<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>ড. খাদিজা গরমেজ &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/author/dr-khadiza-gormez/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Fri, 22 May 2026 12:37:13 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>ড. খাদিজা গরমেজ &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ইসলামী সভ্যতায় ইনফাকের সংস্কৃতি</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-culture-of-infaq-in-islamic-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-culture-of-infaq-in-islamic-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 01 Mar 2026 15:03:51 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[আখলাক ও নন্দনতত্ত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=16655</guid>

					<description><![CDATA[রমজানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একইসাথে সামাজিক সংহতিরও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো ইনফাক। আজকের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি, এইসব সমস্যার মূলে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্য থেকে ইনফাকের সংস্কৃতি উঠে যাওয়া।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>রমজানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একইসাথে সামাজিক সংহতিরও গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান হলো ইনফাক। আজকের দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি, এইসব সমস্যার মূলে অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে আমাদের মধ্য থেকে ইনফাকের সংস্কৃতি উঠে যাওয়া। এজন্য আজকে আমি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।</p>
<p>সহজ ভাষায় বললে, <strong>ইনফাক বলতে বুঝায় আল্লাহর পথে ব্যয়। শাব্দিক অর্থে বলতে গেলে, অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য যেই দান বা খরচ করা হয় সেটিই হচ্ছে ইনফাক।</strong> এই সহযোগিতা কেবলমাত্র আর্থিক বিষয় নয়। অপর একজন ভাই/ বোনকে সাহায্য করার জন্য একজন মানুষ তার ধন, সম্পদ, জ্ঞান, সময় এমনকি তার জীবন পর্যন্ত দান করতে পারে। কাজেই, ইনফাক একটি সামাজিক পরিভাষা। যদিও বর্তমানে ইনফাকের কথা এলে শুরুতেই আমাদের মাথায় আসে আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি। প্রকৃতপক্ষে, ইনফাকের একইসাথে জাগতিক ও আধ্যাত্মিক, অর্থাৎ দ্বিমাত্রিক অর্থ আছে। ইনফাকের বিষয়টি একজন ব্যাক্তিকে যেমন বিকশিত করে থাকে, অনুরূপভাবে তা সামাজিক সংহতি ও বিকাশের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ইনফাকের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা, নিজের সময়-সম্পদ অন্যের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়া এবং ত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়। ফলশ্রুতিতে মানুষ বস্তুগত ধন-সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত লোভ-লালসা থেকে মুক্ত হতে পারে। অতএব, ইনফাকের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ একইসাথে আধ্যাত্মিক দিকটাও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে আমি ইনফাকের বিষয়টিকে ৫টি ভাগে ভাগ করে থাকিঃ</p>
<p style="padding-left: 40px;">১. কথার মাধ্যমে দান।<br />
২. ইলম ও মারেফাতের মাধ্যমে দান।<br />
৩. সময়ের মাধ্যমে দান।<br />
৪. জীবনের মাধ্যমে দান।<br />
৫. সম্পদের মাধ্যমে দান।</p>
<p><strong>১.</strong> <strong>কথার মাধ্যমে ইনফাক</strong> হচ্ছে কাউকে জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে, কাউকে ভালো উপদেশ দেয়ার মাধ্যমে, কাউকে সঠিক পথ প্রদর্শন করে তার উপকার করা। এগুলো ইনফাকের গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p>
<p><strong>২.</strong> <strong>ইলম বা মারেফাতের মাধ্যমে ইনফাক</strong> হচ্ছে কোনো উপকারী জ্ঞানকে শিক্ষা করে সে জ্ঞানকে সবার সামনে তুলে ধরা, অন্যকে শিক্ষা দেয়া, বিশেষ করে যুবকদের কাছে তুলে ধরা। একই সাথে সে জ্ঞানটি আমাদের বাস্তব জীবনে কিভাবে কাজে লাগতে পারব সেটিকেও সবার সামনে উপস্থাপন করা।</p>
<p><img fetchpriority="high" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16657 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/011cddab2a758b24932561a5acaad38d.jpg" alt="" width="735" height="441" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/011cddab2a758b24932561a5acaad38d.jpg 735w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/011cddab2a758b24932561a5acaad38d-300x180.jpg 300w" sizes="(max-width: 735px) 100vw, 735px" /></p>
<p><strong>৩.</strong> <strong>সময়ের মাধ্যমে ইনফাক</strong>—এটি হচ্ছে, কেউ যদি আপনার কাছে আসে, এসে সাহায্য-সহযোগিতা চায়; সেটি যেকোন বিষয়ে হতে পারে, যেমনঃ আর্থিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক। এই ব্যাপারে তাকে সময় দেয়া, তার সাথে গিয়ে তার সমস্যার সমাধান করা। এছাড়া সমাজে কোনো বিষয়ে সমস্যা থাকলে সে সমস্যার সমাধানের জন্য সময় বের করা এবং সেগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়া হল সময়ের মাধ্যমে ইনফাক।</p>
<p><strong>৪.</strong> <strong>জীবনের মাধ্যমে ইনফাক</strong> হচ্ছে প্রয়োজনে জীবনের মায়াকে ত্যাগ করে হলেও অন্যের কল্যাণের জন্য প্রচেষ্টা চালানো; এমনকি এতে যদি নিজের জীবনও বিপদাপন্ন হয়, তবুও চেষ্টা করা।</p>
<p>উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোভিড-১৯ এর সময় অনেক ডাক্তার, নার্স এবং হাসপাতালে কর্মরত মানুষজন রোগীদের সেবা দেয়া ও সুস্থ করার জন্য নিজেরা করোনায় আক্রান্ত হন। শত শত নার্স, ডাক্তার ও চিকিৎসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাক্তিরা অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুবরণ করেন। এটি হচ্ছে জীবন দিয়ে ইনফাকের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর দ্বিতীয় উদাহরণ হচ্ছে আমাদের মায়েরা। তারা তাদের সন্তানকে লালন পালন করার জন্য, তাদের বড় করার জন্য নিজের স্বাস্থ্য, ঘুম থেকে শুরু করে সবধরণের ত্যাগ স্বীকার করেন। বাবারা সন্তানদের হয়তো আর্থিকভাবে লালন পালন করার জন্য, ঘর পরিচালনার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন। কিন্তু একজন মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মায়েরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। এক কথায় বলতে গেলে, তারা তাদের জীবন দিয়ে একটি প্রজন্ম গড়ে তোলেন।</p>
<blockquote><p><strong>আমাদের সামনে ইনফাকের সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ হলো, আমাদের গাজার ভাইবোনেরা। উম্মতের ইজ্জতকে রক্ষা করার জন্য, আমাদের প্রথম ক্বিবলা বায়তুল মাকদিসকে রক্ষা করার জন্য, নিজেদের জন্মভূমিকে রক্ষা করার জন্য, এককথায় বলতে গেলে গোটা উম্মতের অস্তিত্বকে রক্ষা করার জন্য তারা তাদের জীবন দিয়ে লড়ে যাচ্ছেন।</strong> <strong>গাজার নারী, শিশু থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষ এর মধ্যে শামিল। তাই, আমি মনে করি এটি জীবন দিয়ে ইনফাকের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ।</strong></p></blockquote>
<p><strong>৫.</strong> <strong>ধন-সম্পদ বা মালের মাধ্যমে ইনফাক।</strong> এটি হচ্ছে কারো যদি আর্থিক সামর্থ্য থাকে, সে ক্ষেত্রে যারা দরিদ্র, নিপীড়িত; তাদের সাথে নিজের সম্পদ ভাগাভাগি করে নেয়া। এটিকে আবার ৫ ভাগে ভাগ করা হয়েছেঃ</p>
<p>ক) এর প্রথমটি হচ্ছে <strong>তাসাদ্দুক বা সাদাকাহ বা সদকা</strong>। এটি ইনফাকের সামগ্রিক একটি পরিভাষা। এক অর্থে বলতে গেলে এটি ইনফাকের সকল বিষয়কে পরিগ্রহ করে থাকে। এই সদকা সম্পর্কে রাসুল (সা.) এর একটি হাদীস রয়েছে। এ হাদীসে তিনি সদকাকে সামগ্রিকভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;প্রতিটি ভালো কাজই সদকা”</p></blockquote>
<p>বর্তমানে আমরা সদকা বলতে বুঝি, কেউ যদি এসে সাহায্য চায় তাকে সাহায্য করা, গরীব লোকদের খাবার দেয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ, আমরা এটিকে খুবই সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহার করি। কিন্তু রাসূল (স.) এটিকে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। কারো সাথে দেখা হলে মুচকি হাসি দেয়া সদকা, কাউকে পথ প্রদর্শন করা সদকা, পশুপাখিকে খাবার দেয়া, অনুবাদ করা, কোনো একটি ভালো কিছু তৈরি করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা, শিশু বা বাচ্চাদের মাথায় হাত বুলানোসহ সকল ভালো কাজই সদকা। এগুলো সবই হাদিসের মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter wp-image-16658 size-large" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/30328b9341886aadbc5258a860f7089c-1024x720.jpg" alt="" width="1024" height="720" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/30328b9341886aadbc5258a860f7089c-1024x720.jpg 1024w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/30328b9341886aadbc5258a860f7089c-300x211.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/30328b9341886aadbc5258a860f7089c-768x540.jpg 768w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/30328b9341886aadbc5258a860f7089c.jpg 1080w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /></p>
<p>খ) সদকার আরেকটি রূপ হচ্ছে <strong>সদকায়ে ফিতর বা সদকাতুল ফিতর</strong>। এটি শুধু রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট। অন্য কোনো সময়ের জন্য নয়। সদকাতুল ফিতর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সদকাতুল ফিতর হচ্ছে এই রমজানে যারা বেঁচে আছে তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহকে দেয়া একটি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহকে খুশি করার জন্য দরিদ্র ব্যাক্তিকে ফিতরা সদকা দেয়া। সদকায় ফিতর এমন একটি জিনিস, যার জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যাকাতের মতো নিসাব পরিমাণ মাল বা সম্পদের অধিকারী হতে হবে এমন নয়। এটি যে কেউ দিতে পারে। যাকাতের ক্ষেত্রে বাড়ির কর্তা বা যে সম্পদের অধিকারী সে-ই মূলত যাকাত দিয়ে থাকে। অন্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা হয় না। কিন্তু সাদাকাতুল ফিতর জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশুর জন্য তার পিতা-মাতা দিয়ে থাকে। এটি একটি অসাধারণ বিষয়।</p>
<p>গ) সদকার তৃতীয় রূপ হচ্ছে <strong>যাকাত</strong>। যাকাত হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণকারী ব্যাক্তির সম্পদের একটি অংশকে দান করা। এটি ইসলামের ৫টি স্তম্ভের একটি। সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য যাকাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আল্লাহ বলেনঃ</p>
<blockquote><p>&#8220;خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ&#8221;</p>
<p>অর্থ: (হে নবী!) তুমি তাদের ধন-সম্পদ হতে সাদাকাহ গ্রহণ কর, যা দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করে দিবে, আর তাদের জন্য দু‘আ কর। নিঃসন্দেহে তোমার দু‘আ হচ্ছে তাদের জন্য শান্তির কারণ, আর আল্লাহ খুব শোনেন, খুব জানেন।</p></blockquote>
<p>এখানে রাসুলকে (স.) নির্দেশ করা হয়েছে, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নির্দেশ করা হয়েছে। <strong>যাকাত দেয়ার মাধ্যমে ধনীদের ধন-সম্পদকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। এখানে ‘তুতাহহির’ শব্দটির মাধ্যমে সম্পদ কমানো বা নেয়ার জন্য বলা হচ্ছেনা বরং তাদের পরিশুদ্ধ করো বা পবিত্র করো এটি বলা হয়েছে।</strong> যাকাতের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তির সম্পদ পরিশুদ্ধ হয়, ব্যক্তি পরিশুদ্ধ হয়। এখানে যাকাত ও ‘তুযাক্কি’ একই শব্দমূল থেকে এসেছে।</p>
<p>ঘ) সদকার আরেকটি দিক হচ্ছে <strong>কর্জে হাসানা</strong>। এটি হলো কোন ধরনের বিনিময় প্রত্যাশা না করে কাউকে ঋণ দেয়া। কোন কষ্টে বা সমস্যায় নিপতিত ব্যাক্তিকে কোন সুদ বা দুনিয়াবী কোনো স্বার্থ ছাড়া ঋণ দেয়াকে ইসলামের অনেক বড় ফজিলত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এটি এমন একটি বিষয়, যেমন কোনো ব্যাক্তি কোনো সমস্যার কারণে ঋণ চাচ্ছে, এমতাবস্থায় আপনি জানেন যে, এটি তার পক্ষে ফেরত দেয়াটা খুবই কঠিন। এমনকি তিনি ফেরত নাও দিতে পারেন—এটি জেনেও তাকে ঋণ দেয়া এবং মনে করা যে আপনি আল্লাহকে ঋণ দিচ্ছেন, এভাবে তাকে ঋণ দেয়া। অর্থাৎ, কোনো ধরণের বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়াই দিয়ে দেয়া। সে যদি তা ফেরত দেয় তো ভালো, আর যদি দিতে না পারে তাহলে আল্লাহ স্বয়ং নিজে এর বিনিময় দিবেন। কর্জে হাসানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে যে ঋণ নিবে সে যেনো এর অপব্যবহার না করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি নিবে তাকেও অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে, সে যেনো এই নিয়তে না আসে যে, তার কাছে সম্পদ আছে, সেতো দিবেই আমি আর ফেরত দিবোনা, তাহলে এটি আল্লাহর সাথেই প্রতারণা করা হলো। এর হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এজন্য সম্ভব হলে অবশ্যই পরিশোধ করার নিয়্যত থাকতে হবে।</p>
<blockquote><p>مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰهَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَهٗ لَهٗۤ اَضۡعَافًا كَثِیۡرَۃً ؕ وَ اللّٰهُ یَقۡبِضُ وَ یَبۡصُۜطُ ۪ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ</p>
<p>অর্থ: এমন ব্যক্তি কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম কর্জ প্রদান করবে? তাহলে তার সেই কর্জকে তার জন্য আল্লাহ বহু গুণ বর্ধিত করে দেবেন এবং আল্লাহই সীমিত ও প্রসারিত ক’রে থাকেন এবং তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।</p></blockquote>
<p>কর্জে হাসানার বিষয়টি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে বিস্তার ঘটানো উচিত এবং কর্জে হাসানার অপব্যবহার যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। কোরআন আমাদের এই শিক্ষা দিয়ে থাকে যে, ইনফাক হচ্ছে বরকতের একটি উৎস, একইসাথে এটি আমাদের ধন-সম্পদ হ্রাস করেনা, বরং বৃদ্ধি, পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করে।<br />
কর্জে হাসানা বা বিনিময়ের প্রত্যাশা ছাড়া দান করলে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কখনো সাতগুণ, কখনো একশতগুণ, আবার চাইলে সাতশতগুণ বা অফুরন্ত নিয়ামতে একজন ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ করতে পারেন। তাই আমরা বলে থাকি— দান, সদকা, যাকাত সম্পদকে হ্রাস করেনা, বরং বৃদ্ধি করে। সম্পদের বরকতের বড় একটি উৎস এই দান-সদকা।</p>
<blockquote><p>مَثَلُ الَّذِیۡنَ یُنۡفِقُوۡنَ اَمۡوَالَهُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ كَمَثَلِ حَبَّۃٍ اَنۡۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِیۡ كُلِّ سُنۡۢبُلَۃٍ مِّائَۃُ حَبَّۃٍ ؕ وَ اللّٰهُ یُضٰعِفُ لِمَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ</p>
<p>অর্থ: যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা উৎপন্ন করল সাতটি শীষ, প্রতিটি শীষে রয়েছে একশ’ দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বাড়িয়ে দেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।</p></blockquote>
<p>ঙ) সদকার পঞ্চম যে শ্রেণী, তা হচ্ছে <strong>ফিদিয়া বা কাফফারা</strong>। কেউ রোযা রাখতে অক্ষম হলে তার পরিবর্তে যে দান, বা ওয়াদা রাখতে না পারলে কিংবা এরকম বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে দান হলো ফিদিয়া বা কাফফারা। যদি কেউ অসুস্থতার কারণে বা অন্য কোন কারণে রোজা রাখতে না পারে তাহলে সে পরের মাসে কাযা করবে। কিন্তু তার অসুস্থতা যদি এমন হয় যে, তার পক্ষে পরেও কাজা করা সম্ভব না, স্বাস্থ্যগত সমস্যার সম্ভাবনা বা মৃত্যু ঝুঁকি থাকে তাহলে সে ফিদিয়া দিবে। কিন্তু অনেকে এটির অপব্যবহার করে থাকে; ক্লাস, কাজ এসব অজুহাতে রোযা রাখেনা। মনে করে, আমার সামর্থ্য আছে আমি ফিদয়া দিয়ে দিবো। এভাবে এই বিধানের অপব্যবহার করে থাকে। এটি এক অর্থে আল্লাহর সাথে প্রতারণা। আর আল্লাহর সাথে যে প্রতারণা করে, সে নিজেই প্রতারিত হয়।</p>
<p>দান-সদকা এগুলোর জন্য আন্তরিক নিয়্যত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বরকত হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো, পবিত্র ও হালাল জিনিস দান করতে হবে। নাহলে এটি বরকতের উৎস হবে না।</p>
<blockquote><p>﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا كَسَبْتُمْ وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُم مِّنَ الْأَرْضِ ۖ وَلَا تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنفِقُونَ وَلَسْتُم بِآخِذِيهِ إِلَّا أَن تُغْمِضُوا فِيهِ ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ</p>
<p>অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্যে ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি, তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং তা থেকে নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে মনস্থ করোনা। কেননা, তা তোমরা কখনও গ্রহণ করবে না; তবে যদি তোমরা চোখ বন্ধ করে নিয়ে নাও। জেনে রেখো, আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। (সূরা বাকারা, ২৬৭)</p></blockquote>
<p>কোনো একটি পোশাক পুরনো হয়ে গেলে সেটি ফেলে দেয়ার আগে কাউকে দিয়ে দেওয়া বা খাবার খেয়ে কিছু রয়ে গেছে; তা ফেলে দেয়ার আগে দিয়ে দেয়াকে দান বুঝায় না। নতুন কোনো কিছু বা সবচেয়ে সুন্দর কোনো কিছু দান করা হলো উত্তম দান।</p>
<p><img decoding="async" class="aligncenter wp-image-16663 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/giving-money-to-poor-hero.jpg" alt="" width="936" height="600" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/giving-money-to-poor-hero.jpg 936w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/giving-money-to-poor-hero-300x192.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/giving-money-to-poor-hero-768x492.jpg 768w" sizes="(max-width: 936px) 100vw, 936px" /></p>
<p>ইনফাক হচ্ছে বান্দাহর পক্ষ থেকে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া ও অপর ভাইয়ের প্রতি ধন্যবাদ।</p>
<p>বান্দার প্রতি ধন্যবাদ তিনভাবে হয়ে থাকেঃ</p>
<p style="padding-left: 40px;"><strong>১. আমাদের উপর তাদের যে অধিকার সেটি আমরা পূরণ করে দিচ্ছি</strong><br />
<strong>২. তাদের দেয়ার কারণে আমাদের সম্পদ পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হচ্ছে</strong><br />
<strong>৩. যখন সমাজে ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষ থাকবেনা, তখন সমাজে বিশৃংখলা ও অপরাধ কমে যাবে এবং শান্তি বিরাজ করবে। কাজেই, সামাজিক শৃঙ্খলার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</strong></p>
<p>ইনফাকের অন্যতম উদ্দেশ্য সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তিদের মধ্যে সংহতি ও সামাজিক আদালত নিশ্চিত করা। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটি একটি পন্থা। যে ব্যক্তি দান করে, সে আধ্যাত্মিকভাবে প্রশান্তি লাভ করে; একই সাথে সে কৃপণতা থেকে নিজেকে মুক্ত করে সামাজিকভাবে শ্রদ্ধা অর্জন করে এবং দানের যে সংস্কৃতি সেটিকে বিকশিত করে।<br />
আল্লামা ত্বহা আবদুর রহমান এর ভাষায়, ইনফাক আমাদের আমানতের যে চেতনা সেটিকে জাগ্রত করে থাকে। অর্থাৎ এই পৃথিবীর যা কিছু আছে সবই আমাদের নিকট আমানত এই চেতনা জাগ্রত করে আর আমাদের নিজেদের এর মালিক ভাবার চেতনা হ্রাস করে।</p>
<p>অনেক গবেষণায় আমরা দেখতে পাই যে, যদি পৃথিবীর সব ধনী মুসলমানেরা সঠিকভাবে যাকাত আদায় করতো, তাহলে পৃথিবীর কোথাও দারিদ্র‍্য ও সামাজিক বৈষম্য থাকতোনা।</p>
<p>ফরাসি দার্শনিক ও চিন্তাবিদ রজার গারাউডির ভাষায়ঃ</p>
<p>&#8220;যাকাত এমন কোনো বিষয় নয় যা মানুষের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এটা আমাদের ইচ্ছাধীন কোনো বিষয় নয়। <strong>যাকাত হচ্ছে এমন একটা বিষয় যা মানুষের মধ্যে স্বার্থপরতা বা কৃপণতার যে প্রবণতা আছে তাকে পরাভূত বা পরাজিত করতে সাহায্য করে।</strong> মানুষের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক একটি রূপ হচ্ছে যাকাত। এটিকে বাধ্যতামূলক ও আধ্যাত্মিক একটি কর্তব্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যাকাত একইসাথে এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সকল সম্পদের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ। <strong>ব্যক্তি চাইলে তার ইচ্ছামতো এর ব্যবহার করতে পারবেনা। আল্লাহ যেভাবে বলেছেন সেভাবেই ব্যয় করতে হবে। এটি একটি আমানত।</strong> শুধু তাই নয়। সে যে এই সমাজের সদস্য, অন্য মানুষের সাথে তার একটি সম্পর্ক আছে, সেই সম্পর্কের প্রতি তার একটি দায়বদ্ধতা আছে; এটি তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় যাকাত।&#8221;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি কোরআনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, কোরআনে নামাজ এবং যাকাতের কথা একই সাথে উল্লেখিত হয়েছে।</p>
<p style="padding-left: 40px;">&#8220;وَأَقِيمُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُوا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرْكَعُوا۟ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ&#8221;</p>
<p style="padding-left: 40px;">১। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকূকারীদের সাথে রুকূ কর। (বাকারা, ৪৩)</p>
<p style="padding-left: 40px;">اَلَّذٖينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقٖيمُونَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَۙ</p>
<p style="padding-left: 40px;">২। যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, নামায কায়েম করে এবং আমি যে জীবনোপকরণ তাদেরকে দিয়েছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে। (বাকারা, ৩)</p>
<p style="padding-left: 40px;">وَاَقٖيمُوا الصَّلٰوةَ وَاٰتُوا الزَّكٰوةَؕ وَمَا تُقَدِّمُوا لِاَنْفُسِكُمْ مِنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِنْدَ اللّٰهِؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصٖيرٌ</p>
<p style="padding-left: 40px;">৩। এবং তোমরা নামায আদায় কর, যাকাত দাও এবং যা কিছু সৎ কার্যাবলী তোমরা স্বীয় আত্মার জন্যে আগে পাঠাবে, তোমরা তা আল্লাহর নিকট পাবে। তোমরা যা কিছু করছো নিশ্চয়ই আল্লাহ তা দেখছেন। (সূরা বাকারা, ১১০)</p>
<p style="padding-left: 40px;">لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلٰٓئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيّٖنَۚ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّهٖ ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكٖينَ وَابْنَ السَّبٖيلِ وَالسَّٓائِلٖينَ وَفِي الرِّقَابِۚ وَاَقَامَ الصَّلٰوةَ وَاٰتَى الزَّكٰوةَۚ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ اِذَا عَاهَدُواۚ وَالصَّابِرٖينَ فِي الْبَأْسَٓاءِ وَالضَّرَّٓاءِ وَحٖينَ الْبَأْسِؕ اُو۬لٰٓئِكَ الَّذٖينَ صَدَقُواؕ وَاُو۬لٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ</p>
<p style="padding-left: 40px;">৪। তোমরা নিজেদের মুখ পূর্ব দিকে কর কিংবা পশ্চিম দিকে এতে কোন কল্যাণ নেই বরং কল্যাণ আছে এতে যে, কোন ব্যক্তি ঈমান আনবে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ ও নবীগণের প্রতি এবং আল্লাহর ভালবাসার্থে ধন-সম্পদ আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম-মিসকীন, মুসাফির ও যাকাত বন্টনকারীদের এবং দাসত্বজীবন হতে নিস্কৃতি দিতে দান করবে এবং নামায কায়েম করবে ও যাকাত দিতে থাকবে, ওয়া‘দা করার পর স্বীয় ওয়া‘দা পূর্ণ করবে এবং অভাবে, দুঃখ-ক্লেশে ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করবে— এ লোকেরাই সত্যপরায়ণ আর এ লোকেরাই মুত্তাকী। (সূরা বাকারা, ১৭৭)</p>
<p style="padding-left: 40px;">الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِى ٱلْأَرْضِ أَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُوا۟ بِٱلْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا۟ عَنِ ٱلْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَٰقِبَةُ ٱلْأُمُورِ</p>
<p style="padding-left: 40px;">৫। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি যমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে। (হজ্জ, ৪১)</p>
<p style="padding-left: 40px;">رِجَالٌۙ لَا تُلْهٖيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللّٰهِ وَاِقَامِ الصَّلٰوةِ وَاٖيتَٓاءِ الزَّكٰوةِۙ يَخَافُونَ يَوْماً تَتَقَلَّبُ فٖيهِ الْقُلُوبُ وَالْاَبْصَارُ</p>
<p style="padding-left: 40px;">৬। সেই সব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান হতে বিরত রাখেনা, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। (সূরা নূর, ৪৯)</p>
<p><img loading="lazy" decoding="async" class="aligncenter wp-image-16659 size-full" src="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/2149359451.jpg" alt="" width="1000" height="668" srcset="https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/2149359451.jpg 1000w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/2149359451-300x200.jpg 300w, https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2026/03/2149359451-768x513.jpg 768w" sizes="(max-width: 1000px) 100vw, 1000px" /></p>
<p>ইনফাক মানুষকে একই সাথে কিভাবে রূহগত ও সামাজিকভাবে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে সেই ব্যাপারে হযরত পয়গাম্বর (সঃ) বলেন,</p>
<p style="padding-left: 40px;">اَلْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى<br />
দানকারীর হাত গ্রহণকারীর হাতের চেয়ে উত্তম। (বুখারী, যাকাত, ১৮)</p>
<p style="padding-left: 40px;">&#8220;مَنْ نَفَّسَ عَنْ مُؤْمِنٍ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ الدُّنْيَا نَفَّسَ اللَّهُ عَنْهُ كُرْبَةً مِنْ كُرَبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ&#8221;<br />
যদি কেন কোন মু’মিনের কোন একটি দুনিয়াবী সমস্যাকে দূর করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিয়ামতের দিন তার একটি সমস্যাকে দূর করে দিবেন। (মুসলিম, বিরর, ৩)</p>
<p style="padding-left: 40px;">&#8220;أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى&#8221;<br />
সর্বোত্তম সাদাকা হলো, প্রয়োজনের অতিরিক্তকে দান করে দেওয়া। (বুখারী, যাকাত, ১৮)</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইনফাক বা দানের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখা জরুরিঃ</p>
<p style="padding-left: 40px;">১. <strong>দান শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য করতে হবে।</strong><br />
২. সময়মতো সাহায্য করা। দেখা গেছে যে, কোনো অসুস্থতা বা প্রয়োজনের সময় দান না করে যদি পরে দান করা হয় তাহলে তার খুব বেশি উপকার হবে না। এজন্য সময়মত দান করার চেষ্টা করতে হবে।<br />
৩. <strong>গোপনে দান করা ও প্রদর্শনের ইচ্ছা থেকে দূরে থাকা।</strong> তবে এটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোন ফাউন্ডেশন বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এধরণের কাজকে উৎসাহ দেয়ার জন্য এটিকে দৃশ্যমান করা বা প্রচার করার মধ্যে সমস্যা নেই।<br />
৪. <strong>সম্পদের সবচেয়ে সুন্দর জিনিস দান করা।</strong> অব্যবহৃত বা মূল্যহীন কিছু দেয়ার চেয়ে ব্যাক্তি যা পছন্দ করে সেখান থেকে দেয়া সবচেয়ে উত্তম।<br />
৫. দেয়ার সময় কোনো ধরনের অপচয় না করা, আবার কৃপণতা থেকেও মুক্ত থাকা। এখানে ব্যক্তি একটি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে।<br />
৬. <strong>যাদের সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন তাদের ক্রমাগত সাহায্য করা।</strong><br />
৭. ব্যক্তির উপার্জিত সকল অর্থ দান করা যাবে না। তার পরিবার-পরিজনসহ যাদের প্রতি তার দায়িত্ব আছে তাদের প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে বাকীটা দান করতে হবে।</p>
<p>তাকওয়ায় উপনীত হওয়ার দুটি উপায় আছেঃ</p>
<ul>
<li><strong>১. ইনফাক</strong></li>
<li><strong>২. কল্যাণকর কাজ</strong><br />
ইনফাকও এক ধরণের কল্যাণকর কাজের অংশ।</li>
</ul>
<p>ইসলামী আখলাকের দৃষ্টিকোণ থেকে ইনফাক করার সময় আমাদের দুটি বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবেঃ</p>
<ul>
<li><strong>১. ইসরাফ</strong></li>
<li><strong>২. তাবজির</strong></li>
</ul>
<p>রাসূল (স.) বলেন, <strong>&#8220;তোমরা ইসরাফ অর্থাৎ অপচয়ের দিকে ধাবিত না হয়ে, অহংকার বা নিজেকে গৌরবান্বিত করার রোগে আক্রান্ত না হয়ে খাও, পান করো ও পরিধান করো এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করো। আল্লাহ তোমাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন তা যেনো দৃশ্যমান হয়।&#8221; (বুখারী)</strong></p>
<p>কারো যদি সামর্থ্য থাকে সে ভালো খাবে, ভালো পরিধান করবে, সুন্দর থাকবে এটি আল্লাহ বান্দার কাছ থেকে দেখতে চান।</p>
<p>এ ইনফাক বা ব্যয় করার ক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগিয়ে একটি পরিভাষা হচ্ছে <strong>তাবজির।</strong> তাবজির হচ্ছে অযথা খরচ বা আল্লাহ যা পছন্দ করেননা, সেখানে খরচ করা। হাদিসে এসেছে, <strong>&#8220;তাবজিরকারী শয়তানের ভাই।&#8221;</strong></p>
<p>এটি ইসরাফের চেয়ে আরেকধাপ এগিয়ে। এই তাবজিরের ব্যাপারে আল্লাহ কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন।</p>
<blockquote><p>وَ اٰتِ ذَاالۡقُرۡبٰی حَقَّهٗ وَ الۡمِسۡكِیۡنَ وَ ابۡنَ السَّبِیۡلِ وَ لَا تُبَذِّرۡ تَبۡذِیۡرًا<br />
অর্থ: আত্মীয় স্বজনকে দিবে তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও, এবং কিছুতেই অপব্যয় করোনা।</p></blockquote>
<p>আমরা যদি সম্পদকে আখলাকের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে এটি আমাদের জন্য একটি নিয়ামত, আবার একইসাথে এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষাও। পবিত্র কোরআনের কিছু কিছু আয়াতে আমরা দেখতে পাই, ধন-সম্পদকে মুমিনদের জন্য ফিতনা ও পরীক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবার সম্পদকে যেখানে ইচ্ছা সেখানে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যয় করাকে একটি গুনাহের কাজ, একটি দায়িত্বহীন কাজ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের অজুতে পানি অপচয় না করা, একেবারে উদরপূর্তি করে না খাওয়া, খাবারের টেবিলকে সাদামাটা রাখা এসব বিষয়ে রাসূলে কারীম (স.) উৎসাহিত করেছেন। আমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার, পোশাক ও দামি আসবাবপত্র থেকে বের হয়ে আসতে হবে। মুমিনের জীবন হতে হবে সাধারণ ও অনাড়ম্বর।</p>
<p>ইসরাফ ও তাবজিরের পার্থক্যের ক্ষেত্রে আলেমেরদের অনেকের বক্তব্য রয়েছে। এখানে আমি <strong>আল-মাওয়ার্দির</strong> বক্তব্যটি উল্লেখ করছি,</p>
<p>তার মতে, <strong>“ইসরাফ হচ্ছে সঠিক জায়গায় প্রয়োজনের অধিক ব্যয় করা; তাবজির হচ্ছে আল্লাহ পছন্দ করেননা এমন জায়গায় ব্যয় করা, আল্লাহর অবাধ্যতা যেখানে আছে সেখানে ব্যয় করা।”</strong></p>
<p>ইনফাক এর প্রভাব কেবল ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সমাজের ভারসাম্যকে নিশ্চিত করে থাকে। এটি একটি পবিত্র কাজ, এটি আমাদের পারস্পরিক ভাগাভাগি (শেয়ারিং) এর বিষয়টিকে বৃদ্ধি করে থাকে, একই সাথে যে দান করে ও যে দান গ্রহণ করে উভয়কে আত্মিকভাবে প্রশান্তি দিয়ে থাকে। এজন্য ইনফাককে একটি জীবনধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করা আমাদের ব্যাক্তিগত ও সামাজিক জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এ বিষয়টি সবসময় জানা থাকতে হবে যে, ধনী হওয়া কিংবা দরিদ্র‍তা—এটি পরিবর্তনশীল। সময়ের পরিক্রমায় একজন ধনী ব্যক্তিও দরিদ্র হয়ে যেতে পারে, আবার একজন দরিদ্র ব্যক্তিও ধনী হতে পারে। এজন্য ধন-সম্পদ আল্লাহর দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড নয়। আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হচ্ছে তাকওয়া। একজন ব্যক্তি গরীব হলে গরীব থাকা অবস্থায় যে দায়িত্বগুলো পালন করা সম্ভব, সেগুলো পালন করবে; ধনী হলে ধনী থাকা অবস্থায় যে দায়িত্বগুলো পালন করা প্রয়োজন সেগুলো পালন করবে। তাহলেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রিয় হওয়া যাবে।</p>
<p>আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে এই বিষয়ের আলোকে আমল করার তৌফিক দান করুক। আমাদের সামাজিক সংহতি তৈরি করার তৌফিক দান করুক। ইনফাককে আমাদের জীবনধারার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার তাওফিক দান করুক।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong> <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a>।</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-culture-of-infaq-in-islamic-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">16655</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামে শায়া&#8217;য়ির এবং এর গুরুত্ব</title>
		<link>https://rowyakbd.com/shayair-and-its-importance-in-islam/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/shayair-and-its-importance-in-islam/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 04 Jun 2024 10:30:58 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতা]]></category>
		<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14371</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামে শায়া&#8217;য়ির&#160; এ পৃথিবীর সকল বস্তুরই একটি নাম ও নিদর্শন রয়েছে এবং এ নাম ও নিদর্শনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কও রয়েছে; যা তার পরিচয় বহন করে। সৃষ্টিকর্তার বহু নিদর্শন দুনিয়ায় বিদ্যমান। তেমনিভাবে এ সকল সৃষ্টির নিদর্শনের মধ্যেই তাঁর পরিচয়ের চিহ্ন পাওয়া]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>ইসলামে শায়া&#8217;য়ির&nbsp;</strong></p>
<p>এ পৃথিবীর সকল বস্তুরই একটি নাম ও নিদর্শন রয়েছে এবং এ নাম ও নিদর্শনের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কও রয়েছে; যা তার পরিচয় বহন করে। সৃষ্টিকর্তার বহু নিদর্শন দুনিয়ায় বিদ্যমান। তেমনিভাবে এ সকল সৃষ্টির নিদর্শনের মধ্যেই তাঁর পরিচয়ের চিহ্ন পাওয়া যায়। ইসলামে শায়া&#8217;য়ির হলো আমাদের মুসলিম সত্তা ও পরিচয়কে জাগ্রত রাখা এবং সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে জীবনকে পরিচালনা করতে পারা। আরবী শব্দ ‘শুয়ুর’ থেকে শায়া’য়ির শব্দটি উদ্ভুত। যার অর্থ – চিহ্ন, প্রতীক, সিম্বল, নিদর্শন।</p>
<p>মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক প্রেরিত দ্বীন তিনটি বিষয়কে পরিগ্রহ করে &#8211;</p>
<p><strong>১. মু&#8217;তাকাদাত (معتقدات) তথা ই’তিকাদি বিষয়সমূহ</strong></p>
<p><strong>২. মুকাদ্দাসাত (مقدسات) তথা আমাদের পবিত্র বিষয়সমূহ</strong></p>
<p><strong>৩. শায়া’য়ির তথা সিম্বল, প্রতীক বা নিদর্শনসমূহ</strong></p>
<p>এই তিনটি বিষয় দ্বীনের মৌলিক বিষয়, যা অপরিবর্তনীয়। যেমন- ফিকহি বিভিন্ন বিধান বা বিষয় সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এই তিনটি বিষয় অস্পর্শ, যা কখনো পরিবর্তন হয় না।</p>
<p><strong>প্রথমটি ,</strong>&nbsp; মু’তাকাদাত বা ই’তিকাদকে তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। যথা- তাওহীদ, নবুয়ত এবং আখেরাত। প্রেক্ষাপট যতই পরিবর্তন হোক এ বিষয়গুলো অপরিবর্তনীয় থাকবে।</p>
<p><strong>দ্বিতীয়টি হল,</strong> মুকাদ্দাসাত। যা পবিত্র বিষয়গুলো বা এমন স্থান ও কাজকে বুঝায়, যা সকল অপবিত্রতা থেকে মুক্ত। মহান আল্লাহ তার কুদ্দুস (قدوس) নামের ভিত্তিতে এগুলো পবিত্র বলে ঘোষণা দেন যার উপর হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারো নেই। কিছুক্ষেত্রে শায়া&#8217;য়ির ও কুদসিয়াত একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।</p>
<p><strong>তৃতীয়টি হল,</strong> বিভিন্ন সিম্বল বা প্রতীক। শুয়ুর মূল থেকে উদগত হওয়া শায়া&#8217;য়ির হল মুসলমান হওয়া এবং মুসলিম হিসেবে বেঁচে থাকার চেতনাকে সর্বদায় জাগ্রত করে রাখার প্রতীকসমূহ। কিছু কিছু স্থান, কিছু কিছু সময় আমাদের দ্বীনের শায়া&#8217;য়িরের অন্তর্ভুক্ত।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>শায়া&#8217;য়ির&nbsp;</strong></p>
<p><strong>শায়া’য়ির ইসলামের ইবাদত সম্পর্কিত, যা ইসলামের অভিন্ন জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত করে থাকে। এগুলো ফিকহি বা হুকুমি দৃষ্টিকোণ থেকে ফরজ বা নফল না হলেও সমগ্র মুসলিম জাতিকে সম্পৃক্ত করার কারণে এগুলো ব্যক্তিগত ফরজ থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</strong> আমরা কোরআনে দেখতে পাই শায়া’য়ির হজ্জের সাথে সম্পৃক্ত হলেও পরবর্তীতে আরো পরিভাষার সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।</p>
<p><strong>ইমাম মাতুরিদি শায়া’য়ির সংক্রান্ত আয়াতসমূহ তাফসীর করার সময় “শায়া’য়িরুল্লাহ” (</strong><strong>شعائر الله</strong><strong>) এই পরিভাষাকে সকল ফরজ বা সামগ্রিক দ্বীনি বিষয়সমূহকে ইঙ্গিত দানকারী বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। </strong></p>
<p>এভাবে ইমাম ফখরুদ্দীন রাজী শায়া’য়িরকে শুধুমাত্র কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আল্লাহর সকল ইবাদাতের সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করেন।</p>
<p>অনুরূপভাবে ইমাম দেহলভি শায়া’য়িরের সীমানাকে আরো বিস্তৃতভাবে উল্লেখ করেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>শায়া&#8217;য়িরের প্রতি সম্মান&nbsp;&nbsp;</strong></p>
<p>আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য যেসকল আবেগ অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ তাও তিনি শায়া&#8217;য়ির এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যেমন- কোরআনে দেখতে পাই, যে ব্যাক্তি শায়া’য়িরের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করবে তা হবে তার তাকওয়াপূর্ন কলবের পরিচয়। সূরা মায়েদার ২ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে,</p>
<blockquote><p>“হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর আনুগত্য ও ভক্তির নিদর্শনগুলোর অমর্যাদা করো না। হারাম মাসগুলোর কোনোটিকে হালাল আবার কোনোটিকে হারাম বলো না, কোরবানির পশুর উপর হস্তক্ষেপ করো না। যেসব পশু আল্লাহর জন্য উৎসর্গিত আলামতস্বরুপ পট্টি বাধা থাকে, তাদের উপরও হস্তক্ষেপ করো না। আর যারা রবের অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির জন্য কা’বার দিকে যাচ্ছে, তাদেরকে উত্যক্ত করো না। আর হারামের বা ইহরামের অবস্থা শেষ হয়ে গেলে অবশ্যই শিকার করতে পারো। একটি দল তোমাদের জন্য মসজিদুল হারামের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তোমাদের ক্রোধ যাতে তোমাদেরকে এতোখানি উত্তেজিত না করে যে তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ বাড়াবাড়ি শুরু করো। নেকি ও আল্লাহভীতির সমস্তকাজে সবাইকে সহোযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘন এর ব্যাপারে সাহায্য করো না। আল্লাহকে ভয় করো। তার শাস্তি বড়ই কঠোর।”</p></blockquote>
<p>এ আয়াত থেকে বুঝা যায়,&nbsp; সবচেয়ে বড় শায়া’য়ির হচ্ছে কোরআন, নামাজ, কাবা, হযরত পয়গম্বর (সা.)। এ চারটি বিষয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা মানে আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। আর এগুলোকে অসম্মান করা মানে আল্লাহকে অসম্মান করা। <strong>“হাকদিলি কোরআন”-এর লেখক প্রখ্যাত মুফাসসির ইলমালুল হামদি ইয়াজির বলেন, “শায়া’য়িরকে ইবাদতের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় বা যেসকল স্থানে ইবাদত করা হয় তাও সম্পৃক্ত করা যায়।” তার কথার আলোকে তাওয়াফ করা, সাঈ করা, ইহরাম বাধার পাশাপাশি আজান, জামায়াতে নামাজ, ঈদের নামাজ, জুমার নামাজ, মসজিদসমুহ, মসজিদের মিনারসমুহ, হিজাব, পরস্পরের প্রতি সালাম দেয়া শায়া’য়ির এর অন্তর্ভুক্ত।</strong></p>
<p>কোনো অঞ্চলে ইসলাম আছে এটা বুঝার জন্য যত ধরনের ধর্মীয় আদেশ আছে সুন্নত হোক বা ফরজ হোক তা শায়া’য়ির এর অন্তর্ভুক্ত। শায়া’য়ির এর প্রথম বিষয় হচ্ছে নামাজ। রাসুল (স.) বলেছেন, “নামাজ দ্বীনের স্তম্ভ”। আমরা ঈমানের চাইতেও নামাজের ক্ষেত্রে শায়া’য়ির বেশি দেখতে পাই। যেমন- নামাজে রুকু, সিজদাহ, হাত বাধা। এগুলো আমরা নিজের ইচ্ছেমতো করতে পারবো না। এগুলো একটি নিয়ম যা শায়া’য়ির এর অন্তর্ভুক্ত।</p>
<p>নামাজের মধ্যে তিন ধরনের শারীরিক কাজ রয়েছে। কিয়াম বা পায়ের উপর দাড়ানো, রুকু বা মেরুদণ্ড বাঁকানো, এবং&nbsp; সিজদাহ্&nbsp; বা কপাল মাটিতে স্পর্শ করা। আবার আমরা যখন চাই তখনই নামাজ পড়তে পারবো না।&nbsp; নামাজের নির্দিষ্ট ওয়াক্ত আছে এবং নামাজের জন্য অযু বা পবিত্রতা দরকার যা শুধু বাহ্যিক পবিত্রতা নয়। আমাদের অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা যা তাওবার প্রতি ইঙ্গিত করে।</p>
<p>অযুতে আমরা শরীরের প্রায় সকল অঙ্গ ধুই। যেমন- অযুর শুরুতে হাত ধুয়ে থাকি, এর মাধ্যমে হাতের দ্বারা করা সকল খারাপ কাজের তাওবা হয়। কুলি করি, নাকে পানি দেই, এর মাধ্যমে হারাম কিছু খেলে বা ঘ্রাণ নিলে এগুলোও তওবার দিকে ধাবিত করে এবং হারাম থেকে বিরত থাকতে শিখায়। আবার মুখ ধোয়ার সময় চোখ ধুই, যাতে চোখের দ্বারা যেসব খারাপ কাজ করা হয়, তা থেকে অবচেতন মনে বিরত থাকি।&nbsp; আমরা মাথা মাসেহ করি যার মাধ্যমে আমরা মাথায় খারাপ চিন্তা আসা থেকে বিরত রাখি। কান মাসেহ করার মাধ্যমে খারাপ কিছু শোনা থেকে বিরত থাকি। সবশেষে পা ধুই, যার মাধ্যমে আমরা খারাপ কাজে পা বাড়ানো থেকে বিরত থাকি। তাই এ অযুর মাধ্যমে আমরা বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জন করি।</p>
<p>মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ অযুর এসব বিষয়কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অযুর মাধ্যমে আমরা সংকল্প করি যাতে এসব কাজের পুনরাবৃত্তি না করি। তিনি নামাজের মধ্যে কিয়াম এবং সিজদাহকে প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত করে একটা কথা বলেন। পৃথিবীতে তিন ধরনের জগৎ আছে। যেমন-</p>
<p><strong>১.বৃক্ষলতা </strong></p>
<p><strong>২.পশুপাখি</strong></p>
<p><strong>৩. জড়বস্তু অর্থাৎ যে সকল সৃষ্টিকে আমরা প্রাণহীন বলে জেনে থাকি। যেমন- পাহাড়। </strong></p>
<p>পাহাড় পর্বত সবসময় দন্ডায়মান। তারা এভাবেই আল্লাহর আদেশ মানে এবং সেবা করে থাকে। একজন মুসলিম যখন নামাজ শুরু করে তখন এসকল পাহাড়ের মতো সকল কিছু থেকে মুক্ত থেকে পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। একইভাবে চার পা ওয়ালা পশুগুলো সবসময় রুকুর মতো থাকে। মুসলমানগন রুকু করার মধ্যদিয়ে আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা বা ভক্তির প্রকাশ করে থাকে। একইভাবে যেসকল বৃক্ষ বা তৃণলতা যাদের মুখ মাটিতে এবং তারা এভাবে খাদ্য গ্রহণ করে আল্লাহর&nbsp; সিজদাহ করে। সিজদাহ আমাদেরকে মনে করায় আমরা এই জমিন থেকেই এসেছি আমাদের এখানেই যেতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলামের আরেকটি শায়া’য়ির হচ্ছে যাকাত। কুরআনে প্রায় ২০ টি আয়াতে নামাজ এবং যাকাতের কথা একত্রে এসেছে। এ বিষয়টি আমাদেরকে শেখায় কীভাবে একটি দ্বীনি ব্যবস্থাপনা সামগ্রিক বিষয়কে পরিগ্রহ করে থাকে। নামাজ আদায়ের সময় আমরা শরীরকে পবিত্র করে থাকি এবং যাকাতের মাধ্যমে রুহকে পবিত্র করে থাকি। তাই এ আয়াতসমূহের মাধ্যমে শরীর এবং রূহকে একত্রে পবিত্র করার কথা বলা হয়েছে। কোরআনে শায়া’য়ির সম্পর্কিত কথা বলতে সবচেয়ে বেশি হজ্জের কথা বলা হয়েছ। হজ্জের মধ্যে যত ইবাদত আছে এগুলোকে যারা সম্মান করবে তারা আল্লাহকে সম্মান করবে এমন বলা হয়েছে। সূরা বাকারার ১৫৮ এবং সূরা হজ্জের ৩৬ নাম্বার আয়াতে শায়া’য়িরের এ সকল বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে।</p>
<p>হজ্জ এমন একটি&nbsp; ইবাদত যা স্বয়ং নিজেই ইসলামের বড় একটা প্রতীক। ওমরাহ করার আগে আমরা ইহরাম পরিধান করি, যা বড় একটি নিদর্শনস্বরুপ। <strong>ইহরাম দ্বারা বোঝায় আল্লাহর সামনে আমরা সকলেই সমান। ধন-সম্পদ, সামাজিক অবস্থান এগুলো আল্লাহর কাছে কোনো তফাত নেই। সবাই আল্লাহর কাছে সমান। ইহরামের বিষয় বিশেষভাবে পুরুষদের সাথে সম্পৃক্ত। কারণ রাসূল (স.) বলেছেন, নারীরা যা পরিহিত থাকবে তাই তার জন্য ইহরাম। অন্যদিকে পুরুষরা সকল কিছু ত্যাগ করে শুধুমাত্র দুটি কাপড় পরিধান দিয়ে সবার মতো একই পোশাকে একইভাবে ইহরাম বাঁধে। এটা অনেক বড় একটা শায়া’য়ির।</strong> তবে, হজ্জের সবচেয়ে বড় শায়া’য়ির হলো বায়তুল্লাহ বা কা’বা। কা’বা শব্দ কোরআনে দুইবার আসলেও বায়তুল আতিক, বায়তুল হারাম এধরনের শব্দের মাধ্যমে বহুবার এসেছে। কা&#8217;বা হচ্ছে মহান আল্লাহর একত্বকে প্রকাশকারী পৃথিবীতে স্থাপিত প্রথম ইবাদতের গৃহ।</p>
<p>কালো ঘরটি ছড়াও হাজরে আসওয়াদ এবং আরো অনেক জিনিস কা’বার অন্তর্ভুক্ত। আমরা হজ্জে গেলে হাজরে আসওয়াদকে সালাম প্রদান করি যা আমরা রূহের জগতে আল্লাহকে কথা দিয়ে এসেছিলাম। হাজরে আসওয়াদ সাধারণ একটা কালো পাথরের মতোই, কিন্তু আল্লাহ এটার সাথে পবিত্রতা সম্পৃক্ত করার কারণে এটা আমাদের জন্য পবিত্র। একদিন হযরত ওমর রা: কাবার পাশে দাঁড়িয়ে হাজরে আসওয়াদকে বলছিলেন, <strong>“তোমার দ্বারা কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ নেই, কিন্তু হযরত মোহাম্মদ (স.) তোমাকে চুম্বন করেছেন এবং সালাম জানিয়েছেন তাই আমিও তোমাকে চুম্বন করি এবং সালাম দেই।”</strong></p>
<p>এরপর আছে মাকামে ইব্রাহিম যা কাবার পাশেই যার উপর ইব্রাহিম (আ:) দাঁড়িয়ে কা’বা নির্মাণ করেছিলেন। আমরা এটাকেও সালাম জানাই, কারণ এটিও শায়া’য়ির এর অন্তর্ভুক্ত। এরপর কা’বার সাথেই একটা জায়গা বাঁকা চাঁদের মতো &#8211; হাজরে ইসমাইল, যেখানে ইসমাইল আ: লালিত পালিত হয়েছিলেন। অনেক জায়গায় বলা হয়ে থাকে &#8211; হাজেরা (আ.) কে তার মৃত্যুর পর আল্লাহর ইশারায় ওখানেই দাফন করা হয়। আবার অনেকে বলেন ইসমাইল (আ.) কেও ওখানে দাফন করা হয়, যদিও এটা ততটা গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত হাজেরা একজন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসী ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন যার কারণে আমরা তাকে সালাম জানাই। আল্লাহ তায়ালা তার সাদাকাত ও কর্মের জন্য সমগ্র নারী জাতির জন্য তাকে উপমা হিসেবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p>তিনি যখন ক্রীতদাসী ছিলেন এ অবস্থায় একজন পয়গম্বরের স্ত্রী এবং একজনের মা হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মুহাম্মদ (স.) এর দাদী হয়েছিলেন। তার আন্তরিকতা বা ইখলাসের কারণে আল্লাহ তাকে এত সম্মানিত করেছেন। এমনকি ঐদিন থেকে এখন পর্যন্ত ওনাকে যেখানে দাফন করা হয়েছে, সেই হাজরে ইসমাইলের কাছে সবাই দুই রাকাত নামাজ পড়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে।</p>
<p>সূরা বাকারার ১৫৮ আয়াতে বলা হয়েছে</p>
<blockquote><p>“সাফা এবং মারওয়া হচ্ছে শায়া’য়ির এর অন্তর্ভুক্ত। যারা হজ্জ এবং ওমরাহ করবে এগুলোকে তাওয়াফ করবে। কেউ যদি নিজের ইচ্ছায় ভালো কাজ করে তাহলে সে আল্লাহর নিকটে পুরস্কার পাবে।”</p></blockquote>
<p>হজ্জের মধ্যে সাঈ দ্বারা হযরত হাজেরা (আ.) এর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হয়। একইভাবে সাঈকারী প্রতিটি মুসলিম নারী এবং পুরুষ সাঈ করার সময় হাজেরা (আ.) যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সে দৃশ্যটি মনে চিত্রায়িত করেন। সেখানে তিনি হযরত ইসমাইল (আ) পানি পান করানোর জন্য সাতবার সাফা মারওয়ায় উঠেছিলেন। ঐ বিষয়টিকে প্রতীক হিসেবে সাঈ করা হয়। <strong>তিনি বসে থাকেননি বরং চেষ্টা করেছেন। আর এর ফলস্বরূপ আল্লাহ তাদেরকে জমজম দান করেন। জমজম আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান একটা মুজিযা।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা হজ্জে গেলে হজ্জের রোকন জানতে চাই। আমার মতে এর সাথেসাথে ইব্রাহিম (আ.) এবং হাজেরা (আ.) এর সংগ্রাম সম্পর্কেও আমাদের জানা উচিত। তাহলে আমরা হজ্জের রূহ সম্পর্কে জানতে পারবো, যা আমাদের জীবনে প্রভাব ফেলবে। হযরত হাজেরার ইখলাস সম্পর্কে জানতে তার ব্যাপারে বেশি বেশি পড়া উচিত। তাহলে আমরাও আমাদের জীবনে জাতির জন্য ভালো কিছু করার প্রভাব ফেলতে পারবো।</p>
<p>আরও অন্যান্য কিছু শায়া’য়ির আছে যেগুলো জায়গা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। আমরা দেখতে পাই মুযদালিফায় অবস্থান করা, লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক বলা, শয়তানকে পাথর মারা ইবরাহীম (আ) এর স্মৃতি। পাথর নিক্ষেপ শয়তানের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করার প্রতীক। একইভাবে একজন মুসলমান হজ্জে যাওয়ার পর আরাফাতে অবস্থান করে। এটাও হযরত আদম (আ) এবং হাওয়া (আ) এর মিলিত হওয়ার মাধ্যমে তাদের পর্যন্ত বিস্তৃত।</p>
<p>একজন মুসলিম হজ্জের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কুরবানি করেন। কুরবানিও অনেক বড় একটা শায়া’য়ির। হযরত ইব্রাহিম (আ) তুরস্ক থেকে মিশর যান, তারপর ফিলিস্তিন যান এবং দ্বীনের দাওয়াত দেন। কিন্তু কেউ তার দাওয়াত গ্রহণ করেনি। তাই তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যাতে তাকে এমন একটা সন্তান দেন যাকে সাথে নিয়ে দ্বীনের কাজে অগ্রসর হতে পারবেন।</p>
<p>আল্লাহ এই দোয়ার ফলস্বরূপ ইসমাইল (আ.) কে সন্তান হিসেবে দেন। এরপর আরেক সন্তান দেন ইসহাক (আ.)। পরবর্তীতে তাদের বংশতেই নবী-রাসূলদের আগমন ঘটে। তাই দেখা যায়, সকল পয়গম্বরই ইব্রাহীম (আ.) এর দোয়ার প্রতিফল। <strong>এই হাকীকতকে হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, আমি আমার দাদা ইব্রাহিম আ: এর দোয়ার প্রতিফল।</strong> আমরাও এই দোয়াকে স্মরণ করে আল্লাহকে স্মরণ করে জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখে কুরবানি পালন করি। সূরা হজ্জের ৩৬ নাম্বার আয়াতে অনুসারে কুরবান হচ্ছে মহান আল্লাহর প্রতি এবং হক ও হাকীকতের প্রতি ভালো কল্যাণ ও সত্যের প্রতি আমাদের যে অনুসন্ধান এবং আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া। কুরবানির সকল কিছুই আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য। কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা যে পশু কুরবানি করো তার রক্ত মাংস আল্লাহর কাছ পৌঁছে না, বরং তোমাদের নিয়ত আল্লাহর কাছে পৌছে।</p>
<p>কুরবানিকে ভালোভাবে পালন করলে আমাদের মানবতার উন্নতি হয়। নিজেদের প্রতি প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। একে অপরের সাথে শরিক হওয়ার বিষয় জাগ্রত করে থাকে। একে অপরের সাথে সম্পর্ক বিনির্মাণের উছিলা হয়ে থাকে। কুরবানির মানে হচ্ছে, যে যুগে একজন আরেকজনকে মেরে ফেলছে সেখানে ভ্রাতৃত্বের নিদর্শন তৈরি করা। এই বিষয়টি তখনই সম্ভব যখন ইবাদতের রূহ নিজের মধ্যে বিকশিত করতে পারবো। এই রূহকে ভুলে না গিয়ে জীবনেকে আখলাকের মাধ্যমে সুসজ্জিত করতে পারবো। এটি তখনই অর্জন হবে যখন সকল ইবাদাত সঠিকভাবে পালন হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে <strong>পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দ্বীনের অর্ধেক</strong>। রাসুলের (সা.) এ কথা স্মরণ করে পরিবেশের ক্ষতি না করে এ ইবাদত করতে হবে। &nbsp;এই কারণে জবেহকৃত প্রতিটি কুরবান সেখান থেকে প্রবাহিত প্রতিটি রক্তের ফোঁটা শতশত বছর ধরে আমাদের অস্তিত্বের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার দিয়েছে তাদেরকে স্মরণ করে। আমাদের জীবনকে তাদের চরিত্রের আলোকে সুসজ্জিত করতে পারলে তখন আমাদের ইবাদত অর্থবহুল হবে এবং ইবাদতের রুহ আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন হবে। যেকোনো মুল্যে কুরবানির শিক্ষা নিয়ে মুসলিম বিশ্বে রক্তপাত বন্ধে সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে। ইসলামী সভ্যতাকে যেন আমরা পুনরায় মানবসভ্যতার কেন্দ্রে স্থাপন করতে পারি। এই রূহ যেনো আমাদেরকে ইবাদাতসমূহ অর্জনের দিকে ধাবিত করে। আমিন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ&nbsp;<a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/shayair-and-its-importance-in-islam/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14371</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মাহে রমজানের তাৎপর্য ও আমাদের করণীয়</title>
		<link>https://rowyakbd.com/the-significance-of-ramadan-and-our-responsibilities/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/the-significance-of-ramadan-and-our-responsibilities/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 25 May 2024 17:38:29 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14324</guid>

					<description><![CDATA[বছরের বারোটি মাসের মাঝে গোটা একটি মাস রোজা পালন করা আল্লাহ তায়া’লা ফরজ করে দিয়েছেন তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>বছরের বারোটি মাসের মাঝে গোটা একটি মাস রোজা পালন করা আল্লাহ তায়া’লা ফরজ করে দিয়েছেন তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়াবান হতে পারো”।</p>
<p>রোজা শুধুমাত্র পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই নয়, বরং মানব-শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়েই রোজা রাখতে হয়। হযরত পয়গম্বর (সা.) একটি হাদীসে বলেছেন, <strong>“তোমাদের খাওয়া বা পান কোনোটারই প্রয়োজন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নেই”।</strong> অর্থাৎ রোজা আল্লাহ তায়া’লা তাঁর কোনো প্রয়োজনে আমাদের উপর ফরজ করেননি, বরং আমারা যাতে আমাদের ইরাদা বা ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং শিক্ষা নিতে পারি, সেজন্যই এই বিধান দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ রোজার প্রয়োজন শুধু আমাদের নিজেদের।</p>
<p>এই রোজা তথা সাওমের একটি অর্থ হচ্ছে ইমসাক। ইমসাক বলতে কোনো কিছুকে ধরে রাখা বুঝা বুঝায়। এজন্য আমরা যদি শুধু আমাদের পেটকে নয়, বরং আমাদের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও ইমসাক তথা ধরে রাখতে (নিয়ন্ত্রণ করতে) পারি, তাহলেই এটি সত্যিকারের রোজা বলে গণ্য হবে। এই প্রেক্ষাপটে হযরত পয়গম্বর (সা.) বলেছেন, <strong>“কেউ যদি তোমাদের সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাহলে তুমি তাকে বলে দাও ‘আমি রোজাদার’।”</strong> মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এই রোজার বিধান পূর্ণতা পায় তখনই, যখন কয়েকটি বিষয় একইসাথে পালন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে-</p>
<ul>
<li>সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারসহ সকল প্রকার মানবিক ইচ্ছা থেকে বিরত থাকা।</li>
<li>মুখ দিয়ে খারাপ কথা উচ্চারণ না করা।</li>
<li>অযথা বিতর্কে লিপ্ত না হওয়া।</li>
<li>কারো মন না ভাঙা।</li>
</ul>
<p>এগুলোর সবকটিই রোজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ, যা হযরত পয়গম্বর (সা.) নিজে রোজার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।</p>
<p>হযরত মরিয়ম (আ.)-এর জীবনীতেও দেখা যায়, যখন তার উপর অপবাদ দেওয়া হচ্ছিলো এবং তিনি যখন এগুলো সহ্য করতে না পেরে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিলেন, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে নির্দেশ দেন- তুমি বলো ‘আমি রোজাদার’। হযরত মরিয়ম (আ.)-এর রোজা ছিলো তার উপর আরোপিত অপবাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার যুক্তি-তর্কে জড়িত না হয়ে চুপ থাকা। আমাদের রোজা ভঙ্গের কারণের ভেতরে ঝগড়া করা বা কারো সাথে দ্বন্দে লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব না দিলেও আমরা হযরত মরিয়ম (আ.)-এর এই ঘটনা থেকে আমাদের জীবনের জন্য বড় একটি শিক্ষা পাই।</p>
<blockquote><p>মাহে রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ হচ্ছে, মুকাবালা তথা কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করা। মুকাবালা অর্থ হচ্ছে- পারস্পরিক আলোচনা করা। আমরা জানি প্রতি রমজানে হযরত জিবরাঈল (আ.) রাসূল (সা.)-এর নিকট আসতেন এবং সে সময় পর্যন্ত যতটুকু কুরআন নাজিল হয়েছে, তা একজন আরেকজনকে পাঠ করে শুনাতেন। মূলত এখান থেকেই ’মুকাবালা’ শব্দটি এসেছে। আমরা কোরআনকে কীভাবে পাঠ করবো এবং কীভাবে বুঝবো তার জন্য এই বিষয়টা আমাদের জন্য অনেক সুন্দর একটি উপমা।</p></blockquote>
<p>কোরআন নাজিলের মাস রমজান এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) এই মাসে কোরআন তেলাওয়াতের ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন এবং অনেক ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হ<strong>যরত আলী (রা.) বলেন, চিন্তা না করে কোরআন পাঠের কোনো অর্থ হয়না।</strong> এজন্য কোরআনকে শুধু খতম দেওয়া বা দ্রুততার সাথে পাঠ করে শেষ করার জন্য নয়; বরং প্রত্যেকটি আয়াত নিয়ে যতটুকু সম্ভব চিন্তা-ভাবনা করাই হচ্ছে মুকাবালার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তাই, আমরাও যেন কোরআনকে পাঠ করার সময় চিন্তা করে পাঠ পারি। ইমাম মালিক (র.) সহ অনেক বড় বড় আলেমগণ রমজান মাসে তাদের জ্ঞানগত যাবতীয় কাজকে একপাশে রেখে এই মাসকে সম্পূর্ণরূপে কোরআনকে বোঝার জন্য ব্যয় করতেন। তারা বলতেন, “এটি হচ্ছে কোরআনের মাস। এই মাসে আমি আমার সমগ্র সময়কে কোরআনকে বুঝার ক্ষেত্রে এবং কোরআন নিয়ে চিন্তা করার ক্ষেত্রে ব্যয় করবো”। আমরাও যেন এই কোরআনের মাসে কোরআনের সাথে আমাদের সম্পর্ককে আরো মজবুত করার প্রচেষ্টা করতে পারি, এটা আমার পক্ষ থেকে আপনাদের বোন হিসেবে একটা উপদেশ।</p>
<p>রমজান নামক মক্তবের অন্যতম আরেকটি প্রোগ্রাম হচ্ছে “ইফতার”। আমরা তাহাজ্জুদের মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করে ফজরের ওয়াক্ত শুরুর পূর্বে সেহরি করার পর থেকে ইমসাকের মাধ্যমে অনেক হালাল বিষয়কে পরিত্যাগ করে থাকি।‌ আমরা মুকাবালার পর ইফতারে এসে উপনীত হয়ে থাকি। <strong>ইফতারের সময়টি এমন একটি সময়, যে সময় সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, “ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত হচ্ছে দোয়া কবুলের মুহূর্ত”</strong>। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সময়টি আমরা পরিবারের সকল সদস্য একত্রে পার করতে পারি‌। <strong>হযরত পয়গম্বর (সা.) বলেছেন, “ইফতারের জন্য যে পরিবার একত্রিত হয়, সে পরিবারকে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রহমতের দৃষ্টিতে দেখে থাকেন”।</strong> আমরা যেন আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে একসাথে ইফতার করতে পারি, আমাদের বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশি ও অভাবী মানুষের জন্য যেন আমাদের ইফতারের দস্তরখানা উন্মুক্ত করতে পারি এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেভাবে চান, সেভাবে স্মরণীয় করে ইফতার করতে পারি – এ ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিপাত করা উচিত।</p>
<p>হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর খাবার নিয়ে অসাধারণ একটি দৃষ্টিভঙ্গি আছে। <strong>তিনি বলেছিলেন, তোমাদের খাবার সমূহ যেন সৎকর্মশীলগণ খায়, রোজাদরগণ তোমাদের পাশে এসে ইফতার করে। এতে ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য দোয়া করে এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকটে যারা রয়েছে, তারা তোমাদের প্রশংসা করে।</strong> হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর এই উপদেশ যেন আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য একইসাথে ইফতার করা এবং অন্য রোজাদারদেরও ইফতার করানো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>রোজাদারদের প্রতিদানের কথা বলতে গিয়ে হযরত পয়গম্বর (সা.) তাদের জন্য দু&#8217;টি খুশির মুহূর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হচ্ছে- <strong>ইফতারের মুহূর্ত এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে সাক্ষাতের মুহূর্ত</strong>। সারাদিন না-খেয়ে রোজা রাখা আমাদেরকে যেমন অভাবী-অনাহারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনিভাবে এটি আমাদের নিজেদেরকেও পরিশুদ্ধ করে। এজন্য এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ স্মরণে রাখা প্রয়োজন। তা হচ্ছে- আমরা যেন তাদের কথা স্মরণে রেখে আমাদের ইফতারিকে বিশাল বহরে পরিনত না করি। বরং একজন মানুষের জন্য যতটুকু ইফতার প্রয়োজন, আমরা যেন ঠিক সেভাবেই নিজেদের ইফতার সাজাই এবং সেখান থেকে অন্যের সাথেও ভাগ করতে পারি &#8211; এই মানসিকতা আমাদের ভেতর লালন করতে হবে।</p>
<blockquote><p>ইফতার করার পর আমরা মাগরিবের নামাজ আদায় করি, এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে তারাবী নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকি। রমজান নামক মক্তবের প্রোগ্রামে তারাবী সংযোজন করেছিলেন হযরত পয়গম্বর (সা.) এবং বর্তমানে আমরা যেভাবে তারাবী পড়ে থাকি, এটার রূপ দিয়েছিলেন হযরত উমর (রা.)। তারাবী যাতে মুসলমানদের উপর ফরজ বিধান না করা হয় এবং তারা যেন এটি আদায় করতে সামর্থ্য হয়, এজন্য রাসূল (সা.) তারাবীর সব নামাজ মসজিদে পড়েননি; বরং এক অংশ মসজিদে এবং এক অংশ ঘরে পড়েছেন। পরবর্তীতে হযরত উমর (রা.) ইজতিহাদই হচ্ছে বর্তমান তারাবী&#8217;র এই রূপ।</p></blockquote>
<p><strong>তুরস্কসহ মুসলিম দেশের প্রায় দেশগুলোতেই মেয়েরাও তারাবীহর নামাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। তারা মসজিদে গিয়ে তারাবীহর পূর্ণ ফজিলত ও সওয়াব নেওয়ার চেষ্টা করে। এখানে জুমা ও ঈদের নামাজে নারীরা সেই অর্থে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হতে না পারলেও তারাবীহ তারা খুব জাঁকজমকপূর্ণভাবে আদায় করে করে থাকে।</strong></p>
<p>বাংলাদেশে যেহেতু বেশিরভাগ মসজিদেই নারীদের জন্য নামাজের আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই, এর বিকল্প হিসেবে যেখানে পুরুষরা সবাই একসাথে পড়ে সেখান থেকে অর্ধেক পুরুষ কমিয়ে নারীদের জায়গার ব্যবস্থা‌ করা যায়। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হযরত মরিয়ম (আ.)। সেসময় নারীদের মসজিদে প্রবেশ নিষেধ ছিলো। এর বিরুদ্ধে তাঁর মা যেন তাঁকে মসজিদের জন্য উৎসর্গ করেন, আল্লাহ তার উপর আয়াত নাজিল করে তা বুঝিয়ে দেন। অতএব, আমাদের প্রত্যেকটি সমাজেই প্রথা হিসেবে না থাকলেও উৎসবের সাথে মসজিদে তারাবি আদায়ের ব্যাপারে নারীদের উৎসাহ দেয়া দরকার। এ বিষয়টি আমি বলছি কারণ, হযরত পয়গম্বর (সা.) যে জামাতই পড়েছিলেন না কেন, সব জামাতেই নারীরা অবশ্যই অবশ্যই ছিল।</p>
<p>রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম হচ্ছে “যাকাত”। রমজানে যাকাত আদায় করা অসাধারণ একটি ঐতিহ্য। এই কারণে অনেক সময় রমজান মাসকে যাকাত আদায়ের মাস হিসেবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশে সাধারণত রমজান মাসেই সবাই যাকাত দিয়ে থাকে। রমজানেই যে যাকাত দিতে হবে, এমন কোনো ধরা-বাঁধা নিয়ম নেই। বছরের যেকোনো সময়েই এটি দেয়া যায়। তবুও বিভিন্ন দেশে এটিকে সুন্দর একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে।</p>
<p>আমরা জানি, যাকাত দেয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ বা মালের অধিকারী হতে হয় এবং সেই সম্পদ পুরো এক বছর অতিক্রম করতে হয়। আমাদের দেশে এটাকে এক রমজান থেকে আরেক রমজান এভাবে হিসাব করা হয়ে থাকে। এমনকি রমজান মাসে যাকাত দেয়ার ফলে ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে সবাইকে আর্থিকভাবে একটি সহযোগিতা রমজানের সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করে থাকে। এখন প্রশ্ন জাগে, যাদের যাকাত দেয়ার সামর্থ্য নেই, তারা কী তাহলে এই বরকতময় মাসে কোনো প্রকার ইনফাক (সদকা, দান) করবে না? হ্যাঁ, তারাও করবে। যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, তারা ফিতরা দিবে। সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করার জন্য সাদাকাতুল ফিতরকে রমজানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যাকাত যেসকল মানুষদের দেয়া যায়, সাদাকাতুল ফিতরও ঐ সকল মানুষদের দেয়া যাবে।</p>
<p>রমজানের অন্যতম আরেকটি প্রোগ্রাম হচ্ছে “ইতিকাফ”। এটি করা হয়ে থাকে রমজানের শেষ সময়ে। সাধারণত আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য  মসজিদে ইতিকাফের নিয়ত করা হয়ে থাকে।<strong> ইতিকাফের সময় ইতিকাফকারীরা খুব সামান্য ইফতার ও সাহরির মধ্য দিয়ে নিজেদেরর প্রয়োজন পূরণ করে থাকেন। এছাড়া সমগ্র সময় জুড়ে তাঁরা দোয়া, জিকির ও সালাতের মধ্য দিয়ে এটি পালন করেন। এজন্য, একজন মানুষ দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে নিজের মাঝে ফিরে আসার অন্যতম একটি উপায় হলো এই ইতিকাফ।</strong> এর মাধ্যমে সে নিজের সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে এবং নিজের জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সময় পেয়ে থাকে।</p>
<p>যদিও আমাদের সমাজে সাধারণত পুরুষরাই ইতিকাফ করে থাকে, তবুও এটা জেনে রাখা উচিৎ যে, নারীরাও ইতিকাফ করতে পারে। নারীদের মধ্যে যারা ইতিকাফ করতে চায়, তারা নিজেদের ঘরে ইতিকাফের নিয়ত করতে পারে। অথবা মসজিদে গিয়েই যে একেবারে থাকতে হবে তাও না। সকালে গিয়ে দুই নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে যেখানে কোনো সুযোগ আছে, এমন কোনো মসজিদে গিয়ে সে ইতিকাফের নিয়ত করতে পারে। আবার রাত হওয়ার আগেই সে ঘরে ফিরে আসতে পারে। আশা করা যায়, মহান রাব্বুল আলামীন তার এই নিয়তের কারণে ইতিকাফের যে সাওয়াব, তা দান করবেন।</p>
<p>রমজান নামক মক্তবের অন্যতম আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রোগ্রাম হচ্ছে “শবে কদর”। আমরা জানি যে, মহাগ্রন্থ আল কোরআন এই রাতেই মানবজাতির উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। সূরা কদরে বলা হচ্ছে, <strong>“এই রাত্রি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম”।</strong> এই ফজিলতপূর্ণ রজনীকে আমরা যাতে ভালোভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে পারি, সেজন্য আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদেরকে শেষ দশকে কদরের রাত সন্ধান করতে বলেছেন। <strong>বিশেষ করে বিজোড় রাত্রিগুলোতে কদর তালাশের ব্যাপারে আরও বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, বর্তমান সময়ে শুধু ২৭ই রমজান কে শবে কদর দেখিয়ে এই রাত্রিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। রমজানের শেষ ১০ রজনীর সবকটিই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।</strong> এই রজনীগুলোতে আমাদের বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, দোয়া করা, ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং অন্যান্য ইবাদতও খুব বেশি বেশি করা প্রয়োজন।</p>
<p>রমজান মাসের প্রোগ্রাম শেষ করার পূর্বে একটি বিষয়ে আলোকপাত করা জরুরী। তা হচ্ছে, যেসকল মানুষ রোজা রাখতে পারেনা, তাদের কী করণীয়?</p>
<p>কোনো মানুষ তার বার্ধক্যের কারণে বা দূরে কোনো সফরের কারণে কিংবা কোনো রোগের কারণে যদি রোজা রাখতে না পারে, তাহলে বাকি ১১ মাসের যেকোনো সময়েই এই রোজাসমূহ কে আদায় করতে পারে। কিন্তু তার রোগ যদি এমন হয় যে, রোজা রাখার কারণে তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে এবং পরবর্তীতেও রাখা সম্ভব না, তাহলে সে রোজার জন্য ফিদিয়া দিবে। <strong>এক্ষেত্রে জেনে রাখা প্রয়োজন, কেউ যদি বয়সের কারণে রোজা রাখতে না পারে, এর অর্থ এই না যে সে রমজানে অন্য কোনো কিছুই করতে পারবে না। বরং সে তারাবী পড়তে পারে, ইফতার করতে পারে এবং সদকাতুল ফিতর দিতে পারে।</strong> এছাড়াও তার সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যান্য ইবাদতও সে করতে পারে। অর্থাৎ তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এমন সকল ইবাদতেই সে অংশগ্রহণ করতে পারে। এতে অবশ্যই সে সওয়াবপ্রাপ্ত হবে।</p>
<p>রমজান নামক প্রোগ্রামেরর শেষ অনুষঙ্গ হচ্ছে ঈদ। ঈদ হচ্ছে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি সম্মান বা ইকরাম। এমনকি এই দিনে রোজা রাখাকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ঈদ ফজর নামাজের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। সকল মানুষ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া এই সম্মানকে গ্রহণ করে সকলের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব সেটাকে আরো সুদৃঢ় করতে পারে। এই সময়ে বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব ও মুরুব্বিদের সাথে দেখা করা, তাদের দোয়া নেয়া এবং অভিবাদন জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ঈদের সময় আমাদের সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিত বা সতর্ক দৃষ্টি দেয়া উচিত, যারা ঈদের আনন্দে অংশীদার হতে পারে না, তাদের প্রতি। তারাও যাতে মুসলিম উম্মাহর গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য সকল ধরনের বন্দোবস্ত করা উচিৎ। সকল ঘরেই যেন এই আনন্দ পৌঁছে যায় সেজন্য রাস্তাঘাটে, বাসা বাড়িতে এই আনন্দ উদযাপন করা এবং এই আমেজ সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া ঈদেরই অংশ।</p>
<blockquote><p>এই জন্যই আমরা ঈদ কে ঈদের মতোই উদযাপন করবো। ঈদকে আমরা যেন সাধারণ ছুটি হিসেবে না দেখি, এবং ঈদের যে আধ্যাত্মিকতা তা থেকে যেন দূরে সরে না যাই। ঈদকে আমাদের প্রতি আল্লাহ যে উপহার হিসেবে দিয়েছেন &#8211; নিজের জীবনে, পারিবারিক জীবনে এমনকি সামাজিক জীবনেও যাতে খুব ভালোভাবে তা পালন করা যায়, সেভাবেই আমাদের সকল ধরণের কর্মপন্থা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।</p></blockquote>
<p>আর এই রমজান নামক মক্তবের শেষে পয়গম্বর (সা.) মাগফিরাতের সুসংবাদ দান করেছেন। এখানে মাগফিরাত শুধু ক্ষমা নয়, এটি একইসাথে অতীত গুণাহের ক্ষমা এমনকি ভবিষ্যতের গুণাহ থেকে নিজেদের রক্ষা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একটি হাদীসে রাসুল (সা.) বলেছেন, <strong>“যে ব্যক্তি হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করে, পর্যালোচনা করে, হিসাব করে রোজা রাখবে, মহান আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুণাহ ক্ষমা করে দিবেন”।</strong></p>
<p>অতএব, আমরা যেন দৃঢ় ঈমানের সাথে রাসূল (সা.) সীরাতের শিক্ষা অনুযায়ী রোজা পালন করতে পারি এবং মহান রাব্বুল আলামীনও যেন আমাদের সেই রোজাকে কবুল করেন সেই দোয়া করি। আর পাশাপাশি রোজা যেই উদ্দেশ্য আমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে এবং এর যে রূহানিয়্যাত, তা যেন আমরা পরিপূর্ণভাবে হৃদয়ে লালন করে পালন করতে পারি, মহান রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের সেই তাওফীক দান করেন। আমীন।</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/the-significance-of-ramadan-and-our-responsibilities/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14324</post-id>	</item>
		<item>
		<title>সামাজিক সংগঠনের মজবুতিকরণ</title>
		<link>https://rowyakbd.com/strengthening-of-social-organizations/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/strengthening-of-social-organizations/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 May 2024 10:21:35 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14309</guid>

					<description><![CDATA[ইসলামী সভ্যতার মৌলিক ভিত্তি হলো সমাজ। আমাদের সমাজ যত বেশি শক্তিশালী হবে, আমাদের ভিত এবং সভ্যতাও ততো বেশি শক্তিশালী হবে। শক্তিশালী হওয়া বলতে শুধুমাত্র বাহ্যিক বা বস্তুগত দিক থেকে শক্তিশালী হওয়া নয়; বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও শক্তিশালী হওয়াকে বুঝায়। আখলাকসম্পন্ন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>ইসলামী সভ্যতার মৌলিক ভিত্তি হলো সমাজ। আমাদের সমাজ যত বেশি শক্তিশালী হবে, আমাদের ভিত এবং সভ্যতাও ততো বেশি শক্তিশালী হবে। শক্তিশালী হওয়া বলতে শুধুমাত্র বাহ্যিক বা বস্তুগত দিক থেকে শক্তিশালী হওয়া নয়; বরং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও শক্তিশালী হওয়াকে বুঝায়।</p>
<p>আখলাকসম্পন্ন একটি সমাজ গঠন এবং আমাদের সামাজিক গঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় প্রয়োজন সেগুলো ৪টি পরিভাষার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশা-আল্লাহ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ আলোচনাকে <strong>৩টি উপমা</strong>র মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। আর, সেগুলো হলো-</p>
<ul>
<li><strong>مثال (মেছাল)-কে উপাখ্যান (fable) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা।</strong></li>
<li><strong>مثال (মেছাল)-কে উপমা বা উদাহরণ এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা।</strong></li>
<li><strong>مثال (মেছাল)-কে  রুপক (metaphor) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা।</strong></li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>এখন এই ৩টি বিষয় ব্যাখ্যা করা যাক-</strong></p>
<h4>مثال<strong> (মেছাল)কে উপাখ্যান (fable) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা-</strong></h4>
<p>হল্যান্ডের খ্যাতনামা লেখক Barnard Mandaville এর সুবিখ্যাত গ্রন্থ হচ্ছে The Fable of Bees। তিনি Ethics এবং Economics এর থিওরিশিয়ান হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। এই গ্রন্থের মূল দর্শন বা ফিলোসোফি হচ্ছে একজন ব্যক্তির খারাপ কাজ মূলত সমাজের কল্যাণ বয়ে আনে; আর এটার উপর ভিত্তি করেই তিনি এই গ্রন্থ রচনা করে। এক্ষেত্রে তিনি আরো একটি বিষয় এই গ্রন্থে উল্লেখ করেন তা হলো- প্রত্যেক মানুষই স্বার্থপর। এটা প্রাকৃতিক বিষয় এবং ফজিলতপূর্ণ বিষয়। তার মতে, সততা, পরার্থবাদিতা এগুলো একটা সমাজকে পিছনের দিকে নিয়ে যায়। আর এই গ্রন্থের মূল থিওরী এটাই।</p>
<p>এমনকি Adam Smith তাঁর উপর প্রভাবিত হয়ে Wealth of Nation গ্রন্থ রচনা করেন।</p>
<p>যাইহোক, বার্নার্ড তাঁর গ্রন্থে উপাখ্যান বর্ণনা করেন; সেটি এমন-</p>
<p>অনেকদিন আগে মৌমাছিদের একটা দেশ ছিল; মৌচাক নামক এই দেশে সবকিছুই খুব সুন্দর ছিল। এখানে পর্বত, চেষ্টা ও সফলতা সবকিছুই ছিল। মৌমাছিরা কাজ, চেষ্টা, পরিশ্রম এবং উৎপাদন করতো ফলশ্রতিতে, শুরুর দিককার সময়ে সবাই খুব সুখী এবং শান্তিতে বসবাস করছিল। এই মৌচাককে আমরা একটি রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করতে পারি; যেখানে মৌচাক নামক রাষ্ট্রের সবাই একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতো; সবাই স্বার্থপর ও হিংসাত্মক মনোভাবী ছিল; একে অপরের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতো; ফলশ্রুতিতে একে অপরের সাথে পূর্ণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মধু উৎপাদন করতো। আর এভাবেই সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা খুব দ্রুতই উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। এই রাষ্ট্রে বসবাসকারী অর্থাৎ মৌমাছিরা নিজেদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার দরুন খুব শক্তিশালী যোদ্ধা তৈরি হতো; ফলস্বরুপ, যোদ্ধারা সকল জায়গায় বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হতো। তবে এই মৌচাক নামক রাষ্ট্রে একটা সমস্যা ছিল সেটা হচ্ছে, আখলাকবিহীনতা। এহেন অবস্থা দেখে রাষ্ট্রের বৃদ্ধ মৌমাছি গুলো ছিল চিন্তায় পড়ে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় অন্বেষী হয়ে উঠে। পরবর্তীতে তাঁরা সবাই সিদ্ধান্ত উপনীত হয় যে, তাঁরা সৃষ্টিকর্তা থেকে আখলাক প্রর্থনা করে বলে, ‘আমাদেরকে আখলাক দাও’ । পরবর্তীতে স্রষ্টা তাদের প্রতি অনুগ্রহ ও দয়া পরবশ হয়ে তাদের আখলাক প্রদান করে।</p>
<p>এমন হওয়ার দরুন পরবর্তীতে অপ্রত্যাশিত একটি ফলাফল আসে; আর সেটা হলো- সবাই আখলাকসম্পন্ন হওয়ার কারণে তাঁদের মধ্য থেকে হিংসাত্মক মনোভাব দূরীভূত হয়ে যায় এবং তাদের মধ্য থেকে লোভ-লালসা চলে যায়। রাষ্ট্র প্রধান কে হবে কিংবা রাষ্ট্র কি উৎপাদন করবে এটা নিয়ে তাঁদের কোন পরিকল্পনা ছিল না। যেহেতু সবাই আখলাক সম্পন্ন তাই যে যার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই উৎপাদন করে। ফলশ্রুতিতে বেকারত্ব এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে তাদের ঐ রাষ্ট্র পতনের দিকে ধাবিত হতে থাকে। যেহেতু একে অপরের সাথে যুদ্ধ, সংগ্রাম, প্রতিযোগিতা বিরত ছিল ফলশ্রুতিতে তাদের মধ্যে উদ্যোগ নেওয়ার যে প্রেরণা তাও হারিয়ে যায়। একইভাবে তাঁরা আখলাক সম্পন্ন হওয়ার কারণে তাদের আর কোনো যোদ্ধারও প্রয়োজন ছিলো না; তাই তারা সেনাবাহিনী কে ও বিলীন করে দেয়। ফলশ্রুতিতে এক সময় তাদের রাষ্ট্রের-ই পতন হয়ে যায়।</p>
<p>এহেন অবস্থায় অন্য একটা মৌচাক নামক রাষ্ট্র তাদেরকে আক্রমণ করে তাদের পরাজিত করে। তাঁদের মধ্য থেকে গুটি কয়েকজন মাত্র আখলাক সম্পন্ন মৌমাছি পালিয়ে অন্য একটি জায়গায় গিয়ে মৌচাক বানিয়ে কোনোমতে জীবন ধারণ করে বেঁচে থাকে।</p>
<p><strong>আর এটি ঐ বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল।</strong></p>
<p>ক্যাপিটালিজম (Capitalism) বা পুঁজিবাদ মূলত এই ধরনের একটা চিন্তার ফসল। ক্যাপিটালিজম এর অর্থ হচ্ছে অসীম উৎপাদন এবং অসীম ভোগ।</p>
<p>ক্যাপিটালিজম (Capitalism) এর মূল ভিত্তি হচ্ছে, তাঁরা তাঁদের একমাত্র প্রতিপাদ্য বিষয় অসীম উৎপাদন অসীম ভোগ কে বাস্তবে পরিণত করার লক্ষ্যে যত ধরনের বীজ আছে সকল কিছুর মূল জেনেটিক্স কে ধ্বংস করে দেয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>مثال<strong> (মেছাল) কে উপমা বা উদাহরণ এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা-</strong></h4>
<p>বিখ্যাত জার্মান ফিলোসোফার নিৎসে-এর একটা কথা আছে, সুপার হিউম্যান বা সুপারম্যান এর মুল কথা হচ্ছে যে, সে মানুষের ফিতরাতগত যে সকল বিষয় এগুলোকে অতিক্রম করে উপরে উঠে। মানবিক বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্তি পেলেই সে স্বাধীন। স্বাধীন হওয়ার জন্য ব্যক্তি নিজেই কাজ করতে হবে অর্থাৎ নিজের তাকদীর বা ভাগ্য নিজেকেই রচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে সামাজিক নয়, ব্যক্তিগত বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>আর এ পরিবর্তনের ধারাকে ৩টি পশুর উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা যায়। পশু ৩টি হলো-</p>
<ul>
<li>১। উট</li>
<li>২। সিংহ</li>
<li>৩। মানুষ</li>
</ul>
<p>&nbsp;</p>
<p>এটা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ উটের পর্যায়ে যতটুকু নেয়া সম্ভব, ততটুকু বোঝা নিবেই সে। সে কোনো ক্রমেই তার জীবন থেকে বা দায়িত্ববোধ থেকে দূরে সরে যাবে না। সকল ধরনের ঝুঁকি গ্রহণ করবে। জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সে প্রচেষ্টা চালায়। এই প্রচেষ্টা তাকে শক্তি দান করে। সে দ্বিতীয় তথা সিংহের স্তরে পৌছাতে না পেরে পরবর্তীতে সিংহের স্তরে উপনীত হতে বোঝা নিয়ে সীমাহীন মরুভূমিতে যাবে। সে যখন সীমাহীন একটা মরুভূমিতে যাবে তখন সে চিন্তা করবে কেন এতগুলো বোঝা বহন করতেছি! কী প্রয়োজনে! এটা ভাবতে ভাবতে দেখবে তার বোঝাগুলো একটা অজগরে রুপান্তরিত হয়ে যায়।</p>
<p>এখন, অজগর ফেলে দিলে তাকে খেয়ে ফেলবে। না ফেললে বোঝার কারণে সে নুয়ে পড়বে। সে ফেলে দেয়ারই সিদ্ধান্ত নেয়। দৃঢ় সিদ্ধাতের মাধ্যমে শক্তি লাভ করে উট সিংহে পরিণত হয়। এখানে সিংহ হলো শক্তি ও বীরত্বের প্রতীক। সে আমাদের আখলাক, ঐতিহ্য এবং ফজিলত সবকিছু ফেলে দিয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠে নিজের মতো সবকিছু গঠন করে।</p>
<p>মানুষ কাজগুলোকে করার জন্য সবকিছুকে ভুলে যাবে অর্থাৎ সে একটা বাচ্চা ছেলে হয়ে উঠে নতুন করে। বাচ্চা হয়ে সকল অতীতকে ভুলে যেতে হবে। আর এখানে শিশুকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ সে এমন একটা প্রাণী তার নিজের নিয়ন্ত্রণ নাই কিংবা কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা; সে যখন ইচ্ছা হাসবে যখন ইচ্ছা কাঁদবে।</p>
<p>বাচ্চা ছেলের উপমা: কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কাউকে মূল্যায়ন করে না। মূল্যবোধ থাকে না। নির্ভয়। নির্ভীক।</p>
<p>এমন হলেই কেবল আমরা নতুন করে যেকোনো কিছু তৈরি করতে পারি। তার যা ইচ্ছা সে তাই করে এটা একটা প্রতীকতা। এটা হলো নিৎসে-এর সুপার হিউম্যান ফিলোসফি।</p>
<p>[এক্ষেত্রে একটি উপমা হলো- একজন রাজা ছিলো। সবাই তাকে ভয় পেতো। সে খুব অহংকার করে বলতো আমাকে ভয় পায় না এমন কে আছে? কিন্তু বলা হলো একজন আপনাকে ভয় পায় না। রাজা বলছে কে সে! তাকে ধরে নিয়ে আসো। নিয়ে আসা হলো। যখন নিয়ে এসেছে তখন দেখে দুই বছরের বাচ্চা ছেলে কেবল আধো আধো কথা বলা শিখেছে। ডাক দেয়া হলো। তখন রাজা বলল সে আমাকে ভয় পায় না সে যা ইচ্ছা তা করতে পারে! তখন উজির বলল দেখেন আপনি আপনাকে কি করে! তখন রাজা শিশুটিকে ডাক দেওয়া হয় এবং বলে এদিকে আসো, সে না গিয়ে কান্না শুরু করে দেয়। আচার চাইলো। তিনি জিজ্ঞেস করে কান্না করো কেন? তুমি আমার কাছে কি চাও? তখন শিশুটি বলে আমি আপনার কাছে আচার চাই। রাজা বলে বিষয়টা খুবই সহজ তো তোমরা আচার নিয়ে আসো; তাকে আচার দাও। তাকে আচার দেয়ার পরে সে আবার কান্না শুরু করে দিয়েছে। আবার জিজ্ঞেস করার পর সে বলল আমি দই চাই। পরবর্তীতে দই নিয়ে আসার পরেও সে কান্না শুরু করে। জিজ্ঞেস করাতে সে বলে তুমি আমাকে দই এবং আচার মিক্সড করে দাও।‌ তাকে সেটা মিক্স করে দেয়ার পরে দুই চামচ খাওয়ার পরে আবার কান্না শুরু করে। এবার জিজ্ঞেস করা সে বলে আমার মিক্স খেতে ভালো লাগছে না আমাকে দই এবং আচার আলাদা করে দাও। রাজা ভাবল, এটা তো সহজ। আবার নিয়ে এলেই হয়। কিন্তু শিশুটি জেদ ধরলো মিক্সড দই-আচারই আলাদা করে দিতে হবে। এটা দেখে রাজা তো আত্মসমর্পণ করে এবং বলে আমি তোমার সাথে পারবো না এবং সে মেনে নেয় যে তার চেয়ে শক্তিশালী কেউ আছে।]</p>
<p>অর্থাৎ সে এভাবে তার জীবন দর্শনকে সুপার হিউম্যান চিন্তা ধারার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু এর সাথে ইসলামের জীবন দর্শনের বা চিন্তাধারা কোন সম্পর্ক নাই।</p>
<p>এর বিপরীতে আমাদের উপমা সম্পর্কে রাসূল (স.) এর হাদীস :</p>
<blockquote><p>&#8220;وَالَّذِي نَفْسُ ‏ ‏مُحَمَّدٍ ‏ ‏بِيَدِهِ إِنَّ مَثَلَ الْمُؤْمِنِ ‏ ‏لَكَمَثَلِ النَّحْلَةِ أَكَلَتْ طَيِّبًا وَوَضَعَتْ طَيِّبًا وَوَقَعَتْ فَلَمْ تَكْسِر ولم تُفْسِدْ&#8221;.</p>
<p>হাদীসের অর্থ- একটি মুমিনের উদাহরণ হল একটি মৌমাছির মত। সে উত্তম জিনিস খায় এবং উত্তম জিনিস উৎপাদন করে। কিন্তু কোন কিছুকে ধ্বংস করে না। এটা হচ্ছে মুমিনের উপমা। উপরের উদাহরণ এবং এই উদাহরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।</p></blockquote>
<p>তিনি তাতে আমাদের চিন্তা দর্শনকে তুলে ধরেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4>مثال<strong> (মেছাল) কে রুপক (metaphor) এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা-</strong></h4>
<p>মৌমাছি ফুলের মূল থেকে মধু খায়।‌ কিন্তু সে ফুলের উপরে বসে মধু আহরণ করলেও ফুল কখনো নষ্ট হয় না। অর্থাৎ সে এমন ভাবে বসে বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না।‌ সে সকল কিছু থেকে উপকৃত হয় কিন্তু কোন কিছুর বিনাশ ঘটায় না। কোথাও কোন কিছুকে ধ্বংস করে না। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এই হাদিসের মাধ্যমে আমাদেরকে বুঝাতে চেয়েছেন প্রকৃতির সাথে আমাদের সম্পর্ক হবে এমন; যেমন সম্পর্ক ফুলের সাথে মৌমাছির।</p>
<p>আল্লাহর সকল নেয়ামত থেকে উপকৃত হবে কিন্তু কোন কিছুকে নষ্ট বা ধ্বংস করবে না। অর্থাৎ রাসূল সা এর সুন্নত অনুযায়ী আমরা সকল কিছু থেকে উপকৃত হব কিন্তু কোন কিছু বিন্দুমাত্র অপচয় করা যাবে না। এর অন্যতম উদাহরণ- ওযু করার সময় পানি নষ্ট না করার আদেশ থেকে পাওয়া যায়। আল্লাহর রাসূল সা এই মেটাফোর এর মাধ্যমে আমাদের জীবন দর্শনকে তুলে ধরেছেন। তিনি একটা মাত্র হাদিসের মাধ্যমেই মুমিনের জীবন দর্শনকে অসাধারণ ভাবে তুলে ধরেছেন।</p>
<p>কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা এই মৌমাছির খাদ্যের মধ্যেও চিনি মিশিয়ে দিয়েছি। ‌মৌমাছি সবচেয়ে সুন্দর ফুল থেকে আমাদের জন্য মধু তৈরি করত কিন্তু আমরা এর পরিবর্তে তাকে চিনি দেওয়ার মাধ্যমে তা থেকে রস বের করে মধু সংগ্রহ করে। অথচ আমরা জানি চিনি সবচেয়ে ক্ষতিকর একটা বিষয়। কিন্তু আমরা মৌমাছি কেও নষ্ট করছি আমাদের নিজেদেরকেও ধ্বংস করছি।</p>
<p>পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, তিনি আমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি চান আমরা যাতে এই পৃথিবীকে বিনির্মাণ করি।‌ অর্থাৎ আমাদের এ পৃথিবীতে আসার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে পৃথিবীকে বিনির্মাণ করা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আল্লাহর রাসূল (সা.) মুমিনদের কেমন হওয়া উচিত তাঁর একটি স্বরুপ তুলে ধরেছেন এই হাদিসের মাধ্যমে এবং এই মহাবিশ্বের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে এই বিষয় তুলে ধরেছেন। আমরা উৎকৃষ্ট জিনিসটি খাবো এবং পান করবো এবং সর্বোৎকৃষ্ট জিনিস উৎপাদন করবো। তবে এ কাজে আল্লাহ আমাদের যে প্রকৃতি দিয়েছেন তার থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করবো। একই সাথে আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুকেই ধ্বংস না করি এবং ফ্যাসাদ সৃষ্টি না করি। কখনোই যেন অপচয় না করি।</p>
<p>এ বিষয়ের স্বরুপ তুলে ধরার জন্য একটি পরিভাষা ব্যবহার করা হয় তা হলো تدبير (<strong>তাদবীর) </strong>। তাদবীর হলো, মানুষ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রকে আকলের মাধ্যমে পরিচালিত করবে এবং ব্যবস্থা তৈরি করবে; এবং একই শব্দমূল থেকে আরো একটা শব্দ আসে তা হলো, تدبر (তাদাব্বুর)। তাদাব্বুর হচ্ছে, সামগ্রিক ভাবে চিন্তা করা। সামগ্রিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন চিন্তাদর্শনকে একত্রিত করে সুন্দরভাবে কোনো একটি দেশ, সমাজ বা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করার নাম তাদাব্বুর।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আখলাকসম্পন্ন ও শক্তিশালী সমাজগঠনের ক্ষেত্রে <strong>চারটি</strong> তাদবীর আছে। যথা:</p>
<ul>
<li>تدبير نفس (তাদবীরে নাফস)</li>
<li>تدبير منزل (তাদবীরে মানজিল)</li>
<li>تدبير مدن (তাদবীরে মুদুন)</li>
<li>تدبير عالم (তাদবীরে আলাম)</li>
</ul>
<h4><strong>তাদবীরে নফস- </strong></h4>
<p>সকল কিছু নফস তথা নিজ থেকে শুরু করা। মানুষ নিজেকে নিজেই পরিচালনা করবে। ব্যক্তি নিজেকে আগে আখলাকসম্পন্ন করবে এবং আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে। কেননা ব্যক্তি নিজেকে পরিচালনা করতে অপারগ হলে কিংবা আত্মা পরিশুদ্ধ না হলে সে সমাজ, পরিবার কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হবে না শুধু বরং একইসাথে সেই পরিচালনা আমানতের খেয়ানতে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে ৩টি পরিভাষার মাধ্যমে নফসকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে-</p>
<p>তাদবীরে নাফসকে আমরা তিনটা পরিভাষার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারি।</p>
<p><strong>১। تحلية (তাহলিয়্যাহ)-</strong></p>
<p>তাহলিয়্যাহ হলো- অপ্রাসঙ্গিকতা, কদর্যতা, অর্থহীনতা, হিংসা- বিদ্বেষ, রাগ-ক্রোধ, গীবত, ইত্যাদি খারাপ সকল বিষয় থেকে মুক্ত কিংবা পরিচ্ছন্ন করা। মানুষের অর্থহীনতা এবং খারাপের দিকে ধাবিতকারী সকল কিছুকে দূরীভূত করা অর্থাৎ কলবকে পরিষ্কার করা।</p>
<p><strong>২। تخلية (তাখলিয়্যাহ)-</strong></p>
<p>তাখলিয়্যাহ হচ্ছে, বিনয়, ভালোবাসা, মহাবিশ্বের প্রতি ভালোবাসা, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ইত্যাদির মাধ্যমে কলবকে পরিপুর্ণ করা। এক্ষেত্রে আমরা আমাদের পরিবারকে প্রাধান্য দিবো এবং মহৎ গুনাবলী দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করা, ফলে পরিশুদ্ধ একটি নফস তথা আত্মার অধিকারী হওয়ার মাধ্যমে একটি উত্তম আখলাকের সৃষ্টি হবে।</p>
<p><strong>৩। تزكية (তাযকিয়্যাহ)-</strong></p>
<p>তাযকিয়্যাহ হচ্ছে, ইবাদতকে ইখলাসের সাথে আদায় করে পরিপূর্ণতার দিকে ধাবিত হওয়া। নামাজ, রোজা, তাহাজ্জুদ এবং তাসাউফী( تصوفي) বিষয়সহ সকল কিছু নফসকে পরিশুদ্ধ করে আখলাক ও আধ্যাত্মিকতসম্পন্ন একজন মানুষে পরিণত করে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আর এভাবেই তাদবীরে নফসের মাধ্যমে নিজেদের পরিচালনাকারী একজন পরিচালক হিসেবে নিজেদের আভির্ভূত করতে পারবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>তাদবীরে মানজিল</strong>&#8211;</h4>
<p>আমাদের হৃদয়, অন্তর আত্মা, কালবকে এসকল সুন্দর বিষয়ের মাধ্যমে পরিপূর্ণ করতে পারি তাহলে দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ তাদবীরে মানজিলে পৌঁছাতে পারবো। অর্থাৎ তাদবীরে নফস ছাড়া তাদবীরে মানজিলে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়।</p>
<p>তাদবীরে মানজিল হচ্ছে, পরিবার গঠন, পরিচালনা। মাওয়াদ্দাত, ইহসান এবং রহমতের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরী ই হচ্ছে তাদবীরে মানজিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে কে পরিবার পরিচালনা করবে (পুরুষ নাকি মহিলা বা স্বামী নাকি স্ত্রী) এই বিতর্কের মুখোমুখি হয়ে থাকি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুধু মাত্র পুরুষ বা শুধুমাত্র নারীকে দেন নি বরং দুইজনের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়েছে এবং উভয়ের উপরই এই দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সৌহার্দপূর্ণতা, ইহসানিয়্যাত-ই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের ক্ষেত্রে মাওয়াদ্দাত, ইহসান এবং রহমতের তাজাল্লী কিভাবে আসবে তা আলোচনার বিষয়বস্তু হওয়া উচিত। তাছাড়া কে পরিচালনা তা মুখ্য বিষয় নয়। অন্যথায় শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহাগ্রন্থ আল কোরআনেও এই বিষয়টির দিকে উল্লেখ করা হয়েছে। ড. আলী সাল্লাবীর মতে, তাদবীরে মানজিল একটি জ্ঞানের আলাদা শাখা।</p>
<p>পরিবার কিংবা সমাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিববারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এ সামগ্রিক বিষয়কে পরিচালনা করার তার নাম হচ্ছে তাদবীরে মানজিল।</p>
<p>ইসলামী সভ্যতার আখলাকবিদগণ পরিবার এবং বিবাহের সম্পর্ককে একটি ভিত্তির উপর দাড় করানোর ক্ষেত্রে চারটি</p>
<p>মূলনীতির উপর জোর দিয়েছেন। যথা:</p>
<p>১. বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।</p>
<p>২. নফস এবং সতীত্বের নিশ্চিয়তা রক্ষা করা।</p>
<p>৩. ভালোবাসা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরস্পরের মধ্যকার সঙ্গতি।</p>
<p>৪. পরস্পরের কাছ থেকে উপকৃত হওয়া (আখলাকী)।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>বিবাহের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে-</p>
<p>১। দ্বীনদারিত্ব</p>
<p>২। বুদ্ধিমত্তা বা আকল</p>
<p>৩। পারস্পরিক সুখ সন্তুষ্টি বা শ্রদ্ধাবোধ</p>
<p>৪। কুফু বা সমতা</p>
<p>বিবাহ কিংবা পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ বিষয়সমূহকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আর বিবাহের এ বিষয়সমূহকে বাস্তবায়নের জন্য মহাগ্রন্থ আল কোরআনে একটি পরিভাষার ব্যবহার করেছেন তা হলো- مثاق غليظة (মিসাকুন গালিজ)। অর্থাৎ এটা এমন একটা চুক্তি যার শর্তসমূহে জটিলতায় ভরপুর। আর এই মিসাক কে আমরা ভালভাবে গ্রহণ করতে পারলে বর্তমান সময়ে কয়েকটি কথা বা শব্দের মাধ্যমে তালাকের মতো এতো বড় বিষয় সম্পন্ন হতো না।</p>
<p>এই মিসাকুন গালিজ একটা চুক্তি হলেও এটা <strong>তিনটা চুক্তির </strong>বা বিষয়ের সম্বন্বয়ে গঠিত। যথা-</p>
<ul>
<li><strong>عهد (আহাদ)</strong></li>
</ul>
<p>স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে আখলাকী চুক্তি অর্থাৎ পরস্পরের প্রতি আখলাকী দিক থেকে দায়িত্ববান হওয়া। একজন আরেকজনের সম্মানকে ক্ষুন্য না করে বরং রক্ষা করবে। আর এ কারণেই পরিবারের ক্ষেত্রে আদালত নয় ইহসান-ই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। কেননা, আদালত হচ্ছে কোনো একটা মন্দ বিষয়কে সমপরিমাণ প্রতিদান দেওয়া। আর ইহসান হচ্ছে এর থেকে ভিন্ন একটা বিষয়। ইহসান পারস্পরিক ক্ষমা, মারহামাতের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাই পরিবারের ক্ষেত্রে আদালত নয় ইহসান হচ্ছে মূল ভিত্তি।</p>
<ul>
<li><strong>عقد (আকদ)</strong></li>
</ul>
<p>মিসাকুন গালিজ এটা হচ্ছে দ্বিতীয় পর্যায় আকদ। আকদ বিবাহের আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। তবে এই আইন দেশভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন হয়। বিবাহের সাথে একে অপর থেকে এই অধিকার পরষ্পর পাবে; আবার, এই বিবাহের সমাপ্তি (তালাক) ঘটলেও এই আইনগত অধিকার নিশ্চিত করবে। আধুনিক সময়ে এসে বিভিন্ন কারণে (আর্থ-সামাজিক, সমাজ পরিবর্তন) নারীরা সমাজের সাথে সম্পৃক্ত। আর এ বিষয়টি সময়ের গতিশীলতা এবং বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত। তবে সেক্ষেত্রে নারী যতক্ষণ পর্যন্ত তার সতীত্ব কিংবা ইজ্জত রক্ষা করে সমাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারবে কিংবা কাজ করতে পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন প্রকার সমস্যা নেই।</p>
<ul>
<li><strong>ميثاق (মিসাক)</strong></li>
</ul>
<p>মিসাকুন শব্দটি আরবী। সিকাতুন থেকে এসেছে। আর এটি স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের উপর গঠিত। আকদের সময় স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যে অধিকার তথা শর্তের কথা বলা হয়ে থাকে এটাই মিসাক। এটা শুধুমাত্র একে অপরকে কথা দেওয়া নয় বরং একইসাথে আল্লাহকেও সাক্ষ্য দেওয়া হয়। আর এই মিসাক স্ত্রীগণ স্বামী থেকে গ্রহণ করবে। এমনকি এ বিষয়টি মহাগ্রন্থ আল কোরআনেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাই নারীদের অবশ্যই এই মিসাক প্রদান করতে হবে। মাঝেমধ্যে অনেক সময় স্বামী- স্ত্রী, নারী বা পুরুষ উভয় এই মিসাকের বিষয়টা ভুলে যাওয়ার কারণে পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়, হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মানুষ তাদবীরে মনজিল অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভউকেই পারিবারিক দায়িত্ববোধ পূরণ করার মাধ্যমেই তৃতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ তাদবীরে মুদুন এ উন্নীত হতে পারবে।</p>
<p>একজন ব্যক্তি যে নিজেকে পরিচালনা করতে পারে না কিংবা পরিবারকেও পরিচালনা করতে পারে না; সে যেন একটা শহরকে বা সভ্যতাকে পরিচালনা করার জন্য প্রচেষ্টা না চালায়। ব্যক্তি নিজেকে এবং তার পরিবারকে পরিচালনা করতে পারার মাধ্যমে সে একটি সভ্যতা কিংবা শহর পরিচালনার অধিকার লাভ করে। আমাদের যে প্রজন্ম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্ত্রীদের উপর দায়িত্ব অর্পনের কারণে সন্তান দেখাশুনা কিংবা পরিবার পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে।</p>
<p>তাদবীরে নফস এবং তাদবীরে মানজিলের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করে জীবন পরিচালনার মাধ্যমে জীবন সুন্দর হয়ে উঠে। অন্যথায়, পারিবারিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>তাদবীরে মুদুন-</strong></h4>
<p>প্রথম এবং দ্বিতীয় পর্যায় অর্থাৎ এই দুই পর্যায় অতিক্রম করার মাধ্যমে তৃতীয় পর্যায় তাকবীরে মুদুন এ উপনীত হতে পারবে।</p>
<p>তাকদীরের মুদুনের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ-</p>
<p><strong>১.عدالة (আদালত)</strong></p>
<p><strong>২. خلافة (খেলাফত)</strong></p>
<p><strong>৩. عمارة (ইমারত)</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>শহর কিংবা সভ্যতা পরিচালনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জাগতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিক থেকে নয় বরং একইসাথে আধ্যাত্মিক দিক বিবেচনার মাধ্যমেই আদর্শ পরিচালক হতে পারবে। একজন শহর-প্রধান ইলেক্ট্রিসিটি, পানি, গ্যাস জাগতিক বিষয়ের সাথে সাথে শহরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে হৃদয়ের যে বন্ধন এটা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, আখলাকে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের মধ্যে কোন না কোন ভাবে উন্নতি ঘটাতে না পারে, তাহলে শহর আলোর মধ্যেও অন্ধকারে পরিণত হবে।</p>
<p>যেমন- শহরে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলে পুরো শহরে যে গুপ্ত নাজির তৈরি হতে কিংবা চুরি হতে খুব বেশি সময় লাগে না।</p>
<p>আমাদের শহরসমূহকে এই জাগতিক বিষয়সমূহের পাশাপাশি যদি ভ্রাতৃত্ব-ভালবাসা, নিরাপত্তা এবং বিশ্বস্ততা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে তাহলে শহরের বিশৃঙ্খলা, ফিতনা, ফ্যাসাদ এগুলো দূরীবিত হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে সেক্ষেত্রে একার পক্ষে শহর কিংবা সমাজ পরিচালনা সম্ভব নয়; এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিবার মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামী ফাউন্ডেশন, এই ধরনের প্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করে সমাজে ঘাটতি নিরাপত্তা এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করতে পারে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<h4><strong>তাদবীরে আ’লাম-</strong></h4>
<p>তাদবীরে আলাম হচ্ছে- সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করা।</p>
<p>আর এটারও দুটো পর্যায় রয়েছে-</p>
<p><strong>০১। الاهية (ইলাহিয়্যাত)- স্রষ্টার দিক থেকে বিশ্বকে পরিচালনা করা।</strong></p>
<p><strong>০২। بشرية (বাশারিয়্যাত)- সৃষ্টির দিক থেকে সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করা।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মহাবিশ্বের একক মুদাব্বির (مدبر) তথা একমাত্র পরিচালক মহান আল্লাহ। আর সমগ্র বিশ্ব তার তৈরীকৃত বিধানের আলোকে পরিচালিত হয়। তিনি মহাবিশ্বের রব হওয়ার কারণে এত সুশৃঙ্খলভাবে সমগ্র বিশ্ব পরিচালনা করতে পারেন। মহান আল্লাহ মহাবিশ্ব এবং প্রাকৃতিকভাবে এই সমগ্র বিশ্ব পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন সব সৃষ্টি করে মানুষের উপর এই পরিচালনা তথা খেলাফতের দায়িত্ব প্রদান করেন। আর তখন থেকেই মানুষের বিনির্মাণের দায়িত্ব শুরু হয়। খেলাফত নিজের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার কোন নাম নয় বরং খেলাফত এই পৃথিবীতে ইমারত এবং বিনির্মাণ করার নাম।</p>
<p>আমাদের মূল দায়িত্বের অন্তর্ভূক্ত ছিল এই পৃথিবীর বিনির্মাণ। কিন্তু তা থেকে আমরা দূরে সরে গিয়েছি। মহাবিশ্ব সৃষ্টি নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা কিংবা আকল প্রয়োগ করি না। ফলশ্রুতিতে, মহান আল্লাহ এই মহাবিশ্বকে পরিপূর্ণ নেয়ামতের মাধ্যমে আমাদের প্রদান করলেও তা আজ সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে। আমরা মানুষ হিসেবে মহাবিশ্বের এতটাই ক্ষতির সম্মুখীন করেছি যে, যার ফলে মহাবিশ্ব আজ আমাদের ধারণ করতে অক্ষম। যেমন- ওজন স্তরের পরিবর্তন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, বন্যা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ইত্যাদি। যা আসলেই আমাদের কাজের ফলাফল। যেমন- বনাঞ্চল কর্তন, নদী-খাল ধ্বংস,   আল্লাহ কোরআনে বলেন- অতিরিক্ত তাপমাত্রা, অতিরিক্ত গরম তা মানুষের কাজের ফসল। অর্থাৎ জেনেটিক্যালী পরিবর্তন সহ সবকিছু কারণে আমরা ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছি। অর্থাৎ মানুষ কলব পরিশুদ্ধ এবং আখলাককে বিনির্মাণ করতে না পারার কারণে এই সকল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যে তার নিজের নফসকে পরিচালনা করতে পারে না সে পরিবারকে পরিচালনা করতে পারেনা। যে তাদবীরে মানজিলের মাধ্যমে পরিবার পরিচালনা কিংবা পরিবারে ইহসান প্রতিষ্ঠা করতে পারে না তার জন্য একটি শহর পরিচালনা করা অসম্ভব। আর যে একটি শহর বিনির্মাণ করতে পারেনা তার জন্য একটি দুনিয়া বিনির্মাণ করা অসম্ভব। এজন্য আমাদের কাজ আমাদের নফসকে বিনির্মাণ করা এরপর পরিবারকে বিনির্মাণ করা এবং পরবর্তীতে শহরকে বিনির্মাণ করতে পারি তাহলে আমরা এই দুনিয়াকে বিনির্মাণ করতে পারবো।</p>
<p>আমরা যদি একটি দুনিয়া বিনির্মাণ করতে চাই, আখলাকসম্পন্ন সমাজ গঠন করতে চাই এবং আমাদের সমাজিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে চাই তাহলে ইসলামী চিন্তাবিদ গণ কর্তৃক দেওয়া ৪টি তাদবীরকে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে বাস্তবায়ন করা আমাদের উপর কর্তব্য। আর আখলাকসম্পন্ন একটি সমাজ গঠনের জন্য এই মুলনীতিসমূহ আবশ্যক। অন্যথায় আখলাকসম্পন্ন সমাজ গঠন সম্ভব নয়। আল্লাহ আমাদের ব্যক্তি, পারিবারিক, সমাজ এবং রাষ্ট্র জীবনে এগুলো বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুক। আমিন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/strengthening-of-social-organizations/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14309</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইতিহাসের বহমান ধারায় মুসলিম নারীদের সামাজিক জীবন</title>
		<link>https://rowyakbd.com/social-life-of-muslim-women-in-current-trends-of-history/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/social-life-of-muslim-women-in-current-trends-of-history/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 24 May 2024 09:44:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইতিহাস]]></category>
		<category><![CDATA[সমাজ ও সংস্কৃতি]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14302</guid>

					<description><![CDATA[সৃষ্টির প্রথম মানবযুগল আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে নারীকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে সুমহান বার্তা, খিলাফত ও ইমারতের দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়কে আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদায় আসীন করেছে যে ইলাহী নূর, তার নাম ইসলাম।]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সৃষ্টির প্রথম মানবযুগল আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) থেকে শুরু করে যুগে যুগে নারীকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যে সুমহান বার্তা, খিলাফত ও ইমারতের দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়কে আশরাফুল মাখলুকাতের মর্যাদায় আসীন করেছে যে ইলাহী নূর, তার নাম ইসলাম। ইসলামে মর্যাদার দিক দিয়ে পুরুষের থেকে একজন নারীকে কখনোই ভিন্ন করে দেখা হয়নি। বরং নারীকে পুরুষের সমমর্যাদায় এবং সম্মানের সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। অন্যান্য ধর্ম ও সভ্যতা যেখানে নারী-শিক্ষার কোনো অধিকারই স্বীকার করেনি, ইসলাম সেখানে নারীশিক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। তথাকথিত আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বও যেখানে নারীশিক্ষাকে ঘৃণার চোখে দেখতো প্রথমদিকে, তার বিপরীতে ইসলাম একেবারে শুরু থেকেই নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষার সমান অধিকার ঘোষণা করে এসেছে। ইসলামের আগমনেই নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অবহেলিত নারী সমাজ পেয়েছে মুক্তির সন্ধান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইতিহাসের নানা পটভূমিকায় সামাজিক জীবনে মুসলিম নারীদের পদচারণা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ছিলো। ইসলামী সভ্যতায় সামাজিক জীবনে নারীদের অবস্থান কেমন ছিলো, তা নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে প্রাক- ইসলামী যুগের বিভিন্ন সভ্যতায় নারীদের সামাজিক অবস্থান কেমন ছিলো তা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আসি। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নারীদের অবস্থান সমসময় পুরুষের নিচে ছিলো। নারীদেরকে পুরুষদের তুলনায় একধাপ নিচে গণনা করা হতো।</p>
<p>এশিয়া মহাদেশের ইতিহাস পর্যবেক্ষণে প্রাচীন চীন সভ্যতার ইতিহাস থেকে জানা যায়, তৎকালীন নারীদের সামাজিক অবস্থা কতটা করুণ ছিলো। নারীকে একটি আলাদা সত্তা হিসেবে মূল্য দেওয়া হতো না। ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হতো না বলে তাদের নামও দেয়া হতো না। <strong>চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের মতে, পুরুষদের ওপরে নারীদের কোনো কর্তৃত্ব বা অধিকার থাকতে পারে না। কারণ নারীরা যদি পুরুষের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়, তা অপকার বয়ে আনবে। পরিবারে একজন নারীর মর্যাদা ছিলো দাসীর সমতুল্য। ভারতীয় উপমহাদেশের চিত্রও অনেকটাই এমন ছিলো। প্রাচীন ভারতে নারীদেরকে দুর্যোগ বা অশুভ কিছুর চিহ্ন হিসেবে দেখা হতো। হিন্দুসমাজের &#8216;সতীদাহ&#8217; প্রথা প্রমাণ করে দেয়, নারীর অবস্থা সেখানে কতটা করুণ। পারস্য এবং রোমান সভ্যতায় বিতর্ক হতো নারীরা মানুষ কিনা, তা নিয়ে। নারীকে মনে করা হতো সকল অনিষ্টের মূল এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি।</strong> <strong>ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মে নারীকে অভিশপ্ত মনে করা হতো</strong>, <strong>ক্ষেত্রবিশেষে এখনও হয়। নারীর দেহে রূহ আছে কি-না, এ নিয়েও ছিলো তুমুল তর্ক-বিতর্ক। ইহুদিদের সাহিত্যে প্রচলিত আছে যে,</strong> <strong>তারা ঘুম থেকে উঠে তাদের রবের প্রতি শুকরিয়া আদায় করতো কারণ তিনি তাদেরকে নারী হিসেবে সৃষ্টি না করে পুরুষরূপে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। ইহুদি ধর্মে নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া পর্যন্ত নিষেধ।</strong> শুধুমাত্র গৃহস্থালি কাজকর্মেই তাদের আবদ্ধ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র ভরণপোষণ পুরুষের দায়িত্ব বিধায় শুধুমাত্র পুরুষই ঘরের বাইরে অবাধে বিচরণ করতে পারবে। সম্পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে কাজ করতে পারবে। কিন্তু নারী তো আলাদা কোনো সত্তা নয়, তার জন্মই যেন হয়েছে শুধু পুরুষের সেবা করার জন্য। এমনকি নারীরা ধর্মীয় কাজ বা অনুষ্ঠানাদিতে অংশগ্রহণের জন্যও বাইরে যেতে পারবে না। যদি বা যায়ও তবে এমন জায়গায় অবস্থান করবে যেখানে তাদের অবস্থান পুরুষের সমতুল্য না দেখায়। ক্যাথলিক খ্রিস্টানরীতি অনুযায়ী নারীদের সাথে এক সভায় বসে এক টেবিলে খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ এবং এটি এখনও বহুল প্রচলিত। খ্রিস্টান থিওলজিতে হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)- কে নিয়ে যেভাবে ঘটনা বিবৃত করা হয়েছে সেখানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে দেখা যায়, সম্পূর্ণ দোষ হযরত হাওয়া (আ.) এর উপর বর্তানো হয়েছে। <strong>সেখানে বলা হয়েছে মূলত, তিনিই হযরত আদম (আ.)-কে নিষিদ্ধ ফল খেতে প্ররোচিত করেন। আর একারণেই আল্লাহ তায়ালা হাওয়া (আ.)- কে শাস্তিস্বরূপ প্রতিমাসে মাসিকের যন্ত্রণা ও সন্তান প্রসবের মতো কষ্টকর যাতনা দান করেছেন।</strong></p>
<p>ইউরোপিয়ান সভ্যতা- যারা নিজেদেরকে আজ সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে জাহির করতে চায়, জোরপূর্বক এ দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, সেই তথাকথিত আধুনিক পশ্চিমা বিশ্বের নারীরাও নিগ্রহ-নির্যাতনের স্বীকার হয়ে এসেছে এতকাল। আর এখন পণ্যরূপে তাদেরকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। মুখেই শুধু স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের অস্তিত্বকে নষ্ট করা হচ্ছে। আমাদের সমাজে এখনও এসব ভ্রান্ত ধারণা বহুল প্রচলিত- যার সংক্ষিপ্ত ভূমিকা শেষে আলোচনা করবো। এখন আসি, সেই সোনালী গৌরবময় মুসলিম সভ্যতায় নারীদের অংশগ্রহণ কেমন ছিলো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মহান রাব্বুল আলামীন বলেন, &#8220;আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণতা দান করলাম। তোমাদের জন্য আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করলাম।&#8221; এর মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করেছেন। ইসলাম সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ও পরিবর্ধনের ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। নারী ইস্যুতে ইসলামের আগমনের পর আরব সংস্কৃতিতে নারীদের ব্যাপারে  যে সকল প্রথা প্রচলিত ছিলো, সেগুলোর কোনোটাকে সংস্কার করেছে, কোনোটাকে পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার পন্থা বেছে নিয়েছে।</p>
<p>ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি একজন নারী। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওহী প্রাপ্তির পর বিবি খাদিজাই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। পরিবার-পরিজন আত্মীয়স্বজন সকলের তোপের মুখে পড়েও নারীরা তৎকালীন সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। শত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েও ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি। অটল-অবিচল থেকেই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। <strong>রাসূল (স.) এর হিজরতের পূর্বে যে বাইয়াত সংঘটিত হয় সেখানে পুরুষ সাহাবীদের পাশাপাশি নারী সাহাবীরাও বাইয়াতে যোগ দেন এবং তারা সেখানে পুরুষের ন্যায়ই সরব ছিলেন। ঠিক এভাবেই সকল সংগ্রামে পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নারীরাও সব ধরনের বাধা-বিপত্তিকে জয় করে আমরণ সংগ্রামের অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেছিলেন।</strong></p>
<p>আল্লাহর রাসূল (স.) যে সকল ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো নারীদের ক্ষেত্রে আনিত বিপ্লব। আল্লাহর রাসূল নারীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সব সময় সুন্দর আচরণ করেছেন এবং তাদেরকে কখনোই কঠোরতা প্রদর্শন করেননি। এ মূলনীতি অনুসরণ করার জন্য তিনি পুরুষদেরকে সবসময় সতর্ক করেছেন। আল্লাহর রাসূল নারীদের ক্ষেত্রে এ অবস্থান গ্রহণ করার ফলে নারীরা সেসময়ে দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন, তারা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন। একইভাবে যখন প্রয়োজন হতো, তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। জাহেলি যুগে নারীদের অঙ্গপ্রদর্শনের যে বিষয়টি ছিলো, সেটিকে বাতিল করে ইসলামের শালীনতা-লজ্জাশীলতাকে সামনে এনে পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ইতিহাস বিশ্লেষন করলে দেখি, নববী যুগের পরে সাহাবী এবং তাবেয়িদের সময়ে নারীদের যে প্রাপ্য অধিকার তা ধীরে ধীরে হাতছাড়া হতে থাকে। আর এ বিষয়টি ত্বরান্বিত করে আল্লাহর রাসূলের ওফাত, কেননা আল্লাহর রাসূল না থাকার অর্থ হচ্ছে ওহীও আর আসেনি বা ওহীর আসার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একটি হাদীস এ চিত্র আমাদের সামনে সুন্দরভাবে তুলে ধরে। তিনি বলেন,</p>
<blockquote><p>&#8220;আল্লাহর রাসূলের ওফাতের পূর্বে আমরা নারীদেরকে কখনোই গালিগালাজ করতাম না, প্রহার করতাম না- এই ভয়ে যে, আমাদের উপর কোনো আয়াত নাজিল হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মৃত্যুবরণ করার পর আমরা আমাদের আগের অভ্যাসে ফিরে যাই।&#8221;</p></blockquote>
<p><strong>হযরত ওমর (রা.) সব সময় সরাসরি বলতেন যে, তিনি নারীদের মসজিদে যাওয়া পছন্দ করতেন না। কিন্তু তারপরও নারীরা মসজিদে যেতেন, এমনকি ওমর (রা.)-কে যখন শহীদ করা হয়, তার স্ত্রী আতিয়া তখন মসজিদে ছিলেন। এ বিষয়টি দেখায় যে, নারীরা ধীরে ধীরে তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলে। যেহেতু সেটি খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ ছিলো, সেখানে সামান্য কিছু সমস্যা হলেও সে সময় নারীরা খুব বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আল্লাহর রাসূল কর্তৃক যে অধিকার দেয়া হয়েছিলো, সেটি পালন করতে এবং সে আলোকে তাদের জীবনধারাকে অতিবাহিত করতে পেরেছিলো। কিন্তু চার খলিফার পরে বিশেষ করে উমাইয়া এবং আব্বাসীয়দের সময়ে নারীদের সামাজিক অবস্থান আস্তে আস্তে নিচে নামতে থাকে। এ সময়ে নারীরা গৃহস্থালির কাজে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে।</strong> তবে এখানে একটি বিশেষ ব্যপার আছে যেটি আমাদের জন্য উদাহরণ হতে পারে, বিশেষ করে যারা স্বাধীন এবং ধনী নারী ছিলেন, তারা নিজেদের অধিকার জানার কারণে ব্যতিক্রম একটি ধারা তৈরি করেন। এক্ষেত্রে ইসলাম প্রদত্ত জীবনধারাকে ধারণ করে তারা তাদের জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন। এ সময়ে যারা সুলতানের স্ত্রী বা মেয়ে ছিলেন তারা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব রাখেন এবং বিভিন্ন ঘটনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। উমাইয়া শাসনামলে বিভিন্ন বিজয়াভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন নতুন ভূমি বিজয় করতে থাকে এবং ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বিভিন্ন জায়গায় শহরের সৃষ্টি হয়; যেখানে নারীরা সামাজিক জীবন থেকে ধীরে ধীরে গৃহের জীবন এবং গৃহস্থালির কাজ কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের কিছুটা পার্থক্য হলো- গ্রামের নারীরা গরু-বাছুর পালন ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত থাকতো।</p>
<p>আমাদের রাসূল (স.) সবসময় নারীদের যথাযোগ্য সম্মান করেছেন এবং তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করেছেন। কখনোই তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেননি; বরং সকলকে এ সম্পর্কে সতর্ক করে গিয়েছেন। মূলত পয়গাম্বর রাসূল (স.)-এর হাত ধরেই নারীদের সম্মানের পুনঃবিনির্মাণ ঘটে। নারীর সেই মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ওমর (রা.) এর ছেলে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর বলেছিলেন, তারা তাদের স্ত্রী-কন্যাকে গালি দিতে বা প্রহার করতেও ভয় পেতেন, যদি আল্লাহর তরফ থেকে কোনো আয়াত নাজিল হয়ে যায়। কিন্তু রাসূল (স.) এর মৃত্যুর পর কালক্রমে নারীরা আবারও তাদের অধিকার ও সম্মান থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। মূলত উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের সময় থেকে নারীদের সামাজিক অবস্থানের ধীরে ধীরে অবনতি ঘটতে থাকে।</p>
<p>ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যকে পরিগ্রহ করার পর মুসলমান নারীদের জীবনে এক ধরনের ভিন্নতা আসে। আমি বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন সংস্কৃতির আলোকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চাই। এ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে বিভিন্ন রাষ্ট্রের ইসলাম গ্রহণ করা বা ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া। নারীদের ব্যাপারে  ইসলামের যে ধারণা এটি তুর্কিদের সংস্কৃতির সাথে মিলে যায় এবং অন্য জাতির সাথে তাদের ভিন্নতা ছিলো যে তারা নারী-পুরুষকে সমান চোখে দেখতো। যেমন সেলজুক রাষ্ট্র এর মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তুরস্কের সেলজুক ও মামলুকি রাষ্ট্র এবং উসমানীয় খেলাফত ইসলামী জীবনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলো। সেসময় নারীদেরকে পুরুষদের সমমর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়। ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তারা লেখাপড়ার পাশাপাশি পুরুষদের ন্যায় বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত হয়ে সমাজ গঠনে অভাবনীয় ভূমিকা পালন করে গেছেন। তুরস্কের হাত ধরেই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামী বিপ্লবের সূচনা ঘটে। ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক সব অঙ্গনেই নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচিহ্ন রাখতে দেখা যায়।</p>
<p>উসমানী খেলাফতের শুরুর দিককার সময়ে মুসলমান নারীরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। এ সময়ে সুলতানের মেয়েরা বা মায়েরা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে, বিভিন্ন সময়ে সুলতানদের ব্যর্থতায় নারীরা দায়িত্ব পালন করেছিলো। তখনকার সময়ে শহরের নারীদের চাইতে গ্রামের নারীরা বেশি স্বাধীন ছিলো। একজন পুরুষ একইসাথে চাষাবাদ করবে, আবার ফসল তুলে আনবে, আবার অন্যান্য কাজ করবে, এটি সম্ভব নয়। তাই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এসব কাজ করতো। আবার উসমানীয়দের সময়ে কাজের ক্ষেত্রে নারীরা একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভ করে এবং তাদের কার্যক্রম আরও বেশি বৃদ্ধি করে। এ সময়ে নারীগণ শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, বিভিন্ন উচ্চতর প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষা লাভ করেন। বিভিন্ন নারী সংগঠন, নারী কর্তৃক প্রকাশিত ম্যাগাজিন এ সময়ে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুসলমান নারীগণ এ সময়ে আরও অনেক পেশায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করতে শুরু করে। যেমন &#8211; শিক্ষক, ব্যবসায়ী, নার্স, গাইনী, সুরকার, লেখক, সাংবাদিক ইত্যাদি।</p>
<p>কালানুক্রমিকভাবে দেখলে, মামলুকি রাষ্ট্রটি ইসলামী রাষ্ট্র ছিলো। নারীদের ব্যাপারে  তাদের অনুশীলনের মাঝে ভিন্নতা দেখতে পাই। সে সময়ের গ্রাম বা শহরের নারীদের ব্যাপারেখুব একটি তথ্য-প্রমাণ না থাকলেও রাজপ্রাসাদ বা রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলোর ক্ষেত্রে নারীগণ খুব সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। সুলতানদের স্ত্রী এবং মেয়েরা রাজনীতিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ও ভূমিকা রাখতে পেরেছে। তবে এ সময় নেতিবাচক কিছু কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে। সুলতান বাইবার্সের শাসনামলে এক কঠিন মহামারির আবির্ভাব দেখা দেয়। এবং তৎকালীন আলেমগণ ফতোয়া দেন যে, নারীদের অবাধ চলাফেরা, অশালীন আচরণ ও বেহায়াপনাই এ দুর্যোগের একমাত্র প্রধান কারণ। তখন সুলতান বাইবার্স বাধ্য হয়ে নারীদের রাস্তায় বের হওয়া নিষিদ্ধ করে দেন।</p>
<p>আন্দালুসিয়ার নারীরা তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের তুলনায় জ্ঞান ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে অনেক সমৃদ্ধ ছিলো। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সবাই আন্দালুসিয়ায় জ্ঞান অন্বেষণের হেতু ছুটে আসতো। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, সেখানকার নারীগণ জ্ঞান, রাজনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে আলাদা একটি শ্রেষ্ঠত্বের জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলো। তারা বিবাহ, ডিভোর্স, জ্ঞান ও সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের নারীদের তুলনায় অগ্রগামী ছিলেন। আন্দালুসিয়ার মুসলিম নারীরা সে সময়কার ইউরোপীয় খ্রিস্টান নারীদের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগামী ছিলো। আন্দালুসিয়ায় তখন সংস্কৃতি ছিলো যে, বিয়ের পূর্বে নারীরা কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতো, ইমাম মালিকের মুয়াত্তার বড় একটি অংশ মুখস্থ করতো। আন্দালুসিয়ার জ্ঞানগত মর্যাদা এতটাই উচ্চ ছিলো যে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার মানুষ এখানে আসতো জ্ঞান অর্জন করতে এবং এখানকার পরিবেশ থেকে উপকৃত হতে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আধুনিক সময়ে এসে মুসলমান নারীগণ পাবলিক প্লেসে আরেকটু বেশি অধিকার লাভ করেছে এবং তাদের দৃশ্যমান ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা ম্যাগাজিন, বিভিন্ন বই পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি মাধ্যমে তাদের চিন্তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ সময়ে এসে নারীদেরকে আগের বিভিন্ন সংজ্ঞায়নের মধ্য দিয়ে পরিচিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নারীদেরকে কীভাবে তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়া যায় এটি নিয়ে আলোচনা করার পরিবর্তে বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়গুলো যেমন নারীদেরকে সাক্ষ্য দানের বিষয়, বিবাহের বিষয়, অল্প বয়সে মেয়েদেরকে বিবাহ দেওয়ার বিষয় এবং আঞ্চলিক যে বিষয়গুলো, এছাড়া মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারবে কিনা এ ধরনের বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বেশি আলোচনা করা হয়েছে, সমাধানের পরিবর্তে। এ সকল সমস্যা ইসলামের মধ্যে সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়; বরং প্রাচ্য থেকে কিংবা পাশ্চাত্য থেকে হোক ঐ সময় ও সমাজের ঐতিহ্যগত বিভিন্ন সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত করে এগুলো দেখানো হয়েছে। এছাড়া এগুলোর সাথে ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। একইভাবে আমরা যদি দেখি মুসলিম নারীগণ রাজনৈতিক বা অন্যান্য ক্ষেত্রে নয়; বরং ইতিহাসের বিভিন্ন গতিধারায় জ্ঞানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন বিভিন্ন সময়। কিন্তু নারীদের এ অবদানটাকে সাহিত্যে খুব বেশি জায়গা দেওয়া হয়নি। আমার মতে সাহিত্যের ক্ষেত্রে পুরুষগণ বেশি প্রভাবশালী থাকার কারণে নারীদেরকে তারা বেশি জায়গা দেয়নি। আরেকটি কারণ হচ্ছে যে, নারীদের সামাজিক জীবনে সক্রিয় না হওয়া। তবে সাহিত্যে নারীদের নাম থাকুক আর না থাকুক এর মানে এ নয় যে ইসলামী সমাজে ও সভ্যতায় নারীদের অবদান ছিলো না। বরং আমরা যদি ইসলামের সামগ্রিক ব্যাখ্যা করি তাহলে দেখতে পাই যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলিম নারীদের ভূমিকা ছিলো এবং তারা এক্ষেত্রে অনেক বড় বড় অবদান রেখেছেন। অতীতে লিখিত না হলেও অনেক ডকুমেন্ট আছে যেগুলো দিয়ে ইসলামে নারীদের যে অবদান এবং ভূমিকা এটি তুলে আনা সম্ভব এবং আমি মনে করি, এসব সোর্স থেকেও ডকুমেন্ট বা লিখিত আকারে এ বিষয়গুলো আপনারা তুলে আনতে পারেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমি ইসলামে নারীদের অবদান কেমন ছিলো এ সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু ভারত উপমহাদেশের যে সভ্যতা সেখানে নারীদের ভূমিকা কেমন ছিলো এ ব্যাপারে আমি বেশি কিছু জানি না, কিন্তু আপনাদের এটি দায়িত্ব যে ভারত উপমহাদেশে নারীদের সামাজিক অবস্থা কেমন ছিলো তা নিয়ে গবেষণা করা।</p>
<p>যুগে যুগে নানান ফতোয়া পেশ করে, আল্লাহ-রাসূলের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা, ভুল-ভাল ধর্মীয় বয়ানের মাধ্যমে ইসলামকে অন্যভাবে তুলে ধরে নারীদেরকে দাবিয়ে রাখার, পশ্চাদপদ করে রাখার অবিরাম চেষ্টা করে গেছে তথাকথিত আলেম ও মাওলানা সমাজ; যা আজও দ্রুতবেগে চলমান। তাই নারীরা আজও পুরুষের তুলনায় কয়েকগুণ পিছিয়ে রয়েছে। তাদেরকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, বলতে গেলে বাধ্য করা হয়েছে। নারীরা তাই তাদের অধিকার সম্পর্কে অনবগত। তাদের আত্মপরিচয় সম্পর্কে সন্দিহান ও বিভ্রান্ত। নারীকে হয় একেবারে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে, গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। নয়তো পণ্যরূপে দুনিয়ার সামনে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। আর তাই তাদের আত্মবিশ্বাস আজ যেন সমাজের অবহেলায়-অনাচারের পদতলে প্রায় পিষ্ট।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>ইসলাম নারীদের কতোটা মর্যাদা-সম্মান দিয়েছে, মূল্য দিয়েছে সেটিই ছিলো আমাদের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। বিভিন্ন সভ্যতায় নারীর অবস্থান কেমন ছিলো সে বিষয়েও আমরা আজ সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুস্পষ্ট একটি ধারণা পেলাম। আমরা সবাই মিলে বা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করবো এ বিষয়গুলো জানার। নিজেদের প্রকৃত অবস্থান, প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হলে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস সম্বন্ধেও জানতে হবে। আত্মপরিচয় উপলব্ধির প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে। এটি এখন আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আপনারা সবাই আশা করি আমার এ কাজে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ সাহায্য করার চেষ্টা করবেন, তবেই আমি কৃতার্থ থাকবো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/social-life-of-muslim-women-in-current-trends-of-history/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14302</post-id>	</item>
		<item>
		<title>হযরত আয়েশা (রা.) এর ইলমী হায়াত</title>
		<link>https://rowyakbd.com/ilmi-hayat-of-hazrat-ayesha-ra/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/ilmi-hayat-of-hazrat-ayesha-ra/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 22 May 2024 17:34:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ব্যক্তিত্ব]]></category>
		<category><![CDATA[আয়েশা]]></category>
		<category><![CDATA[আয়েশা (রা)]]></category>
		<category><![CDATA[ইলম]]></category>
		<category><![CDATA[ইসলাম]]></category>
		<category><![CDATA[জ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[মক্কা]]></category>
		<category><![CDATA[মদীনা]]></category>
		<category><![CDATA[রাসূল]]></category>
		<category><![CDATA[শিক্ষা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=14295</guid>

					<description><![CDATA[বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। সালাম এবং দরূদ মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি। এই প্রবন্ধে আমি কেবল উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.)-এর গতানুগতিক জীবনচরিত নিয়ে নয়, বরং তাঁর জ্ঞানগত যে জীবনী, তিনি কীভাবে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং এজন্য কীভাবে তাঁর জীবনকে অতিবাহিত]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><strong>বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।</strong></p>
<p>সালাম এবং দরূদ মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি। এই প্রবন্ধে আমি কেবল উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা.)-এর গতানুগতিক জীবনচরিত নিয়ে নয়, বরং তাঁর জ্ঞানগত যে জীবনী, তিনি কীভাবে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং এজন্য কীভাবে তাঁর জীবনকে অতিবাহিত করেছেন, সেসব নিয়ে আলোকপাত করব।</p>
<p>আয়েশা (রা.) পিতা আবু বকর (রা.) এর ঔরসে এবং মাতা উম্মে রুম্মান (রা.)-এর গর্ভ থেকে দুনিয়াতে আগমন করেন। রাসূল (সা.)-এর নিকট ওহী আসার ৫-৬ বছর পূর্বে তাঁর জন্ম। আমি এটা বিশেষভাবে উল্লেখ করছি এজন্য যে, অনেকেই বলে থাকেন আয়েশা (রা.) আল্লাহর রাসূলের (সা.) নবুয়াত প্রাপ্তির পর জন্মগ্রহণ করেন। এমনকি ৬ বছর বয়সে তাঁর আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে বিয়ে হয় এবং ৯ বছর বয়সে তাঁর সংসার শুরু করেন। আমি এটা সঠিক মনে করি না এবং এর বিরোধিতা করি। <strong>আমি আমার গবেষণার মাধ্যমে আমি প্রমাণ করতে পারবো যে, ছয় বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়নি। যেহেতু তিনি নবুয়তের ৫-৬ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন, এজন্য তিনি যখন আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং সংসার শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৮-২০ বছর।</strong></p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর পিতা আবু বকরের (রা.) নিকট হতে শিশুকাল থেকেই অনেক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন‌। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে কবিতা, সাহিত্য ও বংশ সংক্রান্ত জ্ঞান। কারণ আবু বকর (রা.) তৎকালীন সময়ে এইসকল বিষয়ে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। শুধু তাই নয়, এইসকল বিষয়ে আবু বকরকে (রা.) মক্কায় পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হতো।</p>
<p>আয়েশা (রা.) প্রথম যুগে ঈমান আনয়নকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কারণে তিনি তাঁর পিতা আবু বকর (রা.) -এর নিকট থেকে কোরআন এবং ওহী সংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর বাবার কাছ থেকে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত শুনে যেসকল আয়াতকে বুঝতে পারতেন না, সেগুলো সম্পর্কে আবু বকর (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করতেন। <strong>আবু বকর (রা.) জবাব দিতে না পারলে তিনি সরাসরি হযরত পয়গম্বরকে (সা.) জিজ্ঞাসা করতেন, অথচ তখন তাঁর বয়স ছিলো খুবই কম। আর এটি সহজ ছিলো কারণ তাদের ঘর, হযরত পয়গম্বরের (সা.) ঘরের খুবই নিকটবর্তী ছিলো।</strong></p>
<p>আয়েশা (রা.) হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সাথে মদিনায় হিজরতের পরপরই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর জ্ঞানগত জীবন বলতে আমরা যা বুঝি অর্থাৎ তাঁর জ্ঞানের যে সফর; এই সফর পয়গম্বর (সা.)-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর জ্ঞানার্জনের মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। সর্বক্ষণ হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সাথে অতিবাহিত করার কারণে তিনি তাঁর এই সময়গুলোকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগান। তাঁর হায়াতের সমগ্রটাই তিনি এভাবে জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যয় করেন এবং এই জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষক ছিলেন রাসূ্লে আকরাম (সা.) স্বয়ং নিজে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আয়েশা (রা.)-র এই জ্ঞান অর্জন করার পিছনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করে সেটি হচ্ছে- “সুফফা”। আল্লাহর রাসূল (সা.) যেখানে নিয়মিত সাহাবীদের সাথে জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন; তা ‘সুফফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলো। সেই সুফফাটি ছিলো হযরত আয়েশার (রা.) ঘরের পাশেই। আর এই কারণে রাসূল (সা.) সাহাবীদের সাথে যেসকল আলোচনা করতেন এবং সাহাবীরা তাদের নিজেদের মধ্যেও যেসকল বিষয় আলোচনা করতেন, সেইসকল বিষয় থেকে তিনি উপকৃত হতে পারতেন। ঐ <strong>সুফফা ছিলো মূলত মদিনার বিশ্ববিদ্যালয়।</strong> আল্লাহর রাসূল (সা.) সমগ্র মানবতাকে জ্ঞান এবং তাঁর উপর নাজিল হওয়া মৌলিক বিষয়সমূহ সমগ্র মানবতাকে শিক্ষা দিয়েছেন; এই সুফফার মাধ্যমেই। <strong>সুফফায় যেসকল বিষয়ে দারস হতো আয়েশা (রা.) তাঁর ঘর থেকে সেগুলো শুনতেন। আবার কখনো কখনো তিনি সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত হতেন। যেসব বিষয় তিনি বুঝতে পারতেন না, সেসব বিষয় তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রাসূল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করতেন। আবার নিজেও সেগুলোর গভীরতা নিয়ে গবেষণা করতেন।</strong> হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সবচেয়ে নিকটবর্তী যে শিক্ষার্থীগণ ছিলেন, তাদের মধ্যে হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন অন্যতম।</p>
<p>কোরআনের আয়াত সমূহও না বুঝতে পারলে তিনি আল্লাহর রাসূলকে (সা.) জিজ্ঞাসা করতেন। এই জিজ্ঞাসাকে তিনি একটা সংস্কৃতিতে পরিণত করেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) যখন সময় পেতেন, তখন তিনি (আয়েশা) নিজে আল্লাহর রাসূলের (সা.) সাথে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত নিয়ে আলোচনা করতেন, মুতালাআ’ করতেন। হযরত আয়েশার (রা.) জন্য জ্ঞান সহজকারী বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আয়েশার (রা.) কোনো প্রশ্নকেই আল্লাহর রাসূল (সা.) জবাবহীন রাখতেন না। হযরত আয়েশার (রা.) প্রশ্নগুলো কখনোই শেষ হতো না, কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সা.) কখনোই বিরক্ত না হয়ে তাঁর সকল প্রশ্নের সুন্দরভাবে জবাব দিতেন। এমনকি রাত্রিবেলায় যখন একসাথে কোথাও যেতেন, তখনও এই সংক্রান্ত বিষয় নিয়েই তথা জ্ঞানগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন।</p>
<p>এটা বললে অতিরঞ্জিত হবে না যে, সেই কঠিন সংগ্রামের সময়েও হযরত আয়েশার (রা.) জ্ঞানের প্রতি যে আকর্ষণ ও প্রচেষ্টা ছিলো, সেটা অন্য কোনো সাহাবীর মাঝে ছিলো না। একইভাবে হযরত পয়গম্বরের (সা.) মতোও কোনো শিক্ষক ছিলেন না, যারা নবুয়তের কঠিন দায়িত্ব পালনকালেও এত ধৈর্য্যের সাথে তাঁর স্ত্রীর সকল প্রশ্নের জবাব দিতেন। হযরত আয়েশা (রা.) এইভাবে নববী একটি ঘরে প্রতিপালিত হন এবং আল্লাহর রাসূলের (সা.) নিকট থেকে ইসলামের মূলনীতিসমূহকে নিয়ে সেগুলো অন্যান্য মুসলিম নারীদের শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে তিনি মুসলিম নারীদেরকে জ্ঞানের একটি আন্দোলনে শরীক করাতে পেরেছিলেন। একইভাবে হযরত আয়েশা (রা.) হযরত পয়গম্বর (সা.) -এর ওফাতের পর কোরআনের আয়াত সমূহকে বোঝার ও তাফসিরের ক্ষেত্রে এবং ইসলামের যে আইন‌ ও বিধান আছে, সেগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।</p>
<p>যেসকল সাহাবীদেরকে আলেম সাহাবী হিসেবে গণ্য করা হতো, হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন তাদের সবচেয়ে অগ্রগণ্যদের মধ্যে একজন। ইসলামের মূলনীতির আলোকে ইসলামকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। হযরত পয়গম্বরের (সা.) পর সাহাবীদের মধ্য থেকে বড় একটি অংশ তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। এইসকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধুমাত্র পুরুষরাই ছিলেন না বরং নারীরাও তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। হযরত আয়েশা (রা.) হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর জীবদ্দশায় এবং ওফাতের পর যে সাতচল্লিশ বছর বেঁচে ছিলেন, তিনি এই সমগ্র সময়কাল জ্ঞান অর্জনের জন্য এবং জ্ঞানকে শিক্ষা দান করার জন্য ব্যয় করেন। তাঁর এই জ্ঞানের আলোকে নতুন একটি ধারা ও নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলেছিলেন। এই কারণে ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের ক্ষেত্রে হযরত আয়েশার (রা.) ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) ইতিহাসের পাতায় লিখিত মিথলজি কিংবা কোনো উপখ্যান নয়, এমনকি তিনি শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূলের (সা.) একজন স্ত্রীও নন। তিনি একইসাথে ঐতিহাসিক একটি সত্য এবং নারীদের ব্যাপারে ইসলামে যে তাসাওউর রয়েছে, সেই তাসাওউরের সবচেয়ে বড় প্রতিফলিত রূপ হচ্ছেন হযরত আয়েশা (রা.)। হযরত আয়েশা (রা.) আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় যে মিরাস বা উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন, তারমধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে &#8211; বিভিন্ন সভ্যতা এবং সংস্কৃতি কর্তৃক তৈরিকৃত নারীদের ব্যাপারে যে বিরূপ ধারণা ছিলো, সেগুলোকে সঠিক পন্থায় বিশুদ্ধ করে তিনি আমাদের সামনে তাঁর নিজের জীবনকে উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এটি আমাদের জন্য বড় একটি সম্পদ।</p>
<p><strong>হযরত আয়েশা (রা.) যখন কোনো‌ রেওয়ায়েত বা হাদীস শুনতেন এবং সেটা যদি তাঁর অভিজ্ঞতা, কোরআন ও আকলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হতো, তাহলে সেটা নিয়ে তিনি গবেষণা করতেন এবং এর উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন। এটাকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাতেন, যেটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি উদাহরণ।</strong></p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) শুধু জ্ঞান অর্জনই করেননি, বরং হাদীস বর্ণনার পাশাপাশি ফতোয়াও দিতেন। সাহাবীদের মধ্য থেকে যে সাতজন শ্রেষ্ঠ ফতোয়া দানকারী সাহাবী ছিলেন, হযরত আয়েশা (রা.) ছিলেন তাদের একজন। ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, <strong>হযরত উমর (রা.)-এর সময়ে কেবলমাত্র হযরত আয়েশার (রা.) অধিকার ছিলো ফতোয়া দেওয়ার, অন্য কাউকে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.) -এর সময়েও তিনি স্বতন্ত্রভাবে ফতোয়া দান করতেন এবং তিনি তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন। হযরত আয়েশার (রা.) সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। এরপরও তিনি যেসকল বিষয় বুঝতে পারতেন না, সেসকল বিষয়ে জানার জন্য হযরত আয়েশার (রা.) কাছে দূত পাঠিয়ে ফতোয়া এবং সমাধান জেনে নিতেন।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) শুধু জ্ঞানগত দিক থেকেই একজন অথরিটির অধিকারী ছিলেন না, একই সাথে তিনি হযরত পয়গম্বরের (সা.) সুন্নত ও সীরাতের সঠিক বাস্তবায়ন করেছেন এবং আল্লাহর রাসূলের (সা.) জীবনের বিশেষ বিষয়সমূহকেও তিনি সবচেয়ে সঠিকভাবে, বিশুদ্ধ পন্থায় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর রাতের ইবাদত কেমন ছিলো, তিনি কোন দোয়া সমূহ পড়তেন, কীভাবে পড়তেন, নামাজের মধ্যে কোন ধরনের সূরা পড়তেন, কোন কোন সূরা তিনি বিশেষভাবে পড়তেন, তাঁর বিশেষ বিশেষ উপদেশসমূহ কী ছিলো &#8211; এই সকল বিষয় আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন উম্মুল মু’মিনীন‌ হযরত আয়েশা (রা.)।</p>
<p>মদিনার জীবনে নাজিল হওয়া ওহীর বড় একটি অংশ হযরত আয়েশার (রা.) সামনে আসায় তিনি এর সরাসরি সাক্ষী ছিলেন। এই বিষয়টি হযরত পয়গম্বর (সা.) নিজেই উল্লেখ করেছেন। ওহী আসার সময় হযরত পয়গম্বরের (সা.) শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক কোন কোন বিষয়ে কী কী পরিবর্তন আসতো, তিনি কীভাবে ঘামতেন &#8211; এই সকল বিষয় পর্যন্ত আমাদের সামনে উল্লেখ করেছেন আয়েশা (রা.)।</p>
<p>এইসকল বিষয়ের পাশাপাশি হযরত আয়েশা (রা.) সব থেকে ভালো বন্ধু এবং সব থেকে ভালো স্ত্রী হিসেবে আমাদের সামনে উপমা হয়ে আছেন। হযরত পয়গম্বর (সা.) হযরত আয়েশার (রা.) সাথে যে ঘরে বসবাস করতেন, সেটা ছিলো খুবই ছোট একটি ঘর। এই ঘরটি জ্ঞানের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। আয়েশা (রা.) তাঁর সমগ্র জীবনকাল ধরে হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সাথে তাঁর এই জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ও যাত্রাকে জারি রেখেছিলেন। হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেন। হযরত পয়গম্বর (সা.) -এর ওফাতের পূর্ব মুহূর্তের বিষয়সমূহকেও আমাদের সামনে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাবে বর্ণনা করেন তিনি। ইলাহী ইশারায় হযরত পয়গম্বর (সা.) যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন এ অসুস্থতার সমগ্র সময়কাল হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর সবচেয়ে কাছে ছিলেন। এমনকি আমরা সবাই এটা জানি যে, হযরত পয়গম্বর (সা.) তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হযরত আয়েশার (রা.) কোলে। আমরা হযরত আয়েশার (রা.) মাধ্যমে হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সর্বশেষ কথাগুলোও জানতে পারি। <strong>তিনি বলেছিলেন যে, “আমি তোমাদের নিকট দুইটি বিষয় রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতদিন পর্যন্ত এই দুটি উৎসকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখবে ততদিন পর্যন্ত তোমরা সত্য ও হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত হবেনা। একটি হচ্ছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন এবং অপরটি হচ্ছে আমার সুন্নত।” তিনি আরও বলেছিলেন, “নামাজ আমার চোখের মণি বা কুররাতু-আইনাইন। এই নামাজকে তোমরা কখনোই পরিত্যাগ করবে না।” একথা বলে তিনি বলেন, “আমি রফিকে আ’লার কাছে চলে যাচ্ছি, তোমরা সবসময় নামাজের প্রতি যত্নবান হবে”।</strong></p>
<p>হযরত পয়গম্বর (সা.) আয়েশা (রা.)-র মেধা ও জ্ঞানের প্রতি প্রচণ্ড স্পৃহা দেখে বলেছিলেন<strong>, “তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক হুমায়রা থেকে নিও”।</strong> ‘হুমায়রা’ হচ্ছে হযরত পয়গম্বর (সা.) কর্তৃক হযরত আয়েশাকে (রা.) দেওয়া বিশেষ নাম। তিনি আয়েশা (রা.) কে আদর করে হুমায়রা বলে ডাকতেন। ইফকের ঘটনার কারণে হযরত পয়গম্বর (সা.) তাকে <strong>‘মুবাররা’</strong> নামেও অভিহিত করেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>খাদিজা (রা.), ফাতেমা (রা.) সহ হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর নিকটবর্তী আরও যেসকল মহিলা সাহাবী ছিলেন, তাদের মর্যাদাও অবশ্যই উচ্চে। তবে, জ্ঞানগত দিকে আয়েশা (রা.)-এর মর্যাদা ও অবস্থানের ধারে-কাছেও ছিলেন না কেউ। একজন পয়গম্বরের স্ত্রীর কথা চিন্তা করুন, যিনি পয়গম্বরের ঘরে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং যে ঘরে তিনি প্রতিপালিত হয়েছেন সে ঘরটি হযরত পয়গম্বরের (সা.) পরে সমগ্র উম্মাহর জন্য জ্ঞানের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। ছোট-বড় কিংবা নারী-পুরুষ, তৎকালীন সময়ের সকল সাহাবী আয়েশার (রা.) এই জ্ঞানের মজলিসে অংশগ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন।</p>
<p>সাহাবীগণ আয়েশা (রা.)-এর ব্যপারে বলতেন – “আমাদের কাছে যেসকল বিষয় কঠিন মনে হতো, বুঝতে পারতাম না, সেগুলো আমরা হযরত আয়েশার (রা.) কাছে জিজ্ঞাসা করে সঠিক জবাব পেতাম”। <strong>আয়েশা (রা.) হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর ওফাতের পর প্রতি বছরই হজ্জে যেতেন এবং তিনি তাঁর চাদরটিকে হেরা গুহা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করতেন। সেই চাদরে বসে মূলত তিনি শিক্ষা দান করতেন। বিভিন্ন অঞ্চল, দেশ ও শহর থেকে হজ্জে আগত অনেক মানুষ সেই চাদরের সামনে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করতেন।</strong> যেসব বিষয় তারা বুঝতে পারতেন না বা সমাধান করতে পারতেন না, সে সমস্ত বিষয় আয়েশা (রা.) থেকে শিখে নিতেন। আয়েশা (রা.) শুধুমাত্র মক্কা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী কিংবা হজ্জে আগমনকারী ব্যক্তিদের প্রশ্নের জবাব দিতেন না, একইভাবে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁর নিকট আগত চিঠিরও জবাব দিতেন চিঠির মাধ্যমে। তাঁর সেই সমস্ত চিঠি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, কিছু কিছু আলেম সেই চিঠিগুলোকে একত্রিত করে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করেছেন এমনকি সেগুলো আমাদের পর্যন্তও এসে পৌঁছেছে।</p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) চিঠি লেখার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ লিখতেন। এরপর লিখতেন, <strong>“হাবিবুল্লাহর ভালোবাসার এবং আবু বকর (রা.)-এর কন্যা মুবাররা আয়েশার পক্ষ থেকে”</strong> &#8211; এভাবে তিনি তাঁর চিঠি শুরু করতেন। কোরআন হযরত আয়েশাকে (রা.) পবিত্র বলে ঘোষণা দেওয়ায় তিনি এই লকবটাকে সবসময় ব্যবহার করতেন। হযরত আয়েশার (রা.) অন্যতম আরেকটি অবদান হচ্ছে, হযরত পয়গম্বর (সা.) -এর নিকট থেকে যেসকল হাদীস এসেছে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সহীহ হাদীস এসেছে হযরত আয়েশার (রা.) পক্ষ থেকে। তাঁর রেওয়ায়েতকৃত এই সহীহ হাদীসের সংখ্যা কিছু উৎস মতে ২২১০ টি, আবার কিছু উৎস মতে ২৪১০ টি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আয়েশার (রা.) অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য ছিলো, তিনি সকল হাদীসই “হযরত পয়গম্বর (সা.) থেকে শুনেছেন” &#8211; এভাবে বলে বর্ণনা করেননি। <strong>তিনি যেসকল রেওয়ায়েত সরাসরি নিজে শোনেননি, সেসকল রেওয়ায়েত বর্ণনা করার সময় তিনি সর্বপ্রথম এর উৎস নিয়ে গবেষণা করতেন, এরপর মতন নিয়ে গবেষণা করতেন। পাশাপাশি কোরআনের নিকট পেশ করে যদি কোরআন ও আকলের আলোকে সেটাকে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবতেন, তাহলে সেটা বর্ণনা করতেন।</strong></p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে মুখস্থ করার প্রখর শক্তি দিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে তিনি কোনো বিষয়কে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে স্মৃতিতে ধারণ করতে পারতেন। তিনি একইসাথে অসাধারণ বাগ্মী ছিলেন। যার কারণে মানুষ খুব সহজেই তাঁর কথা দ্বারা প্রভাবিত হতো। তিনি বালাগাত এবং ফাসাহাতের দৃষ্টিকোণ থেকে আরবি সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ উপমার একজন।</p>
<p>তাঁর পিতা হযরত আবু বকর (রা.) ইন্তেকাল করলে তাকে দাফনের পর তিনি বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে খুতবা পেশ করেন ও দোয়া করেন। একইভাবে যুদ্ধের প্রাক্কালে, যেমন আমাদের ইতিহাসে ‘জঙ্গে জামাল’ হিসেবে পরিচিতি ঘটনার ক্ষেত্রেও তিনি বালাগাত এবং ফাসাহাতের দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই উচ্চ মানের একটি খুতবা পেশ করেন। “বালাগাতুল নিসা” নামে একটি গ্রন্থ আছে, যেখানে হযরত আয়েশার (রা.) দেওয়া বিভিন্ন খুতবা ও বক্তব্য লিপিবদ্ধ আছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>হযরত আয়েশার (রা.) আরেকটি গুণ হচ্ছে, তিনি অনেক কবিতা মুখস্থ পারতেন। বলা হয়ে থাকে, আরবী সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ইয়াবিদের এক হাজার লাইনের কবিতা তিনি মুখস্থ করেছিলেন। তিনি নিজেও কবিতা ও সাহিত্যের প্রতি অনেক বেশি জোর দিয়েছিলেন।</strong> একইভাবে শিশুদেরকেও কবিতা ও সাহিত্য শিক্ষা দেওয়ার ব্যপারে অনেক বেশি জোর দিতেন। তিনি আমাদের উপদেশ দিয়েছেন যে, <strong>“তোমরা তোমাদের শিশুদেরকে কবিতা ও সাহিত্য শেখাও, যাতে তাদের ভাষা সুন্দর হয়”।</strong></p>
<p>হযরত আয়েশাকে (রা.) অন্য মহিলা সাহাবীদের থেকে পৃথককারী কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। সেগুলো হচ্ছে,</p>
<ul>
<li>হযরত আয়েশা (রা.) ছাড়া কোরআনের আয়াতসমূহকে ব্যাখ্যাকারী অন্য কোনো মহিলা সাহাবী আমরা দেখতে পাই না।</li>
<li>হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর কথা ও কোরআনের আয়তসমূহকে আকল ও বুদ্ধির মাধ্যমে ভিত্তি স্থাপন এবং যুক্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার সূচনা বলতে গেলে তিনিই করেছিলেন।</li>
</ul>
<p>অনেক বড় বড় আলেমগণ হযরত আয়েশার (রা.) সুস্পষ্ট যে গুণাবলিগুলো ছিলো, সেগুলোকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরেন।</p>
<p>হযরত আয়েশার (রা.) ইস্তিদরাক তথা আপত্তিসমূহকে নিয়ে গবেষণাকারী ইমাম জারকাশি তার “<strong>ইস্তিদরাকু উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা</strong>” নামক গ্রন্থে বলেন, <strong>“হযরত আয়েশা (রা.) যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার মতো সাহসী এবং ভীতিহীন একজন নারী ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনী বা যুদ্ধ পরিচালনার মতো নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন।”</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, আহলে বায়াতের মধ্যে হযরত আয়েশার (রা.) শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। <strong>হযরত আয়েশাকে (রা.) সবচেয়ে বেশি ভয় পেতেন এবং তাঁর সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। তিনিও হযরত আয়েশার (রা.) জ্ঞানের অনেক সম্মান ও প্রশংসা করতেন।</strong> একদিন মুয়াবিয়া (রা.) তার আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদেরকে প্রশ্ন করেন, ‘তোমাদের মতে সবচাইতে বড় আলেম কে?’ তারা জবাব দেয়, “আপনি হচ্ছেন সব থেকে বড় আলিম”। তখন মুয়াবিয়া (রা.) আবার জিজ্ঞেস করেন, “সত্য কথা বলো, কে সবচেয়ে বড় আলেম?” তখন সকলে বলে ওঠে “হযরত আয়েশা (রা.)”।</p>
<p>আবু সালামা (রা.) হযরত আয়েশার (রা.) মর্যাদা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সুন্নত ও ইসলামের বিধানকে এবং আল্লাহর রাসূলের উপর অবতীর্ণ হওয়া আয়াতসমূহকে ও অন্যান্য সকল জ্ঞানকে হযরত আয়েশার (রা.) চেয়ে কেউ ভালো জানে না”।</p>
<p>ইমাম ইবনুল কাইয়ুম এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়া হযরত আয়েশা (রা.) সম্পর্কে বলেন, “আখিরাতে একজন মানুষের ফজিলত কী হবে যদি এ বিষয়ে বলতে চাই, তবে এটা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানেন না। যদি বংশ মর্যাদার দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ফাতিমা (রা.), কারণ তিনি হযরত পয়গম্বরের (সা.) মেয়ে। যদি ঈমানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি তবে ইসলামের প্রথম যুগে ইসলাম যে কঠিন সমস্যার মোকাবেলা করেছে সেই সমস্যার ক্ষেত্রে হযরত পয়গম্বরকে (সা.) সবচাইতে বেশি সহযোগিতা করেছিলেন হযরত খাদিজা (রা.) &#8211; এই ক্ষেত্রেও কোনো বিতর্ক নেই। <strong>কিন্তু আপনারা যদি আমলের পরিপূর্ণতা, দ্বীনের খেদমত এবং হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সুন্নতকে সমগ্র মানবতার নিকটে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে সবচেয়ে বেশি শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখে থাকেন, তিনি হচ্ছেন হযরত আয়েশা (রা.)।”</strong></p>
<p>অন্যতম একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম শাওকানি বলেন, “<strong>হযরত আয়েশা (রা.) মুমিন নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ‌ ছিলেন। তিনি তাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাদেরকে আদব শিক্ষা দিয়েছেন।”</strong></p>
<p>ইমাম জুহুরি হযরত আয়েশা (রা.) সম্পর্কে বলেন, “যদি জ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে হযরত আয়েশাকে (রা.) এক পাল্লায় রাখা হয় এবং অপর পাল্লায় যদি হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর অন্যান্য সকল স্ত্রী ও সকল মহিলা সাহাবীকে রাখা হয়, তবুও হযরত আয়েশার (রা.) পাল্লা ভারী হবে।”</p>
<p>মুস্তাদরাক নামক গ্রন্থে বলা হচ্ছে, “যদি এই উম্মতের সকল নারীদের জ্ঞান একত্রিত করা হয়, তবু তাদের সকল জ্ঞান হযরত আয়েশার (রা.) জ্ঞানের সমতুল্য হবেনা।”</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>পাশ্চাত্যের একজন গবেষক স্পলবার্গ হযরত আয়েশার (রা.) জীবন নিয়ে গবেষণা করেন এবং তাঁর জীবনী লিখেন। তার এই গবেষণার নাম “রাজনীতি, লিঙ্গবাদ ও ইসলামের অতীত”। তার এই গবেষণার জন্য পুরষ্কারও লাভ করেন তিনি। স্পলবার্গ এই পুরস্কার গ্রহণের সময় বলেন, “এই পুরস্কারটি আমাকে দেওয়া হয়নি, বরঞ্চ হযরত আয়েশাকে (রা.) দেওয়া হচ্ছে। কারণ তিনি নারীদেরকে অসাধারণভাবে প্রতিনিধিত্ব করে অন্ধকার যুগে সমগ্র নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন।” এ কারণে হযরত আয়েশা (রা.) শুধুমাত্র মুসলমানদের মধ্যেই নয়, সমগ্র মানবতার পক্ষ থেকে যারা সুস্থ বিবেকের অধিকার্‌ তাদের কাছে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।</p>
<p>উম্মাহর বিখ্যাত আলেম মূসা জারুল্লাহ হযরত আয়েশা (রা.) সম্পর্কে বলেন, “মদিনার জীবনে রাসূল (সা.)-এর পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালবাসার পাত্র ছিলেন হযরত আয়েশা (রা.)। তৎকালীন সময়ে তিনি যে ঘরে বসবাস করতেন, সে ঘরে সবচেয়ে বেশি আয়াত নাজিল হয়। মদিনার প্রত্যেকটি সময়কে তিনি খুব কাছ থেকে অবলোকন করেন। তার স্বচক্ষে দেখে, পর্যবেক্ষণ করে যে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, সে জ্ঞানকে তিনি পরবর্তীতে সাহাবীদের নিকটে এমনকি সমগ্র মানবতার নিকটে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে হযরত আয়েশা (রা.) মুজতাহিদগণের ইমাম এবং উম্মুল মু&#8217;মিনীনের মর্যাদা লাভ করেছেন। একইসাথে তিনি ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত করতে সক্ষম হয়েছেন।”</p>
<p>এ বিষয়ে তুর্কির অন্যতম বিখ্যাত একজন আলেম যিনি এখনও বেঁচে আছেন, সাইয়্যিদ হাতিবওলু বলেন, “আমাদের এমন মানুষের প্রয়োজন যারা ইসলামী সংস্কৃতি, ইসলামী সভ্যতাকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সামনে উত্থাপন করবেন, আমাদের সামনে তুলে ধরবেন। এ ধরণের মানুষের আজ অনেক বেশি প্রয়োজন।”</p>
<p>এজন্য, পুরুষ হোক কিংবা নারী, একজন মানুষ যে নিজেকে মুসলমান বলে দাবী করে, তার উচিৎ- হযরত আয়েশা (রা.)-এর জ্ঞানগত রেখে যাওয়া মিরাস সম্পর্কে অবগত হওয়া, এটা নিয়ে গবেষণা করা এবং তা সমগ্র মানবতার সামনে তুলে ধরা।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি উপরোক্ত সম্পূর্ণ আলোচনাকে পর্যালোচনা করি তাহলে বলতে পারি যে, হযরত আয়েশা (রা.) ওহীর জীবন্ত সাক্ষী ছিলেন। কোরআনের আয়াত নাজিল হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি শানে নুযুল হয়েছেন। ওহী নাজিল হওয়ার সময় হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর প্রতিটি ক্ষণকে তিনি পর্যবেক্ষণ করেছেন। <strong>এমনকি ওহীর একটি অংশ নাজিল হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। যেমন: তায়াম্মুম সংক্রান্ত আয়াত, ইফকের ঘটনার আয়াত, সূরা তাহরীমের একটি অংশ হযরত আয়েশা (রা.) কে কেন্দ্র করে নাজিল হয়।</strong></p>
<p>এমনকি কুরআনের আয়াতসমূহের একটি বড় অংশ তিনি নিজে তাফসীর করেছেন। যখন তিনি কোনো ধরনের ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ কোনো কিছু শুনতেন, সেগুলোকে তিনি কুরআন, হাদীস এবং তার জ্ঞানের মাধ্যমে সংশোধিত করে নতুনভাবে উত্থাপন করতেন। তার স্বামী হযরত পয়গম্বর (সা.) এর সাথে কোরআনসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে আমাদের তিনি দেখিয়েছেন যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন ধরনের কথা হতে পারে বা কোন ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে; এ উপমাও তিনি আমাদের সামনে পেশ করেছেন।</p>
<p>সংক্ষেপে বলতে গেলে হযরত আয়শা (রা.) সিদ্দিকের মেয়ে, “সিদ্দিকা”; রাসুল (সা.) এর প্রিয়তমা, “হুমায়রা” &#8211; কুরআনে কারীমের মধ্যে যার সম্পর্কে আয়াত নাজিল হয়েছে। তাকে যে অপবাদ দেয়া হয়েছিল, কুরআন এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কুরআনের মাধ্যমে তিনি “মুবাররা” হিসেবে উম্মাহ&#8217;র নিকটে পরিগণিত হয়েছিলেন। একইভাবে তিনি তার জীবদ্দশায় অনেক এতিমকে প্রতিপালন করেছেন, লালন-পালন করেছেন। অনেক যুবকের সমস্যার সমাধান দিয়েছেন; তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বড় বোনের ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবে তিনি একজন দয়াশীল নারী হিসেবে সকলের অন্তরে স্থান করে নিয়েছিলেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>তিনি প্রায় ৭৬ বছর এ পৃথিবীতে বেঁচে ছিলেন। তার এই জীবনের বড় একটি অংশ ব্যয় করেছেন তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য, জ্ঞান দানের জন্য। এক্ষেত্রে তিনি অনুপম একজন শিক্ষার্থী এবং অনুপম একজন জ্ঞানসম্রাজ্ঞী বা শিক্ষিকা হিসেবে ইসলামের ইতিহাসে তার স্থানকে দখল করে নিয়েছেন। ইসলামের বড় বড় আলেমদের ভাষায়, “হযরত পয়গম্বর (সা.) কর্তৃক আমাদের জন্য রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় মিরাসের একটি হচ্ছে হযরত আয়েশা (রা.)”। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে হযরত পয়গম্বর (সা.) কর্তৃক রেখে যাওয়া এই মিরাসকে ধারণ করা, এই মিরাস থেকে উপকৃত হওয়া।</p>
<p>হযরত আয়েশা (রা.) হচ্ছেন- একজন নারী কীভাবে জ্ঞানে, গুণে সমৃদ্ধ হতে পারে তার সবচেয়ে বড় উপমা। কেউ কেউ যেমন বলে থাকে, তিনি শুধুমাত্র খুব অল্প বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া একজন ছোট্ট নারী, তিনি তেমনটি নন। আবার, যেভাবে বিভিন্ন কিতাবে লেখা হয়ে থাকে তিনি তার স্বামীকে ঈর্ষাকারী, এমন কোন নারীও তিনি নন! এবং এরকম কোন নারীও নন, যেমনটা আমাদের সামনে তাকে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়ে থাকে। একইভাবে আমাদের মাসয়ালা-মাসায়েলের গ্রন্থে যেভাবে লেখা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর নবীগণ এইজন্য বিবাহ করেছেন, যাতে করে তারা তাদের নারীদের জীবনকে পরবর্তীতে অন্য নারীদের সামনে তুলে ধরতে পারেন; সেই সকল বিষয়কে উত্থাপনকারী বা তুলে ধরা একজন নারীও তিনি ছিলেন না।</p>
<p>তিনি মূলত সকল বিষয়ে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপমা। তার সমগ্র জীবনকাল ধরে মু&#8217;মিন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন, তাদের অধিকারকে তিনি সংরক্ষণ করেছেন। একজন মু&#8217;মিন নারী একজন মু&#8217;মিন পুরুষের মতই ব্যক্তিত্ববান হতে পারে, সাহসী হতে পারে, এমনকি জ্ঞানীও হতে পারে &#8211; এটা তিনি তার জীবনের মাধ্যমে আমাদের সামনে প্রমাণ করেছেন, উত্থাপন করেছেন।</p>
<p>মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের নিকট এই কামনা করি, হযরত আয়েশা (রা.) আমাদের জ্ঞানের সফরে অগ্রদূত হিসেবে ভূমিকা পালন করুন। হযরত পয়গম্বর (সা.)-এর সাথে তাঁর যে আচরণ ছিল, যে সম্পর্ক ছিল, তা যাতে আমাদের ঘরের সুন্নত হিসেবেও প্রবর্তিত হয়, এই প্রত্যাশাও করি। সর্বোপরি মহান রব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদেরকে হযরত আয়েশা (রা.)-এর প্রতিবেশি হওয়ার এবং তার পথে যাত্রাকারী একেকজন ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হওয়ার জন্য কবুল করেন। একইসাথে হযরত আয়েশা (রা.)-কে একজন উপমা হিসেবে গ্রহণ করার এবং তার জীবনকে আমাদের জীবনে অনুসরণ করার তাওফিক যেন আল্লাহ দান করেন, আল্লাহুম্মা আমীন।।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>অনুবাদঃ <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/ilmi-hayat-of-hazrat-ayesha-ra/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">14295</post-id>	</item>
		<item>
		<title>ইসলামী সভ্যতায় নারী</title>
		<link>https://rowyakbd.com/women-in-islamic-civilization/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/women-in-islamic-civilization/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[ড. খাদিজা গরমেজ]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 29 Feb 2024 10:14:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[সভ্যতা]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://rowyakbd.com/?p=13723</guid>

					<description><![CDATA[সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সে সম্পর্কে আমাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন। দরূদ ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি। বাংলাদেশের সে সকল বোনদের প্রতি আমার সালাম এবং শুভেচ্ছা, যারা আগামীর সুন্দর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং সে সম্পর্কে আমাদেরকে জ্ঞান দান করেছেন। দরূদ ও সালাম মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রতি।</p>
<p>বাংলাদেশের সে সকল বোনদের প্রতি আমার সালাম এবং শুভেচ্ছা, যারা আগামীর সুন্দর একটি পৃথিবী বিনির্মাণ এবং সুন্দর একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আজ একত্রিত হয়ে এ মহান উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি আমাদের ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) সমগ্র মানবতার কাছে শান্তির বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে সকল ক্ষেত্র নিয়ে সংগ্রাম করেছেন, তার মধ্যে তিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ তিনটি হলো–</p>
<blockquote><p>১. নারী</p>
<p>২. জ্ঞান ও মূল্যবোধ</p>
<p>৩. আখলাক</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাসূল (সাঃ) এর এ তিনটি বড় বড় ক্ষেত্রের বিপ্লব পরস্পর সম্পর্কহীন নয়, বরং ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং একটি অপরটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি নারীদের ব্যাপারে যে সকল কাজ করেছেন, তার মধ্যে একটি হলো নারীদেরকে তিনি মানুষের মর্যাদায় আসীন করেছেন এবং আল্লাহর খলিফা হিসেবে তাদেরকে সমান মর্যাদা দিয়েছেন। নারীদেরকে মূল্য দেওয়ার আগে তিনি তাদেরকে জীবন দান করেছেন। জাহেলী যুগে নারীদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিলো, যা উচ্ছেদ করে তিনি তাদেরকে নতুন জীবন দান করেছেন এবং মানবীয় মর্যাদায় উপনীত করে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে সুন্দর আসনে সমাসীন করেছেন। আমরা জানি, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর ইসলাম প্রচারের পূর্বে আরব সমাজ এমন একটি সমাজ ছিলো, যেখানে না ছিলো আদালত, না ছিলো মানবিক মর্যাদা, না ছিলো কোনো জ্ঞান, না ছিলো কোনো মিজান। ফলশ্রুতিতে তারা ছিলো একটি মুখাপেক্ষী জাতি। তাদের সকল কুসংস্কারের স্থানে ওহী কেন্দ্রিক জ্ঞান এবং হিকমাকে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন রাসূল (সাঃ)। এ সময়ে তার সাহাবীগণ তার আনীত বিধানকে শেখার জন্য, জ্ঞান অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আর এ জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরুষ সাহাবীগণ নন, নারী সাহাবীগণও সচেষ্ট ছিলেন এবং সে জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্ম বা অন্যদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা ইতিহাসে স্মরণীয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সাহাবীগণের জ্ঞানার্জনের মূল কেন্দ্র ছিলো মসজিদে নববী। নববী যুগে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জামাতে শুধুমাত্র পুরুষগণ নন, নারীগণও অংশগ্রহণ করতেন এবং এ সুযোগ তাদের জন্য ছিলো। এ কারণেই মসজিদে নববীতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তার সাহাবীদের উদ্দেশ্যে যে সকল কথা বলতেন, তা থেকে নারী সাহাবীগণও সমানভাবে উপকৃত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। সে মজলিসগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ বা উপস্থিতি মোটেই কম ছিলো না, বরং তা ছিলো পুরুষ সাহাবীদের প্রায় সমপরিমাণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের পর মুসলমানগণ রাসূল (সাঃ) এর সময় প্রচলিত এ বিষয়টির ধারাবাহিকতা জারি রাখতে পারেননি বা জারি রাখতে চাইলেও সে সুযোগ লাভ করতে সক্ষম হননি। ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়ায়, মসজিদ যেন শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে! এভাবে প্রায় প্রতিটি সমাজ থেকে বৃদ্ধা, যুবতী নির্বিশেষে সকল নারী, এমনকি মেয়ে শিশুরাও আস্তে আস্তে মসজিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আমি একটি উদাহরণ দিয়ে থাকি, বনী ইসরাইলরা নারীদেরকে মসজিদে ঢুকতে দিতো না, নারীদের জন্য মসজিদ নিষিদ্ধ ছিলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বনী ইসরাইলের এ প্রথাকে পরিবর্তন করে দেন হযরত মরিয়ম (আঃ) এর মাধ্যমে। তার মা তাকে মসজিদের জন্য ওয়াকফ বা উৎসর্গ করে দেন, এমনকি তিনি মসজিদেই লালিত-পালিত হন। হযরত মরিয়ম (আঃ) এর মাধ্যমে সূচিত নারী এবং মসজিদের মধ্যকার এ সম্পর্ক আমাদের জন্য রেখে যাওয়া একটি অসাধারণ উত্তরাধিকার! এ উত্তরাধিকার আমাদেরকে ধারণ করতে হবে এবং লালন করতে হবে, এমনকি আমাদের পরবর্তী বংশধরদের জন্য এ ধারাকে জারি রাখতে হবে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>নববী যুগে জ্ঞান বলতে কেবল ওহীভিত্তিক জ্ঞানকে বোঝাতো না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া ওহীভিত্তিক জ্ঞানকেই গুরুত্ব দেননি, একই সাথে আকলী বা অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের প্রতিও জোর দিয়েছিলেন এবং সকল জ্ঞানকে একত্রিত করে একটি জ্ঞানের বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন। দ্বীনি জ্ঞান এবং অদ্বীনি জ্ঞান– এ রকম কোনো বিভাজন আমাদের ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানের ইতিহাসে নেই। তাফসীর, ফিকহ, কালাম যেমন ইসলামী জ্ঞান, মেডিসিন, আইন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতিও তেমনি ইসলামী জ্ঞান, এমনকি মানবিক তথা ইনসানি জ্ঞান। <strong>উসমানী খেলাফতের একজন বিখ্যাত আলেম তাশখরুপযাদে তার “মিফতাহুস সা’দা” গ্রন্থে জ্ঞানকে ২টি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন-</strong></p>
<blockquote><p>১) ইলমুল আদইয়ান বা দ্বীনি জ্ঞান</p>
<p>২) ইলমুল আবদান বা শরীর সম্পর্কীয় জ্ঞান</p></blockquote>
<p>আমরা ইলমুল আদইয়ান তথা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবো, যেন পরবর্তী জীবন তথা আখিরাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহে জান্নাত লাভ করতে পারি।</p>
<p>অপরদিকে ইলমুল আবদান তথা শরীর সম্পর্কীয় জ্ঞান হলো মেডিসিন সংক্রান্ত জ্ঞান।</p>
<p>এ জ্ঞান আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখবে। এ জ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শরীর অসুস্থ হলে মানুষ না জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, আর না ইবাদত করতে পারবে। ফলশ্রুতিতে ইলমুল আদইয়ান তথা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনও সম্ভব হবে না, অর্থাৎ সে আখিরাতের জন্য এই দুনিয়ার জীবনে সে কিছুই অর্জন করতে পারবে না।</p>
<p>এ কারণে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) জ্ঞানের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন না করে জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি অর্থ দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করে নিজের স্ত্রীদেরকে লেখা-পড়া শেখানোর ব্যবস্থা করেছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাসূল (সাঃ) এর তৃতীয় যে বড় বিপ্লব, সেটি হলো আখলাক এবং মূল্যবোধের ক্ষেত্রে বিপ্লব। তিনি বলেছেন,</p>
<blockquote><p>إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق</p>
<p>“আমি উত্তম আখলাককে পূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।”</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>এটি আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে প্রেরণের উদ্দেশ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস। এটি রাসূল (সাঃ) এর রিসালাতের উদ্দেশ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার রিসালাতের অন্যতম একটি অংশ আখলাক ও মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ প্রসঙ্গে বলেছেন,</p>
<blockquote><p>وإنك لعلى خلق عظيم</p>
<p>“নিঃসন্দেহে আপনি একটি বড় আখলাকের উপর প্রতিষ্ঠিত।”</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূল (সাঃ) এর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন,</p>
<blockquote><p> خلقه القرآن</p>
<p>“কোরআনই তার চরিত্র।”</p></blockquote>
<p>&nbsp;</p>
<p>এ কারণে রাসূল (সাঃ) মূল্যবোধ এবং আখলাকের দৃষ্টিকোণ থেকে সমগ্র বিশ্ব মানবতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নারী এবং মূল্যবোধের মধ্যকার সম্পর্কের যে প্রমাণ রাসূল (সাঃ) দিয়েছিলেন; একজন স্ত্রী হিসেবে, বোন হিসেবে, মা হিসেবে সর্বোপরি মানুষ হিসেবে নারীদেরকে তিনি যে মর্যাদা দিয়েছেন, তা আমরা হযরত খাদিজা (রাঃ) এর উপর ভিত্তি করে খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>হযরত খাদিজা (রাঃ) এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ) এর আনীত বিধানকে সর্বপ্রথম গ্রহণকারী। রাসূল (সাঃ) এর সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক সাথী, একসাথে সকল সমস্যা সমাধান করেছেন। তিনি ছিলেন রাসূল (সাঃ) এর সন্তানদের মা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা (রাঃ) এর সম্পর্ক একটি বিশেষ সম্পর্ক, যাকে কখনো অন্য কিছুর সাথে মেশানো যায় না।</p>
<p>আল্লাহর রাসূল (সাঃ) ওহী পাওয়ার পর সর্বপ্রথম যখন খাদিজা (রাঃ) এর কাছে এসে এ ব্যাপারে অবহিত করেন, তখন তাদের মধ্যকার যে কথপোকথন, তা আমাদের নতুন করে স্মরণ করা উচিৎ। হেরা গুহায় রাসূল (সাঃ) এর প্রতি জিবরাইল (আঃ) এর মাধ্যমে <strong>‘اقرأ باسم ربك الذي خلق’</strong> আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর তিনি খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যান। এ অবস্থায় সেখান থেকে দৌড়ে এসে সর্বপ্রথম খাদিজা (রাঃ) এর কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করেন। রাসূল (সাঃ)-কে সর্বপ্রথম বিশ্বাসকারী, ঈমান আনয়নকারী এবং এ পথে যাত্রাকারী ব্যক্তি একজন নারী এবং তিনি হলেন হযরত খাদিজা (রাঃ)। উক্ত অবস্থায় তিনি রাসূল (সাঃ)-কে যে কথাগুলো বলেছিলেন, তা এখনো বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে ইশতেহার হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কখনোই আপনাকে লাঞ্চিত করবেন না; কারণ আপনি আপনার আত্মীয়ের অধিকার রক্ষা করেন, দরিদ্রদের সাহায্য করেন, ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ করার জন্য সহযোগিতা করেন, দুর্বল ও অসহায়দের পাশে দাঁড়ান। এ সকল গুণাবলীর কারণে আল্লাহ কখনোই আপনাকে লাঞ্চিত এবং অপমানিত করবেন না।”</p>
<p>এখানে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো রাসূল (সাঃ) ওহী পাওয়ার পর অন্য কোনো মানুষের সাথে পরামর্শ না করে যার সাথে পরামর্শ করেছেন, তিনি একজন নারী। এটি আমাদের জন্য অর্থবহ। রাসূল (সাঃ) এর সবচেয়ে কাছের বন্ধু হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত ওসমান (রাঃ), নবুওয়াত লাভ করার পূর্বে এবং পরে তাকে রক্ষাকারী চাচা আবু তালিব, এমনকি অন্যান্য বন্ধু ও চাচা যারা ছিলেন, তাদের কারো কাছেই তিনি যাননি; সর্বপ্রথম তার ঘরে তার স্ত্রী হযরত খাদিজা (রাঃ) এর কাছে গিয়ে এ বিষয়ে পরামর্শ করেন। তিনি খাদিজা (রাঃ) এর মাধ্যমে নারীদের যে মূল্য দিয়েছেন, এ ঘটনা সে মূল্যের একটি প্রতীক। এ ঘটনার পর হযরত খাদিজা (রাঃ) যখন রাসূল (সাঃ)-কে ওয়ারাকা ইবনে নওফেল এর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন, তখন রাসূল (সাঃ) কোনো ধরনের আপত্তি না করে ঘটনার ব্যাখ্যা জানার জন্য হযরত খাদিজা (রাঃ) এর সাথে ওয়ারাকা ইবনে নওফেল এর কাছে যান।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>রাসূল (সাঃ) এর নবুয়াতের শুরু থেকে স্ত্রীকে জানানো, তাকে জিজ্ঞাসা করা এবং তার পরামর্শ নেওয়ার যে ব্যাপার, তা শুধু খাদিজা (রাঃ) এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, তিনি তার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও একইভাবে পরামর্শ করেছেন, এমনকি নারী সাহাবীদের সাথেও বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। <strong>অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের অল্প সময় পর এ রকম একটি জাল হাদিস সৃষ্টি করা হয়, “নারীদের সাথে পরামর্শ করো, পরবর্তীতে তারা যা বলবে তার বিপরীত করো।” এ জাল হাদিস সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদেরকে একটি অসম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি রাসূল (সাঃ) এর সিরাত দেখি, তবে দারুল আরকামে নারীদেরকে দেখতে পাই, মদীনায় নারীদেরকে দেখতে পাই, যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদেরকে দেখতে পাই। এভাবে বলতে গেলে ইসলামের ইতিহাসের শুরু থেকেই নারীদের অনেক বড় ভূমিকা দেখতে পাই। হাবশায় হিজরতের সময় নারীরা ছিলেন, আকাবার বায়াতের সময় নারীরা ছিলেন। হিজরতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী ছিলেন নারীরাই। এভাবে ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়েই নারীরা রয়েছেন এবং নারীদের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। এটি আমাদের দেখিয়ে দেয়, ইসলাম তার সূচনালগ্ন থেকে শুধুমাত্র পুরুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ বা পুরুষদের দ্বারা পরিচালিত কোনো আন্দোলন ছিলো না, এ আন্দোলনে পুরুষদের মতো নারীদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো। নারী-পুরুষ এবং বিশেষ করে যুবক-যুবতীদের মাধ্যমে একটি অস্তিত্বের আন্দোলন, মানবতাকে রক্ষা করার আন্দোলন শুরু করেন রাসূল (সাঃ)। যেমন– আল্লাহর রাসূলের মাক্কী জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মহিলা ছিলেন, যারা হযরত খাদিজা (রাঃ) এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অন্যতম উদাহরণ হযরত সুমাইয়া (রাঃ)। তিনি ছিলেন সত্যবাদিতা, আত্মসমর্পণ এবং ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক। তিনি ইসলামের প্রথম শহীদ। হিজরতের সময়ের দায়িত্ব হযরত আসমা (রাঃ) একাই পালন করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যা হযরত ফাতেমা (রাঃ) এর সাথে তার সম্পর্ক ছিলো বাবা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত। এ সম্পর্ক এতটাই অসাধারণ ছিলো যে, তিনি অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও রাসূল (সাঃ) এর উপর যে নির্যাতন হয়েছিল, সেগুলো অনুভব করেছিলেন। নামাজরত অবস্থায় রাসূল (সাঃ) যখন এর উপর নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়, তিনি তখন সেসব হাত দিয়ে পরিষ্কার করেন। রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রী যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার ঘরের সব কাজ করেন হযরত ফাতেমা (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) উহুদের ময়দানে যখন আহত হন, তখন তাকে সেবা-শুশ্রূষা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন হযরত ফাতেমা (রাঃ)। এসব হলো বাবা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কের একটি অসাধারণ উপমা। এ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) হযরত ফাতেমা (রাঃ)-কে ‘উম্মু আবীহা’ অর্থাৎ তার পিতার মাতা উপাধিতে ভূষিত করেন। হযরত ফাতেমা (রাঃ) যখনই রাসূল (সাঃ) এর কাছে এসেছেন, তিনি যে অবস্থায় থাকেন না কেন, মেয়ের আগমনে উঠে দাঁড়াতেন, তার হাত ধরতেন, কপালে চুমু দিয়ে তাকে পাশে বসাতেন। এত ভালোবাসার পরেও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে এ কথা বলতে দ্বিধা করেননি, “হে ফাতেমা! তুমি যদি হকের পথে না চলো, হকের পথ থেকে বিচ্যুত হও, তাহলে আমি আল্লাহর রাসূলের কোনো ক্ষমতা নেই তোমাকে রক্ষা করার বা আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারবো না।”</p>
<p>তিনি রাসূল (সাঃ) এর একজন সন্তান; কিন্তু আটা পিষতে গিয়ে ও রুটি বানানোর সময় তার হাতেও বিভিন্ন সময় জখম হতো। দুনিয়াবী কোনো স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে তিনি তার বাবার পাশে থেকে সংগ্রাম করে গেছেন। নববী যুগের একজন শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে ইসলামের ইতিহাসে তার কথা স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>মদীনার সভ্যতা প্রতিষ্ঠা হয়েছে নারী এবং পুরুষ উভয়ের প্রচেষ্টায়। মদীনাকে রাসূল (সাঃ) নিরাপত্তার এবং অন্য সকল দৃষ্টিকোণ থেকে এমনভাবে গড়ে তোলেন যেন এটি নারীদের জন্য একটি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়। এ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রজ্ঞাসম্পন্ন, জ্ঞানসম্পন্ন এবং মূল্যবোধসম্পন্ন নারীরা গড়ে ওঠেন এবং তারা শুধুমাত্র অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তারা নিজেরাও জ্ঞান ও মূল্যবোধ সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। রাসূল (সাঃ) এর নেতৃত্বে সে সময় আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী শ্রেণি গড়ে ওঠে। আর এ নারীদের মাঝে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন হযরত আয়েশা (রাঃ)। তিনি ছিলেন জ্ঞানের জন্য উৎসর্গকৃত একটি প্রাণ এবং সকল মুমিনের জ্ঞানের মা। রাসূল (সাঃ) ও আয়েশা (রাঃ) এর মধ্যকার যে সম্পর্ক, তা অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষক এবং ছাত্রের সম্পর্কের মতো ছিলো। আয়েশা (রাঃ) কম বয়স, অনেক বেশি গতিশীল এবং প্রচন্ড মেধার অধিকারী হওয়ার কারণে রাসূল (সাঃ) এর সাথে সব সময় কোরআনের বিভিন্ন আয়াত, তার বলা বিভিন্ন কথা বা হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন। রাসূল (সাঃ) এর সুন্নত ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সাথে কথা বলতেন, পর্যালোচনা করতেন, পর্যবেক্ষণ করতেন এবং গবেষণা করতেন। মদীনার</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রথম কঠিন সময়ের মধ্যেও রাসূল (সাঃ) তার স্ত্রীদের জন্য সময় বের করতেন, বিশেষ করে হযরত আয়েশা (রাঃ) এর জন্য সময় বের করে তাকে ফিকহ, তাফসিরসহ বিভিন্ন জ্ঞান নিজে শিক্ষা দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো হযরত আয়েশা (রাঃ) এর যে আগ্রহ, তা অন্য কোনো নারীর মধ্যে ছিলো না। তিনি সব সময় খুব আগ্রহ ভরে রাসূল (সাঃ) এর কাছে যেতেন, তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতেন। এক অর্থে জ্ঞান অর্জনের জন্য তিনি ছিলেন পাগলপারা। তার জন্য নির্ধারিত এক কক্ষ বিশিষ্ট ঘরটি জ্ঞানের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয় এবং এতিম ও অসহায়দের জন্য একটি আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। তাছাড়া এটি ছিলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী নাযিলের একটি জায়গা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে এ কক্ষটি আয়তনের দিক থেকে ছোট হলেও পৃথিবীর অন্যতম বরকতময় এবং পবিত্র এক স্থানে পরিণত হয়। হযরত আয়েশা (রাঃ) তার প্রজ্ঞা, সাহসিকতা, দূরদৃষ্টি ও বিশেষত তার জ্ঞানের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে স্থান দখল করে নিয়েছেন। রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের ৪৭ বছর পর হযরত আয়েশা (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। এই ৪৭ বছরে তিনি কত দারস দিয়েছেন, কত ফতোয়া দিয়েছেন, কত শিক্ষার্থী প্রস্তুত করেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এমনকি তিনি উম্মাহর বড় বড় সংকট নিরসনে কখনো কখনো সেনাপতির ভূমিকা পালন করেছেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) আমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ একটি উপমা। তবে তিনি একাই নন, তার মতো আরো অনেক উপমা আমাদের সভ্যতায় রয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আমার সাহাবীগণ আকাশের তারকার মতো,” আর এ তারকা শুধুমাত্র পুরুষ সাহাবীগণ নন, নারী সাহাবীগণও।</p>
<p><strong>উম্মু মিহজান (রাঃ) নামক একজন অসহায় নারী সাহাবী ছিলেন। রাসূল (সাঃ) মদীনা হিজরত করে আসার পর তিনি তার কাছে এসে বলেছিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনাকে দেওয়ার মতো কিছুই আমার কাছে নেই। আপনি এই নবুওয়াত নিয়ে এসে আমাদেরকে সকল ধরনের মূর্তি থেকে পূত-পবিত্র করেছেন, আমাদেরকে মুক্ত করেছেন। আপনি যদি আমাকে অনুমতি দেন, মসজিদে নববীর একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে আমি মসজিদে নববীতে থাকতে চাই।” এ প্রস্তাব দেওয়ার পর আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে বলেননি, “তুমি নারী, তুমি মসজিদে অবস্থান করতে পারবে না,” বরঞ্চ তিনি অনেক খুশি হয়েছিলেন। উম্মু মিহজান (রাঃ) যত দিন জীবিত ছিলেন, তত দিন মসজিদে নববী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গিয়েছেন, এমনকি বিভিন্ন পবিত্র রজনীতে তিনি মসজিদে নববীতে সুগন্ধীর ব্যবস্থা করেছিলেন এবং আলোকসজ্জা করেছিলেন।</strong> তিনি মসজিদে নববীর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর পেছনে জামাতে নামাজও আদায় করেছিলেন। উম্মু মিহজান (রাঃ) এর জীবনী আমার জন্য অনেক বেশি প্রেরণার, আমাকে উদ্বেলিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অপরিসীম। এ অসহায় নারী আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর অনুমতিক্রমে মসজিদের জন্য উৎসর্গকৃত একজন নারীতে পরিণত হন। এমনকি তিনি রাসূল (সাঃ) এর পক্ষ থেকে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত একজন সাহাবী হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আরেকজন হলেন উম্মে সুলাইম (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) যখন মদীনায় হিজরত করে আসেন, তখন তিনি তার কাছে গিয়ে বলেন, “আমি একজন বিধবা নারী। আপনাকে দেওয়ার মতো আমার বৈষয়িক কোনো কিছুই নেই। আমার একটিমাত্র সন্তান আনাস বিন মালেক, তাকে আমি উপহার হিসেবে দিচ্ছি। সে বড় হয়ে আপনার খেদমত করবে, আপনি যদি গ্রহণ করেন।”</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>আরেকজন হযরত রুমাইসা (রাঃ)। উহুদের ময়দানে যখন রাসূল (সাঃ) আহত হয়ে পড়ে ছিলেন, তখন তিনি এক হাতে তলোয়ার নিয়ে রাসূল (সাঃ)-কে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করছিলেন, আবার অন্যদিকে সাহাবীদেরকে বার বার ডেকে বলছিলেন, “তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে রক্ষা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধের ময়দানে আসো।”</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আরেকজন হযরত বারিরা (রাঃ)। একজন নারীর যে ব্যক্তিত্ব, তিনি ছিলেন সে ব্যক্তিত্বের মূর্ত প্রতীক।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>এভাবে অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে। মূল কথা হলো নারী এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের মধ্যকার সম্পর্ক ইসলামী সভ্যতায় উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে। এ সময়ে নারীগণ কেবল حمالة خشب তথা কাঠ বহনকারী নারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেননি, একইসাথে জ্ঞানকে বহন করেছেন, মাগফেরাতকে বহন করেছেন, ধৈর্যকে বহন করেছেন, ভালোবাসাকে বহন করেছেন। এ বিপ্লবসমূহ আল্লাহর রাসূলের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে, নাকি এসব আমাদের জন্য আদর্শ এবং বিপ্লবসমূহকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব?</p>
<p>আমরা যদি আজকের এ দুনিয়াকে একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দুনিয়ায় রূপান্তর করতে চাই; আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর যুগ, সেই সোনালী সমাজে পরিণত করতে চাই, তাহলে রাসূল (সাঃ) কর্তৃক সংঘটিত সে বিপ্লবগুলোকে বর্তমানে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন আমাদেরই।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ত্যাগের, অনেক মূল্যের বিনিময়ে হওয়া এ বিপ্লবসমূহ মুসলমানগণ পরবর্তীতে জারি রাখতে পারেনি এবং বর্তমানেও তারা তা করতে অক্ষম।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>দুঃখজনক হলেও সত্য, আজকের নারীরা সকল ইজম এর কেন্দ্রবিন্দু এবং নারীদেরকে একটি পণ্য হিসেবে বিজ্ঞাপন, সোশ্যাল মিডিয়াসহ সকল জায়গায় উপস্থাপন করা হয়। রাসূল (সাঃ) জাহেলী যুগে যে নারী জাতিকে মুক্ত করে যে জ্ঞান ও মারেফাতের বাহকে রূপান্তরিত করেছিলেন, সে নারী জাতিকে আজ দ্রুত ধ্বংসশীল এবং শুধুমাত্র কাঠ বহনকারী একটি পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য সমগ্র দুনিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “নারীদের সাথে পরামর্শ করো, পরবর্তীতে তারা যা বলবে তার বিপরীত করো।”– এটি রাসূল (সাঃ) এর উদ্দেশ্য নয়, বরং সে সকল সংকীর্ণমনা মানুষদের উদ্দেশ্য, যারা এগুলোকে দ্বীন বলে আমাদের সামনে প্রচার করে। এটি তাদের অসৎ উদ্দেশ্য। আমাদের মনে রাখা উচিৎ, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুধুমাত্র তিনি ছাড়া অন্য কিছুর সামনে মাথা নত করাকে হারাম করেছেন। অথচ হতাশাজনক ব্যাপার হলো এমন অনেক রেওয়ায়েত ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নারীরা যদি আল্লাহর পরে কাউকে সিজদা করে, তাহলে তাদের স্বামীকে সিজদা করবে। এ ধরনের ভ্রান্ত এবং জাল রেওয়ায়েত কখনোই রাসূল (সাঃ) এর কথা হতে পারে না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আমরা যদি আমাদের যুগকে, আমাদের দেশকে, আমাদের কালকে ইসলামের সেই সোনালী যুগে পরিণত করতে চাই, তবে আমাদের নারীদেরকে পুনরায় জ্ঞান ও মূল্যবোধের বাহকে পরিণত করতে হবে এবং জ্ঞান ও মূল্যবোধের সাথে সংযুক্ত ও সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা যদি ইসলামী সভ্যতাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে এ পৃথিবী বিনির্মাণকারী, সমাজ বিনির্মাণকারী, পরিবার বিনির্মাণকারী, জ্ঞান এবং বিজ্ঞানে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী নারীদের গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য পথ উন্মোচন করার কোনো বিকল্প আজ আমাদের সামনে নেই । তুর্কি ভাষায় একটি প্রবাদ আছে, “এক পাখা বিশিষ্ট পাখি কখনোই উড়তে পারে না।” এজন্য আমরা যদি নারী ও পুরুষ উভয়কে জ্ঞান এবং হিকমা ও মূল্যবোধ এর মাধ্যমে লালিত করতে পারি, তাদেরকে গঠন করতে পারি, তবেই আমাদের পরিবার একটি সুখী পরিবার হবে। কিন্তু যদি নারীদেরকে শুধুমাত্র পরিবারের বিভিন্ন রান্নাবান্না ও এ সকল কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি, তাহলে আমরা এক পাখা বিশিষ্ট পাখিই হবো। আর এক পাখা বিশিষ্ট পাখি কখনোই উড়তে পারে না।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>আজ যদি আমরা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো মুসলিম উম্মাহকে কান্না, রক্ত, দরিদ্রতা ঘিরে ফেলেছে। এর চেয়েও দুঃখজনক ব্যাপার হলো এ সকল সমস্যার সমাধান করার জন্যই আবার যুদ্ধ করা হচ্ছে, রক্তপাত করা হচ্ছে। এমনকি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে এক মুসলিম আরেক মুসলিমের মাথা কাটতেও দ্বিধাবোধ করছে না। আজ যেখানে আমাদের মুসলিমদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি থাকা দরকার ছিলো, একজনের প্রতি আরেকজনের সহানুভূতি থাকা দরকার ছিলো, সেখানে আমাদের মধ্যে বাসা বেঁধেছ শত্রুতা এবং একজন আরেকজনকে সহ্য না করতে পারার রোগ। ইসলামের শান্তি আজ অস্থিতিশীলতা এবং সংঘাতে রূপ নিয়েছে। আজ আরাকান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, কুদুস, আফ্রিকা, তুরস্ক এবং সিরিয়াতে যা হচ্ছে, তা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো ক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। আজ আমাদের অবস্থা খুব ভয়াবহ। এই ভয়াবহতার নিগড় থেকে মুক্তি পেতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর সেই মূলনীতির আলোকে আমাদের জীবনকে পরিচালিত করতে হবে। মূলনীতিটি হলো ‘মুসলমানগণ একটি শরীরের মতো। শরীরের কোথাও যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাহলে সমগ্র শরীর ব্যথা অনুভব করবে’। আমাদের প্রত্যককে আজ মুসলিম উম্মাহর যে কোনো সংকটে, যে কোনো ব্যথায় ব্যথিত হতে হবে। এজন্য আমরা বিশেষ করে নারী হিসেবে, সামগ্রিকভাবে মানুষ হিসেবে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে নারীদের মধ্যে কেউ যদি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়, তাহলে তা হৃদয় দিয়ে অনুভব করে তার পাশে থাকবো, তার সমস্যা সমাধান করার জন্য প্রচেষ্টা চালাবো এবং এটিই আমাদের দায়িত্ব হওয়া উচিৎ।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>প্রিয় বোনেরা, আজ সমগ্র বিশ্ব মারহামাত বিহীন কঠিন পরিস্থিতিতে উপনীত। নারীরা আজ অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত। আজকের শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সমগ্র মানবতা আজ ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে যদি এ জুলুম-নির্যাতনকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাতে পারি, তাহলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইসলামের সোনালী যুগে যেভাবে আমাদের সাহায্য করেছিলেন, এখনো আমরা অবশ্যই সে সাহায্য পাবো বলে প্রত্যাশা করি। আজ আমরা যদি এ পৃথিবীকে বিনির্মাণ করতে পারি; জ্ঞান এবং হিকমার মাধ্যমে, মূল্যবোধের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীকে আখলাক উপহার দিতে পারি, তাহলে শুধু মুসলমানগণ নন, সমগ্র মানবতা একটি বসবাসযোগ্য দুনিয়া উপহার পাবে। আজকের এ রহমত বিহীন পৃথিবী সহযোগিতা, সহমর্মিতার মুখাপেক্ষী; কোথাও এ বিষয়সমূহের অস্তিত্ব নেই। আজ যদি বিশ্ববাসী এসব পেতে চায়, তাহলে হৃদয়ে রহমত ও ভালোবাসাকে লালনকারী এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর ‘আর রাহীম’ গুণের তাজাল্লি তথা প্রতিফলিত রূপ ‘নারী’দের মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তারাই পারে এ পৃথিবীকে আবার পুনরায় রহমত উপহার দিতে। আল্লাহর কাছে আমাদের দোয়া, তিনি যেন আমাদেরকে সে সকল নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন, যে</p>
<p>&nbsp;</p>
<p>সকল নারী তাদের হৃদয়ে রহমত এবং মারহামাতের বাণীকে লালন করে, জ্ঞান ও মূল্যবোধকে লালন করে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সে সকল নারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তাদের মতো হওয়ার তাওফীক দান করুন।</p>
<p>অনুবাদকঃ  <a href="https://rowyakbd.com/author/burhan_uddin_azad/">বুরহান উদ্দিন আজাদ</a></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/women-in-islamic-civilization/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">13723</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
