<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>বায়তুল মাকদিস &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/muslim-ummah/baitul-maqdis/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Wed, 12 Aug 2026 12:21:07 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>বায়তুল মাকদিস &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উম্মাহর উপর হামলে পড়া জায়নবাদী সাম্রাজ্যবাদের মোকাবেলায় আমাদের কী করণীয়?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/what-should-we-do-to-confront-the-zionists-that-is-attacking-the-ummah/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/what-should-we-do-to-confront-the-zionists-that-is-attacking-the-ummah/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[বুরহান উদ্দিন আজাদ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Mar 2026 15:40:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16669</guid>

					<description><![CDATA[ইরানের উপর বর্তমানে যে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এটা হলো, নাইন ইলেভেনের পরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা মোতাবেক ১৯তম ক্রুসেড। তাঁরা ২০০১ সালে আমাদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে একের পর এক দেশ দখল করে নিলেও আমরা আমাদের ঘুম থেকেই এখনো উঠতে পারিনি।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ইরানের উপর বর্তমানে যে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এটা হলো, নাইন ইলেভেনের পরে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণা মোতাবেক ১৯তম ক্রুসেড।</strong> তাঁরা ২০০১ সালে আমাদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করে একের পর এক দেশ দখল করে নিলেও আমরা আমাদের ঘুম থেকেই এখনো উঠতে পারিনি। নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই সকল মুসলিম দেশের একই পরিণতির কথা বার বার বলে আসছে।</p>
<p>এখন কথা হল, এই ক্রুসেড মোকাবেলা করার সামর্থ্য আমাদের আছে কিনা ? আমি মনে করি অবশ্যই আছে এবং এখনো যদি মুসলিম উম্মাহ তাঁর সম্ভাবনার অর্ধেকও কাজে লাগাতে পারে তাহলে অতীতের মত এই ক্রুসেডেও তাঁদেরকে পরাজিত করা সম্ভব।</p>
<p>এখন আসুন এ বিষয়ে আলোচনা করা যাক- আমাদের পক্ষে কী কী করা সম্ভব এবং কোন কোন বিষয়ে জনমত গঠন করা যেতে পারে,</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১. উম্মাহর সর্বোচ্চ ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগানো</strong></p>
<p>বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, ইরাক এবং তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বন্ধ করতে হবে। আমি মনে করি জনগণ যদি রাজপথে শক্তভাবে নেমে আসে অবশ্যই এটা সম্ভব। যেমন, তুরস্কের জনগণ কঠিনভাবে অ্যামেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী হওয়ায় তুর্কীতে তাঁদের সামরিক ঘাটি থাকলেও সাম্রাজ্যবাদীরা সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা খুবই প্রশংসনীয়। শুধু ইসলামপন্থী দলগুলোই নয়, ঐতিহাসিকভাবেই ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বামপন্থী দলসমূহও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>২. রাজনৈতিকভাবে সমন্বয় কাউন্সিল গঠন</strong></p>
<p>ওআইসি, আরব লীগ, Gulf Cooperation Council), Economic Cooperation Organization, ডি-৮, Arab Maghreb Union সহ মুসলিমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সব সংস্থা ও ঐক্য সংগঠনগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একক কেন্দ্র থেকে সমন্বয় করা উচিত।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৩. অর্থনৈতিক সংহতি বৃদ্ধি করা</strong></p>
<p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পণ্য বর্জনের আন্দোলনকে জোরালো করতে হবে ও এর পক্ষে প্রতিনিয়ত জনমত গঠন করতে হবে। তেলের সরবরাহ, খাদ্য ও রসদ সহায়তা বন্ধ করতে হবে। কৌশলগত প্রণালীসমূহ এবং বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করতে হবে। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের জন্য তহবিল গঠন ও এর মাধ্যমে মাধ্যমে ঐ সকল দেশের মানুষের সামাজিক জীবনধারাকে সচল রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৪. যৌথ সামরিক বাহিনী</strong></p>
<p>মুসলিম দেশসমূহের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ানোর জন্য যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে একটি যৌথবাহিনী গঠন করা আবশ্যক। আকাশ প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সাইবার প্রতিরক্ষার জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন। এর ফলে আক্রমণের সময় বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়ার বদলে দ্রুত ও সমন্বিত একক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৫. আইনী সহায়তা ও প্রক্রিয়াকে জোরদার করা</strong></p>
<p>সারা বিশ্বের মুসলিম আইনজীবী সংস্থা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে স্থায়ী টিম তৈরি করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের শিকার দেশগুলোতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের প্রমাণ সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করে তা আন্তর্জাতিক আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা এবং জনমত গঠনের লক্ষ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করা।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৬. সিভিল সুরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি</strong></p>
<p>গাজাসহ, প্রতিটি সংকটপূর্ণ অঞ্চল ও মুসলিম দেশসমূহের জন্য জন্য আলাদা আলাদা ত্রাণ সরবরাহ, ফিল্ড হাসপাতাল এবং মানবিক সহায়তা করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করা উচিত। সীমান্তের প্রবেশদ্বার ও লজিস্টিক কেন্দ্রসমূহ যেনো যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এর জন্য প্রোটোকল তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য, পানি, ওষুধ, আশ্রয়স্থল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয়তার জন্য পরিকল্পনা করা ও একক কেন্দ্র থেকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার মত উদ্যোগ গ্রহন করা</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৭. মিডিয়ার ঐক্য</strong></p>
<p>মুসলিম দেশগুলিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) এবং রয়টার্সের মতো সাম্রাজ্যবাদী মিডিয়াকে বর্জন করে নিজস্ব মিডিয়ার মধ্যে নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।</p>
<p>একই সঙ্গে, উম্মাহর নিজস্ব আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বা বিদ্যমান সংস্থাগুলোর যৌথ কনসোর্টিয়াম শক্তিশালী করে মাঠ থেকে প্রাপ্ত যাচাইকৃত তথ্য ও চিত্রসমূহ একক কেন্দ্র থেকে মানসম্মত প্রোটোকলের মাধ্যমে প্রস্তুত করে বিশ্ব মিডিয়া এবং স্থানীয় সংবাদপত্রে একযোগে সরবরাহ করা উচিত।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৮. যৌথ গোয়েন্দা বিভাগ তৈরি</strong></p>
<p>মুসলিম দেশগুলোর জন্য যে বিষয়সমূহ হুমকি সেগুলিকে চিহ্নিত করা, আগাম সতর্কতা জানানো এবং সংকট মোকাবেলার জন্য জন্য যৌথ গোয়েন্দা কেন্দ্র থাকা উচিত। স্যাটেলাইট, ওপেন সোর্স, সাইবার গোয়েন্দা এবং মাঠ থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টগুলো এক জায়গায় নিয়ে যাচাই করা হবে। এভাবে সম্ভাব্য হামলা বা ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা আগে থেকেই ধরতে পারা যাবে এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমসমূহ একটি কেন্দ্রীয় কাঠামোর অধীনে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>৯. ডিজিটাল মোবিলাইজেশন কেন্দ্র তৈরি</strong></p>
<p>মুসলিম দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ইন্টারনেট সিস্টেম, ডেটা সেন্টার এবং সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে এবং সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সত্য বিকৃত করা কন্টেন্ট (ডিপফেক, ম্যানিপুলেটেড ভিডিও/সাউন্ড) চিহ্নিত করে তার প্রবাহ বন্ধ করতে হবে এবং উৎসের নেটওয়ার্কগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী প্রোপাগান্ডার মাত্রা ও প্রবাহ সীমিত করতে হবে এবং কন্টেন্টের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। মুসলিম ভূখণ্ডে সাম্রাজ্যবাদী উদ্দেশ্যে চলমান সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা অকার্যকর করতে হবে।</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১০. শিক্ষাব্যবস্থা ও অভিন্ন কার্যকর ইচ্ছাশক্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ</strong></p>
<p>সাময়িক আবেগ কিনা ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ নয়, স্থায়ী, সুশৃঙ্খল এবং সঠিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন প্লাটফর্মগুলোকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত জায়নবাদী সাম্রাজ্যবাদের প্রেতাত্মা অ্যামেরিকা ও অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর বিরুদ্ধে জনরোষকে জাগিয়ে রাখার জন্য জিহাদী প্রেরণাকে সর্বদা জাগ্রত ও উজ্জীবিত রাখতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখন প্রশ্ন হলো এগুলা কে বাস্তবায়ন করবে বা আদৌও এগুলো সম্ভব কিনা ?</p>
<p>আমি মনে করি অবশ্যই সম্ভব। মুসলিম উম্মাহ এখনো অনেক সমৃদ্ধ। জনগণ এখন যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সজাগ এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একাট্টা। এছাড়াও তেল, গ্যাস, পানিসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের বড় একটি অংশ মুসলিম দেশসমূহে রয়েছে। উম্মতের আছে বিশাল এক যুবসমাজ ও অতীত গৌরব।</p>
<p>শুধু তাই নয় পাশ্চাত্যের দেশসমূহের সাধারণ জনগণও আজ তাঁদের দেশের এই সকল দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সেই সকল দেশেই আজ এমন এমন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠছে যারা জায়নবাদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সোচ্চার। যেমন অ্যামেরিকাতেই এখন ইসরাইলের সমর্থন পক্ষে সমর্থন একদম তলানীতে হাজারো চেষ্টা করেও আর ইসরাইলের পক্ষে ন্যারাটিভ তৈরি করতে পারছে না।</p>
<p>এই জন্য আমরা যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে কাজ শুরু করি ও স্বপ্ন বিনির্মাণ করি তাহলে অবশ্যই আমরা অতীতের ১৮ টি ক্রুসেডকে যেভাবে মোকাবেলা করেছি এই ১৯ তম ক্রুসেডকেও মোকাবেলা করতে পারবো এবং সমগ্র মানবতার জন্য ইসলামী সভ্যতা পুনরায় বিশ্বসভ্যতার নেতৃত্ব দিবে ইনশাল্লাহ।</p>
<p>উস্তাদ এরবাকানের ভাষায়, <strong>&#8220;আমরা ডাঙায় জাহাজ তৈরি করেই যাবো, আল্লাহ তায়ালাই সাগরকে আমাদের পায়ের কাছে এনে দিবেন, ইনশাআল্লাহ&#8221;</strong>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/what-should-we-do-to-confront-the-zionists-that-is-attacking-the-ummah/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16669</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বায়তুল মাকদিস মুক্তির শপথগ্রহণের রজনী হোক শবে মেরাজ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/may-shab-e-meraj-be-the-night-of-taking-the-oath-of-liberating-baitul-maqdis/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/may-shab-e-meraj-be-the-night-of-taking-the-oath-of-liberating-baitul-maqdis/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Jan 2026 12:07:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16461</guid>

					<description><![CDATA[শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে যেমন গুরুত্বপুর্ণ একটি ঘটনা, তেমনি বাঙ্গালী মুসলমানের সংস্কৃতিতে এটি হয়ে আছে তাৎপর্যপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। এই অঞ্চলে মুসলমানদের আগমনের পর থেকেই ঘটা করে পালন হয়ে আসছে এই দিবসটি। দরবার ও খানকাগুলোতে হেদায়াতি তা’লিম, জিকিরের মজলিস শেষে একসাথে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>শবে মেরাজ ইসলামের ইতিহাসে যেমন গুরুত্বপুর্ণ একটি ঘটনা, তেমনি বাঙ্গালী মুসলমানের সংস্কৃতিতে এটি হয়ে আছে তাৎপর্যপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। এই অঞ্চলে মুসলমানদের আগমনের পর থেকেই ঘটা করে পালন হয়ে আসছে এই দিবসটি। দরবার ও খানকাগুলোতে হেদায়াতি তা’লিম, জিকিরের মজলিস শেষে একসাথে তবারক গ্রহণ, ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি তৈরির মাধ্যমে উদযাপনের এক নান্দনিক সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে এই শবে মেরাজের।</p>
<p>শবে মেরাজের জলসাতে এসে এই রজনীতে কী ঘটেছিল, কীভাবে রাসূল নিজ ঘর থেকে ইসরা (রাত্রিকালীন ভ্রমণ) করে মসজিদে আকসায় গেলেন, সেখান থেকে উর্ধ্ব গগণে আরোহনের মাধ্যমে কীভাবে মেরাজ সংঘটিত হয় – এসব কাহিনী শুনেন নি এমন ব্যক্তি বোধহয় বাঙ্গালী মুসলিম সমাজে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।</p>
<p>তবু, মুসলিম উম্মাহর এই চরম ক্রান্তিলগ্নে এসে – যখন তাবৎ দুনিয়া মুসলিমদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছে, জ্ঞান-গরিমা-চিন্তায় মুসলিমদের নিদারুণ দৈন্যদশা লক্ষণীয়, প্রথম কেবলা বায়তুল মাকদিস ইতিহাসের মুতলাক শার ইসরায়েলীদের দ্বারা লুন্ঠিত – তখন শবে মেরাজের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ, মাকসাদ ও এর তাৎপর্য নতুন করে চিন্তা করার দাবি নিশ্চয় অমূলক নয়। সেই গরজেই শবে মেরাজকে নিয়ে আমাদের ভাবনাকে আরেকটু শাণিত করার এই চেষ্টা-</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আশা ও নিরাপত্তার ভূমি রূপে বায়তুল মাকদিস </strong></p>
<p>ইসরা ও মেরাজের সময়টা একটু মানস্পটে অঙ্কিত করা যাক। নবুয়তপ্রাপ্তির পর থেকে বটবৃক্ষের মতো ছায়া প্রদানকারী রাসূল ﷺ এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর ক্ষণ গড়াতে না গড়াতেই জীবনসঙ্গিনী খাদিজার-ও (রা.) জীবনাবসান ঘটলো। ছায়াপ্রদানকারী চাচা কিংবা সুখ-দুঃখের নিত্যকার সঙ্গী আপনজন আর কেউ রইলো না। সেই সময়ে রাসূলের ﷺ দুর্বিসহ অবস্থার কথা কল্পনা করুন তো! সীরাতের পাতায় তাইতো এই সময়টাকে <strong>&#8220;আমুল হুযুন&#8221; তথা দুঃখের বছর</strong> বলে অভিহিত করা হয়েছে।</p>
<p>আর ঠিক সেই সময়েই আসমানী পয়গাম এলো ইসরার। শত দুঃখ ঝঞ্ঝাট অতিক্রান্ত করে মরুভূমির তৃষ্ণার্ত পথিকের দিশা পাওয়া একফোঁটা বারির মতো আশার ঝিলিক হয়ে আসে ইসরার রজনী। বায়তুল মাকদিসে ভ্রমণ করালেন রব তার প্রিয় হাবিবকে ﷺ। আর এটি পরিণত হলো আশা ও নিরাপত্তার ভূমিতে।</p>
<p>যেমনটা হয়েছিল ঠিক মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহীম (আ.) এর জন্যও। নবুয়তী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বজাতির নিকট নির্মম জুলুমের স্বীকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হন বায়তুল মাকদিসে। কুরআনে সেই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে এভাবে-</p>
<blockquote><p>﴿قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ﴾﴿وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ﴾﴿وَنَجَّيْنَاهُ وَلُوطًا إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا لِلْعَالَمِينَ﴾</p>
<p>অর্থাৎ, “আমি বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইব্রাহীমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও। তারা তার সাথে চক্রান্ত করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্ত আমি তাদেরকে করে দিলাম সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তাঁকে ও লূতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে পৌঁছিয়ে দিলাম, যেখানে আমি বিশ্ববাসীর জন্য বরকতময় করে রেখেছি।“ (সূরা আম্বিয়া: ৬৯-৭১)</p></blockquote>
<p>এভাবে ইবরাহীম (আ) এর জন্য আশা-ভরসার স্থলে পরিণত হয় বায়তুল মাকদিস। আর যা পুনরায় এসে প্রতিষ্ঠিত হয় রাসূলের ﷺ ইসরার মাধ্যমে। ইসরা রাসূল কে যেমন একটি আশা ও নিরাপত্তার সঞ্চার করে, তেমনি মুসলমানদের মনোজগতেও এর প্রভাব বিস্তার করে প্রবল।</p>
<p><strong>&nbsp;</strong></p>
<p><strong>মেরাজে রাসূল </strong></p>
<p>বায়তুল মাকদিস থেকে উর্ধ্বারোহণ করিয়ে রাসূলকে ﷺ নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মা’মুরে। যেখানে সাক্ষাৎ হয় আদম (আ.), ঈসা (আ.), ইয়াহইয়া (আ.), ইউসুফ (আ.), ইদরীস (আ.), হারুন (আ.), মুসা (আ.) ও ইবরাহীম (আ.) এর সাথে।</p>
<p>নবীগণের সাথে এই মোলাকাত কী তাৎপর্য বহন করে? এর মাধ্যমে মূলত রাসূলে আকরাম ﷺ এর সাথে পুর্ববর্তী নবীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ়তর হয়। আরেকটি দিক থেকে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহুর্তে এসে – যখন ব্যক্তিগত জীবন ভয়াবহ পর্যদুস্ত, দাওয়াতি কাজে ন্যুন্যতম আশার আলো নেই, একে একে সকল জাতি অস্বীকার করছে তাওহীদ-রেসালাত-আখেরাতের আহবানকে – তখন নবীদের সাথে এই সাক্ষাৎ নতুন করে আশার সঞ্চার করে মানুষ মুহাম্মদ ﷺ এর মনোজগতে। কেননা, এই সকল নবী-রাসূলগণও তাদের নবুয়তী জিন্দেগীতে এমন ক্রান্তিকাল অতিক্রাম করেছেন। স্বজাতির নিকট অপদস্ত এমনকি হত্যার স্বীকারও হয়েছিলেন অনেকেই। তারা একেকজন সংগ্রাম করেছিলেন একেক প্রকার জুলুমের বিরুদ্ধে। কেউ মানুষকে রক্ষার বদলে তার উপর প্রভুত্ব কায়েমের বিরোধিতা করে, কেউ অর্থনৈতিক জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, কেউ তার যুগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পার করেছেন সারাটি জীবন। আর রাসূলে আকরাম যেহেতু একইসাথে সকল প্রকার জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছিলেন, তাই পুর্বসুরীদের সাথে এই সাক্ষাৎ তার দাওয়াতি কাজে নতুন উদ্দীপনা জোগায়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>বরকতময় ভূমি রূপে বায়তুল মাকদিস </strong></p>
<p>আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী এটি কেবল ইবরাহীম (আ) কিংবা তার জাতির জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্ববাসীর জন্য বরকতময় ভূমি। পবিত্র কুরআনের সূরা আম্বিয়ার ৭১ নং আয়াতে বায়তুল মাকদিসকে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের বরকতের ভূমি হিসেবে সম্বোধিত করা হলেও উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বরকতময় ভূমি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় সূরা ইসরার ১ম আয়াতে। রাব্বে কারীম ইরশাদ করেন,</p>
<blockquote><p>سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ&nbsp; اَسۡرٰی بِعَبۡدِہٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ&nbsp; اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَہٗ&nbsp; لِنُرِیَہٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّہٗ&nbsp; ہُوَ&nbsp; السَّمِیۡعُ&nbsp; الۡبَصِیۡرُ &#8211;</p>
<p>“পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি। (ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল) যেন আমি তাকে আমার নিদর্শনসমূহ দেখাতে পারি। তিনিই (আল্লাহ) সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>শবে মেরাজ ও বায়তুল মাকদিসের আধ্যাত্মিক ও ঈমানী গুরুত্ব</strong></p>
<p>রাসূলে পাকের ﷺ &nbsp;ইসরা ও মেরাজের কারণে বায়তুল মাকদিসের সাথে মুসলিমদের এক রুহানী বন্ধনের উন্মেষ ঘটে। নবীর পদধুলীতে ধন্য যে ভূমি, আম্বিয়ায়ে কেরামগণের ইমাম হলেন নবী যেই স্থানে, সেই স্থানের প্রতি তো অবশ্যই এক অকৃত্রিম আধ্যাত্মিক আবেশ কাজ করবেই!</p>
<p>সাহাবীগণ সেই সময় থেকে বায়তুল মাকদিস যিয়ারতের ইরাদা পোষণ করতেন হৃদয়ের গভীরে। আলাপ-আলোচনার বিষয়বস্তুতেও বায়তুল মাকদিস দখল করে নেয় অনভিপ্রেত এক স্থান। আর <strong>কাফেররা যখন খায়েশের পূজোয় নিমজ্জিত হয়ে ইসরা ও মেরাজকে অস্বীকার করলো</strong><strong>, </strong><strong>তখন ঈমানিয়্যাতের দাবিতে বলীয়ান মুমিন সাহাবীগণ অকপটে বিশ্বাস করে নিলেন ইহা। এভাবেই বায়তুল মাকদিস রুহানিয়্যাত ও ঈমানিয়্যাতের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিগণিত হয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>শবে মেরাজ ও বায়তুল মাকদিসের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব </strong></p>
<p>গোটা দুনিয়ার এত এত স্থান থাকতেও কেন আল্লাহ তা&#8217;য়ালা তাঁর রাসূলকে ﷺ বায়তুল মাকদিসেই ভ্রমণ করালেন?</p>
<p>এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক রকম ব্যাখ্যা হাজির হবে। এসবের মাঝে যদি শুধুমাত্র বিশ্বমানচিত্রে বায়তুল মাকদিসের অবস্থানের দিকেও লক্ষ্য করা যায় তাহলে পরিলক্ষিত হবে যে, এই স্থানের ভ্রমণের কারণটা কী ছিল আর বায়তুল মাকদিসের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব কতটা বেশি।</p>
<p>এর ভৌগোলিক গুরুত্বের বিবেচনায় বলা হয়ে থাকে যে,</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>&#8211;</strong><strong>যারাই এই অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণ করবে</strong><strong>, </strong><strong>তারাই গোটা দুনিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করবে।</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>&#8211;</strong><strong>এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার মানে হলো পুরো পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>&#8211;</strong><strong>বায়তুল মাকদিস হচ্ছে মুসলমানদের জাতিগত অবস্থার আয়নাস্বরুপ।</strong></p>
<p>বাস্তবেও তাই। ইতিহাসের ধুসর পাতাগুলোতে নজর বুলালে এটাই দেখা যাবে যে, যখনই বায়তুল মাকদিস মুসলিমদের ছাড়া অন্য কারও হস্তগত হয়েছে, তখনই রক্তাক্ত ইতিহাসের উপাখ্যান রচিত হয়েছে। কলঙ্কিত হয়েছে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস। আর মুসলিমরাও বিশ্বদরবারে উচ্চশীরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিলো ততদিন, যতদিন বায়তুল মাকদিস মুসলিমদের আমানতে ছিলো।</p>
<p>মূলত, বায়তুল মাকদিস মুসলিমদের জন্য এই রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ববহ হয়ে উঠে মূলত শবে মেরাজের ইসরার মাধ্যমেই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>উম্মাহ ধারণার প্রতিচ্ছবির পরিস্ফুটন</strong></p>
<p>ইসরা ও মেরাজ যখন সংঘটিত হয়, তখনও তো ইসলামের কোনো রাষ্ট্র কিংবা সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জাজিরাতুল আরব বা তার পার্শ্ববর্তী কিছু অঞ্চলের ঈমানগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গই তখন মুসলমানদের অঘোষিত সমাজের অংশ।</p>
<p>কিন্তু বায়তুল মাকদিসে সংঘটিত ইসরা মুসলিমদের মনে নতুন এক আশার দুয়ার খুলে দেয়। নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরেও যে এই অঘোষিত সমাজের বিস্তৃতি হতে পারে বা সম্পর্ক থাকতে পারে, তা হৃদয়ে গেঁথে যায় ইসরার মাধ্যমে। মুসলিমরা তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এক উম্মাহ হওয়ার স্বপ্নের বীজ বুনতে শুরু করে হৃদ-মাজারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>নবজাগরণের ভূমি বায়তুল মাকদিস </strong></p>
<p>আর এক পর্যায়ে এই প্রোথিত স্বপ্নের বীজই অঙ্কুরিত হয়ে মহীরুহ ধারণ করে খুলে দেয় নবজাগরণের দুয়ার। তখন থেকেই বায়তুল মাকদিসকে গভীরভাবে হৃদয়ে লালন করতে শুরু করে মুসলিমরা। এমনকি ড. আব্দুল ফাত্তাহ আল-ওয়াইসীর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী ওমর (রা.) এর মাকদিস বিজয়ের পূর্ব সময় পর্যন্ত সংঘটিত সকল সামরিক কিংবা কুটনৈতিক পদক্ষেপের মাকসাদ ছিলো বায়তুল মাকদিস অভিমূখী। <strong>তিনি বিশ্লেষণ করে দেখান যে</strong><strong>, </strong><strong>রাসূল (স.) এর জীবদ্দশায়ও যেসকল গাজওয়া কিংবা সারিয়্যাহ সংঘটিত হয়</strong><strong>, </strong><strong>এক অর্থে বলা যায় যে প্রায় সবকটিই ছিলো বায়তুল মাকদিস মুক্তকরণের প্রাথমিক পদক্ষেপস্বরুপ।</strong> রাসূলের ﷺ নির্দেশে উসামা বিন যায়েদের নেতৃত্বে প্রেরিত সর্বশেষ অভিযানও তাই প্রমাণ করে।</p>
<p>একপর্যায়ে সেই স্বপ্ন, কার্যকলাপ ও সকল প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয় ওমর (রা.) এর বায়তুল মাকদিস বিজয়ের মাধ্যমে। তখন থেকে মুসলিমরা বিশ্বদরবারে এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছাতে শুরু করে। বায়তুল মাকদিসকে বিশ্বমানবতার সকলের জন্য নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করে। বিশ্বশান্তির সূতিকাগারে পরিণত হয় বায়তুল মাকদিস।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>হাল আমলের তাবৎ মানবতার মুক্তি ও বায়তুল মাকদিস </strong></p>
<p>কিন্তু আজ সেই বরকতময় ভূমি, আশা ও নিরাপত্তার স্থান দখলদারদের হাতে লুন্ঠিত। তাই তো মানবতাও আজ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে মুক্তির ক্ষণ গুণতে গুণতে। কিন্তু কোথায় সেই মুক্তি! কোথায় সেই আশার প্রদীপ!</p>
<p>রাসূলের ﷺ দুর্বিসহ দিনগুলোতে ইসরার মাধ্যমে আলোকবর্তিকারুপে যেমন আবির্ভূত হয়েছিল বায়তুল মাকদিস, আজও কি তা সেই অবস্থানে পুনরাবর্তিত হতে পারবে না! আবারও কি বিশ্বমানবতার মুক্তির মারকাজ হয়ে উঠবে না এই পবিত্র ভূমি! বরকতের সেই পেয়ালা থেকে অমীয় সুধা পান করে তৃষিত মানবতা কি পুনরায় জীবন্ত হয়ে উঠবে না!</p>
<p><strong>আমাদের ইয়াক্বীন</strong><strong>, </strong><strong>অবশ্যই তা হবে। আবার চিরসজীব হয়ে উঠবে এই ভূমির জয়তুন গাছ। মসজিদে কেবলার ইট-সুরকীগুলো নিঃশ্বাস ফেলবে মুক্ত বাতাসে। গম্বুজে হাদরা আবার মুক্তির পায়রার একটুখানি বিশ্রামের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে নিজেকে। </strong></p>
<p><strong>সেই মুক্তির স্বাদ আস্বাদনের শপথ নেয়ার রজনী হোক তবে এই শবে মেরাজ!</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>তথ্য ও চিন্তাঋ</strong><strong>ণঃ</strong></p>
<p>১। মসজিদে আকসাকে মুক্ত করার কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রফেসর ড. আব্দুল ফাত্তাহ আল ওয়াইসী।</p>
<p>২। <a href="https://rowyakbd.com/baitul-maqdis-from-the-perspective-of-diin-and-civilization/">দ্বীন ও সভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে বায়তুল মাকদিস, প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ।</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/may-shab-e-meraj-be-the-night-of-taking-the-oath-of-liberating-baitul-maqdis/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16461</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ভবিষ্যৎ গাজাঃ পথ চারটি, কিন্তু গন্তব্য একটি!</title>
		<link>https://rowyakbd.com/future-gaza-four-paths-but-one-destination/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/future-gaza-four-paths-but-one-destination/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. সামি আল-আরিয়ান]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 16 Nov 2025 19:35:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ফিচারড]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16375</guid>

					<description><![CDATA[২০২৩ এর ৭ অক্টোবর পরবর্তী গাজায় ইজরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধটি ছিল ফিলিস্তিনিদের মনোবলকে পরিপূর্ণভাবে নিঃশেষ করে ফেলার উদ্দেশ্যে। এর লক্ষ্য ছিল গাজাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা এবং পশ্চিম তীরকে ভয় দেখানো। আগুন, ভয় ও অনাহারে একটি জাতিকে মুছে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>২০২৩ এর ৭ অক্টোবর পরবর্তী গাজায় ইজরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধটি ছিল ফিলিস্তিনিদের মনোবলকে পরিপূর্ণভাবে নিঃশেষ করে ফেলার উদ্দেশ্যে। এর লক্ষ্য ছিল গাজাকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা এবং পশ্চিম তীরকে ভয় দেখানো। আগুন, ভয় ও অনাহারে একটি জাতিকে মুছে ফেলার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ভেঙে পড়েনি। তারা স্থির এবং অটলভাবে নিজেদের ভূমি ও সত্যের প্রতি এমন অবিচলতা প্রদর্শন করেছে যে, তাদের আন্দোলনকে কোনো অবরোধ বা অবিরত আক্রমণ দ্বারা মুছে ফেলা সম্ভব নয় এমনটিই প্রতীয়মান হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী এক নৃশংস গণহত্যার সাক্ষী হয়েছে, যা লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে প্রতিটি ফোনে পৌঁছেছে। এবং একইসাথে প্রকাশিত হয়েছে সমকালীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সুস্পষ্ট প্রবঞ্জনার চিত্র। যে ব্যবস্থা একদিক থেকে নিজেকে সভ্য দাবি করে, অপরদিকে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকে সকল ধরণের অস্ত্র সরবরাহ করে, সেই অস্ত্রের ব্যবহারে ছোট ছোট মাসুম শিশুদের হত্যা করছে এবং তাদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।</p>
<p><strong>এখন যায়নবাদী ইজরায়েলি শাসনের সামনে একটি বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে, যা তারা অনেকদিন ধরে এড়িয়ে চলে এসেছিলো। এখন আর তারা চাইলেও নিজেদের আধিপত্যকে শান্তি প্রতিষ্ঠা হিসেবে , বর্ণবাদী আচরণকে নিজেদের নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে, হাজার হাজার মানুষকে তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে বিতারণকে মানবিক সহয়তা হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে না। তাদের সেই মুখোশ খুলে গিয়েছে। যায়নবাদীদের ফিলিস্তিনিদের উপর একক আধিপত্য ও বর্ণবাদী কর্তৃত্ব শেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এমতাঅবস্থায় “ যায়নবাদী ব্যবস্থা নিজের গতিপথ পরিবর্তন করবে কিনা” এই প্রশ্নের পরিবর্তে&nbsp; তারা যে পথই অবলম্বন করুক প্রতিটি পথ তাদের পতনকে কিভাবে ত্বরান্বিত করবে সেটিই মূল প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।</strong></p>
<p>বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে প্রধানত চারটি ভিন্ন দৃশ্যপটকে লক্ষ্য করা যায়। সেগুলির প্রতিটি দৃশ্যপট বা সম্ভাব্য ঘটনা যায়নবাদী প্রকল্পের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্য প্রকাশ করে। যায়নবাদীরা গণতন্ত্রের দাবি করে কিন্তু ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ, অনেকটা এরকম যে জমি চায় কিন্তু সেই জমির অধিকারী মানুষদের অবহেলা করে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে। যায়নবাদী আইডোলজির ধারক বাহকদের সম্ভাব্য প্রতিটি পথ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যায় সেটি হলো তাদের তৈরি করা আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণের কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা, যাতে ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভবপর হয় ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>প্রথম দৃশ্যপটঃ দ্বৈত রাষ্ট্র সমাধান</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>বিশ্বব্যাপী এখনও তথাকথিত টু-স্টেট সল্যুশন-কে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ১৯৯৩ সাল থেকে চলে আসা ব্যর্থ অসলো প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফলাফল হওয়ার কথা ছিল এই সমাধান। অসলো প্রক্রিয়া ছিল শান্তিপূর্ণ সমাধানের একটি চেষ্টা, যা মূলত ইজরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির ব্যর্থতার কারণে এই পথ আজও কার্যকর হয়নি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশা পুরোপুরিভাবে দূরে সরে গেছে।</p>
<p>বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা এই টু-স্টেট সমাধানের পক্ষে বিবৃতি প্রদান করে থাকেন, তবে সেগুলি অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র মুখের বুলি হিসেবে থেকে যায়। কূটনীতিবিদরা এখনও পুরনো মানচিত্রগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করেন। অথচ এর বাস্তবতা খুবই সংকীর্ণ। টু-স্টেট এর সমাধানের ধারণা হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য পশ্চিম তীর এবং গাজার মধ্যে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। তবে,অনেক আগেই অবৈধভাবে স্থাপিত বসতিগুলোর অপসারণ এবং জনগণের মধ্যে সংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা আগেও উঠে এসেছে। কিন্তু আজও এটি সম্ভব হয়নি, কারণ পশ্চিম তীর এবং গাজা পুরোপুরিভাবে বিভক্ত, এবং হাজারো চেকপোস্ট এবং সেনাদের দ্বারা বেষ্টিত। ফলশ্রুতিতে এর বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।</p>
<p>এছাড়া পূর্ব জেরুজালেম ইতোমধ্যে কার্যত এবং আইনীভাবে ইজরায়েলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি বড় বাধা। বহু বছর ধরে ইজরায়েল তাদের বসতিগুলি এমনভাবে বিস্তৃত করেছে এবং ভূখণ্ডকে ছোট ছোট দখলকৃত অঞ্চলে বিভক্ত করেছে, যার ফলে একটি স্থিতিশীল এবং কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাদের সৃষ্টি করা এমন পরিস্থিতি থেকে ইজরায়েল দাবি করে যে, আলোচনার জন্য কিছুই অবশিষ্ট নেই। কারণ তারা পুরো অঞ্চলটির উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই সব প্রেক্ষাপটের মধ্যে ফিলিস্তিনের জন্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখন শুধু একটি রাজনৈতিক ধারণা হয়ে রয়ে গেছে, যেটি আসলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কঠিন পথ বেয়ে চলেছে।</p>
<p>যদি ধরে নেওয়া হয় , ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকৃতপক্ষে কোনো বাস্তবিক উদ্যোগ নেওয়া হবে, তবে সেক্ষেত্রে ইজরায়েলকে ১৯৬৭ সালের পূর্বের গ্রীন লাইন সীমানায় ফিরে যেতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের গ্রেটার ইজরায়েলের স্বপ্ন ব্যাহত হবে এবং দখল করার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। কিন্তু অধিকাংশ ইজরায়েলি মনে করে, একটি পূর্ণ সার্বভৌমত্বের প্রকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইহুদি জাতীয়তাবাদের জন্য একটি অস্তিত্বগত হুমকি । কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে । তখন তারা &nbsp;শুধু একটি নিয়ন্ত্রিত ও শোষিত জনগণ নয়, বরং একটি অধিকারপ্রাপ্ত জাতি। রিফিউজি সমস্যাও সমাধান হবে না, কারণ সাত মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রয়েছেন তারাও এখানে ফিরে আসার অধিকার দাবি করবে। অপর দিকে পূর্ব জেরুজালেমও তার জনগণের অধিকারেই থাকবে।</p>
<p><strong>এজন্য টু-স্টেট সমাধান ইজরায়েলি দখলদারিত্বের পতনের সূচনা করবে। কারণ এটি সেই মৌলিক বিষয়টিকেই স্বীকার করবে, যা ইজরায়েল বিগত এক শতাব্দী ধরে অস্বীকার করে এসেছে যে, ফিলিস্তিনিরা সমান মানবিক অধিকারপ্রাপ্ত, এবং তাদের অধিকার চেকপোস্টে হারিয়ে যাবে না। এই চরম বাস্তবতা ইজরায়েল জানে, এবং এজন্যই তারা এই সমাধানটি প্রতিরোধ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে। কখনোই তারা এটিকে মেনে নেবে না।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>দ্বিতীয় দৃশ্যপটঃ অভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>জর্ডান নদী এবং ভূমধ্যসাগরের মাঝে যে ভূমি রয়েছে, তা একক ভূখণ্ড হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ এই ভূমি একটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। যায়নবাদী সরকার এই ফ্যাক্টটিকে ভালোভাবে বুঝে এজন্য তারা রাফাহ থেকে রাস আল নাকুরা এবং যাফা থেকে জেরিকো পর্যন্ত পুরো অঞ্চলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে।</p>
<p>যদি ইজরায়েল একক ভূখণ্ড হিসেবে এই ভূমির দাবি জোরালোভাবে চালিয়ে যায় এবং পরবরর্তীতে সম-অধিকার ভিত্তিক একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে সরে আসে, তবে তারা আর নিজেদের &#8220;ইহুদি রাষ্ট্র&#8221; হিসেবে দাবি করতে পারবে না। কারণ যদি রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় , তবে তা ইহুদি জাতীয়তাবাদী ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল হয় একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারবে, যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। অথবা একটি জাতিগত-ধর্মীয় রাষ্ট্র হতে পারবে। যেকোনো একটি বিষয় সম্ভব, দুইটি ফ্যাক্ট কখনো একসাথে চলতে পারে না।</p>
<p>এক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের বর্তমান জনসংখ্যার পরিসংখ্যানই এই বিতর্কের সমাপ্তির জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের বাদে , এখনও ইজরায়েলি জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা ফিলিস্তিনিদের মাঝে বিদ্যমান। অর্থাৎ, জনসংখ্যার দিক থেকে ফিলিস্তিনিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যা যায়নবাদী ইজরায়েলের আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে কঠিন করে তোলে। যদি একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে সকল নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তখন যায়োনিস্ট আন্দোলন তার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ও অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের প্রকল্প হিসেবে আর টিকতে পারবে না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার এই সমাধানকে পৃথিবীর অনেক দেশ ও জনগণ সমর্থন করে এবং করবে । এটি এমন একটি রাষ্ট্রের ধারণা, যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে এবং ধর্ম বা জাতির ভিত্তিতে কোনো ধরণের বৈষম্য করা হবে না। এজন্য নিশ্চিতভাবে যায়নবাদী শক্তি এই পরিবর্তনকে প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ এটি তাদের মতাদর্শের সুস্পষ্ট মৌলিক নীতির বিপরীত।</p>
<p><strong>&nbsp;</strong></p>
<h5><strong>তৃতীয় দৃশ্যপটঃ একটি স্থায়ী বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>তৃতীয় বিকল্প পথটি হলো সেই পথ, যা যায়নবাদী শক্তি দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করে আসছে। আর সেটা হলো আরও অধিক পরিমাণে ভূমি দখল করা এবং গ্রিন লাইনকে প্রকৃতপক্ষে মুছে ফেলে শুধুমাত্র কাগজে কলমে রেখে দেওয়া। যায়নবাদী শক্তি জর্ডান নদী থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সার্বভৌমত্ব দাবি করে অথচ এর অধীনে থাকা জনগণের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি নারাজ । গাজাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। পশ্চিম তীরকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিনিয়ত অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে &nbsp;ভূমি দখল এবং ফিলিস্তিনিদের সকল দিক থেকে শ্বাসরোধ করে রেখছে যায়নবাদী শক্তি। অপরদিকে শুধুমাত্র ইহুদি নাগরিকদের জন্য রাস্তা এবং পৃথক দেয়াল তৈরি করা, বসতি এবং আউটপোস্ট সম্প্রসারণ করা এবং পরে তা বৈধ করা। পুরনো সত্যকে মুছে ফেলার জন্য নতুন নতুন আইন উদ্ভাবন। নিরাপত্তার দোহায় দিয়ে অন্যের উপর জুলুম, অস্থায়ী এর নামে স্থায়ী করে নেওয়া। ফিলিস্তিনিদের হয়রানি করা ,অবরুদ্ধ রাখা এবং তাদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানো, যতক্ষণ না তারা হাল ছেড়ে দিয়ে আত্মসমর্পণ করে বা চলে যায়।</p>
<p>এটি ছিল গাজার জন্য এক চরম নিষ্ঠুর বাস্তবতা, যা তুফান আল আকসার আগে ছিল। ২০২৩ এর ৭ অক্টোবরের পর, ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আইনগত ও মোরাল এলিগেশনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বি&#8217;টসেলেম এখন এই ব্যবস্থাকে অ্যাপার্থেইড হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ২০২৪ এর জানুয়ারি এবং মার্চ এ প্রাথমিক আদেশ জারি করেছে। আইসিসি প্রসিকিউটর ২০২৪ এর মে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা চেয়েছে। যায়নবাদী শক্তি এখনও সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে বা শক্তিশালী মিত্রদের সাহায্যের ডেকে আনতে পারে, তবে এটি আর নৈতিক কর্তৃত্ব দাবি করতে পারে না কিংবা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়নি। এটি তার নৈতিক ভিত্তিকে সম্পূর্ণরুপে হারিয়ে ফেলেছে।</p>
<p>আন্তর্জাতিক সিভিল সোসাইটি এই পথটিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভিন্ন চার্চ, ইউনিয়ন, ছাত্রসংগঠন, পেশাদার সমিতি এবং সিভিল সোসাইটির নেতারা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করছেন। সরকারগুলো এখন আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক সম্মান নিশ্চিত করার জন্য অস্ত্র ও বাণিজ্য শর্তাধীন করতে চাপের মধ্যে রয়েছে। ইজরায়েল যত বেশি এই বিশাল জনসংখ্যাকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, ততই তারা সমগ্র পৃথিবী থেকে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। উন্নত প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না এবং যায়নবাদীদের মিলিটারাইজড সোসাইটিতে কখনো সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিকশিত হতে পারবে না এমতাঅবস্থায়।</p>
<p>সময় যত গড়াবে যায়নবাদী শক্তির এই অন্যায়ের দেয়াল ধীরে ধীরে ভেঙে পড়বে। যখন সেই দেয়াল ভেঙে যাবে, তখন যায়োনিস্ট শক্তির কর্তৃত্ব ও আধিপত্য চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>চতুর্থ দৃশ্যপটঃ উচ্ছেদ</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>চতুর্থ বিকল্পটি হলো বিশাল সংখ্যক জনসংখ্যাকে জোরপূর্বক এই ভূমি থেকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া। এটা ইজরায়েলের পুরনো কৌশল,যা এখন আধুনিক রূপে উপস্থিত। এই ধারণার মূল হলো শাসক যদি জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে অনত্র্য পাঠিয়ে দিবে। এটাকে স্বেচ্ছানির্বাচিত পুনর্বাসন এবং মানবিক করিডোরের মতো শব্দ ব্যবহার করে বৈধ উপস্থাপনের প্রচেষ্টা চালালেও, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো জাতিগত নির্মূলকরণ। গাজাবাসী তাদের এই হীন বাস্তবতা প্রকাশ করেছে। জায়োনিস্ট শাসনের এই প্রয়াস এবং সেই প্রয়াসের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। দুই বছরব্যাপী তীব্র বোমাবর্ষণের ও মানবইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যার পরিচালনা করেছে যায়নবাদী শক্তি। এরপরও ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূমি ত্যাগ করেনি। তারা তাদের সন্তানদের নিজ হাতে দাফন করেছে এবং সেখানেই রয়ে গেছে। তাদের এই অসীম সাহস ও অবিচলতা মহাকাব্যিক হয়ে থাকবে সমগ্র মানবতার ইতিহাসে &nbsp;।</p>
<p>পশ্চিম তীরও প্রতিরোধের এক অনন্য উদাহরণ । তারাও ক্রমাগত আক্রমণ এবং হয়রানির শিকার হয়েছে এবং পুনরায়&nbsp; ফিরে এসে নিজেদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ করেছে। এই অঞ্চলের দেশগুলো জানে স্থানান্তরের পরিণতি তাদের নিজেদের সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। এজন্য&nbsp; তারা এই&nbsp; এর অংশ হতে পরিপূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। বিশ্ব এখন ক্যামেরা এবং ফোনের মাধ্যমে এক হয়ে গেছে। অপরাধ করে পূর্বের মতো গোপন করে রাখা সম্ভব নয়। লক্ষ লক্ষ মানুষকে জোরপূর্বক কোথাও ঠেলে দেওয়া আর সম্ভব নয়, কারণ তা আন্তর্জাতিক আইনকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলবে। বিগত দুই বছর ধরে গাজায় আমেরিকার সমর্থনে ইজরায়েলের যে ব্যাপক উচ্ছেদের প্রচেষ্টা ছিল, তা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।</p>
<p>অতএব, গাজা বা পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের জোর করে উচ্ছেদের আরেকটি প্রচেষ্টা যায়নবাদী শক্তির কর্তৃত্ব আর দ্রুত &nbsp;ধ্বংস করবে এবং বিশ্বব্যাপী এমনকি অনিচ্ছুক রাষ্ট্রগুলোকে সক্রিয় হতে বাধ্য করবে। এটি তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করবে, বিলম্ব করবে না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>এই চারটি পথের গন্তব্য</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p><em>যে কোন পরিস্থিতি সামনে আসুক না কেন, রাজনৈতিকভাবে&nbsp; যায়োনিজমের পতনই একমাত্র পরিণতি। প্রতিটি দৃশ্যই দেখায় যে, যায়োনিস্ট শাসন তার নিজস্ব চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। একটি প্রকৃত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র মেনে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়, কারণ তা হলে তার গ্রেটার ইজরায়েলের স্বপ্ন পরিত্যাগ করতে হবে।</em></p>
<p>এটি একক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মেনে নিতে পারবে না, কারণ এতে তার স্বকীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও আধিপত্যবাদী পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অ্যাপার্থেইড বজায় রাখা সম্ভব নয়, কারণ তা হলে এটি বৈশ্বিকভাবে বিচ্ছিন্ন এক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। যার প্রতি বছর সমর্থন এবং ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাবে। ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করাও সম্ভব নয়। কারণ এতে একটি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কট সৃষ্টি হবে যা দ্রুত এর বিচ্ছিন্নতা এবং পতন ত্বরান্বিত করবে।</p>
<p><strong>এখানে আসলে প্রশ্ন বিজয় বা পরাজয়ের নয়। এটি হলো কৌশলগত পিছু হটনের নানা রূপের মধ্যে একটি নির্বাচন। এখন এটা আর শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের সমস্যা নয়; এটি একটি ইজরায়েলি সমস্যা। যার মোকাবিলা করতে হবে পুরো পৃথিবীকে। যায়নবাদী শক্তি এমন একটি ব্যবস্থা, যা অন্যদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপর দাঁড়িয়ে, তা ক্ষমতা ধরে রাখতে সব ধরনের উপায় অবলম্বন করবে। সমগ্র বিশ্বের করণীয় হলো এই যায়নবাদী কর্তৃত্ব ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চক্রকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৈরি করা কাঠামো ও নীতিগুলো ভেঙে ফেলা।</strong></p>
<p><strong>&nbsp;</strong></p>
<h5><strong>কৌশলগতভাবে যায়নবাদী ব্যবস্থার পতন</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>কোনো কিছুকে ধ্বংসকরণ শুধু একটি স্লোগানের বিষয় নয় । এটি একটি বৃহৎ কৌশল। এর প্রথম ধাপ হলো জনগণকে তাদের ভূমিতে দৃঢ়ভাবে স্থির রাখা। গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, ১৯৪৮ সালের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত যারা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়া থেকে রক্ষা করা অপরিহার্য। এর জন্য প্রয়োজন হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে অব্যাহত উপস্থিতি এবং তাদের প্রতিরোধ ও অবিচল সংগ্রামকে &nbsp;সমর্থন করা। এর মানে হলো অবরোধ এবং দখল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন্দীদের মুক্তি, মানবিক সাহায্য ও পুনর্নির্মাণের জন্য অর্থায়নকে রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল থেকে রক্ষা করা এবং ফিলিস্তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দিয়ে পুনর্নির্মাণ পরিচালনা করা&nbsp; । আন্তর্জাতিক সাহায্য, জাতিসংঘের সংস্থা এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সহায়তায় এটি সম্ভব । কিন্তু বিদেশি বা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়। এই সংগ্রামে দৃঢ়তা হচ্ছে নৈতিক শক্তির মূল। ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে স্থায়ী হওয়া ব্যতীত, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা একটি বিমূর্ত ধারণা হয়ে যাবে।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় ধাপ হলো, একটি বৈশ্বিক আন্দোলন তৈরি করা যা যায়োনিস্ট প্রকল্পের প্রতিটি ভিত্তি চিহ্নিত করবে এবং দুর্বল করার জন্য কাজ করে যাবে । এই আন্দোলনকে যায়নবাদী ক্ষমতার উৎসগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সংসদগুলোতে লবি নেটওয়ার্ক যা দায়মুক্তি কেনে, পুঁজির প্রবাহ যা অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অস্ত্র সরবরাহ করে, সার্ভিলেন্স টেকনোলজি যা শহরগুলোকে খোলা কারাগারে পরিণত করে, মিডিয়া যা অপরাধকে নিরাপত্তার জন্য প্রতিরোধের গল্পে রূপান্তরিত করে, একাডেমিক অংশীদারিত্ব যা অ্যাপার্থেইড উদ্ভাবন হিসেবে উপস্থাপন করে, এবং সামরিক কৌশল যা সম্মিলিত শাস্তিকে একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে।</strong></p>
<p>প্রতিটি কৌশলের প্রতিকৌশল আছে। বসতি ও অবরোধের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বাণিজ্য এবং গবেষণা শর্তাধীন করা, অস্ত্র আমদানি নিষিদ্ধ করা, পুলিশ ও স্পাইওয়্যার বিনিময়ের বন্ধ করা, একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষা করা, এবং অ্যাপার্থেইড সাদা করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা। সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও অভ্যন্তরীণ আদালতের মাধ্যমে গুরুতর অপরাধের বিচার করা। আর্থিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিচারের আওতায় আনা। যেকোনো ভবিষ্যৎ রিভিশনিজমের বিরুদ্ধে ইতিহাস সংরক্ষণ করা, প্রতক্ষ্যদর্শীদের সাক্ষ্য এবং ডকুমেন্টেশন সংগ্রহ করা।</p>
<p>এই আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে। এটি অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের চারপাশে কেন্দ্রিক, তবে এটি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনিদের কাজ নয়। এটি এমন ইউনিয়নগুলির প্রয়োজন হবে যারা বন্দরের মাধ্যমে অস্ত্র আমদানি বন্ধ করবে। এমন ডাক্তারদের প্রয়োজন হবে যারা যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে চিকিৎসাকে ব্যবহার হতে দেবে না। এমন ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজন হবে যারা বোমা, কারাগার বা দেয়াল নির্মাণের জন্য চুক্তি করবে না। এমন শিল্পীদের প্রয়োজন হবে যারা মানুষের বিবেককে নাড়া দিতে পারে। এমন ছাত্র এবং অধ্যাপকদের প্রয়োজন হবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেন্সরশিপ বা প্রচারের হাতিয়ার হতে দেবে না। এমন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রয়োজন হবে যারা বলবে যে, ধর্মীয় গ্রন্থ বা নৈতিক শিক্ষাকে নৃশংসতা বা অমানবিকতা ঢাকার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এই আন্দোলনটি সকল বৈশ্বিক সংগ্রামগুলোর সম্মিলিত ভাষায় ন্যায়, অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। এখানে এমন ইহুদিদের প্রয়োজন হবে যারা যায়োনিজমের বিরোধিতা করবে এবং যারা এই মিথ্যে ধারণাকে অস্বীকার করবে যে, ফিলিস্তিনিদের মুক্তি তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এটি এমন মুসলিম, খ্রিস্টান, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী এবং যারা ধর্মবিশ্বাসী নন তাদেরও প্রয়োজন হবে, যারা বুঝে যে, এই লড়াই ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।</p>
<p><strong>এই লড়াইটি আধিপত্য এবং সমানাধিকারের, ঔপনিবেশিক নির্মমতা থেকে মুক্ত হয়ে এক স্বাধীন ভবিষ্যতের, মর্যাদাপূর্ণ জীবন এবং দাসত্বের বিপরীতে।</strong></p>
<p><strong>যায়োনিজমের নৈতিক কাঠামোটি স্পষ্ট। যায়োনিজম একটি বর্ণবাদী এবং আধিপত্যবাদী মতাদর্শ । একটি অবৈধ উপনিবেশ প্রকল্প যা বর্ণবাদী একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে। যায়োনিজম কোনো ধর্ম নয়, এটি একটি আদর্শ। আমাদের সংগ্রাম হচ্ছে একটি আদর্শ এবং এর দ্বারা তৈরি কাঠামো এবং নীতির বিরুদ্ধে, কোনো ধর্ম বা জনগণের বিরুদ্ধে নয়। অ্যান্টিসেমিটিজম একটি বিষ, যা ইসলামোফোবিয়া এবং সকল প্রকার বর্ণবিদ্বেষের মতো একযোগে অস্বীকার করতে হবে।</strong></p>
<p>পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি সময়েই, যায়নবাদী কর্তৃত্ব তার পুরানো আর্গুমেন্টকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে। এটি নতুন অস্ত্রবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করবে যা অবরোধ বজায় রাখবে। পশ্চিম তীরে আরও ভূমি দখল করতে থাকবে। নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিকদের উপর আক্রমণ বাড়াবে। প্রেক্ষাপট বিহীন আত্মরক্ষার বর্ণনা পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করবে। তারা এটি আশা করবে যে ক্লান্তি মানুষের মধ্যকার প্রতিরোধের উচ্ছ্বাসকে একসময় নিঃশেষ করে দিবে। আমাদের সকলে কাজটি হলো এই পতনকে ঠেকানো। আমাদের ক্যামেরাগুলোতে নজর রাখতে হবে , আদালতের আদেশগুলোকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করা।</p>
<p>এর মানে হলো, ছাত্রদের দাবীগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিতে পরিণত করা। শ্রমিক ইউনিয়ন যে প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত দেয়, সেটাকে শুধু কাগজে না রেখে সরাসরি কোম্পানির পণ্য কেনা-বেচা বা সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। পৌরসভাগুলোর সিদ্ধান্তগুলোকে ক্রয়নীতি হিসেবে পরিণত করা যা জায়োনিস্ট সহযোগী কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি অস্বীকার করবে। সম্পাদকীয় মতামতগুলোকে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের জনসাধারণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে পরিণত করা। এর মানে হলো, নিশ্চিত করা যে যায়নবাদী ইজরায়েল যখনই মানবতার মৌলিক নীতির লঙ্ঘন করবে তখন তাকে সেটা মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য করা ।</p>
<p>নিকট ভবিষ্যতে চতুর্মুখী চাপ বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে নতুন করে গঠন করতে সহয়তা করবে । কিছু রাষ্ট্র শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কার্যকরী পদক্ষেপে চলে যাবে। জাতিসংঘ কর্তৃক সদস্যপদ স্থগিত করা একটি বৈশ্বিক দাবি হয়ে উঠবে। অস্ত্রবিরতি সম্ভব হতে যাবে। টার্গেটেড নিষেধাজ্ঞাগুলো ছড়িয়ে পড়বে। বাণিজ্য পছন্দগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সম্মতির উপর নির্ভর করবে। কর্পোরেট বোর্ডগুলো উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাবে। সাংস্কৃতিক এবং একাডেমিক জীবন নৈতিক সীমানা তৈরি করবে যা অটুট থাকবে। যায়নবাদী শক্তি নতুন সিন্ধান্ত গুলোকে অত্যন্ত রাগের সহিত প্রতিহত করবে ।</p>
<p>তারা দাবি করবে আমরা এটি একমাত্র লক্ষ্যবস্তু ? &nbsp;প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট। যখন একটি রাষ্ট্র গণহত্যা করে বা সহায়তা দেয়, যখন একটি বর্ণবাদী আইন তৈরি করে এবং সমাজে সেটার চর্চা করে, যখন এটি মানুষকে জঘন্য পশুর মতো আচরণ করে, তখন এটি স্বাভাবিক আচরণ পাওয়ার &nbsp;অধিকার হারায়। দায়বদ্ধতা শুধুমাত্র আলাদা করা নয়। এটি আমাদের সাধারণ মানবতার জন্য ন্যূনতম দাবী।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h5><strong>৭ অক্টোবরঃ যায়নবাদের পতনকে ত্বরান্বিত করার মাধ্যম</strong></h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>গাজা সব ধরণের বিভ্রান্তি দূর করেছে। এটি ফিলিস্তিনিদের সাহস এবং দৃঢ়তা গভীরতা তুলে ধরেছে। এটি অন্যায়ের অংশীদারিত্ব এবং ষড়যন্ত্রের পরিণাম কি হতে পারে সেটিকে তুলে ধরেছে। যায়নবাদী শক্তি দুর্বলতাকে সমগ্র মানবতার সামনে উদ্ভাসিত করেছে।&nbsp; যারা ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং নিজদের নিরাপদ বোধ করতে হাসপাতাল বোমা হামলা করেছে এবং অসংখ্য অগণিত মানুষকে অনাহারে রাখতে বাধ্য করেছে। উপরে উল্লেখিত চারটি দৃশ্যপট যায়োনিস্ট প্রকল্পের বিজয়ের পথ নয়; বরং এগুলি তার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন স্তর।</p>
<p><strong>এখন আমাদের কাজ হলো এই পতনকে দ্রুততর করা, এমন একটি বৈশ্বিক আন্দোলন গড়ে তোলা যা অপরাধের মাত্রা এবং আশা ও বিশ্বাসের বিস্তৃতি অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের কাজ হলো ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমিতে বাঁচিয়ে রাখা, ছন্ন-ছাড়া জীবনকে পুনর্নির্মাণ করা, অবরোধ বন্ধ করা, বন্দীদের মুক্তি দেওয়া, যারা নৃশংসতা চালানোর আদেশ দিয়েছে এবং যারা তা বাস্তবায়ন করেছে তাদের বিচার করা এবং আধিপত্যের কাঠামোগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যতক্ষণ না সেগুলি ধ্বংস হয়ে যায়।</strong></p>
<p>ন্যায়বিচার কোনো উপহার নয়, এটি মানবতার সর্বোচ্চ মূল্যবোধ। স্বাধীনতা কোনো স্লোগান নয়, এটি মূল লক্ষ্য। স্বাধীনতা কোনো বিকল্প নয়, এটি একটি বাধ্যবাধকতা। আত্মনির্ভরতা কোনো ইলুশন নয়, এটিই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য। প্রত্যাবর্তন কোনো স্বপ্ন নয়, এটি একটি অধিকার। যখন আমরা এই সত্যগুলোকে আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করি, তখন যে পথটি অসম্ভব মনে হয়েছিল, তা হয়ে ওঠে একমাত্র বাস্তব এবং যুক্তিসঙ্গত পথ। ফিলিস্তিনের জনগণ বারবার বিপর্যয় ও সংকটের মধ্য দিয়ে এই সত্য বহন করেছে, এবং এখন পৃথিবী কেবলমাত্র এটা শুনতে শুরু করেছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ মেহেদী হাসান&nbsp;</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/future-gaza-four-paths-but-one-destination/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16375</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ট্রাম্পের পরিকল্পনা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের অধিকার কেড়ে নিয়ে দখলদারিত্ব বজায় রাখা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/trumps-plan-is-to-maintain-the-ocupation-by-taking-away-palestinians-rights/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/trumps-plan-is-to-maintain-the-ocupation-by-taking-away-palestinians-rights/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. সামি আল-আরিয়ান]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 02 Oct 2025 06:33:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16534</guid>

					<description><![CDATA[[গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের জন্য ট্রাম্পের &#8220;Day After&#8221; পরিকল্পনার পর্যালোচনা ও এই কুটিল পরিকল্পনার আসল উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধে] হামাস কিংবা তথাকথিত কর্তৃপক্ষ – কেউই অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার রাখে না। এই কুটিল পরিকল্পনা (Day]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;">[গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যতের জন্য ট্রাম্পের &#8220;Day After&#8221; পরিকল্পনার পর্যালোচনা ও এই কুটিল পরিকল্পনার আসল উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়েছে এই প্রবন্ধে]</p>
<p>হামাস কিংবা তথাকথিত কর্তৃপক্ষ – কেউই অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার রাখে না। এই কুটিল পরিকল্পনা (Day After) মূলত মধুতে বিষ মেশানোর মতো।</p>
<p><strong>প্রথমত, মধু হচ্ছেঃ</strong></p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>&#8211;</strong> যুদ্ধ বন্ধ করা।<br class="html-br"><strong>&#8211;</strong> ত্রাণ বিতরণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের গাজায় প্রবেশের অনুমতি।<br class="html-br"><strong>&#8211;</strong> বন্দি বিনিময় ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্তদের মুক্তি। এছাড়া যারা দীর্ঘ সময় যাবৎ বন্দি আছে এবং যারা “আকসা ফ্লাড” (Aqsa Flood) এর পরবর্তী সময়ে বন্দি হয়েছে তাদেরও মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা।<br class="html-br"><strong>&#8211;</strong> গাজাকে পুনঃনির্মাণ ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি; যদিও এই শর্তটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কেননা এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটি আশঙ্কণীয়।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত, পরিকল্পনার অন্য সব শর্তই মূলত মারাত্মক বিষ,</strong> যার লক্ষ্য হচ্ছে যায়নবাদীরা এতদিন যা পারেনি তা রাজনৈতিক চালের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাঃ</p>
<ul>
<li>প্রতিরোধ আন্দোলনের সমাপ্তি ও সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ।</li>
<li>ইসরায়েলি সেনা পরিপূর্ণভাবে প্রত্যাহার না করেই বন্দিদের মুক্তি।</li>
<li>গাজার নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং অর্থনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ।</li>
<li>আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাপিয়ে দেওয়া।</li>
<li>গাজাকে ‘ফিলিস্তিন ইস্যু’ থেকে আলাদা করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা।</li>
<li>গাজা ইস্যুকে ইসরায়েলের সমরিক দখল, গণহত্যা অভিযান, জাতিগত নিধন, যুদ্ধাপরাধ ও চলমান আগ্রাসনের ফল হিসেবে না দেখিয়ে ইসরায়েলি সংজ্ঞায়নে “ইসরায়েলের নিরাপত্তা” ইস্যু হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা।</li>
</ul>
<p><strong>আর তৃতীয় কথা হচ্ছে,</strong> ট্রম্পের এই কুটিল পরিকল্পনার উপযুক্ত জবাব কি হতে পারে?<br class="html-br">এর উত্তর দুই দিক থেকে দেওয়া যায়ঃ</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>ক)</strong> হামাস কিংবা ইসলামিক জিহাদ মুভমেন্ট এর দিক থেকে – যাদের কাছে ইসরায়েলি বন্দিরা রয়েছে।<br class="html-br"><strong>খ)</strong> ভবিষ্যতে গাজার শাসনব্যাবস্থা, তথাকথিত “Day After” পরিকল্পনা, দখলদারিত্বের অবসান ও ইসরায়েলি অথবা আন্তর্জাতিক কোনো আধিপত্য ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কেমন হবে সেই দিক থেকে।<br class="html-br">এই সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী মানসিকতার দ্বারা তৈরীকৃত পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করা উচিত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একইভাবে, এই জবাবের আবার দুইটি দিক রয়েছেঃ<br class="html-br"><strong>১)</strong> প্রতিরোধ আন্দোলনের জন্য, তাদের বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে নিজেদের দেওয়া শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করার অধিকার আছে। এই শর্তগুলো ছিল-</p>
<p style="padding-left: 40px;">&#8211; স্থায়ীভাবে যুদ্ধ, হত্যা ও খাদ্য সংকটের অবসান।<br class="html-br">&#8211; গাজা থেকে পূর্ণ ইসরায়েলি প্রত্যাহার।<br class="html-br">&#8211; খাদ্য, ওষুধ, বাসস্থান, জ্বালানি সহায়তার অবাধ প্রবেশ।<br class="html-br">&#8211; ইসরায়েলি বন্দিদের বিনিময়ে সমস্ত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি।<br class="html-br">&#8211; গাজার পুনর্গঠন।</p>
<p>ট্রাম্পের পরিকল্পনায় এই শর্তগুলোর কয়েকটি থাকলেও, বাকিগুলো অনুপস্থিত। উদাহরণস্বরূপ, <strong>যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পুণরায় যুদ্ধ যে শুরু হবে না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। পরিপূর্ণ ইসরায়েলি প্রত্যাহার এর কথা নেই।</strong> পরিকল্পনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মুক্তির কথা বলা হয়েছে যাদের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদী সাজাপ্রাপ্ত এবং ৭ অক্টোবরের পর পশ্চিম তীর থেকে বন্দি হওয়া অনেকেই থাকবেন। <strong>এক্ষেত্রে আকসা ফ্লাডের পর গ্রেফতারকৃত সকল বন্দিরা মুক্তি পাবেন কিনা তা অনিশ্চিত।</strong> পরিকল্পনায় গাজা পুনর্গঠণের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তা হবে বিদেশী হস্তক্ষেপে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে মূলত নতুন রূপে <strong>‘ডিল অফ দ্যা সেঞ্চুরী’র (Deal of the Century)</strong> আলোচনা চলছে যার মাধ্যমে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি ও মুসলিমদের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে।</p>
<p>পরিপূর্ণভাবে যুদ্ধ বন্ধ আর সমস্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির নিশ্চয়তা ছাড়া প্রতিরোধ আন্দোলন কখনোই ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে পারে না। <strong>বন্দি বিনিময় ধাপে ধাপে সম্পন্ন করতে হবে যেন পরিপূর্ণ ইসরায়েলি প্রত্যাহার ও যুদ্ধ বন্ধ নিশ্চিত হয়। কেননা এই বন্দী বিনিময়ই হচ্ছে প্রতিরোধ আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।</strong></p>
<p><strong>২)</strong> ভবিষ্যতে গাজার কর্তৃত্ব, গাজার সাথে পশ্চিম তীরের সংযোগ স্থাপনের ব্যাপারে অস্পষ্টতা, আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিরোধ সংগ্রামের ভবিষ্যৎ সহ “Day After”- এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় – এসব কেবল হামাস বা প্রতিরোধ আন্দোলন কিংবা মিলিটারি বা রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে কেউ এককভাবে নির্ধারণ করতে পারে না। <strong>সমস্ত ফিলিস্তিনবাসীকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র তারা এই সকল বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার রাখে না, এমনকি এ অধিকার রামাল্লাহর অকার্যকর কর্তৃপক্ষেরও নেই। এই বিষয়গুলোতে প্রত্যেক ফিলিস্তিনির (ফিলিস্তিনের ভেতরের ও বাইরের) মতামত গুরুত্বপূর্ণ। </strong>ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দেওয়া, ফিলিস্তিনিদের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, তাদের মুক্তি, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা সহ যেকোনো অধিকারকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং বিদেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা বা গাজা, পশ্চিম তীর, জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সকল প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে হামাস এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে দৃঢ় থাকতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ফিলিস্তিনের ভেতরের বাইরের সমস্ত ফিলিস্তিনিদের; কেবলমাত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের নয়, যদিও কোনো কোনো বিষয়ে তাদের আপত্তি থাকে।</p>
<p>আরব দেশগুলো এবং অন্যন্য ইসলামি রাষ্ট্র এবং পৃথিবীর স্বাধীন মানুষদের ইসরায়েলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে। ইসরায়েলের ঔদ্ধত্য আর ফিলিস্তিনিদের অধিকার, স্বাধীনতা, কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়াতে আমেরিকার একতরফা সহায়তার বিরুদ্ধে মত প্রকাশে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমেরিকার ভূমিকাকে সমর্থন না করে গাজায় গণহত্যা, ও গণহত্যার নিমিত্তে চালিয়ে যাওয়া যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।</p>
<p>এরকম না হলে ফিলিস্তিনি জনগণ কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না, প্রতিরোধ আন্দোলনও পরাজয় মেনে নেবে না। আর যায়নবাদী শত্রুরা গণহত্যা চালিয়েই যাবে। <strong>তাহলে গণহত্যা কিভাবে বন্ধ হবে??</strong> শুধুমাত্র গণহত্যাকারী আর তাদের সহযোগী সমর্থকদের উপর চাপ প্রয়োগ করেই এই গণহত্যা বন্ধ করা সম্ভব; নির্যাতিতদের চাপ প্রয়োগ কিংবা তাদেরকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে নয়। আর এটি প্রত্যেকটি মানুষের একটি নৈতিক, আদর্শিক এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>উপসংহারঃ</strong><br class="html-br">এই পরিকল্পনাটি (Day After) গণহত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল যা করতে পারেনি তা রাজনৈতিকভাবে সম্পন্ন করার একটি ধূর্ত প্রচেষ্টা। হামাস, কর্তৃপক্ষ, কিংবা অন্য কোনও দলেরই ফিলিস্তিনিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই। এর সমাধান হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতার অধিকারকে সমর্থন করে আন্তার্জাতিক আইন প্রণয়ন ও আইনি বৈধতার বাস্তবায়ন করে গণহত্যা ও খাদ্য সংকটের অবসান ঘটানো। এটাই হচ্ছে এই সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে কার্যকরী রাজনৈতিক পন্থা, যা বাস্তবায়নের উপর সবার জোর দিতে হবে। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না যার মাধ্যমে দখলদারিত্ব আর আধিপত্যকে বজায় রাখা হবে, আর গণহত্যা ও জাতিগত নিধনকে বৈধতা দেওয়া হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> নাজমুস সাকিব নাঈম।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/trumps-plan-is-to-maintain-the-ocupation-by-taking-away-palestinians-rights/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16534</post-id>	</item>
		<item>
		<title>গাজা এবং মুসলিম উম্মাহ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/gazza-and-muslim-ummah/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/gazza-and-muslim-ummah/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 07 Nov 2024 10:22:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15204</guid>

					<description><![CDATA[।। বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম ।। &#160; জালিমের বিচারক এবং মজলুমের সহায়ক শক্তিশালী সেই মহান রবের নামে শুরু করছি। প্রশংসা তাঁর, যিনি সর্বদা নিত্য-নতুন কর্ম সম্পাদন করেন, যিনি মুমিনদের হৃদয়কে অবিচল রাখেন এবং অত্যাচারীদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করেন। দুরূদ ও সালাম]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;">।। বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম ।।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p style="text-align: left;">জালিমের বিচারক এবং মজলুমের সহায়ক শক্তিশালী সেই মহান রবের নামে শুরু করছি। প্রশংসা তাঁর, যিনি সর্বদা নিত্য-নতুন কর্ম সম্পাদন করেন, যিনি মুমিনদের হৃদয়কে অবিচল রাখেন এবং অত্যাচারীদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করেন। দুরূদ ও সালাম প্রেরিত হোক মানবজাতির সর্দার মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি।</p>
<p>সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিশিষ্ট দায়ীগণ এবং বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম!<br />
আপনাদেরকে ইসলামের সম্ভাষণ জানাই, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।</p>
<p>আজ এখানে আমরা একত্রিত হয়েছি বর্ণনাতীত আমাদের এই দুঃখটাকে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য। গাজায় আমার ভাইয়েরা আজ অবরুদ্ধ ও কারাবন্দি, শিশুরা আজ ক্ষতবিক্ষত এবং বোনেরা আজ নিপীড়িত ও বিতাড়িত। আমাদের নিজেদের এখন প্রশ্ন করা উচিত, আজ এখানে আমরা কোন ভাষায় কথা বলবো! যদিও বা বলি, তাহলে কোন কথাগুলো বলবো! আমরা কি পশ্চিমা অত্যাচারী রাষ্ট্রের সমালোচনাতেই ক্ষান্ত থাকবো নাকি মুসলিম ঘুমন্ত রাষ্ট্রসমূহের প্রতি চেয়ে থাকবো? নাকি আমরা চুপচাপ বসে থেকে গাজার অধিবাসীদের এমন দুর্বিষহ জীবন প্রত্যক্ষ করে যাবো?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সম্মানিত ভাইয়েরা,<br />
আজ আমি আমার অনুভূতি সুস্পষ্টরূপে তুলে ধরতে চাই। মহান রবের শপথ, দীর্ঘদিন যাবত আমি এসব ভেবে আসছি। আর এটা কোনো বিষয় না যে, একথাগুলো আমি ফিলিস্তিনের সেনাবাহিনীর সামনে বলবো নাকি গাজার অবরুদ্ধ অধিবাসীদের সামনে বলবো। এমনকি, কেয়ামতের দিনে আমার এসব কথার দায়ভার আমিই নেবো। এসব কথা যেন সেই সোনালী অতীতে ফিরে যাবার সোপান হয়।</p>
<p>আজ আমি শুধু গাজার অধিবাসীদের নিয়ে কথা বলবো না, অথবা, তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া বা তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবো না, বরং, আজ আমি সবার মাঝে একটি মেলবন্ধন তৈরি করার বিষয়টির প্রতি নজর দেবো।</p>
<p><strong>গাজার অধিবাসীদের নিকট থেকে আমি ধৈর্য এবং ইস্তিকামাতের শিক্ষা গ্রহণ করি। গাজার নিষ্পাপ শিশুদের অশ্রুর মাঝে আমি ভবিষ্যৎ খুঁজতে থাকি। গাজার মুজাহিদদের সাহসিকতায় আমি বীরত্ব ও সাহসিকতার দর্শন পাই।</strong> গাজার অধিবাসীদের ঐক্যের মাধ্যমে আমি বিশ্বভ্রাতৃত্বের আশার সঞ্চার করে থাকি। তারা আমাদেরকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সম্মান, মর্যাদা, সাহসিকতা ও বীরত্বের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায়, আজকের গাজা আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, যা আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানে পাই না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সম্মানিত উপস্থিতি,<br />
আজ আমি চারটি বার্তা প্রদান করতে চাই।</p>
<p><strong>প্রথম বার্তাটি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি,</strong><br />
সমগ্র বিশ্ববাসীর সামনে আজ পশ্চিমা সভ্যতার বাস্তবরূপ উন্মোচিত হয়েছে। তাদের দ্বিচারিতা, দখলদারিত্ব ও স্বার্থোদ্ধারের স্বভাবগুলো আজ সবার নিকট পরিচিত। পাশ্চাত্যের দখলদারী মনোভাবের কারণে পৃথিবীবাসী আজ বাকরুদ্ধ। তারা লাঞ্ছিত, আল্লাহর কসম, তারা বিতাড়িত। তাদের বর্ণিত ইতিহাসেই তারা লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত। গাজায় আজ যা হচ্ছে, তা মূলত তাদের ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি করছে তারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি ও পাশ্চাত্যের কৃত অন্যায়গুলো কারো অজানা নয়। এরপর তারা এই ভূমিকে ইহুদিদেরকে দান করে দিলো। এই ভূমির মালিক তারা নয়। এই ভূমি তাদেরকেই দেওয়া হয়েছে, যারা অত্যাচারী। পশ্চিমারাই ইহুদিদেরকে অত্যাচারী, নিষ্ঠুর এবং খুনী হতে সাহায্য করেছে। এভাবেই তারা সভ্যতার ধ্বজাধারীতে পরিণত হয়েছে।</p>
<p>এই সময়ে এটাও স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, পশ্চিমারা এখনও ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ মূল্য হিসেবে দেখে। তারা তাদের আইডিওলজির মাধ্যমে অনেককিছুর সমাপ্তি টেনেছে, আইডিওলজিক্যাল সমাপ্তি, সভ্যতার সমাপ্তি, ইতিহাসের সমাপ্তি। আর আমি বলি, প্রতিটি শিশুর কান্না, প্রতিটি নারীর সম্মান এবং প্রতিটি পুরুষের জীবনের বিনিময়ে আজকের এই সভ্যতার পরিসমাপ্তি হবে গাজার প্রতিটি পাথরের নিচে। পাশ্চাত্যকে সহযোগিতা করা প্রত্যেকের কবর রচিত হবে গাজার এই প্রাঙ্গণ থেকেই।</p>
<p>পশ্চিমা নেতারা ইজরায়েল সফরে আসে। এরপর তারা কী বলে? তারা বলে, একজন জায়োনিস্ট হওয়ার জন্য ইহুদি হওয়া কখনও শর্ত নয়। আর আমি বলি, গাজার অধিবাসীর দুর্দশা বুঝার জন্য শুধু মানুষ হওয়াই যথেষ্ট, ফিলিস্তিন বা আরব অঞ্চলের মানুষ হওয়া শর্ত নয়।</p>
<p><strong>দ্বিতীয় বার্তাটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে ইসলামী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি,</strong><br />
জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে, প্রতিটি দেশের অধিকার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা। কিন্তু বাস্তবে, তারা শুধুমাত্র শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহের স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার মাত্র। কিন্তু বাস্তবে, তারা জনগণের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অত্যাচারীদের শক্তি বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। তারা সুপরিকল্পিতভাবেই তাদের এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করেছে। তাদের কার্যক্রম গাজার কোনো উপকারে আসেনি। কোনো শিশুর জীবন বাঁচাতেও অবদান রাখেনি। কোনো নারীর অধিকার নিয়েও তারা সচেতন হয়নি। গাজার কোনো মসজিদ এবং হাসপাতাল রক্ষার ক্ষেত্রেও তারা অবদান রাখেনি।</p>
<p>অন্যদিকে, আমাদের Organisation of Islamic Cooperation (OIC) এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বায়তুল মাকদিস এবং ফিলিস্তিনকে যায়োনিজমের হাত থেকে রক্ষা করার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আজ জেদ্দার পথে-প্রান্তরেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। লোক-দেখানো প্রাতিষ্ঠানিক কিছু কার্যক্রম এবং সম্মেলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোই এখন তাদের মৌলিক কার্যক্রম বাদ দিয়ে বৃহৎ মুসলিম দেশগুলোর সমিতিতে পরিণত হয়েছে। সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি (তুরস্কের মন্ত্রীবর্গ-সহ) আমার বক্তব্য হলো, এ বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত থাকুন যে, আজকের পর থেকে গাজা শুধু তুরস্কের জন্যই নয়, বরং ফিলিস্তিন-সহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর স্ট্র্যাটেজিকে নিয়ন্ত্রণ করবে।</p>
<p><strong>আমার তৃতীয় বার্তা হলো মুসলিম উম্মাহর আলেমগণের প্রতি,</strong><br />
বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম,<br />
উসমানীয় খেলাফত ছিলো মুসলিম উম্মাহর জ্ঞানের একটি কেন্দ্র, যা আজ হারিয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে আলেমগণ মাযহাব, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক, ভৌগলিক-সহ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ যেনো, একটি আন্দোলন ছিন্নভিন্ন হওয়ার নামান্তর।</p>
<p>আলেমগণ এখন সাধারণ মুসলিমদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে অক্ষম। মুসলিম যুবসমাজের মাঝে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে অক্ষম। আবার, তাদের কেউ কেউ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। সর্বোপরি, আলেমগণ মুসলিম উম্মাহর প্রকৃত অবস্থাকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। তাহলে কীভাবে আমরা উম্মাহকে একতাবদ্ধ করবো, যেখানে আমরা নিজেরাই শতধা-বিভক্ত? তাহলে কীভাবে আমরা উম্মাহর নিকট থেকে নেতৃত্ব ও প্রতিহতের আশা করবো, যেখানে আমরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ব্যতিব্যস্ত? এমতাবস্থায়, মুসলিম উম্মাহর বিরাট এই সংকটকালে ফিলিস্তিনের জন্য সকল মতাদর্শের আলেমগণকে একত্রিত হবার বিনীত অনুরোধ করছি।</p>
<p><strong>আমার চতুর্থ বার্তা উম্মাহর যুবসম্প্রদায়ের প্রতি,</strong><br />
হে মুসলিম যুবকেরা,<br />
তোমরাই আগামীর কারিগর। ফিলিস্তিন সংকট এসময় তোমাদের সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয়। এরমাঝেই রয়েছে তোমাদের সম্মান ও মুক্তি। মৌলিক বিষয়াবলীকে পাশে রেখে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ায় তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম উম্মাহর মুক্তি আন্দোলন সফল হতে পারেনি। কিন্তু, আমি তোমাদের নিকট আশা করবো, তোমার তাদের মতো হয়ো না। তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে সঠিকভাবে পালন করো।</p>
<p>পরিশেষে, স্মরণ করতে চাই গাজার সাহসী অধিবাসীদের।<br />
আপনার ধৈর্য ধরুন, অবিচল থাকুন, একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। এটা ভুলবেন না, মহান রব সর্বদা আপনাদের সাথেই রয়েছে, তিনি কখনও আপনাদেরকে ছেড়ে যাবেন না। আপনারা এখন মর্যাদার আসনে সমাসীন। আপনারাই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি। আপনাদের ব্যাপারেই রাসূল (সা.) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় একঘণ্টা অবস্থান করা লায়লাতুল কদরে হাজরে আসওয়াদে সালাত আদায়ের চেয়েও উত্তম।</p>
<p>আপনারাই <strong>অগ্রগামী</strong>, যারা আপনাদের বাধা প্রদান করে তারাই নিকৃষ্ট।<br />
আপনারাই <strong>সম্মানিত</strong>, যারা আপনাদের নিয়ে কথা বলে তারাই লাঞ্ছিত।<br />
আপনারাই <strong>সত্যবাদী</strong>, যারা আপনাদের ছেড়ে গিয়েছে তারাই মিথ্যাবাদী।<br />
আপনারাই বরং প্রকৃত শক্তির অধিকারী এবং রুকু-সেজদা আদায়কারী।<br />
কেউ আপনাদের পেছন থেকে ক্ষতিসাধন করতে পারবে না, লাঞ্ছিতও করতে পারবে না।<br />
আপনারাই <strong>আল্লাহর প্রকৃত সৈনিক</strong>, যারাই আপনাদের পেছন থেকে ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তারাই শয়তানের দোসর।</p>
<p>হে ইসলামের মাতৃকুল, হে গাজার নারী, হে বীরের জন্মদাত্রী, হে প্রজন্মের বয়োবৃদ্ধা!<br />
তোমাদের বীরত্বের সামনে আমরা তুচ্ছ। তোমাদের প্রচেষ্টা এবং অবিচলতার সামনে আমরা পরাজিত। একজন মা সাধারণত একবার জান্নাত লাভ করে থাকেন। কিন্তু আপনারা তিনবার জান্নাত লাভ করে থাকেন। প্রথমবার সন্তান জন্মদান করে, দ্বিতীয়বার তাদেরকে লালনপালন করে, তৃতীয়বার দ্বিধাহীন চিত্তে তাদেরকে শাহাদাতের পথে উৎসর্গ করে।</p>
<p>হে গাজার দুঃসাহসী বালকেরা!<br />
জন্মলগ্ন থেকেই তোমরা মহান, বন্দী থেকেও তোমরা স্বাধীন। নৃশংস শত্রুরা তোমাদের পেছনেই পড়ে রয়েছে। কারণ, মুসলিম উম্মাহর আগামীর কারিগর তোমরা বালকরাই।</p>
<blockquote><p>হে মুসলিম উম্মাহ!<br />
তোমাদের ভাইয়েরা তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তোমাদের আশায় বসে রয়েছে, তোমাদের সহযোগিতা কামনা করে।<br />
আমাদের বক্তব্যগুলো কি গাজার শিশুদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে?<br />
আমাদের নিরর্থক মন্তব্যগুলো কী গাজার নারীদের রক্ষা করবে?<br />
আমাদের নির্লজ্জ বাণীগুলো কি আমাদের ব্যর্থতাকে আড়াল করবে?<br />
অথবা, গাজার মুজাহিদদের কি সহযোগিতা করবে?</p></blockquote>
<p>গাজার অধিবাসীরা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। তারা শুধু আমাদের নিকট থেকে সহযোগিতাটাই কামনা করে। বাস্তবতা হলো, দুর্বিষহ এই সময়ে যদি আমরা এক হতে না পারি, তাহলে আর কখনও আমরা এক হতে পারবো না। ফিলিস্তিনিরা, বিশেষ করে গাজার অধিবাসীরা আজ কঠিন এক মুহূর্ত অতিক্রম করছে। <strong>এসময়েই হয় আমরা তাদের সহযোগী হবো নতুবা আমরা বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হবো। এর বাইরে আর কোনো পথ উন্মুক্ত নেই।</strong></p>
<p>মহান রবের নিকট কামনা করি,<br />
একে অপরের মাধ্যমে তিনি যেন আমাদেরকে শক্তিশালী করে তোলেন। আমাদেরকে একে অপরের সহযোগী করে গড়ে তোলেন। আমাদেরকে একে অপরের নিরাপত্তার স্থল হওয়ার সুযোগ প্রদান করেন। গাজার মুজাহিদ এবং বীরসেনানীদের সাহায্য করার তৌফিক দান করেন। তিনি যেন গাজার শিশু, নারী, অধিবাসী এবং তাদের স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করেন। সর্বোপরি, মাসজিদুল আকসার প্রাঙ্গণে বিজয়ের দুরাকাত সালাত আদায়কে তিনি যেন আমাদের জন্য আবশ্যক করে রাখেন।</p>
<p>দুরূদ ও সালাম প্রেরিত হোক রাসূল সা., তাঁর সাহাবী এবং তার পরিবারবর্গের উপর। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/miftahur_rahman/">মিফতাহুর রহমান</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/gazza-and-muslim-ummah/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15204</post-id>	</item>
		<item>
		<title>গ্রানাডা, গাজা ও মুসলিম উম্মাহ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/granada-gaza-and-muslim-ummah/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/granada-gaza-and-muslim-ummah/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Jan 2024 15:57:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13077</guid>

					<description><![CDATA[১৪৯২ সালে আন্দালুসিয়ার সর্বশেষ দুর্গ গ্রানাডার পতনের প্রাক্কালে সেখানের মুসলমানগণ তাঁদের সাহায্যের জন্য উসমানী সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের নিকটে সহায়তা কামনা করে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। আজকে আমি আমার আলোচনাকে সেই চিঠির হৃদয়বিদারক কিছু লাইন দিয়ে শুরু করতে চাই। আমি এটাকে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>১৪৯২ সালে আন্দালুসিয়ার সর্বশেষ দুর্গ গ্রানাডার পতনের প্রাক্কালে সেখানের মুসলমানগণ তাঁদের সাহায্যের জন্য উসমানী সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের নিকটে সহায়তা কামনা করে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। আজকে আমি আমার আলোচনাকে সেই চিঠির হৃদয়বিদারক কিছু লাইন দিয়ে শুরু করতে চাই। আমি এটাকে কবিতা নয় বরং মার্সিয়া হিসেবে অভিহিত করতে চাই। <strong>&nbsp;</strong></p>
<ul>
<li>سلام عليكم مِن عبيد تخلّفوا بأندلس بالغرب في أرض غُربة</li>
</ul>
<p><em>পশ্চিমে</em><em>, </em><em>আন্দালুসিয়ার</em> <em>অপরিচিত</em> <em>ভূমিতে</em> <em>বসবাসকারী</em> <em>বান্দাদের</em> <em>পক্ষ</em> <em>থেকে</em> <em>আপনাকে</em> <em>সালাম</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>سلام عليكم مِن عبيد أصابهم مصاب عظيم يا لها من مصيبة</li>
</ul>
<p><em>ভয়াবহ</em> <em>এক</em> <em>বিপদ</em> <em>ও</em> <em>মুসিবতে</em> <em>নিপতিত</em> <em>বান্দাদের</em> <em>পক্ষ</em> <em>থেকে</em> <em>আপনাদের</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>سلام عليكم من شيوخ تمزّقت شيوبهم بالنتف من بعد عِزّة</li>
</ul>
<p><em>সম্মানজনক</em> <em>একটি</em> <em>জীবন</em> <em>যাপনের</em> <em>পর</em> <em>পাকা</em> <em>চুলের</em> <em>মাধ্যমে</em> <em>সজ্জিত</em> <em>বৃদ্ধদের</em> <em>পক্ষ</em> <em>থেকে</em> <em>আপনাদের</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>سلام عليكم من وجوه تكشّفت على جملة الأعلاج من بعد سترة</li>
</ul>
<p><em>সেই</em> <em>সকল</em> <em>পর্দানশীল যুবতী মেয়েদের পক্ষ থেকে সালাম</em><em> , </em><em>জোর করে যাদের হিজাবকে খুলে ফেলা হয়েছে</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>سلام عليكم مِن بنات عواتق يسوقهم اللباط قهرا لخلوة</li>
</ul>
<p><em>সেই</em> <em>সকল</em> <em>মুক্ত</em> <em>ও</em> <em>স্বাধীন</em> <em>মেয়েদের</em> <em>পক্ষ</em> <em>থেকে</em> <em>সালাম</em><em>&nbsp; </em><em>জানাই</em> <em>সন্যাসীরা</em> <em>যাদেরকে</em> <em>দিয়ে</em> <em>জোর</em> <em>করে</em> <em>তাঁদের</em> <em>যৌন</em> <em>লালসাকে</em> <em>পূর্ণ</em> <em>করতে</em> <em>চেয়েছে</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>سلام عليكم من عجائز أكرهت على أكل خنزير ولحم جيفة</li>
</ul>
<p><em>সেই</em> <em>সকল</em> <em>বৃদ্ধ</em> <em>নারীদের</em> <em>পক্ষ</em> <em>থেকে</em> <em>আপনাদেরকে</em> <em>সালাম</em> <em>জানাই</em> <em>যাদেরকে</em> <em>শুকর</em> <em>ও</em> <em>মরা</em> <em>লাশের</em> <em>গোশত</em> <em>খেতে</em> <em>বাধ্য</em> <em>করা</em> <em>হয়েছে</em><em>।</em></p>
<p>ঐতিহাসিক মাক্কারী রচিত <strong><em>আযহারুর</em> <em>রিয়াদ</em> <em>ফি</em> <em>আখবারি</em> <em>ইয়ায</em></strong> নামক গ্রন্থে এই ১০০ লাইনের এই মার্সিয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দালুসিয়ার মুসলমানগণ ক্রুসেডার দ্বারা কিভাবে নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে তা এই মার্সিয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। নির্মমভাবে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের অবস্থাকে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদেরকে ধর্মান্তর করে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করার জন্য কিভাবে চাপ দেওয়া হয়েছে সেই চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সবশেষে ক্রুসেডারদের নির্যাতন থেকে মুক্তির জন্য কালক্ষেপণ না করে উসমানীদেরকে এগিয়ে আসতে বলা হয়।</p>
<p>মার্সিয়াতে উল্লেখিত অবরোধ ও বর্বরতা সময়ের ব্যবধানে আজ আমাদের গাজা ও ফিলিস্তিনে বসবাসকারী ভাই বোনের উপর যেন পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ঐ সময়ের উত্তর আফ্রিকার মুসলিম দেশসমূহ এবং ততকালীন সময়ের শক্তিশালী দুই সালতানাত মামলুকি ও উসমানীরা কেন তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারলো না এই বিষয় নিয়ে আজও যেমন আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে একইভাবে আজকের মুসলিম দেশসমূহ কেন গাজার নারী ও শিশুদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না এই বিষয় নিয়ে ইতিহাস আমাদেরকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।</p>
<p>ইতিহাস আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে দুইশত কোটি মুসলমানের চোখের সামনে এত বড় একটি গণহত্যা কিভাবে পরিচালিত হতে পারে? এত বড় বড় মুসলিম রাষ্ট্র থাকতে নিষ্পাপ শিশু ও অসহায় নারীদের জন্য সাহায্য পাঠাতেও কিভাবে ব্যর্থ হল !<br />
<a href=" https://rkmri.co/5eomTMRAoSlM/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src=" https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Sunnat-O-hadis-01.jpg" height="133"></a></p>
<p>আমরা আমাদের আজকের এই আলোচনায় আন্দালুসিয়ায় ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও গাজার গণহত্যার ক্ষেত্রে আমাদের নির্লিপ্ততা ও ব্যর্থতাকে এক সাথে তুলে ধরার চেষ্টা করব।</p>
<p><em><strong>প্রথমত, ঐ সময়ের মুসলিম উম্মাহ আন্দালুসিয়ার গ্রানাডাবাসীকে উদ্ধার করার জন্য কেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেনি?</strong></em></p>
<p><em><strong>দ্বিতীয়ত, আর মুসলিম উম্মাহ কেন গাজাবাসীর আহবানে সাড়া দিতে পারছে না?</strong></em></p>
<p>এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে আন্দালুসিয়া নিয়ে আমি কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই।</p>
<p>***</p>
<p>আন্দালুসিয়া ……… কিংবা আমাদের হৃদয়ে স্থানলাভকারী নাম,&nbsp; ‘আমাদের হারিয়ে যাওয়া জান্নাত’ …… ঐ সময়ে শুধুমাত্র ইসলাম কিংবা মুসলমানদের-ই নয়&nbsp; সমগ্র মানবতার গৌরব হিসেবে বিবেচিত হওয়া আমাদের প্রাচীন এক সভ্যতার নাম। এটি এমন এক গৌরবময় সভ্যতার নাম যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ ইবেরিয়ান উপদ্বীপে, তুলেইটুলা, কর্ডভা ও ইশবিলিয়াতে একসঙ্গে মিলে মিশে বসবাস করেছে। শুধু তাই নয়, এক সাথে বসবাস করার আখলাক ও আইনের এমন এক দৃষ্টান্তকে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছিল যা সমগ্র মানবতার জন্য এক গৌরবউজ্জ্বল ইতিহাস তৈরি করেছে।</p>
<p>এই অঞ্চল&nbsp; আলেমগণ ও তাঁদের শিক্ষার্থীদের দ্বারা, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের দ্বারা এবং&nbsp; দার্শনিক ও লেখকদের দ্বারা এমনভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল যে, যেন এটি ছিল মানব আকল ও হিকমতের এক অনুপম নমুনা। এটি ছিল এমন এক সভ্যতা যা, পূর্ব ও পশ্চিমকে একত্রিতকারী, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপকে এক মোহনায় মিলিতকারী অনুপম এক সেতুবন্ধনের নাম।</p>
<p><strong>এই সভ্যতায় &nbsp;দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্থাপনা মানুষের সাথে মিলে এমন এক সভ্যতার নজীর তৈরি করেছিল যা ছিল মানবতার জন্য আধ্যাত্মিক ও জাগতিক এক সম্মিলন স্থল।</strong></p>
<p><strong>দ্বীনে মুবিন ইসলাম, আদালত ও মারহামাত এবং জ্ঞান ও হিকমত একটি অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হলে মানবতাকে কি দিতে পারে তাঁর একটি নমুনায়ে ইমতিছাল (অনুপম উপমা) হল আন্দালুসিয়া। এই আন্দালুসিয়া হল, আমাদের ইসলামী সভ্যতার সারাংশ ও আমাদের গৌরব।</strong></p>
<p>কিন্তু আমাদের এই গৌরব, আমাদের হারিয়ে যাওয়া জান্নাত ব্যক্তিগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক অভিলাষের কারণে সৃষ্ট হওয়া তাফরিকা (অনৈক্য) –র ফলে ২২ টি ছোট ছোট রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এত ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়েই ক্ষান্ত হয়নি, এই রাষ্ট্রসমূহ একে অপরের সাথে যুদ্ধেও জড়িয়ে পরে এবং এই সকল রাষ্ট্রের শাসকরা একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।&nbsp; মূলুকে তাওয়ায়িফ নামে অভিহিত হওয়া এই সময়ে উত্তরের খ্রিষ্টান রাষ্ট্রসমূহ মুসলমানদের মধ্যকার এই অনৈক্য ও বিভাজনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চল থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার সুযোগ পায়।</p>
<p>ইউরোপের ইতিহাসে Reconquista&nbsp; নামে পরিচিতি পাওয়া অর্থাৎ আন্দালুসিয়াকে মুসলমানদের হাত থেকে পুনরোদ্ধারের একটি নতুন সময় শুরু হয়। এই ভাবে খ্রিষ্টান রাজারা আন্দলুসিয়ার শহর সমূহকে একের পর এক দখল করে নেয় এবং সকল মুসলমানকে গ্রানাডায় অবস্থান নিতে বাধ্য করে। সবশেষে তারা গ্রানাডায় আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলমানদেরকে অবরোধ করে, আজকে&nbsp; যায়নবাদীরা যেমনিভাবে ফিলিস্তিনের মুসলমানদেরকে গাজায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে।</p>
<p>ক্যাস্টিলিয়া ও আরাগণ রাজ্যের একীভূত করণ এবং উসমানীগণ কর্তৃক ইস্তানবুল বিজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে ইউরোপ থেকে মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করার ব্যাপারে পোপের আপোষহীন ও কঠোর মনোভাব এই যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই অবরোধের ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে&nbsp; মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে গ্রানাডার পতন ঘটে এবং আন্দালুসিয়ার সর্বশেষ দুর্গ এই ভাবে ইতিহাসে তাঁর জায়গা করে নেয়।</p>
<p>মূলত গ্রানাডাবাসীও গাজাবাসীর ন্যায় এক কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলে। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তারা সেখানে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। স্পেনিশরা গ্রানাডাবাসীকে সামরিকভাবে পরাজিত করতে না পেরে কখনো কখনো আপোষের পথ বেঁছে নেয়, আবার কখনোওবা তাঁদেরকে চুক্তির মাধ্যমে প্রতারিত করার চেষ্টা করে। স্পেনিশরা তাদেরকে ওয়াদা&nbsp; দেয় যে, মুসলমানদের শাসনামলে অন্য ধর্মের মানুষরা যে সকল স্বাধীনতা ভোগ করেছিল তাঁদেরকেও সেই একই স্বাধীনতা দেওয়া হবে। তারা নিশ্চয়তা দেয় যে, যদি মুসলমানরা আত্মসমর্পণ করে তাহলে তারা তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করার পাশাপাশি&nbsp; স্বাধীন চিন্তা ও বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। স্পেনিশরা আরও ওয়াদা দেয় যে, তারা তাঁদের মসজিদ ও গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থাপনাকে স্পর্শও করবে না। আর যারা চলে যেতে চায় তাঁরা তাঁদের ধনসম্পদ নিয়ে গ্রানাডা থেকে নিরাপদে চলে যেতে পারবে। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে গ্রানাডায় প্রবেশ করার পর তারা তাঁদের দেওয়া ওয়াদাকে ভঙ্গ করে। এবং তারা চুক্তির সকল&nbsp; ধারাকে লঙ্গন করে মুসলমানদেরকে যে কোন তিনটির একটিকে বেঁছে নিতে বলা হয়। সেগুলো হল, ১। মৃত্যু বরণ করা, ২। খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করা, ৩। খালি হাতে নির্বাসনে চলে যাওয়া।</p>
<p>গ্রানাডাবাসী তাঁদের এই ট্রাজেডিকে উসমানী সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের নিকটে পাঠনো&nbsp; চিঠিতে এই ভাবে তুলে ধরেঃ</p>
<ul>
<li>وقلّتْ لنا الأقواتُ واشتدت حالنا أطعناهم بالكره خوف الفضيحة</li>
</ul>
<p><em>আমাদের</em> <em>সকল</em> <em>খাবার</em> <em>শেষ</em> <em>হয়ে</em> <em>গেছে</em><em>, </em><em>আমরা</em> <em>খুব</em> <em>কঠিন</em> <em>অবস্থায়</em> <em>রয়েছি</em><em>।</em> <em>নির্যাতনের</em> <em>ভয়ে</em> <em>তাদের</em> <em>আনুগত্যকে</em> <em>মেনে</em> <em>নিতে</em> <em>বাধ্য</em> <em>হয়েছি</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>وخوفا على أبنائنا وبناتنا مِن أن يؤسروا أو يقتلوا شرّ قتلة</li>
</ul>
<p><em>আমাদের</em> <em>যুবক</em><em>&#8211;</em><em>যুবতীদেরকে</em> <em>ক্রীতদাস</em> <em>বানানো</em> <em>হবে</em> <em>আর</em> <em>না</em> <em>হয়</em> <em>নিকৃষ্টভাবে</em> <em>হত্যা</em> <em>করা</em> <em>হবে</em> <em>এই</em> <em>ভয়ে</em> <em>আমরা</em> <em>আত্মসমর্পণ</em> <em>করেছি</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>فقال لنا سلطانهم وكبيرهم لكم ما شرطتم كاملاً بالزيادة</li>
</ul>
<p><em>তাদের</em> <em>শাসকগণ</em> <em>ও</em> <em>নেতৃস্থানীয়রা</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>ওয়াদা</em> <em>দিয়েছিল</em> <em>যে</em><em>, “ </em><em>তোমাদেরকে</em> <em>যে</em> <em>ওয়াদা</em> <em>দেওয়া</em> <em>হয়েছে</em> <em>সেটা</em> <em>এবং</em> <em>তাঁর</em> <em>চেয়েও</em> <em>বেশী</em> <em>রক্ষা</em> <em>করা</em> <em>হবে</em><em>”</em><em>।</em><em>&nbsp; </em></p>
<ul>
<li>وأبدى لنا كتيبا بعهد وموثق وقال لنا هذا أماني وذمتي</li>
</ul>
<p><em>“</em><em>এই</em> <em>হল</em> <em>তোমাদেরকে</em> <em>দেওয়া</em> <em>আমাদের</em> <em>ওয়াদা</em> <em>ও</em> <em>প্রতিশ্রুতি</em><em>” </em><em>এই</em> <em>কথা</em><em>&nbsp; </em><em>বলে</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>চুক্তিনামা</em> <em>দেখানো</em> <em>হয়</em></p>
<ul>
<li>فلمّا دخلنا تحت عقد ذمامهم بدا غدرهم فينا بالنقض العزيمة</li>
</ul>
<p><em>আর</em> <em>আমরা</em> <em>যখনি</em> <em>তাদের</em> <em>অধীনে</em> <em>এসেছি</em> <em>তখন</em><em>&#8211;</em><em>ই</em> <em>তারা</em> <em>তাদের</em> <em>ওয়াদাকে</em> <em>ভুলে</em> <em>গিয়েছে</em> <em>এবং</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>ফিরিয়ে</em> <em>দিয়েছে</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>وخان عهودا كان قد غرّنا بها ونُصرنا بِعنف وسطوة</li>
</ul>
<p><em>আমাদেরকে</em> <em>যে</em> <em>চুক্তির</em>&nbsp;<em>নামে</em> <em>প্রতারিত</em> <em>করেছে</em>&nbsp;<em>সেটাকে</em> <em>ভঙ্গ</em> <em>করেছে</em> <em>এবং</em> <em>শক্তি</em> <em>ব্যবহার</em> <em>করে</em> <em>জোর</em> <em>করে</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>খ্রিষ্টান</em> <em>বানিয়েছে</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>غدرنا ونُصرنا وبُدّل ديننا ظلمًا وعُوملنا بكلّ قبيحة</li>
</ul>
<p><em>আমরা</em> <em>প্রতারিত</em> <em>হয়েছি</em><em>, </em><em>পরাজিত</em> <em>হয়েছি</em><em>, </em><em>আমাদের</em> <em>দ্বীনকে</em> <em>হারিয়েছি</em> <em>এবং</em> <em>সকল</em> <em>প্রকার</em> <em>খারাপ</em> <em>আচরণের</em> <em>শিকার</em> <em>হয়েছি</em><em>।</em></p>
<p>***</p>
<p>মার্সিয়া বা চিঠি থেকে জানা যায় যে, গ্রানাডাবাসী শুধুমাত্র গণহত্যা, ধ্বংসলীলা ও নিপীড়নের শিকার-ই হয়নি। একই সাথে দীর্ঘ আটশত বছর ধরে সমগ্র মানবতাকে আলোকিতকারী একটি সভ্যতাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। লাইব্রেরী তো দূরে থাক একটি বইকেও তাঁরা রাখে নাই। হা ভুল শুনেন নাই সকল বইকেই তারা পুড়িয়ে দেয়।</p>
<p><strong>গ্রানাডাবাসী</strong> <strong>উসমানী</strong> <strong>সুলতানের</strong> <strong>নিকট</strong> <strong>তাঁদের</strong> <strong>অনুযোগকে</strong> <strong>এইভাবে</strong> <strong>তুলে</strong> <strong>ধরে</strong><strong>,</strong></p>
<ul>
<li>وأحرق ما كانت لنا من مصاح ف وخلّطها بالزبل أو بالنجاسة</li>
</ul>
<p><em>আমাদের</em> <em>হাতে</em> <em>যত</em> <em>কোরআন</em> <em>শরীফ</em> <em>ছিল</em> <em>সকল</em> <em>মুসহাফকে</em> <em>পুড়িয়ে</em> <em>ফেলে</em> <em>এবং</em> <em>সেগুলোর</em> <em>মধ্যে</em> <em>নাজাসাতের</em> <em>মিশ্রন</em> <em>ঘটায়</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>وكلّ كتاب كان في أمر ديننا ففي النار ألقوه بِهُزء وحقرة</li>
</ul>
<p><em>দ্বীন</em> <em>সম্পর্কে</em> <em>আমাদের</em> <em>যত</em> <em>বই</em> <em>পুস্তক</em> <em>ছিল</em> <em>সেগুলো</em> <em>নিয়ে</em> <em>উপহাস</em> <em>করে</em> <em>সকল</em> <em>বইকে</em> <em>পুড়িয়ে</em> <em>ফেলে</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>ولم يتركوا فيها كتابا لمسلم ولا مصحفاً يخلى به للقراءة</li>
</ul>
<p><em>কোন</em> <em>মুসলমানদের</em> <em>নিকটে</em> <em>একটি</em> <em>বইকে</em> <em>পর্যন্ত</em> <em>রাখার</em> <em>সুযোগ</em> <em>দেয়নি</em><em>, </em><em>একজন</em> <em>মুসলমান</em> <em>একাকী</em> <em>থাকা</em> <em>অবস্থায়</em> <em>পড়ার</em> <em>মত</em> <em>একটি</em> <em>মুসহাফও</em> <em>তাঁরা</em> <em>রাখেনি</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>ومن صام أو صلى ويُعلم حاله ففي النار يلقوه على كل حالة</li>
</ul>
<p><em>যদি</em> <em>জানতে</em> <em>পারতো</em> <em>যে</em> <em>কেউ</em> <em>নামাজ</em> <em>পড়েছে</em> <em>কিংবা</em> <em>রোজা</em> <em>রেখে</em> ছে<em>তাদের</em> <em>সবাইকে</em> <em>পুড়িয়ে</em> <em>ফেলেছে</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>ومن لم يجيء مِنّا لموضع كفرهم يعاقبه اللباط شر العقوبة</li>
</ul>
<p><em>যারাই</em> <em>তাঁদের</em> <em>কুফরীর</em> <em>উপসনালয়ে</em> <em>আসতে</em> <em>অস্বীকার</em> <em>করেছে</em> <em>তাদেরকেই</em> <em>তাঁরা</em> <em>পোপের</em> <em>ফতওয়ার</em> <em>মাধ্যমে</em> <em>শাস্তি</em> <em>প্রদান</em> <em>করেছে</em><em>।</em></p>
<p>এরকম একটি যুলুম ও ধ্বংসলীলার মধ্যে বসবাসকারী আন্দালুসিয়ার মুসলমানগণ উম্মতের মুসলিম ভাইদের নিকট থেকে সাহায্যের প্রত্যাশী ছিল। হা, আজকে যেমন গাজার মুসলমান ভাইয়েরা অবরুদ্ধ অবস্থায় প্রতি মুহূর্তে সিনা উপত্যকা ও ভুমধ্য সাগরের দিকে তাকিয়ে অসহায় পলকে তাঁদের মুসলমান ভাইদের নিকট থেকে সাহয্যের অপেক্ষা করছে, যারা তাঁদেরকে যায়নবাদীদের জুলুম থেকে উদ্ধার করবে। অনুরূপভাবে সেই সময়ের গ্রানাডাবাসীও ভুমধ্য সাগর ও জিব্রালটার প্রণালীর দিকে ছাতক পাখির মত তাকিয়ে ছিল।</p>
<p><strong>আন্দালুসিয়ার মুসলমানগণ সেই সময়ে তিন অঞ্চলে তিনটি প্রতিনিধি দল ও তিনটি বার্তার মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল।</strong></p>
<p><strong>প্রথম</strong> <strong>প্রতিনিধি</strong> <strong>দল</strong><strong>,</strong> হাফসি ও মারিনিগণের অধ্যুষিত অঞ্চল মরক্কো, তিউনিসিয়া, এবং উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশে।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়</strong> <strong>প্রতিনিধি</strong> <strong>দল</strong><strong>,</strong> মিশর, শাম ও হারামাইন অঞ্চলকে নিয়ন্ত্রণকারী মামলুকিদের নিকটে।</p>
<p><strong>তৃতীয়</strong> <strong>প্রতিনিধি</strong> <strong>দল</strong> <strong>গিয়েছিল</strong><strong>,</strong> আনাতোলিয়া ও পূর্ব রোমেলিয়াকে নিয়ন্ত্রণকারী উসমানী সালতানাতের নিকটে।</p>
<p>এখন আমরা আমাদের আসল সমস্যার প্রথমটিতে আসলাম। <em>এ<strong>ই</strong></em><strong> <em>তিনটি</em> <em>বড়</em> <em>বড়</em> <em>সালতানাত</em> <em>গ্রানাডার</em> <em>মুসলমানদেরকে</em> <em>কেন</em> <em>সাহায্য</em> <em>করতে</em> <em>পারেনি</em><em>? </em></strong>&nbsp;ঐ সময়ে আরও একটি বড় শক্তি ছিল। সেটা ছিল সাফাভী রাষ্ট্র, বর্তমান সময়ে ইরান&nbsp; যে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এদের কেহ-ই গ্রানাডাবাসীর আহবানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসতে পারেনি! এর কারণ কি ছিল?</p>
<p><strong>প্রথমত</strong>, ঐ সময়ে উত্তর আফ্রিকার দেশ সমূহে মুসলমান গোত্র সমূহের মধ্যে অনেক বেশী প্রতিযোগীতা ও শত্রুতা বিরাজ করছিল এবং নিজেদেরকে মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। শুধু তাই নয় একে অপরের বিরুদ্ধে স্পেন ও পর্তুগীজের খ্রিষ্টান শাসকদের সাথে লিয়াজু রক্ষা করে চলত এবং তাঁদের প্রতিপক্ষদেরকে নির্মূল করার জন্য জোট করত।</p>
<p>গ্রানাডাবাসীগণ তাদের নিকট সাহায্য চাইলে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করার মত কাউকে খুঁজে পায়নি এবং তাঁরা তাদের আচরণে হতাশ হয়ে পড়ে। আজকের গাজাবাসীরা যেমন তাঁদের প্রতিবেশীদের আচরণে হতাশ। এখানে থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যাদের কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছিল তারা তাঁদের আখলাকী ও রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছিল।<br />
<a href=" https://rkmri.co/3yyeyyNMEATM/"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src=" https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Zubo-jiggasa-01.jpg" height="133"></a></p>
<p><strong>দ্বিতীয়</strong> <strong>প্রতিনিধি</strong> <strong>দল</strong> <strong>গিয়েছিল</strong> <strong>মামলুকিদের</strong> <strong>নিকটে</strong><strong>।</strong> আন্দালুসবাসীর সাহায্যের আবেদন মামলুকিদের নিকটে পৌঁছে। মামলুকিরা গ্রানাডার পতনের মাত্র কয়েক বছর পূর্বে ১৪৮৮ সালে উসমানীদের শাসনাধিন আদানা শহরকে অবরোধ করে রেখেছিল। অর্থাৎ তারা বিশ্বাস করত যে আগে উসমানীদেরকে পরাজিত করা প্রয়োজন। এই জন্য তারা গ্রানাডায় যাওয়ার পরিবর্তে আরও দূরে অবস্থিত মুসলিম শাসনাধিন একটি শহরকে অবরোধ করার জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করে! মামলুকিরা গ্রানাডাবাসীকে সরাসরি সহায়তা করতে ব্যর্থ হয়। কিছু কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে পোপকে হুমকি দিয়েই নিজেদের দায়িত্ত্ব শেষ করে। পোপকে উদ্দেশ্য করে বার্তা পাঠায় যে, <strong><em>গ্রানাডায়</em></strong> <strong><em>মুসলমানদের</em></strong> <strong><em>উপর</em></strong> <strong><em>এই</em></strong> <strong><em>জুলুম</em></strong> <strong><em>ও</em></strong> <strong><em>নির্যাতন</em></strong> <strong><em>অব্যাহত</em></strong> <strong><em>থাকলে</em></strong> <strong><em>আমরা</em></strong> <strong><em>মামলুকী</em></strong> <strong><em>রাষ্ট্র</em></strong> <strong><em>হিসেবে</em></strong> <strong><em>মিশর</em></strong> <strong><em>ও</em></strong> <strong><em>লেভান্টে</em></strong> <strong><em>অবস্থানরত</em></strong> <strong><em>সকল</em></strong> <strong><em>খ্রিষ্টানকে</em></strong> <strong><em>হত্যা</em></strong> <strong><em>করব</em></strong><strong><em>।</em></strong> কিন্তু তাঁদের এই হুমকি হালে পানি পায়নি। কেননা ঐ সময়ে পোপের আশেপাশে যারা ছিল তারা পোপকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, মুসলমানগণ এটা করতে পারবে না। কেননা তাদের যুদ্ধের আখলাকে বেসামরিক মানুষ ও নিরপরাধ নারী, শিশু ও বৃদ্ধদেরকে হত্যা করার কোন বিধান নেই। এই জন্য তারা এই কাজ কখনো করতে পারবে না। এই ভাবে তারা পোপের শঙ্কাকে দূরীভূত করতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয় এর জবাব হিসেবে তারা মামলুকি সুলতানের নিকট মিথ্যা বার্তা পাঠিয়ে বলে যে, গ্রানাডার মুসলমানরা স্বেচ্ছায় খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছে। এতেও তারা ক্ষান্ত হয়নি, মুসলমানগণ কেন মামলুকিদের নিকটে সাহায্য চেয়ে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে এই অপরাধে তাঁদের উপর জুলুম ও নির্যাতনকে আরও বাড়িয়ে দেয়।</p>
<p><strong>তৃতীয় প্রতিনিধি দল যায় উসমানী রাষ্ট্রের নিকটে।</strong> আন্দলুসিয়ার মুসলমানগণ উসমানী রাষ্ট্রের কাছে বিভিন্ন ধরণের সহায়তা চেয়ে আবেদন পাঠায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল, আমি আমার আলোচনাটি যে মার্সিয়ার মাধ্যমে শুরু করেছি সেই মার্সিয়াটি। উক্ত মার্সিয়াটি সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদকে সালাম প্রদানকারী কিছু পংতিমালার দ্বারা শুরু হয়েছে। গ্রানাডাবাসীগণ উসমানীদের ইস্তানবুল বিজয়সহ বিভিন্ন বিজয়গাথা ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে উসমানী রাষ্ট্রের সুলতান, আলেম উলামা, বিচারক ও প্রশাসকদেরকে গ্রানাডাবাসীর পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।</p>
<p>আমি তাদের আহ্বানকে হুবুহু আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই,</p>
<ul>
<li>سلام كريم دائم متجدّد أخصّ به مولاي خير خليفة</li>
</ul>
<p><em>খলিফাদের</em> <em>মধ্যকার</em> <em>শ্রেষ্ঠ</em> <em>খলিফার</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>سلام على مولاي ذي المجد والعلا ومَن ألبس الكفّار ثوبَ المذلّة</li>
</ul>
<p><em>কাফেরদেরকে</em> <em>লাঞ্ছিত</em> <em>ও</em> <em>পরাজিতকারি</em> <em>দৃঢ়তার</em> <em>অধিকারীর</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>سلام على مولاي مَن دار ملكه قسنطينة أكرم بها من مدينة</li>
</ul>
<p><em>সালতানাতের</em> <em>রাজধানী</em> <em>ইস্তানবুলের</em> <em>অধিপতির</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>سلام على القاضي ومَن كان مِثلَه من العلماء الأكرمين الأجِلّة</li>
</ul>
<p><em>শায়খুল</em> <em>ইসলাম</em> <em>ও</em> <em>তাঁর</em> <em>মত</em> <em>বড়</em> <em>বড়</em> <em>আলেমদের</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>سلام على أهل الدّيانة والتُّقى ومَن كان ذا رأي من أهل المشورة</li>
</ul>
<p><em>দ্বীনদার</em> <em>ও</em> <em>আকলে</em> <em>সালীমের</em> <em>অধিকারী</em> <em>শুরার</em> <em>সদস্যদের</em> <em>প্রতি</em> <em>সালাম</em><em>,</em></p>
<p>সালাম জানানোর পর উসমানী রাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় যে তাঁরা যেন খ্রিষ্টানদেরকে চুক্তি মেনে জুলুম বন্ধ করতে বাধ্য করে কিংবা সেখানে বসবাসকারীরা যেন তাদের ধন সম্পদসহ হিজরত করতে পারে এই ব্যবস্থা করে দেয়।</p>
<ul>
<li>ودين النصارى أصله تحت حكمكم ومِن ثمّ يأتيهم إلى كلّ كورة</li>
</ul>
<p><em>মূলত</em> <em>খৃস্টধর্ম</em> <em>আপনাদের</em> <em>হুকুমের</em> <em>আওতাধীন</em><em>, </em><em>তারা</em> <em>সেখান</em> <em>থেকে</em> <em>সর্বত্র</em> <em>ছড়িয়ে</em> <em>পড়ছে</em><em>, </em></p>
<ul>
<li>عسى تنظروا فينا وفيما أصابنا لعلّ إله العرش يأتي برحمة</li>
</ul>
<p><em>আশা</em> <em>করি</em> <em>যে</em><em>, </em><em>আপনারা</em>&nbsp;<em>আমাদের</em> <em>এবং</em> <em>আমাদের</em> <em>উপর</em> <em>যে</em> <em>মুসিবত</em> <em>এসেছে</em> <em>সেটাকে</em> <em>দেখতে</em> <em>পাবেন</em><em>।</em> <em>আর</em> <em>এই</em> <em>ভাবে</em> <em>হয়ত</em> <em>আরশের</em> <em>রব</em> <em>আমাদের</em> <em>উপর</em> <em>রহম</em> <em>করবেন</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>عسى ديننا يبقى لنا وصلاتنا كما عاهدونا قبل نقض العزيمة</li>
</ul>
<p><em>আশা</em> <em>করি</em> <em>যে</em><em>, </em><em>চুক্তি</em> <em>ভঙ্গ</em> <em>করার</em> <em>পূর্বে</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>যে</em> <em>ওয়াদা</em> <em>দিয়েছিল</em> <em>সেই</em> <em>ওয়াদা</em> <em>মোতাবেক</em> <em>আমরা </em><em>আমাদের</em> <em>দ্বীনকে</em> <em>পালন</em> <em>করার</em> <em>পাশাপাশি</em> <em>নামাজ</em> <em>আদায়</em> <em>করতে</em> <em>পারব</em><em>।</em></p>
<ul>
<li>وإلا فيجلونا جميعاً من أرضهم بأموالنا للغرب دار الأحبة</li>
</ul>
<p><em>অথবা</em> <em>আমাদেরকে</em> <em>আমাদের</em> <em>ধনসম্পদ</em> <em>সহ</em> <em>আমাদের</em> <em>পছন্দনীয়</em> <em>অঞ্চল</em> <em>উত্তর</em> <em>আফ্রিকাতে</em>&nbsp;<em>যাওয়ার</em> <em>অনুমতি</em> <em>দেয়</em><em>।</em></p>
<p><strong>এই মার্সিয়া পড়ার পর আমরা আমাদের যে প্রশ্নে উপনীত হয়েছি তা হলঃ উসমানী সুলতান এই সাহায্যের আবেদনের জবাবে কি করেছিল?</strong></p>
<p>প্রথমত আমি এই কথা বলতে চাই, বিষয়টি এমন নয় যে, উসমানী সুলতান তাঁদের এই সাহায্যের আবেদনে কোন সাড়া দেয়নি। উসমানী রাষ্ট্র কামাল রেইসের নেতৃত্ব ছোট একটি নৌবাহিনী প্রেরণ করে, যদিও তাঁরা মুসলমানদের রক্ষায় কার্যকরী কোন ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এছাড়াও গ্রানাডার মুসলমানদেরকে উত্তর আফ্রিকাতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে উসমানী রাষ্ট্র বারবারসকে সাহায্য করে। গ্রানাডার মুসলিম জাগরণে উসমানী রাষ্ট্র তাঁদের সাহায্যার্থে আলজেরিয়ার উপর দিয়ে যোদ্ধা ও অস্র পাঠায়। অনুরূপ ভাবে ঐ সময়ে আলেজেরিয়ার উপর দিয়ে পাঠানো একটি নৌবহর মারিয়্যা তীরবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ এক ঘূর্ণিঝড়ের শিকার হয়ে ডুবে যায়। এছাড়াও উসমানী রাষ্ট্র ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করে স্পেনে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ফ্রান্স পরবর্তীতে চুক্তি ভঙ্গ করে স্পেনের পক্ষ নেয়। এই কথা বলা যায় যে, উসমানী রাষ্ট্র তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী গ্রানাডার মুসলমাদেরকে সাহায্য করার জন্য চেষ্টা করে। কিন্তু তাঁদের এই প্রচেস্টা গ্রানাডাবাসীকে রক্ষা করার জন্য&nbsp; যথেষ্ট ছিল না।</p>
<p>একই সাথে এই বিষয়টিও ভুলে গেলে চলবে না যে, স্পেন রাজ্য ঐ সময়কার&nbsp; বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে পাশ্চাত্যের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল। ১৫৫২ সাল পর্যন্ত লিবিয়া এবং ১৫৭৪ সাল পর্যন্ত তিউনিশিয়া এই সাম্রাজ্যের দখলে ছিল।</p>
<p>অবস্থা যাই হোক না কেন ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, উসমানী রাষ্ট্র আন্দালুসিয়ার মুসলিম ভাইদেরকে রক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট যাহায্য প্রেরণ করতে পারেনি। এই বিষয়টি চারটি ফ্যাক্টরের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা সম্ভবঃ</p>
<p><strong>প্রথমত</strong>, উসমানী স্থলবাহিনীর পক্ষে ইউরোপ কিংবা উত্তর আফ্রিকা হয়ে আন্দালুসিয়ায় পৌঁছা খুব কঠিন ছিল। কেননা তখন উসমানী এমন কোন শক্তি ছিল না যার উপর ভর করে ইউরোপের অনেকগুলো দেশ পাড়ি দিয়ে আন্দালুসিয়ায় যেতে পারবে। অপর দিকে উত্তর আফ্রিকা দিয়ে যেতে হলে মামলুকিদের শাসনাধীন মিশর ও সিরিয়া পাড়ি দিয়ে যেতে হত, সেটাও তখন সম্ভব ছিল না।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়ত</strong>, ঐ সময়ে উসমানী রাষ্ট্র নৌশক্তিতে খুব বেশী শক্তিশালী ছিল না। মূলত কানুনী সুলতান সুলাইমানের সময়ে বারবারস খায়রুদ্দিন পাশার নেতৃত্বে উসমানী&nbsp; রাষ্ট্র নৌশক্তিতে শক্তিশালী অবস্থায় উপনীত হয়। বলা হয়ে থাকে যে এর পেছনেও ছিল আন্দালুসিয়ার চেতনা। অন্য কোন অঞ্চলে যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে যেন উসমানী রাষ্ট্র তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারে এই জন্যই নৌ-শক্তির প্রতি বিশেষ গুরুত্ত্বারোপ করা হয়। আরও বলা হয়ে থাকে যে, উসমানী রাষ্ট্র কর্তৃক উত্তর আফ্রিকার দেশসমূহের কর্তৃত্ব নেওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল আন্দালুসিয়াকে পুনরুদ্ধার করা।</p>
<p><strong>তৃতীয়ত</strong>,&nbsp; সাফাভীদের কারণে সৃষ্ট গৃহযুদ্ধ। ঐ সময়ে উসমানী রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দখল করে নেওয়ার জন্য সাফাভীরা আনাতোলিয়ান অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করত। যার কারণে উসমানী রাষ্ট্রকে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।</p>
<p><strong>চতুর্থত</strong>, হয়তবা এটা সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ কারণ। সেটা হল, ফাতিহ সুলতান মেহমেদের পুত্র এবং সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের ভাই, জেম সুলতান ঐ সময়ে পোপের হাতে বন্দী ছিল। আর পোপ জেম সুলতানকে উসমানী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি কার্ড হিসেবে ব্যবহার করতো।</p>
<p>এখানে&nbsp; দেখা যাচ্ছে যে, যে সকল কারণে ঐ সময়ে মুসলিম উম্মাহ গ্রানাডাবাসীর পাশে দাঁড়াতে পারেনি আজও একই কারণে তিন মাস ধরে সমগ্র দুনিয়ার সামনে ইসরাইল গাজায় যে ভয়াবহ গণহত্যা চালাচ্ছে, মুসলিম উম্মাহ সেটাকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছে। শুধু তাই নয় আজকের মুসলমানগণ তৎকালীন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও এই শক্তিকে তাঁরা নিজেদের জনগণের উপর যুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।</p>
<p>বন্দী সুলতানের ব্যাপারে আসলে, <strong><em>এই কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে ঐ সময়ে একজন জেম সুলতান পোপের হাতে বন্দী ছিল কিন্তু আজকে শত শত সুলতান নিজেদের স্বার্থের কারণে দুশমনের শৃঙ্খলে বন্দী</em></strong><strong><em>।</em></strong> <strong><em>ঐ সময়ে জেম সুলতান হয়ত সরাসরি বন্দী ছিল কিন্তু আজকের সুলতানরা বিভিন্নভাবে বন্দী</em></strong><strong><em>।</em></strong> <strong><em>যার কারণে এদের কেহই গাজার নির্যাতিত</em></strong><strong><em>, </em></strong><strong><em>মাজলুম ভাইদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না</em></strong><strong><em>।</em></strong></p>
<p>গাজা আজ সমগ্র মানবতার জন্য এবং একই সাথে সমগ্র উম্মতের জন্য একটি নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে। আমরা হয়তবা এর পরের ঘটনাবলীকে গাজা ট্রাজেডির আগে ও গাজা ট্রাজেডির পরে এই ভাবে বিবেচনা করব। এই কারণে ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে আমাদের সকলের উপর অর্পিত দায়িত্বকে আমাদের পালন করতে হবে। সরকার কিংবা রাষ্ট্রপ্রধানদেরকে দোষারোপ করা এবং যালেমদেরকে অভিশাপ দেওয়া হয়ত আমাদের কাছে বেশী প্রিয় হতে পারে , কিন্তু আমাদের নিজেদের দায়িত্ত্ব ও কর্তব্যকেও ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ত্বের&nbsp; ব্যাপারে আল্লাহ অন্যদেরকে নয় আমাদেরকেই প্রশ্ন করবেন। এই কারণে আমাদের নিজেদেরকে পক্ষে যতটুকু সম্ভব সেই দায়িত্ত্বকে সঠিকভাবে পালন করার পাশাপাশি আমরা অবশ্যই আমাদের প্রতিবাদ ও নিন্দাকে অব্যাহত রাখব।</p>
<p>আজকে গাজায় যা ঘটছে সেটা মুসলিম উম্মাহর জন্য এবং একই সাথে সমগ্র মানবতার জন্য একটি ক্রসরোড। মুসলিম উম্মাহ ১৫ শ শতাব্দীতে গ্রানাডা অবরোধের ক্ষেত্রে যে ক্রসরোডের মূখোমূখী হয়েছিল সেই সময়ে প্রত্যাশিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে আন্দালুসিয়ার পতনকে ঠেকাতে পারেনি। আজকেও আমরা একই অবস্থার সম্মুখীন। আজকেও আমরা অপর একটি সভ্যতাকে হারানোর কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছি। সেটা হল নবীদের পূণ্যভূমি কুদস সভ্যতা। এই সভ্যতাকে রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক গাজার&nbsp; বীর সন্তানরা তাঁদের সর্বস্ব&nbsp; দিয়ে লড়ে যাচ্ছে। আজকে যদি আমরা মুসলিম উম্মাহর এই প্রাণকেন্দ্রকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হই তাহলে সমগ্র ইতিহাসকাল জুড়ে আমাদের মান সম্মানও ধুলায় মিশে থাকবে।</p>
<p><strong>সম্মানিত পাঠক পাঠিকা ভাই ও বোনেরা,</strong></p>
<p>ফিলিস্তিনে আজকে যারা লড়ে যাচ্ছে তাঁরা কেবলমাত্র একটি ভূমিকে কিংবা এই দেশকে রক্ষা করার জন্য লড়ছে না। একই সাথে তাঁরা <strong>Absolute Evil</strong> তথা দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণিত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। আমাদের এই বীর সন্তানরা এই ঘৃণিত শক্তির আসল চেহারাকে উম্মোচিত করে দিয়েছে। এই ঘৃণিত শক্তি দুনিয়াতে আসলে কি চায় সেটার মুখোশকে উম্মোচন করে দিয়েছে। আজকে যায়নবাদীরা শুধুমাত্র গণহত্যায় চালাচ্ছে না, ফিতরাতের সাথে সম্পর্কিত সকল সুন্দর মূল্যবোধকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারা আজ মানব সভ্যতার বিরুদ্ধে ও মানুষের ফিতরাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে। এই যুদ্ধে হয়ত প্রথমবারের মত বিশ্ববাসী তাঁদের আসল চেহারাকে এত কাছ থেকে অবলোকন করছে। যারা ইবাদতগাহ থেকে শুরু করে হাসপাতাল, স্কুল, মাদারাসা ও আশ্রয়স্থল সহ এমন কোন স্থানে নেই যেখানে বোমা হামলা চালাচ্ছে না।<br />
<img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2025/08/Islami-gyane-usuler-dhara-01.jpg" height="133"></p>
<p>অপরদিক থেকে ৭ অক্টোবর থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত মুসলিম উম্মাহ ও মানবতা অনেক কিছুই শিখেছে। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন হওয়ার পাশাপাশি আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস, জিহাদ, শাহাদাত ও আল্লাহর প্রতি ভরসাকে নতুন করে শিখেছে। বন্ধু ও শত্রুকে সুস্পষ্টভাবে চিনতে পেরেছে এবং ঐক্যের অর্থকে জানতে পেরেছে। <strong>সমগ্র</strong> <strong>গাজা </strong><strong>&nbsp;</strong><strong>মাটির</strong> <strong>সাথে</strong> <strong>মিশে</strong> <strong>গেলেও</strong> <strong>কোমলমতি</strong> <strong>শিশুদের</strong> <strong>মুখ</strong> <strong>থেকে</strong> <strong>উচ্চারিত</strong> <strong>হয়েছে</strong> <strong>হাসবুন্নাল্লাহ</strong> <strong>ওয়া</strong> <strong>নি</strong><strong>’</strong><strong>মাল</strong> <strong>ওয়াকিল</strong> <strong>অর্থাৎ</strong> <strong>আল্লাহই</strong> <strong>আমাদের</strong> <strong>জন্য</strong> <strong>যথেষ্ট</strong> <strong>আর</strong> <strong>তিনি</strong> <strong>কতই</strong> <strong>না</strong> <strong>উত্তম</strong> <strong>অভিভাবক</strong><strong>।</strong> এই ছোট ছোট শিশুরা আমাদেরকে শিখিয়ে দিল এই কথার অর্থ কি। তাঁরা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, অর্ধেক খেজুর খেয়েও কিভাবে সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে ঈমান ও ইচ্ছার শক্তি কি করতে পারে এবং&nbsp; ঈমানী শক্তির দেওয়া ধৈর্য , দৃঢ়তা, ইস্তিকামাত সকল শক্তির উপর যে বিজয়ী হতে পারে আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়েছে। তাঁরা আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়েছে যে, সকল সংগঠন, মিডিয়া, চিন্তাধারা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প ও খেলাধুলা সকল কিছুই আজ একটি গোষ্ঠীর তাবেদার। ন্যাটো ও জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানসমূহসহ তথা কথিত মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মত মূলনীতি সমূহের ক্ষেত্রে যে তাঁরা আন্তরিক নয়, এটা দেখিয়ে দিয়েছে। গ্লোবাল দুনিয়া আমাদের উপর&nbsp; যে সকল চিন্তা, জ্ঞান ও ঘটনাকে সঠিক বলে এত দিন চাপিয়ে দিচ্ছিল সেগুলো যে কৃত্রিমতা ছাড়া আর অন্য কিছু নয় সেটাকে তুলে ধরেছে। গাজা এক অর্থে লিটমাস পেপারের ভূমিকা পালন করেছে, কারা ইনসাফ ও বিবেকের অধিকারী, কারা তাদের ইচ্ছা শক্তিকে হারিয়ে ফেলেছে, কাঁদের হৃদয়ে মোহর মারা হয়েছে এবং কারা অন্ধ হয়ে পড়েছে তাদেরকে বিশ্ববিবেকের সামনে তুলে ধরেছে। পাশ্চাত্যেও যে কত বিবেকবান মানুষ রয়েছে তাঁদেরকে আমাদের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গাজা ওসিলা হয়েছে। ১০৯৬ সালের ক্রসেডের রূহকে খৃস্টান দুনিয়া কিভাবে লালন করে রেখেছে এবং যায়নবাদীদেরকে পাশে নিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে কি কি পরিকল্পনা করেছে সেটাকে সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে গাজা গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ।</p>
<p>আমি বিশ্বাস করি যে, আজকের দুনিয়া গাজা নামক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অনেক বেশী ঋণী থাকবে এবং গাজার নিষ্পাপ শিশু, নারী ও আবাল বৃদ্ধা বনিতাদের নিকট থেকে অনেক কিছু শিখবে।</p>
<p style="text-align: center;">&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp;<strong> ***</strong></p>
<p>আজকে আমরা গবেষণা করছি যে, তৎকালীন সময়ের মুসলমানরা কেন&nbsp; গ্রানাডার পাশে কেন দাঁড়াতে পারে নাই , আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করছি যে &nbsp;আমাদের নাতিদেরকে &nbsp;যেন এই ধরণের গবেষণা করতে না হয়। তাঁদেরকে যেন এই প্রশ্ন না করতে হয় যে, আমাদের দাদারা কেন গাজাবাসীর পাশে দাঁড়াতে পারে নাই। আজকে যদি আমরা আমাদের দায়িত্বকে পালন করতে ব্যর্থ হই তাহলে ইতিহাসের সামনে, ইজ্জতের অধিকারী গাজাবাসীর সামনে আমাদের কোন বাহানাই চলবে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের রবের সামনে আমরা কি জবাব দেব?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/granada-gaza-and-muslim-ummah/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13077</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কুদুস আমাদের সম্মান ও ইজ্জতের প্রতীক</title>
		<link>https://rowyakbd.com/qudus-is-a-symbol-of-our-honor-and-dignity/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/qudus-is-a-symbol-of-our-honor-and-dignity/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[তেমেল কারামোল্লাওলু]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 17 May 2022 08:19:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<category><![CDATA[বিশ্বব্যাপী ইসলামী আন্দোলন]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7121</guid>

					<description><![CDATA[আপনাদের স্বপ্ন কুদুস, আপনাদের ধ্যান ধারণা কুদুস, আপনাদের সংগ্রাম কুদুসের জন্য তাই আপনাদের প্রতি আমার সালাম। আপনারা হলেন জালিমের আতংক এবং মজলুমদের জন্য আশা তাই সালাম আপনাদের প্রতি। আপনাদের পূর্বপুরুষগণ দীর্ঘ ছয়শত বছর সমগ্র দুনিয়াকে আদালতের ভিত্তিতে শাসন করেছে, ফিলিস্তিনে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>আপনাদের স্বপ্ন কুদুস, আপনাদের ধ্যান ধারণা কুদুস, আপনাদের সংগ্রাম কুদুসের জন্য তাই আপনাদের প্রতি আমার সালাম। আপনারা হলেন জালিমের আতংক এবং মজলুমদের জন্য আশা তাই সালাম আপনাদের প্রতি। আপনাদের পূর্বপুরুষগণ দীর্ঘ ছয়শত বছর সমগ্র দুনিয়াকে আদালতের ভিত্তিতে শাসন করেছে, ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে, আপনারা সেই মহাপুরুষদের উত্তরসূরি। জুলুম, নির্যাতন এবং দখলদারিত্ব যেন আজ জেরুজালেমের অপর নাম, এই অবস্থার উত্তরণ করে এই শহরকে শান্তি ও নিরাপত্ত্বার শহরে পরিবর্তন করে দারুস সালামে রুপান্তরিত করবেন আপনারাই। আমি এই সমাবেশ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শতাব্দীর চুক্তিকে শতাব্দীর আবর্জনা বলে আখ্যায়িত করছি। এই আবর্জনাকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিখিপ্ত করবেন আপনারাই।</strong></p>
<h5>সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার,</h5>
<p>&nbsp;</p>
<p>আজ আমরা কুদুসের জন্য, মসজিদে আকসার জন্য, রামাল্লাহর জন্য, পশ্চিম তীরের জন্য এবং গাজার জন্য আজকের এই ময়দানে সমবেত হয়েছি। আজ আমরা এমন এক স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য সমবেত হয়েছি যে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে ‘আল-কুদুস’। আজকের এই মহাসমাবেশ কি শুধুমাত্র কুদুস ও ফিলিস্তিনের সমর্থনে ?</p>
<p>&#8211; না।</p>
<p>আজকের এই মহাসমাবেশ দুনিয়ার সকল নির্যাতিত ও নিপীড়িতদের জন্য, আজকের এই মহা সমাবেশ ইদলিবের জন্য, পূর্ব তুর্কিস্তানের জন্য, কাশ্মীরের জন্য এবং আরাকানের জন্য। ইস্তানবুলের আজকের এই মহাসমাবেশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী ও জুলুমের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইন্তিফাদার ডাক দিচ্ছি।</p>
<p>এই ময়দানে উপস্থিত লাখো মানুষের আত্মবিশ্বাস ও চেতনা দেখে বলতে চাই, &#8216; হে জালিমরা, হে সাম্রাজ্যবাদীরা, হে যায়নবাদীরা, ফিলিস্তিন শুরু থেকে ইসলামের শহর এবং কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামেরই থাকবে ইনশাল্লাহ&#8217;। কারণ এই ময়দানে এমন মহাপুরুষদের উত্তরসূরীরা উপস্থিত, যাদের পূর্বসূরীরা সাম্রাজ্যবাদীদের দালালী করেনি বরং তারা সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করে বিশ্বের ইতিহাসকে নতুন করে রচনা করেছিল। এই ময়দানে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, ফাতিহ সুলতান মেহমেদ এর উত্তরসূরীরা উপস্থিত হয়েছে। ‘হায়াত হল ঈমান ও জিহাদ’ এই কথা বলে সকল কিছু দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী নাজমুদ্দিন এরবাকানের উত্তরসূরীরা উপস্থিত।</p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা,</strong></p>
<p>ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যে প্ল্যান মুসলিম উম্মাহ ও ফিলিস্তিনের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেই প্ল্যানের মূল লক্ষ্য হল ফিলিস্তিনকে সম্পূর্ণভাবে ইসরাইলের হাতে তুলে দেওয়া। এই প্ল্যানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাংগুলী দেখানো হয়েছে।সকল ধরণের মানবিক মূল্যবোধকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। এই প্ল্যান শান্তি নয় নতুন করে যুদ্ধের ময়দান প্রস্তুত করেছে। এটা শতাব্দীর চুক্তি নয়, এটা হল শতাব্দীর বিশ্বাসঘাতকতা, এটা হল শতাব্দীর নীলনকশা, এটা হল শতাব্দীর স্বেচ্ছাচারিতার চুক্তিপত্র। এই বিশ্বাসঘাতকতার চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হবে কারণ এটার উপযুক্ত স্থান ডাস্টবিন। বলা হচ্ছে যে, এই প্ল্যান অনুসারে দুইটি ভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। একটি ইসরাইল অপরটি নাকি ফিলিস্তিন। তারা তাদের পরিকল্পনা মাফিক কেমন একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে? তাদের মতে ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র হবে,</p>
<p>১। যে রাষ্ট্রের কোন সেনাবাহিনী থাকবে না,<br />
২। যে রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কোন ভূখণ্ড থাকবে না,<br />
৩। যে রাষ্ট্রের বর্ডার গেট থাকবে না,<br />
৪। মসজিদে আকসা সহ সমগ্র কুদুস ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।<br />
৫। এমনকি এই রাষ্ট্রের কোন রাজধানীও থাকবে না। কারণ তথা কথিত এই রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে যে স্থানকে নির্ধারণ সেটাও ইসরাইলেরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে!</p>
<blockquote><p>এছাড়াও, এই চুক্তিপত্রে ৫০ বিলিয়ন ডলার ঘুষ হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাদের কথামত ফিলিস্তিন যদি তাদের এই সকল শর্ত সমূহকে গ্রহন করে তাহলে তারা নাকি ফিলিস্তিনকে ৫০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিবে। আমি এই সকল অর্থকে ঘুষ হিসেবে আখ্যায়িত করছি। এরবাকান হোজার ভাষায় বলতে চাই, ‘ আমাদেরকে ৫০ বিলিয়ন কেন, ১৫০ বিলিয়ন কেন, দুনিয়ার সকল সম্পদ এনেও যদি আমাদের সামনে বিছিয়ে দাও তবুও এক বিন্দু পরিমাণ মাটিও তোমাদের কাছে বিক্রি করা হবে না’। <strong>জান্নাত মাকান সুলতান আব্দুল হামিদ হানের ভাষায় বলতে চাই, ‘এই সকল ভূমি রক্তের বিনিময়ে ক্রয় করা হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে কেনা ভূমি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা যায় না। রক্ত দিয়ে কিনেছি রক্ত দিয়েই বিক্রি করব’।</strong></p></blockquote>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা,</strong></p>
<p>যারা অতীত সম্পর্কে অজ্ঞ তারা আজকের ঘটনা প্রবাহকে বুঝতে পারবে না, আর যারা আজকের ঘটনাকে প্রবাহকে বুঝতে পারে না তারা ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে ১০০ বছরের একটি প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল নাম হল, গ্রেট ইসরাইল প্রজেক্ট। আজ আমরা যায়নবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের পাঁচদফা পরিকল্পনার মুখোমুখি দাড়িয়ে, এই দফাগুলো হলোঃ</p>
<p>১। ১৮৯৭ সালে প্রথম যায়নিস্ট কংগ্রেসের মাধ্যমে তারা তাদের প্রথম পদক্ষেপ গ্রহন করে। আর সেটা হল ফিলিস্তিনে ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।<br />
২। দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিল, ‘ব্যালফোর ডেক্লারেশন’। এই ডেক্লারেশনের মাধ্যমে তারা ইসরাইল রাষ্ট্রের চিন্তাকে রাজনৈতিক ময়দানে নিয়ে আসে।<br />
৩। তৃতীয় পদক্ষেপ ছিল, জাতিসংঘকে ব্যবহার ১৯৪৮ সালে তথাকথিত ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করে।<br />
৪। চতুর্থ পদক্ষেপ ছিল, ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরে গ্রেট মিডল ইস্ট প্রজেক্টের নামে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে নতুনভাবে অংকন করে একের পর এক তাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন শুরু করে।<br />
৫। তাদের পঞ্চম পদক্ষেপ হল, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্ল্যানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের বুকে সর্বশেষ প্যারেক মারার চেষ্টা করছে।</p>
<h5>&nbsp;</h5>
<h5>এরপরের সিরিয়ালে কি কি আছে?</h5>
<p>১। প্রমিসড ল্যান্ড আছে যা নীল ও ফোরাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।<br />
২। দিয়ারবাকির, মারদিন, চুকুরোভা এবং তাদের সর্বশেষ টার্গেট হল আমাদের প্রিয় দেশ তুর্কী।</p>
<p>আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আজকে যদি আমরা তাদেরকে ফিলিস্তিনে পরাজিত করতে না পারি তাহলে আগামীকাল তারা আমাদেরকে ইস্তানবুলে পরাজিত করবে। ইস্তানবুলকে দখল করার চেস্টা করবে। আজকে যদি আমরা ফিলিস্তিনকে রক্ষা করতে না পারি তাহলে আগামীকাল আমাদেরকে তুর্কীকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা,</strong></p>
<p><strong>সারা রাত-দিন কান্না কাটি করে লাভ নেই, এতে মুসলমানদের কোন ফায়দা বয়ে আনবে না। আজকে আমাদের যেসকল প্রশ্ন করা প্রয়োজন সে প্রশ্ন সমূহ হল,</strong></p>
<ul>
<li><em><strong>সাম্রাজ্যবাদীরা যখন একের পর এক তাদের সকল পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করে চলছে আমরা তখন কি করছি??</strong></em></li>
<li><em><strong>সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের শতবর্ষী পরিকল্পনা সমূহকে যখন সামনে নিয়ে আসছে তখন আমরা কি করছি?</strong></em></li>
<li><em><strong>বাগদাদ, শাম, কুদুস, কাবুলকে যখন তারা মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে আমরা তখন কি করছি?</strong></em></li>
<li><em><strong>এই অন্যায় ও জুলুমপূর্ণ ব্যবস্থাকে পরাজিত করে ন্যায় ভিত্তিক নতুন এক দুনিয়া প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি নাকি সাম্রাজ্যবাদের দালালী করে একে অপরকে হত্যা করছি?</strong></em></li>
<li><em><strong>আমাদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পরিবর্তে কেন আজ আমরা মাজহাবী ভিন্নতাকে ও জাতিগত ভিন্নতাকে সামনে এনে নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে রাখছি?</strong></em></li>
</ul>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা,</strong></p>
<p>কেবলমাত্র শত্রুর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কোন লাভ নেই। এটা হল দুর্বলদের কাজ। যারা নিজেদের ভূমিতে, নিজেদের অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোন পরিকল্পনা করতে পারে না তারা অন্যের দালালী করতে বাধ্য। সাম্রাজ্যবাদীরা শক্তিশালী বলে আজ মুসলিম উম্মাহর অবস্থা এমন নয় বরং আমরা উম্মাহ হিসেবে আমাদের দায়িত্ত্বপালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আজ তারা আমাদের উপর এমন নির্যাতন চালানোর সাহস পাচ্ছে। আজ আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, সাম্রাজ্যবাদীরা যখন কুদুসকে, ফিলিস্তিনকে দখল করে নিচ্ছে তখন আমরা দর্শকের ভূমিকা পালন করছি। আজকে যখন কুদুসকে ছিনতাই করা হচ্ছে তখন আমরা আমাদের মাজহাব নিয়ে ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে পড়ে আছি।</p>
<p>কুদুসের ও ফিলিস্তিনের মুসলমানদের উপর যখন নির্যাতন চালানো হচ্ছে তখন আমরা আমাদের ক্ষমতার মসনদকে ধরে রাখার জন্য নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি। দিনে চল্লিশবার আল্লাহু আকবর বলে, দিন শেষে ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করছি।</p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা আমার,</strong></p>
<p>আমি আবারও বলছি, সাম্রাজ্যবাদীদের গ্রেট মিডল ইস্ট প্রজেক্টের বিপরীতে ‘গ্রেট ইসলামিক ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে আমাদের আরো অনেক-ক-ক-ক-ক-ক কাঁদতে হবে। ফিলিস্তিন আজ আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদের শিকার। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে যায়নবাদীরা। এই আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদকে কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক ইন্তিফাদার মাধ্যমেই মোকাবেলা করা সম্ভব। আমাদের ভিন্নতাকে সামনে নিয়ে এসে নয়, আমাদের ঐক্য সুসংহত করেই এই আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদকে মোকাবেলা করা সম্ভব। কথার ফুলঝুড়ি নয়, এই জন্য এখন সময় হল কাজ করার। আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে চাই তাহলে কথার ফুলঝুড়ি নয় শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। কারণ, ইসরাইল কখনো মুখের ভাষা বুঝে না, সে কেবল শক্তি ও অস্ত্রের ভাষা বুঝে। তাই সে যে ভাষা বুঝে তার সাথে সেই ভাষাতেই কথা বলতে হবে। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ফিলিস্তিন ও মসজিদে আকসাকে রক্ষা করার জন্য OIC প্রতিষ্ঠা করা হয়। তুরস্ক এখন OIC প্রেসিডেন্ট। আজকের এই ময়দানে সমগ্র জাতি ফিলিস্তিন নিয়ে তার অভিব্যক্তিকে ব্যক্ত করেছে এখন দায়িত্ত্ব হল রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা আছে তাদের। ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব জ্ঞাপন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিং ইসরাইলকে আরো সাহস জুগিয়ে যাচ্ছে।মুসলিম বিশ্বের নেতাদের দায়িত্ত্ব হল, উম্মাহর আহবানে সাড়া দেওয়া। উম্মাহর আহবানকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহন করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>প্রিয় ভাইয়েরা,</strong></p>
<p><strong>কি কি করতে হবে এটা সবাই জানে। তবুও আমি কিছু বিষয় উল্লেখ করতে চাই, স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে</strong>&#8211;</p>
<ul>
<li><em>ডি-৮ সহ, সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সমুহকে এক্টিভ করা।</em></li>
<li><em>সকল মুসলিম দেশের উচিত হল, অনতিবিলম্বে ইসরাইলের সাথে সকল ধরণের কূটনৈতিক সম্পর্ককে ছিন্ন করা</em></li>
<li><em>ইসরাইলের পণ্য বর্জন সহ ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবরোধ আরোপ করা।</em></li>
<li><em>যে সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন আইন ও আন্তর্জাতিক মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে তাদেরকে সাথে নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।</em></li>
<li><em>দক্ষিন অ্যামেরিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত ‘প্লাটফর্ম ফর প্যালেস্টাইন’ প্রতিষ্ঠা করা।</em></li>
<li><em>সকল মুসলিম দেশের আকাশপথ, জলপথ ও স্থলপথকে বন্ধ করা দেওয়া।</em></li>
<li><em>OIC র অধীনে ফিলিস্তিন শান্তি বাহিনী গঠন করতে হবে। এই বাহিনীকে সর্বাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করে, ফিলিস্তিনের মানুষের জান ও মালকে রক্ষা করার জন্য গাজায় পাঠাতে হবে এবং এই বাহিনীর ঘাটি হবে গাজা।</em></li>
</ul>
<p>আমি জানি এই সকল প্রস্তাবনা আমরা নিজেরা বলে নিজেরাই শুনছি। তবে আমি বিশ্বাস করি এমন একদিন আসবে যেদিন এর সকল ধারাই বাস্তবায়িত হবে ইনশাল্লাহ। কারণ এই বিশ্বাসকে ধারণকারীরা যখন ক্ষমতায় আসবে তখন এই সকল ধারাই হবে তাদের প্রথম কাজ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেঃ</strong></h4>
<ul>
<li>আমাদের প্রধান কাজ হল, মুসলিম দেশ সমূহ একে অপরের পেছনে না লাগা। আমাদের যে শক্তি ও সম্পদ আছে এই শক্তি ও সম্পদকে আমাদের একে অপরকে ধ্বংস করার জন্য নয় একে অপরকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করতে হবে।</li>
<li>আমাদেরকে সাম্রাজ্যবাদীদের নীলনকশাকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।</li>
<li>প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে গুরুত্ত্ব দিতে হবে এবং এই ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করতে হবে।</li>
<li>সকল মুসলিম দেশের উচিত হবে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে নিজেদেরকে শক্তিশালী করা।</li>
<li>আমাদের সম্পদ সমূহকে সঠিক ভাবে ও সঠিক স্থানে ব্যবহার করতে হবে।</li>
<li>আমাদের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে বৃদ্ধি করতে হবে এবং এই ব্যবসা আমাদের নিজস্ব মুদ্রায় করতে হবে।</li>
<li>বিশ্ব মুসলিম স্বার্থ রক্ষায় ‘ মুসলিম সেনাবাহিনী’ গঠনের জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।</li>
</ul>
<p><strong>হে মিল্লি গরুশের ভাইয়েরা,</strong></p>
<p>জেনে রাখুন! অবস্থা যতই কঠিন হোক না কেন, আমাদের বিশ্বাসে হতাশা ও বিষণ্ণতার কোন স্থান নেই। রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটবর্তী হয় এই কথা আমাদের মানসপটে সর্বদায় লালন করতে হবে। আজকে আপনারা এই ময়দানে সমবেত হয়ে নিজেদের যে দায়িত্ত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন আমি মনে করি এটা হল সুবহে সাদিকের পূর্বাভাস।আজকের ময়দানে আপনারা আপনাদের উচ্চকিত কণ্ঠে জুলুমের প্রতিবাদ করছেন। আজ আপনারা মুখের ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন। মনে রাখবেন, সেই দিন অনেক নিকটবর্তী যেই দিন আমরা এই জুলুম নির্যাতনকে হাত দ্বারা প্রতিহত করব ইনশাল্লাহ।</p>
<p>হে ইসলামি আন্দোলনের কর্মীরা মনে রাখবেন, জুলুম নির্যাতন চিরস্থায়ী হয় না হবে না।জালিমরা অবশ্যই অবশ্যই পরাজিত হবেই হবে। আজকের মুসলমানদের এই বিভাজন দেখে কেউ যেন একথা মনে না করে যে ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠা হবে না। ইনশাল্লাহ, একদিন অবশ্যই অবশ্যই ইসলামি ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা হবেই হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>সেই স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতিষ্ঠা অনেক নিকটবর্তী যে ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে ‘আল-কুদস’।</strong><br />
<strong>ভুলে যাবেন না, ‘ বিজয় মুসলমানদের আর বিজয় নিকটবর্তী’</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদ: <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/qudus-is-a-symbol-of-our-honor-and-dignity/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7121</post-id>	</item>
		<item>
		<title>দ্বীন ও সভ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে বায়তুল মাকদিস</title>
		<link>https://rowyakbd.com/baitul-maqdis-from-the-perspective-of-diin-and-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/baitul-maqdis-from-the-perspective-of-diin-and-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 24 May 2021 09:54:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[বায়তুল মাকদিস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15311</guid>

					<description><![CDATA[এই বছরের রমজানের শেষের দিনগুলো এবং ঈদের মত আনন্দের দিনও দুঃখ ভরাক্রান্ত একটি সময়ে মধ্যে দিয়ে কেটেছে। আপনারা সকলেই জানেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আল-কুদস। মসজিদে আকসার উপর যে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে তা আমাদের হৃদয়কে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>এই বছরের রমজানের শেষের দিনগুলো এবং ঈদের মত আনন্দের দিনও দুঃখ ভরাক্রান্ত একটি সময়ে মধ্যে দিয়ে কেটেছে। আপনারা সকলেই জানেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় ইস্যু ছিল আল-কুদস। মসজিদে আকসার উপর যে অসম্মানজনক আচরণ করা হয়েছে তা আমাদের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে। সাহায্যের জন্য মুসলমানদের ফরিয়াদ আমাদের কালবে এসে বিঁধেছে।</p>
<p>প্রায় একশত বছর ধরে সমগ্র মানবতার সামনে একটি ট্রাজেডি ঘটে চলেছে। সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে জিম্মিকারী এবং মুসলমানদের সকল শক্তিকে গ্রাসকারী এক ট্রাজেডি। সমগ্র মানবতার সামনে কুদুসে শতাব্দীর পর শতাব্দীকাল ধরে বসবাসকারী একটি জাতির ঘরবাড়ি এবং বসতভিটাকে জোর করে দখল করা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখনো প্রায় প্রতিদিন হত্যা করা হচ্ছে। সেখানে বসবাসকারী জনগণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। আর যারা সেখানে অবস্থান করছে তাদেরকেও তাদের নিজেদের ঘরে পরবাসীর মত বসবাস করতে হচ্ছে। তাদের নিজেদের ভুমিকে এক বন্দীশালায় পরিণত করা হয়েছে। দখলদাররা এই সকল করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, সকল নবীগণের সিজদাগাহ হিসেবে পরিচিত মসজিদে আকসার পবিত্রতাকে বিনষ্ট করা হচ্ছে। মসজিদে আকসার সম্মান ও মর্যাদাকে আজ ভূলুণ্ঠিত করা হচ্ছে। সেখানে ইবাদত করতে আসা মুসলিমদের উপরে নির্যাতন চালানো হচ্ছে।</p>
<p>আজকের আলোচনায় আমি এই বিষয়টির রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিককে একপাশে রেখে দিয়ে এই বিষয়টির (ইস্যু) দ্বীন, বিশ্বাস ও সভ্যতার দৃষ্টিকোণ নিয়ে আলোচনা করব। এই আলোচনায় আখলাকী, ইরফানী এবং ইলমী একটি দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করার চেষ্টা করব।</p>
<p><strong>আল-কুদস আমাদের কি হয়?</strong></p>
<p>মসজিদে আকসা আমাদের জন্য কি অর্থ বহন করে ? শুধুমাত্র আমাদের প্রথম কিবলা হওয়ার জন্যই কি আল-কুদস এত বেশী মূল্যবান ? আল-কুদসের জন্য যে আন্দোলন, এই আন্দোলন কেন মুসলমানদের জন্য অভিন্ন আন্দোলন? শুধু তাই নয়, আল-কুদস কেন সমগ্র মানবতার জন্য অভিন্ন একটি বিষয়? এই সকল বিষয়/প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে চাই।</p>
<p>মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক মানবতার জন্য প্রেরিত দ্বীনের স্থায়িত্ত্ব ও ধারাবাহিকতা তিনটি গুরুত্ত্বপূর্ণ মূলনীতির সাথে সম্পর্কিত। এগুলো হল,</p>
<ul>
<li><strong> মু’তাকাদাত/ ই’তিকাদসমূহ,</strong></li>
<li><strong>মুকাদ্দাসাত/ পবিত্রতা বিষয়সমূহ, </strong></li>
<li><strong>শায়া’য়ির/ প্রতীকসমূহ।</strong></li>
</ul>
<p>এই বিষয় সমূহ দ্বীনের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এবং অপরিবর্তনীয় মূলনীতি। ফিকহ এবং শরীয়ত পরিবর্তনীয় হওয়ার কারণে সময়ের ব্যবধানে ইজতিহাদ সমূহ পরিবর্তিত হলেও এই তিনটি স্থায়ী/ধ্রুব বিষয় সমূহ কখনোই পরিবর্তিত হবে না। এক অর্থে বলতে গেলে এগুলো ‘অস্পৃশ্য’। এগুলোর মধ্যে কোন ধরণের হ্রাস-বৃদ্ধি দ্বীনের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণে এই সকল বিষয় খুবই স্পর্শকাতর বিষয়।</p>
<p><strong>প্রথমটি অর্থাৎ মু’তাকাদাত/ই’তিকাদসমূহ ।</strong></p>
<p>আমাদের আকাঈদ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ বিশ্বাস সংক্রান্ত বিষয়সমূহকে তিনটি মৌলিক বিষয়ের উপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছেঃ</p>
<ul>
<li><strong>তাওহীদ</strong></li>
<li><strong>রিসালাত</strong></li>
<li><strong>আখেরাত</strong></li>
</ul>
<p>তাওহীদ হল, আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করা। রিসালাত হল, পয়গাম্বর ও কিতাব সমূহের প্রতি ঈমান। আর আখেরাত হল, আখেরাতের প্রতি ঈমান।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি তথা মুকাদ্দাসাত/ পবিত্র বিষয়সমূহ</strong></p>
<p>মেটাফিজিক্যাল, আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, অস্পৃশ্য বিষয় সমূহ, সকল প্রকার মন্দ ও খারাপ থেকে মুক্ত, মহা পবিত্র বিষয় সমূহ। এবং এই মহা পবিত্র বিষয়সমূহের আলোকে কিছু কিছু স্থান, কিছু কিছু সময় এবং কিছু কিছু কাজকে এই কুদসিয়্যাতের /পবিত্রতার সাথে সম্পর্কিত করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামে কুদসিয়্যাতের উৎস মূল হল শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। যিনি আল-কুদ্দুস। কুদসিয়্যাতের মূলে রয়েছে; ত্বাহারাত, পরিচ্ছন্নতা, এবং নাযাফাত। শিরক ও মন্দের প্রতি ধাবিত না হওয়া। অর্থাৎ এখানে নাযাহাত (পবিত্রতা, পরিচ্ছনতা) রয়েছে। নাজাহাতকে রক্ষা করতে হবে। আর এই নাযাহাতকে রক্ষা করা সমগ্র মুসলমানদের দায়িত্ব। এমনকি এই দায়িত্ব শুধু মুসলমানদেরই নয় সমগ্র মানবতার দায়িত্ব।</p>
<p><strong>তৃতীয়টি তথা শায়া’য়ির/প্রতীক বা সিম্বলসমূহ।</strong></p>
<p>শুয়ুর উৎসমূল থেকে আসা শায়া’য়ির, মুসলমান হওয়া ও মুসলমান হিসেবে বেঁচে থাকার চেতনাকে জাগ্রত রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনকারী প্রতীক ও সিম্বলসমূহ। কিছু কিছু স্থান, কিছু কিছু সময় এবং কিছু কিছু ইবাদত হল আমাদের দ্বীন ইসলামের শায়া’য়ির বা সিম্বল।</p>
<p><strong><em>এই তিন বিন্যাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, আল-কুদস ও মসজিদে আকসার বিষয়টি একজন মুসলমানের জন্য এক দিক থেকে ই’তিকাদী একটি বিষয়। এক দিক থেকে মুকাদ্দাস সংক্রান্ত একটি বিষয় এবং এক দিক থেকে শায়া’য়ির সংক্রান্ত একটি বিষয়। আল-কুদসের বিষয়টি একটি ভূমি ও মালিকানা কিংবা প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত বিষয় নয়। কুদসের বিষয়টি ইলাহী আমানতকে রক্ষা করা সংক্রান্ত একটি বিষয়। হযরত ইবরাহীম থেকে হযরত দাউদ পর্যন্ত, হযরত সুলায়মান থেকে হযরত যাকারিয়া পর্যন্ত, হযরত ইয়াহইয়া থেকে হযরত মুসা পর্যন্ত এবং হযরত ইসা থেকে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) পর্যন্ত সকল পয়গাম্বরের আমানত। খাতামূল আনবিয়া রাসূল-ই কিবরিয়া, ইসরা ও মিরাজের মাধ্যমে মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসাকে একত্রিত করে এই সকল আমানতকে নিজের উপর নিয়েছেন এবং তার উম্মতের নিকটে আমানত হিসেবে পেশ করেছেন। এই কারণে মুসলমানগণ সমগ্র ইতিহাসকাল জুড়ে এই পবিত্র ভূমিতে শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় বরং সকলের হক্ব বা অধিকারকে সবচেয়ে বড় আমানত হিসেবে গণ্য করেছেন।</em></strong></p>
<p>মহাগ্রন্থ আল কোরআন কোন কিছুর মূল্যকে বুঝানোর জন্য তিনটি পরিভাষা ব্যবহার করে থাকেঃ <strong>মুবারাক, মুকাদ্দাস, হারাম।</strong></p>
<p>কোরআনে কারীমে পাঁচটি আয়াতে কুদস ও মসজিদে আকসা যে মোবারাক এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের রব বলেছেন, بَارَكْنَا ف۪يهَاۜ / আমি কুদসকে মোবারক বানিয়েছি। بَارَكْنَا حَوْلَهُ / আমি এর চারপাশকে বরকতময় করেছি। অপর একটি আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানিয়ে দিয়েছেন, بَارَكْنَا ف۪يهَا لِلْعَالَم۪ينَ / আমি কুদসকে সমগ্র মানবতার জন্য মোবারক বা বরকতময় করেছি।</p>
<p>সূরা ইউনুসে কুদসকে مُبَوَّاَ صِدْقٍ / সাদাকাতের স্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটা সিদক এবং সাদাকাতকে রক্ষা করার অর্থ বুঝিয়ে থাকে। এই সিদক এবং সাদাকাতকে রক্ষা করার দায়িত্ব সকল মু’মিনের।</p>
<p>শুধু তাই নয়, কুদস নামটি সরাসরি পবিত্র একটি বিষয় থেকে গৃহীত মুকাদ্দাস একটি স্থান। যেমনটা আমাদের রব সূরা মায়েদায় এই স্থানকে الْاَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ / পবিত্র ভূমি বলে উল্লেখ করেছে।</p>
<p>এই সকল আয়াত থেকে বুঝা যায় যে, এই কুদসিয়্যাত এবং মোবারকিত্বের কারণ হল সমগ্র ইতিহাসকাল ধরে সমগ্র মানবতা এই স্থানে ওহীর সাথে সমবেত হয়েছে।</p>
<p><em>এই স্থানটি মুকাদ্দাস এবং মোবারক হওয়ার কারণ হল প্রায় সকল পয়গাম্বর এই স্থানে বসবাস করেছেন, আকাশের সাথে পৃথিবীর, ফিজিক্সের সাথে মেটাফিজিক্সের সম্মিলন হওয়ার কারণে।</em></p>
<blockquote><p>কুদস মুসলমানদের একটি আন্দোলনের বিষয় হওয়ার অন্যতম কারণ হল, এই স্থানটিকে পুনরায় মুবাওয়া সিদক/সাদাকাতের স্থানে পরিণত করা। এই স্থানটি যেন মুবাওয়্যা কিজবে/ মিথ্যার ভূমিতে পরিণত না হয় এজন্যই মুসলমানগণ জীবন দিচ্ছে। মুসলমানদের এই আল-কুদস আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হল এই আরদুল মুকাদ্দাসকে একটি কওমের তথাকথিত আরদ-ই মাওদু (ওয়াদাকৃত ভূমি) হওয়া থেকে রক্ষা করে সমগ্র মানবতার জন্য আরদুল মুকাদ্দাসে পরিণত করা।</p></blockquote>
<p>সূরা বনী ইসরাইলের প্রথম আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেনঃ</p>
<p>سُبْحَانَ الَّـذ۪ٓي اَسْرٰى بِعَبْدِه۪ لَيْلاً مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ اِلَى الْمَسْجِدِ الْاَقْصَا الَّذ۪ي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ اٰيَاتِنَاۜ اِنَّهُ هُوَ السَّم۪يعُ الْبَص۪يرُ</p>
<p>অর্থঃ পবিত্র তিনি, যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্‌সা পর্যন্ত, যার চারপাশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান। আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা।</p>
<p>এই আয়াতে ঈষৎভাবে হযরত পয়গাম্বরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এভাবে বলেছেনঃ আপনি আল্লাহর পয়গাম্বর হলেও, বায়তুল্লাহ এবং মসজিদে হারামের বাসিন্দা হলেও হিকমতপূর্ণ রাত্রি ভ্রমণ করা জরুরী। এবং এই যাত্রার ক্ষেত্রে দুনিয়ার সর্বশেষ পয়েন্ট হল মসজিদে আকসা। যার চতুর্পাশকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বরকতময় করেছেন। সেখানে নির্মিত কোন দালান না থাকার পরেও সেই স্থানকে “الْمَسْجِدِ” নামে অভিহিত করার কারণ হল সেটা সকল পয়গাম্বরের সিজদাগাহ হওয়ায়। আয়াতে উল্লেখিত “الْاَقْصَا” পবিত্রতা, মহিমান্বিতা বুঝানো হয়েছে। যদিও “الْاَقْصَا” প্রচলিত অর্থে দূরের স্থান বলে আখ্যায়িত করে হয়ে থাকে। আমি মনে করি এমন অনুবাদ করা ভুল। <strong>এখানে আকসা অর্থ দূরবর্তী কোন স্থান নয় বরং এর অর্থ হল মহান, পবিত্র, মহামান্বিত।</strong></p>
<p><a href="https://www.facebook.com/maktabprokashon" target="_blank" rel="noopener"><img decoding="async" class="aligncenter" style="width: 807px;" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/11/মসজিদে-আকসা.jpg" height="133"></a></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখানে “لِنُرِيَهُ مِنْ اٰيَاتِنَاۜ / আমার আয়াত সমূহকে দেখানোর জন্য” দ্বারা আয়াতটি একই সাথে সূরা নাজম এর আয়াতসমূহের মাধ্যমে এবং একই সাথে সুন্নত ও হাদীসের মাধ্যমে মিরাজের দিকে ইশারা করেছে। ইসরা ছাড়া মিরাজ হয় না। মসজিদে আকসার দিকে হিকমাহপূর্ণ রাত্রি ভ্রমন করা ছাড়া মিরাজ হবে না। উম্মতের মিরাজে যাওয়ার পথ মসজিদে আকসা হয়ে যায়। &#8220;لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ اَحَدٍ مِنْ رُسُلِه۪۠ &#8220;/ আমরা পয়গাম্বরদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না, এই আয়াতটি যে অর্থ বহন করে তা মসজিদে হারামের সাথে মসজিদে আকসাকে একত্রে উল্লেখকারী একই অর্থ বহন করে। মূলত, এই আয়াতটি হযরত পয়গাম্বরের খাতামিয়্যাত সম্পর্কে। একই সাথে উম্মতকে সভ্যতার একটি চিন্তাকে অর্জনে সাহায্যকারী আয়াত এটি। এই আয়াত মুসলিম উম্মাহকে সভ্যতার চিন্তা ও দিগন্তকে উম্মোচনে সাহায্য করে থাকে। এই আয়াতটি হযরত আদমের মাধ্যমে শুরু হওয়া, হযরত ইবরাহীমের মাধ্যমে জারী থাকা ইসলাম কিভাবে হযরত পয়গাম্বরের মাধ্যমে ধারাবাহিকতা অর্জন করলো এটার ধারণা দিয়ে থাকে।</p>
<p><strong>আল্লাহর রাসূল (সঃ) ও মসজিদে আকসা-র জন্য ‘বাইতুল মাকসিদ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।</strong> তিনি মসজিদে আকসা ও মসজিদে হারামকে একে অপরের থেকে পৃথক করেননি। পৃথিবীতে যত মসজিদ রয়েছে এর মধ্যে শুধুমাত্র তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদকে ইবাদতের উদ্দেশ্য যিয়ারত করার জন্য বের হওয়া সমীচীন নয়।</p>
<p>রাসূল করীম (সঃ) বলেছেনঃ<br />
اَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِى هَذَا وَمَسْجِدِ الأَقْصَى / তিন মসজিদে ছাড়া অন্য কোন মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্য সফর করা যাবে না। সেগুলো হলঃ মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা এবং আমার মসজিদ (মসজিদে নববী)।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখানে দেখা যাচ্ছে যে, কোরআন ও সুন্নাহ মু’মিনদের হৃদয় ও মানসপটে আল-কুদসের ব্যাপারে বিশ্বজনীন একটি চিন্তা ও চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। আল-কুদসের ব্যাপারে যে চেতনা সেটা শুধুমাত্র একটি মসজিদের চেতনা নয়। এছাড়াও আল-কুদসের ব্যাপারে যে চিন্তা-চেতনা ও আবেগ সেটা শুধুমাত্র মুকাদ্দাস একটি স্থান সংক্রান্ত চেতনাও নয়। আল-কুদসের চেতনা একই সাথে তাওহীদের চেতনা, একটি উম্মতের চেতনা এবং স্বাধীনতার চেতনা। মূলত, এই চিন্তাই আল-কুদসকে মুসলমানদের জন্য এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে দিয়েছে। আল-কুদস এমন এক চেতনার নাম, যে চেতনা মুসলমানদের হৃদয়ের স্পন্দন, মুসলিম সত্ত্বার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।</p>
<p>সকল পয়গাম্বরের প্রতি ঈমান আনা মুসলমান হওয়ার পূর্ব-শর্ত। আল-কুদসের প্রথম বিজেতা হলেন হযরত দাউদ (আঃ), তিনি ইসলামের একজন নবী। সেখানে মসজিদ নির্মাণকারী হলেন হযরত সুলায়মান (আঃ),&nbsp; তিনিও ইসলামের একজন নবী। সেই মসজিদের দেখভাল করেন যারা, হযরত যাকারিয়া (আঃ), হযরত ইয়াহইয়া (আঃ), তারাও ইসলামের পয়গাম্বর। সেখানে অবস্থিত মসজিদের জন্য উৎসর্গিত হযরত মারইয়াম কোরআনে দৃষ্টিতে মহান ও মহিয়সী একজন নারী। কওমকে এই অঞ্চলে হিজরত করার ব্যাপারে উৎসাহিতকারী হযরত মুসা (আঃ)ও ইসলামের একজন নবী। এই অঞ্চলে দুনিয়ায় আগমনকারী এবং তার দাওয়াতকে সমগ্র মানবতার নিকট এই অঞ্চল থেকে প্রচারকারী হযরত ঈসা (আঃ)ও ইসলামের একজন নবী।</p>
<p>এই চিন্তা ও চেতনার কারণেই রাসূল (সঃ) কর্তৃক হাদীসসমূহে লক্ষ্য হিসেবে প্রদর্শিত আল-কুদস তার ওফাতের ছয় বছর পরে ইসলামের শহরের পরিণত হয়। ইসলামের ইতিহাসে কুদস এক অভিন্ন স্থান দখল করে আছে।</p>
<p><strong>প্রথমত, হযরত উমরের মাধ্যমে আদালতের দেখা পায়।</strong></p>
<p><strong> দ্বিতীয়ত, সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর আমানের মাধ্যমে শান্তির স্থানে পরিণত হয়।</strong></p>
<p><strong> তৃতীয়ত, ইয়াভুজ সুলতান সেলিমের মাধ্যমে এই পবিত্র ভূমি পুনরায় শান্তির শহরে (দারু’স-সালাম) রূপান্তরিত হয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>উসমানী খিলাফতের সুলতানগণ মক্কা ও মদীনাকে এক হারাম এবং কুদসকে অপর হারাম হিসেবে গণ্য করে নিজেদেরকে ‘খাদেমূল হারামাইন’ এবং ‘হামিউল কিবলাতাইন’ বলতেন। আল-কুদস যখন থেকে মুসলমানদের হাত ছাড়া হয়েছে তখন থেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলে এখনো যুদ্ধ-বিগ্রহ বিরাজ করছে। উম্মাহ যেন তার প্রাণকে হারিয়ে ফেলেছে।</p>
<p><strong>যদি কুদসের চিন্তাকে লালন না করা হয়, তাহলে সমগ্র উম্মাতই ফিলিস্তিনে পরিণত হবে।</strong></p>
<p>এক অর্থে বলতে গেলে হয়েছেও তাই। মুসলমানগণ যখন কুদসের চেতনাকে সঠিকভাবে লালন করতে পারবে, কুদসের পতাকাকে হৃদয়ে ধারণ করবে, মু’মিনগণ যখন কুদসের চেতনাকে মানসপটে লালন করবে, তাওহীদের চেতনা ও উম্মাহর ধারণা নিয়ে পথ চলবে, তখনই কেবল কুদসের মত সমগ্র দুনিয়াও তাদের জন্য এক বসবাসযোগ্য দুনিয়ায় রূপান্তরিত হবে এবং সমগ্র মানবতার জন্য মুবাওয়্যা সিদক/সাদাকাতের ভূমিতে পরিণত হবে।</p>
<p>আজ মানুষের জন্য একটি মারহামাতের চুক্তির প্রয়োজন। আর এই চুক্তি যে স্থানে স্বাক্ষরিত হবে সেই স্থান হল কুদস। আসুন, দুনিয়ার সকল ধর্মের মানুষকে কুদসে একত্রিত করি। একটি মারহামাতের চুক্তি নিয়ে কাজ করি। আর এই চুক্তিতে যে সকল ক্রাইটেরিয়া থাকবে সেটাকে আমরা ‘কুদস ক্রাইটেরিয়া’ নাম দেই। এই কুদস ক্রাইটেরিয়া সমূহ দুনিয়ার সকল মানুষকে তার অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার ক্রাইটেরিয়া হিসেবে পরিগণিত হোক। এই কুদস ক্রাইটেরিয়া সমগ্র মানবতার শান্তির অতন্ত্র প্রহরী হোক।</p>
<p>সর্বশেষ হযরত মুসা (আঃ) ভাষায় দোয়া করতে চাইঃ<br />
&#8220;قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ&#8221;<br />
মূসা শপথ করলো, &#8220;হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি এই যে অনুগ্রহ করেছো, এরপর আমি আর অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না৷&#8221;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/baitul-maqdis-from-the-perspective-of-diin-and-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15311</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
