, দলিল ও কায়েদার ভিত্তিতে সংগঠিত হয়।</p>
<p>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির চতুর্থ কারণ হল মাযহাবসমূহ উৎপত্তি হওয়ার পর নিজের মাযহাবের মতবাদকে অপরের সামনে তুলে ধরে যে, কিসের উপর ভিত্তি করে এভাবে চিন্তা করেছে। এর ডকট্রিন (মূলতত্ত্ব) কী এটা ভালো ভাবে তুলে ধরার জন্য একটি উসূলের প্রয়োজন ছিল। সকলেই তার মাযহাবের যৌক্তিকতাকে তুলে ধরার জন্য উসূলের আশ্রয় নেয়। কারণ প্রতিটি মাযহাবই এক একটি উসূল এবং প্রতিটি উসূলই নিজেকে অপরের কাছে গ্রহণযোগ্যভাবে উপস্থাপন করার জন্য একটি ব্যাখার প্রয়োজন বোধ করে থাকে।</p>
<p>এজন্য উসূল শাস্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিতর্ক রয়েছে। বিতর্কটি হল, আগে কোনটার উৎপত্তি হয়েছে? উসূল নাকি মাযহাব?</p>
<p>আমরা যদি উসূলের ইতিহাসের ধারাক্রমের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, মাযহাবসমূহের উৎপত্তি হওয়ার পূর্বে উসূলের চিন্তা জাগরূক ছিল। কিন্তু উসূল শাস্ত্রের আকারে বা সিস্টেমেটিক রূপে আত্মপ্রকাশ করে মাযহাবসমূহ সৃষ্টি হওয়ার পরে। এ কারণে সকলেই তার নিজস্ব মাযহাবকে বুঝার জন্য এবং অন্যকে বুঝার জন্য উসূলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।</p>
<p>উসূল শাস্ত্রের উৎপত্তির পঞ্চম কারণ হল শুধুমাত্র নসকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে দ্বীনকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য এবং একটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গী অর্জনের জন্য এটির প্রয়োজন ছিল। শুধুমাত্র ফিকহের আইন-কানুন উদ্ভাবনের জন্য নয়, একটি ইলমী মেথড (জ্ঞানের পদ্ধতি) হিসেবে, চিন্তার একটি পদ্ধতি হিসেবে, সৃষ্টি জগত এবং মহাবিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য একটি পদ্ধতি ও মেথডোলজির প্রয়োজন।</p>
<p>বর্তমান সময়ে আমাদের এমন এক উসূলের প্রয়োজন, যে উসূল আমাদেরকে সঠিকভাবে চিন্তা করতে ও বুঝতে শেখাবে।</p>
<p>এ লক্ষ্যে শুধুমাত্র ফিকহের জন্য নয়, তাফসীরের জন্য, হাদীসের জন্য, ইলমূল কালামের জন্য উসূলের প্রয়োজন। এছাড়াও উসূলূদ্দীন এবং উসূলে ফিকহের মধ্যকার সম্পর্ককে খুব ভালোভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। উসূলুদ্দীনে যে اصل (মূল বিষয়)-সমূহ রয়েছে, সেগুলোকে সঠিকভাবে নিরূপণ বা নির্ধারণ করা ছাড়া উসূলে ফিকহের اصل (মূল বিষয়)-সমূহকে তার উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা সম্ভবপর নয়। উসূলের শাস্ত্রের আলাদা একটি জ্ঞানের শাখা হিসেবে উৎপত্তি হওয়ার সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত কারণ হল এ পঞ্চম কারণ।</p>
<p>বর্তমান সময়ে আমাদের উসূলে তাফসীর, উসূলে ফিকহ, উসূলে হাদীসকে খুব ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। কিন্তু একই সাথে এ সকল উসূলকে প্রভাবিতকারী বড় উসূলকে নিয়ে আমাদের চিন্তা করা প্রয়োজন।</p>
<p>ইবনে রুশদের খুব সুন্দর একটি সংজ্ঞা রয়েছে, তিনি বলেন,</p>
<p>هو أحد العلوم التي غايتها إنتاج قوانينَ تسدد الفكر والنظر وتعصمه من الزلل ان علم الاصول</p>
<p>“ইলমূল উসূল হল সঠিকভাবে চিন্তা করার নিয়ম-পদ্ধতিসমূহকে শিক্ষাদানকারী জ্ঞানসমূহের মধ্য একটি এবং এ জ্ঞান মানুষকে ভুল-ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।”</p>
<p>وظيفته وظيفة البيكار/( البركار) والمسطرة في ضلط المعارف الحسية والهندسية</p>
<p>“একজন ইঞ্জিনিয়ার বা স্থাপত্যবিদের জন্য স্কেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, যারা ইসলামী জ্ঞান চর্চা করেন, তাদের জন্য উসূলও তেমন গুরুত্বপূর্ণ।”</p>
<p>অন্য এক স্থানে তিনি বলেন,</p>
<p>জ্ঞান তিন ধরনের। যথা:</p>
<p><strong>১। حصول الاعتقاد غايتها অর্থাৎ ইতিকাদ বিষয়ক জ্ঞান অর্জন। যেমন: উসূলুদ্দীন, ইলমূল কালাম, আকাঈদ ইত্যাদি।</strong></p>
<p><strong>২। আমল বিষয়ক জ্ঞান, যে জ্ঞান আমলের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন: ইলমূল ফিকহ।</strong></p>
<p><strong>৩। যে জ্ঞান মানুষের মস্তিষ্ককে সঠিক চিন্তার দিকে ধাবিত করে বা নিয়ে যায়। যেমনঃ মানতিক। </strong></p>
<p><em>ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী বলেন,</em></p>
<p><em>“আকলী ইলিমের ক্ষেত্রে মানতিকের গুরুত্ব যতটুকু, শারয়ী ইলিমের ক্ষেত্রে উসূলের গুরুত্বও ততটুকু। অপরদিকে মানতিক হল উসূলের একটি অংশবিশেষ। উসূলবিহীন মানতিক অকল্পনীয়।”</em></p>
<p><a href="#_ftnref1" name="_ftn1"><sup>[1]</sup></a>  পিডিএফ লিঙ্কঃ http://www.islamicbook.ws/asol/alinsaf-llbtliwsi.pdf</p>
<p><a href="#_ftnref3" name="_ftn3"><sup>[3]</sup></a> বাংলা ভাষায় এর অনুবাদ হলঃ মতবিরোধ পূর্ণ বিষয়ে সঠিক পন্থা অবলম্বনের উপায়।</p>
<p><a href="#_ftnref4" name="_ftn4"><sup>[4]</sup></a> পিডিএফ লিঙ্কঃ <a href="https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda3.net-wq-5345.pdf&amp;hl=ar" target="_blank" rel="noopener">https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda</a><a href="https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda3.net-wq-5345.pdf&amp;hl=ar" target="_blank" rel="noopener">3.</a><a href="https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda3.net-wq-5345.pdf&amp;hl=ar" target="_blank" rel="noopener">net-wq-</a><a href="https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda3.net-wq-5345.pdf&amp;hl=ar" target="_blank" rel="noopener">5345.</a><a href="https://docs.google.com/viewerng/viewer?url=http://books-library.online/elebda3.net-wq-5345.pdf&amp;hl=ar" target="_blank" rel="noopener">pdf&amp;hl=ar</a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/evolution-of-usul/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6729</post-id>	</item>
		<item>
		<title>উসূল ও মাকাসিদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Feb 2022 18:23:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[মাকাসিদ আশ শারীয়াহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6713</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উম্মুক্তকারী জ্ঞান হল উসূল। এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়  তাহলে দেখা যায়, ইলমুল উসূল শুধুমাত্র ফিকহের নিয়মনীতি উৎপাদনের পদ্ধতি ব্যাখাকারী এবং মূলনীতি দানকারী একটি জ্ঞানই নয়, এটি একই সাথে জ্ঞান উৎপাদনের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে চিন্তা উৎপাদনের পথ উম্মুক্তকারী জ্ঞান হল উসূল। এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়  তাহলে দেখা যায়, ইলমুল উসূল শুধুমাত্র ফিকহের নিয়মনীতি উৎপাদনের পদ্ধতি ব্যাখাকারী এবং মূলনীতি দানকারী একটি জ্ঞানই নয়, এটি একই সাথে জ্ঞান উৎপাদনের ক্ষেত্রে এর সীমানা নির্ধারণকারী এবং মুসলমানগণ কর্তৃক তৈরিকৃত জ্ঞানসমূহকে দার্শনিক পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী। বিশেষ করে আইন ও আখলাকের ক্ষেত্রে মুসলমানগণ দার্শনিক পর্যায়ে যে জ্ঞান উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে, তার পেছনে জমিন প্রস্তুত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে ইলমুল উসূল। এর পাশাপাশি ইলমুল উসূল কাঠামো নির্ধারণকারী, নিয়মনীতি প্রণয়নকারী এবং নিয়ন্ত্রণকারী হিসেবেও ভূমিকা পালন করে থাকে। এ কারণে উসূলে ফিকহ শুধুমাত্র ফিকহ নয়, জ্ঞানের অন্যান্য শাখা কর্তৃক উৎপাদিত জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতার দলীল হিসেবেও কাজ করেছে। <em><strong> সংক্ষেপে, দ্বীনের নামে কথা বলার সীমানা নির্ধারণ করেছে এ জ্ঞান। এখানে উসূল কিংবা উসূলে ফিকহ বলতে আমরা শুধুমাত্র জ্ঞানের একটি শাখাকে বুঝাচ্ছি না, উসূল একই সাথে চিন্তা করার একটি পদ্ধতির নাম। কোরআন ও সুন্নত বুঝার ক্ষেত্রে, আয়াত ও হাদীস ব্যাখার ক্ষেত্রে উসূলের নীয়ম-নীতি থেকে সর্বদাই ফায়দা (সুবিধা) নেওয়া হয়েছে। উসূল মুসলমানদের অভিন্ন রেফারেন্সের উৎস হওয়ায় উসূলের নিয়ম-নীতির বাহিরে কোন ব্যাখা-বিশ্লেষণই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। মাকাসিদ নামক পরিভাষাটি ক্ল্যাসিক উসূলের সিস্টেম্যাটিকের মধ্যে ‘ওয়াসফুল মুনাসিব’ এর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে।</strong></em> ইমাম গাজালী এটিকে জারুরিয়্যাত, হাজিয়্যাত এবং তাহসিনিয়্যাত নামক তিনটি শিরোনামে বিভক্ত করেছেন। তিনি জারুরিয়্যাত নামক শ্রেণিটিকে দ্বীন, জান, মাল, আকল এবং নাসল তথা বংশ সংরক্ষণ নামক পাঁচটি মূল বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। মাকাসিদের এমন একটি ধারণা যে আমাদের সময়ের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকরী নয় এটি সকলের নিকটেই বোধগম্য।</p>
<blockquote><p>এ কারণে বর্তমান সময়ে ইসলামী জ্ঞানসমূহকে কার্যকারিতা, সামঞ্জস্য এবং সামগ্রিকতা দিতে হলে, অর্থাৎ ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে উসূলের সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে মাকাসিদকে তার সংকীর্ণ অর্থ থেকে বের করে দ্বীনের সমগ্র মাকসাদ এবং উদ্দেশ্যসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে এমনভাবে নতুন করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ কারণে বর্তমান সময়ে ফিকহের মওজুদ হুকুমসমূহকে প্রযোজ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতার দিক থেকে মূল্যায়ন করার পাশাপাশি প্রয়োজনে নতুন নতুন সমস্যার সমাধানের জন্য মাকাসিদ সম্পর্কিত ধারণাকে আরও বিস্তারিত করা ও উন্নত করা অতীব জরুরী। অন্য কথায় , মাকাসিদকে শুধুমাত্র মাকাসিদ আশ-শারিয়াহ হিসেবে নয়, সৃষ্টির উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তাকবীন), সৃষ্টি এবং জীবনের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল উমরান), ওহী নাযিলের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তানযিল), কোরআনের মূল উদ্দেশ্য (মাকাসিদুল কোরআন), সুন্নতের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুস-সুন্নাহ), মুকাল্লাফিয়্যাতের উদ্দেশ্য (মাকাসিদুত-তাকলিফ) এর মতো দ্বীনের সমগ্র উদ্দেশ্য এবং মাকসাদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করবে এমনভাবে ব্যাখা করতে হবে।</p></blockquote>
<p>নিঃসন্দেহে মহান প্রভুর সৃষ্টি এবং তার প্রেরিত দ্বীনের মধ্যে অর্থহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং উপকারহীন কোন বিষয় নেই। কিন্তু আমাদের সংকীর্ণ চিন্তা ও ব্যাখা-বিশ্লেষণ আমাদেরকে এ সকল কিছুর দিকে ধাবিত করতে পারে। অর্থহীনতা, উদ্দেশ্যহীনতা এবং উপকারহীনতা নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে আমাদেরকে রক্ষা করতে পারে মাকাসিদ। আমরা যদি দ্বীনের ক্ষেত্রে মাকাসিদের অবস্থান এবং এর অর্থ সঠিকভাবে নির্ণয় করে দ্বীনের রহমত, হিকমত, আদালত এবং মাসলাহাতকে বোধগম্য একটি ভাষার মাধ্যমে নতুন করে উপস্থাপন করতে পারি, তাহলে আমরা অর্থহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং উপকারহীন বিষয়সমূহ নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারব।</p>
<p>মাকাসিদের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হিসেবে অন্য যে বিষয়টি নিয়ে আমাদের বিবেচনা করতে হবে, তা হল আহকামসমূহের পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়। এটি আমাদের ফিকহের গ্রন্থসমূহে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হিসেবে আলোচিত হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সময়ের সমস্যাসমূহ সমাধান করবে এভাবে তুলে ধরা হয় হয়নি। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ফিকহের গতিশীলতার দিক থেকে এ তিনটি মূলনীতি আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেঃ</p>
<p><strong>ক)</strong> ‘সময় ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে হুকুমের পরিবর্তনের বিষয়টিকে অস্বীকার করা যায় না’।</p>
<p><strong>খ)</strong> ‘নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি হুকুমের প্রয়োগ যদি সে লক্ষ্যের বিপরীত কোন ফলাফল দেয়, তাহলে সে সংক্রান্ত হুকুম বাতিল বলে গণ্য হবে’।</p>
<p><strong>গ)</strong> ‘নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে যদি কোন হুকুম নির্ধারিত হয়, তাহলে সে লক্ষ্যে পৌঁছার সাথে সাথে সে হুকুমের স্থায়িত্বও শেষ হয়ে যাবে’।</p>
<p>এ সকল বিষয় যদি বিবেচনায় না নেওয়া হয়, তাহলে আজকের যুগের প্রশ্ন ও সমস্যাসমূহের কোন উত্তর ও সমাধান কেন্দ্রিক কোন ফিকহ তৈরি করা যাবে না।</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/usul-and-maqasid/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6713</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী জ্ঞানে উসূল</title>
		<link>https://rowyakbd.com/usul/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/usul/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 01 Feb 2022 17:54:20 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী জ্ঞানে উসূল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6710</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী জ্ঞানসমূহ আজ বড় বড় কিছু সমস্যার সম্মুখীন। সমস্যাগুলো হলো: কার্যকারিতা, সামগ্রিকতা এবং উসূল ও মেথডোলজির সমস্যা। এখানে উসূল দ্বারা শুধুমাত্র উসূলে ফিকহ-ই নয়, সাধারণভাবে দ্বীনকে বুঝার উসূলের কথা বলা হয়েছে। ‘ইসলামী জ্ঞানসমূহ’ পরিভাষাটিকে সময়ের ব্যবধানে সংকীর্ণ করে শুধুমাত্র কয়েকটি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী জ্ঞানসমূহ আজ বড় বড় কিছু সমস্যার সম্মুখীন। সমস্যাগুলো হলো: কার্যকারিতা, সামগ্রিকতা এবং উসূল ও মেথডোলজির সমস্যা। এখানে উসূল দ্বারা শুধুমাত্র উসূলে ফিকহ-ই নয়, সাধারণভাবে দ্বীনকে বুঝার উসূলের কথা বলা হয়েছে।</p>
<p><strong>‘ইসলামী জ্ঞানসমূহ’</strong> পরিভাষাটিকে সময়ের ব্যবধানে সংকীর্ণ করে শুধুমাত্র কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে নির্দিষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এটিকে কেবলমাত্র তাফসীর, হাদীস, কালাম, ফিকহ এবং তাসাউফের মতো জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলা হয়েছে এবং দ্বীনী জ্ঞান-প্রাকৃতিক জ্ঞান, আকলী জ্ঞান-নাকলী জ্ঞান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করে বিভাজিত করে ফেলা হয়েছে। যার ফলে এটির সামগ্রিকতায় ব্যাঘাত ঘটেছে। অথচ তানযিল এবং তানভীন, আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ এবং আফাক ও আনফুসে অবস্থিত আয়াতসমূহকে পরস্পর থেকে পৃথক করা সম্ভব নয়।</p>
<blockquote><p><strong>আমাদের একাডেমিক ধারা বিশেষায়িতকরণের (স্পেশালাইজেশন) নামে দ্বীনী জ্ঞান হিসেবে বিভাজিত এ সংকীর্ণ ক্ষেত্রকে আরও বেশি সংকীর্ণ করে ফেলেছে। এ দৃষ্টিভঙ্গী ইসলামী চিন্তাকে ইন্টার ডিসিপ্লিনার একটি পদ্ধতির মাধ্যমে সামগ্রিক একটি মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত করছে কিংবা সামগ্রিক একটি অধ্যয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে। অথচ ইসলামে জ্ঞানের ধারায় সকল প্রকার জ্ঞানই একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত, জ্ঞানসমূহ একে অপর থেকে আলাদা নয় বরং তাদের মধ্যে একই সাথে সম্পৃক্ততা ও তারতীব রয়েছে।</strong></p></blockquote>
<p>প্রথম শতাব্দী থেকে শুরু করে মুসলিম আলেম ও দার্শনিকগণ জ্ঞানের শ্রেণিবিন্যাস এবং মারাতিপ সংশ্লিষ্ট সকল জ্ঞানকে অভিন্ন একটি গ্রাউন্ডে সিস্টেম্যাটিক একটি তারতীবের মধ্যে একত্রিত করে এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ আমাদের জন্য মিরাস হিসেবে রেখে গিয়েছেন। কিন্তু আমরা তাদের রেখে যাওয়া এ সকল গ্রন্থ মূল্যায়ন করার সময় ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ ও শর্তসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরিকৃত এ জ্ঞানগত ব্যাখা ও বিশ্লেষণসমূহকে শর্তহীনভাবে গ্রহণ করে সকল সময়ের জন্য প্রযোজ্য পদ্ধতি হিসেবে চিন্তা করে থাকি। আর এভাবে গ্রহণ করার অর্থ হল তাদের পরবর্তীতে যারা আসবেন, তাদের দ্বারা চিন্তা করে নতুন কোন কিছু তৈরি করা সম্ভব নয়। এছাড়াও একটি মেথডোলজিকে মুতলাক অর্থাৎ সঠিক মেথডোলজি হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা এবং সকলকে সেটি গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা প্রতিটি চিন্তাবিদের জন্যই নতুন চিন্তা উৎপাদনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে, সে চিন্তাবিদ নিজের পদ্ধতির আলোকে যতই সঙ্গতিপূর্ণ চিন্তা উৎপাদন করুন না কেন।</p>
<p>আমি মনে করি, ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে এ অর্থগত সংকীর্ণতা, বিশেষায়িতকরণ এবং মুতলাকীকরণ ইসলামী চিন্তার সামগ্রিকতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে এবং এর কার্যকারিতা ও সামঞ্জস্যকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/usul/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6710</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী ও উসূল</title>
		<link>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-dehlovi-and-usul/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-dehlovi-and-usul/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 17 Jul 2021 05:49:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[চিন্তা ও দর্শন]]></category>
		<category><![CDATA[তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী ও উসূল]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5654</guid>

					<description><![CDATA[&#160; একটি সভ্যতার জন্য সেই সভ্যতার জ্ঞানের ইতিহাস অনেক বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের ইসলামের ইতিহাসকে জ্ঞানের উপরে ভিত্তি করে নয় বরং যুদ্ধ ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে রচনা করা হয়েছে। প্রতিটি জ্ঞানের আলাদা আলাদা ইতিহাস থাকতে পারে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>&nbsp;</p>
<p>একটি সভ্যতার জন্য সেই সভ্যতার জ্ঞানের ইতিহাস অনেক বেশী গুরুত্ত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের <strong>ইসলামের ইতিহাসকে জ্ঞানের উপরে ভিত্তি করে নয় বরং যুদ্ধ ও রাজনীতিকে কেন্দ্র করে রচনা করা হয়েছে।</strong> প্রতিটি জ্ঞানের আলাদা আলাদা ইতিহাস থাকতে পারে তবে সামগ্রিকভাবে জ্ঞান ও সংস্কৃতির ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে ইতিহাস রচিত হয়নি। আপনারা জানেন ইবনে সা’দ এর ‘তাবাকাত’ অন্যান্য মাগাযী ও সীরাত গ্রন্থ থেকে ভিন্ন। ইবনে সা’দ এর ‘<strong>তাবাকাত’</strong> ইসলামের ইতিহাসকে, জ্ঞান ও আলেমদেরকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। তাবাকাতের মতো গ্রন্থাবলী আধুনিক সময়ে এসেও রচিত হয়নি। ইসলামী সভ্যতার কেন্দ্র সমূহে গড়ে ওঠা জ্ঞানের ধারা গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তুলনামূলক আলোচনা সম্বলিত কোনো গ্রন্থ নেই।</p>
<p><em>একই সময়ে কোন কোন ধারা গড়ে উঠেছিল, তাদের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মিল ছিল, কোন কোন বিষয়ে পার্থক্য ছিল সেগুলোকে বর্ণনাকারী গ্রন্থও খুঁজে পাওয়া যায় না। যেমন; হিজাজ, বিলাদী শাম, ইরাক, খোরাসান, মাওয়ারাউন নাহার, ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণপূর্ব এশিয়া (এশিয়া প্যাসিফিক), উত্তর আফ্রিকা এবং এই সকল এলাকার প্রভাবিত অঞ্চলসমূহে একই সময়ে কোন ধরণের চিন্তাগত বিতর্ক&nbsp; হতো?</em><em> কোন ধরণের জ্ঞানগত বিতর্ক সংগঠিত হয়েছে? কোন ধরণের উসূলের সন্ধান করা হয়েছে? এগুলোর উপর ভিত্তি করে তুলনামূলক কোনো কাজ আমাদের হাতে নেই। আর থাকলেও যা আছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য।</em></p>
<p>যেমন, অন্যান্য মুসলিম অঞ্চল থেকে স্বতন্ত্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে কোন কোন ধারা গড়ে উঠেছে? অন্যান্য মুসলিম অঞ্চল থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য কী? মাওয়ারাউন নাহারের ধারা সমূহ এবং উত্তর আফ্রিকার ধারা সমূহের মাঝে কোন কোন বিষয়ে মিল আছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে? এখানে প্রাচীন আন্দালুসিয়ার কোনো প্রভাব আছে কিনা? কারণ ভারতীয় উপমহাদেশ এই দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানগণ অনেক অঞ্চলে ইসলামী ধারা প্রতিষ্ঠা করেছে। যেমন, দক্ষিণ আফ্রিকা। এখানে মূলত ভারতীয় মুসলমানগণ ইসলামী সংস্কৃতিকে গড়ে তুলেছে। সিঙ্গাপুর ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে ইসলামের যে ধারা, এই ধারা মূলত গড়ে তুলেছে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানগণ। শুধু তাই নয় বর্তমান লন্ডন বা ইংল্যান্ডে যে ইসলামী জীবন ধারা রয়েছে তা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশেরই ধারা। আমি সাধারণত ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডের মধ্যে তুলনা করে থাকি।</p>
<p><strong>•</strong> ফ্রান্সের মুসলিম সংখ্যালঘুগণ বেশিরভাগ আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া তথা উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত। ফলশ্রুতিতে তারা ফ্রান্সে উত্তর-আফ্রিকার ইসলামী ধারা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন।</p>
<p><strong>•</strong> ইংল্যান্ডে বসবাসকারী মুসলমানদের অধিকাংশই হলো ভারত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ থেকে আগত কিংবা বংশোদ্ভূত। আপনারা যদি লন্ডনের কোনো মসজিদে ঢুকেন তাহলে লন্ডনের কোনো মসজিদে নয়; বরং ভারতীয় উপমহাদেশের কোনো মসজিদে প্রবেশকারী হবেন। লন্ডনের সবচেয়ে ভালো মসজিদটি বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। সেই মসজিদে যদি প্রবেশ করেন তাহলে লন্ডনের মসজিদে নয়, যেন বাংলাদেশের কোনো মসজিদে প্রবেশ করেছেন- এরকমই মনে হবে।</p>
<p>তাই ভারতীয় উপমহাদেশ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ধারাটি মিশ্রিত একটি ধারা, যাতে আছে তাসাউফ, আখলাক, ফিকহ, কালাম এবং হাদীস। পরবর্তীতে আবার এগুলোর মধ্য থেকে অনেকে পৃথকও হয়েছেন। সাইয়্যেদ আহমাদ খান এবং তার মডার্নিস্ট ধারারও অনেকে রয়েছেন।</p>
<p><strong>ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক বড় বড় মুতাফাক্কির ও বিজ্ঞ আলেমের জন্ম হয়েছে। তবে বিগত দুইশত বছরের দিকে যদি তাকাই তাহলে অষ্টাদশ শতাব্দীর শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী ছিলেন একাই একটি মক্তব, একটি স্কুল অফ থট, বড় একটি ধারা। যদি কোনো আলেমের উসূল থাকে তাহলে তিনি একটি ধারায় পরিণত হন। যদি উসূল না থাকে তাহলে তিনি কবি, লেখক, চিন্তাবিদ হতে পারেন, তবে কোনো ধারা হতে পারেন না। শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীকে যে বিষয়টি একটি ধারায় পরিণত করেছিল সেটি হলো, তিনি সত্যিকারের একজন উসূল সন্ধানী ছিলেন।</strong></p>
<p>প্রথমে আমি তার জীবনীকে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে অতঃপর তার উসূল নিয়ে আলোচনা করতে চাই। কারণ, তিনি তাঁর উসূলের বড় একটি অংশ তার বিখ্যাত গ্রন্থ<strong><em> ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’</em></strong> তে আলোচনা করেছেন। তাঁর উসূল ও অন্যান্য চিন্তাকে তাঁর অন্যান্য কিতাবেও খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি বহুমাত্রিক আলেম ছিলেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নয়; বরং অনেক বিষয়েই তিনি দক্ষ ছিলেন। যদি কেউ এক ধরণের বা এক ধারার পড়াশুনা করে তাহলে সে উসূলবিদ হতে পারে না। উসূলবিদগণ বিভিন্ন বিষয়ে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন।</p>
<p>শাহ ওয়ালিউল্লাহ, বিখ্যাত আলেম আহমাদ বিন আব্দুর রহিম এর সন্তান হিসেবে দুনিয়ায় আসেন। পিতা আলেম হওয়ার কারণে একটি আলেম পরিবারে তিনি লালিত পালিত হন। তাঁর পিতা <strong>‘ফতোয়ায়ে আলমগীরি’</strong>&nbsp;রচনায় অংশগ্রহণকারী একজন আলেম। একইসাথে তিনি অনেক বড় একজন ফকীহ ছিলেন।</p>
<p>আমাদের সভ্যতায় নিজের জীবনী নিজে লিখেছেন এমন আলেম খুবই কম। আলেমগণ সাধারণত তাদের নিজেদের জীবনী লেখেন না। শাহ ওয়ালিউল্লাহ তাঁর নিজের জীবন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রিসালা লিখেছেন <strong>“আল জুম’উ লাতিফ ফি তারজুমাতি আব্দি দায়িফ”</strong>। এই বইয়ে তিনি তাঁর নিজের জীবনী লেখেন।</p>
<blockquote><p><strong>“৫ বছর বয়সে আমাকে মক্তবে পাঠানো হয়, ৭ বছর বয়সে আমি হাফেজ হই, আট বছর বয়সে ফার্সী শিখি , এরপর আরবী ভাষা শেখা শুরু করি, ১৪ বছর বয়সে বিয়ে করি এরপর বাবার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করি।” বাবার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করার মানে হলো, তার বাবা নকশীবন্দি তরীকার অনেক বড় একজন শায়েখ ছিলেন। ফলশ্রুতিতে তিনি এক সুফি পরিবারে ছিলেন এটা তিনি বুঝাচ্ছেন।</strong></p></blockquote>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর উপর আরবী ভাষায় বিশেষ করে সৌদিপন্থী আলেমদের লেখা জীবনী যদি পড়েন তাহলে দেখতে পাবেন যে, তাকে সালাফী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা ভুল, এরকম করা মোটেও সঠিক নয়। মক্কা ও মদিনায় যাওয়া এবং সেখানে পড়াশুনা করা, হাদীস শিক্ষা করা ও হাদীসের প্রতি আলাদা গুরুত্ব দেয়া বিশেষত ইলমূল হাদীসকে ভারতীয় উপমহাদেশে বইয়ে নিয়ে আসা, বিদয়াতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা এইগুলোকে দলীল হিসেবে দেখিয়ে তাকে অনেকেই সালাফী প্রমাণ করতে চান। কিন্তু তিনি মোটেও সালাফী নন।</p>
<p>শাহ ওয়ালিউল্লাহর বয়স যখন ১৭ বছর তখন তার পিতা ইন্তেকাল করেন। সেই সময় পর্যন্ত কাজী বায়যাভী, তালবিহ, শরহে বেকায়া, হিদায়ার মত গ্রন্থসমূহকে তিনি&nbsp; কখন, কীভাবে পড়েন সেগুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার পিতার একটি মাদরাসা ছিল। নাম ‘রাহিমিয়া মাদরাসা’। আমার কাছে নামটি খুব পছন্দ হয়েছে। এই ‘রাহিমিয়া মাদ্রাসায়’ তিনি অধ্যয়ন করেন। পিতার মৃত্যুর পরও তিনি কিছুকাল এই মাদরাসায় পড়াশুনা করেন। ২৮/২৯ বছর বয়সে পৌঁছালে জ্ঞানের জন্য সফরে বের হন এবং হিজাজে যান।</p>
<blockquote><p>আপনারা জানেন, আলেমগণের মিলনমেলায় হজ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। হজ্জ আজকে এই বিশেষত্বকে হারিয়ে ফেলেছে। হজ্জ এবং উমরা উভয়টি বর্তমানে এই বৈশিষ্ট্যকে হারিয়ে ফেলেছে। ঐ সময়ে আলেমগণ সমবেত হলে একজন অবশ্যই আরেকজনের কাছ থেকে কোনো না কোনো কিতাব পড়তেন এবং ঐ কিতাবের ইজাজত গ্রহণ করতেন। যার কারণে মাওয়ারাউন নাহার থেকে আগত একজন শিক্ষক মিসর থেকে আগত একজন আলেমের শিক্ষক হতেন আবার মিসর থেকে আগত একজন আলেম ইরাক থেকে আগত একজন আলেমের উস্তাজ হতেন। এটি অসাধারণ একটি ঐতিহ্য।</p></blockquote>
<p>শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী সৌদি আরবে যান এবং সেখানে দুই বছরের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করেন। সেখানে যে সকল আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তাদের সকলের নাম উল্লেখ করেছেন এবং কার কাছ থেকে কী কিতাব পড়েছেন সেগুলোও উল্লেখ করেছেন। এখানে অবস্থানকালে তিনি বেশিরভাগ সময়ই হাদীস অধ্যয়ন করেন। হাদীসের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রন্থও অধ্যয়ন করেন।</p>
<p>ইলমুল হাদীসের ক্ষেত্রে ‘মুয়াত্তা’র সাথে পরিচিত হওয়ার পর তিনি ভিন্নধর্মী একটি চিন্তায় নিবিষ্ট হন। তিনি ঐ সময়ে বুখারীও পড়েছেন আবার মুয়াত্তাও পড়েছেন। তবে <strong>‘আসাহহুল কিতাবি বা’দা কিতাবিল্লাহ’</strong> (আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব) নামক কথাটি বুখারীর ক্ষেত্রে নয় মুয়াত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। হাদীস গ্রন্থসমূহকে সিরিয়াল করার ক্ষেত্রে এক নম্বরে তিনি মুয়াত্তাকে স্থান দেন। তিনি একজন হানাফী হওয়ার পরেও মুয়াত্তাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। যদিও তাঁর সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, <strong>“হানাফিয়্যুন আমালান, শাফিয়িয়্যুন তাদরিসান”</strong>। শাফেয়ী ফিকহের উপর অনেক বেশি পড়াশুনা করলেও আমলগত দিক থেকে হানাফী হিসেবে আমরা তাকে চিনি।</p>
<p>তিনি মুয়াত্তার দুটি ব্যাখ্যা রচনা করেন একটি ফার্সী ভাষায় অপরটি আরবী ভাষায়। একটির নাম হলো <strong>‘আল-মাসওয়া’</strong> অপরটির নাম <strong>‘আল-মুসাফফা ফি শারহিল মুয়াত্তা’</strong>। আমি ফার্সি ভাষায় লিখিত ব্যাখ্যাটি পড়িনি। তবে আরবী ভাষায় লিখিত ব্যাখ্যাটি পড়েছি। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে আমার হাদীস অধ্যয়ন ‘মুয়াত্তা’কে ভিত্তি করে পড়েছি। শুধু আমিই নই, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময়েও আমাদের শিক্ষার্থীদের ‘মুয়াত্তা’কে বেইজ করে অধ্যয়ন করতে বলতাম। কারণ<em><strong> ‘মুয়াত্তা’ শুধুমাত্র একটি হাদীস গ্রন্থই নয়, একইসাথে মদীনার ‘মেমোরি’</strong></em>। ইমাম মালিক রাসূল (সা.) ও সাহাবীগণের বসবাসকৃত মদীনাকে সংরক্ষণ করেছেন। আমি যখন দিয়ানাত এর প্রেসিডেন্ট ছিলাম, তখন দিয়ানাতের অধীনে যে সকল দারস-হালকা হতো সেগুলোকে আমি মুয়াত্তা কেন্দ্রিক করার চেষ্টা করেছিলাম এবং সেই অনুযায়ী দারস প্রোগ্রামও সাজিয়ে দিয়েছিলাম। আমি এটা করেছিলাম মূলত শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে। পরবর্তীতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয় যে, আমি সিহাহ সিত্তার বিরোধী। আমাকে এই অপবাদ দিয়ে পরবর্তীতে সেই দারস প্রোগ্রামকে পরিবর্তন করা হয়। সেটা আর জারি থাকেনি। কারণ মুয়াত্তা কেন্দ্রিক হাদীস শিক্ষাকে জারী রাখতে হলে জ্ঞানের প্রয়োজন। <strong>শুধুমাত্র রেওয়ায়েতের জ্ঞান মুয়াত্তা পড়ার জন্য যথেষ্ট নয়। অর্থাৎ মুয়াত্তার হাদীস অধ্যয়ন করার জন্য শক্তিশালী একটি উসূলের প্রয়োজন।</strong></p>
<p>পরবর্তীতে তিনি মক্কা ও মদীনা থেকে ভারতে ফিরে আসলে প্রথমে হাদীসের হালকা গড়ে তুলেন এবং সেখানে প্রথমে মুয়াত্তা পড়াতেন। ঐ সকল দারস-হালকাতেই তিনি মূলত মুয়াত্তাকে ব্যাখ্যা করেন।</p>
<p>এখানে তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। ভারতীয় উপমহাদেশে ঐতিহ্যবাহী ধারা অনেক শক্তিশালী। তারা ঐতিহ্যকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফিকহের কিতাবসমূহকে এমনভাবে পড়েন যেন এগুলো অপরিবর্তনীয় নস! এ কারণে হাদীস ও ফিকহের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ফিকহুল হাদীস নামে নতুন একটি কাজ শুরু করেন। হানাফী ধারার সাথে হাদীসকে সম্পৃক্ত করার কিংবা হাদীসের সাথে সংযোজন ঘটানোর চেষ্টা করেন। এই কারণে মুয়াত্তাকে হাদীস শাস্ত্রের কেন্দ্রে স্থাপন করার পর সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেন সেটি হলো, ফিকহ ও হাদীসকে একত্রিত করে নতুনভাবে কাজ শুরু করেন।</p>
<p>একইভাবে যে সকল বিষয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তার মধ্যে একটি হলো, <em>ইজতিহাদ ও তাকলীদ</em> । এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞানের ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে ইহ্ইয়া ও তাজদীদের আন্দোলন শুরু করেন।</p>
<p><strong>হাদীসের সাথে ফিকহ, তাসাউফের সাথে শরিয়ত, আকল ও নাকলকে মিশ্রিত করার প্রচেষ্টা শাহ ওয়ালিউল্লাহর সকল গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়। এগুলোর সাথে সাথে ইজতিহাদ ও তাকলীদ নিয়েও অনেক আলোচনা করেছেন। ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহর অন্যতম বড় একটি কাজ হলো, তিনি মাদরাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রমের মধ্যে ইতিহাস ও হিকমাহর (দর্শন) দারসকে সংযুক্ত করে দেন।</strong></p>
<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহর ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’র পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো,<br />
عقد الجيد في أحكام الاجتهاد والتقليد<br />
এই গ্রন্থে তিনি ইজতিহাদ ও তাকলীদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।</p>
<p>অপরটি হলো <strong>‘আল-ইনসাফ ফি আসবাবিল ইখতিলাফ’</strong>। উস্তাজ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ এই গ্রন্থের তাহকীক করেছেন। তার এই তাহকীক বইটিকে আরও অনেক বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে।</p>
<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর লেখা-</p>
<blockquote><p>১। হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা<br />
২। عقد الجيد في أحكام الاجتهاد والتقليد<br />
৩। আল ইনসাফ ফি আসবাবিল ইখতিলাফ</p></blockquote>
<p>বই তিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বই তিনটির প্রতিটি লাইনকেই খুব সতর্কতার সাথে চিন্তা করে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।</p>
<p>আমি পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো <strong>‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’</strong>। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর উসূল বর্ণনা করেছেন। আপনারা জানেন যে, ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ শব্দদ্বয় একটি আয়াত থেকে নেয়া হয়েছে।</p>
<blockquote><p>এটি এমন একটি গ্রন্থ যার পূর্বে এমন আর কোনো গ্রন্থ রচিত হয়নি। এই গ্রন্থটি সকল কিছুর মধ্যে সমন্বয় ও সংযোজন ঘটায়। প্রথমত, আকল ও নাকলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। দ্বিতীয়ত, তাসাউফ ও শরীয়তের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। তৃতীয়ত, উসূল এবং আখলাককে মিশ্রিত করে তুলে ধরে। আমি মনে করি এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p></blockquote>
<p style="text-align: center;"><strong>&nbsp;হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার কিছু বৈশিষ্ট্য</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>১/</strong> জ্ঞানকে তিনি ‘<em>শরীয়তী জ্ঞান’</em> ও ‘<em>মাসলাহাতী জ্ঞান</em>’ নামে দুই ভাগে ভাগ করেন এবং তিনি মাসলাহাতকে আহকামের মূল হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আহকামে শরীয়া শুধুমাত্র ইখতিবারের জন্য নয়। অর্থাৎ, হুকুমসমূহ কেবলমাত্র কৃতকার্যদেরকে জান্নাতে এবং অকৃতকার্যদেরকে জাহান্নামে পাঠানোর জন্য আসেনি। প্রতিটি হুকুমেরই একটি ‘ইল্লত’ রয়েছে আর সেই ইল্লত হলো ‘মাসলাহাত’।<strong> শাহ ওয়ালীউল্লাহর মতে, হুকুমের উদ্দেশ্য হলো- মাসলাহতের প্রতিষ্ঠা ও মাফসাদাতের অপসারণ।</strong></p>
<p>হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার কিছু কিছু অধ্যায়ে আকলের উপর জোর দেওয়ার কারণে তাকে <strong>‘মু’তাযিলা’</strong> অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ তিনি এই গ্রন্থেরই এক স্থানে বলেছেন, আকল হালাল ও হারামকে নির্ণয় করতে পারবে না এবং হুসুন ও কুবুহকে নির্ণয় করতে হলে ওহীর প্রয়োজন। এই কথা বলার পরও আকলের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব প্রদান তাকে মু’তাযিলা বলে অভিযুক্ত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আকলের উপর জোর দানকারী সকল আলেমদেরকে অভিযুক্ত করার পাশাপাশি শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীকেও এই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।</p>
<p><strong>২/</strong> ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী তার হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন।</p>
<p><strong>ক) القواعد الكلية التي تنتظم بها المصالح المرئية في الشرائع।</strong></p>
<p>এই অধ্যায়ে তিনি ইমাম গাজালীর ‘ইহইয়া উলূমুদ্দীন’ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন, এমন কয়েকটি বিষয়কে উসূলের মধ্যে সন্নিবেশিত করে উল্লেখ করেন। যেমন, أسرار الشرائع- অর্থাৎ শরীয়তের অন্তর্নিহিত অর্থসমূহকে দুটি মূলনীতির উপর দাঁড় করান। একটি হলো, مبحث البر و الاثم অর্থাৎ কল্যাণ ও অকল্যাণ বিষয়ক অধ্যায়। খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করুন এটি উসূলের একটি গ্রন্থ। এমন একটি গ্রন্থে مبحث البر و الاثم নামক একটি শিরোনাম রয়েছে। অপর একটি অধ্যায়ের নাম হলো, مَبْحَث السِّياسات المِلِّيَّة অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির অধ্যায়। এখানে মিল্লাত শব্দটি তিনি উম্মত অর্থে ব্যবহার করেছেন।</p>
<p><strong>ইসলামী সাহিত্যে তিনি নতুন একটি পরিভাষা যুক্ত করেন সেটা হলো الارتفقات ‘ (আল-ইরতিফাকাত)। এ পরিভাষাটি আরব ভাইগণও ভারত থেকে শিখেছেন। ‘الارتفقات ’ কে الإنتفعات العامة (সর্বসাধারণের জন্য সুবিধা, Public Benefit) হিসেবে অনুবাদ করা হয়। তবে এর সামগ্রিকতার দিকে তাকালে দেখা যায় যে তিনি ‘الارتفقات ’ দ্বারা সমগ্র মানবতার কল্যাণকে বুঝিয়েছেন। ‘الارتفقات ’ নামক পরিভাষাকে তিনি মাকাসিদের মধ্যে স্থাপন করেন।</strong></p>
<p>অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা শাহ ওয়ালীউল্লাহ ব্যবহার করেছেন। সেটা হলো, تدبير منزل । এই পরিভাষাটিকে সর্বপ্রথম আল ফারাবী ব্যবহার করেন। কিন্তু শাহ ওয়ালীউল্লাহ تدبير منزل কে ‘الارتفقات ’এর মধ্যে স্থাপন করে উসূলের মধ্যে সন্নিবেশ করার চেষ্টা করেন।</p>
<p><strong>খ) في بيان ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم تفصيلا</strong> এই অধ্যায়ে তিনি রিসালাত নামক পরিভাষাকে কোরআন ও সুন্নতকে একত্রিতকারী একটি দলীল হিসেবে বিশ্লেষণ করেন। <em>এই কারণে তিনি সুন্নতকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। একটি হলো রিসালাতের অংশ হিসেবে সুন্নত, অপরটি হলো অন্যান্য সুন্নত। এই রিসালাতের অংশ হিসেবে পরিগণিত হওয়া সুন্নতের সাথে অন্যান্য সুন্নতকে তিনি আলাদা করেন এবং তিনি বলেন, যে সুন্নতটি রিসালাতের অংশ সে সুন্নতকে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের অনুসরণ করতে হবে</em>।</p>
<blockquote><p>এই গ্রন্থে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাক্য রয়েছে যেটি নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনা করা প্রয়োজন। সেই বাক্যটি হলো “আমাদের ফিকহ রূহবিহীন একটি শরীরের মতো আমাদের মধ্যে তার অস্তিত্বকে রক্ষা করে চলেছে এবং ফিকহের রূহ হলো আহকামের আসরারসমূহ”। অর্থাৎ ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো ফিকহের রূহ। নামাজের হিকমত, রোজার হিকমত বা আসরারসমূহকে হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার মতো একটি উসূলের গ্রন্থে আমরা দেখতে পাই। তিনি আরও বলেন ‘<strong>ফিকহের সবচেয়ে বড় রূহ হলো ইজতিহাদ’</strong>। ফিকহ যখন ইজতিহাদকে হারিয়ে ফেলে তখন তা রূহবিহীন একটি শরীরের মতো হয়ে যায়।</p></blockquote>
<p><strong>৩। এই গ্রন্থে তিনি জ্ঞানকে নিম্নোক্তভাবে বিন্যাস করেন :</strong></p>
<p>ক) ইলমুল হাদীস<br />
খ) ইলমুল লুগাত<br />
গ) ইলমুল ইসতিনবাত<br />
ঘ) ইলমুল ইসতিদলাল<br />
ঙ) ইলমুল আসরার</p>
<p>ইলমুল আসরার নামক অধ্যায়ে শরীয়তের সাথে তাসাউফ এবং উসূলের সাথে আখলাককে একত্রিত করার চেষ্টা করেন।</p>
<p>একইভাবে তার ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাসমূহের মধ্যে একটি হলো, <strong>‘সা’দাত’</strong> (سعادة) বা কল্যাণ , এই পরিভাষাটিকে তিনি মাকাসিদ ও উসূলের মধ্যে উল্লেখ করেন। আপনারা জানেন যে, সা’দাত (কল্যাণ) একইসাথে আখলাকের প্রকারভেদের মধ্যে একটি। অর্থাৎ, আনুগত্যের আখলাক রয়েছে, ফজিলতের আখলাক রয়েছে এবং সাদাতের আখলাক রয়েছে। কেউ কেউ বলে থাকে যে সা’দাতের আখলাক মুসলমানগণ গ্রীকদের কাছ থেকে নিয়েছে। এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। এটা এখান থেকে, ওটা ওখান থেকে এইভাবে বলে তারা আমাদের চিন্তা ও দর্শনকে, গ্রীক দর্শনের অংশ বলে চালিয়ে দিতে চায়। এসব ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।</p>
<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ, আখলাকের সাথে উসূল এবং আখলাকের সাথে ফিকহকে মিশ্রিত করার সময় ‘সা’দাত’ নামক পরিভাষাটিকে কেন্দ্রে স্থাপন করেন। তিনি বলেন, সা’দাতকে অর্জন করতে হলে চারটি বিষয় প্রয়োজন।</p>
<blockquote><p>১। ত্বাহারাত (পবিত্রতা)। এখানে শুধুমাত্র শারীরিক পরিচ্ছন্নতা নয়; বরং বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক পরিচ্ছন্নতা এর অন্তর্ভুক্ত।<br />
২। আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে নত হওয়া।<br />
৩। ঔদার্য, মহানুভবতা, উদারতা, বদান্যতা ও দয়া। একজন মানুষের সাথে অন্য মানুষের সম্পর্ক স্থাপনের মূলভিত্তি হিসেবে এই পরিভাষাটিকে ব্যবহার করেন।<br />
৪। আদালত।</p></blockquote>
<p>এই বিষয়গুলোকে তিনি মাকাসিদ বা বড় উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমরা যদি এই সকল বিষয়কে অর্জন করতে পারি তাহলে <strong>সা’দাতে দারাইনে</strong> (ইহকালীন ও পরকালীণ কল্যাণ) উপনীত হতে সক্ষম হব।</p>
<p>ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর এই সকল কার্যক্রমকে উসূলের সন্ধান হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকি। বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই সকল বিষয়কে তিনিই সামনে নিয়ে আসেন। এই জন্য তিনি একটি ইহইয়া ও তাজদীদ আন্দোলনের অগ্রদূত। পরবর্তীতে, তাঁর ছেলে আব্দুল আযীয দেহলভীও অনেক বড় একজন মুহাদ্দিস হন। দেহলভী ধারা ভারতীয় উপমহাদেশে অনেক বড় একটি শক্তিশালী ধারা হিসেবে তার ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তিনি যখন বেঁচে ছিলেন তখন তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে যে সকল আলেম দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/imam-shah-waliullah-dehlovi-and-usul/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5654</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামের আলোকে বিপদ-মুসিবত বুঝার পন্থা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/approaches-to-understanding-danger-in-the-light-of-islam/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/approaches-to-understanding-danger-in-the-light-of-islam/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 May 2021 16:54:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামের আলোকে বিপদ-মুসিবত বুঝার পন্থা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5286</guid>

					<description><![CDATA[মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন আমাদেরকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর &#8220;শা&#8217;ফি&#8221; (আরোগ্যদানকারী) নামের ওসিলায় সমগ্র মানবতাকে শিফা দান করেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের হৃদয়ে মহান আল্লাহ যেন এই রোগ নিরাময়ের ইলহাম দেন, আল্লাহর কাছে এই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন আমাদেরকে এই মহামারি থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁর &#8220;শা&#8217;ফি&#8221; (আরোগ্যদানকারী) নামের ওসিলায় সমগ্র মানবতাকে শিফা দান করেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের হৃদয়ে মহান আল্লাহ যেন এই রোগ নিরাময়ের ইলহাম দেন, আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি। তাঁর অশেষ রহমত ও নিয়ামতের মাধ্যমে আমাদের মত দুর্বল বান্দাদের হৃদয় থেকে যেন সকল ভয় ও দুঃশ্চিন্তা দূর করে দেন, এই দোয়া করি।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকে আমি <strong>‘ইসলামে বিপদ-মুসিবত সমূহকে বুঝার পন্থা নিয়ে আলোচনা করবো।’</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন মু’মিন হিসেবে এই ধরণের মুসিবত সমূহ কিভাবে বুঝা প্রয়োজন?</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমনটা ধারণা করা হচ্ছে, সত্যি কি এটি একটি ইলাহী আযাব? নাকি কোনো রহমত যা আমরা জানি না? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেউ কেউ মাঝে মধ্যে নিজেদের সীমানাকে অতিক্রম করে এটাকে কিয়ামতের পূর্ব মুহুর্ত বলে আখ্যায়িত করছেন। সত্যিই কি তাই? নাকি কোনো ইলাহী নিদর্শন বা শিক্ষা? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের চিরন্তন ও শ্বাশত গ্রন্থ আল-কোরআন এ ব্যাপারে কি বলে? এ সকল ব্যাপারে রাসূলে আকরাম (সাঃ) এর উপদেশ সমূহ কি? </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমার স্বল্প জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিষয় সমূহের জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হ্যাঁ, বিশ্ব মানবতা এমন এক সমস্যার সম্মুখীন যা অতীতে আর কখনো দেখা যায়নি। সমগ্র মানবতা খুবই অল্প সময়ের ব্যবধানে নতুন একটি জগতে প্রবেশ করেছে। হয়তোবা এর পরের ইতিহাস করোনা ভাইরাস পূর্ব ও করোনা ভাইরাস পরবর্তী সময় এভাবে  লেখা হবে। মাত্র তিন মাস পূর্বে চীনের উহান শহরে উৎপত্তি হওয়া এই ভাইরাসটি সমগ্র মানবতাকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছে। মানুষের জীবনযাত্রা একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> দেশ সমূহ তাদের সীমানাকে বন্ধ করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এমনকি জামায়াতে ইবাদতেও বিরতি দেয়া হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম খুব সম্ভবতঃ কাবা শরীফ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে তাওয়াফ ও সা&#8217;য়ী সকল কিছুই বন্ধ রয়েছে আপাতত। মদিনা ও মসজিদে আকসাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সমগ্র মসজিদসমূহ আবিদ বান্দাদের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে । রাস্তা-ঘাট, শহর-নগর একদমই ফাঁকা, সকল মানুষ আজ কার্যত গৃহবন্দী । </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বিশ্ব মানবতা প্রথমবারের মতো এমন একটি মহামারিতে আক্রান্ত হয়নি। মানব জাতির ইতিহাস এই ধরণের মুসিবতে পরিপূর্ণ। এক অর্থে বলতে গেলে মানব জাতির ইতিহাস একই সাথে বালা-মুসিবত, বিপদাপদ, খরা, বন্যা ও দুর্যোগের ইতিহাস। কলেরা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, SARS, এইচ.আই.ভি, টিফু ইত্যাদি ছোঁয়াচে রোগে ইতঃপূর্বেও  অনেক মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামের ইতিহাসের শুরুতে হযরত উমর (রাঃ) এর শাসনামলে طاعون عمواس‎ (ṭāwiʿna ʻimwas) বা Plague of Emmaus-এ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এদের মধ্যে অনেক বড় বড় সাহাবীও ছিলেন। গত শতাব্দীর শুরুতেও প্রথম বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হতে না হতেই ইউরোপের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। </span></p>
<p><strong>আজকের এই ভাইরাসের সাথে আগের ঐ সকল মহামারীর পার্থক্য কি? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রিয় ভাইয়েরা, আগের ঐ সকল প্লেগ বা মহামারীর কোনটিই আজকের বা বর্তমানের এই ভাইরাসের সাথে মিলে না। ইতিহাসের কোন মহামারী ই এই করোনা ভাইরাসের মতো বৈশ্বিক একটি মহামারীতে রূপ নেয়নি।  সমগ্র মানবতা আজ বৈশ্বিক একটি মহামারীর মুখোমুখী। সমগ্র মানবতা আজ একটি ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিনানিপাত করছে। এই মহামারীর সামনে সমগ্র বিশ্ব-মানবতা আজ নিরুপায়।   </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর এ মহামারী এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে, যে সময়ে মানুষ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী। এ মহামারী সমগ্র মানবতাকে এমন এক সময়ে গ্রাস করেছে, যে সময়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষ বিপ্লব ঘটিয়েছে এবং সমগ্র দুনিয়াকে ধ্বংস করতে সক্ষম এত বেশি পরিমাণে রাসায়নিক অস্ত্র উৎপাদন করেছে। ন্যানো টেকনোলজির মাধ্যমে যখন মানুষ নতুন এক যুগের সূচনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেই সময়ে এই মহামারী দেখা দিয়েছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">চিকিৎসাবিদ্যা এবং ওষুধ সেক্টর  যখন সর্বোচ্চ শৃঙ্গে অবস্থান করছে, মানুষ যখন মৃত্যুঞ্জয়ী হওয়ার জন্য গবেষণা করছে, মহাকাশে জীবনের সন্ধান করছে, সে সময়ে এই মহামারী এসেছে। মানুষ যখন তার আবিষ্কার নিয়ে অহংকার, আত্মম্ভরিতা ও হিংসায় লিপ্ত এ সময়ে এমন একটি ভাইরাস তাদেরকে গ্রাস করে ফেলেছে যা মাইক্রোস্কোপ ছাড়া দেখাও যায় না। আমরা সকলেই আজ কার্যত গৃহবন্দী, অজানা এক পরিণতির জন্য সকলেই প্রহর গুনছি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ মুহূর্তে আমাদের যেন ডাক্তার ও নার্সদের জন্য দোয়া করি, এ সময়ে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাদেরকে ধৈর্যের সাথে সেবাদান করার তাওফিক দান করুন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">গণমাধ্যম ও ডিজিটাল মিডিয়া সমূহ চীন থেকে ইতালি, ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত কি হচ্ছে না হচ্ছে তা মুহূর্তের মধ্যে সবার সাথে শেয়ার করে জানিয়ে দিচ্ছে। </span></p>
<p><strong><em>কিন্তু একটি বিষয়কে সবাই ভুলে যাচ্ছে, আর এটাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়ের মানবিক, সামাজিক দিক নিয়ে এখনো কেউ কথা বলছে না। এর পেছনের রুহী, আধ্যাত্মিক ও মেটাফিজিক্যাল দিক নিয়ে এখনো চিন্তা গবেষণা ও লেখালেখি শুরু হয়নি। অথচ এই বিষয়টি আর শুধুমাত্র স্বাস্থ্যগত একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, স্বাস্থ্যগত বিষয় ছাড়িয়ে অনেক আগেই বের হয়ে গেছে। </em></strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অন্যান্য সকল বিষয়ের মত এই বিষয়েও মানুষজন মতভেদ করবে। বিজ্ঞানীগণ, দার্শনিকগণ, আলেম-উলামাগণসহ সকলেই তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দাঁড় করাবেন। এই বিষয়টিকে শুধু একটি দৃষ্টিকোন থেকে নয়, বরং সামগ্রিক একটি দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষণ করলে একটি ফলাফলে পৌঁছাতে পারবো। </span></p>
<blockquote><p>বিজ্ঞান এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তুলে ধরবে, দর্শন আমাদেরকে এই বিষয়ে চিন্তা করাবে আর দ্বীন এটাকে অর্থবহ করে তুলবে। দ্বীন বা ধর্মের দেয়া অর্থ বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা এবং দর্শনের দেয়া চিন্তাকে পাশ কাটিয়ে যাবে না। কারণ বিজ্ঞান হলো মহান প্রভু কর্তৃক এই পৃথিবীতে স্থাপিত আয়াত সমূহের ব্যাখ্যা দেয়। আর আকল ও চিন্তা হলো মহান প্রভু কর্তৃক মানুষকে দেয়া সবচেয়ে বড় ইহসান।</p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, দ্বীনের দেয়া উচ্চ অর্থবহতার বদৌলতেই মানুষ সকল প্রকার ভয়ভীতিকে পরাভূত করেছে, সকল সন্দেহ ও সংশয়কে দূরীভূত করেছে, মৃত্যুভয়কে পাশ কাটিয়েছে, এমনকি কবির ভাষায় বলতে গেলে- মৃত্যুকে জয় করেছে। আজকেও আমরা ইসলামের দেয়া অর্থের মাধ্যমে আমরা যে সংকটময় সময় অতিক্রম করছি এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারবো। তবে এই ক্ষেত্রে আকল ও বিজ্ঞানকে বাদ দিয়ে নয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রিয় ভাইয়েরা, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের চিন্তা ভাবনার আলোকে চলতো </span><span style="font-weight: 400;">তখন কোন বিপদ মুসিবত আসলে মাঝে মধ্যে শুধুমাত্র কুসংস্কার, মাঝে মধ্যে শুধুমাত্র জ্যোতির্বিদ্যা দ্বারা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতো। অধিকাংশ সময় এ সকল বিপদ-আপদকে অনেকগুলো স্রষ্টার মধ্যকার যুদ্ধ বলে অভিহিত করতো কিংবা মাঝে মধ্যে আযাব বা গজবের সাথে সম্পৃক্ত করতো। মাঝে মধ্যে অসৎ লোকদের কারণে এই সব বিষয় হচ্ছে বলে চালিয়ে দিতো। <strong>তাকভীন ও তানযিলকে একত্রিতকারী ওহী তথা ইসলাম, মানুষকে সকল প্রকার কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত করে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছে।</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইলাহী ওহীকে তথা মানুষ, মহাবিশ্ব ও ওহীকে যদি আমরা সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই যে, সব কিছুর পূর্বে এই সকল বালা-মুসিবতসমূহ ইলাহী আদত বা অভ্যাস নয়, এগুলো এক একটি হলো-  <em>ইলাহী আয়াত বা নিদর্শন।</em> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অনেক সময় ক্রোধ ও রাগের বশবর্তী হয়ে অনেকেই এগুলোকে আযাব বলে অভিহিত করে থাকেন। এগুলো আসলে সেই অর্থে আযাব নয়। মহান আল্লাহ সূরা ফাতিরের ৪৫ নম্বর আয়াতে বলেন- </span></p>
<p><strong> وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللَّهُ النَّاسَ بِمَا كَسَبُوا مَا تَرَكَ عَلَىٰ ظَهْرِهَا مِن دَابَّةٍ وَلَٰكِن يُؤَخِّرُهُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۖ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِعِبَادِهِ بَصِيرًا</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> অর্থাৎ, যদি কখনো তিনি লোকদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করতেন তাহলে পৃথিবীতে কোন প্রাণসত্তাকে জীবিত ছাড়তেন না। কিন্তু একটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত তিনি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছেন ৷ তারপর যখন তাদের সময় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে তখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে দেখে নেবেন ৷ </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সূরা ফুস্সিলাতের ৪৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন-</span></p>
<p><strong>      وَمَا رَبُّكَ بِظَلامٍ لِلْعَبِيدِ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> অর্থাৎ, তোমার রব তাঁর বান্দাদের উপর মোটেও জুলুম করেন না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অনেকেই নিজেদের সীমা অতিক্রম করে একে কিয়ামতের পূর্বমুহুর্ত বলে অভিহিত করছে। এটা মোটেই কিয়ামতের পূর্বমুহুর্ত নয়। কেননা কিয়ামত কখন হবে কোন নবীকে পর্যন্ত বলা হয়নি। আলামতসমূহ জানিয়ে দেয়া, আর কিয়ামতের সময় বলে দেয়া এক কথা নয়।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রিয় ভাইয়েরা, </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের উপর যে মুসিবত এসেছে, কোরআনে আলোকে এটি একটি আয়াত বা নিদর্শন। এই নিদর্শন বা আয়াত থেকে সকল মু’মিনই ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা বের করবে। নিদর্শন সমূহ ইবারত সমূহের উপর ভিত্তি করে নয়, শিক্ষা বা ইবরতের উপর পড়তে হয় বা বুঝতে হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন- </span></p>
<p><strong>  فَاعْتَبِرُوا يَاأُولِي الأبْصَارِ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, হে দৃষ্টিশক্তির অধিকারী আকলওয়ালারা ! শিক্ষা গ্রহণ করো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই আয়াতটির আদেশ একদম এই সকল বিষয়েই। কোরআন নুহ (আঃ) এর তুফানের মতো একটি ঘটনাকেও মুসিবত হিসেবে নয়, মানুষের জন্য একটি আয়াত বা নিদর্শন বলে ঘোষণা করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহ বলেছেন-</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> <strong>وَجَعَلْنَاهُمْ لِلنَّاسِ آيَةً </strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, সারা দুনিয়ার লোকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত করলাম। (ফুরকান-৩৭)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই মুসিবতকে যখন একটি ইলাহী আয়াত হিসেবে পড়বে কেউ কেউ, এর কারণকে মানুষ কর্তৃক দুনিয়াকে যথেচ্ছাভাবে ব্যবহার করার সাথে সম্পৃক্ত করবে। কেউ কেউ বলবে, দুনিয়ার পক্ষে আর এত মানুষকে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই এমন হচ্ছে। কেউ কেউ একে কাশ্মীর, আরাকান, ফিলিস্তিন, উইঘুর, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের ট্রাজেডির সাথে সম্পৃক্ত করবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিভিন্ন দেশের সীমানা বন্ধ করাকে কেউ কেউ সিরিয়ান মুহাজিরগণ যেন ঐ সকল দেশে প্রবেশ করতে না পারে এর সাথে সম্পৃক্ত করবে। কেউ কেউ ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরা মাসুম শিশুদের লাশের মধ্যে এর কারণ খুঁজে দেখবে। কেউ কেউ এর কারণকে এই ডিজিটাল ও ভোগ-বিলাসের যুগে মানুষ কর্তৃক তার রূহকে, কালবকে, পরিবারকে এবং সর্বোপরি, তার রবকে ভুলে যাওয়ার মধ্যে খুঁজবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেউ কেউ এই বন্দীদশার কারণকে মানুষ কর্তৃক তার পরিবার, সন্তান-সন্ততিকে সময় না দেয়ার মধ্যে খুঁজবে। কাবা শরীফ, মসজিদে নববী, মসজিদে আকসা এবং অন্যান্য মসজিদসমূহকে বন্ধ করে দেয়ার কারণকে আমরা মসজিদে যাই না বলে এবং এগুলোকে আবাদ করি না বলে আমাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বন্ধ করা দেয়া হচ্ছে এই কথা বলবে। কেউ কেউ এই কথা বলবে যে, দেখো! তোমরা যারা এক হজ্জ থেকে আরেক হজ্জ, এক উমরা থেকে আরেক উমরা এবং এক জুমা থেকে অপর জুমাকে নিজেদের গুনাহ মাফের ওসিলা হিসেবে গ্রহণ করেছিলে, এখান থেকে শিক্ষা নাও। কেউ কেউ একে আফ্রিকা অঞ্চলের  বছরের পর বছর ধরে খাবারের অভাবে মৃত শিশুদের অভিশাপের সাথে সম্পৃক্ত করবে। কেউ কেউ বলবে গাজার মানুষ ১০ বছরের বেশী সময় ধরে অবরুদ্ধ, অবরুদ্ধ থাকলে কেমন লাগে এই শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন। কেউ কেউ আল্লাহ প্রদত্ত হালাল রিজিককে পরিত্যাগ করার মধ্যে এর কারণকে খুঁজে বের করবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা যদি আমাদের উপর আগত বিষয় সমূহকে একটি আয়াত বা নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করি তাহলে উপরের সবগুলো বিশ্লেষণই সঠিক। উপরে বর্ণিত বিষয়সমূহের উপর যদি মানুষ চিন্তা ভাবনা করে শিক্ষা গ্রহণ করে তাহলে মানুষ নতুন একটি রহমত পাবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ যখন এইভাবে চিন্তা ভাবনা করবে তখন সে নিজের আত্মসমালোচনা করতে পারবে। মানুষ দুনিয়ার সাথে তার সম্পর্ককে নতুন করে চিন্তা করবে। স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার পরিজনের সাথে সম্পর্ককে নতুন করে বিন্যস্ত করবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যদি এই সকল বড় বড় অর্থবহ বিষয়কে পরিত্যাগ করে এই সকল বিপদ-মুসিবতকে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে এগুলোকে ইলাহী আযাব ও কিয়ামত বলে চালিয়ে দেয়া হয়,তাহলে বুঝতে হবে যে আমরা কোরআনের আয়াত সমূহকে ভালোভাবে বুঝতে পারিনি এবং আমাদেরকে ইবরত বা শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে ইবারতের(লেখা) মধ্যে আবদ্ধ করে ফেলবো। এই সকল মুসিবত থেকে শিক্ষা না নিলে আমাদের সমস্যাসমূহের সমাধান তো হবেই না, বরং আমাদের সংকটসমূহ আরও গভীর থেকে গভীরতর হবে।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই ধরণের মুসিবত সমূহকে ওহীর আলোকে সঠিকভাবে না বুঝতে পারার অন্তরায়সমূহ হলো- </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>প্রথমতঃ</strong> এই সকল ঘটনাবলীকে মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহকে পাশ কাটিয়ে যাবে এমন ভাবে ব্যাখ্যা করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা রুমের ৪১ নম্বর আয়াতে বলেন-</span></p>
<p><strong> ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, মানুষের কৃতকর্মের দরূন জলে-স্থলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যার ফলে তাদেরকে তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ আস্বাদন করানো যায়, হয়তো তারা বিরত হবে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>দ্বিতীয়তঃ</strong> এই ধরণের ঘটনাবলীসমূহকে বিশ্লেষণ করার সময় এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহকে বাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে বাদ দিয়ে, সুন্নাতুল্লাহকে বিবেচনায় না নিয়ে এই সকল ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হবে সবচেয়ে বড় ভুল। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>তৃতীয়তঃ</strong> মানুষকে আল্লাহর স্থলাভিষিক্ত করা (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহর নামে কথা বলা। যেমন- এরূপ কথা বলা,   এই অপরাধের কারণে আল্লাহ এই সমাজকে এই ধরণের শাস্তি দিয়েছেন। এরকম করে কথা বলা মোটেও সঠিক নয়।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>চতুর্থতঃ</strong> আল্লাহ যে সকল কারণসমূহ সৃষ্টি করেছেন সেগুলোকে বিবেচনা না করা। তদবীরকে বাদ দেয়া। বিশেষ করে এই ধরণের মহামারির সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ সমূহ দ্বীনেরই আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ। ইসলাম একজন মানুষের জীবন রক্ষা ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানকে সবচেয়ে বড় মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের প্রিয় রাসূল ১৪০০ বছর পূর্বে তাঁর নিজের সময়ের জন্য মহামারি বা এই ধরণের রোগের বিপরীতে কোয়ারান্টাইনের মূলনীতি সমূহকে খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ মানুষের কাছে নিয়ে যাবেনা। যদি কোথাও মহামারি দেখা দেয় তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না। তোমরা যেখানে অবস্থান করছো সেখানে যদি কোন ধরণের মহামারী দেখা দেয় তাহলে সেখান থেকে বেরও হবে না। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্লেগ রোগের কারণে হযরত উমর (রাঃ) শামে প্রবেশ না করলে শামের গভর্নর ও শাম বিজেতা রাসূলের অন্যতম সাহাবী উবাইদা ইবনুল জাররাহ তাকে বলেন, <strong>أفرارا من قدر الله يا أمير المؤمنين؟</strong> &#8216;হে আমিরুল মু’মিনিন ! আল্লাহর তাকদির থেকে কি পালিয়ে যাচ্ছেন?&#8217; জবাবে উমর (রাঃ) বলেন,<strong> نعم نفر من قدر الله إلى قدر الله</strong> , &#8216;হ্যাঁ, আল্লাহর এক তাকদির থেকে পালিয়ে অন্য তাকদিরের দিকে যাচ্ছি।&#8217;</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা যে সকল তদবীরকে নিতে পারি তা তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে- </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">১। আমি একটু আগেও বলেছি এই ভাইরাস যেন আমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে এই জন্য সতর্ক থাকা আমাদের দ্বীনেরও নির্দেশ। আমাদের ঘরে অবস্থান করে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ও ভালোবাসাকে পুনরায় জাগ্রত করতে পারি। মসজিদসমূহে যেতে না পারার কারণে আমাদের ঘর বাড়িকে ইবাদতগাহে পরিণত করতে পারি। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">২। <strong>যারা বিজ্ঞানী ও গবেষক তাদের উচিত হবে এই রোগের প্রতিষেধক ও চিকিৎসা বের করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো। এরকম একটি রোগের ওষুধ কিংবা প্রতিষেধক আবিষ্কার করা অনেক বড় একটি মর্যাদার বিষয়। মানুষকে ধ্বংস করার জন্য অস্ত্র  উৎপাদনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হয়ে মানুষকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করা প্রয়োজন। </strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">৩। এই সকল মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিষয় হল দোয়া, দোয়া এবং দোয়া। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা আনআমের ৪২ ও ৪৩ নম্বর আয়াতে বলেন- </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">  <strong>وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُم بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, তোমার পূর্বে অনেক মানব গোষ্ঠীর কাছে আমি রাসূল পাঠিয়েছি এবং তাদেরকে বিপদ ও কষ্টের মুখে নিক্ষেপ করেছি, যাতে তারা বিনীতভাবে আমার সামনে মাথা নত করে ৷ </span></p>
<p><strong>  فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَٰكِن قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ, কাজেই যখন আমার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কঠোরতা আরোপিত হলো, তখন তারা বিনম্র হলো না কেন ? বরং তাদের মন আরো বেশী কঠিন হয়ে গিয়েছে এবং শয়তান তাদেরকে এ মর্মে নিশ্চয়তা বিধান করেছে যে, তোমরা যা কিছু করছো ভালই করছো ৷</span></p>
<p><strong>প্রিয় বন্ধুগণ,</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা আমাদের দু’হাত তুলে মহান প্রভুর কাছে এই অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করব। কেননা এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের যেন এমন একটি সময় বরাদ্দ থাকে যখন আমরা আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে দু’হাত তুলে মহান রবের কাছে দোয়া করতে পারি।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>তবে সবচেয়ে বড় দোয়া হলো ফে’লি দোয়া বা প্রাক্টিক্যাল দোয়া।</strong> <strong>আসুন</strong> <strong>আজ থেকে আমরা আমাদের দোয়াকে ভালো কাজে রূপান্তর করার চেষ্টা করি।  সকলেই মানুষের কল্যাণে নেমে পরি। যারা তাদের বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না তাদেরকে বাসা ভাড়া ব্যবস্থা করে দেয়া হলো সবচেয়ে বড় দোয়া। যে সকল কর্মচারীগণ এই কঠিন সময়ে কাজে যাচ্ছেন তাদের বস কিংবা মালিকের উচিত হবে তাদের বেতনে কোন ধরণের কমতি না করে তাদের বেতন দিয়ে দেয়া। </strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>এটাই হবে তাদের জন্য বড় দোয়া। যারা কোন কারণে বাজার করতে পারেন না তাদেরকে বাজার করতে সাহায্য করাই হবে বড় দোয়া। আল্লাহর রহমত নিয়ে আসবে এবং মুসিবতসমূহ দুরীভূত করবে এমন দোয়া হল এই কঠিন সময়ে মানুষের কল্যাণের জন্য আন্দোলন শুরু করা। একে অপরের কল্যাণে এগিয়ে আসা এখন সবচেয়ে বড় দোয়া। আমরা হয়তো কোলাকুলি করতে পারছি না, কিন্তু একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে এসে মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারব। আল্লাহ আমাদের দোয়াকে কবুল করুন, আল্লাহ আমাদের দোয়াকে কবুল করুন। </strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার আজকের এই আলোচনা অসুস্থতা ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে বিখ্যাত হয়েছেন হযরত আইয়্যুব (আঃ), তার দোয়া দিয়ে শেষ করতে চাই-</span></p>
<p><strong> أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থঃ আমি রোগগ্রস্ত হয়ে গেছি এবং তুমি করুণাকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ করুণাকারী ৷</span></p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/approaches-to-understanding-danger-in-the-light-of-islam/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5286</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কি পড়ব কেন পড়ব কিভাবে পড়ব</title>
		<link>https://rowyakbd.com/what-to-read-why-to-read-how-to-read/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/what-to-read-why-to-read-how-to-read/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2021 07:25:55 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[উসূল ও মেথডোলজি]]></category>
		<category><![CDATA[কি পড়ব]]></category>
		<category><![CDATA[কি পড়ব কেন পড়ব কিভাবে পড়ব]]></category>
		<category><![CDATA[কিভাবে পড়ব]]></category>
		<category><![CDATA[কেন পড়ব]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4221</guid>

					<description><![CDATA[আমাদের যুবক ভাইগণ অধিকাংশ সময় আমাদেরকে প্রশ্ন করেন যে, উস্তাজ কোন কোন বই পড়ব? অথবা কোন কোন লেখকের বই পড়ব? আমি কোন লেখকের নাম বা বইয়ের নাম বলতে পছন্দ করি না। তার চেয়ে আমি বলে দেই যে, কিভাবে পড়া উচিত]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: left;"><strong>আমাদের যুবক ভাইগণ অধিকাংশ সময় আমাদেরকে প্রশ্ন করেন যে, উস্তাজ কোন কোন বই পড়ব? অথবা কোন কোন লেখকের বই পড়ব?</strong></p>
<p>আমি কোন লেখকের নাম বা বইয়ের নাম বলতে পছন্দ করি না। তার চেয়ে আমি বলে দেই যে, কিভাবে পড়া উচিত অথবা কোন ধরণের গুণাবলী সম্পন্ন লেখকদের বই পড়া দরকার?</p>
<p>তবে সব সময় আমাদের যে বইটি পড়তে হবে তা হলো, মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। এই গ্রন্থ যেন আমাদের সকল অধ্যয়নের কেন্দ্র বিন্দু হয়। তবে কোরআনকে অধ্যয়ন করার সময় দুইটি বিষয়ের প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।</p>
<p><strong><em>১. কোরআনকে এমনভাবে অধ্যয়ন করতে হবে যেন আমাদের উপর নাযিল হচ্ছে এই ভাবে।</em></strong></p>
<p>আল্লামা ইকবালের একটি বিখ্যাত কথা আছে, &#8216; মহাগ্রন্থ আল কোরআন চৌদ্দশত বছর পূর্বে নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.) উপর নাযিল হয়েছে। কিন্তু আমি যখন পড়ি তখন এমন ভাবে পড়ি যেন কোরআন ঐ সময় আমার উপর নাযিল হচ্ছে&#8217;।</p>
<p><strong>২. <em>মহাগ্রন্থ</em> <em>আল</em> <em>কোরআনকে</em> <em>এই</em> <em>মহাবিশ্বের</em> <em>একটি</em> <em>অনুবাদ</em> <em>হিসেবে</em> <em>অধ্যয়ন</em> <em>করা</em> <em>প্রয়োজন।</em></strong></p>
<p>এর পর যে কাজটি করা প্রয়োজন সেটা হলো; <strong>মানুষ</strong><strong>, </strong><strong>ওহী</strong> <strong>ও</strong> <strong>প্রকৃতিকে</strong> <strong>একে</strong> <strong>অপরের</strong> <strong>থেকে</strong> <strong>পৃথক</strong> <strong>না</strong> <strong>করে</strong> <strong>পড়া</strong> <strong>প্রয়োজন।</strong> <strong>এই</strong> <strong>তিনটি</strong> <strong>বিষয়কে</strong> <strong>একত্রিতকারী</strong> <strong>বিষয়</strong> <strong>সমূহ</strong> <strong>পড়া</strong> <strong>উচিৎ।</strong> <strong>যদি</strong> <strong>শুধুমাত্র</strong> <strong>ওহী</strong> <strong>কে</strong> <strong>পাঠ</strong> <strong>করে</strong> <strong>মানুষ</strong> <strong>ও</strong> <strong>মহাবিশ্বকে</strong> <strong>পাঠ</strong> <strong>না</strong> <strong>করি</strong> <strong>তাহলে</strong> <strong>ওহীকে</strong> <strong>ভালো</strong> <strong>ভাবে</strong> <strong>বুঝতে</strong> <strong>পারব</strong> <strong>না।</strong> <strong>আবার</strong><strong>, </strong><strong>যদি</strong> <strong>শুধুমাত্র</strong> <strong>মানুষকে</strong> <strong>পাঠ</strong> <strong>করে</strong> <strong>ওহী</strong> <strong>ও</strong> <strong>মহাবিশ্বকে</strong> <strong>পরিত্যাগ</strong> <strong>করি</strong> <strong>তাহলেও</strong> <strong>একই</strong> <strong>অবস্থা</strong> <strong>হবে।</strong> <strong>এই</strong> <strong>অবস্থায়</strong> <strong>আবার</strong> <strong>মানুষকে</strong> <strong>বুঝতে</strong> <strong>পারব</strong> <strong>না।</strong> <strong>কারণ</strong> <strong>মানুষের</strong> <strong>অবস্থা</strong> <strong>ও</strong> <strong>পরিচয়কে</strong> <strong>আমাদের</strong> <strong>সামনে</strong> <strong>সবচেয়ে</strong> <strong>সুন্দর</strong> <strong>ভাবে</strong> <strong>তুলে</strong> <strong>ধরে</strong> <strong>আল</strong> <strong>কোরআন।</strong></p>
<p>একই ভাবে ওহী ও মানুষকে বাদ দিয়ে যদি শুধুমাত্র মহাবিশ্ব বা প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করি তাহলে naturalism বা প্রকৃতিবাদ নিয়ে একটি ভিন্ন কিছু সৃষ্টি হবে।</p>
<p>প্রথমত, এই বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।</p>
<p>এরপর, নিমোক্ত&nbsp;চারটি গুণাবলীর অধিকারী লেখককে খুঁজে বের করে তাদের লেখাকে পড়তে হবে,</p>
<ul>
<li><strong><em>বস্তুর</em></strong> <strong><em>সাথে</em></strong> <strong><em>অর্থকে</em></strong> <strong><em>একত্রিত</em></strong> <strong><em>করবে।</em></strong></li>
<li><strong><em>আকল</em></strong> <strong><em>ও</em></strong> <strong><em>ক্বলবকে</em></strong> <strong><em>একত্রিত</em></strong> <strong><em>করবে।</em></strong></li>
<li><strong><em>প্রাচ্য</em></strong> <strong><em>ও</em></strong> <strong><em>পাশ্চাত্যকে</em></strong> <strong><em>একত্রিত</em></strong> <strong><em>করবে।</em></strong></li>
<li><strong><em>পুরাতন</em></strong> <strong><em>ও</em></strong> <strong><em>নতুনকে</em></strong> <strong><em>একত্রিত</em></strong> <strong><em>করবে।</em></strong></li>
</ul>
<p>অর্থাৎ প্রাচীন বা পুরাতনকে পড়বে, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যকে পড়বে এবং আকল ও ক্বলবকে একত্রিত করবে। এর পাশাপাশি সেই আলোকে নিজে জীবন যাপন করবে। শুধুমাত্র জানলেই হবে না, সেই জানাকে বা জ্ঞানকে নিজের জীবনেও বাস্তবায়ন করবে। এই ধরণের লেখকদেরকে খুঁজে বের করে যদি পড়তে পারি, তাহলে আমি মনে করি যে, কোরআনুল কারিমের প্রথম আদেশের দাবীকে বাস্তবায়ন করতে পারব। কারণ &#8216;ইকরা&#8217; -এর অর্থ শুধুমাত্র পড়া নয়।&nbsp;আয়াত সমূহকে যদি সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে এর অর্থ হলো, মানুষ, ওহী এবং প্রকৃতিকে এক সাথে পড়া।</p>
<p>আমি আমার যুবক ভাইদেরকে আরও একটি বিষয় বলতে চাই সেটি হলো, আমি কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক পড়াশুনা করিনি। অর্থাৎ হাকীকত সমূহকে ব্যক্তির উপর নির্মাণ করিনি। পড়ার ক্ষেত্রে আমার মূলনীতি ছিল, একটি বিষয়ে যদি পাঁচটি চিন্তা থাকে তাহলে সেই পাঁচটি চিন্তাকেই পড়ে সেগুলোর মধ্যে যেটাকে বেশী যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে সেটাই গ্রহণ করেছি।</p>
<p>দুই ধরণের বই রয়েছে,</p>
<ul>
<li><strong><em>যে</em></strong> <strong><em>বই</em></strong> <strong><em>চিন্তা</em></strong> <strong><em>করায়</em></strong><strong><em>,</em></strong></li>
<li><strong><em>যে</em></strong> <strong><em>বই</em></strong> <strong><em>চিন্তা</em></strong> <strong><em>করতে</em></strong> <strong><em>শেখায়</em></strong><strong><em>,</em></strong></li>
</ul>
<p>যেমন উসূল ও মেথডোলজি আমাদেরকে চিন্তা করতে শেখায়। কিভাবে সঠিকভাবে চিন্তা করতে হবে।</p>
<p>যেমন পদার্থ বিজ্ঞান, এই প্রকৃতি কিভাবে চলে, কিভাবে কাজ করে এই সকল বিষয় শিখিয়ে থাকে, কিন্তু এই প্রকৃতির অর্থ কি? পদার্থ বিজ্ঞান এই বিষয়টি আমাদেরকে শিক্ষা দিতে পারে না। অর্থাৎ প্রকৃতিকে কেন সৃষ্টি করা হয়েছে? এর পেছনে কি হিকমত রয়েছে? এই বিষয় সমূহ পদার্থ বিজ্ঞান ব্যাখা করতে পারে না।</p>
<p>আমাদের সভ্যতায় জ্ঞান দ্বারা তিনটি বিষয় বুঝায়। সেগুলো হলো;</p>
<ul>
<li><strong><em>জ্ঞান</em></strong><strong><em>,</em></strong></li>
<li><strong><em>হিকমত</em></strong><strong><em>&nbsp;&nbsp;</em></strong></li>
<li><strong><em>মারেফাত</em></strong><strong><em>&nbsp;</em></strong></li>
</ul>
<p>জ্ঞান হলো তথ্য উপাত্ত; হিকমত হলো কেন এবং কিভাবে এই প্রশ্নের জবাব, মারেফাত হলো উদ্দেশ্য।</p>
<p>এই সকল গুণাবলীকে ধারণকারী বই ও লেখকদেরকে খুঁজে বের করে যদি পড়তে পারি তাহলে সত্যিকারের পড়া হবে বলে আমি মনে করি।।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/what-to-read-why-to-read-how-to-read/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4221</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
