<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল &#8211; রোয়াক</title>
	<atom:link href="https://rowyakbd.com/author/allama_iqbal/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<description>চিন্তার বিনির্মাণে...</description>
	<lastBuildDate>Tue, 17 Feb 2026 13:27:36 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1</generator>

<image>
	<url>https://rowyakbd.com/wp-content/uploads/2024/03/cropped-website-icon-32x32.png</url>
	<title>আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল &#8211; রোয়াক</title>
	<link>https://rowyakbd.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ঈদ ও রমজান</title>
		<link>https://rowyakbd.com/eid-and-ramadan/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/eid-and-ramadan/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 02 May 2022 10:05:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[ইসলামী চিন্তা]]></category>
		<category><![CDATA[ঈদ]]></category>
		<category><![CDATA[ঈদ ও রমজান]]></category>
		<category><![CDATA[রমজান]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=7112</guid>

					<description><![CDATA[(আল্লামা ইকবাল এই খুৎবাটি ১৯৩২ সালে ঈদ-উল-ফিতরের সময় দিয়েছিলেন। যেটা পরে &#8216;আঞ্জুমানে ইসলামী পাঞ্জাব&#8217; ছাপিয়েছিল।) কুরআন মাজীদে আল্লাহ বলেছেনঃ &#8220;شَہْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْٓ اُنْزِلَ فِيْہِ الْقُرْاٰنُ ھُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْہُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَہِدَ مِنْكُمُ الشَّہْرَ فَلْيَصُمْہُ &#8220;রমজান মাস, এই মাসেই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p>(আল্লামা ইকবাল এই খুৎবাটি ১৯৩২ সালে ঈদ-উল-ফিতরের সময় দিয়েছিলেন। যেটা পরে &#8216;আঞ্জুমানে ইসলামী পাঞ্জাব&#8217; ছাপিয়েছিল।)</p>
<p>কুরআন মাজীদে আল্লাহ বলেছেনঃ &#8220;شَہْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْٓ اُنْزِلَ فِيْہِ الْقُرْاٰنُ ھُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْہُدٰى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَہِدَ مِنْكُمُ الشَّہْرَ فَلْيَصُمْہُ</p>
<p>&#8220;রমজান মাস, এই মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াত  এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। কাজেই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাসের সন্ধান পাবে,  তার জন্য পুরো মাসটি রোজা রাখা অপরিহার্য।&#8221; (২:১৮৫)</p>
<p>এটাই আল্লাহর নির্দেশ এবং এজন্যই আমরা পুরো রমজান মাসে রোজা রাখি। আর এই নির্দেশ পালন করার তাওফিক পাওয়ার খুশিতে আজ আমরা সবাই মিল্লাত হিসেবে মহান রবের দরবারে শুকরানা সিজদা আদায় করা তথা ঈদের নামাজের জন্য জমা হয়েছি। মুসলমানদের ঈদের খুশি বলতে যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে তা নিছক হক্বের অনুসরণের কারণেই। অর্থাৎ দাসত্বের ফরজিয়াত আদায় করার জন্য পুরোপুরি বের হওয়া। আজ সারা দুনিয়ায় মুসলিম উম্মাহ ঈদের আনন্দ উদযাপন করছে। মুসলমান উম্মাহ ছাড়া আর কোনো উম্মত কি আছে যারা আল্লাহর আনুগত্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ঈদ উদযাপন করে ?</p>
<p>ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে দ্বিতীয় হিজরির রমজান মাসে রোজা ফরজ হয়। একই বছর রাসুল (সঃ) সাদকায়ে ফিতরের হুকুম দেন। তিনি (সঃ) এক খুৎবায় সাদকায়ে ফিতরের ফজিলত বর্ণনা করেন অতঃপর তা আদায় করার নির্দেশ দেন। ঈদগাহে জামায়াতের সাথে ঈদ-উল-ফিতরের নামায পড়াও একই বছর শুরু হয়। দ্বিতীয় হিজরির আগে ঈদের নামায হতো না। যখন আল্লাহ রব্বুল আলামীন নবী (সাঃ) এর মাধ্যমে ইসলামের রুকুনসমূহ তথা তাওহীদ, নামায, রোজা, যাকাত ও হজ্ব এর বিধান দেন তা আসলে বান্দার ইসলাহ, দুনিয়া ও আখিরাতের কামিয়াবি এবং হিদায়াতের উদ্দেশ্য দেন যাতে করে বান্দা সত্যিকারার্থে মানুষ হয় যা আল্লাহ কুরআন<strong> &#8216;আহসানে তাকবীম&#8217;</strong> নামে উপস্থাপন করেছে। মুসলিম মিল্লাত যেন এমন মিল্লাত হয় যা কুরআন পাক বর্ণনা করেছে শ্রেষ্ঠ উম্মাহ হিসেবে যারা সর্বদায় নিজেদের কার্যক্রম আদল এবং মধ্যম পন্থার মাধ্যমে করে। মূলত ইসলামের প্রতিটি রুকুনের মাঝে মানব জীবনের বাহ্যিক এবং অন্তর্গত উভয় দিকের বিকাশের জন্য হাজারও হিকমত লুকায়িত রয়েছে। আজ আমি সওম নামক এই রুকুনের হাকিকত সম্পর্কে দু-একটি কথা বলবো যা পা বন্দির সঙ্গে পালন করার ফলে শুকরিয়া আদায় করার জন্য আজ আপনারা ঈদ উদযাপন করছেন।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রোজার</strong> <strong>দর্শন</strong></p>
<p>রোজা পূর্ববতী উম্মাতদের জন্যও ফরজ ছিলো। রোজার সংখ্যা তাদের যা ছিলো আমাদের তা না-ও হতে পারে।  ফরজ এই জন্য করে দেওয়া হয়েছে, যাতে করে মানুষ পরহেজগারি এখতিয়ার করে।</p>
<p>আল্লাহ বলেন,</p>
<p>كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَـمَا كُتِبَ عَلَي الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَ۝۱</p>
<p>এই আয়াতে বলা হচ্ছে রোজা মানুষকে পরহেজগারির পথে পরিচালিত করে। অর্থ্যাৎ রোজার মাধ্যমে জিসিম এবং রূহ উভয়ই পরিশুদ্ধ হয়। &#8216;রোজা একটি ব্যক্তিগত ইবাদাত&#8217; এই চিন্তা সঠিক নয়। উপরন্তু এই ব্যবস্থপনার মধ্যে (মানুষের) অন্তর্গত এবং বহির্গত উভয় বিষয়সমূহের পরিশুদ্ধী করা, বরদাশত করা, পশুসুলভ আচরণকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থাপনা এবং মুসলিম মিল্লাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইসলাহের হিকমতও লুকিয়ে আছে। ব্যক্তিগতভাবে রোজা রাখার ফলে যে সমস্ত ফায়দা হয় তা  লাগাতার এক মাস রোজা রাখার পরিবর্তে বছরের অন্য কোনো মাসে রাখা যেত। যদি শুধুমাত্র ব্যক্তির ইসলাহ এবং রুহানিয়াতের উন্নতির বিষয়টিই মুখ্য হত, তাহলে তো এমনটাই হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু শরিয়ত প্রণেতার সামনে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয় বরং মিল্লাতের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইসলাহর বিষয়টিও ছিলো।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>ঈদের</strong> <strong>হিকমত</strong></p>
<p>আজকের এই ঈদকে ঈদ-উল-ফিতর বলা হয়। আল্লাহর পয়গম্বর যখন আল্লাহর নির্দেশে ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহে জমায়েত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন তখন একই সাথে সাদকায়ে ফিতরা আদায় করারও নির্দেশ দেন। ঈদের দিন নির্দিষ্ট করার পিছনে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য ছিলো সাদকায়ে ঈদ-উল-ফিতর জারি করা; (যদি এমনটা হয়ে থাকে) এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। যাকাত এবং উত্তরাধিকার বন্টনের পর তৃতীয় যে বিষয়টি ইসলাম সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য পেশ করেছে তা হল সাদকা। আর সাদকার মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঈদ-উল-ফিতরের সাদকা যা সবাইকে নির্দিষ্ট একটি দিনে আদায় করতে হয়।</p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>রোজার</strong> <strong>জাতীয়</strong> <strong>ফায়দা</strong></p>
<p>রমজান মাস আপনারা এমনভাবে কাটিয়েছেন যাতে করে আপনারা খাওয়া এবং পান করার বিষয়ে সময়ানুবর্তীতা শিখে নিয়েছেন, নিজের শরীর মজবুত করে নিয়েছেন, আগামী এগারো মাসের জন্য বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে নিজেকে রক্ষা করার মত রসদ সংগ্রহ করে নিয়েছেন। রোজার কদর ও মূল্য শিখেছেন। এগুলো সব ব্যক্তিগত ফায়দা। কিন্তু উম্মত হিসেবে রোজার ফায়দা হচ্ছে যাতে প্রত্যেক সাহেবে তাওফিক মুসলমান নিজের মিল্লাতে দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জন্য সহানুভূতিশীল হয় এবং সাদকায়ে ফিতরা আদায় করার মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক  সমতা বিধান করে। এইক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা হচ্ছে ঈদের নামাযে অংশগ্রহণ করার পূর্বেই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমান যেন সাদকায়ে ফিতরা আদায় করে ঈদগাহে যায়।<strong> এর মানে এই নয় যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা শুধুমাত্র এক বা অর্ধেক দিনের জন্য বরং এর গুঢ় উদ্দেশ্য হচ্ছে লাগাতার এক মাস নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে যে তাকওয়া আমরা অর্জন করেছি তার বদৌলতে যেন মুসলমানরা সারা বছর এভাবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>নুযুলে</strong> <strong>কুরআন</strong> <strong>উৎসব</strong></p>
<p>এখন প্রশ্ন হলো যে, রমজান মাসের সাথেই কেন রোজা কে ফরজ করা হল? এই বিষয়ে জেনে থাকা প্রয়োজন যে, ইসলামে মানুষের ব্যক্তিগত ও জাতীয় (ইজতেমায়ী) জীবনের গুঢ় উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে রোজার সময়টি একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যাপী হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং এজন্য একটি মাসকে নির্ধারণ করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ইসলামের আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহ্‌র অনুগত বান্দা হিসেবে গড়ে তোলা, এইজন্য রোজাকে ঐ মাসেই রাখা হয়েছে যে মাসে আল্লাহ্‌র হুকুম-আহকাম তথা কুরআন নাযিল শুরু হয়েছিলো। অন্যকথায়, প্রতিবছর পুরো একমাস তাযকিয়া-এ-নাফস এর সাথে সাথে কুরআনে হাকিমের নাযিলের উৎসব পালন করার জন্য হুকুম দেওয়া হয়েছে, যাতে করে আল্লাহর বিধানের সম্মান ও পবিত্রতা সর্বদা মুসলমানদের সামনে থাকে এবং তারাবীহ-র নামায পালন করার মাধ্যমে কওমের প্রত্যেক ব্যক্তি ইজতেমায়ী জীবনের জন্য আইনীভাবে সত্যিকার্থে শক্ত পোক্ত হয়ে যায় আসল বিষয় ছিলো কওমের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইসলাহের সাথে সম্পৃক্ত। কুরআনের যেখানে সিয়ামের ব্যাপারে কথা এসেছে, ঠিক তারপরেই বলা হয়েছে,</p>
<blockquote><p>تِلْكَ حُدُوْدُ اللہِ فَلَا تَقْرَبُوْھَاكَذٰلِكَ يُبَيِّنُ اللہُ اٰيٰتِہٖ لِلنَّاسِ لَعَلَّہُمْ يَتَّقُوْنَ</p>
<p>অর্থাৎ &#8220;এটা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া সীমা, এর কাছেও যেওনা। এভাবে আল্লাহ্‌ লোকেরদের জন্য তাঁর বিধান সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, আশা করা যায় এর ফলে তারা ভুল কর্মনীতি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।&#8221; (২:১৮৭)</p></blockquote>
<p>এর সাথেই উপরোক্ত সব কথার ফলাফল হিসেবে যোগ করা হয়েছে,</p>
<blockquote><p>وَلَا تَاْكُلُوْٓا اَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوْا بِہَآ اِلَى الْحُكَّامِ لِتَاْكُلُوْا فَرِيْقًا مِّنْ اَمْوَالِ النَّاسِ بِالْاِثْمِ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ</p>
<p>অর্থাৎ &#8220;আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে খেয়ো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে পেশ করো না যার ফলে ইচ্ছাকৃত ভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।&#8221; (২:১৮৮)</p></blockquote>
<p>রোজা রেখে শুধু অসহায়দের প্রতি সহমর্মিতার অনুভূতি সৃষ্টি করাই যথেষ্ট ছিলো না, ঈদের দিন গরীবদের দু-চার দিনের খাবার দেওয়াও যথেষ্ট ছিল না, এমন একটি পন্থা অবলম্বন করা উদ্দেশ্য ছিল যাতে স্থায়ীভাবে দুনিয়ার সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়। এইভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় যেখানে উত্তরাধিকার বন্টন ও যাকাতের মাধ্যমে মুসলিম মিল্লাতের ধন সম্পদে এক প্রকার সমতা সৃষ্টি হয়। এই উম্মতের মাঝে যেন একে অন্যের সম্পদে অন্যায় ভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো বিষয় না থাকে। <strong>রোজার ব্যবস্থপনায় শুধু ব্যক্তিগত রুহানিয়াতেরই উন্নতি বা মানুষের সাথে কিছু দিনের জন্য সহমর্মিতাই উদ্দেশ্য নয়, উপরন্তু শরীয়ত প্রণেতার দৃষ্টি এই বিষয়টির উপর ছিল যেন মানুষ নিজেই নিজের অর্জিত হালাল কামাইয়ের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যায় এবং অন্যের অর্জিত সম্পদের উপর বাতিল পন্থায় খাওয়ার চেষ্টা না করে।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>মুকাদ্দামা</strong> <strong>আদালতে</strong> <strong>নিয়ে</strong> <strong>যেয়ো</strong> <strong>না</strong></p>
<p>উপরে আলোচনাকৃত আয়াতে (২:১৮৮) &#8216;গুনাহ&#8217; (لْاِثْمِ)-র মানে কতক মুফাসসির &#8216;মিথ্যা সাক্ষ্য&#8217; হিসেবে নিয়েছেন। উলামায়ে কুরআন হুক্কামের অর্থ মুসলমানের নিজেদের মুফতি, কাজি ও সুলতান অর্থে নিয়েছেন। যখন নিজেদের ফকিহ ও কাজিদের সামনে মিথ্যা মামলা তৈরি করে নিয়ে যাওয়া লোককে আল্লাহ্‌ খারাপ বলেছেন, তাহলে বুঝে নিন অনৈসলামিক শাসনের হাকিমের (আদালত) সামনে এইরকম মুকাদ্দামা নিয়ে যাওয়া কেমনভাবে কি জায়েজ হতে পারে ! মাস জুড়ে রোজা রাখার এই উদ্দেশ্য ছিলো যে, আগামী বছর পুরোটাই এইভাবে একে অন্যের সহমর্মী এবং ভাই হিসেবে থাকা। <strong>যদি নিজের সম্পদ একে অপরকে ভাগ করে না দিতে পারেন, তাহলে কম করে হলেও আদালতে এই ধরনের কোনো মুকাদ্দামা নিয়ে যাবেন না, যেখানে ঘুষ দিয়ে হক্ব ও ইনসাফের বিরুদ্ধে অন্যের সম্পদ জবর দখল করার উদ্দেশ্য থাকে।</strong> আজকের দিন থেকে আপনাদের এই শপথ নেওয়া চাই যে, উম্মতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইসলাহের যে উদ্দেশ্য কুরআনে হাকিম বর্ণনা করেছে সেগুলোকে আপনারা সর্বদা সামনে রাখবেন।</p>
<p>এই সময়ে পাঞ্জাবের মুসলমানগণ (অর্থাৎ ১৯৩২) প্রায় একশো পঁচিশ কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত। আর এর উপর প্রায় বিশ কোটি টাকা সুদ আরোপিত ছিল। এই ঋণ এবং সুদ থেকে বাঁচতে আপনাদের আল্লাহ্‌র বিধানের দিকে ফিরে আসা ব্যতীত এবং সম্পদের গোলামী থেকে নিজেকে মুক্ত করা ব্যতীত দ্বিতীয় কোন পথ আছে কি ? আজ থেকে যদি আপনারা এই ফাহেশা খরচ করা ছেড়ে দেন এবং সম্পদের মিথ্যা আর অপ্রয়োজনীয় মুকাদাম্মা আদালতে নিয়ে যাওয়া ছেড়ে দেন, তাহলে আমি নিশ্চয়তা  দিয়ে বলছি  আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আপনাদের ঋণের অধিকাংশই  কমে যাবে এবং আপনারা অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে ঋণের গোলামী থেকে নিজেদেরকে আজাদ করে নিতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়,  সম্পদের মুকাদ্দামা ছেড়ে দিলে তা আপনাদেরকে সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করে দিবে যে টাকা আপনারা  মুকাদ্দামা, ঘুষ ও উকিলকে দিয়ে নষ্ট করেন, সেগুলো দিয়ে নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। সুতরাং হে উপস্থিতি এখনো কি আপনাদের কুরআনের দিকে ফিরে আসার প্রয়োজন মনে হয় না ! আপনাদের কি এখনো শপথ করার প্রয়োজন বোধ হয় না যে দুনিয়ার জীবনে কুরআনের বিধানের অনুগত হয়ে যাবেন?</p>
<p>রাসুলে পাক (সঃ) মুসলমানদের বারবার বলেছিলেন যে,</p>
<p>(البیہقی فی شعب الایمان، فصل التشدید فی الدین، حدیث:۵۲۹۴) اِیَّـاکُمْ وَالْدِّیْنَ فَاِنَّہٗ ھَمٌّ بِاللَّیْلِ وَمذَلَّۃٌ بِالنَّھَارِ</p>
<p><strong>&#8220;দেখো, তোমরা ঋণ থেকে বাঁচো। ঋণ হল রাতের দুঃখ এবং দিনের অপমান।&#8221;</strong></p>
<p>এই খুৎবায় মুসলমানদের সামাজিক জীবনের শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিকটিই তুলে ধরা হয়েছে। হয়তো ঈদ-উল-আযহার সময় অনুরূপভাবে ইসলামী জীবনের অন্য কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে। যাইহোক, আমি এখন সারওয়ারে কায়নাত হুজুর পাক (সঃ)-এর একটি হাদীস বলে খুৎবা শেষ করবো যেটি অল্প কথায় অসাধারণভাবে সঠিক পথ (রুসদ) তথা হেদায়াতের সমস্ত দরজা (সাহারা) মানুষের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়।</p>
<p>أَمَرَنِیْ رَبِّیْ بِتِسْعٍ الْاِخْلَاصِ فِی السِّرِّ  وَالْعَلَانِیَۃُ ، وَالْعَدْلِ فِی الْغَضَّبِ وَالرِّضَا وَالْقَصْدِ  فِی الْفَقْرِ وَالْغِنٰی ،  وَ أَنْ اُعْفُوَ  عَنْ  مَنْ  ظَلَمَتَی  ، ووأَصِلُ منْ قَطَعَنِی  ، وَأُعْطِیَ مَنْ حَرَمَنِیْ  ، وَأَنْ یَکُوْنَ نُطْقِیِ ذِکْرًا   وَصَمَتِی فِکْرًا  وَنَظَرِیْ عِبْرَۃِ (الجامع لاحکام القرآن للقرطبی، جلد۷، ص۳۴۶، دارعالم الکتب،الریاض، ۲۰۰۳ء)</p>
<p><strong>আমার রব আমাকে নয়টি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেনঃ প্রকাশ্যে এবং গোপনে ইখলাসের উপর থাকা, রাগ ও সন্তুষ্টি উভয়াবস্থায় ইনসাফ করা, গরীব ও সঞ্চল উভয়াবস্থায় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা, যে আমার উপর অন্যায় করে তাকে মাফ করে দেওয়া,  যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই তার সাথে সম্পর্ক ধরে রাখা, যে আমাকে না দেয় যেন আমি তাকে দিই, আমার কথা যেন আল্লাহ্‌র যিকর হয় এবং চুপ থাকা যেন চিন্তা-ভাবনায় অতিবাহিত হয়, এবং আমার দেখা যেন শিক্ষা অর্জনের জন্য হয়।</strong></p>
<p>&nbsp;</p>
<p><strong>অনুবাদঃ</strong><strong> </strong>মুরসি আল-ইমাম।</p>
<p>&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/eid-and-ramadan/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">7112</post-id>	</item>
		<item>
		<title>মর্যাদা ও গৌরবের উৎস মহানবী (স)</title>
		<link>https://rowyakbd.com/morzada-o-gourober-utsho-mohanobi-sm/</link>
					<comments>https://rowyakbd.com/morzada-o-gourober-utsho-mohanobi-sm/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[আল্লামা ড. মুহাম্মদ ইকবাল]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 05 Mar 2021 09:15:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[মুসলিম উম্মাহ]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[উৎস]]></category>
		<category><![CDATA[ও গৌরবের]]></category>
		<category><![CDATA[মর্যাদা]]></category>
		<category><![CDATA[রাসূল (স)]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://www.rowyak.com/?p=4261</guid>

					<description><![CDATA[প্রত্যেক মুমিনের অন্তরেই রাসূল (স) ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ স্তর অধিকার করে আছেন। কারণ তিনিই একজন মুমিনের প্রকৃত প্রেমাস্পদ, তাঁর ভালোবাসাই মুমিনের অন্তরে শক্তি যোগায়, জীবনীশক্তিহীন আত্মায় নবচেতনার সঞ্চার করে। মানুষ যখন আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা বিস্মৃত হয়ে অধঃপতনের অতল গহ্বরে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<p><span style="font-weight: 400;">প্রত্যেক মুমিনের অন্তরেই রাসূল (স) ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ স্তর অধিকার করে আছেন। কারণ তিনিই একজন মুমিনের প্রকৃত প্রেমাস্পদ, তাঁর ভালোবাসাই মুমিনের অন্তরে শক্তি যোগায়, জীবনীশক্তিহীন আত্মায় নবচেতনার সঞ্চার করে। মানুষ যখন আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা বিস্মৃত হয়ে অধঃপতনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছিলো, মানবতার এমনই এক দুর্দিনে বিশ্বমানবের প্রকৃত সুহৃদ ও কল্যাণকামী, মুক্তিদাতা হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) মুক্তির জিয়নকাঠি নিয়ে আবির্ভূত হন। আত্মভোলা মানুষকে তিনি আত্মোপলব্ধির আহবান জানান, পথহারা মানুষকে দেখান পথের সন্ধান। তাঁর প্রদর্শিত পথের পথিক হয়েই মুমিন আত্ম-পরিচয় লাভে ধন্য হয়েছে, পেয়েছে মুক্তির পথ। তাঁরই বদৌলতে মুমিন তার হারানো সম্পদ ফিরে পেয়েছে, স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের পথ খুঁজে পেয়েছে। চরম লাঞ্চিত, অবহেলিত, অপমানিত জীবনের গ্লানিমুক্ত হয়ে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের আস্বাদ পেয়েছে। জগতের বুকে একটি মর্যাদাপূর্ণ আসন অধিকার করতে সমর্থ হয়েছে। জ্ঞান, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও চারিত্রিক দিক থেকে একটি উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে স্থান করে নিতে পেরেছে। কারণ তিনিই বিশ্ববাসীকে এক উন্নত জীবনবিধান, এক উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও উন্নত সভ্যতা উপহার দিয়েছেন। মুসলিমগণ এই সম্পদে সম্পদশালী হয়েই গৌরব ও মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছে। কাজেই মুসলিম মিল্লাতের সমস্ত গৌরবের উৎস হচ্ছেন মহানবী (স)।  </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">আমাদের ঈমান ও বিশ্বাস হলো ইসলাম ধর্ম হিসেবে আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত খোদায়ী হিদায়াত, সমাজ ও রাষ্ট্র হিসেবে একমাত্র নির্ভরস্থল নবী মুহাম্মাদ (স) এর পবিত্র সত্তা। আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু রাসূল (স) এর রিসালাতের বদৌলতেই আমাদের অন্তরে তাওহীদের বীজ সঞ্চারিত হয়েছে। তৎপূর্বে আমরা শব্দহীন অক্ষরের ন্যায় ছিলাম। রাসূল (স) এর রিসালাত তাকে সুবিন্যস্ত করে অর্থবহ শব্দে রূপান্তরিত করেছে। রিসালাতের দ্বারাই জগতে আমাদের স্থায়িত্ব ও অস্তিত্ব, রিসালাতের মাধ্যমেই আমাদের ধর্ম ও বিধান পূর্ণতা লাভ করেছে। আমরা উম্মাতে মুহাম্মাদী সংখ্যায় যতই হই না কেন, চাই তা অসংখ্য হোক, রিসালতের দ্বারা আমরা এক ও অভিন্ন সত্তা, আমরা পরস্পর একটি পূর্ণাঙ্গ দেহের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সদৃশ। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">রাসূল (স) এর রিসালাতের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো এমন একটি সমাজ গঠন করা, যার সমস্ত আইন-কানুন খোদায়ী বিধানের অনুবর্তী হবে। অন্য কথায়, স্থান-কাল-পাত্র ও ভৌগোলিক সীমারেখা, গোত্র, ভাষা ও সংস্কৃতির নামে দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ও দেশের মধ্যে যে ভেদাভেদ তৈরি করে রাখা হয়েছে তার সমূলে উৎপাটনই রাসূল (স) এর রিসালাতের চরম লক্ষ্য। ইসলাম মূলত এক উম্মাহর নাম যার সীমানা হলোঃ</span></p>
<ul>
<li><span style="font-weight: 400;"> <strong>তাওহীদ অর্থাৎ, অনাদি ও অনন্ত সত্তা মহান আল্লাহর একত্বের উপর ঈমান।</strong></span></li>
<li><strong>রিসালাত অর্থাৎ সকল নবী ও রাসূলের উপর ঈমান।</strong></li>
<li><strong>খতমে নবুওয়াত অর্থাৎ নবী (স)-ই যে শেষ নবী, তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না, এই সত্যের উপর দৃঢ় ঈমান। আর এই শেষোক্ত বিশ্বাসই মূলত একজন মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের প্রকৃষ্ট মাধ্যম।</strong></li>
</ul>
<p><span style="font-weight: 400;">মানবসভ্যতার ইতিহাসে খতমে নবুওয়াত এক অভিনব চিন্তা-ই মনে হবে। কিন্তু প্রাক-ইসলামী যুগের অগ্নিপূজক সমাজের সভ্যতা সংস্কৃতি ও ইতিহাসের দিকে নজর দিলেই এ সংশয় সহজেই বিদূরিত হয়ে যায়। রাসূল (স) যেহেতু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিধান সম্বলিত এক পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী জীবনবিধান নিয়ে এসেছেন, সেহেতু এরপর আর কোন নবী বা শরীয়তের কোন প্রয়োজন-ই থাকেনা। অথচ ইতিপূর্বে মানবজাতির প্রয়োজনের তাগিদে আল্লাহ নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন আর এ প্রয়োজন পূরণ হওয়ার নাম খতমে নবুওয়াত। অতএব একে অভিনব মনে করার আর কোন কারণ থাকেনা, বরং এটাই বাস্তব ও যুক্তিসঙ্গত। </span></p>
<p><span style="font-size: inherit;">হযরত নূহ (আ) এর মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বপ্রথম শরীয়ত প্রবর্তনের ধারা শুরু করেন। পূর্ববর্তী নবীগণ শুধু সামাজিকতা শিক্ষা দিতেন, শরীয়ত বা খোদায়ী বিধান সামগ্রিকভাবে নূহ (আ) থেকেই শুরু হয়। মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পরবর্তী নবী রাসূলগণের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করতে থাকে। আর, হযরত নূহ (আ) কর্তৃক সূচনাকৃত এই শরীয়তই হযরত মুহাম্মাদ (স) এর মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। মানবজাতির জন্য আল্লাহর দেয়া বিধান যেহেতু পূর্ণতার লক্ষ্যে উপনীত হয়েছে, কাজেই কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী-রাসূলের আবির্ভাব হবেনা, নতুন কোন শরীয়ত প্রবর্তিত হবেনা। কাজেই হযরত মুহাম্মাদ (স) সর্বশেষ নবী, তাঁর শরীয়ত সর্বশেষ শরীয়ত, তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিল্লাত সর্বশেষ মিল্লাত তথা মুসলিম মিল্লাত।</span></p>
<blockquote><p><span style="font-size: inherit;">আল্লাহ তা&#8217;য়ালা যেমন আমাদের উপর শরীয়ত পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন, রাসূল (স) এর উপর রিসালাত কে সমাপ্ত করেছেন। এখন আমরাই বিশ্বমাহফিলের আলোকবর্তিকা। নবী (স) নবুওয়াতের ধারাকে সমাপ্ত করেছেন, আর আমরা জাতিসমূহকে নিঃশেষিত করেছি (অর্থাৎ আমাদের পরে পৃথিবীতে আর কোন নতুন জাতির অভ্যুদয় ঘটবে না)। অতঃপর বিশ্বমাহফিলের ‘সাকী’র দায়িত্ব পালনের ভার এখন আমাদের উপর অর্পিত হয়েছে। কারণ সর্বশেষ পাত্রটিই সোপর্দ করা হয়েছে আমাদের হাতে (পিপাসার্ত মানুষ যেমন ‘সাকী’র শরণাপন্ন হয়, তেমনি দুনিয়ার জাতিসমূহ হিদায়াতের জন্য আমাদের শরণাপন্ন হবে)। নবী (স) এর ঘোষণা “লা নাবিয়া বা’দি”-আমার পরে আর কোনো নবী নেই” বস্তুত আমাদের উপর এক বিরাট খোদায়ী ইহসান। এর দ্বারাই ইসলামের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইহসান-ই আমাদের শক্তির উৎস, আমাদের জাতীয় সংহতি রক্ষার চাবিকাঠি।</span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">ইসলামের সংহতি ও বিশ্ব-মুসলিমের সৌভ্রাতৃত্ব উপরোক্ত মৌলিক বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল। এরই মাধ্যমে বিশ্ব-মুসলিমের মধ্যে অধিকতর সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি</span><span style="font-weight: 400;"> গড়ে উঠবে, যার বদৌলতে মুসলিমগণ বিশ্বরাজনীতিতে নিজ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সাফল্য অর্জন করবে। রাজনৈতিকভাবে ইসলামের সংহতি তখনই বিনষ্ট হয় যখন একটি মুসলিম রাষ্ট্র অপর একটি মুসলিম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আক্রমণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। ঠিক তেমনিভাবে ইসলামের ধর্মীয় সংহতি তখনই নষ্ট হওয়া শুরু করে যখন কোন একজন বা একদল মুসলমান ইসলামের উপরোক্ত মৌলিক বিশ্বাসের কোনো একটি অথবা আরাকানে ইসলামের কোনো রুকন অমান্য করতে থাকে। এমনকি এর প্রতি সামান্যতম শৈথিল্যও মিল্লাতের ঐক্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের</span><span style="font-weight: 400;"> মধ্যে সত্যিকারের শান্তি ও সম্প্রীতি</span><span style="font-weight: 400;"> প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যদি একক সমাজদর্শনের চিন্তা করা হয়, তবে ইসলামই একমাত্র উপায়, যার মাধ্যমে এই লক্ষ্যে উপনীত হওয়া সম্ভব। <strong>কারণ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্মে মূলতঃ সমাজদর্শন-ই নেই</strong>। ইসলাম গোটা মানবতাকে এমন এক সমাজদর্শন উপহার দিয়েছে, যাকে সত্যিকারভাবে অনুসরণ করা হলে সমগ্র বিশ্বমানবতা একটি অভিন্ন সমাজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সুতরাং একমাত্র ইসলামের মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে শান্তির পথ উন্মুক্ত হওয়া সম্ভব। পবিত্র কোরআন সুদীর্ঘকালব্যাপী অনুশীলনের মাধ্যমে আমি যে ধারণা লাভ করেছি তা হলোঃ</span></p>
<blockquote><p><strong>ইসলাম শুধু ব্যক্তির চারিত্রিক সংশোধনই কামনা করেনা, বরং সমগ্র মানবজাতির সমষ্টিগত জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করাই তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য। গোত্রীয় ও আঞ্চলিক চিন্তাধারার সংকীর্ণ আবর্ত থেকে মুক্তিদান করে গোটা মানবজাতিকে আন্তর্জাতিক মানবতাবাদে উদ্বুদ্ধ করাই ইসলামের মূল লক্ষ্য।</strong></p></blockquote>
<p><span style="font-size: inherit;">বিভিন্ন জাতির ধর্মীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রাক ইসলামী যুগে যেসকল ধর্ম প্রচলিত ছিলো তার অধিকাংশই ছিলো জাতিভিত্তিক। যেমন- মিসরীয় ধর্ম, ইরানী ধর্ম, ভারতীয় ধর্ম ইত্যাদি। অতঃপর তা বংশ ও গোত্রীয় ধর্মে পরিগ্রহ করে। যেমনঃ বনী ইসরাইলের ধর্ম। অতঃপর ঈসা (আ) এর অনুসারীগণ ধর্মকে ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই ইউরোপীয়রা এই ধারণা পোষণ করতে থাকে যে, মানুষের সমষ্টিগত ও সামাজিক জীবন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এককভাবে রাষ্ট্রের, ধর্মের সেখানে কোন দায়-দায়িত্ব নেই। কিন্তু ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যা সমগ্র মানবতাকে এই বাণী শুনিয়েছে যে, ধর্মের ভিত্তি জাতীয়তা বা গোত্র-বর্ণের উপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং তা নিছক ব্যক্তিগত কিংবা আধ্যাত্মিক ব্যাপার ও নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক মানবতাকেন্দ্রিক। সমগ্র মানব জাতিকে সকল প্রকৃতিগত বৈষম্য সত্ত্বেও একই জীবনবিধানের অধীনে সংঘবদ্ধ করাই ধর্মের প্রধান লক্ষ্য। আর যে ধর্মের ভিত্তি এরূপ ব্যাপক ও সুবিস্তৃত, তা নিছক কতিপয় আকীদা-বিশ্বাস ও অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেনা। তার কর্মক্ষেত্র যেমন ব্যাপক ও সুবিস্তৃত, তেমনি এর লক্ষ্যও ব্যাপক ও সামগ্রিক। ব্যক্তির জীবনের পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ও আন্তর্জাতিক সকল দিক নিয়ন্ত্রণ-ই এর পরিধির অন্তর্ভুক্ত। মোটকথা ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বজনীন জীবনদর্শন যা কোনো বিশেষ স্থান, কাল ও বিশেষ অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একথা চিরন্তন সত্য যে, ইসলাম কোন গীর্জাভিত্তিক মতবাদ নয়। ইসলাম পরিপূর্ণরূপেই একটি রাষ্ট্রদর্শনের নাম। এ এক সুসংহত ও সুশৃঙ্খল জীবনবিধানরূপে আবির্ভূত হয়েছে, যখন সমকালীন বহুল প্রচারিত আন্তর্জাতিকতাবাদের ধারণাও জন্মলাভ করেনি। এর মধ্যে উন্নত চরিত্রের সকল বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীই বিদ্যমান,যা দ্বারা মানুষ শুধু নিছক সৃষ্টিই নয়, তার সাথে সাথে বিশ্বস্রষ্টার প্রতিনিধিও হয়ে ওঠে। </span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">একজন অমুসলিম ইউরোপীয় পণ্ডিতের মুখে যদিও একথা শোভা পায় যে, ‘ধর্ম নিছক একটি ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক ব্যাপার’, কিন্তু তা কোন মুসলমানের মুখে কোনভাবেই শোভা পায়না। কারণ ইসলাম খৃষ্ট ধর্মের ন্যায় ধর্মকে নিছক গির্জা বা মসজিদকেন্দ্রিক মনে করেনা। ইউরোপে খৃষ্টধর্ম একটি গীর্জাকেন্দ্রিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তাদের ধারণা, ধর্ম জড়জগতের কলুষতামুক্ত এক আধ্যাত্মিক মতবাদ। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এই ধর্মীয় নিয়ন্ত্রণহীনতার পরিণাম পাশ্চাত্যজগতে যা হওয়ার কথা, তা-ই হয়েছে। স্বৈরাচারিতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অবাধ রাজত্ব কায়েম হয়েছে। কিন্তু ইসলাম ব্যক্তির জীবনের সর্বক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসলাম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছে যে, মানুষ যেমন আল্লাহর সৃষ্টি, তদ্রূপ তার জীবনের সকল ক্ষেত্র ও দিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ও অধিকার একমাত্র আল্লাহর। আর তাই স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবজাতির জীবনের সকল ক্ষেত্রই খোদায়ী অনুশাসনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">কেউ যদি এমন ধারণা পোষণ করে থাকে যে, সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ ও ধর্ম একইসাথে পাশাপাশি চলতে পারি, তাহলে আমি পূর্বাহ্নেই তাদেরকে সতর্ক করে দিতে চাই। কারণ এর পরিণতি হিসেবে ধর্ম শেষ পর্যন্ত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। তা যদি না-ও হয়, তাহলে ধর্ম রাষ্ট্রীয় মর্যাদা হারিয়ে নিছক ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক ব্যাপারে পরিণত হবে। এর ফলে ধর্মহীনতার যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে, তার ফলে জাতিকে কোনভাবেই আদর্শ ও মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত ও নৈতিক চরিত্রে বলীয়ান করে তোলা যাবে না। </span></p>
<p><strong>পৌত্তলিকতার নবসৃষ্টির মধ্যে অন্যতম হলো ‘দেশ’। আর এর বহিরাবরণ ধর্মের কাফনস্বরূপ। আমি জীবনের প্রারম্ভিক যুগ থেকেই পাশ্চাত্য জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধাচরণ করে আসছি। তখন শুধু উপমহাদেশ-ই নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্ব-ই এর পরিণতি সম্পর্কে কিছুই অবগত ছিলোনা। ইসলামের ‘উম্মাহ’ এর ধারণাকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়ার উদ্দেশ্যে এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছিলো। মুসলিম দেশগুলোতে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার উপর ব্যাপক প্রোপাগাণ্ডা চালানো হয়েছিলো। বলা বাহুল্য, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তারা এই ষড়যন্ত্রে কিছুটা সাফল্যও লাভ করে।</strong></p>
<p><span style="font-weight: 400;">ফলস্বরূপ, বর্তমানে ইসলামী সৌভ্রাতৃত্ববোধ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, প্রতিটি দেশই একটি স্বতন্ত্র জাতির গোড়াপত্তন করেছে। যখনই ভৌগোলিক সীমারেখাকে জাতীয়তার মাপকাঠি স্থির করা হয়েছে, তখনই মানবজাতিকে বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করে ফেলা হয়েছে।</span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;"> <em><strong>‘আত্মা দেহ ছেড়ে উড়ে গেছে, শুধু আত্মাহীন কায়াই পড়ে আছে। আর এই ধ্বংসাবশেষের উপরই বিভিন্ন জাতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত’।</strong></em></span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">দেশ ও আঞ্চলিকতার এ সংকীর্ণতার দ্বারা মানুষের চিন্তাধারা স্বভাবত ঐ দিকেই ধাবিত হয়, মানবসভ্যতা এর মাধ্যম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং এর পরিণতি এত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যে, এরপর আর পুনরায় এদেরকে ঐক্যবদ্ধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া ধর্মও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে তৈরী হতে থাকে, যেমনটা প্রাক ইসলামী যুগে ছিলো। বর্তমানেও পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে, যেগুলো এই আঞ্চলিক সংকীর্ণতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে বহির্বিশ্বে সম্প্রসারণ</span><span style="font-weight: 400;"> লাভ করতে পারেনি। অধিকন্তু এর ফলে মানুষ ক্রমেই ধর্ম সম্পর্কে সন্দেহ ও সংশয়বাদী হয়ে অবশেষে ধর্মহারা হয়ে নাস্তিকতার আশ্রয় গ্রহণ করে। </span></p>
<blockquote><p><span style="font-weight: 400;">আধুনিক জাতীয়তাবাদে নাস্তিকতার এই বিষাক্ত জীবাণু লক্ষ্য করে আমি প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধাচরণ করে আসছি। কারণ আমার দৃষ্টিতে দেশপ্রেম ও দেশপূজা এক কথা নয়। দেশই মানুষের চরম লক্ষ্য নয়, বরং ঈমান, সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই মানুষের মূল লক্ষ্য। মানুষ যদি বেঁচে থাকে তাহলে এর উপর ভিত্তি করেই বেঁচে থাকবে আর জীবন উৎসর্গ করতে হলেও সেজন্যই করবে। </span></p></blockquote>
<p><span style="font-weight: 400;">আধুনিক বিশ্বে আরেকটি সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, তা হলো বর্ণ ও গোত্রবাদ। আমার মতে, মানবসভ্যতার ললাটে এ এক মারাত্মক কলঙ্কটিকা। এশীয়গণ যদি ইউরোপের ন্যায় পরিস্থিতির শিকার না হতে চায়, তাহলে তাদের কালবিলম্ব না করেই ইসলামের আন্তর্জাতিক চিন্তাধারাকে গ্রহণ করা উচিত। বর্ণগত ও গোত্রীয় ভেদাভেদ ভুলে ইসলামের আন্তর্জাতিক মানবতাবাদ গ্রহণ করাই তাদের জন্য বিধেয়।</span></p>
<p><span style="font-weight: 400;">মানবসভ্যতার ইতিহাস পারস্পারিক হানাহানি, ঝগড়া-বিবাদ, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ভরা। এ অবস্থায় তার পক্ষে জীবনের এমন একটি ভিত্তি নির্মাণ করা সম্ভব ছিলো না, যার দ্বারা মানবজীবনের ভিত্তি শান্তি-শৃঙ্খলা ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির</span><span style="font-weight: 400;"> উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ইসলাম তাওহীদের ঐক্যসূত্র গ্রথিত করে মানুষকে সেই সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান লাভের যোগ্য করে দিয়েছে। কিন্তু এমন পূর্ণাঙ্গ ও সামগ্রিক জীবনবিধান খুজে বের করা, কিংবা স্বয়ং রচনা করা মানবজাতির পক্ষে সম্ভব ছিলোনা। ইসলামের বিধানসমূহ, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা, তার সভ্যতা-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সাহিত্যকে গভীর অভিনিবেশ সহকারে দীর্ঘকালব্যাপী অনুশীলন করে আমি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, ইসলাম এক আন্তর্জাতিক জীবনবিধান। মুসলমানগণ সামাজিকভাবে এক সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ জাতি, যার ভিত্তিপ্রস্তর তাওহীদ ও খতমে নবুওয়াতের বিশ্বাসের উপর স্থাপিত। এতে বর্ণবাদ, গোত্রবাদ কিংবা আঞ্চলিকতাবাদের ন্যায় সংকীর্ণ চিন্তাধারার কোন সুযোগই নেই। কারণ, আল্লাহ যেমন রাব্বুল আলামীন, রাসূল (স) ও তেমনি রহমাতুল্লিল আলামীন। ইসলাম এক বিশ্বজনীন জীবনবিধান। ইসলামের অনুসারীগণও তেমনই এক বিশ্বজনীন উম্মাহ-মুসলিম উম্মাহ। এ কারণে পবিত্র কুরআন মানুষকে একই মহাজাতির আওতাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মানুষ যখন ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তখনই তাকে ‘মিল্লাত’ ও ‘উম্মত’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ফলে যে কেউই রাসূল (স) এর নেতৃত্বে আস্থা স্থাপন করে ইসলামের গণ্ডীভুক্ত হয়েছে, তখন থেকেই সে ‘মিল্লাতে ইসলামী’ ও ‘উম্মতে মুসলিমা’র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। একদিন সে অঞ্চল ও গোত্রের দাসত্ববন্ধনে আবদ্ধ ছিলো, ইসলাম তাকে সে দাসত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দান করেছে। ইসলামের আন্তর্জাতিক মানবতাবাদ-ই বিশ্বশান্তি ও মানবতার মুক্তির মহাসনদ। এটাই মুসলিমদের মর্যাদার একমাত্র বাহন। আর যে মহামানবের বদৌলতে আমরা এই পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান লাভ করেছি, সেই রাসূল (স)-ই আমাদের মর্যাদা ও গৌরবের উৎস।     </span></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://rowyakbd.com/morzada-o-gourober-utsho-mohanobi-sm/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
		<post-id xmlns="com-wordpress:feed-additions:1">4261</post-id>	</item>
	</channel>
</rss>
