<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>শায়েখ আমীন ইলদিরিম &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/author/md-emin_yildirim/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Mon, 24 Aug 2026 10:33:54 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>শায়েখ আমীন ইলদিরিম &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ইতিহাস কিভাবে পড়ব?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-to-study-history/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-to-study-history/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শায়েখ আমীন ইলদিরিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 16 Mar 2023 18:40:25 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7671</guid>

					<description><![CDATA[মহাগ্রন্থ আল-কোরআন যে সকল মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, ইতিহাস তার মধ্যে অন্যতম। এই অর্থে কোরআনের মৌলিক বিষয় সমূহের একটি হল ‘ইতিহাস’। &#160; মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ইতিহাসের কোন বই না হওয়া সত্ত্বেও এর দুই তৃতীয়াংশ ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xdj266r x126k92a">
<div dir="auto">মহাগ্রন্থ আল-কোরআন যে সকল মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে, ইতিহাস তার মধ্যে অন্যতম। এই অর্থে কোরআনের মৌলিক বিষয় সমূহের একটি হল ‘ইতিহাস’।</div>
</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">মহাগ্রন্থ আল-কোরআন ইতিহাসের কোন বই না হওয়া সত্ত্বেও এর দুই তৃতীয়াংশ ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহ এবং এই সকল ঘটনায় উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গকে মূল্যায়ন করার সময় কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এই বিষয়ে কোরআনে অনেক আয়াত রয়েছে।</div>
</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তবে এই ক্ষেত্রে তিনটি আয়াত খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">১।</div>
<div dir="auto">﴿لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ۗ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ﴾</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">&#8221;পূর্ববর্তী লোকদের এ কাহিনীর মধ্যে বুদ্ধি ও বিবেচনা সম্পন্ন লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে৷ কুরআনে এ যা কিছু বর্ণনা করা হচ্ছে এগুলো বানোয়াট কথা নয় বরং এগুলো ইতিপূর্বে এসে যাওয়া কিতাবগুলোতে বর্ণিত সত্যের সমর্থন এবং সবকিছুর বিশদ বিবরণ, আর যারা ঈমান এসেছে তাদের জন্য হেদায়াত ও রহমত&#8221;৷ (সূরা ইউসুফ ১১১)</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">২।</div>
<div dir="auto">فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ﴾</div>
<div dir="auto">তুমি এ কাহিনী তাদেরকে শুনাতে থাকো, হয়তো তারা কিছু চিন্তা -ভাবনা করবে৷ (আরাফ ১৭৬)</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">৩।</div>
<div dir="auto">﴿وَكُلًّا نَّقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ ۚ وَجَاءَكَ فِي هَٰذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ﴾</div>
<div dir="auto">&#8221;আর হে মুহাম্মদ! এ রসূলদের বৃত্তান্ত, যা আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, এসব এমন জিনিস যার মাধ্যমে আমি তোমার হৃদয়কে মজবুত করি৷ এসবের মধ্যে তুমি পেয়েছো সত্যের জ্ঞান এবং মুমিনরা পেয়েছে উপদেশ ও জাগরণবাণী&#8221;৷ (হুদ-১২০)</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এই আয়াত সমূহ থেকে ইতিহাস বুঝার ক্ষেত্রে আমরা ৫ টি পন্থা পেয়ে থাকি।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>১। আকলকে ব্যবহার করা।</em></div>
<div dir="auto"><em>২। শিক্ষা গ্রহন করা।</em></div>
<div dir="auto"><em>৩। চিন্তার উপাদান তৈরি করা।</em></div>
<div dir="auto"><em>৪। হৃদয় মনের মযবুতি অর্জন করা।</em></div>
<div dir="auto"><em>৫। নিজেদের কর্তব্য নির্ধারণ করা।</em></div>
</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যে কোন ঘটনা কিংবা ইতিহাসকে মূল্যায়ন করার জন্য এই সকল বিষয় সমূহ খুবই জরুরী।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ইতিহাস থেকে বার্তা (মেসেজ) গ্রহণ করতে হলে যে পন্থা অবলম্বন করতে হবেঃ</div>
</div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>১। ইতিহাস কাউকে নিন্দা করার জন্য কিংবা কারোর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হওয়ার জন্য কোন উপাদান নয়।</em></div>
<div dir="auto"><em>২। যে কোন ধরণের মুবালাগা (অতিরঞ্চন) ই হাকীকতের পথে সবচেয়ে বড় শত্রু।</em></div>
<div dir="auto"><em>৩। ইতিহাসের নায়ক কোন ফেরেশতা নয় মানুষ।</em></div>
<div dir="auto"><em>৪। সব ভালো কিংবা সব খারাপ এমন কোন বিষয় ইতিহাসে নেই।</em></div>
<div dir="auto"><em>৫। ব্যক্তি পূজা ইসলাম কখনোই ভালো চোখে দেখে না</em></div>
<div dir="auto">&nbsp;</div>
</div>
<div dir="auto">.</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">মূলঃ উস্তাজ আমীন ইলদিরিম</div>
<div dir="auto">অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ</div>
</div>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-to-study-history/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7671</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সীরাত কেন পড়ব</title>
		<link>https://rowyakbd.com/why-we-need-to-read-sirat/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/why-we-need-to-read-sirat/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শায়েখ আমীন ইলদিরিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 May 2021 16:41:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজবিজ্ঞান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5274</guid>

					<description><![CDATA[মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেন- &#160; “যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে, নিঃসন্দেহে তাদের জন্য রাসূল (সা.) এর জীবনীর মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ ।” (৩৩:২১) কুরআন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরলে কেন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে বলেছেন-</p>
<p><strong>&nbsp; </strong>“যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে, নিঃসন্দেহে তাদের জন্য রাসূল (সা.) এর জীবনীর মধ্যে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ ।” (৩৩:২১)</p>
<ul>
<li>কুরআন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরলে কেন মানুষ ভ্রান্ত (দালালাত) পথের দিকে পরিচালিত হবে না?</li>
<li><span style="font-weight: 400;">রাসূলে আকরাম (সা.) এর পথ কেন দিনের আলোর মত এতো সুস্পষ্ট একটি&nbsp; পথ?</span></li>
<li>নবী<span style="font-weight: 400;"> করীম (সা.) এর নিকটে আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা বা কল্পনা কেমন ছিলো? এই সম্পর্কে আমরা কি বলতে পারি?</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">&nbsp;<strong>সীরাত </strong></span><strong>কিভাবে</strong><strong> সুন্নাতের ব্যাখ্যা, আর সুন্নাত কিভাবে সীরাতের ব্যাখ্যা ?</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আরবী ভাষায় সীরাতের বহুবচন হল <strong>‘সিয়ার’</strong>। এর শাব্দিক অর্থ হলো-</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">জীবন পরিচালনার ধরণ</span></li>
<li>পথ</li>
<li><span style="font-weight: 400;">তদবীর এবং প্রশাসন</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">আচার-আচরণ</span></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">পবিত্র কোরআনে কারীমের এক স্থানে হযরত মুসা (আ.) এর মু’জিযার লাঠি সাপে পরিণত হওয়ার ঘটনাকে বুঝানোর সময় এটি ব্যবহার করা হয়েছে। সূরা ত্বহায় বলা হয়েছে,</span></p>
<p><strong>&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَىٰ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَى قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَىٰ</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অর্থাৎ আল্লাহ বললেন, হে মূসা একে ছুঁড়ে দাও ! সে ছুঁড়ে দিল এবং অকস্মাৎ সেটা হয়ে গেলো একটা সাপ, যা দৌঁড়াচ্ছিল। তিনি বললেন,&nbsp; ওটা ধরে ফেলো এবং ভয় করো না, আমি সেটাকে আবার ঠিক তেমনটিই করে দেবো যেমনটি সে আগে ছিলো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>&nbsp;سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَىٰ</strong> অর্থাৎ ‘অচিরেই আমি সেটাকে তার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনব’ এই আয়াতে বর্ণিত <strong>سِيرَة&nbsp;</strong> &nbsp;শব্দটিকে &#8211; অবস্থা, পরিস্থিতি, কাজের পন্থা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।</span></p>
<p>হাদীস শাস্ত্রেও সীরাত শব্দটি ‘তদবীর এবং আচরণের ধরণ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন- হিজরতের ষষ্ঠ বছরে রাসূলে আকরাম (সা.) দুমাতুল জান্দালে আব্দুর রহমান ইবনে আওফকে সেনাপতি হিসেবে পাঠিয়ে তাকে বলেন; হে আওফের ছেলে! ঐ পতাকাকে নাও! তোমরা সকলেই আল্লাহর পথে বের হয়ে যাও এবং যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে না তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। একই সাথে তোমরা গণিমতের মাল খেয়ানত করবে না, কারও চেহারায় আঘাত করবে না, ছোট শিশুদেরকে হত্যা করবে না। এটা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের চুক্তি (আহিদ) এবং তোমাদের মধ্যে অবস্থানকারী রাসূলে আকরামের সীরাত/কাজের পন্থা। <strong>(সীরাতে ইবনে হিশাম, চতুর্থ খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এগুলোই হলো সীরাতের শাব্দিক অর্থ। <strong>&nbsp;পারিভাষিক অর্থে সীরাত হলো, ‘রাসূলে আকরাম (সা.)-এর জন্ম থেকে নিয়ে ওফাত পর্যন্ত তাঁর জীবনের সকল ঘটনা, তাঁর আখলাক, শামাইল, দালাইল ও মু’জিযাসমূহ এবং তাঁর বংশ সম্পর্কিত জ্ঞানের নাম ।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূলে আকরাম (সা.) এর জীবনের প্রতিটি ঘটনা এবং তাঁর জীবনের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ই একজন মুসলমানের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তিনি হলেন সবচেয়ে উত্তম উপমা, সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি উদাহরণ এবং সর্বোত্তম একজন রাহবার। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অনেক আয়াতে রাসূলে আকরাম (সা.) কে অনুকরণ, অনুসরণ এবং আনুগত্যের কথা বলেছেন এবং গুরুত্ব বুঝিয়েছেন। তাকে পরিপূর্ণভাবে অনুকরণ এবং অনুসরণ করা ছাড়া যে ইসলামকে পরিপূর্ণ ভাবে মানা সম্ভব নয় এই ব্যাপারে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসূলে আকরাম (সা.) ও বলেছেন, আমি তোমাদের কাছে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতদিন পর্যন্ত এই দুটি জিনিসকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব, অপরটি হলো সুন্নাহ।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই জন্য আমাদের উচিত হলো রাসূলে আকরাম (সা.)-এর বরকতময় জীবনকে বিস্তারিতভাবে শেখা, বুঝা এবং উপলব্ধি করা।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আয়াত এবং হাদীসের আলোকে কেন রাসূলের সীরাতকে বিস্তারিতভাবে জানা প্রয়োজন এটা আমি এখন আলোচনা করার চেষ্টা করবো।</span></p>
<p><strong>১)&nbsp; আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্দেশ করে বলেন:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনে রয়েছে একটি উত্তম আদর্শ। তিনি আরও বলেছেন, রাসূল যা কিছু তোমাদের দেন তা গ্রহণ করো এবং যে জিনিস থেকে তিনি তোমাদের বিরত রাখেন তা থেকে বিরত থাকো।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল কথা বলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে তাঁর বরকতময় জীবনের দিকে ধাবিত করেছেন। তাঁর আখলাক যে সমগ্র মানবতার জন্য অনুপম আদর্শ ,এটা যে সকল মানুষের গ্রহণ করা উচিত এই কথা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বার বার বলেছেন। এ জন্য আমাদের উচিত হলো তাঁর বরকতময় জীবনকে সুন্দরভাবে শিক্ষা করা, তাঁর গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ, তাঁর বলা প্রতিটি কথা, চুপ থেকে স্বীকৃতিদান কৃত কর্ম সমূহ আমাদের ভালোভাবে অনুধাবন এবং আত্বস্থ করা প্রয়োজন।</span></p>
<p><strong>২। আমাদের রবকে আরও ভালোভাবে, আরও সঠিক এবং পূর্ণাঙ্গভাবে চেনার জন্য এবং বুঝার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানুষ, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে তার আকলের মাধ্যমে চিনতে পারে, কিন্তু তাকে পরিপূর্ণভাবে চেনার জন্য ও জানার জন্য শুধুমাত্র আকলই যথেষ্ট নয়। তাকে ভালোভাবে চেনার জন্য সহীহ এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের প্রয়োজন। এই সকল জ্ঞানের বা তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে সহীহ এবং পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান হলো মহাগ্রন্থ আল কুরআন। কুরআনে বর্ণিত মহান আল্লাহর সিফাত সমূহ, আসমাউল হুসনা সমূহ এবং এই সকল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিষয় সমূহকে ভালোভাবে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে যিনি বুঝেছেন এমন একজন ব্যক্তির মাধ্যমে মানুষকে বুঝানো প্রয়োজন। যিনি মানুষকে কুরআনে বর্ণিত বিষয় সমূহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা এবং আদেশ অনুযায়ী শিক্ষা দিবেন। আর এই দায়িত্ব হলো রাসূল (সা.) এর। তিনি তাঁর সমগ্র জীবন জুড়ে সঠিকভাবে তাঁর এই দায়িত্বকে পালন করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এজন্য আল্লাহকে পরিপূর্ণভাবে এবং সঠিকভাবে জানার জন্য রাসূল (সা.) এর ব)কতময় জীবনকে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে রাসূলে আকরাম (সা.) এর সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে আমাদের সাথে মহান আল্লাহর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এই বিষয়টি আমরা কেবল মাত্র তাঁর জীবন থেকেই ভালোভাবে জানতে পারব।</span></p>
<p><strong>৩) কুরআন কি বলেছে এবং কি বলতে চেয়েছে এটাকে ভালোভাবে বুঝার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কুরআনের সর্বপ্রথম পাঠক হলেন রাসূলে আকরাম (সা.)। কেননা কুরআন তাঁর উপরেই নাযিল হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি সমগ্র মানবতার কাছে এটাকে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং এই কুরআনকে কিভাবে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে এই শিক্ষাও তিনি দিয়েছেন। এই জন্য তিনি কেবলমাত্র একজন প্রচারক নন, তিনি একই সাথে একজন ব্যাখ্যাকারী, একই সাথে পরিশুদ্ধকারী এবং একই সাথে একজন শিক্ষক।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এ জন্য রাসূলে আকরাম (সা.) কোরআন পড়ার পদ্ধতি থেকে শুরু করে, এটাকে জীবনে কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, কোন অবস্থায় কোন ধরণের কাজ করতে হবে এই ধরণের সকল বিষয়ের ব্যাখ্যা করেছেন এবং নিজের জীবনে সেটাকে বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছেন।</span></p>
<p><strong>৪)&nbsp; সীরাতের অধিকারীর মূল্য এবং মানকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূলে আকরাম (সা.) এর বরকতময় জীবনের মূল্যমানকে কেবলমাত্র তাঁর জীবনকে সঠিকভাবে অধ্যয়ন করেই জানা সম্ভব অন্য কোনভাবে নয়। রাসূলে আকরাম (সা.) এর নবুওয়ত পূর্ব পাক পবিত্র ৪০ বছরের জীবন, এরপর ২৩ বছরের নবুয়তী জিন্দেগী এবং তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া হাজার হাজার ঘটনা যতবেশি সঠিকভাবে বুঝা যাবে, আমাদের কাছে রাসূলের জীবন ততবেশি সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর একজন মুসলমানের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সে যে রাসূলের উপর ঈমান এনেছে সে তাঁর সেই রাসূলকে যত ভালোভাবে চিনতে পারবে তার প্রতি তার ভালোবাসা ততবেশি বৃদ্ধি পাবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">পাশ্চাত্যের গবেষকরাও যখন নিরপেক্ষ মন ও মানসিকতা নিয়ে আমাদের রাসূল (সা.)-কে গবেষণা করে তারাও তাঁর প্রতি মুগ্ধ হয়ে যায়। তাহলে একজন মুসলমান, যিনি তার ঈমান আনীত রাসূলকে ভালোভাবে চিনতে পারবে সে কি মুগ্ধ না হয়ে পারবে? এই জন্য সীরাত, রাসূলে আকরাম (সা.) এর বরকতময় জীবনকে সঠিকভাবে জানা এবং বুঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।</span></p>
<p><strong>৫) ইসলাম, ঈমান, ইহসান এবং ইখলাসের মূল্য ও গুরুত্ব জানার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইনসান তাসাউউরকে ( চিন্তাশক্তি দিয়ে কোন কিছুর প্রতিচ্ছবি তৈরি করা ) গঠন করার জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এগুলোর অর্থ যদি সঠিকভাবে বুঝা সম্ভব হয় তাহলে তাসাউউরও সঠিক হবে, আর যদি না হয় তাহলে তাসাউউরও ভুল হবে। রাসূলে আকরাম (সা.) পরিভাষা সমূহকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যে অনেক পরিভাষার জন্ম দিয়েছেন। যেমন হাদীসে জিব্রাইল। ওই হাদীসের মাধ্যমে তিনি ইসলাম, ঈমান, ইহসানকে শিক্ষা দিয়েছেন। হাদীসে এই ধরণের অনেক উদাহরণ আমরা দেখতে পাই। এ জন্য সীরাতকে সঠিক ভাবে শেখার অর্থ হলো, ইসলামের পরিভাষা সমূহকে সঠিকভাবে শেখা।</span></p>
<p><strong>৬) হাদীস, সুন্নাত এবং ইতিহাসকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কুরআনকে সঠিকভাবে বুঝার জন্য যেমন সীরাতকে সঠিক বুঝা প্রয়োজন তেমনিভাবে হাদীস এবং ইতিহাসকে বুঝার জন্যও সীরাতকে ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। কারণ সীরাত হলো সুন্নাতের ব্যাখ্যা, আর সুন্নাত হলো কুরআনের ব্যাখ্যা, শানে নুযুল জানা।&nbsp;</span></p>
<p><strong>৭) আদর্শ একজন মানুষ হওয়ার জন্য এবং আদর্শ একজন মুমিন হওয়ার পথ সমূহ জানার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন আদর্শ মানুষ এবং মুমিন হওয়ার জন্য আল্লাহ যে সকল বিষয়কে সামগ্রিকভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন, সে সকল বিষয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে ছিন্ন না করা এবং এই সকল সম্পর্ককে আল্লাহ যে পর্যায়ে চেয়েছেন সে পর্যায়ে উন্নীত করা প্রয়োজন। এই সকল সম্পর্ককে আমরা এইভাবে লিখতে পারি-</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; ♦<strong> আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক</strong></span></p>
<p><strong>&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp;♦ অন্য মানুষের সাথে সম্পর্ক</strong></p>
<p><strong>&nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp; &nbsp;♦ বিশ্বসৃষ্টি এবং দুনিয়ার সাথে মানুষের সম্পর্ক</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানব সৃষ্টির সবচেয়ে কামিল (পরিপূর্ণ, পূর্ণাঙ্গ) মানুষ হলেন মুহাম্মদ (সা.)। এই সকল সম্পর্ককে সবচেয়ে সুন্দর ভাবে মানুষের সামনে পেশ করেছেন তিনি। এই সকল উপমা সমূহ ভালোভাবে আত্তস্থ করার জন্য তাঁর জীবনকে খুব ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীরাতের পৃষ্ঠাসমূহকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।</span></p>
<p><strong>৮) সকল সময়ে, সকল স্থানে এবং সকল ঘটনাকে সঠিকভাবে কেমন করে বিশ্লেষণ করতে হবে সেটা সঠিকভাবে জানার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">স্থান-কাল এবং পাত্র পরিবর্তন হয়ে গেলে এই অবস্থায় মানুষ কিভাবে কাজ করবে কোন পন্থা অবলম্বন করবে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। কোথায় চুপ থাকতে হবে, কোথায় কথা বলতে হবে, কখন নরম হতে হবে, কখন কঠিন হতে হবে এই সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হলো <strong>‘সময়কে চেনা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।</strong> আমাদের রাসূলে আকরাম (সা.) এই সকল বিষয়ের সবচেয়ে উত্তম উপমা। সীরাত গ্রন্থ সমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শত শত তথ্য এবং উপমা আমাদেরকে এই বিষয় সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে থাকে। এই জন্য এক দিক থেকে সীরাত মুমিনের জন্য কৌশলগ্রহণের সবচেয়ে সেরা উৎস।</span></p>
<p><strong>৯) রাসূলে আকরাম (সা.) কে সত্যিকারভাবে ভালোবাসার জন্য এবং সত্যিকারভাবে অনুসরণ করার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূলে আকরাম (সা.) কে ভালোবাসা একজন মুসলমানের জন্য কেবল আবেগের কিংবা জযবার একটি বিষয় নয়। এটি একই সাথে ঈমানী একটি বিষয়। কেননা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূলকে ভালোবাসা এবং তাঁর অনুসরণ করাকে পরিপূর্ণভাবে ঈমানদার হওয়ার জন্য অন্যতম&nbsp; একটি শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। রাসূলে আকরাম (সা.) ও এই বিষয়টিকে নিজের ভাষায় বর্ণনা করেছেন। তাঁর প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা পোষণ করতে হলে তাকে সত্যিকার অর্থে চিনতে হবে। একটি কথা আছে <strong>‘যতবেশি ভালোভাবে চিনতে পারবে, ততবেশি ভালোবাসা জন্মাবে’</strong>। আর কাউকে চেনার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো তার জীবনীকে ভালোভাবে জানা। এখন আসা যাক আমরা তাকে কিভাবে ভালোবাসবো?</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;">জীবনের সকল ক্ষেত্রে কোন ধরণের দ্বিধাদ্বন্দে না ভুগে তাকে রাহবার হিসেবে গ্রহণ করে।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">&nbsp;তাঁর দেওয়া হুকুম আহকাম সমূহকে জীবনে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">&nbsp;শুধুমাত্র আকল দ্বারা নয়, একই সাথে আকল এবং অন্তর দিয়ে বিশেষ করে অন্তর দিয়ে ভালোবেসে।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">তাঁর সাথে জীবন্ত একটি সম্পর্ক স্থাপন করার মাধ্যমে।</span></li>
<li><span style="font-weight: 400;">সকল ব্যাপারে তাঁর দেখানো পথে কাজ করে।</span></li>
</ul>
<p><strong>১০) রাসূলে আকরাম (সা.) এর মতো শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য এবং তার মতো করে শিক্ষা দেওয়ার জন্য:</strong></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">রাসূল (সা.) বলেছেন &#8221; أدَّبني ربي فأحسن تأديبي &#8221; অর্থাৎ: “আমার রব আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন তিনি কত সুন্দর করেই না আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।”</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূলে আকরাম (সা.) কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজে শিক্ষা দান করেছেন। ওহী পাঠানোর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তাকে বিশেষভাবে গড়ে তুলেছেন এবং নবী বলে ঘোষণা করার পর তাঁর প্রেরিত আয়াত দিয়ে তাকে সেই আলোকে গড়ে তুলেছেন। এই জন্য রাসূলের পবিত্র জীবন হলো<strong> ‘কুরআনকে কিভাবে প্রতিষ্ঠা করবো?</strong>’ এই প্রশ্নের একটি জবাব। সীরাতের মাধ্যমে যদি আমরা এই বিষয়টিকে ভালোভাবে বুঝতে পারি তাহলে আমরা আমাদের নিজেরদেরকে গড়ে তুলতে পারবো এবং আমাদের অধীনস্থদেরকেও কুরআনের শিক্ষার আলোকে গড়ে তুলতে পারবো।</span></p>
<p><strong>১১) নববী পন্থার পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানার জন্য:</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><em>‘আমর বিল মা’রুফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার’</em> <em>(সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ)</em> কুরআন ও হাদীস কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দায়িত্বকে পালন করার সময় রাসূলে আকরাম (সা.) এর পন্থাকে অনুসরণ করা প্রয়োজন। কেননা সোজা স্কেল দিয়েই </span>কেবলমাত্র সোজা দাগ টানা সম্ভব। বাঁকা স্কেল দিয়ে নয়। হযরত আলী (রা.) বলেছেন, হক্বকে বুঝা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, হক্বের পথে থাকাটাও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য হক্বের পথে চলা এবং হক্বকে বুঝার জন্য সীরাতের শিক্ষার্থী হতে হবে। সীরাতের শিক্ষার্থী হওয়া ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। সীরাত আল্লাহর পথকে দেখানোর পাশাপাশি, এই পথে কিভাবে চলতে হবে সেটাও দেখিয়ে দিবে। কোথা থেকে কিভাবে শুরু করতে হবে এবং কোথায় গিয়ে থামতে হবে অর্থাৎ সকল পথ এবং পন্থা সীরাতই আমাদেরকে দেখিয়ে দিবে।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">&nbsp;<strong>অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ</strong></span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/why-we-need-to-read-sirat/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5274</post-id>	</item>
		<item>
		<title>আন্দালুসিয়ার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও ইশবিলিয়া (Sevillia) </title>
		<link>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শায়েখ আমীন ইলদিরিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 06 May 2021 16:39:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=5268</guid>

					<description><![CDATA[আজকে সেভিল্লা শহর নামে পরিচিত শহরটির পূর্ব নাম ছিল ইশবিলিয়া। এটি ইসলামের একটি প্রাচীন নগরী ছিল। এই শহরটি ৫০০ বছর ধরে ইসলামের শহর ছিল। এই শহরে দীর্ঘ ৫০০ শত বছর আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে, যে ধ্বনি দীর্ঘ ৫০০ বছর ধরে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>আজকে সেভিল্লা শহর নামে পরিচিত শহরটির পূর্ব নাম ছিল ইশবিলিয়া। এটি ইসলামের একটি প্রাচীন নগরী ছিল। এই শহরটি ৫০০ বছর ধরে ইসলামের শহর ছিল। এই শহরে দীর্ঘ ৫০০ শত বছর আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়েছে, যে ধ্বনি দীর্ঘ ৫০০ বছর ধরে আন্দোলিত করেছিল সেখানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে। আপনারা সকলেই জানেন যে, বিখ্যাত সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ৯১ হিজরি (৭১১ সালে) সর্বপ্রথম স্পেনের ভূমিতে পা রাখেন। তারিক বিন জিয়াদ স্পেনে যাওয়ার এক বছর পরে অর্থাৎ ৯২ হিজরিতে মুসা ইবনে নুসাইর ইশবিলিয়া (Sevillia) নামক শহরে আসেন এবং এই শহরকে বিজয় করেন। কিছু দিনের জন্য এই শহরটি হাত ছাড়া হয়ে গেলে মুসা বিন নুসাইর তার ছেলে আব্দুর রহমানকে সেখানে পাঠান এবং পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রন কায়েম করেন। সেই দিন থেকে ৫০০ বছর এই শহরটি ইসলামের শহরে রূপান্তরিত হয়।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইশবিলিয়া (Sevillia) কে বিজয় করার পর মুসলমানগণ এই শহরে তাদের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ হল ইশবিলিয়া (Sevillia) উলু মসজিদ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আজকে এই মসজিদটিকে তারা গির্জায় রূপান্তরিত করেছে। মসজিদের মূল ফটক ভেঙ্গে ফেলেছে কিন্তু তারা মিনারকে ভেঙ্গে ফেলতে পারেনি। তবে মিনারের উপরে তারা তাদের ক্রুশকে ঝুলিয়ে দিয়েছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ইতিহাসে এই শহরটি জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে জ্ঞান ও শিক্ষা সংস্কৃতির কোন কার্যক্রম না থাকলেও সিভেল্লা এখনো স্পেনের গুরত্ত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র। কিন্তু ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখতে পাই যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিতে এই শহরটি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিল এক অনন্য উচ্চতায়। প্রখ্যাত আলেম আবুল খাইর এই শহরের, বোটানীর (উদ্ভিদবিদ্যার) ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উম্মোচনকারী ইবনে আওয়ামও এই শহরের। প্রখ্যাত আলেম আবু বকর ইবনে আরাবীও ছিলেন এই শহরের। এই সকল বিশ্ববিখ্যাত আলেম ছাড়াও আমরা যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহলে আমরা দেখতে পাই যে, এই শহরে কত বড় বড় আলেম জন্মগ্রহণ করেছেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">তবে আরেকটি বিষয় এখানে প্রনিধানযোগ্য, ১১ শতাব্দীতে এই শহরে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ কার্যক্রম শুরু হয়। তখনও মুসলমানদের মধ্যে খুব বেশী সমস্যা তৈরি হয়নি। কিন্তু এই অনুবাদের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রে বিভ্রান্তি ঘটায়। মুসলমানদের লেখা গ্রন্থগুলোকে তাদের নিজেদের নামে চালিয়ে দেওয়া শুরু করে। এটা নিয়ে অনেক বেশী গবেষণা হওয়া দরকার।</span></p>
<p><strong>এই অঞ্চলে মুসলমানগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্পকলা, মিউজিক, কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে এত উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, মুসলমানগণ যদি ইতিহাস থেকে ছিটকে না পড়ত তাহলে সমগ্র পৃথিবী হয়তোবা আজ অন্য একটি অবস্থানে থাকত। আমরা সকলেই জানি যে, যখন কোন আদর্শ সফলতার চূড়ায় আরোহিত হয় তখন মানুষ সে আদর্শ বা সভ্যতাকে অনুকরণ করে থাকে। আজকে যেমন মুসলমানরা পাশ্চাত্য সভ্যতার অনুকরণ করে। তাদের ভাষায় কথা বলে, তাদের মত করে পোশাক পরে, তাদের শহরের আলোকে নিজেদের শহরকে গড়ে তুলে। তেমনি ভাবে ঐসময়ে এই সেভিল্লা ও আন্দালুসিয়াও এমন এক অবস্থানে ছিল যে, পাশ্চাত্যে বসবাসকারী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা মুসলমানদেরকে অনুসরণ ও অনুকরণ করত। তারা মুসলমানদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করত, তাদের পোশাক পরিধান করত, তাদের শহরের অনুকরণে নিজেদের শহর ও ঘরবাড়ি বানাত।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা দেখে তৎকালীন পোপরা এক মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। তাই তারা তাদের যুবসমাজকে মুসলমানদের আদর্শ থেকে রক্ষা করার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তারা বলেন, আমাদের যুবকরা মুসলমানদের অনুসরণ ও অনুকরণ করছে, তাদের ধর্মকে গ্রহণ করছে তাই আমাদেরকে এদেরকে রক্ষা করার জন্য কাজ করতে হবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মুসলমানগণও তাদের উচ্চতাকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে এবং জ্ঞানকে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি বা শেয়ার করতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">চারটি প্রতিষ্ঠানকে মুসলমানগণ বিশ্ববাসীর সামনে উম্মোক্ত করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে মুসলমানগণ বিন্দুমাত্রও কার্পণ্য করেননি।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এগুলো হল,</span></p>
<p><strong>১। হাসপাতাল, আমরাই মানুষকে হাসপাতাল শিক্ষা দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>২। বিশ্ববিদ্যালয়, আমরাই সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠা করে এর সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>৩। পর্যবেক্ষণকেন্দ্র (Observatory) এর সাথে মানুষকে আমরাই সর্বপ্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছি।</strong></p>
<p><strong>৪। উন্নত খাদ্য।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">শুধু এগুলোই নয়, ইউরোপের খাবারের ক্ষেত্রেও আমাদের ভূমিকা অনেক বেশী। আমরা ইউরোপকে তাদের খাবার-দাবারকে উন্নত করার জন্য অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছি। যেমন চিনি। সর্বপ্রথম চিনি আবিষ্কার করে মুসলমানগণ। চিনির আবিষ্কার খাবার-দাবারের ক্ষেত্রে এক নব যুগের সূচনা করে। আজকের ইউরোপের অনেক খাবার দাবারের পেছনে ঐসময়ের পরিবর্তন অনেক বড় একটি জায়গা দখল করে আছে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কৃষি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপ্লব করেছিল মুসলমানগণ। <strong>মাল্টা, কমলা, লেবু, গ্রেফ্রুট আন্দালুসিয়ার আলেমদের আবিষ্কার।</strong> আন্দালুসিয়ার যে সকল আলেম-উলামা কৃষি নিয়ে গবেষণা করতেন তারাই এই সকল কিছুর সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেন।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">যেমন, মাল্টা, তুরস্কে আসে ১৭৫০ সালের দিকে। প্যারিসে নিযুক্ত উসমানী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ২৮ তম চেলেবি মেহমেদ মাল্টা, টমেটোর বীজ নিয়ে আসেন। তখন তিনি এমন ভাবে নিয়ে আসেন যে, যেন এগুলা ফ্রান্সে আবিষ্কার!</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই সকল মাল্টা ও টমেটো দেখে যারা সেই সময়ে পাশ্চাত্যের মোহে অন্ধ ছিল তাদের মোহ আরও বেড়ে যায়। অথচ ফ্রান্স এগুলা শিখেছিল আন্দালুসিয়ার মুসলমানদের কাছ থেকে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এই জন্য আমাদের উচিত হল আমাদের অতীতকে নিয়ে গবেষণা করা এবং আমাদের আত্মবিশ্বাসকে বৃদ্ধি করা। এগুলা জেনে বসে থাকলে চলবে না। কোরআনের আহবানের আলোকে আমাদেরকে পুনরায় জ্ঞান-গবেষণায় মনোনিবেশ করতে হবে।</span></p>
<p><strong>অনুবাদঃ বুরহান উদ্দিন আজাদ</strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/lost-tradition-of-andalusia-and-sevillia/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">5268</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বদর দিবসের শিক্ষা </title>
		<link>https://rowyakbd.com/bodor-diboser-shikkha/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/bodor-diboser-shikkha/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[শায়েখ আমীন ইলদিরিম]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 27 Apr 2021 10:37:17 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4922</guid>

					<description><![CDATA[কোরআন নাযিলের মাস মাহে রমযান আমাদেরকে অনেক কিছুর জন্যই প্রতি বছর আমাদের মাঝে আগমন করে থাকে, এর মধ্যে অন্যতম হল আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এসে থাকে। মানুষের স্বভাবই হল ভুলে যাওয়া, তাই মহান আল্লাহও আমাদের প্রতি রহম করে বিভিন্ন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কোরআন নাযিলের মাস মাহে রমযান আমাদেরকে অনেক কিছুর জন্যই প্রতি বছর আমাদের মাঝে আগমন করে থাকে, এর মধ্যে অন্যতম হল আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এসে থাকে। মানুষের স্বভাবই হল ভুলে যাওয়া, তাই মহান আল্লাহও আমাদের প্রতি রহম করে বিভিন্ন ওসিলায় আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে থাকেন। এই জন্য আমরা যদি এই মাসে কিছু কিছু বিষয়কে স্মরণ করতে পারি এবং ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি তাহলে এই মাসকে আমরা সঠিক ভাবে পালন করার পন্থাও খুঁজে পাব।</p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>রমযান আমাদেরকে কি স্মরণ করিয়ে দেয়?</strong> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">অনেক বিষয়ই রমযান আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়।  যেমন, সময় নামক যে একটি নিয়ামত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে দিয়েছেন এই বিষয়টি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। রমযানের প্রতিটি মুহূর্তই আমাদের জন্য বরকত ও রহমত স্বরূপ। পবিত্র রমযান মাসে আমরা যে পরিমাণে আমাদের ঘড়ি দেখে থাকি অন্য কোন সময়ই আমরা তা করি না। কিন্তু আমরা যদি এই শিক্ষাকে আমাদের অন্য সময়েও কাজে লাগাতে পারতাম তাহলে আমাদের জীবনটাই পাল্টে যেত।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><strong>আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস। বদরের ঐ দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সমগ্র দুনিয়ার মুসলমানগণ বদরের রূহকে নিজেদেরকে মধ্যে জাগরুক রাখার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা মূলত আমাদের প্রতি সাহাবীদের একটি উপদেশ। প্রখ্যাত সাহাবী সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস বলেন,<em> ‘আমরা কোরআনের একটি সূরাকে বুঝার জন্য যেভাবে প্রচেষ্টা চালাতাম, আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর একটি গাযওয়াকেও বুঝার জন্যও আমরা একই রকম প্রচেষ্টা চালাতাম’।</em></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কোরআনের একটি সূরাকে বুঝার জন্য সাহাবীদের মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল রাসূল (সঃ) এর যুদ্ধ ও গাজওয়া সমুহকেও বুঝার জন্য অর্থাৎ রাসূল (সঃ) এর সিরাতকেও বুঝার জন্য তাদের মধ্যে ঐ একই ধরণের আন্তরিকতা ছিল।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><strong>এর পেছনে কারণ কি ? </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর কারণ হল, রাসূল (সঃ) এর জীবনের বড় একটি অংশ এই গাজওয়া সমূহের সাথে সম্পৃক্ত। এই সকল গাজওয়ার মূল বার্তা ছিল মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<ul>
<li style="font-weight: 400;" aria-level="1"><span style="font-weight: 400;">বদর যুদ্ধকে ভালো ভাবে বুঝার অর্থ হল, <strong>সূরা আনফালকে</strong> ভালোভাবে পড়া ও বুঝা।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></li>
</ul>
<ul>
<li style="font-weight: 400;" aria-level="1"><span style="font-weight: 400;">উহুদ যুদ্ধকে ভালোভাবে পড়া ও বুঝার অর্থ হল, <strong>সূরা আলে ইমরানকে</strong> ভালোভাবে পড়া ও বুঝা।</span></li>
</ul>
<ul>
<li style="font-weight: 400;" aria-level="1"><span style="font-weight: 400;">খন্দকের যুদ্ধকে ভালোভাবে পড়া ও বুঝার অর্থ হল, <strong>সূরা আহযাবকে</strong> ভালোভাবে পড়া ও বুঝা।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></li>
</ul>
<ul>
<li style="font-weight: 400;" aria-level="1"><span style="font-weight: 400;">হুদায়বিয়া ও মক্কা বিজয়কে ভালোভাবে পড়া ও বুঝার অর্থ হল, <strong>সূরা আল-ফাতহকে</strong> ভালোভাবে পড়া ও বুঝা।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></li>
</ul>
<ul>
<li style="font-weight: 400;" aria-level="1"><span style="font-weight: 400;">তাবুক ও হুনাইনকে ভালোভাবে পড়া ও বুঝার অর্থ হল, <strong>সূরা তাওবাকে</strong> ভালোভাবে পড়া ও বুঝা।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></li>
</ul>
<p>এই জন্য আমরা যখন এই সকল যুদ্ধকে ভালোভাবে পড়ি তখন মূলত রাসূল (সঃ) এর জীবন কিভাবে জীবন্ত কোরআনে পরিণত হয়েছিল সেটা বুঝে থাকি। সাহাবীগণ এই বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করার কারণে কোরআনকে যেভাবে বুঝার চেষ্টা করতেন আল্লাহর রাসূল (সঃ) এর জীবনকেও বুঝার জন্য সেভাবে প্রচেষ্টা চালাতেন।</p>
<p><span style="font-weight: 400;">সাহাবীদের মত সমগ্র বিশ্বের মুসলমানরাও ১৪০০ বছরের বেশী সময় ধরে রাসূল (সঃ) এই সকল যুদ্ধ ও গাজওয়াকে বুঝার জন্য নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে আমরা কেন যেন এই সকল বিষয়ে একটু কম গুরুত্ব দিচ্ছি, <em><strong>অথচ বদরকে আমাদের অন্তরে জাগরুক করে রাখার জন্য বদর দিবসকে ভালো</strong></em></span><em><strong> ভাবে পালন করা ও এই দিবস উপলক্ষে সেমিনার ও সভার আয়োজন করা দরকার। </strong></em></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আজকে আমি আমার এই আলোচনায় বদরের পাঁচটি তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করব,</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>১</strong>. বদর হল; গোমরাহী ও হেদায়েতের মধ্যে, ঈমান ও কুফরের মধ্যে, ইখলাসের সাথে নিফাকের মধ্যে গভীরভাবে পার্থক্যকারী একটি যুদ্ধের নাম।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এর দলীল কি? এর দলীল হল মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে ৪১ নম্বর আয়াত। মহাগ্রন্থ আল-কোরআন বদরকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ ( </span><span style="font-weight: 400;">يَوْمَ</span> <span style="font-weight: 400;">الْفُرْقَانِ</span><span style="font-weight: 400;"> ) বলে অভিহিত করেছে। ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ ( </span><span style="font-weight: 400;">يَوْمَ</span> <span style="font-weight: 400;">الْفُرْقَانِ</span><span style="font-weight: 400;"> ) কি? ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ ( </span><span style="font-weight: 400;">يَوْمَ</span> <span style="font-weight: 400;">الْفُرْقَانِ</span><span style="font-weight: 400;"> ) হল, পার্থক্য করার, ফয়সালা করার দিন। কিসের মধ্যে পার্থক্য করেছে? ঐদিন পর্যন্ত কি ঈমান ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য রচিত হয়নি? যারা ঈমান এনেছিল তারা তো মদিনাতে হিজরত করে চলেই এসেছিল। তাহলে কোরআন কেন এই দিনকে এমন একটি নামে নামকরণ করলো? এখানে যে বিষয়টির কারণে</span><span style="font-weight: 400;"> </span><span style="font-weight: 400;"> কোরআন ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ ( </span><span style="font-weight: 400;">يَوْمَ</span> <span style="font-weight: 400;">الْفُرْقَانِ</span><span style="font-weight: 400;"> )</span><span style="font-weight: 400;"> </span><span style="font-weight: 400;"> বলেছে তা হল, যারা ঈমান এনেছিল তাদের দিক থেকে হক্ব ও বাতিল, ঈমান ও কুফরীর ব্যপারে কোন সন্দেহ ছিল না। সন্দেহ ছিল না বলেই তারা ইসলাম গ্রহণ করার শুরুর দিন থেকেই অনেক ত্যাগ কোরবানী দিয়ে আসছিলেন। সন্দেহ ছিল কাফির</span><span style="font-weight: 400;"> </span><span style="font-weight: 400;"> ও মুশরিকদের দলে। তারা তখনও ভাবত যে, যারা তাদের বাপ-দাদার ধর্ম ছেঁড়ে চলে গেছে তারা একদিন নিজেদের ভুল বুঝে পুনরায় ফিরে আসবে কিন্তু বদরের পরে তাদের এই আশায় গুড়েবালি পড়ে। বদরের পর মুশরিকরা এই কথা স্বীকার করে নেয় যে, এরা আর কোন দিন ফিরে আসবে না। মুহাজির সাহাবীগণ তাদেরকে এই যুদ্ধে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের এই সংগ্রাম দুনিয়াবী কোন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নয়, সাময়িক চটকদার কোন কিছুর জন্য নয়। তাদের এই সংগ্রাম হল দুনিয়ার বুকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।</span><span style="font-weight: 400;">   </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>২</strong>. <strong>বদর হল, গনীমত ও আসাবিয়াত এর (জাতীয়তাবাদ, গোত্রপ্রীতি) বিরুদ্ধে তাওহীদ ও আকাঈদের সংগ্রামের নাম।</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মরক্কোর প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ আবিদ আল জাবিরী বলেন, বিশ্বমানবতা আজ পর্যন্ত যত যুদ্ধ করেছে এর মূল কারণ ছিল তিনটি, যুদ্ধের পেছনে হয়ত আকীদাগত দ্বন্দ্ব ছিল, না হয় গণিমতগত স্বার্থ ছিল আর না হয় আসাবিয়াত বা গোত্রপ্রীতি (জাতীয়তাবাদ, জাতীয় স্বার্থ)। এই তিনটির বাহিরে আর অন্য কোন কারণে কোন যুদ্ধ হয়নি।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বদরের ময়দানে সেই বীর সাহাবীগণ কেন এসেছিলেন? তারা এসেছিলেন ঈমান ও তাওহীদের চিন্তাকে দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, সকল মানুষের কাছে ইসলামের আকীদাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মক্কার মুশরিকরা কেন এসেছিল? তাদের এক অংশ এসেছিল গনীমতের জন্য, অপর অংশ এসেছিল আসাবিয়াত বা গোত্রপ্রীতির কারণে।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>৩.</strong> <strong>বদর হল, যারা বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকে তাদের জন্য নয় বরং যারা বাঁচিয়ে রাখার জন্য বেঁচে থাকে তাদের যুদ্ধ ছিল এই বদর।</strong></span><strong> </strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">এটা কি? এটা হল, নবীদের  একটি আখলাকের নাম। সবাই এই কাজ করতে পারে না। হয়ত নিজের সন্তানের জন্য কিংবা নিজের ভবিষ্যতের জন্য পরিশ্রম করতে পারেন কিন্তু এটা হল বেঁচে থাকা, এর নাম বাঁচিয়ে রাখা নয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আর অন্যটি হল বাঁচিয়ে রাখা। এই কথা বলতে শেখা, ‘ দরকার হলে আমি নিজেকে উৎসর্গ করব তবুও আমাদের উম্মাহ যেন বেঁচে থাকে, আমি না খেয়ে থাকব কিন্তু আমার ভাই যেন খেতে পারে, আমার পরে যারা আসবে তারা যেন সুখে থাকে এই জন্য নিজেকে উৎসর্গ করে দিব’।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমরা মুসলমানরা এটাকে ‘ইছার’ বলে থাকি। যার অর্থ হল, বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা নয়, বাঁচিয়ে রাখার জন্য বেঁচে থাকা।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বদরের যুদ্ধে সাহাবায়ে কেরামের ভূমিকাকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলেই আমরা এর প্রমান পাই।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><strong>৪, বদর হল; ইসলামের জন্য, উম্মাহর জন্য কি করা সম্ভব এটা প্রমাণ করে দেওয়ার নাম। সমগ্র উম্মাহ ১৫০০ বছর যাবত যা করছে সেটা তো বদরের সেই ৩১৩ জন মহান সাহাবীর ত্যাগের বদৌলতেই।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> তাদের কাছে খুব বেশী কিছু ছিল না, ৩১৩ জনের জন্য মাত্র ১০০র সাওয়ারী ছিল, নবী করীম (সঃ) সহ তিনজনের ভাগে একটি করে সাওয়ারি ছিল। মরু প্রান্তরে ৩ জন পালাক্রমে একটি সওয়ারীর পীঠে উঠেছেন। কোন তিনজন কোন</span><span style="font-weight: 400;"> </span><span style="font-weight: 400;"> সওয়ারীর পীঠে উঠবে এটা রাসূল (সঃ) বলে দেন এবং হযরত আলী (রাঃ), হযরত মারসাদ (রাঃ) ও রাসূল (সঃ) একটি সাওয়ারী নেন। হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত মারসাদ পরামর্শ করেন যে, তারা সওয়ারীর পীঠে উঠবেন না। যাতে করে রাসূল (সঃ) না হাটতে হয়। তারা এই প্রস্তাব নিয়ে রাসূল (সঃ) এর কাছে গেলে রাসূল (সঃ) জবাবে তাদেরকে বলেন, কেন? আমার চেয়ে তোমাদের কি বেশী আছে? তোমরা যদি আল্লাহর পথে তোমাদের পাকে ধুলামলিন করে সাওয়াব অর্জন করতে চাও তাহলে আমিও তো আল্লাহর পথে নিজের পা কে ধুলামলিন করতে চাই। তাদের জোর করার পরেও তিনি তাদের সাথে পালা ক্রমে একই সাওয়ারীতে উঠেন।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কাফেরদের দুইশত ঘোড়া ছিল আর মুসলমানদের ছিল মাত্র দুইটি। একটি ছিল জুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) এর কাছে আর অপরটি ছিল মিকদাদ বিন আমর (রাঃ) এর কাছে। রাসূল (সঃ) মুশরিকদের দুইশত অশ্বারোহীকে দুই জন দিয়ে মোকাবেলা করার জন্য একজনকে সেনাবাহিনীর ডান পাশে আর অপরজনকে বাম পাশে নিয়োজিত করেন।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কিন্তু তাদের এই সংগ্রাম ছিল রিসালাত-ই মুহামদ্দীর জন্য, তাদের এই সংগ্রাম ছিল ইসলামের জন্য। তাই জুবাইর ইবনুল আওয়াম ও মিকদাদ বিন আমর (রাঃ) বিন্দু মাত্র চিন্তা না করে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্বকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">যদি তারা হিসাব-কিতাব করতেন তাহলে এই ঝুঁকি নিতে পারতেন না। প্রিয় ভাইয়েরা হিসাব কিতাব করে এই সংগ্রামে টিকে থাকা যায় না। যদি হিসাবই করতেন তাহলে মুসা (আঃ) তার লাঠি দিয়ে লোহিত সাগরকে ১২ ভাগে ভাগ করতে পারতেন না, যদি হিসাবই করতেন তাহলে ইব্রাহীম (আঃ) নমরুদের অগ্নিকুণ্ডে ঝাপ দিতেন না, যদি হিসাবই করতেন তাহলে হযরত ইসমাইল (আঃ) তার সেই ছোট্ট গলাটিকে তার পিতার ছুঁড়ির নীচে দিয়ে বলতেন না, বাবা কাটো, তুমি কি আল্লাহর আদেশ অমান্য করবে? যদি হিসাব করতেন তাহলে রাসূলে আকরাম (সঃ) তায়েফের পর আর এক পাও সামনে অগ্রসর হতে পারতেন না।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">আল্লাহর এই দ্বীনের পথের সংগ্রাম এত হিসাব কিতাব করে হয় না। তাহলে কি দিয়ে হয়? মানুষ হিসেবে নিজের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়ে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমেই হতে পারে।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">৫. বদরের যুদ্ধ ছিল, হয় টিকে থাকার না হয় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। যুদ্ধে অবতীর্ণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া করেন-</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">‘হে আল্লাহ! ক্ষুদ্র এ দলটি যদি আজ শেষ হয়ে যায়, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তোমার নাম নেওয়ার মতো কোনো মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ রাসুল (সা.)-এর এই দোয়া থেকেই স্পষ্ট হয়, বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট কী ভয়াবহ ছিল। মহান আল্লাহ দয়া করে সেদিন ফেরেশতাদের দ্বারা মুমিনদের সাহায্য করেছিলেন।</span><span style="font-weight: 400;"> </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"><strong>এখন একটি প্রশ্ন, বদর কি শেষ হয়ে গিয়েছে?</strong></span></p>
<p><span style="font-weight: 400;"> বদর সমূহ কোনদিনই শেষ হবে না। আবু লাহাব ও আবু জেহেলরা যতদিন এই দুনিয়াতে থাকবে ততদিন বদরও থাকবে। আবু লাহাব ও আবু জেহেলরা যেহেতু শেষ হবে না, সেহেতু বদর সমূহও শেষ হবে না। তাই আসুন বদরের সাহাবীদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী সভ্যতাকে পুনরায় বিজয়ী সভ্যতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই।</span></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদ : বুরহান উদ্দিন আজাদ</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/bodor-diboser-shikkha/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4922</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
