<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>শহর ও স্থাপত্য &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/category/civilization/society-and-culture/city-and-architecture/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Sun, 09 Aug 2026 13:45:13 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.3</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>শহর ও স্থাপত্য &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>সভ্যতার মানদণ্ডে শহরের আদর্শ ও আধুনিক নগর পরিকল্পনা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/ideal-and-modern-urban-planning-as-a-benchmark-of-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/ideal-and-modern-urban-planning-as-a-benchmark-of-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. হেবা রউফ ইযযেত]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 Aug 2026 04:15:31 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=17089</guid>

					<description><![CDATA[আজকের আধুনিক শহরগুলো সাধারণত বিশ্বব্যাপী এক রকম। দুবাই, লন্ডন, ইস্তাম্বুল—এসব শহরের চেহারা ও নগর পরিকল্পনা প্রায় একই রকম হয়ে থাকে। আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, শহরের এই একরকম চেহারা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু, প্রশ্ন হলো, ইসলামী সভ্যতার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজকের আধুনিক শহরগুলো সাধারণত বিশ্বব্যাপী এক রকম। দুবাই, লন্ডন, ইস্তাম্বুল—এসব শহরের চেহারা ও নগর পরিকল্পনা প্রায় একই রকম হয়ে থাকে। আমরা এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে, শহরের এই একরকম চেহারা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু, প্রশ্ন হলো, ইসলামী সভ্যতার আদর্শে কি শহর পরিকল্পিত হতে পারে? এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এর সাথে বাজার, রিয়েল এস্টেটের দাম, চাহিদা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয়ও যুক্ত থাকে।</p>
<p><strong>নগর পরিকল্পনা করার প্রথম বিষয়টি হলো “স্কেল” বা আকার। যত বড় হবে শহর, তত কম আমাদের একে অপরের সাথে সম্পর্ক থাকে।</strong> বড় শহরে বাস করলে, আপনার প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কিত হওয়া কঠিন। একটি ভবনে যদি ১৫টি ফ্ল্যাট থাকে, আপনি কী সব প্রতিবেশীর সাথে একইরকম ভাবে মিশতে পারবেন? একই ভবনে বাস করেও মানুষ একে অপরের সাথে সালাম দেয় না, একে অপরকে অদৃশ্য মনে করে। এখানে মানুষ একে অপরের সাথে সহজে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় না, কারণ তারা জানে যে সম্পর্কগুলো অস্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল।</p>
<p>এটি একটি গভীর সমাজতাত্ত্বিক সমস্যা, যা আমাদের সভ্যতার মানদণ্ড ও মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শহরে বাস করার জন্য আমাদের কি কিছু নতুন মানদণ্ড তৈরি করা উচিত। এটি শুধু আবাসন কিংবা জীবনযাত্রার মান নয়, বরং এটি আমাদের “সফলতা” এবং “সুখ” কীভাবে মাপি, তার ওপর নির্ভরশীল।</p>
<p><strong>সভ্যতাকে বিচার করা যেতে পারে দুটি বিষয় দিয়ে—একটি হলো সফলতার সংজ্ঞা, এবং অন্যটি হলো সুখের সংজ্ঞা।</strong> সফলতা কী? আমরা আজকের সমাজে সফলতা মাপি বাইরের দৃশ্যমান উপাদান দিয়ে—গাড়ি, বাড়ি, ইত্যাদি নিয়ে শো-অফ। কিন্তু, আমরা জানি যে, প্রকৃত সফলতা কোনো কিছু অর্জনে নয়, বরং একজন মানুষের আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং সমাজের প্রতি তার ভালোবাসা, সদাচার ও সদাসম্ভাবনা প্রকাশে নিহিত।&nbsp;</p>
<blockquote><p>একটি শহরের প্রকৃত সফলতা এবং সুখের মাপকাঠি হতে পারে, সেই শহরের বাসিন্দারা কতটা একে অপরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছে, কতটা মানবিকভাবে একে অপরকে সহায়তা করতে পারছে। এটা একটি নতুন প্রজন্মের আদর্শ, যা ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে উজ্জ্বলভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। আমাদের শহরের পরিকল্পনায় এই মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যেখানে একজন মুসলিম শুধু নিজের জীবনের মধ্যে নয়, বরং তার আশপাশের মানুষের জীবনেও সুখ এবং উন্নতি নিশ্চিত করতে চায়।</p></blockquote>
<p><strong>নগর পরিকল্পকদের জন্য একটি বিশেষ পরামর্শ হলো—তাদের শুধু “অর্ডার” বা নিয়মে আটকে না থেকে “ডিজাইনিং ডিসঅর্ডার” এর দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। অর্থাৎ, শহরগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা উচিত যাতে সেখানে মানুষ একত্র হতে পারে, আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে, এমনকি প্রতিবাদও করতে পারে।</strong></p>
<p>উদাহরণ হিসেবে তেহরির স্কয়ারের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে পুলিশ যদি আক্রমণ করত, তবে মানুষ পালানোর জন্য উপযুক্ত রাস্তা পেতো। এটি শহরের ডিজাইন সম্পর্কে এক নতুন ধারণা দেয়, যা মানুষের স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার ক্ষেত্র তৈরি করে।</p>
<p>এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে—এটা কি শুধুমাত্র ইসলামী বিষয় হবে, নাকি এটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো? মূলত এটি ইসলামী হতে অথবা নাও হতে পারে, বরং এটি সিস্টেমের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতা অপরিহার্য। উদাহরণ হিসেবে জাহা হাদিদের কথা উল্লেখ করা যায়, যিনি নিয়ম ভেঙে নতুনভাবে ভবন ডিজাইন করতে শুরু করেছিলেন এবং পরে সেই নিয়ম তাকে খ্যাতি এনে দেয়। আমাদের উচিত ভবিষ্যতের স্থপতিদের প্রতি এমন চ্যালেঞ্জের মনোভাব গড়ে তোলা, যাতে তারা কোনো সিস্টেমের অধীনে না থেকে নিজের পথ তৈরি করতে পারে।</p>
<p><em>একটি বিশেষ বিষয় হলো, ঐতিহাসিক ক্ষত বা collective trauma নিয়ে আলোচনা। বিশেষত, মুসলিম বিশ্বের যেখানে অনেক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং সংঘাতের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি হয়েছে, সেখানকার জনগণের মধ্যে একটি মানসিক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের উচিত সেই ক্ষতকে মাথায় রেখে, কিন্তু তা দিয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করতে দিয়ে, সামনে এগিয়ে চলা। বিশেষত, আমরা যদি ইসলামী সভ্যতা এবং সমাজ গড়তে চাই, তবে আমাদের ঐতিহাসিক ক্ষতগুলোকে অতিক্রম করতে হবে, এবং সেই সঙ্গে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।</em></p>
<p>যখন আপনি স্থান পরিবর্তন করেন, আপনি নতুন কিছু শিখতে পারেন এবং নতুন কিছু করতে পারেন। তবে সেই ঐতিহাসিক ক্ষত আমাদের ভবিষ্যতের পথে বাধা হতে পারে না।”</p>
<p>জাতীয়তাবাদ ইসলামী পরিচয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী নয়। মানুষের একটি গোষ্ঠী বা জাতির প্রতি যে বৈশিষ্ট্য এবং গর্ব রয়েছে, তা তাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। এটি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য, যদি আমরা বুঝতে পারি যে, আমাদের মানবিক স্বার্থ এবং ঐতিহ্যকে সম্মান দিয়ে আমরা সামগ্রিকভাবে মানবতার সেবা করতে পারি।</p>
<p><em>এবং, শহর পরিকল্পনা বা ইসলামী সভ্যতার পুনর্গঠন নিয়ে গবেষণা একটি তাত্ত্বিক দিকেই সীমাবদ্ধ না থেকে, বাস্তব নীতি প্রণেতাদের সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে। গবেষণা এবং নীতির মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে, যাতে এটি বাস্তবে কার্যকর হয়ে ওঠে। পলিসি মেকার, প্রকৌশলী, মিডিয়া পেশাজীবী, এবং অন্য সকল পেশাজীবী একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে ইসলামী সভ্যতার মূলনীতি বাস্তবায়িত হয়।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদ: সাবিহা শুচি&nbsp;</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/ideal-and-modern-urban-planning-as-a-benchmark-of-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">17089</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বায়োফিলিক ডিজাইন: নতুন আবিষ্কার নাকি প্রাচীন ধারণার আধুনিক রূপ?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/biophilic-design-a-new-discovery-or-a-modern-take-on-ancient-concept/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/biophilic-design-a-new-discovery-or-a-modern-take-on-ancient-concept/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Jul 2026 16:02:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শিল্পকলা]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16982</guid>

					<description><![CDATA[বর্তমান স্থাপত্যচর্চায় “বায়োফিলিক ডিজাইন (Biophilic Design)” একটি বহুল আলোচিত ধারণা। ১৯৮০-এর দশকে জীববিজ্ঞানী ই. ও. উইলসন (E. O. Wilson) এর মাধ্যমে এই আইডিয়া পরিচিতি লাভ করে।&#160; এর মৌলিক প্রতিপাদ্য খুবই সহজ-মানুষের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সহজাত প্রবণতা বিদ্যমান,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বর্তমান স্থাপত্যচর্চায় <strong>“বায়োফিলিক ডিজাইন (Biophilic Design)”</strong> একটি বহুল আলোচিত ধারণা। ১৯৮০-এর দশকে জীববিজ্ঞানী ই. ও. উইলসন (E. O. Wilson) এর মাধ্যমে এই আইডিয়া পরিচিতি লাভ করে।&nbsp; এর মৌলিক প্রতিপাদ্য খুবই সহজ-মানুষের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি সহজাত প্রবণতা বিদ্যমান, আর আমাদের নির্মিত পরিবেশের নকশা এমন হওয়া উচিত যা এই সম্পর্ককে বরং লালন করে, বিচ্ছিন্ন নয়।</p>
<p>সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বায়োফিলিক ডিজাইন এক ধরনের জনপ্রিয় ধারায় পরিণত হয়েছে। স্থপতিরা এটা নিয়ে&nbsp; আলোচনা করছেন, ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা একে কেন্দ্র করে তাদের কাজের পোর্টফোলিও সাজাচ্ছেন আর রিয়েল এস্টেট ডেভেলপাররা এটিকে ব্যবহার করছেন বিপণনের উপকরণ হিসেবে। এর মূল নীতিমালাও এখন সুপ্রতিষ্ঠিত—প্রাকৃতিক আলোর সর্বোত্তম ব্যবহার, গাছপালাকে ডিজাইনের অংশ হিসেবে সংযোজন, স্থানীয় ও প্রাকৃতিক নির্মাণ উপকরণের প্রয়োগ, বাইরের প্রকৃতির সাথে দৃশ্যমান সংযোগ তৈরি এবং অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহের সুযোগ নিশ্চিতকরণ।</p>
<p><strong>কিন্তু বাস্তবতা হলো—ঐতিহাসিকভাবে এই আইডিয়া মোটেও নতুন নয়।</strong></p>
<p>আপনি যদি Alhambra-এর প্রাঙ্গণে হাঁটেন, মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী রিয়াদ বা আন্দালুসীয় ভিলার অঙ্গন অতিক্রম করেন, কিংবা Generalife-এর উদ্যানসমূহে বিচরণ করেন, তাহলে এমন স্থাপত্যের মধ্য দিয়েই চলবেন, যা বায়োফিলিক ডিজাইনের ধারণাকে শতাব্দীর পর শতাব্দী আগে থেকেই উপলব্ধি করেছিল। আর এগুলো কেবল তাত্ত্বিক নীতিমালা ছিল না; বরং স্থাপত্য কীভাবে প্রয়োগ করা উচিত—সেই সম্পর্কে মৌলিক ধারণার অংশ ছিল।</p>
<p>মাগরেব এবং আন্দালুসিয়ার মানুষ একে &#8216;বায়োফিলিক ডিজাইন&#8217; (প্রকৃতিবান্ধব স্থাপত্য) নামে অভিহিত করেননি; তারা একে স্রেফ &#8216;জীবনযাপন&#8217; বলতেন।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16984 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAvGdHbEAMC7dw-768x1024.jpg" alt="" width="768" height="1024" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAvGdHbEAMC7dw-768x1024.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAvGdHbEAMC7dw-225x300.jpg 225w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAvGdHbEAMC7dw-1152x1536.jpg 1152w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAvGdHbEAMC7dw.jpg 1440w" sizes="(max-width: 768px) 100vw, 768px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্রঃ <em>মারাকেশের একটি ‘রিয়াদ’</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>বায়োফিলিক ডিজাইন আসলে কী বোঝায়?</strong></h4>
<p>আরও ঐতিহাসিক উদাহরণ আলোচনার আগে বায়োফিলিক ডিজাইন আসলে কী, তা স্পষ্ট করে নেওয়া প্রয়োজন; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধারণাটি ভুলভাবে বোঝা হয়।</p>
<p><strong>&#8220;বায়োফিলিক ডিজাইন মানে মানে ঘরে একটি শৌখিন গাছ রাখা কিংবা দেয়ালে গাছের ছবি ঝুলিয়ে দেওয়া নয়। এটিকে স্রেফ ঘরের &#8216;সাজসজ্জা&#8217;&nbsp; বা &#8216;ডেকোরেশন&#8217; হিসেবে না দেখে, জীবনের সাথে প্রকৃতির&nbsp; সংযোগ বা &#8216;ইন্টিগ্রেশন&#8217; হিসেবে ভাবা উচিত।&#8221;</strong></p>
<p>প্রকৃত ‘বায়োফিলিক ডিজাইন’ (প্রকৃতি-বান্ধব স্থাপত্যশৈলী) বলতে চারপাশের পরিবেশ এমনভাবে গড়ে তোলাকে বোঝায়, যেখানে প্রকৃতি আপনার জীবন যাপনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে ওঠে—এমন কিছু নয় যা আপনি কেবল মাঝেমধ্যে উপভোগ করবেন। অর্থাৎ এমন আলোর ব্যবস্থা; যা দিনের গতিপ্রকৃতির সঙ্গে পরিবর্তিত হয়;&nbsp; বায়ুর এমন প্রবাহ যা মুক্তভাবে সম্পূর্ণ পরিসরে বয়ে বেড়ায়; এমনসব উপাদানের ব্যবহার যা সময়ের সাথে সাথে পরিপক্ব হয় ও প্রাণবন্ত থাকে; এমন সব উদ্ভিদ—যা ঋতুর আবর্তনে বাড়ে ও রূপ পরিবর্তন করে; এবং পানির এমন স্পর্শ যা পরিবেশকে শীতল ও আর্দ্র রাখে এবং ছন্দময় ধ্বনির মাধ্যমে সেই স্থানের অনুভূতিকে সমৃদ্ধ করে। এটি এমন এক স্থাপত্যশৈলী যা প্রকৃতিকে কেবল বাহ্যিক অনুষঙ্গ বা অলংকার হিসেবে নয়, বরং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করে।</p>
<p>আর ঠিক এই পদ্ধতিই নিখুঁতভাবে অনুকরণ করা হয়েছিল <strong>‘মুরিশ স্থাপত্যশৈলীতে’ (Moorish architecture)।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>অন্তঃপ্রাঙ্গণ উদ্যান</strong></h4>
<p>মুরিশ স্থাপত্যে প্রাঙ্গণ বা উঠানকে কেবল বাইরের খোলা স্থান হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটিই ভবনের প্রাণকেন্দ্র। কক্ষ, বারান্দা, যাতায়াতের পথ, আলো ও বাতাস—সবকিছুই এই প্রাঙ্গণকে ঘিরে বিন্যস্ত হয় এবং একে কেন্দ্র করেই &nbsp;সম্পূর্ণ স্থাপত্যে গড়ে ওঠে।</p>
<p>ফেজ কিংবা মারাকেশের ঐতিহ্যবাহী কোনো <strong>&#8216;রিয়াদ&#8217;-এর (ঐতিহ্যবাহী মরক্কোন বাড়ি)</strong> প্রাঙ্গণে পা রাখলেই চারপাশের সবুজে আপনি ঘেরাও হয়ে যাবেন। কমলালেবু গাছ, জুঁইফুল এবং নানা ধরনের লতানো উদ্ভিদ সেই পরিবেশকে সজীব করে তোলে। এই গাছগুলো কিন্তু নান্দনিকতা বাড়াতে কোনো সুনির্দিষ্ট মাপে টবে সাজিয়ে রাখা হয়নি; বরং সরাসরি মাটিতে রোপণ করা হয়েছে। তারা গভীরভাবে শিকড় গেড়ে স্থাপত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রাঙ্গণটি <strong>প্রথমত</strong> একটি বাগান, আর <strong>দ্বিতীয়ত</strong> একটি স্থাপত্যিক পরিসর।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter wp-image-16985 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwJrbboAAynMD-819x1024.jpg" alt="" width="819" height="1024" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwJrbboAAynMD-819x1024.jpg 819w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwJrbboAAynMD-240x300.jpg 240w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwJrbboAAynMD-768x960.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwJrbboAAynMD.jpg 1080w" sizes="(max-width: 819px) 100vw, 819px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্র: <em>মারাকেশের একটি &#8216;রিয়াদ&#8217; (ঐতিহ্যবাহী মরক্কোন বাড়ি)</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>একই ধারণার (concept) প্রতিফলন দেখা যায় আলহামব্রাতেও। <strong>কোর্ট অব দ্য লায়ন্স</strong> এবং <strong>কোর্ট অব দ্য মার্টলস</strong> তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই প্রাঙ্গণগুলো ছায়া তৈরি করে এবং ভেতরের গরম বাতাসকে উপরে উঠে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়, ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। উদ্ভিদগুলো প্রস্বেদনের মাধ্যমে বাতাসকে শীতল করে, আর প্রাঙ্গণের বিন্যাস ও জ্যামিতিক গঠন বাতাসের প্রবাহকে পরিচালিত করে।</p>
<p>আলহামব্রা প্রাসাদের সাথে যুক্ত গ্রীষ্মকালীন রাজপ্রাসাদ <strong>&#8216;জেনারালাইফ&#8217;</strong> <strong>(Generalife)</strong>-তে এই ভাবনাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও উঁচুতে। সেখানে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া উদ্যান, বৃক্ষরোপিত বাগানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলধারা আর ফলের বাগানের মধ্যে স্থাপিত ছোট ছোট প্যাভিলিয়ন; প্রকৃতি ও স্থাপত্যের মধ্যে যেন এক অপূর্ব সমন্বয়।</p>
<p>এখানেই বায়োফিলিক ডিজাইন সবচেয়ে পরিপূর্ণ রূপে প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ এমন এক স্থাপত্যধারা যা প্রকৃতিকে কেবল দর্শনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং প্রকৃতির মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব গড়ে তোলে।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter wp-image-16986 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5-1024x683.jpg" alt="" width="1024" height="683" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5-1024x683.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5-300x200.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5-768x512.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5-1536x1024.jpg 1536w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwXItb0AA5nm5.jpg 1920w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্র: <em>জেনারালাইফ, আলহামব্রা।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>জীবন্ত উপাদান হিসেবে পানি/ জীবনের স্পন্দন হিসেবে পানি</strong></h4>
<p>মুরিশ স্থাপত্যে পানি সর্বত্রই উপস্থিত। তবে তা কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উপকরণ হিসেবে নয়, বরং স্থাপত্যের মূল অবকাঠামোর কার্যকর ও অপরিহার্য অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রাঙ্গণগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফোয়ারা, চলাচলের পথের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সরু জলধারা, আর স্থির জলাধারগুলো আকাশ ও আলোর প্রতিচ্ছবি ধারণ করেছে। কিন্তু এসবের ভূমিকা কেবল নান্দনিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। একই সঙ্গে এগুলো বাতাসকে শীতল করে, শুষ্ক আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে, চারপাশের কোলাহলকে মৃদু পানির সুরে প্রশমিত করে, দৃষ্টিকে প্রশান্তি দেয় এবং সর্বোপরি মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে এক গভীর ইন্দ্রিয়গত সম্পর্কে যুক্ত করে।</p>
<p>আলহামব্রার <strong>&#8216;কোর্ট অব দ্য লায়ন্স&#8217;</strong>-এ বারোটি মার্বেল পাথরের সিংহ একটি জলাধারকে পিঠে ধারণ করে আছে, যেখান থেকে চার দিকে চারটি জলধারা প্রবাহিত হয়েছে। এখানে পানি অবিরাম প্রবাহিত হতে থাকে, এবং তার শব্দ চারপাশে স্পষ্টভাবে শোনা যায়। অনেক সময় জলাধার দেখার আগেই তার উপস্থিতি অনুভূত হয় অর্থাৎ এর কলকল ধ্বনিই আগে কানে পৌঁছায়। এই শব্দটাই চারপাশের পরিবেশে এক বিশেষ আবহ সৃষ্টি করে, আর পানির এই অবিরাম প্রবাহই যেন সেখানে প্রাণস্পন্দন জাগিয়ে তোলে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-16987 size-large aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ-675x1024.jpg" alt="" width="675" height="1024" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ-675x1024.jpg 675w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ-198x300.jpg 198w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ-768x1165.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ-1013x1536.jpg 1013w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAwlbTbIAA9JNQ.jpg 1266w" sizes="(max-width: 675px) 100vw, 675px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্রঃ <em>কোর্ট অব দ্য লায়ন্স, আলহামব্রা</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>গ্রানাডা কিংবা মারাকেশের মতো উষ্ণ ও শুষ্ক জলবায়ুর অঞ্চলে পানি অত্যন্ত মূল্যবান একটি&nbsp; সম্পদ। কিন্তু মুরিশ স্থাপত্য একে আড়াল করে রাখেনি বা কেবল ব্যবহারিক প্রয়োজনের উপাদান হিসেবে বিবেচনা করেনি। বরং পানিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কেন্দ্রস্থলে নিয়ে এসেছে। ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত এর সংস্পর্শে আসে—এর শব্দ শোনে, &nbsp;সৌন্দর্য দেখে এবং বায়ুপ্রবাহের ফলে এর শীতল প্রভাব অনুভব করে।</p>
<p>আধুনিক স্থাপত্য পানিকে সাধারণত পাইপের ভেতরে চোখের আড়ালে রেখে পরিচালিত করা হয়; এর প্রবাহ চোখে পড়ে না এবং উপস্থিতিও অনুভূত হয় না। কিন্তু মুরিশ স্থাপত্য পানিকে দৃশ্যমান, অনুভবযোগ্য ও পরিবেশে অংশগ্রহণকারী এক উপাদানে রূপ দিয়েছে। সেখানে পানি কেবল ব্যবহারের বস্তু নয়; বরং পরিবেশের সক্রিয় উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস</strong></h4>
<p>মুরিশ স্থাপত্যে আলো কোনো অপরিবর্তনীয় বা নিষ্ক্রিয় উপাদান নয়। বরং সুপরিকল্পিতভাবে এর উপস্থিতি ও গতিপথ পরিচালনা করা হয়। এখানকার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ বা আঙিনাগুলো ওপর থেকে সূর্যালোককে ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, একই সঙ্গে চারপাশের বারান্দাগুলোকেও ছায়াবৃত রাখে। মাশরাবিয়া (কাঠের তৈরি জালি পর্দা) তীব্র সূর্যালোক ছেঁকে মেঝে ও দেয়ালের ওপর সূক্ষ্ম ও জটিল নকশাময়&nbsp; আলো-ছায়ার বিন্যাস সৃষ্টি করে, যা দিনের পরিক্রমায় পরিবর্তিত ও স্থানান্তরিত হতে থাকে এবং অভ্যন্তরীণ পরিসরে এক কোমল ও&nbsp; স্নিগ্ধ আবহ তৈরি হয়। আবার কৌশলগতভাবে জানালাগুলোকে এমনভাবে স্থাপন করা; একদিকে যেমন বাইরের চমৎকার দৃশ্যকে ফ্রেমবন্দি করে, অন্যদিকে তেমনি রোদের তীব্র চোখধাঁধানো আলোকেও নিয়ন্ত্রণ করে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16988 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd-1024x683.jpg" alt="" width="1024" height="683" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd-1024x683.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd-300x200.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd-768x512.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd-1536x1024.jpg 1536w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxXfMbEAAE7bd.jpg 1920w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্রঃ <em>আলহামব্রার জালিশিল্প</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>যে স্থাপত্যে দক্ষতার সাথে আলো নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেখানে বাতাসের প্রবাহকেও একইভাবে পরিচালনা করা হয়। এখানকার প্রাঙ্গণগুলো প্রাকৃতিকভাবেই বায়ু চলাচলের (ভেন্টিলেশন) অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে: শীতল বায়ু নিচের স্তরে জমা হয়, আর উষ্ণ বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে বাইরে বেরিয়ে যায়।</p>
<p><strong>পুরো ভবনের নকশার পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয় অভ্যন্তরীণ পরিসরে যেন সবসময় আড়াআড়িভাবে বাতাস (ক্রস-ব্রিজ) প্রবাহিত হতে পারে। কক্ষগুলো বারান্দার দিকে উন্মুক্ত, আর বারান্দাগুলো আবার খোলা প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত; ফলে পুরো ভবনজুড়ে বায়ুপ্রবাহের জন্য একটি ধারাবাহিক ও স্বাভাবিক গতিপথ তৈরি হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটির জন্য কোনো জটিল যান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে না। এটি মূলত জলবায়ুর সঙ্গে স্থাপত্যের এক সৃজনশীল সমন্বয়ের উদাহরণ।</strong></p>
<p>আধুনিক পরিভাষায় একে আমরা বলি প্যাসিভ কুলিং (যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখা), ডে-লাইটিং (দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার) এবং প্রাকৃতিক বায়ুপ্রবাহের নিশ্চিতকরণ (ন্যাচারাল ভেন্টিলেশন)। বর্তমান যুগের টেকসই স্থাপত্যশিল্প (সাসটেইনেবল ডিজাইন) আজ যে নীতিগুলো নতুন করে শেখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে, মুরিশ স্থাপত্যে তা শুরু থেকেই মিশে ছিল আষ্টেপৃষ্ঠে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্রাকৃতিক উপাদান</strong></h4>
<p>মানুষের ব্যবহৃত এসব উপকরণই মানুষকে সরাসরি প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত করে। যেমন— খোদাইকৃত <strong>দেবদারু কাঠের</strong> (Cedar wood) বিম, যা সময়ের সাথে সাথে আরও পরিপক্ব হয়ে ওঠে।<strong> তাদেলাক্ট</strong> (Tadelakt plaster) প্লাস্টার, যা চুন থেকে প্রস্তুত এবং হাতে ঘষে মসৃণ করা হয়। <strong>জেলিজ (Zellij) টাইলস</strong>, যা মাটি থেকে তৈরি এবং মৃত্তিকাবর্ণ রঙের প্রলেপে আবৃত। পাথরের মেঝে, যা পায়ের তলায় শীতল অনুভূতি জাগায়। বোনা কাপড়, যা উদ্ভিদজাত রঙে রাঙানো হয়।</p>
<p><strong>এসব উপকরণ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। এরা শ্বাস নেয়, বয়স বাড়ার সাথে পরিণত হয়, এবং সময়ের সাথে সাথে এদের গায়ে পরিণতির স্বাভাবিক ছাপ(Patina) ফুটে ওঠে। আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রতি সাড়া দেয়। এই অর্থে তারা জীবন্ত—যা কৃত্রিম উপকরণে অনুপস্থিত।</strong></p>
<p>আর যেহেতু এগুলো নষ্ট বা ক্ষয় হওয়ার বদলে সময়ের সাথে সাথে পরিপক্ব হয়, তাই দিন দিন এদের সৌন্দর্য কেবল বাড়তেই থাকে। দেবদারু কাঠের ছাদ সময়ের সাথে সাথে আরও গাঢ় ও গভীর রঙ ধারণ করে। প্লাস্টারের টেক্সচার বা গঠন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্রমাগত হাঁটাচলার ফলে পাথরের মেঝে মসৃণ ও চকচকে হয়ে ওঠে।</p>
<p>এটি সেই আধুনিক উপকরণগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত—যেগুলোকে এমনভাবে নির্মাণ করা হয় যাতে তারা অপরিবর্তিত থাকে, পরিবর্তন প্রতিরোধ করে এবং চিরকাল ‘নতুন’ দেখায়। কিন্তু মুরিশ স্থাপত্যের উপকরণগুলো সময়ের প্রবাহে সক্রিয়ভাবে ভুমিকা রাখে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্রকৃতি অনুপ্রাণিত নকশা</strong></h4>
<p>এমনকি মুরিশ স্থাপত্যের অলঙ্করণগুলোও প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত।</p>
<p><strong>আরাবেস্ক (Arabesques)</strong>—প্লাস্টারের ওপর খোদাই করা লতা-পাতা ও ফুলের জটিল, পরস্পর-সংযুক্ত নকশা। জ্যামিতিক নকশাগুলো প্রকৃতির মেনে চলা গাণিতিক নিয়মাবলীর আলোকে করা; যেমন প্রতিসাম্য (symmetry), পুনরাবৃত্তি (repetition) এবং ফ্র্যাক্টাল বিন্যাস (fractals)। একইভাবে, <strong>মুকারনাস (Muqarnas)</strong> খিলান বা ছাদগুলোর গঠন যেন স্ট্যালাক্টাইট (গুহার ছাদ থেকে ঝুলে থাকা পাথরের স্তর), মৌচাক কিংবা প্রকৃতির স্বাভাবিক জৈবিক বৃদ্ধি বা বিকাশের অণুরূপ।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16989 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl-683x1024.jpg" alt="" width="683" height="1024" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl-683x1024.jpg 683w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl-200x300.jpg 200w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl-768x1152.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl-1024x1536.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAxq-jbEAIpqQl.jpg 1280w" sizes="(max-width: 683px) 100vw, 683px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্রঃ <em>আলহামব্রায় জেলিজ টাইলসের ওপরের অংশে থাকা সূক্ষ্ম আরাবেস্ক নকশা ও ক্যালিগ্রাফির একটি দৃশ্য।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আলহাম্বরার জেলিজ টাইলসের ওপর খচিত সূক্ষ্ম আরাবেস্ক নকশা ও ক্যালিগ্রাফির দিকে তাকালে এই প্রকৃতি-প্রণোদিত শিল্পভাষার এক অপূর্ব প্রকাশ দেখা যায়।</p>
<p>ইসলামি ঐতিহ্যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানব বা প্রাণীর অবয়বচিত্রের ব্যবহার নিরুৎসাহিত হওয়ায় অলংকরণ ধীরে ধীরে বিমূর্ত রূপ নেয়। তবে এই বিমূর্ততা প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতার নাম নয়। বরং এসব নকশা এখনও প্রকৃতির বিকাশ, শৃঙ্খলা এবং দৃশ্যমান কাঠামোগত বিন্যাসের প্রতিই ইঙ্গিত করে।</p>
<p>যখন দেয়াল, ছাদ ও মেঝেজুড়ে বিস্তৃত এসব নকশা দ্বারা আপনি পরিবেষ্টিত থাকেন, তখন আসলে আপনি প্রকৃতিক দৃশ্যগত রূপের প্রতিধ্বনির মধ্যেই অবস্থান করেন। প্রকৃতির প্রত্যক্ষ উপস্থিতি সেখানে না থাকলেও তার ছন্দ, বিন্যাস ও সৃষ্টির সৌন্দর্য &nbsp;সর্বত্র প্রতিফলিত হয়। এক অর্থে, এটি বায়োফিলিক ডিজাইনেরই আরেক রূপ—তবে এখানে প্রকৃতি প্রকাশিত হয়েছে জ্যামিতির ভাষায়, নকশার ছন্দে এবং প্রকৃতির অন্তর্নিহিত সুশৃঙ্খল বিন্যাসের মাধ্যমে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>আধুনিক বাসস্থান যা হারিয়েছে</strong></h4>
<p>এসব বৈশিষ্ট্যের সাথে একটি সাধারণ আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ির তুলনা করে দেখুন।</p>
<p>বন্ধ জানালা, যান্ত্রিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (HVAC), কৃত্রিম আলো এবং এমন সব সিন্থেটিক বা কৃত্রিম উপাদান যা শ্বাস নিতে পারে না অর্থাৎ প্রাণহীন। আর গাছপালা থাকলেও ,সেগুলো হয়তো তাকের ওপর টবে সাজানো—কেবলই সাজসজ্জার অনুষঙ্গ হিসেবে, যা স্থাপত্যের মূল কাঠামোর সাথে সামগ্রিকভাবে সম্পর্কহীন বা কখনো একেবারেই বিচ্ছিন্ন।</p>
<p>এখানে ঘরের ভেতর আর বাইরের জগতের মধ্যকার এই ব্যবধানটা প্রায় চূড়ান্ত। কেননা প্রকৃতি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী নয়; এমন এক জিনিসে পরিণত হয়েছে যা মানুষ কেবল অবসরে দেখতে যায়।</p>
<p>আমরা উঠোন বা আঙিনাকে বদলে ফেলেছি লিভিং রুমে। বাগানকে রূপ দিয়েছি লন-এ (অথবা কোনো খোলা জায়গাই রাখিনি। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের পথ বন্ধ করে এনেছি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (air conditioner)। দিনের আলো ব্যবহারের পরিবর্তে এনেছি ছাদের কৃত্রিম এলইডি (LED) লাইট। আর সময়ের সাথে সাথে যে উপাদানগুলো নিজস্ব মহিমায় রূপ নেয়, সেগুলোকে বদলে আমরা ব্যবহার করছি এমন সব উপাদান যা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।</p>
<p>আর এরপর আমরা অবাক হয়ে ভাবি, আমাদের ঘরবাড়িগুলোকে কেন এত প্রাণহীন মনে হয়।</p>
<p>আজ যে <strong>বায়োফিলিক ডিজাইনকে</strong> নতুন করে আবিষ্কার করার চেষ্টা চলছে, তা মূলত আমাদের হারিয়ে যাওয়া সেই প্রাণবন্ততা এবং সেই জীবন্ত স্থাপত্য-দর্শনকে পুনরুদ্ধারেরই একটি প্রয়াস।</p>
<h3>&nbsp;</h3>
<h4>কীভাবে সেই হারানো সংযোগ পুনরুদ্ধার করা যায়?</h4>
<p>এই নীতিমালা গুলোকে আপনার বাসস্থানে ফিরিয়ে আনতে&nbsp; কোনো রাজপ্রাসাদের প্রয়োজন নেই। সত্যি বলতে, একটি খোলা প্রাঙ্গণ (courtyard) থাকাও অপরিহার্য নয়। প্রয়োজন শুধু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন—ঘরের ভেতর ও বাইরের সম্পর্ককে, স্থাপত্য ও জীবনের সম্পর্ককে নতুনভাবে চিন্তা করার মানসিকতা।</p>
<p><strong>·&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; প্রথমে আলো দিয়ে শুরু করুন:</strong></p>
<p>পর্দা সরিয়ে দিন। দিনের আলোকে আপনার বসবাসের পরিসরে প্রবাহিত হতে দিন। সম্ভব হলে আসবাবপত্র এমনভাবে সাজান, যাতে আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারের স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো পৌঁছায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে আলোর এই পরিবর্তন লক্ষ্য করুন এবং তার স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হতে দিন।</p>
<p><strong>·&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; জীবন্ত উদ্ভিদকে আপনার পরিসরের অন্তর্ভুক্ত করুন, তবে অলংকরণ হিসেবে নয়; কার্যকর উপাদান হিসেবে:</strong></p>
<p>শুধু তাকের ওপর একটি সাক্যুলেন্ট বা ক্যাকটাস গাছ রেখে<strong>ই</strong> দায়িত্ব শেষ করবেন না। ভাবুন, গাছগুলো আপনার পরিসরে<strong>র</strong> কোথায় সবচেয়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে—জানালার পাশে, যেখানে তারা আর্দ্রতার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে; ঘরের কোণগুলোতে, যেখানে তারা শব্দের প্রতিফলন ও প্রতিধ্বনি প্রশমিত করে কক্ষের ধ্বনি-প্রকৃতিকে কোমল করে তুলবে। অথবা এমন কোনো দৃষ্টিসীমায়—যেখানে প্রতিদিন আপনার চোখ পড়বে। এমন গাছ নির্বাচন করুন, যা ঋতুর পরিবর্তনে সাড়া দেয়, বেড়ে ওঠে এবং আপনার যত্ন ও মনোযোগ দাবি করে।</p>
<ul>
<li><strong>বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন:</strong></li>
</ul>
<p>যদি ঘরের জানালা খোলার সুযোগ থাকে, তবে তা খুলে দিন। এমন ব্যবস্থা করুন যেন বাতাস একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হতে পারে &nbsp;(cross-ventilation) । আপনার ঘরটিকে শ্বাস নিতে দিন। যদি আপনি কোনো শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা চারপাশ বন্ধ ভবনে থাকেন, তবে কীভাবে কৃত্রিম উপায়ে এই আবহ তৈরি করা যায় তা ভাবুন—যেমন ফ্যান চালিয়ে বাতাস সচল রাখা, অথবা মাঝে মাঝে ঘরের দরজা খুলে দিয়ে বাতাসের প্রবাহ তৈরি করা।</p>
<ul>
<li><strong>যতটুকু সম্ভব প্রকৃতিজাত উপকরণ ব্যবহার করুন:</strong></li>
</ul>
<p>কাঠ, পাথর, লিনেন, সুতি কাপড় বা পোড়ামাটি। এমন সব উপাদান বেছে নিন যা পুরনো হলেও তার সৌন্দর্য হারায় না, বরং একটি নিজস্ব আভিজাত্য পায়। যখন আপনি ঘরের কোনো জিনিস—যেমন গালিচা, কাটিং বোর্ড বা জিনিসপত্র রাখার কোনো ঝুড়ি পরিবর্তন করবেন, তখন এমন কিছু বেছে নিন যা একসময় জীবন্ত কোনো উপাদান থেকে তৈরি হয়েছিল।</p>
<ul>
<li><strong>আপনার পরিসরে</strong><strong> পানিও</strong> <strong>অন্তর্ভুক্ত করুন,</strong> <strong>এমনকি তা প্রতীকী হলেও:</strong></li>
</ul>
<p>বারান্দায় বা টেবিলের ওপর ছোট একটি পানির ফোয়ারা বা জলাধারও সুন্দর ও প্রশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। পানি শুষ্ক বাতাসকে আর্দ্র করে, বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ঘরকে শীতল রাখে এবং ঘরের পরিবেশে একটা প্রাণবন্ত অনুভূতি এনে দেয়।</p>
<ul>
<li><strong>প্রকৃতিকে দেখার সুযোগ তৈরি করুন:</strong></li>
</ul>
<p>আপনার যদি একটি জানালা থাকে, তবে সেটিকে একটি ছবির ফ্রেমের মতো বিবেচনা করুন। জানালার কার্নিশে একটি গাছ রাখুন, কিংবা আসবাবগুলো এমনভাবে বসান যাতে বসার পর বাইরের যতটুকু সবুজ আছে তা আপনার চোখে পড়ে। যদি একটি বারান্দা থাকে, তবে সেটিকে আপনার বসার ঘরেরই একটি অংশ বানিয়ে তুলুন, কেবল জিনিসপত্র জমিয়ে রাখার গুদাম বানাবেন না। আর আপনি যদি কোনো জানালাবিহীন ঘরে থাকেন, তবে আপনার জন্য জীবন্ত গাছপালা আরও বেশি জরুরি; কারণ এগুলোই প্রকৃতির অনুপস্থিত উপাদানকে কিছুটা পূরণ করতে পারে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16990 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-1024x1024.jpg" alt="" width="1024" height="1024" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-1024x1024.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-300x300.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-150x150.jpg 150w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-768x768.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h-1536x1536.jpg 1536w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/07/HAAyKbUbEAM813h.jpg 1920w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p style="text-align: center;">চিত্রঃ <em>একটি সমসাময়িক বা আধুনিক অন্দরমহল (interior), যা প্রাকৃতিক আলো, উদ্ভিদ ও উপকরণের সমন্বয়ের মাধ্যমে বায়োফিলিক ডিজাইন এর নীতিগুলোকে সফলভাবে ধারণ করতে পারে।</em></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে পারি, এর কোনোটির জন্যই বিপুল সম্পদের প্রয়োজন নেই। বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজও দরকার হয় না। প্রয়োজন শুধু সামান্য মনোযোগ—আলো কীভাবে চলাচল করে, বাতাস কেমন অনুভূত হয় এবং জীবনের প্রাণস্পন্দন কিভাবে আপনার পরিসরে প্রবেশ করতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>প্রাণস্পন্দিত আবাস</strong></h4>
<p>অনেকেই ‘বায়োফিলিক ডিজাইন’ বা প্রকৃতিবান্ধব স্থাপত্যশৈলীকে হয়তো সাময়িক একটি ট্রেন্ড বা ফ্যাশন মনে করেন। কিন্তু আসলে তা নয়। এটি মূলত আমাদের এমন এক বাস্তবতার পুনঃস্বীকৃতি, যা মানুষ বরাবরই জানত, কিন্তু আধুনিক নির্মাণশৈলীর প্রভাব তা ভুলিয়ে দিয়েছে: আর তা হলো, বাসস্থানে প্রাণ থাকা উচিত।</p>
<p><strong>এখানে ‘প্রাণ’ শব্দটি কোনো রূপক অর্থে নয়, বরং আক্ষরিক অর্থেই সত্য। এমন এক আবাস, যেখানে উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে; বাতাস সচল থাকে; দিনের পরিক্রমায় আলোর গতিশীলতা থাকে এবং যেখানে প্রতিটি নির্মাণ-উপকরণ সময়ের সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে পরিণত ও পরিপক্ব হয়; এবং যেখানে থাকবে পানির কলতান যা চারপাশে একইসাথে শীতলতা ও আর্দ্রতার মাধ্যমে প্রাণের সঞ্চার করবে।</strong></p>
<p>বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্থপতি ও নির্মাতারা এই বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন— শিল্পায়নের বহু আগে, যখন স্থাপনাগুলোকে বদ্ধ কাঠামোয় আবদ্ধ করা হয়নি এবং অন্দরমহল ও বহির্জগতের স্বাভাবিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি, তখন তারা ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে এমন স্থাপত্য নির্মাণ করতেন যা প্রকৃতির সঙ্গে এক নিবিড় সহাবস্থানের ভিত্তিতে গড়ে উঠত।</p>
<p>এই আলোচনায় আমি বারবার আলহামব্রার উদাহরণ ব্যবহার করেছি, কারণ আমার কাছে এটি বায়োফিলিক ডিজাইনের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ। তবে একটি আবাসকে প্রাণময় করে তুলতে তার প্রাসাদ হওয়া জরুরি নয়। তার জন্য একটি প্রাঙ্গণ, একটি ফোয়ারা কিংবা হাতে খোদাই করা সিডার কাঠের ছাদেরও প্রয়োজন নেই।</p>
<p>কিন্তু তার শ্বাস নেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজন প্রাকৃতিক আলোর উপস্থিতি। প্রয়োজন এমন কিছু উপাদান, যার মধ্যে জীবনের স্পন্দন বিদ্যমান।</p>
<p>আর যখন আপনি একটি স্থানে এই উপাদানগুলো প্রদান করবেন, প্রকৃতিকে কেবল সাজসজ্জার অনুষঙ্গ হিসেবে না দেখে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করবেন। তখন সেই পরিসর সম্পূর্ণই বদলে যায়। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, বরং মৌলিকভাবেও পরিবর্তিত হয়।</p>
<p><strong>অর্থাৎ তখন এটি এমন এক জায়গায় পরিণত হয় যেখানে জীবন যাপন করা যায়, জীবনকে কেবল বন্দি করে রাখা হয় না।</strong></p>
<p><strong>আর এই প্রাণময়তাই একটি স্থানকে সত্যিকার অর্থে সুন্দর করে তোলে।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/biophilic-design-a-new-discovery-or-a-modern-take-on-ancient-concept/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16982</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আতিয়া মসজিদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/atiya-mosque/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/atiya-mosque/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 25 Nov 2025 13:07:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16405</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সুপরিচিত একটি স্থাপত্য নিদর্শন আতিয়া মসজিদ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত পুরনো দশ টাকার নোটে ছবিযুক্ত থাকা এ মসজিদের অবস্থান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামে; লৌহজং নদীর পূর্বপারে। টাঙ্গাইল অঞ্চলে প্রাপ্ত মূল শিলালিপিগুলোর মধ্যে আতিয়া জামে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং সুপরিচিত একটি স্থাপত্য নিদর্শন আতিয়া মসজিদ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত পুরনো দশ টাকার নোটে ছবিযুক্ত থাকা এ মসজিদের অবস্থান টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার আতিয়া গ্রামে; লৌহজং নদীর পূর্বপারে। টাঙ্গাইল অঞ্চলে প্রাপ্ত মূল শিলালিপিগুলোর মধ্যে আতিয়া জামে মসজিদে পাওয়া একটি আরবি ও একটি ফারসি শিলালিপি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে মসজিদের নির্মাতা, সময়কাল ও প্রচলিত কিছু অসঙ্গতিমূলক তথ্য সমস্যার সমাধান করা যায় । বিদায়ী সুলতানি আর নবাগত মোগল- উভয় রীতির সংমিশ্রণে অপূর্ব এক মুসলিম স্থাপত্য এটি, যা দৃষ্টিনন্দন এবং এ অঞ্চলে বিরল। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত শিলালিপি অনুসারে প্রত্মতাত্ত্বিক আতিয়া মসজিদটির নির্মাণকাল ১০১৯ হিজরি (১৬১০-১১ খ্রি.) উল্লেখ আছে। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময়ে বায়েজীদ খান পন্নীর পুত্র সাইদ খান পন্নী, শাহ বাবা কাশ্মীরির সম্মানার্থে মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে জানা যায়। আদি শিলালিপির অনুরূপ একটি লিপি বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথের শীর্ষে প্রোথিত আছে। এ থেকে জানা যায় যে, ১০১৮ হিজরিতে (১৬০৯ সাল) মসজিদটি নির্মিত। মসজিদটির নামকরণে এক ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। আরবি শব্দ ‘আতা’ থেকে ‘আতিয়া’ শব্দের উৎপত্তি; যার অর্থ – দানকৃত’।</p>
<p>১৫৯৮ সালে আলি শাহান শাহ্‌ বাবা আদম কাশ্মিরী (র.) কে সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ টাঙ্গাইল জেলার জায়গিরদার নিয়োগ করেন। <strong>তিনি এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেন এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার ও আন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য আফগান নিবাসী কররানী শাসক সোলাইমান কররানীর কাছ থেকে সংলগ্ন এলাকা দান বা ওয়াকফ্ হিসাবে লাভ করেন। এই এলাকাটি তাঁকে দান করায় এই অঞ্চলটির নাম হয়েছে ‘আতিয়া’ বা দানকৃত। পরবর্তীতে বাবা আদম কাশ্মিরীর পরামর্শে সুফিজির এক ভক্ত সাঈদ খান পন্নীকে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর এই আতিয়া পরগণার শাসন কর্তা হিসেবে নিয়োগ দান করেন।</strong> <strong>এই সাঈদ খান পন্নীই ১৬০৯ মতান্তরে ১৬০৮ সালে বাবা আদম কাশ্মিরীর কবরের সন্নিকটে আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন।</strong> মুহাম্মদ খাঁ নামক তৎকালীন এক প্রখ্যাত স্থপতি এই মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজে যুক্ত ছিলেন।</p>
<p>মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৮.২৯ মিটার (৬৯ ফুট) , প্রস্থ ১২.১৯ মিটার (৪০ ফুট) এবং দেয়ালের পুরুত্ব ২.২৩মিটার (সাড়ে ৭ ফুট)। বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন সূত্রে জানা যায়, মসজিদটির কিবলাকোটা ও বারান্দাসহ সার্বিক পরিমাণ ১৭.৭০ঃ১২ মিটার। মসজিদের দেয়াল ২.২২ মিটার প্রশস্ত। বারান্দা ৩.৮২ ৭.৫ মিটার।</p>
<p>লাল ইটের তৈরি এ মসজিদটির পূর্ব দিকে তিনটি প্রবেশ পথ রয়েছে। এ প্রবেশ পথগুলো চতুর্কেন্দ্রিক রীতির। বারান্দা থেকে তিনটি প্রবেশপথের মাধ্যমে প্রধান ইবাদত কক্ষে প্রবেশ করা যায়। এছাড়াও এটির উত্তর-দক্ষিণে আরও দুটি প্রবেশপথ রয়েছে। মসজিদটি একই সাথে সুলতানি ও মোগল আমল এ উভয় আমলের স্থাপত্যকলা তথা মুসলিম স্থাপত্য রুচিকে সুস্পষ্টভাবে বহন করছে। সুলতানি আমলের নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে মিহরাব, কিবলা। দক্ষিণ এশীয়দের জন্য কিবলা পশ্চিমে করা হয়েছে। একই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায় মসজিদের খিলানসমূহে। আতিয়া মসজিদের খিলানগুলো চতুর্কেন্দ্রিক অথাৎ উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম- চারটি দিক দিয়েই ইবাদত কক্ষে প্রবেশ করা যায়। কিবলার দেয়ালে তিনটি অলঙ্কিত মিহরাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় মিহরাবের পেছনে বাইরের দেয়াল কিছুটা প্রক্ষেপিত। মসজিদের চার কোণে চারটি অষ্টভুজাকৃতির পার্শ্ব বুরুজ রয়েছে যা সমান দূরত্বে মোল্ডিং নকশায় বিভক্ত। কয়েকটি স্তরে তৈরি করা কারুকার্য দিয়ে সজ্জিত পার্শ্ব বুরুজগুলো ছাদের কার্নিশের উপর পর্যন্ত উঠে গেছে। সব শেষের বুরুজগুলো পলকাটা ছোট গম্বুজযুক্ত এবং কলস ফিনিয়ালে অলঙ্কৃত।</p>
<p>প্রধান গম্বুজটি খিলানভিত্তিক স্কুইঞ্চ পদ্ধতিতে নির্মিত। মনোমুগ্ধকর এ প্রধান গম্বুজটি মসজিদের অত্যন্ত নান্দনিক অংশ যা মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে প্রকাশ করে। <strong>এটি অষ্টভুজাকৃতির ড্রামের উপর স্থাপিত। গম্বুজগুলোতে কলস ফিনিয়াল এবং ভিতের চারদিকে বদ্ধ মারলোন নকশা বেষ্টিত।</strong> আতিয়া মসজিদের ধনুকবক্রাকৃতির কার্নিশ একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। এ মসজিদের পশ্চিম দেয়ালের শীর্ষে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংবলিত প্রহরা দেয়াল (battlemented wall) লক্ষ্য করা যায়।</p>
<p>আতিয়া মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দেয়াল যে অলঙ্করণ নকশা করা হয়েছে তা এ মসজিদ প্রসঙ্গ মাত্রই উল্লেখের দাবি রাখে। এতে টেরাকোটা ও ইট খোদাই নকশাতে চমৎকারভাবে আঞ্চলিক মোটিফকে উপজীব্য করে অলঙ্কৃত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ ফাসাদ সূক্ষ্ম, বিস্তৃত একই রকম প্যানেল নকশায় আচ্ছাদিত। এতে রয়েছে অসংখ্য ফুলের অলঙ্করণ, চক্রাকার ‘রোজেট’, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি। পূর্ব ফাসাদ অসংখ্য ক্ষুদ্র আয়তাকৃতির টেরাকোটা প্যানেল নকশায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। এ জাতীয় নির্মাণ কৌশল ষোলো শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের বিভিন্ন মসজিদে লক্ষ্য করা যায়। যেমন: ঝনঝনিয়া মসজিদ (১৫৩৫ খ্রি.), কদম রসুল ইমদরত (১৫৩০ খ্রি.)।</p>
<p>আতিয়া মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কুঁড়েঘরের কার্নিশের ন্যায় ধনুকের মতো বাঁকা আকৃতির কার্নিশ যা সম্পূর্ণভাবে বাংলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে। এ ধরনের আকৃতির উৎপত্তিতে আদি অকৃত্রিম বাংলার ছনের কুটিরের বাঁকানো চালের প্রভাব স্পষ্ট । অলঙ্করণ বিশেষ করে টেরাকোটা নকশা ও খোদাই ইটের নকশায় বাংলার ওস্তাগর-শিল্পীরা সুস্পষ্ট অবদান রেখেছেন। বাংলার গ্রামের খড়ের তৈরী কুঁড়ে ঘরের বেড়ার খোপ নকশা আতিয়া মসজিদের ফাসাদ অলঙ্করণে স্থান করে নিয়েছে। বস্তুত বাঁশের চালাঘর থেকে ইটের নির্মাণে এ ধরনের উদ্ভাবন শিল্পমানে আকর্ষণীয় এবং নির্মাণ ক্ষেত্রে নতুন ধারা হিসেবে বিবেচিত।</p>
<p>মসজিদটি টেরাকোটার ইটের তৈরি। চুন, সুরকি গাঁথুনি দিয়ে মসজিদটি নির্মিত। <strong>আর সুলতানি আমলে প্লাস্টার পদ্ধতি ছিল না। ফলে তারা চুন ও সুরকির গাঁথুনি দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। এছাড়া সুচালো খিলান ও গম্বুজ সবই সুলতানি আমলের নিদর্শন। আতিয়া মসজিদের পূর্ব ও উত্তর দিকের বাইরের দেয়ালে টেরাকোটার ওপর চমৎকার বৃত্তের মাঝে ফুলের নকশা করা, যেটি মোগল আমলের স্থাপত্যরীতির নিদর্শনকে বহন করে।</strong> মসজিদটি সুলতানি ও মোগল আমলের বৈশিষ্ট্যে সমন্বিত বলে এটি যুগসন্ধিক্ষণের স্থাপনা হিসেবেও পরিচিত।</p>
<p>এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটির পূর্বদিকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকৃতির বারান্দা রয়েছে। পূর্বদিকে খিলানবিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথ, মাঝখানেরটি দুপাশের প্রবেশপথ থেকে সামান্য উঁচু। অসংখ্য নকশাখচিত মসজিদটির গায়ে খোদাই করা হয়েছে আরবি হরফ। মসজিদের বারান্দার ওপর ছোট তিনটি গম্বুজ বাংলা পান্দান্তিভ পদ্ধতিতে নির্মিত। পরে সংস্কারের সময় গম্বুজগুলো পলেস্তারা দিয়ে সমান করে দেওয়া হয়েছে যদিও মসজিদ নির্মাণের সময় এমনটা ছিল না। শুরুতে গম্বুজগুলো পলকাটা বা ঢেউতোলা ছিল।</p>
<p>১৮০০ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে আতিয়া মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮৩৭ সালে রওশন খাতুন চৌধুরাণী এবং ১৯০৯ সালে আবুল আহমেদ খান গজনবী মসজিদটির সংস্কার করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এই মসজিদটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে অধিগ্রহণ করেন।</p>
<p>১৯৭৮ সালে ১০ টাকার নোটের প্রচ্ছদে প্রথমবারের মতো আতিয়া মসজিদ স্থান পায় বলে জানা যায়। এরপর ১৯৮২ সালে পরিবর্তিত ১০ টাকার নোটের প্রচ্ছদেও স্থান পায় সেটি। ফলে, প্রায় সব বাংলাদেশীর কাছে আতিয়া মসজিদ একটি অতিপরিচিত স্থাপনা। মসজিদটি শুধু ঐতিহ্যের নিদর্শনই নয়, একটি দর্শনীয় স্থানও বটে।</p>
<p>৪০০ বছরের পুরোনো এ মসজিদ বাংলাদেশ এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যরীতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে আছে। সময়ের বহমান স্রোতে ভেসে আজও মুসল্লিরা প্রাচীন এই মসজিদে একত্রিত হয়ে এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/atiya-mosque/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16405</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন: মসজিদ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/traditional-architecture-of-bangla-mosque/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/traditional-architecture-of-bangla-mosque/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[রোয়াক ডেস্ক]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 18 Oct 2024 18:21:16 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<category><![CDATA[উপমহাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14943</guid>

					<description><![CDATA[৯৩ হিজরি, ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলায় মুসলিম সভ্যতার উন্মেষকাল। তখন থেকেই বাংলায় স্থাপত্যধারায় অনন্যতা সৃষ্টির সূচনা যা নদীমাতৃক এদেশের সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ভাবধারা বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত এসব স্থাপত্যশিল্পের সর্বমূলে রয়েছে এদেশের মানুষের জীবনধারার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>৯৩ হিজরি, ৭১২ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলায় মুসলিম সভ্যতার উন্মেষকাল। তখন থেকেই বাংলায় স্থাপত্যধারায় অনন্যতা সৃষ্টির সূচনা যা নদীমাতৃক এদেশের সামাজিক,অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ভাবধারা বহন করে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিকশিত এসব স্থাপত্যশিল্পের সর্বমূলে রয়েছে এদেশের মানুষের জীবনধারার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় সম্মিলন।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright wp-image-14943" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/1.jpg" alt="" width="557" height="672" /><br />
প্রথমত বাংলায় মুসলিম স্থাপত্য মূলত গৌড় এবং পান্ডুয়াকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে কেননা এ দুটি নগরী তৎকালীন মুসলিম শাসকদের রাজধানী ছিল। <strong>স্থাপত্য নির্মাণরীতি ও গঠনশৈলীর ওপর ভিত্তি করে বাংলার মুসলিম স্থাপত্যকে দুটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা যায়— সুলতানি স্থাপত্য ও মোগল স্থাপত্য। ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত নির্মিত মসজিদ ও অন্যান্য  ইমারতকে সুলতানি স্থাপত্য এবং ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৭৫৭  খ্রিস্টাব্দের  মধ্যে  নির্মিত  ইমারত  মোগল  স্থাপত্য।</strong> যেহেতু মধ্যযুগীয় পূর্ব সময় থেকে বর্তমান বাংলাদেশ নামে এই স্বাধীন ভূ-খণ্ডটি ক্রমান্বয়ে অনেক মুসলিম শাসক শাসন করেছেন; সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিবর্তনের মাইলফলক হিসেবে মসজিদ স্থাপনাগুলো আজও সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্বরুপে দাড়িয়ে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে আমরা জানি ইসলামি শহরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে মসজিদকে রেখে এর চারপাশ ঘিরে অন্যান্য ইমারত নির্মাণ করা হতো। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রার্থনার জন্য নয় বরং সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রাণকেন্দ্র হিসেবে মসজিদ স্থাপনা বরাবরই স্বীকৃত। রাসূল (স) এর সময়কালে নির্মিত মসজিদের অনুকরণেই পরবর্তী এসব স্থাপনা নির্মিত। বলা যায়, মুসলিম সভ্যতার অনন্য শৈল্পিক দক্ষতা ও কৌশলের স্বাক্ষরস্বরুপ মসজিদ স্থাপনাগুলো মূল ভূমিকায় আজও অস্তিত্বের জানান দেয়।</p>
<p>এক্ষেত্রে বাংলার স্থাপত্যকলার ঐতিহাসিক নিদর্শন স্বরুপ বেশ কিছু প্রাচীন মসজিদ স্থাপনা ও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য –</p>
<h4></h4>
<h4></h4>
<h4><strong>কুসুম্বা মসজিদ</strong></h4>
<p>(বাংলার কালাপাহাড়)</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15101 aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/2.jpg" alt="" width="753" height="516" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/2.jpg 670w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/2-300x206.jpg 300w" sizes="(max-width: 753px) 100vw, 753px" /></p>
<p>ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বৃহত্তর রাজশাহী জেলার (বর্তমান নওগাঁ) মান্দা  উপজেলায় কুসুম্বা নামক স্থানে বিরাট এক দীঘির পাশে মসজিদটি অবস্থিত। বর্তমান পারিপার্শ্বিকতা ও অবস্থান দেখে মনে হয় তৎকালীন কুসুম্বা অঞ্চল অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ নগরী ছিলো। সংরক্ষিত শিলালিপি থেকে জানা যায় সুলতানি আমলের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মসজিদটি নির্মাণ করেন। এক্ষেত্রে ধারণা করা হয় উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আবাসস্থলও ছিলো এ নগরী । প্রায় ৪৬৪ বছর পূর্বে, ৯৬৬ হিজরি (১৫৫৪-৬০) তে যখন বাংলায় আফগানদের শাসনামল ছিলো অর্থাৎ শূর বংশের শেষ দিকের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-র রাজত্বকালেই জনৈক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুলায়মান নামক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15113 alignleft" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/16.jpg" alt="" width="628" height="308" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/16.jpg 849w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/16-300x147.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/16-768x377.jpg 768w" sizes="(max-width: 628px) 100vw, 628px" /></p>
<p>শূর আমলে নির্মিত হলেও স্থাপত্যরীতি, গঠন-গাঁথুনিতে বাংলার স্থাপত্যরীতির অনন্য প্রয়াস বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। ইটের গাঁথুনি, সামান্য বক্র কার্নিশ (বাংলার চালাঘরের আদলে) এবং এরই সাথে অষ্টকোণাকৃতির পার্শ্ববুরুজ প্রভৃতি এ রীতিকে সমর্থন করে।</p>
<p>এমনকি স্থাপত্যশৈলী ও নন্দনতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় দেশের ৫ টাকার নোটে মসজিদটির ছবি ছাপানো হয়।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright wp-image-15114 " src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/17.jpg" alt="" width="365" height="200" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/17.jpg 323w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/17-300x164.jpg 300w" sizes="(max-width: 365px) 100vw, 365px" /></p>
<p>এটির আরেক নাম কালাপাহাড় এবং স্থানীয়দের কাছে কালাপাহাড় নামেই পরিচিত। মসজিদটি কালো ও ধূসর রঙের পাথর আর পোড়ামাটির ইটে তৈরি। এসব উপাদান বিহার থেকে জলপথে আনা হয়েছিলো মসজিদটি নির্মাণের উদ্দেশ্যেই। নির্মাণের মূল উপাদান হিসেবে ইট ব্যবহার করা হলেও এর বাইরের দেয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেয়ালে পেনডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এছাড়াও মসজিদের স্তম্ভ,মিহরাব, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে ও পাশের দেয়ালের জালি-নকশাও পাথরের তৈরি। তবে অলংকরণে অন্য উপাদান হিসেবে পোড়ামাটির দক্ষ ব্যবহার ও দেখা যায় । এসব উপাদানের অনন্য ব্যবহার বাংলার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ছোটোসোনা মসজিদ সহ অনেক মসজিদে লক্ষ্য করা যায়।মসজিদটির সামনের দিক অর্থাৎ উত্তর দক্ষিণ কোণে বিশাল একটি দীঘি রয়েছে। দীঘিটি প্রায় ১২০০ ফুট লম্বাও প্রায় ৯০০ ফুট চওড়া। প্রকৃতপক্ষে গ্রামবাসী এবং মুসলমানদের খাবার পানি, গোসল এবং ওযুর প্রয়োজন মেটানোর তাগিদেই দীঘিটি তৈরি করা হয়েছিল।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15097 alignleft" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/13.jpg" alt="" width="465" height="197" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/13.jpg 863w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/13-300x127.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/13-768x326.jpg 768w" sizes="(max-width: 465px) 100vw, 465px" /></p>
<p>মসজিদটি আয়তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত। উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা এবং পূর্ব -পশ্চিমে ৪২ ফুট চওড়া। চারপাশের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট এবং বাইরের অংশ পাথরের আস্তরণে আবৃত । আদর্শ মসজিদের আদলে সব উপাদান বিদ্যমান না থাকলেও অধিকাংশেই মুসলিম স্থাপত্যকলার নান্দনিকতা মসজিদটিকে অনন্য বিশেষণ দেয়। মসজিদটি তিনটি বে এবং দুটি আইলে বিভক্ত। পূর্ব দিকে তিনটি খিলানপথ এবং উত্তর ও দক্ষিণে দুটি করে খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15096 size-full aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/3.jpg" alt="" width="970" height="525" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/3.jpg 970w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/3-300x162.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/3-768x416.jpg 768w" sizes="(max-width: 970px) 100vw, 970px" /></p>
<p>মসজিদটির সম্মুখভাগের তিনটি প্রবেশপথের মধ্যে দুটি আকারে বড় এবং অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মিহরাব আকৃতির। মাঝের প্রবেশপথ বরাবর সম্মুখে দক্ষিণ-পূর্ব দিক বরাবর এবং উত্তর-পশ্চিম কোণের উচু প্লাটফর্মের &#8216;বে&#8217; তে সমান্তরালে দুটি মিহরাব রয়েছে। মিহরাবগুলো অবতল আকৃতির এবং পাথরের খোদাইকৃত নকশা দিয়ে অলংকৃত। সুলতানি আমলের অন্যান্য মসজিদের ন্যায় এ মসজিদের কার্নিশও ঈষৎ বক্রাকার অর্থাৎ বক্র মধ্যভাগ প্রান্তভাগ অপেক্ষা সামান্য উচু। মূলত ছাদ থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্যই বাংলার অষ্টভুজাকৃতির ঐতিহ্যবাহী চালাঘরের আদলে এটি এমনভাবে তৈরিকৃত।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignleft wp-image-15102 " src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/4.jpg" alt="" width="226" height="350" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/4.jpg 506w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/4-193x300.jpg 193w" sizes="(max-width: 226px) 100vw, 226px" /></p>
<p>দক্ষিণ দিকের খিলানপথ জ্যামিতিক নকশায় প্রস্তর জালি দিয়ে বন্ধ এবং পূর্ব দিকের খিলানপথ বরাবর কিবলা দেয়ালে তিনটি প্রস্তর মিহরাব সন্নিবেশিত। চারকোণায় চারটি সংযোজিত এবং ভেতরে দুটি প্রশস্ত স্তম্ভ বিদ্যমান।</p>
<p>ভেতরের উত্তর-পশ্চিম কোণের স্তম্ভের উপর একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয়, এই আসনে বসেই তৎকালীন কাজী-বিচারকরা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। আর এ দুই স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের ওপর ছয়টি গম্বুজ অবস্থিত।গুম্বজগুলোর নিচের ফাঁকা অংশগুলো আবার ত্রিভূজাকৃতির পান্দানতিফ পদ্ধতিতে আচ্ছাদিত। <strong>অভ্যন্তরভাগের উত্তর-পশ্চিমকোণে জানানা গ্যালারি রয়েছে। দ্বিতল আকৃতির এ কক্ষটি অভ্যন্তরভাগে দুটা বলিষ্ঠ স্তম্ভের উপর স্থাপিত। একটি সোপান সিড়ি দিয়েই উপরে উঠা যায়। সিড়ি পথের বিন্যাসের ভিন্নতা থাকলেও এ ধরনের জানানা গ্যালারি ছোটোসোনা মসজিদ ও দারসবাড়ি মসজিদেও দেখা যায়।</strong></p>
<p>মসজিদটির সামগ্রিক অলংকরণ সম্পর্কে বলা যায় প্রস্তর খোদাই করা ফুল-লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা এবং পোড়ামাটির বিভিন্ন ধরনের সুদৃশ্য কারুকাজ খচিত নকশা। বিশেষত মিহরাবগুলো খোদাইকৃত পাথরের নকশা দ্বারা ব্যাপকভাবে সজ্জিত। সবগুলো মিহরাব কালো পাথরে তৈরি; ফ্রেমে রয়েছে সর্পিলাকারে খোদিত আঙুরগুচ্ছ ও লতার নকশা।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignright wp-image-15103 " src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/5.jpg" alt="" width="401" height="267" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/5.jpg 1034w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/5-300x200.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/5-1024x681.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/5-768x511.jpg 768w" sizes="(max-width: 401px) 100vw, 401px" /></p>
<p>এ ছাড়া প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা। মিহরাবের প্ল্যাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙুরলতার অলংকরণ। আর এ প্ল্যাটফর্মের ভার বহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল ও মসজিদের কিবলা দেয়ালজুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা। বাইরের দেয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহৃত পাথরগুলো অমসৃণ। এছাড়াও জ্যামিতিক নক্সার আদলে পোড়ামাটির সুদক্ষ কারুকাজ খচিত মাটির টালি, মিহরাবে বিভিন্ন ফুল, লতা-পাতা ঝুলন্ত শিকল ও মনোরম শৈল্পিক কারুকাজ যেন মুসলিম স্থাপত্য কলার অপূর্ব সমাহার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<figure id="attachment_15104" aria-describedby="caption-attachment-15104" style="width: 551px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15104 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/6.jpg" alt="" width="551" height="433" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/6.jpg 551w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/6-300x236.jpg 300w" sizes="(max-width: 551px) 100vw, 551px" /><figcaption id="caption-attachment-15104" class="wp-caption-text">দেয়ালের কারুকার্য</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-15105 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/7.jpg" alt="" width="654" height="459" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/7.jpg 654w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/7-300x211.jpg 300w" sizes="(max-width: 654px) 100vw, 654px" /> <img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-15106 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/8.jpg" alt="" width="659" height="470" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/8.jpg 659w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/8-300x214.jpg 300w" sizes="(max-width: 659px) 100vw, 659px" /></p>
<figure id="attachment_15107" aria-describedby="caption-attachment-15107" style="width: 674px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15107 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/9.jpg" alt="" width="674" height="484" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/9.jpg 674w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/9-300x215.jpg 300w" sizes="(max-width: 674px) 100vw, 674px" /><figcaption id="caption-attachment-15107" class="wp-caption-text">প্রবেশদ্বার, লতাপাতার কারুকার্য ও মিহরাবের নকশা</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<figure id="attachment_15108" aria-describedby="caption-attachment-15108" style="width: 665px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15108 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/10.jpg" alt="" width="665" height="1000" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/10.jpg 665w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/10-200x300.jpg 200w" sizes="(max-width: 665px) 100vw, 665px" /><figcaption id="caption-attachment-15108" class="wp-caption-text">নকশাখচিত মসজিদের বুরুজ (মিনার)</figcaption></figure>
<p>&nbsp;</p>
<figure id="attachment_15109" aria-describedby="caption-attachment-15109" style="width: 720px" class="wp-caption aligncenter"><img loading="lazy" decoding="async" class="wp-image-15109 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/11.jpg" alt="" width="720" height="479" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/11.jpg 720w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/10/11-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 720px) 100vw, 720px" /><figcaption id="caption-attachment-15109" class="wp-caption-text">মসজিদের বিচারকার্য পরিচালনার প্ল্যাটফর্মের কারুকাজ</figcaption></figure>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/traditional-architecture-of-bangla-mosque/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14943</post-id>	</item>
		<item>
		<title>শহরের রূহ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/spirit-of-city/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/spirit-of-city/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[হাসান আল ফিরদাউস]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 12 Jun 2022 19:15:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7176</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী সভ্যতার অনন্য সামগ্রিকতা, বিশালতা ও অনন্যতার প্রকাশক তার বাহ্যিকতা নয়, বরং তার রূহ। তাই কোনো কিছুর বাহ্যিক কাঠামোর চেয়েও তার রূহ কতটা ইসলামী, সে প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছু ইসলামী সভ্যতার অংশ কিনা বা ইসলামী সভ্যতাকে ধারণ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী সভ্যতার অনন্য সামগ্রিকতা, বিশালতা ও অনন্যতার প্রকাশক তার বাহ্যিকতা নয়, বরং তার রূহ। তাই কোনো কিছুর বাহ্যিক কাঠামোর চেয়েও তার রূহ কতটা ইসলামী, সে প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছু ইসলামী সভ্যতার অংশ কিনা বা ইসলামী সভ্যতাকে ধারণ করে কিনা তা তার রূহ কতটা ইসলামী তার সমানুপাতিক। কারণ ইসলামী সভ্যতা হলো নববী হিকমতকে ধারণকারী একটি বিশ্বব্যবস্থা, যা গোটা মানবসভ্যতাকে আদালতপূর্ণভাবে পরিচালিত করেছে। সুতরাং, কোনো কিছু ইসলামী সভ্যতার অংশ কিনা বা তা ইসলামী সভ্যতাকে ধারণ করে কিনা তা নিরুপণের অন্যতম মাপকাঠি হলো তার রূহ। রূহ যতটা ইসলামী, কোনো কিছু ঠিক ততটাই ইসলামী সভ্যতার নিকটবর্তী, ঠিক ততটাই ইসলামী সভ্যতাকে ধারণ করে।</p>
<p>আর ইসলামের এ রূহানী প্রভাব ও সামগ্রিকতা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই ব্যাপ্ত। ইসলামী সভ্যতাকে ধারণকারী যেকোনো কিছুর  ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ক্ষেত্র থেকে শুরু করে বৃহৎ ক্ষেত্র পর্যন্ত ইসলাম বিদ্যমান। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী সভ্যতায় শহরেরও রূহ আছে, কলব আছে। কোনো শহর কতটা ইসলামী তা শুধুমাত্র সে শহরের অধিবাসীদের ব্যক্তিগত ইবাদত কিংবা পোশাকের উপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে সে শহরের রূহ ইসলামকে কতটা ধারণ করে তার উপর।</p>
<p><strong>শহরের রূহ নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে শুরুতেই আমাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে–</strong></p>
<p><strong>• শহর কী? </strong><br />
<strong>• রূহ কী?</strong><br />
<strong>• শহরের রূহ কী?</strong></p>
<p>ইবনে খালদুনের ভাষায়,“নগর এমন একটি আবাসস্থল যা মানুষ বসবাস ও প্রয়োজন পূরণের জন্য অবলম্বন করে থাকে। শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যই তারা নগর নির্মাণ করে। এক্ষেত্রে অকল্যাণ (ফাসাদ) প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং কল্যাণ ও উপযোগিতার বন্দোবস্ত থাকা প্রয়োজন। নগরকে অবশ্যই সুরক্ষিত হতে হবে এবং তা নির্মাণের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত স্থানকে প্রাধান্য দিতে হবে। একইসাথে আবহাওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, তা যেন মানুষের বাসোপযোগী হয়, রোগ কম ছড়ায় এবং মানুষের স্বাস্থ্য যেন ভালো থাকে।”</p>
<p>ইবনে খালদুনের সংজ্ঞার আলোকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখতে পাই, ইসলামী সভ্যতার চিন্তার আলোকে তিনি যে নগর প্রস্তাবনা দিয়েছেন, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য চারটি। বৈশিষ্ট্যগুলো হলো–</p>
<p>• শান্তি ও নিরাপত্তা<br />
• মাফসাদাত প্রতিরোধ ও মাসলাহাত প্রতিষ্ঠা<br />
• সুরক্ষিত অবস্থান<br />
• বসবাসযোগ্য পরিবেশ</p>
<p>উপরোক্ত চারটি বৈশিষ্ট্য যে স্থানে পাওয়া যাবে, সে স্থানই ইসলামী সভ্যতায় শহর হিসেবে গণ্য হবে।</p>
<p>এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এমন একটি শহরে কি মানুষের পক্ষে ভালোভাবে দ্বীন পালন করা সম্ভব? নাকি যে শহরে শান্তি ও নিরাপত্তা নেই, শৃঙ্খলা নেই, সুরক্ষা নেই, বসবাসযোগ্য পরিবেশ নেই, সেখানেই একজন মানুষের পক্ষে ভালোভাবে দ্বীন পালন করা সম্ভব?</p>
<p>এমন একটি যুক্তি আমরা সব সময় শুনি যে, ভালোভাবে দ্বীন পালন না করাই মানুষের সকল বিপদের উৎস। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমাদের শহরগুলোতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কারণ হিসেবেও আমরা এটাই মনে করি। একইভাবে বৈরাগ্যবাদী বয়ানে প্রভাবিত হয়ে এ বিষয়টিও আমরা অনেক শুনি যে, শহরের জীবনে চাকচিক্য বেশি, তাই শহর ত্যাগ করে নির্জন এলাকায় বসবাস করা উচিত, যাতে ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা যায়। কিংবা শহরে থাকার কারণে মানুষের মন দুনিয়াবী জাঁকজমকের ফিতনায় পড়ে যায়। অথচ মানুষের দ্বীন পালন করার পরিবেশও ভালভাবে এসব শহরেই তৈরি হওয়া সম্ভব!<br />
কামালিয়াতপূর্ণ শহর, অর্থাৎ পরিপূর্ণ শহরের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো:</p>
<ul>
<li>সম্পদের সহজলভ্যতা থাকা, বাজারে পর্যাপ্ত খাদ্য থাকা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা থাকা।</li>
<li>দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো নিরাপত্তা থাকা।</li>
<li>তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো ধর্মীয় ও চিন্তাগত স্বাধীনতা থাকা।</li>
</ul>
<p>এসব বৈশিষ্ট্য আছে যে শহরে, সে শহরে ইবাদত পালন করা বেশি সহজ নাকি যে শহরে এসব বৈশিষ্ট্য নেই, সে শহরে ইবাদত পালন করা বেশি সহজ? অবশ্যই যে শহরে এসব বৈশিষ্ট্য আছে, সে শহরেই। ইসলামী সভ্যতার মহান দার্শনিক আলেম আল ফারাবীর ভাষায়, “মানুষ তার আখলাকী কামালিয়াত (পরিপূর্ণতা) শহরের মাধ্যমেই লাভ করে।” আর এ ধরনের শহর অবশ্যই ইসলামী সভ্যতার শহর। কেননা, উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়া কখনোই আখলাকী পরিপূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব নয়।</p>
<p>এ পর্যায়ে প্রশ্ন হলো, শহরের রূহ কী? রূহ (روح) শব্দটি কোরআন এবং হাদীসের অনেক স্থানেই বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। পারিভাষিক সংজ্ঞা অনুযায়ী রূহ মূলত একটি ‘ইলাহী প্রেরণা’ বা ‘জীবনীশক্তি’। জীবন আর মৃত্যু সংজ্ঞায়িত হয় রূহের ধারণার উপর ভিত্তি করে। কোনো কিছুর ভেতরে রূহ না থাকলে তাকে মৃত বলা হয়। রূহসম্পন্ন সকল কিছুকেই জীবিত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।<br />
কোরআনের এ আয়াতের “و نفخ من روحه” (তিনি তাঁর রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন) আলোকে অনেক চিন্তক মানুষ ও আল্লাহর মধ্যকার সম্পর্ককে রূহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।<br />
অনেক দার্শনিক শহরকে মানুষের উপমা দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন: আল ফারাবী তাঁর নগরের ধারণায় শহরের কেন্দ্রকে কলবের সাথে, এর পথ এবং রাস্তাগুলোকে শিরার সাথে, এর শাসককে মস্তিষ্কের সাথে তুলনা করে তুলে ধরেছেন। এবং এ সকল নগরতত্ত্বীয় ধারণাগুলোতে শহরের যে একটি চালিকা শক্তি, অর্থাৎ মানুষের ন্যায় একটি রূহ রয়েছে, এ বিষয়টি বারংবার উঠে এসেছে।</p>
<p><strong>এক্ষেত্রে শহরের রূহ মূলত কী?</strong></p>
<p>একটি সভ্যতার শহরের প্রতিটি ক্ষেত্র, যথা:<br />
&#8211; শহরের ইতিহাস,<br />
&#8211; পরিকল্পনা ও পরিছন্নতা,<br />
&#8211; সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ,<br />
&#8211; স্থাপত্য ও প্রতিষ্ঠান<br />
&#8211; মিউজিক,<br />
&#8211; সাহিত্য ও ভাষা<br />
&#8211; শিল্প ও চারুকলা<br />
&#8211; লোককাহিনী,<br />
&#8211; বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক সম্পদ<br />
&#8211; এবং শহরের অধিবাসীরা হলো শহরের রূহ।</p>
<p>এ সকল বিষয় যে চিন্তার আলোকে তৈরি হবে, সে রূহ শহরের প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এগুলো বিহীন নগরকাঠামো চিন্তা করলে আমরা পাথরের স্তুপ আর বিরাট অট্টালিকা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না। অর্থাৎ রূহহীন শহর শুধুমাত্র ইট-পাথরের স্তুপ ব্যতীত কিছুই নয়। এক্ষেত্রে একটি মৌলিক বিষয় হলো একটি শহরকে রূহসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলার বৈশিষ্ট্যগুলো আসলে মানুষের তৈরিকৃত। অর্থাৎ, একটি শহরের রূহ তৈরি করে সে শহরের অধিবাসীরা।<br />
মানুষ শহর তৈরি করে এবং এর রূহও মানুষের মাধ্যমেই তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে মানুষ তথা শহরের অধিবাসীদের পরিবর্তনের অর্থ হলো শহরের রূহ পরিবর্তিত হওয়া। পরিবর্তিত শহরের মানুষ মুসলমান হলে শহরের রূহ হয় ইসলামী, খ্রিস্টান হলে শহরের রূহ খ্রিস্টান ধর্মের চিন্তার আলোকে তৈরি হয়, বৌদ্ধ হলে শহরের রূহ তৈরি হয় বৌদ্ধ ধর্মের চিন্তার আলোকে।</p>
<p>একটি শহরকে দূর থেকে অবলোকন করলে যদি সেখানে মিনার দেখা যায়, তবে তা ইসলামী শহর; যদি সেখানে চার্চের টাওয়ারগুলোকে বিদ্রোহীর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, তবে তা খ্রিস্টানদের শহর; যদি তা প্যাগোডা দিয়ে সজ্জিত দেখা যায়, তবে তা বৌদ্ধদের শহর; আর যদি তা মূর্তি, মন্দির দিয়ে সজ্জিত দেখা যায়, তবে তা হিন্দুদের শহর। অর্থাৎ, একটি শহরের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের মধ্যকার রূহ সে শহরের রূহের প্রতিনিধিত্ব করে। কোনো শহরের আজান, চার্চের ঘন্টা, মন্দিরের শাঁখের আওয়াজ কিংবা মঠের স্থাপত্যশৈলী সে শহরের রূহের প্রতিনিধিত্ব করে।</p>
<p>শহর একটি ক্রমাগত অগ্রসরমান এবং পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে। এই পার্থক্য আমরা বহির্কাঠামোর পরিবর্তন থেকে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারি। রাসূল (স.) এর ফাতহে মক্কা, মুহাম্মদ বিন কাসিমের ভারত বিজয়, তারিক বিন যিয়াদের স্পেন বিজয়, ইখতিয়ারউদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বঙ্গবিজয়, আল্প আরসালানের মালাজগিরতের যুদ্ধ, সুলতান ফাতিহ কর্তৃক বিজিত ইস্তাম্বুল কীভাবে একটি শহরের রূহ পরিবর্তিত হয় তাঁর উজ্জ্বল নিদর্শন। রাসূল (স.) কেন মক্কা বিজয়ের সাথে সাথেই কাবা প্রাঙ্গনের মূর্তিগুলো ভেঙে ফেলেছিলেন কিংবা সুলতান ফাতিহ ইস্তাম্বুল বিজয়ের সাথে সাথেই কেন আয়া সোফিয়ার কাঠামো বদলে দিয়েছিলেন তা আমাদের সামনে স্পষ্ট। কিংবা, মুসলমানগণ বিভিন্ন অঞ্চল জয় করে সাথে সাথেই মসজিদ নির্মাণ করার সবচেয়ে বড় কারণ ছিলো সে শহরের রূহকে পরিবর্তন করা।</p>
<p>কিছু শহরে এমন জায়গা বা ব্যক্তিত্ব রয়েছে যা শহরের রূহকে জাগ্রত রাখে।<br />
মদীনায় পয়গম্বর (স.), বায়তুল মাকদিসে বহু পয়গম্বরের কবর, কুফায় আলী (রা.), ইরাকে হযরত হোসাইন (রা.), মাওয়ারাউন নাহারে ইমাম মাতুরিদী (র.), আদিয়ামানে বায়েজিদ বোস্তামী (র.), ইস্তাম্বুলে আবু আইয়ুব আল আনসারী (রা.), সাইপ্রাসে উম্মে হালা থেকে শুরু করে বঙ্গভূমির সিলেটে শাহজালাল (র.), শাহ পরাণ (র.), ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে শাহ আলী (র.) এভাবে ইসলামী সভ্যতার শহরগুলোতে মহান পয়গম্বরগণ, সুফী, আলেম, মুজাহিদ, দরবেশদের কবরগুলোও সে শহরগুলোর প্রাণকেন্দ্র, আধ্যাত্মিকতা ও রূহকে প্রভাবিত করেছে।</p>
<blockquote><p><strong>তাই ইসলামী সভ্যতাকে ধারণকারী শহর আর পাশ্চাত্য সভ্যতাকে ধারণকারী শহরগুলোর মাঝে আকাশপাতাল তফাত বিদ্যমান। কেননা, যে শহরের প্রতিবেশী অভুক্ত আছে কিনা, কেউ কোনো সমস্যায় আছে কিনা সে চিন্তা না করেই উদ্দাম বিলাসিতার আয়োজন করা হয়, যে শহরে মানুষ বিশুদ্ধ পানি পায় না, অপরদিকে হাজারো লিটার পানির অপচয় হয়, যে শহরে হাজারখানেক মানুষের চেয়েও একজন মানুষের ব্যক্তিগত প্রসাধনীর ব্যয় বেশি হয়, সে শহর কখনোই ইসলামী হতে পারে না, ইসলামী সভ্যতাকে ধারণ করতে পারে না।</strong></p></blockquote>
<p>আমির ইবরাহীমের মতে, কোনো শহরকে রূহসম্পন্ন হতে হলে নিম্নলিখিত চারটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে।</p>
<p>• <strong>ব্যবস্থা এবং সামঞ্জস্য:</strong> এমন শর্ত প্রদান করা যাকে আমরা সংগঠন এবং সাদৃশ্য বলতে পারি। এ আইনগুলো বেশিরভাগ দ্বীন কর্তৃক নির্ধারিত হয়। মানুষ এবং মানুষের মধ্যে সিস্টেমের সমন্বয়ে, অথবা মানুষ এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্যের মধ্যকার সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরে।</p>
<p>• <strong>পরিচ্ছন্নতা:</strong> এটি আধ্যাত্মিক এবং বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা উভয়কেই বোঝায়।</p>
<p>• <strong>ব্যবহারযোগ্যতা:</strong> শুধুমাত্র সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যা শহরের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে পারস্পরিক দায়িত্বের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করে।</p>
<p>• <strong>সৌন্দর্য, অর্থাৎ সৌজন্য:</strong> এটি সেই অভিক্ষেপ যা শহর থেকে মানুষের রূহের উপর পড়ে। মানুষের রূহের সাথে শহরের রূহের সামঞ্জস্য, মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে শহরের পরিচিতি তৈরি হওয়া এক্ষেত্রে বিবেচ্য।</p>
<p>ইসলামী সভ্যতাকে ধারণকারী রূহসম্পন্ন একটি শহরই প্রকৃত রূহসম্পন্ন শহর। এ শহরে মানুষের দায়িত্ববোধ প্রকাশ পায় মানুষকে গোপনে উপকার, সহযোগিতা করার মাধ্যমে। এ দায়িত্ববোধ শহরের মধ্যকার ইখওয়ান (ভ্রাতৃত্ব) এর প্রতিনিধিত্ব করে। এ শহরে কোনো মানুষ রাতে না খেয়ে ঘুমাতে যায় না, কোনো বোন পেটের দায়ে তাঁর সম্মান বিক্রি করতে বাধ্য হয় না; এ শহরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিদ্যমান; এ শহরের প্রতিটি স্থাপত্য হয় চোখের প্রশান্তি, যা তার প্রতিবেশীর হক নষ্ট করে তৈরি হয় না; এ শহরের প্রতিটি অধিবাসী অপর অধিবাসীর প্রতি ভ্রাতৃত্ব ও রহমপূর্ণ আচরণ চর্চা করে, রহমানী আখলাকের অধিকারী হয়। এজন্যই সময়ের মুতাফাক্কিরগণ বলেন, “সভ্যতার পুনর্জাগরণে সর্বপ্রথম প্রয়োজন ব্যক্তির জাগরণ বা জাগ্রত ব্যক্তিত্বের। কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তির মাধ্যমে কখনো জাগ্রত সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আর এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম দরকার হলো রূহের জাগরণ। অতঃপর চিন্তা ও বিশ্বাসের জাগরণ। কেননা, রূহ জাগ্রত না হলে ব্যক্তি জাগ্রত হবে না, আর চিন্তা ও বিশ্বাসের জাগরণ না হলে অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি কোনো ক্ষেত্রেই পুনর্জাগরণ আসবে না।”</p>
<p>আর এ ধরনের রূহসম্পন্ন শহর কেবলমাত্র একদল রূহসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের হাত ধরেই গড়ে উঠতে পারে।<br />
বাংলা অঞ্চলের সাতশো বছরব্যাপী মুসলমানদের প্রাণকেন্দ্র ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে তাই রূহসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব তৈরির আন্দোলনের ইশতেহার ঘোষণা আমাদেরকেই করতে হবে, নতুনভাবে সমগ্র বাংলাদেশকে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে হবে।</p>
<p>আমরা আমাদের শহর ও স্থাপত্যসমূহের হারিয়ে যাওয়া রূহের পুনর্জাগরণের প্রত্যাশায়…</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/spirit-of-city/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7176</post-id>	</item>
		<item>
		<title>একটি উদ্যান ধ্বংসের ‘উন্নয়ন’</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 09 Mar 2022 10:34:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6843</guid>

					<description><![CDATA[মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর নামে সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝে অবস্থিত উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। বেশ কয়েকটি জাতের দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষে শোভিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল ওসমানী উদ্যান। এখানে রাখা আছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর নামে সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝে অবস্থিত উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। বেশ কয়েকটি জাতের দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষে শোভিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল ওসমানী উদ্যান। এখানে রাখা আছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলার আসাম যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক কামান। সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়ে দুটি ছোটখাটো লেক, লেকের মধ্যে কৃত্রিমভাবে তৈরি দুটি ছোট বালু দ্বীপ তৈরি করে উদ্যানটিতে প্রাণের ছোঁয়া লাগানো হয়েছিল।</p>
<p>‘গোসসা নিবারণী পার্ক’ তৈরির নামে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে উদ্যানটি। পুরো পার্কটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে পার্কটির সংস্কার শুরু হলেও আড়াই বছরের বেশি সময় হলেও এখনো শেষ হয়নি এক বছর মেয়াদি কাজ। কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে এ বিষয়ে জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। কাজ শুরুর অনুষ্ঠানে তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, ‘এই পার্কে যখন মানুষ আসবে, স্বাভাবিকভাবে তাদের ভালো লাগবে, উৎফুল্ল লাগবে। এখানকার যেসব আয়োজন, সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানুষের গোসসা বা রাগ কমিয়ে দেবে। এই চিন্তা থেকেই এটাকে “গোসসা নিবারণী পার্ক” নাম দেওয়া হয়েছে।’ (সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন জানুয়ারি ২৭, ২০১৮)</p>
<p><strong>একটি উদ্যানে যে মিউজিক সিস্টেম, বিজ্ঞাপনের জন্য বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন থাকার কথা নয়, তা আমাদের নগর প্রশাসনের কি জানা নেই?</strong></p>
<p>পরিকল্পনায় বলা হয়, পার্কটিতে মিউজিক সিস্টেম, বসার জন্য আলাদা আলাদা জোন, বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং বড় স্ক্রিনে টেলিভিশন দেখার সুবিধা থাকবে। উদ্যানের লেককে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। থাকবে প্যাডেল বোট। পার্কের মধ্যেই থাকবে ফুড কোর্ট এবং ভলিবল ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পার্কে বাজবে হারানো দিনের গান। বিস্তৃত ওয়াকওয়েতে হেঁটে ক্লান্ত পথিকেরা হাতের নাগালে পাবেন বিনা মূল্যে রাস্তার পাশে ব্যবস্থা করা সুপেয় পানি। থাকবে জিম ও ইয়োগা করার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পুরান ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে থাকবে নগর মিউজিয়ামের বিশাল আয়োজন। অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ সিস্টেম ও বিদ্যুতায়নে পুরো পার্কে থাকবে আলোর ঝলকানি। (সূত্র-ইত্তেফাক ১৪ অক্টোবর, ২০২০)</p>
<p>প্রথমে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলও পরে তা বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে পানিনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন যোগ করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১০০ কোটি টাকার ওপর। পার্কটির কাজ করছে ‘দি বিল্ডার্স লিমিটেড’। স্থপতি রফিক আজম ইত্তেফাককে বলেন, <strong><em>‘যে ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা আছে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি।’</em></strong></p>
<p>সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে বহু ভবন নির্মাণ করায় এ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই সচিবালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের পশ্চিমে (লিংক রোড) পুরো রাস্তা অস্থায়ী পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে। এতে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সচিবালয়ের বাইরের অফিসগুলোতে চলাচলে ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। সচিবালয়ের আটটি ভবন ও তিনটি টিনশেডে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং ১১টি (ছোট-বড়) হোটেল বা ক্যানটিন রয়েছে। একটি করে এটিএম বুথ, সাংবাদিক কক্ষ, ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকও আছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী সচিবালয়ের কোনো ভবনেই নেই নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা।</p>
<p>একটি উদ্যানে যে মিউজিক সিস্টেম, বিজ্ঞাপনের জন্য বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন থাকার কথা নয়, তা আমাদের নগর প্রশাসনের কি জানা নেই? আলোর ঝলকানি যে নৈশকালীন প্রাণী পাখি ও পতঙ্গ প্রজাতির (নাইট লাইফ) জন্য অনুকূল নয়, সেটাও আমাদের নগরনেতা ও নগর পরিকল্পনাকারীদের বিবেচনায় এল না? আমরা কি এতটাই নির্বোধ হয়ে গেলাম?</p>
<p>গোসসা নিবারণের সত্য বা মিথ্যা দিয়ে শুরু করে, ড্রেনেজ সিস্টেম, জাদুঘর, লাইব্রেরিসহ নগর মিউজিয়ামের বিভিন্ন কাজের সত্য-মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এখন দেখা যাচ্ছে, ওসমানী উদ্যানে আসলে তৈরি করা হচ্ছে সচিবালয়ের জন্য বিশাল বহুতল পার্কিং, ড্রেনেজ স্টোরেজ। নির্বিচারে কাটা হয়েছে বহু গাছ, প্রায় সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয়েছে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের দিককার লেক ও বালুচরটি। ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে ভিন্ন ধরনের বিশালাকৃতির স্থাপনা। টিন দিয়ে ঘিরে কাজ করলেও গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ছবিতে পাওয়া গেল তারই প্রমাণ।</p>
<p>যানজটপূর্ণ সচিবালয় এলাকায় পার্ক করা যায় সর্বোচ্চ এক হাজার গাড়ি। কিন্তু পাস দেওয়া আছে নয় হাজারের বেশি। গাড়ি পার্কিংয়ের যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাতে ওসমানী উদ্যান হবে পার্কিংয়ের দখলে। স্যাটেলাইট ইমেজে তারই প্রমাণ মিলেছে। (সূত্র-সমকাল ১৫ নভেম্বর ২০২০)। ইট-পাথরের জঞ্জালে ভরা নগরীতে মানুষের জন্য বিনোদন বা উন্মুক্ত জায়গায় আড্ডা দেওয়ার স্থান যেখানে খুবই কম, সেখানে পার্কিংয়ের জন্য উদ্যান ধ্বংসের হীন পরিকল্পনা কেন? এই জবাব কি নগর প্রশাসন দেবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6843</post-id>	</item>
		<item>
		<title>স্থাপত্যের রাজা মিমার সিনান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/mimar-sinan-king-of-architecture/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/mimar-sinan-king-of-architecture/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আশিকুর রহমান সৈকত]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 30 Jul 2021 18:18:47 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<category><![CDATA[মিমার]]></category>
		<category><![CDATA[মিমার সিনান]]></category>
		<category><![CDATA[সিনান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5702</guid>

					<description><![CDATA[পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যবিদদের একজন মিমার সিনান, তুরস্কের কায়সারি শহরের আয়িরনাস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে তাঁর সঠিক জন্মতারিখ সম্পর্কে জানা যায়নি, তবে ১৪৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে তাঁকে ইয়েনিচেরি গ্রুপে নেওয়া হয়। ইয়েনিচেরি গ্রুপ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>পৃথিবীর ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যবিদদের একজন মিমার সিনান, তুরস্কের কায়সারি শহরের আয়িরনাস গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইতিহাসে তাঁর সঠিক জন্মতারিখ সম্পর্কে জানা যায়নি, তবে ১৪৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন বলে ধারণা করা হয়।</p>
<p>প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে তাঁকে ইয়েনিচেরি গ্রুপে নেওয়া হয়। ইয়েনিচেরি গ্রুপ হলো উসমানী খেলাফতের সামরিক গ্রুপ। মূলত খলিফা অভিযানে গেলে তাঁকে বেষ্টনী করে পাহারা দেওয়া সামরিক গ্রুপ তারাই। ইয়েনিচেরিতে থাকাকালে তিনি বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন এবং নিজ পরিকল্পনা ও স্থাপত্য কৌশলের মাধ্যমে অতি দ্রুত খলিফার নিকট নিজ প্রতিভা প্রকাশ করতে সক্ষম হন। ইয়াভুজ সুলতান সেলিমের রাজত্বকালে সুলতানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুলে বসবাস শুরু করেন।কানুনী সুলতান সুলাইমানের শাসনামলে সিনান, কারা বুউদান অভিযানের সময় মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে প্রুট নদীর উপরে সেতু নির্মাণ করে সুলতান সুলাইমানের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সুলতানের প্রধান স্থপতি হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।মূলত গভীর চিন্তা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে নিখুঁত স্থাপত্যের নিদর্শনই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। জীবনকালে প্রায় ৩৬৫ টি স্থাপত্যশিল্পে নিজ সাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও ওসমানী খেলাফতের ভিতরে অবস্থিত বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপত্য পুনরুদ্ধার করে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে তোলেন।</p>
<p>মিমার সিনান, যিনি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত <strong>উসমানী খেলাফতের রেইস-ই মিমারান(প্রধান স্থাপত্যবিদ)</strong> হিসাবে দায়িত্বরত ছিলেন, তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে নিজ পেশায় উদাহরণ রেখে গিয়েছিলেন। অপেশাদার পর্যায়ের উদাহরণ হিসাবে ইস্তানবুলের শাহজাদা মসজিদ, পর্যায়ের শিল্প হিসেবে ইস্তানবুলের সুলেইমানিয়া মসজিদ এবং পেশাদার হিসেবে উসমানী খেলাফতের সাবেক রাজধানী এদিরনে শহরের সেলিমিয়া মসজিদকে উদাহরণ হিসেবে রেখে গিয়েছেন।<strong> ৯২ টি মসজিদ, ৫২ টি নামাজ ঘর, ৫৫ টি মাদ্রাসা, ২০ টি সমাধি, ১৭টি বিল্ডিং, ৬ টি নৌপথ, ১০ টি সেতু, ২০ টি হোটেল, ৩৬ টি প্রাসাদ, ৮ টি গুদামঘর এবং ৪৮ টি হাম্মামসহ মোট ৩৬৫ টি কাজের মাধ্যমে নিজ যোগ্যতাকে অমর করে রেখেছেন। ইস্তাম্বুল ও তার আশেপাশে মিলিয়ে প্রায় ২০০ টির মত স্থাপত্য রয়েছে যার ১০০ টি শুধুমাত্র ইস্তাম্বুলেই রয়েছে।</strong></p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="alignnone size-full wp-image-5703 aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/07/photo_2021-07-31_00-08-19.jpg" alt="" width="720" height="405" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/07/photo_2021-07-31_00-08-19.jpg 720w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2021/07/photo_2021-07-31_00-08-19-300x169.jpg 300w" sizes="(max-width: 720px) 100vw, 720px" /></p>
<p>ইস্তাম্বুলের ১০০ টির মধ্যে ৫৮ টি এখনো প্রথম দিনের মতই অটুট রয়েছে, ইস্তানবুলে সিনানীয় স্থাপত্যসমূহের মধ্যে বেসিকতাশে অবস্থিত প্রখ্যাত সমুদ্র পরিব্রাজক হায়রেদ্দিন পাশা বারবারোসের সমাধিস্থল, উসকুদার আতিক ওয়ালিদে সুলতান কমপ্লেক্স, সুলতান হামিদ স্কোয়ারের ইব্রাহিম পাশা প্রাসাদ এবং আয়া সোফিয়া মসজিদটির মিনারগুলি অন্যতম।</p>
<h3>মিমার সিনানের অমরকীর্তি সমূহ</h3>
<p>মিমার সিনান ১৫৪২-১৫৪৮ সালের ভেতর নির্মিত শাহজাদে মসজিদে অর্ধ গম্বুজের ধারণাটি প্রথমবারের মতো তুলে ধরেন যা মূলত তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অপেশাদার পর্যায়ের অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। সিনান, মসজিদের গম্বুজে এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছিলেন যাতে মধ্যখানে একটি বৃহৎ গোলার্ধ আকৃতির গম্বুজ এবং চারপাশে চারটি অর্ধ গম্বুজ স্থান পেয়েছে।</p>
<p>সুলায়মানিয়ে মসজিদের ২৭.৫ মিটারের বৃহৎ গম্বুজটি তাঁর স্থাপত্য কারুকার্যের প্রাক-পেশাদার পর্যায়ের একটি উদাহরণ, যেটি আয়া সোফিয়ার মতো মসজিদের ঠিক মাঝখানে একটি অর্ধ গম্বুজ দ্বারা তাঁর গঠনকে শক্তিশালী করেছে। মসজিদের চার কোণে অবস্থিত ভিন্ন আকারের ৪টি মিনার রয়েছে যার ২ টি উচ্চতায় ৫৬ মিটার করে এবং অপর ২ টি উচ্চতায় ৭৬ মিটার করে নির্মিত হয়েছে।<br />
মিমার সিনানের হিসাব অনুসারে মসজিদে সূর্যের পর্যাপ্ত আলোকব্যবস্থার জন্য মসজিদের মূল গম্বুজে ৩২ টি জানালা রয়েছে। মসজিদ ভিতরে মোট ২৮ টি অংশ রয়েছে এবং এর ঠিক মাঝখানে একটি ঝর্ণা রয়েছে, যা আয়তক্ষেত্রাকার অংশের উপর নির্মিত। কানুনি সুলতান সুলেইলেমান এবং তাঁর স্ত্রী হুররেম সুলতানের সমাধিও সুলেইমানিয়া মসজিদের বাইরের উঠানে অবস্থিত।</p>
<blockquote><p><strong>ঐতিহাসিকগণ তাঁর যুগকে &#8220;সিনানীয় যুগ&#8221; বলে আখ্যায়িত রয়েছে</strong></p></blockquote>
<p>এদিরনের সেলিমিয়ে মসজিদ, যা তাঁর অন্যতম পেশাদার স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে পরিচিত, তুর্কি-অটোমান শিল্প ও বিশ্ব স্থাপত্য ইতিহাসের অন্যতম প্রধান স্থাপত্য হিসাবে গৃহীত হয়েছে। এই মসজিদটিও চারটি মিনার দিয়ে দাঁড়ানো এবং সুলতান সেলিমের সময়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদ প্রতিষ্ঠানের স্থান বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে স্থাপত্য কারুকার্য তাঁকে একজন বিশেষজ্ঞ প্ল্যানার হিসেবে প্রমাণ করেছে।</p>
<p>কাটা পাথর দ্বারা নির্মিত মসজিদটির এবং সেই সাথে প্রাঙ্গণ সহ মোট আয়তন ২৭৪৫ বর্গ মিটার, যার অভ্যন্তরীণ অংশই শুধুমাত্র ১৬২০ বর্গমিটার । মাটি থেকে ৪৩.২৮ মিটার উপরে অবস্থিত ৩১.৩০ মিটার ব্যাসের গম্বুজটি সর্বদাই পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।<br />
মিমার সিনান, যিনি তাঁর স্থাপত্যশিল্পের মাধ্যমে নিজ সময়কে ইতিহাসে &#8220;সিনানীয় যুগ&#8221; হিসেবে পরিচিত করেছিলেন, ১৫৮৮ সালের ৯ এপ্রিল ৯৮ বছর বয়সে ইস্তাম্বুলে ইন্তিকাল করেন।</p>
<p>বিঃ দ্রঃ উইকিপেডিয়াতে উনার ওফাত(মৃত্যু) ১৭ জুলাই দেখালেও, তুর্কিশ সোর্স অনুযায়ী উনার সঠিক ওফাত তারিখ ৯ এপ্রিল।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/mimar-sinan-king-of-architecture/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5702</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আন্দালুসিয়ার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও ইশবিলিয়া (Sevillia) </title>
		<link>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শায়েখ আমীন ইলদিরিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 May 2021 16:39:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5268</guid>

					<description><![CDATA[আজকে সেভিল্লা শহর নামে পরিচিত শহরটির পূর্ব নাম ছিল ইশবিলিয়া। এটি ইসলামের একটি প্রাচীন নগরী ছিল। এই শহরটি ৫০০ বছর ধরে ইসলামের শহর ছিল। এই শহরে দীর্ঘ ৫০০ শত বছর আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে, যে ধ্বনি দীর্ঘ ৫০০ বছর ধরে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজকে সেভিল্লা শহর নামে পরিচিত শহরটির পূর্ব নাম ছিল ইশবিলিয়া। এটি ইসলামের একটি প্রাচীন নগরী ছিল। এই শহরটি ৫০০ বছর ধরে ইসলামের শহর ছিল। এই শহরে দীর্ঘ ৫০০ শত বছর আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে, যে ধ্বনি দীর্ঘ ৫০০ বছর ধরে আন্দোলিত করেছিল সেখানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে। আপনারা সকলেই জানেন যে, বিখ্যাত সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ৯১ হিজরি (৭১১ সালে) সর্বপ্রথম স্পেনের ভূমিতে পা রাখেন। তারিক বিন জিয়াদ স্পেনে যাওয়ার এক বছর পরে অর্থাৎ ৯২ হিজরিতে মুসা ইবনে নুসাইর ইশবিলিয়া (Sevillia) নামক শহরে আসেন এবং এই শহরকে বিজয় করেন। কিছু দিনের জন্য এই শহরটি হাত ছাড়া হয়ে গেলে মুসা বিন নুসাইর তার ছেলে আব্দুর রহমানকে সেখানে পাঠান এবং পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রন কায়েম করেন। সেই দিন থেকে ৫০০ বছর এই শহরটি ইসলামের শহরে রূপান্তরিত হয়।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইশবিলিয়া (Sevillia) কে বিজয় করার পর মুসলমানগণ এই শহরে তাদের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ হল ইশবিলিয়া (Sevillia) উলু মসজিদ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আজকে এই মসজিদটিকে তারা গির্জায় রূপান্তরিত করেছে। মসজিদের মূল ফটক ভেঙ্গে ফেলেছে কিন্তু তারা মিনারকে ভেঙ্গে ফেলতে পারেনি। তবে মিনারের উপরে তারা তাদের ক্রুশকে ঝুলিয়ে দিয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাসে এই শহরটি জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে জ্ঞান ও শিক্ষা সংস্কৃতির কোন কার্যক্রম না থাকলেও সিভেল্লা এখনো স্পেনের গুরত্ত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে এই শহরটি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়। প্রখ্যাত আলেম আবুল খাইর এই শহরের, বোটানীর (উদ্ভিদবিদ্যার) ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উম্মোচনকারী ইবনে আওয়ামও এই শহরের। প্রখ্যাত আলেম আবু বকর ইবনে আরাবীও ছিলেন এই শহরের। এই সকল বিশ্ববিখ্যাত আলেম ছাড়াও আমরা যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে, এই শহরে কত বড় বড় আলেম জন্মগ্রহণ করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে আরেকটি বিষয় এখানে প্রনিধানযোগ্য, ১১ শতাব্দীতে এই শহরে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ কার্যক্রম শুরু হয়। তখনও মুসলমানদের মধ্যে খুব বেশী সমস্যা তৈরি হয়নি। কিন্তু এই অনুবাদের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রে বিভ্রান্তি ঘটায়। মুসলমানদের লেখা গ্রন্থগুলোকে তাদের নিজেদের নামে চালিয়ে দেওয়া শুরু করে। এটা নিয়ে অনেক বেশী গবেষণা হওয়া দরকার।</span></p>
<p><strong>এই অঞ্চলে মুসলমানগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, মিউজিক, কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে এত উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, মুসলমানগণ যদি ইতিহাস থেকে ছিটকে না পড়ত তাহলে সমগ্র পৃথিবী হয়তোবা আজ অন্য একটি অবস্থানে থাকত। আমরা সকলেই জানি যে, যখন কোন আদর্শ সফলতার চূড়ায় আরোহিত হয় তখন মানুষ সে আদর্শ বা সভ্যতাকে অনুকরণ করে থাকে। আজকে যেমন মুসলমানরা পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণ করে। তাদের ভাষায় কথা বলে, তাদের মত করে পোশাক পরে, তাদের শহরের আলোকে নিজেদের শহরকে গড়ে তুলে। তেমনি ভাবে ঐসময়ে এই সেভিল্লা ও আন্দালুসিয়াও এমন এক অবস্থানে ছিল যে, পাশ্চাত্যে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা মুসলমানদেরকে অনুসরণ ও অনুকরণ করত। তারা মুসলমানদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করত, তাদের পোশাক পরিধান করত, তাদের শহরের অনুকরণে নিজেদের শহর ও ঘরবাড়ি বানাত।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা দেখে তৎকালীন পোপরা এক মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। তাই তারা তাদের যুবসমাজকে মুসলমানদের আদর্শ থেকে রক্ষা করার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা বলেন, আমাদের যুবকরা মুসলমানদের অনুসরণ ও অনুকরণ করছে, তাদের ধর্মকে গ্রহণ করছে তাই আমাদেরকে এদেরকে রক্ষা করার জন্য কাজ করতে হবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলমানগণও তাদের উচ্চতাকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং জ্ঞানকে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি বা শেয়ার করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">চারটি প্রতিষ্ঠানকে মুসলমানগণ বিশ্ববাসীর সামনে উম্মোক্ত করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে মুসলমানগণ বিন্দুমাত্রও কার্পণ্য করেননি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এগুলো হল,</span></p>
<p><strong>১। হাসপাতাল, আমরাই মানুষকে হাসপাতাল শিক্ষা দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>২। বিশ্ববিদ্যালয়, আমরাই সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা করে এর সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>৩। পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (Observatory) এর সাথে মানুষকে আমরাই সর্বপ্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>৪। উন্নত খাদ্য।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শুধু এগুলোই নয়, ইউরোপের খাবারের ক্ষেত্রেও আমাদের ভূমিকা অনেক বেশী। আমরা ইউরোপকে তাদের খাবার-দাবারকে উন্নত করার জন্য অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছি। যেমন চিনি। সর্বপ্রথম চিনি আবিষ্কার করে মুসলমানগণ। চিনির আবিষ্কার খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে এক নব যুগের সূচনা করে। আজকের ইউরোপের অনেক খাবার দাবারের পেছনে ঐসময়ের পরিবর্তন অনেক বড় একটি জায়গা দখল করে আছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কৃষি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপ্লব করেছিল মুসলমানগণ। <strong>মাল্টা, কমলা, লেবু, গ্রেফ্রুট আন্দালুসিয়ার আলেমদের আবিষ্কার।</strong> আন্দালুসিয়ার যে সকল আলেম-উলামা কৃষি নিয়ে গবেষণা করতেন তারাই এই সকল কিছুর সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন, মাল্টা, তুরস্কে আসে ১৭৫০ সালের দিকে। প্যারিসে নিযুক্ত উসমানী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ২৮ তম চেলেবি মেহমেদ মাল্টা, টমেটোর বীজ নিয়ে আসেন। তখন তিনি এমন ভাবে নিয়ে আসেন যে, যেন এগুলা ফ্রান্সে আবিষ্কার!</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল মাল্টা ও টমেটো দেখে যারা সেই সময়ে পাশ্চাত্যের মোহে অন্ধ ছিল তাদের মোহ আরও বেড়ে যায়। অথচ ফ্রান্স এগুলা শিখেছিল আন্দালুসিয়ার মুসলমানদের কাছ থেকে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই জন্য আমাদের উচিত হল আমাদের অতীতকে নিয়ে গবেষণা করা এবং আমাদের আত্মবিশ্বাসকে বৃদ্ধি করা। এগুলা জেনে বসে থাকলে চলবে না। কোরআনের আহবানের আলোকে আমাদেরকে পুনরায় জ্ঞান-গবেষণায় মনোনিবেশ করতে হবে।</span></p>
<p><strong>অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5268</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী সভ্যতায় ইবাদতগাহের বিধান ও আয়াসোফিয়া</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-rules-of-worship-place-in-islamic-civilization-and-the-ayasofya/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-rules-of-worship-place-in-islamic-civilization-and-the-ayasofya/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[প্রফেসর ড. মেহমেদ গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2021 07:07:37 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আন্তর্জাতিক রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4217</guid>

					<description><![CDATA[আয়াসোফিয়া, মানব সভ্যতার ইতিহাস, ধর্ম ও সভ্যতা সমূহের ইতিহাস এবং একই সাথে ইসলাম ও তুরস্কের ইতিহাসের দিক থেকে ঐতিহাসিক এক মর্যাদার দাবিদার। এই কারণে দীর্ঘ ৮৬ বছর বিরতির পর এই ঐতিহাসিক স্থানটির পুনরায় তার আসল প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ায়, পুনরায় মু’মিনদের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;">আয়াসোফিয়া, মানব সভ্যতার ইতিহাস, ধর্ম ও সভ্যতা সমূহের ইতিহাস এবং একই সাথে ইসলাম ও তুরস্কের ইতিহাসের দিক থেকে ঐতিহাসিক এক মর্যাদার দাবিদার। এই কারণে দীর্ঘ ৮৬ বছর বিরতির পর এই ঐতিহাসিক স্থানটির পুনরায় তার আসল প্রকৃতিতে ফিরে যাওয়ায়, পুনরায় মু’মিনদের সিজদায় স্থলে পরিণত হওয়ায়, প্রত্যাশিত ভাবেই প্রাচ্য ও প্রতীচ্য সহ সমগ্র দুনিয়ায় অনেক বড় একটি প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিস্থান সমূহ আলাদা আলাদাভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া ভিন্ন একটি বিষয় হওয়ায় আমি সেই বিষয়ের উপর কোন আলোচনা করতে চাই না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে বিশেষ ভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের পাশাপাশি অর্থোডক্স এবং ক্যাথোলিকরা তাদের নিজস্ব  দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টিকে বিশ্লেষণ করেছেন। অর্থোডক্স বিশ্বের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ যখন এটাকে মধ্যযুগে  ফিরে যাওয়া বলে অভিহিত করছেন তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ এটাকে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যকার নতুন সংঘাত বলে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ আবার এটাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। ক্যাথলিকদের আধ্যাত্মিক নেতা, পোপ ফ্রান্সিস ১২ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেন, “ আমার বিবেক আমাকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে, আয়াসোফিয়ার কথা চিন্তা করছি এবং অনেক ব্যথা অনুভব করছি”। এই সকল প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি কম হলেও কিছু পজিটিভ বক্তব্যও এসেছে।</span></p>
<p><strong>এই সকল প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে আমাদের মনের অজান্তেই কিছু প্রশ্ন জেগে উঠে।</strong></p>
<ul>
<li style="font-weight: 400;"><span style="font-weight: 400;">আয়া সোফিয়া মধ্য যুগের সমাপ্তি ঘটিয়ে নবযুগের সঞ্চারের জন্য ওসিলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। এই আয়াসোফিয়া দীর্ঘ ৫০০ শত বছর ইসলামের ইবাদতগাহ হিসেবে মূলত তার মূলে ফিরে গিয়েছিল, তাহলে কেন এমন একটি বিষয়কে মধ্য যুগে ফিরে যাওয়া বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।</span></li>
<li style="font-weight: 400;"><span style="font-weight: 400;">এর ভেতরে এক আল্লাহর ইবাদত করাকে কেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে নতুন একটি সংঘাতের সূচনা বিন্দু হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে?</span></li>
<li style="font-weight: 400;"><span style="font-weight: 400;">মিউজিয়াম থেকে পুনরায় ইবাদতগাহে রূপান্তর করা কোন অর্থে ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে?</span></li>
<li style="font-weight: 400;"><span style="font-weight: 400;">এই অসাধারণ আয়া সোফিয়াকে পায়ে মাড়ানো ট্যুরিজমের স্থান থেকে মুক্ত করে মু’মিনদের পবিত্র কপাল রাখার একটি জায়গায় রূপান্তর করাটা কেন পোপ ফ্রান্সিসকে ব্যথিত করেছে?</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">পাঁচশত বছর ধরে যে স্থানটি মসজিদ হিসেবে ছিল সেই মসজিদকে  কেন জাদুঘরে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটাকে সবাই পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য আজকের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পাশ্চাত্য থেকে আজ যে প্রতিক্রিয়া আসছে সেগুলোর শক্তিশালী কোন ভিত্তি নেই। তবে যারা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তাদের দৃষ্টিকোণকে বিবেচনায় নিলে এই বিষয়কে একটি মাত্রা পর্যন্ত বুঝা সম্ভব। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে, আমাদের যেই বিষয়টি বুঝতে সবচেয়ে বেশী কষ্ট হচ্ছে সেটি হল পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মুসলিম বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি! যাদের প্রতিক্রিয়ার ভাষা পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশী ধারালো!! যে অবস্থায় কিংবা যে দৃষ্টিকোণ থেকেই হোক না কেন এটি আমাদের মাথায় ধরছে না, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি কেন এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন?? এটা বুঝা সম্ভব নয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় হল, এই সকল প্রতিক্রিয়া এবং বিবৃতি দিয়েছে কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি নয়, আলেমগণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ! আরো একটি দুঃখজনক বিষয় হল, রাজনীতিবিদগণের নিজস্ব রাজনৈতিক এবং ঐতিহাসিক অনুযোগ ও অভিযোগ সমূহ কোন কোন আলেমদেরকে দিয়ে বলানো। বিশেষ করে ঐতিহাসিকভাবে জ্ঞানের পতাকাবাহী হিসেবে সমগ্র বিশ্বে পরিচিতি লাভকারী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমগণের বিবৃতি, প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য সমূহ; মুসলিম উম্মাহর জ্ঞান, শক্তি এবং ক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্কের  ক্ষেত্রে জ্ঞানের মর্যাদা ও সম্মান এর অবস্থান কোথায় এসে উপনীত হয়েছে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটা খুবই হতাশাজনক। আজহারের কোন কোন শিক্ষক তো বলেই ফেলেছেন আয়া সোফিয়াকে আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাত কৃত ইবাদতগাহে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়। ইতিহাস, দ্বীন, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে ন্যূনতমও জ্ঞান এদের নেই। যদি থাকত তাহলে তারা এ ধরণের মূর্খতাসুলভ কথা বলতেন না। তাদের এই ধরণের কথা বার্তা তাদের অবস্থানকে আমাদের সামনে পরিষ্কার করেছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল কারণে এই বিতর্ক নিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য থেকে আসা কিছু কিছু প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের আজকের এই আলোচনায় ইসলামী সভ্যতায় ইবাদত গাহের বিধান এবং এ বিধানের মূলনীতি এবং আইন কানুন সম্পর্কে আলোচনা করব।</span></p>
<p><strong>সম্মানিত ভাই ও বোনেরা,</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইবাদত গাহের বিধান, ইসলামের জন্য নির্দিষ্ট। আমাদের দ্বীনের সবচেয়ে গৌরবজনক বিষয় সমূহের মধ্যে একটি। এই বিধানের (আইনের) সবচেয়ে মৌলিক মূলনীতি হল, ইবাদতগাহ সমূহের অস্পৃশ্যতা। যা আমাদের সভ্যতায় মাসুনিয়াতু মা’বাদ তথা ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchable ) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে শাসকদের কারণে এর ব্যাত্যয় ঘটলেও ইসলামী সভ্যতায় অন্যান্য অনেক সভ্যতার বিপরীতে আবশ্যকীয়তা সমূহের বাহিরে [যা ব্যতিক্রম] অন্য ধর্মের ইবাদতগাহ সমূহে কখনোই স্পর্শও করা হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা শান্তি যে অবস্থায়ই হোক না কেন মুসলমানগণ তাদের চুক্তির দাবি অনুযায়ী, একটি আইনের অধীনে ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchable ) কে সব সময় নিরাপত্তার অধীনে নিয়ে এসেছে। সেইগুলোকে ধারাহিকতা দান করেছে এবং যে যেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী তার সেই বিশ্বাসের আলোকে সে যেন স্বাধীন ভাবে ইবাদত করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা দিয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে মাঝে মধ্যে জনগণের ইসলাম গ্রহণ করার ফলে অথবা দল বেঁধে অন্য তাদের অন্য স্থানে চলে যাওয়ার ফলে কিংবা মাঝে মধ্যে ব্যতিক্রম কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্থান সমূহকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু চৌদ্দশত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও মুসলিম দেশগুলোর বড় বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার সিনাগগ, গির্জা, প্যাগোডা ও মন্দির রয়েছে। এগুলোকে ইসলামী সভ্যতার ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে আমাদের সামনে রয়েছে। আমরা যদি আন্দালুসিয়াকে বিশ্লেষণ করি তাহলে ইসলামী সভ্যতার এই মূলনীতির হাকীকতকে আরো ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারব। যেই আন্দালুসিয়াতে মুসলমানগণ দীর্ঘ ৮ শত বছর ধরে তিলে তিলে গড়ে তুলেছিল, আজ সেখানে কি অবস্থা? আমরা যে সেখানে কত কিছু হারিয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই। <strong>এ কারণে ইসলামের বিজয়াভিযান সমূহকে ক্রুসেডারদের দখল এবং মোঙ্গলদের আক্রমণের সাথে তুলনা করা অনেক বড় একটি ভুল।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহাগ্রন্থ আল কোরআন যেমন কোন ইবাদতগাহের বিনাশ বা ধ্বংসকে ইলাহি ইচ্ছার বিরোধী বলে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছে। একটি আয়াতে অন্য ধর্মের ইবাদতগাহের নাম সমূহকেও উল্লেখ করে এই হাকীকতকে এইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থঃযদি আল্লাহ লোকদেরকে একের মাধ্যমে অন্যকে প্রতিহত করার ব্যবস্থা না করতেন, তাহলে যেখানে আল্লাহর নাম বেশী করে উচ্চারণ করা হয় সেসব আশ্রম, গীর্জা, ইবাদাতখানা ও মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হতো৷” (সূরা হজ্জ-৪০)</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসুলে আকরাম (সঃ) ও কোরআনের আলোকে ইবাদতগাহের হুকুম সমূহকে নিজে বাস্তবায়িত করেছেন এবং সাহাবীদেরকে দিয়ে বাস্তবায়িত করিয়েছেন। নাজরানের খৃষ্টানদের সাথে রাসূলে আকরাম (সঃ) যে চুক্তি করেছিলেন, সেই চুক্তিটি হল ইবাদতগাহের যে হুকুম বা বিধান রয়েছে সেই হুকুমের প্রথম বাস্তবায়ন। রাসূল (সঃ) সেই চুক্তিতে নাজরানবাসীকে তাদের গির্জা ও আশ্রম সমূহের এবং পাদ্রীদের কেন্দ্রস্থল সমূহকে রক্ষা করার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। তাদের ইবাদতের ক্ষেত্রে তাদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। খায়বারকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করার পরেও ইয়াহুদিদের ইবাদতের স্থান সমূহকে স্পর্শও করেননি। যে সকল সৈন্যকে যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন তাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, অন্য ধর্মের ইবাদতগাহ সমূহকে ধ্বংস করবে না, সেই সকল ইবাদতগাহে ইবাদতরত রূহবানদেরকে স্পর্শও করবে না।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূল (সঃ) এর পরে ইবাদতগাহের বিধানের সবচেয়ে সুন্দর উদাহরণ দেখিয়েছেন হযরত উমর (রাঃ)। ইসলামের অনেক অনেক বড় বড় বিজয়াভিযান তার সময়ে পরিচালিত হয়েছিল।</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">হযরত উমর (রাঃ) বাইতুল মাকদিসকে শান্তির মাধ্যমে বিজয় করার কারণে Church of the Holy Sepulchre কে মসজিদে রুপান্তর করা তো দূরে থাকুক “ আমি যদি এখানে নামাজ আদায় করি তাহলে আমার পরের মুসলমানগণ এটাকে মসজিদে রূপান্তর করবে” এই কথা বলে এই চার্চের ভেতরে তিনি নামাজ পর্যন্ত আদায় করেননি। একই উমর (রাঃ) যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়কৃত শাম, ইরাক, ইরানের মত অন্যান্য অঞ্চলের শহরের সবচেয়ে বড় সিম্বলিক ইবাদতগাহ সমূহকে মসজিদে রূপান্তর করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি। ইবাদতগাহ সমূহের অস্পৃশ্যতাকে খুব সতর্কতার সাথে বাস্তবায়ন করেছেন; শামের পূর্ব ফ্রন্টকে যুদ্ধের মাধ্যমে এবং পশ্চিম ফ্রন্টকে শান্তির মাধ্যমে বিজয় করেছেন বলে হযরত ইয়াহইয়া (আঃ) এর নামে নির্মিত আযিয ইউহান্না গির্জার পূর্ব পাশের অর্ধেককে মসজিদ এবং পশ্চিম পাশের অর্ধেককে গির্জা হিসেবে যৌথভাবে ব্যবহার করার জন্য খুলে দেন।</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) খলিফা হলে ইউহান্না গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করতে চান, কিন্তু খৃষ্টানদের বিরোধিতার কারণে তিনি এই সিধান্ত থেকে ফিরে আসেন। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান এই জন্য খৃষ্টানদেরকে অনেক অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু তাদের ১৪ টি গির্জা থাকার পরেও তাদের এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে খলিফা ওয়ালিদ জোরপূর্বক তাদের এই গির্জাকে ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করেন। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযিয খলিফা হলে খৃষ্টানদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইসলামী সভ্যতার ইবাদতগাহের হুকুমকে বাস্তবায়ন করেন এবং মসজিদে রূপান্তরকৃত ও অন্তর্ভুক্তকৃত চার্চ (গির্জা) সমূহকে পুনঃরায় খ্রিস্টানদেরকে ফিরিয়ে দেন।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী চিন্তায় বিভিন্ন ধারা ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ থাকলেও ইসলামের ফিকহের মক্তব সমূহ, কোরআন ও সুন্নত কর্তৃক নির্ধারিত বিধান অনুসারে ‘ইবাদতগাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র ব্যপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন। সেগুলোকে রক্ষা করা এবং নতুন করে নির্মাণের ব্যপারে চিন্তাগত দিক থেকে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আব্বাসী খলিফা হারুনুর রশিদ, তার প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফকে যিম্মিদের গির্জা ও আশ্রম সমূহের হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ইমাম আবু ইউসুফ, খুলাফায়ে রাশিদীনের সময়কাল থেকে উদাহরণ দিয়ে  ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchability)’ র বিষয়টি খলিফাকে জানিয়ে দেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামী সভ্যতায় ইবাদতগাহের বিধান হল যদি শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে কোন অঞ্চল বিজিত হয় তাহলে সেখানের ‘ইবাদত গাহের অস্পৃশ্যতা (untouchable)’র কোন ধরণের ব্যতিক্রম নেই। এই জন্য মুসলমানগণ শান্তি স্থাপনের মাধ্যমে যে সকল অঞ্চল বিজয় করেছে সেই সকল অঞ্চলের কোন ইবাদতগাহকে স্পর্শও করেনি। যুদ্ধের মাধ্যমে যে সকল অঞ্চলে বিজয় করেছে সেই সকল অঞ্চলের ইবাদতের স্থান সমূহও অস্পৃশ্য হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি এই সকল বিষয়ে কিছু কিছু ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়েছে। এর আলোকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত শহরের সিম্বলিক অর্থবহনকারী সবচেয়ে বড় ইবাদতগাহ সমূহকে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে অথবা সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে মসজিদে রূপান্তর করণ, একটি আইন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। শামের উমাইয়া মসজিদ, কর্ডোভা মসজিদ, এবং আয়াসোফিয়া মসজিদ এর অন্যতম উদাহরণ। মুসলমানগণ যে সকল অঞ্চলকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করেছেন সেই সকল অঞ্চলে এই বিধানকে মানার ক্ষেত্রে দৃঢ় সংকল্প ছিলেন। এই বিধানের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণ আপোষ করেননি। যেমন একটু আগেও বলা হয়েছে, শামকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় করলে সেখানের ১৪টি গির্জার মধ্যে শুধুমাত্র সিম্বলিক গুরুত্বের অধিকারী ইউহান্না গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করেছিলেন। অন্য ১৩ টি তে স্পর্শও করেননি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এখানে যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে সেই বিষয়টি হল, মসজিদে রূপান্তর করার বিষয়টি, যেমনটা ধারণা করা হয়ে থাকে তলোয়ারের মাধ্যমে নয় আইনের মাধ্যমে এবং পারস্পারিক চুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে। মুসলমানগণ যে সকল অঞ্চলকে বিজয় করেছেন সেই সকল অঞ্চলে ইবাদতগাহ সমূহকে মসজিদে রুপান্তরের বিষয়টি মুতলাকভাবে পারস্পারিক চুক্তির মাধ্যমে করেছেন। জোর করে কিংবা তলোয়ারের ভয় দেখিয়ে নয় আইনের মাধ্যমে এই বিষয়টির নিষ্পত্তি করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলমানগণ তাদের শাসনাধীন অঞ্চলগুলোতে ইবাদতগাহ সমূহের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অস্পৃশ্যতার নীতিই অবলম্বন করেননি। একই সাথে এই স্থান সমূহকে রক্ষণাবেক্ষণকেউ অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন। খুব বেশী দরকার না হলে এই সকল স্থাপনায় হাত লাগাননি। এর আসল সৌন্দর্যকে রক্ষার ব্যপারে অনেক যত্নবান ছিলেন, এই সকল ইবাদতগাহের মেরামতের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সাহায্যও দিয়েছেন। যেমন মসজিদে রূপান্তরকৃত ইবাদতগাহ সমূহকে কিবালামুখী করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের ক্ষেত্রেও যতটুকু প্রয়োজন এই সকল ইবাদতগাহের স্থাপনায় ততটুকুই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ), ইসলামের ইতিহাসের প্রথম দিকে মাদায়েনকে বিজয় করে কিসরার রাজ প্রসাদকে মসজিদে রূপান্তর করেন। কিন্তু এর ভেতরে প্লাসটারের তৈরি ফিগার সমূহে স্পর্শও করেননি। এমনকি এগুলো দুইশত বছর পর্যন্ত সেই ভাবেই মজবুত অবস্থায় টিকে ছিল। ইরানের এসতাখর শহরে অবস্থিত অগ্নিপূজার একটি স্থানকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়, কিন্তু পিলারে অঙ্কিত ছবি সমূহে হাতও লাগাননি। যেমনটি আয়াসোফিয়ার কিবলার দিকে অঙ্কিত দুই একটি ছবি ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন একটি ছবিতেও হাত দেওয়া হয়নি। মুসলমানগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ফুসতাত, বসরা, বাগদাদের মত শহর সমূহেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রজাদের জন্য ইবাদতগাহ নির্মাণ করেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">উরফায় অবস্থিত গির্জা খৃষ্টান প্রজাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উমাইয়াগণ নির্মাণ করে দেন। আব্বাসী খলিফাদের মধ্যে হারুনুর রশীদ এবং আমীনের সময়ে অনেক গির্জা নির্মাণে রাষ্ট্রীয় ভাবে সাহায্য দেওয়া হয় এবং অনেক গির্জাকে মেরামত করা হয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অনেক প্রাচীন সময়ে নির্মাণ হওয়ার পরেও আয়াসোফিয়া এখনো প্রথম দ্বীনের মত দণ্ডায়মান। হযরত পয়গাম্বর (সঃ) এর সময়কাল থেকে নিয়ে ইস্তানবুলের বিজয় পর্যন্ত ইসলামী সভ্যতার, ইসলামী ফিকহ কর্তৃক ইবাদতগাহের বিধান সম্পর্কিত উদ্ভাবিত মূলনীতির সবচেয়ে অনুপম বাস্তবায়ন হয়েছে আয়াসোফিয়ায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এরকম আর কোন উপমা কোন ইবাদতগাহের ক্ষেত্রে নেই। একটি সভ্যতার অপর একটি সভ্যতা থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে প্রাপ্ত একটি ইবাদাতগাহকে কিভাবে রক্ষা করতে এর অনুপম উপমা হল এই আয়া সোফিয়া।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, এই প্রাচীন ইবাদতগাহের নির্মাতাগণ সকল কিছুকে শুন্য থেকে সৃষ্টিকারী এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য নির্মাণ করেছিলেন। সকল ঐতিহাসিকগণ এই বিষয়ে একমত। মূলত এই মহান উদ্দেশ্য, মহান সেনানায়ক রাসূল (সঃ) যে সুসংবাদে ধন্য সেনাপতি সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ ১৪৫৩ সালে ইস্তানবুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে কোন প্রকার বিরতি না দিয়ে বিগত  শতাব্দীর প্রারম্ভকাল পর্যন্ত জারী ছিল।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সুলতান ,মুহাম্মাদ আল ফাতিহ, ইস্তানবুল বিজয় করার অব্যবহিত পরেই তার প্রচারিত আমান নামার  (নিরাপত্তানামা) মাধ্যমে ইস্তানবুলে বসবাসকারী অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরকে তাদের বিশ্বাসে, ইবাদতে এবং জীবনযাপনের ক্ষেত্রে স্বাধীন ঘোষণা করেন। “ আমরা আমাদেরকে যেভাবে রক্ষা করি তোমাদেরও সেইভাবেই রক্ষা করব” এই ঘোষনা দিয়ে তাদের ইবাদতগাহ সহ তাদের জান মালের নিরাপত্তা দেন। কিন্তু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া, উপরে উল্লেখিত মহান উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করে সেটাকে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের একটি ইবাদতগাহ হিসেবে উম্মাহর কাছে আমানত দেন। এটি মসজিদ হিসেবেই টিকে থাকতে হবে এই শর্তে তিনি আয়াসোফিয়াকে ওয়াকফ করে দেন। ওয়াকফের আইন বিশ্বজনীন। নতুন, পুরাতন, উসমানী, রিপাবলিক বলে কিছু নেই। ওয়াকফ  ওয়াকফই। এই আইন পরিবর্তন করার অধিকার কারো নেই।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিজয়ের পূর্বের সময়ে মাঝে মধ্যে এই স্থাপনাটি আভ্যন্তরীণভাবেই কয়েকবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। কিন্তু আমাদের জাতি এই অনুপম ইবাদতগাহটিকে অত্যন্ত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করেছে। নাম পর্যন্ত পরিবর্তন করার প্রয়োজনবোধ করেননি! মিমার সিনান এই স্থাপনায়  তাওহীদের প্রতীক মিনার সংযোজন করেন এবং শত শত বছর ধরে মু’মিনদের দ্বারা মহান প্রভু আল্লাহকে দেওয়া সিজদা সমূহ এই স্থাপনার প্রথম প্রতিষ্ঠাতাদের মহান উদ্দেশ্যকে সঞ্জীবন করে রেখেছিল এবং এই স্থাপনার ইবাদতগাহের মর্যাদাকে ধরে রেখেছিল।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই অসাধারণ স্থাপনাটিকে সব সময়ে গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। কিবলার দিককার দুইটি ফিগার ছাড়া ভেতরের অন্যান্য ফ্রেস্ক, মোজাইক এবং স্থিরচিত্র সমূহতে আধুনিক সময়ের আগপর্যন্ত হাত দেওয়া হয়নি। কাদিযাদেলি আন্দোলনের পূর্ব পর্যন্ত এই সকল বিষয় নিয়ে কোন প্রকার আলোচনা পর্যন্ত কেউ তুলেনি। আওলিয়া চেলেবি কর্তৃক কয়েক শতাব্দী পরে লেখা সেয়াহাত নামায় আয়াসোফিয়ার প্রতিটি ছবিকে নিজে দেখে সেগুলোর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। মেরামত করার সময় শিল্প এবং ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট সমূহের প্রতি খেয়াল রেখে তদনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করেন। আর এই সকল মেরামত কাজ তদারকি করেন তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে সেরা স্থপতিগণ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আয়াসোফিয়া শুধুমাত্র একটি মসজিদই ছিল না, এটাকে কেন্দ্র করে এর আশে পাশে ফিকহ, ইলমূল কালাম, গণিত ও এস্ট্রনমি নিয়ে অনেক বড় বড় জ্ঞানের কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। জ্ঞান ও হিকমাহর কেন্দ্রস্থল হিসেবে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলে ১৯৩৪ সালে মেরামতের করার কারণ দেখিয়ে আয়াসোফিয়াকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অন্য একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আয়াসোফিয়াকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ছিল একই সাথে ইবাদতগাহের বিধান এবং ওয়াকফ আইনের বিরোধী একটি সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তটি উম্মাহকে দারুণ ভাবে ব্যথিত করেছিল।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যখন আয়া সোফিয়াকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তখন থেকে পাশ্চাত্যসহ আরও অনেক জায়গায় লেখালেখি ও আলাপ আলোচনা শুরু হয় যে যে গির্জাকে মসজিদে রূপান্তর করা হচ্ছে। তাদের এই দাবী মোটেও সঠিক নয়। আয়াসোফিয়া দীর্ঘ পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল, তাই এটাকে পুনরায় জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। এই বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। গির্জা থেকে মসজিদ নয় বরং যাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও আয়াসোফিয়াকে ইসলামের একটি ইবাদতগাহ হিসেবে নতুন করে ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়াটাকে বিশ্বব্যাপী সংকট সৃষ্টি করবে এবং মুসলমানদের এই ন্যায্য দাবিটি সম্ভাব্য আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসভ্যতার সংঘাতের সংকেত হিসেবে দেখা ভূল। যে সভ্যতা তার উন্মেষকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত সবসময় সকল ধর্ম ও বর্ণের লোকদেরকে  তাদের ধর্ম কর্ম পালনে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিয়েছে তারা এই বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">দীর্ঘ ৮৬ বছর ধরে যে স্থানটি থেকে মুসলমানদেরকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল সেটিকে পুনঃরায় ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়ায় সমগ্র উম্মাহ যে পরিমাণে খুশি হয়েছে তা নিঃসন্দেহে আমাদের সকলের জন্য আনন্দের। আমাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধারা সমূহ আয়াসোফিয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে এবং এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের অন্যান্য ইবাদতগাহের মত আয়াসোফিয়াও শুধুমাত্র প্রশান্ত আত্মার মু’মিনদের জন্য নয়, সকল ধর্মের সকল মানুষের জন্য সব সময় খোলা থাকবে। আয়াসোফিয়ায় যারা যিয়ারতের জন্য এসে থাকেন তাদেরকে মেহমানদারীর জন্য আমাদের সভ্যতার সন্তানরা সব সময় প্রস্তুত এবং এটা সব সময় তারা তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণও দিয়েছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল কারণে আয়াসোফিয়াকে পুনঃরায় ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া নিঃসন্দেহে অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। আমাদের জাতি এবং সমগ্র উম্মাহর আবেগ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য এই সিদ্ধান্তটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমি আমার কথা শেষ করার পূর্বে বলতে চাই যে,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মু’মিনদের উপর আয়াসোফিয়ার হক্ব নতুন করে শুরু হচ্ছে। আয়াসোফিয়ার সবচেয়ে বড় হক্ব একে পুনরায় মসজিদ হিসেবে শুরু করার মাধ্যমে শুরু হল। শুধুমাত্র আয়াসোফিয়াকে অফিসিয়ালি খুলে দেওয়ার মাধ্যমেই আমাদের উপর আয়া সোফিয়ার হক্ব আদায় হবে না। আমরা যদি এই সকল কাজকেই যথেষ্ট মনে করি তাহলে আমাদের হাজার হাজার মসজিদের সাথে শুধুমাত্র আয়াসোফিয়া যুক্ত হবে আর কিছু না। আমরা যদি আমাদের উপর আয়াসোফিয়ার হক্বকে আদায় করতে চাই তাহলে আমাদের উচিত হবে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই মিলে ইখলাসে সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সেখানে আদায় করা। আয়াসোফিয়াকে শুধুমাত্র একটি ইবাদতগাহ হিসেবে নয় জ্ঞান, হিকমা, ওয়াহদাত (একতা) এর স্থানে পরিণত করতে পারি তাহলে এর আসল হক্ব আদায় করা হবে। এই হক্বকে কেবলমাত্র মিহরাব থেকে ইখলাস ও আন্তরিকতা, মিম্বার থেকে জ্ঞান ও হিকমত, কুরসি থেকে আখলাক ও আদালত এর প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে, মিনার থেকে হক্ব, হাকীকত এবং রহমতের দিকে আহবান করার মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব। আমরা যদি এই সকল কাজ করতে পারি তাহলে আয়াসোফিয়া সত্যি তখন খুশি হবে। খোলে দেওয়াটাই মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হল কিয়ামত পর্যন্ত এর রূহকে জাগ্রত করে রাখা এবং একে আবাদ করা। আমরা যদি তাকে ইহইয়া ও ইমার করতে পারি তাহলে সেও আমাদেরকে অবশ্যই পুনর্জাগরণের রূহ অর্জনে সাহায্য করবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">সমগ্র উম্মাহর জন্য মোবারক হোক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের ইবাদতগাহ সমূহের মত আমাদের অন্তর সমূহও আবাদ হোক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ আয়াসোফিয়ার মত আমাদেরকেও আমাদের মূলে ফিরে যাওয়ার তওফিক দান করুন। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমীন।</span></p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-rules-of-worship-place-in-islamic-civilization-and-the-ayasofya/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4217</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
