<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ফয়েজ আহমদ তৈয়ব &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/author/faiz_ahmad_taiyeb/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার নবায়ন ও পুনর্গঠনের জন্য...</description>
	<lastBuildDate>Tue, 10 Feb 2026 13:01:21 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>ফয়েজ আহমদ তৈয়ব &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>উচ্চশিক্ষিত বেকার তৈরির কারখানাগুলোর রূপান্তর করবে কে?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/who-will-transform-the-factories-of-highly-educated-unemployed-people/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/who-will-transform-the-factories-of-highly-educated-unemployed-people/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 24 Apr 2025 15:17:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15783</guid>

					<description><![CDATA[শিক্ষার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সম্পর্কহীনতার সমস্যা শুধু মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং প্রকটভাবে উপস্থিত আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিষয়ে পড়া স্নাতকদের বেলাতেও। চাকরির বাজারে এসব বিষয়ের অনেকাংশে এখন চাহিদা নেই। সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>শিক্ষার সঙ্গে কর্মদক্ষতার সম্পর্কহীনতার সমস্যা শুধু মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং প্রকটভাবে উপস্থিত আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু বিষয়ে পড়া স্নাতকদের বেলাতেও। চাকরির বাজারে এসব বিষয়ের অনেকাংশে এখন চাহিদা নেই।</p>
<p>সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জরিপমতে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শতাংশ স্নাতক বেকার। কী দেশ, কী শিক্ষাব্যবস্থা—অর্ধেকই বেকার!</p>
<p>বিআইডিএস জরিপে উঠে আসে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ৪২ থেকে ৪৮ শতাংশই বেকার অবস্থায় রয়েছেন।</p>
<p>অন্য জরিপে দেখা গেছে, তাঁরা শিক্ষা সমাপ্তির পরে প্রায় তিন-চার বছর বেকার থাকেন। বেকার অবস্থায় থাকা তরুণর মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি বিএ পাস করেছিলেন। ২৩ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে স্নাতক অর্জন করেছেন। লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে পাস করেছেন প্রায় ২১ শতাংশ। বেকারদের ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ পাস করেছেন ইসলামের ইতিহাস এবং বাংলায়। তবে ইংরেজি, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক করা শিক্ষার্থীরা কম বেকার হয়েছেন। অর্থনীতি বা ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিষয়ের এবং হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও বেকারত্বের শিকার হয়েছেন, তবে কম।</p>
<p>এটা হাস্যকর যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়েন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হন এমন দেশে, যেখানে দিনের ভোট রাতে হয়, সব পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট চুরির ঘটনা ঘটে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভারসাম্য নেই, এমনকি নেই কোনো উপলব্ধিও।</p>
<p>নির্বাচন ও ভোটাধিকারহীন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দেশে রাষ্ট্র বিজ্ঞান পড়ে হাজারে হাজারে তরুণ বেকার থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সরকার ও রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণাও অনেক শিক্ষার্থীর তৈরি হয় না।</p>
<p>এ রকম বহু মানহীন বিষয়ে, নিম্নস্তরের কারিকুলামে, অযোগ্য শিক্ষকের অধীনে এবং ক্লাসহীন শিক্ষায়, চাকরি বাজারের প্রয়োজনীয় দক্ষতার সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক না থাকা বিষয়ে পড়িয়ে আমাদের ছেলেমেয়েকে শিক্ষার নামে সস্তা সার্কাসে ঠেলে দেওয়ার মহা আয়োজন হয়েছে।</p>
<p>শিক্ষার নামে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে কী পড়ানো হচ্ছে, কারা পড়াচ্ছেন, কেন পড়ানো হচ্ছে—এসবের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি নেই বললেই চলে। প্রায়ই দেখা যায়, চাকরির পরীক্ষায় কেউ পাস করে না বলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল হয়।</p>
<p>বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি মতে (১১ ডিসেম্বর ২০২৩), প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কেউই কাট নম্বর পায়নি বলে (যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায়) নবম গ্রেডের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এ রকম প্রায়ই হয়।</p>
<p>হাজারে হাজারে, লাখে লাখে চাকরির আবেদন কিন্তু দক্ষতাসম্পন্ন যোগ্য প্রার্থী নেই। এটা জিপিএ-নির্ভর অসার শিক্ষাব্যবস্থার অনিবার্য ফল! এমন খবর দেখলে মনে হয়, শিক্ষাব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে গেছে।</p>
<p>সহজ প্রশ্ন, উদার মূল্যায়ন, অটো পাস, জিপিএ-৫, প্রশ্নপত্র ফাঁসের চর্চা প্রতিষ্ঠিত করে, গণিত ও বিজ্ঞানশিক্ষাকে সংকুচিত করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় পাস মার্কস পাওয়া শিক্ষার্থী মাত্র ১০ শতাংশের আশপাশেই থেকেছে। অথচ যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেন, তাঁদের অধিকাংশই জিপিএ-৫ বা এর খুব কাছাকাছি পাওয়া।</p>
<p>আমাদের বেসরকারি খাতে দক্ষতাকেন্দ্রিক চাকরির বাজারে বিদেশিরা এমন উচ্চ হারে ঢুকছে, যা দেশের চাকরির বাজার ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের অনুকূল নয়।</p>
<p><strong>উচ্চশিক্ষিত বেকার দেশের জন্য বড় বোঝা। কলেজ</strong><strong>&#8211;</strong><strong>বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে গোনা বিষয় বাদে অন্য সব বিষয়ে পড়ে এসব পড়ালেখা চাকরিতে প্রয়োগ করা যায় না। শিক্ষার্থীরা কেউ কেউ চাকরি না পেয়ে নিজেদের পড়ার সঙ্গে সম্পর্কহীন বিষয়ে ব্যবসা</strong><strong>&#8211;</strong><strong>বাণিজ্য করে</strong><strong>, </strong><strong>উদ্যোক্তা হয়ে আয় করেন</strong><strong>, </strong><strong>যার জন্য আদৌ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন আছে কি না</strong><strong>, </strong><strong>সেটা বিবেচনার দাবি রাখে।</strong></p>
<p>কথা ছিল, বিদেশিরা নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তির খাতে দেশের চাকরি বাজারে দু-তিন বছরের জন্য ঢুকবেন, এ সময়ে নলেজ ট্রান্সফার করে স্থানীয় রিসোর্স ডেভেলপ করা হবে। কর্মদক্ষতা এবং টেকনোলজি ট্রান্সফার বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো কার্যকর কৌশলগত পরিকল্পনা নেই।</p>
<p>বাংলাদেশে এত এত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অথচ দেশে রাজনৈতিক সমস্যার অন্ত নেই এবং মূলত প্রায় সব সমস্যাই রাজনৈতিক। দেশে এত ইতিহাসবিদ অথচ প্রজন্মের পর প্রজন্ম মিথ্যার মধ্যে বড় হচ্ছে। দেশে এত সমাজবিজ্ঞান কিংবা সমাজকল্যাণ স্নাতক, অথচ সমাজে কার্যকর কোনো কল্যাণ নেই।</p>
<p>দেশে এত এত সমাজবিজ্ঞানী, সমাজে তার প্রভাবের লেশমাত্র নেই। দেশে এত আইন পড়ুয়া বিজ্ঞ আইনজীবী, অথচ আইনের শাসন নেই, জুলুমের আইনি প্রতিকার নেই। অর্থনীতিবিদের অভাব নেই, অথচ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল পায় না জনগণ। তাহলে এই পড়াশোনার ফায়দা কী?</p>
<p>ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোর কোনো চাহিদা সমাজ ও রাষ্ট্রে নেই। বাস্তবতা হচ্ছে শুধু পলিটিক্যাল ক্যাডার সৃষ্টির জন্য এসব বিষয় চালু আছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বাদ দিয়ে ক্ষমতার রাজনীতি করে, চাঁদাবাজি মস্তানি মারামারি করে বেড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন শেষে এঁরা জাতীয় বোঝা, এঁদের প্রধান ব্যবসা হয় সরকারি তদবির, ঘুষের দালালি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি নিয়ে চুরি করা।</p>
<p>এক দল আছে যেকোনো বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যায়, দক্ষতার সঙ্গে এদের কোনো সংযোগ ঘটে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে গণহারে বিবিএ, এমবিএ কোর্স। এসব কোর্সের আসনের সঙ্গে চাকরির বাজার বা  ইন্ডাস্ট্রি-চাহিদার কোনো ম্যাপিং নেই।</p>
<p>প্রথম আলোর ‘স্বপ্ন নিয়ে’ পাতায় নানা সময়ে তরুণদের সফলতা ছাপানো হয়। সেখানে দেখা যায়, তরুণদের কেউ বিরিয়ানি রান্না করে পৌঁছে দিচ্ছেন, কেউ খাতা বানিয়ে বিক্রি করছেন, কেউ শিঙাড়া-চপের দোকান দিয়েছেন, কেউ ক্যাকটাস বিক্রি করছেন, আবার কেউ মাছ-মাংস কেটে-ধুয়ে রান্নার উপযোগী করে সরবরাহ করছেন। কেউ ভারত-পাকিস্তান থেকে কাপড় এনে, চীন থেকে বিভিন্ন পণ্য এনে ফেসবুক লাইভে এসে বিক্রি করছেন।</p>
<p>কাহিনিগুলো অসংখ্য বেকার তরুণকে উৎসাহিত করবে সন্দেহ নেই।  যাঁরা এসব কাজ করছেন, তাঁদের সবাই উচ্চশিক্ষিত বেকার। সৎ থেকে করা প্রত্যেকটা কাজই সম্মানের, কর্ম তৈরির জন্য এবং সমাজের জন্য দরকারি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় কেন চাকরির চাহিদা না থাকা বিষয়ে এত বেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি করছে, পাবলিক মানি নষ্ট অর্থাৎ আসন নষ্ট করবে কেন?</p>
<p>আসলে দক্ষতার বিপরীতে শিক্ষার নাম শুধু অপশিক্ষায় নামিয়ে দিয়ে ছেলেমেয়েদের বেকারত্ব উপহার দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা উদ্দেশ্যহীন বিষয়ে পড়ছেন, আসলে অনেকে না পড়েই পাস করছেন।</p>
<p><strong>জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেকার উৎপাদনকারী বিষয়গুলোকে দেশের মাত্র কয়েকটি কলেজে সংকুচিত করে, আসনগুলোতে বাজার চাহিদানির্ভর শিক্ষা (লেখকের চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ বইতে আলোচ্য) কারিকুলামনির্ভর শিক্ষার নতুন নতুন বিষয় আনা লাগবে, চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে আসন বাড়াতে হবে—যেখানে চাকরির বাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা প্রাধান্য পাব। কারিগরি ও শিল্প দক্ষতা উৎপাদনকে সেন্টার পয়েন্ট ফোকাস করা হবে।</strong></p>
<p>এমনকি সামাজিক বিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, ইংরেজি ও বাংলার মতো বিষয়ে পড়লেও শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা তৈরি জন্য দরকারি আধুনিক কারিগরি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং ইন্ডাস্ট্রি ট্রেনিং দিতে হবে।</p>
<p>আমাদের শিক্ষা দক্ষতা তৈরি করতে পারছে না। অন্তত আরেকটি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দল কি ব্যর্থ শিক্ষাব্যবস্থার দক্ষতাভিত্তিক রূপান্তরের প্রতিজ্ঞা করবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/who-will-transform-the-factories-of-highly-educated-unemployed-people/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15783</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বেকারদের জন্য নতুন চাকরি তৈরির দায়িত্ব কার?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/who-is-responsible-for-creating-new-job-sectors/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/who-is-responsible-for-creating-new-job-sectors/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Apr 2025 16:33:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15768</guid>

					<description><![CDATA[চাকরির বাজারে হাহাকার চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালকের ১৫ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭২ হাজার ৪৫ জন। ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১৩ লাখ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ৮১টি পদের বিপরীতে আবেদন ছিল প্রায়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>চাকরির বাজারে হাহাকার চলছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সহকারী পরিচালকের ১৫ পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭২ হাজার ৪৫ জন। ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১৩ লাখ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১ হাজার ৮১টি পদের বিপরীতে আবেদন ছিল প্রায় ৩ লাখ। বেকারত্বের এমন বিপর্যয়কারী পরিস্থিতি নিয়ে সরকার দৃশ্যত নির্বিকার।</p>
<p>দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির বিজ্ঞাপনের সাইট বিডিজবস-এর তথ্যমতে, তৈরি পোশাক খাতের কর্মসংস্থানে আগস্ট ২০২২-এর পর নেতিবাচক ধারা শুরু হয়েছে; কমছে চাকরির বিজ্ঞপ্তি, শূন্য পদ এবং বিজ্ঞাপন দানকারী কোম্পানির সংখ্যাও।</p>
<p><strong>২০২২ সালের শেষ চার মাসে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় চাকরির বিজ্ঞাপনের সংখ্যা কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ ও শূন্য পদ কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। এ সময় কর্মী খোঁজা কোম্পানির সংখ্যা কমেছে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২২ সময়কালে বিডিজবস সাইটে তৈরি পোশাক খাতের ১ হাজার ২৫৫টি কোম্পানি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। মোট চাকরির পদসংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৪৮, শূন্য পদ ৫ হাজার ৩৯৩। যদিও ২০২১ সালের শেষ চার মাসে বিডিজবস সাইটে তৈরি পোশাক খাতের ১ হাজার ৩৫৮টি কোম্পানি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরির পদসংখ্যা ছিল ৪ হাজার ২০০, শূন্য পদ ছিল ৬ হাজার ৮১০।</strong></p>
<p>বিডিজবসের চাকরির বিজ্ঞাপন কমার হার, পোশাক খাতে ক্রয়াদেশ কমার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। টানা ১৩ মাস ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর গত সেপ্টেম্বরে দেশে রপ্তানি আয় কমে। পাশাপাশি আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট, ডলারের উচ্চমূল্যে কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হওয়া, এলসি বন্ধ ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ সংকট। তবে সরকার সবকিছুই যুদ্ধ ও বৈশ্বিক মন্দার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা থাকলেও উন্নত বিশ্বে করপোরেট লভ্যাংশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের হার রেকর্ড পর্যায়ে কম। ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতসহ সার্বিক বেকারত্ব পরিস্থিতির জন্য বৈশ্বিক সমস্যার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ডলার রিজার্ভ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা, ঋণপত্র সংকটও দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়। রয়েছে বেসরকারি বিনিয়োগ মন্দা, সরকারের উচ্চ ঋণ ও খোলা বাজারে ডলার বিক্রয়জনিত তারল্য সংকট, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ঠকিয়ে ঋণ খেলাপিদের একতরফা সুবিধা দানের কাঠামোগত সমস্যা।</p>
<p><strong>বেসরকারি হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ উচ্চ শিক্ষিত বেকার, সঙ্গে শুরু হয়েছে স্বল্প দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমবাজারের বেকারত্ব। একদিকে কর্ম তৈরির সরকারি কৌশল নেই, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও ডলার-সংকট, বেসরকারি ঋণ ও বিনিয়োগ খাতে পাচার এবং কেলেঙ্কারিজনিত মন্দার থাবা। দক্ষতা তৈরিতে শিল্পে ও শিক্ষালয়ে ট্রেনিং পরিকল্পনা নেই। দেশের বেকারত্বের কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস ও চাকরি তৈরির মাসিক ড্যাশবোর্ডও নেই। ফলে সরকার ও পরিসংখ্যান ব্যুরো বেকারত্ব পরিস্থিতি নিয়ে অন্ধকারে।</strong></p>
<p>বাংলাদেশের চাকরি বাজারে আগে থেকেই দক্ষ জনবলপ্রাপ্তির সমস্যা রয়েছে। বাজার চাহিদার সঙ্গে শিক্ষার কোর্স-কারিকুলামের সংযোগ স্থাপিত হয়নি বলে এক পদের বিপরীতে শত শত আবেদনকারী থাকেন, কিন্তু যোগ্য ও দক্ষ রিসোর্স পাওয়া যায় না।</p>
<p>বরং আবেদনপত্র নিরীক্ষণে অপচয় হয় সময় ও অর্থ। তৈরি পোশাক শিল্পসহ প্রায় সব শিল্পই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও রূপান্তর প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। অটোমেশন বাড়ছে, নিম্ন দক্ষতার চাকরি কমছে, ঘটনাটা এখনই ঘটতে শুরু করেছে। এমতাবস্থায় নতুন শিল্প চাহিদার দক্ষতার ভিত্তিতে একাডেমি ও ইন্ডাস্ট্রির যৌথ সমন্বয়ে দ্রুত দক্ষ শ্রমিক তৈরির রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে। একটা নিরবচ্ছিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি করলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি শ্রমিকপ্রতি মাথাপিছু রেমিট্যান্সও বাড়বে। সময়ের সঙ্গে কারিগরি দক্ষ চাকরি বাড়ছে, অদক্ষ কিংবা স্বল্প দক্ষ চাকরি কমছে। দেশে ও দেশের বাইরে এই পরিস্থিতির সুবিধা নিচ্ছে বিদেশিরা। অভ্যন্তরীণ শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প ও প্রবাসী শ্রমিক—তিন ক্ষেত্রেই দক্ষতার চাহিদা প্রযোজ্য। বিশ্বে যুদ্ধ ও মন্দা না হলেও শ্রমবাজারে দক্ষতার এই রূপান্তর ঘটতেই থাকবে।</p>
<p>দেশের প্রায় ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশ শ্রমবাজার অপ্রাতিষ্ঠানিক। ফলে চাকরি বাড়াতে বেসরকারি খাতে সত্যিকার বিনিয়োগ বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ দরকার, এমন স্বচ্ছ উদ্যোগ যেখানে বিনিয়োগের নামে ঋণ নিয়ে সেটা পাচার কিংবা ভোগে ব্যয় হবে না। সরকারকে ক্ষুদ্র, এসএমই ও বৃহৎ ব্যবসা ও শিল্পের ভালো ব্যবসায়ীর ডেটাবেইস তৈরি করতে হবে, যাঁরা ঋণ নিয়ে কিস্তি ফেরত দেন ও ব্যবসা করেন। তথ্যশালার আলোকে ক্রেডিট রেটিং-ভিত্তিক আধুনিক ঋণদান ব্যবস্থা দরকার। ব্যাংক ঋণ দানের ডিজিটাল ফিনটেক সমাধান ও আর্থিক তথ্যনির্ভর নতুন ডিজিটাল কৌশল বের করাও জরুরি। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, ক্ষুদ্র বা ব্যাস্টিক অর্থনীতির চাকরি বাঁচানো মন্দাকবলিত অর্থনীতির বড় কাজ। প্রশাসনের দুর্নীতি ও সরকারের অপখরচের লাগাম টেনে ধরে সামাজিক নিরাপত্তা ও চাকরি বাড়ানোর উদ্যোগ চাই।</p>
<p>বর্তমানে আমানত প্রবাহ কম ও তারল্য সংকট পরিস্থিতিতে ছয়-নয় সুদের হার কাজ করছে না বলে এটা উঠিয়ে, ব্যাংক ঋণ পাচার ও গায়েবের দুর্বৃত্তপনা বন্ধ করে অর্থবহ শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। কর্মী ছাঁটাই না করার শর্তে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে হবে এবং খেলাপি ঋণ না করা ব্যবসা ও শিল্প মালিকদের সহজ শর্তের ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে। অর্থাৎ বর্ধিত বেকারত্বের ধারা থামাতে মুদ্রানীতিকে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ফ্লেক্সিবল করতে হবে।কোম্পানি গুলোতে কর্মরত জনসম্পদকে নতুন মেশিনে, রোবোটিক অপারেশন পরিচালনায় দক্ষ করার জন্য ম্যাসিভ প্রোগ্রাম দরকার। আধুনিক অটোমেশন করা উৎপাদন পরিবেশের সঙ্গে তাল মেলাতে শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা, ট্রেনিং বাজেট ও ট্রেনিং জরুরি।</p>
<p>পাশাপাশি বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে ধীরে ধীরে বিদেশি শ্রমিক কমিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে, দেশীয় শ্রমিক নিয়োগে গুরুত্বারোপ করা চাই। অবশ্যই নতুন কর্মদক্ষতার মানবসম্পদ বিদেশ থেকে আনতে হবে এবং সেখানেও দক্ষতা হস্তান্তরের শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার মোট শ্রমবাজারের মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশের নিয়োগদাতা। বর্ধিত বেকারত্বের সমস্যার মুখে সরকারি শূন্য পদে নিয়োগের হার বৃদ্ধি করা দরকার। সেবা খাতে মাথাপিছু নিয়োগের কর্মসংস্থান বান্ধব বাজেটীয় কৌশল দরকার। মাথাপিছু শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিভিন্ন ধরনের নিরীক্ষা কর্মী নিয়োগ বাড়িয়ে সরকারি কর্মসংস্থানকে অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া যায়। তবে মেধাভিত্তিক নিয়োগ না দেওয়ায়, প্রশাসন অদক্ষ ও অযোগ্য কর্মচারী ও কর্মকর্তার ফাঁদে জড়িয়ে যাচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে!</p>
<p>সরকারি নিয়োগে তরুণদের দুটি দাবি উল্লেখযোগ্য। কোটার দৌরাত্ম্য ও বেকারদের কাছে চাওয়া আবেদন ফি’র অন্যায্যতা। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারী ও পোষ্য কোটা মিলে ছিল ৮০ শতাংশ। ২০ শতাংশ পুরুষ কোটার পরে মেধা কোটার কার্যকর হার শূন্য। এমন সমস্যা রেল, ডাক বিভাগসহ আরও কিছু খাতে। রাষ্ট্রীয় নিয়োগের নামে অযোগ্য প্রার্থী নিয়োগের এমন সাক্ষাৎ প্রতারণা অর্থহীন। নারী ও পোষ্য কোটার ৮০ শতাংশের পর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নাটক সাজানোর অর্থ হচ্ছে, লাখ লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে আবেদন ফি নেওয়ার ব্যবসা জারি রাখা। এই দুর্বৃত্তপনা বন্ধ হোক! চাকরিতে কয়েক দশকের নারী অগ্রাধিকার চলছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘নারীরা এখন শিক্ষায় ও চাকরিতে এমনিতেই বেশ এগিয়ে আছে। তাই তাঁদের ২০ শতাংশের বেশি কোটা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। প্রাথমিকের শিক্ষকেরা এখন ভালো বেতন পান। তাঁদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই’ (২৯ ডিসেম্বর ২০২২ প্রথম আলো)। অগ্রহণযোগ্য কোটা বাতিল, সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি নেওয়ার ব্যবসা বন্ধ, সীমিত হলেও চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটা চালু, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নম্বর প্রকাশসহ চাকরি প্রার্থীদের ন্যায্য দাবি মানা দরকার।</p>
<p><strong>বেকারত্বের মিছিলে নতুন সমস্যা, তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিক নিয়োগ কমা। ‘ম্যাপড ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্প মোট ৩ হাজার ৫০০টি রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার তথ্য সংগ্রহ করে দেখিয়েছে, নারী শ্রমিকদের হার ৫৮ শতাংশ ও পুরুষদের ৪২ শতাংশ। অথচ একটা সময় নারী শ্রমিক প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। করোনাকালে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, মূল্যস্ফীতিতে শহরে বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে, গরিব মানুষ শহর ছাড়ছে বলে পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিক সরবরাহ কমছে। আছে কারিগরি সমস্যা। রোবট, কাটিং মেশিন, লেজার মেশিন, অটোমেটিক যন্ত্রপাতি পরিচালনায় নারীদের পর্যাপ্ত ট্রেনিং দেওয়া হয় না বলে, নারীর তুলনায় পুরুষ শ্রমিক নিয়োগের হার বাড়ছে। কমবয়সী নারীর প্রখর আলো, গরম, মাইক্রো ফাইবারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘ শ্রমঘণ্টার শ্রমঘন কাজে নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ক্ষতি বাড়ছে বলে নারীরা পোশাক শিল্পে আগ্রহ হারাচ্ছেন। প্রান্তিক অর্থনীতির বর্ধিত নারী বেকারত্ব দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে শোচনীয় করবে। এসব কাঠামোগত সমস্যার সমাধান দরকার।</strong></p>
<p>বেসরকারি হিসেবে প্রায় ৬০ লাখ উচ্চ শিক্ষিত বেকার, সঙ্গে শুরু হয়েছে স্বল্প দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমবাজারের বেকারত্ব। একদিকে কর্ম তৈরির সরকারি কৌশল নেই, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও ডলার-সংকট, বেসরকারি ঋণ ও বিনিয়োগ খাতে পাচার এবং কেলেঙ্কারিজনিত মন্দার থাবা। দক্ষতা তৈরিতে শিল্পে ও শিক্ষালয়ে ট্রেনিং পরিকল্পনা নেই। দেশের বেকারত্বের কেন্দ্রীয় ডেটাবেইস ও চাকরি তৈরির মাসিক ড্যাশবোর্ডও নেই। ফলে সরকার ও পরিসংখ্যান ব্যুরো বেকারত্ব পরিস্থিতি নিয়ে অন্ধকারে।</p>
<p>বেকারত্বের সরকারি সংখ্যা অযৌক্তিক, এই দিয়ে ফলপ্রসূ কৌশল তৈরিও অসম্ভব। বেকারত্বের সরকারি সংখ্যাও রেকর্ড করেছে। মধ্যবিত্ত দেশগুলোর একটা বড় বৈশিষ্ট্য বেকার ভাতা, বাংলাদেশে এ নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। জীবিকা বাঁচাতে না পারলে অর্থনীতি কীভাবে বাঁচবে, এই প্রশ্নের উত্তর কাঠামোগতভাবে খুঁজতে হবে সরকারকে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/who-is-responsible-for-creating-new-job-sectors/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15768</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/short-medium-and-long-term-solutions-to-the-electricity-crisis/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/short-medium-and-long-term-solutions-to-the-electricity-crisis/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 13 Feb 2025 14:01:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=15536</guid>

					<description><![CDATA[চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবন, কর্মসংস্থান ও সার্বিক অর্থনীতিতে বিপর্যয় তৈরি করেছে। সরকার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে খরুচে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি কমিয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ৩৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল, ৩৬টি কেন্দ্র সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা হয় এবং ৬২টি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>চলমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট জনজীবন, কর্মসংস্থান ও সার্বিক অর্থনীতিতে বিপর্যয় তৈরি করেছে। সরকার বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে খরুচে প্রাথমিক জ্বালানি আমদানি কমিয়েছে।</strong></p>
<p>গত ৯ অক্টোবর ৩৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ ছিল, ৩৬টি কেন্দ্র সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা হয় এবং ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে ছিল। রাতের পিক-আওয়ারে লোডশেডিং থাকছে প্রায় পৌনে ২ হাজার মেগাওয়াট।</p>
<p>বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সরকারের উদ্যোগ হচ্ছে, রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নির্ভর প্রাথমিক জ্বালানি কম কিনে, বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রেখে পরিকল্পিত লোডশেডিং করা এবং নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো। কিন্তু &#8216;ডলার ড্রেইনের&#8217; প্রধানতম খাতগুলো খোলা রেখে এমন চেষ্টা কি আদৌ টেকসই?</p>
<p>২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৫১২ কিলোওয়াট। ভারত মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই ল্যান্ডমার্ক অতিক্রম করেছে ২০ বছর আগে। ভারতের বর্তমান মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ২৫০ কিলোওয়াট। বাংলাদেশের মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার ভারতের গড় ব্যবহারের ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক গড়ের মাত্র ১৭ শতাংশ। নিম্ন মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের দেশে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিপর্যায়ের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগটা একবারেই সীমিত।</p>
<p>তাহলে উপায় কী?</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সমন্বিত ইকোসিস্টেম তৈরি</strong></h4>
<p>স্বল্পমেয়াদে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ধনিক শ্রেণীর ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ বাড়াতে হবে, গণপরিবহনের টিকিট সস্তা করতে হবে, দূরপাল্লার বাসের বদলে ট্রেন বাড়তে হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে শহরে-নগরে ট্রাম, রেল বা মেট্রো পরিকল্পনা প্রয়োজন। শিল্পে ও ব্যবসায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহ ও শুল্কায়ন সুবিধা প্রয়োজন। এসি, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ফ্রিজ, লিফট ইত্যাদিতে এনার্জি সেভিং যন্ত্র ব্যবহারে শুল্ক প্রণোদনা দিতে হবে, কম বিদ্যুৎ ব্যবহারে কম বিল, বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে বেশি বিলের পরিবেশ বান্ধব পলিসি সাজাতে হবে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। পলিসি ছাড়া মৌখিক আহ্বানে বিদ্যুৎ সাশ্রয় অসম্ভব।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>&#8216;ডলার ড্রেনিং&#8217; ক্যাপাসিটি চার্জ বন্ধ</strong></h4>
<p>১৪ বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকা &#8216;ডলারে&#8217; গচ্ছা গেছে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে। ভর্তুকির চক্র থেকে বিদ্যুৎখাতকে বের করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দরকার। ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে বিনিয়োগ আসবে না বিদ্যুৎখাতে, এমন মিথ্যা থামাতে হবে। বেসরকারি উৎপাদনকারীরা স্থানভেদে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ বর্ধিত দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন, সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে নূন্যতম এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক (এমপিপি কাঠামো) বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা দেবে— এই ২ শর্তই যথেষ্ট। সঙ্গে সহজ ব্যাংক ঋণের বিষয়টি থাকবে।</p>
<p>ক্যাপাসিটি চার্জ লুটেরা মডেল। স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে ওভারহোলিং চার্জ। অর্থাৎ যতটুকু সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উৎপাদনে থাকতে পারবে না (সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ), সেসময়ের জন্যও একটা চার্জ দেওয়া, যাতে বিনিয়োগ সুরক্ষিত হয়। কিন্তু মাসের পর মাস উৎপাদনে অক্ষম, অথচ ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া বাজেট ড্রেনিং অপচুক্তি।</p>
<p>ডলারে পেমেন্ট করা আইপিপি চুক্তি বিদ্যুৎখাতের প্রধানতম সংকটের জায়গা। &#8216;সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি&#8217; ব্যাংক ঋণের কোলেটার‍্যাল বলে, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ডলার নয় বরং টাকায় পেমেন্ট দিতে হবে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশীয়, তাদেরকে ফরেন কারেন্সি পেমেন্ট দেওয়া অযৌক্তিক। ইউনিট প্রতি উচ্চমূল্য, ক্যাপাসিটি ও ওভারহোলিং চার্জ, স্বল্পমূল্যে জ্বালানি ও জমি, সহজ ব্যাংক ঋণ, শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা ইত্যাদি &#8216;বাজেট ড্রেনিং&#8217; গ্যারান্টি বন্ধ না করলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ফান্ড সংকটের সমাধান নেই।</p>
<p>বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য মতে, গত ১২ বছরে পিডিবি লোকসান গুনেছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। বিপরীতে চলমান ও আগামী এই ২ অর্থবছরেই পিডিবি লোকসান গুনবে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিগত ১২ বছরে বিদ্যুৎখাতে সরকার মোট যা লোকসান করেছে, শুধুমাত্র আগামী ২ বছরেরই তারচেয়ে বেশি লোকসান করবে।</p>
<p>আগে পিডিবি বছরে যে পরিমাণ লোকসান গুনত, এখন ২ মাসেই তার কাছাকাছি পরিমাণ লোকসান হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানি আমদানি মূল্য মূলত ডলার পেমেন্ট বলে ক্যাপাসিটি চার্জের বর্তমান মডেল কোনোভাবেই টেকসই নয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>দায়মুক্তি আইন বিদ্যুৎখাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট লুট, অপচুক্তি ও দুর্নীতির রক্ষাকবচ</strong></h4>
<p>২০১০ সালে &#8216;বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি&#8217; নামক বিশেষ আইন করেছে সরকার। আইনটির বারবার মেয়াদ বৃদ্ধি করে ২০২৬ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আইনটির ৯ ধারা, &#8216;এই আইনের অধীন কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোনো আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।&#8217;</p>
<p>&#8216;সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ&#8217; উপশিরোনামে ১০ ধারায় বলা হয়েছে, &#8216;এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি, সাধারণ বা বিশেষ আদেশের অধীন দায়িত্ব পালনকালে সরল বিশ্বাসে কৃত বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোনো কার্যেও জন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।&#8217;</p>
<p>১৪ ধারায় বলা হয়েছে, &#8216;এই আইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, এই আইনের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এমনভাবে অব্যাহত থাকিবে ও পরিচালিত হইবে যেন এই আইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি।&#8217;</p>
<p>দায়মুক্তির আইনের বলে বিদ্যুৎখাতের ইউনিট প্রতি ক্রয়মূল্য ও খরচের মডেল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে। অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জসহ হিসেবে দেখা যায়, কিছু আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট প্রতি বাৎসরিক গড় মূল্য ১০০ টাকাও ছাড়িয়েছে। ডলারে পেমেন্ট বলে এতে পিডিবির লোকসান থামানো যাচ্ছে না। এই দুর্বিত্তায়ন থামানো জরুরি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>নিম্ন জ্বালানি দক্ষতা ও নিম্ন প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ</strong></h4>
<p>কয়েক ডজন বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দক্ষতা ৩০ শতাংশের কম, অর্থাৎ অনেক বেশি জ্বালানি পুড়ে এরা খুব কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। এতে আমদানি নির্ভর জ্বালানি সরবরাহের চাপ বাড়ে। বহু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্ল্যান্ট-ফ্যাক্টর কম বলে একটানা সচল থাকতে পারে না। বড় সমস্যা ক্যাপটিভের কয়েক হাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র। সার্টিফিকেট ওরিজিন নকল করে মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশ থেকে আনা মেয়াদোত্তীর্ণ ও চরম জ্বালানি অদক্ষ এসব প্ল্যান্ট বিদ্যুৎখাতের গলার ফাঁস। দেশে লোডশেডিং যত বাড়বে, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ততবেশি চলবে, ততই জ্বালানি অপচয়ের সমস্যাও প্রকট হবে।</p>
<p>৩৮টি বন্ধ ও ৯৮টি আংশিক সচল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে যেগুলোর তাপীয় দক্ষতা ভালো, সরকারি কিংবা বেসরকারি যাইহোক, সেগুলো সচল রাখার পরিকল্পনা দরকার। ৪০ শতাংশের বেশি জ্বালানি দক্ষতা এবং ৬০ শতাংশের বেশি প্ল্যান্ট-ফ্যাক্টর রয়েছে এমন কেন্দ্রকে প্রাধান্য দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি অপচয় থামানো যাবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>শিল্প বিদ্যুতের বিল কমিয়ে জ্বালানি অবান্ধব ক্যাপটিভ থামানো</strong></h4>
<p>শিল্প বিদ্যুতের দাম বেশি বলে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা নেই বলে (হঠাৎ লোডশেডিং হয়, যা শিল্পের জন্য বিপর্যয়কর) ক্যাপটিভে চলে গেছে মাঝারি থেকে বড় শিল্প। শিল্প-মালিকরা দাবী করেন, নিজস্ব গ্যাস জেনারেটরে উৎপাদন খরচ সরকারি মূল্যের মাত্র ৩ ভাগের ১ ভাগ পড়ে (অবশ্য এখানে গ্যাসের মিটার ইউনিট চুরি ও ঘুষের বিষয় জড়িত আছে)। সরকারি শিল্প বিদ্যুতের উচ্চমূল্যে একদিকে শিল্প-পণ্য উৎপাদনের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ক্যাপটিভের নিম্ন দক্ষতার জেনারেটরে বেশি জ্বালানি পুড়ে কম বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় বলে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সেইসঙ্গে বেশি জ্বালানি আমদানিতে ডলার ড্রেইনও হচ্ছে। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য সুস্পষ্ট &#8216;শিল্প বিদ্যুৎ&#8217; সঞ্চালন, বিতরণ ও শিল্প সহায়ক সাশ্রয়ী বিলিং নীতিমালা প্রয়োজন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলে সিস্টেম লস থামানো</strong></h4>
<p>২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বিদ্যুতের সিস্টেম লস দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। কারিগরি খাত বলে দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের লস ছাড়া অপরাপর সিস্টেম লস অগ্রহণযোগ্য। ছোট দেশ হিসেবে বাংলাদেশে লস সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হতে পারে। ৩ শতাংশের বেশি যেকোনো সিস্টেম লস মানেই বিদ্যুৎ চুরি। এভাবে গ্যাস বিতরণ ও তেল পরিবহণ খাতেও রয়েছে অযৌক্তিক সিস্টেম লস। কাঠামোগত সিস্টেম লসের &#8216;চুরি ও দুর্নীতি&#8217; থামিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের স্বচ্ছ পরিকল্পনা কই?</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>সবুজ বিদ্যুৎ রোডম্যাপ বাস্তবায়ন</strong></h4>
<p>স্রেডা ও ইউএনডিপির তত্ত্বাবধানে তৈরি &#8216;ন্যাশনাল সোলার এনার্জি রোডম্যাপ ২০২১-৪১&#8217; মতে, জমি স্বল্পতা সত্ত্বেও সৌর বিদ্যুতায়নের মধ্যমানের কৌশলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ২০ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। অন্যদিকে নদী অববাহিকা উন্নয়নের ৫ শতাংশ ভূমি, শিল্পাঞ্চলের রুফটপ ১৫ শতাংশ ভূমি প্রভৃতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সৌর স্থাপনা মডেলে এই সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানো সম্ভব।</p>
<p>জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা থেকে বের হতে চাইলে সরকারকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত বাস্তবায়নে &#8216;ন্যাশনাল সোলার এনার্জি রোডম্যাপ ২০২১-৪১&#8217;কে আলোর পথে নিতে হবে। বিদ্যুতের মাস্টার প্ল্যান পিএসএমপি-২০১৬ মতে, ২০২১ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ মোট সক্ষমতার অন্তত ১০ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল।</p>
<p>টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি-৭ মতে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১২ শতাংশ নবায়নযোগ্য করার শর্ত আছে। বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের শক্তিশালী প্রার্থী বলে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য রাখার শর্ত মানা উচিত, যা নিম্ন মধ্যআয়ের দেশের জন্য প্রযোজ্য। বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থান (মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ) অগ্রহণযোগ্য।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>&#8216;সোলার হোম&#8217; পলিসি সংস্কার করে ব্যক্তিখাতে বিদ্যুৎ বিক্রির</strong><strong> </strong><strong>বৈধতা</strong></h4>
<p>বিদ্যুৎ বিতরণকারী ডেসা-ডেসকো-পল্লী বিদ্যুতের মতো কোম্পানিকে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি ও অবকাঠামো সহযোগিতা দিতে হবে। ব্যক্তি নিজস্ব বিনিয়োগে উৎপাদিত সরকারি সৌরবিদ্যুৎ স্টোর করবেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করবেন। এ জন্য বিতরণ ব্যবস্থাকে স্মার্ট করতে হবে।</p>
<p>প্রত্যন্ত অঞ্চল ও দ্বীপ এলাকায় খরুচে সঞ্চালন প্রকল্পে বিদ্যুৎ না নিয়ে বরং সেখানে নবায়নযোগ্য সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার ও প্রণোদনা দরকার। দরকার ব্যক্তি বিনিয়োগে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রির উপযোগী কমিউনিটি গ্রিড। সবুজ বিদ্যুতের সোলার প্যানেল, ডিসি বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও ব্যাটারিতে শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া দরকার।</p>
<p>সোলার বিনিয়োগের ব্যাংক ঋণের মডেল দরকার, দরকার ব্যাটারি রিসাইকেল ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করা। সবুজ বিদ্যুৎ বাড়লে ডলার সাশ্রয় হবে। ভূমি স্বল্পতার বাংলাদেশে মানসম্পন্ন স্টোরেজসহ শহুরে ও গ্রামীণ সোলার হোমের ব্যাপক বিকাশ দরকার।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>উৎপাদন ও সঞ্চালনের সঙ্গে শিল্প ও নগর বিকাশ পরিকল্পনা সমন্বিত করা</strong></h4>
<p>অনেকগুলো পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল আছে, যেগুলো নন-ফাংশনাল, কিন্তু সেখানে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ আছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ফিজিবল না, রামপাল ও পায়রায় বিদ্যুৎকেন্দ্র করে খরুচে সঞ্চালন টানা হয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে আসতে বহু সময় লাগবে বলে সেখানকার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বল্প ব্যবহৃত থাকবে। রূপপুরও লোডসেন্টার থেকে বহু দূরে বলে সঞ্চালন লাইনের পেছনে বিশাল বিনিয়োগ চলে যাবে। অর্থাৎ বিশাল বিশাল বিনিয়োগের রিটার্ন নগণ্য, কারণ উৎপাদন ও সঞ্চালন পরিকল্পনার সঙ্গে শিল্প পরিকল্পনার সমন্বয় নেই। এসব ঠিক করতে হবে।</p>
<p>দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট মোকাবিলায় স্থলভাগের গ্যাসকূপ সংস্কার করে উৎপাদন বাড়াতে হবে, সাগরে গ্যাস অনুসন্ধান করতে হবে। স্পট মার্কেট আমদানি প্রীতি বন্ধ করে ওপেক সদস্য দেশ থেকে বড় বড় পরিসরে নিরবচ্ছিন্ন তেল-গ্যাস-কয়লা আমদানির স্থায়ী চুক্তি জন্য জোরালো কূটনীতি করতে হবে। দেশীয় কয়লা ব্যবহারের জন্য কয়লা নীতি চূড়ান্ত করতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>দুর্নীতি বান্ধব ক্রয় প্রক্রিয়ায় সংস্কার</strong></h4>
<p>কারিগরি জ্ঞানহীন, অভিজ্ঞতাহীন একদল দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপক (মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, কেন্দ্রীয় ক্রয় কমিটি, সিপিটিইউ) ভুল ও অদূরদর্শী পিপিএ/পিপিআর নামক আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎখাতকে অযোগ্য (মূলত চীনা ও ভারতীয়) সরবরাহকারীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বানিয়ে ফেলেছে।</p>
<p>উন্মুক্ত দরপত্রের সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার নাম করে, বিদ্যুৎখাতে যাবতীয় নিম্নমান যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ, নিশ্চয়তাহীন মেশিন ঢুকে গেছে। খুচরা যন্ত্রাংশ ও সাপোর্ট সিস্টেমের নামে ব্যালেন্স অব প্ল্যান্ট (বিওপি) খাতে খরচ হয়ে যাচ্ছে শত কোটি ডলার, বিওপি বিদ্যুৎ বাজেট অপচয়ের আরেকটা বড় খাত।</p>
<p>বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বড় সমস্যা দক্ষ জনবল এবং অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের বদলির ভুল পলিসি। বড় সমস্যা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম না থাকা (স্ক্যাডা)। বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল করার জন্য অটোমেটিক জেনারেশান কন্ট্রোল (এজিসি) কিংবা ফ্রি গভর্নর মুড অপারেশন (এফজিএমও) বাস্তবায়ন নেই। রাজনৈতিক লবিং, সরকারি সিদ্ধান্তহীনতা এবং অযোগ্য ভেন্ডরের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কারণে (গ্যারান্টিহীন এফজিএমও) বড় ধরনের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে &#8216;আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি রিলে&#8217; (এএফআর) বাস্তবায়ন না থাকায় ডিস্ট্রিবিউশনের লোডও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় না স্বয়ংক্রিয়ভাবে।</p>
<p>পাওয়ার গ্রিড আধুনিকায়ন এবং এনএলডিসি আধুনিকায়নের ওপরে যেসব কনসাল্টিং প্রজেক্ট আছে, সেসব কনসাল্টিং পার্টির মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যেমন: গ্রিড আধুনিকায়নের জন্য পিজিসি আইএল এবং এনএলডিসি আধুনিকায়নের জন্য মোনেন কো। এগুলোকে যোগ্য কোম্পানি বলা যাবে না। ধীরগতির সঞ্চালন নেটওয়ার্ক প্রকল্পের কাজও ব্যাহত করছে বিদ্যুৎ বিতরণকে।</p>
<p><strong>সবমিলিয়ে বিদ্যুৎখাত বহুবিধ সমস্যার মুখোমুখি। সমাধানে দরকার মেধাবী,  দূরদর্শী, ভবিষ্যতমুখী স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।<em> </em></strong></p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/short-medium-and-long-term-solutions-to-the-electricity-crisis/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">15536</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশের অভ্যুদয়কালে বিশ্ব অর্থনীতি কেমন ছিল</title>
		<link>https://rowyakbd.com/how-was-the-world-economy-in-time-of-creation-of-bd/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/how-was-the-world-economy-in-time-of-creation-of-bd/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 26 Aug 2022 09:25:43 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7319</guid>

					<description><![CDATA[এক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের দুই–আড়াই দশক, অর্থাৎ ১৯৫০ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পশ্চিম ইউরোপীয় এবং পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়। দুই পরাশক্তির]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>এক,</strong></p>
<p>দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের দুই–আড়াই দশক, অর্থাৎ ১৯৫০ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিশ্বের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুবর্ণ যুগ হিসেবে পরিচিত। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পশ্চিম ইউরোপীয় এবং পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে অস্বাভাবিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান হয়। দুই পরাশক্তির অনুগামী দেশগুলোতে শর্তসাপেক্ষ সাহায্যের বিস্তৃতি ঘটে। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে শিল্পায়িত দেশসহ উত্তর-ঔপনিবেশিক দেশগুলিতেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়।</p>
<p>রাশিয়ার সম্মতিতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে স্বাক্ষরিত গোপন ষড়যন্ত্র চুক্তি ‘সাইকস-পিকট’-এর মাধ্যমে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনে মধ্যপ্রাচ্যে বহু জাতি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পরও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৫০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে অনেক রাষ্ট্র হয় সোভিয়েত, নয় মার্কিন সাহায্য-সহযোগিতায় টিকে ছিল। বিশ্ব অর্থনীতি মোটা দাগে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক— এই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়েছিল। দুই বিপরীত ধারার অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল স্নায়ুযুদ্ধকালীন প্রতিযোগিতার প্রধানতম অনুষঙ্গ ছিল।</p>
<p>কিন্তু ১৯৭০-এর দশকের শুরুতেই সংকট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘমেয়াদি উত্থানের কাল ১৯৭৩-৭৫ মন্দার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ১৯৭০-এর দশকের গোড়া ও মাঝের দিকের অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। যেমন,</p>
<p><strong>এক.</strong> ১৯৭১ সালে ব্রেটন উডস আর্থিক ব্যবস্থার পতন;</p>
<p><strong>দুই.</strong> ব্রেটন উডস আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বসের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বন্ধ হওয়া (নিক্সন শক)। এতে মার্কিন ডলার ছাপানোর সঙ্গে স্বর্ণের চূড়ান্ত অর্থনৈতিক যোগসূত্রটি ছিন্ন করে ফেডারেল রিজার্ভকে আগের চেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতিমূলক অর্থ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়;</p>
<p><strong>তিন.</strong> ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক তেলসংকট;</p>
<p><strong>চার</strong>. ১৯৭৩-৭৪ সালের শেয়ার ধস ও মন্দা। একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আরেক দিকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা।</p>
<p><strong>যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ১৯৬৫ সালে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ শতাংশ, ১৯৭৫ সালে তা দাঁড়ায় ১২ শতাংশে।</strong> ১৯৭১ সালে মার্কিন বাণিজ্যে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছিল। ঘাটতি কমাতে নিক্সন ১৯৭১ সালে ডলার অবমূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৩ সালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারা দারিদ্র্য বিমোচনকে বিশ্বের অন্যতম বড় দায়িত্ব বলে স্বীকৃতি দেন। তার আগে ১৯৬১ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি চালু হয়। এসবের ফলে দারিদ্র্যরেখার ধারণা, বিশ্ব ক্ষুধার সূচক, মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়, গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশগুলো নিজেদের নাগরিকদের নিঃস্ব চেহারা আয়নায় দেখতে শুরু করে।</p>
<p>ইতিহাসবিদেরা ১৯৭০-এর দশককে বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসের অন্যতম বড় ‘পরিবর্তনের বাঁক’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। ১৯৭৩ সালে চিলির সালভাদোর আয়েন্দের নির্বাচিত বামপন্থী সরকারকে সিআইএ ক্যু-এর মাধ্যমে উৎখাত করলে সে দেশে জেনারেল অগাস্তো পিনোশের সেনাশাসন কায়েম হয়। চিলিতেই প্রথম অর্থনীতিবিদ এফ এ হায়েক, তাঁর শিষ্য মিল্টন ফ্রিডম্যানসহ ‘শিকাগো বয়েজ’ নামে পরিচিত অর্থনীতিবিদেরা নিও-লিবেরালিজম নামের নতুন অর্থনীতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। তাঁরা দাবি করেন, এতে চিলির অর্থনীতির অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে।</p>
<p>এরপর কেনসিয়ান প্রগতিশীল উদারবাদী তত্ত্বকে (কিছুটা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি) বেসরকারিকরণের একমুখী নয়া উদারবাদী তত্ত্ব দিয়ে প্রতিস্থাপনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রবণতা শুরু হয়। এই সব কারণে ১৯৭১-৭৫ বিশ্ব অর্থনীতির বাঁক পরিবর্তনের কাল হিসেবে স্বীকৃত।</p>
<p><strong>সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের দর্শন বাংলাদেশের প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে কখনোই সফল বাস্তবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। মৌলিক নাগরিক সেবায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করার উদ্যোগ বেসরকারিকরণের পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতরে থেকেই দায়সারাভাবে চলতে থাকে। পর্যাপ্তসংখ্যক স্বাধীন ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি বলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ফলে রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা সেবাগুলো সাধারণ নাগরিকের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।</strong></p>
<p>১৯৭৫-৭৬-এর পরে সাময়িকভাবে মন্দা কেটে গেলেও ১৯৮০-৮১ সালে বিশ্বব্যাপী বহু দেশ আবারও অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তীব্রভাবে হ্রাস পায়, বেকারত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মতো বড় অর্থনীতি অপেক্ষাকৃত দ্রুত মন্দা থেকে মুক্ত হলেও অনেক দেশে ১৯৮৩ সালেও মন্দা ছিল। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকের মন্দা, লাতিন দেশগুলোর ‘ঋণ সংকটে’ আরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এ সময় আর্থিক সংকটে পড়ে বহু দেশ বিশ্বব্যাংকের ঋণের কিস্তি ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। ক্যারিবিয়ান ও সাব সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোতেও দীর্ঘস্থায়ী মন্দা ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p>১৯৬০-৮০-এর দশকে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আমেরিকাসহ সমাজতান্ত্রিক আদর্শে অনুপ্রাণিত অনেক দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। এসবের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরীক্ষামূলক উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি কৌশল চাপিয়ে দেয়। দেশগুলো গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও বাণিজ্য বৈষম্যে পতিত হয়। উত্তরণের পথ হিসেবে ১৯৮৯ সালে মার্কিন অর্থনীতিবিদ জন উইলিয়ামসন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ১০ সেট বিস্তৃত সুপারিশমালা প্রস্তাব করেন, যা ‘পোস্ট ওয়াশিংটন কন্সেন্সাস’ নামে পরিচিত। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রণীত এসব পরামর্শ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এভাবে পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পথে থাকলে নিওলিবারেল ধারণাগুলো প্রতিষ্ঠিত করার তৎপরতা চলতে থাকে। কিন্তু যখন অর্থনীতি সংকটে পড়ে, তখন কিছুটা সংস্কার, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আর অধিক নাগরিক সেবা ও সুরক্ষার সাময়িক আওয়াজ ওঠে।</p>
<p>বিশ্বায়নের নামে মানুষ, রাষ্ট্র, সমাজ ও জাতিকে একীভূত করে বিশ্ব পুঁজি নতুন ক্ষমতাকাঠামোর জন্ম দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পৃথিবীর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী কেবল অর্থনৈতিকভাবে শোষিত হয়ে ব্যাপকতর বৈষম্যে পড়েছে। জন্ম নিচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা, আত্মপরিচয়ের সংকট, ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিস্তার, স্থানীয় সংস্কৃতির উচ্ছেদ। অর্থাৎ নয়া উদারবাদী, আধুনিকায়ন তত্ত্ব দেশে দেশে উন্নয়ন দর্শনের ছোট-বড় ক্ষত তৈরি করেছে। ফলে চার দশক পরে এসে নয়া উদারনীতিবাদের উত্থান ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নব্য উদারনীতিবাদের সঙ্গে কোভিড-১৯জনিত মন্দা যোগ হয়েছে। মহামারির ফলে বোঝা যাচ্ছে, নব্য উদারনীতিবাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে।</p>
<p>২০০৭-০৮ সালের মার্কিন মন্দা এবং ওয়ালস্ট্রিট দখল আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২০-এর করোনাকাল পর্যন্ত সময়ে নয়া উদারবাদের নেতিবাচক দিকগুলো সারা বিশ্বে অনেক ভালোভাবে উন্মোচিত হয়ে গেছে। বরং যেসব দেশে রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় খাতের শক্তিশালী সংযোগ ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া রয়েছে, সেসব দেশ করোনা–উদ্ভূত সংকটকে চরম পুঁজিবাদী দেশগুলোর চেয়ে বেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করছে (চীন, ভিয়েতনাম, পশ্চিম ইউরোপ ইত্যাদি)।</p>
<p>বর্তমানে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন মডেল নিয়ে কাজ করছে দেশগুলো যেখানে নয় উদারবাদের লাগাম টেনে রাষ্ট্রকে অধিক পরিমাণে সামাজিক সুরক্ষার দিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ফেরাতে এবং পরিবেশ সুরক্ষার দিকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দেশে দেশে জনতুষ্টিবাদী সরকারের উত্থানে টেকসই উন্নয়ন প্রতিজ্ঞার বাস্তবায়ন খামখেয়ালিপূর্ণ থেকে গেছে। একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়, অন্যদিকে ধনবৈষম্য বাড়ার প্রবণতা থামানো যাচ্ছে না।</p>
<p><strong>দুই,</strong></p>
<p>বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটি সংকটময় ক্রান্তিকালে স্বাধীন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সমসাময়িক কালেই আন্তর্জাতিক অর্থনীতির একটি দীর্ঘ সুবর্ণ যুগের সমাপ্তি ঘটে এবং পুঁজিবাদী অর্থনীতিও সংকটে পড়ে কিছুটা প্রগতিশীল রূপ নেয়। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক-সমাজতান্ত্রিক মধ্য ধারার উদার ও মানবিক রাষ্ট্রীয় দর্শন শুরুতেই বিভাজিত দুই মেরুর বিশ্বে পরাশক্তিদের আস্থার টানাপোড়েন উপলব্ধি করে।</p>
<p><strong>স্নায়ুযুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সাফল্য অর্জনে কৌশলগত ভূমিকা রাখলেও সাবেক পুঁজিবাদী ধারার অর্থনীতিকে সমাজতান্ত্রিক পট পরিবর্তনের এক বিরাট চাপ তৈরি হয়, ফলে অতীতের দাতাদের থেকে আপাত সম্পর্ক ছিন্ন হয়।</strong> বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি নতুন ধারার সঙ্গে মানিয়ে চলতে গিয়ে বহু বিষয়ে কঠিন স্থানীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। রাষ্ট্রীয়করণের নতুন নীতিগুলো দেশি সমাজ ব্যবস্থা, শিল্প ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, শ্রমবাজার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অপরীক্ষিত ছিল বলে তাৎক্ষণিক সুফল পাওয়া যাচ্ছিল না।</p>
<p>ফলে কিছু আইন বারবার পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হয়েছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে শিল্প অধিগ্রহণের কারণে অর্থনীতিতে ব্যাপক আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। বড় ও মাঝারি শিল্পের একমুখী রাষ্ট্রায়ত্তকরণ, বেসরকারি খাতের বিকাশ বন্ধের জন্য বিনিয়োগে খুব নিম্ন সিলিং, লভ্যাংশের সীমা নির্ধারণ, বিদেশিদের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার নিষিদ্ধকরণের ফলে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও সাহায্যসহ বহু কূটনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশ টানাপোড়েনে পড়ে।</p>
<p>পরে নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত আগ্রাসন। সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিলে বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়াতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিস্তৃত হয়। এই সবকিছু মিলিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নবযাত্রা সহজ বা সুখকর ছিল না।<br />
প্রায় সর্বসম্মত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র সংবিধানে গৃহীত হলেও এতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক মেরুকরণের গুরুতর সমস্যা।</p>
<p>মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উত্তরাধিকার সূত্রে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য সাহায্য মার্কিন সমর্থনপুষ্ট ছিল (যেমন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ, পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি, কলেরা হাসপাতাল, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বৈদেশিক সাহায্যনির্ভরতা ইত্যাদি)। মার্কিন সমর্থনপুষ্ট দাতা সংস্থা যেমন আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, এমনকি জাতিসংঘও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সাহায্যদানের আশ্বাসকে কার্যত কঠিন শর্তসাপেক্ষ করে দেয়।</p>
<p>সমাজতন্ত্র ও বেসরকারিকরণ (পুঁজিবাদ) প্রশ্নে বাংলাদেশের নতুন নির্মিত রাজনৈতিক অর্থনৈতিক আইন পশ্চিমা দেশ ও বৈদেশিক সাহায্যদাতা সংস্থাগুলো মেনে নেয়নি। অভ্যন্তরীণ মজুতদারি, ত্রাণ লুটপাট ও কালোবাজারি থেকে উদ্ভূত খাদ্যসংকট ১৯৭৪ সাল দুর্ভিক্ষে রূপ নেয়। বিদেশি খাদ্যসাহায্য আসতে বেশ দেরি হলে দুর্ভিক্ষ গুরুতর আকার ধারণ করে।</p>
<p>এই কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ১৯৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো সমাজতান্ত্রিক দর্শন থেকে স্থায়ীভাবে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের দর্শন বাংলাদেশের প্রায় ৫০ বছরের ইতিহাসে কখনোই সফল বাস্তবতা হিসেবে আবির্ভূত হয়নি। মৌলিক নাগরিক সেবায় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করার উদ্যোগ বেসরকারিকরণের পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতরে থেকেই দায়সারাভাবে চলতে থাকে। পর্যাপ্তসংখ্যক স্বাধীন ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি বলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ফলে রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা সেবাগুলো সাধারণ নাগরিকের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/how-was-the-world-economy-in-time-of-creation-of-bd/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7319</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য সবুজ বিদ্যুতের ভবিষ্যৎ কী?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/future-of-renewable-green-electricity-in-bangladesh/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/future-of-renewable-green-electricity-in-bangladesh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 15 Jul 2022 15:05:26 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7228</guid>

					<description><![CDATA[জীবাশ্ম জ্বালানির বিপুল ব্যবহার, লাগামহীন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চিন্তক ও উদ্ভাবকরা পৃথিবীকে একটি নিরাপদ বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে সুরক্ষাদানের পথ ও পদ্ধতিগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিরন্তর। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ক্ষতির মুখে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>জীবাশ্ম জ্বালানির বিপুল ব্যবহার, লাগামহীন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পরিপ্রেক্ষিতে জলবায়ু ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের চিন্তক ও উদ্ভাবকরা পৃথিবীকে একটি নিরাপদ বাসযোগ্য গ্রহ হিসেবে সুরক্ষাদানের পথ ও পদ্ধতিগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিরন্তর। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জলবায়ু ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষের পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, কৃষি, অর্থনীতি ও জীবন রক্ষার সংগ্রাম বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে ভিন্ন কিছু নয়। বাংলাদেশ সবসময় পরিবেশ দূষণ সৃষ্টিকারী প্রধান দেশগুলোর কাছে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজের নদী হত্যা, পরিবেশ দূষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির একমুখী নির্ভরতা নিয়েও চিন্তিত হওয়ার এবং দীর্ঘমেয়াদে বায়ু, পানি, পলিথিন ও রাসায়নিক দূষণ থেকে বেরিয়ে এসে গ্রিনহাউস গ্যাস নিরপেক্ষ হওয়ার রূপকল্প তৈরি করতে হবে। এজন্য দরকার একটি টেকসই নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি মহাপরিকল্পনা।</p>
<p>নবায়নযোগ্য সবুজ শক্তি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, জ্বালানি বৈচিত্র্যের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করে, বর্ধিতহারে কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং পাশাপাশি আমদানি করা জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে। এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তি একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সহায়তা করে। নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ গ্রহ পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষের জন্য সার্বিক মঙ্গল নিয়ে এসেছে। বিশ্বের দ্রুত বর্ধমান শক্তির চাহিদা মিটাতে সৌর ও বায়ুর মতো সবুজ শক্তির উৎসগুলো পৃথিবীর জলবায়ু, পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক আন্তঃসম্পর্কগুলোর মধ্যে একটি নিরাপদ মিথস্ক্রিয়া তৈরি করছে।</p>
<ul>
<li><strong>নবায়নযোগ্য</strong><strong> </strong><strong>সবুজ</strong><strong> </strong><strong>বিদ্যুতে</strong><strong> </strong><strong>বাংলাদেশের</strong><strong> </strong><strong>অবস্থান</strong></li>
</ul>
<p>বিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট এবং প্লান্ট-ফ্যাক্টর বিবেচনায় প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। তবে <strong>সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট</strong> (বিপিডিবি, জানুয়ারি ২০২১)। মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ৭৫০ মেগাওয়াট, প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র তিন দশমিক ৬০ শতাংশ। বিদ্যুতের মাস্টার প্ল্যান পিএসএমপি-২০১৬ মতে, ২০২১ সালের মধ্যেই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ মোট সক্ষমতার অন্তত ১০ শতাংশ হওয়ার কথা ছিল। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি-৭ মতে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১২ শতাংশ নবায়নযোগ্য করার শর্ত আছে। বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের শক্তিশালী প্রার্থী বলে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য রাখার শর্ত মানা উচিত, যা নিম্নমধ্য আয়ের দেশের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থানীয় ও বৈশ্বিক টেকসই লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশ পিছিয়ে।</p>
<ul>
<li><strong>সবুজ</strong><strong> </strong><strong>বিদ্যুতের</strong><strong> </strong><strong>রোডম্যাপ</strong></li>
</ul>
<p>২০৪১ সালের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির মিশ্রণ কী হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো মাস্টারপ্ল্যান রচিত হয়নি। তবে পিএসএমপি-২০১৬ কিছু সম্ভাব্য গাইডলাইন দিয়েছে। স্রেডা ও ইউএনডিপি’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনমতে, জমিস্বল্পতা সত্ত্বেও সৌর বিদ্যুতায়নের মধ্যমানের কৌশলে ২০৪১ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। অন্যদিকে নদী অববাহিকা উন্নয়নের পাঁচ শতাংশ ভূমি, শিল্পাঞ্চলের রুফটপ ১৫ শতাংশ ভূমি প্রভৃতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সৌর স্থাপনা মডেলে এই সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছানো সম্ভব। ছোট ও মাঝারি আইপিপি সৌরশক্তি কেন্দ্র, ইউটিলিটি সোলার, এপিজেড-এসইপিজেড শিল্প ছাদ-অফিস-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিনি সৌরগ্রিড, সেচ, সোলার হোম, সোলার চার্জিং স্টেশন, কাপ্তাই লেক, ডেল্টা প্ল্যান, যমুনা-পদ্মা-তিস্তা-মেঘনা রিভার বেসিন রিস্টোরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ভূমি, হাওর এবং সুবিস্তৃত উপকূলকেন্দ্রিক সমন্বিত সৌর মহাপ্রকল্প নিয়ে একটি উচ্চ স্থাপনার মডেলে ২০৪১ সালের মধ্যে ৩০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা সম্ভব। অর্থাৎ শুধু মধ্যপর্যায়ের সৌর বিনিয়োগেই ২০৪১ সালের স্থানীয় এবং বৈশ্বিক সবুজ বিদ্যুতের টেকসই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class=" wp-image-7241 aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture1.png" alt="" width="740" height="377" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture1.png 638w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture1-300x153.png 300w" sizes="(max-width: 740px) 100vw, 740px" /></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<ul>
<li><strong>সৌরবিদ্যুৎ:</strong><strong> </strong><strong>অমিত</strong><strong> </strong><strong>সম্ভাবনা</strong><strong> </strong><strong>ও</strong><strong> </strong><strong>বাস্তবতা</strong></li>
</ul>
<p>সৌরবিদ্যুতের প্রসঙ্গ উঠলেই বাংলাদেশের জমিস্বল্পতার আলাপ উঠে যায়, কিন্তু আধুনিক বিশ্বের উদ্ভাবনী ইউজকেইসগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় না। উপরন্তু বাংলাদেশের সোলার ইর‌্যাডিয়ান্স সূচক বৈশ্বিক গড়মানের চেয়ে বেশ ভালো (নেদারল্যান্ডসের এক দশমিক ৪৩ গুণ)। CRESL অনুসারে বাংলাদেশের বার্ষিক ফোটো-ভোল্টায়িক সৌরশক্তিমান এক হাজার ৪০০ কিলোওয়াট পাওয়ারের বেশি। ভাসানচর, চরফ্যাশন, ভোলা, বরিশাল, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোয় বিকল্প হিসেবে সৌর-বায়ুবিদ্যুতের সমন্বয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কমিউনিটি গ্রিডের সাশ্রয়ী মডেল দাঁড় করানো যায়। এই অঞ্চলে সৌর ও বায়ুশক্তির পটেনশিয়াল দেশের অপরাপর অঞ্চলের চেয়ে ভালো প্রমাণিত। ত্রুটিযুক্ত স্থাপনা ও দুর্নীতির পরে বায়ুবিদ্যুতের পাইলট সফল না হওয়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। দেশের অন্যত্র স্বল্প বায়ুপ্রবাহজনিত সমস্যা থাকলেও উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে গড় বায়ুপ্রবাহ মান লো-উইন্ড-ফ্লো টার্বাইনের বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট। উপকূলীয় ও চরাঞ্চলে স্থানীয়ভাবে সৌর-বায়ুর মিশ্র সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন মডেল ও কমিউনিটি বিতরণ ব্যবস্থা দাঁড় করানো নিশ্চয়ই একটি টেকসই কাজ হবে। প্যারিসভিত্তিক নবায়নযোগ্য শক্তি গবেষণা সংস্থা রেন২১-এর নির্বাহী পরিচালক রানা আবিদের মতে, ‘স্থানীয়ভাবে বিতরণকৃত বিকেন্দ্রীভূত সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি জ্বালানি ব্যবস্থা জলবায়ু পরিবর্তনের ঘনঘন ঝুঁকি ও ধাক্কার বিপরীতে অনেক বেশি নমনীয় এবং স্থিতিশীল।’ (<a href="http://www.ren21.net/why-is-renewable-energy-important" target="_blank" rel="noopener">বিস্তারিত দেখুন</a>)</p>
<p>সৌরবিদ্যুতের জমি সমস্যার বিষয়টি সত্য। তবে যেহেতু বিকল্প স্থানীয় সমাধান আছে, তাই সেগুলোকে কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা দরকার। সৌরশক্তির স্টোরেজ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য মানসম্পন্ন স্থানীয় ব্যাটারি উৎপাদন কিংবা আমদানি নিশ্চিত করতে হবে; দরকার সুলভে উচ্চমান কনভার্টার ও ডিসি সামগ্রীর নিশ্চয়তা। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরের বিদ্যুৎ স্টোরেজ (যেমন টেসলা স্টোরেজ সাউথ অস্ট্রেলিয়া) নিয়ে ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিই একমাত্র সৌর স্টোরেজ বিকল্প নয়, আছে ফ্লো-ব্যাটারি (যেমন প্রাইমাস পাওয়ার), আয়ন-সল্ট-ওয়াটার ব্যাটারি (যেমন ইএসএস), গ্র্যাভিটি স্টোরেজ (যেমন এনার্জি-ভল্ট)।</p>
<ul>
<li><strong>জলবিদ্যুৎ কতটা সবুজ?</strong></li>
</ul>
<p>১০০ বছর ধরে জলবিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বৃহত্তম বৈশ্বিক উৎস হলেও আধুনিক গবেষণা বলছে, জলবিদ্যুৎ পুরোপুরি সবুজ নয়। এতে বিস্তৃত অঞ্চলের ইকোলজি-ভেজিটেশন (প্রতিবেশ) নষ্ট হয়। বৃহৎ নির্মাণযজ্ঞে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অপরাপর গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়। গবেষণা সংস্থা ‘এনার্জি মিনিট’-এর মতে, বর্তমান বিশ্বের ২৩ শতাংশ এনথ্রোপোজেনিক মিথেন উৎপাদনের জন্য দায়ী বিশ্বের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও মিথেন ৩০ গুণ বেশি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস (সূত্র: এনার্জি-মিনিট)। ‘নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ ও সুবিধার মূল্যায়ন’ নামক গবেষণা প্রবন্ধে শর্মা তেজস্বী বলেছেন, ‘হিমালয়ান নদীগুলোর বেশিরভাগ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র অত্যধিক ভাঙন, পলিপতন ও অবক্ষেপে পড়ে। এতে জলাধারের ক্ষমতা ও জীবনকাল সংকুচিত হয়।’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হাত ধরে অনিয়মিত বন্যার অভিশাপ অমূলক নয়। একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধের জলাধার ভরাটে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। এ সময়ে জলপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে ভাটিতে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পলিবাহিত নদীতে বাঁধ দেয়ায় তা ভাটিতে পলিপতনজনিত উর্বরতা হ্রাস করে। এতে ম্যানগ্রোভ বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, স্বাদুপানিতে লবণাক্ততা বাড়ে এবং ব-দ্বীপায়ন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। ভারতে তাই আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী আন্দোলন সক্রিয়।</p>
<ul>
<li><strong>জলবিদ্যুৎ</strong><strong> </strong><strong>আমদানি</strong></li>
</ul>
<p>বাংলাদেশে নন-নিউক্লিয়ার নবায়নযোগ্য বা সবুজ বিদ্যুতের কথা উঠলেই ভারত থেকে ‘চিপ অ্যান্ড ক্লিন’ জলবিদ্যুৎ আমদানির পরামর্শ আসে। বস্তুত ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের হিমালয়ান কম্পোনেন্ট অর্থাৎ অরুণাচলে পরিকল্পিত ১৫৪ টি জলবিদ্যুৎ বাঁধের পরিকল্পনা নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এই অঞ্চলে বহুপক্ষীয় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। এর মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রে ইয়ারলাং সাংপো জলবিদ্যুতের মতো অতি বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বৈধতা খুঁজবে চীন। ব্রহ্মপুত্রের বিপুল পানিসম্পদ ব্যবহার করে তিব্বতের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে চারটি বৃহৎ বাঁধ আগেই পরিকল্পিত হয়ে আছে। বাংলাদেশে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে বহমান পানির বড় অংশ আসে অরুণাচল ও আসামে বিপুল মৌসুমি বৃষ্টি থেকে। তাই ভারতের বাঁধে শুধু মৌসুমি পানিপ্রবাহকেন্দ্রিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থাকবে না, বরং এতে বৃহৎ জলাধার ভরাট ও আন্তঃসংযোগের বিষয়ও জড়িত থাকবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মৌলিক ও বৃহৎ লক্ষ্য হচ্ছে, ‘ওয়াটার সারপ্লাস’ অঞ্চল থেকে ‘ওয়াটার স্কার্সিটি’ অঞ্চলের দিকে পানীয় জল ও সেচের পানি প্রবাহিত করা।</p>
<p>‘ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানিসম্পদ প্রতিযোগিতা: চীন, ভারত ও বাংলাদেশ’ সিএনএ-২০১৬ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে (পৃ-৩৩) বলা হয়েছে,</p>
<blockquote><p>‘ভারতে পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ যে বোধগম্য হুমকির মুখোমুখি হয়েছে, তা তিব্বতে চীনের বাঁধ নির্মাণ সম্পর্কে ভারতের উদ্বেগের কাউন্টার প্রতিপাদ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন চীনা বিশ্লেষণে ভারতের জল প্রত্যাহার পরিকল্পনাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাইলাইট করে বলা হয়েছে, এটি ভাটির প্রতিবেশীর ওপর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বেইজিংয়ে সিএনএ’কে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে চীনের এক বিশেষজ্ঞ যুক্তি দিয়েছিলেন, সম্ভাব্য ভারতীয় ডাইভার্সন পরিকল্পনাগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে এবং প্রবাহিত নদীর ভাটির অঞ্চলে হুমকি থাকায় বাংলাদেশের কিছু বলার অধিকার রয়েছে। মোদ্দাকথা হচ্ছে, ভারত চীনের উজানের উন্নয়নের উদ্যোগের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে দ্বৈত-নীতি প্রয়োগ করছে।’</p></blockquote>
<p>ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ভারতের সীমানা মার্জিনাল (জনসংখ্যার তিন শতাংশ, ভূমির ছয় শতাংশ)। অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল এই অঞ্চল চীনের ভূমির তিন শতাংশ। ব্রহ্মপুত্র বেসিন বাংলাদেশের ভূমির ২৭ শতাংশ। এখানে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের বসবাস। সিএনএ গবেষণামতে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বর্তমানে বাংলাদেশের সেচ চাহিদার অন্তত ২৫ শতাংশ পানি ঘাটতি রয়েছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার প্রস্থের যমুনা চলমান শুষ্ক মৌসুমে মাত্র ৭০০ মিটারে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে চীন ও ভারতের উপর্যুপরি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় চরম পানি সংকট দেখা দেবে, যা বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন স্বাদুপানির প্রধান উৎস। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অরুণাচলকেন্দ্রিক জলবিদ্যুৎ আমদানিতে অংশ নেয়া মোটেই সমীচীন নয়।</p>
<p>যেহেতু ভারতে কয়লা উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং ভারত বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, তাই অরুণাচলের অতি খরুচে জলবিদ্যুৎ আদতে ভারতের প্রয়োজন নেই, দরকার আসলে পানি প্রত্যাহারের। বাংলাদেশ যদি বিদ্যুৎ করিডোরের অনুমতি দেয়, তবে ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদী ও এর শাখা নদীর ওপর পরিকল্পিত ১৫০+ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হয়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পকে এগিয়ে নেবে। আশঙ্কা হয়, এই প্রক্রিয়া ভাটির ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীটিকে ধীরে ধীরে হত্যা করবে। তদুপরি এই বাঁধগুলোর অনেকগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে চ্যানেল দিয়ে পরস্পর সংযুক্ত করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, <strong>মানস-শঙ্কোশ-তিস্তা-গঙ্গা সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে যমুনা নদীর শাখা নদী মানস ও শঙ্কোশের পানি সরিয়ে নেয়ার মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। (সূত্র: ইন্ডিয়া ওয়াটার পোর্টাল/ন্যাশনাল-রিভার-লিংকিং-প্রজেক্ট)। মোটকথা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নামে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই জলবিদ্যুৎ আমদানির ফাঁদে পড়া যাবে না।</strong></p>
<ul>
<li><strong>সর্বোচ্চ</strong><strong> </strong><strong>কী</strong><strong> </strong><strong>পরিমাণ</strong><strong> </strong><strong>বিদ্যুৎ</strong><strong> </strong><strong>আমদানি</strong><strong> </strong><strong>করা</strong><strong> </strong><strong>যাবে?</strong></li>
</ul>
<p>‘হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার ইভাকুয়েশন মাস্টার প্ল্যান অব অরুণাচল (ইন্ডিয়া)’ (সূত্র: জেটিটি রিপোর্ট, ২০১৪) ছয়টি সাত হাজার ও একটি ছয় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮০০ কেভি হাই-ভোল্টেজ বাই-পোলার গ্রিড সঞ্চালন লাইনের জন্য বাংলাদেশের ভূমি দরকার। এতে প্রতীয়মান হয়, বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ রপ্তানির প্রস্তাব মূলত বিদ্যুৎ করিডোরের মূল লক্ষ্য (ড্রপ অ্যান্ড ক্যারি ওভার বাংলাদেশ)। যেখানে বাংলাদেশে সড়ক প্রশস্ত করার কিংবা সৌরবিদ্যুতের জমিস্বল্পতা বহুল আলোচিত বিষয়, সেখানে সাতটি হাই-ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের ভূমি বরাদ্দ পুরোপুরি অসম্ভব। এরই মধ্যে বিপিডিপি-পিজিসিবি-পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের অধিগ্রহণকৃত জমির বিষয়ে শত শত মামলা রয়েছে।</p>
<p><img decoding="async" class="wp-image-7230 aligncenter" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture2-300x212.png" alt="" width="597" height="422" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture2-300x212.png 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/07/Picture2.png 605w" sizes="(max-width: 597px) 100vw, 597px" /></p>
<p>গ্রীষ্মকালীন চাহিদা আমলে নিয়েই বর্তমানে <strong>বাংলাদেশে স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ অলস।</strong> বিপিডিবি হিসেবে ২০৩০ সালে অন্তত ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অলস থাকবে। ফলে ১৮তম জেএসসি মিটিংয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজন নেই বলেই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ আমদানির নির্দেশনা দেয়া আছে পিএসএমপি-২০১৬-তে। বাংলাদেশ বর্তমানে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে ভারত থেকে। নতুন আমদানির চুক্তি হয়েছে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের। আমদানি বিদ্যুৎ রেকর্ড উৎপাদনের ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আমদানির সুযোগ নেই।</p>
<p>যেহেতু ভারত ও চীন সৌরবিদ্যুতায়নে খুবই আশাব্যঞ্জক অবস্থান তৈরি করেছে, তাই দেশ দুটোর সঙ্গে সৌরবিদ্যুতায়নের দ্বিপক্ষীয়/বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ মডেল তৈরি করা যেতে পারে। সবদিক বিবেচনায় ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক স্টোরেজসহ সৌরবিদ্যুৎই বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানির প্রধানতম ভবিষ্যৎ। সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির অবকাঠামো তৈরি করা গেলে আরবান সোলার-হোম বিপ্লব হবে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ঘনবসতির দেশে বায়োবিদ্যুতের প্রসার চাই। সীমিত আকারে জিও-থার্মাল, উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ, ওশান পাওয়ার (অনশোর উইন্ড ও হাইড্রো টার্বাইন মিক্স) নিয়েও স্থির লক্ষ্যনির্ভর কাজ করা উচিত। পাশাপাশি কার্বন ট্যাক্স চালু করে বিকল্প স্থানীয় সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে ব্যক্তিগত, শিল্প ও করপোরেট প্রণোদনা দানও সময়ের চাহিদা।</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/future-of-renewable-green-electricity-in-bangladesh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7228</post-id>	</item>
		<item>
		<title>অগ্নিকাণ্ডে জীবনহানি ঠেকানো যাচ্ছে না কেন?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/why-the-fire-is-not-going-to-prevent-loss-of-life/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/why-the-fire-is-not-going-to-prevent-loss-of-life/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 26 Jun 2022 04:58:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7207</guid>

					<description><![CDATA[রাজউকের বহুতল ভবনসংখ্যার বিপরীতে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র মিলিয়ে দেখা যায়, ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভবন ছাড়পত্রহীন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে সারা দেশে মোট অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০টি, তার মধ্যে শিল্পকারখানায় ৬ হাজার ৮১টি। আগুন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রাজউকের বহুতল ভবনসংখ্যার বিপরীতে ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র মিলিয়ে দেখা যায়, ২০১৮ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার ভবন ছাড়পত্রহীন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, গত ছয় বছরে সারা দেশে মোট অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬০টি, তার মধ্যে শিল্পকারখানায় ৬ হাজার ৮১টি। আগুন লাগলে কোনো ভবনেরই নিরাপত্তাব্যবস্থা কাজ করে না। কিন্তু কেন?</p>
<ul>
<li><strong>পদ্ধতিগত ত্রুটি</strong></li>
</ul>
<p>দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনে যেসব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়, তার প্রায় সবই পরোক্ষ (প্যাসিভ) এবং দুর্ঘটনা ঘটা সাপেক্ষে দায়িত্বরতকে পদক্ষেপ নিতে হয়। এসব প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থা স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার ডিটেক্টর, অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার এবং অগ্নিনির্বাপক হোস পাইপকেন্দ্রিক। ডিটেক্টরগুলো অগ্নিসতর্কতা তৈরি করে, তারপরও প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে গিয়ে সঠিক সময়ে সঠিকভাবে অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ও অগ্নিনির্বাপক হোসপাইপ ব্যবহার করে আগুন নেভাতে হয়। মূল বিষয়টা হচ্ছে, বড় দুর্ঘটনার প্রাণঘাতী আগুন, ধোঁয়া ও অতি উচ্চ তাপে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির পক্ষেও ভবনের অভ্যন্তরে থেকে এসব পরোক্ষ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা অসম্ভব। মাঝারি ও বৃহৎ পরিসরের বাণিজ্যিক ও শিল্প ভবনে দরকার প্রত্যক্ষ ও স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনিরোধক ব্যবস্থা, যা নিজে থেকেই আগুন শনাক্ত করে পরিমাণমতো পানি কিংবা গ্যাস নিজেই স্প্রে করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে। বর্তমানে ফায়ার বল জনপ্রিয় হচ্ছে, এসব কার্ব বল আগুনে বিস্ফরিত হয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে। বাস্তবায়ন কিছুটা ব্যয়বহুল বলে বাংলাদেশের স্বল্পব্যয়ী শিল্প উৎপাদন মডেলে, কর্মী-অবান্ধব কাজের পরিবেশে এসব নিরাপদ কারিগরি সমাধান একেবারেই গুরুত্ব পায় না।</p>
<ul>
<li><strong>পরোক্ষ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জালিয়াতিপূর্ণ</strong></li>
</ul>
<p>পরোক্ষ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যেসব রয়েছে, তাতে অপব্যবস্থাপনা রয়েছে। তলাপ্রতি একটি করে লোকদেখানো অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার বসানো থাকে, যা ফ্লোর স্পেস ও মাথাপিছু ক্যাপাসিটির বিপরীতে সক্ষম করে স্থাপিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ থাকে। এগুলো বছরে দুবার পরিদর্শন করে তার ওপর দিনক্ষণ উল্লেখসহ যাচাইকারী কর্তৃপক্ষের স্টিকার থাকার কথা। বিল্ডিং কোডের নাজুকতার দিক থেকে বিপজ্জনক মাত্রার বিপরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মজুত থাকার কথা। কিছু বহুতল ভবনে হোসপাইপ বসানো থাকে, বাস্তবে এগুলো লোকদেখানো, বাস্তবে পাম্প সংযোগহীন।</p>
<ul>
<li><strong>পৃথক জরুরি বাহিরপথ রাখার বাধ্যবাধকতা নেই</strong></li>
</ul>
<p>জরুরি বা অগ্নিজনিত বাহিরপথ অধিকাংশ ভবনে থাকে না প্রায়ই। উপরন্তু জরুরি বাহির, লিফট ও বৈদ্যুতিক লাইনের জায়গা পৃথক থাকে না। একই সিঁড়িঘরেই পাশাপাশি জরুরি বাহির ও সাধারণ সিঁড়ি, লিফট এবং বৈদ্যুতিক তার টানার স্থান রাখা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থান বাঁচাতে জরুরি সিঁড়ি বাদ দেওয়া হয়, কোথাও থাকলে সেটা বেশ সংকীর্ণ, তাও বন্ধ থাকে। ভবনের স্পেস ও লোকসংখ্যার অনুপাতে হলওয়ে, মূল সিঁড়ি ও তার সামনের স্থান বরাদ্দ নকশায় গুরুত্ব রাখে না।</p>
<ul>
<li><strong>শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র অগ্নিঝুঁকি বাড়ায়</strong></li>
</ul>
<p>কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বহুতল ভবনের আরেকটি সমস্যা সিঁড়ির আশপাশেই থাকা জেনারেটর রুম, অগ্নিকাণ্ডে যা সিঁড়ি ব্যবহারের বাধা হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ না থাকা ভবনের বাইরে থাকা সারি সারি ডিস্ট্রিবিউটেড এসিতে ভবন একেবারেই অনিরাপদ হয়ে ওঠে। অত্যন্ত ভয়ংকর দিক হচ্ছে, ভবনের প্রাথমিক বৈদ্যুতিক ড্রাফটিং অর্থাৎ পরিবাহী তার, সার্কিট ব্রেকার ও অন্যান্য সরঞ্জামের বৈদ্যুতিক লোড সক্ষমতার সঙ্গে এসিসহ অন্য সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সক্ষমতা সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না। ফলে, দুভাবে আগুন লাগে:</p>
<ul>
<li>অতি লোডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে।</li>
<li>এসির এগজস্ট থেকে। বুয়েটের গবেষণা বলছে, দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ অগ্নিকাণ্ড বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘটে। নতুন সমস্যা যত্রতত্র কেমিক্যালের গুদাম।</li>
</ul>
<p><strong>ফায়ার সার্ভিসের উচ্চতা সক্ষমতা</strong></p>
<p>ভবনের উচ্চতা ফায়ার সার্ভিসের পানি পৌঁছানোর সক্ষমতার সঙ্গে সমন্বিত নয়। ফায়ার সার্ভিস সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ তলা পর্যন্ত পানি স্প্রে করতে পারে। একটি শহরে ফায়ার সার্ভিস যদি ১২ তলার ওপরে পানি, গ্যাস বা রাসায়নিককেন্দ্রিক অগ্নিনিরোধে অক্ষম হয়, <strong><em>তাহলে সেখানে ১২ তলার বেশি উচ্চতার ভবন করতে যাওয়ার কথা না। অগ্নিনির্বাপণের জন্য শহরের একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে (ধরুন ৪০০ মিটার) ওয়াসার ওয়াটার হাইড্র্যান্ট থাকার কথা, যা নেই। বিকল্প হচ্ছে জলাধার রাখা। অর্থাৎ বেশি পরিমাণে পানির নিকটস্থ উৎস না থাকলে ভবন ওপরে ওঠানো যাবে না। উচ্চ ঘনবসতির শহরে বহুতল ভবন দরকার, বিপরীতে ফায়ার সার্ভিসকে কারিগরিভাবে সক্ষম করার চেষ্টাটাই নেই।</em></strong></p>
<p>ফায়ার হাইড্র্যান্ট কিংবা নির্দিষ্ট দূরত্বে জলাধার না থাকায় প্রায়ই দেখা যায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি বা মসজিদের পানির ট্যাংক থেকে পানি সংগ্রহের অক্ষম চেষ্টা। বিষয়টা বেশ হতাশার। কেননা, এসব ছোট ট্যাংকের পানি দিয়ে অগ্নিনির্বাপণের কাজ হয় না। আমাদের নগরে চলছে জলাধার ও খাল দখলের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উৎসব। হতাশার ব্যাপার, ওপর থেকে লাফ দেওয়ার জন্য একটা বাতাসভর্তি জাম্পিং প্যাডও থাকে না ফায়ার ডিফেন্স ও ভবনমালিকের।</p>
<p>২০০৯ সালে বসুন্ধরায় আগুন লেগেছে ৯ তলায়, ফায়ার সার্ভিসের পানি ওঠেনি। ১০ বছর পরে ফারুক রূপায়ণ টাওয়ারে আগুন লেগেছে, সেখানেও ১০ তলার ওপরে পানি ওঠেনি। ফাটা পাইপের লিক সারাতে বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়ে একটি ছোট ছেলে পলিথিন মুড়িয়ে ধরে ছিল। অন্যদিকে, হেলিকপ্টারে লেকের পানি আনার উদ্যোগ বাবমি বাকেটের তলা ফুটো থাকার কারণে ভেস্তে গেছে। অর্থাৎ সক্ষমতা তো বাড়েইনি, বরং হাতে থাকা যন্ত্রপাতি কিংবা টুলগুলো কাজ করে কি না, তার তদারকিও ঠিকঠাক নেই।</p>
<p>ফায়ার ডিফেন্স কাজের প্রকৃতির দিক থেকে খুব মানবিক কাজ হলেও কাজের প্রতিকূলতার দিক থেকে খুব বেশি শ্রমঘন, বিপজ্জনক। কিন্তু ‘আমাদের লোক’ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকদের তোষামুদি, অদক্ষতায় ফায়ার ডিফেন্সের কারিগরি সক্ষমতা আসে না।</p>
<ul>
<li><strong>অটেকসই নির্মাণ</strong></li>
</ul>
<p>দেশে স্থপতি ও প্রকৌশলীদের বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান আছে। আছে ভবন নির্মাতাদের প্রতিষ্ঠান রিহাব। আছে রাজউক, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। কিন্তু সবার কাজ দেখলে মনে হয়, পরিবেশ ঝুঁকি, জলবায়ু নিরাপত্তা, এমনকি নাগরিক নিরাপত্তার কোনো বোধ তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগতভাবেই গড়ে ওঠেনি। ঢাকার রাস্তায় জরুরি সেবাকর্মীদের পথ নেই, দরকারে পথ দেওয়ার চর্চাটাও নেই। মোটকথা, ঢাকা শহরের অধিকাংশ বহুতল ভবন নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয় না। অথচ কারও কোনো শাস্তি নেই, কারণ আছে ঘুষের দফারফা। নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করলে পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পয়:নিষ্কাশনের সংযোগ পাওয়ার কথা নয়। আবার নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে কি না, তা পরিদর্শন করেই সংযোগগুলো দেওয়ার কথা। এমনকি ভাড়াটে পরিবর্তিত হলেও নতুন ইন্সপেকশন হওয়ার কথা। বহু খাতের রেগুলেটরি পরিদর্শনে বহু কর্মসৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। পরিদর্শনের কিছুই হয় না, যেটা হয় সেটা হচ্ছে ঘুষ, ওপরতলার ফোন আর তদবিরে দফারফা।</p>
<ul>
<li><strong>অগ্নিনিরাপত্তার সমন্বিত পরিদর্শন ও অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া (ফায়ার ড্রিল)</strong></li>
</ul>
<p><strong>প্রতিটি ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম এবং ফায়ার ডিফেন্স প্রসেস ও টুলস কাজ করে কি না, তা বছরে দুবার পরিদর্শন করার কথা। বছরে দুবার ফায়ার ড্রিল হওয়ার কথা, যা ডকুমেন্টেড হবে এবং ফলাফল অনলাইনে দেখা যাবে, যাতে সাধারণ ভাড়াটে, ব্যবসায়ী বা করপোরেট অফিসের ভাড়াটেরা জেনে-বুঝে ভাড়া নিতে পারেন, কোনো চাকরিজীবী তাঁর কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন থাকতে পারেন। ফায়ার ড্রিলের উদ্দেশ্য থাকে যেকোনো অগ্নিদুর্বিপাকে ঠিক কত সময়ের মধ্যে একটি ভবনকে (সাধারণত ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট) জনশূন্য করা যাবে। জনশূন্য করার দিক থেকে বলতে হয়, দেশের প্রতিটি শিল্প ভবনের বাইরে উন্মুক্ত জরুরি বাইরের সিঁড়ি রাখা উচিত। পাশাপাশি জাম্পিং প্যাডও বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে, সাধারণ সময়ে জাম্পিং প্যাড ফাঁকা থাকবে, কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে নিকটস্থ বিদ্যুতের উৎস থেকে মোটর দিয়ে জাম্পিং প্যাড ফুলিয়ে বাতাসভর্তি করা হবে।</strong></p>
<p>হতাশার বিষয় হচ্ছে উৎপাদন কমে যাবে বলে দেশে ফায়ার ড্রিল করা হয় না। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অধিকাংশ শ্রমঘন শিল্পের অগ্নিকাণ্ডে অনেক বেশি প্রাণহানি হয়। শ্রমিকেরা যাতে ফ্যাক্টরি থেকে বেরোতে না পারেন, সে জন্য জেলখানার মতো বন্ধী করে রাখা হয়। মানসম্মত ফায়ার ড্রিল ও পরিদর্শন হলে বিষয়গুলো বেরিয়ে আসত। রেগুলেটরি শাস্তির আওতায় আনা দরকার হীন-অপব্যবস্থাপনাকে। শুধু রেগুলেটরি পরিদর্শন নিশ্চিত করে কমপ্লায়েন্স ও সাসটেইনেবেলিটি আনা যায় অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে। এতে কমে যাবে অগ্নিকাণ্ড, বেঁচে যাবে বহু প্রাণ, বাংলাদেশের শিল্প ও বৈদেশিক রপ্তানিও হবে অধিক টেকসই।</p>
<p>টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি-৮) অর্জনে কর্মস্থল নিরাপদ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে সরকারের, সেখানে সবার জন্য মানসম্মত নিরাপদ কর্মস্থলের ব্যাপারে সুস্পষ্ট লক্ষ্য দেওয়া আছে। <strong>শিক্ষা নির্বাসনে দিয়ে শিল্পে শিশুশ্রম জারি রেখে, ছুটিহীন, নিরাপত্তা সুরক্ষা ভাতাহীন দীর্ঘ শ্রমঘণ্টার আর স্বল্প বেতনের অনিরাপদ কাজের পরিবেশে চূড়ান্তভাবে ‘ঘাতক’ পরিস্থিতিতে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আদৌ সম্ভব কি?</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/why-the-fire-is-not-going-to-prevent-loss-of-life/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7207</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বিদ্যুৎ আমদানির কি আর দরকার আছে?</title>
		<link>https://rowyakbd.com/what-is-the-need-to-import-electricity/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/what-is-the-need-to-import-electricity/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 15 Jun 2022 16:27:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7178</guid>

					<description><![CDATA[কাগজে–কলমে ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট হলেও বাংলাদেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট (বিপিডিবি, জানুয়ারি-২০২১)। তার মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ৭৫০ মেগাওয়াট, এটি প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ দশমিক ৬]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>কাগজে–কলমে ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট হলেও বাংলাদেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট। তবে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ১২ হাজার ৮৯৩ মেগাওয়াট (বিপিডিবি, জানুয়ারি-২০২১)। তার মধ্যে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ৭৫০ মেগাওয়াট, এটি প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা পিএসএমপি ২০১৬ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই মোট সক্ষমতার অন্তত ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ থেকে আসার কথা। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এসডিজি ৭–এর অন্যতম শর্ত, ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১২ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসতে হবে। বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের শক্তিশালী প্রার্থী। তাই নিম্নমধ্য আয়ের দেশের মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের ১৭ শতাংশ নবায়নযোগ্য হতে হবে, এই শর্ত তার মানা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থানীয় ও বৈশ্বিক উভয় লক্ষ্যমাত্রা থেকেই বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।</p>
<p><strong>সবুজ বিদ্যুতের রোডম্যাপ</strong></p>
<p>২০৪১ সালের প্লাটিনাম জয়ন্তীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনুপাত কী হবে, তা নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। তবে পিএসএমপি ২০১৬ কিছু সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা দিয়েছে। স্রেডা ও ইউএনডিপির গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, জমি স্বল্পতা সত্ত্বেও সৌর বিদ্যুতায়নের আওতায় ২০৪১ সালের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। একটি উচ্চ ক্ষমতার সৌর স্থাপনা মডেলে এই সক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। ছোট ও মাঝারি আইপিপি সৌরশক্তি কেন্দ্র, ইউটিলিটি সোলার, এপিজেড-এসইপিজেড, শিল্প–ছাদ-অফিস-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মিনি সৌর গ্রিড, সেচ, সোলার হোম, সোলার চার্জিং স্টেশন, কাপ্তাই লেক, ডেলটা প্ল্যান, যমুনা-পদ্মা-তিস্তা-মেঘনা রিভার বেসিন রিস্টোরেশান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ভূমি, হাওর এবং সুবিস্তৃত উপকূলকেন্দ্রিক সমন্বিত সৌর মহাপ্রকল্প নিয়ে এটা করা সম্ভব। অর্থাৎ শুধু মধ্য পর্যায়ের বিনিয়োগ করেই ২০৪১ সালের মধ্যে সবুজ বিদ্যুতের স্থানীয় এবং বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।</p>
<p><strong>সম্ভাবনা বনাম বাস্তবতা</strong></p>
<p>বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের আলাপ উঠলেই জমি স্বল্পতার প্রসঙ্গ ওঠে। ভাসানচর, চরফ্যাশন, ভোলা, বরিশাল-নোয়াখালী-চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোতে বিকল্প হিসেবে সৌর-বায়ুবিদ্যুতের সমন্বয়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন মডেল দাঁড় করানো যায়। এই অঞ্চলে সৌর এবং বায়ুশক্তির সম্ভাবনা দেশের অপরাপর অঞ্চলের চেয়ে ভালো। দেশের অন্যত্র বায়ুপ্রবাহজনিত সমস্যা থাকলেও উপকূল ও চরাঞ্চলে গড় বায়ুপ্রবাহ ধীরবায়ুপ্রবাহী টারবাইনের জন্য যথেষ্ট। বায়ুবিদ্যুতের পাইলট প্রকল্পটি যে সফল না তার আদত কারণ কিন্তু স্থাপনার ত্রুটি ও দুর্নীতি। উপকূল ও চরাঞ্চলে বায়ুবিদ্যুৎ নিয়ে দোটানা, তাই অনুচিত।</p>
<p>সৌরবিদ্যুতে জমি স্বল্পতার সমস্যা আছে, এ কথা সত্য, তবে বিকল্প স্থানীয় সমাধানও আছে। এগুলোকে কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা দরকার। সৌরশক্তির মজুত সক্ষমতা বাড়াতে স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন ব্যাটারি উৎপাদন বা আমদানি করতে হবে। উচ্চমান কনভারটার ও ডিসি সামগ্রীও সহজলভ্য করা দরকার। ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরের বিদ্যুৎ স্টোরেজ নিয়ে ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে সৌর স্টোরেজে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিই একমাত্র বিকল্প নয়, আছে ফ্লো-ব্যাটারি, আয়ন-সল্ট-ওয়াটার ব্যাটারি, গ্রাভিটি স্টোরেজ।</p>
<p><strong>জলবিদ্যুতের কতটা সবুজ?</strong></p>
<p>১০০ বছর ধরে জলবিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বৃহত্তম বৈশ্বিক উৎস। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, জলবিদ্যুৎ পুরোপুরি সবুজ নয়। বিস্তৃত অঞ্চলের প্রতিবেশ এতে নষ্ট হয়। বৃহৎ নির্মাণযজ্ঞে কার্বন ডাই–অক্সাইডসহ অপরাপর গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপন্ন হয়। গবেষণা সংস্থা এনার্জি মিনিটের মতে, বর্তমান বিশ্বের ২৩ শতাংশ এনথ্রোপোজেনিক মিথেন উৎপাদনের জন্য দায়ী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও মিথেন ৩০ গুণ বেশি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস। ‘নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের চ্যালেঞ্জ ও সুবিধার মূল্যায়ন’ নামক গবেষণা প্রবন্ধে শর্মা তেজস্বী বলেছেন, হিমালয়ান নদীগুলোর বেশির ভাগ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রই অতি মাত্রায় ভাঙন, পলিপতন ও অবক্ষেপে পড়ে, সংকুচিত হয় জলাধারের ক্ষমতা ও জীবনকাল। জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের হাত ধরে বন্যার শঙ্কাও আছে। একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধের জলাধার ভরাটে কয়েক বছর লেগে যায়, এই সময়ে জলপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে ভাটির পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তদুপরি পলিবাহিত নদীতে বাঁধ ভাটিতে পলিপড়া কমায়, পরিণতিতে জমির উর্বরতা হ্রাস করে, বিঘ্নিত হয় বদ্বীপায়ন প্রক্রিয়া।</p>
<p><strong>জলবিদ্যুৎ আমদানি</strong></p>
<p>বাংলাদেশে নন-নিউক্লিয়ার নবায়নযোগ্য বা সবুজ বিদ্যুতের কথা উঠলেই ভারত থেকে ‘সস্তা ও দূষণহীন’ জলবিদ্যুৎ আমদানির পরামর্শ আসে। বস্তুত ভারতের অরুণাচলে পরিকল্পিত ১৫৪টি জলবিদ্যুৎ বাঁধ বহুপক্ষীয় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করবে। এগুলো চীনকে ব্রহ্মপুত্রের ওপর অতি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করার বৈধতা দেবে। তিব্বতের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে ব্রহ্মপুত্রের পানিসম্পদ ব্যবহার করে চারটি বৃহৎ বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা আগে থেকেই চীনের আছে। বাংলাদেশে বহমান যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে পানির বড় অংশ আসে অরুণাচল ও আসামের বিপুল মৌসুমি বৃষ্টি থেকে। তাই ভারতের বাঁধ শুধু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জলাধার ভরাট ও আন্তসংযোগের মতো বিষয়ও এতে যুক্ত হবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি আন্তনদী সংযোগ প্রকল্পের বৃহৎ লক্ষ্য হচ্ছে উদ্বৃত্ত অঞ্চল থেকে ঘাটতি অঞ্চলের দিকে খাবার ও সেচের পানি প্রবাহিত করা।</p>
<p>‘ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার পানি সম্পদ প্রতিযোগিতা: চীন, ভারত ও বাংলাদেশ’ নামক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, <strong>ভারতের পানি প্রত্যাহারে বাংলাদেশ যে হুমকির মুখে পড়েছে, তিব্বতে চীনা বাঁধ নির্মাণ ভারতকে সেই উদ্বেগের মধ্যেই ফেলে দিয়েছে।</strong> বিভিন্ন চীনা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভারতের জল প্রত্যাহার ভাটির প্রতিবেশীর ওপর মারাত্মক অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত প্রভাব ফেলতে পারে। সিএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন চীনা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ভারতীয় প্রত্যাহার পরিকল্পনাগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে, তাই কিছু বলার অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, উজানে চীনের উন্নয়ন উদ্যোগের সমালোচনার ক্ষেত্রে দ্বৈত-নীতি প্রয়োগ করছে ভারত।</p>
<p>ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ভারতের সীমানা মার্জিনাল (জনসংখ্যার ৩ ও ভূমির ৬ শতাংশ)। অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল এই অঞ্চল চীনা ভূমির ৩ শতাংশ। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র বেসিন বাংলাদেশের ভূমির ২৭ শতাংশ। এখানে বাস করে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বাংলাদেশের সেচ চাহিদার অন্তত ২৫ শতাংশ পানি ঘাটতি রয়েছে, প্রায় ৫ কিলোমিটার প্রস্থের যমুনা চলমান শুষ্ক মৌসুমে ৭০০ মিটারে নেমে এসেছে। সব মিলে চীন ও ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় চরম পানি সংকট দেখা দেবে। এটি বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন স্বাদু পানির প্রধান উৎস। এ অবস্থায় অরুণাচলকেন্দ্রিক জলবিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ নেওয়াটা মোটেই সমীচীন হবে না।</p>
<p>যেহেতু ভারতে কয়লা উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত রয়েছে এবং বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য অর্জনে ভারত সৌর ও বায়ুবিদ্যুতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, তাই অরুণাচলের অতি খরুচে জলবিদ্যুৎ আদতে ভারতের প্রয়োজন নেই, দরকার আসলে পানি প্রত্যাহার। বাংলাদেশ যদি বিদ্যুৎ করিডরের অনুমতি দেয়, তবে ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদ ও এর শাখা নদের ওপর পরিকল্পিত ১৫৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর হয়ে আন্তনদী সংযোগ প্রকল্পকে এগিয়ে নেবে। আশঙ্কা হয়, এই প্রক্রিয়া ভাটির ব্রহ্মপুত্র (যমুনা) নদীটিকে ধীরে ধীরে হত্যা করবে। তদুপরি এই বাঁধগুলোর অনেকগুলো জলাধার হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে চ্যানেল দিয়ে পরস্পর সংযুক্ত করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, মানস-শঙ্কোশ-তিস্তা-গঙ্গা সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই যমুনা নদীর শাখা নদী মানস এবং শঙ্কোশের পানি সরিয়ে নেওয়ার মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে (ইন্ডিয়া ওয়াটার পোর্টাল ডট ওআরজি/ন্যাশনাল-রিভার-লিংকিং-প্রজেক্ট)। মোটকথা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নামে বাংলাদেশের কোনোভাবেই জলবিদ্যুৎ আমদানির ফাঁদে পড়া যাবে না।</p>
<p><strong>সর্বোচ্চ কতটুকু বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে?</strong></p>
<p>‘হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার ইভাকুয়েশান মাস্টারপ্ল্যান অব অরুণাচল’ রিপোর্ট অনুসারে ছয়টি সাত হাজার ও একটি ছয় হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৮০০ কেভি হাই ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের জন্য বাংলাদেশের ভূমি দরকার। এ থেকেই বোঝা যায় যে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ রপ্তানির প্রস্তাবের মূল আসলে বিদ্যুৎ করিডর। যেখানে বাংলাদেশে সড়ক প্রশস্ত করার কিংবা সৌরবিদ্যুতের জমিস্বল্পতা বহুল আলোচিত, সেখানে সাতটি হাই ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের ভূমি বরাদ্দ পুরোপুরি অবাস্তব। ইতিমধ্যেই বিপিডিপি-পিজিসিবি-পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইনের জন্য অধিগ্রহণ করা জমি নিয়ে শত শত মামলা রয়েছে।</p>
<p><strong>গ্রীষ্মকালীন চাহিদা আমলে নিয়েই বর্তমানে বাংলাদেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার প্রায় ৫৯ শতাংশ অলস।</strong> বিপিডিবি হিসাবে ২০৩০ সালে অন্তত ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অলস থাকবে। ফলে ১৮তম জেএসসি মিটিংয়ে ২০৩০ পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির প্রয়োজন নেই বলেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। পিএসএমপি ২০১৬ তে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ আমদানির নির্দেশনা দেওয়া আছে। বর্তমানে ভারত থেকে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ, আরও ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানির নতুন চুক্তি হয়েছে। আমদানি বিদ্যুৎ রেকর্ড উৎপাদনের ২১ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কৌশলগত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে তাই নতুন আমদানির সুযোগ নেই।</p>
<p>তাহলে করনীয় কী? যেহেতু ভারত ও চীন সৌর বিদ্যুতায়নে খুবই আশাব্যঞ্জক অবস্থান তৈরি করেছে, তাই দেশ দুটোর সঙ্গে সৌর বিদ্যুতায়নের দ্বিপক্ষীয়/বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ মডেল তৈরি করা যেতে পারে। <em>সবদিক বিবেচনায় তাই সৌরবিদ্যুতই বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানির ভবিষ্যৎ।</em> সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির অবকাঠামো তৈরি করা গেলে ‘নগর সৌরবাড়ি বিপ্লব’ হবে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ঘনবসতির দেশে বায়ুবিদ্যুতের প্রসার চাই। সীমিত আকারে জিও-থার্মাল, উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ, সমুদ্রশক্তি নিয়েও কাজ করা উচিত। পাশাপাশি কার্বন ট্যাক্স চালু করে বিকল্প স্থানীয় সবুজ বিদ্যুৎ উৎপাদনে করপোরেট প্রণোদনাও সময়ের চাহিদা।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/what-is-the-need-to-import-electricity/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7178</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বিদেশ নির্ভর অর্থনীতি নয় প্রয়োজন ব্যবসার সহজীকরণ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/foreign-dependent-economy-does-not-need-business-facilitation/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/foreign-dependent-economy-does-not-need-business-facilitation/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 30 Apr 2022 16:45:50 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[অর্থনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7103</guid>

					<description><![CDATA[অক্সিজেন উৎপাদন কারিগরি দিক থেকে খুব জটিল কোনো বিষয় নয় এই সময়ে এবং তা ব্যয়বহুলও নয়। মাত্র দু-তিন কোটি টাকা খরচেই চীন কিংবা জার্মানির অক্সিজেন প্রস্তুতকারকদের সহায়তায় মধ্যমানের একটা অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করা যায়। অথচ ভারতের করোনাকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>অক্সিজেন উৎপাদন কারিগরি দিক থেকে খুব জটিল কোনো বিষয় নয় এই সময়ে এবং তা ব্যয়বহুলও নয়। মাত্র দু-তিন কোটি টাকা খরচেই চীন কিংবা জার্মানির অক্সিজেন প্রস্তুতকারকদের সহায়তায় মধ্যমানের একটা অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করা যায়। অথচ ভারতের করোনাকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং অক্সিজেনসহ কিছু জরুরি ও স্পর্শকাতর চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহের সংকটের সময় আমরা সেই ভারতের ওপরই ভরসা করছি। যাবতীয় দুর্যোগের সময় ভারত কিংবা চীনের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয়  বিকল্প নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনের কিংবা আমদানির বিকল্প একটা সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলে ভালো।</p>
<p>চাল, ডাল ও পেঁয়াজের মতো পচনশীল পণ্য, যা ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে রপ্তানি করে, সেগুলো ভারত থেকে একচেটিয়াভাবে আমদানি করার অর্থনীতি যৌক্তিক। ভারত থেকে পণ্য ক্রয় পরিবহন খরচ ও সময়ের দিক থেকে সাশ্রয়ী। পচনশীল আমদানি পণ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণের বদলে এখানে ছোট কিংবা মধ্য পরিসরে স্টোরেজের নীতি ব্যবসা সহনীয়। কিন্তু তাই বলে পচনশীল পণ্যের বাইরে অপরাপর যাবতীয় শিল্পের কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য নির্বিচারে ভারত বা চীন থেকে আমদানি করতে থাকলে সময়ে সময়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, মন্দা, অবকাঠামোগত কিংবা মানবসৃষ্ট সমস্যা এবং বিশেষভাবে রাজনৈতিক সংকটের সময়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়া বেশ স্বাভাবিক।</p>
<p>ভারত বিশ্বের প্রায় অর্ধেক টিকা উৎপাদন করলেও কাঁচামাল আসে ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা চীন থেকে, কাঁচামালের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন পরস্পর সংযুক্ত। ধারণা করা হচ্ছে, অতি চাহিদার জন্য কাঁচামাল সংকটে টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাই বেশ চাপে পড়েছে। এ অবস্থায় জরুরি সময়ে যেখানে ভারতেই টিকা ও অক্সিজেনের হাহাকার শুরু হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের শুধু ভারতের দিকেই তাকিয়ে থাকা বিব্রতকর বিষয়। এগুলো না পেয়ে দোষারোপের সংস্কৃতিতে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখা যায় না। স্থানীয় চাহিদা মেটাতে ভারতের জরুরি অবস্থায় রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত সময়ের বিবেচনায় যৌক্তিক। হ্যাঁ, অতীতে চাল-পেঁয়াজসহ বিভিন্ন দরকারি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভারত বাজে উদাহরণ তৈরি করেছিল। পাট ও পাটপণ্য, বাংলাদেশে তৈরি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ও মাছ ধরার জালের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারত বাংলাদেশের কিছু খাতের বেশ ক্ষতি করেছে। তথাপি ভারতের করোনাজনিত অক্সিজেন বিপর্যয়ের মুখে ও টিকা তৈরির কাঁচামাল স্বল্পতার মধ্যে এই দুটি পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্বাভাবিক বিষয় বলেই বাংলাদেশকে মেনে নিতে হবে।</p>
<p>স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরই একটি দেশ বিদেশে পণ্য রপ্তানি করবে। উপরন্তু সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যদি পণ্যমূল্য বাড়িয়ে বেশি লাভ করা যায়, তাহলে সে পথে কে যাবে না? বাণিজ্যে তো বন্ধুত্ব বলে কিছু নেই। লভ্যাংশনির্ভর বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি এখানে থাকে আচরণগত অর্থনীতির কৌশল খেলার বিষয়। ফলে চুক্তির টিকাও আসবে, যখন দেখা যাবে টিকার আন্তর্জাতিক চাহিদাটা কমে যাবে এবং টিকার দামও কমে যাবে। বিকল্প উৎসহীন একচেটিয়া ও একপক্ষীয় আমদানি নীতিতে গেলে এমন ভাগ্যই নিয়তি।</p>
<p><strong>এখানে মৌলিক একটি প্রশ্ন হচ্ছে, কেন শিল্প কাঁচামাল, জীবন বাঁচানোর জরুরি ওষুধ থেকে শুরু করে যাবতীয় ‘প্রস্তুতকৃত পণ্য’ একটিমাত্র উৎস থেকেই আমদানি করতে হবে? কেন সুই থেকে শুরু করে উড়োজাহাজ পর্যন্ত সবকিছুই আমদানি করতে হবে? কারণ দেশের শিল্প অবকাঠামো নিয়ে আমাদের কোনো লক্ষ্য ও অভীষ্ট তৈরি হয়নি। দূরদর্শিতা নেই বলে আমাদের কী কী মৌলিক উৎপাদন খাত থাকা চাই, তা সংজ্ঞায়িত হয়নি। তবে কারিগরিভাবে এই উত্তরটি বিশ্বব্যাংকের ‘ডুইং বিজনেস ইনডেক্স’ কিংবা ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের ব্যবসা সূচক ১৬৮, বিপরীতে ভারতের ৬৩। বিশ্বে ১৯০টি দেশের মধ্যে প্রতিবেশী দুটো দেশের অবস্থানের পার্থক্য ১০৫। এই সূচকটা একটা আয়না, যেখানে খুব সহজে একটা দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি, শিল্প ও ব্যবসার পরিবেশ বোঝা যায়।</strong><strong> </strong></p>
<p>২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্স ছিল ৯৯। পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পর, যখন ব্যাপকসংখ্যক ব্যবসায়ীকে ধরে ধরে চাঁদা আদায় করা হয় এবং জেলে ভরা হয়। ২০০৮ সালে সূচকের অবনতি হয়ে ১১৫-তে নেমে যায়, পরের বছর আরও কমে হয় ১১৯। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, এ সময় বাংলাদেশের আগে থেকেই থাকা জ্বালানি সংকট ব্যাপকতর হয়। বিরোধী ঘরনার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিবন্ধকতা ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত সহনীয়ভাবে অব্যহত থাকে। ধীরে ধীরে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক ২০১৩ সালে ১৩০-এ নামে। ২০১১ সালের শেয়ারবাজার ধসও ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে পিছিয়ে থাকার বড় কারণ ছিল।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-7105" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-২.jpg" alt="" width="1024" height="635" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-২.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-২-300x186.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-২-768x476.jpg 768w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p>একদলীয় শাসনের যাত্রা শুরুর বছরে (২০১৩-১৪) এক বছরেই বাংলাদেশের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের ৪২ ধাপ অবনমন হয়। বিশ্বের বিনিয়োগ ও ব্যবসার ইতিহাসে এই পতন একটা রেকর্ডও হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আস্থা ফিরে না আসায় বিরোধীদের পুঁজিগুলো বিনিয়োগে আসেনি বরং এই পুঁজির অনেকটাই সরকারি প্রভাবশালীদের মাধ্যমে লুট কিংবা বেদখল হয়েছে। ব্যক্তিসম্পদ বিনিয়োগের পরিবর্তে ভোগ হয়েছে, হয়েছে পাচার। এসময় বিরোধী রাজনৈতিক পরিচয়ধারী বহু ব্যবসায়ীর টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ে, অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। শাহবাগ আন্দোলনের আগে-পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত ঘরনার ব্যসায়ীদের মালিকানাধীন কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, টিভি ও সংবাদপত্রও বন্ধ কিংবা বেহাত হয়ে যায়। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থাজনিত আস্থাহীনতায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে একপর্যায়ে ব্যবসা সহজীকরণ সূচক ১৭৮-এ নেমে পড়ে। ২০২০ সালে এসে বাংলাদেশের ব্যবসা সূচক বিশ্বে ১৬৮তম হয়।</p>
<p>ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থানের তারতম্য আকাশ-পাতাল। নির্মাণসংক্রান্ত অনুমতি, পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রভৃতি ঝামেলায় ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ১০৮টি অবস্থানে এগিয়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি ও সাশ্রয়ী জ্বালানির সূচকে তারা ১৫৪টি অবস্থানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে। ঋণপ্রাপ্তির দিক থেকে ৯৪টি অবস্থানে ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় ৫৯টি অবস্থানে তারা এগিয়ে রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়ন, বৈদেশিক বাণিজ্য সুবিধা প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ৩৬টি অবস্থানে এগিয়ে। সম্প্রতি এক শীর্ষ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দেশে প্রকৃত করদাতাদের হেনস্তা করা হয় এবং প্রভাবশালীদের ছাড় দেয়া হয়। এতে সৎ ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ বাড়ছে। ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে এর সত্যতা মেলে। কর সহজীকরণের দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে ৩৬টি দেশের অবস্থানে এগিয়ে।</p>
<p><strong>এর অর্থ হচ্ছে, ভারতে ব্যবসা ও শিল্প টিকিয়ে রাখা সহজ, পণ্য উৎপাদনের খরচ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম। এভাবে চীনের সঙ্গে তুলনা করা হলে ব্যবধানটা আরও বেমানান ঠেকবে। সুতরাং বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ বড্ড বেশি বলে সবাই চীন ও ভারতমুখী। কেন বাংলাদেশের পণ্য উৎপাদন খরচ খুব বেশি, এর এক লাইনের উত্তর না খুঁজে বরং খুঁজতে হবে ব্যবসা সহজীকরণের বৃহৎ পরিসরটায়।</strong></p>
<p>বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে যেতে মহাসড়কের পথে পথে পণ্যবাহী একটি ১০ টনের ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা (আনোয়ার পারভেজ, ২৬ জুলাই ২০১৩ প্রথম আলো), গ্রাম থেকে শহরে পণ্য আসতে দাম বেড়ে যায় ১০ থেকে ২০ গুণ। যেখানে পুলিশ ও পরিবহন সমিতির নামে চলে বেপারোয়া চাঁদা—এমন দেশে পণ্য উৎপাদন হবে না, বরং হবে আমদানি ও ট্রেডিং। এর ফলে সময়ে সময়ে সংকটে পড়াই আমাদের যৌক্তিক পরিণতি। স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের ছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বাধাগুলো জানার গভীরতর বিদ্যায়তনিক অনুসন্ধান দরকার। জীবন চালাতে ও জীবন বাঁচাতে জরুরি পণ্যের একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেশে উৎপাদন করে কর্মসংস্থান ও সরবরাহ সংকটের টেকসই সমাধানের বোধটা ফিরে আসুক।</p>
<p>শিল্প বিনিয়োগের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি প্রকল্প বা নীতির সমীক্ষা ও পর্যালোচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় অন্য কয়েকটি বাধা হচ্ছে—জমিস্বল্পতা, নিরবচ্ছিন্ন সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা, পরিবেশ ছাড়পত্র, চুক্তি বাস্তবায়ন, লেনদেনসহ আর্থিক অপরাধের বিচারিক নিষ্পত্তি, দক্ষ মানবসম্পদ প্রাপ্তি, ঘুষ, দুর্নীতি ও বেপারোয়া চাঁদাবাজি, জ্বালানি সংযোগের দীর্ঘসূত্রতা এবং পরিবেশ ছাড়পত্রসহ নানা ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াও অন্য বেশকিছু সমস্যা। রাজনৈতিক সদিচ্ছায় থাকলে এর অনেক কিছুই দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়।</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter size-full wp-image-7104" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-১.jpg" alt="" width="1024" height="493" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-১.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-১-300x144.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2022/04/ফয়েজ-আহমেদ-১-768x370.jpg 768w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p>আমাদের প্রবৃদ্ধি যে কর্ম তৈরি করতে পারছে না, বেসরকারি বিনিয়োগ যে এগোচ্ছে না, ব্যবসা সূচক ছাড়া তার ভিন্ন কোনো প্রমাণ ও ব্যাখার প্রয়োজন নেই। বিনিয়োগবন্ধ্যার কারণগুলো খুবই কারিগরি ও অবকাঠামোগত। ব্যবসা সহজীকরণের বিদ্যুৎ উপ-সূচকে বাংলাদেশের মান ১০০-তে মাত্র ৩৪ দশমিক ৯, ভূমি নিবন্ধনে মাত্র ২৯, ব্যবসায়িক চুক্তি বাস্তবায়নে ২২ দশমিক দুই, অর্থ ও ব্যবসায়িক মামলা নিষ্পত্তিতে মান মাত্র ২৮ ও বৈদেশিক বাণিজ্যে ৩১ দশমিক আট। এই বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান না করে বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গতি আনার কাজ রাতারাতি এগিয়ে নেয়া যাবে না। সার্বিকভাবে বাংলাদেশে ব্যবসা করা কঠিন এবং পণ্য উৎপাদন করা ব্যয়বহুল। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার নামে হাজার কোটি খরচ হলো, তার সুফল বিনিয়োগে আসবে কবে? বিদ্যুৎ খাতে সরকার গত ১০ বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিলেও ব্যবসা ও শিল্পের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রাপ্তি সহজ হয়নি। বরং ১০ বছরে ১০ বার বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ব্যবসা সহজীকরণে বড় বাধা।</p>
<p>ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে অগ্রগতি হলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সার্বিকভাবে গতি পাবে। ২০২৪ সালে এলডিসি উত্তরণের আগেই প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আনার সক্ষমতা এবং বিনিয়োগের বোধগম্য অবকাঠামোগত উপযোগিতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ব্যবসা সহজীকরণ সূচকের প্রতিটি উপখাতেই ব্যাপক অগ্রগতি প্রয়োজন। এই অগ্রগতিগুলো হলে এবং দেশে পণ্য উৎপাদন খরচ কমলেই জরুরি অবস্থায় কিংবা সংকটে বিদেশপানে তাকানোর বাধ্যবাধকতা কমে আসবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/foreign-dependent-economy-does-not-need-business-facilitation/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7103</post-id>	</item>
		<item>
		<title>জীবন-জীবিকা একসঙ্গে বাঁচাতে পারলেই বাঁচবে দেশ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/jibon-jibika-eksonge-bacte-parlei-bacbe-desh/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/jibon-jibika-eksonge-bacte-parlei-bacbe-desh/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 25 Mar 2022 03:29:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6904</guid>

					<description><![CDATA[যদি অর্থনীতি একটি প্রান্তিক মন্দায় পড়ে, তাহলে সারা বছরে তার পক্ষে গড়ে সোয়া ৫ শতাংশ উচ্চ ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় । ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি হিসাবেই ৬৬ দিন লকডাউন ছিল । কার্যত প্রায় সবকিছুই ছিল বন্ধ । অর্থবছরের প্রথম মাসটি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>যদি অর্থনীতি একটি প্রান্তিক মন্দায় পড়ে, তাহলে সারা বছরে তার পক্ষে গড়ে সোয়া ৫ শতাংশ উচ্চ ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় । ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি হিসাবেই ৬৬ দিন লকডাউন ছিল । কার্যত প্রায় সবকিছুই ছিল বন্ধ । অর্থবছরের প্রথম মাসটি ছাড়া বাকি ১১ মাসে আমদানি, রপ্তানি, অভ্যন্তরীণ ভোগ ও বিনিয়োগ-সবকিছুই যেখানে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে, সেখানে শুধু প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধিতে ভর করে ৫ শতাংশের ওপর উচ্চ প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিশ্বব্যাংক সেই প্রশ্নই তুলেছে । প্রবৃদ্ধি গাণিতিক বিষয়, গোঁজামিল এখানে চলে না ।</p>
<p>বাংলাদেশে এমনিতেই ভোগের ওপর ভিত্তি করে উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, বিশ্বে যা ব্যতিক্রম । বার্ষিক জাতীয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যদি আমদানি-রপ্তানি প্রবৃদ্ধির মিল না থাকে, তাহলে প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় । <strong>কারণ, সরকারি ভোগ বা খরচ বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি দেখানোর সুযোগ থাকে । বাজেট প্রাক্কলনে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচালনা খরচ বাড়িয়ে বাংলাদেশ ঠিক তা-ই করে আসছে গত এক দশক । <em>চলমান এক অর্থবছরেই সরকার পরিচালনা খরচ ১৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে ।</em></strong></p>
<p>বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি ভোগ ও বিনিয়োগের গড় প্রবৃদ্ধি যেখানে মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে পরিসংখ্যান ব্যুরো ভোগ ও বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ । করোনার আগেই বাংলাদেশে আমদানি, রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বেশ কিছু ব্যক্তি খাতের ভোগে সংকোচনের সুস্পষ্ট আভাস ছিল ।</p>
<p>বিগত বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বার্ষিক বাজেট গড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা করে বাড়ছে, কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের হার কমতে কমতে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছে । করোনার প্রভাবে ৬ মাসে বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে ১১ শতাংশ । চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজস্ব বাজেটে সুদ খাতে যেখানে ১৮ শতাংশ অর্থ ব্যয় করার কথা, সেখানে ৬ মাসেই সুদ খাতে ব্যয় ২৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে । সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়ন পরিস্থিতিতে অবনতি দৃশ্যমান । রাজস্ব খাতে বাজেটে যে বরাদ্দ ছিল, তার ৩০ শতাংশ খরচ হয়েছে ।</p>
<p>কিছু কিছু খাতে গড় ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম খরচ হলেও সুদ খাতে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ । করোনার কারণে স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব লাভ করার কথা । বাস্তবে এ খাতে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বরাদ্দের বিপরীতে অর্থবছরের প্রথমার্ধে ব্যয় হয়েছে ৫ শতাংশ । বাজেট বাস্তবায়নের হার কম হলেও অস্বাভাবিক সঞ্চয়পত্র ঋণ (রাজস্ব আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ) ও বৈদেশিক ঋণের কারণে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সুদ খাতের ব্যয় । এতে প্রায় পৌনে এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতির চাপ আছে । প্রভাবশালী মহলকে যেহেতু উপযুক্ত কর প্রক্রিয়ায় আনা যাচ্ছে না, তাই আদতে এই চাপ গিয়ে পড়ছে নিয়মিত কর ও মূসক প্রদানকারী ব্যবসায়ীদের ওপর, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানের বিকাশ ।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বেড়েছে সত্য । তবে ১৫ বা ১৬ শতাংশ প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি কখনোই -১৬ দশমিক ৮ শতাংশ রপ্তানি হ্রাস, -১২ শতাংশ আমদানি হ্রাস এবং উল্লেখযোগ্য সার্বিক ভোগ হ্রাস, অব্যাহত বিনিয়োগ মন্দা কাটিয়ে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম নয় । বিশ্বব্যাংকের প্রবৃদ্ধি (২ দশমিক ৪ শতাংশ) হিসাবের সঙ্গে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (৩ শতাংশ) পার্থক্য থাকাটা লজ্জার বিষয় । অন্যদিকে ,পরিসংখান ব্যুরো অর্থবছরের মহামারিতে আক্রান্ত শেষ তিনটি মাস হিসেবে বিবেচনায় এনে প্রবৃদ্ধির তথ্য হালনাগাদ করছে না ।</p>
<p>সানেম, সিপিডি, উন্নয়ন অন্বেষণ, পিআরআই, বিআইডিএসসহ বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বলছে, করোনার কারণে কমবেশি দেড় কোটি মানুষ নতুন করে বেকার হয়েছে । সানেমের হিসেবে দারিদ্র্যের হার ৪২ শতাংশ । খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমানো, সঞ্চয় ভেঙে চলার মতো পদক্ষেপের পরও প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার দেনার মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম । এশিয়া ফাউন্ডেশন বলেছে, ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা করোনায় ব্যবসা বন্ধ করেছেন । সিপিডি বলেছে, ৫৪ শতাংশ গৃহকর্মী এবং ১৯ শতাংশ পোশাকশিল্পের শ্রমিক বেকার হয়েছেন ।</p>
<p>দেশের প্রতি ১০ জন মানুষের অন্তত ৪ জনের দৈনিক আয় ২ ডলারের কম, যা দিয়ে এই দুর্মূল্যের বাজারে কর্মহীন সদস্যসহ পরিবার নিয়ে চলা যায় না । বিপুল পরিমাণ মানুষ তাই শহরের তল্পিতল্পা গুটিয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন । এ অবস্থায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্যও আর বিশ্বাসযোগ্য নয় । বরং এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে, বর্তমানে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত-উভয় মূল্যস্ফীতিই দুই অঙ্কের ঘরে আছে ।</p>
<p>অর্থবছরের দুটি প্রান্তিকে পরপর ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি করলে একটি দেশের অর্থনীতিকে মন্দাকবলিত ধরা হয় । ২০১৯-এর সেপ্টেম্বরের পর থেকে টানা প্রায় এক বছর বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি মন্দাগ্রস্ত ছিল । ২০২০-এর নভেম্বর থেকে ২০২১-এর মার্চ সময়কালে অর্থনীতির কয়েকটি খাত পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরে এলেও সার্বিক পুনরুদ্ধার হয়নি ।</p>
<p>এরই মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন । সম্পূর্ণ প্রস্তুতিহীন এই লকডাউনে ভাসমান ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়বেন । এ অবস্থায় চলমান ধারার বাজেট বাদ দিয়ে মন্দা (ক্রাইসিস) বাজেট ঘোষণাই যুক্তিযুক্ত । শুধু কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প রেখে বাদবাকি সব ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাদ দিতে হবে । বিদ্যুৎ ও মৌলিক সেবা নয়, এমন খাতের ভর্তুকি বন্ধের স্থায়ী কৌশল খোঁজা উচিত । জনস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা খাত, দরকারি সরকার পরিচালনা খরচ ইত্যাদি ছাড়া সরকারের বাদবাকি অপখরচের প্রকল্প থামাতে হবে ।</p>
<p>শ্রমবাজারের ৮৫ থেকে ৮৯ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত । এই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে, ক্ষুদ্র বা ব্যষ্টিক অর্থনীতিকে বাঁচানো মন্দাকবলিত অর্থনীতির মূল কাজ । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপ, সতর্কতা, ঋণ নিশ্চয়তা স্কিম গঠনসহ নানা উদ্যোগের পরও কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণে কেন গতি আসেনি? কেন প্রকৃত ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না?</p>
<p>এগুলোর ডিজিটাল সমাধান ও নতুন কৌশল বের করাও জরুরি । মানুষ বাঁচাতে হলে কৃষিসহ ক্ষুদ্র শিল্প, প্রকৃত ব্যবসা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে । মন্দায় বড়লোককে ঋণ দিলে সে বিনিয়োগ করে না, বরং ভোগ করে । গত এক বছরের সরকারি অভিজাত ঋণ প্যাকেজের অভিজ্ঞতা অন্তত তাই । ত্রাণ ও ঋণ প্রণোদনাগুলো গরিব ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর হাতে পৌঁছেনি, পেয়েছেন মূলত দলীয় নেতা-কর্মীরা ।</p>
<p>মহামারির সময়ে অপখরচের লাগাম টেনে ধরতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী, বেকার, কর্মহীন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের যথাযথ তথ্যশালা তৈরি করে সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো উচিত । দরিদ্র হয়ে পড়া মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে উদ্ধার করাই মূল দায়িত্ব । এর জন্য দরিদ্র হয়ে পড়া প্রান্তিক ভাসমান নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পমালিক এবং কিছুদিন আগের গরম বাতাসে ধান পুড়ে যাওয়া কৃষকের নিখুঁত ডিজিটাল তথ্যশালা তৈরি করতে হবে ।</p>
<p>দলীয় নেতা-কর্মীনির্ভর ত্রাণব্যবস্থা মহামারিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে না । কে গরিব, কে ক্ষতিগ্রস্ত, কে কর্মহীন-এসব প্রশ্নের উত্তর দলীয় চ্যানেলে নয়, স্বচ্ছ ডিজিটাল তথ্যশালার মাধ্যমে আসতে হবে । দরকার জাতীয় পরিচয়পত্রনির্ভর স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় তথ্যশালা, যার বিপরীতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় দুর্নীতিমুক্তভাবে ভাতা ও ঋণ দেওয়া যাবে ।</p>
<p>প্রান্তিক, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত বাঁচানো এখন একেবারে ফরজ হয়ে গেছে । এদের জীবন ও জীবিকা একসঙ্গে বাঁচাতে পারলেই বাঁচবে অর্থনীতি, বাঁচবে দেশ ।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/jibon-jibika-eksonge-bacte-parlei-bacbe-desh/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6904</post-id>	</item>
		<item>
		<title>একটি উদ্যান ধ্বংসের ‘উন্নয়ন’</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 09 Mar 2022 10:34:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[শহর ও স্থাপত্য]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6843</guid>

					<description><![CDATA[মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর নামে সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝে অবস্থিত উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। বেশ কয়েকটি জাতের দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষে শোভিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল ওসমানী উদ্যান। এখানে রাখা আছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর নামে সচিবালয় ও নগর ভবনের মাঝে অবস্থিত উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। বেশ কয়েকটি জাতের দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষে শোভিত করে গড়ে তোলা হয়েছিল ওসমানী উদ্যান। এখানে রাখা আছে সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলার আসাম যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ঐতিহাসিক কামান। সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সময়ে দুটি ছোটখাটো লেক, লেকের মধ্যে কৃত্রিমভাবে তৈরি দুটি ছোট বালু দ্বীপ তৈরি করে উদ্যানটিতে প্রাণের ছোঁয়া লাগানো হয়েছিল।</p>
<p>‘গোসসা নিবারণী পার্ক’ তৈরির নামে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ করে রাখা হয়েছে উদ্যানটি। পুরো পার্কটি টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে পার্কটির সংস্কার শুরু হলেও আড়াই বছরের বেশি সময় হলেও এখনো শেষ হয়নি এক বছর মেয়াদি কাজ। কতটুকু কাজ শেষ হয়েছে এ বিষয়ে জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও। কাজ শুরুর অনুষ্ঠানে তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন বলেছিলেন, ‘এই পার্কে যখন মানুষ আসবে, স্বাভাবিকভাবে তাদের ভালো লাগবে, উৎফুল্ল লাগবে। এখানকার যেসব আয়োজন, সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই মানুষের গোসসা বা রাগ কমিয়ে দেবে। এই চিন্তা থেকেই এটাকে “গোসসা নিবারণী পার্ক” নাম দেওয়া হয়েছে।’ (সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন জানুয়ারি ২৭, ২০১৮)</p>
<p><strong>একটি উদ্যানে যে মিউজিক সিস্টেম, বিজ্ঞাপনের জন্য বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন থাকার কথা নয়, তা আমাদের নগর প্রশাসনের কি জানা নেই?</strong></p>
<p>পরিকল্পনায় বলা হয়, পার্কটিতে মিউজিক সিস্টেম, বসার জন্য আলাদা আলাদা জোন, বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং বড় স্ক্রিনে টেলিভিশন দেখার সুবিধা থাকবে। উদ্যানের লেককে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হবে। থাকবে প্যাডেল বোট। পার্কের মধ্যেই থাকবে ফুড কোর্ট এবং ভলিবল ও ক্রিকেট খেলার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পার্কে বাজবে হারানো দিনের গান। বিস্তৃত ওয়াকওয়েতে হেঁটে ক্লান্ত পথিকেরা হাতের নাগালে পাবেন বিনা মূল্যে রাস্তার পাশে ব্যবস্থা করা সুপেয় পানি। থাকবে জিম ও ইয়োগা করার ব্যবস্থা। সেই সঙ্গে পুরান ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে থাকবে নগর মিউজিয়ামের বিশাল আয়োজন। অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ সিস্টেম ও বিদ্যুতায়নে পুরো পার্কে থাকবে আলোর ঝলকানি। (সূত্র-ইত্তেফাক ১৪ অক্টোবর, ২০২০)</p>
<p>প্রথমে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলও পরে তা বাড়িয়ে ৮৬ কোটি টাকা করা হয়। কিন্তু নতুন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে পানিনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন যোগ করে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১০০ কোটি টাকার ওপর। পার্কটির কাজ করছে ‘দি বিল্ডার্স লিমিটেড’। স্থপতি রফিক আজম ইত্তেফাককে বলেন, <strong><em>‘যে ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন, তাঁদের যোগ্যতা আছে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। বারবার মেয়াদ বাড়িয়েও আমরা কাজ শেষ করতে পারিনি।’</em></strong></p>
<p>সচিবালয়ের ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে বহু ভবন নির্মাণ করায় এ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। কয়েক বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই সচিবালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া সচিবালয়ের পশ্চিমে (লিংক রোড) পুরো রাস্তা অস্থায়ী পার্কিং জোনে পরিণত হয়েছে। এতে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ সচিবালয়ের বাইরের অফিসগুলোতে চলাচলে ও যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। সচিবালয়ের আটটি ভবন ও তিনটি টিনশেডে ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং ১১টি (ছোট-বড়) হোটেল বা ক্যানটিন রয়েছে। একটি করে এটিএম বুথ, সাংবাদিক কক্ষ, ডে-কেয়ার সেন্টার ও ক্লিনিকও আছে। কিন্তু আইন অনুযায়ী সচিবালয়ের কোনো ভবনেই নেই নিজস্ব গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা।</p>
<p>একটি উদ্যানে যে মিউজিক সিস্টেম, বিজ্ঞাপনের জন্য বড় স্ক্রিনের টেলিভিশন থাকার কথা নয়, তা আমাদের নগর প্রশাসনের কি জানা নেই? আলোর ঝলকানি যে নৈশকালীন প্রাণী পাখি ও পতঙ্গ প্রজাতির (নাইট লাইফ) জন্য অনুকূল নয়, সেটাও আমাদের নগরনেতা ও নগর পরিকল্পনাকারীদের বিবেচনায় এল না? আমরা কি এতটাই নির্বোধ হয়ে গেলাম?</p>
<p>গোসসা নিবারণের সত্য বা মিথ্যা দিয়ে শুরু করে, ড্রেনেজ সিস্টেম, জাদুঘর, লাইব্রেরিসহ নগর মিউজিয়ামের বিভিন্ন কাজের সত্য-মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এখন দেখা যাচ্ছে, ওসমানী উদ্যানে আসলে তৈরি করা হচ্ছে সচিবালয়ের জন্য বিশাল বহুতল পার্কিং, ড্রেনেজ স্টোরেজ। নির্বিচারে কাটা হয়েছে বহু গাছ, প্রায় সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা হয়েছে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের দিককার লেক ও বালুচরটি। ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে ভিন্ন ধরনের বিশালাকৃতির স্থাপনা। টিন দিয়ে ঘিরে কাজ করলেও গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ছবিতে পাওয়া গেল তারই প্রমাণ।</p>
<p>যানজটপূর্ণ সচিবালয় এলাকায় পার্ক করা যায় সর্বোচ্চ এক হাজার গাড়ি। কিন্তু পাস দেওয়া আছে নয় হাজারের বেশি। গাড়ি পার্কিংয়ের যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তাতে ওসমানী উদ্যান হবে পার্কিংয়ের দখলে। স্যাটেলাইট ইমেজে তারই প্রমাণ মিলেছে। (সূত্র-সমকাল ১৫ নভেম্বর ২০২০)। ইট-পাথরের জঞ্জালে ভরা নগরীতে মানুষের জন্য বিনোদন বা উন্মুক্ত জায়গায় আড্ডা দেওয়ার স্থান যেখানে খুবই কম, সেখানে পার্কিংয়ের জন্য উদ্যান ধ্বংসের হীন পরিকল্পনা কেন? এই জবাব কি নগর প্রশাসন দেবে?</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-development-of-the-destruction-of-a-garden/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6843</post-id>	</item>
		<item>
		<title>বাংলা ভাষাকে এগিয়ে নেয়ার ভাবনা</title>
		<link>https://rowyakbd.com/bangla-vashake-egiye-neyar-vabona/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/bangla-vashake-egiye-neyar-vabona/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 19 Feb 2022 06:34:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[বাংলাদেশ]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6795</guid>

					<description><![CDATA[নানা কারণে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ গন্তব্য হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শিকার যেমন হয়েছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেও পড়েছে। সময়ের সঙ্গে এর মাত্রা আরও বাড়বে বলেই মনে করি। পশ্চিম বাংলার তরুণ-তরুণীরা আজ বাংলাকে পেছনে ঠেলে ইংরেজি ও]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>নানা কারণে বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ গন্তব্য হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পশ্চিমবঙ্গে বাংলা ভাষা আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শিকার যেমন হয়েছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনেও পড়েছে। সময়ের সঙ্গে এর মাত্রা আরও বাড়বে বলেই মনে করি। পশ্চিম বাংলার তরুণ-তরুণীরা আজ বাংলাকে পেছনে ঠেলে ইংরেজি ও হিন্দিকে বেছে নিয়েছেন কিংবা নিতে বাধ্য হয়েছেন আধুনিকতা অথবা কর্মের খাতিরে। মনে রাখতে হবে, বাংলা ভাষার গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের আবির্ভাব শুধু সাহিত্য রচনা ও চিন্তা তৈরিতে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে নয়। বরং এটা পারিপার্শ্বিক বহু ঘটনার সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া। তাই সব মিলে বাংলা ভাষা বিকাশে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের দায়িত্ব বেড়েছে। চিন্তায় ও সৃজনে বাংলাকে যত্নের সঙ্গে এগিয়ে নেয়ার এ দায়িত্ব আমাদের সবার।</p>
<p><strong>বাংলাকে এগিয়ে নেয়ার কথা এলেই কয়েকটা বিষয়ে নজর পড়ে। যথা, </strong></p>
<p><strong>এক.</strong> মাতৃভাষায় প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সুযোগ।</p>
<p><strong>দুই.</strong> শিক্ষা ও গবেষণা, অর্থনীতি, গণিত ও বিজ্ঞানচর্চার ভাষা হিসেবে বাংলার বিকাশের জোর চেষ্টা করা। বাংলাকে সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, দর্শন ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই দিয়ে সমৃদ্ধ করা। জনপ্রিয় দেশীয় শিক্ষকদের জ্ঞান, শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা, এমনকি শ্রেণি বক্তব্যকেও শ্রেণিবিন্যাস করে বাংলায় পর্যাপ্ত বই রচনা করা। গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার জন্য বাংলায় পর্যাপ্ত ইউটিউব, খান একাডেমির মতো লেকচার ভিডিও, মূক বা সমজাতীয় ভিডিও কনটেন্ট, অনলাইন কোর্স একেবারেই সীমিত। অন্যদিকে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার যথেষ্ট সমৃদ্ধ নয় বলে বাংলাকে উচ্চ শিক্ষায় কিংবা বিজ্ঞানচর্চায় চালু করা সম্ভব নয় বলে যে মত রয়েছে, তাকে আমরা অগ্রহণযোগ্য মনে করি।</p>
<p>বিদেশি ভাষার যেসব শব্দ সমাজে ব্যাপক হারে ব্যবহার হয় তাকে সে অবস্থানে রেখে দেয়ার বিকল্প নেই। ইংরেজিসহ প্রায় সব ভাষায়ই প্রয়োজনমতো বিদেশি শব্দ সংযুক্ত করা হয়েছে। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সুতরাং গুরুগম্ভীর পারিভাষিক শব্দ খোঁজার চেষ্টাকে খড়ের গাদায় সুই খোঁজার মতোই মনে করি। যেসব শব্দ সমাজে, ছাত্র-শিক্ষকের কাছে সমাদৃত, তার পারিভাষিক শব্দ খোঁজার চেষ্টা অর্থহীন। ভাষা চলমান, দেয়া-নেয়ার মধ্য দিয়েই তার অনন্ত যাত্রা।</p>
<p><strong>তিন.</strong> যথাসম্ভব রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার করা। তবে তা ইংরেজি কিংবা অপরাপর অর্থনৈতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন ভাষাকে বাদ দিয়ে নয়।</p>
<p><strong>চার.</strong> দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং কর্মক্ষেত্র চাহিদার ভিত্তিতে আরবী কিংবা চীনা ভাষা শেখানো।<br />
অর্থাৎ যেসব দেশে আমাদের শ্রমিক ও শ্রমবাজারের চাহিদা রয়েছে বা ভবিষ্যতে কর্মের সম্ভাবনা যেসব ভাষায় উজ্জ্বল, সেসব ভাষার একটা প্রাথমিক ভিত্তি দেয়া। ভারত যদি বাংলাদেশীদের স্বাভাবিকভাবে শ্রমবাজারের সুবিধা দেয় (ওয়ার্ক পারমিট, দক্ষ ও অর্ধ-দক্ষ শ্রমিক গ্রহণ), তাহলে চতুর্থ ভাষা হিসেবে হিন্দিও আসতে পারে। এই কাজটা উচ্চ মাধ্যমিক কিংবা সমমান কিংবা কারিগরি স্তরে করলে ভালো হয়, অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ তৈরি হবে। এখানে কর্মপ্রাপ্তি সম্ভাবনার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়কেও সম্মান জানাতে হবে।</p>
<p><strong>পাঁচ.</strong> বাংলা ভাষার অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক দিগন্ত উন্মোচন। জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে উদ্যোক্তাপ্রবণ হয়ে উঠলে ভাষাও শক্তিশালী হবে। সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় পণ্যের মাধ্যমে ভাষাকে কীভাবে ছড়ানো যায়, তার বুদ্ধিবৃত্তিক চেষ্টাও লাগবে। কাজগুলো মোটেই সহজ নয়। তবে এর জন্য চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতা।</p>
<p><strong>পুরোনো জঞ্জাল মোছা</strong></p>
<p>ঔপনিবেশিক ঔরসে গড়ে ওঠা <strong>‘আভিজাত্য’</strong> মোড়ানো শব্দে, বানানে, উচ্চারণে <strong>‘জমিদারি’</strong> <strong>বাংলা</strong>, যাকে <strong>প্রমিত বাংলা</strong> বলা হয়; তা আসলে আমাদের লোকালয়গুলোর বাংলা থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। প্রমিত বাংলা আমাদের নাগরিকের মুখে আসে না সহজাতভাবে। এটাকে প্রত্যাখ্যান করে আমাদের বহু কবি সাহিত্যিক শিল্পীরা আলো ছড়াচ্ছেন, ভাষাকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন; এটা বড় আনন্দের বিষয়। বাংলা ভাষায় আমরা গাইব সাধারণ মানুষের জীবনের জয়গান। কৃষক, শ্রমিক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি, ছাত্র, যুবা যে ভাষায় জীবনকে দেখে, যে ভাষায় স্বপ্ন দেখে, অনুভূতি প্রকাশ করে সেটাই আমাদের ভাষা মান। যাপিত জীবনের আনন্দ-বেদনা প্রতিবাদের ভাষাই আমাদের প্রাণের ভাষা। প্রমিত বা মান ভাষা নয় বরং আঞ্চলিক ভাষাই আমার মায়ের ভাষা। সেটাই আমার গৌরব, হোক অভিজাতদের কাছে তা আদিখ্যেতা, হোক তা চাষার ভাষা ! তাই মান ভাষার জঞ্জাল সরিয়ে তাকে বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত আঞ্চলিক ভাষাগুলোর খুব কাছাকাছি রাখা হোক। এতে শিক্ষায় মনস্তাত্ত্বিক বাঁধা কাটানো যাবে।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের আঞ্চলিক ধ্বনিগুলোকে গুরুত্ব দেয়া ‘অভিজাত’দের প্রমিত ভাষা কাঠামো নির্মাণে পূর্ব বাংলার মানুষের সবগুলো ধ্বনিকে বিবেচনায় আনা হয়নি বলে দীর্ঘ অভিযোগ আছে। সুতরাং এই বিষয়ে আমাদের ভাষাবিজ্ঞানীদের দায়িত্ব দেয়া চাই। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৌলিক ধ্বনিগুলোকে বর্ণে কিংবা ভাবের প্রকাশে কীভাবে স্থান দেয়া হবে, তা গবেষকদের ইখতিয়ারে দেওয়া চাই। একই সঙ্গে অভিজাত প্রভাবে বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, যুক্তবর্ণ, পরিভাষা নির্মাণ ও নির্ধারণ, বানানরীতিসহ বাংলা ব্যাকরণে যে যে বিকৃতিগুলো আনা হয়েছে, সেগুলো সংশোধনে আঞ্চলিক গণশুনানি করা দরকার। যে পদ্ধতিতে কলকাতায় বসে পূর্ববঙ্গের মানুষের ভাষাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে, একইভাবে ঢাকার নতুন অভিজাতদের দিয়ে আঞ্চলিক ভাষাগুলোর একই ক্ষতি আমরা করতে পারি না। এক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির নেতৃত্ব নির্বাচনে আঞ্চলিক কবি সাহিত্যিক শিল্পীদেরও সংশ্লিষ্টতা রাখা উচিত। বাংলা একাডেমিকে স্বৈরাচারের প্রতিনিধিত্ব মুক্ত করা আজ সময়ের দাবি।</strong></p>
<p>মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগে মান ভাষার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না, তবে তাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা চাই। প্রমিত ভাষা এমন হতে হবে, যাতে আঞ্চলিক ভাষাগুলোর রূপ থেকে তা অনেক দূরে অবস্থান না করে। ঢাকার তথাকথিত অভিজাতরা যে ভাষায় রেডিও টিভিতে এসে কথা বলেন, তা সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রংপুর, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, বরিশাল, নোয়াখালী, চট্টগ্রামের ভাষা থেকে বেশ বিচ্ছিন্ন। ভাষা বহমান নদীর মতো। জীবনধারা, ব্যবসা, ধর্ম ও লোকায়ত সংস্কৃতির প্রভাবে আঞ্চলিক যোগাযোগের মিথস্ক্রিয়ায় নতুন শব্দ, বাক্য, প্রবাদ, শ্লোক ও বয়ান তৈরি হয়। গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে ভাষায় বিদেশি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে সহজাত প্রক্রিয়ায়, লম্বা সময় নিয়ে। অভিজাত প্রমিত বাংলার সমস্যটা হচ্ছে এই মান ভাষার সঙ্গে পূর্ব বাংলার আঞ্চলিক ভাষাগুলোর দূরত্বটা অনেক, এখানে সংস্কৃত শব্দ চাপিয়ে দেয়ার বিষয় আছে। এমন সব শব্দ অভিজাতদের সাহিত্যে ও কর্মে ব্যবহার করা হয়; যা প্রায় শত বছর পরেও পূর্ব বাংলার মানুষের মুখে উঠে আসেনি। এসব শব্দ রয়ে গেছে গুরুগম্ভীর কিংবা ভাবগম্ভীর। সহজাতভাবে প্রবেশ করেনি বলে শব্দগুলো সাধারণের মুখে শোভা পায় না। অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক এই নিয়ে যা বলেছেন তার ভাবার্থ এরকম- পূর্ব বাংলার মানুষের লোকায়ত ভাষা থেকে কলকাতার অভিজাতদের চাপিয়ে দেয়া ভাষার দূরত্বটা এতই বেশি যে, সাধারণের মুখে ভাষাটা আসে না। সাধারণকে ভাষাটা শিখতে হয় বরং লেখাপড়া করে ‘লায়েক’ হওয়ার পরই কেবল এ ভাষায় কথা বলা যায়, শুধু তখনই এটা মুখে আসে! অথচ মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের প্রধানতম বিষয়টা হচ্ছে শিক্ষার্থীর ওপর থেকে ভাষার দেয়াল সরিয়ে দিয়ে শিশুর বিকাশকে, সাহিত্যের সৃষ্টিকে স্বাভাবিক করা, সহজাত করা, দৈনন্দিন জীবনের অংশ করা। বাংলাকে এগিয়ে নিতে হলে এই দিকটায় নজর দিতে হবে, অন্তত পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে।</p>
<p><strong>আঞ্চলিক ভাষা এবং নৃতাত্ত্বিক ভাষাকে গুরুত্ব দেয়া</strong></p>
<p>ঔপনিবেশিক বিকাশের বেলায় কলকাতার জমিদারি প্রভাবশালীরা ‘প্রমিত বাংলা’র নাম করে সংস্কৃতকে বলপ্রয়োগে অনুপ্রবেশ করানোর পাশাপাশি আসাম, সিলেট, উড়িষ্যার নিকটঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাগুলোকে স্বাধীন ও আলাদা ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে কিংবা উপেক্ষা করে যে ভুল করা হয়েছে, তার মাশুল পশ্চিমের বাঙালিরা আজ রাজনৈতিকভাবে দিচ্ছেন। আমাদেরও পরোক্ষভাবে দিতে হবে। আসাম, দার্জিলিং, বিহার কিংবা উড়িষ্যায় আজ বাঙালিকে ‘তোমরা ও আমরা’র রাজনীতি চালু করা হয়েছে। এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা দেখছি এই রাজনীতির মাশুল প্রাণঘাতী। এসব থেকে শিক্ষা নেয়া হোক। পূর্ব বাংলার অবহেলিত ধ্বনিগুলো মূল ভাষায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্থান না পেলেও এই নিয়ে করা গবেষণা কাজগুলোকে সম্মান জানাই। সিলেটের নাগরিক বর্ণমালাসহ পূর্ব বাংলার অপরাপর ক্ষুদ্র ও নৃতাত্ত্বিক (চাকমা, সাঁওতাল প্রভৃতি) জনগোষ্ঠীর ভাষাগুলোর বিকাশ ও সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতা খুব জরুরি বিষয়।</p>
<p>প্রত্যেক শিশুর মায়ের ভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকারকে স্বীকার করতে হবে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও নিতে হবে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগে মান ভাষার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না, তবে তাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করা চাই। মায়ের ভাষা হিসেবে আঞ্চলিক ভাষা (প্রতিটি আঞ্চলিক ভাষারও একটা সাধু রূপ থাকে) যত বেশি সমাদৃত হবে মান বা প্রমিত ভাষা তত বেশি সাধারণের কাছাকাছি আসবে। এতে নতুন শিল্প ও সাহিত্যের সৃজনে, চিন্তার গঠনে ভাষার প্রভাব আরও বলবান ও বেগবান হবে। <strong>বাংলাকে যত্নের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হলে মান ভাষাকে ‘অভিজাতদের গুরুগম্ভীরতার মোড়কে’ রেখে না দিয়ে সাধারণের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে।</strong></p>
<p>নতুন জঞ্জাল থামানো পুরোনো জঞ্জালের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বিদেশি শব্দ খুঁজে বের করে সেগুলোকে অসনীয় বানান রীতিতে ফেলা। হ্রস্ব স্বরে ই-উ কার, দীর্ঘ স্বরে ঈ-ঊ কার পূর্ব বাংলার সহজাত বিষয়। ভাষায় সহজাতভাবে ঢুকা শব্দকে বিদেশি হিসেবে আলাদা করে তার জন্য প্রতিষ্ঠিত লোকায়ত নিয়মকে পাল্টে দেয়ার ফল অভিজাত শব্দের মতোই বিচ্ছিন্ন হবে। ঈদকে ইদ বানানোর মধ্যে কোনো গৌরব নেই। বানানরীতি পাল্টানো বড় কথা নয় বরং উচিত হবে উচ্চারিত ধ্বনিকে অনুসরণ করা। বানানরীতি জোর করে চাপিয়ে দেয়ার জমিদারি মানসিকতা পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশে ব্যর্থ প্রমাণিত। এটা বৈজ্ঞানিকও নয়। বর্ণের ভিত্তি হচ্ছে ধ্বনি। ধ্বনি যেভাবে উচ্চারিত হবে বর্ণ ও বানান সেভাবে তৈরি হবে। এখানে জোরাজোরি চলে না, তাই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সময় ও অর্থ অপচয়ের লাগাম টানা উচিত।</p>
<p><strong>লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বনাম শিক্ষার ভাষা</strong></p>
<p>একটা জনপ্রিয় স্লোগান আছে এমন- ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এটা দিয়ে আক্ষরিকভাবে আসলে মুখের ভাষা নয়, বরং মনে করি অধিকারের বিষয়ই সামনে আসে। মাতৃভাষা আসলে কেউ কেড়ে নিতে পারে না। তবে মাতৃভাষায় শিক্ষার ও কর্মের অধিকার কেড়ে নেয়া যায়। সমস্যা হচ্ছে শিক্ষার ও কর্মের অধিকার কেড়ে নিলে চিন্তার স্বাধীনতা ধীরে ধীরে হারায়, এতে ভাষার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বায়ান্নর আগে উর্দুকে ইংরেজির বদলে নতুন লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ভাষা করার একটা চেষ্টা হয়েছিল- আমরা যে যেভাবে বুঝি। পাকিস্তানে উর্দু আর ভারতে হিন্দি ইংরেজির বিপরীতে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ভাষার বিকল্প প্রার্থী। বহু উর্দু কিংবা হিন্দি স্কুল রয়েছে পাকিস্তান ও ভারতে। ইংরেজির বিপরীতে স্থানীয় একটা প্রধান ভাষাকে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা করার চেষ্টাটা কতটা সফল, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক করা যায়। ভারত পাকিস্তান বাংলাদেশে দারিদ্র্যের যে হার, তাতে মনে হয় না যে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কাভিত্তিক ভাষা আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষের স্বাভাবিক শিক্ষা ও চিন্তার বিকাশে <strong>‘কেতাবি ভাষা’</strong> নামক <strong>‘দেয়াল’</strong> বা বাধাকে ভেঙে দিতে পেরেছে। হতে পারে এটাও এজন্য যে, উর্দু ও হিন্দির যে ধারা শিক্ষালয়ে পড়ানো হয়, তা অভিজাত ধারা। ফলে শিশুর জন্য এটা নিজের মায়ের ভাষা থেকে দূরবর্তী। অভিজাত বাংলারও একই সমস্যা দেখি।</p>
<p>অভিজাত প্রমিত বাংলাকে আমি আঞ্চলিক পরিবেশে শিশুর স্বাভাবিক শিক্ষার পথে কিঞ্চিৎ বাধা হিসেবে দেখি, এটা নিয়ে সমীক্ষা হতে পারে। গ্রামে অনেক শিক্ষককেই পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে আঞ্চলিক ভাষায় বুঝিয়ে দিতে দেখি। ফলে বিষয়টা ফেলে দেয়ার মতো নয়। মনে রাখতে হবে, শিক্ষাই দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধানতম বিনিয়োগ। তাই লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা ভাষার সঙ্গে সরাসরি মাতৃভাষায় কিংবা মাতৃভাষার ‘খুব কাছাকাছি একটা ভাষায়’ একটা মধ্যম স্তর পর্যন্ত শিক্ষা দেয়ার তরিকা নিয়ে ভাবা যায়। তাই পাঠ্যবইয়ের ভাষা যাতে আঞ্চলিক ভাষা থেকে দূরে অবস্থান না করে সেদিকেও আন্তরিকভাবে খেয়াল রাখা দরকার। সবমিলে সময় এসেছে বাংলা ভাষা নিয়ে নতুনভাবে ভাবনার।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/bangla-vashake-egiye-neyar-vabona/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6795</post-id>	</item>
		<item>
		<title>কৃষির উন্নয়ন হয়েছে কৃষকের হয়নি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/krishir-unnoyon-hoyeche-krishoker-hoyni/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/krishir-unnoyon-hoyeche-krishoker-hoyni/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ফয়েজ আহমদ তৈয়ব]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Feb 2022 15:34:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[কৃষি]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশ সম্পর্কিত রিপোর্ট ও লেখা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=6801</guid>

					<description><![CDATA[বাংলাদেশের শহুরে নিম্নবিত্তের আয়ের প্রায় শতভাগই খাদ্যসংক্রান্ত খাতে ব্যয় হয়ে যায়। মধ্যবিত্তের সিংহভাগ উপার্জনও বাসা ভাড়া ও খাদ্যপণ্য ক্রয়ে ব্যয় হয়। জলাশয়ের পানির স্বল্পতা, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের উচ্চ খরচ কিংবা দুষ্প্রাপ্যতা, ঋতু পরিবর্তন, খরা, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জঞ্জাল, উচ্চ সুদের কৃষিঋণ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের শহুরে নিম্নবিত্তের আয়ের প্রায় শতভাগই খাদ্যসংক্রান্ত খাতে ব্যয় হয়ে যায়। মধ্যবিত্তের সিংহভাগ উপার্জনও বাসা ভাড়া ও খাদ্যপণ্য ক্রয়ে ব্যয় হয়। জলাশয়ের পানির স্বল্পতা, ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারের উচ্চ খরচ কিংবা দুষ্প্রাপ্যতা, ঋতু পরিবর্তন, খরা, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার জঞ্জাল, উচ্চ সুদের কৃষিঋণ এবং কৃষি উপকরণের কোম্পানি নির্ভরতার প্রত্যক্ষ কারণে দিন দিন বাড়ছে কৃষি উৎপাদন ব্যয়। মূল্যবৃদ্ধির কিছু পরোক্ষ কারণও রয়েছে।</p>
<p><strong>চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বাম্পার ফলন</strong></p>
<p>বাংলাদেশে বিশেষ এলাকায় বিশেষ ফলন বেশি হয়। সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় বাম্পার ফলন হলেই দাম পড়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। উৎপাদন মূল্যের বিপরীতে বাজারমূল্য কম হলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি স্বাধীনতার ৫০ বছরেও চালু করতে পারেনি বাংলাদেশ। সারে সরকারের দেওয়া ভর্তুকিতেও পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে। জমির পরিমাণ ও ফসলের চাহিদামাফিক সারের ডিজিটাল সরবরাহব্যবস্থা নেই, ফলে নিবন্ধনের বিপরীতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভর্তুকি দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত লাভবান হয় দলীয় ডিলার। সরকার–নির্ধারিত মূল্যে কখনোই সার বিক্রি করে না ডিলার, কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে ঘুষ ও অতিরিক্ত মূল্য। কৃষিভর্তুকির আমূল ডিজিটাল সংস্কার জরুরি। জাতীয় পরিচয়পত্র, চাষাবাদের জমি ও পেশাভিত্তিক ফলন নিবন্ধন, সার সরবরাহ, ঋণ-প্রণোদনা-ভর্তুকি প্রদানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় যেতে হবে। দালালদের পাশ কাটিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় সরাসরি কৃষক থেকে ধান কেনার মডেলে যেতে হবে।</p>
<p>বৈচিত্র্যহীন চাষের একচেটিয়া মডেলে একটি এলাকায় সবাই ধান করলে চাইলেও অন্য ফলন করা যায় না। ফলন বৈচিত্র্য ও বাজার চাহিদামাফিক নিবন্ধন কৃষি প্রশাসনের কাজ। দেশীয় জাতের ফলন থেকে চাষি একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়া বিশেষ জাত দু-তিন বছরে নাই হয়ে যায়। কৃষক জিএমও বীজ ও চারা নির্ভর হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগবালাই এবং পতঙ্গ–প্রতিরোধী নয় বলে অতিরিক্ত সার, কীট-ছত্রাক ব্যবহার করতে হয়। এগুলোর ব্যবহারে উপকারী পোকার প্রজাতি নষ্ট হচ্ছে, শক্তিশালী হয়ে উঠছে ক্ষতিকারক পোকামাকড়-ছত্রাক। ক্রমবর্ধমান রাসায়নিক নির্ভরতার বিপরীতে জৈব-রাসায়নিক সমন্বিত চাষাবাদের দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বানানো দরকার।</p>
<p>এক দিকে মুলা, ফুলকপির অতিরিক্ত ফলন হচ্ছে অথচ অন্য ফসলের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদনই হচ্ছে না। প্রতিবছর আদা, পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।নিরানন্দ কৃষিশ্রম উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোকে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা গেলে কৃষক সস্তায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ভাড়া নিতে পারতেন। কায়িক শ্রম, উচ্চ মূল্য থেকে মুক্তি পেলে শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা কৃষিকে পেশা হিসেবে নিতে উৎসাহিত হবেন। কৃষি সরঞ্জাম ক্রয়ে সরকার ভর্তুকি দেয়, কিন্তু নষ্ট যন্ত্র মেরামত ও সংরক্ষণের কারিগরি সেবা নেই বলে এই ভর্তুকি কাজে আসে না।</p>
<p><strong>পাইকারি বাজারে কৃষকের অধিকার</strong></p>
<p>কারওয়ান বাজারসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক বাজারগুলো পাইকারদের দখলে থাকে, দালালদের মাধ্যমে প্রভাবশালীরা বাজারসংলগ্ন রাস্তা পর্যন্ত ভাড়া দেয়। ব্যক্তি কৃষকের এখানে ফসল নিয়ে আসার সুযোগ নেই। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদনের পেছনে যে মান, পরিশ্রম, পরিবেশ ও বৈচিত্র্যগত বহু গল্প থাকে, ক্রেতার তা অজানাই থাকে। নেই মূল কৃষক ও দালালদের মধ্যে মূল্য প্রতিযোগিতাও।</p>
<p><em><strong>মানহীন কৃষিপণ্য পরিবহন শাকসবজি, ফল, খাদ্যশস্য, মাছ প্রায় সবই খোলা ট্রাকে, বাসের ছাদে কিংবা বাক্সে অত্যন্ত গরমের মধ্যে, অত্যধিক বাতাসে, রোদে পরিবহন করা হয়। শ্রেণীকৃত, হিমায়িত, তাপানুকূল ‘ফুডগ্রেড’ পরিবহন ব্যবস্থা নেই। মহাসড়কের পাশে, ফেরিঘাটে, যানজটে মাইলের পর মাইল দাঁড়িয়ে থাকে কৃষি পণ্যবাহী ট্রাক। এতে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়, জ্বালানি খরচ বাড়ে, পণ্য নষ্ট হয়, দামও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য শুধু পরিবহনে নষ্ট হয়।</strong></em></p>
<p>দাম বাড়াচ্ছে চাঁদাবাজি রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মহাস্থান হাট থেকে ঢাকা বা চট্টগ্রামে আসতেই সব ধরনের সবজির দর বেড়ে যাচ্ছে ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত। পথে পথে চাঁদাবাজি। পণ্যবাহী ১০ টনের একটি ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় প্রায় সাড়ে ২২ হাজার টাকা। হাইওয়ে পুলিশের পণ্য পরিবহনে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা, অথচ তারাই বেশি চাঁদাবাজি করে। যেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনীই চাঁদাবাজি করে, সেখানে কৃষিপণ্যের দাম কীভাবে কমবে! এর সঙ্গে যোগ হয় স্থানীয় সমিতির চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক চাঁদাবাজি, পাইকারি বাজারের স্থান ও দালালের খরচ। দালালেরা স্থানীয় বাজারে সিন্ডিকেট নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে পণ্য বিক্রিতে কৃষককে বাধ্য করে। কৃষিপণ্যের জন্য বিশেষ সুবিধার সড়ক পরিবহনের চিন্তা সরকারের নেই। দেশের সবজি ও কৃষি উৎপাদনের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোকে বিভাগীয় শহরের সঙ্গে ট্রেন সংযুক্ত করার কাজ এখনো বাকি। বগুড়া-সিরাজগঞ্জের মতো দরকারি কৃষি রেল রুট কিংবা কৃষিপণ্য পরিবহনবান্ধব বিশেষ রেল কোচ এখনো চালু করা যায়নি। কৃষি হাবগুলো থেকে মহানগরে পণ্য পরিবহনের জন্য শ্রেণীকৃত তাপানুকূল, হিমায়িত ট্রেন কোচ বা বিশেষ সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলে বহুস্তরের চাঁদাবাজির লাগাম টানা যেত। তরমুজের দাম বাড়ার পর জেলা প্রশাসনকে কম দামে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এ ধরনের লোকদেখানো সস্তা কাজ না করে পুলিশের উচিত বহুস্তরের চাঁদাবাজি থামানো। বাজারব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে দালাল ও পাইকার গোষ্ঠী সাময়িকভাবে ক্রয় বন্ধ করে পচনশীল কৃষিপণ্যের সমূহ ক্ষতি করতে সক্ষম।</p>
<p><strong>চাই টেকসই স্টোরেজ অবকাঠামো</strong></p>
<p>ঋণের কারণে ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন না কৃষক, উৎপাদনের অব্যবহিত পরেই বিক্রি করে ঋণের কিস্তি কিংবা দেনা শোধ করতে হয়। তার উপর উচ্চ আর্দ্রতার এবং উচ্চ তাপমাত্রায় পচনশীল সবজিজাতীয় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের কোনো উপায়ই দেশে নেই, নেই অঞ্চল ও পণ্যভিত্তিক অবকাঠামো। ভিন্ন ভিন্ন ফসলের চাহিদা মোতাবেক আমাদের কোল্ডস্টোরেজ শ্রেণীকৃত নয়, দেখা যায় পুরোটাই আলুর উপযোগী নয়! ফলে কৃষকেরা অ্যান্টি ক্লোরিনেটেড ওয়াটার, কার্বাইড কিংবা ফরমালিন ব্যবহার করছেন! উৎপাদিত পচনশীল শাকসবজি, ফল-ফুল সংরক্ষণের ব্যবস্থা না–থাকায় মৌসুমের বাইরে ফলনের কোনো বাজার নেই। এতে কৃষক বেশি উৎপাদিত পণ্য মৌসুমেই কম দামে বাজারে ছাড়তে বাধ্য হন। ভিন্ন ভিন্ন জাতের আম পাড়ার মধ্যে ফারাক তিন-চার সপ্তাহ, লিচুর মাত্র দুই সপ্তাহ, কাঁঠালের তিন-চার সপ্তাহ, সবজি ও ফুলের ক্ষেত্রেও দু-তিন সপ্তাহ। সংরক্ষণব্যবস্থা না থাকায় এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই কৃষককে বাজারজাত করতে হয়। তাই সমন্বিত বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার অভাবে বাড়তি পচনশীল পণ্য পানির দরে বিক্রি হয়। অথচ মৌসুমের পরেই কিন্তু বাজারে এগুলোর ভালো দাম থাকে। এতে বিষ মিশিয়ে সংরক্ষণের প্রবণতা বাড়ে। উপরন্তু বাংলাদেশের কৃষিপণ্য বিক্রির বড় কোন আন্তর্জাতিক বাজারও তৈরি হয়নি। এর প্রধান কারণ হতে পারে, মানসম্পন্ন বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফুডগ্রেড সংরক্ষণ, মানসম্পন্ন প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় সংযুক্ত হওয়ার বিপণন ব্যর্থতা।</p>
<p>স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশের যত অর্জন, তার মধ্যে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম কৃষি উৎপাদনকারী দেশ। এই অর্জনকে নিবন্ধন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোগত উৎকর্ষে সঞ্চারিত করে প্রকৃত কৃষকদের ধনী করা গেলে সেটাই হবে টেকসই উন্নয়ন।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/krishir-unnoyon-hoyeche-krishoker-hoyni/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">6801</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
